মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ডলফিনের অভয়াশ্রম হবে সুন্দরবন
ইব্রাহিম নোমান
বিশ্বের বিলুপ্ত প্রজাতির ইরাবতি ডলফিনের নতুন চারণক্ষেত্র এখন বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায়। সুন্দরবন উপকূল ও বঙ্গোপসাগরের সোয়াস অব নো গ্রাইন্ডসহ ১২০ কি.মি. পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে রয়েছে ৫ হাজার ৪০০টি ইরাবতি ও অন্য ৬ প্রজাতির ডলফিন। অবশেষে এই ডলফিন রক্ষায় এগিয়ে এসেছে সুন্দরবন বিভাগ। সুন্দরবনের তিনটি এলাকার ৩১ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদী ও খালকে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে এই অভয়াশ্রম ঘোষণা করবে বলে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মিহির কুমার দে জানান, আড়াই বছর আগে ওয়ার্ল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, এনওয়াই ও বাংলাদেশ সিটাসিন ডাইভারসিটি প্রজেক্টের দেশী-বিদেশী প্রাণী বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে সুন্দরবনসহ বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে বিলুপ্ত প্রজাতির ইরাবতিসহ ৬ প্রকার ডলফিন ও হোয়েল প্রজাতির ১ রকমের তিমির সন্ধান পায়। এরপর 'প্রটেক্টটেড এরিয়ার নেটওয়ার্ক ফর সিটাসিন ডাইভারসিটি (প্যানসিডি) নামে একটি প্রকল্প তৈরি করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। ডলফিন রক্ষায় প্যানসিডি প্রকল্প বাসত্মবায়নে সুন্দরবনের পূর্ব-উত্তর কোণে ঘাগরামারী ক্যাম্প হতে ঢাংমারী স্টেশন হয়ে করমজল পেট্রোল পোস্ট পর্যনত্ম ১০ কিলোমিটার চ্যানেল, মংলা বন্দরের নিচে সুন্দরবনের জোংড়া পেট্রোল পোস্ট থেকে পশুর নদী হয়ে নন্দবালা, মিরাগামারী ক্যাম্প বরাবর শ্যাওলা নদী দিয়ে আন্ধারমানিক ক্যাম্প পর্যন্ত উরুবুনিয়া খাল হয়ে চাঁদপাই খাল থেকে ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার চ্যানেল, দুধমুখী ক্যাম্প-সংলগ্ন খালের ২ কিলোমিটার উত্তরে বেতমার খাল থেকে বড়শিয়ালা খাল ও দক্ষিণে ভোলা নদী পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার অর্থাৎ সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদী, খাল চ্যানেলে অচিরেই ফাঁস জাল, কারেন্ট জাল, নেট জাল, বেন্দী জাল ও রেণু পোনা ধরা জাল নিষিদ্ধ করে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। মিহির কুমার দে জানান, সুন্দরবনসহ উপকূলে ডলফিনের সন্ধান মেলায় গত আড়াই বছর ধরে পূর্ব সুন্দরবনে ইকো-টু্যরিজমে রেকর্ডসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসছে। এ সংখ্যা প্রতিবছরই অতীতের রেকর্ড ভাঙছে। শুধু পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ পর্যটন খাত থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করছে। গত পর্যটন মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনে দেশী-বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ছিল দুই লক্ষাধিক।
ইরাবতি ছাড়াও সুন্দরবনে অন্য ডলফিনের মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসেফিক হাম্প ব্যাক্ট, ফিনলেজ, ইন্দো-প্যাসেফিক বটলনোস, স্পিনার, স্পটেড ও গংগেজ রিভার ডলফিন। এ ছাড়া ব্রাইডস হোয়েলস নামের এক প্রজাতির তিমি রয়েছে এখানে। বঙ্গোপসাগরসহ সুন্দরবনের নদ-নদীর পানি, পানির উষ্ণতা ইরাবতি ডলফিনের বংশ বৃদ্ধির জন্য খুবই সহায়ক। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এ এলাকায় চিংড়ির রেণু পোনা আহরণে কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে ইরাবতি ডলফিনের বংশ বৃদ্ধি এখন চরম হুমকির মুখে পড়ায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুন্দরবনের ৩টি এলাকাকে ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করবে।
ভেলায় চড়া শামুক যেভাবে এলো
এনামুল হক
কিছু কিছু শামুক আছে যারা বুদবুদের ভেলায় চড়ে সাগরে ভেসে বেড়ায়। এসব ক্ষুদক্ষুদ ভেসে বেড়ানোর পস্নাটফর্ম ছাড়াও ডিম সংরৰণের আধার এবং শিশু শামুকদের দাঁড়াবার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারটা লৰ্য করে এসেছেন। কিন্তু এই শ্রেণীর শামুকের উৎপত্তি কিভাবে হলো, কিভাবেই বা তাদের জীবনযাপনের এই বিচিত্র পদ্ধতি গড়ে উঠল তা তাদের অজানা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মিশিগানের এক পিএইচডি ছাত্রের গবেষণায় তাদের এই অজানা তথ্যটি উন্মোচিত হয়েছে।
বুদবুদের ভেলায় ভেসে বেড়ানো শামুকের প্রজাতির সংখ্যা ১০টিরও কম। গবেষণায় মলিকুলার কৌশল ব্যবহার করে এই প্রজাতির শামুকের ডিএনএ'র সঙ্গে অন্যান্য সমগোত্রীয় শামুকের ডিএনএ মিলিয়ে দেখে এই উপসংহার টানা হয়েছে যে, সাগর তলে বসবাসকারী ওয়েন্টেনট্র্যাপ নামে এক জাতের শামুক থেকে এই বুদবুদের ভেলায় ভেসে বেড়ানো শামুকের উৎপত্তি। ওয়েন্টেনট্র্যাপ শামুকের অসত্মিত্ব আজও আছে।
উভয় জাতের শামুকের পা থেকে শেস্নষ্মা নির্গত হয়। পা বলতে বোঝায় শরীরের তলায় মাংসপেশীর একটা কাঠামো। বেশিরভাগ শামুক সেই শেস্নষ্মাকে ডিমের আকরে পরিণত হতে দিলেও বুদবুদের ভেলায় ভেসে বেড়ানো শামুক বা বাবল্-র্যাফটাররা অন্য কাজ করে। তারা শেস্নষ্মার ভিতর বাতাস আটকে ফেলে একে বুদবুদে পরিণত করে। শেস্নষ্মার একটা বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো দ্রুত কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। কিন্তু ভিতরে বাতাস আটকা থাকায় শেস্নষ্মার এই বুদবুদ জলরাশিতে ভেসে বেড়ানোর ৰমতা অর্জন করে। এসব বুদবুদ পরস্পরের গায়ে গা লাগিয়ে গুচ্ছবদ্ধ হয় এবং ভেলা রচনা করে। এই ভেলার ওপর বাবল্ র্যাফটার শামুকরা বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। বলাবাহুল্য, এরা ভেলার ওপর চড়ে থাকে না। বরং ভেলাকে অবলম্বন করে উল্টো হয়ে থেকে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটায়।
বাবল্-র্যাফটার শামুক কয়েক জাতের থাকলেও অতি সচরাচর যে জাতটাকে দেখা যায় তার নাম জানথিনা জানথিনা। এটি বেগুনি রংয়ের স্ত্রী জাতীয় শামুক। জানথিনা জানথিনা একমাত্র বাবল-র্যাফটিং শামুক, যার স্ত্রী জাতটি ভেলার ওপর ক্যাপসুল আকারের ডিম না পেড়ে নিজেদের শরীরের ভিতর ডিম পাড়ে। পরে সেই ডিম ভেলার গায়ে মজুদ রাখে।
এই শামুকরা উভয়লিঙ্গ। তার মানে এদের পুরম্নষরা শেষ পর্যনত্ম স্ত্রীজাতে পরিণত হয়। তারপর নিজেদের ভেলা রচনা করে এবং সেই ভেলায় চড়ে ভেসে ভেসে চলে যায়। সাগরের বুকে লার্ভা হিসেবে এদের সবার জীবন শুরম্ন হয়। সেই লার্ভা রূপানত্মরিত হয়ে কৈশোর অবস্থা লাভ করে। সেখান থেকে তারা প্রথমে পুরম্নষে পরিণত হয় এবং পুরম্নষ থেকে পরে স্ত্রী শামুকে রূপায়িত হয়। অবশ্য লিঙ্গ পরিবর্তনের এই ব্যাপারটা শামুকদের এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
বাবল্ র্যাফটিং শামুকদের পূর্বপুরম্নষরা সাগরতলে বাস করত। এরা কি করে ভেলাকে অবলম্বন করতে শিখল? এ ব্যাপারে গবেষকদের ব্যাখ্যা হলো_কোন এক পর্যায়ে উপকূলের কাছে বসবাসরত স্ত্রীজাতের শামুকরা ডিমসহ সমুদ্রের ঢেউয়ের দ্বারা অন্য স্থানে বাহিত হয়ে থাকবে। এভাবে কোন কিছুকে অবলম্বন করে সাময়িকভাবে ভেসে থাকার অভ্যাস এই শামুকগুলোর হয়ে থাকবে। শেষপর্যনত্ম পূর্বপুরম্নষদের মধ্যেকার এই শ্রেণীর শামুকগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিজেদের শেস্নষ্মা দিয়ে বুদবুদ সৃষ্টির এবং তারপর ভেলা বানানোর ৰমতা করায়ত্ত করে ফেলে। অবশ্য বুদবুদ তৈরির ক্ষমতা নিশ্চয়ই রাতারাতি হয়নি। বরং বেশ কিছু সময় লেগেছে। শেষপর্যনত্ম এরা অনেক বুদবুদকে একত্রিত করে ভেলার মতো বানিয়ে তাতে ভাসতে শিখেছে। এভাবেই এক সময় সাগরতলের বাসিন্দা শামুক ভেলায় চড়ে ভেসে বেড়ানো শামুকে রূপানত্মরিত হয়ে যায়। এই বিবর্তনগত পরিবর্তনের ফলে বাবল্ র্যাফটাররা সাগরপৃষ্ঠে খাদ্যের নতুন নতুন উৎসের সন্ধান পায়, যেখানে তারা প্রতিযোগিতা ছাড়াই মোটামুটি স্বাধীনভাবে বিচরণ করে বেড়াতে পারে।
বাবল্ র্যাফটিং শামুক উভয়লিঙ্গ। এই বৈশিষ্ট্যটি ছাড়াও এদের প্রজননচক্র এখনও কতকটা রহস্যের আবরণে ঢাকা। তবে এটা ঠিক যে, শুক্রাণু দেয়ার জন্য পুরম্নষদের অবশ্যই স্ত্রীদের খুঁজে বের করতে হয়। পুরম্নষরা যদি সাগরতলে বাস করে আর স্ত্রীরা সাগরপৃষ্ঠে ভেলায় চড়ে ভেসে বেড়ায় তাহলে মিলনের জন্য পরস্পরের সাৰাত পাওয়া তাদের কি করে সম্ভব? এই প্রশ্নসহ কিছু প্রশ্নের জবাব বিজ্ঞানীরা এখনও পাননি।
সূত্র : সায়েন্স ডেইলি
মহাকাশ অভিযানের সফল পরীক্ষা 'মঙ্গল ৫০০'
অদেখাকে দেখার এবং অজানাকে জানার সাধ মানুষের চিরায়ত স্বভাব। চাঁদের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দেয়ার পর এখন চেষ্টা চলছে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের। তারই একটি পর্যায় হিসেবে অনুরূপ অভিযান 'মঙ্গল ৫০০' নামের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। ২০১০ সালের ২৩ জুন রাশিয়ার ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিক্যাল প্রোবলেমস_ আইবিএমপি শুরু করে মোট ৫২০ দিনের এই পরীক্ষা। এই পরীক্ষামূলক অভিযানের নাম দেয়া হয় 'মার্স ৫০০' বা 'মঙ্গল ৫০০'। রাশিয়ার তিন জন এবং ইটালি, ফ্রান্স ও চীনের একজন করে বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছিলেন এই নমুনা মহাকাশ অভিযানে। মস্কোয় মহাকাশযানের আদলে নির্মিত ১৮০ বর্গমিটারের আধারের মধ্যে প্রায় ১৮ মাস কাটাতে হয়েছে ছয় জন বিজ্ঞানীকে। এ সময় তাঁরা পৃথিবীতেই ছিলেন কিন্তু তাঁদের এমনভাবে দৈনন্দিন কাজ করতে হতো যেন তাঁরা মঙ্গল গ্রহের পথে উড়ে গেছেন এবং সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসছেন।
এ সময় ৩০টিরও বেশি ক্যামেরা দিয়ে তাঁদের কর্মকাণ্ড ও আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কিছু সময়ের জন্য মহাকাশযান থেকে কৃত্রিম মঙ্গল গ্রহে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন ইটালির ডিয়েগো উরবিনা, রাশিয়ার আলেঙ্ন্ডার স্মলেভস্কি এবং চীনের ওয়াং ইয়ু। এ সময় মূল নভোযানে সহকর্মীদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন রাশিয়ার এ্যালেক্সই সিটেভ ও সুখরব কমোলভ এবং ফরাসী নভোচারী রোমাঁ শার্ল। রেড পস্ন্যানেট নামে পরিচিত মঙ্গল গ্রহে ৫২০ দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান শেষে সুস্থ ও সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন ছয় বিজ্ঞানী। তবে এই দীর্ঘ সময় পৃথিবীর পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এই অভিযান থেকে বের হওয়ার পর প্রায় তিন দিন তাঁদের আলাদা করে রাখা হয়েছিল। এ সময় তাঁদের দেহের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। এরপর ৭ নবেম্বর থেকে তাঁদের চলাফেরা কিছুটা স্বাধীনভাবে শুরম্ন হয়েছে। তবুও আগামী এক মাস তাঁদের মস্কোয় আরও পরীক্ষার আওতায় থাকতে হবে। এই পরীক্ষামূলক নভোযানের ভেতর একঘেয়েমি এবং একাকিত্ব বোধ করেছেন সম্ভাব্য এই নভোচারীরা। রোমাঁ শার্ল স্বীকার করেছেন, ৫২০ দিনের পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল একঘেয়েমি। তবে সেই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে শার্ল এবং উরবিনা গিটারে সুর তুলেছেন মাঝে মাঝে। গেয়েছেন 'হোম সুইট হোম' কিংবা 'রকেট ম্যান'সহ প্রিয় গানগুলো। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই ধরনের খাবার নিয়েও বেশ কষ্টে ছিলেন তাঁরা। শার্ল জানালেন, একজন ফরাসী হিসেবে তিনি মচমচে ক্রঁস, পনির এবং রেড ওয়াইনের অভাব বোধ করেছেন খুব বেশি। আসলে খাওয়ার মধ্যে কোন মজাই ছিল না। বরং শুধু বাঁচার তাগিদে খেতে হতো বলে মনত্মব্য করলেন চীনা চিকিৎসক ওয়াং ইয়ু।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট-এর সহকারী অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এই অভিযানের কিছু বিশেষ দিক তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, 'একটি ছোট নভোযানের মধ্যে দীর্ঘদিন নভোচারীরা থাকলে কি ধরনের স্বাস্থ্যগত ও পারিপাশ্বর্িক অবস্থার মুখোমুখি হবে তা এটির মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া নভোযানে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে সেসব যন্ত্রপাতির সঙ্গে পরিচিতকরণ, সেগুলো চালনা ও নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানীদের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে এই অভিযানের মধ্য দিয়ে। এই নমুনা অভিযানে প্রয়োজনীয় প্রায় সকল সুযোগ সুবিধা, যান্ত্রিক ও কারিগরি কর্মকা- সংযোজন করা হয়েছিল। তবে বাসত্মবে মঙ্গল অভিযানের সময় পাঁচ কোটি কিলোমিটার ফ্লাইটের জন্য যে অভিকর্ষ ত্বরণ এবং তার ফলে ওজনশূন্যতা অনুভূত হবে তা এই অভিযানে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বাসত্মব অভিযানে যে কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব থাকবে সেটিও 'মঙ্গল ৫০০' অভিযানে ছিল না।' তবুও এটিই সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহাকাশ অভিযানের পরীক্ষা বলে উলেস্নখ করে আইবিএমপি।
এই পরীক্ষামূলক মঙ্গল অভিযানের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ড. ফারসীম বলেন, 'নিকট ভবিষ্যতে না হলেও দূর ভবিষ্যতে মনুষ্যবাহী নভোযান যে মঙ্গল গ্রহ পানে যাবে তার পর্যায়ক্রমিক একটি ধাপ বলা যেতে পারে এটিকে। আমাদের অনেকেই যারা এখন বেঁচে আছেন তাঁরা হয়ত দেখতেই পাবেন, মানুষ মঙ্গল গ্রহে হেঁটে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, এসব গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের নভোচারীদের মানসিকভাবে, স্বাস্থ্যের দিক থেকে এবং অবশ্যই প্রযুক্তির দিক থেকে তৈরি করা, যাতে করে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো একটি যৌক্তিক সম্ভাবনা হয়ে যায় অদূর ভবিষ্যতে।'
জুবায়ের আব্দুল বারি
সূত্র : নাসা অনলাইন
আলোর গতিই সবচেয়ে বেশি
নতুন গবেষণায় প্রকাশ
আলোর চেয়ে বেশি গতিমান প্রাথমিক কণা পাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল। তাদের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে দাবিটি ভুল ছিল। প্রকাশিত এক নিবন্ধে আগের দাবি নাকচ করেছেন এই বিজ্ঞানীরা। এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ইতালির গ্রান স্যাসো গবেষণাগারের 'অপেরা' (ওপিইআরএ) এঙ্পেরিমেন্টের সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন, সুইজারল্যান্ডের সার্ন গবেষণাগার থেকে গ্রান স্যাসোতে তাদের কাছে পাঠানো নিউট্রিনো (প্রাথমিক কণা) , স্রোতের যে গতি তারা রেকর্ড করেছেন আলোর গতি থেকে তা ৬০ ন্যানোসেকেন্ড কম সময়ে পৌঁছেছে। গ্রান স্যাসোর বিজ্ঞানীদের আকস্মিক এ আবিষ্কারের ঘোষণায় সত্মম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো বিজ্ঞান বিশ্ব। তাদের দাবি সঠিক হলে আলবার্ট আইনস্টাইনের রিয়েলিটিভিটি বিষয়ক ধারণা এবং আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি বিরাট অংশ ভুল প্রতিজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে প্রমাণিত হতো।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের ওই দলটি সার্ন থেকে ইতালিতে পাঠানো নিউট্রিনোগুলোর বাকি অংশ নিয়ে আগের পরীক্ষাটি আবার করেন। ইতালির জাতীয় পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে 'ইকারুস' নামে গ্রান স্যাসোতে আর একটি এঙ্পেরিমেন্টে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল নিউট্রিনোর গতিবেগে 'অপেরা' গবেষণায় রেকর্ড করা গতিবেগের মতো কিছু পাননি। ইকারম্নস দলের গবেষণায় পাওয়া ফল ২৩ নবেম্বর ওই একই ওয়েবাসাইটে প্রকাশ করা হয় যেখানে অপেরা গবেষণার ফল প্রকাশ হয়েছিল। প্রকাশিত নিবন্ধে ইকারম্নসের গবেষকরা দাবি করেছেন, তাদের প্রাপ্ত ফলাফলে আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিতে চলমান নিউট্রিনোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তুষান খান
সূত্র : সায়েন্স ডেইলি
জলবায়ু সমস্যা সমাধানে নতুন পদক্ষেপ
জলবায়ু নীতি জ্বালানি ও বায়ু দূষণ সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংরৰণ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত করার সুষ্ঠু নীতি নেয়া হলে সেটা জ্বালানির স্থায়িত্ব অর্জন, বায়ু দূষণ হ্রাস করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন সাধনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। 'নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ' পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এ্যাপস্নাইড সিস্টেমস এনালিসিস (আইআইএএসএ)-এর বিজ্ঞানীদের রচিত এই নিবন্ধে অভিমত দেয়া হয়েছে, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে যেসব নীতি নেয়া হয় সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাব অন্যান্য ৰেত্রের ওপর এসে পড়ে। কারণ স্বভাবতই এসব নীতিতে জ্বালানি দৰতা ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি করার এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ জ্বালানি উৎস বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত ও বহুল পরিমাণে ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকে।
নিবন্ধের মূল লেখক ঐ সংস্থার ডেভিড ম্যাককোলাম বলেন, উচ্চাভিলাষী আবহাওয়া নীতি অনুসরণের একটা সুস্পষ্ট সুবিধা হলো এই যে, এসব নীতির পরিণতিতে অনেক উন্নত প্রযুক্তির আবির্ভাব হবে এবং বিশুদ্ধ জ্বালানি বেরিয়ে আসবে। এর যুগপৎ কিছু প্রভাব পড়বে অন্যত্র। কার্বন উদ্গীরণ শুধু যে কমবে তা নয়, একই সঙ্গে মানুষ ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর বায়ু দূষণকারী বিভিন্ন উপাদানও হ্রাস পাবে। উপরন্তু দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশে নিজ নিজ কঠোর আবহাওয়া নীতি একবার বলবৎ হয়ে গেলে কিছু শক্তিশালী মিশ্র ক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বায়ু দূষণ হ্রাস ও জ্বালানির লৰ্যমাত্রা অর্জনের সম্পূরক নীতিগুলোর বাড়তি খরচও কমে আসে উলেস্নখযোগ্য মাত্রায়। এই হ্রাসের পরিমাণ বিশ্বব্যাপী হতে পারে বার্ষিক বেশ কায়েক শ' কোটি ডলার কিংবা বৈশ্বিক জিডিপির এক শতাংশের অর্ধেক।
লেখকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় হবার অর্থ হচ্ছে এতে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রবাহ ঘটবে। তার মানে আজকের বিনিয়োগের প্রায় এক- তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ অর্থ জ্বালানি ব্যবস্থায় চলে আসবে। জলবায়ু সংরৰণ নীতির কারণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী যে অর্থ ব্যয় হবে সাশ্রয়প্রাপ্ত অর্থ তাকেও ছাড়িয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে বেশ কয়েক দশক ধরে এই অবস্থাই চলবে।
জ্বালানির স্থায়িত্ব অর্জন, বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নতি বিধান করা এই তিনটি গুরম্নত্বপূর্ণ লৰ্য অর্জিত হলে এর আনুষঙ্গিক আরও অনেক সুবিধা আছে যার অর্থ মূল্য অনেক বেশি। যেমন এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমবে এবং মানুষের আয়ু যাবে বেড়ে। বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে এর তাৎপর্য অপরিসীম। যেমন এর ফলে উদ্ভিদের ইউট্রোফিকেশন ও এসিডিফিকেশনজনিত ৰতির পরিমাণ কমবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ভতর্ুকিও হ্রাস পাবে। একটা সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে টেকসই জ্বালানি নীতিগুলোকে সমন্বিত করা হলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাবে।
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক
সূত্র : ন্যাচার সায়েন্স
বিকাশগত পার্থক্য নিয়ন্ত্রণে জিন
পৃথিবীতে যত রকমের প্রজাতির অসত্মিত্ব আছে সবাই জিনের তারতম্য ঘটিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম। যার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন আকার, সাইজ, বর্ণ ও সেঙ্ ধারণ করে। জিনের এই যে নমনীয়তা বা পরিবর্তনযোগ্যতা এর জন্যই প্রাণীরা নিজ নিজ পরিবেশে সাফল্যের সঙ্গে চলতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক কীটপতঙ্গের বিকাশগত পার্থক্য রচনার জন্য যেসব জিন অপরিহার্য সেগুলো প্রাণীর ক্রিয়াকলাপের অন্যান্য দিক নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলোর তুলনায় আরও দ্রুত বিবর্তিত হয়।
সুইজারল্যান্ডের একদল গবেষক পরিচালিত এই সমীৰায় আরও দেখা গেছে যে, আগুনে পিঁপড়া ও মধুমৰিকার ভিন্ন ভিন্ন সেঙ্, জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও জাত সৃষ্টির ৰেত্রে যেসব জিন জড়িত সেগুলো বিকাশের এসব প্রক্রিয়ায় জড়িত না থাকা জিনের তুলনায় আরও দ্রম্নত বিবর্তিত হয়। গবেষকরা আরও লৰ্য করেছেন যে, দ্রুত বিবর্তনশীল এই জিনগুলো কোন প্রাণীর বিভিন্ন রূপ সৃষ্টির কাজে রিক্রুট হবার আগেই বিবর্তনের উচ্চতর হার প্রদর্শন করে থাকে। গবেষণালব্ধ এই তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতরূপেই দেখা দিয়েছে কারণ বেশিরভাগ মতবাদে বলা হয় যে, প্রাণীর বিভিন্ন রূপ সৃষ্টির কাজে জড়িত জিনগুলো দ্রুত বিবর্তিত হবে সুনির্দিষ্টভাবে এই কারণে যে, এরা বিকাশগত পার্থক্য রচনা করে থাকে। তার পরিবর্তে এই গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রম্নত বিবর্তনশীল জিনগুলোর প্রকৃতপৰে আগে থেকেই বিকাশের নতুন নতুন রূপ সৃষ্টির ঝোঁক সম্পন্ন হয়ে থাকে। গবেষণার এই ফলাফল সম্প্রতি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে।
সমাজবদ্ধ কীটপতঙ্গের মধ্যে একটা আধুনিক সামাজিক কাঠামো লৰ্য করা যায়। সেখানে রানীরা সনত্মান উৎপাদন করে এবং শ্রমিকরা সনত্মান পরিচর্যা ও কলোনি রৰার কাজে নিয়োজিত থাকে। আগুনে পিঁপড়া সোলেনোপসিস ইনভিকটার বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়, সেঙ্ ও জাত ইত্যাদির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট জিনের বিবর্তন সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকরা নির্ণয় করেছেন কিভাবে সমাজবদ্ধ কীটপতঙ্গ জিনগতভাবে একই রকমের কীটপতঙ্গ থেকে এ জাতীয় ভিন্ন রূপ ও ক্রিয়াকলাপ সৃষ্টি করে থাকে।
বিশেস্নষণ করে দেখা গেছে, অনেক আগুনে পিঁপড়ার জিন সেই পিঁপড়া পুরম্নষ না স্ত্রী, রানী না শ্রমিক এবং শূককীট না পূর্ণবয়স্ক তার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশিত এই জিনগুলো বিবর্তনের উচ্চতর হার প্রদর্শন করে থাকে। বিকাশগত পার্থক্য রচনার কাজে জড়িত জিনগুলোর বিবর্তনের ওপর এটাই সবচেয়ে ব্যাপকভিত্তিক সমীৰা ।
সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স