মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৪ ফাল্গুন ১৪১৯
পুড়েছে হাজার হাজার বই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, আর্থিক সহায়তা দাবি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা
মোরসালিন মিজান ॥ গত শুক্রবারের কথা। ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া জাতীয় পতাকা এদিন আক্রান্ত হয়েছে। একই দিন আক্রান্ত হয় ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিজড়িত শহীদ মিনার। আর তার পর পুড়িয়ে দেয়া হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাঙালীর প্রাণের মেলা রবিবার দাউ দাউ করে জ্বলেছে। ভস্মীভূত হয়েছে ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল। হাজার হাজার বই পুড়ে ছাই হয়েছে। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি বাংলাদেশ। তাই অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। গভীর রাতে জ্বলে ওঠা আগুনের ভয়াবহতা বোঝা যায় দিনের আলোয়। ধীরেন্দ্রনাথ চত্বরটি যেন হাহাকার করছিল। স্টলের কোন চিহ্ন ছিল না এখানে। চকচকে মলাটের বইগুলো ছাই হয়ে উড়ছিল। আংশিক পোড়া বইগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছিল এখানে ওখানে। এই আগুনে পুড়েছে কবি টোকন ঠাকুরের তিনটি নতুন কাব্যগ্রন্থ। তাই আরও অনেকের মতো তিনিও ছিলেন বিষণ্ণ। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, বই পোড়েনি শুধু। যেন শরীর ঝলসে গেছে আমার। যারা পতাকা ছিঁড়েছে, শহীদ মিনার আক্রমণ করেছে এ কাজ তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের মুখের দিকে তাকানোর উপায় ছিল না এদিন। মন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে তাঁদের। প্রায় সকলের সঙ্গে কথা বলে পরিষ্কার হওয়া গেছে, এ আগুন পরিকল্পিত। এ আগুন আক্রোশের। অবশ্য কারা এ নাশকতা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন তাঁরা। এ জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রকাশক মাহবুব বলেন, আসলে যার পুড়েছে কেবল সেই বুঝবে। তবে আমরা পরাজয় মানতে চাই না। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। এ জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবি করেন তিনি। জয়তী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী পায়েল জনকণ্ঠকে বলেন, রাত নয়টার পর মেলা আর আমাদের থাকে না। সবকিছু দেখার দায়িত্ব থাকে বাংলা একাডেমীর। সুতরাং এটি তাদের দায়। এ বিষয়ে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।
একই দাবিতে বিকেলে মেলার বিক্রি পাঁচ মিনিট বন্ধ রেখে নীরবতা পালন করেন প্রকাশকরা। পরে মৌন মিছিল করে আগুনে পোড়া স্টলের সামনে যান প্রকাশকরা। সেখানে আয়োজিত সমাবেশ থেকে নিজেদের বিস্তারিত দাবি তুলে ধরেন প্রকাশকরা। তাঁদের দাবি প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, আমরা প্রকাশকদের জন্য সাধ্যমতো সব কিছু করব। ইতোমধ্যে তিনটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটিগুলোর প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। মেলায় এমন ঘটনা কী করে ঘটল, কারা ঘটাল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে বলা যাবে।
৮৭ নতুন বই ॥ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিনে সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৮৭টি। এগুলোর মধ্যে গল্প ১৪টি, উপন্যাস ১৩টি, প্রবন্ধ ৬টি, কবিতা ১৮টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ৫টি, শিশুতোষ ১টি, জীবনী ১টি, মুক্তিযুদ্ধ ২টি, নাটক ১টি, ইতিহাস ১, রম্য/ধাঁধা ১টি, অনুবাদ ২টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৮টি প্রকাশিত হয়েছে। মেলায় এসেছে জাতীয় জাদুঘরের চারটি নতুন প্রকাশনা। সম্প্রতি নতুন করে সাজানো জাদুঘরের চারটি গ্যালারির পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে পুস্তিকাগুলোতে। ড. ফিরোজ মাহমুদ ব্যাখ্যা করেছেন ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৭৫৭-১৯৪৭)’ ও ‘ভাষা আন্দোলন।’ আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন তুলে ধরেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘স্বাধীন বাংলাদেশ (১৯৭১-১৯৭৫)।’ জাতীয় জাদুঘরের স্টলে পুস্তিকাগুলো পাওয়া যাচ্ছে।
প্রবাসী লেখক পুরস্কার প্রদান ॥ বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে প্রদান করা হয় বাংলা একাডেমী প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১২। কথাশিল্পী সালেহা চৌধুরী এবং ডা. মাসুদ আহমেদকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১২ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদ্বয়ের হাতে পুরস্কারের চেক, ক্রেস্ট এবং সনদ তুলে দেন একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, প্রবাসী লেখকগণ বাংলা সাহিত্যে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছেন। বাংলা একাডেমী প্রবর্তিত প্রবাসী লেখক পুরস্কার তাঁদের এই সৃজনকর্মকে প্রণোদনা যোগাবে। এ সময় মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা একাডেমীর কার্যক্রমকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নানা কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রবর্তন করা হয়েছে প্রবাসী লেখক পুরস্কার যার মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চা আরও বিস্তৃত হবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক সালেহা চৌধুরী এবং ডা. মাসুদ আহমেদ বলেন, বাংলা একাডেমী প্রবাসী লেখক পুরস্কার প্রদান করে আমাদের সাহিত্যকর্মে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তি আমাদের নয় বরং প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও বেগবান করবে।
পরে ছিল ‘চারুশিল্পের অগ্রপথিক ও কীর্তিমান শিল্পপুরুষ রশিদ চৌধুরী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিল্পসমালোচক রবিউল হুসাইন। আলোচনা করেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, স্থপতি সামসুল ওয়ারেস এবং চিত্রসমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের শিল্পকলা আন্দোলনে রশিদ চৌধুরী এক বিশিষ্ট নাম। ট্যাপেস্ট্রি শিল্পের মাধমে আমাদের শিল্প ভুবনে তিনি যোগ করেছেন ভিন্নতর মাত্রা। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে শিল্পভ্রমণ তাঁর শিল্পবোধকে বিস্তৃতি দিয়েছে কিন্তু শিল্পকর্মে সততই তিনি বাঙ্ময় করেছেন আপন স্বদেশের মুখ। আলোচকরা বলেন, রশিদ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গজ আধুনিকতার সাধক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামকেন্দ্রিক যে শিল্পকলা আন্দোলন তৈরি করেছিলেন তা মূলত আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বলয়কে ঋদ্ধ করেছে। তাঁরা বলেন, বাঙালীর ধর্মনিরপেক্ষÑলোকচেতনা রশিদ চৌধুরীর শিল্পকর্মে প্রাণ পেয়েছে। সভাপতির ভাষণে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রশিদ চৌধুরী তাঁর শিল্পকর্ম উপস্থাপন করেছেন মূলত গভীর শিল্পচেতনা, গহনতাসঞ্চারী মনন এবং প্রগাঢ় দেশপ্রেমের প্রতীকে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ‘শাপলাকলির আসর।’ একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন মালবিকা দাশ, শিমু দে, আবদুল আলিম, মাহবুবা রহমান, ইফফাত আরা নার্গিস, মঙ্গল চন্দ্র ম-ল, দীপা চৌধুরী ও মোঃ মুরাদ হোসেন বাদল।
বি’বাড়িয়ার মোবারকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন পক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেবে কি না সে বিষয়ে আগামী ১১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। এদিকে জামায়াতে নেতা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা বন্ধ করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আসামিপক্ষের মৌখিক আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের আইনজীবী অসুস্থ থাকায় প্রসিকিউশনপক্ষের ১১তম সাক্ষী দিলীপ কুমার চক্রবর্তীকে আসামিপক্ষের জেরার দিন বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনপক্ষের যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ আদেশগুলো প্রদান করেছে।
আলীম ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শর্তসাপেক্ষে জামিনে থাকা বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনপক্ষের ১১তম সাক্ষী দিলীপ কুমার চক্রবর্তীকে আসামিপক্ষের জেরার দিন বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার দিলীপ কুমার চক্রবর্তীকে আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দিনের মতো জেরার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আলীমের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় বুধবার জেরার দিন পুনর্নির্ধারণ করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
মোবারক ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোঃ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসকিউশনপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেবে কি না সে বিষয়ে আগামী ১১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছে।
১১ মার্চ জানা যাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, একই সঙ্গে ওইদিন পর্যন্ত তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার সকালে শুনানিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় জামিনে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের অভিযোগে ৩৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ট্রাইব্যুনালের ধার্য তারিখ অনুযায়ী আজ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১১ মার্চ দিন ধার্য করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬ মাস ৭ দিন তদন্ত শেষে মোট ৪ ভলিয়মে ২৯৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থা জানায়, মোবারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ২০১২সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী তদন্ত শেষ করেন। তদন্তকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনসহ ৫ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে আখাউড়া থানাধীন টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে গণহত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ি রাজাকার ক্যাম্পে আশু রঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ানা গ্রামের শহীদ আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের ২ জনকে অপহরণ করে ১ জনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের ১ জনকে আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৩ জনকে গণহত্যা, ২ জনকে হত্যা, ২ জনকে অপহরণসহ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এসব অভিযোগ ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নবেম্বর পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মোবারক হোসেন স্বাধীনতার পর জামায়াতের ইউনিয়নের রুকন ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন বলে জানান। এ সময় তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হান্নান খান ছাড়া তদন্ত সংস্থার অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের একটি হত্যা মামলায় আটক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের জামিন আবেদনের শুনানি হয় গত ১১ জুলাই। ওইদিন আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশন বিষয়টির ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুলাই তাকে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর কয়েক দফা তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন গ্রামবাসী আব্দুল খালেকের লাশ পার্শ¦বর্তী খাল থেকে উদ্ধার করে। আরজিতে উল্লেখ করা হয়, যারা ডেকে নেয় তাদের মধ্যে আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামের মোবারক এবং জমশেদ মিয়া ছিল।
নিহত আব্দুল খালেকের কন্যা খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মোবারক হোসেন ১৩ মে ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেন। পরে ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর মোবারক হোসেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠায় এবং মামলার নথিপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়। পরে গত ৬ জুন আসামিপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে আপীল মোকদ্দমা দায়ের করলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার নথিপত্র তলব করে। পরে তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে বলে জানা যায়।
গো আযম ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের প্রসিকিউশনপক্ষের যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সোমবার প্রসকিউশন পক্ষের প্রসিকিউটর সুলতান মোহাম্মদ সীমন ৬ষ্ঠ দিনে ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, গোলাম আযম পূর্ব পাকিস্তানের জাতিগত কাঠামোর পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর নির্দেশে এবং উস্কানিতে অনেক মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। তবে তার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর বেশি নির্যাতন হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন শাহীনের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এ কথা বলেছেন।
অস্কারে ড্যানিয়েলের রেকডর্, আসরের চমক মিশেল ওবামা
আরও খবর ৯-এর পাতায়
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ অস্কারের ৮৫তম আসরে এবারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করে ইতিহাস গড়লেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যানিয়েল ডে লুইস। এর আগেও দুবার অস্কার জয় করেন ৫৫ বছর বয়সী এ অভিনেতা। সেরা অভিনেতার বিভাগে এ নিয়ে মোট তিনবার অস্কার পাওয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন জেনিফার লরেন্স। সিলভার লিইনিং প্লেবুকে কম বয়সে বিধবার দুঃখ-কষ্ট নিয়ে অভিনয় করে এই পুরস্কার জিতে নেন। সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায় আর্গো।
অস্কারে তিন তিনবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়ে ড্যানিয়েল নিজেও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সত্যিই আমি জানি না, কিভাবে এমনটা ঘটল। আমার জীবনে যতটুকু সৌভাগ্য লেখা ছিল, এর মধ্যে তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়ে গেছি আমি। খবর বিবিসি অন লাইনের।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনকে নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘লিঙ্কন’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার পুরস্কার পেলেন ড্যানিয়েল। তিনি এর আগে ‘মাই লেফট ফুট’ (১৯৮৯) এবং ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’ (২০০৭) ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন ড্যানিয়েল। তাঁর বাবা যুক্তরাজ্যের ‘পোয়েট লরেট’ খেতাব পাওয়া কবি সেসিল ডে-লুইস এবং মা ব্রিটিশ অভিনেত্রী জিল ব্যালকন। ১৯৭১ সালে মুক্তি পেয়েছিল ড্যানিয়েল অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সানডে ব্লাডি সানডে’।
লাইফ অব পাই ॥ অস্কার আসরে লাইফ অব পাই ছবিটি সেরা পরিচালকসহ চার চারটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ছবিটির পরিচালক এ্যাং লি ঝুলিতে ভরেছেন সেরা পরিচালকের পুরস্কার। এ ছাড়া সেরা সিনেমাটোগ্রাফি, অরিজিনাল স্কোর ও ভিজুয়াল এফেক্ট পুরস্কারও জিতেছে ছবিটি। ছবিটির অরজিনাল স্কোরের জন্য তিন নম্বর অস্কার পেয়েছেন মিচেল ডানা। ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন ভারতীয় অভিনেতা অভিনেত্রীরা। সূরজ শর্মার পাশাপাশি ছবিতে অসামান্য অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী টাবু ও ইরফান খান। তাই ছবিটির সাফল্যে এখন গর্বিত পুরো ভারত।
নতুনত্বে ভরা ॥ এদিকে এ বছর হলিউডি জগতের প্রতিটি পুরস্কারের আসরই ছিল নতুনত্বে ভরা। গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ডে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন। অস্কারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রটির নাম ঘোষণা করেন দেশটির বর্তমান ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। ৮৫তম একাডেমী এ্যাওয়ার্ডস আসরে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেরা ছবি হিসেবে ‘আর্গো’-এর নাম ঘোষণা করেন মিশেল ওবামা। একটি ভিডিও লিঙ্কের সাহায্যে আসরের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ওই সময় মিসেস. ওবামার পরনে ছিল রূপালী কাজ করা নাঈম খানের ডিজাইনের একটি পোশাক। ভিডিওর মাধ্যমে ‘আর্গো’-এর নাম ঘোষণার পর পরিচালক বেন এ্যাফলেকের হাতে অস্কার তুলে দেন হলিউডের সিনিয়র অভিনেতা জ্যাক নিকোলসন। অস্কার ঘোষণার আগে মিশেল ওবামা মনোনয়নপ্রাপ্ত সেরা সিনেমাগুলো সম্পর্কে বলেন, ‘এ নয়টি সিনেমা আমাদের অনেকটা অতীতে নিয়ে গিয়েছিল। এ সিনেমাগুলো আমাদের হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে।’ এরপর খাম খুলে এবারের অস্কারজয়ী সেরা সিনেমা হিসেবে বেন এ্যাফলেক পরিচালিত ‘আর্গো’ সিনেমাটির নাম ঘোষণা করেন তিনি। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ডে সেরা সিনেমা হিসেবে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘লিঙ্কন’ সিনেমাটির নাম ঘোষণা করেছিলেন বিল ক্লিনটন।
নাশকতার প্রস্তুতি নিতে রোহিঙ্গা-জামায়াত রণকৌশল বদল
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আলীকদমে জঙ্গীদের গোপন আনাগোনা
এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ রামুর বৌদ্ধ জনপদে নারকীয় হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত রোহিঙ্গা জঙ্গীদের জামায়াত-শিবিরের কানেকশন সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। রামু বৌদ্ধ বিহার ও বড়ুয়াপল্লীতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটের ঘটনার নীলনক্সা প্রণয়নকারী জঙ্গী নেতা আত্মগোপনে থাকা হাফেজ ছালামত উল্লাহ ও জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক যুদ্ধাপরাধীসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবিতে দেশজুড়ে গণজাগরণমঞ্চে লাখো মানুষ রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অগ্নিশপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনি রাজাকারদের দোসররা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চলছে। দেশে একের পর এক গুপ্ত হামলাসহ জামায়াত-শিবির হরতালের ডাক দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করে চলছে। দেশের সাধারণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের ওই অযৌক্তিক হরতাল বার বার প্রত্যাখ্যান করায় বর্তমানে তারা নতুন কৌশল নিয়েছে। জামায়াতীরা এবার রোহিঙ্গা জঙ্গী আরএসও’র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কানেকশন ঠিক রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
জঙ্গীদের জড়ো করার প্রক্রিয়া ॥ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গা জঙ্গী ও মৌলবাদী গোষ্ঠী রামুর বৌদ্ধ জনপদে অগ্নিসংযোগ ও নারকীয় হামলা চালিয়ে ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ৩০টি বসত গৃহ ধ্বংস করে দেয়ার পর ধরপাকড় এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। মৌলবাদী এনজিও এবং জামায়াতের আহ্বানে ওসব জঙ্গীদের কেউ কেউ ফের নাশকতা সৃষ্টিকল্পে কক্সবাজার ও বান্দরবানে এসে জড়ো হচ্ছে বলে সূত্রে খবর মিলেছে।
জঙ্গী ছালামত আলীকদমে ॥ মিয়ানমারের বুচিদংয়ের চাইম্যংচং এলাকার মৃত হামিদ হোছনের পুত্র ‘আল মোস্তাকবাল’ নামে জঙ্গী সংগঠনের নেতা ও আরএসও’র সেক্রেটারি জঙ্গী ছালামত উল্লাহ বর্তমানে আলীকদমে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। বান্দরবানের আলীকদমের গহীন জঙ্গলে ছালামত উল্লাহর পরিচালনাধীন ৩০ জনের সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জঙ্গীদের ব্যাংক একাউন্ট সিল করার দাবি॥ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের নামে চলমান ব্যাংক একাউন্টগুলো সিল করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আত্মগোপনে থাকা জঙ্গী দলপতি ছালামত উল্লাহ ও তার সহযোগী নুর মোহাম্মদ, শফি উল্লাহ ও গ্রেফতার হওয়া আবু ছালেহ ওরফে ছালেহ আহমদের নামে হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, মিসর, সৌদি আরব, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা আসে।
রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গীদের আনাগোনা ॥ গত কয়েকদিন থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া আশ্রিত ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা বস্তিতে (টাল নামে পরিচিত) অচেনা লোকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক জামায়াত নেতার প্রত্যক্ষ মদদে ওসব জঙ্গী-উগ্রবাদী গোষ্ঠীর লোকজন হঠাৎ ক্যাম্পে যাওয়া আসা দেখে স্থানীয়দের মাঝে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে। রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরএসও, নিষিদ্ধ ঘোষিত মৌলবাদী সংগঠন আল-হারামাইন এবং ওয়ামির লোকজন শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তিতে মাঝে-মধ্যে বৈঠকও করছে।
নিষিদ্ধ এনজিওর অপতৎপরতা ॥ সরকারীভাবে নিষিদ্ধ সত্ত্বেও গোপনে তিনটি এনজিও’র কর্মীরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে শাহবাগ আন্দোলন
অনলাইনে সার্চ দিলেই আন্দোলনের সব খবর ॥ জামায়াতীদের ভুয়া উইকিলিক্্স
ফিরোজ মান্না ॥ এবার শাহবাগ আন্দোলন উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ায় শাহবাগ ‘প্রোটেস্ট’ নামে রয়েছে। যে কেউ শাহবাগ আন্দোলনের সব খবর বিশ্ব তথ্যকোষ উইকিপিয়াতে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে কোন দেশেই টানা ২১ দিন এ রকম আন্দোলন হয়নি। এ কারণে শাহবাগের আন্দোলনটি গিনেজ বুকে গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এতে বিশ্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিশ্বজুড়ে আরও একবার প্রতিফলন ঘটল। এটাকে তরুণ প্রজন্মের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাইবারযোদ্ধারা বলেন, শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে টানা ২১ দিনের আন্দোলনের প্রতিদিনের ঘটনা প্রবাহ (http://en.wikipedia.org/wiki/2013_Shahbag_Protest) শিরোনামে তথ্য আপলোড করা হয়।
উইকিপিডিয়া কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ব তথ্যকোষ শাহবাগের আন্দোলনের সব খবর তারা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে অনলাইনে শাহবাগ প্রোটেস্ট লিখে সার্চ দিলেই শাহবাগের আন্দোলনের সব খবর পাওয়া যাবে। যে কেউ যখন তখন শাহবাগের আন্দোলন কেমন করে হয়েছে তা দেখতে পারবেন। এই আন্দোলনের মূল দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মভিক্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার। শাহবাগ আন্দোলনে ছিল নানা মাত্রা। প্রতিটি মাত্রাই গিনেজ বুকে স্থান পাওয়ার মতো। কিন্তু এত কিছুর পরেও গিনেসবুক কর্তৃপক্ষ শাহবাগ আন্দোলনের কোন কিছুই তাদের পেজে দেয়নি। পরে সাইবারযোদ্ধারা বার বার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো পর তাদের ফ্যান পেজে শাহবাগ আন্দোলনের বিষয়গুলো স্থান দিয়েছে। যদিও লেবাননে একসঙ্গে ২ হাজার ৯৫৯টি মোমবাতি জ্বলে উঠার বিষয়টি গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান দিয়েছে। অথচ শাহবাগে একসঙ্গে লাখ লাখ মোমবাতি জ্বলে উঠলেও তারা এটিকে নিজ উদ্যোগে স্থান দেয়নি। সাইবারযোদ্ধা এবং ৭৭ হাজার সহযোদ্ধাদের অনুরোধে অবশেষে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ শাহবাগ আন্দোলনের বেশ কিছু বিষয় তাদের পেজে স্থান দিয়েছে। ৭৭ হাজার সাইবার সদস্যর গিনেস বুকের পেজে গিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলনের ছবি শেয়ার করে। তারা ৮ ঘণ্টায় ২ হাজার ছবি শেয়ার করে গিনেস বুকের পেজে। এরপর গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ অনেকটা বাধ্য হয়ে অফিসিয়ালি ঘোষণা করেছেন শাহবাগের আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে তারা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ফেসবুকের এই ঠিকানায় গিনেস বুকে শাহবাগের আন্দোলনের যে বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে তা জানা যাবে। (https://www.facebook.com/photo.php?v=10151405228268632) এই ঠিকানার সঙ্গে লিংক স্থাপন করেও তথ্য পাওয়া যাবে। শাহবাগের আন্দোলনের বিষয়টি উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে নাম ওঠায় জামায়াত-শিবিরের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মাত্রা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জামায়াত-শিবির ‘উইকিলিকস বাংলাদেশ’ নামে (http://wikileaksbangladesh.org/) ভুয়া একটি ওয়েবসাইট খুলে দাবি করছে যে, এটি জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের ‘উইকিলিকস’। উইকিলিকসের মূল জায়গা থেকে কনফার্ম করা হয়েছে এটা ‘ফেক’। এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের উইকিলিকসের কোন সম্পর্ক নেই। ভুয়া উইকিলিকস থেকে নানা রকম মিথ্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। জামায়াত-শিবির যে ইসলামে বিশ্বাসী না, এটা তার আরেকটি প্রমাণ। নিজেরা জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের উইকিলিকসের নাম ব্যবহার করে মিথাচার করে যাচ্ছে। ইসলামে মিথ্যাবাদীর কোন স্থান নেই। সেই মিথ্যাবাদীরা হচ্ছে জামায়াত-শিবির। সাইবারযোদ্ধারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, খুনী, নারী নির্যাতনকারী, অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের চিরতরে বয়কট করার জন্য।
সাইবারযোদ্ধারা একটি পোস্টে রিখেছেন, তরুণ জামায়াত ও শিবিরকর্মীদের বুঝতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ চলাচলের এ যুগে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি এখন জরাজীর্ণ ও পুরনো। আপনাদের রাজনীতি কোনদিনও মানুষের কল্যাণে আসবে না। কেবল জঙ্গী তৈরি করা ছাড়া আপনাদের আর কোন কাজ নেই। মাঝে মধ্যে সাপের খোলস বদল করলেই হবে না। অন্যের ঘারে পা রেখে চলতে চলতে আপনারা নুলা হয়ে যাবেন। বিদেশীদের ওপর ভর করে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ আপনাদের স্বরূপ এখন চিনে ফেলেছে। আপনাদের নেতা গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, আলীম, কাদের মোল্লা, বাচ্চু রাজাকার। তাদের কোন সন্তানদের জামায়াত-শিবির, জেএমবি, হিযবুত তাহরীর অর্থাৎ কোন জঙ্গী দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করেননি। বরং তাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন নিরাপদ, পাশ্চাত্য ইংরেজী শিক্ষার, উন্নত পেশা জীবন। জামায়াত-শিবিরের তরুণরা আর কত নিজের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে নিজের ও জাতির এবং স্বদেশের ক্ষতি করবেন। আপনাদের নেতাদের সন্তানরা যদি বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নত শিক্ষা নিতে পারে-তাহলে আপনারা কেন জঙ্গী শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। এখন সময় আছে ভাল পথে চলে আসার। জয় বাংলা।
সাইবারযোদ্ধারা আরও একটি পোস্টে লিখেছেন, আমেরিকা, ইউরোপ সারাজীবন কূটনীতি করে আসছে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র মানুষের ওপর। তারা কি বুঝতে পারে না ধর্মান্ধ জামায়াত-শিবিরের কর্মকা-? অবশ্যই তাদের সব জানা আছে। গাজায় মুসলমানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। যারা এই হত্যা চালাচ্ছে বছরের পর বছর তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। এদিকে আমাদের মুসলমান নামক হায়েনাগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করছে একই কায়দায়। মুসলমান মুসলমানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংসের কাজে প্রতিনিয়ত ইন্ধন দিচ্ছে। উভয় দিক দিয়েই ইহুদীরা লাভবান হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ছানাপোনার সেই ইহুদীদের টাকায় লালিতপালিত হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিছু না বুঝেই। জামায়াত-শিবির জঙ্গী, তারা জিহাদের কথা বলে মুসলমানদের হত্যা করছে। যেখানে মুসলমান হিসেবে তাদের ইহুদীদেরর বিরুদ্ধে লড়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ গরিব দেশ, দারিদ্র্যের মানুষগুলোর ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা এবং বিবেক-বিচার বুদ্ধি কেড়ে নিচ্ছে। ইহুদীদের কূটনীতির শিকার হচ্ছে এই দেশ।
খিলক্ষেতে সৎ মায়ের হাতে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র খুন
ঘরে লাশ রেখেই ঘাতকের গা-ঢাকা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর খিলক্ষেতে সৎ মায়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে স্কুলছাত্র শেখ মোহাম্মদ ইসলাম (১২)। ঘটনার পর থেকে নিহতের সৎ মা পারভীন (২৩) লাশ রেখে রুমে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে। এদিকে মিরপুরে অগ্নিদগ্ধ এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর সুমনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। অপরদিকে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। সোমবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে পুলিশ খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা এলাকার তমুমৃধা রোডের সিরাজুল ইসলাম ওরফে খেজুরের বাসন্তি কুঞ্জ বাড়ির নিচতলার উত্তরপাশের ফ্ল্যাটে তালা খুলে শেখ মোঃ ইসলামের (১২) পচাগলা লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহত ইসলামের মুখম-ল থেতলানো ছিল। সারাশরীরে গরম খুন্তির পোড়া চিহ্ন রয়েছে। শরীরে পচন ধরেছে। ইসলামের পিতা শেখ শাহনেওয়াজের দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চাকরি করেন। প্রায় চার বছর আগে ইসলামের মায়ের সঙ্গে তার পিতার ছাড়াছড়ি হয়ে যায়। এরপর শাহনেওয়াজ দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীনকে নিয়ে খিলক্ষেতের ওই বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের সঙ্গে ইসলামও বসবাস করত। খিলক্ষেত থানার ওসি শামিম হোসেন জনকণ্ঠকে জানান, ইসলামকে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রায়ই শাহনেওয়াজ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার যে কোন সময় ইসলামকে নির্মমভাবে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও মুখম-লে ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়েছে তার সৎ মা পারভীন। ঘরে তালা লাগিয়ে পারভীনকে তড়িঘড়ি করে বের হতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা। পারভীনের গ্রামের বাড়ি সিলেটে। সেখানে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সাব্বাস আহমেদ বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার রামনগর রাজবাড়ীর ৪৬ নম্বর বসুন্ধরায়। এদিকে রবিবার গভীররাতে পুলিশ মিরপুর থানাধীন মধ্যপাইকপাড়া এলাকা থেকে সানজিদা আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সোমবার দুপুর দেড়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সানজিদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্বামী সুমনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক সানোয়ার হোসেন জানান, নিহত সানজিদা উত্তরখান এলাকায় ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে চাকুরি করত। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর সুমন। সানজিদা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী। এ জন্য সানজিদা দক্ষিণখান থানাধীন মেইন রোডের ৬৪০ নম্বর বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী সুমনকে নিয়ে থাকত। এসআই সানোয়ার হোসেন আরও জানান, সুমন কিছু দিন ধরে সানজিদার কোন খোঁজ খবর নিত না। সানজিদা রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় সুমনের প্রথম স্ত্রী সোমার ৯৬/১ মধ্য পাইকপাড়ার বাসার যায়। এ সময় সানজিদা কলিংবেল টিপে স্বামী সুমনকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করতে থাকে। এ সময় সানজিদা সুমনকে বলেন, তুমি আমাকে দক্ষিণখানের বাসায় দিয়ে না গেলে আমি নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেব। সুমন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদাকে নিয়ে বের হতে চাইলে তার প্রথম স্ত্রী সোমা বাধা দেয়। এতে সানজিদা ক্ষোভে দুঃখে নিজের শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর দেড়টায় তার মৃত্যু ঘটে। নিহত সানজিদার পিতার নাম শাহজাহান বিশ্বাস। গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বিরামপুর গ্রামে। এদিকে সোমবার ভোরে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেললাইন থেকে অজ্ঞাত (১২) এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেললাইনে তিস্তা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ওই কিশোর। নিহতের পরনে গোলাপী রঙের গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই অর্থনৈতিক শুমারি শুরু হচ্ছে
প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা ॥ চলবে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই সরকারী অর্থায়নে অবশেষে শুরু হচ্ছে অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্প। এর মাধ্যমে কৃষির বাইরে সকল অর্থনৈতিক কর্মকা-ের তথ্য সংগ্রহ এবং বেঞ্চমার্ক তথ্য ভা-ার তৈরি করা হবে। আগামী মার্চ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল পর্যন্ত এ শুমারি হবে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্রে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৩ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ শুমারির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থনৈতিক শুমারির বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার জানান, আগামী ৩১ মার্চ থেকে ্্্্্্্্্ এ শুমারি শুরু হবে। তবে বর্তমানে দুটি পৃথক স্থানে পাইলট শুমারি চলছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেনি কিনা জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আরস্তু খান বলেন, এর সঙ্গে পদ্মা সেতুর কোন সম্পর্ক নেই। বিবিএস এই শুমারি বাস্তবায়ন করতে আমাদের অর্থ সংগ্রহ করে দিতে অনুরোধ করেছিল। সে মোতাবেক ইআরডি বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করে। কিন্তু তারা বিবিএসে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার কারণে অর্থনৈতিক শুমারিতে অর্থায়ন করতে পারছে না বলে জানিয়েছে। আমরা বিবিএসকে বিষয়টি অবহিত করেছিলাম।
সূত্র জানায়, কৃষিবহির্র্ভূত সকল অর্থনৈতিক কর্মকা- সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বেঞ্চমার্ক তথ্য ভা-াার তৈরির জন্য বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে কৃষি বহির্র্ভূত অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুমারিতে ১৯৮০’র দশকের মধ্যবর্তী সময়ে জনসংখ্যার কি ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে তা নির্ধারণসহ অক্ষম ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারি হয়েছিল দুই ধাপে। প্রথম ধাপে ২০০১ সালে শহর এলাকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও খানা হতে শুমারি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য ২০০৩ সালে পল্লী এলাকার শুধু প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে উক্ত শুমারিতে পল্লী এলাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে মাইক্রো লেবেলে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ের সৃষ্টি হয়েছে। যার অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত পড়ছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশে অর্থনীতির খাতসমূহের গঠন কাঠামো ও আকার আকৃতির কি ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং অকৃষি খাতসমূহ জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কতটুকু অবদান রাখছে তা নির্ধারণের দশ বার্ষিক পর্যাবৃত্তি অনুসরণ করে চলতি বছর বাংলাদেশের তৃতীয় কৃষিবহির্ভূত অর্থনৈতিক শুমারির আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক খাতসমূহের কাঠামোগত পরিবর্তন নির্ধারণ, মানসম্পন্ন উপাত্ত ঘাটতি দূরীকরণসহ নমুনা জরিপের পরিকল্পনা-কাঠামো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক স্থিতিস্থাপক তথ্যাবলী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ লাখ ২৫ হাজার স্থানীয় গণনাকারী ও ৩৪ হাজার সুপারভাইজারের সাময়িক কর্মসংস্থান হবে। ফলে তাদের আয় বাড়বে। এছাড়া জিডিপির আকার বৃদ্ধি পাবে। এতে ইনফরমাল সেক্টর, সার্ভিস সেক্টর এবং অপ্রচলিত ক্ষেত্রসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কোন এলাকায় কোন ধরনের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প স্থাপনে উপযোগী তা নির্ধারণে সহায়ক হবে। ফলে এলাকাভিত্তিক দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা চেয়ে অনুরোধ করা হলে বিশ্বব্যাংক তা নাকচ করে দিয়েছে। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি ইআরডিকে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, তাদের আর্থিক সহায়তায় বর্তমানে পরিসংখ্যান পদ্ধতিকে শক্তিশালী করার জন্য এনএসডিএস শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন কোন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে না।
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কাজের বরাদ্দের ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন আটকে থাকার যে অভিযোগ রয়েছে তা সঠিক নয়। পরিকল্পনা কমিশন নথি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দের প্রস্তাব তৈরির কাজ শেষ করে। তবে প্রস্তাব তৈরির জন্য নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত তথ্য পত্রে সংযোজনী হিসেবে থাকার কথা অনেক সময় সে সব তথ্য থাকে না। তাছাড়া অনেক সময় অসম্পূর্ণ, ক্রটিপূর্ণ এবং ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে ও নথি প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরী হতে পারে।
নবীন প্রবীণ ২৭ শিল্পীর চিত্রকলা প্রদর্শনী শিল্পাঙ্গনে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পানুরাগীদের এক আঙিনায় নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের চিত্রকলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে শিল্পাঙ্গন। ধানম-ির এই গ্যালারিতে চলছে দেশের খ্যাতিমান ও উদীয়মান তরুণ শিল্পীদের যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘মাস্টারস এ্যান্ড আদারস।’ দর্শনার্থীদের বাংলাদেশের চারুকলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রদর্শনী। বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর এ প্রদর্শনীতে আছে ২৭ শিল্পীর চিত্রকর্ম। মূর্ত থেকে বিমূর্ত কিংবা আধা-বিমূর্ত সব ধরার কাজের সমাবেশ ঘটেছে। আর ছবি আঁকার মাধ্যমের ক্ষেত্রেও বহুমুখিতার দেখা মেলে। একসঙ্গে ছবিপ্রেমীরা দেখতে পারছে জলরং, তেলরং, এ্যাক্রোলিক, এচিং, ড্রইং, বাটিক পেইন্টিং ও মিশ্র মাধ্যমের কাজ।
প্রশান্ত কর্মকারের জীবন শিরোনামের ছবিটি সৃজিত হয়েছে মিশ্র মাধ্যমে। সারাদিনের কর্মপ্রবাহ শেষে নদীর এক কোনায় জোটবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে মাঝিবিহীন অনেক নৌকা। আর সব নৌকার মিলিত বন্ধনে তৈরি হয়েছে একটি বৃত্ত। সেই বৃত্তের মাঝখান থেকে উদিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। এখানে জাতীয় জীবনের অস্তিত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে পতাকা। শহীদ কবিরের বস্তির রানী শীর্ষক চিত্রকর্মটি যেন প্রাত্যহিক নগরজীবনের প্রতিচ্ছবি। কোন এক অলস দুপুরে স্নান সেরে চমৎকার ভঙ্গিমায় ভেজা চুলের পানি ঝাড়ছে এক বস্তিবাসী নারী। রশীদ আমিনের বিমূর্ত রীতিতে আঁকা অসীমের সন্ধানে শিরোনামের চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহারে পাওয়া যায় প্রশান্তিময়তা। ক্যানভাসে সবুজ জমিনে বৃষ্টি শিরোনামে ছবি এঁকেছেন সোহানা শাহরীন। তুমুল বষর্ণমুখর দিনে প্রকৃতির পথে ভিজে শরীরে হেঁটে চলেছে এক নারী। সে নারীর আশপাশে অস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান আরও কিছু মানব অবয়ব। বসন্তের রূপময়তাকে ক্যানভাসে উপস্থাপন করেছেন হামিদুজ্জামান খান। নারী, নৌকা ও পাখি নিয়ে রেখাভিত্তিক কাইয়ুম চৌধুরী তিনটি ড্রইংনির্ভর চিত্রকর্মও দারুণভাবে দৃষ্টি কাড়ে। আদিবাসী জীবনের ছবি এঁকেছেন কনক চাঁপা চাকমা। সন্ধ্যা শিরোনামে চিত্রকর্মে দৃশ্যমান এক পাহাড়ী নারী। সুঠাম শরীরে সেই নারী সারাদিনের জুমখেতের কাজ ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রদর্শনীটি একইসঙ্গে অনন্য ও ব্যতিক্রম। এক আঙিনায় একসঙ্গে দুই প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ দেখার সুযোগ পাচ্ছে দর্শনার্থীরা।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন- হাশেম খান, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, আবদুস শাকুর, শাহাবুদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, হামিদুজ্জামান খান, বীরেন সোম, রণজিৎ দাস, গোলাম ফারুক বেবুল, আহমেদ নাজির, জামাল আহমেদ, জাভেদ জলিল, কনক চাঁপা চাকমা, কাজী সালাউদ্দীন আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ ইকবাল, মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রশান্ত কর্মকার, রশিদ আমিন, রেজাউন নবী, রফি হক, শহীদ কবির, সোহানা শাহরীন, উত্তম গুহ ও জুনাবুল ইসলাম।
৪৫টি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
চিত্রশালায় চার দিনব্যাপী চীনা চলচ্চিত্র উৎসব ॥ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হলো চার দিনব্যাপী চীনা চলচ্চিত্র উৎসব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উৎসব উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। চীনা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস, শিল্পকলা একাডেমী ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীনা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বাঙালীর চিরায়ত সংস্কৃতির সঙ্গে চীনের সর্বজনীন সংস্কৃতির মেলবন্ধনের চমৎকার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদীয়মান ব্যাঘ্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ চীনের সমাজ, সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন, অর্থনৈতিক কর্মকা- ও শিল্পায়নসহ জীবন ঘনিষ্ঠ অনেক বিষয়ে জানতে পারবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, কোন দেশের চলচ্চিত্র থেকে সহজেই সেই দেশের জনগণ, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। চীনে ব্যাপক হারে জনপ্রিয় মার্শাল আর্টকে তিনি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও শাস্তির কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন।
চার দিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে ৭টি চীনা চলচ্চিত্র। উৎসবের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কুংফু’।
সাগর-রুনী হত্যার আলামত পুলিশ আসার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার ॥ সাগর-রুনী হত্যাকা-ের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পুলিশ আসার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তারা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হওয়ায় ঘটনার পর পরই সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছার কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্ব^রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
সোমবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮৯টি দেশের প্রায় সোয়া তিন লাখ নাগরিক বসবাস করছেন। এদের মধ্যে ৬৬ হাজারের বেশি বিদেশী নাগরিক কর্মরত রয়েছেন।
সংসদে অনুপস্থিত বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাগর ও রুনী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হওয়ার ঘটনার পর পরই পুলিশ আসার আগেই সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মামলার সকল গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করে দেয়। হত্যাকান্ডটি রাতের অন্ধকারে হয়েছে। এর কোন প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এ মামলা প্রথমে পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করে। এর পর হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাব মামলাটির তদন্ত ভার নেয়। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সাগর-রুনী হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অত্যাধুনিক তদন্ত পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ প্রাপ্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক ল্যাবকে তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে র‌্যাব নিরলস কাজ করছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৯টি দেশ ও বিভিন্ন টেরিটরির তিন লাখ ২০ হাজার ৯৯ জন নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাঁরা চাকরি, শিক্ষা, ব্যবসা, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ, সেমিনার, বিনিয়োগ, ডিপ্লোমেসি, ডেলিগেশন ও পারিবারিক পুনর্মিলন ইত্যাদি কারণে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারির হিসেবে ৬৬ হাজার ৩১১ জন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে কর্মরত রয়েছেন।
পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র সুন্দরবন এবং উপকূলীয় এলাকার বনদস্যু ও জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাবের একটি পৃথক ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও আরও দুটি ব্যাটালিয়নের জন্য এক হাজার ৩৭৬ জন জনবলের পরিকল্পনা প্রস্তাব ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আনসার ব্যাটালিয়নের সংখ্যা ৩৮টি। এর মধ্যে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন রয়েছে। অপর ৩৬টি হচ্ছে পুরুষ ব্যাটালিয়ন। কর্মরত জনবল হলো পুরুষ ১৪ হাজার ২১৮ এবং ৭৮০ জন মহিলা।
নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিজিবি ১১টি সেক্টরে ২২ ধরনের চোরাচালানের পণ্য আটক করেছে। এসব পণ্যের মূল্য ৫৩৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ২২৩ টাকা।
জামায়াত শীঘ্রই নিষিদ্ধ হবে ॥ নাসিম
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ॥ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জনগণ এখন জামায়াত নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে। জনগণের দাবির মুখে জামায়াত নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং অচিরেই এ দলটি নিষিদ্ধ হবে।
মোহাম্মদ নাসিম সোমবার বিকেলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার সমাজ হাইস্কুল মাঠে প্রয়াত সাবেক এমপি মোজাম্মেল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। সাবেক এমপি ওয়াজি উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আব্দুল কুদ্দুস এমপি, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল, পিপি এ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ ও তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। নাসিম বলেন, স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও পরাজিত অপশক্তি ধর্ম ব্যবসায়ী জামায়াত তাদের পুরনো স্বভাব ত্যাগ করতে পারেনি। জামায়াত তাদের গণতন্ত্রের লেবাসধারী দোসরদের যোগসাজশে ধর্মের নামে দেশে হত্যা, সন্ত্রাসসহ নানাভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনজীবন বিষিয়ে তুলছে। এখন এ দলটি দেশের মানুষের কাছে একটি ঘৃণিত নাম। এজন্য জনগণ তাদের হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াত নিষিদ্ধের পক্ষে যে জনদাবি উঠেছে তা পূরণ করা হবে।
সামরিক আমলের অধ্যাদেশ আইনে রূপ নিচ্ছে
বিল পাস
সংসদ রিপোর্টার ॥ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে রূপ দিতে সোমবার দুটি পৃথক বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩ এবং ‘১৯৮২ সালের ২৫ মার্চ হইতে ১১ নবেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩’ নামের পৃথক এই বিল দুটি পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে তাড়াহুড়ো করে বিল দুটি পাসের বিরোধিতা করে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম প্রস্তাব দিলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রবিবার বিলের রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।
সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর আগে আপীল বিভাগের দুটি রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ১৯ অনুচ্ছেদ বাতিল করায় ১৬৬টি অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত তা মার্জনা করা হয়। পরে অধ্যাদেশগুলো কার্যকর রাখতে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান দুটি পৃথক অধ্যাদেশ জারি করেন। যা গত ২৭ জানুয়ারি চলতি অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিল আকারে সংসদে পাস করতে হবে।
এদিকে বিলের রিপোর্ট দেয়ার সময় প্রত্যেকটি অধ্যাদেশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংসদীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আগামীতে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। কমিটির মতে, মন্ত্রণালয়গুলো সঠিকভাবে এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় অধ্যাদেশগুলো আলাদা আলাদাভাবে পাস না করে মাত্র দুটি বিলের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে।
তবে সামরিক আইন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয় সেজন্য সংসদীয় কমিটি বিলে শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছে, সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলেও যতটুকু তাদের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুধু ততটুকু গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। ওই সময়ের অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সামরিক শাসন আমলের কৃতকর্মের অনুমোদন ও সমর্থন করা হয়েছে বলে কোনভাবেই বিবেচিত হবে না।
বিএনপিকে ফের জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে বললেন মহাজোট এমপিরা
সংসদ রিপোর্টার ॥ ধর্মীয় অনুভূতিকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামী দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি করতে ‘মরণ কামড়’ বসাচ্ছে। জামায়াত শান্তির ধর্ম ইসলাম নয়, মওদুদীবাদী বিতর্কিত ইসলামে বিশ্বাসী। আর এই দেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকেই সমর্থন দিয়ে চলেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরে মহাজোটের সংসদ সদস্যরা বলেন, জাতীয় স্বার্থে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির উচিত জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা।
আলোচনায় অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা, এম আবদুল লতিফ, জাকির হোসেন, তানভীর শাকিল জয়, নূরজাহান বেগম, জাতীয় পার্টির একেএম মাঈদুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বিশ্বব্যাপী যখন শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা হচ্ছে, তখন বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিএনপি দেশকে ভালবাসে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আপনারা সংসদে আসুন এবং সরকারকে সহযোগিতা করুন। জাতীয় স্বার্থে জামায়াতের পথ পরিহার করুন। জাতীয় নির্বাচনকে কীভাবে সুষ্ঠু করা যায় আমাদের পরামর্শ দিন। বিএনপির সামনে সময় এসেছে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের।
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ সমাজের আন্দোলন সম্পর্কে বিমানমন্ত্রী বলেন, আমি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে বলতে পারি শাহবাগে যে আন্দোলন হচ্ছে তা সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ।
যুদ্ধাপরাধী বিচারে আপত্তি নেই, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই ॥ ওলামা পরিষদ
হাটহাজারী সংবাদদাতা ॥ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাদের কোন আপত্তি নেই এবং জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। সোমবার হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সংগঠনদ্বয়ের নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। পাশাপাশি শাহবাগ আন্দোলন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। বক্তব্য রাখেন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আজিজুল ইসলামাবাদী, হাটহাজারী উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মওলানা আনাছ মাদানী, মওলানা আবদুল মালেক হালিম, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মহিউদ্দিন রুহী প্রমুখ।
বক্তারা গত কয়েকদিনে পুলিশের গুলিতে ১৯ মুসল্লি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে বক্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
তাঁরা আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমাদের কোন আপত্তি নেই। মানুষ সকল যুদ্ধাপরাধীর নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার চায়। আওয়ামী লীগে থাকা যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করতে হবে। এ দেশের জনগণ কোন দলকে এককভাবে মুক্তিযুদ্ধের এজেন্সি দেয়নি। তাঁরা বলেন, আমাদের আন্দোলনকে জামায়াতের আন্দোলন বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আমরা আন্দোলন করছি না।
জামায়াত এমপি শামসুল ইসলামসহ ২৫ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাঙ্গু’র সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত নেতা শামসুল ইসলাম চৌধুরীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার শুভাশীষ দাশগুপ্ত রনি বাদী হয়ে রবিবার রাতে সাতকানিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রিপোর্টিং হওয়ায় সম্পাদকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।
সাতকানিয়া থানার ওসি মোঃ ইসমাইল সাংবাদিকদের জানান, মামলায় চট্টগ্রাম নগর জামায়াত আমির সাতকানিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামসুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকিদের পরিচয় অজ্ঞাত।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া বাজার এলাকায় আক্রান্ত হন দৈনিক সাঙ্গু সম্পাদক কবির আহমেদ সিদ্দিকী। জামায়াত-শিবিরের ২০/২৫ কর্মী গাড়ির গতিরোধ করে তার ওপর হামলে পড়ে। এ সময় তারা জামায়াত-শিবিরবিরোধী রিপোর্টিংয়ের জন্য সম্পাদককে গালাগালও করে এবং ভবিষ্যতে এমন নিউজ হলে পরিণতি খারাপ হবে বলে শাসায়। আক্রমণকারীরা পত্রিকা সম্পাদকের গাড়িও ভাংচুর করে।
মাত্র ২০ হাজার টাকায় বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার সরকারীভাবে বাহরাইনে মাত্র ২০ হাজার টাকায় কর্মী নিয়োগের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। এর আগে মালয়েশিয়ায় সরকারীভাবে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় কর্মী নিয়োগের চুক্তি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাহরাইনের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ শেষে সাংবাদিকদের সোমবার বাহরাইনে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিযেছেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, বাহরাইনের প্রতিনিধি দল সরকারীভাবে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর পদ্ধতি জেনে খুশি হয়েছেন। তারাও একই পদ্ধতিতে লোক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাহরাইনের এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারীভাবে লোক পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক সাশ্রয়ীভাবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকায় কর্মীরা বাহরাইন যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এখন থেকে আর দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকায় বিদেশ যেতে হবে না। দরিদ্র মানুষও প্রতারণার শিকার হবে না। সরকারীভাবে লোক গেলে সবাই বুঝতে পারবে কোন দেশে যেতে কত টাকা খরচ হয়। তখন মানুষ সহজেই ঠকবে না।
বাহরাইন থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট দলের প্রধান হলেন-বাহরাইনের লেবার মার্কেট রেগুলারিটি অথরিটির প্রধান নির্বাহী ওসামা বিন আব্দুল্লাহ আল আবসি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে লোক নেয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। কর্মী নিরাপত্তা যাতে বিঘিœত না হয় এ বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন রেগুলারিটি অথরিটির কো-অর্ডিনেশন ম্যানেজার আহমেদ আল খাব্বাজ ও ভিসা প্রসেস ম্যানেজার খালিদ আব্দুল রহমান।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মার্চ থেকেই বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব। কারণ মালয়েশিয়ায় আমরা কর্মী নির্বাচিত করেছি-ওই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে বাহরাইনেও কর্মী বাছাই করা হবে।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিকত্ব বাতিল দাবি শহীদ মিনার অবমাননাকারীদের
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় পতাকা এবং বাঙালী জাতিসত্তার অন্যতম প্রতীক শহীদ মিনারকে যারা অবমাননা করার মতো দুঃসাহস ও স্পর্ধা দেখিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনার অবমাননাকারীদের এ দেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না। জামায়াত-শিবির জঙ্গীবাদী চক্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জামায়াত-শিবির এবার পবিত্র কোরানকে পোড়ানোর মাধ্যমে অবমাননা করে দেশে ধর্মীয় উš§াদনা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে।
সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য এবং জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনার অবমাননার প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক লীগ এই পতাকা মিছিলের আয়োজন করে।
বুকে, পিঠে এবং হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশাল মিছিলটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে জিপিও, পল্টন, প্রেসক্লাব, মৎস্যভবন, শাহবাগ, দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায়। মিছিলে সকলের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন আওয়াজ, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’
সমাবেশে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জামায়াত-শিবির ধর্মভিত্তিক দল না। তারা ইসলামে বিশ্বাস করে না। যার কারণে তারা পবিত্র কোরান শরীফে আগুন দিয়ে প্রগতিশীলদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকায় আগুন দেয়া বরদাশত করা যায় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্ম করার চেষ্টা করলে বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোঃ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তানভীর শাকিল জয় এমপি, আরিফুর রহমান টিটু, ফরিদুর রহমান খান ইরান, দেবাশীষ বিশ্বাস প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জে ইসলামী সমমনা দলের সঙ্গে ১৪ দল ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ
৩ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫০
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ২৫ ফেব্রুয়ারি ॥ কিশোরগঞ্জে ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ১৪ দল ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ এবং ২০ পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ সদরের বৌলাইয়ের কামরুল বারীর ছেলে হেলালকে (৩৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ অন্তত ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
সোমবার শহরের শহীদী মসজিদে আছরের নামাজ শেষে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আজান পর্যন্ত শহরের স্টেশন রোড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। সন্ধ্যার পর সংঘর্ষ শহরের একরামপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাখা হয়। এ সময় ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া এদিন বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালানো হয়।
সারাদেশে গত শুক্রবার ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী থাকলেও কিশোরগঞ্জে ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি শহীদী মসজিদের খতিব মাওলানা আনোয়ার শাহ শুক্রবারের পরিবর্তে সোমবার বিকেল ৩টায় এ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রবিবার এশার নামাজ আদায়কালে তিনি পূর্বঘোষিত কর্মসূচী বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা কর্মসূচীতে যোগ দিতে শহীদী মসজিদের উদ্দেশে রওনা দিলে পুলিশ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে বাধা প্রদান করে। এরপরও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে শহীদী মসজিদে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই মসজিদ এলাকাসহ সারা শহরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আছরের নামাজ আদায়ের পরপরই সেøাগান সহকারে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারী কয়েকজনকে বেদম পিটুনি দেয়। এছাড়া শহীদী মসজিদের ভেতর অবরুদ্ধ ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ করে তারা ঢিল ছুড়লে মসজিদের কয়েকটি কাঁচ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে সংঘর্ষ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মসজিদের মাইক থেকে বার বার গুলি না ছোড়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ঘোষণা আসছিল। মাগরিবের নামাজের সময় শহীদী মসজিদের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহরের অন্যান্য স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।
অন্যদিকে, বিকেল ৫টার দিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আসাদ উল্লাহর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে সাইনবোর্ড ও জানালার কাঁচ ভাংচুর করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
নোয়াখালীতে ডাকাত সন্দেহে এএসপির গাড়িতে আগুন, আটক ২০
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী, ২৫ ফেব্রুয়ারি ॥ নোয়াখালীতে ডাকাতির খবর মাইকে প্রচার হওয়ায় উত্তেজিত জনতা ডাকাত সন্দেহে সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সহকারি পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে সোনাইমুড়ি উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের করিম মাষ্টারের বাড়িতে স্থানীয় কাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ইকবালকে গ্রেফতার করতে গেলে মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়ার খবর প্রচার হলে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত এসেছে প্রচার করে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ও সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুব রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। এঘটনায় সোমবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অম্বনগর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নারী ও পুরুষসহ ২৬ জনকে আটক করে। পরে ৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং বাকি ২০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পুলিশী অভিযানের কারণে পুরো গ্রাম পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে। গ্রামের ছোট-খাট বাজারগুলোর সব দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা আত্মগোপন করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এতে গ্রেফতারকৃত ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ হাজার নারী-পুরুষকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুব রশীদের দাবি এএসপি-সার্কেল পোশাক পরা পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। গাড়িতেও পুলিশ লেখা ছিল। এরপরও মাইকে ডাকাত ঘোষণা দেয়ায় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়েছিলেন। পুলিশের গাড়িটি ভস্মীভূত করা হয়েছে, এটি শুধুমাত্র উত্তেজিত জনতার কাজ নয়। কারণ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জেনেছেন পুলিশ পরিচয় পাওয়ার পর জনতা চলে যায়। তিনি মনে করেন পরিকল্পিতভাবেই পুলিশের গাড়িটি পোড়ানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নিরীহ কোন লোককে হয়রানি করা না হয় সেজন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।