মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
মিসরে ব্যাপক বিক্ষোভ
মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা খারিজের প্রতিবাদ ॥ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে খালাস দেয়ার প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী কায়রোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলে সহিংসতা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রতিবাদীদের হত্যা করার দায়ে মোবারককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। খবর আল-জাজিরা অনলাইনের।
মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তা থেকে প্রতিবাদীদের সরানোর চেষ্টা চালালে শনিবার রাতে তাদের গুলিতে এক ব্যক্তি মারা যায়। কায়রোর ঐতিহাসিক তাহরির স্কোয়ারের কাছে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়া হলে আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। তাদের কেউ কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। প্রায় ২ হাজার লোক মোবারক, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ছয় সহকারীর বিরুদ্ধে আনীত হত্যাকা-ের অভিযোগ খারিজ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়। ১৮ দিনের গণঅভ্যুত্থানকালে প্রায় ৯শ’ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকা-ের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
প্রধান বিচারক মাহমুদ কামাল আল-রশিদী মোবারক ও তার দু’পুত্র আলা ও জামালকে ইসরাইলে গ্যাস রফতানি সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও খালাস দেন। বিচারক বলেন, কথিত অপরাধগুলো সংঘটিত হওয়ার পর খুব বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে রায় দেয়া আদালতের পক্ষে কঠিন। স্থানীয় এক টেলিভিশনে টেলিফোনে রায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মোবারক প্রতিবাদীদের মৃত্যুর জন্য তার কোন দায়দায়িত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি কোন অন্যয় করিনি বলে মনে করেছিলাম। তারা এবার কি নিয়ে আসবে তা দেখার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। এ রায়ে দোষের কিছু ছিল না। আমি আদৌ কোন অন্যায় করিনি। কিন্তু আমরা ভাগ্য বদলাতে পারি না। যখন আমি আগের রায় শুনেছিলাম, তখন হেসেছিলাম। এবার আমি কেবল অপেক্ষা করছিলাম। আমি উদাসীন ছিলাম। সবকিছুই আল্লাহর হাতে। শনিবারের রায়ের পর মোবারক (৮৬) ছাড়া পাননি। গত মে মাসে তিনি সরকারী অর্থ তছরুপ সম্পর্কিত আরেকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। এর ফলে তিনি তিন বছরের কারাদ- ভোগ করছেন। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে কায়রোর উপকণ্ঠে এক অভিজাত এলাকায় সেনা হাসপাতালে অন্তরীণ রয়েছেন।
শনিবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য মামলাটি খতিয়ে দেখতে এ্যাটর্নি জেনারেল তার টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন।
যখন সানগ্লাস ও সোয়েটার পরা মোবারককে স্ট্রেচারে করে আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। বিচারক বলেন, প্রথমে বলতে গেলে, সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিচারে দাঁড় করানো ঠিক নয়। ফৌজদারি আইনের শর্ত অনুসারে কোন সাবেক প্রেসিডেন্টকে কোন ফৌজদারি আদালতে আনা বা তার রাজনৈতিক দায়িত্বের ভেতর তিনি করেছিলেন এমন কাজকর্মকে অন্যায় বলে গণ্য করা মানানসই নয়, এমন কি যদিও অভিযোগের তালিকায় ওইসব অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। যখন বিচারক ‘সত্য কথা বলুন, ভয় পাবেন না, মোবারক নির্দোষ’ বলে উচ্চৈঃস্বরে রায় ঘোষণা করেন, তখন মোবারকের সমর্থকরা আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন।
আদালতের বাইরে এ রুলিং শুনে নিহতদের আত্মীয়স্বজন মর্মাহত হন। কায়রোর উপকণ্ঠে এক পুলিশ একাডেমিতে আদালতের অধিবেশন বসেছিল। গণ-অভ্যুত্থানকালে এক পুলিশ স্টেশনের বাইরে নিহত হয়েছিলেন এমন একজনের পিতা মোস্তাফা মুরসি এএফপিকে বলেন, এটি এক নির্যাতনমূলক রায়। আমার ছেলের রক্ত বৃথা গেল। যদিও গণ-অভ্যুত্থানকালে প্রায় ৯০০ প্রতিবাদী নিহত হয়েছিল, কিন্তু মামলাটি ছিল ২৩৯ জন প্রতিবাদীর হত্যাকা- সম্পর্কিত। কারণ তাদের নামই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।
রায় ঘোষণাকালে রশিদী গণ-অভ্যুত্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য স্বাধীনতা, জীবিকা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল ন্যায়সঙ্গত। মোবারক ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার ফলে মিসরে প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এতে বিজয়ী মোহাম্মদ মুরসি গতবছর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন।
রাজকীয় খেতাব হারাচ্ছেন থাই রাজবধূ
তৃতীয় স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের রাজকীয় খেতাব ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নিতে সরকারকে আদেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের যুবরাজ ভাজিরালংকর্ন। দুর্নীতির অভিযোগে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সাত আত্মীয় গ্রেফতার হওয়ার পর থাই যুবরাজ এ আদেশ দেন। খবর- বিবিসির।
২০০১ সালে ভাজিরালংকর্নের ও তৃতীয় স্ত্রী রাজবধূ শ্রিরাসমি আক্রাপংপ্রিচার বিয়ে হয়। যুবরাজের এ সিদ্ধান্ত রাজকীয় এ দম্পতির বিয়ে বিচ্ছেদের প্রথম পদক্ষেপ বলে থাইল্যান্ডজুড়ে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুজনে একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে হাজির হওয়া অব্যাহত রাখলেও তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। রাজবধূ শ্রিরাসমির পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার ও চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘটনা গত দশ দিন ধরে থাইল্যান্ডের গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। রাজবধূর চাচাকে, যিনি পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, চোরাচালান ও জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর চার চাচাত ভাইবোন ও আরও দুই আত্মীয়কেও আটক করা হয়। এ পরিস্থিতিতে যুবরাজ ভাজিরালংকর্নের দফতর থেকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে তাদের বিয়ের পর শ্রিরাসমি ও তার পরিবার রাজকীয় খেতাব ব্যবহারের যে অধিকার পেয়েছিলেন তা কেড়ে নেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদেজ এখন ৮৬ বছরের বৃদ্ধ, কিছু দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থাও ভাল যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু হলে যুবরাজ ভাজিরালংকর্ন হবেন থাইল্যান্ডের পরবর্তী রাজা। ভাজিরালংকর্ন রাজা হলে শ্রিরামসি থাইল্যান্ডের রানী হতেন বলে ধারণা করা হতো। এমন একটি নাটকীয় সময়ে রাজবধূ শ্রিরাসমি তার রাজকীয় খেতাব হারাতে যাচ্ছেন।
চীন ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ॥ শি জিনপিং
কমিউনিস্ট পার্টির পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক বৈঠক
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর দেশ এক ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চীনের জলসীমাগত বিরোধ চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে এ সংকল্প ব্যক্ত করা হলো। তিনি শুক্র ও শনিবার কমিউনিস্ট পার্টির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক বৈঠকে ভাষণ দিচ্ছিলেন। খবর এএফপির।
শি ঐ বৈঠকে বলেন, আমাদের উচিত চীনের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব, নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বার্থ এবং জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখা। সিনহুয়ার রবিবার প্রচারিত তার ভাষণের উদ্ধৃতিতে একথা বলা হয়। টোকিও সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ জাতীয়করণের পর গত দু’বছর ধরে চীন ও জাপানের সম্পর্কে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। পূর্ব চীন সাগরের ঐ দ্বীপপুঞ্জটি এখন জাপানের শাসনাধীনই রয়েছে। বেজিংও দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা দাবি করে থাকে। এটি চীনে দাইয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। চীন এবং ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স ও ব্রুনাইসহ দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলো দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ওপর দাবি উত্থাপন করে থাকে। তাইওয়ানও স্প্যাটলির অংশবিশেষ নিজের বলে দাবি করে। চীন তাইওয়ানকে এর সার্বভৌম ভূখ-ের অংশ বলে গণ্য করে। সিআরও বলেন যে, তার দেশ ভূখ-গত ও দ্বীপপুঞ্জও বিরোধগুলো সম্পর্কে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। তবে তিনি সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট এবং কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক উভয় পদের দায়িত্ব পালন করছেন। শি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ১০ নবেম্বর বৈঠকে মিলিত হওয়ার পর চীন ও জাপানের সম্পর্কে উন্নতি ঘটে। কিন্তু চীনা উপকূলরক্ষীদের জাহাজগুলো বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের চারদিকের জলসীমায় টহলদান অব্যাহত রেখেছে।
শি আপোসের সুরে ঐ বৈঠকে কর্মকর্তাদের বলেন যে, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন’ চায় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শক্তি প্রয়োগ করা বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেয়ার বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান চলতি মাসের প্রথম দিকে জলসীমাগত বিরোধগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানায়।
মাছি নয়, সাংবাদিকদের হওয়া উচিত মৌমাছির মতো ॥ মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংবাদিকদের মাছি নয়, মৌমাছি হওয়ার পরামর্শ দিলেন।
অসমে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ ইংরেজী দৈনিক দ্য অসম ট্রিবিউনের হীরকজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে রবিবার মোদি বলেন, সাংবাদিকদের হওয়া উচিত মৌমাছির মতো যারা একইসঙ্গে মধু আহরণ করবেন ও হুলও ফোটাবেন। সাংবাদিকদের মাছির মতো হওয়া উচিত নয়। কারণ মাছি কেবল নোংরা ছড়ায়। খবর বাসসের।
মোদি বলেন, গতিশীল এ সমাজে মিডিয়া বর্তমানে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আগে আমরা ২৪ ঘণ্টায় একবার সংবাদ পেতাম। এখন এক মিনিটেই পাচ্ছি অন্তত ২৪টি সংবাদ। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ এখন বিশ্বাসযোগ্যতার আর আস্থার। তিনি বিশ্বাসযোগ্যতাকে মিডিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগে কি আমরা কোন দোকানে দেখেছি ‘এখানে খাঁটি ঘি পাওয়া যায়’ এ ধরনের বিজ্ঞাপন। কিন্তু এখন আমরা দেখি। একইভাবে মিডিয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখি ‘সত্য খবর’, ‘দ্রুত খবর’ ইত্যাদি নানা ধরনের সেøাগান যা খবরের যথার্থতা সম্পর্কে আমাদের হুঁশিয়ার করে। সংবাদ মাধ্যম চালু করা সহজ কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা কঠিন। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য যারা হুমকি তাদের দেয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
মোদি বলেন, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তখনই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যখন এটি অস্বীকার করা হয়, যেন অনেকটা নিঃশ্বাস নেয়ার মতো। দুই সেকেন্ড নিঃশ্বাস না নিতে পারলেই বোঝা যায় এর গুরুত্ব কত। মালিগাঁওয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোদি আরও বলেন, দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলায় মৃতের সংখ্যা সাত হাজার
পশ্চিম আফ্রিকায় প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা সাত হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শনিবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সংখ্যা জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরা।
এতে আফ্রিকার ইবোলা সংক্রমিত ওই অঞ্চলে তালিকাবদ্ধ মৃতের সংখ্যা ৬,৯২৮ বলে জানানো হয়েছে। সংস্থার বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের মৃতের সংখ্যা থেকে এবারের সংখ্যায় ১,২০০ জন বেশি দেখানো হয়েছে। হঠাৎ করে মৃতের সংখ্যা এত বৃদ্ধির কোন ব্যাখ্যা দেয়নি ডব্লিউএইচও, তবে এর আগে জানা যায়নি এমন মৃতদেরও এবারের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। মার্চে গিনির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রথম ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে গিনিসহ পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি দেশে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি লোকের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
বিপদসঙ্কুল সমুদ্র যাত্রায় অনাহার আর মৃত্যুর মুখোমুখি রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের জাতিগত মুসলমান সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী বিবিজান রহিমুল্লাহ। সহিংসতা ও বৈষম্য থেকে বাঁচতে তিনি অক্টোবর মাসে ছোট একটি নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল মালয়েশিয়া পৌঁছাতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে। কিন্তু এর পরিবর্তে তাকে এবং তার তিন সন্তানকে সমুদ্র ও ভূমিতে মাসব্যাপী এক যন্ত্রণাময় সফর সহ্য করতে হলো। তাদের সার্ডিন মাছের মতো স্তূপ করে জাহাজে রাখা হয়, দেখতে হয় অন্য অভিবাসীদের মৃত্যু বা পিটিয়ে হত্যা করা এবং মৃতদের মরদেহ আবর্জনার মতো সমুদ্রে ফেলে দেয়া।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ২৭ বছর বয়সী বিবিজান বলেন, আমি কখনও ধারণা করিনি, এখানে আসার সময় এত যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। যদি আমি জানতাম তাহলে কখনই আসতাম না। স্বামীর কাছে যেতে পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং তিন ও দুই বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে বিবিজান রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত তাঁর বাড়ি ছাড়েন। তাঁর স্বামী আরও দুই বছর আগে পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। বিবিজান এ জন্য মানব পাচারকারীদের দুই হাজার ৫০০ ডলার দেন। প্রথমে একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাদের সমুদ্রে নোঙ্গর করে রাখা জাহাজে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। সেখানে তাদের কয়েকদিন খুবই গাদাগাদি করে রাখা হয়। জাহাজে নারীদের দুইবার খাবার দেয়া হতো আর পুরুষদের মাত্র একবার। তাদের দেয়া হতো অল্প পরিমাণে ভাত, তিনটা শুকনো মরিচ আর সামান্য পানি। বিপদসঙ্কুল এই সফরের কথা স্মরণ করে ভয়ে বিবিজান তার সন্তানদের আঁকরে ধরে বলেন, পুরুষরা দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তারা যদি খাবার চাইত তাহলে তাদের রাইফেলের বাঁট ও লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো। সমুদ্রপথে প্রায় ১২ জন মারা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয় পাচারকারদের পিটুনিতে, কয়েকজন ক্ষুধা, পানিশূন্যতা ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মিয়ানমারের এই মুসলমান রোহিঙ্গারা কয়েক বছর ধরেই মালয়েশিয়া যেতে বিপজ্জনক আন্দামান সাগর ও থাই উপকূল পাড়ি দিচ্ছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম দুর্দশাগ্রস্ত সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করে। বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে নানা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে অভিবাসী বলে অভিহিত করে কর্তৃপক্ষ তাদের বেশিরভাগের নাগরিকত্ব, বিয়ে ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, দুই বছর আগে রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পালিয়ে যাওয়ার হার আরও বেড়েছে। রোহিঙ্গা অধিকার গ্রুপ আরাকান প্রজেক্টের ক্রিস লেওয়া বলেছেন, অক্টোবরের প্রথম দিক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে গিয়েছে। প্রায় একমাস সাগরে থাকার পর বিবিজানদের থাইল্যান্ডের এক জঙ্গলে তাঁবুতে রাখা হয়। তারপর নবেম্বরের প্রথম দিকে তাদের কুয়ালালামপুর পাঠাতে একটি ভ্যানে ওঠানো হয়। মালয়েশিয়ায় গ্রেফতারের ভয় থাকলেও বিবিজান বলেন, এখানে আমরা নিরাপদ। মিয়ানামারে আমরা সবসময় আতঙ্কিত থাকতাম।Ñএএফপি।




সারদা কাণ্ডে তদন্তকারীদের নজরে তিন প্রভাবশালী

সারদা-কাণ্ডে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সিবিআই। তলব করার পরও, যাঁরা আসেননি এবার তাঁদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারে সিবিআই। দিল্লীতে সিবিআই দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সারদা-কা-ে গঠিত সিবিআইয়ের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (সিট) অফিসারদের সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তদন্ত দ্রুত শেষ করতে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার, তা যেন করা হয়। তদন্ত বিলম্বিত করা যাবে না। ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিললে গ্রেফতার করতেই হবে। সিবিআই সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন ৩ প্রভাবশালী। তারা জেরায় সঠিক তথ্য না দিতে পারলে গ্রেফতারও করা হতে পারে। সিবিআই সুদীপ্ত সেনের লেখা চিঠিকেই হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে। এই চিঠির বিষয়ে মিলেছে অনেক তথ্য। খবর আজকাল।
সারদা-কাণ্ডে ইতোমধ্যেই সিবিআইয়ের জালে পড়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার নীতু, সৃঞ্জয় বসু, সন্ধির আগরওয়াল, গায়ক সদানন্দ গগৈ, প্রাক্তন আইপিএস রজত মজুমদার। আগেই গ্রেফতার হয়েছেন কুণাল ঘোষ, সুদীপ্ত, দেবযানীরা। তাদের জেরা করে সারদা-কাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অনেক তথ্য উঠে আসছে।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিল রুশ যুদ্ধজাহাজ
এক স্কোয়াড্রন রুশ যুদ্ধজাহাজ ইংলিশ চ্যানেলের মধ্য দিয়ে পাড়ি জমিয়েছে। ব্রিটিশ রয়েল নেভি এই ঘটনাকে ‘রুটিনমাফিক’ চলাফেরা বলে মন্তব্য করেছে। রুশ গণমাধ্যম একে নৌমহড়া হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ন্যাটো সে খবর নাকচ করে দিয়েছে। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার রুশ নৌবহর পার হওয়ার সময় তাদের জাহাজ এইচএমএস টাইন সতর্ক অবস্থায় ছিল। ন্যাটো বলেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার পটভূমিতে রুশ সামরিক যানের আনাগোনা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আকাশসীমায় রুশ সামরিক বিমান আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি উড়াল দিয়েছে। রুশ যুদ্ধজাহাজের ব্রিটিশ চ্যানেল পার হওয়া নৈমিত্তিক ঘটনা তাই ব্রিটিশ ও ফরাসী সেনাবাহিনী একে ‘কোন অস্বাভাবিক ঘটনা’ নয় বলে মন্তব্য করেছে। কারণ এটি রুশ নৌবাহিনীর নিয়মিত রুটের মধ্যে পড়ে। এর মধ্যদিয়ে ভূমধ্যসাগরে যায় রুশ নৌবহর। ব্রিটিশ নৌবহর বিষয়টি অবহিত আছে। এ কারণে চ্যানেল পারাপারের বিষয়টি তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে। রুশ নৌবহর এখন নরমান্ডি উপকূল থেকে উত্তরে অবস্থান করছে। রুশ বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, সেভেরোমরস্ক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজগুলোকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় এটি এখন ফরাসী জলসীমায় অবস্থান করছে।


মাইকেল ব্রাউন হত্যা পদত্যাগ করলেন পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসনে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনকে গুলি করে হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসন পদত্যাগ করেছেন। তার আইনজীবী নীল ব্রানট্রেগার বলেন, উইলসনের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। উইলসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, চাকরিতে বহাল থাকলে সহিংসতা হবে এমন হুমকির কারণে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। খবর এএফপির।
গত ৯ আগস্ট উইলসনের গুলিতে ব্রাউন (১৮) নিহত হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাউনকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ছয়টি গুলি করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলে এবং পুলিশের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষ হয়। এরপর গত সোমবার গ্র্যান্ড জুরি গুলিবর্ষণকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ফার্গুসন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাট শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।


আলোকসজ্জায় বিশ্ব রেকর্ড

সবাই বলে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু বড়। হয়ত বড় তবে সবচেয়ে বড় নয়। বিশেষ করে যখন বড়দিনের আলোকসজ্জার কথা আসে। এই রেকর্ড এখন অস্ট্রেলীয় আইনজীবী ডেভিড রিচার্ডসের দখলে। তিনি সম্প্রতি ক্যানবেরার একটি শপিংমলে ১২ লাখ বাল্ব দিয়ে আলোকসজ্জা করেন। রিচার্ড অস্ট্রেলিয়ায় অপরিচিত ব্যক্তি নন। তিনি অন্য সব প্রতিযোগিতা থেকে একটু বেশি এগিয়ে থাকেন। গত বছর তিনি তার বাড়ি ও উঠানে বড়দিনের আলোকসজ্জা করে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান, যা সবচেয়ে বড় আবাসিক এলাকায় আলোকসজ্জা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এক্ষেত্রে তিনি তার বাড়ি ও উঠানে ৫ লাখের বেশি বাল্ব ব্যবহার করেছিলেন। -ইউপিআই