মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১, ৯ অগ্রহায়ন ১৪১৮
বাঙালিত্ব চর্চার বাতিঘর ছায়ানট, সরব মুক্তির গানে
অর্ধশতবার্ষিকী উদ্যাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি
মোরসালিন মিজান
ওয়াহিদুল হক আজ বেঁচে নেই। তবে ছায়ানট পেয়েছে নতুন প্রাণ। সন্জীদা খাতুন বয়সের ভারে নু্যব্জ। কিন্তু যৌবনটুকু তিনি ছায়ানটকে বিলিয়েছেন। এভাবে নিবেদিতপ্রাণ বহু মানুষের প্রেম আর শ্রম ঘামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বাঙালিত্ব চর্চার শ্রেষ্ঠ এ প্রতিষ্ঠান। স্বপ্নদ্রষ্টাদের নাম অনেকে জানেন না। কিন্তু ছায়ানটকে জানেন। জানতে কেউ কেউ বাধ্য হয়েছেন। কারণ ধানমণ্ডির শঙ্করে অবস্থিত সংস্কৃতি ভবন বর্তমানের নয় শুধু। ভবিষ্যতের বাতিঘর। আর এ বাতিঘরের বয়স এখন পঞ্চাশ! অফুরান আনন্দের এ বারতা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আকাশে বাতাসে। চলছে নানা উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি।
তবে শুরুটা শঙ্কাযুক্ত ছিল। তখন ১৯৬১ সাল। মোটা মাথার পাকিস্তানীরা পারলে বাঙালীদের নতুন করে বাপ দাদার নাম শেখায়। এ অবস্থায় নিজের শিকড় আঁকড়ে থাকা কঠিন কাজ। তবে হাল ছাড়লে হবে কেন? তাই জন্মশত বার্ষিকীতে 'হিন্দু' রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করার উদ্যোগ নেন কয়েকজন প্রগতিশীল। বিচারপতি মাহবুব মুর্শেদ, ডক্টর গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মতো মুক্ত চিন্তার মানুষেরা সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দেন। এগিয়ে আসেন ঢাকার গোপীবাগ র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের সংস্কৃতিকর্মীরা। সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুবের রক্তচৰু উপেৰা করে উদ্যাপিত হয় রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী। রচিত হয় বিরল এক ইতিহাস। আর এ ইতিহাসই পরে যুক্ত হয় ছায়ানটের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সন্জীদা খাতুন জনকণ্ঠকে জানান, সফল এ আয়োজনের পর সকলে মিলে বনভোজনে জয়দেবপুর যান। এ দলে ছিলেন সিধু ভাই (মোখলেসুর রহমান), রোজ বু (শামসুন্নাহার রহমান), সাংবাদিক আহমেদুর রহমান, ছানা (মীজানুর রহমান), মানিক (সাইফউদ্দীন আহমেদ), কবি সুফিয়া কামাল, সাইদুল হাসান, ফরিদা হাসান, ওয়াহিদুল হক এবং আরও কয়েকজন। সেখানে বসেই সাংস্কৃতিক আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্য সমিতি গঠন করা হয়। এ সমিতিই আজকের ছায়ানট। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কাজ প্রাধান্য দিতে গিয়ে ছায়ানটের পুরনো কাগজপত্রসহ অনেক কিছুই তেমন সংরৰণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ছায়ানটের প্রথম সভা, প্রথম কমিটি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানা মুশকিল এখন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্্জীদা খাতুন নিজেও স্মৃতি হাতড়ে কিছু বের করতে পারেননি। ফলে ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় বটে। মাঠে মারা গেছে জন্মদিন পালনের সুযোগটি! তবে উদ্দেশ্য সব সময় পরিষ্কার। সে উদ্দেশ্য চমৎকার ব্যাখ্যা করে ছায়ানটের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ওয়াহিদুল হক লিখেছিলেন_ ছায়ানট এখন বাঙালিত্ব চর্চার এক পীঠস্থান, যে বাঙালিত্বের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানবতায় পৌঁছতে চায় ছায়ানট। তাঁর মতে, সংস্কৃতি জন্ম দেয় জাতীয়তার, দেশের, রাষ্ট্রের, রাজনীতির এবং পরম গুরম্নত্বের সমাজ-সুনীতির। ছায়নটের কাজটা এই সব কিছুর_উদার_বিসত্মার এবং গভীর_ একাধারে ব্যাস্টিক ও সামস্টিক চরিতার্থতার সাধনা। সে সাধনায় কেটেছে ছায়ানটের পঞ্চাশ বছর। আর পঞ্চাশে উনি্নত করায় নারী হয়েও যিনি বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছেন এবং করছেন তিনি সন্জীদা খাতুন। অর্ধশতাব্দীর ছায়ানট। ভাবতে কেমন লাগে? জানতে চাইলে সন্জীদা কয়েক সেকেন্ড নীরবে পার করেন। তারপর বলেন, কীভাবে চলে গেল এতগুলো দিন! সত্যি এ এক আশ্চর্য অনুভূতির ব্যাপার! এ কথা বলে বোঝানো দুঃসাধ্য কাজ। অত্যনত্ম প্রতিকূল সময়ে বাঙালী সংস্কৃতির বোধ ফিরিয়ে আনার লৰ্য নিয়ে আমরা কাজ শুরম্ন করেছিলাম। সেটি আজ যথেষ্ট পূর্ণতা পেয়েছে। 'স্থির প্রত্যয়ে যাত্রা' ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, সরকারী চাকরি করার কারণে বহু কাল নেপথ্যে কাজ করতে হয়েছে সন্জীদা খাতুনকে। ছায়ানটের প্রথম দিককার কার্যক্রম পরিচালিত হতো মোখলেসুর রহমানের বাসা থেকে। তখন সভাপতি ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ফরিদা হাসান। তাঁদের সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নিতেন ওয়াহিদুল হকের মতো দূর দৃষ্টি সম্পন্ন প্রাজ্ঞজনেরা। এ জন্য কর্মীদের প্রধান শক্তি করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে ওয়াহিদুল হকের লেখাটি এ রকম_ ছায়ানটের ছিল এক দৃঢ়সংবদ্ধ নিবেদিতচিত্ত কমর্ী বাহিনী। নেতৃত্বের ব্যাপারটি চিরকাল গৌন ছিল। নিজের লেখায় দুই কর্মীর কথা বিশেষভাবে উলেস্নখ করেছিলেন ওয়াহিদুল হক। একজন আজকের সভাপতি সন্জীদা খাতুন। অন্যজন শামসুন্নাহার রহমান। বাকিদের মধ্যে তিনি উলেস্নখ করেন হোসনে আর মাক্কি, শামসুন্নাহার আহমেদ, সায়েরা মহিউদ্দীন, নুরম্নন্নাহার আবেদীন, কামাল লোহানী, সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, সাইফুদ্দৌলা প্রমুখের নাম।
জানা যায়, ছায়ানটের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছিল পুরনো গানের আসর দিয়ে। বাঙালীকে তার ইতিহাসের সঙ্গে একাত্ম করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে তখনও নিশ্চিত হয়নি যে, ছায়ানট সঙ্গীত ৰেত্রেই প্রধানত কাজ করবে। ধীরে ধীরে এ লৰণ স্পষ্ট হতে থাকে এবং তা সন্জীদা খাতুনের হাত ধরেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরম্নত্ব দেয়া হয়। এ জন্য শিল্পী ও যন্ত্রী সংগ্রহ এবং তৈরির কাজ চলে। তাদের অংশগ্রহণে কিছু কালের মধ্যেই অনুষ্ঠানগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে থাকে। ছায়ানটের আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও ছিল ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান। ১৯৬৭ সালে রমনার অশ্বত্থ তলায় শুরম্ন হওয়া পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানটি তো এখন বাঙালী সংস্কৃতির গুরম্নত্বপূর্ণ অংশ। এ ছাড়া শুরম্ন থেকেই মানবতার পাশে দাঁড়ানোকে কর্তব্য হিসেবে নেয় ছায়ানট। সেই ১৯৬২ সালে দৰিণ উপকূলে প্রাকৃতিক দুর্যোগগ্রসত্ম মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করে এর কমর্ীরা। ১৯৭০ সালের ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাসের সময় ত্রাণ নিয়ে ছুটে যায় ছায়ানট। এভাবে যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই মানবতার জন্য কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এর কমর্ীদের ছিল অনন্য সাধারণ ভূমিকা। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গানে গানে স্বাধীনতার মর্মবাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। জানা যায়, শুধু মুক্তিযুদ্ধের শেষ ছয় মাসে মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থার ব্যানারে ছায়ানটের কমর্ীরা দুই শতাধিক সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশেও কর্তব্য নির্ধারণ করতে ভুল করেনি ছায়ানট। সব ধরনের অপশক্তির বিরম্নদ্ধে লড়ে নিজের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। আর তাই বার বার আঘাত এসেছে। বিশেষ করে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বর্বর বোমা হামলার ঘটনাটির কথা কোন দিনই হয়ত ভুলতে পারবে না বাঙালী। এ প্রসঙ্গে ডা. সারওয়ার আলী বলেন, এ আঘাত সকল বাঙালীর বুকে বিঁধে আছে। তবে ছায়ানট থামতে যানে না। বরং সামনের পানে এগিয়ে চলেছে।
আর এ এগিয়ে চলার জন্য একটি স্থায়ী ভবনের খুব দরকার ছিল। সে লৰ্যে বহু দিন ধরে কাজ চলছিল। তবে এ ৰেত্রেও সংগ্রাম! জান যায়, বহু কাল এ ঠিকানায় ও ঠিকানায় কার্যক্রম পরিচালনার পর ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরম্নল হক হলের পাশে একটি জায়গা বরাদ্দ পায় ছায়ানট। এখানেই পাঁচতলা ভবনের ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন করেন কবি সুফিয়া কামাল। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী ছাত্র ভিত্তিপ্রসত্মর গুঁড়িয়ে দেয়। তবে ওই যে, হাল ছাড়া যাবে না। সুতরাং আবার শুরম্ন হয় নতুন করে। এবার সাবেক অর্থমন্ত্রী এএমএস কিবরিয়ার সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয় ছায়ানট কমর্ীদের। প্রথমবারের মতো জানা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন ছায়ানটেরই ছাত্রী। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ কেউ ছিলেন ছায়ানটের কাছের মানুষ। ফলে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০০০ সালে ছায়ানটকে ধানম-ির মতো গুরম্নত্বপূর্ণ জায়গায় প্রায় এক বিঘা জমি দেয় শেখ হাসিনা সরকার। এখানেই পরে বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের কাজ শুরম্ন হয়। ২০০২ সালের এপ্রিলে নির্মাণের ছাড়পত্র দেয় রাজউক। তবে সরকার ততদিনে বদলে গেছে। আর তাই নতুন বিপত্তি। চারদলীয় জোট সরকার নানা অযুহাতে ছায়ানট ভবনের বিরম্নদ্ধে দাঁড়ায়। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে পরিবর্তনের অভিযোগে কাজ স্থগিত করে দিতে একদম দেরি করেনি রাজউক। পরে তিন তিনবার নকশা জমা দেয়া হয়। কিন্তু রাজউকের মন গলতে চায় না। এ সময়টির কথা উলেস্নখ করে সন্জীদা খাতুন জনকণ্ঠকে বলেন, তারা আমাকে নানাভাবে অপমান অপদস্থ করার চেষ্টা করেছেন। তবে আমি থামিনি। জানা যায়, এভাবে চলে যায় দুই বছর। পরে সংস্কৃতিসেবী ও সংবাদকমর্ীরা সরব হলে ২০০৫ সালে নকশাটি অনুমোদন দেয় রাজউক। সকল সুহৃদের ঐকানত্মিক প্রচেষ্টায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় ছায়ানট ভবন। বিশাল এ ভবনের প্রতিটি ইট-কাঠ এখন তুলে ধরছে বাঙালী সংস্কৃতির মাহাত্ম্য। ছায়ানটের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খায়রম্নল আনাম শাকিল জানান, দিন দিন এর কার্যক্রম বাড়ছে। এখন সঙ্গীত বিদ্যায়তন, শিকড়, ভাষার আলাপ ও সুরের জাদু রঙের জাদু শিরোনামে চলছে কয়েকটি কার্যক্রম। সঙ্গীত বিত্যায়তনে বিশুদ্ধ বাংলা সঙ্গীতের চর্চা হচ্ছে। শিকড়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে নিজ দেশের পাখি, ফুল, নদী, ঋতু ইত্যাদি নানা বিষয় শেখানো হচ্ছে। ভাষার সৌন্দর্য বজায় রাখতে চলছে ভাষার আলাপ কার্যক্রম। অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সুরের জাদু রঙের জাদু নামের গান ও ছবি অাঁকার কোর্স। প্রতিদিন অসংখ্য ছেলে মেয়ের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠছে ছায়ানট। তবে এ মুখরতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে আগামী শুক্র ও শনিবার। এ দু্ই দিন বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হবে ছায়ানটের পঞ্চাশ বছর পূর্তি। সে লৰে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আনন্দের ঝর্ণাধারায় এখন শুধু ভেসে যাওয়ার প্রতীক্ষা। প্রিয় এ প্রতীৰায় আরও পঞ্চাশ আসুক। পঞ্চাশের পর পঞ্চাশে ঘুরে দাঁড়াক দেশ_ আমাদের তাই প্রত্যাশা।
ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার প্রত্যয়
'ঢাকা ঘোষণা'র মধ্য দিয়ে ৫ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন সমাপ্ত
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ অন্যরকম দৰিণ এশিয়া গড়ার অঙ্গীকার ও 'ঢাকা ঘোষণা'র মধ্য দিয়ে শেষ হলো দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামের পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য অয়োজন। পাঁচ দিনের বিশাল বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৰিণ এশিয়ার জন্য সাম্যভিত্তিক, ৰুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণ-নিপীড়ন ও শান্তিপূর্ণ একটি অঞ্চল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশের প্রতিনিধিরা।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের 'স্বাধীনতা সত্মম্ভে' সমাপনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বিকেলে দেশী-বিদেশী প্রতিনিধি ও দৰিণ এশিয়ার মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রত্যয়ের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিক 'ঢাকা ঘোষণা' পাঠ করেন ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম প্রতিনিধি অমিত সেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দৰিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম ২০১১ (এসএএস এফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাপনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান, পাকিস্তানের ফারুক তারিক, ফিলিপিন্সের লিডি ন্যাকপিল, ব্রাজিলের চিকো হোয়াই টেকার, পাকিস্তানের শাকিলা নাজ, নেপালের ড. কেশব খাড়কা, ফিলিস্তিনের আহমদ জারদার, ভারতের বিনোদ রায়না, ইরাকের ইসমাইল দাউদ, ঢাবি ফার্মেসি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এ.বি.এম ফারুক ও ভারতের অমিত সেন।
পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে ছিল ১৩টি পেস্ননারি, অর্ধশতাধিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, মেলা, যুব ফোরাম শোভাযাত্রা, গান, পথনাটক, চিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাঙল পাঁচ দিনের এ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজতাত্তি্বক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা।
এর আগে সমাপনী দিনের সকালে সিনেট ভবন মিলনায়তনে 'অভিন্ন পানি বণ্টন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সাম্যতা' শীর্ষক পেস্ননারি অনুষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ হিলালউদ্দিনের সঞ্চালনা ও অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একেএম মাসুদ আলী। প্রবন্ধে তিনি প্রকৃতি প্রদত্ত পানির বাণিজ্যিকীকরণের সমালোচনা করেন এবং পানির ওপর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক মনোভাবের ওপর জোর দেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারম্নল কায়েস, ভারতের কুলদীপ নায়ার, এ্যাকশন এইডের সমীর দোসানী, নেপালের পানি বিশেষজ্ঞ দিনুমনি পোখরেল, সামসুল হুদা, নিউজিল্যান্ডের ডগলাস হিল প্রমুখ ।
সমাপনী অধিবেশন শেষে সব শ্রেণীর মানুষ, অংশগ্রহণকারী ও দেশী-বিদেশী প্রতিনিধিরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যনত্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে চলবে ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের ইন্টারন্যাশন্যাল কাউন্সিল। অন্য রকম দৰিণ এশিয়া গড়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত দৰিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামে সাধারণ, প্রানত্মিক, সকল প্রকার সংখ্যালঘু ও সর্বোপরি নারী উন্নয়ন ও বৈষম্য রোধে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মঞ্চ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিমানবহরে নতুন বোয়িং, শাহজালালে নামছে আজ
পালকির পর অরুণ আলো
ফিরোজ মান্না ॥ পালকির পর এবার বিমানবহরে যোগ হচ্ছে অরুণ আলো। বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর আজ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সিয়াটল থেকে টানা ১৬ ঘণ্টা আকাশে উড়ে সোজা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবে অরুণ আলো। নতুন এই উড়োজাহাজটি আনতে বিমানের এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা সিয়াটলে অবস্থান করছেন কয়েকদিন আগে থেকে। শাহজালালে উড়োজাহাজটিকে বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তারা স্বাগত জানাবে। এ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে। বিমানবহরে একের পর এক আধুনিক প্রজন্মের উড়োজাহাজ যোগ হওয়ায় এয়ারলাইন্সটি বিশ্বমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিমান নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে ব্যবসা সফল এয়ারলাইন্সে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই উড়োজাহাজটির আগমনকে কেন্দ্র করে হাতে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এবার বিমান দুটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ 'পালকি' ও অরুণ আলো নিয়ে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বন্ধ রম্নট চালু এবং নতুন রুট বাড়ানোর কাজ করছে কর্তৃপৰ । ইউরোপের বিভিন্ন রুটে বিমান বিরতিহীনভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে বিমান আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। পালকি এখন পরীৰামূলকভাবে ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা ও ঢাকা-রোম-ঢাকা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। আরও কয়েকটি গন্তব্যে পালকি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ম্যানচেস্টার-ঢাকা ও ঢাকা-মিলান-ঢাকা। আজকে আরেকটি উড়োজাহাজ এলে তখন রুট সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বন্ধ থাকা দিল্লী, জাপান, প্যারিস, এথেন্স, জার্মানি, ত্রিপোলি, বাগদাদ ও মুম্বাই ফ্লাইট পরিচালনার বিমান পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
২০০৮ সালে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের ৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার ক্রয় চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় বোয়িং ২০১১ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বিমানকে দশটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে। নবেম্বর মাসে আরেকটি এবং ২০১৩ সালে আরও দুটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩৩০ ইআর বিমানের বহরে যোগ হবে। বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের ইতিহাসে এ দুটি প্রথম আধুনিক প্রজন্মের উড়োজাহাজ। নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজ দুটি ঢাকায় এলো। এটা বিমানের জন্য বড় একটি সাফল্য। এখন বিমান সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা অনেকটাই দূর হবে।
তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিমানবহরে আধুনিক প্রজন্মের নতুন উড়োজাহাজ যোগ হলেই যে বিমানের ব্যবসা বেড়ে যাবে তা ভাবার কোন কারণ নেই। আগে বিমান ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করতে হবে। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ চালাতে দৰ জনবল তৈরি করতে হবে। তা না হলে বিদেশী পাইলট, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, ফার্স্ট অফিসার আর কেবিন ক্রু বেশি টাকা দিয়ে এনে ব্যবসা সফল হবে না। বিমান পরিচালনার ৰেত্রে সবার আগে প্রয়োজন দৰ 'ম্যানেজমেন্ট'। সেই মানেজমেন্ট বিমানের নেই। বিমান একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এখানে এয়ারফোর্স বা মন্ত্রণালয় থেকে কোন কর্মকর্তাকে বসিয়ে দিলে ব্যবসা হবে না। ব্যবসা করতে হলে প্রয়োজন ব্যবসায়ী লোকের। বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যোগ হয়েছে এটা খুশির ব্যাপার। আরও উড়োজাহাজ বিমানবহরে যোগ হবে। আমরা যখন বিমান পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ছিলাম তখনই বিমানের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০২৯ সাল পর্যনত্ম বিমানে কিছু নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয় বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে। সেই চুক্তির কারণেই আজকের এই নতুন উড়োজাহাজ।
লোকমান হত্যা ॥ চার আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারি
পলাতক ও সন্দেহভাজন আসামিদের বিষয়ে বিমানবন্দর, সীমান্ত পয়েন্টে কড়া সতর্কতা ॥ টিপ্পন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে লোকমান হত্যায় জড়িতদের মধ্যে পলাতক এবং সন্দেহভাজন আসামিদের বিষয়ে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টে ছবিসহ তারবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাদের বিদেশ যাতায়াতের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লোকমান হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি মামলার এজাহারে কারও নাম থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করছে না। এদিকে গ্রেফতারকৃত মাসুদুর রহমান পঙ্কা ওরফে টিপ্পনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। লোকমানের পরিবারের তরফ থেকে মামলার তদনত্মে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজু প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী সংস্থা এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, লোকমান হত্যা মামলায় নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যৰ আব্দুর রহমানের ছেলে কবির সরকার, নরসিংদী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন মোবা ও শিল্পপতি তারেক আহমেদকে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে মালয়েশিয়া, একজন দুবাই এবং বাকি একজন সৌদি আরবে আছেন। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের অবস্থানের ওপর নজরদারি চলছে। প্রয়োজনে তাদের দেশে ফেরত আনার সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে আসামিদের দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন জনকণ্ঠকে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ৭ আসামি মেয়র লোকমান হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের কাছ থেকে গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্যউপাত্ত পাওয়া গেছে। এজাহারকে সামনে রেখে তদনত্ম এগিয়ে চলছে। এজাহারে নাম না থাকলেও হত্যাকা-ে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরই গ্রেফতার করা হবে। অন্যথায় কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি কারও নাম এজাহারে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করছে না। বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, আসামি গ্রেফতারের ৰেত্রে পুলিশের তরফ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কতজনের বিরম্নদ্ধে বা কার কার বিরম্নদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সে সমর্্পকে তিনি সুস্পষ্টভাবে কিছুই বলেননি।
নরসিংদী থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, মেয়র লোকমান হত্যা মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল মঙ্গলবার বিকেলে লোকমান হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত টিপ্পনকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষে নরসিংদী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিতাই চন্দ্র সাহার আদালতে হাজির করেন। তদনত্মকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, টিপ্পনের কাছ থেকে গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। লোকমান হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে টিপ্পনকে আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে টিপ্পনের আইনজীবী এমএ আওয়াল আদালতের কাছে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল লোকমান হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি নয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। তিনি তার জামিনের আবেদন জানান। আদালত দু'পক্ষের শুনানি শেষে টিপ্পনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উলেস্নখ্য, গত ১৩ নবেম্বর গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর থেকে পুলিশ টিপ্পনকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়।
এদিকে লোকমানের স্ত্রী নুসরাত জাহান বুবলী অভিযোগ করেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজুকে ক্ষমতায় রেখে লোকমান হত্যা মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। মামলার বাদী লোকমানের ভাই কামরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত তদন্ত নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই। তবে মন্ত্রী তদন্তে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে মামলার বাদীর অভিযোগ।
লোকমানের স্ত্রী ও মামলার বাদীর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদী ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ ম-ল।
অপরদিকে পৌর মেয়র লোকমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় পৌর কর্মচারী সংসদ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। নরসিংদী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ জহির ও কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক সরকার। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১ নবেম্বর রাত ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা নরসিংদী পৌরসভার মেয়র লোকমান হোসেনের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত লোকমান হোসেনকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ১১টায় লোকমান হোসেনের মৃত্যু হয়।
একটিও বড় বিদ‍ু্যত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি
বেশিরভাগের দরপত্র প্রক্রিয়াই শেষ হয়নি
রশিদ মামুন ॥ এখন একটিও বড় বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। বেসরকারী বিদ্যুত কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়ন এবং অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। সরকারী কেন্দ্রের কোন কোনটির চুক্তি হয়েছে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দরপত্র পক্রিয়াই শেষ করতে পারেনি পিডিবি। এতে করে সঠিক সময়ে সরকারের মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী বিদ্যুত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংশিস্নষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান হারে দেশের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা জরুরী। বিদ্যুতখাতে অতীতের দুটি সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর বর্তমান সরকারও পরিস্থিতি বুঝতে এক বছর সময় নিয়েছে। বিশেষ আইন করার পরেও সরকার পরিকল্পনা এবং দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় নেয়, যা দেশের বড় বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনকে পিছিয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ভাড়াভিত্তিক এবং দ্রুত ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সরকারকে বিদ্যুত কিনতে হবে। এ ক্ষেত্রে হয় সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে, না হলে বিদ্যুত বাবদ ভোক্তার ব্যয় বাড়বে।
চলতি মাসের ১০ তারিখে পিডিবির সচিব আজিজুল ইসলাম বিদ্যুত বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদের কাছে প্রেরিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে সরকারী বিভিন্ন বিদ্যুত কেন্দ্রের যে চিত্র তুলে ধরেছেন তাতে দেখা যায়, বড় বিদু্যত কেন্দ্র (২০০ মেগাওয়াটের ওপরে উৎপাদনৰমতা) নির্মাণে উলেস্নখযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানির (ইজিসিবি) হরিপুর-৩৬০ মেগাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরম্ন হয়েছে। একই কোম্পানির সিদ্ধিরগঞ্জ-৪৫০ মেগাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য স্পেনের আইসোলাঙ্ কোম্পানির কাজ পাওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে ২০০ মেগাওয়াটের ওপরে অন্য কেন্দ্রের কার্যাদেশই দিতে পারেনি সরকার। এসব বিদু্যত কেন্দ্রের দরপত্র পক্রিয়াই শেষ করতে পারেনি পিডিবি।
সাধারণ শিক্ষা উপেক্ষিত ॥ সুকৌশলে কয়েক হাজার নিকাহ রেজিস্ট্রারের চাকরি স্থায়ী
জিয়া আমলের বিধান মহাজোট আমলেও বহাল
তপন বিশ্বাস ॥ চারদলীয় জোট আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কয়েক হাজার নিকাহ রেজিস্ট্রারের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। মহাজোট সরকারের আমলে জারি করা মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন (সংশোধন) বিধিমালার মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। বিধিমালার মাধ্যমে সুকৌশলে তাদের চাকরি স্থায়ী করা হলেও অনেকের কাছে তা ছিল অজ্ঞাত। সম্প্রতি সুপ্রীমকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নজরে এসেছে। সংশোধিত বিধিমালায় রেজিস্ট্রারের ৰেত্রে সাধারণ শিৰাকে বাদ দিয়ে শুধু মাদ্রাসা শিৰাকে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) বিধিমালা ১৯৭৫-এর অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার অস্থায়ীভাবে নিয়োগের বিধান ছিল। এর বিধি ৫-এর উপবিধি ২ ও ৩ অনুযায়ী বিধি ৪-এর অধীনে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিধি ৫-এর উপবিধি ৪-এর অধীনে স্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দানের বিধান ছিল। সাধারণত আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধি ৫-এর উপবিধি ১ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দান করে একই সঙ্গে বিধি ৫-এর উপবিধি ২, ৩ ও ৩(ক) অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইক্রমে তিন জনের একটি প্যানেল পাঠানোর জন্য জেলা কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হতো। এর ধারাবাহিকতায় বিগত জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় কয়েক হাজার অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে দুর্নীতি রোধে ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা বাতিল করে ২০০৯ সালে নতুন করে এই বিধিমালা জারি করা হয়। নতুন এই বিধিমালায় অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিয়োগের কোন বিধান রাখা হয়নি। কিন্তু উক্ত বিধিমালার বিধি ৪১-এর ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালার অধীনে কৃতকার্যবলীকে বৈধতা দিয়ে হেফাজত করা হয়েছে। এতে ১৯৭৫ সালের বিলুপ্ত বিধিমালার আলোকে চারদলীয় জোটের রাজনৈতিক বিবেচনায় অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েক কাজার অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই বিধিমালার ৪১ বিধির উপবিধি ১-এ বলা হয়েছে 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ১৯৭৫ অতঃপর উক্ত বিধিমালা বলিয়া উলেস্নখিত এতদ্বারা রহিত করা হলো।' উপবিধি ২-এ বলা হয়েছে উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত বিধিমালার অধীনে গৃহীত যে কোন কার্যক্রম এমনভাবে অব্যাহত থাকবে যেন উক্ত কার্যক্রম এই বিধিমালার অধীনে সূচিত হয়েছে। আর নতুন এই বিধিমালায় অস্থায়ী নিয়োগের কোন বিধানই রাখা হয়নি। সে ৰেত্রে বিগত আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী হয়ে যাবে।
নতুন এই বিধিমালায় নিবন্ধন ফি আড়াই শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তালাক নিবন্ধন ফি বাড়ানো হয়েছে ১০ গুণ। তবে বাদ দেয়া হয়েছে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ করার প্রসত্মাবটি। মাদ্রাসা বোর্ড থেকে পাস করা জামায়াতপন্থীদের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশে মহাজোট সরকারের আমলেও শিৰাগত যোগ্যতার ৰেত্রে বহাল রাখা হয়েছে জিয়াউর রহমানের আমলের বিধান। সাধারণ শিৰাকে পাশ কাটিয়ে মাদ্রাসা শিৰাই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বয়স সংক্রানত্ম বিষয়ে বর ও কনের অভিভাবকের ওপরই দায়-দায়িত্ব ন্যসত্ম করা হয়েছে।
এতে বিধিমালায় বিবাহ নিবন্ধন ফি আদায়ের ৰেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, একজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ৪ লাখ টাকা পর্যনত্ম দেনমোহরের ৰেত্রে প্রতি এক হাজার টাকা দেনমোহর বা এর অংশবিশেষের জন্য ১২ দশমিক ৫০ টাকা হারে বিবাহ নিবন্ধন করতে পারবেন। দেনমোহরের পরিমাণ ৪ লাখ টাকার অধিক হলে পরবর্তী প্রতি ১ লাখ টাকার দেনমোহর বা এর অংশবিশেষের জন্য ১শ' টাকা বিবাহ নিবন্ধন ফি আদায় করতে পারবেন। তবে দেনমোহরের পরিমাণ যাই হোক না কেন সর্বনিম্ন ফি ২শ' টাকার কম হবে না। আগে দেনমোহরের ১০ শতাংশ হারে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পেতেন। এখন এ ৰেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা থাকল না।
একজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনের জন্য ৫শ' টাকা ফি গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া নকল প্রাপ্তি ফি ৫০ টাকা, যাতায়াত বাবদ ফি প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে এবং তলস্নাশি ফি ১০ টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। আগে নিবন্ধন ফি ছিল ৫০ টাকা। এ ৰেত্রে ফি বেড়েছে ১০ গুণ।
জারিকৃত সংশোধিত বিধিমালায় শুধু মাদ্রাসা বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় শিৰাগত যোগ্যতা অর্জনের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এতে বিগত আমলের (জিয়াউর রহমানের শামনামলে) বিধান মহাজোট সরকারের আমলেও বহাল রাখা হলো।
উলেস্নখ্য, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মুসলিম (বিবাহ ও তালাক) নিবন্ধন আইন ১৯৭৪-এর অধীনে মুসলিম (বিবাহ ও তালাক) রেজিস্ট্রেশন বিধি জারি করা হয়। উক্ত বিধিমালায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের যোগ্যতার ৰেত্রে শুধু মাদ্রাসা থেকে পাস করা ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে সমমানের শিৰাগত যোগ্যতাধারীরা অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পাস ব্যক্তিরা নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ লাভ থেকে বঞ্চিত হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এই নিয়োগ বিধিমালার আলোকে জামায়াতপন্থীদের নিয়োগ প্রদানের আইনগত সুযোগ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য মাদ্রাসা বোর্ড অধ্যাদেশও জারি করেন। ফলে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকে পাস করা জামায়াতপন্থী হাজার হাজার লোক নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ লাভ করে। অথচ মুসলিম (বিবাহ ও তালাক) নিবন্ধন আইন ১৯৭৪-এর কোন বিধানে বলা হয়নি যে, নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে কেবল আলীম বা দাখিল পাসকৃতদের নিয়োগ করতে হবে।
আইনের উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে জামায়াতপন্থীদের নিয়োগ দেয়ার জন্য শুধু মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ডিগ্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিধানটি করা হয়। এতে সাধারণ শিৰার অন্যান্য বোর্ডের অধীনে যাঁরা এইচএসসি বা স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেছেন তাঁরা এই নিয়োগ লাভে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু একটি শ্রেণীকে নিয়োগ লাভের সুযোগ প্রদানের জন্য প্রণীত এই বিধিমালা সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯-এ বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কোন নিয়োগের ৰেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে প্রণীত উক্ত বিধিমালা বিগত কোন সরকারই পরিবর্তন করেনি। মহাজোট সরকার আসার পর পরই এই বিধিমালা পরিবর্তনের লৰ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের যোগ্যতা ডিগ্রী বা দাখিল পাস নির্ধারণের প্রসত্মাব করা হয়। একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বাছাই কমিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্ধারণ করারও প্রসত্মাব করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালের বিধিমালাটি জারির পূর্বে রহস্যজনক কারণে নিকাহ রেজিস্ট্রারের যোগ্যতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলের ন্যায় বহাল রেখে রাতারাতি বিধিটি জারি করা হয়।
সংশোধিত বিধিমালায় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ ইত্যাদি পর্যবেৰণের জন্য বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা জুনিয়র সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সনদ পরীৰার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। উলিস্নখিত কাগজপত্র না থাকলে বর ও কনের বয়স সম্পর্কে তাদের মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবক বয়স সংক্রান্ত হলফনামা প্রদান করবেন।
উৎসব আমেজে ঋষিজের ৩৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত গণসঙ্গীত সংগঠন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। নানা সময় স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে গানে গানে প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। গণসঙ্গীতের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। কালের প্রবাহে ১৯৭৬ সালের ২২ নবেম্বর গড়ে ওঠা সংগঠনটি পাড়ি দিল ৩৫ বছর। পঁয়ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 'মানুষের হাতে রাখো হাত/চোখে চোখ অনেক নতুন বন্ধু হোক' সেস্নাগানে গান, আবৃত্তি, নাচ ও কথায় উৎসবমুখরতায় উদ্যাপিত হয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও বরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ অজিত রায়কে।
সম্মেলক কণ্ঠে 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে' এবং 'ও আমার দেশের মাটি তোমার' পরে ঠেকাই মাথা' পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গান দুটি পরিবেশন করে অভু্যদয় সংগঠনের শিল্পীরা। এরপর এ বছর প্রয়াত শিল্প-সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৯৮৩ সাল থেকে জাতীয় ৰেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর গুণীজন সংবর্ধনা দিচ্ছে ঋষিজ। এ বছরের ঋষিজ পদক দেয়া হয় শিৰাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. জিলস্নুর রহমান সিদ্দিকীকে। তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। এছাড়াও ড. জিলস্নুর রহমান সিদ্দিকীর হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননার অর্থমূল্য ও সনদপত্র। পরিয়ে দেয়া হয় উত্তরীয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আরও অংশ নেয় ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ক্রানত্মি শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও সুর বিহার। তারা গেয়ে শোনায় 'আকাশ ভরা সূর্য তারা', 'মানুষের মাঝে বসবাস করে', 'ভয় কি মরণে রাখিতে সনত্মান', 'আমরা মানুষের জয়গান গাই', 'আমরা মিলেছি আজকে/কোটি কোটি হাতে হাত মেলাবো', 'নতুন দিনে নতুন করে ডাক দিয়েছে' ও 'লৰ লৰ প্রাণের বিনিময়ে পেলাম স্বাধীনতা'। একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, এনায়েত এ মওলা, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বিজন মিস্ত্রি, অনিমা রায় প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেন হাসান আরিফ, লায়লা আফরোজ ও রফিকুল ইসলাম। নৃত্য পরিবেশন করেন ওপার বাংলার কলা ভারতী নৃত্যদলের সদস্য শানত্মনু সরকার। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ঝর্ণা আলমগীর।
কাল থেকে শিল্পকলায় পাঁচ দিনব্যাপী কারম্নমেলা ॥ বৃহস্পতিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমীতে শুরম্ন হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী কারুমেলা। একই সঙ্গে ওইদিন প্রদান করা হবে শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার। জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। এতে অর্ধশতাধিক কারুশিল্পী তাঁদের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করবেন। মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও আইটিআই প্রেসিডেন্ট রামেন্দু মজুমদার।
মঙ্গলবার দুপুরে বেঙ্গল কাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কারম্নশিল্প পরিষদের সভাপতি মুনীরা এমদাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পী চন্দ্রশেখর সাহা ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর থেকে শুরম্ন হওয়া এ আয়োজনে এবারে চার কারম্নশিল্পীকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। তাঁরা হলেন_ নারায়ণগঞ্জের মুহম্মদ আবু তাহের, বান্দরবানের হায় না খুমি, মৌলভীবাজারের লেহাও বিবি ও কুড়িগ্রামের মুহাম্মদ আবদুর রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া আরও নয়জন কারম্নশিল্পীকে প্রশংসাপত্র দেয়া হবে।
রোড শো করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা যাবে না ॥ নাসিম
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন কাল
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রোড শো করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো যাবে না। এই সরকারের সময়েই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, হতেই হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়া যে রোড শো শুরু করেছেন তাতে মানুষের সাড়া নেই।
মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, বাংলাদেশে আর কোন বাংলা ভাইয়ের জন্ম হবে না। বিদ্যুত, সারের জন্য আর কোন কৃষককে প্রাণ দিতে হবে না। এখন সারের জন্য কৃষকদের রাস্তায় নামতে হয় না। কৃষক নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারছে।
কাল রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফলের লৰ্যে প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দরগাডাংগা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা ও তল্লাশি অভিযান। এছাড়া বাড়তি নজরদারি রয়েছে জামায়াত-শিবিরের ওপরও।
মঙ্গলবার তানোরের কলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খাদেমুন নবী চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে পথসভায় নাসিম ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, বাংলাদেশ কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ তারিন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী ২৪ নবেম্বর রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে স্মরণকালের জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে। সবাইকে জনসভায় অংশ নিতে হবে। দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক সাংগাঠনিক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকারকে ৰমতায় আনতে হলে মানুষের ভালবাসা অর্জন করতে হবে। পথসভা শেষে মোহাম্মদ নাসিম তানোরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।
রাজধানীতে কিশোরের বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ॥ র্যাবের দুই সোর্সকে পিটিয়েছে সন্ত্রাসীরা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে বিদু্যতস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কাফরুলে সন্ত্রাসীরা র্যাবের দুই সোর্সকে পিটিয়েছে। গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলিভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে তুরাগ থানাধীন রেনেসাঁ ওষধ কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালে পানি দিচ্ছিলেন শ্রমিক মতিউর রহমান (১৮)। এ সময় সেখানে অরৰিতভাবে পড়ে থাকা ছেঁড়া বৈদু্যতিক তারে জড়িয়ে মতিউর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। পরে শ্রমিক মতিউরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তুরাগ থানার এসআই ফেরদৌস আহমেদ মতিউর রহমানের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদনত্মের জন্য মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, নিহত মতিউর ওই নির্মাণাধীন ভবনের তার বড় ভাই রাজমিস্ত্রী রানার সঙ্গে কাজ করছিলেন। এ সময় সেখানে ছেঁড়া বিদু্যতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মতিউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পিতার নাম মিন্টু মিয়া। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার পঁচাঘাটা থানার কাচারিপাড়ায়। এদিন দুপুরে কাফরুল থানাধীন কচুক্ষেত বৌ বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা আব্বাসউদ্দিনের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মোঃ রানা (২৩), মোঃ নাসির (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
আদালত উত্তপ্ত করতেই বঙ্গবন্ধুর পাশে জিয়ার ছবি ॥ কামরুল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালতকে উত্তপ্ত করতেই সুপ্রীমকোর্টে বঙ্গবন্ধুর পাশে জিয়াউর রহমানের ছবি টানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সভায় তিনি এ কথা বলেন। নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আজিজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, মুকুল চৌধুরী, শাহে আলম মুরাদ, আব্দুল হক সবুজ, মকবুল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, আজিজুর রহমান মিয়া, জাহানারা বেগম এমপি, সহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইসু্যর আড়ালে মূলত যুদ্ধাপরাধীদের রৰা এবং তারেক-কোকোকে বাঁচানোর জন্যই বিএনপি দেশবিরোধী কর্মসূচী দিচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকায় এই বিচার সম্পন্ন হচ্ছে তাই শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডসহ সারাদেশে এই বিচারের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধুর পাশ থেকে নামিয়ে ফেলা হলো জিয়ার ছবি
সুপ্রীমকোর্ট বার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে জিয়াউর রহমানের ছবি টাঙানো হলেও তা আধা ঘণ্টা পরে আবার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। বিৰুব্ধ আইনজীবীরা বঙ্গবন্ধুর পাশে জিয়াউর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলেন। ঘটনাটির নিন্দা জানান সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বারের রেজু্যলেশন অনুযায়ী জিয়ার ছবি তোলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা পারলে আরেকটি রেজু্যলেশনে ছবিটি নামিয়ে ফেলুক। আওয়ামী লীগ সর্মথিত আইনজীবীরা বলেছেন, কোন অবস্থাতেই জিয়াউর রহমানের ছবি বঙ্গবন্ধুর পাশে রাখা যাবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ.ম রেজাউল করিমসহ সরকার সমর্থক আইনজীবীদের উদ্দেশে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাহানি হয় এমন কিছু করবে না সুপ্রীমকোর্ট বার। আমরা বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা রৰা করে তার ছবির পাশে কারো ছবি টানাবো না। কোনভাবেই বঙ্গবন্ধুর ছবির মর্যাদাহানি করা হবে না।
আওয়ামী সমর্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা আসার আগেই বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা জিয়াউর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলে। এরপর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরম্নসহ অন্যরা সুপ্রীমকোর্ট বার সভাপতির কৰের সামনে আসেন। ওই সময় সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এসে বলেন, আসেন আমরা ভেতরে (সভাপতির কৰে) যাই। তখন মাহবুবে আলম বলেন, আপনার ঐ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে যাব না। এ সময় খন্দকার মাহবুব বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে কারও ছবি টানানো হবে না।
তখন আব্দুল মতিন খসরম্ন 'ইউ আর গ্রেট প্রেসিডেন্ট' বলে খন্দকার মাহবুবকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, সভাপতিকে ধন্যবাদ, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে অন্য কোন ছবি না টানানো হলে আমাদের আপত্তি নেই। পরে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার সভাপতিকে বলেন, জাতীয় নেতাদের ছবি তুলতে হলে তাজউদ্দীন আহমদসহ আরও কয়েক জাতীয় নেতার ছবি রাখতে হবে। জবাবে মাহবুব হোসেন বলেন, আপনারা ছবি তৈরি করেন। বারে প্রসত্মাব দেন আমরা সব জাতীয় নেতাদের ছবি তুলব।
১৭ নবেম্বর সুপ্রীমকোর্ট বারের সাধারণ সভায় সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষে ভাসানী, ওসমানী ও জিয়ার ছবি টানানোর এই সিদ্ধানত্ম হয়। আওয়ামীপন্থী আইনজীবী এবং এ্যাটর্নি জেনারেল এরপর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিক সংস্কৃতি কর্মী দীপংকর ॥ অর্থাভাবে চিকিৎসায় অনিশ্চয়তা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষক দীপংকর গৌতম গুরুতর অসুস্থ। গত অক্টোবর মাসে তিনি জটিল ব্যাধি ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হন। পা অসম্ভব ফুলে যাওয়ায় হাঁটতে পারছেন না তিনি। এক সময় সারাদেশ চষে বেড়ানো উদ্যমী এ মানুষটি এখন বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। খরচ বহন করতে না পারায় হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় চলে আসতে হয়েছে তাঁকে। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ দীপংকর গৌতম। বহু বছর ধরে এ দুই অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। আদিবাসী মানুষের গণসংগ্রামের ইতিহাস, নিম্নবর্ণের মানুষের ভাষা ও ইতিহাস, হিজরা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা নিয়ে একাধিক মৌলিক গবেষণা গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উদীচী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদসহ জাতীয় ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নানামুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাব এডিটরস কাউন্সিলেরও সক্রিয় সদস্য।
কিন্তু বহু প্রতিভার অধিকারী মানুষটি এখন যেন অসহায়। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে পা ফুলে যায় তাঁর। অক্টোবর মাসের শুরম্নর দিকে রাজধানীর পান্থপথের হেলথ এ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা নানা পরীৰার পর জানান, রোগটি ফাইলেরিয়া। তখন থেকেই শুরম্ন হয় চিকিৎসা। বর্তমানে তাঁকে অনেক উচ্চমূল্যের ওষুধ গ্রহণ করতে হচ্ছে। পা ড্রেসিং ও ওষুধে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৫শ' টাকা। এভাবে এক বছর চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎকরা। কিন্তু পরিবারের পৰে এ খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে সঠিক চিকিৎসা না হলে কিডনি বিকল হয়ে পড়বে। আর তা হলে মৃতু্য অনিবার্য বলে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎক। এ অবস্থায় কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না দীপংকর। বিছানায় শুয়ে শুয়ে জণকণ্ঠকে তিনি বলেন, এখন কোন কাজ করতে পারি না। ধার-দেনা অনেক হয়ে গেছে। এর পরও অনুবাদের কাজ করে কোন রকমে চলছি। অর্থের অভাবে আমার মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। পরিবারের ভরণ-পোষণ করে নিজের চিকিৎসা চালানোও আর হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি দুঃখ করে বলেন, বহু মানুষের বিপদের দিনে আমি ছুটে গেছি। আজ যখন আমি অসুস্থ তখন অনেক ঘনিষ্ঠজনরাও একবার দেখতে পর্যনত্ম আসেননি। অথচ সকলে এগিয়ে এলে খুব সহজেই চিকিৎসাটি সম্পন্ন হতে পারে। সেরে উঠতে পারেন তিনি। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা মানুষটি নিজেও চান সকলের মাঝে আগের মতো ফিরে আসতে। তাঁর এ স্বপ্ন কি পূরণ হবে না?
আমন সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের মজুদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এবার আমন সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল কেনা হবে কি না, এক দফা আলোচনা করেও সে সিদ্ধানত্ম নিতে পারেনি সরকার। বাজার পর্যবেক্ষণের পর এই লক্ষে কয়েক দিনের মধ্যে আবার বৈঠকে বসবে খাদ্য পরিধারণ কমিটি। কমিটির আগামী বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর মধ্যে আমন ধান কাটার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি এবং বাজারে চালের মূল্যে তার প্রভাব পর্যবেৰণ করে সরকার শীঘ্রই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বৈঠকে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্যশস্যের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মূল্য, সরকারী সংগ্রহ অবস্থা, সরকারী-বেসরকারী আমদানি পরিস্থিতি, সরকারী খাদ্য বিতরণ অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। পাইপ লাইনসহ এ মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ টন। এ পরিস্থিতিতে দু'লাখ টনের মতো খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। আমন মৌসুমে সাধারণত কম পরিমাণ চাল সংগ্রহ করা হয়। বিগত বছরে আমন মৌসূমে চাল সংগ্রহ করা হয়নি। আমন ধান তুলনামূলকভাবে শুকনা থাকে বলে কৃষক নিজ গুদামে মজুত করে থাকে। বৈঠকে খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং চাল ও আটার মূল্য কেজি প্রতি পূর্বনির্ধারিত ২৪ টাকা ও ২০ টাকা বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে সুলভমূল্য কার্ডের মাধ্যমে চাল বিক্রিসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী অব্যাহত রাখারও সুপারিশ করা হয়।
এমপি শওকত মোমেনের বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর মামলা খারিজ
কোর্ট রিপোর্টার ॥ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে 'যুদ্ধাপরাধী' বলা সংক্রান্ত আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মোঃ আব্দুস সালাম আরজিতে মামলা চালানোর মতো কোন উপাদান না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় খারিজ করে দেন।
দেশবরেণ্য নারী নেত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত ডা. যোবায়দা আর নেই
মোঃ শাকিল মোলস্না, কুমিল্লা ॥ কুমিল্লার অর্ধশতাধিক সরকারী-বেসরকারী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থেকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আমৃতু্য নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেশবরেণ্য নারী নেত্রী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ডা. যোবায়দা হান্নান আর নেই। সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি ইনত্মেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কুমিল্লার রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সরকারী-বেসরকারী সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানসহ সকল মহল যেন শোকবিহবল, প্রাণহীন, নিথর সত্মব্ধ হয়ে গেছে। তিনি স্বামী খ্যাতনামা চৰু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়ালী উলস্নাহ, দুই ছেলেসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী এবং মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
১৯৪৫ সালের ১৪ নবেম্বর এ মহীয়সী নারী চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মৃতু্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি তদানীন্তন পাকিসত্মান সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী মাহফুজুল হকের কন্যা। বৈবাহিক সূত্রে তিনি কুমিলস্না জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আশারকোটা গ্রামের স্থায়ী অধিবাসী হন। সামাজিক কর্মকা-ে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক-২০০৪ এবং কুমিলস্নায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতি কতর্ৃক জাতীয় অধ্যাপক মোঃ ইব্রাহিম পুরস্কার-১৯৯৫ এবং সমাজসেবায় অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী কতর্ৃক জাতীয়ভিত্তিক সমাজসেবা পুরস্কার-১৯৯৭ লাভ করেন। এছাড়া শিৰা ও অর্থনীতিতে বিশেষ অদানের জন্য রোটারী ক্লাব অব মেট্রোপলিটন ঢাকা ফাউন্ডেশন কতর্ৃক সিড এ্যাওয়ার্ড, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের জন্য ঊষসী পুরস্কার-১৯৮৫, চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি কর্তৃক ত্রিরত্ন পুরস্কার-১৯৯৬ লাভ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, নেপাল, মালয়েশিয়া ও জাপানে আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পৰে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য এবং ৰেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'অনন্যা শীর্ষ দশ-২০০৫' পুরস্কার লাভ করেন।
যুগ যুগ ধরে অনেক নারী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্বমহিমায় নিজের মহানুভবতা, কর্মনিষ্ঠা আর মানবজাতির প্রতি গভীর ভালবাসা দিয়ে। তাঁরা অর্জন করেছেন মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা। ডা. যোবায়দা হান্নান তেমনি এক নাম। একজন ডাক্তার সর্বৰণই ব্যসত্ম থাকেন রোগীর সেবায়। কিন্তু মানুষের প্রতি ভালবাসার কারণে ডা. যোবায়দা হান্নান তাঁর চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি জড়িত হন নানান সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে। সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত ও অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য তিনি পরিশ্রম করে গেছেন প্রতিনিয়ত, যার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ২০০৪ সালে সমাজসেবায় একুশে পদক। ডা. যোবায়দা হান্নান আমৃতু্য কুমিলস্না জেলাসহ অন্যান্য জেলায় সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তিনি অক্লানত্মভাবে কাজ করেছেন নারী শিৰা, কল্যাণ ও উন্নয়ন, গ্রাম উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম, চৰু চিকিৎসা, শিৰা কার্যক্রম এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে। কুমিলস্নায় ডা. যোবায়দা হান্নানের সমাজকর্মগুলো দীপ্যমান।
ডা. যোবায়দা হান্নান অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ওঁৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে : তিনি প্রতিষ্ঠাতা ডা. যোবায়দা হান্নান মহিলা কলেজ, নাঙ্গলকোট (১৯৮৫), ডা. যোবায়দা হান্নান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নাঙ্গলকোট, (১৯৮৪), ডা. যোবায়দা হান্নান প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাঙ্গলকোট (১৯৯০)। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : কুমিলস্না ডায়াবেটিক হাসপাতাল (১৯৮৫)। আজীবন সদস্য- ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতি (১৯৯৪), বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, ঢাকা (১৯৯৪), সমন্বিত অন্ধকল্যাণ পরিষদ, কুমিলস্না (১৯৯০), বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, কুমিলস্না (১৯৯১), বিএমএ কুমিলস্না শাখা (১৯৯৪), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (১৯৯০), সভাপতি : গাইনী ও অবস্টেটিক সোসাইটি (১৯৯৫), সামাজিক পুনরম্নদ্ধার ও সংশোধন কমিটি, কুমিলস্না (১৯৯১), নারী দীপিতা, কুমিলস্না (১৯৯০), নবাব ফয়জুন্নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট (১৯৯৯), সহ-সভাপতি রম্নরাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, কুমিলস্না (১৯৭৬), জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিলস্না (১৯৮৩), সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিটি, কুমিলস্না (১৯৮৫), প্রধান নির্বাহী বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি (বিকো) ও চৰু হাসপাতাল, আঞ্চলিক কমিশনার বাংলাদেশ গার্লস গাইড এ্যাসোসিয়েশন, কুমিলস্না অঞ্চল (১৯৮৮), চেয়ারম্যান- আরভিটিসি, জুরাইন, ঢাকা, সদস্য- বেইস, ঢাকা (১৯৮৫), আনত্মর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন (১৯৯০), উপদেষ্টা- মানসিক প্রতিবন্ধী শিৰা ও কল্যাণ সমিতি (১৯৯০), চেয়ারম্যান- প্রশিৰণ অনুষদ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি কুমিলস্না (২০০৫)সহ অনেক সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে মানবসেবায় অসামান্য অবদান রাখেন।
নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় জাবিতে জনকণ্ঠ সাংবাদিক গুরুতর জখম
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ খেলার মাঠ থেকে বল কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদক আহমেদ রিয়াদকে পিটিয়ে জখম করেছে নামধারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের একটি দোকানে ক্যাডাররা রিয়াদকে পিটিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত রিয়াদ বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও দৈনিক জনকণ্ঠের জাবি সংবাদদাতা আহমেদ রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলার অনুশীলন করছিলেন। একই মাঠে ছাত্রলীগের ক্যাডার সজীব কয়েকজনকে নিয়ে ফুটবল খেলার অনুশীলন করছিলেন। কোন ধরনের ঘটনা ছাড়াই এক সময় সজীব ক্রিকেট বলটি এসে নিয়ে যান। প্রথমে বলটি ফেরত চাইলে সজীব দিতে অস্বীকৃতি জানান। কেন বলটি নেয়া হয়েছে আর কেনই বা দেয়া হবে না এমন প্রশ্ন করলে রিয়াদের সঙ্গে সজীবের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সজীব হলে চলে যান। সেখান থেকে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জনকে নিয়ে আসে মাঠে। তখন সজীবের সঙ্গে থাকা একজন সিনিয়র ছাত্রলীগের ক্যাডার রিয়াদকে বলেন সজীবের কাছে মাফ চাইতে হবে। কিন্তু সজীব রিয়াদের জুনিয়র হওয়ায় এবং কোন ধরনের অপরাধ না করায় রিয়াদ ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। তখন মাঠের উত্তর দিক থেকে আরও ১০-১৫ জন ঢুকে রিয়াদকে ধাওয়া করে। পরে মাঠের মধ্যে উপস্থিত ছাত্রলীগের সবাই মিলে রিয়াদকে ধাওয়া করেন। নামধারী সন্ত্রাসী পারভেজ, সজীব, সোহেল, শামীম, রোজেন (ছাত্রদল), পিয়াসের নেতৃত্বে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের একটি দোকানের ভেতর হকিস্টিক, রড, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও ব্যাট দিয়ে রিয়াদের মাথায়, হাতে, পিঠে, পায়ে, বুকে উপর্যুপরি পিটায়। পিটানোর এক পর্যায়ে রিয়াদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে রিয়াদের বন্ধুরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দোকান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রিয়াদের জ্ঞান ফিরে। পরে রিয়াদকে সাভারের এনাম মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার বাঁ হাতে এঙ্রে করা হয়েছে। মাথায় সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেছেন, রিয়াদ আশঙ্কামুক্ত। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
গুরম্নতর আহত রিয়াদকে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরজু মিয়া এনাম মেডিক্যাল সেন্টারে যান। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রক্টর আশ্বসত্ম করে বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি দেয়া হবে। যেন ভবিষ্যতে এ রকম বর্বর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার জায়গায় ঘটতে না পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিনাজপুর থাকায় আজই (মঙ্গলবার) কোন সিদানত্ম নেয়া যায়নি বলে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ জনকণ্ঠকে বলেন, জাহাঙ্গীরনগরে আমাদের ছাত্রলীগের কোন কর্মকা- নেই। যারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরম্নদ্ধে দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির আহ্বান জানাই। জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে তারা সন্ত্রাসী করে। এই ঘটনাও তাদেরই অংশ। তারা ফোন করলেও আমরা তাদের ফোন ধরি না।
ফতুল্লায় গার্মেন্টসে অসন্তোষ ॥ ৩ কর্মকর্তাকে আটকে রেখে প্রহার
শ্রমিক মারধরের জের
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনা কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ফতুল্লার দাপা এলাকার রফতানিমুখী পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান মেরিনা এ্যাপারেলসে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রমিকরা। এ সময় তারা কারখানার সাত কর্মকর্তাকে পাঁচঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এর মধ্যে তিন কর্মকর্তাকে মারধর করে শ্রমিকরা। পরে র্যাব ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
জানা যায়, মেরিনা এ্যাপারেলসে মঙ্গলবার সকালে সহকারী উৎপাদন কর্মকর্তা সাইদুল এক শ্রমিককে চড় মারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর ২টায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিবাদে তারা কাজ বন্ধ করে তৃতীয় ও চতুর্থ ফ্লোরের ভেতরে বিক্ষোভ করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার কোন হেলপার রাখে না মালিকপক্ষ। তাই দু'জনের কাজ করতে হয়। উৎপাদন কর্মকর্তারা নির্যাতন চালায় শ্রমিকদের ওপর।
জানা যায়, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সহকারী উৎপাদন কর্মকর্তা সাইদুল, নজরুল ও ঠিকাদার সিদ্দিককে তিনতলায় আটকে মারধর করে। একপযর্ায়ে তারা দৌড়ে পালিয়ে আসে। এছাড়া তিন তলা ও চার তলায় বিভিন্ন কক্ষে কর্মরত চার কর্মকর্তা আটকা পড়ে। তিন তলা ও চার তলার গেটে শ্রমিকরা তালা দেয়ায় নিজ কক্ষেই অবরুদ্ধ থাকে কর্মকর্তারা। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ ছিল।
রাজধানীতে আরও ৮ থানা স্থাপন করা হচ্ছে
শংকর কুমার দে ॥ রাজধানীতে স্থাপন করা হচ্ছে আরও ৮টি থানা। রাজধানীতে ৮টি থানা স্থাপন করা হলে থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৯টিতে। উত্তরা থানাকে ভেঙ্গে করা হচ্ছে ২টি থানা। ২৪ নবেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীতে ৮টি থানা স্থাপনের বিষয় উত্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর পুলিশের উচ্চ পর্যায় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের উচ্চ পর্যায় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ৮টি থানা সৃষ্টির ব্যাপারে সকল আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত রাজধানীর ৮টি নতুন থানা হচ্ছে_ ওয়ারী, শাজাহানপুর, মুগদা, রূপনগর, ভাষানটেক, ভাটারা, বনানী, উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম। উত্তরা থানা এলাকা ভেঙ্গে দুইটি থানা করা হবে। বর্তমান উত্তরা থানাটি উত্তরা পূর্ব নামে চালু হবে। বিমানবন্দর গোল চক্কর থেকে আব্দুলস্নাহপুর পর্যনত্ম সড়কের পূর্ব পাশের সেক্টরগুলো উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সেক্টরগুলো উত্তরা পশ্চিম নামকরণ করা হবে।
বাড্ডার ভাটার, সাঁতারকুল ও বেরাইদ এলাকা নিয়ে হবে ভাটারা থানা। সবুজবাগ থানাধীন মুগদা এলাকা মুগদা থানা, খিলগাঁওয়ের শাজাহানপুর এলাকা শাজাহানপুর থানা নামকরণ হবে। এ ছাড়া কাফরুল থানার অধীন ভাষাণটেক ও ধামালকোট এলাকা নিয়ে ভাষাণটেক থানা এবং মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রূপনগর আবাসিক এলাকা রূপনগর থানা হবে। গুলশান থানাধীন বনানী আবাসিক এলাকা নিয়ে বনানী থানা এবং পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোড, টিকাটুলী ও বলধা গার্ডেনের আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত হবে ওয়ারী থানা।