মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
পাইপলাইনে ২৫০ কোটি ডলার রেখে এডিবির পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার পাইপলাইনে রেখে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির (সিপিএস) বাস্তবায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলমান ৪০টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি ছিল ৫শ' কোটি ডলার। ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ২৫০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের লৰ্য নিয়ে চলতি বছর থেকে নতুন করে কাজ শুরু করেছে এডিবি। এসব প্রকল্প বিষয়ে আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিপৰীয় বৈঠক। এতে এডিবি, ইআরডি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির (সিপিএস) আওতায় ইতোমধ্যে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিজনেস অপারেশনাল প্ল্যাযান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৮টি প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি প্রকল্প রয়েছে চলতি প্ল্যানের বাইরে গত ২০১০ সালের। চলমান সিপিএসের আওতায় ৫টি প্রকল্প হচ্ছে প্রাইমারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৩। এটির বিপরীতে এডিবি প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দিচ্ছে ৩২ কোটি মার্কিন ডলার। কর্মসূচীটি বর্তমানে বাসত্মবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। রেলওয়ে ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্ট, এটির বিপরীতে এডিপির অর্থায়ন হচ্ছে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি ১৪ ডিসেম্বর এডিবির বোর্ডসভায় অনুমোদিত হওয়ার কথা। তারপরই ঋণ চুক্তি স্বাৰরের প্রক্রিয়া শুরম্ন হবে। পাওয়ার সিস্টেম ইফিসিয়েন্সি ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে এডিপি প্রকল্প সাহায্য দিচ্ছে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এটির বিষয়ে নেগোসিয়েশন শেষ হয়েছে। এডিবির বোর্ডসভায় অনুমোদনও হয়েছে। এখন শুধু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলেই ঋণচুক্তি স্বাৰর হবে।
খুলনা ওয়াটার সাপস্নাই প্রজেক্টের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য দিচ্ছে ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি বর্তমানে বাসত্মবায়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং সেকেন্ড চিটাগং হিলট্যাঙ্ রম্নরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে এডিবির অর্থায়ন ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে চুক্তি স্বাৰর হয়েছে। বর্তমানে লোন ইফেকটিভ পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া চলতি বছরে আরও একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। ঢাকা-চিটাগং এঙ্প্রেস ওয়ে শীর্ষক এ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে বাসত্মবায়ন হবে। তাই প্রকল্প শুরম্নর আগে বিভিন্ন কাজ সমাপ্ত করার জন্য টেকনিক্যাল এ্যাসিসট্যান্ট লোন হিসেবে এডিবি দিচ্ছে এক কোটি মার্কিন ডলার।
সূত্র মতে, খসড়া কান্ট্রি অপারেশনাল বিজনেস পস্ন্যানে ২০১২ সালের জন্য ১০টি প্রকল্প ধরা হয়েছে। সব প্রকল্পের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এডিবি অর্থায়ন করবে ৯০ কোটি মার্কিন ডলার। আগামী বছরে উলেস্নখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এনার্জি সেক্টর ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্ট, এর বিপরীতে এডিবি অর্থায়ন করবে ১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সাউথ-ওয়েস্ট রোড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে অর্থায়ন করবে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবার ট্রান্সপোর্ট করিডর প্রজেক্টে এডিবি অর্থায়ন করবে ১৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সেকেন্ড পিপিপি ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটি প্রজেক্টের বিপরীতে সংস্থাটির অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটির বাসত্মবায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে এডিবির কন্সালটেন্সি মিশন শেষ হয়েছে, বাকিগুলোর নিয়ে শীঘ্রই কন্সালটেন্সি মিশনের কাজ শুরম্ন হবে। এর পরই আসবে ফ্যাক্টফাইন্ডিং মিশন।
আগামী ২০১৩ সালে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা হয়েছে ৬টি প্রকল্প। এগুলোর বিপরীতে এডিবি বিনিয়োগ করবে ৯২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
এছাড়া ২০১৪ সালের জন্য মাত্র ২টি প্রকল্প প্রাথমিকভাবে রাখা রয়েছে। এগুলোর বিপরীতে বিনিয়োগ করা হবে ৮ কোটি মার্কিন ডলার। এ বছরে আরও প্রকল্প যুক্ত হবে।
পাইপলাইনে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে ছাড় হবে সে বিষয়ে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ সত্ত্বেও কোন কাজে আসছে না। এ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন সম্প্রতি গঠন করেছে টাস্কফোর্স।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরম্ন হলেও গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজির (সিপিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ মিশনের প্রধান থেবা কুমার কান্দিয়াহ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি গুরম্নত্বারোপ করতে হবে। কাঙ্ৰিত উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারী খাতে ব্যাপক হারে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির প্রতি তিনি তাগিদ দেন। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন। থেবা কুমার আরও বলেন, জিডিপির সাড়ে ৩২ শতাংশ পর্যনত্ম বিনিয়োগ বাড়াতে এডিবি সহায়তা করবে। এর মধ্যে ৩ গুণ বাড়িয়ে অবকাঠামো খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে। দক্ষ জনশক্তির অভাব, দ্রম্নত নগরায়ন, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অবকাঠামো দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান অনত্মরায় হিসাবে চিহ্নিত করেছে এডিবি।
অনুষ্ঠানে এডিবির কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন এ কর্মপরিকল্পনার আওতায় এডিবি ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করবে। এর মধ্যে ২৪০ কোটি ডলার সহজ শর্তে আর ২১০ কোটি ডলার দেয়া হবে তুলনামূলক কঠিন শর্তে। এর বাইরে কারিগরি সহায়তার আওতায় প্রতিবছর আরও ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার দেয়া হবে। বিদ্যুত, পরিবহন, নগরায়ন, শিক্ষা, আর্থিক খাত এবং কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে এ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।
এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়নে সমন্বয় কমিটি গঠন
প্রান্তিক পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিবির এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ হাল্কা প্রকৌশল ক্লাস্টার অর্থায়নে ও উন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানকল্পে ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ক্লাস্টার উন্নয়নে কাজ করবে সমন্বয় কমিটি। দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে উদীয়মান এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে গঠন করা হয়েছে এই কমিটি। প্রান্তিক পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসএমই উদ্যোগকে সংগঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা, সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এবং এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি/সেক্রেটারির উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এবং স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুকোমল সিংহ চৌধুরী। ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বগুড়া পর্যটন হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আটজন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৯০ লাখ টাকার ঋণপত্র বিতরণ করা হয়।
সভায় সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মাঝে সম্পর্ক হবে একই পরিবারের সদস্যের মতো। এ সম্পর্ক শুধু ঋণের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আর কথা নয়, এখন কাজ করার সময় এসেছে।
এসএমই খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতগুলো ক্লাস্টার আছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে কিছু ক্লাস্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্লাস্টার উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বগুড়ায়।
ব্যাংকগুলোকে উদ্দেশে তিনি বলেন, যোগ্য উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। তিনি বলেন, শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করলেই চলবে না সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে হবে।
ক্লাস্টার উন্নয়নে কাজ করছে এমন কিছু ব্যাংকের প্রশংসা করে সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, একাধিক ক্লাস্টার উন্নয়নে কাজ করছে ব্যাংকগুলো। বগুড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইস্টার্ন, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকের সমন্বয় কমিটি আগামী জানুয়ারির মধ্যে কাজ শুরম্ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিসিকের কার্যক্রম প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিসিক সঠিকভাবে নেতৃত্ব পাচ্ছে না। বিসিকের সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। অনেক ৰেত্রে নীতিমালা থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান খোরশেদ আলম বলেন, বগুড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়নে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ইস্টার্ন ব্যাংকের অর্থায়ন রয়েছে। এমএমই খাতে শুধু বগুড়ায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা তৈরি হলে অর্থনীতি সচল হবে। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদু্যতের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন। এসএমই খাতের সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান নজরম্নল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এসএমই খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। ২৫টিরও বেশি ক্লাস্টার উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে বলে তিনি জানান। বেসিক ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান মরিয়ম বেগম বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে কাজ করছে বেসিক ব্যাংক। এছাড়া আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসিক ব্যাংকের অবদান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম এস এম ফেরদৌস হোসেন, যুগ্ম-পরিচালক মোঃ মনিরম্নজ্জামান সরকার ও বগুড়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম মনোজ কানত্মি বৈরাগী।
স্থানীয় উদ্যেক্তাদের মধ্যে গোলাম আযম টিকুল, আইনুল হক সুহেল, সরকার বাদলসহ চেম্বার ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, ক্লাস্টার খাতে সম্ভাবনা থাকলেও নীতিনির্ধারকদের অবহেলার কারণে এ খাতে ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু অর্থ দিয়ে সুদের হার গুনলে চলবে না, সকল ব্যাংকগুলোকে ক্লাস্টার উন্নয়নে এগিয়ে আসার দাবি জানান ব্যাবসায়ীরা। তারা আরও বলেন, বিসিককে সচল করে এ খাতে অংশগ্রহন করা জরম্নরী। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দৰ শ্রমিকের অভাব রয়েছে বলে তাঁরা জানান।
সমন্বয় কমিটি : হাল্কা প্রকৌশল কাস্টার অর্থায়নে ও উন্নয়নে বিদ্যামান সমস্যা চিহৃিত করে সমাধান কল্পে গঠন করা হয়েছে সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার মহাব্যবস্থাপক কমিটি প্রধান, সকল ব্যাংক ব্যবস্থাপকম চেম্বার, এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদক, বিসিকের একজন প্রতিনিধি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য সকল ব্যাংক অর্থায়ন করবে।
সমন্বয় কমিটির কাজ : সমন্বয় কমিটি প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করবে। প্রতি মাসে অনত্মত একটি মিটিংয়ের আয়োজন করবে এই কমিটি। এছাড়া মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক প্রতিবেদন তৈরি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে। কমিটি অন্য ব্যাংকগুলোকে ক্লাস্টার উন্নয়নে কাজ করতে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে মনোজ কানত্মি বৈরাগী দায়িত্ব পালনে বগুড়া অফিসের সদিচ্ছা ও ইতিবাচক মনোভাবের বিষয়ে সকলকে নিশ্চয়তা প্রদান করেন। সভাপতি সকলের প্রতি ক্লাস্টার উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রতিবছর ২শ' কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র আমদানি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ দেশে প্রতিবছর ২০০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের অপ্রয়োজনীয় ওপেল গ্লাসওয়্যার (তৈজসপত্র) আমদানি করা হয়। নিম্নমানের এসব পণ্য আমদানি করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে। এছাড়া নিম্নমানের এসব পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কৰে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আমদানিকৃত ওপেল গ্লাসওয়্যার/পাইরেক্স এর তৈরি তৈজসপত্রের মান নির্ণয় এবং প্রকৃত মূল্য যাচাই করে শুল্কায়ন করতে কর্মপন্থা নিরূপণের জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২য় সচিব অরম্নন কুমার বিশ্বাস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত দুই বছর যাবত কতিপয় অসৎ আমদানিকারক কর্তৃক দেশে অতি নিম্নমানের ওপেল গস্নাসওয়্যার/পাইরেঙ্ এর তৈরি তৈজসপত্র প্রকৃত ক্রয় মূল্যের চাইতে কম মূল্য ঘোষণা দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন নিম্নমানের পণ্যে লেড ও ক্যাডমিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ছে। অপরদিকে আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে সরকারকে ন্যায্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দশে বছরে দু'শ' কোটি টাকার অধিক মূল্যের এই অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রারও অপচয় হচ্ছে।
সভায় সিরামিক এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এনবিআর প্রতিনিধি অরম্নন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ শিল্প মালিকরাই সিন্ডিকেট করে মূল্য বৃদ্ধি করতে আমদানি বন্ধের পাঁয়তারা করে থাকেন।
এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে ওপেল গস্নাসওয়্যারের তৈরি তৈজসপত্র আমদানিতে কাস্টমস্ কর্তৃক পণ্য খালাসের পূর্বে মূল্য ঘোষণা যাচাই করে শুল্ক নির্ধারণ এবং বিএসটিআই থেকে গুণগতমান পরীৰার সনদপত্র গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্র ও জনসাধারণ উভয়ই উপকৃত হবে। কারণ দেশে উৎপাদিত সিরামিক তৈজসপত্রের মান বিএসটিআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত মূল্যে স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত ভ্যাট পরিশোধের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়ে থাকে।
নেতৃবৃন্দ উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের পাশর্্ববর্তী দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও জনস্বাস্থ্য রৰায় আমদানিকৃত পণ্যের মান পরীৰা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং দেশীয় শিল্পকে রৰায় এই জাতীয় পণ্যের আমদানিকে নিরম্নৎসাহিত করতে সরকার ৪০ শতাংশ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যনত্ম এন্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করেছে।
সংক্ষিপ্ত বাণিজ্য সংবাদ
রিহ্যাব শীতকালীন ফেয়ারে বসুধা বিল্ডার্স
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী শুরু হচ্ছে রিহ্যাব শীতকালীন ফেয়ার-২০১১। ফেয়ারে বসুধা বিল্ডার্স লিঃ এর স্টল নং ৬৭। ফেয়ারে বসুধার বিভিন্ন প্রোডাক্টের পাশাপাশি থাকছে একটি চমকপ্রদ আবাসিক প্রকল্প 'বসুধা সিটি'। বসুধার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রথম প্রকল্প বসুধা আইল্যান্ডের বিশাল সাফল্যের পর বসুধার দ্বিতীয় আবাসিক প্রকল্প মতিঝিলের খুব কাছে সোনারগাঁও এর সবচাইতে খোলামেলা জায়গা। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে সংলগ্ন সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নগরায়ন 'বসুধা সিটি'। প্রায় হাজার বিঘা জমি নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়নে বিশ্বাসী বসুধা বিল্ডার্স তাদের সমস্ত মেধা কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছে আধুনিক আবাসন প্রকল্প 'বসুধা সিটি'।
মতিঝিল থেকে নিকটতম দূরত্বে হওয়ায় প্রকল্পটির প্রতি সভাবতই ক্রেতা সাধারণের আগ্রহ রয়েছে। নির্মল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা 'বসুধা সিটি' প্রকল্পটি। প্রকল্পটিতে তৈরি করা হয়েছে ৩.৫, ৫, ১০ ও ২০ কাঠার বিভিন্ন সাইজের প্লট এবং প্রকল্পটিকে ভাগ করা হয়েছে ৬টি ব্লকে। প্রকল্পটি রাজউক কর্তৃক প্রণীত (উঅচ) ড্যাপ এর বাইরে হওয়ায় তা পুরোপুরি নির্ভেজাল ও নিষ্কন্টক। ৫০% জায়গা ছেড়ে দেয়া হয়েছে রাস্তাঘাট, পার্ক ইত্যাদির জন্য। প্রকল্প প্ল্যান জমা দিয়ে নেয়া হয়েছে অনুমোদন।
কুয়াকাটায় সাগর পাড়ে বসুধা বিল্ডার্স লিঃ নির্মাণ করছে একমাত্র সাগরকেন্দ্রিক পরিকল্পিত নগরী 'বসুধা আইল্যান্ড'। এখানে প্লট কিনে লাভবান হবেন সকল ক্রেতাই। কারণ জমির মূল্য বাড়ছে প্রতিদিনই। তারপর আবার বসুধার প্লট! পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর একটি সমুদ্র সৈকত।
এছাড়া চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এবং সাজানো গোছানো নির্মাণের দায়িত্ববোধ থেকে বসুধা নির্মাণ করছে বৃহৎ সব মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল আবাসিক প্রকল্প। যেমন চট্টগ্রাম শহরের স্টেশন রোডে 'বসুধা রেলওয়ে মেন্স সিটি সেন্টার', বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের পাশে 'বসুধা পস্নাজা', একইভাবে চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা খুলশী হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত আবাসিক প্রকল্প 'বসুধা বস্নুজ' এবং আরেক অভিজাত এলাকা পূর্ব নাসিরাবাদে আবাসিক প্রকল্প 'বসুধা পানকৌড়ি' ডিসি হিল মোড়ে 'বসুধা ওরিয়ানা' এভাবেই বসুধার প্রোডাক্ট লিস্টে ধীরে ধীরে যোগ হচ্ছে সুচিনত্মিতভাবে বাছাই করা বিভিন্ন এ্যাপার্টমেন্ট ও জমি/পস্নট বিক্রয় প্রকল্প। _বিজ্ঞপ্তি

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বুধবার ভারতীয় পণ্য আমদানি হয়নি
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৪ ডিসেম্বর ॥ ভারতের মোহদীপুর স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানিকারক, সিএ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বন্দর সংশ্লিষ্টদের দিনব্যাপী ধর্মঘটের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বুধবার কোন পণ্য আমদানি হয়নি। মোহদীপুর স্থলবন্দরে আভ্যন্তরীণ সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দিনব্যাপী এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। সোনামসজিদ সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফুল ইসলাম স্বাধীন জানান, মোহদীপুর স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক, সিএ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট সৃষ্টির প্রেক্ষিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট আহ্বানের কারণে সোনাসমজিদ বন্দরে কোন পণ্য আমদানি হয়নি। সকালে মোহদীপুর বন্দরের সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাদের মৌখিক ভাবে তথ্য জানানো হয়।