মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
ছিটমহল বিনিময় বিল লোকসভা কমিটিতে অনুমোদিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ ভারতীয় সংসদীয় কমিটিতে ছিটমহল বিনিময় বিল অনুমোদন হয়েছে। ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ে আর কোন বাধা রইল না। এখন ছিটমহল বিনিময়ের ঘোষণা দিনক্ষণের অপক্ষোয় রয়েছে দুই দেশের ছিটমহলবাসী।
বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল রয়েছে। নিজ দেশে পরবাসী জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর। ১৬২টি ছিটমহলের মানুষের ৬৭টি বছরের পরাধীনতার গ্লানি মুছে যাবে। ছিটমহল বিনিময়ে দুই দেশের সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সহজ হবে। সীমান্তের অপরাধ অনেক গুণে হ্রাস পাবে। নারীরা পাবে প্রকৃত সম্মান।
এই ৬৭ বছর ধরে ১৬২টি ছিটমহলে কোন বিচার ব্যবস্থা ছিল না। হয়নি কোন উন্নয়ন। শিশু কিশোর, কিশোরীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ছিটমহলগুলোর বেশিরভাগ মানুষ জীবন জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে ইটভাঁটি ও অন্যের বাড়িতে বছরভিত্তিক দাসত্ব। পরিবারের সবাই মিলে হয় অন্যের বাড়িতে, কৃষি জমিতে অথবা বাংলাদেশে ও ভারতের ইটভাঁটিতে বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আসছে।
১৬২ ছিটমহলের মধ্যে ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের ভেতরে। ৫১টি বাংলাদেশের ছিটমহল ভারতের ভেতরে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও সিলেট জেলায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। ১৭ হাজার ১৫৮ একর জায়গা নিয়ে এসব ছিটমহল। বর্তমানে এসব ছিটমহলে ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন মানুষের বসবাস রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ভূখ-ের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর সবক’টি পশ্চিমবঙ্গেও কোচবিহার জেলার মধ্যে পড়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানে ছিটমহলগুলোর আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর জায়গাজুড়ে। এখানে এই ছিটমহলে বসবাস করছে ১৪ হাজার ২১৫ জন মানুষ। আন্তর্জাতিক ভূমি আইনের বেড়াজালে আটকে গিয়ে ৬৭টি বছর ধরে দুই দেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলগুলোর মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপ্তমান সেনগুপ্ত রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলে এক বৈঠকে জানান, ভারতের সংসদে শীতকালীন বৈঠকে স্থলসীমান্ত চুক্তি সংসদীয় কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। এখন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ভারতের সংসদে বিলটি উত্থাপন হলে তা বিনা বাধায় পাস হবে। ছিটমহলবাসী এখন এই দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, পুনর্বাসন সংক্রান্ত যেসব প্রশ্ন বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত নয় সমন্বয় কমিটি। পুনর্বাসনের জন্য বাসস্থানের জায়গা, এক থেকে দেড় বছরের খাদ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা, পানীয় জলসহ অন্য বিষয়গুলোর ব্যবস্থা যদি সরকার না করে, সেটা সমন্বয় কমিটি করবে। তারা শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে আপাতত স্বীকৃতিটুকু যত তাড়াতাড়ি পারে দিয়ে দিক।
ভারতের সংসদে এই প্রথম কোন বিল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হবে। বাংলাদেশের সংসদে ১৯৭৪ সালে ছিটমহল চুক্তির সংক্রান্ত বিল পাস করা হয়। এবারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ছিটমহল বিনিময় বিলটি সংসদে উত্থাপন বিষয়ে নমনীয় আচরণ করেছেন। তিনিও ছিটমহল বিনিময় বিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে সফরে আসছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাঁর সফরের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে সফরে আসবেন।
বিশ্ব এইডস দিবস আজ ॥ দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২৯৯
০ বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ সাড়ে ৩ কোটি
০ বিশ্বের ৫৪ শতাংশ মানুষ জানেই না তারা এ রোগে আক্রান্ত
নিখিল মানখিন ॥ দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার এখন কম হলেও আশঙ্কামুক্ত নয়। কয়েক হাজার মানুষ নিজের অজান্তে এইচআইভি জীবাণু বহন করছে এবং অন্যদের শরীরে ছড়াচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্ত সব মানুষ এ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ পাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২৯৯ এবং প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত। তবে বেসরকারী হিসেবে এইচআইভি পজিটিভ লোক ও এইডস রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণের এই নিম্নমাত্রা ধরে রাখা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহের রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি আছে সামাজিক কুসংস্কার। দেশে দ্রুতহারে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সমস্ত কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বিদ্যমান রয়েছে। সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণের এই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়। গোপনে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এমন অবস্থা সামনে রেখে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের সর্বশেষ ‘ইউএনএইডস গ্যাপ রিপোর্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ বিশ্বের ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ জানেই না যে তারা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে এ সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। বাংলাদেশে শুধু ২০১৩ সালে সংক্রমণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ জন। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ বছর বছরের কম বয়সী ২শ’ শিশু এইচআইভি সংক্রমণের শিকার আর ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৩ হাজার ৩শ’ নারী এর শিকার। এ পর্যন্ত এইডসের কারণে বাংলাদেশে কমপক্ষে ২শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৪২২ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে ব্যবধান (গ্যাপ) কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএনএইডসসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার উদ্যোগের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি নতুন সংক্রমণ এবং ১ কোটি ১২ লাখ এইডসের কারণে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ২৯৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনজিও পরিচালিত ৬টি কেন্দ্র থেকে সরকারী অর্থায়নে ক্রয় করা ‘এ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ড্রাগ’ এইডস রোগীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এছাড়া ৮টি সরকারী হাসপাতালে সিডি-৪ সেন্টারের মাধ্যমে এইডস রোগীদের শারীরিক অবস্থা নির্ণয় করাসহ এ সব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১১ শয্যা বিশিষ্ট পৃথক ওয়ার্ডের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। শিগগিরই সারাদেশে ২০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারী অর্থায়নে এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। যেহেতু দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই বর্তমান সরকারের এইডস রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা এ মুহূর্তে নেই। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এইডস রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশে শুধু ২০১৩ সালেই এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮২ নারী-পুরুষ। ২০১০ সালে যা ছিল ৩৭ জন। ২০১৩ সালে ২৭০ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। যার মধ্যে ৯৫ জনের শরীরে এটি এইডস আকারে রূপান্তরিত হয় এবং ওই সংখ্যক মানুষ মারা যায়।
অপুষ্টির শিকার বেঁটে শিশু বেশি বান্দরবানে, কম ঢাকায়
অপুষ্টি ম্যাপ প্রকাশ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুষ্টিহীনতার কারণে বেঁটে শিশুর হার সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বান্দরবান জেলায়। এ হার ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে বেঁটের হার কম। এ হার ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলা। এ হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। ভাল অবস্থানে রয়েছে ঢাকা জেলা। এ হার ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। চাইল্ড এ্যান্ড মাদার নিউট্রিশন সার্ভের (সিএমএনএস) ফলাফলের ভিত্তিতে অপুষ্টি সংক্রান্ত ম্যাপে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ওয়ার্ল্ডফুড প্রোগ্রাম এবং ইফাদ যৌথভাবে এ ম্যাপ প্রকাশ করেছে। রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ ম্যাপ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল এতে সভাপতিত্ব করেন।
ম্যাপ অনুযায়ী দেখা যায়, বেঁটে শিশুর ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ভোলা জেলায় ৪২ দশমিক নয় শতাংশ এবং সর্ব নিম্ন ঝালকাঠি জেলায় ৩৭ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলায় সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক সাত শতাংশ (জাতীয়ভাবেও সর্বোচ্চ) এবং সর্বনিম্ন চাঁদপুর জেলায় ৪০ দশমিক এক শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কিশোরগঞ্জ জেলায় ৪৪ দশমিক তিন শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ (জাতীয় পর্যায়েও সর্বনিম্ন)। খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কুষ্টিয়া জেলায় ৪১ দশমিক সাত শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪৫ দশমিক এক শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক নয় শতাংশ। রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ নীলফামারি জেলায় ৪৩ দশমিক তিন শতাংশ এবং সর্বনিম্ন পঞ্চগড় জেলায় ৪০ দশমিক ছয় শতাংশ। সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৬ দশমিক এক শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মৌলভীবাজারে ৪৩ দশমিক আট শতাংশ।
কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি কম ওজনের শিশু রয়েছে ভোলা জেলায়। এ হার ৩৮ দশমিক এক শতাংশ। সবচেয়ে কম রয়েছে ঝালকাঠি জেলা, এ হার ২৮ দশমিক আট শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৯ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম রাঙ্গামাটি জেলায় ৩২ দশমিক আট শতাংশ। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি নেত্রকোনা জেলায় ৩৯ দশমিক এক শতাংশ আর সবচেয়ে কম ২২ দশমিক আট শতাংশ (জাতীয়ভাবেও সবচেয়ে কম)। খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ এবং খুলনা জেলায় সবচেয়ে কম ২৯ দশমিক এক শতাংশ।
রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বেশি সিরাজগঞ্জ জেলায় ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম জয়পুরহাট জেলায় ৩০ দশমিক এক শতাংশ। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি কুড়িগ্রাম জেলায় ৩৮ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম দিনাজপুর জেলায় ৩৩ শতাংশ। সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক নয় শতাংশ (জাতীয়ভাবে সর্বোচ্চ) আর সবচেয়ে কম মৌলভীবাজার জেলায় ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, এই সব তথ্য কোন সমস্যার সমাধান নয়। তবে সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যে সব এলাকায় পুষ্টির অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে সেসব এলাকায় বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর মাধ্যমে পুষ্টি সমস্যা সমাধান করা যাবে। তিনি জানান, ২ দশক আগে দেশে অপুষ্টির হার ছিল ৭০ শতাংশ। কিন্তু এখন সেটি ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তারপরও এটি সন্তোষজনক নয়। তিনি আরও বলেন, এমডিজির অনেকগুলোর লক্ষ্যই যখন পূরণের পথে তখন অপুষ্টি ও কম ওজনের শিশুর এ চিত্র কাক্সিক্ষত নয়। তার পরও বলব এ চিত্র ঠিক হলে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া বেগম বলেন, আগে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে থাকলেও এখন সিলেট বিভাগ পুষ্টির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। এমডিজির লক্ষ্য পূরণে এই ম্যাপ অনুযায়ী সম্পদের সুষম বন্টন করতে হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে এ ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, ২০২৫ থেকে ৩০ সালের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় সরকার।
এবার বিদ্যুতের অপচয় রোধে মাঠে নামানো হচ্ছে ৪০ হাজার স্কাউট
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে একযোগে বিদ্যুত সাশ্রয়ী সচেতনতা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ স্কাউটসকে কাজে লাগাতে যাচ্ছে সরকার। স্কাউটসের ৪০ হাজার সদস্য একযোগে কাজ করবেন। প্রত্যেক জেলা এবং উপজেলায় অন্তত ৫০ জন সদস্য এই জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবেন। আগামী ১৮ থেকে ২১ ডিসেম্বর দেশের সকল জেলায় এই কার্যক্রম চালাবে স্কাউটস। সাশ্রয়ী ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নানা প্রচেষ্টা নেয়া হলেও এত বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন দেশে এই প্রথম। এজন্য সারাদেশ থেকে আসা ৩৬০ জন প্রশিক্ষককে ট্রেনিং অব টিউটর (টিওটি) প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিদ্যুত বিভাগ। রবিবার প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনীতে বিদ্যুত বিভাগের তরফ থেকে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুত, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, স্কাউটসরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। আমরা ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। এতে ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের আর ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে। এজন্য বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সাশ্রয়ী ব্যবহারে মনোযোগ দিতে হবে। আর স্কাউটসরা এক্ষেত্রে সামাজিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তাঁরা মানুষকে বোঝাতে পারেন কিভাবে বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করা যায়। অন্য দেশগুলোতে দিনের বেলায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হয় অন্যদিকে আমাদের সন্ধ্যার পর বেশি বিদ্যুত ব্যবহার হয়। এতে বোঝা যায় আমাদের দেশে আবাসিক গ্রাহকরা বেশি বিদ্যুত ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে বিদ্যুতের অপচয় হ্রাস করতে সাশ্রয়ী যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ওপরও জোর দেন তিনি। এই ক্যাম্পে ৪০ হাজার স্কাউটস অংশ নিচ্ছেন। এতে কি ফলাফল আমরা পাচ্ছি তাও মূল্যায়ন করা উচিত। এখান থেকে কাউকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, বয়স্কদের চেয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এসব বিষয় শেখালে আরও বেশি ফল পাওয়া যেতে পারে। তারা বাড়িতে গিয়ে নিজেরা চর্চার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এসব বিষয় বলতে পারবে। এজন্য প্রত্যেক স্কুলে অন্তত সাত দিনে একদিন সকালে শরীরচর্চার সময় এসব বিষয় আলোকপাত করা দরকার বলে মনে করেন সাবেক এই বিদ্যুত সচিব। এই কার্যক্রমে ৪০ হাজার স্কাউটস অংশ নিচ্ছে জানিয়ে আজাদ বলেন, একজন সদস্য যাতে দুইবার প্রশিক্ষণ না নেয় তা দেখতে হবে।
প্রত্যেক জেলায় বিদ্যুত ক্যাম্প আয়োজনের জন্য স্ব স্ব জেলার জেলা প্রশাসক এবং উপজেলায় উপজেণা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এতে স্কাউটসদের পাশাপাশি বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় পুলিশ এবং শিক্ষা অফিসারদের রাখা হয়েছে।
আরও দুই মামলার চার্জশীট থেকে মৃধা বাদ
রেলে নিয়োগ দুর্নীতি
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পূর্বাঞ্চলীয় রেলের নিয়োগ দুর্নীতির আরও দুই মামলায় অভিযোগপত্র থেকে খালাস পেয়েছেন তৎকালীন জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। আলোচিত এ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়েই রবিবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে দুইটি চার্জশীট জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের জানান, সহকারি লোকো মাস্টার ও পরিদর্শক পদে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দুইটি দায়ের হয়েছিল। তন্মধ্যে সহকারী লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় ইউসুফ আলী মৃধাকে বাদ দিয়ে রেলের অতিরিক্ত যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান ও সিনিয়র ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা গোলম কিবরিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। আর পরিদর্শক পদে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে কেবল গোলাম কিবরিয়াকে। এ মামলায় অভিযোগপত্র থেকেও ইউসুফ আলী মৃধা বাদ পড়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ৯ এপ্রিল রাতে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী ওমর ফারুকের গাড়িতে পাওয়া যায় বস্তাভর্তি প্রায় ৭০ লাখ টাকা। চালক গাড়িটি নিয়ে বিজিবি সদর দফতরে ঢুকে পড়লে টাকাগুলো ধরা পড়ে। এ গাড়িতে ছিলেন রেলের তৎকালীন জিএম ইউসুফ আলী মৃধাও। ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর ইউসুফ আলী মৃধা ও রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
সত্তরে পা দিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আজ সত্তরে পা দিলেন। ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির হোসেন আহমদ চৌধুরীর দ্বিতীয় পুত্র তিনি। বর্তমানে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুবলীগ, শ্রমিকলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালীন সময়ে। একাত্তর সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে মাউন্ট ব্যাটালিয়ন গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হয়ে টানা প্রায় সতেরো বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর চট্টগ্রামে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে প্রায় দু’বছর ভারতে পলাতক জীবন কাটান। তিনি চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। মেয়র পদে থাকাকালীন তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতে এবং সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি ৬ সন্তানের জনক। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর চশমা হিলের বাসভবনে পারিবারিকভাবে অনাড়ম্বর পরিবেশে মিলাদ মাহফিল, খতমে কোরানসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।
সরকার শিক্ষাকে অধিকারে পরিণত করেছে ॥ মতিয়া চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকার শিক্ষাকে সুযোগ নয় অধিকারে পরিণত করেছে বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকরের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গণতন্ত্রী পার্টি আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক দুই সভাপতি আহমদুল কবির ও মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তাতে শিক্ষাকে এখন আমরা মানুষের অধিকারে পরিণত করতে পেরেছি। জিয়াউর রহমান ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন এমন মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা অনেকেই ছাত্র রাজনীতিকে দোষারোপ করি। কিন্তু এই ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাদের কথা ভুলে যাই।
প্রকৌশলী কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন, ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য্য, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, ডাঃ শাহাদাৎ, মাহমুদুর রহমান বাবু।
চট্টগ্রামে আজ থেকে মাসব্যাপী বিজয় মেলা শুরু
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের এমএ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে বিজয়মেলা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে আজ থেকে ২৬ বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে যে মেলা শুরু হয়েছিল তা এখন বিস্তৃত সারাদেশে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথে চট্টগ্রামের এ বিজয়মেলা এবারও সারা মাস মাতিয়ে রাখবে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষকে।
রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার সার্বিক দিক অবহিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটি দুর্বিনীত দুঃসময়ে এ চট্টগ্রামে ১৯৮৯ সালে শুরু হয়েছিল মুুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়েছি, যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তিনি জানান, বিজয়মেলা শুরু হচ্ছে ১ ডিসেম্বর সোমবার। তবে আগামী ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার মূল অনুষ্ঠানমালা জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বিজয়মেলা উদ্বোধন করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।


আখাউড়ায় তৌফিক এলাহী ॥ এক বছরের মধ্যে এক শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত আসবে ত্রিপুরা থেকে

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥ আগামী এক বছরের মধ্যে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আসবে। পর্যায়ক্রমে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। তিনি আজ রবিবার দুপুরে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুত কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সব সময় প্রতিবেশীকে সাহায্য করলে প্রতিবেশীও আমাদের সাহায্য করবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেই উন্নতি সম্ভব। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত ছিল বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াটে। এ সময় তিনি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সিলেটে মুফতি হান্নানসহ ৫ জঙ্গীর কোর্টে হাজিরা
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেট বোমা ও গ্রেনেড হামলার তিন মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছে মুফতি হান্নানসহ ৫ জঙ্গী। রবিবার তাদের সিলেটে সিরিজ বোমা হামলা, টিলাগড়ে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামানের ওপর গ্রেনেড হামলা ও তাঁতীপাড়ায় সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেসা হকের বাসায় বোমা হামলার ঘটনায় আদালতে হাজির করা হয়। জঙ্গীরা হলো- মুফতি আবদুল হান্নান, মুহিবুল্লাহ, শাহেদুল ইসলাম বিপ্লব, মাঈন উদ্দিন শেখ ও দেলোয়ার হোসেন রিপন।


নাগরিক বিড়ম্বনা

রাজধানীতে পথচারীদের এখন পদে পদে বিড়ম্বনা। নিরাপদে হাঁটার জন্য ন্যূনতম পরিবেশ নেই। যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনায় পড়তে হতে পারে অথবা হোঁচট খেয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দৃশ্যপট রাজধানীর মিরপুর পলিটেকনিক মোড়। এখানকার সড়কে চলছে ড্রেনেজ বিভাগের উন্নয়ন কাজ। এই উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য রোডটাইলস এলোপাতাড়িভাবে রাখা হয়েছে। ফলে চলাচলের পথ সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ঘটনার উপলক্ষ। এভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালক ও পথচারীরা। ঢাকার নাগরিক জীবনে এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় মানুষ। জনকণ্ঠের নিজস্ব আলোকচিত্রী নগরবাসীর দুর্ভোগের এই ছবিটি তুলেছেন।
পদ্মায় দু’স্পীডবোটে মুখোমুখি সংঘর্ষ ॥ নিখোঁজ ১
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া (মাওয়া)-কাওড়াকান্দি নৌরুটে দুটি স্পীডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঢাকার রমনা পল্টন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার লুৎফর রহমান নিখোঁজ হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় স্পীডবোট চালকসহ কমপক্ষে আহত হয়েছে ৮ যাত্রী। আহত চালক মোঃ মামুনকে (২৫) ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কাওড়াকান্দি থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে কাকন চৌধুরীর সিবোটটি শিমুলিয়ার নতুন ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। সমসংখ্যক যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়ার নতুন ঘাট থেকে ফরিদ মাদবরের সিবোটটি কাওড়াকান্দির উদ্দেশে রওনা দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাজরা টার্নিং পয়েন্টের কাছে পৌঁছলে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি সিবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিবোট দুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। যাত্রীরা সব পানিতে ছিটকে পড়ে। কনকনে ঠা-া পানিতে পড়ে ঢাকার রমনা পল্টন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার লুৎফর রহমান নিখোঁজ হন। তিনি মাদারীপুর জেলার হওলা সিলার চরের আব্দুল রতন মালোর পুত্র। বাড়ি থেকে রবিবার ঢাকায় ফিরছিলেন আনসার কমান্ডার লুৎফর।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই চলে গেলেন বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ তুলি থেকে খসে পড়ল রং। প্রিয় ক্যানভাসে আর হবে না ছোঁয়াছুঁয়ী। তেল রঙের খেলা, জলরঙের খেলা শেষ হলো। আর আঁকা হবে না বাংলার মুখ। ভীষণ প্রিয় প্রকৃতিকে চোখ মেলে দেখা হবে না। আঁকা হবে না। যিনি আঁকবেন ধ্রুপদী শিল্পকর্ম, সেই তিনি বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আর নেই। সকলকে কাঁদিয়ে রবিবার রাতে ৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি.... রাজিউন)। প্রবীণ এই শিল্পীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসের বিশাল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দেশবরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের মঞ্চে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এর পর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওই উৎসবের মঞ্চ থেকে এই শিল্পীর মৃত্যুর কথা জানানো হয় এবং অনুষ্ঠানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখতে স্বজন ও গুণগ্রাহীরা ছুটে যান হাসপাতালে।
সিএমএইচ থেকে কাইয়ুম চৌধুরীর মরদেহ রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। স্কয়ারের হিমঘরে রাখা হয়েছে মরদেহটি। সেখানে থাকা সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সকাল ১০টায় কাইয়ুম চৌধুরীর মরদেহ নেয়া হবে প্রথমে চারুকলা ইনস্টিটিউটে। সেখান থেকে সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাখা হবে দুপুর একটা পর্যন্ত। পরে জানাজার জন্য তাঁর মরদেহ নেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। এর পর আজিমপুর কবরস্থানে কাইয়ুম চৌধুরীকে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান।
বেঙ্গলের সঙ্গীত উৎসবের অনুষ্ঠানে থাকা জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোরসালিন মিজান জানান, তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে মঞ্চে উঠে বক্তৃতা রেখেছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। কাইয়ুম চৌধুরী বক্তৃতা দিয়ে নেমে যাওয়ার পর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আবার ফিরে এসে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন- ‘আমার একটি কথা বলার রয়েছে।’ কিন্তু সে কথা বলার আগেই আটটা ৪০ মিনিটে হঠাৎ পড়ে যান কাইয়ুম চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এতে অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মোরসালিন জানান, অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেন, পড়ে গিয়ে কাইয়ুম চৌধুরী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এরপর হাসপাতালে নেয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই কাইয়ুম চৌধুরীর মৃত্যুর কথা জানান অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। কী কথাটি তিনি বলতে চেয়েছিলেন, তা আর জানা যায়নি।
রাষ্ট্রপতির শোক
রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাইয়ুম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি দেশের চারুকলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাইয়ুম চৌধুরীর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, এর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জনকণ্ঠকে এ কথা জানান। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বরেণ্য সন্তানকে হারাল। তিনি কাইয়ুম চৌধুরীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
স্বাধীনতা পদকে ভূষিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রাতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাইয়ুম চৌধুরীর মৃত্যুতে বাঙালী সংস্কৃতিসহ দেশের চারুকলা অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল জনকণ্ঠকে এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে অনন্তকাল বাঙালী জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিটি গণতান্ত্রিক এবং স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করবে। শেখ হাসিনা কাইয়ুম চৌধুরীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সংক্ষিপ্ত জীবনী
১৯৩৪ সালের ৯ মার্চ ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কাইয়ুম চৌধুরী। পরিবারের এক সদস্য আমীনুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছিলেন নোয়াখালীর ইতিহাস। পিতা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ছিলেন সমবায় বিভাগের পরিদর্শক। পরবর্তীতে তিনি সমবায় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে ফাইন আর্টসে ডিগ্রী নেন। এর পর নিজের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকায় মনোযোগী হয়েছিলেন তিনি। বইয়ের প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জার পাশাপাশি তেল ও জল রঙে আবহমান বাংলা ও বাংলার লোকজ উপাদানগুলো চিত্রে ফুটিয়ে তোলার জন্য কাইয়ুম চৌধুরীর কৃতিত্বকে স্মরণ করেন তাঁর অনুজরা। জহির রায়হানের ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ আঁকার মধ্য দিয়ে এই শিল্পে তাঁর পদচারণা শুরু। বিশ্লেষকরা বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদের শিল্পমানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’র প্রচ্ছদশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীই। সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম দিককার গ্রন্থগুলোর প্রচ্ছদও তাঁর তুলিতেই আঁকা হয়।
১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত কাইয়ুম চৌধুরী নানা ধরনের ব্যবহারিক কাজ করেছেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, আর বইয়ের প্রচ্ছদ ও সচিত্রকরণের কাজ করেছেন। সিগনেটের বই কাইয়ুম চৌধুরীর জন্য ছিল এক অনুপম নিদর্শন। সাময়িক পত্রিকা বিষয়ে আগ্রহী কাইয়ুম চৌধুরী, ছায়াছবি নামে একটি চলচ্চিত্র সাময়িকী যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেছিলেন কিছুকাল। সুযোগমতো টুকটাক প্রচ্ছদ আঁকছিলেন এবং এই কাজের সূত্রেই পরিচয় সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে। ১৯৫৫ সালে তাঁর দুই বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন, কিন্তু প্রকাশক অপারগ হওয়ায় সে বই আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রচ্ছদে একটি পালাবদল তিনি ঘটালেন ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত জহুরুল হকের সাত-সাঁতার গ্রন্থে। গ্রন্থের বক্তব্যের বা সারসত্যের প্রতিফলন ঘটালেন প্রচ্ছদে, একই সঙ্গে গ্রাফিক ডিজাইনে কুশলতা ও নতুন ভাবনার ছাপ মেলে ধরলেন। এমনই দক্ষতার যুগল মিলনে আঁকলেন ফজলে লোহানী রচিত কথাসরিত্সাগর-এর প্রচ্ছদ, যা প্রকাশিত হয়নি। গাজী শাহাবুদ্দিন আহমদের সচিত্র সন্ধানী পত্রিকার আত্মপ্রকাশ তাঁর অঙ্কন, টাইপোগ্রাফিবোধ ও রসসিঞ্চিত তির্যক রচনা প্রকাশের মাধ্যমে হয়ে উঠেছিল অনবদ্য।
১৯৫৭ সালে আর্ট কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন কাইয়ুম চৌধুরী। আর্ট কলেজে নিজের দুই বছরের কনিষ্ঠ তাহেরা খানমকে ১৯৬০ সালে বিয়ে করেন তিনি। ওই বছরই কাইয়ুম চৌধুরী আর্ট কলেজ ছেড়ে যোগ দেন কামরুল হাসানের নেতৃত্বে নবগঠিত ডিজাইন সেন্টারে। ১৯৬১ সালে ডিজাইন সেন্টার ছেড়ে অবজাভার হাউসে চীফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৬ সালে একুশে পদক পান দেশবরেণ্য এই চিত্রশিল্পী। এছাড়া এ বছর স্বাধীনতা পদক ২০১৪ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।