মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
রক্তিম কৃষ্ণচূড়া_ সবুজের মাঝে অপূর্ব দীপ্তি
গ্রীষ্মের রূপ
সৈয়দ সোহরাব ॥ রৌদ্রতপ্ত বৈশাখকে রাঙিয়ে দিয়ে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। গাছের শাখায় শাখায় অজস্র প্রস্ফুটন। শোভাবর্ধনকারী পথতরু হিসেবে তুলনা নেই এর। এক সময় ঢাকা শহরের প্রধান পথতরুই ছিল এ কৃষ্ণচূড়া। এখন সে স্থান দখল করে নিয়েছে অপুষ্পক দেবদারু বা নানা ধরনের পাতাবাহারি গাছ। তবে কোন কোন রাস্তার ডিভাইডারে পুষ্পসমেত গাছও দেখা যায়। ইট পাথরের এই কৃত্রিম শহরে নানা পরিবর্তনের মাঝে এখনও রমনা ও সংসদ ভবন এলাকায় রয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়ার কিছু সারি। দৃষ্টিনন্দন এ ফুলের শোভা ছড়ানো_ছিটানো অবস্থায় আরও দেখা যায় ধানমণ্ডি এলাকা ছাড়াও নগরীর নানা স্থানে এবং বাসাবাড়িতে।
প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য ধরা দেয় ষড়ঋতুর মধ্য দিয়েই। চোখ মেলে তাকালে গ্রীষ্মেরও একটা রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। হোক না তা রোদের তাপ আর ঘাম ঝরা দিন। এর মাঝেও গাছে গাছে ফুটে নানা রঙের বর্ণাঢ্য ফুল। রক্তিম লাল আর কমলা রঙের কৃষ্ণচূড়া, বেগুনী জারুল, কাঁচা হলুদ সোনালু, গোলাপী কাঠগোলাপের মতো আরও অনেক বৃক্ষের ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা শাখা সবুজের সমারোহের মাঝে যেন ছড়িয়ে দিয়েছে এক অপূর্ব দীপ্তি। এই বৈশাখেই গ্রামের পথে ঝাঁকবাঁধা লাল কৃষ্ণচূড়ার মিতালী দেখে মনে হয়_ 'কৃষ্ণচূড়ার আগুন যেন ফাগুন বেলারই'। প্রকৃতিও বুঝি কৃষ্ণচূড়া ফুটিয়ে দেয় তপ্ত দিনগুলোকে সাজাতেই। সব কিছু ছাপিয়ে এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়ার রং যেন আবির মেখে রং ছড়ায় ঋতু বৈচিত্র্যের। তাই বর্ষবরণেও এর রং হয়ে ওঠে বৈশাখেরই রং।
গ্রীষ্মের ঝলমলে রোদের মতোই এ মৌসুমের ফুলগুলো হয় উজ্জ্বল রঙের। কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারম্নল বা সোনালুর দিকে তাকালেই বোঝা যায় তা। বড় গাছের ফুলের সৌন্দর্য যেমন তার প্রস্ফুটনের প্রাচুর্যে, তেমনি গ্রীষ্মের ছোট ছোট মৌসুমী ফুলের শোভাও যে হেলাফেলার নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় পার্কে এলেই। মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে গেলেও প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য চোখে পড়বে নগরবাসীর। সেখানকার ফুলগুলো এখন ধারণ করে আছে গ্রীষ্মের বর্ণিল রূপ। তবে নগরীর শোভাবর্ধন করে সবার বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কৃষ্ণচূড়াই। এ সময়ে এই ফুল মানুষের বাসাবাড়িতে, পার্কে, রাসত্মার ধারের গাছে ফুটে আছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বিশেষ করে সংসদ ভবন এলাকা ও এর আশপাশের হাসপাতাল, যেমন_ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, পঙ্গু ও শিশু হাসপাতাল গেলেই দেখা যায় এই দৃষ্টিনন্দন গাছের সারি, যা জুড়িয়ে দিচ্ছে দর্শনার্থীর চোখ। যেন এখানকার পুরো আকাশই ছেয়ে আছে কমলা ও রক্তিম লাল রঙে। নজরকাড়া এই রঙের জন্য ছোট-বড় সবারই প্রিয় এ ফুল।
উলেস্নখ্য, কৃষ্ণচূড়া ঈধবংধষঢ়রহরবধব গোত্রের উবষড়হরী ৎবমরধ প্রজাতির আকর্ষণীয় একটি ফুল। এর গাছ মধ্যম থেকে লম্বা গড়নের হয়, মাথা থাকে ছড়ানো। ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যনত্ম। কমলা বা লাল রঙের এ ফুল গাছের আগায় থাকে গুচ্ছাকারে। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে ফল হয়। শুঁটি ৩০ থেকে ৬১ সে.মি. পর্যনত্ম লম্বা হয়, আর শুষ্কাবস্থায় থাকে শক্ত ও কালো। চমৎকার পাতা ও সুন্দর ফুলের জন্য সারাদেশে আদৃত এবং বাগান ও রাসত্মার পাশে রোপিত। কাঠ হয় শক্ত ও চকচকে। সার কাঠ টেকসই বলে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয় নানা কাঠামোয় এবং সাধারণ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া আমাদের দেশী ফুল নয়। মাদাগাস্কারের আদি নিবাস। শীতে পাতা ঝরে যায়। তখন রম্নগ্ন শুকনো মনে হয় গাছটিকে। বসনত্মের শুরম্ন থেকে শাখায় শাখায় নবপলস্নবের সবুজ উদ্ভাস ঘটে। বৈশাখে সেই সবুজের উপর দিয়ে অজস্র গাঢ় লাল ফিকে বা লালের মাঝে সাদার ছিট দেয়া ফুলের প্রস্ফুটন জানান দেয় তপ্ত দিনের আগমনী বার্তা। কৃষ্ণচূড়া শাখায় থাকে বর্ষার মাঝ নাগাদ অবধি। তার উপস্থিতিতেই লাবণ্যময় হয়ে ওঠে প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ।
ফি'র বিনিময়ে ট্রানজিট ও ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রাধান্য পাবে
আজ ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক
মিজান চৌধুরী ॥ ফি বা টোলের বিনিময়ে ভারত ১৫টি করিডরে ট্রানজিট চাইবে। করিডরগুলো শনাক্ত করে ইতোপূর্বে ভারত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়াসহ ছয়টি বাণিজ্য ইস্যুর অগ্রগতির বিষয় ভারতের কাছে জানতে চাইবে। আজ শনিবার দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকের এজেন্ডায় এসব বিষয় থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দু'দিনের সফরে বাংলাদেশে শুক্রবার পৌঁছছে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মাসহ ৩৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর পর এবার সফর বাণিজ্যমন্ত্রীর। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতের বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব ও ২২ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল থাকছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের আমন্ত্রণে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আসছেন। গত অক্টোবরে দিল্লী সফরকালে মুহাম্মদ ফারুক খান আমন্ত্রণ জানালে আনন্দ শর্মা গ্রহণ করেন। সফরের প্রথম দিন শনিবার সকালে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন আনন্দ শর্মা। মধ্যাহ্নভোজের পর খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাৰাত করবেন। রাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আয়োজনে ডিনারে অংশ নিবেন। পরের দিন রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সাৰাত করবেন। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ভারতের পৰ থেকে ট্রানজিট ইসু্যকে বেশি গুরম্নত্ব দেয়া হবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ১৫টি করিডোরে বাংলাদেশের কাছে ট্রানজিট চাইবে। বাংলাদেশের রাসত্মা, রেল ও নদীপথে ট্রানজিট ব্যবহারের জন্য ভারত ১৫টি করিডর শনাক্ত করেছে। সূত্র আরও জানায়, ট্রানজিটের জন্য রাসত্মা, রেলওয়ে ও নদীর অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। ট্রানজিটের বিনিময়ে ফি বা টোল কোনটি বাংলাদেশ গ্রহণ করবে তাও জানতে চাওয়া হবে। তবে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বানিজ্য ঘাটতি ৩শ' কোটি ডলার। ফি বা টোলের বিনিময় ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে তা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে এমন প্রসত্মাব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।
সূত্র মতে, বাংলাদেশের ১৪টি অবকাঠামো উন্নয়নে একশ' কোটি ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তিতে স্বাৰর করে ভারত। কিন্তু এই ঋণের টাকা দেয়ার বিষয় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর এজেন্ডায় স্থান পায়নি। তবে ভারতের পৰ থেকে তাদের পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ ও বাংলাদেশের সার্টিফিকেশন ইসু্য নিয়েও আলোচনা করা হবে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাৰাত করবেন আনন্দ শর্মা। ওই আলেচনায় গত বছর জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের সময় ট্রানজিট ইসু্য ও একশ' কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এদিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঁচটি ইসু্যর অগ্রগতি জানতে চাইবে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী। জনকন্ঠকে বানিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে আমি ভারত সফর করেছি। ওই সময় সে সব বিষয়ে আমাকে আশ্বাস দেয়া ছিল সেগুলোর অগ্রগতি জানতে চাওয়া হবে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ৪৮০টি পণ্য ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। দিলস্নী সফরকালে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে ৬১টি পণ্য বাদ দিয়ে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করি। ভারত সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়ার আশ্বাস দেয়। তবে ওই সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক ভারতে রফতানি করা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়। ভারত প্রতিবছর বাংলাদেশের কাছে ২০ লাখ বেল তুলা রফতানি করবে এই কোটা চাওয়া হয়। তার অগ্রগতির ব্যাপারে জানাব। বর্ডার হাট চালুর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাৰর হয়েছে। সীমানত্ম হাট চালুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানিকৃত পাটের ব্যাগের উপর মেড ইন বাংলাদেশ লিখতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা বুঝাতে সৰম হয়েছি আনত্মর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের লেখা হয় না। এতে ভারতের পৰ থেকে তাদের আইন সংশোধনের আশ্বাস দেয়। ইতোমধ্যে ভারত পাট রফতানির উপর শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। বিএসটিআই ভারতের এ্যাক্রিডেশন বোর্ডে আবেদন করেছে। তাদের দেয়া ১৫টি আইটেমের উপর বিএসটিআই সার্টিফিকেশন দেয়ার কাজ করছে। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
চলতি বছর বাংলাদেশ ভারত দুই দেশের বাণিজ্য ৪শ' কোটি ডলারে পেঁৗছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩শ' কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতে পণ্য রফতানি করছে ৫০ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেছে ৩২১ কোটি মার্কিন ডলারের। ওই বছর ভারত পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে ৩১ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৯০ কোটি ডলার।
ভৈরবসহ হাওড়াঞ্চলে দশ বছরে ছয় শ' নৌ দুর্ঘটনা
সহস্রাধিক যাত্রীর মৃত্যু
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ২২ এপ্রিল ॥ ভৈরবসহ হাওড়াঞ্চলে গত ১০ বছরে ৬ শতাধিক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘনায় সহস্রাধিক যাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বিনষ্ট হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নৌযান নিয়ন্ত্রণ আইন উপেক্ষা করে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় নিয়োজিত নৌযানগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। নৌযান নিয়ন্ত্রণ আইন দুর্বল এবং উপযুক্ত তদারকি ব্যবস্থা গড়ে না ওঠার সুযোগে বিআইডব্লিউটিএ'র একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ১০ সহস্রাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান (লঞ্চ, কার্গো, ট্রলার) চলাচল করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে চলাচলকৃত নৌযান অধিকাংশই ফিটনেস নেই। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের কারণে গত ১০ বছরে সংঘটিত হয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক নৌ-দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় করুণ মৃত্যু হয় প্রায় সহস্রাধিক যাত্রীর। এসব দুর্ঘটনায় মধ্যে স্মরণকালের ভয়াবহ লঞ্চ ডুবির ঘটনাও রয়েছে। মেঘনা নদীতে সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল ২০১১ ভোরে বি-বাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর এলাকায় এমবি বিপাশা শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার মধ্যে ২০০৩ সালের ১২ এপ্রিল শনিবার রাতে এমভি শরীফপুর নামে একটি দোতলা যাত্রীবাহী লঞ্চ সিলেটের শেরপুর থেকে কিশোরগঞ্জের চামড়া নৌবন্দরে আসার পথে মিঠামইন উপজেলার অদূরে নাগচিনি নদীতে কালবৈশাখীর ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় লঞ্চের ভেতরে ও ছাদে থাকা দুই শতাধিক যাত্রীর প্রায় সবাই লঞ্চের সঙ্গে গভীর পানির নিচে তলিয়ে যান। পরদিন উদ্ধারকারী দল ২১ জনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। টানা ৮ দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিমজ্জিত লঞ্চ থেকে ৪টি লাশ উদ্ধার করে বিআইডবিস্নউটিএ'র উদ্ধারকারী জাহাজ রম্নসত্মম। একই বছরের ২১ এপ্রিল ৮২ জন বরযাত্রী নিয়ে এমভি মজলিশপুর নামে একটি লঞ্চ অষ্টগ্রাম থেকে পাশর্্ববতর্ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ভৈরবের অদূরে সোনাপাড়া এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীর গভীর পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় একই পরিবারের ১০ জনসহ মোট ৪৯ জন বরযাত্রীর করম্নণ মৃতু্য হয়। ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া বাজার থেকে উপজেলা সদরে আসার পথে যাত্রীবাহী একটি নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে গেলে ১০ যাত্রীর করম্নণ মৃতু্য হয়। ঐ বছর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে মিঠামইনগামী যাত্রীবাহী এমভি চানপুর নামে একটি লঞ্চ নিকলী উপজেলার শিংপুর ইউনিয়নের গোড়াদিঘা এলাকায় কালবৈশাখীর কবলে পড়ে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঘোড়াউত্রা নদীতে ডুবে যায়। উদ্ধার অভিযানে মাত্র ৪৪ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করে উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত ৪৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দেশের এ বৃহত্তর হাওড়াঞ্চলের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা রক্ষায় এ অঞ্চলের ৮৮টি অভ্যনত্মরীণ রম্নটে প্রতিদিন ১০ হাজারেরও বেশি নৌযান চলাচল করছে। শুধু এ বৃহত্তর হাওড়াঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত চামড়া নৌবন্দর, ভৈরব নৌবন্দর, বাজিতপুর নৌঘাট থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় নৌযান বিভিন্ন রম্নটে চলাচল করে থাকে।
বাংলাদেশ অভ্যনত্মরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরসহ সংশিস্নষ্ট অন্যান্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের দিকে প্রণীত দুর্বল নৌযান বা ট্রলার তৈরি হয়। এসব শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযান সমুদ্র কিংবা হাওড় এলাকায় পরিবহন ও যোগাযোগ রক্ষায় নিয়োজিত হয়। বৈঠাচালিত নৌকার পরিবর্তে ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলোর দ্রম্নত পরিবহন ও যোগাযোগ রক্ষার সামর্থ্য থাকায় জনপ্রিয়তাও লাভ করে। কিন্তু উপযুক্ত কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও সংশিস্নষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দাপটের সঙ্গে চলাচল অব্যাহত রেখেছে। যাত্রী বাহী অধিকাংশ লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। জোড়াতালি দিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করলেও তদারকি নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারকি না থাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চ, কাগের্া ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ফ্রি স্টাইলে চলাচল, মালামাল পরিবহন করছে। এতে নৌ-দুর্ঘটনা বাড়ছে। প্রানহানির ঘটনা বেড়ে চলেছে।
সংবিধান সংশোধন করে সেনা অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না
আলোচনায় রফিকুল হক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছেন, সংবিধান সংশোধন করে সেনা অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন মানসিক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।
শুক্রবার 'বাংলাদেশের সংবিধান : ইস্যু ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সরকার জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। সরকার একবার বলে দেশে সংবিধান আছে, আবার বলে সংবিধান সংশোধনের কাজ চলছে। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভার আয়োজন করে সেন্ট্রার ফর ন্যাশনাল স্টাডিজ। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, সাংবাদিক আতাউস সামাদ, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ এবং ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরম্নল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. বোরহানউদ্দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিচার বিভাগের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, আমাদের দেশের বিচারপতিরা বাতাসের দিক দেখে রায় প্রদান করেন। যেদিকে বাতাস বেশি থাকে তাদের রায়ও সেদিকে যায়। আইন করে সামরিক আইন জারি বন্ধ করা যাবে না। এজন্য দেশের দুই প্রধান নেত্রীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মানসিকতায় এবং রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, সংবিধান একটি স্পর্শকাতর দলিল। এতে যত কম হাত দেয়া যায় তত ভাল। যাঁরা খসড়া সংবিধান ছাপিয়েছেন তাঁদের শাসত্মির ব্যবস্থা করা উচিত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে তা যদি ছাপানো হয়ে থাকে তাহলে তারও বিচার হওয়া প্রয়োজন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি সিনেমা হলের মামলাকে কেন্দ্র করে বিচারপতি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে রায় দিয়েছেন। এ রায়ে বির্তক রয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার জালিয়াতি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির কাছে মতামত দেয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণের বিষয় উলেস্নখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, সংবিধান সংশোধন করে কমিটি গঠনের ৭ মাস পর লোক দেখানোর জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে।
দেশে সংবিধান আছে কিনা_ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, অবশ্যই দেশে সংবিধান আছে। সংবিধানকে কেউ বাতিল করেনি। কেউ কেউ দেশে সংবিধান নেই বলে বিভ্রানত্মি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিভ্রানত্মি না ছড়িয়ে ধর্ম, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ সংবিধানের গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে বলে মনত্মব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ধর্মভিত্তিক দল থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
এমকে আনোয়ার তাঁর বক্তব্যে ছাপানো খসড়া সংবিধানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার পঞ্চম সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করতে পারবে না। যদি করে তাহলে আবার দেশে চতুর্থ সংশোধনী বহাল হবে এবং দেশে বাকশাল ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার পুরোপুরি '৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে পারবে না বলেও মনত্মব্য করেন এমকে আনোয়ার।
অধ্যাপক আসিফ নজরম্নল বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকার থেকে শুরম্ন করে সব সরকার দল বা ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। কোনদিন জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধন করা হয়নি। বর্তমান সরকার পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ের ওপর ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নিলেও আমরা এ নিয়ে শঙ্কিত। খসড়া সংবিধানে বেশকিছু অসঙ্গতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৰমতা কুৰিগত করার নাম সংসদীয় গণতন্ত্র নয়। দেশে যতবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে তাতে সব সময় ৰমতা কুৰিগত করা ও বিদেশীদের স্বার্থ গুরম্নত্ব পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশীদের সঙ্গে যে কোন চুক্তি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কোন বিধান খসড়া সংবিধানে নেই_ এটা উদ্বেগের বিষয়।
অনুষ্ঠানে সেন্ট্রার ফর ন্যাশনাল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সাবিহউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, আসাদুজ্জামান রিপনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মুফতি হান্নানকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল জোট সরকার
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের চাপের মুখে তা ভণ্ডুল হয় : গ্রেনেড হামলার জিজ্ঞাসাবাদে রেজ্জাকুল-রহিম
শংকর কুমার দে ॥ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রধান আসামি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকত-উল-জিহাদের (হুজি) প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাংলাদেশে এসে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে হুজির প্রধান মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরে তাকে গ্রেফতারের জন্য চাপ দেয়। এ কারণে হুজি প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানকে বিদেশে পাঠাতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। হুজির প্রধান ধরা পড়ায় সব ঘটনা ফাঁস করে দেয়। প্রতিরৰা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবদুর রহিম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় জিজ্ঞাসাকালে সিআইডির কাছে এই ধরনের তথ্য দিয়েছেন।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধান কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও আবদুর রহিম বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু হুজির প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানকে বিদেশে পাঠানো সম্ভবপর হয়নি। হুজি প্রধান মুফতি হান্নানসহ হুজির সদস্যদের গ্রেফতার করা হবে না বলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পৰ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর সে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ওপর ৰুব্ধ হয়ে দেশের সকল গ্রেনেড-বোমা হামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সম্পৃক্তাতার কথা ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুফতি হান্নান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ জঙ্গী তৎপরতায় মদদকারী তাদের কথা ফাঁস করে দেয়।
গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধান কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও আবদুর রহিম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মধ্যে কার কি ভূমিকা ছিল তার বর্ণনা দিচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মধ্যে জামায়াতের প্রাধান্য থাকায় তারা দেশে জঙ্গী সংগঠনগুলোকে সংগঠিত করার এবং তৎপরতা জোরদার করার ব্যাপারে মদদ দিয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তাঁরা হুকুম পালন করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদের উত্তরে দাবি করেছেন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধান কর্মকর্তা।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে রেজ্জাকুল হায়দার চৌধরী ও আবদুর রহিম বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম আসামি হরকত-উল জিহাদ (হুজি) প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানের সাজা মওকুফ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পৰ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর কাছে মার্চি পিটিশন দাখিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ব্রিটেনের চাপের মুখে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হুজি প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানকে গ্রেফতার করার পর সে দেশের গ্রেনেড-বোমা হামলার সকল ঘটনা ফাঁস করে দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেয়।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে রেজ্জাকুল ও রহিম জানান, হুজির জঙ্গীরা সিলেট হযরত শাহজালাল (র) মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালায়। এই ঘটনায় ব্রিটেনের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অনুমতির অপেৰা না করেই বাংলাদেশে এসে তদনত্ম শুরম্ন করে দেয়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড হুজি প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানের কথা জানতে পারে। মুফতি হান্নানের কথা ফাঁস হয়ে গেলে তাকে গ্রেফতারের জন্য সরকারকে চাপ দেয় তারা। বাধ্য হয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের চাপে মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। মুফতি আবদুল হান্নান গ্রেফতার হওয়ার পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ সকল গ্রেনেড-বোমা হামলার কথা ফাঁস করে দেয়।
গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধান কর্মকর্তা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সরকারের নির্দেশে র্যাব হুজি প্রধান মুফতি আবদুল হান্নান ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানাধীন আনন্দনগরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতার করার পর টাস্কফোর্স, জেআইসি, সিআইডি, র্যাব মিলে বিভিন্ন গ্রেনেড-বোমা হামলার মামলায় ১৪৫ দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দেশের সকল গ্রেনেড-বোমা হামলার কথা ফাঁস করে দেয়। এতে বেকায়দায় পড়ে যায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতারের প্রায় ১ বছর আগে ২০০৪ সালে ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র) মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় হুজির জঙ্গীরা। এই ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর '০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালায়। প্রায় ১ বছর ধরে হুজির জঙ্গীরা এত গ্রেনেড-বোমা হামলা চালিয়েও গ্রেফতার এড়িয়ে থাকতে সৰম হয়। এমনকি খোদ রাজধানীতেই হুজির জঙ্গীরা ঘাঁটি গেড়ে বসে তাদের তৎপরতা চালায়। এসব ঘটনায় তখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা ছিল। মুফতি আবদুল হান্নানকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ফাঁস করে দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম। হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই হওয়ার কারণে জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার কথা ফাঁস হয়ে যায়। তারপর তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাওলানা তাজউদ্দিনকে রাজশাহী থেকে মোঃ বাদল নামে পাসপোর্ট করে পাঠানো হয় বিদেশে। জোট সরকার বিদায় নেয়ার আগে ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ছদ্মনামে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় মাওলানা তাজউদ্দিনকে। এই তাজউদ্দিনই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য গ্রেনেডগুলো সরবরাহ ও পরিকল্পনা করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান দুই কর্মকর্তা রেজ্জাকুল ও রহিম সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জঙ্গী সম্পৃক্ততা ও জঙ্গী লালন পালনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তৎকালীন সিআইডির কর্মকর্তারা জজ মিয়াকে দিয়ে একুশে আগস্টের মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সাজানো নাটকের কাহিনী তৈরি করে। জজ মিয়াকে খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি এবং শফিকুল ইসলাম ও আবুল হাসেম রানাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মামলা তদনত্মের নামে নাটক সাজানো হয়। তাদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে বাধ্য করা হয়। শফিকুল ইসলাম ও আবুল হাসেম নামে দুই যুবককে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জের ফতুলস্না এলাকা থেকে গ্রেফতার করে এনে গ্রেফতার দেখানো হয় একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায়। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এই দুইজনকে দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ছিঁচকে অপরাধীদের আসামি করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধান রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও আবদুর রহিম বলেছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সিআইডির সাবেক প্রধানের নির্দেশে ২১ আগস্টের উদ্ধারকৃত তাজা গ্রেনেড সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোখলেসুর রহমান, কম্পিউটার প্রকৌশলী শৈবাল সাহা পার্থকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মুখ দিয়ে বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয় ভারতে এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর নির্দেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা স্কটল্যাড ইয়ার্ডের তদন্তদল দেশের জঙ্গী তৎপরতায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সম্পৃক্ততার ঘটনা জেনে যাওয়ার পর আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
সিআইডির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবদুর রহিম ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও হাওয়া ভবনের খুবই ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত। তাই তারা চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার জিজ্ঞাসাবাদে তেমন সহযোগিতা না করলেও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারা সহযোগিতা করছে। সিআইডি কর্মকর্তার ভাষ্য মতে তাঁরা মুখ খুলেছেন।
লোডশেডিং মধ্যরাতেও, বিড়ম্বনা ॥ ত্রুটি ব্যবস্থাপনায়
সচিবের মতে জুনের পর আর সমস্যা হবে না
রশিদ মামুন ॥ রাতে সব ধরনের অফিস আদালত বন্ধ থাকে, রাত ৮টার পর দোকানপাট বিপণি বিতানও বন্ধ হয়, শিল্প কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকে অর্থাৎ আবাসিক ছাড়া অন্য কোন গ্রাহকের রাতে তেমন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। এর ওপর রাত ১১টার পর অধিকাংশ মানুষ ঘুমাতে যাওয়ায় বাসাবাড়ির লাইট বন্ধ করতে শুরম্ন করে অর্থাৎ বৈদ্যুতিক বাতির জন্য লোড কমে যায়। কিন্তু বিশেষ করে অফপিক আওয়ারে ১১টার পর প্রতি রাতেই লোডশেডিং করা হচ্ছে। এমনকি তাপমাত্রা কম থাকলে অর্থাৎ বিদ্যুতের চাহিদা কম হলেও গ্রাহক মধ্যরাতের লোডশেডিং বিড়ম্বনা থেকে রেহায় পাচ্ছেন না।
বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানি সূত্র বলছে, তাপমাত্রা কম থাকায় এখনও গত বছরের তুলনায় কম লোডশেডিং হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে একই বিদ্যুত বরাদ্দে লোডশেডিং বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকবে না। পিডিবি সূত্র বলছে, গ্রীষ্মের মধ্যে বিদ্যুত উৎপাদন খুব বেশি বৃদ্ধি পাবে না। এ কারণে এবার গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়বে।
লোড ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ॥ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সাবস্টেশন থেকে প্রতিদিন একই নিয়মে লোডশেডিং করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিন-রাতে লোডশেডিং করার ৰেত্রে খুব কমই নিয়মের হেরফের করা হয়। এ জন্য যেসব ফিডারে রাতে লোডশেডিং করা হয় তাদের প্রতিদিনই লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হয়। রাজধানীর পশ্চিম হাজীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মোমেন জানান, প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাসার বিদু্যত চলে যায়। গত কয়েকদিন তিনি একই নিয়মে বিদু্যত যেতে দেখছেন। ঠিক একই সময় তিনি রামপুরা (মহানগর প্রজেক্ট) এলাকার সকল বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখেন। মোমেন অভিযোগ করেন, তার এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে দুই থেকে তিন বার লোডশেডিং করা হলেও রামপুরা (মহানগর প্রজেক্ট) এলাকায় কোন কোন দিন একবার বিদু্যত গেলেও অধিকাংশ দিন লোডশেডিং করা হয় না। পাশাপাশি দুটি এলাকার এক জায়গায় বিদু্যত দিয়ে অন্য এলাকার মানুষকে দিনের পর দিন বঞ্চিত করে সরকারের বিরম্নদ্ধে ৰুব্ধের কোন ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য রামপুরা ও পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকায় বিদু্যত বিতরণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সবাইকে সমানভাবে বিদু্যত দিয়ে থাকি।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে আলাপ করে অসমভাবে বিদু্যত বণ্টনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর শানত্মিবাগের বাসিন্দা অসীম সেন জনকণ্ঠে ফোন করে জানান, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলে রাত ১২টার পর বিদু্যত চলে যায়। এটা কি নিয়ম হয়ে গেছে জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ঢাকার এত বছরের জীবনে গত দু'বছর ধরে তিনি গভীর রাতে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন জানিয়ে বলেন, এর আগেও তো গ্রীষ্ম ছিল, সেচও ছিল কিন্তু তখন তো এমন রাতবিরাতে লোডশেডিং করা হয়নি। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন, মগবাজার, মিরপুর, উত্তরাসহ সকল এলাকার গ্রাহকদের একইভাবে মধ্য রাতের লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাপমাত্রা কম থাকলে বিদু্যতের চাহিদা কম থাকে। কিন্তু এরপরেও লোডশেডিং হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা বেশ কমে গেলেও লোডশেডিং হয়েছে প্রতিদিনির মতো।
যান্ত্রিক ত্রম্নটি ঠিক হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় লাগে॥ অগ্নিকাণ্ডের কারণে গত চারদিনে রামপুরা থেকে বিশ্বরোড পর্যনত্ম এলাকার বাসিন্দারা বিদু্যতের ভোগানত্মিতে রয়েছেন। প্রধান গ্রিডে আগুন লাগায় ডেসকোর এই এলাকার গ্রাহকরা ঠিক মতো বিদু্যত পাচ্ছে না। মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন ফোন করে শুক্রবার জনকণ্ঠকে জানান, গত দিন ধরে তাদের এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে ডেসকোর স্থানীয় অফিসে ফোন করলে জানানো হচ্ছে, প্রধান গ্রিডে অগি্নকা-ের জন্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সম্পর্কে ডেসকোর স্থানীয় সরবরাহ কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বড় রকমের কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বিতরণ কোম্পানিগুলো তা সারিয়ে তুলতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় নেয় এতে গ্রাহক ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
চাহিদা-উৎপাদনে এখনও বিস্তর ফারাক ॥ ঘাটতির হিসেবে পিডিবি বরাবরই গোঁজামিল দেয়ার চেষ্টা করে। বিতরণ কোম্পানিগুলো পিডিবির কাছে যে চাহিদা দেয় তা থেকে অনেক কমিয়ে চাহিদা দেখানোতে পিডিবির হিসেবে কোন সময়ই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি হয় না। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলোর চাহিদা পৃথকভাবে হিসেব করে দেখা গেছে, দেশে দৈনিক বিদু্যত ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। এখন দৈনিক গড়ে অফপিক আওয়ারে বিদু্যত উৎপাদন হচ্ছে চার হাজার মেগাওয়াটের মতো আর সঞ্চালন ৰতি এবং প্রাথমিক ব্যবহার বাদ দিয়ে দিনের বেলায় তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট গ্রাহককে সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে পিক আওয়ারে উৎপাদন হয় চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের মতো। তখন গ্রাহককে সরবরাহ করা হয় তিন হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে এই উৎপাদনে কখনও গ্রাহককে সন্তুষ্ট করা যায় না। এর উপর বিশেষ এলাকা এবং বিশেষ শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ করতে গেলে আবাসিক গ্রাহককে বঞ্চিত করা হয়।
গ্রামে রাতদিন সব সময় একই অবস্থা ॥ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সারাদেশে ৭০টি সমিতির মাধ্যমে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৭০ জন গ্রাহককে (ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্ম) বিদু্যত সরবরাহ করছে। বিশাল এই গ্রাহক সংখ্যার জন্য আরইবির সান্ধ্যকালীন প্রতিদিনের চাহিদা দুই হাজার ৫২৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে প্রতিদিন সরবরাহ করা হয় এক হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। আর দিনের দুই হাজার ২৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় এক হাজার ২৯২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ আরইবির হিসাবেই রাত-দিনের বিদু্যতপ্রাপ্তির পার্থক্য মাত্র ১০ মেগাওয়াট। ঢাকা বা এর আশপাশের কয়েকটি পলস্নী বিদু্যত সমিতি চাহিদার অর্ধেকের বেশি সরবরাহ পেলেও অধিকাংশ সমিতি চাহিদার অর্ধেকের কম সরবরাহ পায়। আবার এমন অনেক সমিতি রয়েছে সেখানে সরবরাহ চাহিদার এক তৃতীয়াংশ। ওইসব এলাকার গ্রাহক রাত-দিনের সামান্য সময়ই বিদু্যতের দেখা পান।
সেচে কিভাবে চাহিদা মোকাবেলা করা হয়, জানতে চাইলে আরইবির এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেসব জেলার সেচ আরইবির বিদু্যতনির্ভর সেখানে রাতে (১১টার পর) সরবরাহ বেশি নেয়া হয়। তিনি বলেন, যেহেতু মোট উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ আরইবির জন্য বরাদ্দ করা হয় সঙ্গত কারণে রাতের বেলায় যেসব সমিতিতে সেচের গ্রাহক নেই সেখানে বিদু্যত দেয়া সম্ভব হয় না।
কতর্ৃপৰ কি বলেন ॥ বৃহস্পতিবার বিদু্যত মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর বিদু্যত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, মে-জুনের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এতে বিদু্যত নিয়ে আর তেমন সমস্যা হবে না। একই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, সরকার অনেক বিদু্যত উৎপাদন কেন্দ্র করছেন এ জন্য বিদু্যত নিয়ে আর কোন চিনত্মা নেই। ভবিষ্যতে আর কোন সমস্যা হবে না। মধ্যরাতের লোডশেডিং নিয়ে কথা বলতে চাইলে ডিপিডিসি এবং ডেসকোর শীর্ষ কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা কেউ বিদু্যত উৎপাদন করে না। বিদু্যত কিনে বিক্রি করে। এৰেত্রে সরবরাহ কম থাকলে লোডশেডিং করা ছাড়া কোন বিকল্প থাকে না। তারপরও রাতে কিছু শিল্প কারখানা চলায় রাতেও চাহিদা কমে না।
তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার পেলেন টোকন ঠাকুর কাজী রাফি অপূর্ব শর্মা
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ এইচএসবিসি এবং কালি ও কলম প্রবর্তিত তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০১০ শুক্রবার প্রদান করা হয়েছে। সম্মানজনক এ পুরস্কার পেয়েছেন টোকন ঠাকুর, কাজী রাফি, প্রশান্ত মৃধা ও অপূর্ব শর্মা। সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক বাণী বসু। কালি ও কলম সম্পাদকম-লীর সভাপতি এমিরেটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, এইচএসবিসি'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় প্রকাশ, সম্পাদকম-লীর সদস্য লুভা নাহিদ চৌধুরী প্রমুখ। দুই বাংলাকে বিষম যমজ উলেস্নখ করে অনুষ্ঠানে বাণী বসু বলেন, ভূখণ্ড ভাগাভাগি হলেও রবীন্দ্রনাথ, নজরম্নল, লালন, বেগম রোকেয়া, সৈয়দ ওয়ালিউলস্নাহদের ভাগাভাগি করা সম্ভব হয়নি। জিলস্নুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, এ পুরস্কারের সুফল আমরা পাব। এর জন্য বেশিদিন অপেৰা করতে হবে না। তরম্নণ লেখকদের যথাসময়ে স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণাই এ সুফল বয়ে আনবে। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ বছর 'তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না' কাব্যগ্রন্থের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন টোকন ঠাকুর। 'ধূসর-স্বপ্নের সাসান্দ্রা' গ্রন্থের জন্য কথাসাহিত্য বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন কাজী রাফি। 'গল্পের খোঁজে' গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ ও গবেষণা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন প্রশান্ত মৃধা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা ও প্রবন্ধে পুরস্কার পেয়েছেন অপূর্ব শর্মা। 'সিলেটে যুদ্ধাপরাধ ও প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র' গ্রন্থের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন তিনি। চারজন কবি ও লেখকের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। সবশেষে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার।
বাংলাদেশের তরম্নণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম ও সৃজনধারাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক এইচএসবিসি ও মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম 'তরম্নণ কবি ও লেখক পুরস্কার' প্রদান করে আসছে।
তাসের দেশ মঞ্চস্থ ॥ শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নৃত্যনাট্য 'তাসের দেশ'। রবীন্দ্র সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলৰে গ্রামীণফোনের সহায়তায় ব্রিটিশ কাউন্সিল এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
নৃত্যনাট্যটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী লুবনা মারিয়াম। ফিউশনধমর্ী নৃত্যনাট্যটির সংলাপ, নৃত্য, সুর এবং সঙ্গীতে ছিল বাংলা ও ব্রিটিশ প্রভাব। যুক্তরাজ্যের লিডস মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রধান র্যাচেল ক্রিশের কাছ থেকে প্রশিৰণ গ্রহণ শেষে শিল্পীরা এ মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন।
একই আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ এপ্রিল আয়োজন করা হবে বিশেষ ফ্যাশন শো'র।
এক ঘণ্টার আয়োজনে রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন ভাবনা ও ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন চর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
নতুন প্রদর্শনী আজ থেকে বেঙ্গলে ॥ ভারতের বিশিষ্ট শিল্পী এস.কে. শাহজাহানের একক চিত্রকলা প্রদর্শনী শনিবার শুরম্ন হচ্ছে। কলকাতার আকার প্রকার গ্যালারির সহযোগিতায় এ আয়োজন করছে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস। 'একের বহুত্ব্ব' শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভারতের বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক প্রণবরঞ্জন রায়। শুক্রবার দুপুরে বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান। বক্তব্য রাখেন শিল্প সমালোচক প্রণবরঞ্জন রায়, কলকাতার আকার প্রকার গ্যালারির পরিচালক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শিল্পী এস.কে. শাহজাহান এবং আয়োজক গ্যালারির পরিচালক সুবীর চৌধুরী।
আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে মোট ৩৮টি শিল্পকর্ম স্থান পাবে। প্রদর্শনী চলবে আগামী ২ মে পর্যনত্ম। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যনত্ম সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পাঁচ দিনের ফরাসি নাট্য উৎসব শুরম্ন আজ ॥ পাঁচ দিনব্যাপী 'আনত্মর্জাতিক ফরাসি নাট্য উৎসব-২০১১' আজ শনিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় শুরম্ন হচ্ছে। থিয়েটার গ্রম্নপ ঢাকা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেস দো ঢাকা এবং ফেইম স্কুল অব ডান্স, ড্রামা এ্যান্ড মিউজিক চট্টগ্রামের যৌথ উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো বর্ণাঢ্য এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
বঙ্গবন্ধু শিশুগ্রন্থমালা প্রকাশের জন্য অভিনন্দন ॥ শিশু একাডেমীর বঙ্গবন্ধু শিশুগ্রন্থমালা প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ছড়াসাহিত্য পরিষদ। সংগঠনের পৰে শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। পরিকল্পনা সফল করতে শিশু একাডেমী থেকে একজন ও বাইরে থেকে চারজন যোগ্য সমন্বয়ক নিয়োগের পরামর্শ দেয় সংগঠনটি।
পঞ্চম জাতীয় নৃত্য উৎসব আজ থেকে শিল্পকলায় ॥ বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার উদ্যোগে আজ শনিবার থেকে শুরম্ন হচ্ছে পঞ্চম জাতীয় নৃত্য উৎসব। বিকেলে সপ্তাহব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। আনত্মর্জাতিক নৃত্য দিবস, রবীন্দ্র সার্ধশত জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার চার দশক পুর্তি উপলক্ষে এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা পস্নাজায় আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যনত্ম চলবে উৎসব।
প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে অসহায় অর্থমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রাইভেটকারের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্ব্ব প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বললেন, সিএনজির দাম বাড়িয়ে বা শুল্ক আরোপ করেও এ ব্যাপারে কোন লাভ হচ্ছে না।
শুক্রবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা এতই বিত্তশালী যে সিএনজির দাম বাড়িয়ে বা অধিকহারে শুল্ক আরোপ করেও প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে কোন লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানীতে প্রাইভেটকার নিয়েন্ত্রণে সিএনজির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজট অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব ব্যাপারে উদ্যেগ নিলেও বিত্তশালীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। আগামী বাজেটে প্রাইভেটকার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে বলে জানান মুহিত।
সভায় বাজেটের গতানুগতিক ধারা পরিবর্তনের দাবি উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বাজেট গতানুগতিক থেকে পরিবর্তন করা যাবে না। গতানুগতিকতার মধ্যে থেকেই পরিবর্তন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসত্মাব এসেছে। এ ছাড়া ঝরেপড়া রোধ, শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো, স্থানীয় সরকারকে শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কৰে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন এনজিও সংগঠনের প্রধান ও প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
মুন্সীগঞ্জে আ'লীগের দু'গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ২২
ইউপি প্রার্থী বাছাই
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শুক্রবার বিকেলে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দীতে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে ২২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই নিয়ে বৈঠক চলাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দু'গ্রুপের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পুলিশ জানায়, গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মিঠু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ হোসেন গ্রম্নপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। আহত জাহাঙ্গীর, সেলিম, ডালিম, শাজাহান ও বাবুকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, প্রার্থী বাছাই সংসদ সদস্যের অবৈধ হস্তক্ষেপ। এতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট ছাড়াও দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এম ইদ্রিস আলী এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় সরকারদলীয় এই স্থানীয় সংসদ সদস্য, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরম্নল হাসান চৌধুরী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েতউল্লাহ খান তোতা ইউপি ভবনে এক বৈঠকে বসেন। এরই মধ্যে বাইরে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী এই দু'গ্রুপ এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বৈঠকস্থলে আসতে গেলে প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরম্নল হক মিঠুর সমর্থকরা মিছিলে হামলা চালায় বলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন। অন্যদিকে মিঠু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বৈঠকের আশপাশে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর পক্ষের সমর্থকরা অবস্থান নেয়। কিন্তু আরিফ হোসেনের লোকজন উস্কানি দিয়ে এই সংঘর্ষ বাধায়।
গজারিয়া ওসি আরজু মিয়া জানান, বেলা ৩টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। এরই মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিন্টুসহ আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর কয়েক হাজার সমর্থক লাঠি, সরকি, ফালা, টেটাসহ দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্ব স্ব প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা ছাড়াই বৈঠক শেষ করে সংসদ সদস্যসহ নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যায় ফিরে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরাইলে লঞ্চ দুর্ঘটনায় সুনামগঞ্জের ৬ জনের মৃত্যু
নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ, ২২ এপ্রিল ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে লঞ্চডুবির ঘটনায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার নিহত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের দাফন কার্য শুক্রবার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় উপজেলার সুখাইড় রজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সরিসাকান্দা-ইসলামপুর বাজার এলাকায় নিহতদের জানাজা শেষে গ্রামের গোরস্তানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, লঞ্চডুবির ঘটনায় তাঁর ইউনিয়নের ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এঁরা হলেন সরিসাকান্দার আব্দুছ ছোবহানের ছেলে দীন ইসলামের স্ত্রী কল্পনা বেগম এবং তার শিশু পুত্র কাসেম ও কাওছার। এ ছাড়া খুর্শেদ মিয়ার স্ত্রী ফজরনেছা এবং আমির হোসেনের স্ত্রী তাছলিমা এবং তার ২ মাসের শিশু বাবু। শিশু কাওছারের লাশ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির চিঠি আইওয়াশ ॥ জয়নুল আবদীন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার কাছে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির 'চিঠি' পাঠানোর বিষয়টিকে 'আইওয়াশ' (লোক দেখানো) বলে উল্লেখ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক। শুক্রবার রাজধানীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচীতে তিনি বলেন, গত নয় মাস ধরে সরকার সংবিধান সংশোধনের কাজ করছে। এতদিন পর তারা বিরোধীদলীয় নেতার মতামত জানতে চিঠি দিয়েছে। এটা আইওয়াশ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিরোধী দলের চীফ হুইপ আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে '৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া হলে তা মেনে নয়া হবে না। এ সময় সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে গণভোট আয়োজনেরও দাবি করেন তিনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইসু্যতে এ মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) যুব শাখা- যুব জাগপা। মানববন্ধনে জয়নুল আবদীন ফারম্নক পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গত আড়াই বছরে বর্তমান সরকার সবৰেত্রেই দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশ আর চলছে না।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, যুব জাগপার সভাপতি বেলায়েত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে মালয়েশিয়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাৰাত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বুধবার তাঁর উত্তরার বাসভবনে সৌজন্য সাৰাত করেছেন বিএনপির মালয়েশিয়া শাখা নেতৃবৃন্দ। এ সময় মির্জা ফখরম্নল নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যায়-অবিচার আর অপশাসনের বিরম্নদ্ধে প্রবাসেও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে। দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখনই জালিম সরকারের বিরম্নদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি সরকারের বিরম্নদ্ধে মালয়েশিয়াসহ বহির্বিশ্বে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ সময় বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি মাহবুব আলম শাহ, মজনু মুন্সী, গোলাম আজম রকি, তানবির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদি জড়িত ॥ সুপ্রীমকোর্টে পুলিশ কর্মকর্তার এফিডেভিট
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতে সঞ্জয় ভাট নামের শীর্ষস্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা সেদেশের সুপ্রীমকোর্টে এক হলফনামায় বলেছেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইচ্ছাকৃতভাবেই ২০০২ সালে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলতে দিয়েছিলেন।
সঞ্জয় ভাট শুক্রবার তাঁর এই হলফনামায় বলেন, ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। ওই সভায় নরেন্দ্র মোদি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছিলেন কেউ সাহায্যের আবেদন করলে তারা যেন তা উপেৰা করেন। মোদি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য মুসলমানদের শিক্ষা হওয়া উচিত। হিন্দুদের মধ্যে চরম ক্ষোভ কাজ করছে এবং তাদের তা প্রশমনের সুযোগ দেয়া হোক। সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা মোদিকে বলেন, গোধরা ট্রেনে আগুনে নিহতদের লাশ আহমেদাবাদে নেয়া হলে এবং ভিএইচপির ডাকা ধর্মঘটে বিজেপি সমর্থন দিলে শহরে ও সারা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়বে যা সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পুলিশের নেই। কিন্তু এ যুক্তি মানেনি মোদি। খবর বিবিসি, টাইমস অব ই-িয়া ও দ্য হিন্দু অন লাইনের।
সঞ্জীব আহমেদাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, হলফনামায় আমি সত্য কথা বলেছি। আদালত যদি সত্য ঘটনা বা তথ্য চায় তাহলে আমার এই হলফনামায় তা পাবে। তিনি হলফনামায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কারণে ২৮ ফেব্রম্নয়ারি গুজরাটে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোশকতায় ধর্মঘটে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা দমনে পুলিশের ভূমিকা পর্যাপ্ত ছিল না এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও একই ভূমিকা পালন করে পুলিশ।
দাঙ্গার সময় গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন সঞ্জীব। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা অন্ধের মতো মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ মেনে চলি। আর এ কারণেই আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে।
সঞ্জীব ভাট আরও বলেন, বিশেষ তদনত্মকারী টিমের প্রতি তাঁর কোন আস্থা নেই। আর এ কারণেই তিনি উচ্চ আদালতে এফিডেভিট দাখিল করেছেন। এফিডেভিটে ভাট আদালতের কাছে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন ।
উল্লেখ্য, একটি ট্রেনে অগি্নসংযোগের ঘটনায় ৬০ জন হিন্দু তীর্তযাত্রী নিহত হওয়ার পর ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গা শুরম্ন হয়। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। দাঙ্গা নিয়ে গতবছর এসআইটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন মোদি। তখন বৈঠকে সঞ্জীবের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন তিনি।
মানবাধিকার বজায় রেখেই 'সেফ হোমে' জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ॥ আইন প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালতের নির্দেশনা মেনে মানবিক আচরণ এবং সম্পূর্ণ মানবাধিকার বজায় রেখেই 'সেফ হোমে' যুদ্ধাপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'সেফ হোম' কোন টর্চার সেল নয়। চিকিৎসক ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপি এই 'সেফ হোম' নিয়ে বিতর্ক ছড়াচ্ছে। যারা যুদ্ধাপরাধী ও সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের পৰে কথা বলেন তাঁরা 'বিশ্ব বেহায়া' ছাড়া আর কিছুই নয়।
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সনত্মান আয়োজিত 'মুজিবনগর সরকার, স্বাধীনতা সংগ্রাম : সমকালীন প্রেক্ষাপট' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আইন প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনার দুই পুত্র কোকো-তারেক ভাল মানুষ হলে কেন আদালতে আসেন না? সাহস থাকলে আদালতে এসে তাদের মামলা মোকাবেলা করম্নক। তাঁরা বাংলাদেশে মানি লন্ডারিংয়ের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশেষ কারও মামলা নয়, সকল মামলাই আমরা দ্রম্নত নিষ্পত্তি করতে চাই। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। হাওয়া ভবনে বসে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরও বিচার করা হবে। এ সময় তিনি চারদলীয় জোট ও আমিনীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আসুন কোথায় বসবেন?
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন বলেন, নারী নীতিতে ইসলাম বিরোধী কোন কথা থাকলে দেখিয়ে দিন। নারী নীতি নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে আমিনীকে বিএনপি এজেন্ডা দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। আমিনীর নিজের কোন শক্তি নেই। মূলত বিএনপির শেল্টার পেয়েই আমিনী এসব করার সাহস পাচ্ছে। বিএনপি শেল্টার তুলে নিলেই আমিনীর পায়ের নিচে কোন মাটি থাকবে না।
'আমরা মুক্তিযোদ্ধা সনত্মান'-এর সভাপতি হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ করীম ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি আজম খান।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি দেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চায় ॥ মেজর রফিক
চট্টগ্রামে মিলনমেলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং একটি শোষণহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর মিলনমেলা। এতে আলোচকগণ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালিত বাংলাদেশকে জীবন দিয়ে হলেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম হল চত্বরে দু'দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি। আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। প্রস্তুতি পরিষদ চেয়ারম্যান কমিউনিস্ট নেতা আহসান উলস্নাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ১নং সেক্টরের সাব-কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, গণফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদউলস্নাহ চৌধুরী, উৎসব কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম, ন্যাপ নেতা বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী, আলী আহমদ নাজির, উদয়ন নাগ, মিয়া জাফর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক অশোক সাহা, পুলক দাশ ও ফজল আহমদ।
সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশী-বিদেশী অপশক্তি বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। তারা পশ্চাৎপদতা, রক্ষণশীলতা, মৌলবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতাকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টায় এখনও তৎপর। রাজনীতি, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সমাজ অভ্যনত্মরে প্রতিক্রিয়াশীলরা খুবই সক্রিয়। এ অপশক্তি দেশের অগ্রগতি চায় না। এরা চায় না বাংলাদেশ বিশ্ব সভায় সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াক। এ অপশক্তির বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণকে নিয়ে দুর্বার লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ না হলে প্রতিক্রিয়াশীলরা আবার ছোবল মারবে। দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। সিপিবি নেতা শহীদউলস্নাহ চৌধুরী বলেন, হাতেগোনা কিছু লোক দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ লুটেরারা যে দলেই থাকুক না কেন এরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করবে। সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যে বেগম মুশতারি শফি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ সরকারকে অবশ্যই করতে হবে। বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।
যুদ্ধকালীন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিয়ন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত দু'দিনব্যাপী এ উৎসবে মিলনমেলা ছাড়াও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদানকারীদের প্রতি সম্মান জানানোসহ মুক্তিযুদ্ধের এ্যালবাম প্রকাশনা উৎসব। সকাল ১১টায় উৎসব উদ্বোধনের পর বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ন্যাপ নেতা এ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন ভুইয়ার সভাপতিত্বে উৎসবের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রসত্মাব করেন আবদুল হাকিম। স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন চাকসু ভিপি মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান হিরা, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুলস্নাহ, ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শেখর দসত্মিদার, মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট আনোয়ারম্নল কবির চৌধুরী। দিন শেষে এ্যাডভোকেট আনোয়াররম্নল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ্যালবাম প্রকাশনা উৎসবে এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ছিল দেশাত্মবোধক গান ও গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র।
ওএমএস কর্মসূচীর সময়সীমা বাড়ানোর আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রীর
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ওএমএস কর্মসূচীর সময়সীমা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দিলেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গরিব লোকের চাহিদার প্রেক্ষিতে শুক্রবার তিনি এ আশ্বাস দেন। খাদ্যমন্ত্রী সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ওএমএস কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময়ে চাল কিনতে আসা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচী সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। এসময়ে তিনি কর্মসূচীতে বিক্রি করা চালের মান, ওজনে সঠিক দেয়া হয় কি না, কতক্ষণ ট্রাক থাকে, চাল বিক্রি না করে ট্রাক চলে যায় কি না, এ কর্মসূচী চালানোর ফলে জনগণের কোন উপকার হয়েছে কি না, আর কতো দিন এ কর্মসূচী চালাতে হবে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানতে চান।
ক্রেতারা চলমান ওএমএস কর্মসূচী এখনই বন্ধ না করে আরও কিছুদিন অব্যাহত রাখার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এ কর্মসুচী চলায় বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে তাঁরা চাল কিনতে পারছেন। কর্মসূচী অব্যাহত না রাখা হলে তাঁদের অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও মন্ত্রণালয় থেকেও ৩১ জন কর্মকর্তাকে এ কার্যক্রম পরিদর্শনের দায়িত্ব দেয়া আছে। তাঁরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন দিচ্ছেন। স্থানীয় লোকজনকেও এ কর্মসূচী সঠিকভাবে চালানোর জন্য সহযোগিতা করতে হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মানিকনগর এলাকায় তিনটি, উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় তিনটি, দৰিণ যাত্রাবাড়ীতে তিনটি, জুরাইনে দুইটি, ধোলাইরপাড়ে দুইটি, ধলপুর এলাকায় দুইটি, যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচা এলাকায় দুইটি, মুরাদপুর মাদরাসা রোড, জুরাইন কমিশনার রোড, ঢাকা কটন মিল এলাকায় দুইটি, আইজি গেইট এলাকায় দুইটি, জুবিলি স্কুল এলাকায় দুইটি, দয়াগঞ্জ এলাকায় দুইটি, ধোলাইখাল সিঅ্যান্ডবি মাঠ, ওয়াইজঘাট এলাকায় দুইটি, কামরাঙ্গীর চর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুইটি, নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধ, বৌবাজার সনাতনগড় এলাকাসহ ৫০টিরও অধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময়ে খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালক (বিতরণ) মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
না'গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১
বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন খোকনকে (৫০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লার পৌষাপুকুর পাকিস্তান খাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দুপুরে কবির হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সালেহা বেগমের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও ফতুল্লা মডেল থানা ঘেরাও করেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় শিশুসহ ৪ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ পৌষাপুকুরপাড় এলাকার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সালেহা বেগমকে গ্রেফতার করে। নিহত খোকন ফতুল্লার বাতিলা রেললাইন এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে।
খোকনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার বটতলা এলাকার বাসা থেকে তাকে মোবাইলফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার পর খোকনের মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকে খোকন নিখোঁজ থাকে। শুক্রবার সকালে খবর পান তাঁর স্বামীকে কে বা কারা হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে রেখে গেছে। তিনি আরো জানান, এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় একই এলাকার সালেহা বেগম নামে এক মহিলার সঙ্গে সম্প্রতি কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। কবির হোসেন অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ যুবক-যুবতীসহ সালেহা বেগমকে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে সালেহা বেগম জামিনে মুক্তি পেয়ে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা করেন। ওই মামলায় খোকন ছিল সাত নম্বর আসামি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে কবির হোসেন হত্যার ঘটনায় কয়েক শ' এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা ঘেরাও করে। তারা কবির হোসেন হত্যার জন্য সালেহা বেগমকে দায়ী করে তার গ্রেফতার দাবি করেন। এ সময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে লাঠিপেটা করে। লাঠিপেটায় নিহত কবির হোসেনের ৪ বছরের শিশু সোনিয়া আক্তার, কামাল হোসেন, পনির মিয়াসহ ৪ জন আহত হয়। পরে দুপুরে এলাকাবাসীর দাবির মুখে পুলিশ ফতুলস্না পৌষাপুকুরপাড় এলাকার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সালেহা বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।