মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১১, ৬ মাঘ ১৪১৭
নব্যবৈষ্ণববাদের প্রবক্তা ধর্মপ্রচারক ও নারী শিক্ষায় শ্রদ্ধাশীল
গেণ্ডারিয়ায় বিজয়কৃষ্ণ আশ্রমের পুরো ৩ বিঘা জমিই বেহাত, উঠেছে বহুতল ভবন
সৈয়দ সোহরাব
নারী জাতির উন্নতি ও শিক্ষার ক্ষেত্র তৈরিতে পূর্ববঙ্গে যে ক'জন ঋষি_মনীষী কাজ করেছেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী। প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক হিসেবেও তিনি উভয় বাংলায় ছিলেন সমধিক পরিচিত। নারী শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কারণেই তিনি ব্রাহ্মসমাজের আচার্য কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে করেছেন শিক্ষকতা। ধর্মপ্রচারক হিসাবে তিনিও ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের আচার্য, তবে এক সময় ব্রাহ্মসমাজ ত্যাগ করে হয়ে ওঠেন নব্য বৈষ্ণববাদের প্রবক্তা। আর এ সাধনায় ব্রতী হয়েই গেণ্ডারিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন আশ্রম। কালের বিবর্তনে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর সে আশ্রম আজ আর নেই। তিন বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা আশ্রমের পুরো জমিই হয়ে গেছে বেদখল। সেখানে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। তবে তাঁর আশ্রমের পাশে আজও জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে শিষ্য যমুনা মাঈয়ের আশ্রম। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কে ছিলেন (?), গে-ারিয়া এলাকার কেউ আজ আর তা জানেন না। 'যমুনা মাঈয়ের আশ্রম'টি টিকে থাকায় গুরুর চেয়ে শিষ্যই এখন সেখানে অধিক পরিচিত।
বাংলা পিডিয়া থেকে জানা যায়, নদীয়া জেলার দহকুল গ্রামে জন্ম বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর। তাঁর বাবার নাম আনন্দবন্দ গোস্বামী, মা স্বর্ণময়ী দেবী। তাঁর জন্ম ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে (১২৪৮ বঙ্গাব্দের ১১ শ্রাবণ) এক পূর্ণিমা তিথিতে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ১৮৬০ সালে (১২৬৭ বঙ্গাব্দে) অধ্যয়নকালে তিনি বেদান্ত পাঠে মনোনিবেশ করেন এবং ব্রাহ্মধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। অতঃপর বাল্যবন্ধু অঘোরনাথ গুপ্ত ও গুরুচরণ মহলানবীশকে সঙ্গে নিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীৰিত হন। ব্রাহ্মধর্মের প্রচারক হিসেবে ২৫ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করেন। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম ব্রাহ্মসমাজের আচার্য হয়ে পূর্ববঙ্গে আসেন এবং ঢাকায় কিছুদিন ব্রাহ্মসমাজের আচার্য কেশবচন্দ্র সেনের সঙ্গে কাজ করেন। ঢাকায় ১৮৪৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হলেও, এখানে ব্রাহ্ম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৮ সালে। সে স্কুলেই তিনি শিৰকতা করেন অঘোরনাথ গুহর সঙ্গে। আর তখনই তিনি নারী শিৰা ও নারীর উন্নতির প্রতি হয়ে ওঠেন শ্রদ্ধাশীল। ধর্মপ্রচার করতে গিয়ে তিনি ময়মনসিংহ, শানত্মিপুর, গয়া প্রভৃতি স্থানে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠায়ও পালন করেন প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা। এরই মধ্যে গয়াতে তিনি সাধুসঙ্গ যাপন করেন। তখন থেকেই মানসিকভাবে পরিবর্তিত হতে থাকেন তিনি এবং তাঁর মধ্যে বৈরাগ্যভাবের উদয় হয়। বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি সমধিক আকর্ষণ হেতু ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে তাঁর মতভেদও বাড়তে থাকে এবং ১৮৮৬ সালে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের আচার্যপদ থেকে বিতাড়িত হন। পরে ১৮৮৮ সালে ব্রাহ্মসমাজ ত্যাগ করে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে আদিষ্ট হন এবং ঢাকার গে-ারিয়ায় আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে ধর্মসাধনায় ব্রতী হন। এক পর্যায়ে আশ্রমে সর্বৰণিক শিষ্য হিসেবে কুলদা ব্রহ্মচারী ও যমুনা মাঈ কাজ শুরম্ন করেন।
জগবন্ধু মৈত্রের লেখা প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী গ্রন্থ থেকে জানা যায়, তিনি পূর্ব বাংলা ব্রাহ্মসমাজ ত্যাগ করে কিছুদিন একরামপুরের বাড়িতে বসবাস করেন। তখন তাঁর বেশ কিছু শিষ্য সিদ্ধানত্ম নেয়, তাঁরা এক মাসের বেতন একসঙ্গে করে গুরম্নর জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে দেবেন। তখন গোস্বামী গে-ারিয়ার নির্জন স্থানে আশ্রম প্রতিষ্ঠার সায় দেন। গুরম্নর কথামতো শিষ্যরা গে-ারিয়ার ঢালকানগরে তিন বিঘা জমি কিনে সেখানে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। উলেস্নখ্য, তিন বিঘা জমি গুরম্নর স্ত্রী যোগমায়া দেবীর নামে কেনা হলেও পরবর্তী সময়ে তা দেবোত্তর সম্পত্তি হিসাবে দলিল রেকর্ডভুক্ত হয়। গুরম্নর জীবদ্দশায় আশ্রমে চারটি খড়ের ঘর, একটি পাকা কোঠা এবং গুরম্নর সাধনের জন্য মাটির প্রাচীরবেষ্টিত খড়ের চালাযুক্ত একটি ভজন কুটির ছিল। কুটিরের সম্মুখে উন্মুক্ত স্থানে একটি আমগাছ ছিল। মধ্যাহ্নের আহার গ্রহণের পর গুরম্ন এর নিচে বসে ভজন সঙ্গীত গাইতেন।
বঙ্গবিহারী করের লেখা বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী জীবনীগ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১২৯৫ বঙ্গাব্দের জন্মাষ্টমীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে সপরিবারে সেখানে উঠে যান গোস্বামী। তাঁর সর্বৰণিক সঙ্গী হিসেবে কৃষ্ণবিহারী ঘোষ চৈতন্যচরিতামৃত ও নরোত্তম দাস প্রার্থনা পাঠ করতেন। তাঁদের সঙ্গে গোস্বামীও গুরম্ননানকের গ্রন্থসাহেব, তুলসীদাসকৃত হিন্দী রামায়ণ, ভবগত প্রভৃতি পাঠ করতেন। তখন সেখানে অসংখ্য শ্রোতা_দর্শনার্থী হাজির হতো। প্রতিদিন সকাল ১১টার সময় পাঠ শেষে গুরম্ন স্নানাহার করে আমগাছের নিচে বসে ভজন করতেন। সন্ধ্যায় হতো সংকীর্তন। এরপর শিষ্যদের নিয়ে আশ্রমের ভিতর কিছু সময় সাধন করতেন। পরে রাত সাড়ে নয়টায় তিনি বসতেন আহারে। এভাবেই ঘড়ির কাঁটায় চলত তাঁর আশ্রম জীবন। কিন্তু এক সময় বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী চলে যান পুরীতে। সেখানেই ১৮৯৯ সালে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ২২ জ্যৈষ্ঠ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এখনও সেখানে টিকে আছে তাঁর সমাধি মন্দির। তাঁর মৃতু্যর পর গে-ারিয়ার আশ্রমটি তাঁরই শিষ্য, ভক্ত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ঢাকায় ঘনঘন সাম্প্রদাািয়ক দাঙ্গা ও ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগের পর হিন্দুদের দেশ ত্যাগের কারণে আশ্রমটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে আশ্রমটি চলে যায় দখলদারদের কবলে। আশ্রমের তিন বিঘা জমি ও দালানকোঠার কিছুই নেই এখন আর।
এ প্রসঙ্গে যমুনা মাঈ আশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নির্মল রায় চৌধুরী বলেন, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর আশ্রমের কোন অসত্মিত্বই নেই এখন। শুধু তাঁর শিষ্য যমুনা মাঈয়ের আশ্রমের সমাধি মন্দিরের কিছু অংশ টিকে আছে। এর অবস্থাও জরাজীর্ণ। তবে ২০০৫ সাল থেকে আমাদের কমিটি যমুনা মাঈয়ের এই আশ্রমটি রৰার জন্য কাজ করে চলেছে। এখানে বর্তমানে কালি মা'র পুজো হয়। ভবিষ্যতে স্থায়ী স্থাপনা গড়ারও ইচ্ছা আছে এখানে। আমরা তো আর সারাজীবন এর দায়িত্বে থাকব না, কিন্তু এটাও যেন গোস্বামীর আশ্রমের মতো বেহাত না হয় সে চেষ্টা করে যাব বলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অঙ্গীকার আমাদের। যমুনা মাঈয়ের আশ্রমের জমির পরিমাণ প্রায় দশ কাঠা। এ জমিটুকু গোস্বামীর আশ্রমের নয়। এই জমি যমুনা মাঈয়ের এক শিষ্য নারম্ন গোপাল গোস্বামী কিনে দিয়েছিলেন যমুনা মাঈয়ের জীবদ্দশায়। এখন এটিও দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত। ১৯২৩ সালে (১৩৩০ বঙ্গাব্দের ১৩ ফাল্গুন) তাঁর মৃতু্য হলে আশ্রমের পাশেই তাঁর সমাধি মন্দির নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দাদের সরকারের কাছে দাবি_ গোস্বামীর বিশাল আশ্রমের পুরনো কাগজপত্র পরীৰা_নীরিৰা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এই ঐতিহাসিক আশ্রমটি উদ্ধার করা হোক।
মন্ত্রী এমপিসহ চট্টগ্রাম নগর আ'লীগের ৫ শীর্ষ নেতাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত
কোন্দলের জের
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তর্কোন্দল এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, এক মন্ত্রী ও এক এমপিসহ ৫ শীর্ষ নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত কার্যকরী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেন্দ্রের অনুমোদন সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। অপরদিকে, অব্যাহতির তালিকায় থাকা সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, কাউকে বহিষ্কার করতে হলে দলের সভানেত্রীই করবেন। মাত্র দুই সদস্য বিশিষ্ট মেয়াদোত্তীর্ণ কোন কমিটির এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে যাদের অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি, সম্পাদকম-লীর সদস্য এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, রেজাউল করিম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মেয়াদোত্তীর্ণ নগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবদুছ ছালাম। সাম্প্রতিক সময়ে এ ৫ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন। দলের নেতৃত্বের বিরম্নদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখে তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আনা হয় কার্যকরী কমিটির সভায়। উলেস্নখ্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে একদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রম্নপ ও অন্যদিকে মন্ত্রী আফসারম্নল আমিন ও এমপি নুরম্নল ইসলাম বিএসসির নেতৃত্বে অন্য গ্রম্নপ ব্যাপকভাবে সক্রিয়। রাজনীতিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে এক গ্রম্নপ অন্য গ্রম্নপকে ঘায়েল করার তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গত প্রায় ৫ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ নগর কমিটি হয়নি। কেন্দ্রের অনুমোদনে মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে কমিটির অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের তালিকা অদ্যাবধি হয়নি গ্রম্নপিংয়ের কারণে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকায় সভার সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী আগামী দু'তিন দিনের মধ্যে এ ৫ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পনেরো দিনের মধ্যে যদি তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জবাব না দেন তাহলে গঠনতান্ত্রিকভাবেই তাদের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর হয়ে যাবে। নগর সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল পরিচালিত হচ্ছে। এসব নেতারা দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মে লিপ্ত হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। বার বার তাদের হুঁশিয়ার করার পরও তারা তাদের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা- অব্যাহত রেখেছেন। ফলে সকলের সম্মতি নিয়ে তাদের বিরম্নদ্ধে এ সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। কমিটির শক্তিশালী অপর নেতা আ জ ম নাছির জনকণ্ঠকে জানান, বার বার সুযোগ দেয়ার পরও তারা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশ্যে দলের সভাপতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। সর্বশেষ দলের সভাপতিকে তার কথিত অন্যায় কর্মকা-ের জন্য মাফ চাওয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি কাম্যও হতে পারে না। দলের নিয়মনীতি আছে, গঠনতন্ত্র আছে। যা বলার তারা কমিটিতে বলতে পারেন। এতে কিছু না হলে কেন্দ্রকে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু তারা উল্টো পথে চলে দলের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছেন। সঙ্গত কারণে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য নুরম্নল ইসলাম বিএসসির কাছে জানতে চাইলে তিনি মনত্মব্য করেন, "এটি শীতকালের দোষ। শীতকালে অনেকের মাথায় গ-গোল দেখা দিলে যা-তা করে থাকেন।" তিনি বলেন, কাউকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কাউকে বহিষ্কার করার কে। বিগত সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজেই বরং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরম্নদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিলেন। বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধানত্ম সম্পর্কিত কোন পত্র বা কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিতে তারা বাধ্য নন বলে তিনি মনত্মব্য করেন। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কোন একক ব্যক্তির ইচ্ছায় দল পরিচালনার সুযোগ নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, এ ধরনের কোন কারণ দর্শানো নোটিস গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য নই। সে ক্ষেত্রে জবাব দেয়ার প্রশ্নও আসে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে বহিষ্কার করার সিদ্ধানত্ম নিতে হয় বর্ধিত সভায় কমিটির সকল সদস্যের মতামতের মাধ্যমে। চশমা হিলের বাসায় কার্যকরী কমিটির বৈঠক ডেকে এমন সিদ্ধানত্ম নেয়া যায় না। তাছাড়া বিগত ২০০৬ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক করা হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়নি। দলের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবার আগে এ কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। কারণ একটি কমিটির মেয়াদ থাকে তিন বছর। তিনি বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কার্যকরী কমিটির সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন আর কিভাবেই বা এ সিদ্ধানত্ম নেয়া হলো কিংবা বৈধ কার্যকরী কমিটি ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধানত্ম নেয়া যায় কিনা তা গঠনতন্ত্র ভালভাবেই দেখলেই তারা বুঝতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ছাড়া নেতা হিসেবে আর কারও নামই ঘোষণা করা হয়নি সেহেতু আমরা বহিষ্কার হই কিভাবে। আমরা মহানগর কমিটির প্রসত্মাবিত নেতা, অনুমোদিত নেতা নই।
এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানুর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি বলেন, তারা যদি অনুমোদিত নেতা না হয়ে থাকেন তাহলে দলের পদবি ব্যবহার করেন কিভাবে। দলের পদবি ব্যবহার করেই তারা কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি আবার একজন চউক চেয়ারম্যান হয়েছেন। কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বর্ধিত সভা ছাড়া কার্যকরী কমিটির সভাতেও তার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন।
এমএলএম কোম্পানির ব্যবসার নীতিমালা চূড়ান্ত
ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করলে শাস্তির বিধান, নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ
মিজান চৌধুরী ॥ ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার দায়ে শাস্তির বিধান রেখে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির (এমএলএম) নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যদেশ থেকে এ দেশে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে ঢাকায় স্থানীয় অফিস বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। এমএলএম কোম্পানি পরিচালনা করতে যৌথমূলধন কোম্পানির অনুমোদনের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালার খসড়াতে।
খসড়ায় আরও উল্রেখ করা হয়, পণ্য ও সেবা বাজারজাত করার ৰেত্রে গুণগত মানে সরকারী সনদ থাকতে হবে। অলিক কোন পণ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রি করা যাবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে।এই নীতিমালা 'মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি নীতি-২০১১' নামে অভিহিত হবে। খুব শীঘ্রই এই নীতিমালা কার্যকর হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এমএলএম কোম্পানির কার্যক্রম পুরো তদারকী করা হবে।
সূত্র মতে, মাল্টিলেভেল কোম্পানিগুলো অপরিচিত পণ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাজারজাতের পূর্বে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে হস্তান্তরযোগ্য নয় এমন স্থাবর পণ্য যেমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, অফিস ও গাছ বিক্রি করতে পারবে না। এই ব্যবসার বাইরে রাখা হয়েছে সমবায়, ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে।
জানা গেছে, এমএলএম কোম্পানিগুলোর প্রতারণা সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ পর্যনত্ম অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মুর্তজার সভাপতিত্বে সংশিস্নষ্ট এমএলএম কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নীতিমালা প্রণয়ন করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি উন্নত বিশ্বের এমএলএম কোম্পানির নীতিমালার আলোকে খসড়া তৈরি করে।
দেশে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে বাজারজাতের ধরন জানিয়ে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। কোম্পানি নিবন্ধনের সময় মার্কেটিং পরিকল্পনা প্রদান করতে হবে। কোম্পানির নূ্যনতম মূলধন রেজিস্ট্রেশনের সময় ঘোষণা দিতে হবে। নিবন্ধনের সময় কোম্পানির ফোন, ফ্যাঙ্, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভোটার আইডি কার্ডসহ পূর্ণ ঠিকানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিদেশী কোম্পানির ৰেত্রে মাদার কোম্পানির আদৌ ভিত্তি আছে কিনা রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স প্রদানের সময় তা নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানি মাদার কোম্পানি কতর্ৃক অনুমোদিত হতে হবে। শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক দ্বারা অন্য দেশ থেকে এ দেশে ব্যবসা করা যাবে না।
খসড়া সূত্রে, প্রতিটি ডাইরেক্ট সেলিং কোম্পানিকে লাইসেন্সের জন্য মার্কেটিং পস্নান, কমিশন বণ্টন পদ্ধতি সিটি কপের্ারেশন ও পৌরসভাকে জানাতে হবে। সিটি কপের্ারেশন ও পৌরসভা ব্যবসা সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পর লাইসেন্স প্রদান করবে। দেশী ও বিদেশী এমএলএম কোম্পানিকে আয়কর জমা ও ট্যাঙ্ রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে।
এমএলএম ও ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসার বাজারজাতকৃত পণ্যের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ ও মূল্য প্রকাশ করতে হবে। এই ব্যবসার ৰেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরৰণ আইন ও কম্পিটিশন এ্যাক্ট ২০১১ মানতে বাধ্য থাকবে। তবে এমএলএম কোম্পানি তাদের কমিশন ও বোনাস প্রদানের জন্য কোন ধরনের শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।
খসড়া নীতিমালায় বলা আছে, এ নীতিমালা বাসত্মবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তবে নীতিমালার বহিভর্ূত কর্মকা-ে সম্পৃক্ত কোম্পানির বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, এই নীতিমালা বাসত্মবায়ন হলে এমএলএম কোম্পানির পণ্য ও সেবার সঠিক তথ্য ভোক্তারা পাবে। ভোক্তা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকবে না। মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে সমবায় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাইরে রাখা হয়েছে। শেয়ার ব্যবসার কারসাজির মাধ্যমে কোন বিপর্যয় না ঘটাতে পারে সে লৰ্যে এই নীতিমালা কাজ করবে। এছাড়া এমএলএম কোম্পানিগুলোকে সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
বিদেশী কোম্পানি এ দেশ থেকে অযৌক্তিক মুনাফা না করতে পারে এবং বিদেশী কোম্পানির নামে দেশী কোন ব্যবসায়ী অযৌক্তিক মুনাফা অর্জন না করতে পারে এবং মুদ্রাপাচার রোধ হবে এই নীতিমালার মাধ্যমে।
বর্তমান এমএলএম কোম্পানি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলেও তুলকালাম চলছে। প্রতারণার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রৰা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও এমএলএম কোম্পানির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সর্বশেষ এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এমএলএম কোম্পানিগুলোর সুষ্ঠু ব্যবসা পরিচালনার জন্য খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। খসড়া তৈরির পর ওই আলোকে এসব ব্যবসা পরিচালিত হবে।
আরও ৭ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে
সমীক্ষা চালাতে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তুতি
ফিরোজ মান্না ॥ দেশের সাত জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। জেলাগুলোতে রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীৰা চালাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সমীৰা কাজ চালাতে রেলওয়ে বিভাগ সরকারের কাছে টাকাও চেয়েছে। টাকা বরাদ্দ পেলেই আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল যোগাযোগের মধ্যে নিয়ে আসার কাজ শুরম্ন হয়েছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, সাতৰীরা, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি জেলা রেল যোগাযোগের মধ্যে চলে আসবে এ সরকারের মেয়াদেই। অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল যোগাযোগের মধ্যে নিয়ে আসতে সরকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক টিএ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি পর্যনত্ম রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নে এ রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের ৬৪টি জেলা রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে দেশের ৪২টি জেলা রেলওয়ে যোগাযোগের আওতায় রয়েছে। বাকি ২২ জেলায় রেল যোগাযোগ নেই। যে জেলাগুলোতে রেলপথ নেই সেখান থেকে কয়েকটি জেলায় রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জ ও কক্ষবাজার জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে দেয়া হয়েছে। এবার রাঙ্গামটি জেলায় রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব রেলওয়ে বিভাগ সরকারের কাছে দিয়েছে। সরকার রেলওয়ের উন্নয়নে ২০টি নতুন প্রকল্প বাস্তাবায়ন করার কাজে হাত দিয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ অল্পদিনের মধ্যে শুরু হবে। নতুন ২০ প্রকল্পের বাইরে পুরনো আরও ১৬ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি পর্যনত্ম ৪০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এজন্য সমীৰা কাজ চালাতে সরকারের কাছে ১৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা পেলেই আনত্মর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। পরামর্শক নিয়োগ হওয়ার পর ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে সমীৰা কাজ শেষ হতে। সমীৰা শেষ হলেই রেললাইন নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হবে। প্রকল্প বাসত্মবায়ন হবে দেশী ও বিদেশী ঋণ সহায়তায়। তবে ঠিক কত টাকা ব্যয় হবে তা এখন ঠিক করতে পারেনি রেল কর্তৃপৰ।
সরকার ৰমতায় আসার পরপরই রেল যোগাযোগের ওপর গুরম্নত দেয়। রেলওয়ের উন্নয়নে আগের ১৬টি প্রকল্পসহ মোট ৩৬টি প্রকল্প বাসত্মবায়নে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। রেলইঞ্জিন, কোচ সংগ্রহ, নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরনো রেললাইন মেরামত, সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ আধুনিকীকরণ ও সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি ও কঙ্বাজার জেলা পর্যটন নগরী হওয়ায় রেল যোগাযোগ স্থাপন করার ওপর গুরম্নত্ব দেয়া হয়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া পর্যনত্ম ৫৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর মাজারকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র হলে এখানে রেল যোগাযোগ গুরম্নত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নদীবহুল এলাকা হিসেবে বরিশাল এলাকায় রেলপথ নির্মাণ করা ব্যয়সাপেৰ ছিল। কিন্তু সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং কম ব্যয়সাপেৰ করে তোলার জন্য রেল যোগাযোগ স্থাপন করবে।
এদিকে, রেল বিভাগ একের পর এক প্রকল্প হাতে নিলেও তা বাসত্মবায়নে রয়েছে ধীরগতি। আবার টাকার অভাবে অনেক প্রকল্প বাসত্মবায়ন প্রক্রিয়াই আলোর মুখ দেখতে পারেনি। আবার অনেক প্রকল্পের বাসত্মবায়ন শুরম্ন হলেও নানা কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ১৫২ কোটি টাকা ব্যয় ধরে সরিষাবাড়ির তারাকান্দি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যনত্ম রেলপথ স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ১৯৯৯ সালে। প্রকল্পটি দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প প্রায় এক যুগ পার হয়ে গেলেও শেষ হয়নি। ময়মনসিংহ ও তারাকান্দির সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ সহজ করার জন্য এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন কাজে হাত দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিশেষ করে তারাকান্দি সারকারখানা থেকে সার সরাসরি উত্তরবঙ্গে পরিবহনের জন্য এ পথটি গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন শুরম্নর কিছুদিনের মধ্যে সিস্নপার কেনা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এতে প্রাথমিক তদনত্মে প্রকল্প পরিচালকসহ ৪ জনে
বিরম্নদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মেলে। এরপর থেকেই প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। আবার যখন প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন শুরম্ন হয় তখন প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ২১৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। টঙ্গী-ভৈরববাজার পর্যনত্ম রেলওয়ের আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে। ২০১১ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি হাতের নেয়ার পর থেকেই দুর্নীতি শুরম্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি ধরা পড়ে দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে। ৭২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের কথা ছিল। লাকসাম-চিনকিআসত্মানা পর্যনত্ম রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০০৭ সালে। এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা প্রকল্পটির বাসত্মবায়ন ব্যয় ধরা হয়। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির বাসত্মবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প হাতে নেয়ার ৩ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যনত্ম প্রকল্পের নকশাই প্রণয়ন করতে পারেনি। এ প্রকল্পের এখন পর্যনত্ম কোন অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। জাইকা প্রকল্প বাসত্মবায়ন অর্থের বড় অংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এখন জাইকা রেলওয়ের সংস্কার প্রকল্প বাসত্মবায়ন না হওয়া পর্যনত্ম অর্থ ছাড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলের ৪৯ ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল ১৪ বছর আগে। ৩ বছর মেয়াদের মধ্যে এ ইঞ্জিনগুলো কেনার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও ৪৯টি ইঞ্জিন কিনতে পারেনি রেলওয়ে। এ ১৪ বছরে ৩৭টি ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ কেনা হয়েছে। প্রকল্প মেয়াদে ইঞ্জিনগুলো কিনতে না পারায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে ৪শ' কোটি টাকা। এভাবে রেলওয়ের বহু প্রকল্প বছরের পর বছর কেটে গেলেও বাসত্মবায়ন হচ্ছে না। প্রকল্পগুলো বেশিরভাগ বিদেশী ঋণনির্ভর বলে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখছে না। নতুন প্রকল্পগুলো কিভাবে বাসত্মবায়িত হবে তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
নোয়াখালীর চরে দুই দস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যা
দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব ॥ বাড়িঘরে হামলা আগুন গুলি, অস্ত্র উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী, ১৮ জানুয়ারি ॥ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরবাশারের দখল নিয়ে দুই দসু্য নাছির কমান্ডার ও মুন্সিয়া চোরা বাহিনীর মধ্যে সোমবার গভীর রাতে তুমুল বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নাছির কেরানী বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা কুপিয়ে হত্যা করেছে মু্ন্সিয়া চোরা ও তার সহযোগী মিয়া সিকদার বাহিনীর ৬ জনকে। এ সময় আহত হয় দু'জন। হামলা চলাকালে বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হাতিয়া থানার জনতা বাজার ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ৬ জনের লাশ, দু'টি দেশীয় অস্ত্র ও ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন মাঝি (৪০), তার ছেলে রায়হান (১২), লিটন (২৮) ও মহিউদ্দিন (৩০) নামে ৪ জনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে চরজব্বার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ সুপার জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে নাছির কেরানী বাহিনীর ২০/২৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার চরবাশারে হামলা চালায়। এ সময় তারা মুন্সিয়া চোরা-মিয়া সিকদার বাহিনীর ইউনিট কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন মাঝির বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা গিয়াস উদ্দিন মাঝির ঘরে পূর্ব থেকে অবস্থান নেয়া মুন্সিয়া চোরা-মিয়া সিকদার বাহিনীর ক্যাডারদের ওপর গুলিবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে নাছির বাহিনীর ক্যাডাররা পালিয়ে যাবার সময় গিয়াস উদ্দিন মাঝির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুনে পুড়ে, গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন মারা যায়। আহত হয় টিপু (২৮) ও সেলিম (৩০) নামে দুই জন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার হাতিয়ার নঙ্গলিয়ার চরের জনতা বাজার ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে ছয় জনের লাশ উদ্ধার করে। তন্মধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া একজন এবং বহিরাগত হওয়ায় একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় একটি রিভলবার, একটি একনলা বন্দুক এবং ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। চরজব্বার থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স সেখানে পেঁৗছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার কিংবা আহতদের উদ্ধার করতে পারেনি।
এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আ ফ ম নিজাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৌরসভা নির্বাচনের কারণে পুলিশের স্বল্পতা রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মনীষা কৈরালা সুন্দরবনের পক্ষে ভোট দেবেন আজ
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্ব প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে আজ বুধবার সুন্দরবনকে ভোট দেবেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। পাশাপশি বলিউড সুন্দরী সুন্দরবনের পৰে প্রচার চালাবেন। মঙ্গলবার প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী মোস্তাফিজুল হক, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবু জুবায়ের ও কিউরেটর রফিক সুলায়মান।
আয়োজকরা জানান, সোমবার রাত পৌনে ৮টায় বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন মনীষা। 'ভোট ফর সুন্দরবন' সস্নোগান নিয়ে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস বাংলাদেশের পৰ থেকে এই প্রচারাভিযানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নভো কনভেনশন সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সুন্দরবনের পৰে প্রচারের অংশ হিসেবে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে সুন্দরবনের পৰে ভোট দেবেন বলিউড অভিনেত্রী ও ইউএনএফপির বিশেষ দূত মনীষা কৈরালা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী মমতাজ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তরার ডিজাইন সেন্টার ক্রিয়েটিভ ডেস্টিনেশনে একটি চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন মনীষা কৈরালা। মোস্তাফিজুল হক রেট্রোসপেক্টিভ শিরোনামের এই চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে ঢাবির চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মোসত্মাফিজুল হকের ৪৭টি শিল্পকর্ম স্থান পাবে। 'চিত্রকরস : সাগা অব কাঠমান্ডু ভ্যালি' শীর্ষক অপর প্রদর্শনীতে নেপালের রাজপরিবারের আলোকচিত্রী কিরণ মান চিত্রকর এবং তাঁর বাবা গণেশ মান চিত্রকর ও দাদা দীর্ঘমান চিত্রকর_ এই তিন প্রজন্মের ১০৫টি ছবি থাকবে। ১৯০৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যনত্ম চিত্রকর পরিবার এসব আলোকচিত্র ধারণ করে। নিউইয়র্ক টাইমস এই আলোকচিত্রসমূহকে নেপালের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেছে।
সরকারকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান সাংস্কৃতিক জোটের বর্তমান সরকারের ৰমতা গ্রহণের দুই বছর পরও সাংস্কৃতিক ৰেত্রে অনেক কর্মপরিকল্পনা লাল ফিতায় বন্দী হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন হলেও এর গতি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। ক্ষমতাসীন সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া বিবৃতিতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রম্নতি বাসত্মবায়নে এখনই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বাৰরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের দুই বছরে শিক্ষা, কৃষিসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে উলেস্নখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য এখনও দৃশ্যমান নয়। বিশেষভাবে গুরম্নত্বপূর্ণ ও বহুলালোচিত বিদু্যত-গ্যাস সেক্টরে সরকারের সাফল্য নিয়ে মানুষ সন্দিহান বলে দাবি করে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি করা হলেও দ্রব্যমূল্য প্রায়শ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে। সরকারদলীয় এমপি'র বাড়িতে ডাকাতি, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে চুরির মতো ঘটনা কোন সুগভীর চক্রানত্মের অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধিকতর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রতি গুরম্নত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনআকাঙ্ৰা পূরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রম্নতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় জোটের পৰ থেকে।
প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ॥ 'প্রতিবন্ধিতা কি ও কেন' শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হলো মঙ্গলবার। এ উপলৰে ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমএ জলিল। সীড ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন আব্বাস উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম. শহীদুল হক, সামিট গ্রম্নপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, মাহমুদ মালিক আহমেদ রাজীব সাদমানী প্রমুখ। সীড ট্রাস্ট প্রকাশিত বইটি প্রতিবন্ধীদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় অনুষ্ঠানে।
বগুড়ায় বিষাক্ত মদপানে ৩ জনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ৩ জনের মৃতু্য হয়েছে। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার দুপুরে এই ৩ জন মারা যায়। এরা হলো_ লোকমান আলী (৪৫), শাজাহান (৪২) ও আজিজার রহমান (৩৮)। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ৩ জন হৃদরোগ, আলসারসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সোমবার রাতে মহাস্থানগড় এলাকায় কয়েক ব্যক্তি বিষাক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে পুলিশ ৪ জনের পরিচয় জানতে পেরেছে। স্থানীয় লোকজন বলছে, তারা মদ হিসাবে বিষাক্ত রেক্টিফায়েড স্পিরিট পান করে। বিষাক্ত মদ খাওয়ার পর একজন মহাস্থানগড় এলাকায় রাতেই মারা যায়। গুরুতর অসুস্থদের মধ্যে একজন বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে এবং মঙ্গলবার দুপুরে অপর একজন মারা যায়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। জন্মবার্ষিকী উপলৰে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের পক্ষে তেরো দিনব্যাপী কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলৰে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বাণী দিয়েছেন।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলৰে আজ ভোরে সারাদেশে বিএনপির সকল ইউনিট কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মাজার জিয়ারত করবেন। দুপুর ২টায় বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জিয়ার কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সকাল নয়টায় নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আয়োজন করেছে।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলৰে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন তাঁর বাণীতে জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এদেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দুঃসময়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরম্ন করেন। স্বাধীনতাউত্তর দুঃসহ স্বৈরাচারী দুঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রসত্ম ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। তাই আধিপত্যবাদের এদেশীয় এজেন্টরা নিজেদের নীলনকশা বাসত্মবায়নের পথে কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তাঁর এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রানত্মকারীদের বিরম্নদ্ধে স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রৰার এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তাঁর প্রদর্শিত পথেই অগণতান্ত্রিক শক্তি ও আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে। খোন্দকার দেলোয়ার তাঁর বাণীতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মৌলিক ও মানবাধিকার সুরৰায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজধানীর দু'সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি
শংকর কুমার দে ॥ রাজধানীর ৪১ থানার দু' সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছর তারা মাদক বিক্রি করছে হাজার কোটি টাকার বেশি। মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে_ এই লক্ষে রাজধানীতে পুলিশ, র্যাব ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যৌথ বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দফতরে এক জরম্নরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর সংশিস্নষ্ট সূত্রের।
ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন র্যাব, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিনিধি ও ডিএমপির সকল ক্রাইম ডিভিশনের ডিসি, এডিসিসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা। সভায় উলেস্নখ করা হয়েছে, রাজধানীর মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই ঘটছে বেশিরভাগ ভয়াবহ ধরনের খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, নারী ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ। শুধু তাই নয়, মাদকের কারণে তরম্নণ সমাজ উচ্ছন্নে যাচ্ছে। সামাজিক অবৰয় বেড়ে চলেছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে ও জনজীবনে শানত্মি প্রতিষ্ঠায় মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়।রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ী কারা কোথায়_কিভাবে মাদক ব্যবসা হচ্ছে সে ব্যাপারে গোপনে তদন্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে ও তালিকায় রাজধানীতে দু' সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ী মদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নানা ধরনের মাদকের হাট বসায়। মাদকের হাটে দিনে রাতে সমান তালে চলছে মাদক ব্যবসা। রাজধানীতে মাদকের ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ব্যাপারে করণীয় বিষয় নিয়ে মতামত দিয়েছেন উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পর পরই বলেছেন, মাদকের বিরম্নদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, এক শীর্ষ কর্মকতর্া বলেছেন, মাদক নিমর্ূল করতে ডিএমপি ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ল্েৰ্য মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তদের থানা ও মহলস্নাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা তৈরির পর যাচাই-বাছাই করে চূড়ানত্ম করা হচ্ছে। তালিকায় প্রায় ২ হাজার মাদক ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে।
পরিকল্পিতভাবে নোয়াখালীতে গোলযোগ করেছে বিএনপি ॥ হানিফ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর কালিমা লেপন করতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে নোয়াখালীতে গোলযোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতা ইচ্ছা করে নোয়াখালীতে গোলযোগ সৃষ্টি করেছে। সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সফল করছে, তাতে বিরোধী দল ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর কালিমা লেপন করতে চাচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কামরাঙ্গীরচরের আলীনগর চৌরাস্তায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও শাহে আলম মুরাদ।
মোহাম্মদ হানিফ বলেন, নোয়াখালীতে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোন এমপি সেখানে যায়নি। অথচ বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদিন, বরকত উল্লাহ বুলু, ভিপি জয়নালসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ গত তিনদিন ধরে সেখানে সন্ত্রাস ও নির্বাচনে অনিয়মের পাঁয়তারা করছিল। কিন্তু সরকার কঠিন হাতে তা দমন করেছে। তিনি বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও শানত্মিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছে। তাই সারাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোন নজির নেই।
তিনি আরও বলেন, মহাজোট সরকারের উন্নয়নের ধারা দেখে বিরোধী দল ঈর্ষান্বিত হয়ে জনগণকে বিভ্রানত্ম করতে সরকারের বিরম্নদ্ধে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে। একটি মহল যুদ্ধাপরাধীদের রৰা করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রসত্ম করা যাবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বর্তমান সরকারের সময়কালের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। নির্দলীয় নির্বাচনে কোন রাজনীতি প্রতিফলিত হয় না মন্তব্য করে তিনি পৌর নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে দ্রব্যমূল্য আমাদের দেশেও বেশি। এ সময় নির্বাচনী এলাকার লোকদের কাছে তিনি দোয়া চান, যাতে তিনি দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন।
বিশ্ব এজতেমার সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত ॥ প্রথম পর্ব শুক্রবার শুরু
নিজস্ব সংবাদদাতা, টঙ্গী, ১৮ জানুয়ারি ॥ দু'ভাগে বিভক্ত এবারের বিশ্ব এজতেমা প্রথম দফা শুরম্ন হবে আগামী শুক্রবার। চলবে ৩ দিন। বিশ্ব এজতেমার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। দেশ বিদেশের মুসলিস্নরা এখন এজতেমাস্থলে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদের চিলস্নাধারী জামাত বর্তমানে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার মসজিদগুলোতে অবস্থান করছেন। তাঁরা বৃহস্পতিবার থেকে এজতেমাস্থলে প্রবেশ করতে শুরম্ন করবেন। এজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যেই টঙ্গীতে আসতে শুরু করেছেন এবং তারা টঙ্গী থানায় রিপোর্ট পেশ করে নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান করছেন। প্রথম পর্বের এজতেমার জন্য পুলিশ বাহিনীর ১২ হাজার ৩০০ সদস্যকে নিয়োজিত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় এজতেমা শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি। চলবে তিন দিন।
প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
সংসদ রিপোর্টার ॥ সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, অন্যান্য দেশে বাজার পরিস্থিতি খারাপ হলেও তুলনামূলক বিচারে না গিয়ে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকারকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। সেৰেত্রে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, বেগম তহুরা আলী, আবুল কাশেম, বেগম রুমানা মাহমুদ ও শেখ আফিল উদ্দিন এবং বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেনসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে কমিটি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। কিন্তু অন্য দেশে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা সাধারণ মানুষ বোঝে না। তারা দ্রব্যমূল্য কম দেখতে চায়। তাই দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজারদর জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার আনত্মরিক। ইতোমধ্যে এ খাতে ৪৯ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। তবু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে বাজারদর কমানো যাবে না। এর জন্য জনগণের সচেতনতাও দরকার। সরকার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও তিনি উলেস্নখ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, টিসিবিকে শক্তিশালী করতে এক হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ৪০ হাজার বর্গফুটের খাদ্য গুদামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খাদ্য অধিদফতরের গুদামও টিসিবির মজুদের কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর টিসিবিকে কিভাবে কার্যকর করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে কমিটির সদস্য টিপু মুন্সীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি সাব কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি টিসিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে এগুলোর কার্য ৰমতা যাচাই করবে। কমিটির সদস্যরা বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিসিবিকে কার্যকর করার বিকল্প নেই। তাই টিসিবির জন্য বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।