মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের দায় দাতাদের
সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন ॥ টাস্কফোর্স গঠন
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এজন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনকহারে কমতে থাকায় এর আগে প্রতিশ্রম্নত অর্থের ছাড় ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ সমন্বয় কার্যক্রম জোরদার করার সুপারিশ দিয়েছিল বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এ প্রেৰিতে সমন্বয়ের কৌশল নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার এ টাস্কফোর্স অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার। এ বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, টাস্কফোর্স অনুমোদন হয়েছে । আগামী রবিবার সাকর্ুলার জারি করা হবে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু করবে এ টাস্কফোর্স। তবে বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাসত্মবায়নে বিলম্ব হওয়ার পিছনে দাতারাই দায়ী বলে মনে করছেন প্রকল্প পরিচালকরা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গঠিত টাস্কফোর্স মূলত সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়াতে কাজ করবে। আর যে কাজটি করবে তা হচ্ছে (উদাহরণ হিসেবে) প্রথমে বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অবস্থা খারাপ সে প্রকল্পের পরিচালককে ডেকে জবাবাদিহি করতে বলা হবে। তিনি যদি বলেন, মন্ত্রণালয়কে চিটি দেয়া হয়েছে এখনও কোন পদৰেপ নেয়নি। তখন ওই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে জবাবাদিহি করতে হবে। তিনি যদি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাহলে ইআরডির কর্মকর্তাকে জবাবাদিহি করতে হবে। আবার তিনি যদি জানান, ডোনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তখন প্রকল্প পরিচালক, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ইআরডির কর্মকর্তা এবং সংশিস্নষ্ট দাতা সংস্থার প্রতিনিধিকে ডেকে এক সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সেখানে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, কার্যক্রম বিভাগের প্রধান ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে ৮ থেকে ১০ সদস্যের এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাসত্মবায়ন, পরিবীৰণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এ টাস্কফোর্সের সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের পরিমাণ বাড়াতে পরিকল্পনা কমিশনকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে বাস্তবায়ন, পরিবীৰণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। পরিকল্পনা মন্ত্রীকে দেয়া এসব সুপারিশ হচ্ছে, প্রতিশ্রুত পরিমাণ অর্থের ছাড় ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ সমন্বয় কার্যক্রম জোরদার করা। সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং দাতা সংস্থার সঙ্গে ত্রি-পৰীয় বৈঠকের মাধ্যমে সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের সমস্যার অবসান ও ইআরডির উদ্যোগে নিয়মিত পর্যালোচনা ও সমম্বয় করা প্রয়োজন।
প্রকল্প প্রণয়নের পূর্বে ডিজাইন পর্যায়ে যথাযথভাবে সমীৰা করা ও হালনাগাদকৃত রেট সিডিউল অনুসরণ কর ব্যয় প্রাক্কলন করা প্রয়োজন, ক্রটিপূর্ণভাবে প্রণীত প্রকল্প দ্রম্নততার সঙ্গে অনুমোদিত হলেও তা সংশোধন অনিবার্য হয়ে পড়ে ফলে যথাসময়ে প্রকল্প সাহায্যের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না।
ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসককে অধিকহারে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কারণ ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হলে প্রকল্প বাসত্মবায়ন বিলম্বিত হয় ও প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহার কমে।
মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থাগুলোর প্রকল্প বাসত্মবায়ন ও মনিটরিং এ বিশেষ পদৰেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, স্থানীয় প্রশাসনকে মনিটরিংয়ের কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
প্রাপ্ত সম্পদের আলোকে যৌক্তিক সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণসহ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বাসত্মবায়ন কাজ সমাপ্ত করা প্রয়োজন যথাসময়ে বাসত্মবসম্মত ক্রয় পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ প্রয়োজন। দরপত্র আহ্বান কন্ট্রাক এ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি কাজে দীর্ঘ সূত্রতা পরিহার করা আবশ্যক। ক্রয় কাজে ইজিপি প্রবর্তনের বিষয়টি দ্রম্নততর করা যেতে পারে। এছাড়া বৃহৎ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পরিকল্পনা উইং এ উর্ধতন পদ সৃষ্টিপূর্বক প্রকল্প প্রণয়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করা যেতে পারে।
সূত্র জানায়, গত ১৩ নবেম্বর পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এডিপি পর্যালোচনা সভা। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং বৈদেশিক অর্থছাড় কম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈদেশিক অর্থছাড় সম্পর্কিত দুটি সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। এ প্রেৰিতে গত বুধবার বৈদেশিক সাহায্য সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় এমন ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শুধুমাত্র প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে প্রকল্প পরিচালকরা বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাসত্মবায়ন বিলম্ব হওয়ার পিছনে দাতাদেরকেই দায়ী করছেন। এ সময় তারা কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বেশিরভাগ দাতা সংস্থা টেন্ডার ডকুমেন্ট ও প্রকিউরমেন্ট সংক্রানত্ম বিষয়ে বিভিন্ন ধাপে ৫ থেকে ৬ বার অনুমোদন নিতে হয়। স্থানীয় অফিসগুলোর ৰমতা না থাকায় তারা আবার এগুলো তাদের হেড অফিসে পাঠিয়ে দেয়। ফলে এগুলোর প্রক্রিয়া ও সম্মতি পেতে ব্যাপক সময় অপচয় হয়।
অধিকাংশ পিডি জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা। কেননা দাতারা ভূমি অধিগ্রহণে কখনও টাকা দেয় না। এ টাকা দিতে হয় সরকারকে। ফলে সরকারী তহবিল থেকে অনেক সময় টাকা পেতে দেরি হয়। বা জমির মালিকরা মামলা করলে সেৰেত্রে আরও দেরি হয়।
তারা আরও জানায়, রেট সিডিউল বেড়ে যাওয়ার কারণে কোন কোন প্রকল্প ২ থেকে ৩ বার সংশোধন করতে হচ্ছে। ফলে বাসত্মবায়নের সময় বেড়ে যাচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, এডিবির সহায়তাপুষ্ট পেট্রোবাংলার একটি প্রকল্পের শুধুমাত্র ডকুমেন্ট সিডিউলের ক্লিয়ারেন্স পেতে সময় লেগেছে তিন মাস। তারা এটি তাদের হেড অফিস ম্যানিলায় পাঠিয়েছে। আবার ভারতীয় এঙ্মি ব্যাংকের ডকুমেন্ট ক্লিয়ারেন্স পেতে দেরি হওয়ায় এলসি খোলার কার্যক্রম আটকে আছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহয়তাপুষ্ট প্রাথমমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে অর্থ ছাড় বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছে ২০০৩ সালে বাসত্মবায়িত ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে সাড়ে ৯ কোটি টাকার একটি অবজেকশন ছিল। সেটি সুরাহা না হওয়ায় ওই টাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কেটে দেয়া হয়েছে। ফলে জটিলতা দেখা দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে মাল্টিডোনারদের অর্থায়নের কৃষিসংশিস্নষ্ট একটি প্রকল্পে একবার মেইন চুক্তি স্বাৰরিত হয়েছে। কিন্তু তারা আবার তাদের শর্তের মধ্যে এই আম্ব্রেলা চুক্তির ভিতরে ছোট ছোট কাজের চুক্তি করার অপশন রেখেছে। ফলে অহেতুক সময় নষ্ট হচ্ছে।
দাতারা টেন্ডার কাজে অনেক বড় প্যাকেজ করতে চায়। ফলে প্রতিযোগিতা কম হয়। কেননা এত বড় কাজ করার মতো সামর্থ্য আমাদের দেশের ঠিকাদারদের বেশিরভাগ ৰেত্রেই থাকে না। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক ও সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় চায় ছোট ছোট প্যাকেজ। এতে প্রতিযোগীতা বেশি হয় এবং অনেক ঠিকাদার কাজ পায়।
পাটকলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের পাটকলগুলোর খুচরা যন্ত্রাংশের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা 'গালফ্রা হাবিব লিমিটেডের ক্ষমতা বাড়ানোর হচ্ছে। এজন্য ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। পাটকলের যন্ত্রাংশ নির্মাতা কোলকাতার প্রতিষ্ঠান 'লগন ইঞ্জিনিয়ারিং কোং লিমিটেড' এ প্রকল্পে কারিগরি সহায়তাসহ আর্থিক বিনিয়োগ করছে।
এজন্য বাংলাদেশ ও ভারতের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একথা জানান।
এরআগে মন্ত্রী নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিজেএমসি এবং ভারতীয় ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করতে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় এ বিষয়গুলো চূড়ানত্ম করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, যুক্তরাজ্যের ডান্ডিতে তৈরি পাটকলের যন্ত্র দিয়ে এতদিন বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ হতো। অভ্যনত্মরীণভাবে এ চাহিদা মেটাতে ৬০-এর দশকে বিজেএমসিও চট্টগ্রামে স্বল্পক্ষমতার একটি যন্ত্রাংশ নির্মাণ কারখানা চালু করে। 'গালফ্রা হাবিব' নামের এ কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার অনেক কম।
তিনি বলেন, সমপ্রতি যুক্তরাজ্যে পাটপণ্যের ব্যবসা কমে যাওয়ায় ডান্ডির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানাও অচল হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি থেকে যন্ত্রাংশ কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশীয় চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের এ আহ্বানে লগন ইঞ্জিনিয়ারিং সাড়া দিয়েছে।
উভয়পক্ষের আলোচনা অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হবে। এরপর শর্তাবলী অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর বিজেএমসি ও লগনের মধ্যে পরিচালন চুক্তি হবে। এ চুক্তির পর আগামী জানুয়ারি মাসে 'গালফ্রা হাবিব' বর্ধিত ক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম শুরম্ন করবে, মন্ত্রী বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল মকবুল জানান, গালফ্রা হাবিবের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি সহায়তা, কারিগরি জ্ঞান এবং তিন কোটি টাকার আর্থিক বিনিয়োগ করবে। অবকাঠামোসহ বাংলাদেশও তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নতুন আঙ্গিকে উৎপাদন শুরম্ন করবেন। তিনি জানান, উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পরিচালনা বোর্ড গঠিত হবে। এতে বস্ত্র ও পাট সচিব পদাধিকার বলে সভাপতি হবেন। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হবেন লগন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধি।
সচিব জানান, গালফ্রা হাবিব থেকে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ দেশীয় সরকারী ও বেসরকারী পাটকলগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে। দেশীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত যন্ত্রাংশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে। বোর্ডই এর লভ্যাংশ বণ্টনের শর্তাবলী চূড়ানত্ম করবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৭টি সরকারী এবং প্রায় ১৫০টি বেসরকারী মালিকানার পাটকল রয়েছে।
সরকারী মালিকানার কারখানাগুলোর মধ্যে ২১টি সরকারী ব্যবস্থাপনায় এবং দুটি ইজারাদারের মাধ্যমে চালু রয়েছে। তবে ইজারা বাতিল করে সরকার এ দু'টি পরিচালনার দায়িত্ব হাতে নিতে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সরকার সকল সরকারী পাটকল কারখানার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। সকল পাটকল আবারও সচল করার ব্যাপারেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান সচিব আশরাফুল মকবুল।
নারায়ণগঞ্জে পাট ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রফতানিকারকদের
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ জুট প্রেস মালিকরা একতরফাভাবে কাঁচা পাটের পাক্কা বেলের প্যাকিং চার্জ বাড়ানোর কারণে নারায়ণগঞ্জে পাট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছে পাট রফতানিকারকরা। তাদের দাবি, একতরফাভাবে পাক্কা বেলের প্যাকিং চার্জ নির্ধারণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে পাট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। দৌলতপুরে প্যাকিং চার্জ ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নারায়ণগঞ্জে তা করা হয়েছে ২২০ টাকা।
বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পাট রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান আরজু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকার আরজু রহমান ভূঁইয়া জানান, নারায়ণগঞ্জে জুট প্রেস মালিকরা একতরফাভাবে কাঁচাপাটের পাক্কা বেলের প্যাকিং চার্জ ৮৮ দশমিক ২০ টাকার পরিবর্তে ২২০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রসত্ম হবে। কারণ গত ১৭ নবেম্বর বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন দৌলতপুর অফিসে বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন ও দৌলতপুর, খুলনা জুট প্রেস ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগের ৭৩ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা কাটিং ও লং জুট প্যাকিং চার্জ নির্ধারণ করা হয়। অথচ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পাট ব্যবসায়ীদের ওপর একতরফাভাবে প্যাকিং চার্জ ২২০ টাকা নির্ধারণ করে তা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাক্কা বেলের প্যাকিং চার্জ নির্ধারণের বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার বাস ভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ জুট প্রেস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজীব প্রসাদ সাহা জানান, খুলনা, দৌলতপুর ও নারায়ণগঞ্জ ছাড়া দেশের কোথাও সরকারী কোন প্রেস হাউজ নেই। বেসরকারী প্রেস হাউজগুলোর উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই জুট প্রেস মালিকরা হতাশার মধ্যে আছে এবং ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছে। গত ২৯ আগস্ট ২০০৭ প্রতি গাইট পাটের বাধাই হার ২৮ দশমিক ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি জ্বালানি খরচসহ অন্যান্য খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই এই মুহূর্তে বাধাই খরচ না বাড়ালে জুট প্রেস হাউস চালানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি প্রতি গাইট পাট বাঁধাই ২৩৫ টাকা এবং কাটিং বাধাই ২৬০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। কিন্তু মন্ত্রিসভাকে জানান, ২০০৭ সালের তুলনায় বর্তমানে প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে প্রেক্ষিতে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের গাইট বাধাইয়ের মূল্য বৃদ্ধির এখতিয়ার বা যৌক্তিকতা নেই। প্রেস মালিক রফতানিকারকারা গাইট বাধাই খরচ নির্ধারণ করে ব্যবসা করছে। বর্তমান অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই সবকিছুর বাজার নির্ধারিত হয়। তাই কোনক্রমেই মন্ত্রণালয় গাইট বাধাইয়ের দর নির্ধারণ করবে না। সভায় এই সিদ্ধানত্মের পরও নারায়ণগঞ্জে পাট রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা না করে প্যাকিং চার্জ ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার্জ বহাল থাকলে নারায়ণগঞ্জের পাট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমাদের দাবি, আলোচনাসাপেক্ষে এ ব্যাপারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া হোক।
এসএমইর বিকাশে এ্যারিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লাস্টার উন্নয়ন পদ্ধতি চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
জীবনযাত্রার মানন্নোয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রান্তিক পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উদ্যোগকে সংগঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশে একেক অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এরিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লাস্টার উন্নয়নের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।
এ লৰ্যে বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর গ্রামে এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী। ব্যাংক এশিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত এ অঞ্চলের ক্লাস্টার উন্নয়ন ও এসএমই ঋণ বিতরণ কর্মসূচীতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন।
ব্যাংক এশিয়ার মালখানগর ব্র্যাঞ্চের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আরফান আলী। বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক এসএম মহসিন হোসেন, উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
অনষ্ঠানে সঞ্চালন করেন ব্যাংক এশিয়ার প্রথম সহকারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাঈমুল হাসান খান। উপস্থিত ছিলেন- ব্যাংক এশিয়ার সিরাজদিখানের এসএমই শাখার পরিচালক শংকর কুমার রায়।
সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ শিল্পে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা নির্ধারণ করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ৰুদ্র ঋণের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা নিরসনে ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রৰা করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের এসএমই খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে।
সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, পুরম্নষ উদ্যোক্তার পাশাপাশি নারীদের এ খাতে উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। নারীরা মাত্র ১০ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ সচেতনতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ৰেত্র তৈরি হবে।
তিনি বলেন, শিল্পকে উন্নত করতে হলে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সংগঠিত হতে হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রম্নপ অর্থায়নে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংক এশিয়া বাংলাদেশের যত জায়গায় রয়েছে, সেখানে এসএমই পণ্য বাজারজাতকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক এসএম মহসিন হোসেন বলেন, এসএমইর বিকাশে এরিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লস্টার উন্নয়ন একটি ব্যতিক্রমী ধারা। এর ফলে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রানত্মিক এলাকার ৰুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া সহজতর হয়েছে। ধীরে ধীরে এর সুফল দেশের সর্বসত্মরে ছড়িয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে পাঁচ নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ১১ লাখ টাকার ঋণপত্র বিতরণ করা হয়। সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, একেকটা এলাকার উন্নয়নে একেকটা ব্যাংককে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মাঝে সম্পর্ক হবে একই পরিবারের সদস্যের মতো। এ সম্পর্ক শুধু ঋণের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাংকগুলো কাজ করছে এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরফান আলী বলেন, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক এশিয়া একটা ধারা সৃষ্টি করেছে। এসএমই ঋণ অনেক ৰুদ্র হতে পারে কিন্তু এর গুরম্নত্ব অনেক বেশি। শিল্পের উন্নয়নে মূলধন বড় সমস্যা, এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংক এশিয়া কাজ করে যাচ্ছে।
আরফান আলী বলেন, ধনী-দরিদ্রের মাঝে বড় ব্যবধান রয়েছে, তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে ৰুদ্র ঋণের প্রসার ঘটাতে হবে। তবে ৰুদ্র ঋণের বাজারজাত অনেক সমস্যা রয়েছে। এ খাতে বাজারজাতে মধ্যস্থতাকারী সিংগভাগ সুফল ভোগ করে। সে সমস্যা দূর করে ব্যাংক এশিয়া পণ্যের প্রসারে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ৰুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- যতিন দাস, সাগর দাস ও মৌসুমী দাস। মধুপুর গ্রামের কমপৰে ১০০টি পরিবার বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করে থাকে। আগে এক সময় এ পণ্যগুলো ইউরোপিয়ান দেশে রফতানি হতো। কিন্তু যুগের চাহিদার সঙ্গে পণ্য মান উন্নয়ন না হওয়ায় সে বাজার নষ্ট হয়ে গেছে।
ব্যাংকিং খাতের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ॥ গবর্নর
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত গ্রাহক স্বার্থ কেন্দ্রের পাশাপাশি তফসিলী ব্যাংকগুলোতে স্থাপিত অভিযোগ সেলকে কার্যকর ও গতিশীল করার মাধ্যমেই ব্যাংকিং খাতের সেবার মান বেড়েছে। এ সেবা ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসবোধকে দৃঢ়তর করতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রম্নমে বৃহস্পতিবার সকালে তফসিলী ব্যাংকগুলোর অভিযোগ সেল প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধি অংশ নেন।
গবর্নর বলেন, অর্থনীতিতে ভোক্তা সার্বভৌমত্ব কথাটি অতি গুরম্নত্বপূর্ণ। ভোক্তার সন্তুষ্টির পরিমাণই হলো সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্জন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং খাতের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তিনি বলেন, তফসিলী ব্যাংকের অভিযোগ সেলগুলোকে কার্যকর ও গতিশীল করা না গেলে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাবে। সে কারণে এই কেন্দ্রের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অভিযোগ সেলগুলোকে অধিকতর সক্রিয় করতে হবে।
তিনি তফসিলী ব্যাংকের অভিযোগ সেলে কিছু সমস্যার কথা উলেস্নখ করেন। সেগুলো হলো- গ্রাহককে তথ্য দিতে বিলম্ব করা, অভিযোগ সেলের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তাকে টেলিফোনে না পাওয়া, টেলিফোনে কোন তথ্য চাইলে লিখিতভাবে চাওয়ার অনুরোধ করা, অভিযোগগুলো নিষ্পত্তিকরণে বিলম্ব, ব্যাংকের ওয়েবসাইটে অভিযোগ সেলের কর্মকর্তাদের ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা না থাকা এবং অভিযোগ সেলের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তাকে অন্য বিভাগের কাজে নিয়োজিত করা ইত্যাদি।

শমরিতার অভিহিত মূল্য পরিবর্তন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শমরিতা হাসপাতালের দ্বিতীয় অতিরিক্ত সাধারণ সভায় কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে। শেয়ারের অভিহিত মূল্য এক শ' টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় সামারাই কনভেনশন সেন্টারে কোম্পানির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ মোকবুল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ বিএম হারম্নন পরিচালক পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও কোম্পানির সচিবসহ উলেস্নখযোগ্য শেয়ারহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
রূপালী ইন্স্যুরেন্সের রাইট শেয়ারের রেকর্ডের তারিখ ঘোষণা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাইট শেয়ার ইসু্যর অনুমোদন পাওয়ার পর রেকর্ডের তারিখ ঘোষণা করেছে রূপালী ইন্সু্যরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ঘোষিত এই তারিখ অনুযায়ী আগামী ২০ ডিসেম্বর যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে কোম্পানির শেয়ার থাকবে তারাই রাইট শেয়ার পাওয়ার দাবিদার হবেন।
রূপালী ইন্সু্যরেন্স মোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮১২টি রাইট শেয়ার ছেড়ে ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৪০ টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা ১:১ হারে (১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি) রাইট শেয়ার পাবেন। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের রাইট শেয়ারের জন্য ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২০ টাকা সংগ্রহ করা হবে। কোম্পানিটি আগামী বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত রাইট শেয়ারের টাকা জমা নেবে।

খুলনায় ওয়ান ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ শিল্পনগরী খুলনার খান-এ-সবুর রোডের জে কে টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় বৃহস্পতিবার ওয়ান ব্যাংকের ৫৩তম শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জহুর উলস্নাহ এ শাখার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রম্নকুনউদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোহরা বিবি, ওয়ান ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, খুলনা মহানগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওয়ান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জহুর উলস্নাহ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, খুলনার এ শাখা সেবার মাধ্যমে দ্রম্নত গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হবে। আধুনিক ও প্রগতিশীল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকরা যা প্রত্যাশা করেন, ওয়ান ব্যাংক সে সব প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে।