মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
টিআইএন ছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়া যাবে না
০ শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা কোম্পানির মূলধন সংগ্রহে নীতিমালা জারি
০ শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে না
০ উদ্যোক্তাদের হাতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক
০ উদ্যোক্তাদের বাইরে শেয়ার ইস্যু করলেই প্রস্তাবনাপত্র প্রকাশ করতে হবে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা কোন কোম্পানির জন্য রাইট বা বোনাস বাদে যে কোন ধরনের শেয়ার ইসু্য করে মূলধন সংগ্রহের নীতিমালা জারি করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী কোন কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের ৰেত্রে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কোনভাবেই ১০০ এর বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বাইরে অন্য কারও কাছে শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীসহ প্রস্তাবনাপত্র (অফার ডকুমেন্ট) প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ছাড়া কোন বিনিয়োগকারী এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার বরাদ্দ নিতে পারবেন না। এই প্রক্রিয়ায় শেয়ার ইস্যুর পর কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের শেয়ার মোট মূলধনের ৩০ শতাংশের কম হতে পারবে না। মূলধন সংগ্রহের নামে প্লেসমেন্টে শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে পুঁজিবাজারে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে গতকাল রবিবার এসইসি এই নীতিমালা জারি করে।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২সিসি ধারার ৰমতাবলে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোন কোম্পানি উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের বাইরে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে উন্মুক্ত ঘোষণা দিতে হবে। এৰেত্রে শেয়ার বরাদ্দের জন্য যে কোন মার্চেন্ট ব্যাংককে ইসু্য ম্যানেজার নিয়োগ করে প্রসত্মাবনাপত্র (অফর ডকুমেন্ট) প্রকাশ করতে হবে। এৰেত্রে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) বিধিমালা, ২০০৬-এর নিয়ম অনুসরণ করে ইসু্য ব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পত্র (ডিউ ডিলিজেন্স) প্রদান করতে হবে। এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর ইসু্য ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র গ্রহণ করে শেয়ার বরাদ্দ করতে হবে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের আবেদনপত্রের সঙ্গে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) উলেস্নখ করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বরাদ্দের প্রসত্মাবনাপত্রে কোম্পানির ইতিহাস, শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের সামগ্রিক পরিচিতি, মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্য, প্রসত্মাবিত প্রকল্প বাসত্মবায়নের সময়সূচী, সর্বশেষ নিরীৰিত আর্থিক প্রতিবেদন, শেয়ারপ্রতি মৌলিক আয়, পূর্ববর্তী তিন বছরের ডাইলু্যটেড ইপিএস এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য উলেস্নখ থাকতে হবে। পাশাপাশি শেয়ারের অভিহিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ (প্রিমিয়াম) সংগ্রহ করতে চাইলে আইপিওর মতো তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় শেয়ার ইসু্যর পর ১৫ দিনের মধ্যে বরাদ্দপত্রের কপিসহ বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকা এসইসিতে পেশ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ করা সকল শেয়ার হসত্মানত্মর বা বিক্রির ৰেত্রে বরাদ্দপত্র ইসু্যর দিন থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা (লক-ইন) বলবত থাকবে। মূলধন সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কমপৰে তিন বছর পর্যনত্ম কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে নূ্যনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে।
উলেস্নখ্য, মূলধন সংগ্রহের (ক্যাপিটাল রেইজিং) নামে পেস্নসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য চলছে। কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই আগাম বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চালিয়েছে। এই সুযোগে পেস্নসমেন্টের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এসইসি এসব অনৈতিক কর্মকা- বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল ইসু্য) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি-৩ অনুযায়ী, কোন কোম্পানি বাংলাদেশে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ওই কোম্পানিকে অবশ্যই সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। কোম্পানির আবেদন যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক মনে করলে কমিশন ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত অনুমতি দিয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহ প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নামে পরিচিত।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত বছরের এপ্রিল মাসে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধানত্ম নিয়েছিল এসইসি। সেই সময় সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) বিধিমালা সংশোধন আইপিওর ৰেত্রে ১৫০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির জন্য প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট বন্ধ করা হয়।
জানা গেছে, কমিশন পুনর্গঠনের আগেই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই নীতিমালার খসড়া চূড়ানত্ম করা হয়। তবে এই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ করে যেতে পারেনি আগের কমিশন। পুনর্গঠনের পর বর্তমান কমিশন মূলধন সংগ্রহের নীতিমালা চূড়ানত্ম করার উদ্যোগ নেয়। এর আগে গৃহীত খসড়ার আলোকেই নীতিমালাটি চূড়ানত্ম করে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার এ সংক্রানত্ম প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এসইসি।
অভিহিত মূল্য পরিবর্তনে ছয় কোম্পানির ইজিএমের ঘোষণা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরও ছয়টি কোম্পানি তাদের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো_আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, তাল্লু স্পিনিং, বঙ্গজ, বিএসআরএম স্টিল, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ট্রাস্ট ব্যাংক। রবিবার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আনোয়ার গ্যালভানাইজিং জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট ৫০টি থেকে ১০০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ১৬ নবেম্বর বেলা সাড়ে ১০টায় বিসিআইসি মিলনায়তন, ৩০-৩১, দিলকুশা সি/এ, ঢাকা অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ২৫ অক্টোবর।
তালস্নু স্পিনিং জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট ১০টি থেকে ১০০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম ইজিএম ১৪ নবেম্বর বেলা সাড়ে ১০টায় মাল্টি পারপাস হল, ইনস্টিটিউট অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ১৬০/এ, কাকরাইল, ঢাকা অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ১৩ অক্টোবর।
বঙ্গজ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট পাঁচটি থেকে ১০০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম ইজিএম ১৪ নবেম্বর সকাল ১০টায় মাল্টি পারপাস হল, ইনস্টিটিউট অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ১৬০/এ, কাকরাইল, ঢাকা অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ১৩ অক্টোবর।
বিএসআরএম স্টিল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট ৫০টি থেকে ১০০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম ইজিএম ১৪ নবেম্বর বেলা ১১টায় সরণিকা কমিউনিটি সেন্টার, ১৩ লাভ লেন, চট্টগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ১২ অক্টোবর।
ডেল্টা লাইফ ইন্সু্যরেন্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট ৫টি থেকে ৫০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম ইজিএম ১৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ২৩ অক্টোবর।
ট্রাস্ট ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় এবং মার্কেট লট ৫০টি থেকে ১০০টিতে পরিবর্তনের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম ইজিএম ১৯ নবেম্বর সকাল ১০টায়, ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ১২ অক্টোবর।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি ও মিউচু্যয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গত বৃহস্পতিবার এসইসির ওয়েবসাইটে এ সংক্রানত্ম একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও কমেছে সূচক
ডিএসইতে বাড়লেও সিএসইতে কমেছে লেনদেন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারা অব্যাহত রেখে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে রবিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরে নিম্নগতির প্রভাবে দিন শেষে সামান্য কমেছে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের সূচক। আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কিছুটা বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) কমেছে আর্থিক লেনদেন।
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসইসির পৰ থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অতিরিক্ত ঋণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় এক বছর বৃদ্ধি করেছে। এ দুটি পদৰেপের প্রভাবে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ অনেকটা কমে গেছে। এর বিপরীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তারা নিজ নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনে বাজারকে সাপোর্ট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মূল্য ঘোষণা করে উদ্যোক্তাদের শেয়ার কেনার সুযোগ দিতে ইতোমধ্যেই ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোন উদ্যোক্তা বাজার থেকে শেয়ার কিনলে যখন তখন বিক্রি করতে পারবেন না। এ বিষয়ে এসইসি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলে শীঘ্রই বড় মূলধনের ১৫ থেকে ২০টি কোম্পানির উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য মূল্য ঘোষণা করবেন। এতে ওই কোম্পানির শেয়ারের দর ঘোষিত মূল্যের নিচে নামার আশঙ্কা বন্ধ হবে_ যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেস্নষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের ৰেত্রে কিছু বিধান শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তরের লৰ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এছাড়া লেনদেনের সময় কমিয়ে আনা, সিডিবিএলের চার্জ কমানো, জীবন বীমা কোম্পানির অর্থ বিনিয়োগসহ বেশকিছু বিষয়ে ইতিবাচক পদৰেপের ঘোষণা দিয়েছে এসইসি। বাজারে জন্য আরেকটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলো_ আটকে পড়া মার্জিন ঋণ সংক্রানত্ম সঙ্কট সমাধানে বেসরকারী খাতের প্রচেষ্টা। গত বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআইয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক থেকে এ বিষয়ে একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পরিচালনায় একটি মেয়াদহীন মিউচু্যয়াল ফান্ড গঠন করে মার্জিন ঋণের দায় গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টাটি সফল হলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা বাজারে লেনদেনের উপযোগী হবে। আবার প্রসত্মাবিত মিউচু্যয়াল ফান্ডে বিপুল পরিমাণ শেয়ার জমা হলে বাজারে বিক্রির চাপও অনেক কমে যাবে।
সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন পৰ থেকে নেয়া উদ্যোগগুলোর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। এ কারণেই গত সপ্তাহে বাজারে একটি ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই সূচক বৃদ্ধি পায়। শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও কিছুটা গতি সৃষ্টি হয়।
বিশেস্নষকদের মতে, বিভিন্ন পৰ থেকে নানামুখী পদৰেপ গ্রহণ করা হলেও এর অধিকাংশই প্রস্তুতি পর্যায়ে থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখনও পুরোপুরি আস্থাশীল হয়ে ওঠেনি। এ কারণে কোন শেয়ারের দর সামান্য বাড়লেই তাদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা শুরু হয়। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। সূচকেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হলে এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান অর্থনীতিবিদরা
ব্যাংকগুলোর তদারকিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা নিয়ে সিপিডির আশঙ্কা
আতিকুর রহমান ॥ ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল স্রোতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবীদরা। অন্যদিকে এই মুহূর্তে দেশে নতুন কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই বলেও মতামত রয়েছে অনেক অর্থনীতিবিদের। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়েই প্রায় এক যুগ পর এগিয়ে চলছে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার এই প্রক্রিয়া। গত শনিবার বেসরকারী খাতে নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ নবেম্বরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাবরে ১০ লাখ টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট জমা দেয়ার পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের বিষয়ে একটি নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, 'দেশের অর্থনীতির পরিধি দিন দিন বাড়ছে। তাই আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। সর্বস্তরের মানুষের সঞ্চিত সম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করতেই দেশে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠারও দরকার আছে।'
সিপিডির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, অর্থনীতির আকারে নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন থাকলেও এর প্রক্রিয়াটা নিয়মমাফিক হয়নি।
মোসত্মাফিজুর রহমান আরও বলেন, দেশে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সুপারভিশন করতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ওপর নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ৰেত্রে আরোপিত শর্তগুলো সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কিনা! বাংলাদেশ ব্যাংকের পৰে এই বিষয়গুলো মনিটরিং করার মতো সৰমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিপিডির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকোনমিঙ্রে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুব আলী জনকণ্ঠকে বলেন, 'প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মনোপলি প্রবণতা থেকে বের হতে এবং ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লৰ্যে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা একটা সময়োপযোগী পদৰেপ। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষকের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পেঁৗছে দেয়ার স্বার্থেই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দরকার।'
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় নতুন ব্যাংক স্থাপনে আরোপিত শর্তগুলো নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী ভূমিকা থাকতে হবে। অন্যথায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে দেশের প্রানত্মিক জনগোষ্ঠী।
মূলত এ লৰ্যেই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হচ্ছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্বনর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রানত্মিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতেই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলের ওইসব দরিদ্র লোকদের সঞ্চিত সম্পদ অর্থনীতির মূল ধারায় যোগ করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন গবর্নর।
দেশের প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে কর্মরতরা বলেন, ডিপোজিট সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে প্রচুর চাপ রয়েছে। ডিপোজিটের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে। তারল্য সঙ্কটের এই পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক খোলার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তাঁরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জা এবিএম আজিজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, এই মুহূর্তে দেশে নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। অর্থনীতির আকার ছোট হওয়াতে এর প্রভাবে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সুদের হার আরও বাড়বে। কারণ, ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকার তাকিদেই এমনটা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ আলী আহমদ বলেন, 'এই মুহূর্তে দেশে নতুন ব্যাংকের দরকার না থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তগুলোর যথাযথ বাসত্মবায়ন সম্ভব হলে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই শর্ত পালনে নতুন ব্যাংকগুলোকে কতটা বাধ্য করতে পারবে- তার ওপরই নির্ভর করছে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সফলতা।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুফল নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও বাসত্মবায়নের ওপর। দরিদ্রদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে নতুন ওই ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে কোথায় শাখা স্থাপন করবে। এখানে গ্রামের সংজ্ঞা পরিষ্কার করা দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা না মানলে ব্যাংকগুলোর জন্য শাসত্মির বিধান কী! এগুলো পরিষ্কার করে নতুন ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে বাধ্য করতে পারলেই দরিদ্ররা এর সুফল পাবে।
বিশেস্নষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে এখন আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিনিময় ব্যবস্থা থেকে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। এক সময়ের ৫০ ডলারের মাথাপিছু আয় এখন দাঁড়িয়েছে ৮৮০ ডলারে। মোট জাতীয় আয়ে বহির্বাণিজ্যের অংশ ১০-১২ থেকে এখন ৪৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কয়েক মিলিয়ন (স্বাধীনতা-উত্তর) ডলারের রফতানি থেকে এখন রফতানি আয় ২৩ বিলিয়ন ডলার, আমদানি ৩৩ বিলিয়ন ডলার। জনসংখ্যার সঙ্গে পালস্না দিয়ে বাড়ছে দেশের অর্থনীতি আকার। তাই এক যুগ পরে দেশে দু'চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকে কল্যাণমুখীই মনে করছেন তাঁরা।
তবে, তাদের পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন কার্যক্রম নিয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং সক্ষমতা ও সর্বোপরি কার্যকর প্রতিযোগিতার ওপরই নির্ভর করে জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রভাব।
চলতি বছরে বাংলাদেশকে ১৮ কোটি ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি বছর বাংলাদেশকে ১৮ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সহায়তার এ পরিমাণ গত বছরের তুলনায় দুই কোটি ডলার বেশি। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কৰে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নিকোলাস ডিন ও ইউএসএআইডি বাংলাদেশ মিশনের পরিচালক রিচার্ড গ্রিন সহায়তা দেবার এ ঘোষণা দেন। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশারাফ হোসাইন ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লৰ্যমাত্রা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ পরিমাণ অর্থ দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ তহবিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রধানত ৫টি উন্নয়ন কর্মসূচীতে প্রদান করবে। এগুলো হলো, গণতন্ত্র, সুশাসন, খাদ্য নিরাপত্তা, জনসংখ্যা, পুষ্টি ও শিৰা, স্বাস্থ্য, মানবিক ও খাদ্য সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ।
নিকোলাস ডিন বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। তিনি জানান, গণতন্ত্র ও সুশাসন ৰেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তা করবে। এটি ব্যবহৃত হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে, মানবাধিকার প্রসারে এবং একটি সহিঞ্চুতার সাংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমর্থন যোগাবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারে গেস্নাবাল হেলথ ইনিসিয়েটিভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য খাতে আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে ইউএসএআইডির মাধ্যমে। এছাড়া মৌলিক শিক্ষার উন্নয়নে ৪০ লাখ ডলার প্রদান করবে।
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সঞ্চালন, আয় বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুর পুষ্টির মান বৃদ্ধিতে প্রদান করা হবে সাড়ে ৪ কোটি ডলার।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রৰায় গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে জনগণকে মানিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী এবং জীববৈচিত্র রৰায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রদান করা হবে।
এছাড়া খাদ্যদ্রব্যের সহজলভ্যতা উন্নয়ন, দরিদ্র জনগণের ক্রয়ৰমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি এবং অতিদরিদ্র জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রদানের ৰেত্রে প্রদান করা হবে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে ৫৮০ কোটি ডলারের অধিক সহায়তা প্রদান করেছে।
পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ বাতিল দাবিতে ব্যবসায়ীরা রাজপথে
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ওপর পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ আরোপের প্রতিবাদে রবিবার পুরনো ঢাকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মালিক এবং ব্যবসায়ীরা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সরকার সম্প্রতি ৫০ কিলোওয়াটের নিচে বিদু্যত ব্যবহারকারী ৰুদ্র ও কুটির শিল্পের ওপর বিভিন্ন রেঞ্জে পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ আরোপ করেছে। এ লৰ্যে ৰুদ্র শিল্পগুলোতে পাওয়ার ফ্যাক্টর শুদ্ধকরণ সরঞ্জাম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিদ্যুত বিল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পস্নাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নেতৃত্বদানকারী বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এই বিৰোভ প্রদর্শন করা হয়। লালবাগ এলাকার ৰদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা ইসলামবাগ ঈদগাঁহ মাঠে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি পুরনো ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি পেরিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। লালবাগ এলাকার বিভিন্ন এ্যাসোসিয়েশন ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন। সমাবেশে বক্তারা লালবাগ এলাকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ওপর থেকে অনতিবিলম্বে পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
উলেস্নখ্য, সরকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ওপর পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ডিপিডিসির তরফ থেকে বিগত ৩০ জুনের মধ্যে পাওয়ার ফ্যাক্টর শুদ্ধকরণ সরাঞ্জম স্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, পাওয়ার ফ্যাক্টর শুদ্ধকরণ সরঞ্জাম স্থাপন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন (প্রায় ১ লাখ টাকা)। ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা এ বিষয়ে তেমন অবগত নয় এবং তাদের পক্ষে এত টাকা খরচ করে উক্ত সরঞ্জাম স্থাপন করাও সম্ভব নয়।
তাঁরা বলেন, বিদ্যুত সংযোগ নেয়ার সময় এ ধরনের কোন শর্ত তখন ছিল না। তাই বিদ্যমান সংযোগে শুদ্ধকরণ সরঞ্জাম স্থাপনের আদেশও অযৌক্তিক। যারা ইতোমধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানে পিএফআই পস্নান্ট স্থাপন করেছেন সেসব মেশিন ঠিকমতো কাজ করছে না। অথচ ডিপিডিসি কর্মকর্তারা মূল বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত অস্বাভাবিক পিএফসি আরোপ করছে। এই বিল পরিশোধ করা ক্ষুদ্র মালিকদের পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এ ধরনের চার্জ আরোপ করায় দেশের ক্ষদ্র ও কুটির শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। অনেকে কর্ম সংস্থান হারাবে। মালিকরা পথে বসতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ ক্ষুদ্র শিল্প খাতের জন্য বিদ্যমান সংযোগে পি এফ সি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যনত্ম কোন শিল্প মালিক বা ব্যবসায়ী বিদু্যত বিল পরিশোধ করবেন না।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিএফআই প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল, বেলায়েত হোসেন মিলন, হাজী মোঃ খোরশেদ আলম, বিপিজিএমইএ'র কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব খাজা আকরাম উলস্নাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সদস্য মোঃ শাহজাহান, বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শাহীন আহমেদ, পস্নাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাহী সদস্য হাজী আলী আহমেদ, বিবিধ মালিক সমিতির সভাপতি জনাব মোঃ ইসলাম, পিভিসি পাইপ সমিতির সহসভাপতি সুলতান আহমেদ, পিএফআই প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জনাব হারম্নন অর রশীদ, বাংলাদেশ পস্নাস্টিক প্যাকেজিং রোল ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা অংশগ্রহণ করেন।
নির্দেশিত সীমার মধ্যেই রয়েছে রূপালী ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত সীমার মধ্যেই রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানত হার (সিডিআর)। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের নিট ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশ। একই সঙ্গে সিডিআর রয়েছে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (এসসিবি মনিটরিং সেল) পথকে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবিরের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যস্থাপক কে এম গাওছুজ্জামান স্বাৰরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানতের হার নির্দেশিত মাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, এমওইউ শর্ত অনুযায়ী রূপালী ব্যাংকের বর্তমান ঋণের প্রবৃদ্ধির হার রয়েছে ১৩ শতাংশ। একইভাবে ঋণ ও আমানত হার (সিডিআর) ৭৮.৭৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, ব্যাংকটি নিট ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ সংরৰণের শর্তারোপ করা হয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী কনভেনশনাল ব্যাংকের ৰেত্রে সিডিআর ৮৫ এবং নন কনভেনশনাল ৯০ শতাংশ সিডিআর নির্ধারণ করেছে। আর সে হিসেবে রূপালী ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানতের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমওইউ শর্তের মধ্যেই রয়েছে। তবে ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আমানত প্রবৃদ্ধি বাড়াতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটি।
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির জনকণ্ঠকে বলেন, 'রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে। তবে রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ রূপালী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। ওই সময় ব্যাংকের কোন বিনিয়োগ হয়নি। কিন্তু বর্তমানে আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ব্যাংকের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি।'
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শেখ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, 'রূপালী ব্যাংকের ইতিহাস ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হচ্ছে। অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ, দৰ ব্যবস্থাপনা ও উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ফলে এ ব্যাংকটি তার লোকসানী শাখা কমিয়ে এনেছে। খেলাপী ঋণের পরিমাণ অনেক কমিয়ে এনেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ে সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এটা একানত্মই কৌশলগত ব্যাপার। আমরা আশা করছি দ্রম্নত এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।'
শেখ আহমেদ আরও বলেন, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় রূপালী ব্যাংক অনেক ভাল অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ই-ব্যাংকিং-এর জগতে প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে আমরা এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) সার্ভিস চালু করেছি। আগামী ৫ বছরে রূপালী ব্যাংক উদীয়মান পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্বের বৃহত্তম সুগার রিফাইনারি পস্ন্যান্ট এখন বাংলাদেশে
চিনির বাড়তি চাহিদা পূরণের লৰ্যে সিটি গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান 'সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড' এবার দেশের মাটিতেই স্থাপন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সুগার-রিফাইনারি পস্ন্যান্ট। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের 'তীর চিনি' দেশের প্রথম সারির একটি সুপারব্র্যান্ড এবং কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত পস্ন্যান্ট থেকে এখন দৈনিক ৫ হাজার মেট্রিক টন সুপরিশোধিত চিনি উৎপাদন করা যাবে।
বর্তমানে ২২টি শিল্প ইউনিটের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিটি গ্রম্নপ দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান। সিটি গ্রুপের বিভিন্ন ইউনিটে উৎপাদিত হচ্ছে সয়াবিন তেল, সুপার পাম ওলিন, ক্যানোলা তেল, সরিষার তেল, বনস্পতি, সয়ামিল, রেপসীড কেক, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি, পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার, পোল্ট্রি ফিড, ফিস ফিড ও ক্যাটেল ফিড। এ সব পণ্যেল মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জনসাধারণের চাহিদা নিরনত্মর মিটিয়ে চলেছে। কঠোর পরিশ্রম ও মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সকল পণ্য ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে। উলেস্নখ্য, ১৯৭২ সালে সিটি গ্রুপের যাত্রা শুরু।
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, "বিষয়টি শুধু আমাদের নয়, দেশের জন্যও গর্বের। ঐতিহাসিক এ উদ্যোগটির বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সরকার, সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক, আমাদের বৃহত্তর ভোক্তা ও গ্রাহকশ্রেণী এবং সর্বোপরি মহান আলস্নাহতালার কাছে আমরা জীষণভাবে কৃতজ্ঞ।" উলেস্নখ্য, নারায়ণগঞ্জের রূপসী শিল্প এলাকায় স্থাপিত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এই সুগার রিফাইনারি পস্ন্যান্ট। _বিজ্ঞপ্তি

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের এবার ৩শ' কোটি টাকার টমেটো বাণিজ্য হারানোর আশঙ্কা
ডি এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আবহাওয়ার বৈরীরূপ, অতিবৃষ্টি, বীজ ও সার সঙ্কটের কারণে এবার বরেন্দ্র অঞ্চলে শীতকালীন টমেটোর আবাদ অর্ধেকে নেমে আসবে। লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারবে না। একই সঙ্গে কৃষকরা বঞ্চিত হবে প্রায় ৩শ' কোটি টাকার টমেটো বাণিজ্য হতে। বেকার হয়ে পড়বে বহু টমেটো শ্রমিক। এবার টমেটো আবাদের টার্গেট ছিল ১৪ হাজার হেক্টর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলসহ সদর উপজেলা ও সংলগ্ন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে এবার মৌসুম শুরম্নর আগেই শীতকালীন টমেটো আবাদ নিয়ে কৃষকরা মহাবিপর্যয় ও সঙ্কটের মুখে পড়েছে। শীত মৌসুমে দেশের সিংহভাগ, চাহিদা পূরণ ও বাজার দখল করে রাখে এই অঞ্চলের উৎপাদিত টমেটো। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটা ও রাজশাহীর আংশিক বরেন্দ্র অঞ্চলের টমেটো এই অঞ্চলের দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল বলে পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মাত্র কয়েক মাসে এই অঞ্চলের উৎপাদিত টমেটো থেকে প্রায় সাড়ে ছয় শ' কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। গত এক যুগ ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকলেও এবার এই ধারায় বড় ধরনের ধস নামবে। পুরো মৌসুমে কয়েক হাজার কৃষি শ্রমিক টমেটো আবাদ ও বাজারজাত কাজে নিয়োজিত থাকে। প্রথম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে মানসম্পন্ন বীজের অভাব ও চাহিদা নিয়ে। ১৫ হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করে বীজতলার কাজ শুরম্ন করতে গিয়েই প্রথম হোঁচট খেয়েছে টমেটো চাষীরা। মিলছে না বীজ। নায়ক, অসীম, বঙ্গবীর, লাভলি, মিন্টু, ভাগ্য, শুকলাসহ বিভিন্ন নাম ও জাতের হাইব্রিড এফ-১ টমেটো বীজের অভাব ও আকাল এলাকাজুড়ে।
প্রায় এক যুগের অধিক সময় ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের টমেটো বীজের বাজার দখলে রেখেছিল সিনজেন্টার সবল এফ-১ বীজ। গত বছর ২০১০ সালে সিনজেনটার সবল এফ-১ বীজ আবাদ করে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কৃষকরা আন্দোলনে নেমে কোম্পানির নামে ক্ষতিপূরনের মামলা করে। অভিযোগ সিনজেন্টা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করেছিল। সিনজেনটা আই অভিযোগ অস্বীকার করে সেবার বলেছিল, একাধিক কোম্পানি তাদের বীজ চালাতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসায় প্রতিশোধ নিতে এই অঞ্চলে তাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ও নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করে। সিনজেনটা কোম্পানির প্রতিপক্ষরা এই ষড়যন্ত্রে সফল হয়ে কৃষকদের ক্ষেপিয়ে তোলে সিনজেনটার বিরুদ্ধে। ফলে এ বছর সিনজেনটা আবারও কৃষকদের প্রতিপক্ষ হবার সুযোগ না দিয়ে আগাম ঘোষণা দিয়েছে তারা এবার এই অঞ্চলে টমেটোর বীজ সরবরাহ করবে না। কৃষকদের বীজের বিশাল চাহিদা সিনজেনটা প্রতিবছর পূরণ করে এসেছে। এবার সিনজেনটা এই অঞ্চলে তাদের টমেটো বীজ সরবরাহ করবে না ঘোষণা আসায় বহু অখ্যাত কোম্পানি নিম্নমানের বীজ নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে নেমে পড়েছে। এমনকি সিনজেনটার নামে ভুয়া টমেটো বীজের বাণিজ্য করতে নেমে পড়েছে কিছু নাম সর্বস্ব ভুয়া কোম্পানি। এ সব টানাপোড়নের মধ্যে বীজের মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রতি ২০ গ্রাম বীজের মূল্য এক হাজার টাকা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন জাতের টমেটোর বীজ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
সংক্ষিপ্ত বাণিজ্য সংবাদ
পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্রামীণ উন্নয়নে ৪০১ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পার্বত্য জেলার মানুষদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ৪০১ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। সেকেন্ড চিটাগাং হিলট্যাক্স রুরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এ ঋণ গ্রহণ করছে সরকার। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইআরডি সম্মেলন কৰে বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পৰে স্বাৰর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পৰে কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. থেবা কুমার কান্দিয়াহ।
চুক্তি স্বাৰর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গৃহীত এ ঋণের ওপর এডিবিকে গ্রেস পিরিয়ডে ১ শতাংশ হারে এবং পরবর্তীতে শতকরা ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে হবে। এছাড়া ৮ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩২ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
পুরো প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের জন্য মোট ব্যয় হবে ৫০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির অর্থ ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে ১০৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং এলজিইডি।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও দৰতা বৃদ্ধি অংশে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ, এলজিইডি এবং সংশিস্নষ্ট এনজিওসমূহের সৰমতা বৃদ্ধি ও প্রশিৰণ কাজ।
গ্রামীণ রাসত্মাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন অংশে, ১০৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৬১ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৩ হাজার ৮৮৪ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট এবং এলজিইডির বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের জন্য তিনটি ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের উন্নয়ন করা।
কমিউনিটি কাঠামো অংশে, ৯২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ও ফুটপাথ, ১০০টি মার্কেট সেড নির্মাণ, ৬০০টি গ্রামের ৰুদ্র সেচ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক ওয়াটার শেড নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৰুদ্র কৃষি ব্যবসার উন্নয়ন অংশে, সম্ভাব্য উচ্চ ফলনশীল পণ্য চিহ্নিতকরণ ও উৎপাদনের সৰমতা বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে অভিন্ন স্বার্থসংশিস্নষ্ট গ্রম্নপ প্রতিষ্ঠা এবং ৯টি উপজেলায় উচ্চফলনশীল শস্য চাষাবাদের মানোন্নয়ন করা হবে।

তিন বেলা বাংলা রেস্তুরাঁর উদ্বোধন
নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী ॥ বরিশালের গৌরনদীতে সর্বপ্রথম তিন বেলা বাংলা চাইনিজ রেস্তরাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গৌরনদী থানার মোড়ে তিনবেলা বাংলা চাইনিজ রেস্তোরার উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, গৌরনদী পৌরসভার মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান হারিছ, গৌরনদীর সার্কেল এএসপি মোঃ শহিদুল ইসলাম-পিপিএম, গৌরনদী থানার ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম-পিপিএম, আওয়ামীলীগ নেতা জি.এম হারম্নন মৃধা, আবু সাইদ নান্টু, গোলাম মনির মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব আলম, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জুবায়েরুল ইসলাম সান্টু ভূঁইয়া, সহসভাপতি লুৎফর রহমান দ্বিপসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।