মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
কবির ছবিতে বাংলার স্মৃতি_ ব্যবহৃত হুক্কা সু্যপপাত্র
রবীন্দ্র আলোকচিত্র প্রদর্শনী
সৈয়দ সোহরাব
কবি তো অনেকেই হয়। কিন্তু কার লেখা কতদিন মনে রাখে মানুষ। যাঁরা সাধারণ, তাঁরা হারিয়ে যান। থেকে যান শুধু মহাকবিরা। আর পৃথিবীতে এমন কবির সংখ্যা খুবই কম, যাঁদের রচনা তাঁদের জন্মের এক শ'_ দু'শ' বছর পরও থাকে সমসাময়িক। ভালবেসে আগ্রহ ভরে মানুষ পাঠ করে তাঁদের রচনা। এই স্বল্পসংখ্যক কবিদেরই অনেক উর্ধে স্থান কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। গোটা বিংশ শতাব্দীতে এবং তার পরেও তিনিই বিশ্বসাহিত্যে অনন্য, তাঁর তুল্য বা ধারেকাছে কেউ নেই। কারণ তাঁর প্রতিভার বিশালত্ব অনুভব করা সাধারণের সম্ভব নয়। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র, রম্যরচনা, শিশু সাহিত্য_ কি লেখেননি তিনি! প্রতিভার যে বিশাল বিস্তার তা আমরা ক'জনাই বা জানি। জীবনের শেষ বয়সে আবার ছবি এঁকে হকচকিয়ে দিলেন সবাইকে। বিশ্বের শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলাবলি করলেন, চিত্রশিল্পী হিসাবেও তিনি আধুনিক। কেউ আবার বলেছেন, সারা জীবনে লেখালেখিতে যা প্রকাশ করতে পারেননি, তা_ই ছবিতে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর সেই বিশাল সৃষ্টি ভা-ারে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি, গীতপুসত্মক ৪টি, ছোট গল্প ১১৯টি, উপন্যাস ১২টি, ভ্রমণ কাহিনী ৯টি, নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি, চিঠিপত্রের বই ১৩টি, গানের সংখ্যা ২২৩২টি আর চিত্রকর্ম প্রায় আড়াই হাজার, যা থেকে শুধু বাঙালী বা ভারতীয়রাই নয়, বিশ্ববাসীও নিজেদের ঋদ্ধ করতে, শুদ্ধ করতে গ্রহণ করছেন তাঁকে। ঋষি বা মনীষী এই কবিরই সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলৰে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে জাতীয় জাদুঘরে চলছে কবির ব্যবহৃত সামগ্রী ও আলোকচিত্রের প্রদর্শনী। যার মধ্যে পূর্ববঙ্গে (বাংলাদেশে) কবির অবস্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং বিশ্বখ্যাত নানা মনীষীর সঙ্গে তোলা ছবি রয়েছে। প্রদর্শনীতে আরও আছে কবির নিজের হাতের লেখা চিঠি ও ব্যবহার্য সামগ্রী। এছাড়া এই সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলৰে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের লেভেল-৩-এ কবির শিশুতোষ লেখাগুলো নিয়ে 'শিশু বইমেলা'র আয়োজন করেছে প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণ। আর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র রচনাবলীর প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য বেশ আগে থেকেই পাবলিক লাইব্রেরীতে মাসব্যাপী একক বইমেলার আয়োজন করেছে। সার্ধশত'র এই সব আয়োজনই চলবে আগামী ২০ মে পর্যনত্ম।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে কবির যৌবনকাল থেকে মৃতু্যর আগ পর্যনত্ম (অসুস্থ থাকাবস্থাসহ) বিভিন্ন সময়ের ছবি, বাংলাদেশে অবস্থানকালের তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানের ছবিও রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত গুণী_ জ্ঞানী আইনস্টাইন, হেলেন কেলার, মহাত্মা গান্ধী, জর্জ বার্নার্ড 'শ ও বিজয়া ভিক্তোরিয়া ওকোম্পো'র সঙ্গে রয়েছে কবির আলোকচিত্র। এছাড়া চিত্রাঙ্কনরত রবীন্দ্রনাথ, হুইল চেয়ারে রবীন্দ্রনাথ, বিশ্রামরত রবীন্দ্রনাথ, ১৯২৬ সালে ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী গার্লস স্কুল পরিদর্শনে রবীন্দ্রনাথ, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডে ভ্রমণরত রবীন্দ্রনাথ, কবিগুরম্নর পরিপাটি শয়নকৰ, পদ্মায় যে বোটে চড়ে ঘুরে বেড়াতেন সে বোট, শানত্মিনিকেতন, পতিসরের স্মৃতিবিজড়িত পুকুরপাড়, কবির ব্যবহৃত গাড়ি, অভিনয়রত কবি, মৃনালিনী দেবীর সঙ্গে কবি, খুলনার পিঠাভোগে কবির পূর্বপুরম্নষের আদিবাড়ি (যা এখন আর নেই, ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে), পিঠাভোগে নতুন করে নির্মিত রবীন্দ্র সংগ্রহশালা, দৰিণডিহিতে কবির শ্বশুরবাড়ির (জীবনসঙ্গিনী মৃনালিনী দেবীর বাবার বাড়ি) ভিতরের অংশ ও পুরনো ভবন, শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের টেনিস কোর্ট, শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত কুয়া, কবির ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল, স্পিডবোট, কুঠিবাড়ির ঘাস কাটার যন্ত্র, কুঠিবাড়ি জাদুঘর, নোবেলের অর্থ দিয়ে নওগাঁর রাতোয়ালে প্রতিষ্ঠিত মাইনর স্কুল, রাতোয়াল গ্রামের আকন্দ বাড়ি (যেখানে কবি ও তাঁর পিতা জমিদারি তদারকি করতে এসে বহুবার থেকেছেন), নওগাঁয় কবির দেয়া দু'শ' একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র ইনস্টিটিউট, পতিসর কাছারি বাড়িতে অবস্থিত রবীন্দ্রভাস্কর্য, ব্যবহৃত সিন্দুক, টেবিল, চেয়ার, বজরার নোঙর, লাঙ্গলের ফলা, শাহজাদপুরে ব্যবহৃত অর্গান, খাট, আসবাবপত্র, পালকি ইত্যাদির ছবি রয়েছে। আরও আছে অধ্যাপক আবুল ফজল, অধ্যাপক মনসুর উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ল্যাংলি, উপাচার্য স্যার এ এফ রহমান এবং ওসত্মাদ আয়েত আলী খানকে লেখা কবির স্বহসত্মের চিঠি। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত সু্যপ পাত্র ও হুক্কাও আছে প্রদর্শনীতে, যা দর্শনার্থীদের কবি সম্পর্কে জানতে বাড়িয়ে দিচ্ছে আরও আগ্রহ। আগামী ২০ মে পর্যনত্ম চলবে এ প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যনত্ম খোলা।
এদিকে কবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলৰে প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণ বসুন্ধরা শপিং মলের লেভেল-৩-এ আয়োজন করেছে 'আজ আমাদের ছুটি' শিরোনামে শিশু বইমেলার। এই মেলাটি শুরম্ন হয়েছে গত ৫ মে থেকে, চলবে ১৪ মে পর্যনত্ম। এখানে পাওয়া যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের লেখা শিশু_কিশোর উপযোগী বই, নাটক, গানের সিডি, পোস্টার ইত্যাদি। পাবলিক লাইব্রেরীতে ঐতিহ্য তাদের ১১ বছরের যাত্রা উপলৰে কবিগুরম্নর রচনাবলীসহ নিজস্ব প্রায় ৫শ' প্রকাশনা নিয়ে মাসব্যাপী একক বইমেলার আয়োজন করেছে। এই মেলা শুরম্ন হয়েছে ২৪ এপ্রিল থেকে, চলবে ২০ মে পর্যনত্ম। মেলায় বিভিন্ন বইছের ওপর ২৫ থেকে ৭০% পর্যন্ত মূল্যছাড় রয়েছে। কবিগুরু রচনাবলী প্রায় ৫০% ছাড়ে ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহাসড়কের পাশে হবে ট্রমা সেন্টার, থাকবে সব চিকিৎসাসেবা
দুর্ঘটনায় হতাহতের হার অর্ধেকে আনতে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা দশক কার্যক্রম
নিখিল মানখিন ॥ সরকার 'সড়ক নিরাপত্তা দশক কার্যক্রম : ২০১১-২০২০' কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ৮টি মন্ত্রণালয় ও বেশ কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়নে কাজ করবে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আহত ও মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগে কমিয়ে আনাসহ সকল প্রকার আহতদের যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি মহাসড়কের আশপাশে 'ট্রমাটিক ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টার' স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব সেন্টারে সার্জারিসহ সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের 'রোড সেফটি এ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন প্রোগ্রাম'-এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। দুর্ঘটনার শিকার হয় আড়াই কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ। দৰিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী। শতকরা ৪৮ ভাগ মোটরযান যাত্রী। কম ও মধ্যআয়ের দেশসমূহে শতকরা ৯০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। যাদের মধ্যে নিবন্ধনকৃত গাড়ির সংখ্যা শতকরা ৪৮ ভাগ। বাংলাদেশেও সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ভয়াবহ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মতে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় এফআইআরের সংখ্যা প্রতিবছর ৫ হাজারের বেশি। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতু্যর গড় হার শতকরা ১৪ ভাগের বেশি। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে দেশের প্রতিবছর ৩ হাজার ৮শ' কোটি টাকা ৰতি হয়, যা দেশে জিডিপির শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগ। আর এ ৰতির পরিমাণ দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৩ গুণ। সড়ক দুর্ঘটনা যে প্রকারেই হয়ে থাকুক, আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের দায়িত্ব স্বাস্থ্য সেক্টরের ওপরেই গিয়ে পড়ে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সেক্টরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উলস্নাহ জনকণ্ঠকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সেক্টরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ইনজুরির শিকার হওয়া রোগীদের চিকিৎসার দায়ভার স্বাস্থ্য সেক্টরকেই নিতে হয়। সড়ক নিরাপত্তা দশক কার্যক্রমভিত্তিক নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। দুর্ঘটনাজনিত মৃতু্য ও দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি মহাসড়কের আশপাশে 'ট্রমাটিক ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টার' স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব সেন্টারে সার্জারিসহ সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের 'রোড সেফটি এ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন প্রোগ্রাম'-এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে ইনজুরি ও মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগে কমিয়ে আনার লৰ্যে কাজ করা হবে। এ কার্যক্রম সফল হলে ৫০ লাখ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃতু্য এবং ৫ কোটি টাকার ৰয়ৰতির হাত থেকে রৰা পাওয়া সম্ভব।
মারকাজুলের এ্যাম্বুলেন্সে করে হুজি নেতারা হাওয়া ভবনে গেছেন
জবানবন্দীতে মাওলানা রশিদের তথ্য
শংকর কুমার দে ॥ ইসলামী এনজিও আল মারকাজুল ইসলামের এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হুজির জঙ্গী মুফতি আবদুল হান্নান, আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা সাবি্বরসহ অন্য জঙ্গীরা একাধিকবার হাওয়া ভবনে গেছেন। আল মারকাজুল ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ জবানবন্দীতে এ ধরনের তথ্যের কথা উল্লেখ করেছে। সিআইডি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সিপিবির বোমা হামলার মামলায় হুজির দুই শীর্ষনেতা মাওলানা শেখ ফরিদ ও মাওলানা সাবি্বরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির কাছে তারা জানিয়েছে, দেশের প্রায় সকল গ্রেনেড-বোমা হামলায় জড়িত হরকত-উল-জিহাদের (হুজি) দুই শীর্ষ জঙ্গী মাওলানা শেখ ফরিদ ও মাওলানা সাবি্বর। ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির মুফতি ফজলুল হক আমিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ আছে হুজির এ দুই শীর্ষ জঙ্গীর। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জঙ্গী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে জঙ্গীদের ছোট ছোট ঘাঁটি আছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা।
হুজির শীর্ষ এ দুই জঙ্গী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, হুজিকে সংগঠিত করে তারা দেশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। হজির এ শীর্ষনেতা শেখ ফরিদের সঙ্গে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে। কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতারকৃত হুজির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাবি্বর ও সদস্য আইনুল হককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখ ফরিদকে টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলা, কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখার মামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলা রয়েছে মাওলানা শেখ ফরিদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে মাওলানা সাবি্বরকেও।
২১ আগস্টের গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর মাওলানা সাবি্বর, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা নোমান এবং আরও কয়েক সঙ্গীকে নিয়ে মিয়ানমারের আরাকানে যান। সেখানে ৭/৮ দিন অবস্থানের পর কালা
পাহাড়ে আরও তিন দিন অবস্থান করে দেশে ফিরে আসেন। ২০০৯ সালে হুজির মূলধারার আমির মুফতি হান্নান, মাওলানা আব্দুস সালাম ও মাওলানা শফিকুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর শেখ ফরিদ সংগঠনের দায়িত্ব নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে তিনি সে সময় থেকে আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক থেকেই তিনি সংগঠনের দেখভাল করছিলেন। পাকিসত্মানভিত্তিক হুজি নেতা আমীর সাইফুলস্নাহ আক্তার মাওলানা আব্দুর রহমান সিনদী ও সেলিম শেরকোর সঙ্গে দেখা করেন শেখ ফরিদ।
১৯৯৭ সালে হুজির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের মাথায় মহাসচিবের দায়িত্ব পান শেখ ফরিদ। ১৯৯৯ সালে উদীচী হামলার পর হুজির কর্মকা- নিয়ে বিতর্ক শুরম্ন হলে তারা সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে 'ইসলামী দাওয়াত কাফেলা' নাম দেয়া হয়। ২০০২ সালে এ সংগঠনের মহাসচিবের দায়িত্ব পান ফরিদ। পরবতর্ীতে ২০০৪ সালে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী গণআন্দোলন বাংলাদেশ নাম করা হয়। ২০০৬ সালে আবারও নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বাদ দিয়ে শুধু ইসলামী গণআন্দোলন রাখা হয়। পরবতর্ীতে আবারও নাম পরিবর্তন করে ইসলামী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি রাখা হয়।
ইসলামী আইন বাসত্মবায়ন কমিটি ও ইসলামী দলগুলোর সভা-সমাবেশ সফল করতে নাশকতা কর্মকা- চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে তারা রাজধানীর উপকণ্ঠে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এ খবর পাওয়ার পর তাদের র্যাব গ্রেফতার করে। সিআইডি তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
অপরদিকে সিআইডি কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভামঞ্চের কাছে বোমা পুঁতে রাখার মামলার অন্যতম আসামি হরকত-উল-জিহাদের (হুজি) অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাবি্বরকে (৫১) অন্যান্য গ্রেনেড ও বোমা হামলার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
রমনা বটমূল, যশোরের উদীচী মামলাসহ অন্যান্য গ্রেনেড-বোমা হামলার অন্যতম আসামি তারা। র্যাব তাদের রাজধানীর ওপার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হুজিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। আবদুল হান্নান নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হুজির নায়েবে আমিরের পদ গ্রহণ করে তৎপরতা জোরদার করে। আবদুল হান্নান ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভামঞ্চের কাছে বোমা পুঁতে রাখা, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা ও ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। আবদুল হান্নান আফগান ফেরত যোদ্ধা ও প্রশিক্ষক। হুজির প্রতিষ্ঠাকালে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আইনুলও প্রশিক্ষক। র্যাব তাদের কাছ থেকে সংগঠনের সিডি ও বোমা তৈরির নঙ্া উদ্ধার করেছে। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী মাওলানা সাবি্বর হুজির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়ায় হলেও তিনি রাজশাহী উপশহরে থাকতেন। সেখানে তিনি একটি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি গা ঢাকা দেন। চলতি বছরের ২২ ফেব্রম্নয়ারি আইনুল পাবনার ঈশ্বরদীতে গিয়ে সংগঠনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেন। তারপর তারা বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে চলে যান। পরে দুই জনই কেরানীগঞ্জ এসে ধরা পড়ে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়াকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যা ও ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগ সমাবেশে বোমা হামলার সঙ্গে সে জড়িত ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ
অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা
খায়রুল হোসেন রাজু ॥ ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি একাধিক ব্যাংক ভোজ্যতেল (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে। এতে বাজারে তেলের দরবৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী যোগানের অনেকটা ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার উপক্রম শুরু হচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশিস্নষ্ট সকল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এলসি খুলতে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে উলেস্নখ করা হয়, নিত্যপণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলো এলসি খুলবে। এলসি খুলতে কোন ব্যাংকের তারল্য বা ডলারের সহায়তা দরকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাপোর্ট দেয়া হবে। কিন্তু কোনভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা বন্ধ বা অনীহা প্রকাশ করা যাবে না। কোন ব্যাংক যদি এ নির্দেশ অমান্য করে তাহলে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু কিছু পণ্যের ওপর সুদের হার ১২ শতাংশ নামিয়ে আনায় কারণে একাধিক ব্যাংক সংশিস্নষ্ট আমদানিকারকদের ঋণ দিচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ঋণপত্রও নিচ্ছে না। ফলে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি ও আগামীতে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের আমদানির প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি আমদানিকারকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। ফলে এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে এবং ব্যাংকগুলোর বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে গত ১০ এপ্রিল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তার অধীনস্ত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভোজ্যতেল আমদানি করতে বা এলসি খুলতে চিঠি দিয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিত্যপণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেল আমদানি ঋণপত্রের সুদের হার নামিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়। ওই হারে ঋণপত্র খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশ অনেক ব্যাংক পাত্তা দিচ্ছে না। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ১২ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে ভোজ্যতেলের ঋণপত্র খুলছেন। কারণ ১২ শতাংশে ঋণপত্র খুলতে চাচ্ছেনা ব্যাংকগুলো। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংককারদের মধ্যে বাগ্বিত-া চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের চিত্র বিদ্যমান থাকলেও সম্প্রতি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এর সমাধানে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামী এডিপিতে যুক্ত হচ্ছে বিদু্যতের ৫৩ নতুন-পুরনো প্রকল্প
চলতি মাসেই এনইসিতে অনুমোদন
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বিদু্যতের নতুন ৬টিসহ মোট ৫৩টি প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন-পুরনো মিলে বিদ্যুত উৎপাদনসংক্রান্ত ১৭টি, বিতরণসংক্রান্ত ২৩টি, সঞ্চালনসংক্রান্ত ৮টি এবং বিবিধ ৫টি প্রকল্প থাকবে বলে জানা গেছে। মোট ৪৬ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপি তৈরির কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদু্যত বিভাগে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৭ হাজার ১৫২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন এডিপি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় অনুমোদন দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আগামী এডিপিতে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন প্রকল্পগুলো হচ্ছে ভোলা ২৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদু্যত প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ঋণ সহায়তার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। হাতিয়া তেল বেজড বিদু্যত উৎপাদন প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে ইতোমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌরবিদু্যতের মাধ্যমে সোলার ইরিগেশন পাম্প প্রকল্প। গোপালগঞ্জ পলস্নী বিদু্যত প্রকল্প। বাগেরহাট সাইলো প্রকল্পে বিদু্যত সংযোগ প্রকল্প এবং শিকলবাহা ডুয়েল ফুয়েল বিদু্যত উৎপাদন কেন্দ্র প্রকল্প। জানায়, এডিপিতে যুক্ত হতে যাওয়া বিদু্যত উৎপাদনসংক্রান্ত প্রকল্পগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ বিদু্যত উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঘোড়াশাল তাপবিদু্যত কেন্দ্রের ১ নং ও ২ নং ইউনিট পুনর্বাসন ও আধুনিকায়ন (সংশোধিত) প্রকল্প, সিলেট ৯০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ ও সংশিস্নষ্ট সঞ্চালন গড়ে তোলা (সংশোধিত) প্রকল্প, চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ ও সংশিস্নষ্ট সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা (সংশোধিত) প্রকল্প, সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদুু্যত কেন্দ্র নির্মাণ ও সংশিস্নষ্ট সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা (সংশোধিত) প্রকল্প এবং কনস্ট্রাকশন অব ২৮০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্ন্যান্ট প্রকল্প।
নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (এনডবিস্নউপিজিসি) কনস্ট্রাকশন অব খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্ন্যান্ট প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন অব সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার পস্ন্যান্ট প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন অব লিকুইড ফুয়েল সিস্টেম ফর সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্ন্যান্ট প্রকল্প এবং ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল পস্ন্যান্ট (৩৬০ মেগাওয়াট) উন্নয়ন প্রকল্প।
ইলেকট্রিক জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি লিঃ) সিদ্ধিরগঞ্জ ১২০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্ন্যান্ট নির্মাণ প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন অব হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার পস্ন্যান্ট এ্যান্ড এ্যাসোসিয়েটেড সাব-স্টেশন প্রকল্পের (ইজিসিবি অংশ, পিজিসিবি অংশ ও আরইবি অংশ) এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্ন্যান্ট নির্মাণ প্রকল্প। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) আশুগঞ্জ বিদু্যত কেন্দ্র কমপেস্নঙ্রে ইউনিট নং ৩, ৪ ও ৫-এর পুনর্বাসন ও আধুনিকায়ন (সংশোধিত) প্রকল্প।
এডিপিতে বিদু্যত সঞ্চালনসংক্রানত্ম প্রকল্পগুলো হচ্ছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সঞ্চালন লাইনের সুবিধাসহ নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ ও সম্প্রসারণ (সংশোধিত) প্রকল্প, মেঘনাঘাট-আমিনবাজার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প (ফেজ-১) প্রকল্প, আমিনবাজার ওল্ড এয়ারপোর্ট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প (ফেজ-১), ট্রান্সমিশন ইফিসিয়েন্সি ইমপ্রম্নভমেন্ট থ্রম্ন রি-এ্যাকটিভ পাওয়ার কমপেন্সেশন এ্যাট গ্রিড সাবস্টেশন এ্যান্ড রি- এনফোর্সমেন্ট অব গোয়ালপাড়া সাবস্টেশন প্রকল্প, সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্প, গ্রিড ইন্টারকানেকশন বিটুইন বাংলাদেশ (ভেড়ামারা) এ্যান্ড ইন্ডিয়া (বাহরামপুর) প্রজক্ট এবং বিবিয়ানা-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প।
বরিশালে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা
হাইকমান্ড নাখোশ ॥ সরোয়ারসহ ১২ জনের বিরম্নদ্ধে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল, ১০ মে ॥ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজনের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। সরোয়ারপন্থী ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের মাথা, বুক ও চোখে বেধড়ক নির্যাতন চালিয়েছে। এক পর্যায় লোহা দিয়ে রাজনের দু'চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালানো হয়। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল চরকাউয়া ফেরিঘাট এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে
তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারসহ ১২জনের বিরম্নদ্বে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন রাজনের সহোদর একেএম শাহজাহান। তিনি দায়েরকৃত মামলায় উলেস্নখ করেছেন, সরোয়ারের নির্দেশে রাজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাজন আহতের খবর শুনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নানসহ শেবাচিম হাসপাতালে দেখতে গেলে সেখানে রাজনপন্থী ৩/৪শ' বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তখন সবাই রাজনের ওপর হামলার ঘটনার জন্য সরোয়ারের বিচার দাবি করে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি হাইকমান্ডের একাধিক সূত্র জানায়, রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সরোয়ারের ওপর চরম নাখোশ। তারা বিষয়টি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অবহিত করেছেন। খালেদা জিয়া রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় বিব্রত ও উস্মাহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সূত্র জানায়, ভোলায় সফলভাবে দলীয় কর্মসূচী শেষে বিএনপি কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নান শাহ, কেন্দ্রীয় নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন আলম, প্রকৌশলী ফারম্নক হোসেন, নজরম্নল ইসলাম রাজন, এবিএম মোশারেফ হোসেন ১০টি গাড়িযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ৯টার দিকে হান্নান শাহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চরকাউয়া ফেরিঘাট থেকে বরিশাল সার্কিট হাউসে পেঁৗছেন। কিন্তু রাজন ও মোশারেফ হোসেন আটকে পড়ে যান ফেরিতে। তখন সরোয়ারপন্থীর ক্যাডাররা রাজনকে এ্যাটাক করার জন্য হন্য হয়ে খুঁজছিল। এক পর্যায়ে ক্যাডার কামরম্নল ইসলাম রতন, ফিরোজ খান কালু, মামুনসহ ৮/১০ জন ৪ মোটরসাইকেলযোগে এ্যাটাক করেন রাজনের ওপর। রাজনকে তারা গাড়ি থেকে নামতে বলে। রাজন না নামায় তারা রাজনের গাড়ির ওপর তেড়ে বসে। পরে গাড়ির ভেতর থেকে রাজনকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে, মাথায় ও চোখে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
পাবলিক লাইব্রেরীতে কবিগুরুর স্বদেশ পর্যায়ের গান নৃত্য আবৃত্তি
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার॥ নানা আয়োজনে মঙ্গলবার কবিগুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে সত্যেন সেন শিল্পী সংস্থা।
পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিগুরম্নর স্বদেশ পর্যায়ের গান, কবিতা থেকে আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানা আয়োজন। আলোচনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ ও গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজারম্নল ইসলাম সুইট। অনুষ্ঠানে সালমা আকবর, সাজেদ আকবর, মামুন জাহিদ খান, লাইসা আহমদ লিসা প্রমুখ শিল্পী কবিগুরম্নর স্বদেশ পর্যায়ের গান করেন। তাঁদের পরিবেশিত 'এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে', 'কেন চেয়ে আছো গো মা', 'সার্থক জনম আমার', 'তার আপন জনে ছাড়বে তোরে' গানগুলো মুগ্ধ করে রাখে শ্রোতাদের। সত্যেন সেন শিল্পী সংস্থা, গীতি সত্র, আনন্দধারা, ধর্মরাজিক ললিতকলা একাডেমী, গীতিশতদল ও সুরবিহারের শিল্পীদের দলীয় সঙ্গীতও বেশ উপভোগ্য ছিল। কবিতা আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম, বেলায়েত হোসেন, মাশকুরে সাত্তার কলেস্নাল, রেজিনা ওয়ালী লীনা ও নায়লা তারাননুম কাকলী।
কবিগুরু স্মরণে বাংলা একাডেমীর অনুষ্ঠান শেষ হলো ॥ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সমাপনী দিন সকালে একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আয়োজন করা হয় আলোচনার। এতে অংশ নেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, দি পিপলস্ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহসানুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সভাপতির ভাষণে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, অপ্রিয় হলেও সত্যি যে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা সম্পর্কিত দর্শন শানত্মিনিকেতনেও পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসৃত হয়নি। এর মূলে রয়েছে প্রাদেশিকতা কিংবা আঞ্চলিকতা। রবীন্দ্রনাথ মাতৃভাষাচর্চার ওপর যে রকম জোর দিয়েছিলেন তার সেই দেখানো পথ সম্পর্কে আমরা একেবারেই উদাসীন। অথচ পঁচিশে বৈশাখ এলে হুজুগে রবীন্দ্রবন্দনায় আমরা মেতে উঠি। আমাদের প্রয়োজনে যদি বিদেশী ভাষা শিখতে হয় অবশ্যই শিখব তবে তা মাতৃভাষার গাঁথুনির ওপর দাঁড়িয়ে। তিনি আরও বলেন, সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী তাঁর শিক্ষাদর্শন কার্যকর করা সম্ভব হবে। স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, রবীন্দ্রনাথের চিনত্মার নির্যাস বৈশ্বিকভাবে গভীর বিশেস্নষণ করাই হবে সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর মূল তাৎপর্য। এ ক্ষেত্রে সরকারী উদ্যোগ সীমিত হলেও সুশীল সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সত্যকথনধর্মী সাহিত্যকর্ম ব্যাপক অধ্যয়নের মাধ্যমে নানা সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এমনকি তাঁর চিত্রকলায় মানব জীবনের নানাদিক সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। তাই ব্যাপকভাবে রবীন্দ্রপাঠের কোন বিকল্প নেই।
বেঙ্গল শিল্পালয়ে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বক্তৃতা আজ ॥ রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠান আজ বুধবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। 'রবীন্দ্রনাথের চিত্রকৃতি ও আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গ' বিষয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্ট শিল্প-সমালোচক অধ্যাপক আবুল মনসুর।
কোকোর অর্থ পাচার মামলায় আরও দু'জনের সাক্ষ্য
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ॥ খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক নৌমন্ত্রীর ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় আরও দু'জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেন সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ করেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে ১৯ মে।
অভিযুক্তদের একজন বিদেশে ও অপরজন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কেউ রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষীদের জেরার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হলো বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিসুল হক। এ মামলায় গত বছরের ১২ নবেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কোকোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।
কমিশনের দায়ের করা ওই মামলায় কোকোর বিরম্নদ্ধে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৪ সিঙ্গাপুরি ডলার এবং ৯ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে কোকোর হিসেবে বাংলাদেশের কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য বিদেশী কোম্পানির ঘুষের টাকা জমা হয়েছিল।
গত বছরের ৩০ নবেম্বরে কোকো ও সাবেক নৌমন্ত্রী মরহুম আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলাটি করেন দুদক কর্মকর্তা আবু সাঈদ। ওই বছরের (২০০৯ সাল) ১২ নবেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। কোকো এখন থাইল্যান্ডে। সায়মন পলাতক।
রিভিউ পিটিশনের রায় আজ
পঞ্চম সংশোধনী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের অংশ বিশেষ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের দাখিল করা রিভিউ পিটিশনের ওপর রায় আজ ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে সংবিধানের ৭ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া রায়ের কিছু অংশের বিরুদ্ধে আপীলের শুনানি শেষ হয়েছে। বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (কেস এ্যাওয়েটিং ফর ভারডিক্ট) রাখা হয়েছে। ফলে যে কোন দিন রায় দিতে পারেন আপীল বিভাগ। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের রায়ের অংশ বিশেষ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের দাখিল করা রিভিউ পিটিশনের ওপর রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ চারদিন শুনানি গ্রহণের পর গত ৭ এপ্রিল রায় প্রদানের জন্য এ দিন ধার্য করেন। রায়ের দুটি অংশ পুনর্বিবেচনার জন্য ১৪ মার্চ রিভিউ পিটিশন দাখিল করে সরকার।
এদিকে সংবিধানের ৭ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া রায়ের কিছু অংশের বিরুদ্ধে আপীলের শুনানি শেষ হয়েছে। যে কোন দিন রায় দিতে পারেন আপীল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আপীলকারীর অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার হাছান এমএস আজিম সাংবাদিকদের বলেন, 'আদালত আমাদের, রাষ্ট্রপক্ষ এবং এ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। রবিবার রায় দেয়া হতে পারে।' গত বছরের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতাদানকারী সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে রায় ঘোষণা করে। রিটকারীকে সামরিক আদালতে দেয়া সাজার বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে কোন সিদ্ধানত্ম দেননি। ফলে সামরিক আদালতের দেয়া তার সাজা বহাল থাকে। সিদ্দিক আহমেদ ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ প্রেক্ষিতে সিদ্দিক আহমেদ তার সাজা মওকুফের আবেদন জানিয়ে ১১ এপ্রিল এ আপীল আবেদনটি দায়ের করেন।
এসএসসির ফল প্রকাশ আগামীকাল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীৰার ফল প্রকাশিত হবে বৃহস্পতিবার। এদিন বেলা দু'টায় দেশের সব শিৰা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল পরীৰা কেন্দ্র, শিৰা প্রতিষ্ঠান, মোবাইলে এবং এসএমএসের মাধ্যমে একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার আনত্মঃশিৰা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি প্রফেসর ফাহিমা খাতুন স্বাৰরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।
কেন্দ্র সচিবের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট পরীৰা কেন্দ্রের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শিৰা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীৰা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় ১২ মে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীৰা শুরু হয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডসহ ১০টি শিৰা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৩ লাখ ১৫ হাজার ২ জন শিৰার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
ইউপি নির্বাচনে কোন এমপি এলাকায় থাকতে পারবেন না
স্পীকারকে ইসির চিঠি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে পৰপাত ও প্রভাবমুক্ত রাখার লৰ্যে নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের অবস্থান না করতে জাতীয় সংসদের স্পীকারকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার স্পীকারকে পাঠানো চিঠিতে ভোটের দিন ভোট দেয়া ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় অবস্থান না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বদলি না করা, ঋণখেলাপী প্রাথর্ীদের সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪১৪ জন বিচারিক হাকিম ও ৮২৮ জন নির্বাহী হাকিম নিয়োগের জন্য এ সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে প্রসত্মাব পাঠাচ্ছে কমিশন।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, স্পীকারকে পাঠানো চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, ভোট দেয়া ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি যেন অবস্থান না করেন। মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন বিভাগে পাঠানো চিঠিতে ইসির পরামর্শ ছাড়া নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বদলি না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচনী ইউপিতে নতুন কোন প্রকল্প গ্রহণ না করা, নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প আগে থেকেই চলছে তা চালিয়ে নেয়া যাবে বলে জানানো হয়। একই চিঠিতে ৰমতাসীন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা যেন নির্বাচনী সরকারী ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সরকারী সুযোগ-সুবিধা ভোগ না করেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হবার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো চিঠিতে ঋণ খেলাপীদের সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকতর্াকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
প্রতি উপজেলায় ১ জন বিচারিক ও ২ জন নির্বাহী হাকিম ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনী ৪১৪ উপজেলায় একজন করে বিচারিক হাকিম নিয়োগের জন্য আইন মন্ত্রণালয় এবং ২ জন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব (আইন) হেলাল চৌধুরী জানান, এ সপ্তাহে দুটি চিঠি পাঠানো হবে। নির্বাচনের আগের দু'দিন এবং নির্বাচনের পরের দু'দিন পর্যন্ত মোট চারদিন বিচারিক হাকিম সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আর নির্বাহী হাকিম নির্বাচনের তিনদিন আগে ও দু'দিন পরে মোট পাঁচদিন দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফায় দেশের ৫৭ জেলার ৪১৪টি উপজেলার ৩ হাজার ৮২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ৩১ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রথম দফায় গত ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রাস্তা অবরোধ করে ফটো সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
স্টাফ রিপোর্টা॥ সোমবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারপিটে প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম আহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দশ মিনিট রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফটো সাংবাদিকরা। এ সময় ফটো সাংবাদিকরা সাইফুলকে মারপিটের সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় আজ বুধবার দুপুরে শাহবাগ মোড়ে আধা ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দেন তাঁরা।
সোমবার বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা সাইফুল ইসলামকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে সাইফুল ইসলাম মারাত্মক আহত হন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় শতাধিক ফটো সাংবাদিক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তা অবরোধ করে। দশ মিনিটব্যাপী এ কর্মসূচী চলে। এ সময় ফটো সাংবাদিকরা তাঁদের ক্যামেরা রাস্তায় রেখে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
ফটো সাংবাদিকরা জানান, সাইফুল আহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ফটো সাংবাদিকরা বুধবার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আধা ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ কর্মসূচী পালন করবে। এরপরও যদি দোষীদের গ্রেফতান না করা হয় তবে আরও কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এক বিবৃতিতে সোমবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাইফুল ইসলামের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা বিএনপির ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী চরিত্রেরই বহির্প্রকাশ। তিনি ভবিষ্যতে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এ ধরনের আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
'দেশপ্রেমিক কাজী নূরুজ্জামান যুদ্ধের মাঠে কঠোর হলেও ব্যক্তিজীবনে ছিলেন শান্ত'
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব) কাজী নূরুজ্জামান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূর্ত প্রতীক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তিনি জীবনের সবটুকু সময় দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বিনিময়ে কোন রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেননি। এমন নির্লোভ ও দেশপ্রেমিক মানুষ বর্তমান সমাজে পাওয়া কঠিন। মঙ্গলবার শোকসভার আলোচনায় বক্তারা এভাবে তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী কাজী নূরুজ্জামানকে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এ শোকসভার আয়োজন করে ৭ নম্বর সেক্টর মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব) কেএম শফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহীম বীরপ্রতীক, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী, ডা. জাফরউল্লাহ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কাইয়ুম খান। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মনসুর আলী সরকার। দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন মরহুম নূরুজ্জামানের স্ত্রী ডা. সুলতানা জামান ও সন্তানরা।
কেএম শফিউল্লাহ বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নূরুজ্জামান যুদ্ধ করেন এবং দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। তাছাড়া তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরাও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁকে স্মরণ রাখা উচিত। তাঁর জীবনী থেকে নতুন প্রজন্মকে শিৰা নেয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, নূরুজ্জামানের সুশৃঙ্খল ও সাহসী মনোবল দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহীম বলেন, অন্য সেনা কর্মকর্তাদের মতো জীবনে কখনও কাজী নূরম্নজ্জামান রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। অবসরের পর সাধারণ নাগরিকদের মতো ঢাকায় জীবনযাপন করেন। কোন ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেয়া তিনি কখনও সমর্থন করতেন না। সেক্টর কমান্ডার নূরুজ্জামানকে নাগরিক যোদ্ধা আখ্যায়িত করে নতুন প্রজন্মকে তাঁর সাহসিকতায় বেড়ে ওঠার পরামর্শ দেন মেজর জেনারেল ও ইব্রাহীম।
সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, নূরুজ্জামান মানুষ হিসেবে ছিলেন খুব দৃঢ় এবং বলিষ্ঠ। তিনি দেশকে মনেপ্রাণে ভালবাসতেন। তাঁকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের পরামর্শ দেন ইকবাল বাহার চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে এ কাইয়ূম খান বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে যা পান তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু কখনও চাইতেন না। জীবনে তিনি কখনও স্বজনপ্রীতি ও অগ্রাধিকার পছন্দ করতেন না। এমন ব্যক্তি বর্তমান সময়ে বিরল বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাজী নূরুজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধ পদ্ধতিগতভাবে পরিচালনা করতেন। নিজের মতামতের সঙ্গে সহযোদ্ধাদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতেন তিনি। শান্ত প্রকৃতির মানুষটি প্রয়োজনে কঠোর হলেও ব্যক্তিজীবনে ছিলেন সম্পূর্ণ শান্ত।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ তারিখে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃতু্যবরণ করেন।
আগামী বছর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিৰণে যুদ্ধ ছাড়া সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ দুর্যোগ মোকাবেলা, নির্বাচনসহ জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ততা বেড়ে যাওয়ায় আগামী বছর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিৰণের প্রতিটি চক্রে যুদ্ধ ছাড়া অন্যান্য সামরিক অভিযান অনত্মভর্ুক্ত হচ্ছে। সেসব অনির্ধারিত কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এ রম্নটিন প্রশিৰণ চালু হবে। প্রশিৰণে বেসামরিক প্রশাসনকে নিয়ে সম্পাদনযোগ্য সব ধরনের কর্মকা- যেমন- দুর্যোগ মোকাবেলা, নির্বাচনে নিরাপত্তা প্রদান, সন্ত্রাস দমন, জাতীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, পাওয়ার স্টেশনে নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি বিষয়কে প্রশিৰণ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের প্রশিৰণ দিয়ে জাতীয় রিজার্ভ ফোর্স গঠনের জন্য অপ্রচলিত যোদ্ধাদের উপাত্ত সংগ্রহ করারও কার্যক্রম চলছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
সংশিস্নষ্টরা জানান, সামরিক-বেসামরিক যৌথ প্রশিৰণ ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ কাজে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণও আগে থেকে প্রচলিত। বিশেষ করে নির্বাচন এবং দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীকে অনত্মর্ভুক্ত করা হয়। অনির্ধারিত সেসব কাজে দিন দিন সম্পৃক্ততা বাড়ছে সশস্ত্র বাহিনীর। সরকারের নির্দেশে সেসব কাজে অংশগ্রহণের আগে প্রশিৰণের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাই সেৰেত্রে রম্নটিন প্রশিৰণের ব্যবস্থা থাকলে অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে কাজগুলো করা যাবে বলে মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। সেনাবাহিনীর এক উর্ধতন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে জনকণ্ঠকে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী অত্যনত্ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলে অভ্যসত্ম। তাই এভাবে কাজের আগে প্রশিৰণের ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে রম্নটিন প্রশিৰণের ব্যবস্থা থাকলে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তা সুবিধা হবে।
সূত্র জানায়, রবিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সংক্রানত্ম একটি প্রতিবেদন পেশ করে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন এ্যাসিস্ট্যান্স টু সিভিল এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা দিয়ে থাকে সশস্ত্র বাহিনী। ২০১২ প্রশিৰণ বছর থেকে প্রতিটি প্রশিৰণ চক্রে যুদ্ধ ব্যতীত অন্যান্য সামরিক অভিযান (মিলিটারি অপারেশন্স আদার দ্যান ওয়ার) অনত্মভর্ুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে চলতি বছরের সামরিক-বেসামরিক যৌথ প্রশিৰণের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বু্যারো এবং ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ব্যবস্থাপনায় গত ২০ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যনত্ম আয়োজিত যৌথ প্রশিৰণে সেনাবাহিনীর ৫ কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর ৩৮ সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বু্যরো ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে গত বছরের ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত 'অপারেশন মেইনটেন্যান্স এ্যান্ড ট্রাবল-শূটিং ট্রেনিং অব মোবাইল লাইট ইউনিট' শীর্ষক প্রশিৰণ কোর্সে সেনাবাহিনীর ৮ সদস্য অংশ নেন। একই বছরের ১০ থেকে ১২ নবেম্বর পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত 'অপারেশন মেইনটেন্যান্স এ্যান্ড ট্রাবল-শূটিং ট্রেনিং অব ফর্ক লিফট' শীর্ষক প্রশিৰণ কোর্সে অংশ নেন সেনাবাহিনীর ১২ সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন শিৰাপ্রতিষ্ঠানে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ প্রশিৰণ বিষয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশের মতো দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রশিৰণ প্রদান করে জাতীয় রিজার্ভ ফোর্স গঠনের বিষয়টিকে গুরম্নত্ব দিয়ে খসড়া প্রতিরৰা নীতিমালায় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরৰা নীতি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধিত খসড়া তৈরির কাজ অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটির সর্বশেষ সভা গত ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। রিজার্ভ ফোর্স গঠনের বিষয়টি খসড়া নীতিতে সনি্নবেশ করা হয়েছে। ফর্মেশনগুলো অপ্রচলিত যোদ্ধাদের (আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ার ফোর্স) উপাত্ত সংগ্রহ করছে। একটি ফর্মেশন শীতকালীন প্রশিৰণ ২০১০-২০১১ এ অনুশীলন করছে। তাছাড়া আগামী গ্রীষ্মকালীন প্রশিৰণে এ ধরনের প্রশিৰণ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
খাতুনগঞ্জে চিনির বাজার অস্থির
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চিনির ডিও প্রথা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে খাতুনগঞ্জের বাজারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ চক্রটি কৌশলে বর্তমানে ডিও'র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। দু'তিন দিনের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জে চিনির দর মণপ্রতি ১শ' টাকা করে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, চিনি রিফাইনারি মিলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরম্ন করেছে। তবে অস্বাভাবিক জামানতের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে ডিলারশিপ একটি মহলের হাতে জিম্মি হয়ে যেতে পারে। পরবতর্ীতে ঐ মহলটি চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই তৎপর। খাতুনগঞ্জের ডিও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকে ডিও প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করে ডিলারশিপ সিস্টেম চালুর জন্য সরকারের চাপ অব্যাহত থাকার কারণে একটি মহল এ সময়ের মধ্যে বাজারে চিনির সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বাজারে ডিও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করা হচ্ছে রেডি চিনির কৃত্রিম সঙ্কট। গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে চিনির দর মণপ্রতি বেড়ে গেছে ১শ' টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রেডি চিনি এবং ডিও'র মধ্যে দাম পার্থক্য অনত্মত তিন শ' টাকা। যেসব ডিও'র বিপরীতে চিনি সরবরাহ দিতে নূ্যনতম দু'মাস পর্যনত্ম বিলম্ব ঘটবে এমন ডিও'র দর অস্বাভাবিক।
সিলেটে নিজ কলেজের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেডিক্যাল ছাত্রের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটে নিজ কলেজের বাসের চাপায় এক মেডিক্যাল কলেজছাত্রের মর্মানত্মিক মৃতু্য ঘটেছে। নিহত ফাহিম সিলেটের নর্থইস্ট মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুরে এ ঘটনা ঘটে। সে সিলেট নগরীর পাঠানটুলার মাসুক মিয়ার ছেলে।
দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ জানায়, দক্ষিণ সুরমার চ-ীপুল এলাকায় অবস্থিত নর্থইস্ট মেডিক্যাল কলেজ ছুটির পর কলেজের নিজস্ব মিনিবাসযোগে (নং- সিলেট জ-১১-০১১০) ছাত্রছাত্রীরা বাসার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পিরিজপুরে বাসের দরজার কাছে দাঁড়ানো ফাহিম হঠাৎ ছিটকে পড়ে। এতে ওই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ফাহিম গুরম্নতর আহত হলে তাকে নর্থইস্ট মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃতু্য হয়। ফাহিমের মৃতু্যতে কলেজে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদনত্ম ও বিচার দাবি করে। এদিকে পুলিশ বাসটি আটক এবং চালক রাহেলকে গ্রেফতার করে। রাহেল মৌলভীবাজার জেলার আজলপুর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা হয়েছে।
রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেনে আগুন ॥ আতঙ্কে ঝাঁপ দিয়ে আহত ৩০
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী মহানন্দা এঙ্প্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে যাত্রীদের মধ্যে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। আগুনের ধোঁয়া দেখে আতঙ্কে ট্রেনের দরজা ও জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিতে গিয়ে অনত্মত ৩০ জন আহত হন। মঙ্গলবার রাজশাহীর হরিয়ান ও সারদা রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্তা সরকার মামলার তদনত্ম কর্মকর্তার ৭ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার আলোচিত বাকাকুড়া সীমানত্ম গ্রাম থেকে ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর ১৩ হাজার ৬৮০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। ২৫ ডিসেম্বর একই এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭ টি স্থলমাইন, ১টি হ্যান্ডগ্রেনেড, ৯৭ রাউন্ড গুলি, ৩টি ওয়াকিটকি, ২টি এলএমজি লিংকেজ ব্যান্ড, ১৯টি বাংলাদেশী ও ভারতীয় মোবাইল সিম, বেশ কিছু সিডিসহ মোট ৩৮টি আইটেম এবং ওই সংগঠনের প্রচুর কাগজপত্র উদ্ধার করে বিজিবি।
শেরপুর সীমান্তে অস্ত্র গুলি ও গ্রেনেড উদ্ধার, এলাকায় আতঙ্ক
২ যুবক রিমান্ডে
সংবাদদাতা, শেরপুর, ১০ মে ॥ শেরপুর সীমান্তে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি ও আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সর্বশেষ গুলি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, সোমবার উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ গুলি মজুদের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী চোরা ও আশরাফুল আলম নামে ২ যুবকের ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। মঙ্গলবার শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল বেলপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী পশ্চিম রেলওয়ে সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মহানন্দা এঙ্প্রেস ট্রেনটি রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে বেলপুকুর স্টেশন ছাড়ার পরই চলনত্ম ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগে কালো ধোঁয়া বের হতে থাকে। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে ট্রেনের চালক সঙ্গে সঙ্গে গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ইঞ্জিনের পাশের একটি বগি থেকে প্রথমে টিটিই (টিকেট নিরীৰক) শহীদুল ইসলাম (৩৫) ঝাঁপ দিয়ে নিচে নেমে চিৎকার শুরম্ন করেন। এতে আতঙ্কিত যাত্রীরা দরজা ও জানালা দিয়ে বাইরে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। তবে ট্রেনের গতি না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় ট্রেনের টিটি সারোয়ার হোসেনসহ অনত্মত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
রেলসূত্র জানায়, খবর পেয়ে পরে অতিরিক্ত ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনটি চালু করা হয়েছে। তাৎৰণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার এক ঘণ্টা পর ট্রেনটি গনত্মব্যে ছেড়ে যায়। তবে রেলওয়ে সূত্র জানায়, চালক প্রথম অবস্থায় টের পেয়ে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেয়ায় বড় ধরনের ৰয়ৰতি হয়নি।