মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১১, ২৬ আশ্বিন ১৪১৮
ধান গাছে পাখি_ ধ্বংস করছে শত্রুপোকা, উৎপাদনে সহায়ক
সরকারের কৃষিবান্ধব পরিকল্পনায় সাফল্য
তাহমিন হক ববি, নীলফামারী
আমন ধানের ক্ষেতে ধৈঞ্চা গাছ। সেই গাছে উড়ে এসে বসছে পাখি। ঘাপটি মেরে ধরে ধরে খেয়ে নিচ্ছে ৰেতের শত্রু পোকা মাকড়। আর উপকারী পোকার বংশ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।
আমন ক্ষেতে মাজরা, পাতা মোড়ানো, ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, লেদাপোকা প্রভৃতি ক্ষতিকারক পোকামাকড় আক্রমণে কৃষককে এখন আর রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না। ওই পাখি কীটনাশকের কাজ করে ফেলছে। এতে করে কৃষককুল বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। আর ওই গাছের গুটিফল আর পাতা আমন ৰেতে ঝরে পড়ে তৈরি করছে জৈব সার।
ই-কৃষি প্রযুক্তির পাশাপাশি এবার রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব পরিকল্পনায় নজিরবিহীন সাফল্য নিয়ে এসেছে লাইভ পার্চিং। উত্তরের নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার কৃষককুলের কৃষিবান্ধব পার্চিং পদ্ধতির কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামীতে এর পরিধি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়বে বলে কৃষকরা মনে করছেন।
কৃষকরা বলছে ই-কৃষি যেমন তাদের চাষাবাদে সময় কমিয়ে এনেছে, তেমনি লাইভ পার্চিং পদ্ধতি কীটনাশক ব্যবহার না করে ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা দমনের পথ দেখিয়ে জৈব সারও দিয়েছে। কৃষকরা বলছে, লাইভ পার্চিং পদ্ধতি বিশেষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তাদের মাঝে। কারণ এ পদ্ধতি প্রয়োগে ফসলের ৰেতে রোপণ করতে হয়েছে আফ্রিকান ধৈঞ্চা নামের গাছ। যে গাছটির চারা কৃষি বিভাগের পৰে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। আর এই গাছের ঝরেপড়া পাতা থেকে ক্ষেতে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। পাশাপাশি ক্ষেতের পোকা দমনে আর কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না। এতে অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে।
প্রতিবছর আমন ধান আবাদে শত্রু ও ৰতিকারক পোকামাকড় দমনে কৃষকদের ক্ষেতে রাসায়ন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এতে ক্ষতিকারক পোকার সঙ্গে সঙ্গে উপকারী পোকাও ধ্বংস হচ্ছে। এতে করে ৰেতের উর্বরাশক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
কৃষকরা বলছে আমন ক্ষেতে মাজরা, পাতা মোড়ানো, ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, লেদাপোকাসহ নানা ধরনের ৰতিকারক পোকামাকড় আক্রমণ করে থাকে। ফলে আমন ধানের ব্যাপক ৰতি হয়। আর পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশক আমন ক্ষেতে প্রয়োগ করতে গিয়ে প্রতারণার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে। এ অবস্থায় চলতি আমন মৌসুমে আমন ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের পরিবর্তে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি প্রতি কৃষকদের আগ্রহী করে তুলেছে কৃষি বিভাগ। জানা যায়, লাইভ পার্চিং শব্দটি জীবনত্ম পার্চিং হিসেবে বোঝানো হয়েছে। জমিতে আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছে অসংখ্য পাখি বসে ফসলের শত্রম্ন পোকা খেয়ে উপকারী পোকার বংশ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে এবং কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার বহুলাংশে কমে আনছে।
চলতি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে। আর যে সব এলাকার আমন ৰেতে ৰতিকারক পোকার আক্রমণ হয় বেশি সে সব এলাকার কৃষকদের এই পদ্ধতি গ্রহণে কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসে। সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে আমন ধানের ৰেতে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি নিয়ে আসা হয় এবার নীলফামারী সদরে ১১ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে, সৈয়দপুর উপজেলায় ৭ হাজার ২৪০ হেক্টরে, ডোমার উপজেলায় ১২ হাজার ১২৫ হেক্টরে, ডিমলা উপজেলায় ২ হাজার ৯৮ হেক্টরে, জলঢাকা উপজেলায় ২ হাজার ৪৭০ হেক্টরে ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৯৮২ হেক্টরসহ মোট ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টরে।
ডিমলার কৃষক সাইফুল ইসলাম বললেন, তিনি এবার ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বছর ধানের ৰেতে পোকার আক্রমণের শিকার হয়। পোকা মারতে টাকা খরচ করে বাজার থেকে অধিক মূল্যে কীটনাশক কিনে ৰেতে প্রয়োগ করেন। কিন্তু কোন কোন সময় কীটনাশক কাজ করে না। তার ওপর লোকসান গুনতে হয়। এবার কৃষি বিভাগ যেন জাদুর খেলা দেখাল। তাদের কথা মতো এবং তাদের বিনামূল্যে দেয়া আমন ৰেতে ধৈঞ্চার গাছ লাগাই। ওই গাছে প্রতিদিন অসংখ্য পাখী উড়ে এসে বসে। পাখীরা ধৈঞ্চার ডালে আশ্রয় নেয় এবং ধানের জমিতে ৰতিকারক পোকা ধরে ধরে খেয়ে ফেলে। ফলে ৰেত পোকামুক্ত থাকছে বিনা কীটনাশক প্রয়োগে। যা বড়ই উপকার করেছে আমাকে। জলঢাকার কৃষক হাসিনুর বললেন, তিনি তাঁর আমন ৰেতে লাইভ পার্চিং পদ্ধতির মাধ্যমে নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছেন। একদিকে পাখি পোকা খেয়ে ফেলছে, অন্যদিকে ধৈঞ্চা গাছের পাতা ও গুটি জমির মাটিতে ঝরে পড়ে নাইট্রোজেন সার সংযোজন করছে। কি যে উপকার পাচ্ছি তা বলার অপেৰা রাখে না। ডোমারের কৃষক মাইজালী মিয়া বললেন, কৃষি কাজে আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ যে আমন ৰেতে এমন উপকার করে আগে জানলে এত দিন যে ৰতির শিকার হয়েছি তা আর হতো না।
সৈয়দপুর উপজেলার কয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি এ বছর ৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। প্রতিবছরই আমন ক্ষেত বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে। তখন ক্ষেতের পোকা দমনে রাসায়নিক সার প্রয়োগে তাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু এবার লাইভ পার্চিং পদ্ধতি অর্থাৎ ধৈঞ্চা গাছ লাগানোর ফলে তেমন একটা পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি আমন ক্ষেতে। ধৈঞ্চা গাছে বসে পাখিরা ৰেতের ৰতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে। ফলে কৃষিবান্ধব এ পদ্ধতি প্রয়োগে তাঁর আমন চাষাবাদে বেশ উপকার হয়েছে এবং ফলনও ভাল হবে।
কয়া পশ্চিমপাড়ার কৃষক রজব আলী বলেন, পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি তিনি প্রয়োগ করে উপকার পেয়েছেন।
কৃষি বিভাগের নীলফামারীর উপ-পরিচালক তিন তিনবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকধারী মামুনুর রশিদ জানান, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উপকারে এবার ক্ষেতের পোকামাকড় দমনের কৃষিবান্ধব পদ্ধতি হচ্ছে পার্চিং। পোকামাকড় দমনে মূলত দু'ধরনের পার্চিং পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে 'লাইভ পার্চিং', যা আমন ক্ষেতে ধৈঞ্চা গাছ লাগানো। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম সেচবানিয়া রোস্টট্রাটা। এটি আফ্রিকান জাত। অপর পদ্ধতিটি হচ্ছে 'ডেড পার্চিং' অর্থাৎ ফসলের ক্ষেতে গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া। তবে লাইভ পার্চিং কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত আমনের বীজ বপনের সময় আমন বীজের সঙ্গে ধৈঞ্চা গাছের বীজও আমন বীজতলায় বপন করা হয়। আমন চারার সঙ্গে সঙ্গে এটিও লক লকিয়ে যথাযথভাবে বেড়ে ওঠে। এরপর জমিতে আমন বীজ বপনের ৫/১০ দিনের মধ্যে আমন ক্ষেতে ধৈঞ্চা গাছ রোপণ করতে হয়। তবে আমন বীজতলা থেকে তোলা একটি ধৈঞ্চা গাছ ২/৩টি অংশে কেটে আমন ক্ষেতে রোপণ করা হয়। আমন ধান গাছ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ গাছগুলোও বেড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এ ধৈঞ্চা গাছগুলো যখন আমন গাছ অতিক্রম করে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে, তখন এসব ধৈঞ্চা গাছে উড়ে এসে বসে বিভিন্ন পাখি। আর ওই পাখিগুলো আমন ক্ষেতের ৰতিকারক পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলে। তাছাড়া ধৈঞ্চা গাছের ঝরেপড়া পাতা ও গাছের গুটি ফল আমন ক্ষেতের জমিতে ঝরেপড়ে প্রতিনিয়ত তৈরি করে জৈব সার। এতে করে লাইভ পার্চিং পদ্ধতির কারণে একদিকে আমন ক্ষেতে আক্রানত্ম পোকামাকড় দমন হয় অপর দিকে ক্ষেতে কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশক আর প্রয়োগ করতে হয় না। অন্যদিকে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে আমন চাষাবাদে কৃষকদের অর্থনৈতিক দিকে থেকেও সাশ্রয় হচ্ছে। কারণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে কৃষকের অনেক অর্থ ব্যয় হতো। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার নীলফামারীর ৬ উপজেলার বিভিন্ন কৃষি বস্নকে এবং বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলায় কীটনাশক দমনে কৃষিবান্ধব লাইভ পার্চিং ও ডেড পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কৃষকরা। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ লাইভ পার্চিংয়ের জন্য ধৈঞ্চার বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে কৃষকদের মাঝে। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপস্নবিক পরিবর্তন ঘটবে। ফসলে ভরে উঠবে দেশ। ব্যবহার কমবে রাসায়নিক কীটনাশকের।
সংস্কারবাদীদের বিজয়ী করার আশ্বাস ডিজিএফআইর
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছে, আগামী ডিসেম্বরেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হবেন তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকান্ডকে সমর্থন করবে_এই মর্মে নিশ্চয়তা চায় ডিজিএফআই। গোয়েন্দা সংস্থাটির নেতারা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে আগামী সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মূল ধারা অর্থাৎ খালেদা জিয়ার অনুগতরা যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে বিএনপির সংস্কারবাদীদের নির্বাচনে অংশ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। ডিজিএফআই বলেছে, সে ৰেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সংস্কারবাদীদের জয়লাভের নিশ্চয়তা দেয়া হবে। বিশ্বে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তার একটিতে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির পাঠানো ঐ তারবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। তারা তাদের কর্মসূচীকে এগিয়ে নিতে রাজনীতিকদের নানাভাবে প্ররোচিত করছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র রাজনীতিক বলেছেন যে, কিভাবে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের নানা দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও তাঁর ভাই সাবেক সংসদ সদস্য ডিজিএফআইর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ও ডিজিএফআইর দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের সঙ্গে দেখা করেন। কামাল ইবনে ইউসুফের ভাই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, তিনি সম্প্রতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনের এক জ্ঞাতি ভাইর কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছেন। ঐ ফোনে তাঁর কাছে কয়েকজন প্রার্থীর নাম চাওয়া হয়েছে। বিএনপির ঐ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের হুইপ মোহাম্মদ আব্দুস শহীদসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নেতাদের কাছে এরকম ফোন করা এবং তাদের কাছ থেকেও প্রার্থীদের নাম চাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন তারবার্তায় বলা হয়েছে, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এই কৌশল প্রয়োগের ফলে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে যে, ডিজিএফআই সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমানের আইনজীবী মোহাম্মদ নওশাদ জমির ২৫ জুন মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে ডিজিএফআইর এক কর্মকর্তার হুমকির কথা অবহিত করেন। নওশাদ বলেছেন, ডিজিএফআইর এক কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে ডিজিএফআই কার্যালয়ে যেতে বলেন এবং আমি যথারীতি সেখানে যাই এবং তাঁরা আমাকে তারেক রহমানের সমর্থনে প্রকাশ্যে কোন মনত্মব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। নওশাদ বলেন, ডিজিএফআইর উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ২৪ জুন তাঁর পিতা স্পীকার জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে দেখা করে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ নিয়ে তাঁকে নানা বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে দেয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও তাঁকে ঐ পদে যেতে নিষেধ করা হয় ডিজিএফআইর কর্মকর্তারা।
জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলে শেখ মুজিব খুন হতেন না
জিয়া হত্যায় এরশাদ জড়িত, মঞ্জুরকেও সে হত্যা করে ॥ কর্নেল অলি
এনা, নিউইয়র্ক থেকে ॥ ড. কর্নেল (অব) অলি আহমেদ বীর বিক্রম নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানাকে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন যে, জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হলে শেখ মুজিবুর রহমান খুন হতেন না। দীর্ঘ এ সাক্ষাতকারটি গত শুক্রবার বাজারে আসা ঠিকানায় প্রথম পাতায় গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে। ঐ সাক্ষাতকারে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই হাসিনা সরকারের আয়ু শেষ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদ্রোহের সময় জিয়াউর রহমানের সঙ্গেই ছিলেন কি না, জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, আমরা বিদ্রোহের পস্ন্যান করেছি তিনজন মিলে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের রণকেলির লেঃ কর্নেল মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আমি এবং মেজর জিয়াউর রহমান। বিদ্রোহ পস্ন্যান করার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। '৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর, আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানীরা ক্ষমতা ছাড়বে না। নির্বাচনটা কিন্তু আওয়ামী লীগ বনাম জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে ছিল না। ছিল বাঙালী-অবাঙালীর মধ্যে। বিদ্রোহের পস্ন্যান সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিয়েছিলাম। পরিষ্কারভাবেই আমরা শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে জানিয়েছিলাম '৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আমরা তাঁকে বলেছিলাম, আপনাকে পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। আমাদের যুক্তি ছিল ২টি। একটা হলো, যদি শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে পাকিসত্মানী জেনারেলরা হুমকির মুখে পড়বে। আরেকটি হলো '৬৫-র পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোন নতুন সদস্যকে বাংলাদেশে আসতে দেখিনি। কিন্তু '৭০-এর নির্বাচনের পর দেখা গেল নতুন লোক আসছে। আর্টিলারী আসছে, পাঞ্জাব রেজিমেন্ট আসছে, বেলুচিস্তান রেজিমেন্ট আসছে। এগুলো আমাদের একটি পরিষ্কার বার্তা দিল যে, শক্তিপ্রয়োগ করে হলেও তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আরেকটি বিষয় আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, ক্ষমতা হস্তান্তর না করে এর পরিবর্তে তারা কী পদক্ষেপ নিতে পারে? তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যনত্ম তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে খেলবে, এটা আমরা বুঝতে পারি। বঙ্গবন্ধুকে বলার পর উনার প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, 'নো, আই ডোন্ট নিড এ্যানি হেল্প'। বললেন, এক ইয়াহিয়া খানের পরিবর্তে আরেক ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা দিতে চাই না। আমি যাই করি সমঝোতার মধ্যে দিয়ে করব। উনি ঠিকই ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যনত্ম সমঝোতার টেবিলে বসে গেলেন। আমরা নিশ্চিত ছিলাম, পাকিসত্মানীদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই তারা ক্র্যাকডাউন করবে।
জেনারেল শফিউলস্নাহ ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনা প্রধান। এ নিয়ে কি জিয়াউর রহমানের মনে কোন ক্ষোভ ছিল_ জবাবে কর্নেল অলি বলেন, নো, নো। নেভার। তিনি খুশি ছিলেন কি না, জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, অবশ্যই। তবে শফিউলস্নাহকে না বানিয়ে যদি জিয়াউর রহমানকে প্রথম সেনাপ্রধান করা হতো, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশের আর্মি হয়ত সুসংগঠিত একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। গড়ে উঠতে পারত পেশাদার আর্মি হিসেবে। যা করতে পারেননি শফিউলস্নাহ। জিয়া ছিলেন শক্ত একজন মানুষ। শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ ছিল না তাঁর কাছে। কোরানে মানা না থাকলে হয়ত আমি এটাই বলতাম, জিয়াউর রহমান প্রথম আর্মি চীফ হলে, শেখ মুজিব হয়ত খুন হতেন না। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর জন্য ডাইরেক্টলি জড়িত এরশাদ এবং বহির্বিশ্ব। সবাইকে মেরে কিন্তু এরশাদ ৯ বছর শাসন করল দেশ। মেজর জেনারেল মঞ্জুরকেও সে হত্যা করল। ঠা-া মাথায় ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে লে. এমদাদকে দিয়ে মাথার পেছনে খুলির সঙ্গে লাগিয়ে গুলি করল। মঞ্জুর তখন বার বার চিৎকার করে বলেছিল, আমাকে জেলে নিয়ে যাও। আমাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যেওনা। এরশাদের হুকুমেই তাকে হত্যা করে এমদাদ। এরশাদ প্রথমে নির্দেশ দেয় ব্রিগেডিয়ার আজিজকে এবং আজিজ এমদাদকে বলে, মঞ্জুরকে খুন কর। সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটা বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা নয়, দুটো বৈঠক হয়েছে। ওয়ান টু ওয়ান। আমি উনার আহ্বানে গিয়েছি। আমার একটাই বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। আজ সরকারী দলে যারা আছে তাদের সাড়ে ৮ হাজার দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নিল। ২৩ খুনীকে সম্পূর্ণভাবে মাফ করে দিয়ে ঘরে পাঠাল। অনেক সময় খুনীদের ফাঁসি মাফ করে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট ২৩ জনকে মাফ করে দেয়া, নজিরবিহীন। বিএনপির সময়ে ১৪ টাকার চাল হয়েছিল ২২ টাকা। প্রতিবাদ করেছিলাম। আর এখন ৫০ টাকা হয়েছে, প্রতিবাদ না করলে_ এটা হবে আরেকটি অনৈতিক কাজ। সুতরাং জনগণের পাশে আমাকে আবারও দাঁড়াতেই হবে। আওয়ামী লীগের মতো একটা বিশাল শক্তির বিরম্নদ্ধে একা যুদ্ধ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। যেহেতু বিএনপি, বেগম জিয়া বা তাঁর সনত্মানের বিরম্নদ্ধে একটা বিরাট ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হলো- আওয়ামী লীগের সবাই মাফ পেয়ে গেল আর বিএনপির বিরম্নদ্ধে মামলা হচ্ছে_ যা আমি মানতে নারাজ। বিচার করলে সবার করতে হবে, মাফ করলে সবারই করতে হবে। বিএনপিতে ফিরছেন না শুধু আন্দোলনের সাথী হিসেবে বিএনপির পাশে রয়েছেন_ এ ব্যাপারে কর্নেল অলি বলেন, আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি দু'পক্ষ থেকেই। বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে ৩ জনের কমিটি। আমার পক্ষ থেকেও মহাসচিব অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমের নেতৃত্বে ৩ জনের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া ও আমি বসে কিছু সিদ্ধানত্ম নিয়েছি, যা আমি এখনই বলতে চাই না। তবে আমরা কি করতে চাই, তার একটা প্রসত্মাব লিখিত আকারে বেগম জিয়াকে দিয়েছি। কারণ সন্দেহ অবিশ্বাস রেখে আগানো যাবে না। আমি উনাকে একটা কথাই বলেছি, আমি এটার মাধ্যমেই এই সরকারকে ভাগাতে চাই। কারণ এই সরকার জনগণের জন্য নয়।
চিঠি প্রত্যাহারের শর্ত গ্রামীণের, বিটিআরসির প্রত্যাখ্যান
দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে পাওনা চেয়ে পাঠানো চিঠি প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে গ্রামীণফোন। গ্রামীণের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিটিআরসি আইনী ব্যবস্থা নেবে। দুই পৰের অনড় অবস্থানের কারণে সোমবার গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেছে। বিটিআরসি একটি অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গত ৩ অক্টোবর বিটিআরসি ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা পাওনা চেয়ে গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়। এরপর গ্রামীণফোন সংবাদ সম্মেলন করে ওই অডিট রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিটিআরসি সোমবার বৈঠকের আয়োজন করা হলেও শেষ পর্যনত্ম সব আয়োজন ভেস্তে গেছে। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টরে জনসনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দুপুরে বিটিআরসিতে যান। বিটিআরসি থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় বসার আগে বিটিআরসির চিঠি স্থগিত রাখার শর্তের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ বলেন, তাঁরা আলোচনায় না বসে- এড়িয়ে গেছেন। এখন কমিশন আইনী পদৰেপের দিকে আগাবে।
অডিট রিপোর্টে বিটিআরসি বলছে, ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রামীণফোন (জিপি) ৩৮ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা আয় করেছে। এ হিসাবে এর ২ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা বিটিআরসির পাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এখন পাওনা রয়েছে সুদসহ ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।
বিটিআরসির চিঠি পাওয়ার পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, যে অডিটের ওপর ভিত্তি করে গ্রামীণফোনকে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোন মানদণ্ডে পড়ে না। এরপর বিটিআরসি ৫ অক্টোবর অডিট বিষয়ে আলোচনা করতে গ্রামীণফোনকে আহ্বান জানান।
এদিকে, ২০০৬ সালে প্রণীত শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্রসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। কর্মসূচীতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক অংশ নিয়েছে। উলেস্নখ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।
শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায় কবিগুরুর 'শেষের কবিতা' মঞ্চস্থ
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অনন্য সৃষ্টি শেষের কবিতা। পুরো সাহিত্য জীবনে কবিগুরম্ন লিখেছেন ১৩টি উপন্যাস। এর মধ্যে ৬৭ বছর বয়সে রচনা করেছেন সর্বশেষ উপন্যাস শেষের কবিতা। কালজয়ী এই উপন্যাসের নির্যাসে আজও শিহরিত হয় প্রেমিকযুগল। উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্র অমিত ও লাবণ্য যেন অনন্তকালের প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতিচ্ছবি। রবীন্দ্রনাথের এই বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাসের কাহিনীটি এখন ঠাঁই করে নিয়েছে মঞ্চনাটকেও। এর নাট্যরূপ দিয়েছেন অনন্ত হিরা। নূনা আফরোজের নির্দেশনায় ষষ্ঠ প্রযোজনা হিসেবে এটিকে মঞ্চে এনেছে নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর। সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হয় নাটকটি। বাংলাদেশে এটি ছিল দ্বিতীয় মঞ্চায়ন।
শিলংয়ের পাহাড়ীপথে চলছিল বিপরীতমুখী দুটি গাড়ি। হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটল দুর্ঘটনা। আর এই দুর্ঘটনার সূত্র ধরে পরিচয় হয় বিলেতফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ও লাবণ্যর। পাহাড়ের সবুজ অরণ্যঘেরা নির্জনতার দুর্লভ অবসরে দুজন দুজনকে দেখে মুগ্ধ। পরস্পরের চিনত্মা-চেতনার মেলবন্ধন সহজেই একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। হৃদয়ের গহীনে সৃষ্টি হয় ভাললাগার অনুভূতি। এই ভাললাগা ও মুগ্ধতা দ্রুত গড়ায় ভালবাসার পথে। লাবণ্যর উপলব্ধিতে আসে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় জীবন। সেও ভালবাসতে জানে এবং আবেগের ভেলা তাকেও ভাসাতে পারে। অন্যদিকে মেয়েদের কাছে অধরা অমিতও ধরা দেয় লাবণ্যের প্রেমের ভুবনে। চলমান প্রেমের মাঝেই দুজনের মধ্যে শুরম্ন হয় ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। এ অবস্থায় অমিত ও লাবণ্যর ভালবাসা যখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে, তখন হঠাৎ করেই তদের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন পথে। অমিতের সঙ্গে তার বান্ধবী কেতকী এবং লাবণ্যের সঙ্গে বিয়ে হয় শোভন লালের। শেষ পর্যন্ত কেতকী-অমিত আর লাবণ্য-শোভন লাল কি সুখের দেখা পেয়েছিল? এভাবেই শেষ প্রশ্ন রয়ে যায়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ন করেছেন অননত্ম হিরা, নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু, মিতালী, ইস্টের সুমী, মিথিলা, শুভেচ্ছা, আওয়াল রেজা, সরোয়ার আলম সৈকত, মাইনুল তাওহীদ, আশা জাহিদ, রিগ্যান, মনির, সীমানত্ম বিপস্নব। নেপথ্যে থেকে মঞ্চ নির্মাণে কাজ করেছেন ফয়েজ জহির, আলোকসজ্জায় তৌফিক আজীম রবিন, সঙ্গীতে রামিজ রাজু, পোশাকসজ্জায় নূনা আফরোজ, কোরিওগ্রাফিতে ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও রূপসজ্জায় জনি সেন।
২৬ আগস্ট কলকাতার মধুসূদন মঞ্চে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। দ্বিতীয় প্রদর্শনীটি হয় শানত্মিনিকেতনে। আর দেশে ১৭ সেপ্টেম্বর এর প্রথম মঞ্চায়ন হয়।
আলোকচিত্রে জার্মানির একদিন ॥ ২০১০ সালের ৭ মে। জার্মানির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়লেন ৪৩২ জন আলোকচিত্রী। দিনভর তারা দেশটির শিল্প-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্থাপনা থেকে শুরম্ন করে চলমান জীবনের নানা বিষয়কে ক্যামেরাবন্দী করলেন। ক্যামেরার ফোকাসে বন্দী হলো খেলার মাঠ, বিমানবন্দর, সংসদ, ডিস্কো ক্লাব, বিদ্যালয়, গৃহকৰ। আলোকচিত্রীরা জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী নান্দনিক শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবন এবং সেখানকার নানা অনুষঙ্গকে ধারণ করলেন। বিষয়টা ছিল যেন অনেকটা ক্যামেরার চোখে জার্মানিকে আবিষ্কার। এই প্রয়াসের সফলতায় উদ্ভাসিত হলো জার্মান সমাজের প্রতিকৃতি। এসব ছবির মধ্যে নির্বাচিত ৫০টি ছবি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে রাজধানীর গ্যেটে ইনস্টিটিউটে। প্রদর্শনীর শিরোনাম 'জার্মানির একদিন'।
বাংলাদেশে পথ চলার ৫০ বছর পাড়ি দিয়েছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যেটে ইনস্টিটিউট। আর এই সুবর্ণজয়নত্মী উপলৰে প্রতিষ্ঠানের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৮ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনেরই একটি অংশ এই ছবি প্রদর্শনী।
ইনস্টিটিউটের লাগোয়া দুই পাশের ফুটপাথ এবং ভেতরের খোলা আঙিনায় চলছে এই ছবির প্রদর্শনী। শুরম্নতেই নজর পড়ল জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গের একটি মহাসড়কের ছবির ওপর। নির্জন রাসত্মায় নেই কোন যানবাহন ও জনমানব। মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সড়কে ছড়িয়েছে ভোরের সি্নগ্ধতা। রাসত্মার দুই পাশজুড়ে দীপ্তিমান সবুজ পত্র-পলস্নবে আচ্ছাদিত বৃৰের সারি যেন ছড়িয়ে দেয় প্রশানত্মির আবেশ। আরেকটি আলোকচিত্রে দেখা মিলল, হাইডেনবার্গের এক গহীন বনে একাকী সেলোটি বাজিয়ে সুরের মূর্ছনা তুলেছেন এক শিল্পী। রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে শপিং মল। এ অত্যাধুনিক বহুতল শপিং মলের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা রেলের ছবিটি যেন যান্ত্রিক সভ্যতার বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। একটি ফারনেস কারখানাকে আলো ও বর্ণ দিয়ে রূপময় করে তোলার এক অসাধারণ প্রয়াসের প্রমাণ মিলল আরেকটি আলোকচিত্রে। সঙ্গীত থেরাপি, কসাইখানা, অপেৰমাণ নৃত্যশিল্পী ইত্যাদি শিরোনামের ছবিগুলোও দর্শনার্থীর নজর কাড়ে। প্রদর্শনীর সব ছবিই রঙিন মাধ্যমে তোলা। ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম চলবে এ প্রদর্শনী।
শিশু সমাবেশ ও শিশুদের আনন্দ অনুষ্ঠান ॥ শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১১ উপলৰে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও পস্ন্যান বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সোমবার বিকেলে শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে 'শিশু সমাবেশ ও শিশুদের আনন্দ অনুষ্ঠান' আয়োজিত হয়। এতে দিনভর শিশুরা নাচ, গান, আবৃত্তি, মিনা কাটর্ুন দেখাসহ নানা আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যারল ডি রয়, মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সালমা আলী, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আক্তার ডলি, পস্ন্যান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন শিকদার। সভাপতিত্ব করেন শিশু একাডেমীর পরিচালক ফালগুনী হামিদ
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সরকার শিশুদের জন্য বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দরিদ্র শিশুদের লেখাপড়ার জন্য ৫০০ শিশুকে সরকার ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। সরকার দেশব্যাপী ৮৫টি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে।
অতিথিরা পস্ন্যান বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের নারী শিশুদের ওপর তৈরি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রতিবেদনটিতে জেন্ডার ইকুয়ালিটি অর্জনে বাবা, ভাই ও স্বামীদের ভূমিকার কথা উলেস্নখ করা হয়েছে। সবশেষে শিশুদের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সিলেটে নিখোঁজ ডাক্তার ও ছাত্রদের মধ্যে অবশিষ্ট ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেট থেকে নিখোঁজ ডাক্তার ও মেডিক্যাল ছাত্রদের সর্বশেষ ব্যক্তি ফিরেছেন। সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালের ওই ডাক্তার বুধবার নিখোজ হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে একই মেডিক্যাল কলেজ থেকে আরও ৪ বিদেশী ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পর্যায়ক্রমে তাঁদের ছেড়ে দেয়া হয়। ভারতের রাজধানী দিলস্নীর আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করে নেয়া হয় বলে জানা গেছে। ফিরে আসা আশরাফুজ্জামান চৌধুরী নামের ওই চিকিৎসক সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের আদিনাবাদ গ্রামের দুবাই প্রবাসী নূরুজ্জামানের ছেলে। তিনি সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিনস চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ফিরে আসার বিষয়টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব) ডা. নাজমুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। কলেজ অধ্যক্ষ নাজমুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে তিনি ফিরে আসেন। তবে গত চারদিন আশরাফুজ্জামান কোথায় ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাঁকে কি ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন _এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার, স্বস্তি
দিনভর ভোগান্তি
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলতে শুরম্ন করেছে।
সিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফারম্নক আহমেদ জানান, বৈঠকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পক্ষের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারাও ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তবে একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভাংচুর থেকে যানবাহন রক্ষায় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন। বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে আশ্বাস দেয়া হলে নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধানত্মের কথা জানান। বর্ধিত ভাড়া প্রসঙ্গে ডিসি (ট্রাফিক) জানান, সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করবে পরিবহনগুলো। এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও সহনশীল হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্ধিত ভাড়া ইসু্যতে রবিবার চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের ওপর যাত্রীদের হামলা, উভয় পক্ষের সংঘর্ষ এবং গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট আহ্বান করেছিল পরিবহন মালিক ও শ্রমিক গ্রুপ। ফলে সোমবার সকাল থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়ে নগরীর অফিস যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচী ঘোষণায় সোমবার সকাল থেকেই সড়কগুলো ছিল বাসশূন্য। বিভিন্ন স্টপেজে শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। আচমকা ধর্মঘট আহ্বান করায় অনেকেই জানতেন না যে, সড়কে বাস চলাচল করবে না। বাসা থেকে বেরিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় অফিস যাত্রী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের। মাঝে মধ্যে দুয়েকটি বাস এলেও সেগুলোতে ওঠার মতো অবস্থা নেই। কারণ যাত্রীর তুলনায় তা অতি সামান্য। আর এ সুযোগে রিক্সা ও টেক্স ভাড়া অন্তত দেড় গুণ আদায় করা হয়েছে বিপদে পড়া যাত্রীদের কাছ থেকে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা-বহদ্দারহাট রুটে কিছু বাস চলতে দেখা গেলেও অন্য রুটগুলোতে বড় যানবাহন চলতে দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম সিটি বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলার ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াও আদায় করা যাচ্ছে না। নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে যাত্রীদের মারধরের শিকার হচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সকল রুটের পরিবহন মালিকদের সমন্বিত বৈঠকে এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাসত্মিদানের দাবিও জানান তিনি। এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর যাত্রীদের অভিযোগ_ শুধু নির্ধারিত ভাড়াই নয়, যথাযথ সার্ভিস না দিয়ে পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছেন। কাউন্টার সার্ভিস চালুর নামে বাসে ওঠানামার ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ কিছুদিন কাউন্টার সার্ভিস চলার পর তা আবার বন্ধ হয়ে গেলেও ভাড়ার হার থেকে যায় আগের মতোই।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ রাখার অঙ্গীকার
বিজিবি-নাসাকা বৈঠক
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার, ১০ অক্টোবর ॥ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকার মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিজিবির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তখালের পাড়ে মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া আনত্মর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্ত রেখার ১৫০ গজের মধ্যে যেসব কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে, তা দু'দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে আইন অনুযায়ী নির্মাণের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর প্রতিনিধি দল। সোমবার দুপুরে দু'দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠকে বিজিবি প্রতিনিধি দলের অনুরোধে নাসাকা প্রতিনিধি দল এই সিদ্ধান্ত জানান। পতাকা বৈঠকে বিজিবি প্রতিনিধি দল জানান, এ বছর দুই দেশের যৌথ জরিপ দল কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে জরিপ সম্পন্ন করার পর দেখা যায়, তমব্রু খালের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে শূন্যলাইন (জিরো পয়েন্ট) তমব্রু খালের অপর পাশে অবস্থান করছে। প্রকৃতপৰে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া শূন্যলাইন এক অংশে ১৪০ ফুট এবং অন্য অংশে মাত্র ৪০ ফুট দূরে রয়েছে, যা ১৫০ ফুট হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।
পতাকা বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আরও জোরদার ভূমিকা পালন এবং বাংলাদেশের কারাগারে আটক মিয়ানমারের ১৯ নাগরিককে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
ঘুনধুম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মিয়ানমারের ৮ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নাসাকা ৩নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর থেন থে অং এবং বাংলাদেশ ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ১২ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল মোঃ খালেকুজ্জামান পিএসসি।
বিউটি পার্লারের সিসি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের নারী ও পুরুষদের বিউটি পার্লারের সেবাকৰে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। দুই সপ্তাহের মধ্যে তথ্য, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
পারসোনা বিউটি পার্লারে একটি সিসি ক্যামেরায় এক নারী গ্রাহকের ভিডিও চিত্র সিসি ক্যামেরায় ধারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এ্যাডভোকেট এলিনা খান জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন। রিটে তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর বিউটি পার্লার পারসোনার গোপন সিসি ক্যামেরা পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন। তিনি বলেন, পার্লারের সার্ভিস এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকা যে কোন মানুষের গোপনীয়তায় হুমকিস্বরূপ। রিটকারী পারসোনার বিষয়টি উলেস্নখ করে বলেন, দেশে যেসব অশস্নীল ভিডিও সিডি বের হচ্ছে তার উৎস খুঁজে দেখার জন্যও হাইকোর্টের হসত্মক্ষেপ কামনা করেন।
রিটকারী আইনজীবী এলিনা খান সাংবাদিকদের বলেন, অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি, ভিডিও চিত্র এবং ক্লিপিং বিভিন্ন মোবাইল ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে। ৩০ তারিখে পারসোনাতে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিজাত বিউটি পার্লার হিসেবে পারসোনা সিক্রেসি মেনটেন করেনি, যেটা তাদের উচিত ছিল।
সমাজে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ পর্যনত্ম এখন পার্লারে যান। কিন্তু পারসোনার এ ঘটনায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষের বিশ্বাস ভেঙ্গে গেছে। সিসি ক্যামেরা ব্যবহারবিধিতে কোন নীতি নেই। এ ক্যামেরা কোথায় ব্যবহার করা যাবে, কোথায় যাবে না এ সংক্রান্ত বিধি থাকা একান্ত প্রয়োজন। না হলে মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। এ্যাডভোকেট এলিনা খান রিটে নিজেই শুনানি করেন।
গজল সম্রাট জগজিৎ সিং আর নেই
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজল সম্রাট জগজিৎ সিং আর নেই। দীর্ঘ রোগ ভোগের পর সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে স্বজন ও ভক্তশ্রোতা সবাইকে শোকসাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিলেন সবার প্রিয় এ গায়ক। মসত্মিষ্কে রক্তৰরণের কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তির পর মস্তিষ্কে জরুরী অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর আইসিইউতে রাখা হয় তাঁকে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর সেখানেই তাঁর মৃতু্য ঘটে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০। খবর এএফপি, বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের।
জগজিৎ সিং উত্তর ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শ্রী গঙ্গানগরে এক দরিদ্র পরিবারে ১৯৪১ সালের ৮ ফেব্রম্নয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা অমর সিং এবং মা বচন কাউরের ১১ সনত্মানের মধ্যে জগজিৎ ছিলেন তৃতীয়। জগজিতের সঙ্গীতচর্চার শুরম্ন ছেলেবেলা থেকেই। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে গ্রাজুয়েট জগজিৎ গঙ্গানগরের অন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক পণ্ডিত ছগনলাল শর্মার কাছে দু'বছর তালিম নেন। এর পরের ছয় বছর ভারতীয় ক্ল্যাসিক সঙ্গীতে সাইনিয়া ঘরানার গুরম্ন জামাল হোসেনের কাছে শেখেন খেয়াল, ঠুমরি আর ধ্রুপদ। একদিন ভাগ্যান্বেষণে মুম্বাই (বোম্বে) আসেন। এখানে তিনি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল ও পার্টিতে গান গাওয়া শুরম্ন করেন। এক পর্যায়ে '৭০ ও '৮০-এর দশকের মাঝামাঝি স্ত্রী চিত্রার সঙ্গে গান গেয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেন। গজলের পাশাপাশি জগজিৎ বলিউডের হিন্দী ফিল্মের জন্য গান লেখেন ও কণ্ঠ দেন। বিশেষ করে ১৯৮১ সালে 'প্রেমগীত' ও পরের বছর 'আর্থ' ছবির সঙ্গীতের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গত শতাব্দীর আশির দশকের হিন্দী সিনেমা আর্থ, প্রেমগীত, সাথ সাথ থেকে নিয়ে হালের দুশমন, সারফারোশ, তুম বিন, তারকিবসহ তাঁর গাওয়া সব ফিল্ম সঙ্গীতই পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। সর্বশেষ তিনি 'খুশীবান' ছবিতে গান করেন।
উপমহাদেশের সঙ্গীতাকাশে মেহেদি হাসান, নূরজাহান, বেগম আখতার এবং তালাত মেহমুদ; যাঁরা ছিলেন জগজিতের আশৈশব স্বপ্নের তারকা, সেই একই আকাশে নক্ষত্র হয়ে জ্বলে ওঠেন তিনি। প্রায় পাঁচ যুগের দীর্ঘ সময়ে জগজিতের এ পর্যনত্ম ৮০টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৩ সালে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ খেতাব পদ্মভূষণে সম্মানিত এ শিল্পী গত চার দশক ধরে একাধারে হিন্দী, পাঞ্জাবী, উর্দু, বাংলা, গুজরাটী, সিন্ধী ও নেপালী ভাষায় গান শুনিয়ে এসেছেন উপমহাদেশের শ্রোতাদের। '৯০ দশকের প্রথম দিকে ঢাকার শেরাটন হোটেলের (রূপসী বাংলা) বলরম্নমে এক কনসার্টে গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন জগজিৎ। বাণিজ্যিক সাফল্যের বিচারে জগজিৎকে ভারতের সর্বকালের সেরা গজল গায়ক ও সঙ্গীতকার হিসেবে মানা হয়।
কাব্যিক ঢঙে গজল পরিবেশনের রীতি মধ্যপ্রাচ্যে শুরম্ন হলেও দ্বাদশ শতকে তা ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে '৭০ দশকের আগ পর্যনত্ম এ ধরনের গায়কী ঢঙ কেবল এলিট শ্রেণীতেই সীমাবদ্ধ ছিল। জগজিৎ সিং প্রথমবারের মতো গজলের গায়কী এ ঢঙ সাধারণ জনগণের কাছে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলেন। তিনি গজলে ভারতীয় ক্ল্যাসিক ঢঙের সঙ্গে পশ্চিমা যন্ত্রের মিশেল ঘটান। এতে গজল আধুনিক রূপ নেয়।
১৯৬৯-এর ডিসেম্বরে বিয়ে করেন জগজিৎ সিং আর চিত্রা। এরপর ওয়ার্ডেন রোডের ছোট্ট এক রম্নমের বাড়িতে সংসার শুরম্ন হয় গজল দুনিয়ার জনপ্রিয়তম জুটি জগজিৎ-চিত্রা সিংয়ের। ১৯৭১ সালে জগজিৎ-চিত্রা দম্পতির ঘরে আসে একটি পুত্রসনত্মান, যার নাম রেখেছিলেন বিবেক। ১৯৭৬ সালে জগজিৎ আর চিত্রা সিংয়ের প্রথম লংপেস্ন রেকর্ড বা এলপি এ্যালবাম 'আনফরগট্যাবলস' প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জগজিৎ সিংকে। তুমুল ব্যবসা, জনপ্রিয়তা, ছবিতে গান গাওয়ার অফার সব যেন পস্নাবনের ঢলের মতোই নেমে আসে।
তাঁর গাওয়া বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে_ এক দইয়ে দৌলত ভি লে লো, আপনিহি আপকো জিন্দা রাখনা কিতনা মুশকিল হ্যায়, হোঁটোসে ছুলো তুম মেরা গীত অমর কার দোদ, দমেরা কাতিল মেরা মুন্সিফ হ্যায় কেয়া ইন্সাফ ও মুঝেস কারেগাদ। গজলশিল্পী জগজিৎ সিং যে গানটি গেয়ে দুনিয়াজুড়ে সঙ্গীতভক্তদের হৃদয়মন্দিরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন সেটি হলো- ইয়ে দৌলতভি লে লো/ ইয়ে শোহরতভি লে লো/ ভালে মুঝ সে ছিন লো মেরি ইয়ে জওয়ানি/মাগার মুঝকো লওটা দো বাচপান কা সাওয়ান/ ও কাগাজ কি কাশি্ত ও বারিশ কি পানি...।
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন অধ্যাপক
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ অর্থনীতিতে এবার নোবেল পুরস্কার পেলেন দুই মার্কিন অধ্যাপক। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রভাব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা জন্য তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। রয়েল সুইডিশ একাডেমী অব সায়েন্সেস সোমবার পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে টমাস সার্জেন্ট ও ক্রিস্টোফার সিমস'র নাম ঘোষণা করে। সুদের হার বৃদ্ধি বা কর কমানোর মতো পদক্ষেপগুলো জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির মতো সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয়গুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা নিয়ে এই দুই অর্থনীতিবিদ ব্যাপক গবেষণা চালান। নোবেল কমিটি বলেছে, সামষ্টিক অর্থনীতির কার্যকারণ ও ফলাফলের ওপর গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পুরস্কার দেয়া হলো। খবর বিবিসি অনলাইন এবং এএফপির।
৬৮ বছর বয়সী টমাস সার্জেন্ট নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে যখন মূল্যস্ফীতি অত্যনত্ম বেড়ে গিয়েছিল, তখন অর্থনীতিতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন এনে কীভাবে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা হয় তা গবেষণায় দেখিয়ে দেন তিনি।
আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধিসহ সরকারের আর্থিক নীতিগুলো কীভাবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়েল ইকোনোমিকস এ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার সিমস (৬৮)। নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন এ দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ।
১৮৯৫ সালে যখন নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয় এবং তখন থেকেই পাঁচটি বিষয়ের ওপর নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় এবং এগুলো হচ্ছে পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শানত্মি। প্রথমে অর্থনীতিতে কোনো পুরস্কার ছিল না। স্যার আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিকসব্যাংক অর্থশাস্ত্রের উপর এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।