মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
পিযূষ চাওলার ভেল্কির অপেক্ষায় ধোনি
স্পোর্টস রির্পোটার ॥ ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে। বিরেন্দর শেবাগ দুরনত্ম ব্যাট করে হাঁকিয়েছেন তাঁর ওয়ান ডে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা শতক। দু'টি বিষয় নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাবার কথা ভারতের। কিন্তু সেটি তো হচ্ছেই না বরং ধোনিদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, ২৭ ফেব্রম্নয়ারি ইংল্যান্ডের বিপৰে ম্যাচ দিয়েই তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরম্ন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি আমরা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে যতই উন্মাদনা দেখাই না কেন। ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে মোটেই চিনত্মিত ছিল না; তাদের দৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচের ফল ছিল প্রত্যাশিত। আর শেবাগ-টেন্ডুলকরও কিছু একটা করতে পারেন সে ব্যাপারেও অনেকটা নির্ভর ছিল টিম ইন্ডিয়া। সেটি বোঝা যায় ব্যাঙ্গালোরের প্র্যাকটিস সেশনে তাঁদের সিরিয়াসনেস দেখে। ইংল্যান্ড ম্যাচের এখন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাথায় কেবল একটা ব্যাপারই ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা ইংলিশদের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচ। আর সেই ম্যাচ নিয়ে ভাবতে গিয়ে বোলিংয়ের বিষয়টি সামনে চলে আসছে। বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে মুনাফ প্যাটেল বাদে আর কারও বোলিং নিয়েই খুশি নন কার্স্টেন-ধোনি। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা ভারতীয় বোলারদের মোকাবেলা করে অবলীলায় রান করেছেন, সেই চিনত্মাই তাদের মাথায়। জহির দুই উইকেট পেলেও রান দেয়ায় তিনি ছিলেন দিল দরিয়া; যা ওয়ানডেতে প্রত্যাশিত নয়। কোচের সবচেয়ে বড় চিনত্মা, শ্রীশানত্মের অফ ফর্ম।
বিকল্প হিসেবে যে আশিষ নেহরাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল তারও রয়েছে প্রচ- ফিটনেস সমস্যা। তাই ইংল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে গুরম্নত্বপূর্ণ ম্যাচে তৃতীয় পেসার নিয়ে খানিকটা দুশ্চিনত্মাতেই রয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্র্যাকটিস সেশনে নেহরাকে বল হাতে তুলে না নিয়ে কেবল ফিজিও ট্রেনারের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা গেছে। অবশ্য প্রতিপৰ ইংল্যান্ডের স্পিন দুর্বলতার কথা চিনত্মা করে বিকল্প একটা পরিকল্পনাও তাদের মাথায় কাজ করছে; বিভিন্ন সমস্যায় আক্রানত্ম পেসারদের পরিবর্তে একজন অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর কথা ভাবছেন তারা। নেটেও তার বহির্প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। শ্রীশানত্মের ঢিলেঢালা প্র্যাকটিসের মাঝে কোচ অধিক ব্যসত্ম ছিলেন লেগ স্পিনার পিজুুস চাওলাকে নিয়ে। যা থেকে অনুমান করা যায় এই পেসারের পরিবর্তে ২২ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের দিকেই দৃষ্টি তাদের। ব্যাঙ্গালোরের প্রাকটিস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারত অধিনায়ক বলেন, 'ইংলিশদের বিরম্নদ্ধে পরবতী ম্যাচই এখন আমাদের প্রথম লৰ্য। বিগম্যাচকে সামনে রেখে তাই আমরা ব্যাঙ্গালোরের টিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের উইকেট-পরিবেশের কথা চিনত্মা করে এখানে প্র্যাকটিস করছি।' উলেস্নখ্য, কলকাতার ইডেন গার্ডেন অপ্রস্তুত থাকায় আইসিসি শেষ মুহূর্তে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটিকে ব্যাঙ্গালোরেতে স্থানানত্মর করে নেয়। ভারত অধিনায়ক যোগ করেন, 'যদিও চিন্নাস্বামীর যে প্রধান উইকেটে খেলা হবে আমারা সেখানে প্র্যাকটিসের সুযোগ পাইনি। অন্য একটি উইকেটে প্র্যাকটিস হচ্ছে। তবে উইকেটকে খুব কাছে থেকে দেখে অনেকটা ধূসর বলে মনে হয়েছে। যেখানে ঘাস প্রায় নেই বলললেই চলে। তাই টিম ম্যানেজমেন্টকে খুব সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধানত্ম নিতে হচ্ছে। তবে সবাই একটা বিষয়ে একমত যে, এখানে পেসারদের চাইতে স্পিনারদের সফল হবার সম্ভাবনা বেশি।' ভারতের বর্তমান দল, বোলারদের পারফর্মেন্স, ভেনু্য, প্রতিপৰ সব কিছুর বিচারে তাই একজন অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর বিষয়টি প্রায় চূড়ানত্ম-ই বলা যায়। মিডিয়া কর্মীরা এমন ইঙ্গিত পাবার পর ধোনিকে প্রশ্ন করেন মাত্র দু'জন পেসার নিয়ে খেলাটা বিশ্বকাপে আমাদের জন্য বুমেরাং হবে কি না। তাদেরকে তিনি শুরম্নর কথাটির পুনঃ উলেস্নখ করে বলেন, 'আমি আগে থেকেই বলেছি আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করে এগুতে চাই।
পরবতর্ী ম্যাচে যেহেতু আমাদের প্রতিপৰ ইংল্যান্ড তাই এই মুহূর্তে আমরা শুধু চিন্নাস্বামীর ম্যাচটি নিয়েই ভাবছি। এ ম্যাচে ভাল করার পর প্রতিপৰের কথা ভেবে পরের ম্যাচগুলোতে স্ট্র্যাটেজি ঠিক করা হবে।' আর পিচ-প্রতিপৰ-পেসারদের ছন্দপতনে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে পীযূষ চাওলার। উত্তর প্রদেশের বাঁহাতি তরম্নণ লেগ স্পিনার চাওলা এ পর্যনত্ম ভারতের হয়ে ২২ ম্যাচে ২৮ উইকেট দখল করেন। সেরা বোলিং ফিগার ২৩ রানে চার ৪ উইকেট। এটা সত্যি যে, ইংলিশরা বরাবরই স্পিনে দুর্বল । অস্ট্রেলিয়ার তারকা লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ উইকেট পেয়েছিলেন ইংলিশদের বিরম্নদ্ধে। তাই লেগ স্পিনে ইংল্যান্ডের বিশেষ দুর্বলতার কথা চিনত্মা করে চাওলার ভাল সম্ভাবনা দেখছেন ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা।
মিডিয়াম্যানদের সঙ্গে ফিল্ডিং নিয়েও কথা বলেন, ভারত অধিনায়ক। এবং ফিল্ডিংয়ে আরও যথেষ্ট উন্নতির অবকাশ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। ব্যাটিং নিয়ে তেমন কিছু না বলে শুধু বলেন, 'এখনও আমাদের ব্যাটসম্যানদের সেভাবে পরীৰার সম্মুখীন হতে হয়নি। সুতরাং এক ম্যাচে ভাল করে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কিছু নেই বলেও তিনি সতীর্থদের সতর্ক করে দেন। ইংলিশদের সঙ্গে পরবতর্ী ম্যাচে বিশেষ কেউ টার্গেটে আছেন কিনা _প্রসঙ্গে ধোনির পরিষ্কার জবাব, 'প্রতিপৰ হিসেবে ইংল্যান্ড শক্তিশালী। ইদানীং তারা ভাল ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু আমরা প্রতিপৰ নিয়ে ভাবছি না। নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে যে কোন দলকে হারানো সম্ভব।'
ক্লার্ক-জনসনেই ভরসা রাখছে অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর চ্যাপেল হ্যাডলি ট্রফি জিতে নিতে আজ মাইকেল ক্লার্ক ও মিশেল জনসনকেই প্রধান ভরসা মানছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং ইনিংসে ক্লার্কের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে এই কারণে যে, তিনি স্পিনারদের ভাল মোকাবেলা করতে পারেন। বলা হয়ে থাকে, বর্তমান অসি স্কোয়াডে ক্লার্কই স্পিনারদের বিরম্নদ্ধে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান। আজ তাই নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির লেগ স্পিনের ভেল্কি ব্যর্থ করে দিতে হলে ক্লার্ক ব্যাট সফল হতে হবে এমনটাই ভাবছে অস্ট্রেলিয়ানরা। অন্যদিকে, মিশেল জনসনের ওপর ভরসা রাখা হচ্ছে এই কারণে যে, নাগপুরের যে উইকেটে খেলা হবে সেখানে পেসারদেরও সফল হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এরওপর আবার আগের ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন জনসন। আজ কিউইদের বিরম্নদ্ধেও তৃতীয় পেসার হিসেবে দলকে তিনি এমন সাফল্য দিতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা অস্ট্রেলিয়ার। এ প্রত্যাশার পালে আবার বাতাস দিচ্ছে নাগপুরের পিচে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যানও। ২০০৯ সালের ওই ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিরম্নদ্ধেও তৃতীয় পেসার হিসেবে বল করেছিলেন জনসন। ম্যাচে ১০ ওভার বল করে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন অসি পেসার। ব্যাট হাতে আবার ১৯ বলে ২১ রান করেছিলেন। ক্লার্ক-জনসনে ভর করেই আজ তাই নিউজিল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে মাঠে নামছে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া।
এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পেসাদের নিয়ে খুব একটা ভীত নয় অস্ট্রেলিয়া। তবে স্পিনারদের নিয়ে অনেক বেশি চিনত্মা তাদের। সেই সঙ্গে পেসও করেন না আবার স্পিনও করেন না এমন সেস্না বোলারদেরও সমীহ করছে রিকি পন্টিংয়ের দল। কারণ কিংবদনত্মি স্পিনার শেন ওয়ার্নের দেশ হলেও বর্তমানে স্পিনের বিরম্নদ্ধে অনেকটাই দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াডে। এর ওপর আবার ভারতীয় উপমহাদেশের পিচগুলো স্পিনার এবং সেস্না বোলারদের সাফল্য পাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পেসারদের দুমড়ে মুচড়ে একাকার করার ৰমতা থাকলেও স্পিন ও সেস্না বোলাদের বিরম্নদ্ধে শেন ওয়াটসন, ব্র্যাড হ্যাডিন, ডেভিড হাসিদের দুর্বলতা অনেক বেশি। জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচেই সেটা প্রকট হয়ে গেছে। ইনিংসের শুরম্নতেই রেমন্ড প্রাইসকে দিয়ে স্পিন আক্রমণ শানিয়েছিল জিম্বাবু্ইয়েনরা। যে কারণে ইনিংসের শুরম্ন থেকে অস্ট্রেলিয়ানদের রান তোলার গতি ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে ধীর গতির। এমন কি ৩৯ ওভার পর্যনত্ম চাপের মুখে ছিল অসিরা। ওয়াটসন ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করলেও লেগ স্পিনার স্পিনার গ্রায়েম ক্র্যামারের বলে। হ্যাডিন আউট হয়েছেন অফ স্পিনার প্রসপার উতসেয়ার বলে। ডেভিড হাসিকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন প্রাইস। অসি অধিনায়ক পন্টিং অবশ্য স্পিন ভালই খেলেন। তবে ওই ম্যাচে রান আউট হয়েছিলেন তিনি। মাইকেল ক্লার্ক ছিলেন অনবদ্য। শেষ পর্যনত্ম ৫৫ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন অসি সহঅধিনায়ক। আর সেটাকেই আজ প্রেরণা হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। কারণ ড্যানিয়েল ভেট্টরি ছাড়াও নিউজ্যাল্যান্ডে রয়েছে নাথান ম্যাককুলাম, মার্টিন গাপ্তিল, রস টেইলর এবং কেইন উইলিয়ামসনদের মতো স্পিনাররা। ওদিকে, আবার রয়েছে স্কট স্টাইরিশের সেস্না বল। ক্লার্ক নিজেও তাই বুঝতে পারছেন যে আজ ব্যাট হাতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে তাকে। ক্লার্কের মতে, 'এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের কাছ থেকে ২০/৩০ ওভার স্পিন আক্রমণ না দেখলে অবাকই হব আমি। আমার বিশ্বাস আজ জিম্বাবুইয়ের মতো নিউজিল্যান্ডও হয়ত ইনিংসের শুরম্নতেই স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসবে। এ ৰেত্রে ড্যানিয়েল ভেট্টরিকেই বল হাতে দেখা যাবে শুরম্নতে। এরপর ইনিংসের মাঝপথে কিউইরা স্পিন ও সেস্না বোলের আক্রমণ শানাবে বলেই বিশ্বাস করি। সুতরাং আজ অনেক বেশি ব্যাট সতর্ক হতে হবে আমাদের।'
এদিকে, স্পিন নিয়ে যতই কথা বলা হোক না কেন আসরের শুরম্ন থেকেই পেসাররাও আলো ছড়াচ্ছেন। আর নাগপুরের উইকেটটি এমন যে এখানে ব্যাটসম্যানদের দাপট দেখানোর সম্ভাবনা প্রকট, তেমনি স্পিনারদের ছাড়িয়ে পেসারদেরও আবার উজ্জ্বল হয়ে সম্ভাবনা রয়েছে। নাগপুরের অনুষ্ঠিত এ পর্যনত্ম সব ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যান তেমন কথাই বলে। বোলিং আক্রমণে তাই আজ জনসনকে ঘিরেই স্বপ্ন আঁকছে অসিরা। এর সঙ্গে জেসন ক্রেজা আর স্পিড স্টার ব্রেট লির দিকে খানিকটা প্রত্যাশার দৃষ্টি রাখছে পন্টিংরা। এর সঙ্গে ওয়াটসন, শন টেইটরা যদি খানিকটা জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই।