মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩, ৮ পৌষ ১৪২০
ক্যাম্পাসে শীতের আগমনী বার্তা
ফসলের মাঠজুড়ে কুয়াশার সাদা চাদর, নিস্তব্ধ রাতে টিনের চালে শিশির পড়ার মৃদু টপ টপ শব্দ- এ সবই বলে দেয় শীত আসছে। ঋতু পরিক্রমায় আবহমান বাংলায় এভাবেই প্রতিবছর আসে শীত। বর্ষপঞ্জিকার ছকে এখন হেমন্তকাল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবনে শীত উপভোগ কিছুটা দুষ্কর। শীত আসে ক্যাম্পাস জীবনে কনকনে উত্তুরে হাওয়া আর ঝরাপাতার গান শুনিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শীত ঋতু উপভোগ করার চেষ্টা করে নিজেদের মতো করে। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের পিঠার দোকানে, মদিনা মার্কেটের চায়ের টংয়ে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের রেস্টুরেন্টের আড্ডায় চায়ের কাপে ঝড় তুলে কাটে তাদের শীত। কখনও বা শহীদ মিনারের পাদদেশে ক্যাম্প ফায়ার করে আড্ডা দিয়ে কেটে যায় উষ্ণতামাখা শীতের রাত। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ রায় বলেন, গোল হয়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। চেতনা ৭১ চত্বর, শহীদ মিনার কিংবা গ্রন্থাগার ভবনের সামনে পড়ন্ত বিকেল অথবা সকালের নরম রোদে আড্ডা উপভোগ্য। শীতের সকালে সবচেয়ে কষ্টদায়ক ব্যাপার ক্লাস। অনেককেই সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠতে হয় আটটার ক্লাস করার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। অনেকেই আরামের ঘুম হারাম করে ক্লাসে যেতে চায় না। প্রায় হলের শিক্ষার্থীদেরই শীতে ঘুম থেকে দেরিতে উঠতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর চিত্র প্রায় একই রকম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত বলেন, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাস করা প্রায়ই সম্ভব হয় না। বছরের অন্যান্য সময় যেখানে সারা রাত আড্ডা দিয়ে প্রায় দিনই সকালের ক্লাস মিস দেই সেখানে শীত সকালের আরামে ঘুম হারাম করা কেমনে সম্ভব ভাই? অনেক শিক্ষার্থীই এখন আর রাত দশটার পর খুব বেশি হলের বাইরে থাকে না। সন্ধ্যা হলেই হলের গেমরুমে সময় কাটায়। শীতের কারণে শিক্ষার্থীরা টেবিল টেনিস, ক্যারম, দাবা, কার্ড খেলার প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। মেয়েদের হলেও দাবা ক্যারম বা লুডুর মতো বিভিন্ন ইনডোর গেম চলে সময় কাটানোর ব্যবস্থা হিসেবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জয়া বলেন, ক্যাম্পাসের সবুজ গালিচায় বিকেলের আড্ডা আর সন্ধ্যায় শীতের পিঠা খেয়ে হলে ফেরার পর বান্ধবীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাই। অনেক সময় বিভিন্ন গেম খেলে কেটে যায় শীতের রাতের কিছুটা অংশ। অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই শীত মানে ফ্যাশন। রঙ-বেরঙের ড্রেস পরে সময় কাটানোর সুযোগ বছরের অন্য কোন ঋতুতে সম্ভব হয়ে ওঠে না। কেউ কেউ আবার ঘুরতে চলে যান একেবারে নেটওয়ার্কের বাইরে। শীতকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যাচমেটদের সঙ্গে নিয়ে দেশের নানা দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করেন। এর ফলে সুন্দর কিছু সময় কাটানোর পাশাপাশি হয়ে যায় নিজের দেশকে জানা ও দেখার কাজটি।
সব কিছুর পরও শাবিতে শীত আসে প্রকৃতির নিয়মে। ক্যাম্পাসে শীত মানেই আলস্য, দেরি করে ক্লাসে যাওয়া, বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খাওয়া আর রং-বেরঙের পোশাক পরে দলবেঁধে আড্ডাবাজি, বনভোজন আরও কত কি!
মাঈন উদ্দিন
এশিয়া ডিবেট একাডেমির যাত্রা শুরু
মহান বিজয় দিবসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করল এশিয়া ডিবেট একাডেমি। ওয়ার্ল্ড ডিবেট ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ক্যামব্রিয়ার এডুকেশন গ্রুপ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। একাডেমির পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইউনাইটেড গ্রুপ। দ্বিতীয় দিনের বিতর্ক প্রশিক্ষণসহ কর্মশালাগুলো ক্যমব্রিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ছাত্রছাত্রীদের সামনে বক্তব্য রাখেন ক্যমব্রিয়ান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার পিএমজেএফ, এশিয়া ডিবেট একাডেমির পরিচালক শরীফ উদ্দিন আহমেদ রানা, একাডেমিটির এ্যাডভাইজর সুমন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলফ্রেড স্নাইডার। তাঁর বক্তব্যে তিনি পুরোদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণগুলোতে বিশ্বমান বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন এর ফলে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ক্যামব্রিয়ান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার পিএমজএফ তাঁর বক্তব্যে অনেক চেষ্টা ও শ্রমের পর শেষ পর্যন্ত সফলভাবে এশিয়া ডিবেট একাডেমি যাত্রা শুরু করেছে বলে আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তরুণদের মাঝে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণের পথে। এশিয়া ডিবেট একাডেমির এ্যাডভাইজর সুমন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশ ও নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধিতে এই একাডেমি কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন আজকের তরুণদের আগামীতে দেশের নেতৃত্ব নিতে হবে, তাই তাদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগটি সফল হবে বলে আশা করেন। এশিয়া ডিবেট একাডেমির পরিচালক শরীফ উদ্দিন আহমেদ রানা তাঁর বক্তব্যে সকলকে ধন্যবাদ জানান ব্যস্ত উদ্বোধনী দিন কাটানোর পর সবার উপস্থিতির জন্য। তিনি বলেন, এখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ এবং অনভিজ্ঞ ছাত্র ছাত্রীরা একত্রিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এর মাধ্যমে তারা বাংলা ও ইংরেজী উভয় বিতর্কে এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।
সকাল ১০টায় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে প্রশিক্ষণগুলো শুরু হয়। স্কুলের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনভিজ্ঞ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইংরেজী পাবলিক স্পিকিং প্রশিক্ষণ, বাংলা পাবলিক স্পিকিং কর্মশালা, অভিজ্ঞ বিতার্কিকদের জন্য কর্মশালা এবং কমিউনিকেশন স্কিলের উন্নতির জন্য কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর পাবলিক স্পিকিংয়ের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টা থেকে। অনুশীলনগুলোতে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা বিতার্কিকরা। দিনের দ্বিতীয় ভাগে বিতার্কিকদের জন্য নির্দেশনামূলক একটি সেশন করা হয়। তারপরে বিতর্কের মোশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবং সর্বশেষে পাঁচ মিনিট স্পিচের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তারা সারাদিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও অনুশীলন মূলক বিতর্কগুলোতে অংশগ্রহণ করে। দিন শেষে তাদের অনুভূতি ছিল অসাধারণ। তারা আশা করছে এই পুরো সপ্তাহের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি তাদের ভবিষ্যত গঠনে ভূমিকা পালন করবে। এখানে আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলে বিতর্কের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব গুণ বিকশিত করাই তাদের লক্ষ্য আর এই কাজে এশিয়া ডিবেট একাডেমি সহযোগিতা অনেক সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।

নজরুল ইসলাম
এমবিএ ইন ফ্যাশন ডিজাইন
দেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাত নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এ খাতে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি এ ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে এমবিএ কোর্স চালু করেছে। এমবিএ হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী একটি আধুনিক শিক্ষা প্রোগ্রাম। যারা এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করতে পারে তাদের মেধা বিকাশের রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা।
এমবিএ শুধু প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারেই কেবল ভাল চাকরি পেতে সহায়তা করে না, এটা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সফল পরিচালনাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিতও করে। আসুন জেনে নেই এ বিষয়ে পড়াশোনার বিস্তারিত।
আবেদনের যোগ্যতা : এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রী/অনার্স সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/ জিপিএ ২.৫ থাকতে হবে। যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ফলাফল ভাল তারা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে।
কোর্সের মেয়াদ : সাধারণ ডিগ্রী অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যে পরিমাণ সময় ও অর্থ ব্যয় করে সেই তুলনায় প্রফেশনাল কোর্স এমবিএ ইন এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং করতে খরচ একটু বেশি হলেও সময় অনেক কম লাগে। ৬ মাসে ১ সেমিস্টার করে মোট ৪ সেমিস্টার ২ বছরেই কোস সমাপ্ত করা হয়।
সার্টিফিকেট : যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিতভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকবে এবং পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে তাদের সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
খরচ: এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী/অনার্স পরীক্ষার রেজাল্টের ভিত্তিতে স্কলারশিপ দিয়ে টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়।
ক্যারিয়ার : পোশাক শিল্পে উচ্চ আয়ের এবং যুগোপযোগী পেশা হচ্ছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, ফ্যাশন ডিজাইনার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার, প্রোডাক্ট ডেভেলপার, বিজনেজ ডেভেলপার, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ফোরকাস্টার, রিটেইল প্ল্যানারস, ফ্যাশন রাইটারস, স্টাইলিস্ট, প্রজেক্ট এনালাইজার, প্রডাকশন প্ল্যানার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার এবং মার্চেন্ডাইজার।
সম্মানী : বাংলাদেশে রয়েছে এসব ডিগ্রীপ্রাপ্তদের চাকরির বিশাল বাজার। সরকারের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত দেশী-বিদেশী টেক্সটাইল মিল, বিভিন্ন বায়িং অফিস, বুটিক হাউস, ফ্যাশন হাউস, গার্মেন্টস শিল্পে ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
স্কলারশিপ : এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের (মেধার) ভিত্তিতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে।
যোগাযোগ : ১৪৬, ওয়ারলেস গেট মহাখালী, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৩১১৬৩১৩, ০১৬৭৮৬৬৬৬২৩।
নাহিদ হাসান
মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) এর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্বাধীনতার বীর শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন বিইউপির ভাইস-চ্যান্সেলর মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ, পিএসসি। আরও উপস্থিত ছিলেন বিইউপির ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, ডিন, ফ্যাকাল্টি মেম্বারসহ সকল পদবীর কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

আর্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
গভীর ভাব-মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে আর্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টায় মহান বিজয় দিবসের কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও আর্ক পতাকা উত্তোলন করে যথাক্রমে একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী। এরপর উপস্থিত সকলেই জাতীয় পতাকাকে সালাম (স্যালুট) প্রদানের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করে। শপথ-বাণী পাঠের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান শেষ হয়। সকাল দশটায় শুরু হয় বিজয় দিবসের ওপর ছোটদের অঙ্কন ও বড়দের রচনা প্রতিযোগিতা। সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত হয় মহান বিজয় দিবসের সেমিনার। আর্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল কর্নেল (অব.) জি, র, মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মিয়া মোহাম্মদ আইয়ুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্ক গভর্নিং বডির সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও আর্কের ডাইরেক্টর ও শেয়ার এ্যান্ড কেয়ার গ্রুপের এমডি এ এম আবুল বাশার। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীগণ। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. আবু হেনা আবিদ জাফর। আর্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক এসএম মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করে আর্ক কালচারাল একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি
যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ইউনিভার্সিটির ছাত্র কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ক্যারাম, ভলিবল ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম আলী ফকির, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও পরিচালক, ছাত্র কল্যাণ নাহরিন চৌধুরী এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার সিদ্দিকুর রহমান এবং ইংরেজী বিভাগের সিনিয়র লেকচারার কাজী সাদাত হাসান।
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
রাবি ক্যাম্পাসে আড্ডা
দু’জন যোদ্ধার পরনেই প্যান্ট, মাথায় এলোমেলো চুল। মনে হ"েছ এখনই দেশ স্বাধীন করে ফিরল স্বদেশ ভূমিতে। একজন রাইফেল উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, বাঁ বাহু মুষ্টিবদ্ধ করে জাগানো। অন্যজন রাইফেল হাতে দৌড়ানোর জন্য যেন প্র¯'ত। মুক্তিযোদ্ধাদের পেছনে ৩৬ ফুট উঁচু দেয়াল। তার উপরের দিকে রয়েছে সূর্যের আকারে শূন্য ব"ত্ত। তাদের ডানদিকে রয়েছে দু’জন যুবক-যুবতী। যুবকের কাঁধে রাইফেল, মুখে কালো দাড়ি, কোমরে গামছা বাঁধা। মনে হ"েছ যেন বাউল।
পাশেই যুবতীর হাতে একতারা। গাছের নিচে মহিলা বাউলের ডান হাত আউলের বুকে বাম দিকের দেয়ালে রয়েছে মায়ের কোলে শিশু, দু’জন যুবতী একজনের হাতে পতাকা। পতাকার দিকে অবাক দ"ষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে গেঞ্জি পরা এক কিশোর।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক শিক-শিক্ষার্থী শহীদ হওয়ায় তাদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের দণি পাশে বিশালাকার মাঠজুড়ে তৈরি করা হয় শাবাশ বাংলাদেশ নামের স্মারক ভাস্কর্য। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে শিল্পী নিতুন কু-ুর কারু দক্ষতায় এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর কাজ শেষে হলে ফলক উন্মোচন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।
তার উপরে বসেই চলে বন্ধুদের নানা রঙের গল্প। চলে সামনের দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মিষ্টি আলাপচারিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল একদল স্বপ্নচারী শিক্ষার্থীর। তাদের দিকে এগোতেই তন্মণা মিষ্টি হেসে জানিয়ে দিলেন তার আড্ডার মজার কথা-নিজেকে নিয়ে বেশি চিন্তা করে না সে। ভাবে কিভাবে মা-বাবার কথা রাখা যায়। তার কথারে টিপ্পনি কেটে মিতু বলল, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় অনেক সময়। কাস, এসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল ও পরীক্ষা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে, মায়ের সঙ্গে অনেক সময় তিন দিনেও কথা বলা হয় না।
পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত রাসেল। আমি পড়ার ফাঁকে শুধুই হাসতে ভালবাসি। অযথা কারও সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করা ভাল লাগে না। তবে মজার সময় কাটে বন্ধুদের সঙ্গে। রাসেলের কথাগুলো উল্টো বলে হেসে উড়িয়ে দিলেন ফিরোজ। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই বাহারি অভিজ্ঞতা। মাঠে বল নিয়ে খেলা করা, পত্রিকার কক্ষে গিয়ে বিনোদনের পাতা পড়া, নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসা নিয়েও চিন্তা করেন ফিরোজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট টিম নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয় পাভেলকে। খেলা ছাড়া শরীর ভাল থাকে না বলেই খেলে যাই। এটা আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। মনের আঙ্গিনায় ভালবাসার পাখির নাম খেলা তার কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাস শেষ করে এভাবে অনেক জায়গায় বিচরণ করে তারা। তাদের কাজই হলো পড়ার ফাঁকে আড্ডা দেয়া।
কেউবা আবার প্রিয়জনের হাত ধরে চলে আসে সিনেটের আঙ্গিনায়। সামনে সবুজ গাছের সারি আর পাতার ফাঁক দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি রোদের ফোঁটায় চলে আনন্দের কথা। তাদের সময়ের যে পরিমাণ যে কম তা বোঝা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে বসে থাকা দেখে।
জাকির হোসেন তমাল