মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৯ মাঘ ১৪১৯
বিয়ের মজার রীতি
বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ঘটক ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ের পক্ষ হয়েও ছেলের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে আসেন। আমাদের দেশে ঘটকদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে পরস্পরের কাছে আকর্ষণীয়, সুদর্শন ও যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা। পেশাদার ও শখের এ দুই শ্রেণীর ঘটক দেখা যায় বাংলাদেশে। পেশাদার ঘটকরা প্রতিটি ঘটকালির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ ও দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করে থাকেন। আর শখের ঘটকালি হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রয়োজনে ঘটকের দায়িত্ব পালন করা। বাংলাদেশে বিয়ের অতীত রীতিনীতি বিষয়ে চীনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই। এ জন্য একটি ঘটনা বলা যেতে পারে- তখন শীতকাল, পিঠা আর টাটকা সবজি খাওয়ার জন্য একবার প্রত্যন্ত এক গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাই। ঘটনাক্রমে সেদিনই ওই বাড়িতে মেয়ে দেখার জন্য ছেলের পক্ষের লোকজন আসেন। সবাই মেয়ে দেখার অপেক্ষায় আছেন। অবশেষে মেয়েটি শাড়ি পরে ঘোমটা দিয়ে এসে দাঁড়াল। ছেলেপক্ষ থেকে তাকে হাঁটতে বললেন। মেয়েটি হাঁটলো। ঘোমটা খুলে চুল দেখাতে বলা হলে চুল দেখালো। এরপর ছেলেপক্ষ তাকে হাসতে বললো। কোরান থেকে কিছু সুরা পাঠ করতে বলার পর হাত ও পায়ের নখ দেখাতে বলা হলো। মেয়েটিও একে একে সব করে দেখালো। অবশেষে ছেলেপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মেয়ের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিল। এই পুরো দৃশ্য পাত্র উপভোগ করল ও তার আত্মীয়দের কাছে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ করল।

চীন
চীনের ইতিহাস সুদীর্ঘ। বিস্তীর্ণ তাদের ভূখ । তাই, চীনের বিভিন্ন জায়গায় বিয়ের আচার ও রীতিনীতিও ভিন্ন। তবে মূল বিষয়গুলো প্রায় একই রকম। প্রাচীন চীনে একটি বিয়ের মোট ৬টি অনুষ্ঠান হতো। এগুলোর মধ্যে আছে মেয়ে পক্ষকে যৌতুক দেওয়া, বিয়ের বাগদান, ভোজ ইত্যাদি। সেসময় একটি ছেলে যদি এক মেয়েকে পছন্দ করত, তাহলে তিনি মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ঘটককে পাঠাতেন। সেখানকার ঘটক দু’পক্ষের নাম, বয়স, পারিবারিক অবস্থা ইত্যাদি তথ্য দু’পক্ষকে জানিয়ে দিত। দু’পক্ষ মোটামুটি রাজি হলে ঘটক মেয়েপক্ষের বাড়িতে ছেলেপক্ষকে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করে দিত। ছেলেপক্ষ মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে দেখা ছাড়াও মেয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও মেয়ের চরিত্র, মেজাজ-মর্জি যাচাই করে নিত। তবে বিয়ের আগে মেয়েপক্ষ ছেলের বাড়িতে যেত না। বিয়ের দিন নিয়ে চীনের আরও কিছু মজার রীতিনীতি আছে। যেমন : বিয়ের দিন কনে লাল পোশাক পরে। বর্তমানে অবশ্য অনেক কনে পাশ্চাত্যের অনুকরণে সাদা রংয়ের লম্বা স্কার্ট পরেন। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় কনেকে কাঁদতে হয়। কনের বিদায়ের সময় বাবা-মাও চোখের জলে বুক ভাসায়। চীনের কোন কোন অঞ্চলে স্বামীর ঘরে প্রবেশের আগে কনেকে আগুন জ্বালানো একটি গামলা পার হতে হয়। এ রীতির অর্থ হলো, সব অমঙ্গল আগুনে পুড়ে যাক ও নতুন দম্পতির জীবন আগুনের মতো উজ্জ্বল হোক।

ফ্রান্স
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রেমময় দেশগুলোর একটি হচ্ছে ফ্রান্স। সাদা রং ফ্রান্সের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান রং। সাজগোজের অলংকার, ফুল, কনের কাপড় সবই সেখানে সাদা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, ফরাসিদের চোখে বিয়ে হচ্ছে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক।

ব্রিটেন
বিয়ে সর্বদাই পবিত্র হওয়া উচিত। আর তাই পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-রীতির বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পদ্মফুল হাতে রাখে। ব্রিটিশদের চোখে এই ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক। ব্রিটিশদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত দুপুরে আয়োজিত হয়। তাদের বিয়ের কেক তৈরিতে হরেক রকম ফল ব্যবহার করা হয়। এ কেককে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম পর্যন্ত রেখে দেয়া হয়।

জার্মানি
জার্মানরা খুব শান্ত প্রকৃতির বলে ধারণা করা হলেও বিয়ে নিয়ে তাদেরও উন্মাদনার শেষ নেই। তাদের বিয়েতে বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়। এই পার্টিতে বর ও কনেকে কেন্দ্র করে নানা মজা করা হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হচ্ছে, নাচতে নাচতে আনন্দের সঙ্গে থালা-বাসন ছুড়ে ফেলা। আবার যদি স্বামী স্ত্রীকে দেখতে চায়, তাহলে স্ত্রীর বন্ধুকে ঘুষ দেওয়ার মতো টাকা দিতে হয়। নইলে স্ত্রীকে দেখার অনুমোদন দেয় না বন্ধুরা।

গ্রিস
প্রিসের বিয়ের রীতিনীতিকে খুব সুস্বাদু একটি মিষ্টি রীতি বলা যেতে পারে। সেখানে কনেরা নিজের হাত মোজার ভেতরে কিছু মিষ্টি ক্যান্ডি রাখে। এ ব্যতিক্রমী কাে র কারণ, নিজের বিবাহিত জীবনকে আরও মিষ্টিময় করে তোলা। এছাড়া গ্রিকরা ঐতিহ্যবাহী রাউন্ড ডান্সের গোলাকার নৃত্যের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়।

রাশিয়া
রাশিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানে যে শব্দ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, তা হলো ‘তিক্ত’। অনুষ্ঠানে যদি কেউ উচ্চস্বরে বলে, ‘তিক্ত, তিক্ত’ তাহলে সবাই একসঙ্গে তিক্ত বলবে। আর স্বামী ও স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চুমু খাবে। এরপর যতবার অতিথিদের মধ্য থেকে উচ্চস্বরে তিক্ত, তিক্ত বলা হবে, ততবার দম্পতিকে মিষ্টি চুমু দিয়ে অতিথিদের প্রতি সাড়া দিতে হবে। অন্তত দশ-বারোবার চুমু খেলে তবেই অতিথিরা সন্তুষ্ট হয়। কারণ, রুশদের ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর চুমু মদের তিক্ততাকেও মিষ্টি করতে পারে!
কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন
একসময় বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনীতে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে গবেষকরা প্রতিস্থাপনযোগ্য কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি এবং এর ব্যবহার এখন মানুষের হাতের নাগালে। গবেষকরা কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি এবং প্রতিস্থাপনে অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন। প্রতিবছর তারা গবেষণার মাধ্যমে দেহের বিকলাঙ্গ প্রতিস্থাপনের নিত্য নতুন উপায় হিসেবে কৃত্রিম অঙ্গের উদ্ভাবন এবং উন্নয়ন করে চলেছেন। গবেষকদের মতে, ভ্রƒণ কোষ থেকে কোন অঙ্গ বা স¤পূর্ণ মানব দেহ তৈরি করা সম্ভব। এখন পর্যন্ত গবেষকরা যেসব ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম প্রতিস্থাপনযোগ্য হৃৎপি-, ত্বক, হাত, অস্থি, লিগামেন্ট, লিভার, ফুসফুস, ককলিয়া, কিডনি এবং চোখ।

হৃৎপি- প্রতিস্থাপন
কৃত্রিম হৃৎপি- প্রতিস্থাপন করার বিষয়টি বেশ পুরনোই বলা চলে। ১৯৬০ সাল থেকে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন গবেষক ও চিকিৎসকরা। তবে গবেষকরা বলছেন, হৃৎপি- প্রতিস্থাপন করা গেলেও এটি স্থায়ী নয়। রোগীর হৃৎপি- স্থাপনের মাধ্যমে তাকে প্রাথমিকভাবে কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখা যায়। সম্প্রতি গবেষকরা এ্যাবিওকর নামের একটি পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম হৃৎপি- তৈরি করেছেন যা, একজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপনের পর ৫১৪ দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবে। ফ্রান্সের একজন ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে আরও উন্নত কৃত্রিম হার্টের উদ্ভাবন করা হবে।

কৃত্রিম ত্বক প্রতিস্থাপন
মানুষ তার ত্বকের প্রতি যতটা যতœশীল হয় অন্য কোন অঙ্গের ব্যাপারে সম্ভবত ততোটা যতœশীল হয় না। এতোদিন প্রতিস্থাপনযোগ্য কৃত্রিম চামড়া পাওয়া সম্ভব ছিল না। এর বদলে মৃত ব্যক্তির চামড়া ব্যবহার করতেন চিকিৎসকরা। ফলে পরবর্তীতে ত্বকে নানা রকম ক্ষতের সৃষ্টি হতো এমনকি চামড়া পুরোপুরি নষ্টও হয়ে যেত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণার ফল বলছে, এই দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় গবেষকরা বের করে ফেলেছেন। জানা গেছে, বিজ্ঞানীদের তৈরি নতুন এই কৃত্রিম চামড়াটিতে কোলাজেন স্ক্যাফোল্ডসহ রোগীর নিজের শরীরে কোষ থাকে, যা কিনা নতুন করে চামড়া তৈরি করে। তাছাড়া এই কৃত্রিম চামড়া সম্পূর্ণ নমনীয় এবং চাপ সংবেদনশীল।

ককলিয়া প্রতিস্থাপন
শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ককলিয়ার ট্রান্সপ্লান্ট এখন বিশ্বজুড়ে একটি প্রচলিত চিকিৎসা। এ প্রযুক্তিতে কানে বসানো যন্ত্রটি শব্দকে ইলেকট্রনিক পালসে পরিণত করে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এ পদ্ধতিতে সঙ্গীতের সূক্ষ্মরস আস্বাদন সম্ভব না হলেও নিত্যদিনের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে বহু মানুষ।

পেশি প্রতিস্থাপন
কৃত্রিম পেশি তৈরির গবেষণায়ও অনেকটা এগিয়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, একটি পুরো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বদলে নির্দিষ্ট একটি পেশিকে যন্ত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করা গেলে এ চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর যার দেহে এটি প্রতিস্থাপন করা হবে, তার জীবন হবে আরও সহজ। সম্প্রতি গবেষকরা মানুষের কৃত্রিম পেশি তৈরি করেছেন। মায়োইলেক্ট্রিক প্রসথেসেস নামের একটি ডিভাইস পেশির মতোই কাজ করে। কৃত্রিম পেশি হাতের মাংস পেশি থেকে সঙ্কেতের মাধ্যমে এই ডিভাইসটি পরিচালিত করে।

লিভার প্রতিস্থাপন
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রতিস্থাপনযোগ্য কৃত্রিম লিভার বা যকৃত তৈরি করতে সক্ষম না হলেও তারা এমন এক ডিভাইস তৈরি করেছেন যেটি লিভারের বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারবে। এই ডিভাইসটিকে মূলত বলা হচ্ছে এক্সট্রাকোরপোরিয়াল লিভার। হেপালাইফ নামে একটি কো¤পানি এরকম এক্সটার্নাল বায়ো রিঅ্যাক্টর নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, যখন এই ডিভাইসের ভেতর দিয়ে রক্ত অতিক্রম করে তখন বিষাক্ত এ্যামোনিয়ার পরিমাণ শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগই কমে যায়। যদি এভাবে ডিভাইসটি কাজ চালিয়ে যায় তাহলে গবেষকরা খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনযোগ্য লিভার তৈরি করে ফেলবেন।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন
‘এমসিথ্রি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস তৈরির বিষয়ে কাজ করছে। এর নাম দেয়া হয়েছে বায়োলাঙ্গস। স্বাভাবিক ফুসফুসের মতোই বায়োলাঙ্গস একজন রোগীর দেহে শতকরা এক শ’ ভাগ অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, এই ডিভাইসটি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হলে স্বাভাবিক ফুসফুসের মতোই কাজ করবে।

কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘বায়োনিক চোখ’ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এটি আলোর সাহায্যে কাজ করবে। কৃত্রিম চোখে লাগানো থাকবে এক্সটার্নাল একজোড়া ক্যামেরা যা আলো গ্রহণ করে মস্তিষ্কে দেখার সংকেত পাঠাবে। রেটিনার অসুখে যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তাদের বায়োনিক আই ব্যবহারে ইতোমধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত মানবদেহে অত্যাধুনিক এই বায়োনিক আইয়ের পরীক্ষা করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে এর সফলতা পাওয়া গেছে।

কৃত্রিম হাড় প্রতিস্থাপন
কৃত্রিম হাড় তৈরির বিষয়টি তুলনামূলকভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন। সম্প্রতি গবেষকরা একটি কৃত্রিম হাড় তৈরি করেছেন যার নাম প্রসথেটিক। এই প্রসথেটিকটি মূলত বাচ্চাদের হাড়ে ক্যান্সার হলে প্রাথমিকভাবে সেই হাড়টি রক্ষা করতে পারে। আগে শরীর থেকে এই হাড় সরিয়ে ফেলতে হতো। এটি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হাড়কে প্রতিস্থাপনই করে না এমনকি শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটিও দৈর্ঘ্যে প্রসারিত হয়।

কৃত্রিম কিডনি প্রতিস্থাপন
বাংলাদেশি গবেষক শুভ রায় কৃত্রিম কিডনি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর মতে কৃত্রিম কিডনি আসল অঙ্গের মতোই কাজ করতে সক্ষম। অর্থাৎ রক্তের বিষাক্ত পদার্থ ছঁাঁকা থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন ডি তৈরি, সব কাজই করতে পারবে এই কৃত্রিম কিডনি। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এবং তাঁর ৪০ জন সহকর্মী এই কৃত্রিম কিডনি তৈরিতে অংশ নেন।
প্রদীপ সাহা
আজব হলেও গুজব নয়
হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ায় ফেসবুক
ফেসবুক। বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে আরেক প্রান্তের মানুষের অনলাইননির্ভর যোগাযোগ তৈরির এক বিস্ময়কর মাধ্যম! চলমান প্রাযুক্তিক সভ্যতায় সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি, জীবনের গল্প বলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমই যেন এই ফেসবুক। কতো দূরের মানুষ কিছু দিনের ব্যবহারে হয়ে যায় আপন। ?আর সেই লক্ষ্য মাইল দূরের মানুষটির সঙ্গে কত অবলীলায় নিজের মনের ভেতরকার কথাগুলো প্রকাশ করা যায়। এসবই যে ফেসবুকের কারণেই সম্ভব। আদর-স্নেহ-শ্রদ্ধা-ভালবাসা ভাগাভাগির এ প্রাযুক্তিক মাধ্যমটি বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ পরামর্শ পাওয়ার মাধ্যমও বটে। একটি সমস্যার সমাধানে পরামর্শ চেয়ে পোস্ট করলে কত শত সমাধান মুহূর্তেই পাওয়া যায়। কিন্তু একটি গবেষণা বলছে বিপরীত কথা! ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও ব্যবহারকারীকে দ্রোহীও বানিয়ে দিতে পারে! একদল ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত গবেষণা শেষে বলা হয়, ‘সফল’ বন্ধুদের দেখে বিপজ্জনক রকমের বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে ব্যবহারকারীর! বিদ্রোহ কখনও হতাশা ?আবার কখনও জীবনের প্রতি ঘৃণা বাড়িয়ে দেয়। যেটা স্বাভাবিক জীবনের প্রতি অসন্তোষ ডেকে আনে। জার্মানির হামবল্ডট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হান্না ক্রাসনোভার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহারের কারণে অনেকের মধ্যে অনুভূতির পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় আচরণ, ভাব-ভঙ্গি প্রকাশের ধরনও। কিন্তু এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তির মধ্যেই নেতিবাচক অনুভূতি কাজ করে।
ড. হান্না ক্রাসনোভা গবেষণার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, ‘সবারই অনুভূতির পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন ফেসবুকে পরিচিত কোন বন্ধুর বা আগে থেকে পরিচিত বন্ধুর সফলতার ঈর্ষণীয় ছবি প্রকাশ করা হয়, তখন নিজের মধ্যে এক ধরনের জ্বালা তৈরি হয়। যেটাকে বিদ্রোহ বলা চলে।’
হান্না বলেন, বন্ধুর সফলতার প্রতীক ছবি, গল্প, সামাজিক তুলনা অনেক বেশি ঈর্ষা বাড়িয়ে দেয়। যেটা হতাশার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে অসন্তোষ বয়ে আনে! গবেষণা দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেওয়া কিংবা ফেসবুক ব্যবহারে বিস্ময়করভাবে অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ এ ধরনের হতাশা এবং অসন্তোষই!”
মৃত্যুর আগে
ইচ্ছা পূরণ

জন্মগ্রহণ করলে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে- এটা প্রকৃতির নিয়ম। জীবিত অবস্থায় পৃথিবীতে মানুষ স্বর্গের স্বাদ পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে! মানুষের চাহিদার শেষ থাকে না। তবে গবেষকরা অনেক ঘাম ছড়িয়ে বের করেছেন- পৃথিবী ছাড়ার আগে প্রায় প্রতিটি মানুষ ৫০টি কাজ করে যেতে চায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য মাত্র ৪ থেকে ৫টি আশা পূরণ করে যেতে পারেন অধিকাংশ ব্যক্তি। অনেকে মনে করেন, সব আশা পূরণ করার পর্যাপ্ত সময় নেই। আবার অনেকে স্বীকার করেন, তারা দুঃসাহসিক কাজ করার জন্য তারা উপযুক্ত নন বা আঘাতকে তারা ভয় করেন। কোটিপতি হওয়া, বিশ্বভ্রমণ করা, মেরু প্রভা উপভোগ, চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখা এবং ঋণমুক্ত থাকা এই ৫০ ইচ্ছার শীর্ষে থাকে। আর যে কাজগুলো মানুষ কম করতে চায় মানুষ সেগুলো হলো-উপন্যাস লেখা, অন্য ভাষা শেখা, ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া।
দুই হাজার প্রাপ্ত বয়স্কের ওপর পোশাক প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান হেলি হানসেন গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোক জানিয়েছে, তাদের আশা পূরণে পর্যাপ্ত সময় নেই। আর ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী স্বীকার করেছেন, তারা আহত হতে ভয় পান। এক-চতুর্থাংশ অংশগ্রহণকারী বিশ্বাস করেন, তারা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে উপযুক্ত। কোন ইচ্ছে নেই এমন কথা জানিয়েছে ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারীর উপলব্ধি, তাদের ইচ্ছাপূরণে আরও সাহসী হতে হবে।
৫০টি ইচ্ছার মধ্যে প্রথম ১০টি-
১ কোটিপতি হওয়া, ২ বিশ্ব ভ্রমণ করা, ৩ মেরু“প্রভা উপভোগ, ৪ চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখা, ৫ ঋণমুক্ত জীবন, ৬ ইনকার দুর্গম পথে পা মারানো, ৭ বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য দেখা, ৮ মিসরের পিরামিড দেখা, ৯ জীবন পরিবর্তন করে এমন কিছু উদ্ভাবন করা, ১০ এন্টার্কটিকায় পা রাখা।

ফ্লুর প্রতিষেধক আইসক্রিম!
সর্দি, কাশি, জ্বর, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা, মাথা ভার লাগা, কখনও কখনও পেট খারাপ এসব হচ্ছে ফ্লুর লক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জায় (ফ্লু) মৃতের সংখ্যা ‘মহামারী’ স্তরে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চলতি মৌসুমে ফ্লু পরীক্ষা করা হয়েছে এমন শিশুদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) মার্কিনিদের ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের একটি আইসক্রিম প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফ্লুতে আক্রান্তদের জন্য তৈরি করেছে ‘বিশেষ আইসক্রিম’। এই আইসক্রিমটি ফ্লুর প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেছে প্রস্তুকারক কোম্পানি। লেবু, সুস্বাদু লাল মরিচ ও হুইসি দিয়ে তৈরি এই বিশেষ আইসক্রিম গলা পরিষ্কার রাখবে ও কাশি কমাবে। জেনিসের স্পেলডিড আইসক্রিমসের মালিক জেনি ব্রিটন বায়ুয়ের জানিয়েছেন, তাদের এই আইস ক্রিম খেয়ে একটি পরিবারকে সুস্থ করেছে। তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে বলেছে, শুধু এটিই তাদেরকে ভালো রাখছে।’ অক্টোবর-মে মাস হচ্ছে ফ্লুর সময়। আর জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে এর প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

উপহার যখন ছুরি
ভারতের প্রয়াত রাজনীতিবিদ বাল ঠাকরের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেয়েদের হাতে ধারালো ছুরি তুলে দেবে চায় শিবসেনা। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে ছুরি দেওয়ার এ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে কট্টর ডানপন্থি দলটি। আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রয়াত নেতার জন্মদিনে মেয়েদের চীনের তৈরি ছোট ছুরি উপহার দেয়া হবে। মেয়ে ও নারীরা সেগুলো নিজেদের ব্যাগ অথবা পার্সে রাখতে পারবেন। দলের দক্ষিণ মুম্বাই শাখা সিদ্ধান্ত নিলেও, শীঘ্রই দলের সব শাখা এ কর্মসূচি পালন করবে। দলটির শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, সরকার মেয়েদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ। বাল ঠাকরে ১৯২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি পুনেতে জন্মগ্রহণ করেন। গত বছরের ১৭ নবেম্বর মারা যান শিবসেনার এ প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬৬ সালের ১৯ জুন শিবসেনা প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্বে অর্ধেক খাবার ফেলে দেয়া হয়
বিশ্বে খাবারের অর্ধেক খাদ্য অপচয় হয়। আর এর অন্যতম কারণ খাদ্য ফেলে দেওয়া হয় । বিশ্বের ২শ’ কোটি টন খাদ্য নষ্টের পেছনে ফেলে দেওয়া ছাড়াও নিম্নমানের সংরক্ষণ, বিক্রির মেয়াদ, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি ও ভোক্তাদের খুঁতখুঁতে স্বভাব ইত্যাদি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ‘বৈশ্বিক খাদ্য; অপচয় হবে না, অভাব আসবে না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ইনস্টিটিউশন জানিয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী চার শ’ কোটি টন খাদ্য উৎপাদিত হয়। আর এর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নষ্ট করা হয়।
সাত-সতেরো প্রতিবেদক