মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
বিজয়ের চেতনায়
শহিদুল ইসলাম
১৬ ডিসেম্বর আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দিনটি আসলেই আমাদের ভেতর উৎসাহ কাজ করে। আমরা উজ্জীবিত হই। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সাহায্য করে। কিন্তু কেন? কারণ এই দিনটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় বিজয়ের দিন। এইদিন বিশ্বের মানচিত্রে নতুন এক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। নাম তার বাংলাদেশ। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। আমাদের আত্মমর্যাদার-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু এই বিজয় দিবসটি কি আমরা সহজেই পেয়েছি? না, তা নয়। এই বিজয় দিবসের পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ হয় ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের মাধ্যমে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। এরই পটভূমিতে ১৯৭১ সালে বাঙালী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শুরু হয় এদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লাখ বাঙালীর জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় সূচিত হয়। ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা, অশ্রু বিসর্জনে পাওয়া এই স্বাধীনতা আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের। তাই তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে চলছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পতাকা। প্রতিবছর বিজয় দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে এবং বিশ্বকে বার বার মনে করিয়ে দেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, বীর শহীদদের কথা। এইদিনে আমরা অনুপ্রাণিত হই আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে। উদ্বুদ্ধ হই অগ্রগতির পথযাত্রায় এগিয়ে যেতে। একটি শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিজয় হলেও আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবতার আঘাতে আজ ছিন্নভিন্ন। দেশের গণতন্ত্র আজ সঙ্কটে। স্বাধীনতা পেলেও আমাদের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও আসেনি। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল তা আজ আর নেই। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিজয় দিবস আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বিজয় দিবস আমাদের মহাউৎসবের দিন। সারাদেশে এই দিনটি সাজে লাল-সবুজে। গাড়ির সামনে, দোকানে, রাস্তায়, অফিসে, স্কুল-কলেজ, এমনকি রিকশার সামনে শোভা পায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। গ্রামে- শহরে উৎসবের আমেজ লেগে যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নানা রকম গণমুখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সরকারী বাহিনীর লোকজন এইদিনে প্যারেড, কুচকাওয়াজের আয়োজন করে। এবং বিভিন্ন জায়গায় বিজয়ের মেলা বসানো হয়। এই উৎসবমুখর পরিবেশ এই দিনটিতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জায়গায় হয়ে থাকে।
বিজয় দিবস আমাদের আনন্দের দিন হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ’৭১-এর শহীদদের স্মৃতি, স্বজন হারানোর আর্তনাদ। মানুষের দীর্ঘশ্বাস। এটি শুধু আমাদের বিজয়ের দিন নয়। এটি আমাদের চেতনার জাগরণেরও দিন। তাই এই দিনে প্রতিটি বাঙালী নতুন করে দেশ গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোক। বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মর্যাদা লাভ করুক। আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসুক। এবং ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য নিয়ে সবাই এক সঙ্গে এই দেশে বসবাস করুক। এটাই হোক সবার কাম্য। এই বিজয়ের দিন থেকেই লেখাটা শেষ করছি দুটি লাইন দিয়ে
‘আমি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক
এর চেয়ে গর্বের আর কি হতে পারে!’
ছবি : ফারহান ফয়সাল
মডেল : ফারহানা মিলি ও অহনা
হেমন্তের বিদায় লগ্নে
প্রকৃতিতে পাতাঝরার দিন আসন্ন। হেমন্তের এই প্রহরে শীতের গুছিয়ে বসার তুমুল তোড়জোড়ের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে নিসর্গের ওপর। আর এ নৈসর্গিক রূপবদলের ছাপ দৈনন্দিন জীবনের পুরো চালচিত্রকে পাল্টে দেয়ার জন্যও নিচ্ছে বিপুল প্রস্তুতি। আবহমান বাংলার চিরায়ত ষড়ঋতু ম-িত বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির যে মায়াবী আবেশ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে নানাভাবে স্পর্শ করে যায়Ñসেই প্রাকৃতিক আবহের হাত ধরেই প্রতিদিনকার কাজকর্ম, চলাফেরায় আসে বাহুমাত্রিক ছন্দ। যদিও জীবনের এই ছন্দের গহনে রয়েছে এক অনন্তকালীন ধারাবাহিকতা। তারপরেও সেই ধারাবাহিকতাকে ছাপিয়ে জীবনের প্রতিটি স্পন্দনে বেজে ওঠে নতুন সুরের মূর্ছনা। বিশেষত বাঙালীর জীবনের এই রঙবেরঙের ঘূর্ণায়মাণ ঋতু বৈচিত্র্যের স্বাদ এক ভিন্ন আনন্দকে ছড়িয়ে দিয়ে যায়। আর এই স্বাদ শুধু জীবনযাপনে নয়, সবকিছুকেই ছুঁয়ে যায় নিবিড়ভাবে। বাংলার আদিগন্তে রয়েছে মন ভুলানো প্রকৃতির বর্ণিল ছোঁয়া। যে ছোঁয়া সবুজ-শ্যামল স্নিগ্ধ নিসর্গের অবগাহনে সিক্ত করে তোলে জীবনের প্রতিটি প্রহর। হেমন্তের নতুন ধানেরও বিমুগ্ধ ঘ্রাণের হাতে হাত রেখে উঠোনের সুগন্ধি কাঁঠালিচাঁপার গাছের ছায়ায় যখনি শীতের কিশোর এসে বকুল ফুলের মালা হাতে দাঁড়ায়। তখনও প্রকৃতির রূপটাও থাকে যেন সেই শীতের কিশোরের বুক পকেটে ভাঁজ করা রুমালের মতো। যখন হেমন্ত-শীতের আঁজলায় ফিকে রোদের ঝালর ফোটা বিকেলটাকে তুলে দেয়। তখনই শীতের কিশোর তার কুয়াশাডোবা ভাঁজ করা রুমালের ভাঁজ খুলে বিছিয়ে দেয় গ্রাম বাংলার ধু ধু মাঠ-আর নগর জীবনের ব্যস্ততম সময়ের রোজকার এক চিলতে অবসর জাগা ক্ষণে। চারদিকে শুরু হয় শীতকে বরণ করে নেয়ার এক মহান উৎসব। একদিকে ভাপা পুলিনকশি, চিতই, বিবি সাহেবসহ অভিজাত নানা পদের ফিটা এবং সুগন্ধি চালের পায়েস আর ক্ষীর। অন্যদিকে বদলে যায় জীবনের ধরন। পাল্টে যায় প্রতিটা মানুষের পোশাক-আশাক, রূপচর্চা, সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় সকল কিছু। কেননা শীতের হিমেল হাওয়া আর কনকনে অনুভূতি শহর, বন্দর, গ্রাম, গঞ্জ, বিল, ঝিল সর্বত্র ভিন্ন এক গভীর শীতার্ত উপলব্ধি চড়িয়ে দেয় স্বাভাবিক নিয়মে। খাওয়া, দাওয়া থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য বাড়তি তদারকিও বেড়ে যায় মায়েদের তরফ থেকে। একই সঙ্গে বয়সী মানুষও একটু সতর্ক হয়ে যায়। বিশেষ করে সবার মধ্যেই শুরু হয় উষ্ণ তার খোঁজ। শীত এমন এক ঋতু যে ঋতুর ভেতর একরত্তি উষ্ণতা যেন এক মহাসম্পদ আর দামী বস্তু হয়ে ওঠে। ফলে, শীতের পোশাকের জন্য শুরু হয় আকুলি বিকুলি, কাজুয়ালি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত পোশাকের জায়গায় স্থান করে নেয় শীতের পোশাক। হাফশার্ট, সিল্ক, সিøভলেস ড্রেসের জায়গায় চলে আসে। কোট, ব্লেজার, স্যূট, পুলওভার, জাম্পার, জ্যাকেট, মাফলার, কানটুপি, ফারকোট, শাল, চাদর, ফুলসিøভ শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, থ্রিপিস কার্ডিগান, কম্ফর্টার গলাবন্ধ, সুতির এক্সক্লুসিভ শাড়ি, গর্জিয়াস শাড়ি, তাঁতের শাড়িসহ নানা ডিজাইনের শীতের পোশাক। পাশাপাশি ধুলোধূসর বৃষ্টিহীন শীতকালজুড়ে পোশাকের রঙেও আসে বিবর্তণ। গাঢ় রঙটাই সাধারণত শীতে বেশ ফেভার করে সবাইকে। এদিকটা বিবেচায় নিয়ে ফ্যাশন ট্রেডেও চলে শীতের পোশাক তৈরির প্রস্তুতি। সব বয়সী মানুষের জন্যই আউটলেটের কালেকশনে আসে শীত উপযোগী নানা ধরনের পোশাক।
শীতে এই যে প্রকৃতির বদলে যাওয়া। এই বদল যাওয়ার ছবিটা দেশজুড়েই বিস্তৃত থাকে পুরো শীতকালজুড়ে কী গ্রাম, কী নগর বা শহর। সর্বত্রই উত্তরের ঠা-া হাওয়া বয়ে যেতে থাকে। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী। ভোরের শিশির ধোয়া পথের অদূরে গাজগাছালির ফাঁক গলিয়ে যখন কুয়াশাচ্ছন্ন মিষ্টি রোদের দেখা মিলে তখনও মনে হবে যেন এর চেয়ে প্রত্যাশিত আর কিছু নেই। নগরজীবনে শীত অনেকটা ঘরোয়া ঋতু হিসেবে চিত্রিত হলেও গ্রাম বাংলায় এর প্রভাবটা বিশেষভাবে অনুভূত হয়। গ্রামের মানুষের শীতের পোশাক সংগ্রহের বেলায়ও থাকে একটা দৈন্য। একটা কানটুপি, মাফলার কিংবা একটা সাধারণ চাদর যেমন অনেকের থাকে না। থাকে না শীত নিবারণেরও জন্য লেপ-তোষক, কম্বল তো দূরে থাক কখনও সখনও একটা ভাল কাঁথাও। এই হলো গ্রামীণ জীবনের স্পষ্ট ধারার চিত্র। এই চিত্রটাকে বদলে দিতে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। শীতের আনন্দ যেমন আছে তেমনি আছে কষ্টও। এই আনন্দ আর কষ্টের আপ টেনে করে এসেই যেন বাংলার শুষ্ক নদী, খাল, বিল, জলাশয়, ধূসর মাঠে মাঠে হলদে সর্ষের ক্ষেত্রে ধবল বকের মতো নামবে শীত। আর বদলে যাবে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। বাড়ির লনে সন্ধ্যায় আলো জ্বেলে শুরু হবে ব্যান্ডমিন্টন আর টেনিস খেলার সূচনা। পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জে পৌষমেলা থেকে শুরু করে যাত্রাপালা, নাটকসহ নানা ধরনের গ্রাম্য উৎসবে ছেয়ে যাবে সারা বাংলার মাঠ-প্রান্তর। বৃষ্টি-বাদলের ঝক্কি না থাকায় অনেকে আবার এই শীতেই বেরিয়ে পড়বে ভ্রমণে। কেউবা একা কেউবা সপরিবারে। নদী, বিল, জলাশয়ে দেখা মিলবে নানা প্রজাতির অতিথি পাখির। গ্রামে খেজুরের রস, আর খেজুরের গুড়ের ক্ষীরের ঘ্রাণ-সৃষ্টি করবে এক ভিন্ন প্রেক্ষিত ভিন্নমাত্রা। শীতের নিবিড় সান্নিধ্য উপভোগ করতে কেউবা দূর পাহাড় কিংবা সমুদ্রের কাছেও চলে যাবে। তারপর এক সময় ছুটি মিলবে শীতেরও। যে দু’মাস (পৌষ-মাঘ) থাকবে শীত এই দু’মাসের প্রতিটি প্রহরই এক নতুন সিম্ফনিতে গুঞ্জরিত হবে। প্রত্যেককেই দেখা যাবে ভিন্ন ভিন্ন পোশাক এবং অভিব্যক্তিতে। ফ্যাশন ধারাতেও থাকবে চমৎকার বৈচিত্র্য। যে বৈচিত্র্য নগর জীবনের শীতগিরিকে কিছুটা হলেও মানিয়ে নেবে। কাশ্মীরি শাল, সুয়েটারের ভাঁজে ভাঁজে উঁকি দেবে শীতের মহা উপস্থিতি। ধূসরাভ শীতের দিবসগুলো নতুন এক চিত্রগাথা প্রকৃতির ক্যানভাসে এঁকে দেবে শিশির স্নাত রৌদ্রের কোমল তুলিতে।
মডেল : মেহজাবিন
বিয়ের সাজ
মেরিনা চৌধুরী
সানাইয়ের সুর কানে ভেসে আসলেই মনের জানালায় ফুটে ওঠে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। উঁকি দেয় নানা উৎসবমুখর আয়োজনের স্মৃতি। নারী পুরুষের দুটি হৃদয়ের মেলবন্ধনের নামই বিয়ে। সূত্রপাত হয় নিবিড় এক সম্পর্কের। যে সম্পর্ক দিয়েই পাড়ি দিতে হয় জীবনের বাকি পথ। আস্থা আর নির্ভরতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায় সম্পর্ক। উৎসবপ্রিয় বাঙালী জাতি যে কোন উৎসব পেলেই যেন জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক হয়ে যায়। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে উৎসবকে সম্পন্ন করতেই যেন ব্যস্ত থাকে সবাই। এ ঐতিহ্য বাঙালীর হাজার বছরের। কিছু কিছু উৎসবের আবেশ যেন ছড়িয়ে যায় বহুদূর। রঙিন হয়ে ওঠে উৎসবের আকাশ। তেমনি এক উৎসব হচ্ছে বিয়ে। একেক জাতি কিংবা একেক ধর্মাবলম্বী একেক স্টাইলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে থাকলেও উৎসবের আমেজ যেন একই। আনুষ্ঠানিকতার ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেলেও উৎসবের ধরন একই রকম। বর-কনে নিয়ে মাতামাতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে সবাই। সবচেয়ে বেশি উৎসুক দৃষ্টি থাকে কনের সাজ নিয়ে। বিয়ের শাড়ি গয়নার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কনের সাজ কেমন হলো এ নিয়ে জল্পনা কল্পনার যেন শেষ নেই। একটা সময় ছিল যখন কনের সাজ বাড়িতেই সম্পন্ন হতো। কালের আবহে পাল্টে গেছে দিন, পাল্টে গেছে ক্ষণ। এখন ঘরে বসে কনের সাজের দিন আর নেই। অপরূপ কনের সাজ তুলে ধরতে সৃষ্টি হয়েছে বিউটি সেলুনের। যারা রীতিমতো গবেষণা করে কনেকে সাজিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, একেক অনুষ্ঠানের সাজ পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর একেক রকম হয়ে থাকে। অর্থাৎ গায়ে হলুদ, বিয়ে এবং বৌভাতের সাজ একেক স্টাইলের হয়ে থাকে। কোনটার সঙ্গে কোনটার মিল নেই। আর মিল থাকার কথাও নয়। সঙ্গত কারণেই তিনটি উৎসবের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন রকমের। মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। আর এ সচেতনতার প্রভাব পড়েছে বিয়ে-শাদিতে। যে কারণে এখন আকদ-এর মতো অনুষ্ঠানে কনে বিউটি সেলুনে এসে সেজে যায়। এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক।
আকদ-এর সাজ
দিন যতই গড়াচ্ছে মানুষ তত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এ ব্যস্ততা নিজের প্রতি যতœ নেয়ার অবসরটুকু দেয় না। যে কারণে বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে মেয়েরা ভিড় জমায় বিউটি পার্লারে। যার ফলশ্রুতিতে আকদ-এর সাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে পার্লারে। তবে আকদ-এর সাজ গায়ে হলুদ, বিয়ে কিংবা বৌভাতের তুলনায় হাল্কা হয়ে থাকে। সাজের সব উপকরণ ব্যবহৃত হলেও ভারি সাজের প্রভাব তাতে থাকে না। একটু খোলা চুল কিংবা কার্লি স্টাইলে রাখা হয় চুলের সাজ। শাড়ি এবং জুড়ির ওপর বেজ মেকআপ করা হয়ে থাকে। হাল্কা সাজের প্রতিবিম্ব দেখা যায় বিয়ের আসরে। অর্থাৎ আকদ-এর দেখে সবাই সবাই ধারণা করে নেয় বিয়ের সাজে কনেকে কেমন লাগবে।
হলুদের সাজ
হলুদের সাজে এক ধরনের ফ্লাওয়ারিশ ভাব লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ হলুদের প্রতিটি পদক্ষেপে ফুলের প্রাধান্য বিদ্যমান। এ কারণেই হলুদের সাজে ফুলের প্রভাব লক্ষণীয়। হলুদে কনেকে সাজানো হয় ফুলের গহনায়। আর ফুলের গহনা কি রঙের তার ওপর নির্ভর করে হলুদের সাজ। সেই সঙ্গে শাড়ির রঙ তো রয়েছেই। কেউ বাসন্তি কিংবা গাড়ো হলুদ রঙের শাড়ি কিংবা হালকা হলুদ রঙের শাড়ি পড়ে থাকে। যে কারণে রঙ অনুযায়ী সাজও ভিন্ন হয়ে থাকে। হলুদে চোখের সাজ বলতে একটু লাইনার কিংবা কাজল টেনে দেয়া। পাপড়িতে ফ্লাওয়ার বেজ হালকা শেড।
বিয়ে
প্রথাগত বিয়ের সাজের বাইরে এখন সাজানো হয় কনেকে। বিশেষ করে থিম বেজ সাজ। যেমন পিকক কিংবা ফেয়ারি সাজ। পিকক থিম বেজ বলতে স্টেজ থেকে শুরু করে বর কনের বসার জায়গা পর্যন্ত সবকিছুতেই থাকছে ময়ূরের সাজ। আর এর ওপর নির্ভর করেই সাজানো হয় কনেকে। শাড়ি গয়না এবং স্টেজ সবকিছুর বর্ণনা দেয়া থাকলে সাজটা হয় পারফেক্ট। সহজেই মানিয়ে যায় এবং দ্রুত দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। লুকটা হয়ে থাকে একদম ডিফারেন্ট। তবে এসব বিষয় না জানা থাকলে ট্রেডিশনাল মেকআপ অথবা শাড়ি গয়নার ওপর বেজ করে মেকআপ করা হয়ে থাকে। থিম বেজ ছাড়া কেউ কেউ বিয়েতে মডার্ন লুক ডিমান্ড করে। তখন সেভাবেই সাজানো হয় কনেকে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে কনের চাহিদার ওপর।
বৌভাত
বিয়ে-শাদির আনুষ্ঠানিকতায় সবচেয়ে সুন্দর সাজ হয়ে থাকে বৌভাতে। কারণ বৌভাতে শাড়ি কিংবা গয়নার রঙের কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না। যে কারণে সাজটাও হয় ডিফারেন্ট। এ পর্বে বর এবং কনে উভয়ই বেশ রিলাক্স মুডে থাকে। যে কারণে সাজের আবহটা বজায় থাকে। এ কারণেই পুরো অনুষ্ঠানেই এক ধরনের রিফ্রেশমেন্ট কাজ করে। বিয়ে এবং বৌভাতে চুলের সাজে বড় রকমের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। চোখের শেড এ ভারি কাজ বেশ মানিয়ে যায়।
বিশেষ টিপস
অনেকেই বিয়ের আগে মেনিকিউর পেডিকিউরসহ অন্য যেসব রূপচর্চা আছে তা একবারে সেরে নেয়। যদিও সময়ের অভাবে অনেকে তা করে থাকেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকে শুরু করলে। এতে বিয়ের সময় বেশ রিফ্রেশ লাগে। ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায় বহুগুণে। এছাড়া হেয়ার ট্রিটমেন্ট কিংবা ওয়াস্টিন বা লোমের ট্রিটমেন্ট আগে থেকে করিয়ে নিলে তাড়াহুড়ার মধ্যে পড়তে হয় না।
আমাদের দেশে বরের সাজের ব্যাপারে তেমন কেউ আগ্রহ প্রকাশ করে না। এটা ঠিক নয়। বরের জন্যও হালকা, প্রয়োজনভেদে ভারি মেকআপের প্রয়োজন রয়েছে। ভারি মেকআপ করা পরিপাটি কনের পাশে মেকআপ ছাড়া বরের ছবি যেন অনেকটাই ম্লান। যে কারণে বরের বেসিক মেকআপের প্রয়োজন রয়েছে। এখন অবশ্য বিয়ের আগে পাত্র নিজেই চলে আসে নিজেকে পরিপাটি করতে। এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক।
একটা বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত সবারই, সেটা হলো বিয়ের অনেকেই কারণে অকারণে কনেকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করে থাকে। দেখা গেছে ৩-৪ ঘণ্টা মেকআপের বড় একটা সময় ব্যয় হয় ফোন রিসিভ করা নিয়ে। আবার বিয়ের আসরে অনেকেই বিভিন্ন ইনফরমেশন দিয়ে টেনসে ফেলে দেয় কনেকে। যেটা কনেকে না দিলেও চলে। যেমন বর পক্ষের কোন মন্তব্য, কিংবা পারিবারিক ইস্যু যেটা গার্ডিয়ানরা সমাধা করতে পারে সেরকম কোন তথ্য কেউ কনের কানে দিয়ে তাকে ডিস্টার্ব করা হয়। যার প্রভাব পড়ে চেহারায়। বিয়ের মতো নির্মল এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে সতেজ থাকাটাই সবার কাম্য। সঠিক মেকআপই পারে সে সতেজতা অনেকখানি তুলে ধরতে।
ছবি : আরিফ আহমেদ
মডেল : ফয়সাল, জোহরা ও স্পর্শিয়া
মাদকাশক্তির প্রথম ধাপ কোমলপানীয়
ঈদ-পুজা-পার্বণ, বিয়ের অনুষ্ঠান, বন্ধুদের আড্ডাসহ যে কোন উৎসবে ঠাণ্ডা খাওয়ার নামে কোক, পেপসি, সেভেন-আপ না থাকলেই যেন নয়। তবে এর নানা কুফলও আছে
একটা সময় এমন হতো যে, কারোর সঙ্গে দেখা হলে। নতুন কোন মেহমান এলো, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলো তারপর বলতাম ভাই ওই কোম্পানির এক লিটার সফট ড্রিঙ্কস দেন। সিগারেট আর কোমলপানীয় একসঙ্গে খেতাম। তখন বুঝিনি যে এই কোমলপানীয় ভয়াবহতার কথা। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎই অফিসে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সহকর্মীদের সাহায্যে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আমার একটি কিডনি ফেইলিউর ধরা পড়ে তারপরই আমার মনে পড়ে সেই বিষসমেত প্রিয় কোমলপানীয়র কথা। বলছিলেন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত সোহেল আরমান।
সোহেল আরমানের মতো হাজারো তরুণ-তরুণী পরিবারের ছোট বড় অনেকেই কোমলপানীয়র আসক্তিতে নিমজ্জিত। অনেকে আবার সখের বসত তার দু’তিন বছরের সন্তানের মুখে তুলে দিচ্ছেন এই বিষসমেত সফট্ ড্রিঙ্কস বা কোমলপানীয়।
ঈদ-পুজো-পার্বণ, বিয়ের অনুষ্ঠান, বন্ধুদের আড্ডাসহ যে কোন উৎসবে ঠাণ্ডা খাওয়ার নামে কোক, পেপসি, সেভেন-আপ না থাকলেই যেন সাধামাটা। অনেকে আবার এক্ষেত্রে বাজি ধরাধরিও করে থাকেন। সর্বোচ্চসংখ্যক বোতল কোমলপানীয় খাওয়ার গৌরব আনন্দে উৎবেলিত হতে থাকেন। কিন্তু তিনি তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে একেবারেই বেখেয়াল।
সাধারণত কোমলপানীয় আঠালো রং এবং মিথিলাই মিডাজল যা প্রাণীদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। যেখানে ১৫ মাইক্রোগ্রাম মিথিলই মিডাজল প্রতিদিন গ্রহণে ক্যান্সারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যকৃতে বেশি পরিমাণ গ্লুকোজ জমা হয় যা শরীরকে অতিরিক্ত মেদবহুল করে ফেলে।
সফট ড্রিঙ্কসের পর এখন বাজার সয়লাব হয়ে গেছে নানা নামের এনার্জি ড্রিঙ্কসে। টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় তারকার পাওয়ার বা প্রিয় শিল্পীর জিঙ্গেল শুনে ছেলে বুড়ো নির্বিশেষে সবারই তা খেতে মন চায়। একটু কারণেই মনে হয় আচ্ছা নিজেকে একটু ঠা-া করি। আসলে ঠা-ার নামে যে ওই ব্যক্তি তার নিজের জীবনকে ঠা-া করার ব্যবস্থা করছেন। তা কিন্তু তিনি কিছুদিন পর টের পাবেন।
এনার্জি ড্রিঙ্কসের অনেক ক্ষতিকর কারণের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে সন্তান ধারণে জটিলতা। যেসব নারী বা পরুষ এনার্জি ড্রিঙ্কসে আসক্ত তাদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং গর্বপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া দুর্বল শিশু বা সময়ের আগেই বাচ্চা হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন বর্তমানের সামান্য আনন্দের জন্য কোমলপানীয় খাবেন নাকি সারা জীবন সুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকবেন। ওষুধ আর ডাক্তারের পেছনে টাকা না দিয়ে কোমলপানীয় বর্জন করুন প্রথমে।
নজরুল হোসেন
মডেল : মিমো
শিশুর বেড়ে ওঠায় বাবা-মার অবদান
শামিমা আক্তার রিমা
জন্মের পর ধীরে ধীরে মা এবং বাবা বাচ্চার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। সব না জানা প্রশ্নের উত্তর, সমস্যার সমাধান বা উৎসাহে ঘাটতি দেখা দিলে সন্তান ছুটে আসে মা-বাবার কাছেই। ফলে সন্তানকে সঠিকভাবে বড় করে তোলার জন্য প্রথমে তৈরি হতে হবে বড়দেরই। মা-বাবার মধ্যে পজিটিভ রোল মডেল খুঁজে পেলে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়বোধ গড়ে ওঠে সহজেই। এত অবধি তো শুনতে বেশ সহজই লাগল কিন্তু সন্তানের সামনে নিজেকে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আপনি কতটা কনফিডেন্ট এবং স্বচ্ছন্দ? সব সন্দেহ, দ্বিধা কাটাবার জন্য রইল কয়েকটি টিপস :
* শত ব্যস্ততার মধ্যেও বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন। বাচ্চারা বাবা-মায়ের গলার স্বর শুনলে আশ্বস্ত বোধ করে। বাড়িতে থাকার সময় রান্না করতে করতে বা টিভি দেখার সময় ওর সঙ্গে গল্প করুন। আপনি কী করছেন, কেন করছেন ওকে বুঝিয়ে বলুন। ও খুব ছোট হলেও ওর সাহায্য চান। কাজের শেষে বড়দের যেম করে ঞযধহশ ুড়ঁ, বলেন ওকেও সেভাবে কলুন। অফিসে কাজ করতে করতেও বাচ্চার সঙ্গে ৫ মিনিট গল্প করতে পারেন। শুধু পড়াশোনা, বা সেফটি সম্পর্কে ইন্সট্রাকশন না দিয়ে ওর স্কুল, টিচার বা বন্ধুদের নিয়ে একটু গল্প করুন। নিজের অফিসের কথাও বলুন। এইভাবে আপনি ওর মনের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবেন। ফলে আপনাকে বোঝা এবং আপনার ব্যবহার অনুসরণ করা ওর পক্ষে অনেক সহজ হবে।
* দাঁত মাজা, ব্যাগ গোছানো, জামা-কাপড় ভাঁজ করে রাখার মতো ছোট ছোট কাজ একসঙ্গে করুন। কাজগুলো একটু মজার করে তুললে বাচ্চাও উৎসাহ পাবে। মিউজিকের তালে তালে দু’বেলা দাঁত মাজা বা কে কত ভাল জামা ভাঁজ করার প্রতিযোগিতা শুরু করে দিল দেখবেন বাচ্চারা নিজেদের অপছন্দের কাজও হাসিমুখে করে ফেলছে। এইভাবেই বাচ্চার মধ্যে সুঅভ্যেস গড়ে তুলুন।
নিজের মন ও শরীরের যত্ন নিন। হেলদি ফুড খাওয়া এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটতে যাওয়া, বই পড়া, শিক্ষামূলক ব্যাপারে উৎসাহ দেখালে, বাচ্চাও আপনার দেখাদেখি এই সব ব্যাপারে কৌতূহলী হবে। বাইরে বেড়াতে গেলে চেষ্টা করুন সফট ড্রিঙ্কের বদলে ফ্রেশ ফ্রুট জুস খেতে। অবসরে টিভি না দেখে ওয়ার্ড মেকিং বা ম্যাথম্যাটিক পাজল সলভ করুন দু’জনে মিলে। ছুটির দিনে সবাই মিলে ছবির প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছোটদের নাটক বা সিনেমা দেখতে যেতে পারেন। এই ছোট ছোট আচরণের মধ্য দিয়েই ওর সুঅভ্যেস এবং সুন্দর রুচি গড়ে উঠবে।
* ছোট থেকেই সন্তানের একটা নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। কথায় কথায় ওর সমবয়সীদের সঙ্গে তুলনা না করে ওকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দিন। পড়াশোনা, খেলাধুলা, হবি সব ব্যাপারেই উৎসাহ দিন। কিন্তু খেয়াল রাখুন ও কোনটা সবচেয়ে বেশি এনজয় করে নিজের পুরনো ধ্যান ধারণা বদলে ফেলে সন্তানকে এর নিজস্বতা গড়ে তুলতে সাহায্য করাই সুস্থ পেরেন্টিংয়ের প্রথম ধাপ। জীবনের নানা জটিলতার কারণে কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল বড়দের পক্ষেও বুঝে ওঠা দুষ্কর। ছোটরা তো কোন ছাড় ডিসিশন মেকিংয়ের সময় দুর্বল ভ্যালু সিস্টেম সব সময়ই ছোটদের ভুল দিকেই ঠেলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই ভাল এবং মন্দের বোধ সন্তানের মধ্যে গেঁথে দিন। এর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি অবশ্য নিজেই নিজের শেখানো কথাগুলো মোটামুটি বজায় রাখা, নিজের সাধ্যের মধ্যে খরচ করা ইত্যাদি শিক্ষা আপনি মেনে চললে বাচ্চাও আপনার কথা শুনে চলতে দ্বিধা করবে না। পেরেন্টিংয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বাচ্চাকে সঠিক ডিসিপ্লিন শেখানো। তবে শাসন করা মানেই কিন্তু, শুধুমাত্র বকা বা মারা নয় বা ঠিক ভুল শেখানো নয়।
রাদিয়ার বয়স এখন সবেমাত্র ৫ বছর, তখন থেকেই ওর বাবা-মা ওকে নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল। আপনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা শুরু করেছে? মোটামুটি সব বাবা মায়েরাই এই প্রশ্নের উত্তরে নাই বলবেন আসলে বাচ্চাকে মেরে, বকে বা অন্য কোন রকম শাস্তি দিয়ে ভাল মন্দ শেখানো যায় না। বাচ্চার কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয় জানানোই যথেষ্ট নয়। বাচ্চাকে ডিসিপ্লিনড করতে হলে প্রথমে তার টেম্পারামেন্ট বুঝতে হবে। সব বাচ্চাকে একই উপায়ে শাসন করা যায় না। আর সব থেকে বড় কথা হলো আপনি যদি বাচ্চাকে শুধুই শাসন করতে যান, বাচ্চার কিন্তু আপনার প্রতি নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়ে যেতে পারে। শাসন নিশ্চয় করবেন তবে তার থেকেও জরুরী হলো বাচ্চাকে আদর করা। সে যেন কখনও মনে না করে যে, বাবা-মা তাকে ভালোবাসেন না। তবে মনে রাখবেন, কোন কিছু অতিরিক্ত ভাল নয়, না আদর, না শাসন। বাচ্চাকে ডিসিপ্লিনড করার মূল মন্ত্রই হলো আদর এবং শাসনের সঠিক ব্যালেন্স। বাচ্চার মধ্যে ভাল অভ্যেস গড়ে তোলার জন্য ডিসিপ্লিনড করে তোলার জন্য মৌখিক নির্দেশের থেকেও বেশি জরুরী বড়দের নিজেদের আচরণ। বাচ্চারা সাধারণত বাড়ির বড়দেন দেখেই কিছু শেখে। সে ক্ষেত্রে বাচ্চাদের কিছু শেখানোর আগে দেখে নিতে হবে যে- নিজেদের ব্যবহারে কোন পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কিনা। ছোট ছোট আচরণ যেমন সময়ের কাজ সময়ে করা, জামাকাপড় ছেড়ে ভাঁজ করে রাখা, ঘর থেকে বেরানোর আগে আলো, পাখা বন্ধ করা, খাবার নষ্ট না করা ইত্যাদি বাচ্চার সুঅভ্যেস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখানোর বা শাসন করার কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি হয় না। আপনাকে প্রথমে বাচ্চার সঙ্গ্ েবন্ধুর মতো মিশতে হবে। ওর সমস্ত কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। তবেই আপনি বাচ্চাকে পুরোপুরি বুঝতে পারবেন। আসর কথাটা হলো, বাচ্চাকে ভালমন্দ শেখানো। বাচ্চাকে তার দায়িত্ব বুঝতে দিন। অনেক সময় এরকম হয় যে, আপনি রেগে গিয়ে হয়ত বাচ্চাকে মেরে দেবেন বা নিজের ঘরে যেতে বলবেন। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, এতে বাচ্চার কি কোন উপকার হবে। পরিবর্তে আপনি যদি বাচ্চাকে আপনার কাজে সাহায্য করতে বলেন তা হলে বাচ্চার প্রতি মনোযোগ দেয়াও হবে আর আপনার কাজ করতেও সুবিধে হবে। বাচ্চাকে বাড়ির বিভিন্ন কাজকর্মে ইনভলব করুন। ওর মতামত নিন। এতে ও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে এবং আপনার কথা শুনতে আপত্তি করবে না। বাচ্চাকে শাসন করার সময় মোটিভেট করা খুব জরুরী। যেমন ধরুন আপনার বাচ্চা হোমওয়ার্ক করতে চাইছে না। আপনি হয়ত অনেক বুঝিয়েও ওর সঙ্গে পেরে উঠছেন না। না বকে আপনি বলতেই পারেন, যে হোমওয়ার্ক না করলে ও কার্টুন দেখতে পারবে না বা বাইরে খেলতে যেতে পারবে না। ওর কাছে এটা মোটিভেশনের মতো কাজ করবে। দেখবেন এতে প্রথম দিকে কাজ না হলেও পরে ও নিজেই হোমওয়ার্ক করার জন্যে আগ্রহ দেখাবে। বাচ্চাকে এই সময় উৎসাহ দিন। আপনি হোমাওয়ার্ক শুরু করতে সাহায্য করুন। মাঝে মধ্যে গিয়ে দেখুন বাচ্চার কোন অসুবিধে হচ্ছে কিনা। ও যা কাজ করছে তার প্রশংসা করুন। এইভাবে ওর নিজের কাজের প্রতি সচেতনতা গড়ে তুলুন। বাচ্চারা অনেক সময় এমন সব কথা বলে ফেলে, যা একদমই বলা উচিত নয়। আপনার খারাপ লাগা স্বাভাবিক কিন্তু এই সময় বকে কোও কাজ হবে না। শাসন করার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাচ্চার নেগেটিভ ব্যবহারকে উপেক্ষা করা। আপনি হয়ত ওর জন্য চকোলেট ওকে পুরোটাই দিতে হবে। আপনি অশান্তি এড়াতে হয়ত ওর জেদ মেনেও নেবেন। এতে কিন্তু আপনার বাচ্চারই ক্ষতি হবে। ও কোন দিনও কিছু শেয়ার করতে শিখবে না। বাচ্চা হয়ত চিৎকার করবে হাত-পা ছুড়বে, প্রবল কান্নাকাটি জুড়ে দেবে। একদম বিচলিত হবেন ন্ াআপনি যদি মনোযোগ দেন, তা হলে কিন্তু ও উৎসাহ পেয়ে যাবে। বাচ্চার দিকে না তাকিয়ে নিজের কাজকর্মে মন দিন। বাচ্চা যদি দেখে যে আপনি ওর ব্যবহারে কোনও তাপ-উত্তাপ দেখাচ্ছেন না, তা হলে নিজেই থেমে যাবে এবং পরবর্তীকালে এই রকম ব্যবহার করার আগে অন্তত ২ বার ভাববে। ঠিক তেমনই বাচ্চা যদি একেবারে আপনার কথা শুনে নেয়, কোন আপত্তি না করে, তাহলে পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট দিন। তার মানে এই নয় যে, আপনাকে বাচ্চাকে কোন উপহার দিতে হবে। ১০ মিনিট বেশি টিভি দেখার অনুমতি দিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন বাচ্চা কোন কিছুর লোভে পড়ে যেন আপনার কথা না শোনে। তা হলে কিন্তু এটা ওর অভ্যেসে পরিণত হয়ে যাবে। এরকম হলে বাচ্চা হয়ত ধরে নেবে যে, আপনি ওর কথা শোনার প্রয়োজন বোধ করেন না এবং ভবিষ্যতেও আপনার সঙ্গে কোন কথা শেয়ার করতে চাইবে না। মনে রাখুন, যে সমালোচনা কাউকে সাহায্যে করেন না। বাচ্চাকে কখনওই বাচ্চাদের সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে বাচ্চা অসহায় মনে করে নিজেকে। সেক্ষেত্রে কোন কাজই বাচ্চা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারবে না। বদলে বাচ্চার অ্যাচিভমেন্টকে স্বীকৃতি দিন। তাদের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করুন। নিদির্ষ্ট লিমিট সেট করুন তবে সে খানেই শেষ নয়। বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন। কেন এই নিয়মগুলো মানা প্রয়োজন। না হলে নিয়ম বানানোর কোন মানেই হয় না। বাচ্চাকে নিয়ম মানতে বাধ্য করবেন না । ওকে নিজেকে নিয়মের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে দিন। না হলে ও ভিতর থেকে নিয়মগুলো মানতে পারবে না আর বাচ্চার নিজের উন্নতির জন্য নিয়মগুরোকে আত্মস্থ করা খুব জরুরী। ডিসিপ্লিনের ধরন নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে চলবে না। বাবা যদি একরম ভাবে এবং মা যদি আরেকরকমভাবে শাসন করতে চান তা হলে বাচ্চা কনফিউশড হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ওর ওপর কোন ভাল প্রভাব পড়বে না।
ছবি : আজিম এলাহি, মডেল : পৃথা ও নাফি
বিয়েশাদির খাবার
কিছু রান্না-বান্না নিয়ে লিখেছেন কবিতা নাসরিন
কোফতা কারি


যা লাগবে : কিমা ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ টে. চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, লবণ ১.১/২ চা চামচ, পাঁউরুটি ৩ পিস, ধনিয়াপাতা কুচি ১/৪ কাপ, মরিচ কুচি ২ টে. চামচ, ডিম ১টি, ভাজার জন্য তেল ১ কাপ।
কারি তৈরি করতে যা লাগবে : তেল ১/২ কাপ, পিঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ, আদা বাটা ১ টে. চামচ, রসুন বাটা ১ টে. চামচ, জিরাগুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, দই ১/২ কাপ, কাঁচা মরিচ-লবণ প্রয়োজনমতো।
যেভাবে করবেন : পাঁউরুটি ভিজিয়ে চিপে নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে কিমার সঙ্গে ভালভাবে মাখাতে হবে। এখন ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে কোফতা বানিয়ে তেলে ভেজে নিতে হবে। তেলে কোফতা ভাজার সময় ৪টা করে ভাজবেন। এক সঙ্গে অনেক কোফতা তেলে ভাজতে গেলে খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সব কোফতা তেলে ভোজা হলে অন্য একটা পাত্রে তেল গরম করে কারি তৈরির সব মসলা দিয়ে কষাতে হবে। কষানোর সময় অবশ্যই অল্প অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। মসলা কষানো হলে সব কোফতা দিয়ে মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে। পরোটা অথবা পোলাওর সঙ্গে খেতে ভাল লাগবে।


কাশ্মীরি বিরিয়ানী

যা লাগবে : হাড় ছাড়া মাংসের টুকরা ৩ কাপ, চাল ৫ কাপ, মাঝারি সাইজের চিংড়ি মাছ ১ কাপ, গাজর টুকরা ১ কাপ, লবঙ্গ ৪টা, তেজপাতা ২টা, কেওড়া ২ টে: চা:, গোলাপজল ২ টে: চামচ, কাঁচামরিচ ৬-৮টা, গরম পানি ৮ কাপ, কাজু বাদাম (চিনাবাদাম) ৪ ভাগের ১ কাপ, গুঁড়া দুধ আধাকাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেস্তাবাদাম ৪ ভাগের ১ কাপ, তেল বা ঘি ১ থেকে দেড় কাপ, আদা বাটা ১ টে: চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ টে: চামচ, টক দই ১ কাপ, মটরশুঁটি, টমেটো সস, আলু ৪টা।
যেভাবে করবেন : মাংসের টুকরা ১চা চামচ আদাবাটা, আধা চা: চামচ রসুন বাটা, সিকি কাপ টক দই ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। চিংড়ির লেজ রেখে মাথা ও খোসা বাদ দিয়ে ২ টে: চামচ টমেটোর সসসহ অল্প পানিতে সেদ্ধ করে পানি শুকিয়ে নিতে হবে। সবজি লবণ দিয়ে অল্প সিদ্ধ করতে হবে।
চাল ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। ৪ টে: চা: ঘি গরম করে কিশমিশ ও কাজু বাদাম ভেজে নিতে হবে। আলু ১ কাপ ভেজে নিতে হবে। বাকি ঘি গরম করে পেঁয়াজ ভেজে কিছুটা তুলে রেখে সব বাটা মসলা কষিয়ে মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে চাল দিয়ে ভাজতে হবে। এ সময় গরম মসলা ও তেজপাতা দিতে হবে। দুধ দিয়ে চার-পাঁচ মিনিট ভেজে পানি দিতে হবে। এর পর লবণ ও আলু দিতে হবে। পানি কমে এলে দই, চিনি, টেস্টিং সল্ট দিয়ে মটরশুঁটি ও বাকি উপকরণ দিয়ে ২৫-৩০মি: দমে দিতে হবে। রাইস ডিশে ঢেলে পেঁয়াজ, কি:মি: কা: বাদাম পেস্তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।


মুরগির রোস্ট


যা লাগবে : একটি আস্ত মুরগি (আনুমানিক ৫০০ গ্রাম), মধু অল্প পরিমাণ, আধা কাপ সয়াবিন তেল। ম্যারিনেড
১ টেঃ চামচ হাইথিন সস্্ বা টমেটো সস্্, ১ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেঃ চামচ পেঁয়াজ কুচি, ১ টেঃ চামচ রসুন কুচি, ১ টেঃ চামচ আদাবাটা, ১ টেবিল চামচ কালো ভিনেগার।
যেভাবে করবেন : ১। মুরগি থেকে বাড়তি পানি ঝরিয়ে নিন। বুকের মাঝামাঝি কেটে ফ্ল্যাট করুন। ম্যারিনেডের মসলা ভালভাবে মিশিয়ে মুরগিতে ভালভাবে মাখান। মুরগির চামড়া হাল্কা কেটে নিন বা একেবারে চামড়া বাদ দিতে পারেন। ওপরে ভিনেগার এবং চিনি মাখিয়ে ১ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। তারপর ১ ঘণ্টা বাতাসে শুকিয়ে নিন। ২। মুরগিটা প্লেটে চিৎ করে সমানভাবে বিছিয়ে দিন, তারপর হাল্কা তেল মাখিয়ে দিন। এরপর তা ঝগড-৪৭০এ মডেলের ওভেনের স্ট্যান্ডটিতে রাখুন এবং স্ট্যান্ডের নিচে ১টি ওভেনপ্রুফ প্লেট রাখুন। ৩। ঈঙগইও প্যাডটিতে চাপ দিয়ে ঈথঐও সিলেক্ট করে ১১ থেকে ১৫ মিনিট রাঁধুন। অবশ্য মাঝামাঝি সময়ে মুরগিটা উল্টে দিতে হবে এবং আবার তেল মাখাতে হবে। ৪। এবার মুরগিতে হাল্কা করে মধু মাখান। আবার ঈথঙ সিলেক্ট করে ৫ থেকে ৮ মিনিট বেক করুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।


কাচ্চি বিরিয়ানী

যা লাগবে : খাসির মাংস-২ কেজি, বাসমতি চাল-১ কেজি, ঘি-দেড় কাপ, আলু ভাজা-আধা কেজি, পেয়াজ (বেরেস্তার জন্য)-২৫০ গ্রাম, আদা বাটা-২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা-২ চা চামচ, দারুচিনি গুঁড়ো-আদা চা চামচ, এলাচ গুঁড়ো-৬টি, লকদ গুঁড়ো-৪টি, জায়ফল গুঁড়ো-১টি, জয়ত্রী-গুঁড়ো ১ চিমটি, জিরা গুঁড়ো-১ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়ো-৬টি, টক দই-সোয়া কাপ, আলু বোখারা-৫টি, লবণ-পরিমাণ মতো।
যেভাবে করবেন : মাংস ধুয়ে লবণ মেখে ৩০ মিনিট রেখে আবার ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। পেয়াজ ঘিয়ে ভেজে তুলে ঠা-া করে মোটা গুঁড়ো করে রাখুন। আদা রসুন বাটার রস, পেয়াজ, গুঁড়ো মসলা মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে যে পাত্রে বিরিয়ানি রান্না করবেন সে পাত্রে রাখুন। এবার মাংসের সঙ্গে দই ভালভাবে মেশান। আলু একটু ভেজে মাংসের ওপর ছড়িয়ে তার ওপর ঘি ও আলু বোখারা দিন। চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে ৩ কাপ ফুটান লবণ পানিতে চাল সিদ্ধ করুন। চাল আধা সিদ্ধ হলে পানি একটি পাত্রে ঝরিয়ে রাখুন। চালের ফুটানো পানি থেকে ১ কাপ পানি ও বাকি ঘি মিশিয়ে মাংসে দিয়ে আধা ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এরপর মাংসের ওপর চাল ছড়িয়ে ফুটানো পানি দিন। পানি যেন চালের সমান হয়। চালের ওপরে যেন না উঠে। ঢাকনা দিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে রাখুন। চাল সিদ্ধ হলে তাওয়ার পর পাত্র বসিয়ে দমে রাখুন। কাচ্চি বিরিয়ানি আভেনে ৩৫০ক্ক ফা: তাপে ৩ ঘণ্টা বেক করতে পারেন।


শাহী রেজালা

যা লাগবে : মাংস-৫ কেজি, দই-১ কেজি, ঘি-১ কেজি, পেঁয়াজ-দেড় কেজি, এলাচ-৪টি, দারুচিনি-১ ইঞ্চি-১০টি, লবঙ্গ-৮টি, আদা বাটা-১ টেবিল চামচ, রসুন-১ চা চামচ, চিনি-স্বাদ মতো, পোস্তদানা-১ টেবিল চামচ, কিশমিশ-১ টেবিল চামচ, দুধ-১ লিটার আলুবোখারা-৫টি, কাঁচা মরিচ-১২৫ গ্রাম।
যেভাবে করবেন : মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে দই মাখিয়ে রাখুন। পেঁয়াজ দুটুকরো করুন। ঘিয়ে পেঁয়াজ ও গরম মসলা দিয়ে ভেজে আদা ও রসুন দিয়ে ভেজে মাংস দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন। মাংস সিদ্ধ হলে ঘিয়ের ওপর পড়লে পোস্তদানা বাটা, কিশমিশ এবং কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে দুধ আলু বোখারা দিয়ে দমে রাখুন।