মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
তোমার স্বামীগ কাটিছি এলা তোমরা কুণ্ঠে যাবে যাও...
একাত্তর ভুলতে পারে না সুখানপুখুরীর স্বামীহারা নারীরা
মোরসালিন মিজান,
পঞ্চগড় থেকে ফিরে
আপনার নাম কী? প্রশ্ন করতেই চটজলদি উত্তর_ সুধামনি। স্বামীর নাম? আপনার স্বামীর নাম? এবার আর উত্তর নেই কোন। নিজেকে গুটিয়ে নিলেন বৃদ্ধা। কিছুতেই স্বামীর নাম বলবেন না। একই ব্যাপার দেখা গেল বাকিদের মধ্যেও। স্বামীর নাম মুখে নিতে রাজি নন তারা। পরে বিকল্প হিসেবে একজনের স্বামীর নাম বলতে বলা হলো অন্যজনকে। এবার জানা গেল, সুধামনির স্বামীর নাম যামুনী। একই নিয়মে জানতে হলো অন্যদের স্বামীর নাম। এর কারণ, স্বামীর নাম মুখে নেয়া পাপ। এ সংস্কার অমান্য করার সামান্য পাপটুকুও স্ত্রীরা করতে চান না। অথচ সেই স্বামীদের নৃশংসভাবে হত্যা করাকে একদমই পাপ মনে করেনি পাকিস্তানী জল্লাদ ও এদের দোসর রাজাকাররা। হিন্দু মেরে 'আলস্নাহর জমিন সাফ' করেছিল তারা। একাত্তরে তাই পঞ্চগড়ের সুখানপুকুরী গ্রাম পুরুষশূণ্য হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু অধু্যষিত গ্রামটিতে মৃতু্যর সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, এখন এটি বিধবার গ্রাম নামে পরিচিত। এই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় প্রায় আড়াই শ' নারী বিধবা হন একাত্তরে। এদের অধিকাংশই আর বেঁচে নেই। বাকিরা গত চলিস্নশ বছর ধরে একলা জীবন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সমাজ বাধা সংস্কারে। তাই খুব অল্প বয়সে বিধবা হওয়া নারীদের আর বিয়ে হয়নি। ফলে তাদের কাছে সংসার বলতে কয়েক বছর বা মাসের সংসার স্মৃতি। এ স্মৃতি নিয়েই এতগুলো কাল একলা কাটিয়ে দিয়েছেন। এদের ত্যাগের খবর নিতে এতদূর গ্রামে পেঁৗছতে পারেনি রাষ্ট্র। সমাজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এরপরও জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, হিন্দু অধু্যষিত হওয়ায় এ গ্রামটিকে প্রধান টার্গেট করে স্থানীয় রাজাকাররা। বিষয়টি অাঁচ করতে পেরে ১৯ বৈশাখ পাশর্্ববতর্ী সীমানত্ম দিয়ে গ্রামের লোকজন ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নেন। খুব ভোরে খাওয়া-দাওয়া না করে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। কিন্তু স্থানীয় রাজাকাররা তাঁদের পিছু নিয়ে বলে, আমরা আছি। কোন ভয় নেই। তোমরা বাড়ি চলে আস। সরল সহজ মানুষগুলো এ কথায় বিশ্বাস করে বাড়ি ফিরে আসেন। মহিলারা দুপুরের রান্না শুরম্ন করেন। কিন্তু বেলা ১২টার দিকে শুরম্ন হয়ে যায় চিৎকার চেচামেচি। মেঠো পথের সকল ধুলো শূন্যে উড়িয়ে দিয়ে গ্রামটির দিকে তেড়ে আসতে থাকে পাকিসত্মানী বাহিনী। দৃশ্যটি দেখে গ্রামবাসীর বোঝা হয়ে যায়, ফাঁদে পা দিয়েছেন তারা। আর তাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য মানুষ এলোপাতাড়ি ছুটতে শুরম্ন করেন। কিছু দূর গিয়ে পেছনে ফেরে তাকান কেউ কেউ। কিন্তু তখন আর বাড়ি দেখা যায় না। শুধু আগুন চোখে পড়ে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বাড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাদের। আক্রানত্মদের অন্যতম একজন বিধবা বালাশ্বরী জানান, পরে তারা বাড়ির মায়া ত্যাগ করে পাশর্্ববতর্ী সীমানত্ম দিয়ে ভারতে পারি জমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সব পথই জানা রাজাকারদের। তাই অল্পদূর যেতেই ধরা পড়েন তাঁরা। বালেশ্বরী জানান, সে সময় তিনি ছিলেন তিন মাসের অনত্মঃসত্ত্বা। এছাড়াও দলে ছিল শিশু, বৃদ্ধসহ বহু নারী পুরম্নষ। সকলকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ইসলামপুর গ্রামের আমবাগানে। এর কিছুৰণের মধ্যে রাজাকাররা নারী শিশুদের কাছ থেকে পুরম্নষদের আলাদা করে ফেলে। সুধামনি নামের আরেক বিধবা জানান, পুরম্নষদের নিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকাররা বলে, 'বেটা ছেলে মিছিল করিব'। কিন্তু এটিও ছিল প্রতারণা। মিছিলের নামে এক জায়গায় মূলত জড়ো করা হয় পুরম্নষদের। পরে বিকেল চারটার দিকে সুখানপুকুরী গ্রামের পাশর্্ববতর্ী ঢাপঢুপ বিলের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুরম্ন হয় রক্তের হুলিখেলা। মিলিটারিরা লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে পুরম্নষদের হত্যা করতে থাকে। নপুংশক রাজাকাররা নামে ধারালো অস্ত্র নিয়ে। পশু জবাইয়ের মতো করে এরা মানুষ জবাই করে চলে। জানা যায়, অন্যান্য জায়গার মানুষও এখানে ধরে আনা হয়। সব মিলিয়ে এ বধ্যভূমিতে মোট পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ হত্যা করা হয়। এমন নৃশংসতায় বিল পাড়ের মাটি ভিজে নরম হয়ে যায়। নিজ দেশের মানুষের রক্তে বিলের পানি লাল হতে থাকে। নিজের মুখের ভাষায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভটরি নামের আরেক বিধবা বলেন, 'খানরা ধরি নে গেইল। এলা গুলি কইশে হত্যা কইশে।' হত্যাকা- শেষ করে বাগানে ফিরে আসে রাজাকাররা। এ সময় বালাশ্বরীরা কাঁদতে কাঁদতে জানতে চান, 'পুরম্নষগনা কি কইলেন?' উত্তরে নিদারম্নণ সংবাদটি জানিয়ে দিয়ে রাজাকাররা বলে, তোমার স্বামীগ কাটিছি তোমরা এলা কু-ে যাবে যাও!
জানা যায়, সব হারানো নারীরা এরপর শ্রোতের মতো ভেসে ভারতের বেরম্নবাড়ি শরণাথর্ী ক্যাম্পে পেঁৗছেন। জয় বাংলা নামের ক্যাম্পটিতেই বাচ্চা জন্ম দেন বালেশ্বরী। সে সময়কার মানবতের জীবন যাপনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপস্নুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, কি যে কষ্ট তখন হয়েছে শুধু ভবগান জানেন।
তবে শুধু একাত্তরে নয়, বিজয়ের চলিস্নশ বছর পরও তাঁদের খবর শুধু ভগবানই রাখেন। দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা বিধবাদের চোখের দিকে তাকিয়ে সেটি অনুমান করা যায়। প্রতিটি নারীর চেহারা আগুনে পোড়া কয়লার মতো। শীতে পুরো শরীর ঢাকার কাপড় তাঁদের নেই। নাথু নামের বৃদ্ধা মহিলাটি শরীরজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন এক টুকরো ময়লা কাপড়। তাতে উপরের অংশ ঢাকা পড়েছে। কিন্তু হাঁটুর নিচে আর নামতে পারেনি। এখানেই শেষ নয়, বেশ কয়েকজনের মাথার চুল ছেলেদের চুলের চেয়ে ছোট করে কাটা। কেন? জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে হতবাক করে দিয়ে ভটরি জানান, লম্বা চুল রাখার খরচ অনেক। এত খরচ তারা কী করে করবেন? তাই চুল অস্বাভাবিক ছোট করে রাখেন তাঁরা! দুই বেলা খাবারও নিজের শ্রমে ঘামে জুটিয়ে নিতে হয় তাদের। জানা গেল, সকলেই এর ওর বাড়িতে কাজ করেন। মাঠে কাজ করেন কেউ কেউ। কথা বলার সময়ও তাই কাঁচি দেখা গেল বালাশ্বরীর হাতে। তাঁর শুকিয়ে যাওয়া আঙুলগুলোতে গাছের সবুজ রং মাখানো। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এত কাঠখড় পোড়ানো নারীরা এখনও আগের মতোই সরল-সহজ। তাঁরা পাকিসত্মানী মিলিটারি বুঝেন না। বুঝেন 'খান'। রাজাকার বোঝেন না। বোঝেন 'মুসলমান'। হাসিনা খালেদা তারা বুঝেন না। বুঝেন 'সরকার'। সব সরকারই তাঁদের কাছে এক। কারণ, কেউ তাঁদের কথা ভাবেনি। ভাবে না। আর তাই ভারাক্রানত্ম হয়ে বলেন, 'হামার কোন সরকার নাই'। অবশ্য এর পরও সরকারের প্রতি তাঁদের আনুগত্য আছে। সেটি বোঝাতেই হয়ত এ প্রতিবেদককে সরকারের লোক ভ্রম করে সুধামনি বললেন, আপনি সরকারের লোক। সরকারে আপনেরে পাঠাইল। তাইতো অসম্মান করতে পারি না!
ডারবান সম্মেলনে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষিতই রয়ে গেল
বাংলাদেশ কোন গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেনি
নিখিল মানখিন ॥ ডারবান সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন সরকারের হাতে ছিল না বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারই সাৰ্য বহন করে। জলবায়ু পরিবর্তনে নানা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হলেও তা সীমিত অঞ্চলে ব্যাপৃত থাকে। কিন্তু জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট নতুন নতুন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে হবে। তা করতে না পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে না। প্রথমবারের মতো শুরম্ন করলেও জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি সংশিস্নষ্টরা। গত বছর মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠিত কপ-১৬ সভাতেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন প্রতিবেদন নিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেশ।
দৰিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন, যা 'ডারবান জলবায়ৃু সম্মেলন' বলে পরিচিতি পায়। সরকারী প্রতিনিধি দল সেই সম্মেলনে অংশ নেয়। ওই সম্মেলনে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্যে কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কানকুন সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড কার্যকর করার বিষয়টি উঠে এলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো গুরম্নত্বপূর্ণ দিক উপেৰিত রয়ে যায়। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সরকারী প্রতিনিধি দলের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন গবেষণা প্রতিবেদন ছিল না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের শুরম্নতে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র নিয়ে গবেষণা করার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেন্টারকে (আইইডিসিআর) দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় কোন প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সমন্বয়কারী হলেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেন্টারের (আইইডিসিআর) উর্ধতন বৈজ্ঞানিক ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণের জন্য আইইডিসিআর'কে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। নিরূপণের কাজটি শেষ হয়নি। আরও ১ বছর লাগতে পারে। ১০ সদস্যের এ টিম ইতোমধ্যে কাজ করছে। ঝুঁকি নিরূপণের জন্য তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- উচ্চ ভূমি, দ্বীপ (চরাঞ্চলসহ) ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। এ কাজে ৯০ দশকের আগের অবস্থা বিবেচনায় আনা হচ্ছে। ওই দশকে কি কি রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল, বর্তমানে সেগুলোর কি অবস্থা, তা পরীৰা-নিরীৰা করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা কলেরা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, নিউমোনিয়াসহ মোট ৭টি রোগ চিহ্নিত করেছি। এতদিন ঝুঁকি নিরূপণের কাজ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মুশতাক হোসেন জানান, বিশ্বের কোন দেশেই এ সংক্রানত্ম তথ্য তৈরি করা হয়নি। বিভিন্ন সেক্টরের ওপর অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু জলবাযু পরিবর্তনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিশ্বের কোন দেশই আমলে আনেনি। তবে এ কাজটি খুব দ্রম্নত শেষ করা দরকার বলে মনে করেন ডা. মুশতাক হোসেন।
গত বছর কপ-১৬ সভার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দৰিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক বৈঠক। ওই বৈঠকে কপ-১৬ সভার জন্য তৈরি করা হয় 'ঢাকা ঘোষণা'। ওই বৈঠকে কপ-১৫ সভায় স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উপেৰিত হয়েছে বলে বাংলাদেশের পৰ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। এভাবে কপ-১৫-এর পর গত বছর কপ-১৬ সভায়ও বিষয়টি উপেৰিত রয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া ডারবান জলবায়ু সম্মেলনে তা উত্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সম্মেলনেও উপেৰিত রয়ে যায়। গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আনত্মর্জাতিক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রম্নহুল হক অকপটে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোন কথাই হচ্ছে না, সেখানে আর্থিক ৰয়ৰতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে না। পরিবেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিলৰিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারই সাৰ্য বহন করে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কপ-১৫সহ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে উপেৰিত হয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়ায় ৪০ বছরেও নির্মিত হয়নি বধ্যভূমি কমপ্লেক্স
জাহিদুল আলম জয়, কুষ্টিয়া থেকে ফিরে ॥ কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে বিত্তিপাড়া বাজার। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশে তাদের দোসরদের সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী বিত্তিপাড়া বাজারে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ক্যাম্প স্থাপন করে। পাকি বাহিনী সে সময় প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে এলাকার মুক্তিসেনা, যুবক, সাধারণ মানুষদের ধরে নিয়ে এসে এখানে বন্দী করত। পরে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের হত্যা করা হতো। শুধু তাই নয়, কাউকে অর্ধেক, কাউকে পুরো মাটিচাপা দেয়া হতো। অনেককেই জীবনত্ম পুঁতে রাখা হতো। এদের কারও হাত, কারও পা বেরিয়ে থাকত। এই পাকি ক্যাম্পের আশপাশের লোকজন নিরীহ বাঙালীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের গগনবিদারী চিৎকার শুনতে পেতেন। সংশিস্নষ্ট এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে কয়েক হাজার মানুষকে হানাদার পাকবাহিনী হত্যা করে পুঁতে রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় এ স্থানটি যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৩২ বছর পর ২০০৩ সালে এ জায়গাটি বধ্যভূমি হিসেবে শনাক্ত করে সেখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়।
সরেজমিন বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি অঞ্চলে গেলে মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম বিশ্বাস স্মৃতিচারণ করেন, 'একাত্তরে আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এদেশের দালালদের কারণে অনেক সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি এলাকায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের পরপর সম্ভবত ১৯৭২ সালে বৃত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মাথার খুলি, হাড়-হাড্ডি ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম ও মার্কিন নাগরিক জন স্টোন হাউস দুটি পিকআপে করে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ঢাকায় এসব সংরৰণ করা আছে বলে তিনি জানান।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও আড়ালে রয়ে গেছে বৃত্তিপাড়ার স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু শহীদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা জায়গাটি বধ্যভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রাণানত্ম চেষ্টা চালান। এজন্য শহীদ বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তাদের ঐকানত্মিক চেষ্টায় ২০০৩ সালে বধ্যভূমি হিসেবে বিত্তিপাড়াকে চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। তবে তা ছিল অনানুষ্ঠানিক। আনুষ্ঠানিকভাবে বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে গত ৯ ডিসেম্বর। এ দিন 'বৃত্তিপাড়া মুক্তদিবস' অনুষ্ঠানে এ স্বীকৃতি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসিম উদ্দিন আহমেদ। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামের স্বপ্ন দেখেন, এখানে একটি কমপেস্নঙ্ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'অনেকদিন থেকেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে একটি কমপেস্নঙ্ নির্মাণের জন্য। অনেকেই বিভিন্ন সময় আশার বাণী শোনালেও তা বাসত্মবায়ন হয়নি। এবার কুষ্টিয়া মুক্তদিবসে (১১ ডিসেম্বর) জেলা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বধ্যভূমির জন্য ৭ লাখ টাকার অনুদান দেবে সরকার। এটি বাসত্মবায়িত হবে আশা রাখি । কিন্তু না হওয়া পর্যনত্ম আশ্বসত্ম হতে পারছি না।'
মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, 'বর্তমানে বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি কুষ্টিয়া কৃষি বিভাগের অধীনে। আমাদের দাবি, জায়গাটি বধ্যভূমির নামে দেয়া হোক।' তবে এ ব্যাপারে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো জায়গাটি অবশ্য কৃষি বিভাগের অধীনে নয়। কিছু অংশ কৃষি বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে আমরা ওই অংশটুকুও বধ্যভূমির নামে করে নেয়ার চেষ্টায় রয়েছি। বধ্যভূমির জন্য অর্থ অনুদান প্রসঙ্গে নাসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সদ্য আমরা ৭ লাখ টাকার কাজ পেয়েছি। এ মাসের শেষের দিকে কাজ শুরম্ন হবে।
একাধিক হত্যা মামলায় জড়ানোর জের ধরেই খুন হয় লোকমান
ঘাতক শরীফের স্বীকারোক্তি
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ১৪ ডিসেম্বর ॥ নরসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া নাজমুল হাসান শরীফ ওরফে কিলার শরীফ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে শিবপুরের বিএনপি নেতা জসিম হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় সে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিটি গ্রেফতারের পেছনে লোকমানের হাত ছিল।
তদন্ত-সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, শরীফ দাবি করেছে, দু'বছর আগে নরসিংদী শহরের বীরপুর মহল্লার ইঞ্জিন রনি খুন হয়। ডিশ ব্যবসার সূত্র ধরে তাকে খুন করা হয়। এ মামলায় তাকে আসামি করা হয়। সে রনির মা-বাবার কাছে গেলে তারা জানায় তাকে তারা আসামি করেনি। মেয়র লোকমান করিয়েছে। পরে সে মেয়রের বাসায় গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। মেয়র বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেয়। পরবর্তী সময়ে মেয়র তাকে ডেকে নিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। এসব কারণে সে লোকমানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া জসিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন মোবা এবং ডাক ও টেলিযোগযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর এপিএস মুরাদ তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে শরীফ লোকমান হত্যাকা-ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবার সঙ্গে তার ক্ষোভের কথা জানায়। শরীফ পুলিশকে জানায়, লোকমান হত্যাকা-ের বিষয়ে সে নরসিংদী শহরে একাধিকবার মোবারকের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন কৌশল বের করে। শরীফের দাবি অনুযায়ী হত্যাকা-ের জন্য মোবারক হোসেন মোবা, নরসিংদী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অস্ত্র ব্যবসায়ী নুরম্নল ইসলাম, আশরাফুল সরকার, মুরাদ তাকে একটি জার্মানের তৈরি ৩২ বোরের রিভলবার, ৩০ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল যোগাড় করে দেয়। মোবারকের কথানুযায়ী তার ভাতিজিজামাই টঙ্গীর হাজী সেলিমের নিকট থেকে মোটরসাইকেলটি সে নিয়ে আসে। পরিকল্পনার শেষে হত্যার কয়েক দিন আগে মোবা, নূরম্নল ইসলাম মালয়েশিয়া চলে যায়। এদিকে মোটরসাইকেল দিয়ে শরীফ শহরের বিভিন্ন এলাকা রেকি করতে থাকে এবং মেয়র লোকমান হোসেনকে কিভাবে কোথায় খুন করা যায় সে ফন্দি অাঁটে। শরীফ পুলিশকে জানায়, ১ নবেম্বর রাতে সহযোগী আওলাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সে মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে যায় এবং মোটরসাইকেলটি পাশের একটি খালি জায়গায় রেখে মুখোশ পরতে পরতে আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে লোকমানকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। গুলি খেয়ে লোকমান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর আরও ৪টি গুলি করা হয়। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাকে ধাওয়া করলে মোটরসাইকেল ওই স্থানে রেখেই দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে কিলিং মিশনে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।
অপরদিকে খুনী শরীফের দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে মেয়র লোকমান পরিবার। তারা বলছে, শরীফ হত্যাকারী। মোবারক তাকে ব্যবহার করেছে। মোবারকসহ মামলার অন্য আসামিরা এ হত্যাকা-ে পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনাকারীদের বাঁচানোর কোন ষড়যন্ত্র হলে নরসিংদীসহ দেশবাসী তা মেনে নেবে না। মেয়র লোকমান হত্যা মামলার আসামি নাজমুল হাসান শরীফ, আওলাদ হোসেন রম্নবেল, দেলোয়ার হোসেন শরীফ, সরওয়ার হোসেন পৃথক দুটি মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার খ. মহিদ উদ্দিন জানান, শুরম্ন থেকেই বলে আসছি হত্যাকা-ের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কারণ, পূর্ব বিরোধ, আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখে তদনত্ম কাজ চলছে।
কুলখানি॥ মেয়র লোকমান নিহত হওয়ার ১ মাস ১৩ দিন পর বুধবার তার কুলখানির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া, মন্দিরে প্রার্থনা ও গণভোজের আয়োজন করে তাঁর পরিবার। এছাড়া শোকাহত জনতা শহরের ৩৯ পয়েন্টে আলাদা আলাদা গণভোজের আয়োজন করে। লে. কর্নেল (অব) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক এমপি এ গণভোজে অংশ নেন।
পরকীয়ায় পল্লবীতে স্বামীর কোপে স্ত্রী খুন, ঘাতক আটক
সূত্রাপুরে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পলস্নবীতে স্ত্রীর পরকীয়া জের ধরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষ- স্বামী। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক স্বামী মোঃ হারুনকে গ্রেফতার করেছে। খিলক্ষেতে সড়ক দুঘর্টনায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। মোহাম্মদপুরে ছাদ থেকে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে পুরনো ঢাকার সূত্রাপুরে ছিনতাইকারীরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে গুলি চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। বুধবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টায় মিরপুর দুয়ারীপাড়ার বস্নক-খ এর ২ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি থেকে গৃহবধূ ছবি আক্তারকে (২৪) রক্তাক্ত আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনে তার স্বামী মোঃ হারুন ও খালা রাশেদা বেগম। কর্তব্যরত চিকিৎসক ছবি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার উরুতে গাঁথা ধারাল বটিটি চিকিৎসক অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আনেন। এ ঘটনায় সন্দেহ দেখা দিলে পুলিশ নিহতের স্বামী হারম্ননকে আটক করে। আটক হারম্নন তার খালাশাশুড়ি রাশেদা বেগমের সামনে বলেন, আমি স্ত্রী ছবিকে মারতে চাইনি। ওকে আমি পঙ্গু বানিয়ে রাখতে চেয়েছি। ও (স্ত্রী) আমার সংসার তছনছ করে দিয়েছে। হারম্নন আরও জানায়, ২ মাস আগে স্ত্রী ছবি পুনরায় স্থানীয় আব্দুল হাই নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। কর্মস্থলে যাবার সুবাদে স্ত্রী মোবাইলের মাধ্যমে আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। দুই শিশু সনত্মান ইসমাইল (৬) ও ইব্রাহিমকে (৪) পলস্নবী থানাধীন দুয়ারীরপাড়া রেখে আব্দুল হাইয়ের মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াত। এমনকি দুদিন স্ত্রী গাজীপুরে ওই যুবক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। এরপরও আমি স্ত্রীকে প্রচ- ভালবাসি বিধায় এই পথ থেকে সরাতে চেয়েছিলাম। খালাশাশুড়ি রাশেদা বেগমকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি স্ত্রী ছবিকে ফেরাতে চেয়ে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে প্রায়ই স্ত্রী ছবির সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। পরে স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য একদিন আগে পলস্নবী থানাধীন মিরপুর দুয়ারীপাড়ার বস্নক-খ-এর ২ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি নিচতলায় খালাশাশুড়ির বাড়িতে স্ত্রী ছবি ও দুই ছেলে নিয়ে বেড়াতে আসি। পরের দিন বুধবার সকাল ৯টায় স্ত্রী ও দুই সনত্মানকে রেখে আমি কর্মস্থল স্থানীয় লেজান ফ্যাশন গামেন্র্টসে যাই। হঠাৎ সন্দেহ হলে সকাল ১০টায় খালাশাশুড়ির বাড়ি ফিরে আসি। এ সময় স্ত্রীকে বাসায় না পেয়ে খালাশাশুড়িকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, ছবি পাশর্্ববতর্ী দোকানে ফ্ল্যাঙ্ িলোড করতে গেছে। পরে মোবাইল দোকানে গিয়ে দেখতে পাই স্ত্রী ছবি তার মোবাইলে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে। এ সময় তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে অপর প্রানত্মে ওই যুবক আব্দুল অশস্নীল কথা শুনতে পাই। পরে স্ত্রী ছবিকে বাসায় এনে খালাশাশুড়িকে বিষয়টি জানাই। তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রী ছবি ৰিপ্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে ধারাল বটি এনে আমার দিকে তেড়ে আসে। পরে খালাশাশুড়ি ও আমি তার হাত থেকে বটি কেড়ে নিই। তারপরও সে আমাকে মারতে এলে আমি ৰিপ্ত হয়ে তাকে পঙ্গু বানিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে খাওয়াব বলে ওই বটি দিয়ে পায়ে কোপ দেই। এক পর্যায়ে বিষয়টি টের পেয়ে তার পা থেকে বটি খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মিরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থা অবনতি হলে দুপুর পৌনে ১২টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্ত্রী ছবিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের সামনে হারম্নন হাউ মাউ করে কেঁদে বলেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। সে সুযোগে স্ত্রী কাফরম্নল থানাধীন মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের রানা নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে তিন মাস পর সেখান থেকে দেশে চলে আসি শুধু স্ত্রী ও সনত্মানের ভালবাসায়। নিহতের খালা রাশেদা বেগম, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বোনজি ছবিকে বুঝিয়ে ওই পথ থেকে সরাতে পারেননি।
শাহাবুদ্দিনের রং তুলিতে 'বিজয়ের চার দশক'
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের রণাঙ্গনের এক সাহসী যোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পীর রয়েছে অনন্য ভূমিকা। সেই সময় রং-তুলি ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন রাইফেল। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে তবেই থেমেছিলেন। এ কারণেই চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের চিত্রকর্ম সৃজনে প্রধান প্রেরণার উৎস মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার চলিস্নশ বছরে পদার্পণকে উপলৰ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিল্পী রং-তুলির আঁচড়ে নতুন কিছু ছবি এঁকেছেন। তেল রঙে সৃজিত এসব চিত্রকর্মে উদ্ভাসিত হয়েছে গতির ঝড় তোলা গেরিলাদের লড়াই, সংগ্রামী মানুষের নানা অভিব্যক্তি আর যুদ্ধের জঙ্গমতা। বিশাল আকৃতির ক্যানভাসে অাঁকা হয়েছে ছবিগুলো। আর এসব চিত্রকর্ম নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকানত্ম ভট্টশালী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে প্রদর্শনী। স্বাধীনতার চলিস্নশ বছরের গৌরবগাথাকে তুলে ধরা এ প্রদর্শনীর শিরোনাম বিজয়ের চার দশক। প্রদর্শনীটি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের নিবেদন করেছেন শিল্পী। এর উদ্বোধন করবেন মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকার। এ ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সেক্টর কমান্ডারগণ। এ চিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে বুধবার স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয় । এতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন, প্রদর্শনীর কিউরেটর এবাদুর রহমান ও আয়োজক কমিটির মঈনুল হাসান মিতুল।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী শাহাবুদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধ আমার হৃদয়ের গহীনে প্রোথিত। এটি একটি অস্ত্র যা আমাকে এই ধরনের ছবি অাঁকতে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডারদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে আমার এই প্রদর্শনীর আয়োজন।
আর্ট কিউরেটর এবাদুর রহমান শাহাবুদ্দিনের চিত্রকলা প্রসঙ্গে নানা তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, শিল্পী শাহাবুদ্দিন অাঁকেন একেবারে আমাদের বাংলাদেশের ভাষায়। তাঁর অাঁকায় রয়েছে এক অদ্ভুত গতিময়তা, যা আমাদের সামনের দিকে চলতে উজ্জীবিত করে।
আর প্রদর্শনীর আয়োজন সম্পর্কে মঈনুল হাসান মিতুল বলেন, বিজয়ের চার দশক পূর্তি হোক গৌরবময় আর অহঙ্কারের। সেই সময় এবং শিল্পী শাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানানোই প্রদর্শনীর মুখ্য উদ্দেশ্য।
১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হওয়া ১১ দিনব্যাপী প্রদর্শনী চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যনত্ম। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যনত্ম দর্শনাথর্ীদের জন্য খোলা থাকবে।
বাংলা একাডেমীর বিজয় উৎসব শুরম্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্্যাপনের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হলো বাংলা একাডেমীর বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠানমালা। স্বাধীনতার ৪০ বছরে বিজয় উৎসব উপলক্ষে একাডেমীর রবীন্দ্র চত্বরে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন ছিল বুধবার। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পসত্মবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরম্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
একাডেমীর রবীন্দ্র চত্বরে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন সকালে 'শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতিকৃতি অঙ্কন' বিষয়ে আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দুটি শাখায় অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে একই স্থানে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। 'বুদ্ধিজীবী হত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও আজকের বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা অহিদ। আলোচনা করেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সভাপতিত্ব করেন শিৰাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুরম্ন থেকেই পাকিসত্মান রাষ্ট্র বাঙালী সংস্কৃতিকে শত্রম্ন জ্ঞান করেছে। তাই '৭১ সালে তারা শহীদ মিনারকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, বাংলা একাডেমীতে হামলা চালিয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যাও তাদের সেই বাঙালী সংস্কৃতিবিরোধী অপতৎপরতারই অংশ। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক অধিকার নেই কিন্তু বাংলাদেশের আমরা এর বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। তাই শুধু যুদ্ধাপরাধের দায়ে গুটিকয়েক ব্যক্তির বিচার করলেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের ঋণ শোধ হবে না বরং যুদ্ধাপরাধীদের ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মকা- নির্মূল করতে হবে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, শুধু একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যা হয়নি বরং ২৫ মার্চের কালরাত্রি থেকে বুদ্ধিজীবী নিধনপর্ব শুরম্ন হয় এবং শুধু রাজধানীবাসী বুদ্ধিজীবীদেরই নয়, সারাদেশের বুদ্ধিজীবীদেরই তারা হত্যার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তির অপরাধকে আমলে নিলে চলবে না, বরং যে সংগঠিত-ফ্যাসিবাদী শক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা ও বাসত্মবায়ন করেছে তাকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আহকামউলস্নাহ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মীনা বড়ুয়া, উমা ইসলাম, আবদুল হালিম খান, সরদার মোঃ রহমাতউলস্না, আজাদ হাফিজ, মাহমুদুজ্জামান বাবু, ঝুমা খন্দকার প্রমুখ।
রবি-চ্যানেল আই বিজয়মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সুজেয় শ্যাম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর চ্যানেল আই-এর আয়োজনে তেজগাঁওয়ের কার্যালয় চত্বরে এবারও অনুষ্ঠিত হবে 'রবি-চ্যানেল আই বিজয় মেলা'। এবার বিজয়মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম। এ ছাড়া প্রতিবারের মতো এবারের আয়োজনেও থাকবে বৈচিত্র্যময়তা। বিজয়ের ৪০ বছরকে স্মরণ করতে মেলাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।
এ উপলক্ষে বুধবার চ্যানেল আই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আজীবন সম্মাননায় ভূষিত সুজেয় শ্যাম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং রবির সিএফও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যবৃন্দ। এ সময় বায়েজিত খুরশীদ রিয়াজের কথা ও সূরে স্বাধীনতার ৪০ বছর উপলক্ষে চ্যানেল আই নির্মিত একটি গানের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন ও এন্ড্রু কিশোর।
এ বছর মেলার উদ্বোধন করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী-কলাকুশলী, নারী মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ, আইনজীবী, দেশ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্র শিল্পীবৃন্দ, সঙ্গীতশিল্পী-সাহিত্যিক, আবৃত্তি শিল্পী, লেখক ও দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
যুদ্ধাপরাধীদের জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিল দাবি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় প্রেসক্লাবে যুদ্ধাপরাধীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ ত্বরান্বিত করতে এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি করেন।
বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা আরও বলেন, যুদ্ধাপাধের বিচারের বিরুদ্ধে যারা বক্তৃতা দিচ্ছে জাতিয় তাদেরও বিচার করবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতীয় দাবি। বিগত নির্বাচনে জনগণ এ বিচারকে ত্বরান্বিত করার জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করা মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলমগীর, বিএফইউজের মহাসচিব আলতাফ মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাকারিয়া কাজল, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সূর্য, সাবেক সভাপতি কাজী রফিক, যুগ্ম সম্পাদক রহমান মুস্তাফিজ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, দৈনিক জনতার সম্পাদক আহসান উলস্নাহ প্রমুখ।
পলিথিনে ভরা খিচুড়ি যারাই খেয়েছে তারাই আক্রান্ত হয়েছে
বাবুর্চির দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, নীলফামারী, ১৪ ডিসেম্বর ॥ সাড়ে ৭ মণ চাল, ২ বস্তা আলু, ১ মণ এ্যাংকার ডাল ও ৫০ কেজি গরু মাংস মিশ্রণ করে উরসের তবারক(খিচুড়ি) রান্না করা হয়েছিল। এরপর পলিথিনে ভরে তা উরস শেষে উপস্থিত মুসলিস্নদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কথাগুলো উরসের খিচুড়ি রান্নার বাবুচি মোঃ সাজ্জাত হোসেনের। তার মতে যারাই পলিথিনে ভরা উরসের খিচুড়ি খেয়েছে তারাই বিষক্রিয়ায় বমি ও পাতলা পায়খানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর যারা পেস্নটে বা থালায় করে এই খিচুড়ি খেয়েছে বা থালায় করে বাড়িতে নিয়ে গেছে তাদের কিছুই হয়নি। কারণ এই বাবুর্চি নিজেও গামলায় করে খিচুড়ি তার বাড়িতে নিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়েছেন তাদের কোন কিছু হয়নি। তদনত্ম টিমের কাছে এভাবে তুলে ধরেন বাবুর্চি সাজ্জাত। এই বিষয়টিকেও জেলা প্রশাসনের ও স্বাস্থ্য বিভাগের তদনত্ম টিম গুরম্নত্ব দিয়েছেন। এতেই বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার হয়ে গেছে নিষিদ্ধ এবং নিম্নমানের পলিথিনে ভরা খিচুড়ি বিষাক্ত হয়ে ওঠে, যা খেয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর, রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের উরসে অংশ নেয়া মুসলিস্নরা আক্রানত্ম হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার তদনত্ম রিপোর্ট দেয়া হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মহাজোট ক্ষমতায় না এলে তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হতো দেশ
চট্টগ্রামে নাসিম
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নাসিম বলেছেন, চারদলীয় জোট সরকারের দুঃশাসন এবং সারাদেশে ব্যাপক জঙ্গীদের তান্ডব বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভুলে গেলেও জনগণ কিন্তু ভুলে যায়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় না এলে এদেশ তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হতো। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরম্ন হয়েছে। এ সরকারের মেয়াদকালেই কয়েকজন চিহ্নিত ঘাতকের বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ডিসি হিলে স্মৃতি '৭১ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের বইমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম এ মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংগঠন আমরা করব জয়, ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত এই বইমেলার বুধবারের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য এম কফিল উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কাজী আবু জাফর, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। একই মঞ্চে সম্মাননা পদক দেয়া হয় একাত্তর সালে সাকা চৌধুরীর দোসরদের হাতে নিহত দানবীর নূতন চন্দ্র সিংহ (মরণোত্তর), ভাষা সৈনিক আবদুলস্নাহ আল হারম্নন ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম কফিল উদ্দিনকে। নূতন চন্দ্র সিংহের পক্ষে তাঁর দৌহিত্র এবং আবদুলস্নাহ আল হারম্ননের পক্ষে তাঁর কন্যা লুবনা হারম্নন এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক এ সভা পরিচালনা করেন ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটির অন্যতম নেতা শওকত বাঙালী।
যুবক হত্যার জের ॥ লাশ নিয়ে মিছিল ১৪৪ ধারা জারি ॥ মহিলার মৃত্যু
দুই পার্বত্যজেলায় উত্তেজনা
পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি/ নিজস্ব সংবাদদাতা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি, ১৪ ডিসেম্বর ॥ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালককে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ী ও বাঙালীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেলচালক আব্দুস সাত্তার (৩০) ও অপর উপজাতীয় মহিলা কিরন নীলা চাকমা (৪৬) নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। বাঘাইছড়ি এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
মোটরসাইকেলচালক নিহত আবদুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি কবাখালি এলাকার ও রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খাগড়াছড়ি সহকারী পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মোতায়ন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন মহল উস্কানিমূলক কর্মকা- চালালে তাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশর্ী সূত্রে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঘটনাস্থল এলাকা রাঙ্গামাটির জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকার ইউনিয়নের পতেঙ্গাছড়া গ্রামে মোটরসাইকেলচালক আবদু সাত্তারকে ভাড়ায় নিয়ে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত সাত্তারের দেহে বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্নহ্নহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার রেশ ধরে বুধবার সকালে দীঘিনালার কবাখালি এলাকায় উত্তেজিত বাঙালীরা একটি চাঁদের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ইটের আঘাতে এক উপজাতীয় মহিলার মৃতু্য হয়। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনিক হসত্মক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দুই উপজাতীয় যুবক সাত্তারকে দীঘিনালার কবাখালি থেকে মোটরসাইকেল ভাড়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার পতেঙ্গাছড়ায় নিয়ে যায়। রাতেই উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। সংশিস্নষ্ট থানায় মামলাও হয়নি।
মুক্তিপণ দাবিতে সুন্দরবনে ১০ জেলেসহ ট্রলার অপহরণ
মুকুল বাহিনীর হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ১৪ ডিসেম্বর ॥ সুন্দরবনে জেলে ট্রলারে বনদস্যু মুকুল বাহিনী হামলা করে লুটপাটের পর মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেসহ একটি ট্রলার অপহরণ করেছে। বুধবার বিকেলে বনদসু্য মুকুল বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের গহীনে কালিরখাল এলাকায় জেলে ট্রলারে হামলা করে ডাকাতির পর অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায় বলে জানা গেছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে সাগর থেকে ফিরে আসা জেলে ও কোস্টগার্ড সূত্রে এ কথা জানা গেছে। কোস্টগার্ড মংরাস্থ পশ্চিম জোনের সদস্যরা জেলেদের সূত্রে খবর পেয়ে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান শুরম্ন করেছে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, বুধবার ভোর রাতে শরণখোলা এলাকার সহিদুল মেম্বারের একটি ট্রলারে ১৫ জন জেলে পূর্ব সুন্দরবনের কালিরখালে মাছ ধরতে যায়। এ সময় এই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী বনদসু্য মুকুল বাহিনীর সদস্যরা তাদের ট্রলারে হামলা করে সর্বস্ব লুটপাটের পর ২ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ওই ট্রলারসহ ১০ জেলেকে আপহরণ করে নিয়ে যায়। মুকুল বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা জেলেদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। আগামী ৩ দিনের মধ্যে দসু্যদের চাহিদা মতো চাঁদা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জেলেদের হত্যা করা হবে বলে ওই বনদসু্যরা হুমকি দিয়েছে বলে অপহরণের শিকার জেলেরা অন্যদের জানিয়েছে। অপহৃত জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায় বলে জানা গেছে। মংলা কোস্টগার্ড অপারেশন অফিসার মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, তাঁরা জেলে ট্রলারে হামলা ও জেলেদের অপহরণের খবর শুনেছেন। তাঁরা ফিরে আসা জেলেদের নিকট থেকে খবর পেয়ে অপহৃত জেলেদের উদ্ধার করতে কোস্টগার্ডের একটি দল রাত থেকে অপরেশন শুরম্ন করেছেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মিহির কুমার দো জানান, তাঁরা সুন্দরবনে জেলে ট্রলারসহ ১০ জেলেকে অপহরণের কথা শুনেছেন। বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় তিনি বিসত্মারিত কিছু জানাতে পারেননি।
কুসিক নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ২৯৫ জন মেয়র প্রার্থী ৯
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিলস্না, ১৪ ডিসেম্বর ॥ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে বুধবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন ১৫ প্রার্থী। এসব প্রার্থীর সকলেই সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মেয়র ও সংরৰিত মহিলা আসনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের কেউ প্রত্যাহার করেননি। এ নিয়ে কুসিক নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকায় প্রার্থীর সংখ্যা হলো মোট ২৯৫ জন। এরমধ্যে মেয়র পদে ৯ জন, সংরৰিত মহিলা আসনে কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন ও সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে ২১৭ জন।
জানা যায়, কুসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় গত ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বাছাইয়ে মেয়র পদে ১ জন ও কাউন্সিলর পদে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। এসব প্রার্থীর আপীল আবেদনের প্রেৰিতে গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচনী আপীল অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সিরাজুল হক খান শুনানি শেষে ১৯ জন আপীলকারী প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বহাল রেখে ৭ জনের বাতিল আদেশ বহাল রাখেন। ওই ৭ জনের মধ্যে ২১নং ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মাহবুবুর রহমান বাতিল আদেশের বিরম্নদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে গত ৮ ডিসেম্বর দু'জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণপূর্বক প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আদেশ দেন। বুধবার ওই প্রার্থী হাইকোর্টের আদেশসহ রিটার্নিং অফিসারের নিকট আবেদন করে প্রার্থিতা ফিরে পান। এ নিয়ে মেয়র পদে ৯ জন, ৩৬টি ওয়ার্ডের ৯টি সংরৰিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন ও ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে ২১৭ জনসহ মোট ২৯৫ প্রার্থী চূড়ানত্ম তালিকায় ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুমিলস্না টাউন হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুসিক নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন।
সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী ১৫ জন হলেন- ৩নং ওয়ার্ড : আবদুলস্নাহ আল মোমেন, একেএম তোফাজ্জল হোসেন, ১৬নং ওয়ার্ড : আবুল কাশেম, ১৮নং ওয়ার্ড : সালাহউদ্দিন ছালাম, ১৯নং ওয়ার্ড : মোঃ শাহীন চৌধুরী, ২০নং ওয়ার্ড : মোঃ সাইফুল ইসলাম, ২২নং ওয়ার্ড : মনিরম্নল হক মৈশান, মাহাবুবুল হক মজুমদার, ২৩নং ওয়ার্ড : মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, মোঃ জামাল উদ্দিন, ২৪নং ওয়ার্ড : মোঃ আবদুলস্নাহ আল মামুন, ২৫নং ওয়ার্ড : মোঃ আক্তার হোসাইন ও ২৬নং ওয়ার্ড : কফিল উদ্দিন মজুমদার, আবদুর রব ফয়সাল।
এদিকে সাবেক দুই ছাত্রলীগ নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে দলের নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আফজল খানকে সমর্থন দেয়। দলীয় সিদ্ধানত্ম না মেনে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নুর উর রহমান মাহমুদ তানিম এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন।
অপরদিকে মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে বিএনপি দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ায় সাক্কু সমর্থক দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাক্কুকে দলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আ'লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আফজল খানের সমর্থকরা।