মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৩, ৬ কার্তিক ১৪২০
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে ধনী দেশগুলোকেই
ক্ষতিপূরণ আদায়ে যাতে উন্নত বিশ্ব ঠকাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে : সেমিনারে ড. হাছান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলবায়ুবিষয়ক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করতে হবে। তারা বলেন, উন্নত বিশ্বকে জানাতে হবে বাংলাদেশ নিজেদের সীমিত সাধ্যের মধ্যেও নিরাপত্তা জাল কর্মসূচীর পেছনে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। যাতে সামাজিক নিরাপত্তায় ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। উন্নত দেশগুলো থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে যেন আমাদের ঠকাতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন বক্তারা।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তু : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ছয়টি অধিকারভিত্তিক সংগঠন (বাপা, বিপনেটসিসিবিডি, সিসিডিএফ, সিএসআরএল, ক্লিন ও ইক্যুইটিবিডি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সঞ্চালন করেন ইক্যুইটিবিডির রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিজিসির ড. আহসানউদ্দীন, বিসিএএসর গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ক্লাইমেন্ট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট কাওসার রহমান, বিইজিইএফের কামরুল ইসলাম চৌধুরী, অক্সফাম-সিএসআরএল এর জাকিয়া হক, বিসিসিজিএফর মোতাহার হোসেন, এনসিসিবির মিজানুর রহমান, বিপনেটসিসিবিডির প্রগতি চাকমা এবং কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম। হিউম্যানিটি ওয়াচের হাসান মেহেদী সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তায় ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। তিনি বলেন, ভারতের গ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীনা নাথ একটি নিবন্ধে লিখেছেন ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তায় এগিয়ে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক বলেছে, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের চেয়ে পরিবেশগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি সোচ্চার । তিনি আরও বলেন, , ২০১০ সালে কানকুসে চুক্তিতে ১৪ (এফ) জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও স্থানান্তর নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরস্পরের মধ্যে আলোচনার কথা বলা হয়। কিন্তু তা আমরা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
বনমন্ত্রী বলেন, ইন্স্যুরেন্স প্রদানের মাধ্যমে যাতে উন্নত বিশ্ব আমাদের ঠকাতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, কানকুন চুক্তিতে জলবায়ু উদ্বাস্তু ইস্যুটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হলেও ডারবান চুক্তিতে এসে এটি পিছিয়ে পড়ে, কারণ সেখানে নতুন চুক্তিটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয় এবং ২০২০ সালে তার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা বলা হয়।
মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়টিতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলো জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জাতিসংঘের উদ্বাস্তুর সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করে তাতে জলবায়ু উদ্বাস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আসছে নবেম্বরে ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের উচিত হবে জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য কর্মসূচীর দাবি জানানো, যাতে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়।
ড. আহসানউদ্দীন নিউজিল্যান্ডের একটি কেস তুলে ধরেন, যেখানে দেখা যায় কিভাবে একটি উন্নত দেশে প্যাসিফিক অঞ্চলের ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রের জলবায়ু উদ্বাস্তুরা উন্নত দেশের কাছে তাদের অধিকার দাবি করে। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বকে জানাতে হবে বাংলাদেশ তার সীমিত সাধ্যের মধ্যেও নিরাপত্তা জাল কর্মসূচীর পেছনে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।
বিসিএএসের গোলাম রব্বানী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় গেলে আমাদের দাবি অনেক দুর্বল হিসেবে গণ্য হবে।
অক্সফামের জাকিয়া হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজকেও সহায়তা করছে যাতে তারা এ বিষয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে হাজির থাকে।
জবি ক্যাম্পাসে মিলনমেলা-অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
জবি রিপোর্টার ॥ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান শহীদ মিনারের পাদদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রবিবার ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৩’ এর উদ্বোধন করেন। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিভিন্ন রঙের বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করেন।
এ সময় উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে কম জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের দিক থেকে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ভর্তিইচ্ছু শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের স্থান ও এটি। এটি একটি অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে মেধার সমন্নয় ঘটেছে।
তিনি এ সময় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই অধিকাংশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের স্থান হলো এ বিশ্ববিদ্যালয়।
পাঠদানের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যত সময় শিক্ষার্থীদের পিছনে ব্যয় করে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এত সময় শিক্ষার্থীদের দেয় না।
কারন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই শিক্ষকরা সকাল ৮ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অপেক্ষাকৃত মেধাবী শিক্ষকরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেন।
লাল নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার একদিন আগেই ছুটে এসেছে ব্যস্ততম নগরী ঢাকায়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনেক জাকজমক ভাবে পালন করা হবে এ কথা জানা ছিল সবার। তাই সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছিল। আতোশবাজী শব্দে কিছু সময় পর পরই কেঁপে উঠছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল ১০টার দিকে পুরাতন বিজনেস স্টাডিজ ভবনের নিচতলায় উপাচার্য কেক কাটেন। এছাড়া একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় তিন দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মোঃ সেলিম ভূঁইয়া, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান, গ্রন্থাগারিক, পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ), প্রক্টর ড. অশোক কুমার সাহা, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৩’- উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার চিত্র প্রদশর্নী ও রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে সকাল সোয়া দশটায় একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় দেশের বরেণ্য শিল্পীদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন ও রয়েছে। এছাড়া বাংলা বিভাগের উদ্দ্যেগে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য চত্ত্বরে সাড়ে ১০টায় কবিতা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ’ কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্র প্রদর্শনী ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী এবং সকাল ১১টায় বাঁধন কর্তৃক স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর পালন করা হবে।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে শহীদ মিনার চত্বর হতে সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালী বের করা হবে। সকাল ১১টার দিকে বাংলাবাজার সরকারী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সকাল ১১টায় বিজ্ঞান ভবন চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন চত্বরে বেলা বারটায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সাগরকন্যা ইনানী ভূমিগ্রাসীদের নগ্ন থাবার শিকার
এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ একদিকে বিশাল সাগর অন্যদিকে সুউচ্চ পাহাড়, টিলা, পর্বতসম গিরিপথ। বিশাল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ছিটকে পড়া জলরাশি ও প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি পাথরের লুকোচুরি খেলায় নান্দনিক সৈকতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজারের সাগরকন্যা ইনানী। এখানে নব্বইয়ের দশকেও বনে বাঘ, ভাল্লুক, হাতি, বানর, হনুমান, বনমোরগ, বিভিন্ন জাতের পাখি ও সাপসহ বিভিন্ন প্রকার জৈববৈচিত্র্য বন্য পশু প্রাণী অবাধে বিচরণ করেছে। কক্সবাজার জেলার এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ইনানীতে জাতীয় উদ্যান প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির পর সেখানে গড়ে তোলা যেতে পারে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম। বৃহত্তম অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জেলার উখিয়ার ইনানী ছিল এক সময়ের হাতি, হরিন, চশমা বানরসহ অসংখ্য বন্য পশু প্রাণীর আবাসস্থল। সংঘবদ্ধ কাঠচোর সন্ত্রাসী ভূমিগ্রাসীদের নগ্ন থাবায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল বর্তমানে প্রায় সাবাড় হতে চলছে। তার পরও সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি নয়নাভিরাম ইনানীর ওসব পাহাড়ের মায়া (আবাসস্থল) ত্যাগ করেনি অসংখ্য বন্য পশু প্রাণী। সচেতন মহলের মতে, প্রকৃতির অপরূপ ইনানীর উক্ত বনাঞ্চলকে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলা হলে গাছ-গাছালিতে ভরপুর ইনানী বনাঞ্চলে আবারও জীববৈচিত্র্য ও পশু প্রাণীর মিলনমেলায় পরিণত হবে। এদিকে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেসরকারী একটি এনজিও সংস্থার তত্ত্বাবধানে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের আওতায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হতে চলছে।
নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে দেশের বৃহত্তম সম্ভাবনাময়ী পর্যটন নগরীতে পরিণত হতে পারে সাগরকন্যা ইনানী বিচ। উখিয়ার উপকূলীয় জনপদ ২৮ কিলোমিটার সৈকত সংলগ্ন সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল নিয়ে ইনানীর অবস্থান। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, টিলা, পর্বতসম গিরিপথ। অন্যদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ছিটকে পড়া জলরাশি ও প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি পাথরের লুকোচুরি খেলায় নান্দনিক সৈকতে পরিণত হয়েছে এ সাগরকন্যা ইনানী। এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত লোকজন জানান, নব্বইয়ের দশকেও ইনানীর বনে বাঘ, ভাল্লুক, হাতি, বানর, হনুমান, বনমোরগ, বিভিন্ন জাতের পাখি ও সাপসহ বিভিন্ন প্রকার জৈববৈচিত্র্য বন্য পশু প্রাণী অবাধে বিচরণ করেছে। ২০০১ সাল থেকে এলাকার কিছু সংখ্যক ভূমিগ্রাসী ইনানী বনাঞ্চলের বনজসম্পদ লুটপাট শুরু করে। পাশাপাশি পরিত্যক্ত বনভূমির পাহাড় কেটে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে বসবাস করায় বন্য পশু প্রাণীর আবাসস্থল অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
২০০৪ সালে পর্যটন মন্ত্রণালয় ইনানীকে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ইনানীর জমিজমা হস্তান্তরের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে ইনানীসহ আশপাশের ৬টি মৌজার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কারিগরি সহায়তা বনসম্পদ উন্নয়নসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইনানীসহ ২৮টি এলাকাকে প্রটেক্টেড ফরেস্ট হিসেবে ঘোষণা করে ওইসব বনাঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারী এনজিও সংস্থা শেড ২০০৯ সালের জুলাই মাসে প্রায় দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে ইনানীর সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর বনভূমির উন্নয়নপূর্বক প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানে রূপান্তর করে ইনানীকে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির সভায় বক্তারা ইনানী বনাঞ্চলকে রক্ষা করে ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণপূর্বক প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বনের অভ্যন্তরে বন্য পশু প্রাণীর অবাধে বিচরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সূত্রটি জানায়। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে এ উপজেলাকে বন সমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তর করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা সব রকমের সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে আশ্বাস দেন। ইনানী জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ইনানীর বনাঞ্চলকে উন্নয়ন করে বন্য পশু প্রাণীর সংরক্ষণ করা হলে এখানে দেশী-বিদেশী পর্যটকের ঢল নামবে। সরকারের প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়ে ইনানী একটি বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হবে।
রূপগঞ্জে প্রশাসনের বাধায় বিএনপি-আ’লীগের পাল্টাপাল্টি সভা পণ্ড
বিক্ষোভ, বিএনপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২০ অক্টোবর ॥ রূপগঞ্জে প্রশাসন ও পুলিশী বাধার মুখে উপজেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সভা পণ্ড হয়েছে। রবিবার বিকেলে দাউদপুর ইউনিয়নের দেবই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সভার আয়োজন করে বিএনপি। বিএনপির সভা পূর্বঘোষিত হলেও রবিবার দুপুরে হঠাৎ করেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ পার্শ্ববর্তী দেবই মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি সভা ডাকে। এ খবর শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবই ও আশেপাশের এলাকায় সভা না করার নির্দেশ প্রদান করে। বিকেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসলেও পুলিশি বাধার মুখে তাদের সভা পণ্ড করে দেয়া হয়। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বেলদী বাজার এলাকায় এক পথসভার আয়োজন করে। এ সময় গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সভা প-র সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়ায় বিরাব এলাকায় ৫ বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করে আওয়ামী লীগের লোকেরা।
স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, রবিবার বিকেল ৩টায় দেবই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিএনপির সম্পাদক এ্যাডভোকেট হুমায়ন এ সভার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে কয়েকদিন পূর্বে অনুমতি নেন। রবিবার সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ খান ২০ দূরত্বে পার্শ¦বর্তী দেবই মাদ্রাসা মাঠে কর্মীসভা ডাকে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অনুমতি চাইতে গেলে তিনি সভা না করার নির্দেশ প্রদান করেন। বিকেলে বিএনপির নেতাকর্র্মীরা সভাস্থলে মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ বাধা দিয়ে সভা প- করে দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বেলদী বাজার এলাকায় এক পথসভার আয়োজন করে। এ্যাডভোকেট হুমায়ন দাবি করেন বিএনপির সভা প- করতেই এ কৌশল বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আফাজ খান বলেন, আমরা সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য বর্ধিত সভার আয়োজন করি। প্রশাসন না করায় আমরা আর ঘটনাস্থলে যাইনি। বিএনপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। প্রশাসনের বাধার মুখে বিএনপির সভা প- হয়েছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কাঞ্চন, বিরাবসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়ায় বিরাব এলাকার বিএনপি কর্মী উজ্জ্বল, আজিজুল, মোজাম্মেল, জোবেদ আলী ও ফারুকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকেরা। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাটসহ উজ্জ্বল, আজিজুল ও মোজাম্মেলকে পিটিয়ে আহত করে।
কর্মীসভা প- করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনির বলেন, প্রশাসন যা করেছে তা রীতিমতো ন্যাক্কারজনক। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দালাল হয়ে পুলিশ-প্রশাসন কাজ করছে। পুলিশ ভাইদের বলব আওয়ামী লীগের চামচামি ছেড়ে দিন। তাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। আর বিএনপি কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মীর বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়ানোর দায়ে সভা নিষেধ করা হয়েছে। শুধু বিএনপি নয় আওয়ামী লীগকেও নিষেধ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রাশেদ বলেন, একই এলাকায় উভয় দল সভা আহ্বান করায় সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে তাদের উভয়কে চিঠি দিয়ে সভা না করার জন্য বলা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়নি।
জজ আদালতের বারান্দায় বিএনপি আইনজীবীদের সভা মিছিল
কোর্ট রিপোর্টার ॥ রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ডিএমপি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সকল প্রকার মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণ-অবস্থান, সভা-সমাবেশ, মিছিল করা নিষিদ্ধ করলেও তা লঙ্ঘন করে ঢাকার জজ আদালতে মিছিল সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। রবিবার দুপুরে ঢাকার জজ আদালতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৪০/৫০ আইনজীবী নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় তারা ‘ডিএমপি কমিশনারের অবৈধ নির্দেশ মানি না’, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন চাই’, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চলবে’সহ বিভিন্ন সেøাগান দেন।
গত শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নাশকতা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় রবিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।
গতকাল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি হয়নি। ১০ নবেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করার পর মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। আদালতের বারান্দায় তারা মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন।
বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ মিয়া আলম ও বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন আইনজীবী মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তাঁরা ঢাকার জজ আদালত প্রাঙ্গণ কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে আদালত প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।

বাহরাইনে মৃত বাংলাদেশী কর্মীর স্বজনের কাছে অনুদানের চেক হস্তান্তর
এমআরএস ফ্যাশনস বাহরাইনে কর্মরত মোঃ বেলাল হোসেন, পিতা- কালাগোরা, পাসপোর্ট নং- এএ ৬২৮৩৬৬৭ হার্ট এ্যাটাক করে গত ১০ জুলাই মারা যান। তিনি গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ বাহরাইন গমন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৫ মাস ১৬ দিন চাকরি করেন। মৃত্যুর পরবর্তীকালে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বেলাল হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠায়। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক এএইচএম শহিদুল্লাহ, বোয়েসেলের এমডি মোঃ আব্দুল হান্নানের উপস্থিতিতে বোয়েসেল অফিসে মৃত বেলাল হোসেনের কন্যা মীম ইসলামের নামে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক মৃতের স্ত্রী আঁখির নিকট গত ৭ অক্টোবর হস্তান্তর করেন। -তথ্যবিবরণী
জাতীয় শিশু অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচী কাল উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি
দৃষ্টি শিশুর অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণœ হলে তাকে কেবল শারীরিক ও মানসিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, তার পরিবারের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শিশুদের নিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব এবং ভিশন ২০২০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে ন্যাশনাল আই কেয়ার এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে জাতীয় শিশু অন্ধত্ব প্রতিরোধ কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করছে। জাতীয় এ কর্মসূচীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ১০টি বিশেষায়িত হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন হবে এবং দেশব্যাপী মানসম্মত শিশু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
এ বৃহৎ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে ২২ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের প্রাক্কালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির।
জাতীয় শিশু অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচী ২০১৩ সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং তথ্য তুলে ধরতে রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুনীর আহমেদ, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক এবং ন্যাশনাল আই কেয়ারের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।
ড. মুনীর আহমেদ বলেন, এ কর্মসূচীর আওতায় দেশের ১২ লাখের অধিক শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে এবং ২০ হাজারের অধিক শিশুর চক্ষু অপারেশন করা হবে।
এ ছাড়া ১০টি হাসপাতালের শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের মধ্যে রেফারেল সিস্টেম প্রচলন করে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হবে। -বিজ্ঞপ্তি।

ভারতের রাজস্ব সচিব মুন্সীগঞ্জে
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব সচিব সুমিত বসু সস্ত্রীক রবিবার সিরাজদিখান উপজেলার কোলা গ্রামে পূর্ব পুরুষদের ভিটা এবং তাঁদের পরিবারের প্রতিষ্ঠিত দাতব্য চিকিৎসালয় ঘুরে গেলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশস্থ ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী।
নিউইয়র্কে ফের ফোবানা সম্মেলনের প্রস্তুতি
আমার দেশ আমার অহঙ্কার
বাংলানিউজ ॥ ‘আমার দেশ আমার অহংকার’ সেøাগানে নিউইয়র্কে আবার আসছে ফোবানা। ফেডারেশনস অব বাংলাদেশী এ্যাসোসিয়েশেনস ইন নর্থ আমেরিকা-ফোবানা ২০১৫ সম্মেলন নিইউয়র্কের আয়োজক প্রবাসের ঐতিহ্যবাহী প্রথম বাংলাদেশী সংগঠন ‘লীগ অব আমেরিকা।’
ফোবানা সম্মেলনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্কের বিখ্যাত জ্যাকব জেভিট সেন্টার, ম্যানহাটন সেন্টার অথবা হোটেল হিল্টনের গ্রান্ড বলরুম পাওয়ার জোর চেষ্টা চলছে এখন থেকেই। এর আগে বিখ্যাত মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ফোবানা সম্মেলন আয়োজন করেছিল এ লীগ অব আমেরিকা।
অতীতের গতানুগতিক ফোবানা সম্মেলনের পরিবর্তে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করে ভিন্নমাত্রার ফোবানা সম্মেলন উপহারে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জ্যাকসন হাইটসে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন আয়োজক সংগঠন লীগ অব আমেরিকার নেতারা।
ফেডারেশনস অব বাংলাদেশী এ্যাসোসিয়েশেনস ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানা-২০১৫ সম্মেলন স্মরণীয় করে রাখতে প্রবাসের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি এবং মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মিডিয়া সেল গঠনের অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে লীগ অব আমেরিকার সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা, সিনিয়র সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, এন আমিন, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি তৈয়বুর রহমান টনি, ফোবানা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ও উপদেষ্টা মীর হোসেন ও মোঃ আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মিন্টু, সাহিত্য সম্পাদক মুর্শেদা কাঁকন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কলিন্স, সুফিয়ান খান, নুরুন নবী ও এবাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালক ছিলেন শারমিন রেজা ইভা।
মৃধাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
রেলের সাবেক জিএম
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ফুয়েল চেকার ও সহকারী কেমিস্ট পদে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় রেলের সাবেক জিএম মৃধাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রবিবার চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এসএম মুজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।

রাজপথে মরণফাঁদ
রাস্তার মাঝে বিশাল গর্ত। যেন মরণ ফাঁদ। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশাল মার্কেট ও খেলাধুলার কারণে রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলাচল করতে গিয়ে মানুষ বা যানবাহন যে কোন সময় পড়ে যেতে পারে এ ফাঁদে। ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এক মুহূর্তের অসতর্কতায় প্রাণঘাতী কোন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এমনিতেই ঢাকা শহরে কর্মব্যস্ত লোকজন অনেকটা তাড়াহুড়ো করে চলাচল করেন। ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর ফের সেই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে সবাই নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে দ্রুতই এ রাস্তা মেরামত করা দরকার। রবিবার ছবিটি তুলেছেন জনকণ্ঠের নিজস্ব আলোকচিত্রী।