মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১১, ২ পৌষ ১৪১৮
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য যাঁদের সম্মাননা দেয়া হচ্ছে
সরকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য সাড়ে ৪ শ' বিদেশী নাগরিককে সম্মাননা প্রদান করবে। প্রথম পর্যায়ে ১২৭ জনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এদের অবদান গতকাল দৈনিক জকণ্ঠে আংশিক প্রকাশিত হয়। আজ বাকী অংশ প্রকাশ করা হলো :


সিনেটর উইলিয়াম স্যাঙ্বি :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের রাজনীতিবিদ, ওহিও রাজ্যের সিনেটর, প্রেসিডেন্ট নিঙ্নের এ্যাটর্নি জেনারেল এবং ভারতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। স্যাঙ্বি ১৯১৬ সালের ২৪ জুন ওহিও-এর মেকানিঙ্বার্গে জন্ম গ্রহণ করে। তার পিতা বার্ট রকওয়েল স্যাঙ্বি এবং মাতা ফে হেনরি ক্যারি স্যাঙ্বি।
১৯৪১ সালে তিনি ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরম্ন হলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন বিমান সেনা হিসেবে। যুদ্ধ থেকে ফেরার পর তিনি ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শাস্ত্র পড়া শুরম্ন করেন। ১৯৪৭ সালে ছাত্র অবস্থায় তিনি ওহিও থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি আইন ডিগ্রী লাভ করেন।
১৯৫১-৫২ সাল পর্যনত্ম ওহিও এর পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ সালে তিনি পরিষদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে স্যাঙ্বি ওহিও অঙ্গরাজ্যের এ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন। এ পদে তিনি তিনবার পুনর্নির্বাচিত হন ১৯৬৮ সাল পর্যনত্ম। ১৯৬৮ সালে স্যাঙ্বি রিপাবলিকান দলের সদস্য হিসেবে ওহিও এর সিনেটর পদে জয়লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নিঙ্নের এ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। নিঙ্নের ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির সময় তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ফোর্ড সরকারের সময় তিনি ভারতে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি মেকানিঙ্বার্গে ফিরে যান এবং বাকি জীবন আইন ব্যবসায় নিয়োজিত থাকেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় উইলিয়াম স্যাঙ্বি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ছিলেন। তিনি ১২ জুলাই ও ২ আগস্ট ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পৰে সমর্থন দিয়ে সিনেটে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি সিনেটে বার বার বাংলাদেশের নির্যাতিত মানবতা ও তাদের ওপর অত্যাচারের বিষয়টি সিনেটরদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন। সিনেটর চার্চ ও তিনি সংশোধনীর মাধ্যমে পাকিসত্মানকে সামরিক অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করতে সৰম হন। যা বাংলাদেশের জন্য প্রভূত উপকার হয় এবং মিত্রাবাহিনীর সুবিধা হয়। তিনি ইয়াহিয়া খানকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পূর্ব পাকিসত্মানকে একটি নির্দিষ্ট হারে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে। ইয়াহিয়া খানও তাকে এ মর্মে কথা দিয়েছিল। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ভারতে বোমা আক্রমণ করে বসলে তিনি ৰুব্ধ হয়ে বলেন, "ইয়াহিয়া আমাকে মিথ্যা বলেছে। সে যখন আমার কথা বলছিল তার আগেই সে ভারতে বোমা আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল।" ২০১০ সালের ২৪ আগস্ট তাঁর মৃতু্য হয়।

আর্চার কেন্ট বস্নাড
আচার কে বস্নাড ১৯২৩ সালে শিকাগোতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশে আমেরিকার কূটনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন মূলত পূর্ব পাকিসত্মানে নিযুক্ত আমেরিকান শেষ কনসাল জেনারেল।
আর্চার বস্নাড ভার্জিনিয়ার লিংকনবার্গ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৪৩ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ১৯৬৩ সালে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্চার বস্নাড আমেরিকার নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৪৭ সালে পররাষ্ট্র দফতরে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা, পূর্ব পাকিসত্মানে জেনারেল কনসাল হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়া তিনি গ্রীস, আলজিরিয়া, জার্মানি, আফগানিসত্মানে কাজ করেন এবং সর্বোপরি ১৯৮২ সালে ভারতের আমেরিকান দূতাবাসে চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন।
পাািকসত্মানী সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে অন্যায় এবং অমানবিকভাবে নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করলে ঢাকায় সে সময় যে কয়েক বিদেশী নাগরিকের বিরম্নদ্ধে সরব প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আর্চার কে বস্নাড। পাকিসত্মানের সেনাবাহিনী বিদেশী সাংবাদিকদের অসত্য ও বিভ্রানত্মিমূলক সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রলুব্ধ করলে আর্চার বস্নাড তা প্রকাশ করে দেন। তিনি আমেরিকান সরকার অতিমাত্রায় পাকিসত্মানী সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি বস্নাড মার্কিন সরকারকে জানান, বাংলায় বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকরা সরকারের নীতির কারণে যেমন বিরক্ত ও বিব্রত তেমনি সরকারের ভাবমূর্তির নিদারম্নণ অবৰয় ঘটেছে। এছাড়া তিনি সে সময় পূর্ব পাকিসত্মানের চলমান সংগ্রামের ন্যায্যতার প্রতি সম্যক শ্রদ্ধা নিয়ে বলেছিলেন, বাঙালীর বিজয় অবধারিত এবং অচিরেই বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভু্যদয় ঘটবে। ৬ এপ্রিল ১৯৭১ আর্চার বস্নাড এ তার বার্তাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পাঠিয়ে ছিলেন। এটি ইতিহাসে 'বস্নাড টেলিগ্রাম' নামে পরিচিত হয়ে আছে।
আর্চার বস্নাড তাঁর চিঠিতে আরও উলেস্নখ করে লিখেছিলেন যে, '... শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের নীতিমালা গত নির্বাচনে জনগণের দ্বারা প্রবলভাবে সমর্থিত হয়েছে। এই ঘটনা অর্থনৈতিক নীতির ওপর প্রদেশের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হসত্মানত্মরিত ৰমতার সংশোধনকেই জোরদার করেছে। যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইয়াহিয়া সরকার একটি আতঙ্কের রাজত্ব স্থাপন করতে যাচ্ছে, এর পুরো চেহারা ধীরে ধীরে সবার কাছেই উন্মোচিত হবে ... পাকিসত্মানী সরকারের কাছে সমসত্ম মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য এই মুহূর্তেই বন্ধ করে দেয়া উচিত। পাকিসত্মানী সরকারের কাছে এখন কোন মার্কিন অস্ত্র বিক্রি করা উচিত হবে না। কারণ সেগুলো নিরীহ জনসাধারণের হত্যাকা-ে ব্যবহার করা হবে।'
তাঁর এ চিঠি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিঙ্ন এবং সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জারকে অসন্তুষ্ট। এর ফলে তাঁরা আর্চার বস্নাডের মতাদর্শের কারণে তাঁকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সরকারী নীতিমালার বিরম্নদ্ধে অবস্থান নেয়ায় মার্কিন সরকার তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ কারণে আর্চার বস্নাডকে মার্কিন সরকার কখনও পদোন্নতি দেয়নি।
২০০৫ সালে বাংলাদেশী-আমেরিকান ফাউন্ডেশন ১৯৭১ সালের আর্চার কে বস্নাডের কার্যক্রমের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁকে ্তুঙঁঃংঃধহফরহম ঝবৎারপবং অধিৎফ্থ প্রদান করে। তিনি ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডোতে মৃতু্য বরণ করেন।

গায়িকা জন বেজ : মার্কিন
মার্কিন লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও মানবতাবাদী কমর্ী। ১৯৪১ সালের ৯ জানুয়ারি নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা আলবার্ট ভিনিসিয়ো বায়েজ ও দাদা রেভারেন্ড আলবার্ট বায়েজ মেঙ্েিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসতি স্থাপন করেন। পিতা আলবার্ট বায়েজ ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। মা জোয়ান ব্রিজ বায়েজ স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্ম গ্রহণ করেন। নিউজার্সির মেডিসনে এক হাই স্কুল নাচ প্রতিযোগিতায় মা-বাবার প্রথম দেখা। তারপর প্রেম ও কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে। এরপর আলবার্ট বায়েজ তার পরিবার নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া গমন করেন। জোয়ান বায়েজ ১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন বন্ধু ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী নেতা ডেভিড হ্যারিসকে।
আলবার্ট বায়েজ ছিলেন ইউনেস্কোর একজন স্বাস্থ্য কমর্ী। ফলে তাকে বিভিন্ন দেশে চাকরি করতে হয়েছে। সেই সূত্রে জোয়ান পিতার সাথে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেছেন। জোয়ানের পিতার নাম এক বন্ধু তাকে একটি ইউকুলেলে বা ছোট গিটার উপহার দিয়েছিলেন। সে গিটার থেকেই তার গানে হাতে খড়ি। ১৯৫৭ সালে বায়েজ প্রথম পেশাদারী গিটার ক্রয় করেন।
১৯৫৮ সালে তিনি প্যালো এ্যালটো হাই স্কুল (চধষড় অষঃড় ঐরময ঝপযড়ড়ষ) থেকে গ্রাজুয়েট হন। এর পর উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও তিনি ডিগ্রী লাভ করতে পারেননি সঙ্গীতের দিকে অধিক মনোযোগী হওয়ার কারণে।
১৯৫৮ সাল থেকে তিনি গানের এ্যালবাম নিয়ে কাজ শুরম্ন করেন। কিন্তু রেকর্ড কোম্পানির আনুকূল্য লাভে ব্যর্থ হন। একই বছর তার পিতা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিৰকতার চাকরি পান। ফলে তাদের পুরো পরিবার বেলমন্টে চলে যেতে হয়। সেখানে বায়েজ স্থানীয় লোকসঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে মেলামেশা করতে থাকেন এবং ক্লাবে তিনি গান পরিবেশনের সুযোগ পান। ১৯৫৯ সালে তিনি নিউপোর্ট ফোক ফেস্টিভালে যোগ দেন এবং ফেস্টিভালের সবচেয়ে আলোচ্য নতুন লোকসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পান। এর পর তিনি তার প্রথম পেশাদারী এ্যালবামের কাজ শুরম্ন করেন। ১৯৬০ সালে তার ভ্যানগার্ড সিরিজের প্রথম এ্যালবাম 'জোয়ান বায়েজ' প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালের ২য় এ্যালবাম 'জোয়ান বায়েজ ভলিউম-২' প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৬২ সালে 'জোয়ান বায়েজ ইন কনসার্ট পার্ট-১' এবং ১৯৬৩ সালে 'জোয়ান বায়েজ ইন কনসার্ট পার্ট-২' প্রকাশিত হয়। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয় জোয়ান বায়েজ ইন সান ফ্রান্সিস্কো'। ১৯৬৫ সালে তিনি বব ডিলানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মিউজিক্যাল টু্যরো যাত্রা করেন। লন্ডনের এ্যালবার্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম কনসার্ট পরিবেশন করেন। ১৯৬৮ সালে তার কবিতা ও গানের এ্যালবাম 'ব্যাপ্টিজম' প্রকাশিত হয়। ১৯৬৯ সালে তার কান্ট্রি মিউজিক এ্যালবাম 'ডেভিড'স এ্যালবাম, প্রকাশিত হয় স্বামী ডেভিডকে উৎসর্গ করে। ১৯৭০ সালে তার দুটি এ্যালবাম ওয়ান ডে এ্যাট এ টাইম ও দ্য ফার্স্ট টেন ইয়ারস প্রকাশিত হয়। ১৯৭২ সালে ভ্যানগার্ড রেকর্ডের সাথে চুক্তি শেষ করে অ্গ জবপড়ৎফং-এর সাথে নতুন চুক্তি করেন। নতুন এ রেকর্ড কোম্পানির প্রথম এ্যালবাম ছিল 'কাম ফ্রম দ্য শ্যাডো'। তাঁর অন্যান্য এ্যালবামের মধ্যে ছিল, ডযবৎব অৎব ণড়ঁ ঘড়,ি গু ঝড়হ? (১৯৭৩), এৎধপরধং অ খঅ ঠরফধ (১৯৭৪), উরধসরহফং ্ জঁংঃ (১৯৭৫), ঋৎড়স ঊাবৎু ঝঃধমব (১৯৭৬), ইষড়রিহ্থ অধিু (১৯৭৭), ঐড়হবংঃ খঁষষধনু (১৯৭৯), খরাব ঊঁৎড়ঢ়ব ্তু৮৩ (১৯৮৩), চষধু গব ইধপশধিৎফং (১৯৯২) প্রভৃতি। সঙ্গীতের বাইরে তিনি কিছু ডকুমেন্টরি মুভিতেও কাজ করেন। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য ছিল ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'উডস্টোক'। ১৯৮৭ সালে তাঁর আত্মজীবনী এ্যান্ড এ ভোয়েস টু সিং উইথ (অহফ অ ঠড়রপব ঞড় ঝরহম ডরঃয) প্রকাশিত হয়।
ক্যারিয়ারের শুরম্ন থেকেই জোয়ান নাগরিক অধিকার, অহিংসা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ শুরম্ন করেন। ১৯৬৪ সালে বায়েজ মার্কিনীদের ভিয়েতনামের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের বিরোধিতা করতে থাকে। তিনি তার ট্যাঙ্রে ৬০% প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ এই ৬০% সামরিক খাতে ব্যয় হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ারের সঙ্গে কৃষাঙ্গ অধিকার আন্দোলনে যোগ দেন। সামরিক বিরোধী কর্মকা-ের জন্য ১৯৬৭ সালে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল, তখন তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। সরকার জন বিৰোভের ভয়ে এক মাসের মাথায় তাঁকে মুক্তি দেয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের জোয়ান ও স্বামী ডেভিড ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার। এ সময় তারা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান বিষয়টিও বিরোধিতা করতে থাকেন। ১৯৭৬ সালে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডে গিয়ে আইরিশ জনতার পৰে আন্দোলনে যোগ দেন। পরবতর্ীকালে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হিউম্যান রাইটস আন্দোলনে তিনি ছিলেন সোচ্চার একজন কমর্ী।
সর্বদা যুদ্ধ বিরোধিতায় সোচ্চার জোয়ান বায়েজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে পাকিসত্মান কর্তৃক গণহত্যার তীব্র বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশের পৰে জনমত গঠনের জন্য বিভিন্ন কনসার্টে 'দ্য স্টোরি অব বাংলাদেশ' শিরোনামে গান পরিবেশন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই স্ট্যানফোর্ডে কুড়ি হাজার শ্রোতার সামনে এ গান পরিবেশন করেন। অনুরূপ ২৪ অক্টোবরের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় কুড়ি হাজার শ্রোতাকে এ গান শুনিয়ে ছিলেন। ১ আগস্ট জর্জ হ্যারিসন কর্তৃক আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এও তিনি এ গান পরিবেশন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য বিদেশীদের স্বাৰর সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করেন। স্টোরি অব বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি লাইন ছিল,
ইধহমষধফবংয, ইধহমষধফবংয
ইধহমষধফবংয, ইধহমষধফবংয
ডযবহ ঃযব ংঁহ ংরহশং রহ ঃযব বিংঃ
উরব ধ সরষষরড়হ ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ ইধহমষধফবংয
৫০ বছরেও বেশি সময়জুড়ে জোয়ান বায়েজ গান পরিবেশন করছেন। এখন পর্যনত্ম তাঁর ৭টি ভাসায় ৩০টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৬৫ সালে লোকসঙ্গীত ক্যাটাগরিতে তিনি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০০৭ সালে গ্রামি এ্যাওয়ার্ডে তাকে ঘধঃরড়হধষ অপধফবসু ড়ভ জবপড়ৎফরহম অৎঃং ধহফ ঝপরবহপবং-এর পৰ থেকে লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
শিল্পী জন বেজের বয়স এখন ৬৮ বছর। এখনো তিনি সবল এবং কর্মচঞ্চল। বাংলার স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর সহমর্মিতা ও সমর্থনের জন্য তাঁকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে।

অ্যালেন গিনসবার্গ
মার্কিন-কবি ও মানবতাবাদী কমর্ী। ১৯২৬ সালের ৩ জুন নিউজার্সিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা লুই গিনসবার্গ ছিলেন একজন কবি, শিৰক ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদশর্ী। মা নাওমি গিনসবার্গ ছিলেন র্যাডিক্যাল কমিউনিস্ট।
হাই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে অ্যালেন ১৯৪৩ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। ইচ্ছা ছিল শ্রম আইনবিশারদ হওয়া। কিন্তু অচিরেই সাহিত্য তাকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করতে থাকে। বন্ধু জ্যাক কেরম্নয়াকসহ (পরবতর্ী বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্যিক) সহপাঠীদের নিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরম্ন করেন। যারা পরবতর্ীকালে রিট জেনারেশন নামে খ্যাতি লাভ করে। ১৯৪৮ সালে তিনি কলম্বিয়া থেকে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন।
মাত্র ১১ বছর বয়সে অ্যালেন জার্নালের জন্য লিখতে শুরম্ন করেন। স্কুলে পড়ার সময় আমেরিকার জনপ্রিয় কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের লেখার সঙ্গে পরিচিতি তাকে সারাজীবন প্রভাবিত করেছে। ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি গুরম্নত্বপূর্ণ লেখালেখি শুরম্ন করেন। তবে তাঁর উলেস্নখ্যযোগ্য কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় আরও এক দশক পরে। ১৯৫৬ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হাউল এ্যান্ড আদার পয়েমস (ঐড়ষি ধহফ ঙঃযবৎ চড়বসং) প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ক্যাডিস এ্যান্ড আদার পয়েমস (কধফফরংয ঙঃযবৎ চড়বসং) প্রকাশিত হয়। এ দুটি গ্রন্থ তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়। তার অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ছিল, জবধষরঃু ঝধহফরিপযবং (১৯৬৩), চষধহবঃ ঘবংি (১৯৭১), ইরীনু পৎুড়হ ঃড় ঔবংংড়ৎব জড়ধফ (১৯৭১), ঞযব ঋধষষ ড়ভ অসবৎরপধ : চড়বসং ড়ভ ঞযবংব ঝঃধঃবং (১৯৭৪), ওৎড়হ ঐড়ৎংব (১৯৭২), গরহফ ইৎবধঃযং (১৯৭৮), ডযরঃব ঝযৎড়ঁফ চড়বসং : ১৯৮০-১৯৮৫ (১৯৮৬) প্রভৃতি উলেস্নখযোগ্য।
মানবতাবাদী গিনসবার্গ সারাজীবন মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময় মার্কিন কবি, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম মার্কিন নীতির প্রতিবাদকারী। তিনি ছিলেন অসাধারণ মুক্তচিনত্মার অধিকারী। তাঁর কাব্যে মানুষের অধিকার, তৎকালীন মার্কিন সমাজের পরিবর্তন প্রভৃতি উঠে এসেছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অ্যালেন গিনসবার্গ কলকাতায় আসেন। তিনি সীমানত্মবতর্ী এলাকার বেশ কয়েকটি শরণাথর্ী শিবির পরিদর্শন করেন। নিউইয়র্কে ফিরে '৭১-এর নবেম্বর মাসে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বিখ্যাত কবিতা 'সেপ্টেম্বর অন যশোর বোড' লেখেন। পরে এ নামে একটি কবিতার বইও বের করেন। তাঁর এই কবিতা বাংলাদেশের পৰে জনমত গঠনে খুবই সহযোগিতা করেছিল। ১৯৭১ সালেই গিনসবার্গের এ কবিতা বড় পোস্টারে ছেপে পুরো ভারতে বিক্রি করা হয়েছিল এবং বিক্রয়লব্ধ টাকা শরণাথর্ী শিবিরের ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছিল। তাঁর কবিতার উলেস্নখযোগ্য কয়েকটি লাইনের মধ্যে ছিল,
গরষষরড়হং ড়ভ ংড়ঁষং ঘরহবঃববহংবাবহঃুড়হব
ঐড়সবষবংং ড়হ ঔবংংড়ৎব ৎড়ধফ ঁহফবৎ মৎধু ংঁহ
অ সরষষরড়হ ধৎব ফবধফ, ঃযব সরষষরড়হং যিড় পধহ
ডধষশ ঃড়ধিৎফ ঈধষপঁঃঃধ ভৎড়স ঊধংঃ চধশরংঃধহ.
তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য ছিল, ফল অব আমেরিকার জন্য আমেরিকান ন্যাশনাল বুক এ্যাওয়ার্ড, ফ্রান্স সরকার কতর্ৃক ঃযব শহরমযঃ ড়ভ অৎঃং ধহফ খবঃঃবৎং পুরস্কার।
১৯৯৭ সালের ৫ এপ্রিল নিউইয়র্ক শহরে অ্যালেন গিনসবার্গের মৃতু্য হয়।

লেয়ার লেভিন : মার্কিন
চলচ্চিত্র পরিচালক ও আলোকচিত্র শিল্পী। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত চিত্রগ্রাহক। "জয়বাংলা" নামে ৭২ মিঃ চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর ২২ ঘণ্টার ফুটেজ নিয়ে তারেক মাসুদ নির্মাণ করেন "মুক্তির গান"।

ফাদার টিম/ফাদার ইভান্স : মার্কিন নাগরিক

এডওয়ার্ড হিথ: সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রম্নস ডগলাস ম্যান : ব্রিটিশ নাগরিক
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শ্রমিক দলীয় সদস্য মি: ব্রম্নস ডগলাস ম্যান পূর্ববঙ্গে গণহত্যা সম্পর্কে বক্তব্যে বলেন যে, ভিয়েতনামে 'মাইলাই' একটি ব্যতিক্রম, আর গোটা পূর্ববঙ্গই 'মাইলাই'। তিনি পশ্চিম পাকিসত্মানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের দাবি জানান।

হ্যারল্ড উইলসন : সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
২৫ মার্চ কালরাতের পর নিরীহ বাঙালীদের ওপর পাক বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পৰে সমর্থন প্রদান করেন।

জুলিয়ান ফ্রান্সিস : (যুক্তরাজ্য)
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিসত্মানের অযুত মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শরণাথর্ী হিসাবে। মানবিক চেতনা থেকে তাদের সেবাদানের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অঙ্ফাম। কলকাতায় শরণাথর্ী ত্রাণ কার্যক্রমের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গান্ধীবাদী দর্শনে উদ্বুদ্ধ জুলিয়ান ফ্রান্সিস। দিনে দিনে বাড়ছিল শরণাথর্ীর সংখ্যা। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, বনগাঁর মতো সীমানত্মবতর্ী এলাকাগুলোতে শরণাথর্ী শিবিরে দেখা দেয় কলেরা ডায়রিয়া। তখন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন জুলিয়ান। তিনি নারায়ণ দেশাইসহ বিভিন্ন গান্ধীবাদী স্বেচ্ছাসেবককে শরণাথর্ী ত্রাণ কাজে যুক্ত করার ৰেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতা ছাড়াও ভারতের অন্যান্য স্থানের মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তাঁর নেতৃত্বে সেবাকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অঙ্ফ্যাম সংগৃহীত রিলিফ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন ও ব্যবহারের জন্য বিশাল আকারের সেবাকাজ পরিচালনায় পরিপূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন জুলিয়ান। আর এ কাজ করতে গিয়েই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা জন্মে মাদার তেরেসাসহ আরও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের। শরণাথর্ী শিবিরে মানুষের দুর্দশা খুব কাছ থেকে দেখেছেন এমন কিছু গুরম্নত্বপূর্ণ মানুষের বয়ান নিয়ে অঙ্ফাম প্রকাশ করেছিল 'টেস্টিমনি অব সিঙ্টি' শীর্ষক ঐতিহাসিক সঙ্কলন। পূর্ব পাকিসত্মানে ঘটে যাওয়া বৃহৎ মানবিক সঙ্কটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই সঙ্কলন গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একাত্তরের অক্টোবরে প্রকাশিত এই সঙ্কলন বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের শরণাথর্ী-পরিস্থিতি; জাগিয়ে দিয়েছিল বিশ্ববিবেক। উক্ত সঙ্কলনে জুলিয়ান-ফ্রান্সিসের একটি লেখা রয়েছে এবং মাদার তেরেসার লেখাটিও তিনি সংগ্রহ করেন। এ সঙ্কলন প্রকাশে ও শরণাথর্ী-সাহায্যে অনন্য ভূমিকা ছিল জুলিয়ান ফ্রান্সিসের। তিনি একাত্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে যে আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলেন তা আজও অব্যাহত রয়েছে। তিনি এখন কাজ করে চলেছেন যমুনার চর অঞ্চলের মানুষের জীবন-উন্নয়নে।

মি. পিটার সোর : সাবেক ব্রিটিশ এমপি ও মন্ত্রী
সায়মন ড্রিং :
ব্রিটিশ_সাইমন ড্রিং ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের নরফোকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটিনের একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং পরিচালক। রয়টার্স, ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং বিবিসি টেলিভিশন ও রেডিওতে তিনি কর্মরত ছিলেন।
লন্ডনের কিংস লেনিন টেকনিক্যাল কলেজে সায়মন ড্রিং পড়াশোনা করেন।
সায়মন ড্রিং ১৯৬৩ সালে ব্যাংককের 'ওয়ার্ল্ড নিউজপেপার'-এর প্রম্নফ রিডার হিসাবে কর্মজীবন আরম্ভ করেন। ১৯৬৪ সালে ভিয়েতনামে তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের নিউজ সংগ্রহের জন্য রয়টার্সের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যনত্ম তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং বিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসাবে ভারত, পাকিসত্মান, বাংলাদেশ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যনত্ম বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারী টিভি চ্যানেল একুশে টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন।
আফ্রিকার দুর্ভিৰকবলিতদের সাহায্যার্থে সায়মন ড্রিং ১৯৮৬ সালে বব গেলডফ-এর সহায়তায় ্তুঝঢ়ড়ৎঃ-অরফ্থ নামে খেলাধুলার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ্তুঙহ ঞযব জড়ধফ অমধরহ: ঞযরৎঃু ণবধৎং ঙহ ঞযব ঞৎধাবষবৎ্থং ঞৎধরষ ঞড় ওহফরধ্থ নামে একটি বই রচনা করেন।
১৯৭১ সালে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে সায়মন ড্রিং বাংলাদেশে কাজ করছিলেন। তিনি ২৫ মার্চের ইয়াহিয়া খান এবং শেখ মুজিবের মধ্যকার গোলটেবিল বৈঠকের খবর সংগ্রহ করছিলেন। ঐ রাতে পাকিসত্মানী বাহিনী যখন পূর্ব পাকিসত্মানের নিরীহ জনগণের ওপর আক্রমণ চালায় তখন তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিমেন্টালে (বর্তমান হোটেল শেরাটন) অবস্থান করছিলেন। ঢাকার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তিনি বেশ কিছুদিন লুকিয়ে খবর সংগ্রহ করেন। ঢাকা থেকে কার্ফু তুলে নেয়ার পর তিনি করাচী হয়ে ব্যাংকক যান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের খবর 'দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ'-এ প্রকাশের জন্য পাঠান। তাঁর পাঠানো সংবাদ প্রতিবেদনই ছিল পাক-সামরিক অপারেশনের প্রথম তথ্যনির্ভর বিবরণ, যা পড়ে বিশ্ববাসী সত্মম্ভিত হয়ে যায়।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ সায়মন ড্রিং ২৫ মার্চ রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল 'ট্যাঙ্কের সাহায্যে পাকিসত্মানে বিদ্রোহ দমন/৭,০০০ খুন: বাড়িঘর ভস্মীভূত' (্তুঞধহশং ঈৎঁংয জবাড়ষঃ রহ চধশরংঃধহ/৭,০০০ ঝষধঁমযঃবৎবফ : ঐড়সবং নঁৎহবফ্থ)। তিনি প্রতিবেদনের শুরম্নতেই লেখেন, 'আলস্নাহ্র নামে, অখ- পাকিসত্মানের নামে ঢাকা আজ এক বিধ্বসত্ম ও আতঙ্কিত নগরী। ঠা-া মাথায় পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর নির্মম গোলাবর্ষণের ফলে ৭ হাজার মানুষ নিহত, বিশাল এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে এবং পূর্ব পাকিসত্মানের স্বাধীনতা সংগ্রাম বর্বরতার সঙ্গে শেষ করা হয়েছে।' রিপোর্টে তিনি আরও উলেস্নখ করেন, ২৪ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞে পাকিসত্মানী বাহিনী ঢাকার প্রায় ৭,০০০ এবং পুরো বাংলাদেশের প্রায় ১৫,০০০ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। পাকিসত্মানীরা ট্যাঙ্ক, মর্টার, মেশিনগান এবং গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে ঢাকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের টার্গেট ছিল ছাত্র, স্থানীয় পুলিশ, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা, আওয়ামী লীগের সমর্থক, হিন্দু এবং সাধারণ মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর আক্রমণের বর্ণনা দিতে গিয়ে সায়মন ড্রিং উলেস্নখ করেন,
খবফ নু অসবৎরপধহ-ংঁঢ়ঢ়ষরবফ গ-২৪ ডড়ৎষফ ডধৎ ওও ঃধহশং, ড়হব পড়ষঁসহ ড়ভ ঃৎড়ড়ঢ়ং ংঢ়বফ ঃড় উধপপধ টহরাবৎংরঃু ংযড়ৎঃষু ধভঃবৎ সরফহরমযঃ. ঞৎড়ড়ঢ়ং ঃড়ড়শ ড়াবৎ ঃযব ইৎরঃরংয পড়ঁহপরষ ষরনৎধৎু ধহফ ঁংবফ রঃ ধং ধ ভরৎবনধংব ভৎড়স যিরপয ঃড় ংযবষষ হবধৎনু ফড়ৎসরঃড়ৎু ধৎবধং.
ঈধঁমযঃ পড়সঢ়ষবঃবষু নু ংঁৎঢ়ৎরংব, ংড়সব ২০০ ংঃঁফবহঃং বিৎব শরষষবফ রহ ওয়নধষ ঐধষষ, যবধফয়ঁধৎঃবৎং ড়ভ ঃযব সরষরঃধহঃষু ধহঃরমড়াবৎহসবহঃ ংঃঁফবহঃং্থ ঁহরড়হ, ও ধিং ঃড়ষফ. ঞড়ি ফধুং ষধঃবৎ, নড়ফরবং বিৎব ংঃরষষ ংসড়ষফবৎরহম রহ নঁৎহঃ-ড়ঁঃ ৎড়ড়সং, ড়ঃযবৎং বিৎব ংপধঃঃবৎবফ ড়ঁঃংরফব, সড়ৎব ভষড়ধঃবফ রহ ধ হবধৎনু ষধশব, ধহ ধৎঃ ংঃঁফবহঃ ষধু ংঢ়ৎধষিবফ ধপৎড়ংং যরং বধংবষ...অৎসু ঢ়ধঃৎড়ষং ধষংড় ৎধুবফ হবধৎনু সধৎশবঃ ধৎবধ. ঞড়ি ফধুং ষধঃবৎ, যিবহ রঃ ধিং ঢ়ড়ংংরনষব ঃড় মবঃ ধহফ ংবব ধষষ ঃযরং, ংড়সব ড়ভ ঃযব সধৎশবঃ্থং ংঃধষষ-ড়হিবৎং বিৎব ংঃরষষ ষুরহম ধং ঃযড়ঁময ধংষববঢ়, ঃযবরৎ নষধহশবঃং ঢ়ঁষষবফ ঁঢ় ড়াবৎ ঃযবরৎ ংযড়ঁষফবৎং.
সায়মন আরও উলেস্নখ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর যখন আক্রমণ চলছে তখনই আরেক দল সৈন্য শহরের অন্যপ্রানত্মে অবস্থিত পূর্ব পাকিসত্মান পুলিশের সদর দফতর রাজারবাগের দিকে এগিয়ে যায়। প্রথমে ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়, পরে সৈন্যরা ভেতরে ঢুকে আগুনে বোমা ছুড়ে ঘুমনত্ম পুলিশ ব্যারাক মাটিতে মিশিয়ে দেয়। মনে হয় সে সময় রাজারবাগে অবস্থানরত ১১০০ পুলিশের মধ্যে অল্প সংখ্যকই রেহাই পেয়েছিল।
সায়মন ড্রিং পুরান ঢাকায় পাকিসত্মানীদের আক্রমণেরও বর্ণনা দেন। তিনি তাঁর লেখায় উলেস্নখ করেন যে, পুরন ঢাকায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকায় এবং তা হিন্দু অধু্যষিত এলাকা হওয়ায় পাকিসত্মানী বাহিনী সেখানে হত্যাকা- চালায়। তাঁর মতে, ২৬ মার্চ দুপুর দুটা পর্যনত্ম পুরান ঢাকায় প্রায় ৭০০ নিরস্ত্র নারী-পুরম্নষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়। তারা এ এলাকায় রাত এগারোটা পর্যনত্ম অবস্থান করে। এছাড়া ২৬ মার্চ রাত থেকে স্থানীয় বাঙালী তথ্যদাতারা পাকিসত্মানী সৈন্যদের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়ি চিহ্নিত করে দেয়। তাদের নির্দেশ মতে পাকিসত্মানীরা সেসব বাড়িতে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরও উলেস্নখ করেন যে, পুরো একদিনে প্রায় ১৫,০০০ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে পাকিসত্মানী সৈন্যরা গর্ববোধ করছিল এবং তারা অপরাজেয় এমন মানসিকতা পোষণ করে সায়মন ড্রিংকে নিম্নোক্তে বক্তব্য দিয়েছিল,
ুঞযবংব নঁমমবৎ সবহ,চ্ ঝধরফ ড়হব চঁহলধনর ষরবঁঃবহধহঃ, ুঈড়ঁষফ হড়ঃ শরষষ ঁং রভ ঃযবু ঃৎরবফ.চ্
ুঞযরহমং ধৎব সঁপয নবঃঃবৎ হড়,িচ্ ংধরফ ধহড়ঃযবৎ ড়ভভরপবৎ, ুঘড়নড়ফু পধহ ংঢ়বধশ ড়ঁঃ ড়ৎ পড়সব ড়ঁঃচ্, ওভ ঃযবু ফড় বি রিষষ শরষষ ঃযবস- ঃযবু যধাব ংঢ়ড়শবহ বহড়ঁময- ঃযবু ধৎব ঃৎধরঃড়ৎং, ধহফ বি ধৎব হড়ঃ. ডব ধৎব ভরমযঃরহম রহ ঃযব হধসব ড়ভ এড়ফ ধহফ ধ ঁহরঃবফ চধশরংঃধহ.চ্

গায়ক জর্জ হ্যারিসন :
জর্জ হ্যারিসন ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৪৩ ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হ্যারন্ড হারগ্রেভস হ্যারিসন এবং মাতা লুইস হ্যারিসন। তাঁর এক বোন এবং দুই ভাই ছিল। হ্যারিসনের পরিবার রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, গিটার বাদক, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
জর্জ হ্যারিসন এর প্রথম শিৰালয় ছিল ডোভেডেল প্রাইমারি স্কুল। এরপর ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যনত্ম তিনি লিভারপুল ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ-এ শিৰা লাভ করেন। এখান থেকেই তিনি গিটারে হাতেখড়ি নিয়েছিলেন।
১৯৫৯ সালে হ্যারিসন প্রথম গিটার বাদক হিসেবে বিটলস গ্রম্নপের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬০ এর দশকে হ্যারিসন প্রাচ্যয়ী সঙ্গীত ভারতীয় স্বনামধন্য সেতারবাদক রবিশংকরের কাছে তালিম নেন। তিনি তাঁর প্রথম গান ুউড়হ্থঃ ইড়ঃযবৎ গবচ্ রচনা করেন ১৯৬৩ সালে। ১৯৭০ সালে বিটলস গ্রম্নপ ভেঙ্গে যাওয়ার আগেই হ্যারিসন "ডড়হফবৎ ধিষষ সঁংরপচ্ এবং 'ঊষবপঃৎড়হরপ ঝড়ঁহফ্থ নামে দুটি সোলো এ্যালবাম বের করেছিলেন। ইন্সট্রুম্যানটাল নির্ভর এ্যালবাম দুটিতে হ্যারিসন ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য সুরের মিশ্রণ ঘটান। এরপর তিনি "অষষ ঃযরহমং গঁংঃ চধংং্থ নামে আরেকটি সলো এ্যালবাম বের করেন। ১৯৭১ সালে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ' গানটি গেয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে ঞযব ইবংঃ ড়ভ এবড়ৎমব ঐধৎৎরংড়হ ্তু বের হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বের হওয়া হ্যারিসনের এ্যালবামগুলো হলো ঝড়সবযিবৎব রহ ঊহমষধহফ (১৯৮১), ঞৎড়ঢ়ঢ়ড় (১৯৮২), ঈষড়ঁফ ঘরহব (১৯৮৭), ডযবহ ডব ডধং ঋধন (১৯৮৭), জঁহধধিু ঐড়ৎংবং (১৯৮৯), ইবংঃ ড়ভ উধৎশ ঐড়ৎংব (১৯৭৬)-১৯৮৯)। এ ছাড়া হ্যারিসন ১৯৯৬ সালে কার্ল পারকিন্স এর সঙ্গে "উরংঃধহপব গধশবং ঘড় উরভভবৎবহপব ডরঃয খড়াবচ্ এ্যালবামে কাজ করেন এবং ১৯৯৭ সালে প-িত রবিশংকরের সঙ্গে বের করেন ঈযধহঃং ড়ভ ওহফরধ্থ। তাঁর সর্বশেষ এ্যালবাম "ইৎধরহধিংযব্থ বের করেন ধনী হ্যারিসন ২০০২ সালে। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি হ্যান্ডমেড ফিল্মস কোম্পানির রেকর্ড প্রডিউসার এবং কো-ফাউন্ডার ছিলেন। হ্যারিসন ১৯৮০ সালে 'ও গব গরহব্থ নামে একটি আত্মজীবনীগ্রন্থ রচনা করেন। হ্যারিসনের গাওয়া কয়েকটি বিখ্যাত গান হলো, " ও ঘববফ ঁচ্, ুণড়ঁ খরশব গব ঞড়ড় গঁপযচ্, ুঈযধরহংচ্, ুউড় ণড়ঁ ডধহঃ ঃড় কহড় িধ ঝবপৎবঃচ্, ুজড়ষষ ঙাবৎ ইববঃযড়াবহচ্, ুউবারষ রহ ঐবৎ ঐবধৎঃচ্, ুও্থস ঐধঢ়ঢ়ু ঔঁংঃ ঃড় উধহপব রিঃয ণড়ঁচ্, অ ঐধৎফ উধু্থং ঘরমযঃ, ুঊাবৎুনড়ফু্থং ঞৎুরহম ঃড় ইব গু ইধনুচ্, ুগু ঝবিবঃ খড়ৎফচ্,
হ্যারিসন ২০০৪ সালে 'এধৎসসু অধিৎফং্থ, ইৎরঃরংয ঝড়হমৎিরঃবৎংচ্ এঁরষফ অধিৎফ্থ অর্জন করেন এবং ১৯৬৫ সালে 'গবসনবৎং ড়ভ ঃযব ঙৎফবৎ ড়ভ ঃযব ইৎরঃরংয ঊসঢ়রৎব্থ এর সদস্য হন। এছাড়া ুজড়ষষরহম ঝঃড়হব গধমধুরহব্থং্থ- এর লিস্ট অনুসারে সর্বকালের সেরা ১০০ গিটার বাদকের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ২১তম স্থান অর্জন করেন।
প-িত রবিশংকরের আহ্বানে তিনি ১ আগস্ট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' নামে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এটি আমেরিকার ম্যাসিডন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাঙালী শরণাথর্ীদের সাহায্যের জন্য অর্থ তহবিল গঠন করা। বব ডিলন, এরিক ক্লেপটন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল, ব্যাডফিংগার, রিংগো স্টার প্রমুখ শিল্পীও এ অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন। পরপর দুটি অধিবেশনে প্রায় ৪০ হাজার শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। জর্জ হ্যানিরসন যে গানটি গেয়েছিলেন তাঁর কথাগুলো ছিল,
গু ঋৎরবহফ পধসব ঃড় সব রিঃয ংধফহবংং রহ ঃযব বুবং
ঞড়ষফ সব ঃযধঃ যব ধিহঃবফ যবষঢ়
ইবভড়ৎব যরং পড়ঁহঃৎু ফরবং
ঞড় যবষঢ় ঁং ংধাব ংড়সব ষরাবং
ইধহমষধফবংয, ইধহমষধফবংয, ইধহমষধফবংয
এই গানের প্রতিক্রিয়া এতই গভীর ছিল যে, উপস্থিত শ্রোতারা বেদনায় কেঁদেছিলেন। বাংলাদেশ কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ আনুমানিক কনসার্টের ২,৪২,০০০ ডলার বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রসত্ম উদ্বাস্তুদের জন্য পাঠানো হয়। কনসার্টের টাকা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পেঁৗছানো হয়। এ কনসার্টের এ্যালবাম ও ডিভিডি থেকে এখনও যে আয় হয় তা ইউনিসেফের জর্জ হ্যারিসনের এ্যাকাউন্টে জমা হয়। জর্জ হ্যারিসন ২০০১ সালে লাঞ্চ ক্যানসারে আক্রানত্ম হয়ে মৃতু্যবরণ করেন।

মি. টম উইলিয়ামস, এমপি লেবার পার্টি : ব্রিটেন
তিনি ১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর পৰে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশে আসেন।

প্রয়াত বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরালা (বি.পি. কৈরালা) : নেপাল
নেপলী কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরালা (বি.পি কৈরালা নামে সমধিক পরিচিত) ১৯৭১ সালে ভারতে নির্বাসনে থাকার সময় ভারতীয় রাজনৈতিক নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের সাথে আলাপের প্রেৰিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেপালী কংগ্রেসের পৰ থেকে সাহায্য প্রদানের সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে দিলস্নীতে অনুষ্ঠিত ২৪ জাতি সম্মেলনে বি.পি কৈরালা জোরালো ভূমিকা রাখেন ও ভাষণ দেন, যা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব-জনমত গড়ে তেুলতে ভূমিকা রেখেছিল।

লিনপো উজিয়ান দর্জি : ভুটান
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তু শিবিরে বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি কাজ করেছিলেন।

শ্যান ম্যাকব্রাইড : সাবেক আইরি