মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২ ভাদ্র ১৪২০
দুই দেশের নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থেই ছিটমহল বিনিময় ॥ ভারতের গণমাধ্যমও সোচ্চার
সুমি খান
৫১ হাজার ৫৪৯ জন ‘নাই’-দেশের নাগরিক ছিটমহলবাসী। এরা প্রত্যেকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে বিশ্ববাসী এক। মঙ্গলবার রাতে এনডিটিভিতে একটি টকশোতে উঠে আসে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তির বাস্তবায়ন এবং তিস্তা চুক্তি। প্রশ্ন তোলা হয়, রাজনৈতিক হঠকারিতার কাছে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নতজানু কি-না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে হত্যা করার কারণে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়কার আদর্শ থেকে সরে গিয়েছিল। এই ব্যবস্থা অনেকদিন চলেছে। ছিটমহলে পাকিস্তান আমলে ১৯৫১ ও ১৯৬১ সালে জনগণনা করা হয়েছিল। এর দীর্ঘদিন পর মনমোহন-হাসিনার ২০১১ সালের চুক্তি ছিটবাসীদের আশাবাদী করেছে।
এই নিরীহ মানুষগুলোর জন্যেও কথা বলতে হবে বাংলাদেশ এবং ভারতের সচেতন নাগরিকদের। সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে এদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাহীনতা ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশকেই চরম হুমকির মুখে রেখেছে। এই বাস্তবতা দুই দেশের নীতিনির্ধারক এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে।
ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশের ছিটমহলবাসী বাংলাদেশের নাগরিক হলেও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। নেই তাঁদের ভোটার পরিচয়পত্র। একই চিত্র বাংলাদেশে থাকা ভারতের ছিটমহলেও। ছিটমহলবাসীর পরগাছা হিসেবে নিজেদের নাম-পরিচয় লুকিয়ে বাস করতে হচ্ছে ।
ভারতীয় ছিটমহল বা বাংলাদেশের ছিটমহলের প্রকৃত বসবাসকারীরা এখন আর নেই। বাংলাদেশী ছিটমহলে ভারতীয় আর ভারতীয় ছিটমহলে বাংলাদেশীরাই বর্তমানে বসবাস করেন। এটি একটি জটিল সমস্যা। ছিটমহল বিনিময় হলে ভারতের ১০ হাজার একর জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দিতে হবে। ভারতের সংবিধান অনুসারে জমি নেয়া যেতে পারে কিন্তু দেয়া যায় না। এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এখানেই তৃণমূল নেত্রী মমতা এবং ভারতীয় উগ্র মৌলবাদী সংগঠন বিজেপির আপত্তি।
বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতে এবং ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার ভারত ভূখণ্ডে রয়েছে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল। এর মধ্যে ৪৮টি কোচবিহার জেলায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রয়েছে ভারতের ১১১টি ছিটমহল। ১৯১১ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উভয় দেশের যৌথ আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে রয়েছে ১৪ হাজার ২১৫ জন নাগরিক বাস করছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে রয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৪ জন ভারতীয় নাগরিক (নাগরিকত্ব না থাকলেও জন্মসূত্রে নাগরিক)। আইন মোতাবেক ভারতের ভূখণ্ডে বসবাসকারী ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা বাংলাদেশী আর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ১১১টি ছিটমহলে বসবাসকারীরা ভারতীয়। ভারত-বাংলাদেশÑদুই দেশের নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থেই ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব দেবার সময় এসেছে।
ছিটমহলের ‘নাইদেশের নাগরিক’দের মানবেতর জীবনের জন্যে দায়ী রাজনীতিকদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময় এসে গেছে। ছিটমহল বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক অধিকারকে সুরক্ষিত করা এবং তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদানের দাবিতে বিশিষ্ট আইনজীবী অনির্বাণ দাস কলকাতা হাইকোর্টে গত সোমবার ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন।
বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকার ছিটমহল বিনিময়ের জন্য চুক্তি সম্পাদন করতে রাজি থাকলেও বাদ সাধেন ভারতের অসম রাজ্যের দুই বিজেপি সাংসদ আর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেত্রী মমতার দাবি, এই চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে। ‘নিজেদের স্বার্থ’ বিসর্জন (?) দিয়ে কোন বিনিময় চুক্তি হতে দেবেন না তিনি। মুখ থুবড়ে পড়ে ছিটমহল বিনিময় প্রক্রিয়া। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ছিটমহলজুড়ে। ছিটমহল বিনিময়ের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
মমতা কদিন আগে হঠাৎ বলেন, ‘ছিটমহলবাসী চাইলে ছিটমহল বিনিময় হবে।’ অথচ ১৯৯৪ সাল থেকে ছিটমহল বিনিময়ের দাবিতে ভারত ও বাংলাদেশের ছিটমহলবাসী অবস্থান ধর্মঘট ও অনশনসহ নানান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মমতা এসব না জানার ভান করলেন। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহসম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত আমাকে বলেছেন, ‘ছিটমহল বিনিময়ের দাবিতে দুই দেশেই আন্দোলন করছি। আমরা চাইছি, ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিটমহল বিনিময় হোক। এতে ছিটমহলের বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হয়ে বাস করতে পারবে। এটা তাদের মৌলিক অধিকার।’
সম্প্রতি ছিটমহল বিনিময়ের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল ভারতের আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করতে দেয়া হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির আসামের দুই সাংসদ আপত্তি করেছে। বিলটি লোকসভায় উত্থাপন করা যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয় ছিটমহলবাসী। জ্বলছে তাঁদের মনে ক্ষোভের আগুন। তাঁরা ক্ষুব্ধ হন মমতার বিরুদ্ধে।
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহসম্পাদক জানান, ছিটমহল বিনিময়ের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল যদি সংসদে না ওঠে, তবে তাঁরা মাঠে-ময়দানে লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনী লড়াইয়ের পথে যাবেন। মামলা করবেন উচ্চ আদালতে।
নাগরিকত্ব না থাকার কারণে কোনো সন্তানসম্ভবা মা তার সন্তানের জন্ম দেয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন না। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচী নেই। এ কারণে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে এই বাসিন্দারা যা এড়াতে পারে না দু’দেশ।
এই ছিটমহল বিনিময় না হওয়ার ফলে দুদেশের সরকার রাজস্ব বা বিভিন্ন প্রকারের কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সুযোগে একদল অসাধু লোক ছিটের বাইরের লোকদের সাহায্যে ভয় দেখিয়ে জোর করে নামমাত্র মূল্যে ছিটমহলের নামে স্ট্যাম্প পেপার তৈরি করে জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রি করাচ্ছে। এই খবর প্রথম বাংলানিউজে প্রকাশ হবার পর ছিটমহলের নিরীহ বাসিন্দাদের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা আগুন লাগিয়ে দেয়।
আগেই বলেছি, নাগরিকত্বের কোন প্রমাণ নেই বলে বাংলাদেশের নাগরিকেরা থাকছেন ভারতের ছিটমহলে। পরদেশে পরগাছা হিসেবে বাস করছেন তারা। ছিটমহলের ঠিকানা বদলিয়ে তারা ভারতের কোন ঠিকানা ব্যবহার করে ছেলেমেয়েদের ভারতীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন, ভারতের এলাকায় ভুয়া ঠিকানা দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এমনই মানবেতর জীবনযাপন করছে ছিটমহলের নিরীহ মানুষগুলো। এই মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি চান তাঁরা। বাস করতে চান একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে। সুযোগ-সুবিধাও চান সেই দেশের। তাই তাঁরা ছিটমহল বিনিময়ের দাবি তুলেছেন।
ছিটমহল বিনিময়ের অযৌক্তিক বিরোধিতা ছিটমহলবাসীর জটিল সঙ্কট নিরসনের প্রতিবন্ধক। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ ঠেকিয়ে দেবার কারণে মমতা-বিজেপি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই ছিটমহলবাসী ক্ষুব্ধ।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছিটমহল বিনিময়ে দুই দেশ রাজি হলে ছিটমহল বিনিময়ের কয়েক দশকের আন্দোলন সফলতার পথ উন্মুক্ত হয়। সেই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেয় উভয় দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবার আমন্ত্রণ জানানো হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সফরের তিনদিন আগে মমতা হঠাৎ বাংলাদেশ সফর বাতিল করেন। আপত্তি তোলেন ছিটমহল বিনিময়ের বিরুদ্ধে। স্থগিত হয়ে যায় ছিটমহল বিনিময়ের প্রক্রিয়া।
সম্প্রতি একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা যায়, দৈর্ঘ্যে তিন কিলোমিটার আর প্রস্থে পৌনে তিন কিলোমিটার ভারতের বাত্রিগাছ ছিটমহল। এখানে বাংলাদেশের অন্তত ৫০০টি পরিবার বাস করে। ছিটমহলবাসী আজাদ হোসেন, জয়নাল মিয়া, মোহাম্মদ আলী, বকুল মিয়া ও কল্পনাথ রায় হতাশ, ক্ষুব্ধ স্বরে সাংবাদিকদের বলেছেন, “লুকোচুরি খেলে তো জীবনটা শেষ হয়ে গেল। এভাবে আর বাঁচা যায় না। এবার ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে তাঁদের বেঁচে থাকার জন্য দিতে হবে ছিটমহল বিনিময়ের সুযোগ”। এবার এই মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি চাইছেন তাঁরা। আকুল আবেদন করেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে। তারা যেন ছিটমহল বিনিময়ের দাবির পাশে এসে দাঁড়ান।
তিনবিঘা করিডরে চুক্তির সময় বলা হয়েছিল এবার ছিটমহল বিনিময় হবে। আইনী জটিলতার কারণে কখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১০ সালে ভারতের জনগণনার সময় কোচবিহারের জেলাশাসক বলেছিলেন আমার জেলায় গণনা করতে গেলে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য লাগবে। কারণ বাংলাদেশী ছিটমহল এই জেলায় রয়েছে। তাদের প্রশ্ন তাহলে এই এলাকায় ভারতের সার্বভৌমত্ব কোথায় আছে? ছিটমহলবাসী প্রশ্ন তোলেন, গোয়া, সিকিম যদি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তাহলে কেন ছিটমহল বিনিময় হচ্ছে না?
বাংলাদেশ এবং ভারত সরকারকে বিস্তারিত সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সঠিকভাবে জানতে হবে ছিটমহলের বাসিন্দারা কে কোথায় যেতে চান।
বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে ৩৭ হাজার ৩২৯ জন বাস করেন। ছিটমহল বিনিময়ের পরে তার মধ্যে মাত্র ৭৪৩ জন ভারতে আসতে চান-এটা জরিপের তথ্য। ২০১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিটমহল সংক্রান্ত এক আলোচনাসভায় মনসুর আলি মিঞা বলেন, ‘আমি আজ যেভাবে এখানে এসেছি, তা রাষ্ট্রের ভাষায় অবৈধ। কারণ আমি খাতা-কলমে বাংলাদেশের বাসিন্দা। কিন্তু আমার বাংলাদেশের কোন পরিচয়পত্র নেই। আমার জন্ম ব্রিটিশ ভারতে। বাংলাদেশে গিয়ে আমি শরণার্থী হতে চাই না। আমি জন্মেছি ভারতে। ভারতেই মরতে চাই। একইভাবে বাংলাদেশের ভেতরে ছিটের বাসিন্দারাও তাই চান।
৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে এনডিটিভিতে সম্প্রচারিত এক মুক্ত আলোচনায় বিজেপির মুখপাত্র তরুণ বিজয় স্বীকার করেন, ভারতের ‘জাতীয় স্বার্থেই’ বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে ভারতীয় পার্লামেন্টের বিরোধী দল বিজেপি তাদের শক্ত অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে মনে হচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস ও অসম গণপরিষদ এখনও বিরোধিতা করে যাচ্ছে।
এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে ভারতের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। কিন্তু এর জন্য পার্লামেন্টে বিল পাস করতে হলে রাজ্যসভা ও লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার, যা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের নেই।
কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ তিন দফা বিল তোলার উদ্যোগ নিলেও দুইবার বিজেপি ও আসাম গণপরিষদ এবং একবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি। মমতার ভূমিকা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করা হয় এই টক শোতে।
টিভি টকশোতে বিজয় বলেন, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রশমনে সাড়া দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের মানুষকে ‘সঠিক বার্তাটি’ পৌঁছে দিতে’ ভারতেরও উচিত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে সই করা।
পশ্চিমবঙ্গ ও অসম বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধীও গত মাসে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন।
তবে এনডিটিভির টকশোতে বিজয় আবারও বলেছেন, মনমোহন সিং নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের উচিত ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি করার আগে বিরোধী দলের মতামত নেয়া। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা এ চুক্তির বিষয়ে যে উদ্বেগের কথা বলে আসছেন, তাও কেন্দ্র সরকারের আমলে নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিজেপি নেতা।
কংগ্রেসের মন্ত্রী শশী থারুর ও বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি এ চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতে জনমত গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো মত দেন। শশী থারুর বলেন, ‘ঢাকা আমাদের বড় বন্ধু। এখন আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অঙ্গীকার রাখতে না পারলে তা হবে একটি বিপর্যয়।’
বীণা সিক্রি বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী। ভারত যদি বিশ্বের কাছে গুরুত্ব আশা করে, তাহলে কোন দেশের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়নের সামর্থ্য তার থাকা উচিত।’ স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন করতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ভূমি হারাবে বলে যে অভিযোগ তৃণমূল ও আসাম গণপরিষদ করে আসছে, তাও নাকচ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
শশী থারুর ও বীণা সিক্রির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রবীণ সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বলেন, পররাষ্ট্রনীতি যদি পাকিস্তানের মতো রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়Ñ সেটা ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। ভারতের ভবিষ্যত এর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর অনেকটা জড়িত। আর এ দুটো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তার মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়েই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। আর সম্পর্ক উল্টে গেলে ক্ষতিও হবে একই মাত্রার। বাংলাদেশে হাসিনার শাসন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের জন্যে নিরাপদ। কারণ, শেখ হাসিনা জঙ্গীবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আলোচনার এই পর্যায়ে বিজেপি নেতা তরুণ বিজয় বলেন, ‘আমি সুবীর ভৌমিকের সঙ্গে একমত।’
আলোচকদের অধিকাংশই চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দেয়ায় একপ্রকার কোণঠাসা স্বাগত রায় ‘কূটনৈতিক কৌশলের’ আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী হিসেবে শশী থারুরের এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে মনে হয় যে দিল্লী­ ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। জবাবে স্বভাবসুলভ রসিকতার সুরে শশী বলেন, ‘কার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হবেÑ মিস্টার রায় এবং তার নেত্রী (মমতা) কি তা নিয়ন্ত্রণ করতে চান? তারা কি ভাবছেন যে, কে আমার বন্ধু আর কে তা নয়- এটা বোঝার মতো বুদ্ধিও আমার নেই?’
এই টকশো দেখে ছিটমহলবাসীর মনে অন্তত আশা জাগবে তাদের দাবি এবার নীতিনির্ধারকদের নজরে আসবে। উচ্চ আদালত অথবা গণমাধ্যমÑ সকল প্রচেষ্টা সফল করে ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকার সচেষ্ট হবে এমন আশা করছে ৫১ হাজার ৫৪৯ জন ‘নাই’ দেশের নাগরিক ছিটমহলবাসী।
ডলি ও মিতা- দু’টি খসে পড়া তারা
বেগম মমতাজ হোসেন
‘মানুষ মরণশীল’- এই প্রবাদটি সব চাইতে বড় সত্য। শৈশবকালে পাঠ্য পুস্তকে পড়েছিলাম। ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে।’ এত বড় সত্যি কথা মানব জীবনে স্থায়ী হয়ে রয়েছে, তাই আমরা একটি শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বুঝে নেই তার ললাটে মৃত্যুর সঙ্কেতও লেখা হয়ে গেছে। একজন মানুষের মৃত্যুর খবর পেয়ে যারপরনাই ব্যথিত হলেও জীবনের এই চির সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করি। কিন্তু কিছু মৃত্যু যখন অস্বাভাবিকভাবে ঘটে থাকে তখন এই মৃত্যুকে সহজভাবে গ্রহণ করা যায় না। খুন-খারাবি, আত্মহত্যা- এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে এমন সব দুঃখ ও রহস্যজনক ঘটনা লুকিয়ে থাকে যা সকলের অজ্ঞাত থাকে। তবু এ অজ্ঞাত ঘটনাগুলো জানার জন্য প্রিয় বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনের মন আকুলী-বিকুলী করে। কখনও বা রহস্যময় ঘটনাগুলো উন্মোচিত হলেও তার কোন বিচার হয় না। হয় না কোন মিটিং মিছিল, গর্জে ওঠেনা কোন প্রতিবাদের ঝড়। অথচ কাছের বা ভালবাসার মানুষগুলোর হৃদয়ে প্রতিনিয়ত অব্যক্ত যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত। মনে পড়ে প্রখ্যাত অভিনয় শিল্পী ডলি ইব্রাহিমের কথা- আজ থেকে প্রায় বাইশ বছর আগে, বাংলাদেশের বেতার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত জন নন্দিত অভিনয় শিল্পী ডলি আনোয়ার বিষপান করে আত্মহত্যা করেছিলেন। কেন করেছিলেন সে বিষয়টির চাইতে ডলির আত্মহত্যার চিত্রটি পত্রিকায় রং চং মাখিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল। সংবাদের মূল বক্তব্য ছিল- সন্ধ্যা বেলায় দুই বান্ধবী তার কাছে আসে এবং একটি খাম হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। তারপর ডলি সুন্দর করে সাজগোজ করে লম্বা পাড়ের শাড়ি পরে কপালে লাল টিপ দিয়ে ঘরে রাখা ইঁদুর মারা ওষুধ র‌্যাটম পান করে বিছানায় শুয়ে থাকে এবং মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। গৃহে একমাত্র পরিচারিকা ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই পাড়াপ্রতিবেশীরা ডলিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ডলির স্বামী প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন অনেক পরে ফিরে আসেন। ডলি ইব্রাহিমের মাতা ড. নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারী নেত্রীদের পুরোধা। পিতা ছিলেন চিকিৎসক। ডলির বাপের বাড়িতে মৃত্যু সংবাদ দেয়া হলে তাঁরা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে চলে যান। ডলির বোনের বর্ণনায় জানা যায়, ডলির মৃতদেহটি অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে, মর্গে- পরনে ছিল কালো লম্বা স্কার্ট এবং গায়ে ঝোলানো কোর্তা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত শৈল্পিক মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল কোথায়? ডলির মৃত্যুর পর তাঁর স্বামীর ইনিয়ে বিনিয়ে কান্না, পথে পথে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ানোর মাঝে ডলির বিরহে কাতরতায় তাঁর কাতর চিত্তের নমুনা তখনকার মানুষের মনে গভীর সমবেদনার উদ্রেক করেছিল। কিন্তু পরে সত্য ঘটনা চাপা থাকেনি। ডলির মৃত্যুর কারণ ছিল তাঁর স্বামী। অভিযোগ : পরকীয়ায় একরকম পাগল হয়ে তিনি ডলিকে তালাকনামা প্রেরণ করেন সেই দুই বান্ধবীর মাধ্যমে। ডলির মতো একজন শিক্ষিত উচ্চবংশীয় নারীর এই তালাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়ার কথা নয়। বেশ কিছুদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে মনমালিন্য চলছিল বিধায় স্বামীর গৃহত্যাগ করে পিতৃগৃহে আশ্রয় চেয়েছিল ডলি, কিন্তু তাঁর মা একজন- উচ্চশিক্ষিত নারী নেত্রী হওয়া সত্ত্বে¡ও পুরনো দিনের সংস্কারকে পরিত্যাগ করতে পারেননি। তিনি ডলিকে স্বামীর সংসারে মানিয়ে নিয়ে থাকতে বলেন। সবকিছুর পেছনে ছিল আত্মসম্মান ও সামাজিক মান-মর্যাদা। ডলির মৃত্যুর পরে তাঁর মা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেছিলেন, আমার মেয়েকে আমি আশ্রয় দেইনি বলেই সে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে, এজন্য আমিই দায়ী। মাতার এই মহান স্বীকারোক্তিতে পার পেয়ে গেল তাঁর স্বামী যে অতি ঠা-া মাথায় সুকৌশলে ডলিকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছিল। ডলির হারিয়ে যাওয়ায় বাংলা সংস্কৃতি অঙ্গন অপরিসীম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল।
কিন্তু ডলির স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করেছেন- একথা জনমুখে শোনা যায়।
ঠিক বাইশ বছর পর একই তারিখে ডলির মতো আর একজন শিল্পী মিতানূরের অস্বাভাবিক মৃত্যু গোটা নারী সমাজকে নাড়া দিয়েছে। দুটি জীবনের ঘটনা ও মৃত্যু এমন গোটা নারী সমাজকে নাড়া দিয়েছে। দুটি জীবনের ঘটনা ও মৃত্যুর এমন মিল দেখে অবাক হতে হয়। ডলি এবং মিতানূর অপরিণত বয়সে ভালবেসে অনুপযুক্ত দু’জন তরুণকে বিয়ে করে পরিবারকে না বলে। ডলির পরিবার কুসংস্কারমুক্ত বিধায় এ বিয়েকে মেনে নেয়। কিন্তু মিতানূরের পিতা গ্রাম্য শালিসীতে বিচার দেন এবং মিতাকে শরিয়ত মতে মাতা- পিতার অবাধ্য হওয়ার কারণে ৭০টি র্দোরা মারার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই গল্পটি মিতা নিজেই আমাদের অনেকের সামনে হাসতে হাসতে বলেছিলÑ আমি ভয়ে শিহরিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি সত্তর ঘা দোররার আঘাত কি করে সইলে? মিতা উত্তরে বলেছিল, প্রথম তিনটি আঘাত জোরে মারা হয়েছিল, পরেরগুলো টুকটুক করে মেরেছিল। কথাগুলো বলতে বলতে মিতা হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে। গর্বকরে বলেছিল, ওর স্বামীর মতো এত ভাল মানুষ আর হয় না। ওকে এত ভালবাসে, এত উপহার দেয় যা খুব কম মেয়ের ভাগ্যে জোটে। তবে তাঁর মাতা-পিতা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কঠিন ব্যবহার তাঁকে অনেক কষ্ট দেয়। মিতা অল্প বয়সে বিয়ে করে অসচ্ছল স্বামীর সংসারের জন্য রাত-দিন অমানুষিক পরিশ্রম করেছে। বিজ্ঞাপন ও নাটক করাই ছিল তার প্রধান উপার্জনের পথ। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পরিশ্রমে একটি ফ্ল্যাট, একটি গাড়ি কিনে সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছিল। তাতে মিতা গর্বিত ছিল। দুটি পুত্র সন্তান নিয়ে মিতার রঙিন স্বপ্নের কথা আমাদের কাছে হরহামেশাই বলত। মিতাকে দেখে কখনও মনে হয়নি তাঁর সংসারে কোন অশান্তির স্পর্শ আছে। মিডিয়ার অভিনেতা অভিনেত্রীদের নামে নানা রকম দুর্নাম প্রচার করা হয়, কিন্তু মিতার ক্ষেত্রে কোন দুর্নাম বা স্ক্যান্ডাল জাতীয় মন্তব্য শোনা যায়নি। মিতা কিভাবে আত্মহত্যা করতে পারে সেটা আমাদের কাছে একটা বিরাট বিস্ময়।
বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আমার রচিত একটি সুবৃহৎ ধারাবাহিক নাটক ‘ললনা’ প্রচারিত হচ্ছে। মিতা এই নাটকের মূল নায়িকা চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় করছিল। বিগত আড়াই বছর যাবত সপ্তাহে অন্তত তিনদিন নাটক রেকর্ডিং ও রিহার্সেলে দেখা হতো। গত ২৮/৮/২০১৩ পত্রিকায় জানতে পারলাম মিতার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আত্মহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মিতার পিতা এর সমর্থন করে জানিয়েছেন এর আগেও মিতা দু’দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। কথাটি বিশ্বাস করা যায় না, কারণ আত্মহত্যা ব্যাপারটি ঘটলে তাকে অন্তত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো। তাতে আমাদের নাটকের রেকর্ডিং অবশ্যই ব্যাহত হতো। মিতা তাঁর কাজের প্রতি এতটা মনোযোগী ছিল যে রেকর্ডিংয়ের দিন তিনি সব শিল্পীর আগেই টেলিভিশনে উপস্থিত থাকতেন। দু’একদিন দেরি হলে তিনি তা আগেই ফোন করে জানাতেন। মিতার পিতার জবানবন্দীতে জানা যায়, তাঁর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হতো না। পিতার অমতে বিয়ে করে প্রায় ৪২ বছর জীবনের অধিকাংশ সময়ই স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এখানেও মিতার ভক্তদের মনে নানা রকম প্রশ্নের উদয় হয়েছে। জানিনা কি কারণে মিতাকে অকারণে জীবন বিসর্জন দিতে হলো?
ডলি ইব্রাহিমের মাতার যে আক্ষেপ ছিল সেই আক্ষেপের সঙ্গে মিতার পিতার সাফাই জবানবন্দী এক নয়। ডলির মাতার আক্ষেপের ভেতর ছিল সমাজ মানবতা এবং সমাজের কঠিন সংস্কার কিন্তু মিতার পিতার জবানবন্দীতে আমরা কোন গ্রহণযোগ্য সান্ত¡Íনা খুঁজে পাইনি। এই পৃথিবীতে মাতা-পিতার সন্তান হারানোর বেদনা সব চাইতে দুঃখজনক। কিন্তু মিতা ও ডলিকে হারানোর বেদনা সংস্কৃত অঙ্গনকে চিরকাল কুরে কুরে খাবে। আমি উভয়ের আত্মার শান্তি কামনা করি। যেখানেই তারা থাকুক না কেনÑ পৃথিবীর সব জ্বালা যন্ত্রণার উর্ধে যেন থাকে। সবার কাছে তারা অমর।
সবশেষে রবিঠাকুরের কবিতার একটি চিরসত্য লাইন মনে পড়েÑ
‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’

লেখক : নাট্যকার