মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০১১, ২২ আশ্বিন ১৪১৮
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ৩ পুলিশ ইন্সপেক্টর সাময়িক বরখাস্ত
এক সদস্যের তদন্ত কমিটি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ৩ পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাসত্ম করা হয়েছে। ঘটনা তদনত্মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মীর শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি একই অভিযোগে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন পিপিএম-এর বিষয়ে তদনত্ম করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শফি উদ্দিন শেখ, রুহুল আমিন ও গিয়াস উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুপুর একটার দিকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দলের বরখাসত্ম হওয়া ৩ কর্মকর্তা সাদা পোশাকে রমনা থানাধীন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কয়েকজন প্রতারককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকদের থানায় বা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে না নিয়ে নিজেদের জিম্মায় রাখে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকদের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়েরের কথা থাকলেও তা করেননি ডিবি পুলিশের সাসপেন্ড হওয়া তিন কর্মকর্তা। কিন্তু তারা গ্রেফতারকৃতদের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের না করে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ছেড়ে দেয়ার সময় প্রতারকদের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের বচসা হয়। ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি তাদের নজরে পড়ে। টেরপেয়ে ওই বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ডিবি পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাটি ৩ ডিবি কর্মকর্তাকে গাড়িতে তুলে বিশেষ ওই গোয়েন্দা সংস্থার মূল কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে দফায় দফায় আটককৃত ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেন ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃতদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রায়ই তাদের গ্রেফতার করা হয়। আবার টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। মূলত টাকার জন্যই তাদের গ্রেফতার করা হয়। আবার চাহিদামতো টাকা পেলে গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়। এবারও একই কাজ করা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেফতারকৃত ডিবি পুলিশের ৩ কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দৰিণ জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে থাকা টিমের সদস্য। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জড়িত বলে সাসপেন্ড হওয়া ৩ পুলিশ ইন্সপেক্টর বিশেষ ওই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্বীকার করেন। বিষয়টি বিশেষ ওই গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করে। ডিএমপি সদর দফতরের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দায়েরকৃত অভিযোগ ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ তাৎৰণিকভাবে আমলে নেন। এরপর দ্রম্নততার সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মীর শহীদুল ইসলামকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। পরে বিষয়টির তদনত্ম হয়। তদনত্মে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গ্রেফতারকৃত প্রতারকদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৩ পুলিশ ইন্সপেক্টরকে সাময়িকভাবে বরখাসত্ম করা হয়। বরখাসত্ম হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদৰেপ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। আর একই অভিযোগে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে তদনত্ম করতে ডিএমপির অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মীর শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদনত্ম কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।