মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
বটতলা বাজার_ ভাস্কর্যে বাংলার কৃষ্টি, ঐতিহ্য কবি-কাব্যের গল্প
শিল্পাঙ্গনে সমীরণ দত্তের কাঠকর্ম প্রদর্শনী
সৈয়দ সোহরাব
ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতিকে ভালবাসতেন শিল্পী সমীরণ দত্ত। প্রকৃতির মধ্যে গাছপালার শিকড়_ বাকড়ই তাঁকে বেশি আকৃষ্ট করত। সমবয়সীরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সমীরণ বয়সী গাছের গোড়ায় বসে শিকড়ের গতিবিধি লক্ষ করত। ছোটবেলায় প্রকৃতি ও গাছপালার শিকড়বাকড় ভাল লাগলেও তা দিয়ে সৃজনশীল শিল্পকর্ম সৃষ্টির উৎসাহ পান মাঝ বয়সে, অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স ৩০ বছর। আর এর মধ্যেই তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স করে গার্মেন্টস ও আবুল খায়ের গ্রুপে কর্মজীবন শুরু করেন এবং তিন বছর চাকরিও করেন। কিন্তু গতানুগতিক কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছিলেন না। ভিতরের সৃজনশীলতা তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না? একদিন তিনি তাঁর মার সঙ্গে গল্প করছিলেন। তাঁর মা ছবি রাণী দত্ত তাঁর মায়ের (সমীরণের নানি) গায়ের রঙের (শরীর) বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, সাদাও না, গোলাপীও না, অনেকটা সুপারি গাছ থেকে ঝরে পড়া সদ্য গজানো খোলসের ভেতরের রঙের মতো ছিল অনেকটা। এ কথা শোনার পরই সমীরণের ভেতরে আবার ছোটবেলার সেই ভাললাগা অর্থাৎ প্রকৃতি, গাছপালা, শিকড়_বাকড় ঘুরপাক খেতে থাকে। আর এ ভাবনা থেকেই সৃষ্টি হতে থাকে একের পর এক শিল্পকর্ম। বিধাতার দেয়া সৃজনশীল ও শিল্পসত্তা প্রতিভাকে আর দমিয়ে রাখা যায়নি। বিগত ১৩ বছরে তিনি প্রায় তিন হাজার শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র গাছপালার শিকড়_বাকড় দিয়ে বা ফেলে দেয়া সামগ্রী দিয়ে। এখনও তাঁর সোনারগাঁও স্টুডিওতে শিল্পমান উত্তীর্ণ প্রায় ৫শ' ভাস্কর্য এবং এক হাজারেরও ওপরে নির্মিতব্য শিল্পকর্ম রয়েছে। আর তার থেকে বাছাই করেই ৮২টি শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ধানমণ্ডির গ্যালারি শিল্পাঙ্গন। শিরোনাম 'বটতলা বাজার'। এটি শিল্পীর একক পঞ্চম কাঠকর্ম প্রদর্শনী। গত শুক্রবার থেকে শুরম্ন হয়েছে। উদ্বোধন করেছেন আরেক প্রতিথযশা ভাস্কর শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। এই প্রদর্শনী চলবে আগামী রবিবার পর্যনত্ম। প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে রাত আটটা পর্যনত্ম খোলা।
বিগত ১৩ বছর ধরে ফেলনা কাঠ (গাছের গুঁড়ি, শিকড় ইত্যাদি) দিয়ে জীবনের বেলনা বেলে চলেছেন শিল্পী সমীরণ। শুকনো কাঠে প্রাণ সৃষ্টি করে চলেছেন বলেই তাঁর প্রদর্শনীর শিরোনাম দেয়া হয়েছে প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর স্থানের নামানুসারে 'বটতলা বাজার'। এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমীরণ দত্ত বলেন, ধ্বংসমুখী কাছের গুঁড়ি ও শিকড় সংগ্রহ করে তাতে আমি আবার প্রকৃতির রূপ দিতে চেষ্টা করি, অর্থাৎ প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা চালাই। প্রকৃতিকে রৰা করার নানা আবেদন তুলে ধরার চেষ্টা করি কাজের মধ্যদিয়ে। তবে আমি নিজে কোন গাছ কাটি না। কাটা গাছ থেকে তার গোড়া ও শিকড়বাকড় সংগ্রহ করি বা কেউ গাছ বিক্রি করে দিলে, আর আমার সেই গাছের গোড়া যদি পছন্দ হয় তাহলে কিনে নেই। আমার তৈরি শিল্পকর্মের মধ্যে এমনও গাছের গোড়া আছে যার বয়স দু'শ' থেকে আড়াই শ' বছর। সবচেয়ে কম বয়সী গাছের গোড়াটির বয়সই ৭০ বছরের ওপরে। পথের পাশে ফেলে দেয়া এমনই বস্তু সামগ্রী দিয়ে আমি যে সব ভাস্কর্য গড়ে তুলছি তার প্রত্যেকটির রয়েছে পৃথক পৃথক নাম ও পৃথক পৃথক গল্প। প্রদর্শনীতে নিয়ে আসা ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্তনাদ, প্রাগৈতিহাসিক, বিস্ময়, আরামকেদারা, বৈকালিকা, যাত্রী, তপোবন, শিকার যাত্রা, আবারও প্রকৃতি, আপনাসন, শিরোনামহীন, তাথৈ, ঐক্যতান, সাওয়ারি, আলোর পাখি, বিপ্রতীপ (অবনত্মির পাখিরা), সেভ দ্য নেচার (পুষ্প ও পত্রহীন গাছ), অচিন পাখি, জীবন জাল, স্নান ঘাট (গোসলের স্থান), আমি এবং মা ইত্যাদি।
এ প্রদর্শনীতে বেশি স্থান পেয়েছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার্য সামগ্রী, তবে তার মধ্যেও রয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া। আর এসবের মধ্যে রয়েছে একাধিক ডাইনিং টেবিল। লিচু গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চেয়ার বা আসন, আর গাছের কা- দিয়ে তৈরি করা হয়েছে টেবিল, যা নান্দনিকতার দিক দিয়ে শিল্পমানে হয়েছে উত্তীর্ণ। তাঁর এক একটি ভাস্কর্য হয়ে উঠেছে যেন কবি ও কাব্যের গল্প। এমনই তাঁর প্রতিটি কাজে বাংলার কৃষ্টি, ঐতিহ্য কখনও মূর্ত আবার কখনও বিমূর্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। এই প্রদর্শনীতে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ দু'লাখ টাকা দামের ভাস্কর্য বা শিল্পকর্ম রয়েছে, যা কারও ঘরে থাকলে সেই ঘরের শোভা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।
এই ভাস্কর্য প্রসঙ্গে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেছেন, আমরা জানি উদ্ভিদের প্রাণ আছে, আর তা কাটলেই হয়ে যায় নিষ্প্রাণ। এই নিষ্প্রাণ দেহেই আবার প্রাণ দেয়ার চেষ্টা করে শিল্পী সমীরণ দত্ত সফল হয়েছেন। তাঁর কাজে, কল্পনা শক্তিতে অনেক ধরনের অভিব্যক্তি লৰ্য করা যায়। ঘরগৃহস্থালি সামগ্রীতেও সমীরণ সফল হয়েছেন প্রকৃতির ছোঁয়া সঞ্চার করতে। তাঁর সৃজনশীলতায়, তাঁর চেষ্টায়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে রয়েছে ভিন্নতা, আর সেটা ফুটে উঠেছে প্রতিটি কাজে।
এই প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, পৃথিবীর দৃশ্যকল্পগুলো রচিত হয়েছে প্রকৃতি ও মানুষের যুগল প্রচেষ্টায়। প্রতিনিয়ত এই স্বপ্ন ও বাসত্মবতার বোধ থেকেই নিসর্গের অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আত্মমগ্ন রয়েছে শিল্পী। আমাদের চারপাশ ও প্রকৃতির সীমাহীন উৎস থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করে শিল্পী তাঁর মানস ভুবনে সংবেদনশীল অনুভব থেকে তৈরি করে চলেছেন একের পর এক সৃজনশীল স্বপ্নরূপ, যা আমাদের আন্দোলিত করে এবং নিয়ে যায় এক অনির্বচনীয় আলোকিত ভাবনার জগতে। প্রকৃতিপ্রেমী এই শিল্পীর মেধায়, মননে, অবলোকনে এবং সৃজনে এই নিষ্প্রাণ প্রকৃতি হয়ে ওঠে বাঙময় গল্পের আধার। তাঁর শিল্পকর্মগুলো শুধুমাত্র রং, আকৃতিগত বৈচিত্র্য, উপকরণ ও গতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সীমা অতিক্রম করে পরিব্যপ্ত হয় অননত্ম সম্ভাবনার বিমূর্ত সঙ্গীতে। আমাদের মনের গভীরে সেই সঙ্গীত অনুরণিত হতে থাকে এক অপরূপ অলৌকিক আনন্দ ও বিষাদে। শিল্পীর এই শিল্পকর্মের সরব উপস্থিতির প্রকাশভঙ্গিমায় আমরা দর্শনার্থীরা ভাব ও কল্পনার স্রোধারায় স্নাত হই।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তত্ত্বাবধায়কের গ্রহণযোগ্যতা নেই
স্বেচ্ছাসেবক লীগের জনসভায় নেতৃবৃন্দ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্তমান সরকার ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদৌ গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশের জনগণের জন্য প্রহসন ছিল মন্তব্য করে তাঁরা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন রম্নখতে তৎকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
রবিবার বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তিন দশকপূর্তি উপলৰে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ (উত্তর) আয়োজিত আলোচনাসভায় নেতারা এ দাবি করেন।
বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে কোন মামলা করেনি। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জয়লাভ করে শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে হয়রানিমূলক সাতটি মিথ্যা মামলা কেন দিয়েছিলেন? আমরা জানতে চাই কেন আপনারা এসব মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের ওপর নানা নির্যাতন চালিয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছিল তা রুখতে তৎকালীন সময়ে তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অপরিহার্য ছিল। আমরা এ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে চেয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম পর পর তিনবার হলে তারপর এ ব্যবস্থা আর লাগবে না। ২০০১ ও ২০০৬ সালে এ পদ্ধতির অপব্যবহার করা হয়েছিল। তাই বর্তমান সরকার ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দীপু মনি বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময় সংবিধানের ওপর নানা অত্যাচার হয়েছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি ৰমতা দখল করে একের পর এক সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানকে ছিন্ন ভিন্ন করেছে। এমনকি তারা কোন জনপ্রতিনিধি বা সুশীল সমাজের কোন মতামত নেননি। কিন্তু আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধানকে পরিবর্তনের মাধ্যমে '৭২-এর সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম-হানিফ বলেন, '৭৫-এর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ৰমতায় এসে বাংলাদেশকে একটি কারাগারে পরিণত করেছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের তিনি হত্যা ও গুম করেছিলেন। বিনাবিচারে বহু সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসি দিয়েছেন। এমনকি তিনি শহীদদের আত্মাকে অপমানিত করে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোলস্না মোঃ আবু কাউসার, মঈনুদ্দিন মঈন, মতিউর রহমান মতি, রফিকুল ইসলাম লিটন, গিয়াস উদ্দিন পলাশ, দেবাশীষ বিশ্বাস, ফরিদুর রহমান ইরানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩০ বছরপূর্তি উপলৰে গৃহীত সকল কর্মসূচী সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে আওয়ামী লীগে। আগামী ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে রাজধানীতে লাখো মানুষের ঢল নামিয়ে বর্ণাঢ্য ও মনোলোভা র্যালি সফল করতে ঢাকা মহানগর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন সংযোগী সংগঠনের নেতাদের মাঝে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এসব বিষয়ে বিসত্মারিত সিদ্ধানত্ম হয়।
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম-হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা বের করা হবে। আর এই বর্ণাঢ্য র্যালিই প্রমাণ দেবে শেখ হাসিনাই এদেশের একমাত্র জনগণের নেত্রী। প্রমাণ হবে দেশের জনগণ শীঘ্রই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। শোভাযাত্রাটি যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয় সে জন্য তিনি প্রতিটি নেতাকর্মীকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম এমপি, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, শেখ বজলুর রহমান, মুকুল চৌধুরী, আওলাদ হোসেন ও শাহে আলম মুরাদ।
সংশোধিত এডিপির ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে
অর্থবছরের দশ মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে ৬০ শতাংশ
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ আগামী দুই মাসে (মে-জুন) ৪০ শতাংশ বাস্তবায়নের ঝুঁকিতে পড়েছে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি)। চলতি অর্থবছরে শত ভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ পূরণ করতে হলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (আরএডিপি) ব্যয করতে হবে ১৪ হাজার ২২২ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আরএডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ৬ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অর্থ ব্যয়ের ৰেত্রে এগিয়ে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বাস্তবায়নের হার ৮৯ শতাংশ। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বাস্তবায়নের হার মাত্র ১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময় বাসত্মবায়ন হয়েছিল ৫৯ শতাংশ। ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ১ শতাংশ। আবার গত মাস পর্যনত্ম (জুলাই-মার্চ) বাস্তবায়নের হার ছিল ৫০ শতাংশ। এক মাসে এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। রবিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাসত্মবায়ন পরিবীৰণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এসব বিষয় জানা গেছে।
সূত্র জানায়, শত ভাগ এডিপি বাসত্মবায়নে অর্থবছরের শুরম্নতেই কোমর বেঁধে নেমেছিল পরিকল্পনা কমিশন। সে সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নানা নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। এছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগেই এডিপির সংশোধন এবং সংশোধিত এডিপি সমন্বয়ের কাজ চূড়ানত্ম করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই ছিল। তা হচ্ছে এডিপির শত ভাগ বাসত্মবায়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম সেই লৰ্য পূরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ল।
এডিপি বাসত্মবায়নে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ॥ গত ১০ মাসে এডিপি বাসত্মবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ১টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা, বাস্তবায়ন হার ৮৯ শতাংশ। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৬ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ১৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৮৬ শতাংশ। বিজ্ঞান , তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ২৭ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ১২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ব্যয় ১০৩ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৮৬ শতাংশ। বাসত্মবায়ন, পরিবীৰণ ও মূল্যায়ন বিভাগে ২ প্রকল্পে বরাদ্দ ৫০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ব্যয় ৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৮১ শতাংশ। ভূমি মন্ত্রণালয়ে ৭ প্রকল্পে বরাদ্দ ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা, ব্যয় ৬৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন হার ৭৮ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয়ে ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ হাজার ৫৬ কোটি, ব্যয় ২ হাজার ৩২১ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৭৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) ৬ প্রকল্পে বরাদ্দ ২৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, ব্যয় ১৬৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন হার ৭২ শতাংশ। পাওয়ার ডিভিশন ৫৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা, ব্যয় ৩ হাজার ৫১৯ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, বাস্তবায়ন হার ৭০ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ৪ প্রকল্পে বরাদ্দ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ব্যয় ৭ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা, বাস্তবায়ন হার ৬৮ শতাংশ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে ১৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ৯৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার টাকা বাসত্মবায়ন হার ৬৭ শতাংশ।
অর্থ ব্যয়ের ৰেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ॥ বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ৰেত্রে সবচেয়ে কম ব্যয় করা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে ২ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ কোটি টাকা, ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৩ লাখ টাকা, বাসত্মবায়ন হার ১ শতাংশ। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৬ প্রকল্পে বরাদ্দ ৮৬ কোটি ২ লাখ টাকা, ব্যয় ৪ কোটি ৯০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ১ প্রকল্পে বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা, ব্যয় ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ৮ শতাংশ। আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ব্যয় ৭২ লাখ ৬২ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ১২ শতাংশ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৮ প্রকল্পে বরাদ্দ ৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ব্যয় ৭ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ১৫ শতাংশ। সংসদ সচিবালয়ে ৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৫ কোটি ৬৭৮ লাখ টাকা, ব্যয় ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ১৬ শতাংশ। সেতু বিভাগে ২ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ১০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ব্যয় ২৫৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ১৬ শতাংশ। পরিকল্পনা বিভাগে ( থোকসহ) ১৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৮৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ব্যয় ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ১ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ২৫ শতাংশ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ব্যয় ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা, বাসত্মবায়ন হার ২৬ শতাংশ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ২৮৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ব্যয় ৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন হার ২৮ শতাংশ।
অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন হার ॥ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৬৭ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৬৬, প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় ৬৬, শিল্প মন্ত্রণালয় ৬৫, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৬৪, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৬৪, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৬৩, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৬৩, পরিসংখ্যান বিভাগ ৬২, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬২, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬১, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৬১, কৃষি মন্ত্রণালয় ৫৮, খাদ্য বিভাগ ৫৮, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫৭, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৫৭, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৫৬, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৫, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫৫, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৫৪, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫০, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ৪৯, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৮, অর্থ বিভাগ ৪৮, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪৭, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪৭, আইন এবং বিচার বিভাগ ৪৫, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪৪, সড়ক ও রেলপথ বিভাগ ৪৩, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪২ এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার ৩৯ শতাংশ।
এডিপিতে মোট বরাদ্দ ॥ চলতি অর্থবছরে (২০১০-১১) মোট ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ফেব্রম্নয়ারি মাসে ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ২৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা অর্থাৎ সংশোধিত এডিপির ৬৬ শতাংশ এবং প্রকল্প সাহায্য ১১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, যা সংশোধিত এডিপির ৩৪ শতাংশ। মূল এডিপি থেকে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা কমিয়ে এনে এ সংশোধনী করা হয়। চলতি মাসে বিদু্যত খাতে ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে আরএডিপি সমন্বয় চূড়ানত্ম করা হয়েছে।
এডিপির গুণগত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় ॥ এডিপির গুণগত বাস্তবায়ন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এডিপির বাসত্মবায়ন শুধু টাকার অংকে বিচার করলে হবে না। যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাসত্মবায়নে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে সত্যিই তারা ভালভাবে বাসত্মবায়ন করেছে কিনা তা আইএমইডিকে খুঁজে বের করা দরকার। অন্যদিকে যারা বাসত্মবায়নে পিছিয়ে রয়েছে তারা কেন ভাল করতে পারেনি তার কারণ বের করতে হবে। হতাশার বিষয় হচ্ছে এডিপির গুণগত বাসত্মবায়ন নিয়ে। যেটুকু বাসত্মবায়ন হচ্ছে তারও কোন দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে না। মানব সম্পদ উন্নয়নে দৰ প্রশিৰণ বা অন্যান্য বিষয়ে তেমন কোন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে না। যে প্রকল্পে টাকা ব্যয় হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে সেগুলোর কোন কার্যকর প্রভাব নেই। আমার মতে সরকারকে অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে এরকম বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে তা বাসত্মবায়ন করা উচিত। বাকিগুলো সব পিপিপির আওতায় দেয়া দরকার। শুধু টাকা খরচ করলেই হবে না গুণগত ব্যয় দরকার। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে এডিপিতে শুধু টাকাই ব্যয় হচ্ছে কার্যকর কিছু হচ্ছে না।
আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক মানের নৌবন্দর হচ্ছে, চলতি বছরই কাজ শুরু
অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গৃহীত
রিয়াজউদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৫ মে ॥ বদলে যাবে আশুগঞ্জ। দেশের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই বন্দরটি আধুনিকায়নের কাজ শুরম্ন হবে। বন্দরের অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকের বৈঠকে নৌবন্দর প্রকল্পটি উন্নয়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। খবর সংশিস্নষ্ট সূত্রের। সমপ্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে আশুগঞ্জ নদীবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর করার কথা জানান। আশুগঞ্জকে ট্রান্সশিপমেন্ট সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হলে নৌ ও সড়ক পথের মাধ্যমে খুব দ্রম্নত মাল বহন করা সম্ভব হবে। এরই মাঝে আশুগঞ্জ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় সড়ক পথে মাল পরিবহন শুরু হয়েছে। এ বন্দরের উন্নয়নের জন্য খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। তবে এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা আসেনি। ওডিসি (ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো) পরিবহনে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ টিম তাদের জরিপ কাজ সম্পন্ন করেছে। জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য কাজের জন্য একটি প্রকল্পে বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানায় বিদু্যত কেন্দ্রের মাল পরিবহনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ভারতের ওএনজিসি কোম্পানি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে আশুগঞ্জ-চিনাইর-সুলতানপুর দিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করেছে। এ সড়ক পথ দিয়েই পালাটানা বিদু্যত কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ বহন কাজ চলছে। গত ১৮ মার্চ থেকে যন্ত্রাংশ বহন শুরু হয়। ভারতের ক্ষিদিরপুর থেকে এসব মাল নদী পথে আশুগঞ্জে আনা হয়। সেখান থেকে মাল নামিয়ে আশুগঞ্জের চরসোনারামপুরে অবস্থিত ভারতীয় কোম্পানি এবিসির ডিপোতে রাখা হয়। পরে ১৩০ চাকার টেইলর দিয়ে আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী ঢাকা সফরের সময় ১শ' কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তির আওতায় নিধর্ারিত ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হলো আশুগঞ্জকে ট্রান্সশিপমেন্টের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ঐ প্রকল্পের মধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ এ খাতেই রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে দু'বছর সময় লাগতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, প্রসত্মাবিত প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জের অভ্যনত্মরীণ কন্টেনার বন্দরে তিনটি আনত্মর্জাতিক মানের জেটি, কাস্টমস্ অফিস, বিআইডবিস্নউটিএ অফিস, ওয়্যার হাউস, কন্টেনার টার্মিনাল, ক্রেন ইয়ার্ড, বন্দর কতর্ৃপক্ষ অফিস, ইলেক্ট্রিক সাব স্টেশন, ট্রাক ইয়ার্ড, রেস্ট হাউসসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি।
স্বাস্থ্যনীতি সংসদে উত্থাপিত হবে আসন্ন অধিবেশনে
নিখিল মানখিন ॥ অবশেষে চলতি মাসের শেষ দিকে সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি। চূড়ান্ত স্বাস্থ্যনীতিতে অনেক নতুন বিষয় থাকছে। সরকার প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন করা হবে। আরও থাকছে একটি স্বাস্থ্যসেবা পুনর্বিন্যাস কমিটি গঠনের বিষয়। সামাজিক স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করা হবে। অতি দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সরকার দ্বারা স্বীকৃত উপায়ে পর্যায়ক্রমে কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বেসরকারী ও এনজিও সংস্থাগুলোকে স্বাস্থ্যসেবায় সম্পূরক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রম্নহুল হক বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি অধিকাংশ ৰেত্রেই সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারীদের মনমানসিকতার ওপর নির্ভর করে। মানসম্মত সেবাদানের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা না থাকলে স্বাস্থ্যনীতি দিয়েও ভাল স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব নয়। সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীর মতামত গ্রহণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্ম করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি জানান।
১২ পৃষ্ঠার খসড়া স্বাস্থ্যনীতিতে দেখা গেছে, এ নীতির ৩টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো_ সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সমতার ভিত্তিতে সেবা গ্রহীতা কেন্দ্রিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করা, রোগ প্রতিরোধ ও সীমিতকরণের জন্য অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। স্বাস্থ্যনীতিতে প্রতি ৬ হাজার জনের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবায় লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতসহ ১৯টি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ৩৮টি কৌশল চিহ্নিত করা হয়েছে। নীতির ১৯টি মূল লৰ্যের কয়েকটি বিশেষ দিক হলো_ সমাজের সর্বসত্মরের মানুষের কাছে সংবিধান অনুযায়ী ও আনত্মর্জাতিক সনদসমূহ অনুসারে চিকিৎসাকে অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। এ লৰ্যে চিকিৎসার মৌলিক উপকরণসমূহ পৌঁছে দেয়া, পুষ্টির উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সম্পন্ন করা। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং বেসরকারী খাতের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা। প্রতিটি সরকারী ও বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রোগীর পরিচর্যার ৰেত্রে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, স্বাধীনতার ৪০ বছরেও দেশে একটি কার্যকর জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি নেই। এরশাদের আমলে একটি স্বাস্থ্যনীতি বাসত্মবায়নের উদ্যোগ পেশাজীবী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতায় কার্যকর হতে পারেনি। এরপর ২০০০ সালে প্রণীত একটি স্বাস্থ্যনীতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলেও ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে একটি নতুন স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করলেও তা কার্যকর হয়নি। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির একটি খসড়া শুধুমাত্র আলোচনার জন্য সংস্করণ প্রকাশ করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর অধ্যাপক আ ফ ম রম্নহুল হক তিন মাসের মধ্যে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি জনগণকে উপহার দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের ১৭ মাস পরও এর বাসত্মব প্রতিফলন ঘটেনি। গত ১৭ মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ রকম ঘোষণা বহুবার দেন। এর মধ্যে ওয়েবসাইট ও খোলা চিঠির মাধ্যমে খসড়া স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্মের জন্য বিশেষজ্ঞ ও সব পেশার মানুষের মতামত নেয়া হয়। এতে প্রায় ৩২ হাজার মতামত পাওয়া যায়। মতামত পাওয়ার পর খোলামেলা আলোচনার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলনের ব্যবস্থা করে সরকার। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগ বাদ দিয়েই সম্মেলন স্থগিত হয়। অভিযোগ ওঠে, সরকার দলীয় স্বাস্থ্য সংগঠনগুলোর পৰ থেকে কিছু বিষয় সংযোজন ও বিয়োজনের দাবি উঠলে স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্মের কার্যক্রম থমকে যায়। এর পর বিভাগীয় পর্যায়ের আলোচনা বন্ধ করে গত ২০১০ সালের ২৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দু' দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অনেক বিষয় অমীমাংসিত রেখেই শেষ হয় কর্মশালাটি। অবশেষে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাগিদে বিষয়টি নিয়ে সংশিস্নষ্টরা তৎপর হয়ে ওঠেন।
মমতা বিধানসভার নেতা নির্বাচিত, কংগ্রেসের সমর্থন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তার আকার ছোট হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের নবনির্বাচিত বিধানসভার সদস্যদের এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার আকার আপাতত ছোট হবে। আর ছোট্ট এই মন্ত্রিসভায় জোটের অংশীদার কংগ্রেসও যোগ দেবে। এ বৈঠকেই বিধানসভার নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করে রাজ্যপাল এমকে নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস। এছাড়া সরকার গঠন করতে তৃণমূলকে (টিএমসি) সমর্থন করা কংগ্রেসের ৪২ জন বিধায়কের একটি তালিকাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র ওমপ্রকাশ মিশ্র। রবিবার দুপুরে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষর করা ওই সমর্থনপত্র তুলে দেয়া হয়। খবর বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
রবিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকার হরিশ মুখার্জি রোডের 'মহারাষ্ট্র নিবাসে' দলের ১৮৪ বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের এ বৈঠকে লোকসভায় তৃণমূলের ১৯ জন এমপিকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসা হয়। বৈঠকে বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করেন। মমতাকে বিধানসভার নেতা করতে দলীয় বিধায়ক সুব্রত বকশীর প্রস্তাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সমর্থন দেন। এরপর বিধায়করা সমস্বরে ওই প্রস্তাবে 'হ্যাঁ' বলেন। এছাড়া এ সময় বিধায়করা মমতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে 'মুখ্যমন্ত্রী'ও মনোনীত করেন।
বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে উপনেতা, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে চীফ হুইপ ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জ্যোতিপ্রিয় মলিস্নককে মনোনীত করা হয়।
বৈঠকে বিধায়কদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সবাই শানত্ম থাকুন, সংযত হোন। বুকে দুঃখ ও জ্বালা থাকলেও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বড় জিনিস। মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখুন। তিনি বলেন, হিংসার বদলে প্রতিহিংসা নয়। কারও গায়ে হাত দেবেন না, ভাংচুর করবেন না।
তিনি আরও বলেন, সিপিএমকে মানুষই শিক্ষা দিয়েছে। মানুষের শিক্ষাই বড় শিক্ষা। বিধায়কদের উদ্দেশে মমতা বলেন, পুলিশের কাজে হসত্মক্ষেপ করবেন না। মানুষ আপনাদের সব কাজের ওপর নজর
রাখছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় ছোট রাখার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, অফিস ছোট, তবে সুন্দর রাখবেন। আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার ব্রিগেড মাঠে 'বিজয় উৎসব' করবে বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ওইদিন মা, মাটি ও মানুষকে ধন্যবাদ জানানো হবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন মমতা।
বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কয়েকজন বিধায়ককে নিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরম্নলগীতি শোনেন। মমতাকেও তাঁদের সঙ্গে গাইতে দেখা যায়।
এদিকে বৈঠক শেষে মমতা কালীঘাটের বাড়িতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার দিকে রাজভবন যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। তাঁর হয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সরকার গঠনের আবেদন নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান দলের এমপি ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী মুকুল রায়।
পরে সন্ধ্যার দিকে নয়াদিলস্নীর উদ্দেশে কলকাতা ছাড়েন মমতা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন তিনি।
'ঔদ্ধত্য ও জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ভরাডুবি' ॥ ভারতে সিপিআই নেতা এটি বর্ধন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালায় সিপিএম'র ভরাডুবির কারণ হচ্ছে দলীয় নেতাদের ঔদ্ধত্য এবং জনবিচ্ছিন্নতা। রবিবার এক টিভি সাৰাতকারে তিনি বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনায় সিপিএম'র প্রতি প্রচ- ৰোভ ছিল জনগণের। বিশেষত স্থানীয় নেতাদের প্রতি ৰুব্ধ ছিল মানুষ। ওই দলের নেতারা বিষয়টিতে তেমন গুরম্নত্ব দেননি।
তাঁদের আচরণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ৰোভ তৈরি করে যার বহিপর্্রকাশ ঘটেছে নির্বাচনে।
বর্ধন আরও বলেন, তিনি মনে করেন, সিপিএমকে বিরোধী দল হিসেবে এখন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওই ধরনের আচরণ করা ঠিক হবে না যেমনটি ওই নেত্রী করেছেন। তবে প্রথমে তাঁদের বুঝতে হবে এটি যে তাঁদের বিশাল একটি পরাজয় সেটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হবে।
পাবলিক লাইব্রেরীতে 'আমি তোমাদেরই লোক'_ কবিতা আবৃত্তি
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ কবিতায় রবীন্দ্রনাথকে অঞ্জলি জানালো সংবৃতা আবৃত্তি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র। রবিবার 'আমি তোমাদেরই লোক' সেস্নাগানে পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলৰ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পীরা কবিগুরুর কবিতা আবৃত্তি করেন।
দলীয় আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয় আবৃত্তি সন্ধ্যা। পরে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফারহানা আহমেদ চৈতি, কাজী রাজেশ, অর্পিতা পাল, লাবণ্য শিল্পী, জালালুদ্দিন, ইফফাত রেজোওয়ানা অনন্যা প্রমুখ। তাদের কণ্ঠে ছিল-'সন্ধ্যা ও প্রভাত', 'পথের বাঁধন', 'অভিসার', 'এক গাঁয়ে', 'জোনাকি', 'হঠাৎ দেখা', 'বলাকা', 'কর্ণফুলী সংবাদ', 'সোনার তরী', 'অপমানিত' সহ জনপ্রিয় কবিতাগুলোর আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে অতিথি আবৃত্তি শিল্পী ছিলেন কাজী আরিফ, শিমুল মুসত্মাফা, আহকামউলস্নাহ, ঝর্ণা সরকার, লায়লা আফরোজ প্রমুখ।
বেঙ্গলে সঙ্গীত সন্ধ্যা ॥ শিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ানের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান রবিবার বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পীর দশ দিনব্যাপী একক চিত্র প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সমাপনীর দিনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 'কারে চাহে গাহে প্রাণ' শীর্ষক আয়োজন বেশ উপভোগ করেন শ্রোতা।
রবীন্দ্র সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর এ আয়োজনে প্রায় ২৫টি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী। তার পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে ছিল_ লিখন তোমার ধুলায়, খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি, মেঘ বলেছে যাব যাব, তুমি কেমন করে গান কর, যা হারিয়ে যায়, হার মানালে গো, তুমি যেয়ো না, বন্ধু রহো রহে, আজি তোমায় আবার, মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, মম দুঃখের সাধন, এরা পরকে আপন, দীপ নিভে গেছে, অনেক কথা বলেছিলেম, যে ছিল আমার স্বপনচারিনী, তবু মনে রেখো, আমার ভাঙা পথের, তুমি রবে নীরবে, আজি বিজন ঘরে, ঐ উদাসী হাওয়ার, আজ যেমন করে, আজি ঝড়ের রাতে, প্রভু তোমা লাগি কিছুই তো হলো না এবং মধুর রূপে বিরাজ। দীর্ঘ সময় ধরে এসব গান মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন উপস্থিত শ্রোতা। মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস প্রণয়ন উপলৰে সেমিনার আজ ॥ মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস প্রণয়ন ও প্রকাশনা উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আজ সোমবার সকাল ৯টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম। জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
২৭ মে ছায়ানট মিলনায়তনে দমের মাদার ॥ আগামী ২৭ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ধানম-ির ছায়ানট বিদ্যায়তনের মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হচ্ছে নাট্যম রেপাটরীর প্রথম প্রযোজনা 'দমের মাদার'। নাটকের এটি হবে দ্বিতীয় প্রদর্শনী। নাটকটি লিখেছেন সাধনা আহ্মেদ। নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভীন লোপা। গত ৩০ এপ্রিল শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
বাদল সরকার স্মরণসভা আজ ॥ পশ্চিম বঙ্গের বিশিষ্ট নাট্যজন প্রয়াত বাদল সরকার স্মরণে এক আলোচনাসভা আজ সোমবার শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার কৰে অনুষ্ঠিত হবে। এর আয়োজন করছে পথনাটক পরিষদ। বিকেল পাঁচটায় শুরম্ন হবে স্মরণসভা। এতে আলোচনা করবেন শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, ইসরাফিল শাহীন প্রমুখ। পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।
হৃদরোগে আক্রানত্ম হয়ে গত শুক্রবার কলকাতার মানিকতলার বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাদল সরকার। ১৯৫১ সাল থেকে তিনি নাট্যরচনা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জীবদ্দশায় অর্ধশতাধিক নাটক লিখেছেন তিনি। ১৯৭২ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন।
নড়াইলে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা শেষ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা নড়াইল, থেকে জানান, জাঁকজমকপূর্ণভাবে নড়াইলে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা শেষ হয়েছে। ৪শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী নিশিনাথতলার এ মেলা শনিবার রাতভর নামযজ্ঞকীর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মেলার প্রতিটি দিন হাজারও মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। বেচাকেনাও ছিল বেশ জমজমাট। বাঁশিসহ অন্যান্য সুরের মূর্ছনায় নামযজ্ঞকীর্তনে দূর-দূরান্তের ভক্তরা ছিলেন মুগ্ধ। এছাড়া মাসব্যাপী বটবৃক্ষের গোড়ায় জল ঢেলে পূজাঅর্চনা করেছেন ভক্তরা। এখানে নড়াইল ছাড়াও যশোর, ফরিদপুর, গোলাপগঞ্জ, মাগুরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রানমশ থেকে ভক্তরা এসেছেন। এমনকি ভারত থেকেও ভক্তরা আসেন।
জানা গেছে, এ মেলা সাড়ে প্রায় ৪শ' বছর ধরে হয়ে আসছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শুরু থেকে শেষদিন পর্যন্ত এ মেলা চলে। এবার মেলায় ৬০টি স্টল বসেছিল।
খুলনায় বোমা হামলায় আ'লীগ নেতা গুরুতর আহত
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনার ফুলতলা উপজেলার রি-ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে রবিবার রাতে সন্ত্রাসীর বোমা হামলায় খুলনা জেলা জজ আদালতের এপিপি ও ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলাম নবী ও তাঁর নাতি নাফিস ইকবাল (৮) আহত হয়েছে। গুরম্নতর অবস্থায় গোলাম নবীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফুলতলা থানার ওসি মোঃ ইলিয়াস ফকির জানান, রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ্যাডভোকেট গোলাম নবী তাঁর নাতি নাফিসকে সঙ্গে নিয়ে ফুলতলা বাজার থেকে পায়গ্রাম কসবার বাসায় ফিরছিলেন। তারা রি-ইউনিয়ন স্কুলের সামনে পেঁৗছালে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়। বিস্ফোরিত বোমার স্পিস্নন্টারে গোলাম নবী ও তাঁর নাতি আহত হন। ঘটনার পর তাঁদের দু'জনকে ফুলতলা উপজেলার এমএ গফুর হাসপাতালে নেয়া হয়। গোলাম নবীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম নবীর নিজ বাড়ি যশোর জেলার অভয়নগর থানার রানাগাতি গ্রামে। জমিজমা সংক্রানত্ম এবং ঐ এলাকার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে পূর্ব শত্রম্নতার জের ধরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর একই স্থানে গোলাম নবীর ওপর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালালে তিনি গুরম্নতর আহত হন। এ ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি ২৯ জনের নাম উলেস্নখ করে ফুলতলা থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার সকল আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন রয়েছে।
ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা
৩ দিন পর লাশ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ শহরের খানপুর এলাকায় বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আশিকুল ইসলামের (২৮) ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তিন দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের মুখ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যাতে চেনা না যায়। হাতের আংটি, পেটের ডান দিকে অপারেশনের চিহ্ন দেখে পরিবার শনাক্ত করেছে আশিকের লাশ। রবিবার নিহতের লাশ তার বাড়িতে আনলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্বজনরা। ঘটনাটি শহরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবার। নিহতের লাশ বাড়িতে আসার পর পরিবারের লোকজনকে আত্মীয়স্বজনরা চাপ দেয় সাংবাদিকদের কাছে কারও নাম প্রকাশ না করতে। শহরের খানপুরের এক ক্যাডারের নেতৃত্বে ৪/৫ সন্ত্রাসীকে নিহতের বাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার। নিহত আশিকুল ইসলাম শহরের খানপুরের ২/এ সলিমুল্লাহ রোডের মৃত নুরম্নল ইসলামের ছেলে। তারা ৩ ভাই। তাদের বাংলা লিংকের ডিলারশিপের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। এছাড়াও আশিকুল ইসলাম গার্মেন্টসের স্টকলটের ব্যবসা করত। সে ছিল অবিবাহিত।
নিহতের বড় ভাই নাইমুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত সাড়ে দশটায় বাড়িতে বসে টেলিভিশনে খেলা দেখছিল আশিক। সিদ্দিক নামের এক যুবক বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য ফোন করে তাকে। সে সারা না দেয়ায় মেসেজ পাঠায়। মেসেজ পেয়ে আশিক বাড়ির বাইরে বের হয়। রাত ১১টায় বাড়ির সামনেই একটি ভ্যান গাড়িতে বসে আশিক, খানপুরের সিদ্দিক ও চাষাঢ়ার সিজারকে কথা বলতে দেখা যায়। রাত সোয়া ১১টা থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মেঘনা অয়েল ডিপোর পেছনে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের বর্ণনায় আশিকের সঙ্গে অনেকটা মেলে। আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি, লাশের পরনে শুধু আন্ডারওয়্যার। সে নেঙ্াস আন্ডাওয়্যার পরত। তার হাতে আংটি ছিল। পেটের ডান দিকে অপারেশনের দাগ ছিল। লাশের চেহারা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। লাশ বিকৃত করে ফেলা হয়েছে যাতে চেনা না যায়। আমরা আন্ডারওয়্যার, আংটি আর অপারেশনের দাগ দেখে নিশ্চিত হই, এটা আশিকের লাশ'। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আলম মোলস্না জানান, লাশ সিদ্ধিরগঞ্জে উদ্ধার হলেও মামলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়।
টঙ্গীতে বিলে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ২
এলাকায় শোকের ছায়া
নিজস্ব সংবাদদাতা, টঙ্গী, ১৫ মে ॥ রবিবার দুপুরে টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় বিলের পানিতে খেলা করতে গিয়ে পানিতে ডুবে একে একে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে দুটি শিশু। এ ঘটনায় টঙ্গীর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ শিশু দুটি উদ্ধারে সারা এলাকায় তলস্নাশি চালানো হচ্ছে। হতাহতরা সবাই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিৰাথর্ী। নিহতদের মধ্যে ৩টি মেয়ে শিশু এবং একটি ছেলে। এরা হচ্ছে সালমান (৬) লামিয়া (৯), তাদের পিতার নাম মোঃ শহিদ মিয়া। নুসরাত জাহান রত্না (৫) পিতা-মঞ্জু মিয়া। নুর নাহার (৭) পিতা-নুর আলম। তাদের সকলের বাসা পাগাড় এলাকার একই বাড়িতে।
ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, নিহতরা তাদের অন্য সহপাঠিদের নিয়ে পাশ্ববর্তী বিলের পানিতে দলবেঁধে গোসল করতে যায়। একে একে সবাই বিলের গভীর পানিতে ডুবাতে থাকে। এক পর্যায়ে সহপাঠীদের কয়েকজনকে খঁজে না পাওয়ায় অন্যরা তাদের খোঁজে গভীর পানিতে নেমে যায়। এভাবে ৬টি শিশু পানির নিচে হারিয়ে যায়। অন্য সহপাঠিরা বাড়িতে এসে হারিয়ে যাওয়া সহপাঠিদের খবর জানালে নিজেদের আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। শত শত মানুষ হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খোঁজে পানিতে নেমে ৪টি শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
সিরাজগঞ্জ আদালত থেকে ৬ বিএনপি নেতার জামিন লাভ
ট্রেনে অগ্নিসংযোগ মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারাফ হোসেন ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ, যুগ্মমহাসচিব আমানউলস্নাহ আমান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরম্নল ইসলাম খান আলীম রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে ট্রেনে অগি্নসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অগ্রিম জামিন নিয়ে বেলবন্ড জমা দিয়ে জামিন নিয়েছেন। এর আগে তাঁরা ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। এবার হাইকোর্টের ৪ মাসের অগ্রিম জামিনের আদেশে সিরাজগঞ্জে জামিন পেলেন। ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে জনসভাস্থলে ট্রেনে অগি্নসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনায় এপিপি এ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ৮ নেতার বিরম্নদ্ধে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরম্নল ইসলামসহ ২ জন এখনও জামিনে রয়েছেন।
আদালতে জামিন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারাফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশকে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার, সীমানত্ম সর্ব ক্ষেত্রে এ সরকার ব্যর্থ। এই ব্যর্থতাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য সংবিধান নিয়ে নানা রকমের ঘটনা ঘটাচ্ছে। উচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে সংবিধানকে নিয়ে একটা সঙ্কটের দিকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে, কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। বিএনপিও সেটা মেনে নেবে না।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও ৪৫ দিন সময় পেল সিআইডি
দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার অধিকতর তদন্তের রিপোর্ট প্রদানের জন্য আরও ৪৫ দিন সময় পেল সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ একেএম শামসুল ইসলাম রবিবার এ সময় মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলা তদন্তে ১৪ দফায় সময় বৃদ্ধি করা হলো।
সিআইডির ৬০ দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদনের পক্ষে রবিবার শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি চট্টগ্রাম মহানগর পিপি এ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি অন্য মামলাগুলোর মতো স্বাভাবিক কোন মামলা নয়। স্পর্শকাতর এ ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিআইপিরা জড়িত বলে বেরিয়ে এসেছে। এ ধরনের আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য বের করে আনা বেশ কঠিন। তা ছাড়া মামলাটিও অনেক পুরনো। গত দেড় মাসে ডিজিএফআইর তৎকালীন পরিচালক মেজর জেনারেল (অব) সাদেক হাসান রুমী, কর্নেল (অব) রেজা, দুই সার্জেন্ট আলাউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব নুরুল আমীনের ওপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ভিআইপি আসামি ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও সময়ের প্রয়োজন।
এ ছাড়া স্পর্শকাতর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। তিনি এ কাজে তদন্ত সংস্থাকে আরও ৬০ দিন সময় দেয়ার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। জবাবে মহানগর হাকিম মনত্মব্য করেন, তদনত্ম কাজ শেষ করা খুবই কঠিন, আবার খুবই সহজ। তদনত্ম সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি কঠিন হলে তদন্ত কঠিন হবে। আর দৃষ্টিভঙ্গি সহজ হলে তদনত্ম কাজও সহজ হয়ে যায়। মামলার শুনানি শেষে আদালত অধিকতর তদনত্ম শেষ করতে আরও ৪৫ দিন সময় দিয়ে আগামী ২৯ জুন প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করে। ঐ দিনের মধ্যেই অধিকতর তদনত্মের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিচারক নির্দেশ প্রদান করেন।
উলেস্নখ্য, দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলার অধিকতর তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ১৫ মে রবিবার পর্যনত্ম। কিন্তু সিআইডি তদনত্মের কাজ অনেকটা শেষ করে আনলেও এরমধ্যে সম্পূরক চার্জশীট তৈরিতে অসমর্থ হয়। ফলে একেবারেই শেষ পর্যায় এসে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মোঃ মনিরম্নজ্জামান গত ১২ মে ফের ৬০ দিন সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি এ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা সম্ভব না হলেও এ কাজে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রমে সনত্মোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু, পরিচ্ছন্ন ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দাখিল হবে বলে আমি আশাবাদী।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথমে মাইক্রোয়েভ রেডিওর ত্রুটির কারণে আকস্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ত্রম্নটি মেরামতের পর কিছু সময় যোগাযোগ চালু হওয়ার পর আবার একইদিন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল কাটা পড়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই কেবল জোড়া লাগানোর ১ দিন পর আবার একইভাবে ফাইবার কেবল কাটা পড়ে। এটি পরিকল্পিত না অন্য কোনকিছু সে ব্যাপারে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে নারাজ। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৪ দিন ধরে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশের অন্য কোন জেলার সঙ্গে টেলিযোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ আবার স্থাপন কবে কখন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যশোর বিভাগীয় টেলিযোগাযোগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
আপীল বিভাগের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এরশাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের দেয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। রায় ঘোষণার পর বনানীর নিজ কার্যালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ পরবর্তী আমার চার বছরের শাসন আমলকে স্বীকৃতি দিয়েছে উচ্চ আদালত।
তিনি বলেন, আমি নিজেও আর সামরিক শাসনের পৰে নই। এ জন্য ক্ষমতা ছাড়ার পর আমি নিজেই বলেছিলাম গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আশা করি এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বিরূপ পরিস্থিতিতে ৰমতাগ্রহণের পর দেশের স্বার্থে অনেক কল্যাণকর কাজ করেছি। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অনেকগুলো ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে আমার শাসন আমলেই। আদালত আমার সে কাজগুলো বৈধতা দিয়েছেন। এ জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।
আদালতের রায় অনুযায়ী সংসদ আপনার বিচার করতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতের কোন বিষয় সংসদ বিচার করতে পারে না। সংসদের কাজ আগামী দিনের বিষয় নির্ধারণ করা। তাছাড়া আমি সামরিক বিভাগ থেকে দায়িত্বগ্রহণ করেছিলাম। সুতরাং আমার বিচার করতে গেলে সশস্ত্র বিভাগকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যেটি আদৌ সম্ভব নয় বলে মনে করেন জাপা চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, মহাজোটের আমি একজন সংসদ সদস্য। বর্তমান সরকারের অন্যতম শরিক। এই সরকারের কাজ হবে আমার বিচার না করে ভালাকাজের মূল্যায়ন করা। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে। আগামীতে ৰমতায় আসতে হলে মহাজোটের ঐক্য অৰুণ্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
মামলার জট কমাতে পৃথক সচিবালয় গঠন করা উচিত ॥ প্রধান বিচারপতি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, বিচার বিভাগে মামলার জট কমাতে এবং মনিটরিংয়ের জন্য পৃথক একটি সচিবালয় গঠন করা উচিত। যার মাধ্যমে দেশের সকল আদালতের মামলা মনিটরিং করা সম্ভব হবে। রবিবার দুপুর ৩টায় সুপ্রীমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সুপ্রীমকোর্টের সঙ্গে ঢাকার আদালতসমূহের ডাটা লিংক স্থাপনের ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আপীল বিভাগের বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, সুপ্রীমকোর্ট রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম, ইউএনডিপির প্রতিনিধি মি. স্টেফেন প্রেজনারসহ হাইকোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
এবিএম খায়রুল হক বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে সুপ্রীমকোর্ট ডিজিটালাইজে প্রবেশ করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এখন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মামলার তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি বলেন, এ ডাটা লিংক স্থাপনের মাধ্যমে দেশের নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাজ, মামলার জট কমানো ও ভোগান্তি সম্পর্কে মনিটরিং করা যাবে। ডাটা লিংক প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে ইউএনডিপি ৭০ লাখ ডলার প্রদান করেছে।
সিএনজি চালকের সাহসিকতায় রক্ষা পেল এইচএসসি পরীক্ষার্থী রুপন্তী
অপহরণের চেষ্টা
নিজস্ব সংবাদদাতা, গফরগাঁও, ১৫ মে ॥ প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি চালকের সাহসিকতায় অপহরণকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেল এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রবিবার দুপুরে। এ ঘটনায় পুলিশ অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও চালককে আটক করেছে।
উপজেলার আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (জান্নাতে রুমান রুপন্তী-১৮) পরীক্ষা শেষে উপজেলা সদর থেকে রিক্সাযোগে মায়ের সঙ্গে তেরশ্রী গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে গফরগাঁও- কান্দিপাড়া সড়কের তেরশ্রী এলাকায় শেউলি ব্রিজের কাছে পিছনদিক থেকে একটি মাইক্রো এসে রিক্সায় ধাক্কা দেয়। রুপন্তী ও তার মা রিক্সা থেকে পড়ে গেলে তিলক, চন্দন, রনি, সাদ্দামের নেতৃত্বে ৫/৬ জন সশস্ত্র যুবক তার মাকে লাথি মেরে রাস্তার পাশে ক্ষেতে ফেলে দিয়ে রম্নপনত্মীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। রুপন্তী ও তার মার চিৎকারে কাছাকাছি থাকা সিএনজি চালক বাছির ম-ল মাইক্রোবাসের পিছু নেয়। সিএনজি চালক বাছির ম-ল (২৪) জানায়, যখন সে মাইক্রোবাসের পিছু নেয় তখন মাইক্রোবাস থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে যুবকরা তাকে বার বার গুলি করার হুমকি দিচ্ছিল। মাইক্রোবাসের সঙ্গে যখন সিএনজি চালক গতিতে পেরে উঠছিল না তখন উপজেলার খুরশিদ মহল ব্রিজের কাছে থানার পুলিশকে দেখতে পেয়ে ঘটনাটি অবহিত করলে এসআই ওয়াহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে থানা পুলিশ মাইক্রোবাসের পিছু নিলে ৫/৬ কিলোমিটার দূরে খান বাহাদুর ইসমাইল রোডের লামকাইন এলাকায় আমজাদ চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে রুপন্তীকে ফেলে রেখে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ রূপন্তীকে উদ্ধার করে এবং অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি এবং চালক মাহাবুবকে (২৪) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মাইক্রো চালক মাহাবুব জানায়, জয়দেবপুর যাওয়ার কথা বলে তিলক মাইক্রোবাসটি ভাড়া করে। রম্নপনত্মীকে মাইক্রোতে তুলে তিলক ও চন্দন আমার পিঠে রিভলবার ও ছুরি ঠেকিয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে গাড়ি চালাতে বাধ্য করছিল। তেরশ্রী গ্রামের আজাহার (৩০) জানায়, কান্দিপাড়া এলাকার তিলক, চন্দন ও রনির বিরম্নদ্ধে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এসআই ওয়াহেদুজ্জামান জানায়, একটি মামলার তদনত্ম কাজে আমরা খুরশিদ মহল ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিলাম। পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধাওয়ার মুখে অপহরণকারীরা রম্নপনত্মীকে ফেলে পালিয়ে যায়। এদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রুপন্তীর মা শরীফা খাতুন বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে।
আদমদীঘি থানার ওসিকে হাইকোর্টে তলব
গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্রাম্য সালিশে জোর করে গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় বগুড়ার আদমদীঘি থানার ওসি আব্দুল মুত্তালিবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। এ ঘটনায় মামলার পরও আসামিদের কেন গ্রেফতার করা হয়নি আগামী ২২ মে আদালতে হাজির হয়ে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারে বগুড়া জেলার এসপিকে তদারকি করতে বলেছে আদালত। বিচারপতি এএইচএম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন।
১৩ মে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় 'আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত রবিবার আদেশ দেয়। তাঁকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান।
প্রসঙ্গত অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৯ মে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালী গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে গৃহবধূ লাভলী বেগমকে মাথা ন্যাড়া করে দেয় গ্রাম্য মাতব্বররা। আর এ কাজে স্বামী আব্দুল কাদের মাতব্বরদের সহায়তা করেন বলে পত্রিকার সংবাদে বলা হয়। মাথা ন্যাড়ার পর লাভলী বেগম এবং তার পরিবারের সদস্যদের দুদিন বাড়িতে আটকে রাখা হয়। দুদিন পর রাতে লাভলী ও পরিবারের সদস্যরা দুপচাঁচিয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পালিয়ে যায়। পরে একটি বেসরকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিস কমর্ীদের সহায়তায় লাভলী আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। নিযর্াতিত লাভলী আদমদীঘি থানায় স্বামী আব্দুল কাদের ছাড়াও গ্রামের চার মাতব্বরের বিরুদ্ধে নারী-শিশু নিযর্াতন ও সস্নীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় লাভলী বেগমের স্বামী আব্দুল কাদের, মাতব্বর সাদেক হোসেন বাবু, উজ্জ্বল ও শফিকুলকে আসামি করা হয়।
সেই ফতোয়াবাজ মাতব্বর সাদেক বাবুর অপকর্মের নানা কাহিনী
নিজস্ব সংবাদদাতা, সান্তাহার, ১৫ মে ॥ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালী গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে এবং পাশের দুপচাঁচিয়া উপজেলার অর্জুনগাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদেরের স্ত্রী লাভলী বেগমকে তার চারিত্রিক অপবাদ দিয়ে মারপিট ও তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়া গ্রাম্য মাতব্বর সাদেক হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে এবার আদম ব্যবসার নামে নিজ গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামের ১০/১৫ ব্যক্তিকে নিঃস্ব করে দেয়া ছাড়াও সরকারী জলমহাল দখলসহ নানা অপকর্ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিনাহালী গ্রামের দরিদ্র ফেরদৌস আলী দেওয়ান তাদের একজন। সরেজমিন গিয়ে সাদেক বাবুর প্রতারণার শিকার ফেরদৌস আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় ইলেকট্রনিক্স কারখানায় মোটা বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার চুক্তি করে। কিন্তু ফেরদৌসের ৭০ হাজার টাকা কম হওয়ায় ওই টাকার জন্য তার ১৫ শতক জমিতে থাকা বসতবাড়ী রেজিস্ট্রি দলিল করে নেয় সাদেক বাবু। মালয়েশিয়া পেঁৗছলে সাদেক বাবুর সেখানকার দালালরা ফেরদৌসকে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে ২৫ দিন আটকে রাখে। এর পর চাকরি না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ফেরদৌস আলী আদম ব্যাপারী গ্রাম্য মাতব্বর সাদেক বাবুর নিকট টাকা ও বাড়ি ফেরত দাবি করে। এতে টালবাহানা শুরম্ন করে সাদেক বাবু। বাধ্য হয়ে ফেরদৌস দেওয়ান সাদেক বাবুর বিরম্নদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সাদেক বাবু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে মামলা পড়ে থাকে আঁতুর ঘরে। ফেরদৌস জানায়, এবার সে ওই সব নেতার শরণাপন্ন হন। কিন্তু তারা কোন পদৰেপ না নিয়ে তাকে দুর-দুর করে তাড়িয়ে দেন। এর পর এনিয়ে গ্রামে কয়েক দফা দেনদরবার হয়। এতে সাদেক বাবু গৃহীত নগদ টাকা ফেরত দেয়ার পরিবর্তে উল্টো ফেরদৌসের কাছে দাবি করে যে, আরও ১ লাখ টাকা দিলে তবেই দলিল রেজিস্ট্রি করে লিখে নেয়া বসতবাড়ি ফেরত দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। উপায় না পেয়ে ফেরদৌস ওই শর্তে রাজি হয়। নিধারিত সময় জমি ফেরত দেয়ার কথা বললে বেঁকে বসে সাদেক বাবু। সে ফেরদৌসের করা মামলায় খালাস পেতে পুলিশের পেছনে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং সে টাকা না দিলে জমি ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। দরিদ্র ফেরদৌস এবার চড়া সুদে টাকা সংগ্রহ করে। গ্রামের মান্যগণ্য লোক নিয়ে আদমদীঘি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের আকবর মুহরির নিকট দলিল লেখার কাজ সম্পন্ন করে এবং সাব রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করে। এসময় সাবরেজিস্ট্রারের নিকট মোবাইল ফোনে কল আসে। মোবাইলে কথা বলা শেষে তিনি ওই দলিল সম্পাদন না করে ফিরিয়ে দেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ফেরদৌস আলী দেওয়ান। গত ৭ মাস ধরে দলিলটি অসম্পাদন অবস্থায় ওই মুহরির নিকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস আলী দেওয়ান। এছাড়াও মাতব্বর সাদেক বাবুর বিরম্নদ্ধে আরও নানা অপকর্ম করার তথ্য মিলতে শুরম্ন করেছে। এদিকে, ফেরদৌসের পাশাপাশি বিনাহালী গ্রামের ২ জন, ধামাইল গ্রামের ২ জন, হরিসাদি গ্রামের ২ জনসহ প্রায় ১০/১৫ জনের নিকট থেকে প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব বেকার যুবক টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে সাদেক বাবুর বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফেরদৌস আলীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে আমার নিকট জমি বিক্রি করেছে আমি কিনেছি। টাকা দিলে আমি জমি ফেরত দেব। এছাড়া আদম ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি আদম ব্যাপারী নই। এলাকার লোকজন বিদেশ যেতে চেয়েছে আমি শুধু তাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছি।