মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯ ভাদ্র ১৪২০
নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের দাবি গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলমান ব্যবস্থায় দেশপ্রেমিক মানুষের নির্বাচনে প্রার্থিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ী হবার কোন সুযোগ নেই। এই অবস্থায় চরম বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরী বলে মনে করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। সেই সঙ্গে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেয়াসহ নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে মোর্চার পক্ষ থেকে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুকে সামনে রেখে এই বাম জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কালো টাকা, পেশীশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিত্তবান, কালো টাকার মালিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী, মাফিয়া ও ক্ষমতাবানদের নিরঙ্কুশ দৌরাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৬ দফা প্রস্তাবনাও তুলে ধরা হয় বৃহত্তর এই বাম জোটের পক্ষ থেকে। সোমবার গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি দাওয়া উত্থাপন করেন।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় করণীয় ॥ নির্বাচন কমিশন হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত। প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ক্ষমতাবান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জনবল ও বাজেটের দিক থেকেও নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক কমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার বিধান সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদ তাদেরকে অপসারণ করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াসম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা ব্যতীত বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীসহ যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, অর্থ, তথ্য ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিরোধ উচ্চ আদালতের কার্যক্রমসহ ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ক্ষমতাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আদালত গঠন করতে হবে। নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে এবং ধনী-দরিদ্র সকল প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে।
প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রচার উপকরণ সরবরাহ, প্রচারণামূলক সভা ও গণমাধ্যমে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা হবে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা। আর প্রার্থীদের জামানত কোনভাবেই দুই হাজার টাকার বেশী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
কমপক্ষে পাঁচ বছর রাজনৈতিক দলে সক্রিয় না থাকলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ীসহ কেউই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, সরকারী সম্পদ আত্মসাতকারী, অর্থসহ জাতীয় সম্পদ পাচারকারী, অসৎ ব্যবসায়ী, ফৌজদারী অপরাধে দন্ডিত, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রভৃতি গণবিরোধী ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হবার সুযোগ পাবেন না। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম মোর্চার সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন, মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মোশাররফ হোসেন নান্নু, শহীদুল ইসলাম সবুজ, হামিদুল হক, মহিনউদ্দীন চৌধুরী লিটন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বহ্নিশিখা জামালী, মানস নন্দি, ফখরুদ্দীন আতিক প্রমুখ।
রকি হত্যাকাণ্ডে আটক গিয়াস ও মনিরের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পল্লবীতে ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শাহ আলী রকিকে (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত গিয়াস ও মনিরের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জনকণ্ঠকে জানান, রকি হত্যাকা-ের ঘটনায় পুলিশ ও গিয়াস কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে। আর এদের ইন্ধনদাতা মনির হোসেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা চাপাতিও উদ্ধার করেছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ওসি জানান, এখনও পর্যন্ত তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি তারা হাতে পাননি।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর মিল্কভিটা রোডের ৮৪৫ নম্বর নিজ বাসার কাছেই হোটেলের সামনে শাহ আলী রকি (২৫) কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫-৬ সন্ত্রাসী তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাঁর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা চারটি চাপাতি ঘটনাস্থলে ফেলেই পালিয়ে যায়। এরপর ঢামেক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ঘটনার দিন গভীর রাতে নিহতের বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান খোকন বাদী হয়ে গ্রেফতার দু’জনসহ মোট সাত সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ঝুট ব্যবসার লেনদেন নিয়ে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আওয়ামী লীগ নেতা রকিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজনীতির পাশাপাশি রকি পল্লবী ও রূপনগরে গার্মেন্টেসে ঝুট ব্যবসা করতেন। এতে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি অংশের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে অপর যুবলীগ নেতা হারুন ওরফে লেবার হারুন, ফিরোজ ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গেও রকির বিরোধ দেখা দেয়। এরা বিএনপি একটি অংশের সঙ্গে হাত মেলায়। এরপরই এই ঝুট ব্যবসা নিয়ে রকির সঙ্গে বিরোধ বাধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ওই অংশটির। এ ব্যাপারে মামলার বাদী নিহত রকির পিতা মতিউর রহমান জানান. হত্যাকা-ের কয়েকদিন আগে একই আসামিরা রকি ও তাঁর শ্বশুর দুলাল হোসেনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা কারও মানেনি। পরে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আমার ছেলে রকিকে ওরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি জানান, এত কিছুর পর গিয়াস কিংবা মনিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মতিউর রহমান জানান, রকির শ্বশুর দুলাল হোসেন ৯২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতার করলে খুব শীঘ্রই খুনের আসল রহস্য উদঘাটন হবে।
আদিলুরকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ার আদেশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর বন্দীর মর্যাদা দিতে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ দেয়। আদিলের স্ত্রী সায়রা রহমান খান রবিবার এই রিট আবেদন করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি আদিলকে কেন প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছে হাইকোর্ট।
স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, কারা মহাপরিদর্শক, ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগারের জেলারকে এ রুলে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বেপরোয়ার কারণে-
সড়ক দুর্ঘটনার খবর আমরা অহরহ শুনি। চালকদের অসতর্কতায় বেশিরভাগ সময় এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চালকরা একটু সতর্ক কিংবা সাবধান হলে অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। দুর্ঘটনায় কেবল সাধারণ পথচারী কিংবা যাত্রীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না। অনেক সময় স্বয়ং ট্রাফিক পুলিশের ঘাড়েও চেপে বসে। সম্প্রতি রাজধানীর নটর ডেম কলেজের সামনে কোন অসতর্ক চালক তার বাস বা ট্রাকটি ট্রাফিক ছাউনিতে উঠিয়ে দিয়েছে। ফলে ছাউনি ভেঙ্গে কাত হয়ে গেছে। যেখানে দুর্ঘটনা থেকে খোদ ট্রাফিক পুলিশরা রেহাই পান না, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা তো আরও করুণ। সোমবার জনকণ্ঠের আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় এ দৃশ্যটি ধরা পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আরও অনুদান
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাভার রানা প্লাজা ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে তাদের ১ দিনের বেতন অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকেদের জানান, তাঁরা সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর কাছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকারও বেশি অর্থের একটি চেক হস্তান্তর করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসর।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ২১ দিনব্যাপী আন্দোলন ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বেতন বৈষম্য ও পেশাগত সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুত ২ দফা কার্যকর না হওয়ায় ২১ দিনব্যাপী যৌথভাবে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ (বাকাছাপ)। সোমবার কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট ২ দফা দাবি পূরণে শিক্ষা ও গণপূর্ত সচিবের প্রতিশ্রুতি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয় ৫ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে সারাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৩ লক্ষাধিক পত্র প্রেরণ, ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ (বাকছাপ) কর্তৃক ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের সকল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং স্ব স্ব সংস্থায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ১৮ সেপ্টেম্বর ১ দিনের গণছুটি, ২২ সেপ্টেম্বর ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কাছের মহাসড়ক অবরোধ, ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আইডিবি ভবন থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সংসদ অভিমুখে যাত্রা ও স্পীকার বরাবর ২ দফার বাস্তবায়নে স্মারকলিপি প্রদান একইদিন দেশের সব জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংসদ নেতা ও স্পীকারকে সারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপরও সরকার দাবি বাস্তবায়ন না করলে সকল ছাত্র-শিক্ষককের অংশগ্রহণে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে কঠোর আন্দোলনের জন্য পরবর্তী ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনটি জানায়।
চলতি বছরে রবির ইন্টারনেটের প্রবৃদ্ধি ৪৭ শতাংশ
তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সেবা চালু হওয়ার পর ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করছে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড। চলতি বছরে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ। এটি গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাব।
রাজধানীর একটি হোটেলে সোমবার সকালে অপারেটরটির তাদের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের বাণিজ্যিক চিত্র তুলে ধরে।
টুজি লাইসেন্স ফি’র ভ্যাট নিয়ে বিরোধ, সিম রিপ্লেসমেন্টের অভিযোগ এবং টু-জি লাইসেন্স ফি এমোরটাইজেশন নিয়ে কিছু বিরোধ থাকলেও আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য থ্রিজি নিলাম নিয়ে আশাবাদী বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে অপারেটরটি।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৪৫১ মিলিয়ন মেগাবাইট। মূলত স্মার্টফোনের মাধ্যমে ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা, ই-মেইল আদান-প্রদানের ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাসাবাড়ি কিংবা হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইন্টারনেট ব্যবহারের চেয়ে মোবাইলফোনেই বেশিসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে রবি কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ক্যুনার, চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, চীফ মার্কেট অফিসার প্রদীপ শ্রীবাস্তবসহ অপারেটরটি পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি
আবুল মনসুর আহমদের জন্মবার্ষিকী আজ
আজ ৩ সেপ্টেম্বর আবুল মনসর আহমদের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী। উপমহাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা।
এই উপলক্ষে আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি সংসদ ঢাকা ও ময়মনসিংহের ধানীখোলায় তাঁর পৈত্রিক বাসভবনে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রপ্নাত্মক রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক। তিনি কৃষক ও নবযুগ পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং ১৯৪৬-এ অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইত্তেহাদে সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক।
অত্যন্ত সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ, শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হকের ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। পূর্ববাংলার স্বার্থের সপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম রয়েছে।
তাঁর রচনা সম্ভারের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক গ্রন্থাবলী-আয়না, আসমানী পর্দা, গালিভারের সফরনামা ও ফুড কনফারেন্স। আরও রয়েছে বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর বিখ্যাত রচনাবলী। তাঁর আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থ হচ্ছে—- আত্মকথা ও আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর।
আবুল মনসুর আহমদ চল্লিশ পঞ্চাশ ও ষাট-এর দশকজুড়ে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে যে প্রচারণা চালিয়েছেন তার তুলনা হয় না। পাকিস্তানের প্রথম দিকে বিরোধীদলীয় আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথমদিকের একজন নেতা।
চল্লিশের দশকের প্রথম থেকেই তিনি ভাষা বিষয়ে লিখে আসছিলেন এবং ইত্তেহাদের সম্পাদক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদান রাখেন। রাজনৈতিক কার্যকারণে আবুল মনসুর আহমদকে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে ও ষাটের দশকের প্রথম দিকে জেনারেল আইউব খানের সামরিক শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়। আবুল মনসুর আহমেদ উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের মধ্যে একজন, যিনি রাজনীতি, সাংবাদিকতা এবং সাহিত্য রচনা এই তিন জ্ঞানের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
বাংলা একাডেমী আবুল মনসুর আহমদ রচনাসমগ্র-এর তিন খ- প্রকাশ করেছে। আরও তিন খ- প্রকাশিতব্য রয়েছে। -বিজ্ঞপ্তি।