মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০১১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪১৮
গ্রামের চিরচেনা রূপ আর আধুনিকতার সমন্বয় যেন এক স্বপ্নপুরী
নড়াইলের অরুণিমা এ্যাগ্রো ইকোপার্ক
রিফাত-বিন ত্বহা
এখনই সেই মৌসুম, যা পর্যটকদের কাছে প্রিয়। দেশের পর্যটন এলাকাগুলো এ সময় মুখরিত হয়ে ওঠে পর্যটকদের ভিড়ে। তাই পর্যটকদের ঢল নেমেছে অরুনিমাতেও। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পরিবেশ আর বিনোদনের আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধায় সন্তুষ্ট ভ্রমণপিপাসুরা। দেশের একমাত্র এগ্রো-ইকো-রিভারাইন-স্পোর্টস পর্যটন কেন্দ্র হলো 'অরুনিমা'। এর পুরো নাম অরুনিমা কান্ট্রিসাইড অব শাহ্বাজ টু্যরিজম্ লিঃ এবং মধুমতি টু্যরিজম লিঃ ও গল্ফ রিসোর্ট। ইতোমধ্যেই সেখানে ভিড় জমেছে বিনোদনপ্রিয় দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। তাদের পদভারে এখন মুখরিত কৃষিভিত্তিক পরিবেশবান্ধব এ পর্যটন কেন্দ্রটি। গোটা শীত মৌসুম ধরেই পর্যটকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকবে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পানিপাড়ার এ কান্ট্রিসাইডটি। দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমনে অনুন্নত পানিপাড়ায় লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। সরকার আয় করছে রাজস্ব।
প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বিনোদনপ্রিয় মানুষ ও পর্যটক আসছেন চিত্রা-কাজলা-নবগঙ্গা ও মধুমতি বিধৌত বরেণ্য শিল্পী এসএম সুলতানের নড়াইলের এ অরুনিমা ইকোপার্কে। উপভোগ করছেন প্রকৃতিকে। আবাসিক সুবিধার তুলনায় পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকায় রাত যাপন না করে অনেকেই দিনের বেলায় ফিরে যান। এজন্য বিনোদনপ্রিয় সচেতন লোকগুলো শীত মৌসুমের আগেভাগেই এ পর্যটন কেন্দ্রের কটেজগুলো বুকিং দিয়ে রেখেছেন। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আবাসিক সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে এসি, নন-এসি ২০টি কটেজ; যার মধ্যে রুম রয়েছে ২৪টি এবং দুই-রুমবিশিষ্ট ভাসমান কটেজ রয়েছে একটি। এখানে আবাসিক বোটসহ প্রতিটি কটেজেই রয়েছে খাবারের সু-ব্যবস্থা। লেকের মাঝে রয়েছে দ্বীপ রেস্টুরেন্ট এবং সরকার অনুমোদিত মিনি বার। এ রেস্টুরেন্টে দেশী-বিদেশী খাবার, ফলের জুস, নিজস্ব খামারে উৎপাদিত সবজি ও মাছের ফ্রাইসহ আরও আছে অস্ট্রেলিয়ান মেশিনে তৈরি বারবিকিউ। এখানে আছে ৪শ' জনের সেমিনার বা কন্্ফারেন্সের ব্যবস্থা। এছাড়াও রয়েছে ৭৫ জনের আবাসিক সুবিধাসহ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা।
রাজধানী ঢাকা থেকে অরম্ননিমায় আসার সহজ একটি পথ রয়েছে। বিশ্বরোডে মাওয়া-কেওড়াকান্দি-ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া হয়ে গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলীয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে হাতের ডানে কিছুদূর গিয়ে বরফা ফেরিঘাট পার হলেই এই স্বপ্নপুরী ইকোপার্ক। আসতে সময় লাগবে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। খুলনা ও যশোর থেকে নড়াইলের কালিয়া হয়ে কান্ট্রিসাইডটিতে যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এছাড়াও নড়াইল থেকে লোহাগড়া হয়ে মহাজন বাজার থেকে নবগঙ্গা ও মধুমতি নদী ফাইবার-বোটে পাড়ি দিয়ে ইকোপার্কে যাওয়া যায়। মহাজন থেকে নবগঙ্গা নদী পার হয়ে বড়দিয়া বাজার থেকে ভ্যান, মোটর-সাইকেল বা নছিমনযোগেও ইকোপার্কে যাওয়া যায়।
কৃষিভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব অরম্নণিমা সবুজ ছায়াঘেরা বনায়নে অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পরিবেশে ৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে অরম্ননিমা ইকোপার্ক। যা অরম্ননিমা ইকোপার্ক ও কান্ট্রিসাইড পানিপাড়া পর্যটন কেন্দ্র নামেও পরিচিত। বলা যেতে পারে, এটি একটি ফুল ও ফলের বাগান। আবার বলা যেতে পারে বৃহৎ একটি মাছের খামার। বিনোদনপ্রিয় মানুষের জন্য এখানে রয়েছে পিকনিকের ব্যবস্থা। মনে হবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবহমান গ্রাম-বাংলার চিরচেনা রূপ আর আধুনিকতার সুপরিকল্পিত সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে অরম্ননিমাকে। এ যেন মনের মাধুরী মেশানো কোন স্বপ্নপুরী।
এ পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশপথেই দেখা যাবে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ, যেন আগন্তুককে অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়ে আছে। হাজার হাজার ফুল ও ফলের চারাসহ বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ সৃষ্টি। যেমন রয়েছে আম, কাঁঠাল, লিচু, নারকেল, চেরি, স্টারআপেল, জলপাই, পেঁপে, কুলসহ অসংখ্য ফলের গাছ; তেমনি রয়েছে ড্যাফোডিল, ক্যামেলিয়া, লিলি, কুমারী পান্থ, পদ্ম, নীলপদ্ম, রঙ্গন, কাঞ্চন, দু'শ' প্রজাতির গোলাপ, মার্বেলটাস্ক, টগর, গ্যালাডুলাসসহ হরেকরকম ফুলের গাছ, যেগুলো পর্যটন কেন্দ্রের শোভাবর্ধনসহ প্রাকৃতিক রূপ এনে দিয়েছে। অরম্ননিমার অভ্যনত্মরে তিন একরের সবুজ মেহগনির বাগান যেন পরিণত হয়েছে সবুজ পাহাড়ে। এক একরের ঝাউবন, ৬৪৭টি আম্রপালি গাছের বাগান, ৫ কাঠার গোলাপ বাগান ও ১ হাজার ৪শ' প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে এখানে। ৬৬ বিঘা জমি নিয়ে রয়েছে ১৯টি বিশালাকৃতির পুকুর, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে দারম্নণভাবে। এসব পুকুরে রম্নই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, চিংড়ি, বোয়াল, কইসহ অর্ধ-শতাধিক প্রজাতির মাছ চাষ করে আয়ও হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এখানকার গাছের ছায়ায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির গান শুনতে শুনতে জলের ধারে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায় অনেকটা সময়। লেকের জলে ভাসমান পাখি আর দু'পাড়ের অসংখ্য গাছের ডালে পাখিদের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়ে যান পাখি-প্রেমিকগণ। একটু খেয়াল করলেই চোখে পড়ে শ্যামা, দোয়েল, ঘুঘু, কবুতর, টিয়া, ময়না, বুলবুলি, মাছরাঙ্গা, শালিখ, কোকিল, বক, হাঁসপাখি, বেলেহাঁস, রাজহাঁস, বক, পানকৌড়ি, সুঁইচোরা, চড়ুই, টুনটুনিসহ অসংখ্য বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় পাখি। অসংখ্য অতিথি পাখির কলতান ভ্রমণপিয়াসী সবার মনেই জায়গা করে নেয়। এ রিসোর্টটিকে পাখি-সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করায় 'পাখির গ্রাম' নামেও এলাকাটির একটি পরিচিতি রয়েছে। এটি পরিণত হয়েছে পাখির অভয়ারণ্যে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে স্পীডবোট, প্যাডেল বোড, ২০ সিটের ভ্রমণ বোট, সুইমিং পুল, ঘোড়ার গাড়ি ও শিশুদের জন্য রয়েছে গেমস কর্নার। আরও রয়েছে একটি গলফ্ মাঠ।
সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই, ইভিএম থাকবে অনিয়মে প্রার্থিতা বাতিল
কুসিক নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময়সভায় সাখাওয়াত ॥ আ'লীগের প্রার্থী ঘোষণা আজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ২৮ নবেম্বর ॥ সোমবার দুপুরে কুমিলস্না জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর দরকার নেই। নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে অন্তত ৩ হাজার র্যাব পুলিশ, বিজিবি ও আনসার। তিনি প্রাথর্ীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন এতে কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখন ভোটাররা অনেক সচেতন, তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না। এর আগে বেলা ১১টায় কুমিলস্না জেলা প্রশাসক সম্মেলন কৰে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যখন কমিশনার সাখাওয়াতের বৈঠক চলছিল তখন মহানগরীতে বিএনপির উদ্যোগে চলছিল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিৰোভ।
জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কৰে নির্বাচন সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইসি কমিশনার। পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত ওই দুটি সভায় ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত সুষ্ঠু ও শানত্মিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লৰ্যে সকল ভয়ভীতি উপেৰা করে নিরপেৰভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সকলের বৈধ অস্ত্রও জমা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেৰণ করা হবে। কেন্দ্র এলাকায় রাখা হবে ডগ স্কোয়ার্ড। তিনি বলেন প্রাথর্ীদের খরচের বিষয়ে দুদক, ইসি, এনবিআর তদনত্ম করবে। তিনি আরও বলেন, ইভিএম বিষয়ে কেউ এর কারচুপি প্রমাণ করতে পারলে ইভিএম ছাড়াই নির্বাচন করা হবে। ওই দুটি সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিলস্না সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল আহসান, জেলা রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. আবদুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী তাজুল ইসলাম প্রধান, পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান, বিজিবির কুমিলস্নার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ রোসত্মম আলী, কুমিলস্না র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াডন লিডার মোসত্মফা কামাল, সভায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন ও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ সম্মেলন কৰে আয়োজিত সভায় সম্ভাব্য প্রাথর্ীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ'লীগের মেয়র প্রাথর্ী, জেলা আ'লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যৰ আফজল খান, জাপার মেয়র প্রাথর্ী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার আহমেদ সেলিম, মেজর (অব) মামুনুর রশিদ, সাবেক ভিপি নূর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু, শহর আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক কাসেম রৌশন। কাউন্সিলর প্রাথর্ীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোলাম জিলানী, শাহরিয়ার আক্তার, পাপন পাল, নাসরিন সুলতানা রম্ননা, সেলিনা আক্তার, মোহাম্মদ আলী কিসমত। ওই সভায় উপস্থিত কোন মেয়র এবং কাউন্সিলর ইভিএমের বিরোধিতা না করলে এর বেশি প্রচারণা দাবি করেছে। মেয়র প্রার্থী মেজর (অব) মামুনুর রশিদ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কুমিলস্না ময়নামতি সেনানিবাসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক 'সেনাবাহিনী প্রস্তুত' রাখার দাবি জানালে ইসি কমিশনার সাখাওয়াত তাও নাকচ করে দেন।
আ'লীগের প্রার্থী ঘোষণা আজ ॥ কুসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর ক্রমেই পাল্টে যাচ্ছে কুমিলস্না মহানগরীর দৃশ্যপট। আজ ২৯ নবেম্বর কুমিলস্নার আ'লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কুসিক নির্বাচনে আ'লীগের প্রাথর্ী সমর্থনের বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।
জানা যায়, মেয়র পদে আ'লীগের এ্যাডভোকেট আফজল খান দলীয় সমর্থনের বিষয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে গত ২০ নবেম্বর ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং গত ২৪ নবেম্বর সংসদ ভবনে কুমিলস্নার আ'লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে তার সমর্থনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধানত্ম হলেও আজ ২৯ নবেম্বর জেলা আ'লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঢাকায় বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবেই দলীয় প্রার্থী সমর্থনের বিষয়টি জানানো হবে বলে জানা গেছে।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন সংগঠন সিডিএইচআর
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আহ্বায়ক, মাহমুদুর রহমান মান্না সদস্য সচিব
স্টাফ রিপোর্টার ॥ 'সিটিজেনস ফর ডেমোক্র্যাসি এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস' (সিডিএইচআর) নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে সোমবার। সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক আহ্বায়ক এবং সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এ সংগঠনের সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলৰে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রৰা এবং তাকে সংহত ও বিকশিত করার লৰ্যে সিডিএইচআর গঠন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন বলেও জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়াও ২০ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয় । কমিটির সদস্যরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ড কালীন শিৰক ড. দিলারা চৌধুরী, কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, পাহাড়ী পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক অধ্যাপক শরীফুল্লাহ ভূইয়া, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, স্থপতি মোবাশ্বের হাসান, সমকাল পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য পদত্যাগকারী আহ্বায়ক এসএম আকরাম, সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার, কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, চৰু চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী আশফাহ হক লোপা, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য নাগরিক আন্দোলন' আজ আত্মপ্রকাশ করছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রৰা ও বিকাশের তাগিদ থেকে। যে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আশাবাদ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তার পুনরম্নচ্চারণ ও বাসত্মবায়নে সংগঠিত নাগরিক উদ্যোগের গুরম্নত্ব বিবেচনা করে দেশের বর্তমান প্রেৰাপটে এ আত্মপ্রকাশ জরম্নরী হয়ে পড়েছে। মান্না আরও বলেন, আমরা মনে করি, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা শুরম্ন হয়েছিল গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সাম্য ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লৰ্য থেকে। সে যাত্রায় বাংলাদেশ যা কিছু অর্জন করেছে, তার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ছিল প্রধান। অন্যদিকে এ দেশে যখনই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে বা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে, তখন তার সুযোগে নানা ধরনের অগণতান্ত্রিক শক্তি ৰমতা দখল করেছে, দেশে ঘটেছে নানা ধরনের বিপর্যয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সার্বিক বিবেচনায় আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের আগামী দিনের অগ্রযাত্রার জন্য সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সেই নেতৃত্বকে হতে হবে আরও অনেক উদার, দায়িত্বশীল এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন। আমরা মনে করি যে, বিকাশমান গণতান্ত্রিক একটি দেশ হিসেবে এ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরাজমান দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও তার দায়িত্ব জোরালো ও নির্মোহভাবে পালন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, শাসকশ্রেণীকে নিঃশঙ্কচিত্তে তার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কর্তব্য ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেয়া, এ লৰ্যে সংগঠিত চাপ সৃষ্টি করা ও তা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা নাগরিক সমাজের গুরম্নত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। মান্না বলেন, অতীতে নাগরিক সমাজ বিভিন্নভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে বর্তমান বৈরী বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও বিশেষ করে দেশীয় পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আরও বেশি সংগঠিত, সুনির্দিষ্ট এবং অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন অনিবার্য হয়ে পড়েছে বলে আমরা মনে করি। নাগরিকদের এ ভূমিকা পালন করতে হবে সম্পূর্ণ দলনিরপেৰভাবে, দলীয় সঙ্কীর্ণ স্বার্থের উর্ধে উঠে, নিখাদ দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে। 'নাগরিক আন্দোলন'-এর আত্মপ্রকাশ এ উপলব্ধি থেকেই।
লিখিত বক্তব্যে মান্না আরও বলেন, 'নাগরিক আন্দোলন' মনে করে, গণতন্ত্র ও সুশাসনের বর্তমান অধিকাংশ সমস্যাকে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সাংবিধানিক চুক্তির ভিত্তিতে বিশেস্নষণ করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের পৰ থেকে এ চুক্তি পালন করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু অতীতের বিভিন্ন সরকারের মতো বর্তমান সরকারও সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। সরকার যেভাবে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিৰা ও স্বাস্থ্যসেবা_ নাগরিকদের এ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, যেভাবে নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার অধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো অবজ্ঞা করে চলেছে, তার বিরম্নদ্ধে সম্মিলিত, সংগঠিত ও সক্রিয় প্রতিবাদ আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্প-বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান খাতে ব্যর্থতা, আইনবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন, গুম খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি, শাসক দলের জন্য একতরফা দায়মুক্তি, ভিন্ন মতকে রম্নদ্ধকরণ, জ্বালানি সঙ্কট, নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে নিদারম্নণ ঔদাস্য, সরকার কর্তৃক অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আর এসব উপদ্রব প্রতিরোধ করার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে 'বিরোধী দল'ও ব্যর্থ হয়ে চলেছে বলে আমরা মনে করি।
মান্না বলেন, দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে জনগণের কথা বলতে হবে, জনগণকে বহু কিছু জানাতে হবে এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে জনগণের চিনত্মাচেতনা ও প্রত্যাশার নৈকট্য সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। 'নাগরিক আন্দোলন' সংশিস্নষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ করে সেই লৰ্যে কাজ করে যাবে। একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, জনকল্যাণমূলক ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লৰ্যে গবেষণা, গোলটেবিল, সেমিনার, বিবৃতির পাশাপাশি প্রয়োজনে গণশুনানি, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দলনিরপেৰভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মান্না 'নাগরিক আন্দোলন'-এর প্রতিষ্ঠালগ্নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই তা তো নয়। গণতন্ত্র আছে বলেই তো আমরা কথা বলতে পারছি। আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র বিকশিত করা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। তবে তা আগের রূপরেখায় হবে না, নতুন রূপরেখা তৈরি করা হবে। সবাই মিলে আলোচনা করে তা ঠিক করতে হবে। এ সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রায় এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে না লিখে তা ঝুলিয়ে রাখায় বিচারকদের সমালোচনা করেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে (ডিসিসি) প্রশাসনিকভাবে বিভক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রফিক-উল-হক বলেন, আগে ভাগাভাগি হোক তো। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা উচিত হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে রফিক-উল-হক বলেন, বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিরোধী দলের সংসদে যাওয়া উচিত বলেও আমরা মনে করি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হককে সহায়তা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না, সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড দিলারা চৌধুরী, শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুল ও নূরুল কবীর।
মিরপুরে গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত, আশুলিয়ায় ৩ খুন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মিরপুরে ডাকাতির অভিযোগে জনতার গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। আশুলিয়ায় জোড়া খুনসহ তিনটি নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই সময় আরেক কিশোরের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই থানা এলাকায় আরেক যুবক আত্মহত্যা করেছে। গুলশানে নির্মাণাধীন ১২তলা ভবনের লিফটে এক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সবুজবাগে সড়ক দুঘর্টনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। মিরপুরে ৫তলা থেকে পড়ে এক বৃদ্ধা মারা গেছে। এদিকে রাজারবাগে পুলিশ লাইনের গেটের সামনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুরের সেনপাড়ার আস্থা ভবনের তৃতীয় তলার হোমল্যান্ড এজেন্সির অফিসে তিন ডাকাত অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুট করে। এ সময় ওই অফিসের কর্মকর্তা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে জনতা ডাকাতদের ধাওয়া করে। এ সময় স্থানীয়রা এক ডাকাতকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ জনতার কবল থেকে মোঃ শাহাবুদ্দিন (২৫) নামে ওই ডাকাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬টায় শাহাবুদ্দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অন্য ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহত শাহাবুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। সে মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে সোমবার ভোরে পুলিশ আশুলিয়া থানাধীন ঘৌশবাগ এলাকার বাইপাইল নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের রাস্তার পাশে এপিসি এর পূর্বপাশে অজ্ঞাত (৩৫) এক যুবকের গুলিবিদ্ধ হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। এর অদূরে একই রাসত্মার ডিএটিপি গেটের পশ্চিমপাশে অজ্ঞাত (৩০) আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, দুই জনের লাশের কপালে ও মাথার পেছনের ও চোখের ওপর গুলির ছিদ্র চিহ্ন রয়েছে। দুটি লাশই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। হত্যাকারী রাতে যে কোন সময় ওই দুই যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাদের লাশ হাত-পা বেঁধে মহাসড়কের রাসত্মার দুই পাশে ফেলে গেছে। কারণ গুলির নিশানা দেখে বুঝা যাচ্ছে হত্যাকারীরা পেশাদার। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার এসআই জাহিদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথাও হত্যার পর গাড়ি থেকে লাশ দুটি এই মহাসড়কে ফেলে গেছে। তাছাড়া দুজনই একে অপরের পরিচিত হতে পারেন। নিহতের এক জনের পরনে নীলচেক লুঙ্গি ও সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি এবং অন্যজনের সাদা চেক লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি ছিল। এদিকে একই সময়ে পুুলিশ আশুলিয়া থানাধীন দিয়াবাড়ি সিন্দুরিয়ার কাঁচা বাজার এলাকার সাহেব আলীর অনাবাদি জমির ওপর থেকে মসত্মকবিহীন অজ্ঞাত (১৮) এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, কে বা কারা অজ্ঞাত ওই কিশোরকে জবাই করে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে তার মাথাবিহীন লাশ এখানে ফেলে যায়। তবে কিশোরের মাথা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরনে চেক শার্ট, কালো প্যান্ট ছিল। অন্যদিকে একইদিন দুপুরে পুলিশ আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ী এলাকার আব্দুল কাদেরের ভাড়াটিয়া বাড়ির এক কৰ থেকে আরিফ হোসেন (২২) নামে এক যুবকের ঝুলনত্ম লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, ৭/৮ মাস যাবত সেই ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। সে কি কাজ করত, তা কেউ বলতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অথবা প্রেমঘটিত কারণে আরিফ অভিমান করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের পিতার নাম কছিম উদ্দিন তালুকদার। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার হোসেনপুর গ্রামে।
তিন লাশ উদ্ধার এদিকে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় মিরপুর থানাধীন পূর্ব মণিপুরী পাড়ায় কমলা হালদার (৮২) নামে এক বৃদ্ধ পঞ্চম তলা থেকে নিচে পড়ে গুরম্নতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টায় তার মৃতু্য হয়। একই দিন দুপুর পৌনে ১২টায় পুলিশ গুলশান ১ নম্বরের ৭ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর হাউজের ইন্সু্যরেন্স ডেভেলপমেন্টের সাভেলা গার্ডেন নামে নির্মিত ১২তলা ভবনের লিফট থেকে লুৎফর রহমান (৩৫) নামে এক শ্রমিকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কতর্ৃপৰ সিদ্দিক রোজারিও পুুলিশকে জানায়, রবিবার রাত ১২টায় শ্রমিক লুৎফর টিভি দেখতে আসে। এত রাতে কি শ্রমিক লুৎফরকে জিজ্ঞেস করলে সে কাজ আছে বলে জানায়। এ সময় নিরাপত্তারৰী মজনু মিয়া তাকে ঘুমাতে যেতে বলে। পরের দিন সোমবার সকালে তার লাশ লিফটে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তবে পুলিশ জানায়, শ্রমিক লুৎফরের মৃতু্য ঘটনাটি যথেষ্ট সন্দেহ থাকায় তার লাশের ময়নাতদনত্মের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদনত্ম চলছে। নিহতের পিতার নাম মৃত গোলাম হোসেন। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের হরিনাথপুর দিপুলবাড়িতে। অন্যদিকে এদিন ভোরে সবুজবাগ থানাধীন বৌদ্ধমন্দিরের সামনে মহাসড়কের রাসত্মা পার হচ্ছিলেন অজ্ঞাত (৩৫) এক পথচারী। এ সময় দ্রম্নতগামী একটি বাস ওই পথচারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃতু্য ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। নিহতের পরনে সাদা-কালো চেক ফুলহাতা শার্ট ও কমলা রঙের শর্ট প্যান্ট ছিল।
ছিনতাইয়ের শিকার পুলিশ সদস্য ॥ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় পল্টনথানাধীন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ৩ নম্বর গেটের সামনের রাস্তায় পুলিশ কনস্টেবল মোঃ মোতালেব হোসেন (৩০) বাসের জন্য অপেৰা করছিলেন। মোতালেব জাতিসংঘ মিশনে সুদানে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য পুলিশ লাইন থেকে বের হয়ে হেঁটে সেখানে যান। এ সময় একটি ট্যাক্সি ক্যাব যোগে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাকে গতিরোধ করে।
পরে ছিনতাইকারীরা কনস্টেবল মোতালেবের মাথায় ও ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ট্যাক্সিযাগে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সম্পর্কিত সাঈদীর আবেদন খারিজ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নিজেকে কেন বিচারকাজ থেকে বিরত রাখেননি, তার ব্যাখ্যা চেয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর করা আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। সোমবার আদেশে ট্রাইবু্যনাল বলেছে, এ ধরনের আবেদন নজিরবিহীন, অবমাননাকর ও হাস্যকর। এর ফলে এখন আর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোন বাধা থাকল না।
আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কোন সুনির্দিষ্ট বা ধারণাগত বা অন্য কোন ধরনের অভিযোগ আনা যায়নি। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই ট্রাইবু্যনাল এ আদেশ দেন। আদেশের পর প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার ট্রাইব্যুনালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মীমাংসা হলো। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনতে হলে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর কোন বিচারপতি পৰপাতিত্বমূলক আচরণ করেন না। জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আমরা ন্যায় বিচার চাই। এর আগে ট্রাইব্যুনালে আমরা বিভিন্ন দেশের নজির তুলে দীর্ঘ শুনানি করেছি। আমরা শুধু ন্যায় বিচার চাই।
ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেছে, বাংলাদেশের আইনী প্রক্রিয়ার ইতিহাসে এ ধরনের আবেদন নজিরবিহীন, যেখানে একজন বিচারপতিকে তাঁর পদে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি আদালতের জন্য অবমাননাকর। এরপর আদেশে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে বিচারকাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে করা আবেদনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। আদেশে আরও বলা হয়, ওই প্রতিবেদনের নিচে স্বাক্ষরের স্থানে শুধু ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যানের নামটিই আছে। কিন্তু প্রতিবেদন তৈরি, বিশেস্নষণ, সম্পাদনা, মনত্মব্য প্রদান কিংবা কোন ধরনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উলেস্নখ নেই। এ জন্য ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা অযৌক্তিক। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে গণ-তদনত্ম কমিশন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সেটি কোন গোপনীয় বিষয় নয়।
প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যে আবেদন করেছে তা কাল্পনিক। যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এদিকে জামায়াতের আইনজীবী এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আমরা এর আগে দীর্ঘ সাবমিশন করেছি। আমরা বিচার চাই। বিচার চাই। ন্যায় বিচার চাই।
ট্রাইবু্যনারের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের দায়িত্ব পালনের বৈধতা চেয়ে করা জামায়াত নেতা সাঈদীর আবেদন খারিজ হওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনের ব্যাখ্যা চেয়ে এ আবেদনটি করা হয়। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে দুই দশক আগে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একটি তদনত্ম কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় নিজামুল হককে নিয়ে আপত্তি তোলে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাঈদী। আগের আবেদনে ট্রাইবু্যনাল বলে, কোন বিচারককে অব্যাহতি দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক রয়েছে।
সাকা।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ট্রাইবু্যনাল এবং দুই বিচারপতির বৈধতা নিয়ে মামলা স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য সাকাকে আজ ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হবে। এর আগের দিন ট্রাইবু্যনাল সাকার আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি তালিকা দেবার কথা বলেছিল। সাকার উপস্থিতিকে সামনে রেখে ট্রাইবু্যনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সৌমিত্র শর্মিলার অনবদ্য অভিনয়ে শ্রুতিনাটক লাইফ আনএন্ডিং
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রংময় এক জীবনের মানুষ ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর জীবনের পরতে পরতে রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। আর তাঁর সৃষ্টিকর্ম তো একইসঙ্গে অবিনাশী ও কালজয়ী। সর্ববিধ মানব অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে। আর রবীন্দ্রনাথের এই ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্ম সৃষ্টির সমন্বিত গল্পের শ্রুতিনাটক লাইফ আন এন্ডিং। সোমবার হেমন্তের সন্ধ্যায় র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে মঞ্চস্থ হয় এই শ্রুতিনাটকটি। কথা, ছবি ও সুরের যূথবদ্ধ প্রয়াসে নির্মিত এ নাটক মুগ্ধ করে দর্শকদের।
এ নাটকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয়। এতে তাঁদের অনবদ্য সংলাপ প্রৰেপণ ও অভিব্যক্তির অনন্য প্রকাশে ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি হয় নাটকটিতে। রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আর রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের বিভিন্ন নারী চরিত্রে রূপ দিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর। এই দুই গুণী শিল্পীর সঙ্গে কলকাতার মঞ্চনাটক এবং বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা জগন্নাথ গুহের ইংরেজীতে ধারা বর্ণনা। অভিনয়ের সঙ্গে ছবির উপস্থাপনা এবং গান ও সুরে সুরে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনী। উঠে আসে ভারতবর্ষ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা, তাঁর প্রকৃতি প্রেমের কথা এবং কবির কিছু সাহিত্যকর্ম সৃষ্টির নেপথ্য ইতিহাস। বাংলা ও ইংরেজী ভাষার সমন্বিত উপস্থাপনা ছিল নাটকে। এ শ্রুতিনাটকের নাট্যরূপ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সৌমিত্র মিত্র। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আব্রাহাম মজুমদার। সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিল কলকাতা মিউজিক একাডেমির চেম্বার অর্কেস্ট্রা। বিশ্বকবির সার্ধশততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এই শ্রুতিনাটক প্রদর্শনী হয়। সিটি ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগিতায় প্রদর্শনীর আয়োজন করে এঙ্ক্যালিবার এন্টারটেইনমেন্ট। আর পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল এয়ারটেল বাংলাদেশ।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা : ক্যামেরায় গণআন্দোলন' ॥ প্রেৰাপট ঊনসত্তরের গণঅভু্যত্থান। রাজপথে বিক্ষুব্ধ জনতার উত্তাল মিছিল। অজস্র মানুষের পদভারে প্রকম্পিত রাজপথ। দৃঢ় পদৰেপে মিছিল এগিয়ে চলছে সম্মুখ পানে। একেবারে সামনের সারিতে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সেস্নাগান ধরেছে দুরন্ত এক কিশোর। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দী করতে ক্যামেরায় সাটার চাপলেন বরেণ্য আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদার। দুর্লভ এই আলোকচিত্রটি আজ গর্বিত বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। এ আলোকচিত্রের গল্পটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হলো না। মিছিল চলাকালে হঠাৎ করে গর্জে উঠল রাইফেল। চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল পরিচয়হীন সেই দুরন্তত্ম বালক। এমন অসংখ্য আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত হয় এ জাতির স্বাধীনতা। যার শুরম্ন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পুরোটাই একটা ইতিহাস। এ জাতির অসম বীরত্বগাথা। আর এই ইতিহাসের অনন্য এক সাৰী আলোকচিত্রী রশীদ তালুকদার। তাঁর ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী হয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। যেখানে উদ্ভাসিত হয়েছে জাতির ইতিহাসের নানা অধ্যায়।
রশীদ তালুকদারের তোলা এমন অর্ধশতাধিক ছবি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুরম্ন হলো আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা : ক্যামেরায় গণআন্দোলন'। সোমবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে আলোচনা করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলম, শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী।
রশীদ তালুকদার সম্পর্কে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানের আলোকচিত্রী। তাঁর ছবিতে বক্তব্য আছে, শিল্পবোধ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ইতিহাসের সাৰী। সাহসী এ মানুষটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। একাত্তরে বিশ্বমানের অনেক আলোকচিত্রী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেসময় তাঁরা অনেক ছবি তুলেছেন। তবে রশীদ তালুকদারের তোলা ছবির সঙ্গে কোথায় যেন একটা পার্থক্য রয়েছে। একদিকে মিছিল, অন্যদিকে তাক করা রাইফেল। এ দুয়ের মধ্যখানে ক্যামেরা হাতে সাহসী রশীদ তালুকদার। অথচ এমন একজন মানুষকে আমরা তাঁর যোগ্য সম্মান জানাতে পারিনি। এ ব্যর্থতা আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে। তবে এটাও ঠিক একজন শিল্পী বেঁচে থাকে তাঁর কাজের মধ্যে।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ফটোগ্রাফিতে তরম্নণদের প্রবলভাবে উৎসাহিত করতেন। তিনি নতুনদের তৈরি করতে নানাভাবে সহায়তা করতেন। কোথায় কমদামে ফ্লিম পাওয়া যাবে। কোথায় অল্প টাকায় ফ্লিম ডেভলপ করা যাবে এগুলো তিনি তাদের চিনিয়ে দিতেন। এমন সব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি তরম্নণদের সাহায্য করতেন।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- রেললাইনে ব্যারিকেড, হরতালে রাসত্মায় ব্যারিকেড, বিধ্বসত্ম শহীদ মিনার তার সামনে গলাধরে দুই বালক, কাঁটাতারে বন্দী মানুষ, ১৯৬৮সালে ছায়ানটের বর্ষবরণ, শহীদ আসাদ, শহীদ মতিউর, সত্তরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, কারামুক্ত মুজিব, বিশেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতারা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণসহ মিছিল মিটিংয়ের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া এসব ছবি ঐতিহাসিক সেসব ঘটনার প্রামাণ্য দলিল। ছবির বিষয়বস্তু, আলো-আধারী আর রশীদ তালুকদারের ক্যারিশমা ছবিগুলোকে আরও অনন্য করে তুলেছে। এ যেন ক্যামেরার ফ্রেমবন্দী জাতির বীরত্বগাথার উপাখ্যান।
সন্দেহভাজন যুবলীগ নেতা কাজী আলম গ্রেফতার
মেয়র লোকমান হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ২৮ নবেম্বর ॥ মেয়র লোকমান হত্যায় জড়িত সন্দেহে যুবলীগ নেতা লিটু হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি কাজী নূরে আলম ওরফে কাজী আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংস্থা বলেছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। রবিবার রাত ৩টায় সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ শহরের সাটিরপাড়া কুমিল্লা কলোনিসংলগ্ন তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। কাজী আলমের স্ত্রী শিউলী বেগম গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন।
এ দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল বলেছেন, কাজী আলম গ্রেফতার হয়েছে কি না, তদন্তের স্বার্থে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত সংস্থার অপর একটি সূত্র বলেছে, কাজী আলমসহ আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামিদের দেয়া তথ্য মতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কাজী আলমের বিরুদ্ধের যুবলীগ নেতা লিটু হত্যাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। কাজী আলম মেয়র লোকমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন ওরফে মোবার ছোট বোনের জামাই। মোবা শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। সে মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার ৩ নং আসামি। মোবার ভাইয়ের মেয়ের জামাই হাজী সেলিম লোকমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। মেয়র লোকমান হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে পুলিশ হাজী সেলিমকে গত ১২ নবেম্বর টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করে। ৩ দফায় ১১ দিন রিমান্ড শেষে ২৩ নবেম্বর বুধবার আদালতের নির্দেশে হাজী সেলিমকে নরসিংদী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
কাজী আলমের পরিবারে আতঙ্ক ॥ কাজী নূরে আলম ওরফে কাজী আলমকে একদল সাদা পোশাকধারী পুলিশ রবিবার রাত ৩টায় শহরের সাটিরপাড়া কুমিলস্না কলোনিসংলগ্ন তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। কিন্তু মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা তার গ্রেফতার নিশ্চিত না করায় কাজী আলম পরিবারে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যা বললেন ॥ মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল বলেছেন, রিমান্ডে থাকা আসামি আশরাফুল সরকার, হাজী ফারুক, মাহফুজুর রহমান তাওয়াব ওরফে সবুজ, শাহিন ও নাসির জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই চলছে। শীঘ্রই এ মামলায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার করে আইনামলে নেয়া সম্ভব হবে।
আসামি গ্রেফতার নিয়ে নিহত মেয়র পরিবারের সংশয় ॥ এজাহারবহির্ভূত আসামি গ্রেফতার করে তাদের নিকট থেকে স্বীকারোক্তি আদায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের শোকসনত্মপ্ত পরিবার। লোকমানের ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী সরকারী কলেজের ভিপি শামীম নেওয়াজ বলেছেন, পুলিশ এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার না করে তদনত্মের নামে এজাহারবহির্ভূত আসামী গ্রেফতার করছে। মেয়র লোকমান হোসেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে খুন হয়েছেন। তাঁর এ খুনের ঘটনায় ডাক ও টেলিযোগযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে নাম থাকলেই গ্রেফতার করা হবে না পুলিশ সুপার নরসিংদীর এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আসামিদের বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। পুলিশ সুপারের এমন মন্তব্য মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটতে পারে।
উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানদের হাতে
সংসদে রিপোর্ট পেশ
সংসদ রিপোর্টার ॥ উপজেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে। ভাইস-চেয়ারম্যানদেরও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কর্তৃত্ব বহাল রাখা হয়েছে। সোমবার বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় কমিটি সংসদে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। আজ মঙ্গলবার সংসদের সমাপনী দিনে পাস হবে বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল- ২০১০।
সোমবার জাতীয় সংসদে এই প্রতিবেদন উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন। তবে বেশ ক'জন উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, সংসদে উত্থাপিত বিলে কিছু সংশোধনী আনা হলেও সেখানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খুব একটা বাড়ানো হয়নি। ইউএনওরা পরিষদের মুখ্য কর্মকর্তা হবেন এবং তারাই সকল আর্থিক কর্মকা- পরিচালনা করবেন।
তাঁদের অভিযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যানরা এসিআর (এ্যানুয়াল সিক্রেট রিপোর্ট) লেখার ক্ষমতা চাইলেও তা দেয়া হয়নি। জেলা প্রশাসকরা তাদের এসিআর লিখবে। ফলে পরিষদে আমলাদেরই কর্তৃত্ব থাকবে। আর সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা রাখার বিধানও বহাল থাকছে। ফলে বিল পাস হলেও উপজেলা পরিষদ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
উত্থাপিত বিলের প্রতিবেদনে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের অনাস্থা আনতে বিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতির প্রস্তাব সংশোধন করে চার পঞ্চমাংশ সদস্যের সম্মতির বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মামলা হলেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের বিধান পরিবর্তন করে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করার পর অপসারণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত ইসু্যভিত্তিক ১২ কমিটি থেকে বাড়িয়ে ১৭টি করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে বন ও পরিবেশ, মুক্তিযোদ্ধা, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা, সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বিলের রিপোর্টে বলা হয়, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিগুলোর প্রধান হবেন নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। তিনি হবেন উপজেলা পরিষদের মুখ্য কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে মূল আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানকে পরিষদের নির্বাহী প্রধান রাখা হয়েছে।
উলেস্নখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ অধিকতর সংশোধনের জন্য গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সংসদে উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০১০ উত্থাপিত হয়। সংসদে এই বিল উত্থাপনকালে আপত্তি জানান মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তাদের আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি উত্থাপন হলে বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি জানান উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। বিল চূড়ানত্ম করার আগে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের মতামত নেয়ার জন্য তারা একাধিকবার লিখিত আবেদন জানান।
এই প্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ কমিটির বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কমিটি তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও খুব কম দাবিই শেষ পর্যন্ত আমলে নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বেশকিছু ক্ষমতা পেয়েছে। বিলে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হলেও উপজেলা পরিষদে আমলাদের কর্তৃত্ব এখনও বহাল থাকছে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের ঘাতক গ্রেফতার
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী, ২৮ নবেম্বর ॥ বরিশালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুলশিক্ষককে হত্যাকারী বখাটে রুপম চন্দ্র দে ওরফে রুপাকে (১৮) পুলিশ সোমবার সকালে যশোরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা চাকু উদ্ধার করা হয়। রুপম পালিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী উদয়ন এলিগেন্স পরিবহনে রওনা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতর উপস্থিতিতে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন, নগরীর রুপাতলীর এ.ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত রুপম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য রুপম রবিবার রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী উদয়ন এলিগেন্স পরিবহনে রওনা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রবিবার রাতে বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হয়। পুলিশ সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে যশোরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে বসে এলিগেন্স পরিবহনে তলস্নাশি চালিয়ে খুনী রুপমকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশ রুপমের ব্যাগ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, জিডি প্রত্যাহারের জন্য কাউনিয়া থানার ওসির বরাবরের একটি আবেদনপত্র ও নিজের লেখা কবিতার খাতা উদ্ধার করেছে।
সাংবাদিকদের সামনে রম্নপম বলে, স্যারের (জিন্নাত আলীর) মেয়ে তাজরীন জিন্নাত সুপ্তির সঙ্গে আমার সাড়ে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর থেকে সে (সুপ্তি) আমাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমি রাস্তাঘাটে বসে তার (সুপ্তির) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। এ ঘটনা সুপ্তি স্যারকে জানালে তিনি (জিন্নাত আলী) আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময় আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। উপায়ন্তুর না পেয়ে আমি তখন ঢাকায় চলে যাই। গত ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে আমি বাড়িতে এলে পুলিশ আবার আমার বাসায় অভিযান চালায়। ওই দিনই আমি পুনরায় ঢাকায় চলে যাই। এর পর সুপ্তিকে ফোন করে সাধারণ ডায়েরিটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু সে (সুপ্তি) আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। কয়েকদিন আগে স্যারকে (জিন্নাত আলীকে) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডিটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করলে তিনি আমাকে বাসায় যেতে বলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী গত ২৫ নবেম্বর থানায় জিডি প্রত্যাহারের একটি লিখিত আবেদন নিয়ে আমি স্যারের বাসায় যাই। কিন্তু স্যারে জিডি না উঠিয়ে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। ঘরের বাইরে বের হয়ে আসার সময়ে স্যার পুলিশকে ফোন করতে চাইলে আমি তার পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেই। এতেই যে স্যার মারা যাবেন বুঝতে পারিনি।
এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর রম্নপাতলী সড়কে নিহত শিক্ষক জিন্নাত আলীর নিজ কর্মস্থল এ.ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এবং সাড়ে ১১টায় জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্ট নিজ কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।