মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬
কাজলা দিদি
বিক্রমপুরের বাহেরক গ্রামের সেই মেয়েটির কথা কি মনে আছে? যার বাবার নাম মণিভূষণ চট্টোপাধ্যায় আর মায়ের নাম কমলা? তাও চিনতে কষ্ট হচ্ছে! তাহলে বলা যাক, সেই মেয়েটির নাম প্রতিমা। হ্যাঁ, সুরের জাদুকরী প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের বিক্রমপুরেরই মেয়ে। আজো বাঁশ বাগানের মাথার ওপর যখন চাঁদ ওঠে, পুকুরপাড়ে নেবুর তলে যখন থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, তখন বেদনা মাখানো মিষ্টি সুরে কে যেন কানে কানে বলে যায়_মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই ! কাজলা দিদি'র প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি ভোলা যায়!
প্রতিমার জন্ম ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখে। সালটা ১৯৩৪। বাবা মণিভূষণ চট্টোপধ্যায়ের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল গাইয়ে হিসেবে। চমৎকার ঠুংরি, দাদরা গাইতেন। ওস্তাদ বদল খানের শিষ্য। বেশ কিছু গানের রেকর্ডও বেরিয়েছিল তার। হিন্দুস্থান কোম্পানি থেকে তার গাওয়া বাংলা কাব্যগীতি বের হয় ১৯৪৩ সালে। অজয় ভট্টচার্যের কথায় ও শচীন দেব বর্মণের সুরে এর একখানি গান ছিল 'যৌবনে হায় ফুল দলে পায়' অন্য গানখানি ছিল হিমাংশু দত্তের সুরে 'স্বপনে কোন মায়াবী'। আবার ভাল ফুটবলও খেলতেন মণিভূষণ। তবে মাত্র ২৭ বছর বয়সে মৃতু্য হয় তার। তখন প্রতিমার বয়স বছরখানেকের মতো। আর যিনি প্রতিমার গর্ভধারিণী, সেই কমলা দেবীরই বয়স ছিল মাত্র ১৮। স্বামীর মৃতু্যতে কন্যাকে কোলে নিয়ে অকূল সাগরে ডিঙা ভাসালেন মা কমলা চট্টোপাধ্যায়। সেই বয়সে মেয়েকে মানুষ করা, সংসার সামলানোর মতো দুই কঠিন দায়িত্ব এসে চাপে তার কাঁধে। তিনি চেয়েছিলেন, মণিভূষণ চট্টোপাধ্যায়ের কন্যাও যেন তার বাবার মতো গান গাইতে শেখে। সংসারে নিত্যদিনের অভাব অনটনের মধ্যেও তিনি একটু একটু করে টাকা জমিয়ে মেয়েকে একটা হারমোনিয়ম কিনে দিয়েছিলেন। প্রাথমিক তালিমটা দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। প্রতিমার বয়স পাঁচ বছর হলে তার গান শেখানোর ভার তুলে দেন পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের শিষ্য প্রকাশকালী ঘোষালের হাতে।
গান ছিল প্রতিমার রক্তে। আর ছিল মায়াবী কণ্ঠ। প্রকাশকালী সবটুকু উজাড় করে দিয়ে গান শিখিয়েছিলেন প্রতিমাকে। গুরু ভীষ্মদেবের কাছে নিয়েও তিনি পরিচয় করিয়ে দেন প্রতিমাকে। ভীষ্মদেব মুগ্ধ হয়েছিলেন প্রতিমার গান শুনে।
প্রতিমার বয়স তখন সাত কি আট। বিক্রমপুর থেকে ঢাকা শহরে এসেছেন আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে। আত্মীয়রা তো বটেই সে বাড়ির আশপাশের লোকজনও প্রতিমার গান শুনে তাজ্জব। তারাই উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা রেডিওতে গান গাইবার ব্যবস্থা করে দেন তাকে। কলকাতা বেতারেও গান গাওয়ার সুযোগ এসে যায় সেই কিশোরী বয়সেই। খুব তাড়াতাড়ি চারদিকে নাম ছড়িয়ে পড়তে লাগল তার। ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে, গানের জলসা মানেই প্রতিমা।
তখন বয়স তার তের কি চোদ্দ। স্কুলের গণ্ডী তখনও পেরোননি। গানের সূত্রেই প্রতিমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলেন সঙ্গীতপ্রেমী সুদর্শন অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বয়সেই প্রতিমা চট্টোপাধ্যায় থেকে হয়ে গেলেন প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য তার আগে, ১৯৪৫ সাল নাগাদ 'কুমারী প্রতিমা চ্যাটার্জির' গাওয়া গানের প্রথম রেকর্ড বের হয় সেনোলা কোম্পানি থেকে। গ্রামোফোন রেকর্ডের দুই পিঠে সে গান দুখানি ছিল সুকৃতি সেনের কথায় ও সুরে 'প্রিয় খুলে রেখো বাতায়ন' ও 'প্রিয় মালানি দিয়ে'।
বিয়ের পর দণি কলকাতায় এক ঘরোয়া আসরে প্রতিমার গান শুনে মুগ্ধ হন সে সময়ের নামকরা সুরস্রষ্টা সুধীর লাল চক্রবতর্ী । তিনিই তাকে দিয়ে ১৯৫১ সালে 'সুনন্দার বিয়ে' ছবিতে গাওয়ালেন 'উছল তটিনী আমি সুদূরের চাঁদ'। সুধীর লাল পাকা জহুরি। রত্ন চিনতে তার ভুল হয়নি। প্রতিমার সে গান বাজি মাত করল সহজেই। সে আমলে লোকের মুখে মুখে ফিরত সে গান। এরপর ১৯৫৪ সালে সঙ্গীত বহুল ছবি 'ঢুলি'তে রাজেন সরকারের সুরে প্রতিমার সব গানই হিট। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, যুথিকা রায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের মতো ঝানু শিল্পীর পাশে সসম্মানে জায়গা করে নিলেন নবীনা প্রতিমা। এই ছবিতেই প্রতিমার গাওয়া রাগাশ্রিত 'নিঙাড়িয়া নীল শাড়ি শ্রীমতী চলে' তো রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করল। রাগাশ্রিত গান কিন্তু ওস্তাদি জাহিরের চেষ্টা নেই। সহজ সাবলীল এই গায়কী বিপুল প্রশংসা কুড়ায় সে সময়। ১৯৫৫ সালে সূচিত্রা-উত্তম অভিনীত বিখ্যাত ছবি 'শাপমোচনে' চিন্ময় লাহিড়ীর সঙ্গে গাওয়া 'ত্রিবেনী তীর্থ পথে কে গাহিল গান' সম্পর্কেও একই কথা বলা চলে। রাগাশ্রিত কিন্তু কালোয়াতি আড়ম্বর নেই।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের যুগপুরুষ ওস্তাদ আমীর খানের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার দুর্লভ সুযোগ এল 'ুধিত পাশান' ছবিতে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক তপন সিংহ সঙ্গীত পরিচালক প্রবাদপ্রতীম সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খানকে বললেন, রবীন্দ্রনাথের 'যে রাতে মোর দুয়ার গুলি ভাঙল ঝড়ে' এই গানের সুর নিয়ে কিছু একটা করা যায় কিনা! আলি আকবর তখনই তৈরি করলেন সেই বিখ্যাত গান 'ক্যায়সে কাটে রজনী ইয়ে সজনী'। এই গানেই ওস্তাদ আমীর খানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। অত বড় ওস্তাদের সঙ্গে গলা মেলানো চাট্টিখানি কথা নয়। দুরুদুরু বুকে আমীর খানের পাশে মাইক্রোফোনের সামনে বসলেন প্রতিমা। তবে তার সহজ সাবলীল কণ্ঠ উৎরে গেল ভালভাবেই। এরপর ১৯৫৪ সালে পণ্ডিত জ্ঞান প্রকাশ ঘোষের সঙ্গীত পরিচালনায় 'যদু ভট্ট' ছবিতে গাইলেন ওয়াজিদ আলি শা'র সুর দেয়া ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেই গান 'বাবুল মোরা'। এই গানই প্রথম বিএফজে পুরস্কার এনে দেয় তাকে।
শুধু রাগাশ্রয়ী গানে নয় অন্যান্য ধরনের গানেও প্রতিমা সমান সফল। ১৯৬০ সালে প্রকাশ পাওয়া 'নতুন ফসল' ছবিতে পণ্ডিত রাইচাঁদ বড়াল ও ওস্তাদ বিলায়েত খানের সঙ্গীত পরিচালনায় প্রতিমার গাওয়া সেই লোকায়ত গান 'যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাবো না' তো আজো সমান জনপ্রিয়। হেমন্ত মুখোপধ্যায়ের সুরে গাওয়া তার 'কুসুম দোলায় দোলে শ্যাম রায়', রাইচাঁদ বড়ালের সুরে 'মাধব বহুত মিনতি' বা 'কী রূপ দেখিনু'র মতো কীর্তনাঙ্গের গানও অপরূপ সুমা পেয়েছে তার কণ্ঠে। অনেক আগে আঙুরবালার কণ্ঠে গাওয়া 'আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চল সখা' (কথা : ধীরেন চট্টোপাধ্যায়, সুর : ভূতনাথ দাস) ও 'আমার জীবন নদীর ওপারে' (কথা : বরদা প্রসন্ন দাশগুপ্ত, সুর : ভূতনাথ) ১৯৬৭ সালে নতুন করে গেয়ে সাড়া ফেলে দিলেন প্রতিমা।
অনেক সমালোচক বলেন, প্রতিমার কণ্ঠে আবেগ কম। এমনও শোনা যায় যে, পঞ্চাশের দশকে একটা ছবির গান রেকর্ডিংয়ের সময় প্রতিমার একটা গান কিছুতেই মনমতো হচ্ছিল না পরিচালক দেবকী কুমার বসুর। তখন তিনি সজোরে একটা চড় মারেন প্রতিমার গালে। এরপর প্রতিমা কাঁদতে কাঁদতেই গেয়েছিলেন সেই গান। দেবকী কুমার এবার খুশি হন গান শুনে। প্রতিমার কণ্ঠে না থাক আবেগ, 'বনের চামেলী ফিরে আয়', 'জীবন নদীর ওপারে', 'আমি গানের মাঝে বেঁচে থাকব', 'প্রদীপ কহিল দণিা সমীরে', 'আমি প্রিয়া হব ছিল সাধ', 'এল ঘনিয়ে বরষা', 'তোমারে চেয়েছি বলে', 'তোমার দীপের আলো দিয়ে নয়', 'বড় সাধ জাগে', 'এ শুধু ভুলের বোঝা', 'একটা গান লিখ আমার জন্য', 'কান্ত শেফালীরা ঘুমিয়ে পড়েছে' সর্বোপরি 'মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি'র মতো কালজয়ী গান যার কণ্ঠে সহজে খেলে যায়, তার কণ্ঠে আর বাড়তি আবেগের দরকার কি! প্রতিমার এসব গান ইদানীং রিমেক করেছে অনেক শিল্পী। কিন্তু প্রতিমার সেই অসাধারণ গায়কী একটুও কেউ স্পর্শ করতে পেরেছে কি!
গানের সুরও রচনা করেছেন প্রতিমা। প্রিয় 'হেমন্ত দার' কণ্ঠে তার সুর করা গান 'শেষের কবিতা মোর' এবং 'তন্দ্রাহারা রাত জেগে রয়' আজও শ্রোতাদের মন উদাস করে দেয়। ভারি মধুর সম্পর্ক ছিল এই দুই সঙ্গীত শিল্পীর মধ্যে।
এত বড়মাপের শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও শেষ বয়সটা কিন্তু মোটেই ভাল কাটেনি প্রতিমার। অত্যন্ত নিঃসঙ্গ অবস্থায় কেটেছে তার জীবনের শেষ দিকটা। মানসিক অসুস্থতাও দেখা দিয়েছিল। কলকাতায় তার সাহা নগর রোডের বাড়ির পাশে এক মুদির দোকানের সামনে দিনের পর দিন মলিন বস্ত্রে বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে। মৃতু্যর বছর কয়েক আগে এই অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক সঙ্গীত উৎসবে তাকে ধরে নিয়ে এলেন নির্মলা মিশ্র। নির্মলার হাত ধরে আটপৌরে শাড়ি পরা প্রবীণা এই শিল্পী ধীরে ধীরে মঞ্চে প্রবেশ করতেই করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা আসর। একে একে গাইলেন ফেলে আসা দিনের অসাধারণ সেই সব গান। আশ্চর্য মাদকতা জড়ানো কণ্ঠে বয়সের ছাপ নেই বিন্দুমাত্র। দীর্ঘ দিন পর কলকাতার শ্রোতার প্রতিমাকে এভাবে পেয়ে আত হযে ওঠেন সেদিন। শিহরণ জাগানো অজানা এক অনুভূতিতে সেদিন থরথর করে কেঁপেছিল রবীন্দ্রসদন। পরদিন পত্রিকায় পত্রিকায় প্রতিমা বন্দনাতেই তার অসধারণ গায়কীর প্রমান মেলে। ২০০৪ সালের ২৯ জুলাই শেষ বয়সের সব জ্বালা যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় সশরীরে আর নেই একথা সত্যি তবে বাঙালির বুকের ভেতর 'মেলা থেকে কিনে আনা তাল পাতার বাঁশি' তিনি বাজাবেন যুগের পর যুগ। 'কাজলা দিদির' প্রতিমা আছেন আমাদের বুকের গভীরে, সুখস্মৃতি রোমন্থনের মধুর বেদনার মত। আছেন বাংলার সুরের আকাশে শুকা একাদশীর চাঁদ হয়ে।
_আকাশ কুসুম
বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ইউটুর বোনো ও 'জিম সেরিডান'
সেই ১৯৭৭ সালের কথা। পল হিউসন নামের এক আইরিশ কিশোর ডাবলিনের প্রজেক্ট আর্ট সেন্টারে ভর্তি হয়। উদ্দেশ্য মুকাভিনয়ে পাঠ নেয়া। সেদিনের হিউসনই আজ ইউটুর। বিশ্বখ্যাত রক সঙ্গীত তারকা বোনো নামে পরিচিত ডাবলিনের ঐ আর্ট সেন্টারের পুরোধা জিম সেরিডান আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা, আর্ট সেন্টার থেকেই দুজনের বন্ধুত্বের সূচনা।
জিমের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্কে বোনো বলেন, জিমের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বে সব রসায়নেরই সমন্বয় ঘটেছে। রক ব্যান্ড ও ছয় বার অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত তারকার মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপারে বোনো বলেন, আমরা বহু আগে অভিনয়, সঙ্গীত ও শিল্পকলার জন্য খ্যাত ডাবলিনের একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র পরিচালনায় যুক্ত ছিলাম। জিম ও তার ভাই পিটার আর্ট সেন্টার নামের এই প্রগতিশীল থিয়েটার গ্রুপ পরিচালনা করতেন। বিচিত্র সব মানুষের সমাবেশ ঘটত সেখানে। সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বোনো বলেন, আমার মনে পড়ে ইউটু নামে প্রথম যেদিন অনুষ্ঠান করি সেদিনের কথা। ঐ স্থানটি ডার্ক স্পেস নামে পরিচিত ছিল। প্রজেক্ট আর্ট সেন্টারের গুদামঘরের মতো এ স্বল্প পরিসরে ২৪ ঘণ্টাই সঙ্গীত উৎসবে মেতে থাকত। এরপর রয়েছে আমাদের অনেক ইতিহাস...।
এই কাহিনীর পরবতর্ী অধ্যায় হচ্ছে 'ব্রাদার্স'। সেরিডানের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ছবিতে ইউটুর নতুন গান উইন্টার। চিত্রায়িত হয়েছে। ব্রাদার্স ছবির জন্য বিশেষভাবে গানটি লেখা হয়েছে। পরিবার যুদ্ধ ও ত্যাগের শাশ্বত মহিমায় গড়ে উঠেছে ছবির কাহিনী। ইউটু দ্বিতীয়বারের মতো তাদের গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। এই উইন্টার গানের জন্যই ইউটু এ মনোনয়ন লাভ করে। ১৫ ডিসেম্বর এ মনোনয়ন লাভের ঘোষণা দেয়া হয়। ২০০৩ সালে 'গ্যস অব নিউইয়র্ক' ছবির দ্য হ্যান্ডস দ্যট বিল্টইন আমেরিকা গানের জন্য ইউটু গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। ২০০৪ সালে নির্মিত ড্যানিশ ছবি ব্রোদ্রের রিমেক হচ্ছে ব্রাদার। ছবিটি সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বোনো বলেন, এটা দেখে আমরা বলেছি হঁ্যা এখানেই আমরা জেতে চেয়েছি। উইন্টারের কিছু গানের কলি শ্রোতা দর্শকদের হৃদয়ে সহজেই দাগ কাটে। যেমন আমার বয়স পঁচিশ/চেষ্টা করে যাচ্ছি বেঁচে থাকার জন্য/বিশ্বের এক প্রান্তে/লড়াই করছি অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে/এখানে যেন নরকের উত্তাপ/ আর আমরা যেন টোস্টে লাগান মাখন/এ ধরার বুকে নেই কোন সৈন্য/ যারা খুঁজতে পারে ভূতের সনে। ইউটুর জন্য সবকিছুই যেন এখন সোনায় সোহাগা। ২৬ বছর অপোর পর গ্লাসটনবেরির ঐতিহ্যবাহী খামার বাড়িতে বিশ্বের বৃহত্তম ব্যান্ড দল ইউটুর অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। গ্লাসটনবেরির ৪০ বছর পূর্তি উপল েআগামী বছর ২৫ জুন সঙ্গীতের এ পীঠস্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। গ্লাসটনবেরির ঐতিহ্যবাহী পিরামিড স্টেজে এটাই হবে বিশ্বখ্যাত এই রক ব্যান্ড দলের প্রথম সঙ্গীত উৎসব। আগামী বছরের বহুল প্রতীতি এ অনুষ্ঠানের টিকেট মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে গেছে। এই রক উৎসবের অফিসিয়াল মিডিয়া স্পন্সর হচ্ছে ব্রিটেনের বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকা। শিল্প বোদ্ধাদের ধারণা এটাই হবে বিশ্বের সেরা সঙ্গীত উৎসব।
_ইব্রাহিম নোমান
শাবনূরের মন ছুঁয়েছে মন তুষার আদিত্য
আর মাত্র ক'দিন পরেই, নতুন বছরের শুরুতে অভিনয় ক্যারিয়ারের এক যুগে পা দিবেন ঢাকার চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা শাবনূর। লাখো-কোটি সিনেমা দর্শকের সুইট হার্ট-ড্রিমগার্ল এ তারকা নায়িকার চলচ্চিত্রে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। শবনম, শাবানা, শাবনাজ প্রমুখ তারকা চিত্র নায়িকার আবিষ্কারক-গুণী নির্মাতা এহতেশামের 'চাঁদনী রাতে' ছবিতে সাবি্বরের বিপরীতে শাবনূরের অভিষেকটা সাফল্যে মোড়ানো না হলেও প্রথম ছবিতেই তিনি প্রতিভার ঝলকানিতে দর্শক নির্মাতার আশ্বস্ত ও আশান্বিত হয়েছিলেন ঠিকই। তাই তো চাঁদনী রাতে' মুক্তি পরবতর্ীতে তখনকার সুপারহিট নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে একের পর এক অনেক ব্যবসা সফল ছবিতে অভিনয় করে শাবনূরও হয়ে ওঠেন প্রবল জনপ্রিয় তারকা। শুধু তাই-ই নয়, শীর্ষ নায়িকা মৌসুমীকে হটিয়ে তারকা রেস-এর শীর্ষপদে আসীন হন তিনি। সেই থেকে শাবনূরের জনপ্রিয়তা আর সাফল্য গাথা অটুট রয়েছে। মাঝখানে শুধু একবার, সালমান শাহর অকাল প্রয়াণের পর তারকা ফিল্মি ক্যারিয়ারের চাকা কিছুটা স্থির হয়ে গিয়েছিল আইনী জটিলতায় পরার কারণে। তখন অনেকেই বলেছিলেন-এই বুঝি তার ফিল্ম ক্যারিয়ার ডুবে গেল। কিন্তু চতুর শাবনূর অত্যন্ত দূরদৃষ্টি নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে আবার চাঙ্গা করে তোলেন। এবার তার পর্দাজুটি হিসেবে সাফল্য পায় রিয়াজ। এরপর শাকিল খান, মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস প্রমুখ তারকা নায়কের বিপরীতে অভিনয় করে তাদের সঙ্গে শাবনূর সফল জুটি গড়ে তোলেন।
ফিল্মি ক্যারিয়ারের ১৭ বছর কাটিয়ে দেড় যুগে পা দেয়ার প্রাক্কালে ১৮ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে শাবনূর অভিনীত "মন ছুঁয়েছে মন" ছবিটি। তরুণ ও মেধাবী চিত্রপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের এ ছবিতে শাবনূরের নায়ক রিয়াজ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রোমান্টিক এ ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে। অনেকদিন পর শাবনূর দর্শক-ভক্তদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন। সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় এ প্রতিবেদককে তিনি বলেছেন, "অনেকদিন পর আমার অভিনীত এ ছবিটি মুক্তির আগে আমি বেশ উত্তেজনায় ছিলাম। একটু টেনশনেও ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সব উত্তেজনা আর টেনশন দূর হয়ে গেছে ছবিটির সাফল্যে। আই এ্যাম ভেরি হ্যাপি।" অনেকে মনে করছেন_'মন ছুঁয়েছে মন' ছবির সাফল্যে শাবনূরের প্রায় স্থবির হয়ে পড়া ফিল্মি ক্যারিয়ার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। লোকজনের এমন কথার প্রেেিত শাবনূরের বক্তব্য হলো_ "আমার ক্যারিয়ার কখনোই স্থবির হয়নি। এটা লোকজনের অপপ্রচার। আসলে গেল ২ বছরে ছবিতে অভিনয় করেছি কম। এই সময়টাতে দেশের বাইরে যাওয়া-আসার কারণে অভিনয়ে সময় কম দিতে হয়েছে। তাই ছবিতে অভিনয় কম করেছি। কিন্তু লোকজন অপ্রচার চালাচ্ছেন।"
'মন ছুঁয়েছে মন'-এর তরুণ পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ছবি 'দুই নয়নের আলো'য় অভিনয় করেছিলেন শাবনূর। এত বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো শাবনূর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। অবশ্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস), মেরিল-প্রথম আলো, বাবিসাস ট্রাবসহ দেশের প্রায় সব সম্মানজনক পুরস্কার তিনি একাধিকবার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্ছিত্র পুরস্কার পাওয়ার প্রেতি বর্ণনা করতে গিয়ে শাবনূর বলেছেন, "আমার অভিনয় জীবনে এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে অপূর্ণতা ছিল। অনেক বিখ্যাত নির্মাতার দারুণ সব ছবিতে অভিনয় করেও আমি দীর্ঘদিন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলাম। সেই অপূর্ণতা আমাকে পূরণ করে দিয়েছে মানিক। তাঁর দুই নয়নের আলো-ছবিতে আমার অভিনীত চরিত্রটি এক কথায় অসাধারণ ছিল। মানিকের ছবির মাধ্যমে আমার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।'
পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, আমি যখন 'দুই নয়নের আলো' ছবিটি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন শাবনূরকে মাথায় রেখে ছবিটির নায়িকা চরিত্রটি তৈরি করেছিলাম। যখন শাবনূর ওই চরিত্রে অভিনয় করলেন, এমন চরিত্রটি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠল। চরিত্রানুগ সাবলীল অভিনয়ের সুফল হিসেবেই এই ছবির জন্য শাবনূর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। মন ছুঁয়েছে মন' ছবিতেও শাবনূর অভিনীত চরিত্রটি ওকে মাথায় রেখে তৈরি করা। সব মিলিয়ে আমার আর শাবনুরের কম্বিনেশনটা ভাল বলেই আমরা ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছি।
'মন ছুঁয়েছে মন' ছবিটির ব্যাপক সাফল্যের পর আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে শাবনূর অভিনীত 'পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ' ছবিটি। এটির পরিচালক পি.এ. কাজল। রোমান্টিক এ্যাকশন ধাঁচের এই ছবিতে শাবনূরের নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন নায়ক আমান। তবে ছবিতে অধিকাংশ সময়ই তাকে অভিনয় করতে হয়েছে বিধবা নারীর চরিত্রে। আশির দশকে মুম্বাইর ছবি 'খুন ভারি মাঙ্গ' ছবিতে রেখা যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন, পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ ছবিতে শাবনূর তেমন একটি চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। জানা গেছে, ছবির প্রধান তারকা হলেও 'পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ' ছবিতে অধিকাংশ সময়ই শাবনূরের পর্দা উপস্থিতি নায়কবিহীন। অভিনয় ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিতে শিশু তারকা দিঘী অভিনয় করেছে শাবনূরের মেয়ের চরিত্রে। আর তাই শাবনূর ছবিটি নিয়ে মহা টেনশনে আছেন। টেনশনের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে শাবনূর বলেছেন, এবারই প্রথম আমি এক কন্যার জননী বিধবা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার অগণিত দর্শক ভক্ত পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ ছবিতে এমন একটি চরিত্রে আমাকে কিভাবে গ্রহণ করেন সেটিই দেখার বিষয়। এ কারণেই আমার ভীষণ টেনশন হচ্ছে। অভিনয় ক্যারিয়ারে কোন ছবি রিলিজের আগে আমি এতটা টেনশনে ছিলাম না। এক কন্যার জননী, বিধবা নারীর মতো ওভার ম্যাচিওরড চরিত্রে অভিনয় করাটাই টেনশনের প্রধান কারণ।' অবশ্য পরিচালক পি.এ. কাজলের দাবি_ছবিতে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে শাবনূর অনবদ্য অভিনয় করেছেন।
'পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ' ছবিটি নিয়ে শাবনূর যতটা টেনশনে আছেন, এরচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন শাবনূর ঘরানার নির্মাতারা। তাদের আশঙ্কা_ছবিটি যদি ব্যবসা সফল হয়, তাহলে অমন ধাঁচের চরিত্রেই শুধু তাকে চিন্তা করবেন নির্মাতারা। আর যদি ছবিটি অসফল হয়, এর দায়ভার পড়বে শাবনূরের ওপর। কেননা দর্শকরা এমন ভারি চরিত্রে তাকে কখনোই দেখেননি। বলা যায়, ছবিটি মুক্তির আগে শাবনূরের উভয় সঙ্কট অবস্থা। অর্থাৎ ছবিটি ব্যর্থ হলে এর জন্য দায়ী হবেন তিনি। আবার সফল হলে তার তরুণী নায়িকার ইমেজে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, হাল সময়ে শাবনূরকে নিয়ে বড় একটি গুঞ্জন দেশীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপকভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। গুঞ্জন উঠেছে_তিনি নাকি বিয়ে করেছেন। তার স্বামী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। গুঞ্জন চলছে_অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ওই যুবককে বিয়ের কারণেই নাকি শাবনূর ঘন ঘন অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। তবে আনন্দকণ্ঠের এই প্রতিবেদকের কাছে এই গুঞ্জনের কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। শাবনূর বলেছেন, "এটা আমার নিন্দুকদের অপপ্রচার। যখনই আমার অভিনীত কোন ছবি মুক্তি পায়। তার আগে কোন কোন অতি উৎসাহী নিন্দুক আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর যদি বিয়েই করি, তবে লুকিয়ে করব কেন? বিয়েটা তো চুরি নয় যে, লুকিয়ে করতে হবে। আমি বিয়ে করলে সবাইকে জানান দিয়েই করব। আর অস্ট্রেলিয়ায় আমার ছোট বোন, ছোট ভাই থাকে। ওদের ওখানে অবকাশ যাপনের জন্য যাওয়াটা নিশ্চয়ই দোষের কিছু না।"
সবশেষে নিজের ফিল্মি ক্যারিয়ার পরিচালনার পরিকল্পনা হিসেবে হাল সময়ে নতুন নায়কদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন_ অপু বিশ্বাসের ক্রমশ উত্থানে কিছুটা ম্রিয়মাণ শাবনূর। রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খান, আমিন খানদের পাশাপাশি ইমন, নীরব, আমানসহ আরও কয়েকজন নায়কের সঙ্গে চলতি সময়ে তিনি অভিনয় করছেন। চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন_ এতে শাবনূরের তরুণী নায়িকার ইমেজই সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। তিনি নিজেও তাই চান। শাবনূর বলেছেন, 'এখনই আমি চরিত্রাভিনয়ে যেতে চাই না। ওভার ম্যাচিওরড চরিত্রে বেশি অভিনয় করলে আমার চরিত্রাভিনেত্রীর ইমেজই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে অমন ইমেজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কথা আমি ভাবছিনা।' নিজের এই ভাবনা আর পরিকল্পনা থেকেই হয়ত মাঝখানে মুটিয়ে যাওয়া সাবেক এই শীর্ষ নায়িকা আবার নিজেকে আগের মতো স্লিম ফিগার-এর নায়িকা হিসেবে তৈরি করেছেন। ইদানীং তাকে দেখলে দেড় যুগ আগের শাবনূরের মতোই তরুণী মনে হয়। হয়ত পুরনো স্লিম ফিগার দিয়েই শাবনূর তার হারানো শীর্ষাসনে পুনর্অধিষ্ঠিত হবেন।
বিজয়ের মাসে বিদেশিনী
বিজয়ের মাস মানেই যেন এক অন্যরকম উদ্যমের মাস, উজ্জীবিত হওয়ার মাস। নতুন করে পথ চলার সাহস সঞ্চার করার মাস, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা তার উত্তাপ যে অন্যরকম থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাঙালী তার স্বকীয়তা ফিরে পেয়েছে এ মাসে। ফিরে পেয়েছে তাদের একান্ত কৃষ্টি কালচার, যা নিজেদের মতো উদযাপন করার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে বারো মাসে তেরো পার্বণ, হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বাঙালীর এই কৃষ্টি কালচার শুধু যে বাঙালীদেরই আকৃষ্ট করে তা না। অনেক বিদেশী নাগরিক আমাদের এ শিল্প সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করে। তেমনি একজন বাঙালী সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি হচ্ছেন জো গ্রেজলিনস্কা। একটি বিদেশী সংস্থার এ দেশীয় কার্যালয়ে কমিউনিকেশন এ্যাডভাইজার হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটালেও জড়িয়ে পড়েছেন এদেশের শিল্প সংস্কৃতির সাথে। এরই ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বড় বড় উৎসবে ছড়িয়ে দেন নিজেকে। বন্ধুবান্ধবদের অনুরোধে নাটক সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন জো। সবকিছু নিয়েই কথা হয় জো'র সাথে। কেমন লাগছে বাংলাদেশ প্রশ্ন করতেই তাৎনিক জবাবে জো বলেন খুবই ভাল, আমি সাড়ে চার বছর ধরে বাংলাদেশে আছি কিন্তু এ স্বল্প সময়ে এদেশকে বেশ আপন মনে হচ্ছে। প্রথমে একটি ভলান্টারি কাজ নিয়ে এক বছরের জন্য এদেশে আসি। তখন কাজের প্রয়োজনে অনেক মানুষের সাথে মিশতে হয়েছে। খুব কাছ থেকে মেশার ফলে দেখেছি এদেশের মানুষ বেশ অতিথিপরায়ণ এবং হেলপফুল। সেই সাথে রয়েছে মানুষকে আপন করে নেয়ার সহজ সরল মন, যা আমাকে খুব বেশি আকৃষ্ট করেছে। এরপর আমি আমার বাসভূমি অস্ট্রেলিয়াতে চলে যাই এবং সুযোগ খুঁজি কিভাবে আবার বাংলাদেশে আসা যায়। লাকিলি আমি এ দেশেই জব পেয়ে যাই এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকায় জয়েন করে ফেলি। সাড়ে চার বছর হয়ে গেল আমি স্টীল নাউ ঢাকাতেই আছি। এদেশের কৃষ্টি কালচার কেমন উপভোগ করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান এদেশের মানুষ উৎসবপ্রিয়। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উৎসবের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশে যা আমাকে রীতিমতো আকৃষ্ট করে। কোন্ কোন্ উৎসব বেশি ভাল লাগে এর উত্তরে জো জানান পহেলা বৈশাখ আমার ফেভারিট একটা উৎসব। এছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরী হিন্দুদের পূজো এবং এদেশের বিয়ে শাদীর উৎসব আমার কাছে খুব ভাল লাগে। এদেশের বিয়ে শাদীতে বেশ মজা হয়। আমি সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেলে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করি। আপনাকে এদেশের বেশ কটি নাটক, সিনেমা, মডেলিং এ দেখা গেছে। কিভাবে জড়ালেন এসবের সাথে, সদাহাস্য জো বলেন এদেশের টিভি মিডিয়াতে যারা বিচরণ করেন তাঁদের মধ্যে বেশ কজন আমার খুব ভাল বন্ধু। তাদের অনুরোধেই এসব করা। গত ঈদে আমার একটা নাটক প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া গনি সাহেবের শেষ কদিন নাটকে হাসান মাসুদের স্ত্রী হিসেবে অভিনয় করেছি। কয়েক বছর আগে কেয়া কসমেটিকস্ এর মডেল হিসেবে কাজ করেছিলাম। নার্গিস আক্তার পরিচালিত ফিল্মেও আমি অভিনয় করেছি। এখানে লন্ডনের মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। সামনে আর কোন কোন নাটক বা সিনেমাতে কাজ করছেন এর উত্তরে জো বলেন আমি শখের বশে এ কাজগুলো করি। কিন্তু দিন দিন কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়াতে সময় সুযোগ হয়ে উঠছে না। এছাড়া এখানে শূ্যটিং করতে অনেক সময় নেয়। আমি অস্ট্রেলিয়াতে দেখেছি খুব কম সময়ে ওরা শূ্যট টেক করে এবং কাজেও নিভর্ুল হয়। এত সময় নিয়ে শূ্যটিং হয় বলে সময় দিতে পারি না। এমন কোন ইচ্ছা আছে যা এখনও করে ওঠা হয়নি। অফকোর্স আমি নাচ ভীষণ ভালবাসি এবং আমার মনে হয় আমি কিছুটা নাচতেও জানি, যদি কখনও সুযোগ হয় তাহলে নাচের প্রোগ্রাম করার ইচ্ছা আছে। ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস, এ মাসের তাৎপর্য আপনি কিভাবে দেখেন। কিছুণ চুপ করে থেকে জো জানান ১৯৭১ সালের ঘটনা আমি শুনেছি। আমি তখন ছোট ছিলাম তারপরও অস্ট্রেলিয়াতে বসেই আমি বাংলাদেশের সে সময়কার কথা শুনেছি। এরপর বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। ভাবতে ভাল লাগে দেশকে কতটা ভালবাসলে মানুষ তার জীবনকে তুচ্ছ ভাবতে পারে। জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন এ তো অমূল্য এক ব্যাপার। এই দেশপ্রেম যদি প্রতিটি মানুষ তার হৃদয়ে আজীবন ধরে রাখতে পারে তাহলে একটি জাতির উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। এদেশের নতুন প্রজন্মকে বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে দেশ গঠনে কাজে লাগাতে হবে। বিজয়ের অনুপ্রেরণা যদি তাদের মধ্যে জাগ্রত করা যায় তাহলে ভাল কিছু বের করে আনা সম্ভব। বাংলাদেশে যে পরিমাণ জনশক্তি আছে তা যদি প্রপার ওয়েতে কাজে লাগানো যায় তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পেঁৗছবে। আমার শুভ কামনা রইল সকলের প্রতি। সামনেই তো বড়দিন, এই দিনটা কিভাবে কাটাবেন বলে ঠিক করেছেন। এর জবাবে জো বলেন আমি সারাদিন পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন চার্চে ঘুরে বেড়াবো। আর আমার ফ্যামিলি থাকে অস্ট্রেলিয়াতে। যেহেতু তাদের সাথে আনন্দ শেয়ার করতে পারব না তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি চার্চে চার্চে ঘুরব এবং চার্চে আসা মানুষগুলোর সাথে নিজ অনুভূতি শেয়ার করব আশা করছি ভালই কাটবে দিনটি। আপনাদের সবার জন্য বিজয় এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা রইল। আপনাদের মতো এই দেশকে আমিও ভালবাসি এবং উত্তরোত্তর এর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
_তৌফিক অপু
নতুন বছরের শুরুতে প্রিয়াঙ্কার পেয়ার ইম্পসিবল
অনেক বছর আগে প্রখ্যাত চিত্র নির্মাতা শেখর কাপুর নির্মাণ করেছিলেন মাসুম ছবিটি। শাবানা আজমী নাসির উদ্দিন শাহ অভিনীত মাসুম ছবিটি সব দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। মাসুম ছবিতে একটি সুন্দর ফুটফুটে শিশু শিল্পীর অপূর্ব অভিনয়ের কথা দর্শক আজও ভুলতে পারে না। ঐ ছবিতে নাসির উদ্দিন শাহর ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিল ঐ শিশুশিল্পী। এই ফুটফুটে সুন্দর ছেলেটিই একসময় বড় হয়ে হিন্দী সিনেমায় নায়ক রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আগলে লাগ যা, পাপা ক্যাহতে হ্যায়, মোহাব্বাতেসহ বেশ কিছু ছবিতে তাকে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন হিন্দী সিনেমার দর্শক। একদার সাড়া জাগানো শিশুশিল্পী এবং পরবতর্ীতে নায়করূপে আবিভর্ূত হওয়া যুগল হংসরাজ আজকাল আর অভিনয় করেন না। কয়েক বছর আগে পরিচালকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। বলিউডের নামীদামী ব্যানার যশরাজ ফিল্মস-এর প্রযোজনায় নির্মিত এ্যানিমেশন ছবি রোড সাইড রোমিও পরিচালনা করেছেন যুগল। এছাড়া যশরাজ ফিল্মস-এর দুটি ছবি সালাম নমস্তে এবং আজা নাচালের পরিচালকের প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করে হাত পাকিয়েছেন। এবার তিনি নিজেই একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য রোমান্টিক কমেডি হিন্দী সিনেমা পরিচালনা করেছেন। যুগল হংসরাজ পরিচালিত পেয়ার ইম্পসিবল ছবিটি আগামী নতুন বছরে অর্থাৎ ২০১০-এর প্রথম সপ্তাহেই দর্শকদের সামনে আসছে। রোমান্টিক কমেডি ধাঁচে এ ছবিটি নির্মিত হয়েছে বলিউডের প্রেস্টিজিয়াস ব্যানার যশরাজ ফিল্মস থেকে। নানা কারণে এ ছবিটি মুক্তির আগেই আলোড়ন তুলেছে বলিউডে। তরুণ পরিচালক যুগল হংসরাজের এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই সময়ের ব্যস্ত জনপ্রিয় নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আজকাল তাকে হিন্দী সিনেমার সেরা ৫ নায়িকার অন্যতম একজন ভাবা হয়ে থাকে। যেনতেন সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন না। ২৭ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা বলিউডের শীর্ষ নায়কদের বিপরীতেই অভিনয় করেন অধিকাংশ ছবিতে। কিন্তু পেয়ার ইম্পসিবল ছবিতে তিনি নায়িকা হয়েছেন অপোকৃত দুর্বল অবস্থানের সাধারণ এক নায়ক উদয় চোপড়ার বিপরীতে। প্রখ্যাত প্রযোজক পরিচালক যশ চোপড়ার ছোট ছেলে উদয় চোপড়া তাদের নিজস্ব ব্যানারের ছবি ছাড়া বাইরের ব্যানারের মাত্র একটি ছবিতেই অভিনয় করেছেন। গত বেশ কয়েক বছরে মোহাব্বতে মেরা ইয়ার কা সাদি, মুঝছে দোস্তি করোগি, ধুম ধুমটু, নিল এন নিকি প্রভৃতি ছবিতে নায়ক সাজলেও দর্শক তাকে মোটেও গ্রহণ করেনি। তারপরেও বাবার প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে উদয় নায়ক হচ্ছেন। তাদের পারিবারিক ব্যানারের সিনেমাতেই নায়ক সেজে চলেছেন। এবার যশরাজ ফিল্মস-এর ব্যানারে নির্মিত যুগল হংসরাজ পরিচালিত অন্যরকম প্রেমের ছবি পেয়ার ইম্পসিবল-এ প্রথম যখন নায়ক উদয় চোপড়ার বিপরীতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নায়িকা সাজার প্রস্তাব দেয়া হয়, তিনি সঙ্গে সঙ্গে সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কাকে রাজি করানোর জন্য যশরাজ ফিল্মস সাধারণ রেটের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে আকাশ ছোঁয়া পারিশ্রমিক অফার দেয়া হয়। অনেক প্রচেষ্টার পর প্রিয়াঙ্কাকে পেয়ার ইম্পসিবল ছবির নায়িকা আলিশা চরিত্রে অভিনয়ে রাজি করানো সম্ভব হয়। পেয়ার ইম্পসিবল ছবিটি মূলত প্রিয়াঙ্কাকেন্দ্রিক একটি রোমান্টিক কমেডি মুভি। এখানে প্রিয়াঙ্কা অভিনয় করেছেন একজন প্রাণোচ্ছল অপূর্ব সুন্দরী আকর্ষণীয়া স্মাট মিশুক স্বভাবের তরুণী আলিশা চরিত্রে। তার রূপেগুণে সবাই মুগ্ধ। সবাই তাকে ভীষণ পছন্দ করে। সব যুবকের স্বপ্নকন্যা সে। প্রিয়তমা হিসেবে তাকে ভাবতে চায় অনেকেই। আলিশার অগণিত ভক্ত অনুরাগীর মধ্যে একজন অভয়। ভীতু স্বভাবের আনস্মাট অতি সাধারণ এই যুবক কোনভাবেই নিজেকে আলিশার প্রেমিক হিসেবে ভাবতে পারে না। তবে সে মনে মনে আলিশাকে অনেক ভালবাসে। আলিশাকে নিয়ে মনে মনে অনেক কিছু কল্পনা করলেও মনের সেই একান্ত অনুভূতির কথা অভয়ে মুখ ফুটে বলার সাহস পায় না। দ্বিধা সংকোচ জড়তা ভয় সবই তাকে চেপে ধরে রাখে। এ রকম দুই তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রেম ভালবাসা কোনভাবেই সম্ভব না হলেও পেয়ার ইম্পসিবল ছবির সাজানো গল্পে দেখা যাবে ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে প্রেম ভালবাসা হয়ে যায়। এ রকম অসম্ভব এক প্রেমকাহিনী নিয়ে সমকালীন পটভূমিকায় নির্মিত পেয়ার ইম্পসিবল ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উদয় চোপড়ার সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার জুটি কেমন লাগে তা দেখার জন্যেও কেউ কেউ উৎসুক হয়েছেন। ইতোমধ্যে টিভি প্রমোটে আলিশারূপী প্রিয়াঙ্কার গ্ল্যামারাস পারফরমেন্স দর্শকদের চমকিত করেছে। ২০০৯-এ প্রিয়াঙ্কা অভিনীত কামিনে এবং হোয়াটস ইয়ু্যর রাশি ছবি দুটি মুক্তি পেয়েছে। 'কামিনে' ছবিটির ব্যবসায়িক সাফল্য তার অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। হোয়াটস ইয়ু্যর রাশি ছবিটিতে একসঙ্গে ১২টি চরিত্রে অভিনয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন প্রিয়াঙ্কা। এর আগে কোন ভারতীয় অভিনেত্রী একই ছবিতে এক সঙ্গে এতো বেশি চরিত্রে অভিনয় করেননি। প্রিয়াঙ্কার এ ধরনের কৃতিত্ব তাকে বলিউডে বিশেষ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। আগামীতে পরিচালক বিশাল ভারদ্বাজের নতুন ছবিতে তাকে সাত ভিন্ন স্বামীর সাতজন ভিন্ন ভিন্ন স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। সম্প্রতি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় একজন অন্যতম বিচারকের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। বর্তমানে বিভিন্ন প্রেস্টিজিয়াস ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে একের পর এক মডেল হচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে প্রিয়াঙ্কার গর্জিয়াস রূপ দর্শকদের বার বার মুগ্ধ চমকিত করছে। নতুন বছরের শুরুতে দুর্দান্ত চমক নিয়ে আসছেন প্রিয়াঙ্কা। অসম্ভব প্রেমকে সম্ভব করে পেয়ার ইম্পসিবল ছবিতে তিনি কতটা সাফল্য পান সেটাই হলো দেখার বিষয়।
_রেজাউল করিম খোকন
ওয়েস্টার্ন পপে নতুন বিস্ময় অ্যালিসিয়া কীস
আমেরিকান পপ তারকা অ্যালিসিয়া কীস-এর চতুর্থ অ্যালবাম দ্য এলিমেন্ট অব ফ্রিডম রিলিজ হয়েছে গত ১৫ ডিসেম্বর। রিলিজ হওয়ার আগেই অ্যালিসিয়ার লেটেস্ট এই মিউজিক অ্যালবাম নিয়ে পৃথিবীজুড়ে দারুণ হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে আমেরিকান পপের টপ চার্টে ঠাঁই করে নিয়েছে অ্যালিসিয়ার সর্বশেষ এই চমকটি। আগের সব অ্যালবামের মতোই বিক্রির েেত্র বিশেষ রেকর্ড সৃষ্টি করতে চলেছে দ্য এলিমেন্ট অব লাইফ। ২৯ বছর বয়সী এই কৃষ্ণাঙ্গ গায়িকা ইতোমধ্যে অসংখ্য পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। তার গাওয়া গানের অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ৩০ মিলিয়নের বেশি। দুনিয়াজুড়ে এখন তার পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। ইদানীং বেস্ট সেলিং আর্টিস্টদের তালিকায় তার নামটি খুব আলোচিত হচ্ছে।
তার আসল নাম অ্যালিসিয়া অগেলো কুক। জন্ম ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি গায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর নিজের নতুন নামকরণ করেন অ্যালিসিয়া কীস। একাধারে গায়িকা, সুরকার এবং অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নানাভাবে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়া মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন এলাকায় বেড়ে উঠেছেন অ্যালিসিয়া। মাত্র সাত বছর বয়সে কাসিক্যাল মিউজিকে তালিম নেয়া শুরু করেন। ক্রমেই পিয়ানো বাদনে তার পারদর্শিতা বিকাশ লাভ করে। ১৬ বছর বয়সে প্রফেশনাল পারফরমিং আর্টস স্কুলে নিয়মিত অধ্যয়ন ও চর্চার পর গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। এরপর কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন অ্যালিসিয়া। তবে মিউজিক ক্যারিয়ারের স্বার্থে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। জে রেকর্ডস কোম্পানি থেকে তার মিউজিক অ্যালবাম সংস অব এ মাইনর বেরোয় এবং তা বিরাট বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। বিশ্বব্যাপী ঐ মিউজিক অ্যালবামটি ১২ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। ২০০১ সালের বেস্ট সেলিং নিউ আর্টিস্ট অর্থাৎ সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবামের নতুন গায়িকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন অ্যালিসিয়া কীস। ২০০২ সালে অ্যালিসিয়ার ডেবু্য অ্যালবামটি পাঁচ পাঁচটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড জিতলে তাকে নিয়ে আরও বেশি হইচই পড়ে যায়। এর মধ্যে সেরা নতুন গায়িকা এবং সঙ অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফলেন গানটির জন্য। তার দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম দি ডায়েরি অব অ্যালিসিয়া কীস বেরোয় ২০০৩-এ। এটিও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। আট মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল তা। ২০০৫ সালে আরও চারটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড লাভ করে অ্যালিসিয়ার দ্বিতীয় অ্যালবামটি। এমটিভির আনপ্লাগড এ প্রথম ফিমেল আর্টিভর্থ হিসেবে ঠ্াই পান তিনি। ১৯৯৪-এর নিরঔানার পর অ্যালিসিয়াই অভিষেক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই টপ পজিশনে চলে যেতে সম হয়েছিলেন। বেশ কিছু টেলিভিশন সিরিজে অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন অ্যালিসিয়া কীস। ২০০৭-এ তাকে স্মোকইন এইসেস এবং দি ন্যানি্ন ডায়েরিজ সিরিজে দেখা গেছে। অ্যালিসিয়ার তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম অ্যাজ আইএম বেরোয় ঐ একই বছরে যা দুনিয়াজুড়ে ছয় মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। এটিও তিনটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড লাভ করে। এর পরের বছরে অর্থাৎ ২০০৮-এ অ্যালিসিয়া কাজ করেন দি সিক্রেট লাইফ অব বীজ সিরিজে। যা এনএএসিপি ইমেজ এ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেছিল। অ্যালিসিয়া কীসকে অনেকে আদর করে লেলো বলে ডাকেন। গাইবার পাশাপাশি পিয়ানো কী বোর্ডস, সেলো সিনথেসাইজার, গিটার, ভোকোডার বেস-এর মতো মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন। হালে অ্যালিসিয়া বিখ্যাত ব্যানার ডিজনির সঙ্গে নতুন একটি ছবিতে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যা নির্মিত হবে ১৯৫৮ সালে নির্মিত কমেডি মুভি বেল, বুক এ্যান্ড ক্যান্ডির রিমেক হিসেবে। এ ছবিতে তাকে একজন ডাইনি নারীর ভূমিকায় দেখা যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য এক মেয়ের প্রেমিককে বাগে আনার জন্য সে তার সকল কৌশল প্রয়োগ করে। অ্যালিসিয়া কীস বিগ পিটা নামে একটি টেলিভিশন প্রোডাকশন কোম্পানি খুুলেছেন। তার এই কোম্পানি থেকে এ্যানিমেটেড এবং সাধারণ ফিচার ফিল্ম তৈরি হবে। এছাড়াও বেশ কিছু নতুন ফিল্ম প্রজেক্টে তার অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে। গত জুনে আমেরিকান সোসাইটি অব কম্পোজারস অথারস এ্যান্ড পাবলিসারস তাকে গোল্ডেন নোট এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছে। যেসব শিল্পী সাধারণত ক্যারিয়ারে অসাধারণত্ব প্রমাণ করে আলাদা মাইল স্টোন সৃষ্টি করতে পারেন কেবল মাত্র তাদেরই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। সম্প্রতি তার নতুন এ্যালবামের প্রমোশনাল কনসার্টে চমৎকার পারফরমেন্স করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অ্যালিসিয়া কীস। এই এ্যালবামের একটি অন্যতম গান ডাজ নট মিন এনিথিং বিলবোর্ড হট ১০০-এর মধ্যে আশিতম স্থান দখল করেছে। মানবতার প েআর্তের সেবায় নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি। গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার প েপ্রচারণায় তৈরি থিম সঙটি গাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন অ্যালিসিয়া কীস। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবার জন্য বেশ কয়েকটি মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি। একজন কৃতী গায়িকা এবং মানবতার প েনিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া শিল্পী হিসেবে ২০০৯-এ বিইটি এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন এ্যালিসিয়া কীস। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে একজন সফল পপ গায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার ব্যাপক প্রসার সবাইকে রীতিমতো অবাক করেছে। অনেক কম সময়ের মধ্যে গানের ভুবনে দারুণ বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তিনি।
_মোস্তফা আদনান