মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
রূপচর্চা আলাপন আর ঐতিহ্যের স্মারক...
বউঘাটের মধুময়তা
সমুদ্র হক ॥ বউঘাটের সেই মিষ্টি কথা ও মধুময়তার দিনগুলো হারিয়েই গিয়েছে। মধ্যবয়সী ও প্রবীণরা স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন। বউঘাটের কথা উঠলে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। জীবনের একটি অংশের বড় অধ্যায় হয়ে আছে ওই বউঘাট। বিশেষ করে সেদিনের নারীদের স্মৃতিতে তা অমøান। একটা সময় গ্রামে ও শহরে শানবাঁধা পুকুরঘাট ছিল দৃষ্টিনন্দন। বিশেষ করে গ্রামে বড় গৃহস্থ বাড়ির শান বাঁধানো পুকুরঘাটের পরিচিতি ছিল বউঘাট হিসেবে। তারও অনেক আগে প্রাচীন সভ্যতার বড় নিদর্শন ছিল বউঘাট। রোমান গ্রীস ফ্রান্স ব্রিটিশ কালে এবং এর মধ্যবর্তী মুঘল শাসনামলে বউঘাটের অস্তিত্ব ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে বউঘাট প্রথা চালু করেন বল্লাল সেন। তখন ১ হাজার ১শ’ ৫৮ খ্রীস্টাব্দ। সেই থেকে শুরু। তবে কালের আবর্তে এই বউঘাট শুধু ইতিহাস হয়ে আছে। পুকুরে নারীর কোলাহল, সৌন্দর্য ও রূপচর্চা এবং স্নান বিলাসের কতই না আয়োজন ছিল। কদর তো ছিলই। দিনে অন্তত একবার বউঘাটে না গেলে গাঁয়ের বধূর মন ভরত না, প্রাণ জুড়াত না। নববধূ হলে তো কথাই নেই। যত রূপচর্চার আলাপন সবই ওই বউঘাটে। সেদিনের বউঘাটকে ঘিরে মানব জীবনের চিরন্তন ধারা রোমান্টিসিজমের শাখা প্রশাখা কম ছিল না। বৈষ্ণব সাহিত্যে প্রেমের রস ৬৪টি। যার প্রথম রস পূর্বরাগ, দ্বিতীয় রস অনুরাগ। তবে মতান্তরে পূর্বরাগ শুরু হয়ে অনেক রস অতিক্রম করে সর্বশেষ রস অনুরাগে পরিণত হয়ে প্রণয় হয় সার্থক। বৈষ্ণবে যাই হোক তিব্বতের বড় তীর্থস্থান মানস সরোবরের পরের অংশকে প্রণয়ের রথ হিসেবে বর্ণনা করে মানস শব্দটিকে মন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয় মন রথ। এই মন রথের সরোবারও বউঘাট। একজন প্রবীণ বললেন বউঘাট ছিল চুম্বুকের মতো। কত প্রেমিক অপলক নয়নে বউঘাটের দিকে তাকিয়ে হৃদয়ের মানুষের প্রতীক্ষায় থাকত। প্রণয়ের প্রহর গোনা শুরু হতো বউঘাটে, কারও অবসানও হতো বউঘাটেই। প্রেম বিরহের কীর্তিগাঁথা ছিল বউঘাট। বউঘাটের দূর অতীত এ রকম- খ্রিস্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগে সিন্ধু নদের অববাহিকায় হরোপ্পা মহেনজোদরোতে গড়ে ওঠে স্নানাগার। যেখানে খনন করে মেলে বিশাল স্নানাগার। ৩৯ ফুট দৈর্ঘ ২৯ ফুট প্রস্থ ৮ ফুট গভীরতার একটি পুকুর সাক্ষ্য দেয় বউঘাটের। বগুড়ার মহাস্থানগড়ের কাছে গোকুল মেড় নামের যে প্রাচীন স্থাপনা বেহুলার বাসরঘর নামে অধিক পরিচিতি বহন করছে তার মধ্যেও স্নানাগার মিলেছে। খ্রিস্টপূর্ব রোমে স্নান প্রথা চালু হয় গ্রীক সভ্যতাকে অনুসরণ করে। তৃতীয় শতকের রোম সম্রাট ৩৩ একর ভূমি কেটে স্নানাগার তৈরি করেন। রোম ও গ্রীক সভ্যতার এমন স্নানবিলাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। স্নান বা গোসলকে কেন্দ্র করে রোমান নারীরা মিলত হতো বউঘাটে। প্রণয়ের মানুষও থাকত আশপাশে প্রসাধনীর পসরা বসিয়ে। এরপর ইস্তাম্বুল পেরিয়ে দুই হাজার বছর আগে রোমানরা ইংল্যান্ড বিজয় করে সেখানে গড়ে তোলে স্নানাগার। এই স্নানাগারগুলো নির্মিত হয় শানবাঁধা পুকুরে। রোমান্টিসিজমের অধ্যায় শুরু হওয়ায় যে ইংরেজী নামকরণ হয় তার আভিধানিক অর্থ বউঘাট। যেখানে রোমান্সের কত কাহিনী ইতিহাস হয়ে আছে। যেমন ব্রিটিশ সুন্দরী ভিলবিয়া এক রোমান যুবকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিল। ব্যর্থ ব্রিটিশ যুবক যেখানে আত্মাহুতি দিয়েছিল সেখানে আজও ব্যর্থ প্রেমিক প্রেমিকারা অশ্রুপাত করে। ফ্রান্সের সম্রাট দ্বিতীয় হেনরীর প্রিয়তমা ডায়না পইটিয়ার বউঘাটের শীতল জলে স্নান করে সম্রাটকে মুগ্ধ করতেন। ইউরোপীয় সুন্দরী নেলগোয়াইন সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত বউঘাটে যেতেন। ইংল্যান্ডের সপ্তম এডওয়ার্ডের (যার স্ট্যাচু বগুড়া এডওয়ার্ড পার্কে আছে এবং যার নামে এই পার্ক) প্রেমিকা লিলি বিনি বউঘাটের অভাবে বৃষ্টির পানিতে স্বল্প বসনা হয়ে স্নান শুরু করলে অভিজাত রমনীরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সম্রাটের আদেশে বউঘাট নির্মাণ শুরু হয়। মিসরীয় সভ্যতায় টলেমি যুগের প্রথম ক্লিওপেট্রা বউঘাট চালু করেন। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশে বল্লাল সেন যে বউঘাট প্রথা চালু করেন বঙ্গীয় ব-দ্বীপে। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে (বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে) জমিদাররা বউঘাট নির্মাণ শুরু করলে পরবর্তী অধ্যায়ে বড় গৃহস্থরা) সেই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যায়। শানবাঁধা পুকুরঘাট বা বউঘাট স্থাপনের পর নারীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। জাতিধর্ম নির্বিশেষে কোন ঘরে নববধূ প্রবেশের পর তাকে নেয়া হয় বউঘাটে। গ্রামাঞ্চলে বউঘাটকে ঘিরে আজও গীত গাওয়া হয়। যেমন ‘নতুন বউ আলতা পায়ে বউঘাটে যায়/ঘাট সিঁড়ি বেয়ে বউ ঢেউ খেলা পায়...’। বউঘাটে যেতে না দেয়ায় প্রজারা একবার জমিদারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বউঘাট নিয়ে অনেক জারি গান রচিত হয়েছে। যেমন ‘কলিকালের বেটিরা কত দেখায় কলা/বউঘাটেতে গেলে পরে ফাইট্যা পড়ে গলা...’। বউঘাটকে নিয়ে যে কত স্মৃতি...। ভরা চাঁদের রাতে বউঘাটে বসে কপোত কপোতি মুখোমুখি বসে কতই না মধুময়তার কথা...। সেদিনের জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আজও কখনও দেখা মেলে বাউঘাটের। দেশে দিনে দিনে সেদিনের পুকুরের অস্তিত্ব বিলীন ও নিশ্চিহ্ন হওয়ায় বউঘাট ও বউঘাটের কথাও হারিয়ে যাচ্ছে।
ইইউর আস্থা অর্জনে যৌথ কমিশন কার্যকরের উদ্যোগ
বাংলাদেশের গার্মেন্টসের ৬০% ইউরোপের বাজারে রফতানি হয়
এম শাহজাহান ॥ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগসহ নানা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার পর ইইউ অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে। এক সময় রফতানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা স্থগিতেরও ঘোষণা দেয় ইইউ। এই সঙ্কট দূর করে ইইউ’র আস্থা অর্জনে এবার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয়ান কমিশনের মধ্যে উন্নয়ন, বাণিজ্যিক, পরিবেশ, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গত ২০০০ সালের ২২ মে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী যৌথ কমিশনের কাজের সহায়তা, প্রকল্প প্রণয়ন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বয়ের লক্ষ্যে তিনটি বিশেষায়িত সাব গ্রুপ সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা গঠিত হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়লেও আর বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ কারণে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় ৭ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হচ্ছে ইইউ। ইইউ’র ২৭টি দেশে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চিংড়িসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে। শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছে ইইউ। এ কারণে আগামী বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগসহ নানা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক আহ্বান করা হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
এদিকে, বিভিন্ন কারণে ইইউসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এতদিন যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ কমিশন ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছিল। বেশ কয়েকটি কমিশন বৈঠক আয়োজন করে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি সূত্র জানিয়েছে, এ কমিশনের কার্যক্রম স্থিমিত হওয়ার অন্যতম কারণ আর্থিক অনটন। ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বজায় রাখা হয়। আর এ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন-এর সুফলও ভোগ করে আসছিল বাংলাদেশ। ইউরোপীয় দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানি বন্ধ করে দিলেও এ কমিশনে বৈঠকের ফলে আবার তারা বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানি শুরু করে। অপরদিকে এ কমিশনের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের জন্য সে দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের ৭-৮ তারিখে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে নতুন শ্রমিক নেয়ার আশ্বাস দেয়। আশ্বাস মোতাবেক তারা শ্রমিকও নেয়া শুরু করে। ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চীন বাংলাদেশের বেশ কিছু নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর অংশ হিসেবে চীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ এবং টু পয়েন্ট ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প, সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্প ও দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া ২০১০ সালের ৩১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি, চিংড়ি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউইর অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন সন্তোষজনক হলে নতুন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
চার শর্তে ইউরোপে জিএসপি সুবিধা বহাল ॥ চার অঙ্গীকার পূরণের শর্তে ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা বহাল রয়েছে। সরকারকে এ অঙ্গীকারগুলো পূরণ করতে হবে। চার শর্তের বাইরে আরও কয়েকটি নির্দেশনা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। তবে সরকার ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, অনেক শর্ত উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে পরিপালন করা সম্ভব নয়। এজন্য আরও সময় প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ চার অঙ্গীকার হচ্ছে-চলতি বছরের মধ্যে শ্রম আইনের সংশোধন ও পাশাপাশি এ আইন প্রয়োগের নিশ্চয়তা বিধান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী এ সম্পর্কে প্রতিবেদন। আইএলও কনভেশন এ্যাক্ট ৮৭ ও ৯৮ ধারার সঙ্গে সংশোধিত শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা রক্ষার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার পরামর্শ গ্রহণ।
কয়েক শ’ কোটি টাকার মালিক জঙ্গী ছালামত
যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমের হাত ধরে উত্থান
এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ চট্টগ্রামে আটক জঙ্গী ছালামত উল্লাহসহ পাঁচ জঙ্গীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত অঞ্চলের লোকজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর হাত ধরে উত্থান ঘটে জঙ্গী ছালামত উল্লাহর। সম্প্রতি আটক ভয়ঙ্কর জঙ্গী মৌলভী ছালামত উল্লাহ আরএসওর বাংলাদেশের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সৌদি ও তুরস্ক থেকে রোহিঙ্গাদের নামে অঢেল টাকা এনে নিজে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ছালামতের রয়েছে অন্তত কয়েকশ’ কোটি টাকার জমি-জমা ও দালান কোটা। যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর সহযোগিতায় এ জঙ্গী ছালামতের সৌদি আরবে ধনাঢ্যশালীদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে। কক্সবাজারে জামায়াতের পরিচালনাধীন রাবেতা আলম আল ইসলামী হাসপাতালে বসে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে জঙ্গী ছালামত উল্লাহ দেশে নাশকতা সৃষ্টি ও জঙ্গীপনার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ১৯৮০ সালে রাবেতা হাসপাতালে জামায়াতের মদদে ঐ আরএসও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা করা হয়। ড. মোঃ ইউনুছ রোহিঙ্গা প্যাট্টিয়টিক ফ্রন্ট (আরপিএফ) নামে প্রথমে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের পরামর্শে এ সংগঠনটি আরএসও নাম ধারণ করে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে আরএসওর সঙ্গে আল কায়দাসহ আরও কয়েকটি জঙ্গী গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিজেদের কৌশলপত্র নির্ধারণ, মানচিত্র, পতাকা তৈরিসহ নিজস্ব সংবিধানও রয়েছে আরএসওর। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আরএসওর সমন্বয় করে থাকে সম্প্রতি চট্টগ্রামে আটক ভয়ঙ্কর জঙ্গী মৌলভী ছালামত উল্লাহ। লন্ডন প্রবাসী জঙ্গী নেতা নুরুল ইসলাম সংগঠনের অর্থ সংগ্রহের মূল কাজটি করে থাকে বলে তথ্য মিলেছে।
সূত্র জানায়, কয়েক যুগ ধরে মিয়ানমারের একাধিক আরাকান বিদ্রোহী সংগঠন এদেশের মৌলবাদী একাধিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সহযোগিতায় অপতৎপরতা শুরু করে। সে সুযোগে আরাকান প্রদেশে একটি মহল মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা যুবকদের দ্বারা গভীর অরণ্যে ঘাঁটি স্থাপন করে সেখানে প্রশিক্ষণের মতো নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্বে ও ১৯৭৮ সালে এদেশে পালিয়ে এসে বসতি গড়ে তোলা প্রভাবশালী রোহিঙ্গা ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশায় নিয়োজিত বিত্তশালী মানুষ (মিয়ানমার নাগরিক) সেসব রোহিঙ্গা যুবকদের দ্বারা পরিচালিত আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) সংগঠনটিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরএসওর সুরা সদস্যরা হচ্ছেÑ ড. মোঃ ইউনুছ, নুরুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি বিছামারার এজাহার হোসেন, মৌলভী আয়াছ, হাফেজ জাবের ও মৌলভী ছালামত উল্লাহ। বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে (মিয়ানমার অভ্যন্তরে) পাহাড়ে অবস্থিত ও লামায় গহিন অরণ্যে ঘাঁটিতে আরএসও সদস্যদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র সংরক্ষণ রয়েছে বলে সীমান্তের উপজাতীয় পরিবারের একাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আরএসও সর্বশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয় নতুন কমিটি। একই বছর ৩০ জুলাই নতুন কমিটি গঠিত হয়। কক্সবাজারে মুহুরীপাড়ায় ‘ইসলামী সংস্থার’ নামে সম্মেলনও করা হয়েছিল। ঐ সম্মেলনে আরএসও শীর্ষ লিডার লন্ডন প্রবাসী নুরুল ইসলাম ও মোঃ ইউনুছ উপস্থিত ছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন যথাক্রমে ড. মোঃ ইউনুছ, হাজী মোঃ জাবেদ ও রাশেদ আহমদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছে- ইউনুছ আবাদি, আবু আব্দুল্লাহ ছিদ্দিক, মৌলভী আবুল ফয়েজ, নূর মোহাম্মদ মনসুর, মৌলভী মোঃ আয়াছ, আবদুর রশিদ, মোঃ মাজেদ, আবু কাদের, আবু ইয়াহিয়া, মীর আহাম্মদ, আবদুল হামিদ, রুহুল আমিন, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ, আবু সালেহ, আলহাজ হাবিবুল্লাহ, ছৈয়দ আলম, হাফেজ আহমদ চেরাগ, ডাঃ আলম, মৌলভী সেলিম, মোস্তফা কামাল লালু, মৌলভী নুরুল ইসলাম, নূর হোসেন ও মৌলভী নজিরসহ অন্তত ৫০ জনের অধিক সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল। ঐ নির্বাচনে কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি বিছামারা কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা পুরনো রোহিঙ্গা নেতা এজাহার হোসেন।
ওসব ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বা প্রত্যক্ষদর্শী আরএসওর মূল অবস্থান স্থলে অবাধ যাতায়াত করতে পারে না বলে জানা গেছে। আরএসওর বাংলাদেশ সীমান্তের (মিয়ানমার পাহাড়ে) ঐ ঘাঁটিতে প্রায় ২ থেকে ২৫০ সামরিক সদস্য রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এসব সদস্য পাহাড়ে পৃথকভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি দোছড়ি ইউনিয়নের ক্ষুরিক্ষ্যং থেকে শুরু করে টেংরাটিলা (কালো পাহাড়) ইংলং পাড়া পর্যন্ত এলাকাজুড়ে মিয়ানমারে অরণ্যে অবস্থান করে থাকে। তাদের খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদি নিয়মিত সরবরাহ করে থাকে বলে হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আরএসওর এসব সদস্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের কতিপয় নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সূত্র মতে, দুর্গম এলাকা এবং মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরএসওর ঘাঁটি হওয়ায় বিজিবির পক্ষে সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে আটক ভয়ঙ্কর জঙ্গী ছালামত উল্লাহর অন্যতম সহযোগী রোহিঙ্গা জঙ্গী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (এআরএনও) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রোহিঙ্গা ভিত্তিক চট্টগ্রাম কালাদন প্রেসের পরিচালক আবু তাহের ওরফে পিন্টু ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাসকারী মাস্টার ইকবালকে কক্সবাজার গাড়ির মাঠ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নিকট থেকে পুলিশ নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি উদ্ধার করেছে।
জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত লেজার ওয়াল ও ফ্লাডলাইট নির্মাণ করবে
মিয়ানমারই এখন জঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়
শংকর কুমার দে ॥ ভারতে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় হলেই জঙ্গীরা চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে। বাংলাদেশে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। এ কারণে জঙ্গীরা এখন চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের মতামত ব্যক্ত করে। জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত সীমান্তে অদৃশ্য দেয়াল অর্থাৎ লেজার ওয়াল ও ফ্ল্যাড লাইট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। গোয়েন্দা সূত্র এ খবর দিয়েছেন।
সীমান্তে অদৃশ্য দেয়াল বা লেজার ওয়াল এমনই প্রযুক্তি যে হঠাৎ করে হন্তদন্ত হয়ে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করতে চাইলে কিছুই দেখতে পাবেন না, অথচ দেয়ালে ধাক্কা খাবেন। এমন এক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে সীমান্তে জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। ভারতের কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের তদন্ত প্রতিনিধি দল বর্ধমান খাগড়াগড়ের জেএমবির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত শেষে আজ ঢাকায় ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
রবিবার ভারতের গুয়াহাটিতে ডিজিপি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে উত্তর-পূর্বের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসমসহ উত্তর-পূর্বে যেভাবে মৌলবাদী ও জিহাদী শক্তি ঘাঁটি মজবুত করেছে তা ধ্বংসে কেন্দ্রীয় সরকারের রণনীতি কি হবে সেই বিষয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো আভাস দিয়েছেন।
এদিকে বর্ধমান খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সীমান্তে জঙ্গী তৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সফররত সাত সদস্যের তদন্ত প্রতিনিধি দলকেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দেয়া হয়। দুই দেশই একসঙ্গে জঙ্গী প্রতিরোধে করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। জঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ, পলাতক জঙ্গীদের হদিসের সন্ধানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দারা।
ভারতের গোয়েন্দারা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে জঙ্গীরা তাড়া খেয়ে গা ঢাকা দিচ্ছে মিয়নামারে। মিয়ানমারই জঙ্গীদের এখন নিরাপদ আশ্রয়। আগামীতে বাংলাদেশের মতোই মিয়ানমারও যাতে জঙ্গীবিরোধী অবস্থান নেবে বলে আশা করছে ভারতের গোয়েন্দারা। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুপ্রবেশ রুখতে অদৃশ্য দেয়াল বা লেজার ওয়াল, বেড়া ও ফ্ল্যাড লাইট বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলকে।
বাংলাদেশের নাগরিক জঙ্গী সাজিদ ওরফে রহমত উল্লাহ শেখ ওরফে নারায়ণগঞ্জের মাসুদ রানা ওরফে মাসুম, ভারতের নাগরিক জঙ্গী আবদুল হাকিম, মিয়ানমারের নাগরিক জঙ্গী খালিদ মুহম্মদকে বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ করে ত্রিদেশীয় জঙ্গী যোগাযোগের নেটওয়ার্ক পেয়েছে। বাংলাদেশের জেএমবির জঙ্গীরা এখানে ধাওয়া খেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গাড়ার প্রমাণ দিচ্ছে বর্ধমান খাগড়াগড়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতে। আর ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে মিয়ানমারের নাগরিক জঙ্গী খালিদ মুহাম্মদের সঙ্গে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষায়।
ভারতেই ৭০ এর বেশি জঙ্গী সংগঠন ॥ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেছেন, ভারতেই রয়েছে ৭০ এর বেশি জঙ্গী সংগঠন। জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ দুশ্চিন্তার কারণ। জঙ্গীদের গোপন তৎপরতা নিত্য ঘটছে। এটা ঠেকানো একটি চ্যালেঞ্জ। জঙ্গী তৎপরতায় অন্যান্য অপরাধ ঘটছে।
লেডি হিট স্কোয়াড ॥ ভারতের কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জের মাসুদ রানা ওরফে সাজিদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ছক সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বাংলাদেশের জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গী ও আত্মঘাতি (সুইসাইড স্কোয়াড) দলের সদস্যদের সম্পর্কে। ‘লেডি হিট স্কোয়াড’ স্কোয়াড গঠন করে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল রাজশাহীর নারী ও শাহনেওয়াজ ও জিন্নাতুল্লা। এই দুই নারী জঙ্গী তালেবানি আদর্শে বিশ্বাসী নারী মানববোমা হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ফিরে এসেছে ॥ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা ফিরেছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে জেড এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁরা।
সফটওয়্যার রফতানি করে শত কোটি ডলার আয়ের টার্গেট
ব্যক্তি উদ্যোগে সহযোগিতা দেবে সরকার
ফিরোজ মান্না ॥ সফটওয়্যার রফতানি করে ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার টার্গেট নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যক্তি উদ্যোগে এই শিল্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই খাত থেকে বছরে এক শ’ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে সফটওয়্যার শিল্পে সরকারী সহযোগিতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সফটওয়্যার রফতানির কাজ শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায় জনকণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুধু সফটওয়্যার রফতানির কাজেই সহযোগিতা দেবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের সব ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা রয়েছে। তবে সফটওয়্যার শিল্পের দিকটি বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। কারণ এই শিল্পের বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল। এতদিন ব্যক্তি উদ্যোগে সফটওয়্যার রফতানি করা হচ্ছিল। মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেলে উদ্যোক্তারা সহজে রফতানি কাজটি করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে সফটওয়্যার রফতানিতে তারা সহযোগিতা দেবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরকে আইসিটি ডেস্কের দায়িত্ব দিলে তিনি একদিকে যেমন বিদেশে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং করতে পারবেন, পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি বাজার তৈরি ও সম্প্রসারণ করতে পারবেন। এছাড়া বেসিসের ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সেক্টর বিদেশে তাদের ব্র্যান্ডিং করতে পারবে। সফটওয়্যার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই শিল্পের বিকাশ ঘটেছে খুব দ্রুত। দেশে প্রায় ১১শ’ প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার তৈরি করে। নিজেদের উদ্যোগেই তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বাজারজাত করছে। সফটওয়্যার খাতটি আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে। তাছাড়া এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা যেমন যোগ হয়েছে, তেমনি বিদেশীদের আস্থাও বেড়েছে আমাদের ওপর। সে কারণে রফতানির পরিমাণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে আমরা এর চেয়েও অনেক বেশি আয় এনে দিতে পারব বলে আশা করছি। গত অর্থবছর শেষে আয় দাঁড়িয়েছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার। সেখানে লক্ষ্য ছিল সাড়ে আট কোটি ডলার। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিভন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বেসিস। যেভাবে সব কিছু এগোচ্ছে তাতে তার আগেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি।
বেসিস জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার বিদেশের বাজারের বড় ধরনের জায়গা করে নিয়েছে। এখন এই শিল্প থেকে প্রতি বছর এক শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় হচ্ছে। ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার শিল্প থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আয়ের টার্গেট নিয়ে এই শিল্পের উদ্যোক্তারা। তারা এই টার্গেট পূরণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
শিল্পের উদ্যোক্তারা বলেন, উদ্যোক্তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব থাকলেও এই শিল্প বিকাশে অনেকেই নিজ উদ্যোগে সফটওয়্যার তৈরি করে যাচ্ছে। এই শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বেকারত্বের হারও কমছে। বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ হাজার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাজ করে যাচ্ছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ সফটওয়্যার শিল্পে এক লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাজ করবেন বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি বলেন, সফটওয়্যার শিল্প বিকাশে আপনারা কাজ করছেন। আমাদের দেশে উদ্যোক্তা নিজেরাই এই শিল্প অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সরকারী সহযোগিতা পেলে এই শিল্প বিকাশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার কিংবা কোন উদ্ভাবনের জন্য সরকারী সহায়তা দেয়া হয় না। সেখানে ব্যক্তিগত খাত থেকে তাদের সহায়তা দেয়া হয়। আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য ব্যক্তিগত খাত থেকে বিনিয়োগ গড়ে ওঠেনি। ব্যবসায়ীদের উচিত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করা।
এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে ২ কোটি ডলার দেশে এসেছে। এবার সেটি ৪ কোটি ডলার পেরিয়ে যাবে। এই হিসাব বিবেচনা করা হলে সব মিলে সফটওয়্যার খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সফটওয়্যার রফতানি খাতে আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসের আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রফতানি হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে এই শিল্প থেকে। গত অর্থবছরে প্রথম তিন মাস শেষে আয় হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, আমাদের দেশের নীতিগত ও কৌশলগত কারণে সফটওয়্যার শিল্পের যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। অভ্যন্তরীণ বাজারে সফটওয়্যার চাহিদা বাড়লেও সরকারের কোন পৃষ্ঠপোষকতা থাকছে না। কারণ যখনই সরকার সফটওয়্যার কিনছে, তখনই দেখা যাচ্ছে বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে সফটওয়্যার কিনছে। দেশীয় কোন কোম্পানি সেখানে যেতে পারছে না। এই শিল্পটি হচ্ছে মেধাভিত্তিক। মেধা সংরক্ষণ না করতে পারলে শিল্পের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়। আমি মনে করি সাধারণ মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এটা করতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে না। স্কুল, কলেজ ও পলিটেকনিকগুলো থেকেই মেধা তৈরি করা সম্ভব।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সার্ভিসসমূহের আনুমানিক বাজার এক হাজার থেকে ১২শ’ কোটি টাকা। এই শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। কিন্তু বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে সফটওয়্যার শিল্পকে সরকারের পর্যায় হতে স্বীকৃতি প্রদান করা হলেও শিল্পের বিকাশে সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বেসিসের সূত্র মতে, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭ মিলিয়ন ডলার। গত বছর অর্থাৎ ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি না পেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে সফটওয়্যার শিল্পে রফতানি আয় বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সফটওয়্যার শিল্পে প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স এবং নেপালের তৈরি সফটওয়্যার বিদেশে রফতানি হচ্ছে। সরকারী সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম এবং নেপাল সফটওয়্যার শিল্পে ভাল করছে। এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই শিল্পে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিযেছে। এখন সফটওয়্যার শিল্প এগিয়ে নিতে কোন সমস্যা হবে না।
যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ সাখাওয়াত ও শামসুদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে পেশ, জেলে প্রেরণ
জব্বারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পক্ষের ও সুবহানের পক্ষে আসামিপক্ষের সওয়াল শেষ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোরের জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ও কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী শামসুদ্দিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ জব্বারের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক সফটওয়্যার রফতানির কাজ শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায় জনকণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুধু সফটওয়্যার রফতানির কাজেই সহযোগিতা দেবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের সব ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা রয়েছে। তবে সফটওয়্যার শিল্পের দিকটি বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। কারণ এই শিল্পের বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল। এতদিন ব্যক্তি উদ্যোগে সফটওয়্যার রফতানি করা হচ্ছিল। মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেলে উদ্যোক্তারা সহজে রফতানি কাজটি করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে সফটওয়্যার রফতানিতে তারা সহযোগিতা দেবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরকে আইসিটি ডেস্কের দায়িত্ব দিলে তিনি একদিকে যেমন বিদেশে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং করতে পারবেন, পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি বাজার তৈরি ও সম্প্রসারণ করতে পারবেন। এছাড়া বেসিসের ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সেক্টর বিদেশে তাদের ব্র্যান্ডিং করতে পারবে। সফটওয়্যার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই শিল্পের বিকাশ ঘটেছে খুব দ্রুত। দেশে প্রায় ১১শ’ প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার তৈরি করে। নিজেদের উদ্যোগেই তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বাজারজাত করছে। সফটওয়্যার খাতটি আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে। তাছাড়া এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা যেমন যোগ হয়েছে, তেমনি বিদেশীদের আস্থাও বেড়েছে আমাদের ওপর। সে কারণে রফতানির পরিমাণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে আমরা এর চেয়েও অনেক বেশি আয় এনে দিতে পারব বলে আশা করছি। গত অর্থবছর শেষে আয় দাঁড়িয়েছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার। সেখানে লক্ষ্য ছিল সাড়ে আট কোটি ডলার। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিভন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বেসিস। যেভাবে সব কিছু এগোচ্ছে তাতে তার আগেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি।
বেসিস জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার বিদেশের বাজারের বড় ধরনের জায়গা করে নিয়েছে। এখন এই শিল্প থেকে প্রতি বছর এক শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় হচ্ছে। ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার শিল্প থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আয়ের টার্গেট নিয়ে এই শিল্পের উদ্যোক্তারা। তারা এই টার্গেট পূরণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
শিল্পের উদ্যোক্তারা বলেন, উদ্যোক্তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব থাকলেও এই শিল্প বিকাশে অনেকেই নিজ উদ্যোগে সফটওয়্যার তৈরি করে যাচ্ছে। এই শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বেকারত্বের হারও কমছে। বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ হাজার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাজ করে যাচ্ছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ সফটওয়্যার শিল্পে এক লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাজ করবেন বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি বলেন, সফটওয়্যার শিল্প বিকাশে আপনারা কাজ করছেন। আমাদের দেশে উদ্যোক্তা নিজেরাই এই শিল্প অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সরকারী সহযোগিতা পেলে এই শিল্প বিকাশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার কিংবা কোন উদ্ভাবনের জন্য সরকারী সহায়তা দেয়া হয় না। সেখানে ব্যক্তিগত খাত থেকে তাদের সহায়তা দেয়া হয়। আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য ব্যক্তিগত খাত থেকে বিনিয়োগ গড়ে ওঠেনি। ব্যবসায়ীদের উচিত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করা।
এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে ২ কোটি ডলার দেশে এসেছে। এবার সেটি ৪ কোটি ডলার পেরিয়ে যাবে। এই হিসাব বিবেচনা করা হলে সব মিলে সফটওয়্যার খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সফটওয়্যার রফতানি খাতে আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসের আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রফতানি হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে এই শিল্প থেকে। গত অর্থবছরে প্রথম তিন মাস শেষে আয় হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, আমাদের দেশের নীতিগত ও কৌশলগত কারণে সফটওয়্যার শিল্পের যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। অভ্যন্তরীণ বাজারে সফটওয়্যার চাহিদা বাড়লেও সরকারের কোন পৃষ্ঠপোষকতা থাকছে না। কারণ যখনই সরকার সফটওয়্যার কিনছে, তখনই দেখা যাচ্ছে বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে সফটওয়্যার কিনছে। দেশীয় কোন কোম্পানি সেখানে যেতে পারছে না। এই শিল্পটি হচ্ছে মেধাভিত্তিক। মেধা সংরক্ষণ না করতে পারলে শিল্পের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়। আমি মনে করি সাধারণ মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এটা করতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে না। স্কুল, কলেজ ও পলিটেকনিকগুলো থেকেই মেধা তৈরি করা সম্ভব।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সার্ভিসসমূহের আনুমানিক বাজার এক হাজার থেকে ১২শ’ কোটি টাকা। এই শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। কিন্তু বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে সফটওয়্যার শিল্পকে সরকারের পর্যায় হতে স্বীকৃতি প্রদান করা হলেও শিল্পের বিকাশে সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বেসিসের সূত্র মতে, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭ মিলিয়ন ডলার। গত বছর অর্থাৎ ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি না পেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে সফটওয়্যার শিল্পে রফতানি আয় বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সফটওয়্যার শিল্পে প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স এবং নেপালের তৈরি সফটওয়্যার বিদেশে রফতানি হচ্ছে। সরকারী সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম এবং নেপাল সফটওয়্যার শিল্পে ভাল করছে। এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই শিল্পে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিযেছে। এখন সফটওয়্যার শিল্প এগিয়ে নিতে কোন সমস্যা হবে না।
স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পৈত্রিক বাড়ি সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখালে অবস্থিত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর পৈত্রিক বাড়ি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শ্রীনগর থানার ওসিকে সাত দিনের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
অন্তবর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুলও জারি করেছে আদালত। রুলে ১৯৬৮ সালের এ্যান্টিকুইটিস এ্যাক্টসের ১০ ধারা অনুসারে জগদীশচন্দ্র বসুর তিন শ’ বছরের পুরনো বাড়ি সংরক্ষণে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে ওই বাড়ি সংরক্ষণে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং ওই বাড়িকে প্রতœতাত্ত্বিক স্থান ঘোষণা করে কেন গেজেট প্রকাশ করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে সংস্কৃতি সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব, ভূমি সচিব, প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার এবং শ্রীনগর থানার ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।
গত ২৩ নবেম্বর ‘জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীর বাড়িটি যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে’ শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ২৬ নবেম্বর রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী। তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, আইন অনুসারে এই ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে সরকার বাধ্য। এ ধরনের বাড়ি সংরক্ষণে প্রত্বতত্ত্ব আইনের ১০ ধারায় নির্দেশনা থাকলেও সরকার এই বাড়ির ক্ষেত্রে তা পালন করেনি।
সুপ্রীমকোর্টে মীর কাশেমের আপীল দায়ের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টে আপীল আবেদন দায়ের করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের অন্যতম নেতা যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলী। রবিবার সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপীলের এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মীর কাশেমের আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মুনির। তিনি বলেন, আপীলে ১৮১টি যুক্তিতে আমরা তার খালাস চেয়েছি। মূল আপীল ১৫০ পৃষ্ঠা। এ ছাড়া ১ হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠার দলিল-দস্তাবেজ দাখিল করা হয়েছে মূল আপীলের সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই দলিল-দস্তাবেজ বিবেচনায় নিয়ে আপীল বিভাগ মীর কাশেম আলীকে খালাস দেবেন। গত ২ নবেম্বর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাশেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- নিশ্চিত করার আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া।
আটজনকে নির্যাতনের পর হত্যা ও মরদেহ গুম এবং ২৪ জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্যাতন কেন্দ্রে আটকে রেখে নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী ১৪ অভিযোগে অভিযুক্ত হন মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ নেতা মীর কাশেম আলী। এ ১৪ অভিযোগের মধ্যে ১০টি অর্থাৎ ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ৪টি অর্থাৎ ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ উপনির্বাচন ॥ আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য পদের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে রবিবার বিকেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ নবেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন রিটার্নিং অফিসার তাঁকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
এ আসনের সংসদ সদস্য গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার ৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করায় ২৮ অক্টোবর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২০ নবেম্বর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন মিলন ও ধুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম মুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু আখতারুল ইসলামের মনোনয়নপত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে তা বাতিল করা হয়। প্রত্যাহারের শেষ দিন রবিবার রিটার্নিং অফিসার, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার একমাত্র বৈধ প্রার্থী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন বলে জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রহিম নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগ নয়, ভবিষ্যতে জনগণ বিএনপিকেই বর্জন করবে ॥ নাসিম
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও গণতান্ত্রিক দল নয়-তাদের বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লায় খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নয় ভবিষ্যতে জনগণ বিএনপিকেই বর্জন করবে। আন্দোলনের নামে অতীতে তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালাও, পোড়াও, পুলিশ হত্যাসহ যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তা দেশবাসী ভুলে যায়নি। তাদের কৃতকর্মের কারণেই আগামী দিনে জনগণ তাদের বর্জন করবে। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি সিরাজগঞ্জের রতনকান্দি ইউনিয়নের ক্ষুদ্রবয়ড়া ও রবীন্দ্র পোটল গ্রামে আড়াই শ’ পরিবারের মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাসিম। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া যতই বড় বড় কথা বলুন না কেন, এটি প্রমাণিত যে মুষ্টিমেয় কিছু হতাশ ও জনসমর্থনহীন ব্যক্তি ছাড়া তার সঙ্গে আর কেউ নেই।
এর আগে মোহাম্মাদ নাসিম শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি ভলিবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। দুপুরে কাজীপুর উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার, দলের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলাম এবং পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সুলতান নাসিমুল হক উপস্থিত ছিলেন। ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম আরও বলেন, তারা আন্দোলন করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের আন্দোলন হুমকিতে সরকার চিন্তিত নয়।
বাদশা ইলিয়াস ॥ ডিআরইউ নির্বাচন বাদশা সভাপতি ইলিয়াস জিএস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সভাপতি ও ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৩০৪ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৯৬ জন ভোট প্রদান করেন।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ডিআইরউ সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শওকত মাহমুদ, আবু তাহের ও এম এ আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি পদে সাখাওয়াত হোসেন বাদশা পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামালউদ্দিন (ইত্তেফাক) পেয়েছেন ৩৩৭ ভোট। এ পদে মনির হোসেন লিটন (৭১টিভি) পেয়েছেন ৩২৮ ভোট এবং আজমল হক হেলাল (সকালের খবর) পেয়েছেন ৫৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস হোসেন পেয়েছেন ৪২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাকিব হাসনাত সুমন (বিবিসি) পেয়েছেন ৩৪৬ ভোট। এ পদে নজরুল কবির (দেশ টিভি) পেয়েছেন ১৮২ ভোট এবং সফিউল আলম রাজা (যুগান্তর) পেয়েছেন ১৩২ ভোট।
এছাড়া রফিকুল ইসলাম আজাদ (ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট) সহ-সভাপতি, ফেরদাউস মোবারক (ডেইলি স্টার) যুগ্ম সম্পাদক, রিয়াজ চৌধুরী (আলোকিত বাংলাদেশ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও মঈনউদ্দিন খান (নয়াদিগন্ত) প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক নয়াদিগন্তের আশরাফুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক পদে প্রাইম নিউজের মেহেদী আজাদ মাসুম, নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে আইরীন নিয়াজী মান্না, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দৈনিক কালের কণ্ঠের আজিজুল পারভেজ ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে বদরুল আলম খোকন ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির আমিনুল হক ভূঁইয়া ।
কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, শাহনাজ শারমীন, সাজিদা ইসলাম পারুল, ফারুক খান, ওসমান গনি বাবুল, হাবিবুর রহমান, হরলাল রায় সাগর ও কামাল উদ্দিন সুমন।
পদ্মা সেতুর ৪২ পরামর্শক কাজে যোগ দিচ্ছেন আজ
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ পদ্মা সেতুর সুপারভিশন কনসালট্যান্ট ‘কুরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন’ নেতৃত্বে ৬টি প্রতিষ্ঠানের ৪২ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা আজ সোমবার কাজে যোগ দিচ্ছেন। কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেপাল এবং বাংলাদেশ পরামর্শকরা যোগদান করেই মাওয়া আসছেন। প্রতিনিয়ত মাঠে থেকে কাজের সুপারভিশন করবেন তাঁরা। এদিকে অবৈধ অধিকাংশ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার পর মাঝেরচর কাটা শুরু হচ্ছে আজ। চায়না থেকে আনা ৬টি বড় আকারের ড্রেজার একযোগে কাটবে এই চর। মূল সেতু এলাকার দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল এই চর আড়াই শ’ মিটার প্রশস্থ করে ক্যানেল তৈরি করা হবে পদ্মা সেতুর পাইল স্থাপনের জন্য। শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকার এই বিশাল চরের মাঝে ক্যানেলের দু’তীরে আরও আড়াই শ’ মিটার এলাকা থাকবে সেতুর জন্য সংরক্ষিত। এদিকে মাওয়া ঘাট সরিয়ে নেয়ার পর তা পদ্মা সেতু ঠিকাদারকে রবিবার বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানির প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিউ জিন হুয়া এলাকাটি বুঝে নেন। লিউ জিন হুয়া জানান, সোমবার থেকেই সেতুর কাজের স্বার্থে পুরনো এই ঘাট এলাকাকে সংরক্ষণ করা হবে। এদিকে সেতুর দু’পারে সংযোগ সেতুর এলাকার বালু ভরাট কাজও শুরু হচ্ছে সোমবার।
সাউথ সাউথ এ্যাওয়ার্ড লাভে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন
সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ কর্তৃক সম্মানজনক ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করায় রবিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, নির্বাচনে না এসে এখন ভুল বুঝতে পেরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন নির্বাচনের জন্য চেঁচামেচি করছেন। দেশে জনসমর্থন না পেয়ে এখন বিদেশীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যতই হুমকি-ধামকি কিংবা ষড়যন্ত্র করুক, আগামী নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়াকে ৫ বছরই অপেক্ষা করতে হবে। রাষ্ট্রকে উনি হামলা করলে রাষ্ট্র কর্তৃক তাঁকে আক্রান্ত হতেই হবে।
জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার সংসদ অধিবেশনে আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ কর্তৃক ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হয়ে দেশ ও জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এর ওপর আলোচনা শেষ সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস হয় এবং টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক আলী আশরাফ, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, মাহবুব উল আলম হানিফ, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান, ড. হাছান মাহমুদ, পংকজ দেবনাথ, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, ওয়ার্কার্স পার্টির মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী।
শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, উনি বলেন দেশে নাকি কোনই উন্নয়ন হয়নি! উনি কোন গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করেন? বিএনপি নেত্রী না দেখলেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নশীল সমৃদ্ধিশালী দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ’৭২ সালে সারাবিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় দরিদ্র দেশ ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সেই বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবিচল আস্থা আগামীতেও দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণশিকড়ে উন্নীত করবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে অগ্রগামী দেশ হিসেবে পরিচিত। আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া সারাদেশে বিস্তৃত হওয়ার কারণেই বিশ্বমন্দার মধ্যেও আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। অসাধারণ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আজ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এ বিশাল অর্জন শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, গোটা দেশের মানুষের।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বসে যারা পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন, তাদের নেতৃত্বে দেশ কোনদিন এগিয়ে যেতে পারে না। ’৭৫-এর পর থেকে বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকে ক্ষমতা দখলকারীদের বাংলাদেশকে কিভাবে চুষে খাওয়া যায়, তারই প্রতিযোগিতা চলেছে। এ কারণে বিগত সরকারগুলোর সময় বাংলাদেশ কোন অর্জন বা পুরস্কার অর্জনের কথা তো দূরের কথা, তিরস্কার পাওয়ারও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। শেখ হাসিনা দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন বলেই বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছ থেকে পুরস্কার ও সুনাম অর্জন করছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবেই।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের জন্য বিরল এ সম্মান অর্জন এনে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার কারণেই বাংলাদেশ একটির পর একটি আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করছে।
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে গণতন্ত্রের কী হতো? হাজার হাজার মানুষ মারা যেত, দেশ ধ্বংস হয়ে যেত, গণতন্ত্র হরণ হতো। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে বলেই অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিএনপি নির্বাচনে না এসে এখন ভুল বুঝতে পেরেছে, নির্বাচনের জন্য চেঁচামেচি করছে। কিন্তু বিএনপিকে আগামী ৫ বছর নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া না জেতা পর্যন্ত কোন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, জানি না। রাষ্ট্রকে হামলা করলে রাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেই। গণতন্ত্র আছে বলেই খালেদা জিয়া রাষ্ট্রকে হামলা করলে তাঁকে আক্রান্ত হতেই হবে, মামলারও মুখোমুখি হতে হবে। আপনাকে ৫ বছর ধৈর্য ধরতেই হবে।
সরকারী দলের মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের কাছে আস্থা হারিয়ে আজ বিদেশীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। সংলাপ বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষ আর সংলাপ চায় না। বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায়।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতীয় পার্টি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসলে দেশের এতো অর্জন কোনদিনই সম্ভব হতো না। সংঘাত-সংঘাত, সংসদ বর্জন, অশোভন আচরণ ও ফাইল ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে না। এ দেশের কল্যাণের জন্য সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করব।
সরকারী দলের লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য সুনাম অর্জন করছেন, পুরস্কার নিয়ে আসছেনÑ ঠিক তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশকে অগ্রগতির মিছিল থেকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকত না। বিএনপি সেটাই চেয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচন না হলে সিপিএ, আইপিইউ বা সাউথ সাউথ পুরস্কার অর্জিত হতো না। শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন।
তারানা হালিম প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের ক্ষতি করে, ধ্বংস করে কী ভাবে খালেদা জিয়া দেশনেত্রী হোন? ক্ষমতার লোভে উনি দেশকে বিশ্বের কাছে ছোট করছেন। দেশকে পিছিয়ে দিতে জঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া যে অশুভ খেলা শুরু করেছে, তা কোনদিন সফল হবে না।
চৌরাসিয়ার বাঁশিতেও শোকের আবহেও
সংস্কৃতি সংবাদ
মনোয়ার হোসেন ॥ সুরের আসর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের চতুর্থ রজনী ছিল রবিবার। তবে আনন্দময় সুরের আবাহনের পাশাপাশি এ নিশীতে আকস্মিকভাবে নেমে আসে শোকের আবহ। সঙ্গীতের এ মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা শেষ করে হঠাৎ কী যেন বলতে আবারও এসেছিলেন মঞ্চে। সে কথা বলার আগেই, সুরের আসরে মাথা ঘুরে পড়ে যান এদেশের চারুকলা ভুবনের পথিকৃৎ ও বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। এর পর শিল্পীকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়ার পর জানা গেল, চিরতরে প্রস্থান করেছেন তিনি। তাঁর জীবনাবসান হলেও তাল-সুর ও লয়ের উচ্চাঙ্গের সঙ্গীতাসরটি চলেছে ঠিকই আপন গতিতে। কারণ, তিনি ছিলেন সঙ্গীতানুরাগী। তাই তাঁর প্রয়াণে থামেনি সঙ্গীতযজ্ঞ। বরং সুরের ভেতর দিয়ে জানানো হয়েছে এ শিল্পীকে শ্রদ্ধা। তাঁকে উৎসর্গ করে হয়েছে নানা পরিবেশনা। উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত শ্রোতা-শিল্পীসহ সবাই দাঁড়িয়ে পালন করেন ১ মিনিট নিরবতা।
চলছিল পরিবেশনা। রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। মঞ্চে আসেন শোকবিহ্বল এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। বেদনার্তকণ্ঠে আনিসুজ্জামান বলেন, গভীর বেদনাচিত্তে এখানে দাঁড়িয়েছি। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আর আমাদের মাঝে নেই। নিজের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘ ৬০ বছরের সম্পর্ক। প্রচ্ছদ অঙ্কন দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে তাঁর জলরঙের কাজ এ দেশের চিত্রকলার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মানুষ আর প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর ছবি স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি কাইয়ুম সাহিত্য ও সঙ্গীতের গভীর অনুরাগী ছিলেন। তিনি সঙ্গীতকে ভালবাসতেন, চাইতেন তাঁর কারণে যেন সঙ্গীতের বিঘ্ন না হয়। তাঁর সেই ইচ্ছাকে কল্পনা করে আমরা এ উৎসব চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, তাঁর এ চলে যাওয়া আলোকিত চলে যাওয়া। স্মৃতি ও কর্মের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন।
কাইয়ুম চৌধুরীর শেষ কথা ॥ উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাইয়ুম চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন দেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চর্চা উচ্চ শিখরে উঠবে। এ সময় নিজের মৃত্যুশঙ্কা উচ্চারণে তিনি বলেন, আমি বেঁচে থাকতে হয়ত সেই অবস্থা দেখতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে দেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের চর্চা উচ্চ শিখরে যাবে বলে আশা করি। আগেও এদেশে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এখানে ছিল, তবে তখন পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। যে কারণেই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বাহাদুর হোসেন খাঁ, ফুলঝুরি খাঁ’রা ভারতে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি উৎসবে শ্রোতাদের উপস্থিতি দেখে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন।
এ অঞ্চলের শিল্পকলার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, দেশভাগের আগে এ ভূখ-ে চারুকলার চর্চায় কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। তখন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে চারুকলার মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শুধু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি শিল্প আন্দোলন সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলতেন, শুধু ছবি আঁকলে শিল্পী হওয়া যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শিল্পী সংস্কৃতির সঙ্গে না জড়ান।
উৎসবের চতুর্থ রজনীর পরিবেশনা ॥ এ রাতে বাংলাদেশের তরুণ শিল্পী অমিত চৌধুরীর ভরতনাট্যম দিয়ে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। আর সব শেষে গভীর রাত পেরিয়ে ভোরের সূচনালগ্নে ছিল প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশির সুর মূর্ছনা। বাঁশের তৈরি সামান্য বাঁশিতে এই প্রবাদপ্রতীম বাঁশরিয়া তোলেন মধুর থেকে মধুরতম শব্দধ্বনি। সুরেলা শব্দের অনুরণনে ঝড় তোলেন শ্রোতার অন্তরাত্মায়। রাতজাগা নির্ঘুম সঙ্গীতানুরাগীর অন্তরে ছড়িয়ে দেন অপার প্রশান্তির ছোঁয়া। আর এমন মোহনীয় পরিবেশনায় মন্ত্রমুগ্ধ সঙ্গীতপিপাসুরা কয়েক দফা করতালির সঙ্গে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান এই কিংবদন্তি বংশীবাদককে। শুরু আর সমাপ্তির মাঝে ছিল তাল ও লয়ের মেলবন্ধন ঘটানো দেশের শিল্পী স্বরূপ হোসেনের তবলাবাদন। সরোদে সুর ঝড়ান প্রবাদপ্রতিম সরোদবাদক আমজাদ আলী খানের শিষ্য আমান আলী খান ও আয়ান আলী খান ভ্রাতৃদ্বয়। কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন গোয়ালিয়র ঘরানার তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী সামিহান কাশালকর। সরোদ আর সেতারের যুগলবন্দী পরিবেশনা দিয়ে শ্রোতা মাতান পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার ও গণেশ রাজ গোপালন। যন্ত্রসঙ্গীতের পর কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করবেন কৌশিকী চক্রবর্তী।
ভরতনাট্যমে অমিত চৌধুরী নাটেশা কৌথুওয়াম পরিবেশন করেন রাগ নাট্টাই এবং আধিতালে। তারপর তিনি নটনম আডিনার পরিবেশন করেন বসন্ত রাগে। তাঁর সর্বশেষ তিল্লানা পরিবেশন করেন রাগ পূরবীতে রূপক তালে। তাঁর সঙ্গে বেহালায় সঙ্গত করেন সত্য বিশাল অভিরেড্ডি, মৃদঙ্গম সঙ্গত করেন সুরিয়া নারায়নান গোপাল কৃষ্ণাণ, নাট্যভঙ্গমে ছিলেন রাজদীপ ব্যানার্জি এবং কণ্ঠসঙ্গীতে ছিলেন সুকুমার গোবিন্দন কুট্টি।
এর পর চতুর্থ দিনের উৎসব অধিবেশন উদ্বোধন করেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে কাইয়ুম চৌধুরী ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
সরোদে মায়া ছড়িয়ে আমান আলী খান ও আয়ান আলী খান পরিবেশন করেন রাগ ঝুনঝট ও রাগেশ্বরী। এ দুই শিল্পীর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন সত্যজিৎ তালওয়ালকার। কাইয়ুম চৌধুরীকে উৎসর্গ করে সামিহান কাশালকর পরিবেশন করেন রাগ মালকোষ। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন সঞ্জয় অধিকারী ও হারমোনিয়ামে ছিলেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়।
আজকের উৎসবসূচী ॥ আজ সোমবার পাঁচ দিনের উৎসবের সমাপনী দিন। পঞ্চরজনীর সঙ্গীতযজ্ঞ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। রাত গড়িয়ে চলবে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত। এ রাতের পরিবেশনা পর্ব শুরু হবে দেশের খ্যাতিমান ও প্রতিশ্রুশীল ৩০ শিল্পীর সম্মেলক কণ্ঠে বাংলা গানের মাধ্যমে। এক সুরে গাইবেন ফরিদা পারভিন, সুবীর নন্দী, শাহীন সামাদ, মিতা হক, খায়রুল আনাম শাকিল, শামা রহমান, ইয়াকুব আলী খান, কিরণ চন্দ্র রায়, অদিতি মহসিন, অনিন্দিতা চৌধুরী, আজিজুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বুলবুল ইসলাম, চন্দনা মজুমদার, ইলোরা আহমেদ শুক্লা, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, ইফ্ফাত আরা দেওয়ান, ইয়াসমিন মুসতারি, জান্নাত-ই-ফেরদৌসি, ঝুমা খন্দকার, লাইসা আহমেদ লিসা, মাসুদা নার্গিস আনাম, মহিউজ্জামান চৌধুরী, নাসিমা শাহিন, প্রিয়াঙ্কা গোপ, শহীদ কবির পলাশ, শারমিন সাথী ইসলাম, সেমন্তি মঞ্জরী, সুমা রানী রায় ও তানিয়া মান্নান। এর পর কত্থক নৃত্যের অনবদ্য উপস্থাপনায় মঞ্চ মাতাবেন বিশাল কৃষ্ণ। কণ্ঠসঙ্গীতে খেয়াল পরিবেশনের পাশাপাশি ঠুমরি ও ভজন পরিবেশন করবেন পদ্মভূষণ ও পদ্ম বিভূষণপ্রাপ্ত প্রথিতযশা শিল্পী কিশোরী আমনকার। বাঁশিতে সুর তুলবেন বাংলাদেশের বংশীবাদক এম মনিরুজ্জামান। কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করবেন জয়পুর আত্রাউলি ঘরানার শিল্পী অশ্বিনী ভিডে দেশপা-ে। এর পর ধ্রুপদী সঙ্গীত নিয়ে শ্রোতার অন্তর সিক্ত করতে মঞ্চে আসবেন প-িত উদয় ভাওয়ালকার। শেষ রজনীর অন্যতম আকর্ষণ ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের পরিবেশনা দিয়ে ঘটবে উৎসবের সমাপ্তি। সরোদে মোহময় সুর ছড়াবেন সেনিয়া বাঙ্গাস ঘরানার এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী।