মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে
মূলধনী কাঁচামাল ও খাদ্য পণ্য আমদানিতে গতি
রহিম শেখ ॥ বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটতে শুরু করায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে গতি ফিরেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্র (এলসি) বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হতে থাকায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে ধীরে হলেও আস্থা ফিরছে। এ কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামালসহ অন্য সব পণ্যের এলসি বাড়ছে। এদিকে পণ্য আমদানিতে গতি বাড়ার কারণে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সাড়ে ৪ কোটি ডলার বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে আমদানি, রফতানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার। এ সময়ে বিভিন্ন পণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৬৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে জুলাই-অক্টোবর সময়ে শিল্প স্থাপনের মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছে ২৭ কোটি ৫ লাখ ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এ হিসেবে চার মাসে এই পণ্যটির এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ কোটি ৬৫ লাখ। সূত্র জানায়, গত চার মাসে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও পেট্রোলিয়াম আমদানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক বছর ধরে কৃষিতে বাম্পার ফলন হওয়ার পরও খাদ্যসামগ্রী আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়াকে সার্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়লে দেশে শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটা অবশ্যই ভাল দিক। কিন্তু এসব পণ্য আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
জানা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বিনিয়োগ প্রকল্প নিবন্ধন যেমন আশঙ্কাজনক হারে কমে যায় তেমনি আমদানির গতিও শ্লথ হয়ে পড়ে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হওয়ায় বিনিয়োগ ও আমদানি ইতিবাচক ধারায় প্রবাহিত হয়। এ কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলা (এলসি) বাড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তি বাড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ। গত অর্থবছর মূলধনী ও শিল্পের কাঁচামালসহ সব পণ্যের আমদানিই উর্ধমুখী প্রবণতায় ছিল। বিনিয়োগ বোর্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত প্রকল্পগুলোতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে তা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ২৩৭টি। এসব শিল্প প্রকল্পে বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৬৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আর বিদেশী প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১১৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিদেশী প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ এসেছিল মাত্র ৭৮৭ কোটি টাকা।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট কাটাতে এবং দেশে পণ্য আমদানিতে গতি বাড়ার কারণে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সাড়ে ৪ কোটি ডলার বিক্রি করে দিয়েছে। প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ৭৭ টাকা ৬২ পয়সা দরে। সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংকগুলো এসব ডলার কিনেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, পুরনো জাহাজ, সার, ভোজ্যতেল ও চিনির কাঁচামাল আমদানির জন্য এগুলো ব্যয় করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এর ফলে বাজারে ডলারের সঙ্কট কেটে যাবে। ডলারের দাম কমে বাড়বে টাকার মান। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন হলে আরও ডলার বিক্রি করবে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ ২০১২ সালের ২০ জুন ১ কোটি ডলার বিক্রি করেছিল। অথচ গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন বছর ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে কেনে ১৩৪ কোটি ডলার। ২০১৩ সালে কেনা হয় ৫১৫ কোটি ডলার। তার আগের বছর কিনেছিল ৪৫৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ৭৮ কোটি ডলার বিক্রি করেছিল। তার আগের কয়েকটি বছরও ডলার বিক্রি করে ব্যাংকগুলোর বাড়তি চাহিদা মেটাতে হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, আমদানিতে খানিকটা গতি এসেছে। আবার বিদেশ থেকে আনা ঋণ ও বিনিয়োগের কিছু অর্থ পরিশোধের সময়ও হয়ে থাকতে পারে। সব মিলে একটা চাহিদা দেখা দিয়েছে বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহ কমায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এক্সচেঞ্জগুলো প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিটেন্স সংগ্রহ করে বাড়তি মুনাফার আশায় নিজেদের কাছে আটকে রেখেছিল। ডলারের দাম বাড়লে বাড়তি মুনাফা নিয়ে তারা এগুলো বাজারে ছাড়বে এমন হিসেব কষেছিল। এ কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যায়। এতে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। বাজারে এখন ডলার ছাড়ায় টাকার দাম বেড়ে ডলারের দাম কমে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। হঠাৎ এত বেশি পরিমাণে ডলার বিক্রির কারণ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিনিয়োগ বাড়ায় আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বেড়ে গেছে। এই চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে ডলার ছাড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে ডলার সঙ্কট তৈরি করে টাকার মান কমে যাক এটা আমরা চাই না। ব্যাংকগুলোকে ডলারের যোগান বাড়িয়ে দেয়ায় কেউ যদি ডলারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে তবে তারা ব্যর্থ হবে। আমরা কোনক্রমেই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে অস্থিতিশীল করতে দেব না।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৫০২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ডলার ছিল তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ২০ শতাংশ কম। আমদানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সেও এখন ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। অবশ্য গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার কারণে তৈরি পোশাক রফতানির অর্ডার কমার প্রভাবে গত চার মাসে রফতানি কমেছে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর প্রভাবে তিন বছর পর গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে এই প্রবণতাকে সাময়িক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেমিটেন্স প্রবাহে বর্তমানের মতো প্রবৃদ্ধি এবং রফতানিতে আগের মতো প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত পড়েছিল। এর মধ্যে একেবারে অলস ছিল ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এই অর্থের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি চিন্তিত হয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব অর্থের বিপরীতে ব্যাংকগুলো আমানতকারীকে বড় অঙ্কের সুদ দিলেও তাদের কোন আয় আসছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতে সুদহার ৮ থেকে ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছে। কিছুদিন আগেও যা ১২ শতাংশের ওপর ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ ঋণ চাহিদা বাড়ার কারণে গত অক্টোবর থেকে কয়েকটি ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার (কলমানি) ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ধার নিচ্ছে। বৃহস্পতিবারও কলমানি থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছয় হাজার ৯ কোটি টাকা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা নিচ্ছে। অথচ অক্টোবরের আগ পর্যন্ত ব্যাংকগুলো রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে দৈনিক গড়ে চার থেকে পাচ হাজার কোটি টাকা জমা রাখত।
পাঁচ বীমা কোম্পানিকে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আইন লঙ্ঘনের কারণে পাঁচ বীমা কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
জরিমানার শিকার হওয়া কোম্পানির মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৩৯ লাখ টাকা, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২৪ লাখ টাকা, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১৪ লাখ টাকা এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাকিতে বীমা ব্যবসা বন্ধে আইডিআরএ’র জারি করা প্রজ্ঞাপনের (প্রজ্ঞাপন নং: জেন-২৯/২০১১) শর্ত লঙ্ঘন করায় বীমা আইন ২০১০’র ১৩০ এবং ১৩৪ ধারা অনুযায়ী কোম্পানি পাঁচটিকে জরিমানা করা হয়েছে। ২০১১ সালের ২৪ নবেম্বরে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, বীমা পলিসির প্রিমিয়াম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে কোম্পানিকে অবশ্যই ডিডি, পে-অর্ডার, ক্রেডিট এ্যাডভাইজ, ইলেক্ট্রিনক ফান্ড ট্রান্সফার অথবা এ্যাকাউন্টপেয়ী চেকের মাধ্যমে নিতে হবে।
আর বীমা দলিলাদি অবশ্যই চেকের অর্থ পাওয়ার পরে ইস্যু করতে হবে। প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ অংশ কোম্পানিকে কভার নোট, পলিসি, এনডোর্সমেন্ট অথবা অন্য যে কোন বীমা বিষয়ক অংশ জুড়ে দেয়ার আগে নিতে হবে।
এছাড়া ডিডি, পে-অর্ডার অথবা চেক নম্বর এবং তারিখ মানি রিসিটে উল্লেখ করতে হবে। যে কোন ধরনের প্রিমিয়াম ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহককে জানিয়ে এ্যাকাউন্টপেয়ী চেকে দিতে হবে।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া ও কোম্পানিগুলোকে বার বার সতর্ক করার পরও বাকিতে বীমা ব্যবসা ও অতিরিক্ত কমিশন দেয়া বন্ধ হচ্ছে না। এ জন্য অনিয়মে জড়িত কোম্পানিকে একবারে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর পরও যদি কোন কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের উপদেষ্টা নুরুল হক বলেন, একবারে এত বড় অঙ্কের জরিমানার কারণে কোম্পানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া মেঘনা ইন্স্যুরেন্সকে যে জরিমানা করা হয়েছে তার অধিকাংশই ২০১২ ও ২০১৩ সালের। আইডিআরএ’র উচিত ছিল আরও সতর্ক করে এমন জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়া।
বাণিজ্যমেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা স্টল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা স্টল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশীয় নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবারের মেলায় আলাদা ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মাফরুহা সুলতানা।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের আমরা এবার গুরুত্ব দিচ্ছি, ২৯টি আবেদন পেয়েছি এবং যার সবই আমরা বরাদ্দ দিয়েছি।
আগামী জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী এ মেলা। এবারের মেলায় রেকর্ডসংখ্যক ৫০৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৭১। ইপিবির প্রাথমিক বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন হবে ৫৫টি। এছাড়া প্রিমিয়ার মিনিপ্যাভিলিয়ন ৫৪টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১৪টি, মিনিপ্যাভিলিয়ন ১৫টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন ৮টি, রিজার্ভ মিনিপ্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্যাভিলিয়ন ১৫টি, বিদেশী মিনিপ্যাভিলিয়ন ৫টি, প্রিমিয়ার স্টল ৫৬টি, বিদেশী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রিমিয়ার স্টল ১৯টি, জেনারেল স্টল ২২২টি, রেস্টুরেন্ট ৬টি ও বিদেশী খাদ্যের রেস্টুরেন্টের জন্য ২টি স্থাপনা বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। মেলার সাজসজ্জা, স্টল বরাদ্দসহ প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে আয়োজকদের।
উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, জি-৭৭ ভুক্ত সদস্য দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভা-ার রয়েছে। পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এসব সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এ জন্য জি-৭৭ সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রবিবার ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুব্যবস্থাপনা ও শিল্পায়ন’ বিষয়ক জি-৭৭ ভুক্ত সদস্য দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের সভা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘স্থানীয় উন্নয়নে সম্পদভিত্তিক শিল্পায়নের প্রভাব’ শীর্ষক প্যানেল সংলাপে আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন। দক্ষিণ বলিভিয়ার তারিজায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) বলিভিয়ার প্রতিনিধি মি. সিজার রাউল সেবিলার সঞ্চালনায় সংলাপে অন্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভু হাই হোয়াং, কলম্বিয়ার শিল্পমন্ত্রী শান্তিয়াগো রোজাস এ্যারিয়ো, মোজাম্বিকের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আরমান্ডু ইনরোগা, ইথিওপিয়ার খনিজ সম্পদ বিষয়কমন্ত্রী তলোসা সাগিমতি, সুদানের শিল্পমন্ত্রী আলসেমিয়া আলসিদ্দিগ আলনূর, ঘানার বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক উপমন্ত্রী কিকো রিকেট হাগান এবং ভেনিজুয়েলার সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী ও ইউনিয়ন অব সাউথ আমেরিকান ন্যাশন্সের মহাসচিব আলী রদরিগেস আলোচনায় অংশ নেন।
সংলাপে অংশ নিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের বেআইনী ব্যবহারের ফলে জনগণ প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় জি-৭৭ ভুক্ত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতে পিছিয়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় ও বেআইনী ব্যবহাররোধে জি-৭৭ ভুক্ত সদস্য দেশের বিদ্যমান আইনের আধুনিকায়ন করা উচিত। তিনি সম্মেলনে নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সম্মিলিত কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তাজরীনে অগ্নিকাণ্ড ॥ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পাঁচটি কিছুই দেয়নি দিয়েছে মাত্র দুটি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও এখনও কারখানাটিতে সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো তেমন সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেনি। কারখানায় সম্পৃক্ত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মাত্র দুটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কিছুই দেয়নি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রকাশিত অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এখনও দুর্দশায় দিনাতিপাত করছে। উপার্জন সক্ষম হয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। এসব ব্র্যান্ডের উচিত কারখানার শ্রমিক ও মৃতদের পরিবারবর্গকে অবিলম্বে পূর্ণ ও সুষ্ঠু ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেয়া।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামসের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়। এ্যাডামস বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির শিকারদের মতো তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের ভিকটিমদেরও বড় অঙ্কের সহায়তা প্রয়োজন। অনেকে হয়ত আগুন থেকে পালিয়ে বেঁচেছেন। কিন্তু তাদের জীবনে বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এসব মানুষকে সাহায্য করার দায়িত্ব বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আর এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন ভিকটিমরা। কিন্তু দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যেই চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ হয়ে গেছে ওই অর্থ। জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকা-, পণ্য, সেবা বা তাদের ব্যবসায়িত সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিকূল মানবাধিকার প্রভাব প্রতিহত বা লাঘব করা ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ওই প্রভাবে তারা সরাসরি অবদান না রাখলেও এটা তাদের দায়িত্ব। জাতিসংঘ নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা বিরূপ প্রভাব ঘটিয়েছে বা তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তাদের উচিত বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা প্রতিকার নিশ্চিত বা সহায়তা করা। তাজরীন কারখানায় সম্পৃক্ত ৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে (ইউএসএর ডিকিস, সিয়ার্স, ডিজনি, ওয়ালমার্ট ও ফ্রান্সের টেডি) ২০১৩ সালের নবেম্বরে যোগাযোগ করে এইচআরডব্লিউ। তাদের কাছ থেকে এখনও কোন জবাব মেলেনি। তবে ডিকিস এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, তারা অনেক আগেই ওই কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় ইতি টেনেছিল। বাকিরা বিভিন্ন সময়ে বলেছে, তাদের অনুমোদন বা অবগতির বাইরে সেখানে তাদের পণ্য ছিল বা উৎপাদন হচ্ছিল। ব্র্যাড এ্যাডামস বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য তাজরীনে থাকার বিষয়টা তারা অবগত ছিল না শুধু এ কারণে ভিকটিমদের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ব নেইÑ এমনটা তাদের দাবি করা উচিত নয়। জাতিসংঘ নীতিমালায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, সাপ্লাই চেইনের সর্বত্র যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যে কাউকে প্রতিকার দেয়ার দায় সব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। তাজরীনে অগ্নিকা-ের পর সেখানে যাওয়া বাংলাদেশী মানবাধিকার কর্মীরা সিএ্যান্ডএ (বেলজিয়াম), এডিনবরা উলেন মিল (ইউকে), এল কোর্টে ইঙ্গলস (স্পেন), শন কম্বস/এনিস (ইউএস), কার্ল রিকার ও কেআইকে (জার্মানি), লি এ্যান্ড ফাং (হংকং) এবং পিয়াজা ইতালিয়ার (ইতালি) লেবেল, পোশাক বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এইচআরডব্লিউ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখেছে। কিন্তু এক বছর পরও কেউ কোন জবাব দেয়নি।
যশোর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ করেছে সরকার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চেম্বার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে চেম্বার অফিসে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পৌঁছেছে। চিঠি হাতে পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আলী। তবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক গত ৪ দিনেও দায়িত্ব বুঝে নেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি যশোর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (ট্রেড অর্গানাইজেশন) আবদুল মান্নান এ সংক্রান্ত আদেশ ২৬ নবেম্বর যশোরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল যশোর চেম্বারের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত কমিটি প্রায় ১১ মাস পর দায়িত্ব পায়। শুনানি শেষে আপত্তি নিষ্পত্তির পর নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নেয়। সেই হিসেবে দুই বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। কিন্তু মেয়াদ পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য দু’দফা সময়ও বৃদ্ধি করা হয়। এর পর সেই সময়ের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। ফলে তৃতীয় দফা সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হলেও মন্ত্রণালয় সেটি গ্রহণ না করায় স্থগিত হয়ে যায় যশোর চেম্বারের নির্বাচন। এর পর মন্ত্রণালয় থেকে চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ করা হলো।