মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১১, ২৪ আশ্বিন ১৪১৮
ই-কৃষির দিন সনি্নকটে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার দিয়ে যাত্রা ...
কৃষক ঘরে বসে বোতাম টিপবে, যন্ত্র থাকবে মাঠে
সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস
ফসলের মাঠে বলদের হাল চাষ, বীজ তলা তৈরি, চারা রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সেদিনের চেনা দৃশ্যগুলো হারিয়ে গিয়ে যে যন্ত্র এসেছে তাও থাকছে না। কৃষিও 'ই-যুগে' প্রবেশ করছে অতি দ্রম্নত। দুর্যোগ মোকাবেলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বিজ্ঞানীরা কৃষিকে নিয়ে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক (ই) ডিভাইসে। এই ভাবনায় যে সব যন্ত্র উদ্ভাবিত হচ্ছে তাও দ্রুত আসছে বাংলাদেশে। আবার দেশী কারিগররাও নিজের গরজে স্থানীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি করছে অনেক যন্ত্র। মাঠের কৃষক এ সব যন্ত্রের সঙ্গে সহজেই পরিচিত হতে পারছে। তাদের কায়িক শ্রম কমে গিয়ে বাড়তি সময় অন্য কাজও করতে পারছে। এখন কিষান মজুরেরও দরকার হয় না বেশি। সব কিছুই যন্ত্রে । একটা সময় কৃষক ঘরে বসে ই-ডিভাইসের বোতাম টিপেই কাজ করবে। মাঠে থাকবে যন্ত্র। কৃষিতে যন্ত্র যুগে প্রথম প্রবেশ উত্তরাঞ্চলের বগুড়া জেলার প্রায় ৫০ বছর আগে ষাটের দশকে। এখন ই-যুগে প্রবেশের পথে পা বাড়িয়েছে। দ্রম্নত দেখা যাবে মাঠে শুধুই যন্ত্র। চারা রোপণের যে যন্ত্র এসেছে তা এতই আধুনিক যে দুর্যোগ মোকাবেলা জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করবে। যন্ত্রটির নাম 'রাইস ট্রান্সপস্নান্টার।' বীজতলা তৈরি করা থেকে চারা রোপণের জন্য কৃষকের যে খরচ হয় তা অর্ধেকে নামিয়ে দেবে এই যন্ত্র। একই সঙ্গে চারা তৈরির সময়ও কমিয়ে দেবে। বীজতলা বানিয়ে যে কোন জাতের ধানের চারা তৈরিতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন মাস। রাইস ট্রান্সপস্নান্টারের ট্রে ঘরের যে কোন স্থানে বসিয়ে চারা তৈরি করে দেবে মাত্র ১৫ দিনে। এই ট্রে যন্ত্রের সঙ্গে সেট করে যন্ত্র চালিয়ে মাঠে নিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টায় আড়াই বিঘা জমিতে চারা রোপণ করে দেবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের তৈরি এই যন্ত্র গত বছরের শেষে বাংলাদেশে এসেছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে (আরডিএ) সেপ্টেম্বরের শেষে অনুষ্ঠিত মেলায় এসিআই কোম্পানির স্টলে এই যন্ত্রের প্রদর্শন করা হয়। এসিআইয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা তুষার জানান, রাইস ট্রান্সপস্নান্টার কৃষকদের মধ্যে পরিচিত করে পেঁৗছে দিতে ২৫টি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ব্রি) বাংলাদেশ কৃষি
উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (বিএডিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিক্রির জন্য ডিলারদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। বগুড়ায় যন্ত্রটির সঙ্গে অনেক কৃষকের পরিচিতি ঘটেছে। কেউ যন্ত্রটি কিনলে বিশেষ ধরনের দেড় ফুট বাই আড়াই ফুট মাপের ৫০টি ট্রে দেয়া হয়। বাড়তি দাম দিতে হয় না। পস্নাস্টিকের তৈরি এই ট্রের ভেতর নির্ধারিত মাপে মাটি ভরিয়ে জৈর সার ও অতি সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার মিশিয়ে বীজতলা বানিয়ে ঘরের কোন এক জায়গায় রেখে দিলে পনের দিনেই চারা গজিয়ে যাবে। একটি ট্রের চারা ২ শতকেরও বেশি জমিতে রোপণ করা যায়। কোন কৃষক বেশি চারা রোপণ করতে চাইলে বেশি ট্রে কিনতে পারে। এভাবে ঘরের মধ্যে চারা উৎপাদনে দুর্যোগের কবলে পড়তে হবে না। সাধারণত বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ঘন কুয়াশায় চারা নষ্ট হয়। চারা নষ্ট হলে তা পুনরায় বীজতলা তৈরিতে বাড়তি সময়ও লাগে। ফলে ফসলের সময়ও চলে যায়। রাইস ট্রান্সপস্নান্টার যন্ত্র এ ধরনের সমস্যা দূর করে দিয়েছে। চারা তৈরিতে সময় কম লাগায় বাড়তি সময়ে অন্য কোন ফসল আবাদ করে ৩ ফসলি জমিকে ৪ ফসলিতে পরিণত করা যায়। জমিতে চারা রোপণে যে সময় লাগত তা অনেক কমে গিয়ে একেবারে 'টু দ্য পয়েন্টে' চারা রোপিত হয়ে ফলনও বাড়বে। এক ঘণ্টা চালাতে খরচ হয় এক লিটার জ্বালানির। এমন আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে ই-কৃষি ব্যবস্থা দ্রম্নত ধেয়ে আসছে। কম্বাইন্ড হারভেস্টর নামে এক যন্ত্র দ্রম্নত ধান কেটে কৃষকের আঙ্গিনায় নিয়ে গিয়ে মাড়াই করে দেয়। আধুনিক থ্রেসার যন্ত্র শ্যালো ইঞ্জিনের কনভেয়ার বেল্টের সাহায্যে চলে যেখানে ধানের অাঁটি ঢুকিয়ে দিলে নিচে ধান ওপরে গোলাকৃতির চোঙ্গা অংশ দিয়ে খড় আলাদা হয়ে উড়ে গিয়ে উঠানে পড়ে। শ্যালো ইঞ্জিনে ভ্রাম্যমাণ ধান ভানার যন্ত্র কৃষকের উঠানে গিয়ে পেঁৗছেছে। আলু তোলার যন্ত্রসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন হয়ে দেশে এসেছে। বগুড়ার কারিগররাও নিজেদের মেধায় উদ্ভাবন করেছে থ্রেসার যন্ত্র। এসিআই চারা রোপণের যে 'রাইস ট্রান্সপস্নানটার' এনেছে তার দাম ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা (৫০টি পস্নাস্টিকের ট্রেসহ)। তবে এই দাম কমতে পারে। বর্তমানে অনেক কৃষক সমবায়ী ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর কিনছে। সমবায়ী ভিত্তিতে চারা রোপণ যন্ত্র কিনতে পারে তারা। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, কৃষির নতুন যে উদ্ভাবনই আসে দ্রম্নত পেঁৗছে যায় কৃষকের কাছে। ধনী কৃষক নিজেই কেনে। মধ্যম কৃষক সমবায় ভিত্তিতে কেনে। যাদের যন্ত্র আছে তারা ক্ষুদ্র কৃষকের জমিতে চাষ দেয়া থেকে সেচ দিচ্ছে যন্ত্র ভাড়া দিয়ে। ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, উন্নত দেশে এ সব যন্ত্রেই কম্পিউটারাইজড করে দেয়া হয়েছে। যন্ত্রের বোতাম টিপলেই কৃষির যাবতীয় কাজ করে দেয় অনেকটা রোবটের মতো। কম্পিউটারের দিন বেশি দূরে নেই যেদিন বাংলাদেশের কৃষক ই-কৃষিতে বোতাম টিপে যন্ত্র চালাবে। বগুড়ায় টিলারের পাশাপাশি ট্রাক্টর এসেছে। অনেক এলাকার কৃষক আইল তুলে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে দ্রম্নত চাষ করে নিচ্ছে। বগুড়ায় কৃষির প্রায় সকল কাজই হচ্ছে যন্ত্রে। বগুড়া অঞ্চলের অধিকাংশ গ্রামে গোয়ালঘর নেই। টিলার, সেচ যন্ত্র, থ্রেসার মেশিন সবই আছে। এখন মাঠে গেলে কৃষককের সারিবদ্ধভাবে ভাটিয়ালি গান গেয়ে কাজ করার দৃশ্য চোখে পড়ে না। সময় আসছে ঘরে বসেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বোতামে টিপ দিয়ে কৃষি কাজের। ফসলের মাঠের কৃষি কাজের সেদিনের দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের ফ্রেমে ইতহাস হয়ে থাকবে। অতি নিকটেই ই-কৃষির দিন শুরম্ন।
ক্ষমতায় এসেই আ'লীগ সরকার সন্ত্রাস দমনে সক্রিয় হয়ে ওঠে
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পরই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার অভ্যনত্মরীণ এবং বিভিন্ন দেশে তৎপর সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করে। এর ফলে ২০০৯ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা আরও জোরদার হয়। এসব উদ্যোগের ফলে ভারতবিরোধী বিদ্র্রোহী গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসমের (উলফা) শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত নবেম্বরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা লস্কর-ই-তৈয়বা ও হরকত-উল-জিহাদ-ই-ইসলাম/ বাংলাদেশ-গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য লস্করকে দায়ী করা হয়। বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের গোপন তারবার্তায় এমন মন্তব্য করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো মার্কিন দূতাবাসের ঐ তারবার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার কারণে ভারতে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এই গ্রেফতার অভিযানের ফলে বাংলাদেশ যে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে-এমন দুর্নাম ভুল প্রমানিত হয়। মার্কিন গোপন তারবার্তায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশজুড়ে আত্মঘাতী হামালার যে ব্যাপক প্রবণতা দেখা যায় তাঁর জন্য দায়ী জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ এখনও হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতায় আসার পর প্রথম তিন মাসে বেশ কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মার্কিন দূতাবাসের পাঠানো ঐ তারবার্তায় বলা হয়েছে, গত ফেব্রম্নয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ সরকার মানি লন্ড্রারিং প্রতিরোধ আইন (এমএলপিএ)-২০০৯ এবং সন্ত্রাস দমন আইন ( এটিএ) সংসদে পাস করেছে। বিল দুটি পাস করার মধ্য দিয়ে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা এ সংক্রানত্ম অধ্যাদেশ দুটি এখন আইনে পরিণত হলো। যদিও এ আইন দুটি আনত্মর্জাতিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার তাঁর সীমানত্ম, ভূমি, সমুদ্রসীমা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধান করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সন্ত্রাসদমন বিষয়ক প্রধান সংস্থা র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন_ র্যাব সদস্যদের প্রশিৰণ প্রদান অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা কর্মসূচীর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অতিরিক্ত সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার পাশাপাশি তাদের প্রশিৰণ প্রদান করবে।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে উচ্চ আদালত
এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই ॥ আইন প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবির আড়ালে বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের রৰা করতে চাচ্ছে।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনাসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সভায় বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-৩ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ ও 'আজকের সূর্যোদয়' পত্রিকার সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক।
এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সরকার বাতিল করেনি; উচ্চ আদালত বাতিল করেছে। উচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই এ নিয়ে আলোচনার আর কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়। কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার নজির নেই।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যা নিয়ে সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার পরামর্শ দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচী নিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রসত্ম এবং গ্রেনেড হামলাকারীদের বাঁচাতেই বিরোধী দল রোডমার্চের কর্মসূচী দিয়েছে। কর্মসূচীর নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনা করার জন্য সংসদে আসার আহ্বান জানান কামরম্নল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রম্নয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংসদে আসুন, কিভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকারের আনত্মরিকতা তুলে ধরে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, একে একে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। প্রয়োজনে একাধিক ট্রাইবু্যনাল গঠন করে এ সরকারের আমলেই বিচার শেষ করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অপর এক সমাবেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং দেশকে জঙ্গীমুক্ত করতে দেশবাসীর সহায়তা চেয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দেশকে জঙ্গীমুক্ত করার কাজ শুরম্ন করেছে, এ সময় সবাইকে সরকারের সঙ্গে থাকতে হবে।
এদিন মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির এক সমাবেশে বক্তব্য দানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হলে দলিল লেখকদের চাকরি থাকবে না বলে যে গুজব চলছে তা ভিত্তিহীন বলে মনত্মব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দলিল লেখকদের পেশা ঠিক রেখেই সরকার ভূমিব্যবস্থা ডিজিটাল করবে। এ সময় তিনি রেজিস্ট্রার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নূর আলম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলিল লেখক সমিতির উপদেষ্টা কুমিলস্না-৬ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আকম বাহাউদ্দিন বাহার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ সাবেক ছাত্রনেতা নজরম্নল ইসলাম বাবু এবং আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমএ রশিদ।
সমাবেশে দলিল লেখক সমিতির পৰ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আছে দলিল নিবন্ধন ডিজিটালের নামে দলিল লেখকদের পেশাচু্যত করা যাবে না। ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের দলিলের জন্য ৫শ' টাকা তদুর্ধে ২ শতাংশ হারে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্যদের দলিল লেখা থেকে বিরত রাখা, সঠিক তদনত্ম ব্যতীত দলিল লেখকদের সনদ বাতিল ও তাদের আসামি করা থেকে বিরত থাকা, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন, উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ব্যতীত নতুন লাইসেন্স দেয়া থেকে বিরত থাকা, সকল ধর্মের জন্য দানপত্র নিয়ম চালু করা, উপজেলা ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের জন্য স্থান নির্মাণ করতে হবে।
সড়ক, জনপথের ৫১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
মাঠে নামছে দুদক
রাজন ভট্টাচার্য ॥ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশনে গিয়ে অনুকম্পা নেয়া সড়ক ও জনপথের আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। সড়ক ও জনপথের ৫১ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে চলতি মাসেই। দুর্নীতির মাধ্যমে তাঁদের অর্জিত সম্পদ অনুসন্ধানে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজকালের মধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে দুর্নীতিবাজ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফাইল পাঠানো হচ্ছে দুদকে। এর পরপরই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে। পার পাচ্ছেন না অবসরপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজরাও। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, অনুকম্পা পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাকরিরত কিংবা অবসরে যাওয়া সবাইকেই আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।
শুদ্ধি অভিযান শুরু ॥ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যোগাযোগ সেক্টরে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। এই দিন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। সওজ, বিআরটিএ-রেল বিভাগ মিলে মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে ওএসডির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তিন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, আট নির্বাহী প্রকৌশলী, তিন সহকারী প্রকৌশলী এবং ছয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী রয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সাহবাউদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুূল আজিম জোয়ার্দার এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) বদরুল আলম। ওএসডি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীরা হলেন মঞ্জুর আহমেদ ভূইয়া, খন্দকার গোলাম মোসত্মফা, পিয়ার মোহাম্মদ, জর্জেজ হোসেন, সানাউল হক, এ কে এম আজাদ রহমান, আবু সালেহ মোঃ নুরুজ্জামান, শফিউল আজম ভূইয়া। ওএসডি হওয়া তিন সহকারী প্রকৌশলী হলেন মোসত্মাক আহমেদ চৌধুরী, নূর আলম ও আবুল বাশার। ওএসডি হওয়া এসব কর্মকর্তা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ট্রুথ কমিশনে গিয়ে নিজেদের দুর্নীতির কথা স্বীকার করে অনুকম্পা নিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিভাগীয় মামলাসহ দুদকের তদনত্মের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ সওজের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি করার সঙ্গে সঙ্গে এঁদের বিরম্নদ্ধে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয় মতামতে জানায়, যারা ট্রুথ কমিশনে গিয়ে নিজের দুর্নীতি স্বীকার করে অর্জিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছিলেন তাদের সকলের বিরম্নদ্ধে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা এবং আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তদনত্মপ্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে। একই সঙ্গে এদের দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ এবং অর্জিত সম্পদ সম্পর্কে দুদকের অনুসন্ধান-তদনত্মে কোন বাধা না থাকায় এঁদের সকলের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুদকে নথি প্রেরণ করতে হবে। শনিবার যোগাযোগ সচিব মোজাম্মেল হক খান জনকণ্ঠ'কে জানান, আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি চলমান রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও জোরদার হয়েছে। আগামী দু'একদিনের মধ্যে দুর্নীতিবাজ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফাইল পাঠানো হবে দুর্নীতি দমন কমিশনে। ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে দুদককে তদনত্মের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, বিভাগীয় মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। একজন ইনকোয়ারি অফিসার বিভাগীয় মামলার পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন বলে জানান তিনি। বলেন, এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দুর্নীতির পথ থেকে অনেকেই সরে আসবেন।
তিনি তৃতীয় গ্রেডের
কর্মকর্তা বলে... তিনি তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা। সওজের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিছুদিন। নানামুখী চাপে তিনি পদত্যাগ করেছেন সম্প্রতি। সদ্য পদত্যাগ করা সওজের প্রধান প্রেকৌশলী মোঃ শাহাবউদ্দিনের বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নথি খোলা হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণীও প্রস্তুত। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, সওজের সাবেক এই প্রধান প্রকৌশলী একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা। তাঁর বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় মামলা রম্নজু করার জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন। এই প্রেৰাপটে বিভাগীয় মামলা রম্নজু করতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য খসড়া সারসংৰেপ প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বিভাগীয় মামলার পরিবর্তে অধিকতর তদনত্ম করার জন্য বিষয়টি দুদকে প্রেরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর প্রেৰিতে তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদনত্ম করবে দুর্নীতি দমন কমিশন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ (শৃঙ্খলা) শাখার একটি নোটসিটে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহাবউদ্দিনের বিরম্নদ্ধে খসড়া অভিযোগ বিবরনী পাওয়া যায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুনর্ীতির কথা স্বীকার করে ট্রুথ কমিশনে (সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন) গিয়ে যাঁরা জরিমানা দিয়ে অনুকম্পা গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে সওজের তিন কর্মচারীসহ প্রকৌশলী রয়েছেন ৪৪ জন। এক প্রকৌশলী ইতোমধ্যে মারা গেছেন। কর্মরত আছেন ২১ জন। যাঁদের সবাই এখন ওএসডি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রুথ কমিশনে গিয়ে অনুকম্পা পাওয়া সওজের ৫১ কর্মকর্তা/কর্মচারীর নথি পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্প্রতি বলেন, যারা ট্রুথ কমিশনে গিয়ে দুনর্ীতির স্বীকারোক্তি দিয়েছে তাদের কারও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ঠাঁই হবে না।
সওজের আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সওজের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শাহাবউদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর আহমেদ ভূঁইয়া, সানাউল হক, খন্দকার গোলাম মোসত্মফা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরম্নল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়ার মোহাম্মদ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ, নির্বাহী প্রকৌশলী জর্জেস হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ জোয়ার্দার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোসত্মাক আহমেদ চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নূর আলম, ওয়ার্ক সুপারভাইজার আবদুল লতিফ বিশ্বাস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সোহরাব উদ্দিন মিয়া, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বদরম্নল আলম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিন।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবিএম ফখরম্নল আলম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফয়জুর রহমান, প্রধান সহকারী টেকনিক্যাল রেজাই রাবি্ব মাতলুবুদ দারাইন, নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী এমএ মুকতাদির, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আদম আলী গাজী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোসত্মাক হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, এমদাদুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী নজরম্নল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দারম্নল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএস সাইফুল ইসলাম, আবুল বাশার মিয়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সালেহ মোঃ নুরম্নজ্জামান, একেএম আজাদ রহমান, আবদুল হালিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জলিলুর রহমান প্রামাণিক, হাবিবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মৃধা নজরম্নল ইসলাম এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। এঁদের সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ট্রুথ কমিশনে গিয়ে নিজেদের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ট্রুথ কমিশনে গিয়ে অনুকম্পা চাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের ফাইল তলব করা হয়। আট মে সংশিস্নষ্ট বিভাগের ৫১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দলিল পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। প্রাপ্ত তথ্য ও দলিলাদি বিবেচনায় তাঁদের বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধানত্ম হয়। এরপর মামলার বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
মৈত্রী ট্রেনে কমেছে যাত্রী বেড়েছে হয়রানি
মিজান চৌধুরী ॥ চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে অমিতোষ পাল বেছে নেন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী এঙ্প্রেসকে। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর পৌঁছেন ভারতে। এর মধ্যে চার ঘণ্টা কেটেছে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে। দেশে ফিরে দুর্ভোগ ও কষ্টের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি মৈত্রী এঙ্প্রেস ব্যবহার না করার পণ করেন।
শুধু অমিতোষ পাল নয়, অনেক যাত্রীই এখন মৈত্রী এঙ্প্রেস ব্যবহার করছেন না। ফলে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা মৈত্রী এঙ্প্রেস। এদিকে মৈত্রী এঙ্প্রেসকে জনপ্রিয় করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মৈত্রী এঙ্প্রেসের কার্যক্রম তদারকি করতে রেলের (অপারেশন) মহাপরিচালককে প্রধান করে ৬ সদস্যের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রম্নপ গঠন করা হয়।
কমিটি মৈত্রী এঙ্প্রেসকে জনপ্রিয় করতে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ট্রেনে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা পরীৰা-নিরীৰা, এক ট্রেনের টিকেট অন্য ট্রেনে ব্যবহারের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা, যাত্রীদের হয়রানি কমানো ও সময় বাঁচানোর জন্য মালামাল দ্রুত স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা, অন বোর্ড ইমিগ্রেশন সিস্টেম চালুর বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়া খুলনা-বেনাপোল ট্রেনটি খুলনা-যশোর-বেনাপোল-নওগাঁ হয়ে কলকাতা পর্যন্ত চলাচলের জন্য সরকারের অনুমোদন গ্রহণে কাজ করবে।
মৈত্রী ট্রেনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, যে ধারণা নিয়ে ট্রেনটির যাত্রা শুরম্ন হয় কিন্তু তা বাসত্মবায়ন হয়নি। যাত্রীদের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে আড়াই ঘণ্টাসহ মোট সাড়ে ১০ ঘণ্টা সময় লাগছে উলেস্নখ করে বলা হয়, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কাজকে সহজ করতে পারলে দুই ঘণ্টা কমিয়ে সাড়ে ৮ ঘণ্টায় ভারতে যাত্রী পেঁৗছে দেয়া সম্ভব।
ওই বৈঠকে সময় কমিয়ে আনা, ব্যাগ চেকিংয়ের তিনটি স্থানের জায়গায় দুইটি স্থান, যাত্রীদের সুবিধার জন্য রিটার্ন টিকেট ব্যবস্থা, ডগ স্কোয়ার্ড দিয়ে যাত্রীদের লাগেজ চেকিং, ভারতের হাইকমিশন থেকে যাত্রীদের ভিসাপ্রাপ্তির বিড়ম্বনা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের পর থেকে অন্য কোন স্টেশনে যাত্রী না তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ২০০৮-এর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে ঢাকা-কলকাতা রম্নটে যাত্রা শুরম্ন করে মৈত্রী এঙ্প্রেস। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) আবদুল মতিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে মৈত্রী (৩১০৮) এঙ্প্রেসটি উদ্বোধন করেন। দু'দেশের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত নতুন করে মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে_ এমন মনত্মব্য সেদিন ছিল সবার মুখে।
২৩৪ আসনের ট্রেনটি ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর এই সাড়ে ৮ মাসে ৭ হাজার ৮৪১ যাত্রী বহন করে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ ৯ মাসে যাত্রী বহন করে ৭ হাজার ৮১১ জন। প্রথম বছর থেকে যাত্রীর সংখ্যা দ্বিতীয় বছরে এসে আরও হ্রাস পায়। বর্তমান প্রতিট্রিপে গড়ে ৬০/৬২ যাত্রী চলাচল করছে। প্রতিমাসে (৮ দিনে) লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকারও বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক রেলওয়ের একাধিক উর্ধতন কর্মকর্তার মতে, দু'দেশের মধ্যে মৈত্রী এঙ্প্রেস দু'টি চলাচলে সোহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং লাভবান হবে দু'দেশই। কিনত্ম ভারত সরকারের অনাগ্রহ, ভারতীয় সীমানত্মে যাত্রীদের হয়রানি, ভিসা জটিলতা এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধান না হওয়ায় মৈত্রী এঙ্প্রেসের এ বেহালদশা। ভারত-বাংলাদেশ সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে যে মৈত্রী এঙ্প্রেস যাত্রা শুরম্ন করেছিল তা আজ ভোগানত্মি আর লোকসানের প্রতীক। যাত্রী সঙ্কটের কারণে ইতোমধ্যে দু'টি বগি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মৈত্রী এঙ্প্রেসের (৩১০৮) এখন আসন সংখ্যা ২৩৪। ভারত মৈত্রী এঙ্প্রেস (৩১০৭) আসন সংখ্যা ২৬২।
জানা গেছে, মৈত্রী এঙ্প্রেসের জন্য প্রতিমাসে তেল খরচ হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকার। স্টাফদের খরচ ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। প্রতিমাসে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, প্রায় ৩ বছরে গড়ে প্রতিট্রিপে ৬০ থেকে ৬২ যাত্রী হয়েছে। সম্প্রতি কিছুটা যাত্রী বেড়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের মে মাসে ৩ হাজার ৭৪৪ আসনের জায়গায় মাত্র ৮৭২ যাত্রী ঢাকা-কলকাতা গেছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, কখনও কখনও ২০/২৫ যাত্রী নিয়েও ট্রেনটি ঢাকা থেকে কলকাতা ছেড়ে গেছে। যাত্রীর মধ্যে ৯০ শতাংশ বাংলাদেশী আর ১০ শতাংশ ভারতীয়। দুটি মৈত্রী ট্রেন যাত্রীর আয় থেকে ৭৫ শতাংশ টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ আর ২৫ শতাংশ টাকা পাচ্ছে ভারত। মৈত্রী এঙ্প্রেসের এ দুরবস্থার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহ, ভারতীয় সীমানত্মে যাত্রীদের হয়রানি, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ সময় লাগাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না হওয়ায়ই মূলত দায়ী। সূত্র জানায়, মৈত্রী এঙ্প্রেসের ব্যাপারে ভারতের কোন আগ্রহ নেই।
ভিসা জটিলতা চরমে উঠেছে। ভিসাও দিচ্ছে কম। বাংলাদেশ সীমানত্মে দর্শনা স্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে সময় লাগত ২ ঘণ্টা ও ভারতের গেদে'তে সময় লাগত ৩ ঘণ্টা। এখন গেদে'তে ৩০ মিনিট ও দর্শনায় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা গেদে কাস্টম এলাকার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, গেদে স্টেশনে যাত্রীদের প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হতে হয়। একশ্রেণীর কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মচারীর হয়রানি সহ্য করতে হয় যাত্রীদের। তারা বকশিশের জন্য পিছু লেগে থাকে।
প্রাইমারীতে আরও ১৫ হাজার শিক্ষক ৩/৪ মাসের মধ্যে নিয়োগ
শীঘ্রই শিক্ষকপুল ॥ নিয়োগ দেয়া হবে ২০ হাজার খণ্ড কালীন শিক্ষক
বিভাষ বাড়ৈ ॥ প্রতিষ্ঠানের শিৰক-কর্মচারী সঙ্কট দ্রুত নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজ বলে মনে করে প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর। এ লক্ষে গত আড়াই বছরেই প্রাথমিক শিৰা সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬০ হাজার ৭৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী। কেবল তাই নয়, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে আরও ১৫ হাজার শিৰক, যার মধ্যে পাঁচ হাজার প্রধান শিক্ষক এবং বাকি ১০ হাজার সহকারী শিৰক। শিক্ষক সঙ্কট কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে শীঘ্রই গঠন করা হচ্ছে শিক্ষক পুল। পুলের আওতায় প্রতিউপজেলায় ৪০ জন করে ৫০৩ উপজেলায় নিয়োগ দেয়া হবে ২০ হাজার খ-কালীন শিক্ষক। প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১১-১২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে শিৰক কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে এছাড়া বেরিয়ে এসেছে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নানা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত হওয়া নানা কর্মকা-ের চিত্র। জনবল সঙ্কট নিরসনের বিষয়টিতে সনত্মোষ প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, মাত্র আড়াই বছরে কেবল একটি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৬১ হাজার শিৰক-কর্মচারী নিয়োগের ঘটনা বিরল। অন্য অনেক মন্ত্রণালয় মিলেও এই বিশাল জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল নিয়োগ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব, আত্মীকৃত এবং উন্নয়ন খাতে মোট ৬০ হাজার ৭৪০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার (প্রথম শ্রেণী) নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৪২ জন, সহকারী উপজেলা শিৰা অফিসার (দ্বিতীয় শ্রেণী) নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৫৬০ জন। প্রধান শিৰক এক হাজার ৮৫২ জন, সরকারী শিৰক সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৭০৩ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় শতভাগ শিৰার্থীর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা গেলেও তাদের সকলকে শিৰায় ধরে রাখা যাচ্ছে না। তবে সরকারের গত আড়াই বছরের নানা উদ্যোগের ফলে প্রাথমিক শিৰা থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমে ৪৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন বলেছেন, এখন তাঁর মন্ত্রণালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিৰাথর্ীদের ঝরেপড়া রোধ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে নিরৰরমুক্ত দেশ গড়া। চলতি শিৰাবর্ষে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সের বিদ্যালয় গমনোপযোগী ৯৯ দশমিক ৪৭ ভাগ শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণী পর্যনত্ম প্রাথমিক শিৰাচক্র শেষ করার আগেই ২১ ভাগ ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ে। কিন্তু বিভিন্ন এনজিও সংস্থার জরিপে প্রাথমিক সত্মরের ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কথা বলা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষক সঙ্কট কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাদান অব্যাহত রাখতে প্রাাথমিক শিক্ষক পুল গঠনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। শীঘ্রই শিক্ষক পুল চালু করা হবে। এ পুলের আওতায় সারাদেশে ২০ হাজার খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিউপজেলায় ৪০ জন করে ৫০৩ উপজেলায় এ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিন হাজার সহকারী প্রধান শিৰক ও ছয় হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে। নতুন শিৰক নিয়োগকালে আরও ২ হাজার প্রধান শিৰক ও ৬ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। অবসর, চাকরি ছেড়ে দেয়া, মৃতু্যবরণ করাসহ নানা কারণে প্রতিনিয়তই শিৰকের পদ খালি হতে থাকে। প্রাথমিক ও গণশিৰা সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার জানিয়েছেন, ১০ হাজার শিৰক নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিৰা অধিদফতর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। চলতি মাসেই প্রকাশ করা হবে প্রধান শিৰক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আমরা মানসম্মত প্রাথমিক শিৰার কথা বলি। পর্যাপ্ত শিৰক ছাড়া আমরা মানসম্মত শিৰা নিশ্চিত করতে পারব না। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গড়ে চার জন করে শিৰক রয়েছেন। সরকারী প্রাথমিক শিৰক সমিতির নেতা বিএম আসাদ উলস্নাহ সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশংসা করলেও বললেন, প্রাথমিক সত্মরে শিৰক সঙ্কট দীর্ঘ দিনের। শিৰক নিয়োগের সিদ্ধানত্ম ইতিবাচক। তবে বাসত্মবতা হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় এরমধ্যে নতুন অনেক শূন্য পদের সৃষ্টি হয়। ফলে শিৰক সঙ্কট থেকেই যায়। ২০১০-১১ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৬৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এতে মোট শিৰকের সংখ্যা দুই লাখ ১৩ হাজার। এরমধ্যে ৫৮ শতাংশ মহিলা। মোট শিৰাথর্ীর সংখ্যা ৯৮ লাখ ৮৫ হাজার।
জুবাইদা গুলশান আরার এ্যালবামের প্রকাশনা উৎসব ট্যুরিস্ট ক্লাবে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপরিচিত ও নন্দিত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক জুবাইদা গুলশান আরা। তবে এ পরিচয় ছাপিয়ে এবার তিনি আবির্ভূত হলেন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে। প্রকাশিত হলো তাঁর আধুনিক বাংলা গানের এ্যালবাম 'গান আমার পরশমণি।' শিল্পীর নিজের লেখা দুটি মৌলিক গানের সঙ্গে ষাটের দশক থেকে বর্তমান সময়ের ৯টি জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এ্যালবামটি।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ট্রেজার আইল্যান্ড টু্যরিস্ট ক্লাবে এ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আসমা আব্বাসী, মাহবুবুল হক, মফিজুল ইসলাম, ফয়জুননেসা সিদ্দিক ও মিনা আজিজ। এ ছাড়াও শিল্পীর মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এ প্রকাশনা উৎসবে।
শিল্পীর গান সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, গুলশান আরার লেখালেখির সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম। কিন্তু তিনি যে নিভৃতে গানের চর্চা করেন, এই এ্যালবামটি প্রকাশ না হলে সেটি জানতাম না। এই শিল্পী বাংলা সংস্কৃতির জন্য নিবেদিত মানুষ হওয়ায় তাঁর এ্যালবামটিও হবে সৃজনশীল। লেখালেখির পাশাপাশি শিল্পী এবার সুন্দর কণ্ঠস্বর দিয়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, গুলশান আরা এতো দিন নীরবে গানের চর্চা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে কাছের মানুষদের নিয়ে নিজ বাসায় গানের আসর বসাতেন। এ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর গানের চর্চার পূর্ণতা পেল। এই শিল্পীর সুরের ধারায় বাংলা গান আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে।
এ্যালবাম সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শিল্পী বলেন, সবার ভেতরেই গান বসবাস করে। এ কারণেই অধ্যাপনায় ও সাহিত্য চর্চায় ব্যসত্ম থাকলেও গান কখনও আমাকে ছেড়ে যায়নি। আর গানের প্রতি আমার সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটল এ এ্যালবামের মাধ্যমে। এ্যালবামটি শ্রোতাদের ভাল লাগলে আমার শ্রম সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী জুবাইদা গুলশান আরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গানে গানে শ্রোতাদের মনে ছড়িয়ে দেন সুরের অনুরণন। তিনি একে একে গেয়ে শোনান 'আকাশের নীল চাঁদোয়া, 'আমার নয়নে', 'একটুকু ছোঁয়া লাগে', 'দিও না দুঃখ', 'গীত গাতা হু ম্যায়' 'দিল কেয়া চিজ হ্যায়'সহ বেশ কয়েকটি গান।
'গান আমার পরশমণি' এ্যালবামটি প্রকাশ করেছে প্রযোজনা সংস্থা বাংলার গান। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মোঃ গোলাম সারোয়ার। এ্যালবামে রয়েছে শিল্পীর নিজের লেখা দুটি মৌলিক গান 'মা যে ডাক দিয়ে যায়' ও 'দিও না দুঃখ'। পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে লেখা হয়েছে 'মা যে ডাক দিয়ে যায়' গানটি। বাকি নয়টি গানের শিরোনাম হলো 'গান আমার পরশমণি' 'ওই আকাশ প্রদীপ তারা', 'সেই বাসর নেই', 'আগে জানিনারে দয়াল', 'এরই নাম প্রেম', 'ওগো আর কিছু তো নাই', 'কি মিষ্টি কি মিষ্টি', 'ললিতা গো' ও 'ওগো অভিমানী প্রিয়'। শিল্পী এ্যালবামটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর সঙ্গীতগুরম্ন বিভূতি আলতাফ মাহমুদ, ভূষণ মুনশী, নারায়ণ চন্দ্র বসাক, ছাবেদ আলী ভূঞা ও ওসত্মাদ ফুল মোহাম্মদকে।
৫০ বছরে পদার্পণ করল গ্যেটে ইনস্টিটিউট ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানে এবং বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় যাত্রা শুরম্ন করে গ্যেটে ইনস্টিটিউট। ভিনদেশে নিজস্ব সংস্কৃতি প্রচার ও প্রসারের লৰ্যে জার্মান সরকার প্রতিষ্ঠা করে এ সংষ্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। সেই থেকে পথচলার পঞ্চাশ বছর পাড়ি দিল গ্যেটে ইনস্টিটিউট।
অর্ধশতাব্দীর আনন্দময় মুহূর্তটিকে উদ্্যাপন করতে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ছয় দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। শনিবার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই শাখাতেই একযোগে শুরম্ন হয় ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এই আনন্দ আয়োজনের শিরোনাম দেয়া হয়েছে 'হ্যাভ এ লুক বিহাইন্ড দ্য সিন অব গ্যেটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ।'
উদ্বোধনী দিন থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যনত্ম ঢাকায় চলবে 'ওয়ান ডে ইন জার্মানি' ও 'ওয়াকিং ডাউন দ্য মেমোরি লেন' শীর্ষক দুটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন রবিবার ঢাকা শাখার বার্লিন হলে প্রদর্শিত হবে মঞ্চনাটক 'মেটামরফসিস'। মঞ্চায়ন করবে সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার। ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের তাভা রেস্টুরেন্ট এ্যান্ড লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে জার্মানির 'জেনস ফ্রিব' ও বাংলাদেশের 'বস্ন্যাক' ব্যান্ডের কনসার্ট। ১২ অক্টোবর ধানম-ির অঙ্ফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে থাকছে 'এ্যান আফটারনুন উইথ জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ পার্টনার স্কুলস' শীর্ষক ভাষা কোর্সের আয়োজন। সমাপনী দিন ১৩ অক্টোবর ঢাকা শাখার বার্লিন হলে থাকছে জার্মানির 'জেনস ফ্রিব' ও বাংলাদেশের 'বস্ন্যাক'-এর কনসার্ট।
বিনোদন ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরম্ন তরম্নণ সমাজকে দেশীয় বিনোদনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ফিউশনকাইট ডটকম নামে একটি নতুন বিনোদন ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরম্ন হলো। শনিবার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এই ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরম্নণ প্রজন্ম ঘরে বসে সিনেমা, নাটক, ফ্যাশন শো, সঙ্গীত, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র, রূপচর্চা, বিনোদন সাময়িকী, সংবাদপত্র, বস্নগ, স্মৃতিকথা নানা প্রকার বিনোদনের খবর জানতে পারবে।
বুধবার থেকে কলকাতায় 'বাংলাদেশী বইমেলা' পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্যের বইয়ের বাজার প্রসারের লৰ্যে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে কলকাতায় শুরম্ন হচ্ছে 'বাংলাদেশী বইমেলা।' কলকাতার রবীন্দ্র সদনের গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা বসবে। মেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিৰামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও রফতানি উন্নয়ন বু্যরো যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। এ মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশের ২৯টি প্রকাশনা সংস্থা। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি মুফিদুল হক, ইপিবির সহসভাপতি জালাল আহমেদ, পরিচালক (মেলা) আখতারম্নজ্জামান।
বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের বইয়ের একটি নির্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী রয়েছে। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের বইয়ের অপর্যাপ্ততার কারণে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। এ বইমেলার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করব সারাবছর যেন কলকাতার পাঠকরা আমাদের বইগুলো পেতে পারে। তাঁরা আরও বলেন, এবারের মেলায় সর্বমোট ১৫ হাজার ডলার সমমূল্যের (যা সংখ্যায় প্রায় ১০-১২ হাজার) বই ওঠানো হবে। বইগুলোর মূল্য বাংলাদেশী টাকায় যা হয়, ভারতীয় রম্নপীতেও তাই রাখা হবে। এ মেলা থেকে ক্রেতারা ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই কিনতে পারবে।
মেলা চলবে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যনত্ম চলবে। এর মধ্যে ১৪ তারিখ একটি বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। যাতে ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। বইমেলায় অংশ নেয়া প্রকাশনা সংস্থাগুলো হচ্ছে_ অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, সময়, অনুপম প্রকাশনী, অন্বেষা, সাহিত্য প্রকাশ, একুশে বাংলা প্রকাশন, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশিং হাউস, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, বিদ্যা প্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, শিখা প্রকাশনী, পার্ল পাবলিকেশন্স, নালন্দা, বাংলা প্রকাশ, সিসটেক পাবলিকেশন্স, বাঁধন পাবলিকেন্স, শুদ্ধস্বর, অঙ্কুর প্রকাশনী, জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, সন্দেশ, সদর প্রকাশনী, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, প্রথমা প্রকাশন, সংঘ প্রকাশন, বিজয় ডিজিটাল ও র্যামন পাবলিশার্স।
ছায়ানটে মঞ্চস্থ পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প নষ্ট নীড় ॥ রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে শনিবার মঞ্চস্থ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত নাটক 'নষ্ট নীড়'। এটি ঢাকা থিয়েটারের ৩৫তম প্রযোজনা। রুবাইয়াত আহমেদের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।
লেখক ভূপতির অল্প বয়সী সুন্দরী স্ত্রী চারম্নলতা। তাদের বাড়িতে বসবাসকারী অনেক আশ্রিতদের একজন অমল। সম্পর্কে অমল ভূপতির দূর সম্পর্কের ভাই। সারাদিন কর্মব্যসত্ম সময় কাটে ভূপতির। অন্যদিকে অবসরে অমলের সঙ্গে পড়ালেখাসহ আড্ডা জমে ওঠে চারম্নর। বিষয়টি মাঝে থাকে নির্মল বন্ধুত্ব। কালক্রমে অমল বিখ্যাত লেখক হিসেবে পরিচিতি পায়। অমলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের এক এ্যাডভোকেটের মেয়ের বিয়ে হয়। অমলের শ্বশুর তাকে বিলেত পাঠিয়ে দেন। অমলের এই চলে যাওয়ায় চারম্নর মনের প্রকৃত অবস্থা উন্মুক্ত হয়। স্বামী ভূপতিও বুঝতে পারেন তাঁর স্ত্রী ভেতরে অন্য একজনের জন্য ভালবাসা জন্মেছে। এভাবে নাটকের গল্পটি এগিয়ে চলে এবং নাটকের সমাপ্তি হয়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিমুল ইউসুফ, সাজ্জাদ রাজীব, নাজমুল ইসলাম অনিক, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, খাইরুল ইসলাম পাখি ও জয়শ্রী কর।
ভারতে দুই দিনের শিশুকে জীবন্ত কবর!
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ হত্যার উদ্দেশ্যে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল দুই দিনের এক কন্যা শিশুকে। কিন্তু এক কৃষকের বদৌলতে বেঁচে গেছে শিশুটি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের বোধনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর এনডিটিভি অনলাইনের। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বোধনা গ্রামের ওই কৃষক ৰেতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ এক শিশুর কান্না তার কানে ভেসে আসে। কান্নার উৎসস্থল খুঁজে তিনি দেখতে পান ছোট্ট একটি শিশুর মাথা মাটি থেকে বের হয়ে আছে। তিনি বুঝতে পারেন শিশুটিকে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শিশুটি কোনভাবে তার মাথা মাটি ফুঁড়ে বের করতে পেরেছে। তাৎক্ষণাৎ তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন যখন শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় তখন তার বয়স ছিল ৪৮ ঘণ্টা।
খবর পেয়ে প্রদেশের শিৰামন্ত্রী আর্চনা চিতনিস হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান। তিনি শিশুটিকে ঠিকমতো পরিচর্যা করার জন্য হাসপাতাল কতর্ৃপৰকে নির্দেশ দেন। হাসপাতালের পরিচর্যায় শিশুটি দ্রম্নত সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম।
এদিকে স্থানীয় পুলিশ শিশুর বাবা মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও শিশুটিকে আর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
কি কারণে কন্যা শিশুটিকে কবর দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মধ্যপ্রদেশে কন্যা শিশু হত্যার ঘটনা অহরহই ঘটছে। ২০০৯ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় মধ্যপ্রদেশে অবৈধ গর্ভপাত এবং কন্যাশিশু হত্যার ঘটনা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ।
টেকনাফ ডিগ্রী কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁস পরীক্ষা স্থগিত
পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্ষজার, ৮ অক্টোবর ॥ টেকনাফ ডিগ্রী কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার্থীর বিক্ষোভের মুখে কলেজ প্রশাসন তাৎক্ষণিক বৈঠক করে ঐ পরীক্ষা স্থগিত এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার দ্বাদশ শ্রেণীর ইংরেজী ২য় পত্রের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে দেখে আগের দিন ফাঁস হয়ে হাতে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। এতে সকলে একযোগে পরীক্ষা বর্জন করে হল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর শামসুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন প্রশ্নপত্র নিয়ে তা আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
রংপুর মোটর শ্রমিকদের ধর্মঘটের হুমকি
নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর, ৮ অক্টোবর ॥ শ্রমিক অফিস ভাংচুর, র্যাবের হয়রানি ও টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদ, রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সংস্কারসহ ১৫ দফা দাবি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাসত্মবায়ন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরম্ন করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। শনিবার রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ বলেন, শুক্রবার রাতে মডার্ন মোড়ের মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আঞ্চলিক কার্যালয়ে জেলা মোটর মালিক সমিতির চেন মাস্টাররা বিনা কারণে হামলা চালিয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শহীদুল, শামীম, বাদশা নামে ৩ শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রাঙ্গার ইন্ধনে র্যার সদস্যরা সেখানে গিয়ে শ্রমিক অফিস ভাংচুর করে, অস্ত্র উদ্ধারের নামে সেখানকার শ্রমিকদের অযাথা হয়রানি করে।
রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সংস্কার ও টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদে মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রাঙ্গার আহ্বানে শ্রমিকরা আন্দোলন সংগ্রাম করলেও উল্টো তিনি বাস টার্মিনালের ইজারা নিয়ে প্রতি বাস থেকে ২৫ টাকার স্থলে ৫০ টাকা হারে টোল তুলছেন।
এ ব্যাপারে মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, পৌর মেয়র আব্দুর রউফ মানিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মজিদ তাঁর বিরম্নদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মজিদ তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। তিনি বলেন, বাস টার্মিনালের ইজারাদার আমি নই। যাঁরা ইজারা গ্রহণ করেছেন তাঁরাই টোল তুলছেন। এখানে আমার করার কিছু নেই।
গাইবান্ধায় বিএনপির দু'গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৮ অক্টোবর ॥ পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে শনিবার বিকেলে স্থানীয় মহিলা কলেজ চত্বরে পৌর বিএনপির পরিচিতি সভাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় সভামঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও মাইক ভাংচুর করা হয়। সম্প্রতি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক করে পৌর বিএনপির একটি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে আসা হয়। কিন্তু থানা বিএনপির অগোচরে ওই কমিটি গঠন হওয়ায় থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েলের নেতৃত্বাধীন অপর একটি গ্রুপ এর বিরোধিতা করে এবং তারা ওই কমিটি বাতিলের দাবি জানান। এরপর জেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবুর স্বাক্ষরে গত সপ্তাহে জিয়াউল হক জুয়েলকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। শনিবার পলাশবাড়ী মহিলা কলেজ চত্বরে জুয়েলের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি তাদের পরিচিতি সভার আয়োজন করে। এতে থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম সরকারের সমর্থক আবুল কালাম নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে পরিচিতি সভাস্থলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। তারা সভামঞ্চ এবং আসবাবপত্র ছাড়াও একটি জিপগাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এ সময় জুয়েল সমর্থক নেতাকর্মীরা আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তাদের সমর্থক যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুল ইসলাম রম্নবেল, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, সাইফুল আলমসহ ৫ নেতাকর্মী আহত হয়। ওই ঘটনার পর বিএনপির উভয়গ্রুপ উপজেলা সদরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আবুল কালাম সমর্থকরা জুয়েল পরিবারের একটি মার্কেটে হামলা চালিয়ে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে।
জিয়ার বিএনপি ফেরত আসুক ॥ বি চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বিকল্পধারা চারদলীয় জোটের রোডমার্চে অংশ নেবে। এ জন্য রোডমার্চ চলাকালে পথে পথে আমাদের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে এর প্রতি সমর্থন জানাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই জিয়াউর রহমানের বিএনপি ফেরত আসুক। আর এ জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোডে বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা নিয়ে সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
চারদলীয় জোটের রোডমার্চে বিএনপির অবস্থান কি হবে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বি চৌধুরী বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলাম এবং আছি। এ জন্য লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আমরা ১০ অক্টোবর বা পরে অটল থাকব। বর্তমান সরকারের আচরণ গণতান্ত্রিক নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা সুপ্রীমকোর্টের যে রায়ের কথা বলে সেখানে দুটি অংশ ছিল। রায়ে স্পষ্টভাবেই বলা আছে পর পর আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। তাই একটি অংশকে তারা রায় বলে মেনে নেবে আর অন্য অংশ মেনে নেবে না তা হতে পারে না। তারা আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করেনি।
বি চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি ভাল নয়। অথচ দেশের অর্থনৈতিক ব্যাপারে সরকার ধোঁকাবাজি করছে। মনে হয় না সরকার দেশ নিয়ে কিছু ভাবছে বরং সরকার লুকোচুরি করছে। আর পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ব্যাপারে এখন আর যাচাই করার কিছু নেই।
বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরম্নল আমিন বেপারী, ডা. আবু মোজাফ্ফর আহমেদ, আবদুর রহিম, সহসভাপতি মোঃ ইউসুফ, শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।
মেজর মান্নান বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। এখনও আমরা সেই অবস্থানেই আছি। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গত ৪০ বছরে দেশ এমন ভয়াবহ অবস্থায় পড়েনি। এ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেশে একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
মাহী বি চৌধুরী বলেন, দেশ এখন ক্রানত্মিকাল অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, বিএনপির ব্যর্থতার কারণেই বিকল্পধারা গঠন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ভুল স্বীকার করা দোষের কিছু নয়। তাই বিএনপির স্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে ভবিষ্যতে তারা ক্ষমতায় গেলে কোন প্রকার দুর্নীতিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে না।
ডা. এম আর খানের স্ত্রী আনোয়ারা খানের ইন্তেকাল
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সহধর্মিনী আনোয়ারা খান আর নেই। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে রেখে গেছেন। শনিবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সোমবার সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
১৯৩৩ সালের ৯ নবেম্বর সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামে আনোয়ারা খান জন্মগ্রহণ করেন। সেখান থেকে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়ে তিনি কলকাতার বিখ্যাত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর কলকাতারই রিপন কলেজ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে আনোয়ারা খান গৃহবধূ হলেও বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ডা. এম আর খান ও আনোয়ারা ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি শিশু স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অনুদান, হাসপাতাল ও স্কুল প্রতিষ্ঠা, মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রদান ইত্যাদি নানা সমাজসেবামূলক কাজ করে গেছেন। গরিব ও দুস্থ শিক্ষার্থী_ বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ ও আগ্রহ ছিল অসামান্য। ব্যক্তিগতভাবে অনেক মেয়েই তাঁর সাহায্য, সহযোগিতা ও উৎসাহে শুধু পড়ালেখাই শেষ করেনি, জীবনেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। -বিজ্ঞপ্তি।
কিশোরগঞ্জে ঘোষণা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ৮ অক্টোবর ॥ জেলার করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া গাংপাড়া গ্রামে প্রকাশ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করার ঘোষণা দেয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীরা খুন করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থী চয়ন মিয়াকে। জুমার নামাজ পড়ার সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে শুক্রবার গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী ঘরে ঢুকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। শনিবার সকালে চয়নের মৃতু্যর সংবাদ তার স্কুলে পেঁৗছামাত্রই ক্ষোভে ফুঁসে উঠে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস বর্জন করে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে এ সময় করিমগঞ্জ চামড়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও স্কুলের শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার গাংপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে চয়ন মিয়া (১৪) ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষাথর্ী ছিল। সোমবার তার টেস্ট পরীক্ষা থাকার কারণে শুক্রবার গভীর রাত পর্যনত্ম জেগে সে লেখাপড়া করে। রাতে পড়ার ঘরে চয়ন একা থাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরম্নতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ পরে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর শনিবার সকালে চয়ন মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে।
নিহত চয়নের চাচা মাহতাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদে একে অপরকে ধাক্কা মারা নিয়ে চয়নকে থাপ্পড় মারে একই গ্রামের খুর্শিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় মসজিদের মুসলিস্নদের সামনে চয়নের বাবা ফরিদ উদ্দিন বিচারের মাধ্যমে তার ছেলেকে শাসন করেন। এরপর প্রকাশ্যে মুসলিস্নদের উপস্থিতিতে চয়নকে রাতের মধ্যেই খুন করার হুমকি দেয় রিপন। তিনি আরও জানান, ওই দিন বিকেলে রিপন, তার ভাই শরীফ, আলম, হবি ও বাবা খুর্শিদ মিয়া সশস্ত্র অবস্থায় চয়নের বাড়িতে গিয়েও তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
ভাটিয়া গাংপাড়া ফকির বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরম্নলস্নাহ জানান, জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় চয়নের সঙ্গে ধাক্কা খায় রিপন। এ নিয়ে হাতাহাতির পর চয়নের বাবা মুসলিস্নদের উপস্থিতিতে ঘটনার মীমাংসা করেন। কিন্তু এ ঘটনার বিচার রিপন মানতে নারাজ। সে চয়নকে রাতের মধ্যেই হত্যা করবে বলে জনসম্মুখে ঘোষণা দেয়।
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান জানান, হত্যাকা-ের ঘটনায় রিপনের পিতা খুরশিদ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান তিনি।
পুত্রের বদলে পিতাকে দোররা, সালিশ বৈঠকে জরিমানা
স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ৮ অক্টোবর ॥ নওগাঁর মান্দায় সালিশ বৈঠকে পুত্রের পরিবর্তে পিতাকে শাসত্মি দিয়ে জরিমানা আদায় করেছে মাতবররা। পুত্র সালিশে হাজির না হওয়ায় পিতাকে এই শাসত্মি দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকরামানন্দ গ্রামে। এ ঘটনায় শনিবার নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তি বাদী হয়ে ৫ মাতবরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী আবু বকর জানান, তাঁর পুত্র আনিছুর রহমানের সঙ্গে প্রতিবেশী খয়রম্নল ইসলামের মেয়ে খাদিজার প্রায় ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় পুত্র আনিছুর রহমান প্রায় দুই মাস আগে খাদিজাকে তালাক দেয়। সম্প্রতি তারা আবারও ঘর সংসার বাঁধার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে গ্রামের মাতবর আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে শুক্রবার রাতে ওমর আলীর বাড়িতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে গ্রামের মাতবর সিরাজ উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। সালিশে আনিছুর রহমান হাজির না হওয়ায় তার পরিবর্তে পিতা আবু বকরকে ৫০ ঘা দোররা ও ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাতবর আব্দুস সোবহান দোররা মেরে সালিশের এ রায় কার্যকর করেন। আদায়কৃত জরিমানার টাকা সালিশের সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের কাছে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আবু বকর বাদী হয়ে আব্দুস সোবহান, সিরাজ উদ্দিন ও স্বপনসহ ৫ মাতবরের বিরম্নদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সালিশের মাতবর আব্দুস সোবহান জানান, তালাক দেয়া স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করায় গ্রাম্য সালিশে এ বিচার করা হয়েছে। পুত্রের পরিবর্তে পিতাকে শাসত্মি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুত্র আনিছুর রহমান সালিশে হাজির না হওয়ায় পিতাকে এ শাসত্মি দেয়া হয়েছে। কাঁশোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী ম-ল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রাম্য সালিশে বিচারের নামে এ ধরনের ঘটনা অমানবিক। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুলস্নাহেল বাকী জানান, অভিযোগ পাবার পর ঘটনা তদনত্মে উপপরিদর্শক সিরাজুল ইসলামকে তাৎৰণিকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সেনা দলের যৌথ অনুশীলন সিলেটে আজ থেকে
চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
আজ রবিবার ৯ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জালালাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে এক্সারসাইজ সম্প্রীতি-২' নামের একটি যৌথ অনুশীলনে অংশগ্রহণ করবে। এ উপলক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২৫ সদস্যের একটি দল মেজর এস ওয়াই মহাদিকের নেতৃত্বে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিমানযোগে (এএন-৩২) সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আগমন করেছে। উভয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নই এ অনুশীলনের লক্ষ্য। উলেস্নখ্য, বিগত ১ নবেম্বর থেকে ১৪ নবেম্বর ২০১০ পর্যনত্ম 'এঙ্ারসাইজ সম্প্রীতি-১' ভারতের অসম রাজ্যের জোড়হাটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ সদস্যের একটি দল ১ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুশীলন দলটি ২৩ অক্টোবর ভারতীয় বিমানযোগে সিলেট থেকে নিজ দেশে ফিরে যাবে। _আইএসপিআর।