মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি জানাবে বাংলাদেশ
আজ দু'দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠক
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতের কাছে দাবি জানাবে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার থেকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া দুই দেশের সীমানত্মে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা এবং সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলাসহ নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। প্রথমদিনে মঙ্গলবার সকালে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রম্নপ অব সিকিউরিটিজ শীর্ষক যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকতর্ারা বৈঠক করবেন। ১৯ ও ২০ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র সচিবরা বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পৰে নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান এবং ভারতের পৰে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিব জি কে পিলস্নাই। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের নয়াদিলস্নীতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ী উপজেলার অননত্মপুর সীমানত্মে গত ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফেলানী (১৫) নামে ওই কিশোরীকে হত্যা করে ভারতীয় সীমানত্ম রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। হত্যার পর তার লাশ কাঁটাতারের আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এই ছবি প্রকাশের পর তোলপাড় শুরম্ন হয়। এ ঘটনা পর কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়াদিলস্নীর কাছেও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। ফেলানী নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরম্নল ইসলাম নূরম্নর মেয়ে। নূরম্ন ভারতের দিলস্নীতে কাজ করেন। তার সঙ্গে সেখানে থাকতেন ফেলানী। দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে বিএসএফের হামলার শিকার হয় সে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব পর্যায়ের বৈঠকের শুরম্নতেই বিএসএফের হাতে ফেলানি হত্যাকা-ের ঘটনা তুলে ধরে সীমানত্ম হত্যা বন্ধের দাবি জানাবে বাংলাদেশ। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাব মতে, ২০১০ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমানত্মে বিএসএফের হাতে ৭৪ জন নিরীহ বাংলাদেশীর মৃতু্য হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনকে গুলি করে এবং ২৪ জনকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আরও ৪৩ বাংলাদেশীকে বিএসএফ অপহরণ করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমানত্ম এলাকায় চলতি বছরও বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে হাসিনা-মনমোহন স্বাৰরিত যৌথ ইশতেহারে দুই দেশের সীমানত্মরৰী বাহিনীর সর্ব্বোচ সংযম প্রদর্শনের ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন। এর পরও সীমানত্মে নিয়মিত হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র জানায়, এর বাইরে মাদক অবৈধ ব্যবহার ও চোরাচালান বন্ধ, সন্ত্রাস দমন, সীমানত্ম নিরাপত্তা, মানবপাচার বন্ধ, সীমানত্মের অপদখলীয় ভূমি উদ্ধার, ছিটমহল সমস্যা সমাধান করাসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে আলোচ্যসূচীতে। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন এবং মাদক চোরাচালান রোধে দুই দেশের সীমানত্ম রৰী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর জোর দেয়া হবে। এ ছাড়া যৌথ সীমানা ওয়ার্কিং গ্রম্নপের বৈঠকের আলোকে অপদখলীয় ভূমি ও ছিটমহল সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার অভ্যনত্মরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ১৮টি এবং লালমনিরহাট জেলার ৩৩টিসহ মোট ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর আয়তন প্রায় ১১০ দশমিক শূন্য ২ একর। ছিটমহলগুলোতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার লোক বাস করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যনত্মরে ভারতের কুচবিহার জেলার ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। যার আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ১৫৮ দশমিক শূন্য পাঁচ একর। ছিটমহলের জনসংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। ১৭৭৪ সালের স্বাৰরিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ছিটমহলগুলোর পরস্পরের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলা হয়েছিল। ভারতের পার্লামেন্টে চুক্তিটি পাস না হওয়ার ছিটমহল নিয়ে পারস্পরিক বিরোধ এখনও রয়ে গেছে।
জরিপ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ২ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৬২ একর জমি বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার ২১৮ দশমিক ২০ একর জমি ভারতের অপদখলে রয়েছে। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির অনুচ্ছেদ-২ অনুযায়ী উভয় দেশের অপদখলীয় এলাকা সংশিস্নষ্ট দেশের কাছে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি অভিন্ন সীমানত্মের মধ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মতো অচিহ্নিত সীমানা রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লাঠিটিলায় তিন কিলোমিটার, ফেনীর মহুরীরচরে দুই কিলোমিটার এবং লালমনিরহাটের বেরুবাড়ির দইখাটায় দেড় কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা রয়েছে।
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে নতুন শিৰানীতি অবদান রাখবে ॥ রাষ্ট্রপতি
কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বাংলার সবচেয়ে পুরনো ও প্রথম সরকারী বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ১শ' ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সোমবার রাজধানীতে উদ্যাপিত হয়েছে। খবর বাসসর।
১৮৩৫ সালের জুলাই মাসে এখানে একটি ইংরেঈ শিৰালয় হিসেবে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল যাত্রা শুরম্ন করে। তৎকালীন বাংলা প্রদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে ব্রিটিশ শাসকরা প্রথম এই সরকারী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করে। খবর বাসসর।
রাষ্ট্রপতি জিলস্নুর রহমান রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ১শ' ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলৰে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে দুই সহস্রাধিক সাবেক শিৰাথর্ী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, মহাসচিব ও সাবেক সচিব এম হারম্নন-উর-রশিদ এবং উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বক্তৃতা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বনামধন্য বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, কবি বুদ্ধদেব বসু, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ব্রিটিশবিরোধী বিপস্নবী দীনেশ গুপ্ত, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীসহ বহু মনীষী এই শিৰা প্রতিষ্ঠানে শিৰালাভ করে জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠান মহীরম্নহের মতো আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে চলার পথ দেখাবে এবং বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার বিশ্বায়নের নতুন যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে 'জাতীয় শিৰানীতি-২০১০' প্রণয়ন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত এই নতুন নীতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' প্রতিষ্ঠায় যুগানত্মকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন। রাষ্ট্রপতি জিলস্নুর রহমান নতুন শিৰানীতি বাসত্মবায়নে ছাত্র-ছাত্রী, শিৰক, অভিভাবকসহ সকলের প্রতি আনত্মরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। অন্য বক্তারা কলেজিয়েট স্কুলের পুরনো ঐতিহাসিক ভবন পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। তৎকালীন পাকিসত্মান সরকার এই বিদ্যাপীঠকে স্টেট ব্যাংক অব পাকিসত্মানে রূপানত্মর করে এবং পরবতর্ীতে জেনারেল এরশাদ সরকার স্কুলটি ভেঙ্গে ফেলে।

তূর্ণা নিশীথা থেকে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর তূর্ণা নিশীথা ট্রেন থেকে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে থামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩এর একটি দল ট্রেনে তলস্নাশি চালায়। তলস্নাশির একপর্যায়ে ট্রেনের একটি বগিতে থাকা কাঠের বাঙ্ থেকে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে রেল কতর্ৃপৰ ও র্যাব তদনত্ম করছে।
ভূমি জটিলতায় আবারও পেছাচ্ছে বিবিয়ানা-১ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় বিবিয়ানা-১ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি সম্পাদনের জন্য সামিট পাওয়ারকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে নোটিস দিলেও জমি সংক্রানত্ম জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যনত্ম সামিট চুক্তিতে অসম্মতি জানিয়েছে। ফলে এক মাসের স্থলে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিবিয়ানা-১ ৪৫০ মেগাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্রর চূড়ানত্ম চুক্তি হয়নি।
পাওয়ারসেল সূত্র জানিয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সামিট পাওয়ারকে বিবিয়ানা-১ এর চুক্তি করার জন্য ১৪ নবেম্বর পাওয়ারসেল (এলওয়াই) নোটিস দেয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী এলওয়াই দেয়ার এক মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করার বিধান। হিসেব অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিবিয়ানা-১ এর চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও রবিবার পর্যনত্ম সামিটের সঙ্গে পাওয়ারসেলের চুক্তি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সামিট গ্রম্নপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান জনকণ্ঠকে বলেন, কেন্দ্র নির্মাণ এবং গ্রিডনির্মাণের জন্য বিদু্যত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং গ্রিড লাইন নির্মাণের জন্য পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) যে জমি প্রয়োজন তার কোনটাই তাদের দখলে নেই। জমি দখলে না আসা পর্যনত্ম চুক্তি করে কোন লাভ হবে না। আজিজ খান বলেন, আমাদের অন্যের যায়গা বুঝিয়ে দিলেই তো আমরা কাজ করতে পারব না। এখনও এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সূত্রমতে, বিবিয়ানা-১ প্রকল্পে ৪৫০ মেগাওয়াটের বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য হবিগঞ্জের বিবিয়ানায় পারকুল, বাটা এবং মজলিসপুর মৌজায় ৪২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ১১ একর সরকারী জমি বাকিটা ব্যক্তিমালিকানার। প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারকে ৰতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। জমি বাবদ এক কোটি ৮১ লাখ টাকা ৰতিপূরণ দেয়া হয়। তবে ৰতিগ্রসত্ম ব্যক্তিরা প্রতি শতক জমির জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। পিডিবির পৰ থেকে এখন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কাজ করতে দিচ্ছে না।
পিডিবির স্থানীয় সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক মোলস্না এ প্রসঙ্গে জানান, কেন চুক্তি হচ্ছে না তা বলতে পারব না, কিন্তু স্থানীয়রা তাদের কাঁটাতারের বেড়া দিতে দিচ্ছে না। জেলা প্রশাসন থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার পরও সমস্যা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক হলেও ফলপ্রসূ কোন সিদ্ধানত্ম হয়নি। ৰতিগ্রসত্মদের বাড়তি দাবি মানার বিষয়টি বিদু্যত মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
দরপত্রের শর্ত মতে, পিডিবি জমি অধিগ্রহণ করে সামিটকে বুঝিয়ে দেয়ার পর তারা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরম্ন করবে। এৰেত্রে পিডিবি জমিতে কোন স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদ করে পুরো জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেবে। এৰেত্রে ভূমি উন্নয়ন, রাসত্মা নির্মাণ সব কিছু সামিট নিজেই করবে।
এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফারম্নক আহম্মেদ বলেন, আমরা গত ৬ তারিখে পিডিবিকে জমিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন তারা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছেন। জমি বুঝিয়ে দেয়ার পর পিডিবির কেউ তাদের কাছে কোন অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। জমি নিয়ে কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে ফারম্নক আহম্মেদ বলেন, আমরা সরকারী পদ্ধতি অনুযায়ী জমির মূল্য নির্ধারণ করলেও মালিকরা বেশি দাবি করেছিল। এ নিয়ে মাস ছয় আগে বিদু্যত সচিবের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তখন তাদের অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিদু্যত সচিব।
পিডিবি সূত্র বলছে, এভাবে নানা কারণে দেশে বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ বিলম্বিত হয়। আর কেন্দ্র নির্মাণের বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের বিদু্যত পাওয়া যায় না। যাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সকলকে। যেহেতু বিদু্যত কেন্দ্রটি আইপিপিতে তাই এখান থেকে ভাড়াভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্র থেকে অনেক কমদামে বিদু্যত পাওয়া যাবে। সঙ্গতকারণে বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণে আরও গতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পিডিবি চেয়ারম্যান এসএম আলমগীর কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, জমির আগেও কিছু বিষয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল তা করা হচ্ছে। এখন বিষয়গুলো প্রায় চূড়ানত্ম পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই চুক্তি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলমগীর কবির বলেন, জেলা প্রশাসন জমির দখল দিলেও মালিকরা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি।
একই বিষয়ে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আলম বলেন, গ্রিড নির্মাণের জন্য যে জমির প্রয়োজন তার অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পের জন্য জমি কোন সমস্যা হবে না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্র নির্মাণের পর বিবিয়ানায় সামিট সাবস্টেশন নির্মাণ করবে আর ঢাকার পাশে পিজিসিবি সাবস্টেশন নির্মাণ করবে। পিজিসিবি ইতোমধ্যে গ্রিড নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।
সামিট বর্তমান সরকারের সময় ছোট বড় মিলিয়ে ৫ বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে। এরমধ্যে মদনগঞ্জে-১০০ মেগাওয়াটের একটি বিদু্যত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। আগামী মার্চে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো নির্মাণের জন্য এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
গঠিত সামরিক আদালত ছিল অবৈধ ॥ দণ্ড প্রাপ্ত রবিউল
তাহের হত্যা মামলার শুনানি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের গোপন আদালতে বিচার চলার সময়কার অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রবিউল আলম আদালতে বলেছেন, ১৯৭৬ সালে গঠিত সামরিক আদালত ছিল অবৈধ। নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতেই জিয়াউর রহমান এ সাজানো বিচারের আয়োজন করেন। কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানিতে অংশ নিয়ে একই বিচারে দ-প্রাপ্ত মোঃ রবিউল আলম সোমবার আদালতকে এ কথা বলেন। ওই বিচারে রবিউলের পাঁচ বছর সাজা হয়েছিল। তিনি আদালতে বলেন, আমার জীবন থেকে ৫টি বছর নিয়ে গেছে জিয়াউর রহমান। এ নিয়ে মোঃ রবিউল আলমসহ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুর আলী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও সার্জেন্ট (অব) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বীরপ্রতীক সাৰ্য দিয়েছেন। আজ আব্দুল আলীর দেয়া এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শওকত আলীকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।
এ পর্যনত্ম যাঁরা সাৰ্য প্রদান করেছেন তাঁরা সবাই বলেছেন, জিয়াউর রহমান ৰমতা কুৰিগত করতেই তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। তাঁদের সাৰ্যে দেখা যায় গোপন বিচারের মূল লৰ্য ছিল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া। আদালতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মোঃ রবিউল আলম, যশোর থেকে ঢাকায় এসে গোপন বিচার সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে সোমবার ষষ্ঠদিনের মতো শুনানি হয়। আজ ঘটনার সময়কার ঢাকার জেলা প্রশাসক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এমএম শওকত আলীর আদালতে হাজির হবার কথা রয়েছে। এ ছাড়া গোপন আদালতের সদস্যদের বর্তমান অবস্থান এবং ওই সময়কার নীতিনির্ধারক সেনা কর্মকর্তাদের তালিকা জমা দেয়ার কথা। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল।
আদালতের কাছে হারানো সম্মান ও ক্ষতিপূরণস চেয়ে রবিউল আলম বলেন, সেদিন কোন বিচার হয়নি। কোন চার্জশীট দেয়নি। ১৬৪ ধারায় কোন জবানবন্দী নেয়া হয়নি। অভিযুক্তদের পৰে কোন আইনজীবী নিয়োগ করতে দেয়া হয়নি। জিয়াউর রহমানের সব সময়ই পাকিসত্মানী প্রীতি ছিল। রাজাকারদের তিনি পুনর্বাসন করেছেন। শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছেন জিয়াউর রহমান। যাঁরা নিজের ইচ্ছার বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তাঁদের মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন। জিয়াউর রহমানের মুখে কোনদিন জয় বাংলা শুনিনি জিয়াউর রহমানের বিচার হওয়া উচিত। মোঃ রবিউল আলম বলেন, সাজানো বিচারের মাধ্যমেই সেদিন কর্নেল তাহেরসহ আমাদের সাজা দেয়া হয়েছিল। আমার বিরম্নদ্ধে কী অভিযোগ তা আজ পর্যনত্ম জানানো হয়নি। বিচার চলাকালে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। এমনকি, আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গেও দেখা বা কথা বলতে দেয়া হয়নি।
কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তাঁর ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের ও সামরিক আদালতের বিচারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তাঁর আরেক ভাই প্রয়াত ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ ২০১০ সালের আগস্ট মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ প্রেক্ষিতে ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট সরকারের প্রতি রুল জারি করে।

দুই রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স সানরাইজ এজেন্সিস (আরএল-০১৬), ১/৮ ফকিরাপুল, হোটেল নুরানী বিল্ডিং, মতিঝিল এবং মেসার্স মারিয়া ওভারসিজ (আরএল-৫৭২), ইস্টার্ন ভিউ (৪র্থ তলা), রম্নম নং-১০, ডিআইটি এঙ্টেনশন রোড, ৫০ নয়া পল্টনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ ও শর্ত ভঙ্গের জন্য বহির্গমন অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি দুটির লাইসেন্স বাতিলসহ সমুদয় জামানত বাজেয়াফত করা হয়েছে।
বাজেয়াফতের আদেশ প্রত্যাহার ॥ রিক্রুটিং এজেন্সি 'মেসার্স শাহজাহান ওভারসিজ (আরএল-৮৮১)' এর লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াফতসংক্রানত্ম আদেশটির কার্যকারিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। _তথ্য বিবরণী।
রামপুরায় গৃহকর্মীর সারাদেহে গরম খুন্তির ছেঁকা
বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা আটক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর রামপুরায় আসমা খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে গরম খুনত্মির ছঁযাকা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী। এরপর ওই কিশোরী গৃহকর্মীকে বাথরম্নমে আটকে রাখা হয়। এ সময় গৃহকর্মীর গোঙানি শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে গৃহকমর্ীকে বাথরম্নম থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসিতে) ভর্তি করেছে। পুলিশ গৃহকর্তা ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদ পলস্নবকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ মাস ধরে আসমা খাতুন পূর্ব রামপুরার ডিআইটি রোডের ই/৩ নম্বর গ্রীন টাওয়ারের ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদের বাসায় কাজ করে আসছে। কাজের সামান্য ত্রম্নটি হলেই গৃহকত্রর্ী জেসমিন আক্তার শিলা ওরফে লিমা কাজের মেয়ে আসমাকে হাত-পা বেঁেধ ও মুখে কাপড় গুঁজে বেদম প্রহার করত। সারারাত টয়লেটে আটকে রাখত। শনিবার রাতেও গৃহকমর্ী আসমাকে গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে গরম খুনত্মির ছেঁকা দিয়ে বাথরম্নমে আটকে রাখে। পরের দিন সোমবার ভোরে প্রতিবেশীরা গৃহকমর্ীর গোঙানির শব্দ পেয়ে পুলিশকে জানায়। এদিকে আহত গৃহকমর্ী আসমা খাতুনের মা আলেয়া বেগম জানান, মেয়ে আসমাকে পূর্ব রামপুরা গ্রীন টাওয়ারের ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদের বাসায় কাজে দিই। কাজে যোগ দেয়ার কিছুদিন পর নানা অজুহাতে মেয়ে আসমাকে গৃহকর্তা কায়েস, গৃহকর্তা লিমা ও তার মা জাহানারা নির্যাতন করতেন। গত মাস থেকে তাদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। শনিবার রাতে খাবার দিতে একটু দেরি হওয়াতে আসমাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বাসার সবাই তাকে হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে রামপুরা থানায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই রফিক জানান, গৃহকর্তা কায়েস আহমেদকে গ্রেফতার করা হলেও অপর ২ আসামি গৃহকত্রর্ী জেসমিন আক্তার শিলা ওরফে লিমা ও তার মা জাহানারা বেগম পলাতক রয়েছে। আহত গৃহকমর্ীর মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আসামি কায়েসকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নির্যাতিত গৃহপরিচারিকা আসমা খাতুনের পিতা মরহুম ইব্রাহিম ঢালী। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার রম্নদ্রক গ্রামে। মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে আসমাকে উদ্ধার করে থানা হফাজতে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বিশ্ব এজতেমা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্ব এজতেমা উপলক্ষে রেলওয়ে ২৫টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস এবং সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ৫০টি বাস দিয়ে মুসলিস্ন পরিবহন করবে। এ ছাড়া সকল আনত্মঃনগর, মেল এবং এঙ্প্রেস ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, আখেরী মোনাজাতের আগের দু'দিন ২১ এবং ২২ জানুয়ারি জামালপুর-টঙ্গী এবং আখাউড়া-টঙ্গী প্রতিদিন একটি করে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। আখেরী মোনাজাতের দিন ২৩ জানুয়ারি ২২টি বিশেষ ট্রেন চলবে। এর মধ্যে ঢাকা-টঙ্গী সাতটি, টঙ্গী-ঢাকা সাতটি, টঙ্গী-ময়মনসিংহ চারটি, টঙ্গী-আখাউড়া দুটি এ ছাড়া টঙ্গী-লাকসাম এবং ঈশ্বরদী-টঙ্গী-ইশ্বরদী একটি করে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। সকল আনত্মঃনগর, মেল এবং এঙ্প্রেস ট্রেন ১৮ থেকে ২৩ তারিখ পর্যনত্ম টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে।
বিশেষ ট্রেন পরিচালনার জন্য আখেরী মোনাজাতের দিন ৭০১/৭০২ সুবর্ণ এঙ্প্রেস এবং ৭০৭/৭০৮ তিসত্মা এঙ্প্রেস চলাচল করবে না। এ ছাড়া একই দিন ঢাকা-জয়দেবপুর এবং নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুরের তুরাগ এঙ্প্রেস ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ চলাচল করবে না। রেলওয়ে সূত্র বলছে, যাত্রীদের তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে সকল স্টেশনে সর্বৰণিক মাইকিং, মুসলিস্নদের জন্য অতিরিক্ত টিকেট কাউন্টার এবং টঙ্গী স্টেশনে সর্বৰণিক চিকিৎসক থাকবেন।
বিআরটিসি সূত্রমতে, ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি এবং ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি ৫০টি বাস বিভিন্ন এলাকা থেকে এজতেমা এলাক পর্যনত্ম যাত্রী পরিবহন করবে। এজতেমা সার্ভিসের বাসগুলো আরিচা, পাটুরিয়া, মাওয়া, মিরপুর, নরসিংদী, ভৈরব, ময়মনসিংহ, সায়েদাবাদ, গুলিসত্মান, গাবতলী, কমলাপুর এবং জয়দেবপুর থেকে যাত্রী পরিবহন করবে। এ ছাড়া রাজধানীর মধ্য থেকে ফুলবাড়িয়া, কমলাপুর এবং ফার্মগেট থেকে যাত্রীদের জন্য এজতেমাস্থল পর্যনত্ম বিআরটিসির বাস চলাচল করবে। মুসলিস্নদের চাহিদা অনুযায়ী ২১-২২ জানুয়ারি এবং ২৮-২৯ জানুয়ারি দ্বিতল বাস কাকরাইল মসজিদ থেকে এজতেমাস্থলে নিয়ে যাবে। বাসগুলো দ্বিতল-বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে চলাচল করবে। আখেরী মোনাজাতের পরের দিন ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্ম সময়ে মুসলিস্নদের গনত্মব্যে পেঁৗছে দেয়ার জন্য এজতেমাস্থল থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে বিআরটিসির বাস ছেড়ে যাবে। এ ছাড়া বিদেশী মুসলিস্নদের সুবিধার্থে একটি সংরৰিত মিনিবাস চলাচল করবে। এজতেমা সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিআরটিসি পৃথক দুটি কন্ট্রোল রম্নম খুলবে। এজতেমা সার্ভিসের সকল গাড়িতে স্পেশাস সার্ভিসের স্টিকার লাগানো থাকবে।
রাজধানীতে দুই ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে সর্বস্ব ছিনতাই
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর চকবাজার ও পল্টন থানা এলাকায় ছিনতাইকারীরা দুই ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছে। আহতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম (৩০) ও সাইদুর রহমান (২৫)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় চকবাজার থানাধীন আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ৩/৪ ছিনতাইকারী জাহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে চকবাজার থানার এসআই আমিনুল ইসলাম তাকে রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জাহিদুল ইসলামের পিতার নাম মজিবুর রহমান। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ফুলতলা। এদিকে রবিবার রাত ১২টায় পল্টন থানাধীন কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনের রাসত্মায় ছিনতাইকারীরা পথচারী ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পল্টন থানার সহকারী দারোগা মনির হোসেন টহল ডিউটি করার সময় সাইদুর রহমানকে রাসত্মায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া আহত দু'জনই ব্যবসায়ী।

ইভটিজিংবিরোধী ক্যাম্পেন করায় ঢাবি শিক্ষককে হুমকি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিৰককে চিরকুটে হুমকি দেয়া হয়েছে। তার নাম মোঃ মুমিত আল রশিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসর্ী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক। শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৬৮৯।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৬ এপ্রিল মোঃ মুমিত আল রশিদ ইভটিজিংবিরোধী ক্যাম্পেন শুরম্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইভটিজিংয়ের ৰতিকর বিষয়গুলো তুলে কলাম লিখতে শুরম্ন করেন। সর্বশেষ গত ৭ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে 'ইভটিজিংয়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রযুক্তি' শীর্ষক কলাম লেখেন। গত ১৩ জানুয়ারি ফাসর্ী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ঠিকানায় তাকে হুমকি দিয়ে ঠিকানাবিহীন চিরকুট পাঠানো হয়। এই অবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জিডিতে উলেস্নখ করেছেন।

সরকার দুই বছরে সবৰেত্রে ভাল করতে পারেনি ॥ ও. কাদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকার গত দুই বছরে সবৰেত্রে ভাল রেজাল্ট করতে পারেনি, কিন্তু সার্বিক পরীৰায় সরকার পাস করেছে। তবে রাজপথ ও সংসদ দুটোতেই ফেল করেছে বিরোধী দল।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জনতার প্রত্যাশা সংগঠন আয়োজিত 'সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি-আমাদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি।
বিরোধী দল সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অবস্থা হচ্ছে কখনও পূর্ণিমার চাঁদ, আবার কখনও অমাবস্যার চাঁদ। প্রথম দিন পৌর নির্বাচন চলাকালে দুপুরে তাঁরা বললেন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, আবার সন্ধ্যায় দেখলাম তাঁদের মুখে পূর্ণিমার চাঁদের হাসি। আসলে বিরোধী দল বাসত্মবতাকে এখনও মেনে নিতে পারেনি। তিনি রাজনীতিবিদদের এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের উচিত দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে ফিরে জনগণের জন্য কথা বলা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পৌর নির্বাচন নিয়ে কথা বলায় সময় এখনও আসেনি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগ হেরে গেছে এটাও বলা যাবে না। কারণ জাতীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ আর স্থানীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় এজেন্ডা কাজ করে। তার পাশাপাশি জাতীয় সমস্যা যেমন বিদু্যত, বাজারমূল্য ইত্যাদি সমস্যা আসবেই।
স্পষ্টবাদী এ নেতা আরও বলেন, আমাদের রাজনীতিতে সততা নৈতিকতার জায়গায় ভ-ামি আর অসৎ পর্যায়ে চলে গেছে, যা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। বাসত্মব চিত্রকে কোন ভাবেই আড়াল করা যায় না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ওঠানামা করে। এটা হয় দৰতার ওপর। বারাক ওবামা ৭০ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়ে ৰমতায় এসে এখন তার জনপ্রিয়তা ৪০-এ নেমে এসেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী তিন বছরে আমাদের দেশে আরও পরিবর্তন আসবে। যাদের অস্ত্রবল, বাহুবল আছে_ রাজপথ এখন তাদের দখলে। ত্যাগী ও মরমী মানুষেরা রাজনীতিতে অযোগ্য হয়ে পড়ছে। দেশের রাজনীতিতে সঙ্কটকাল চলছে মনত্মব্য করে তিনি বলেন, রামগড় থেকে একটি ট্রাক আসতে যেমন টোকেন নিয়ে ঘাটে ঘাটে টাকা দিতে হয়, আমাদের নির্বাচনের অনত্মরালেও কত কিছু ঘটে। নির্বাচনের মাঝেও ঘাটে ঘাটে অনেককে খুশি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সততার সহাবস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনে একজন কালোবাজারী ১৫ কোটি টাকা খরচ করলে, কোন সৎ লোক ৫ লাখ টাকা খরচ করেও ওই কালোবাজারীর সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে না। তাই সত্যিকারের রাজনীতিবিদরা ক্রমেই নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে প্রায় ৫০ জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে ১০-১৫ কোটি টাকা খরচ করে।
সংগঠনের আহ্বায়ক এমএ করিমের সভাপতিত্বে আর বক্তব্য রাখেন কুমিলস্না উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম হুমায়ুন মাহমুদ, অরম্নণ সরকার রানা, আকরাম হোসেন, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও হুমায়ন কবির সুজন।
কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা মামলার সাক্ষ গ্রহণ ফের পেছাল
কোর্ট রিপোর্টার ॥ সাক্ষী না আসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেতে রাখা ৭৬ কেজি বোমা উদ্ধারের মামলার সাৰ্য গ্রহণ আবারও পিছিয়েছে। সোমবার ঢাকার দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সাৰ্যের জন্য আগামী ২৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০০ সালের ২২ জুলাই শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার শেখ লুৎফর রহমান কলেজ মাঠে একটি জনসভায় ভাষণ দেবার কথা ছিল। ২০ জুলাই সকালে শেখ লুৎফর রহমান কলেজের উত্তর পাশে সনত্মোষ সাধুর দোকানঘরের সামনে থেকে ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার কর হয়। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক নুর হোসেন বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় বিস্ফোরক আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন।

পৌর নির্বাচনের ফল মহাজোটের জন্য সতর্কবাণী ॥ হাওলাদার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌরসভা নির্বাচনের ফল মহাজোটের আগামী নির্বাচনের জন্য সতর্কবাণী বলে মনত্মব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ.বি.এম রম্নহুল আমিন হাওলাদার। তবে চূড়ানত্ম জনপ্রিয়তা যাচাই হবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সোমবার হোটেল সুন্দরবনে অনুষ্ঠিত তেজগাঁও থানা জাপার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাপা মহাসচিব বলেন, পৌর নির্বাচন ক্ষুদ্র হলেও একটি গুরম্নত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকারের অবকাঠামো, এ কথা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই।