মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২২ ভাদ্র ১৪১৮
বাণিজ্যের উন্নয়ন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে
মুনতাসীর মামুন ॥ জয়ন্তকুমার রায়
বাণিজ্যও এখন কূটনীতির অন্তর্ভুক্ত বা এমনও বলা যেতে পারে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কূটনৈতিক জোরটা হয়ে দাঁড়ায় নতুন বাজার সৃষ্টিতে বা প্রসারণে। আমরা আগে যে সব বিষয় আলোচনা করেছি তা প্রথাগত কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করিনি এ কারণে যে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা গৌণ। দু'দেশের বাণিজ্য চুক্তি দ্বারা অর্থনীতিতে গতিশীলতা বা নিজ নিজ দেশের জন্য কিছু সুবিধা আনতে পারে মাত্র। তাছাড়া বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা বা এ ধরনের আরও অনেক সংস্থার আইনকানুনে বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ছোট দেশগুলো আবদ্ধ। অর্থনৈতিক ৰেত্রে আধুনিক রাষ্ট্র খুব বেশি একটা ডিকটাট করতে পারে না। কিন্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশ-ভারত দ্বি-পাৰিক সম্পর্কে অর্থনীতিও ছায়া ফেলেছে। দ্বি-পাৰিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ক্রমাগত বাণিজ্যিক ঘাটতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এ ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে, ভারত শুধু চায় তার নিজের বাজার অক্ষুন্ন রাখতে এবং সে কারণে প্রতিবন্ধকতার পর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাত্র। এ বক্তব্য যে সম্পৃর্ণভাবে অসত্য তাও নয়। পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতীয় বাণিজ্যে, বাণিজ্য অনুকূল ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পৰে। সে সময় পাট রফতানিতেই পূর্ব পাকিস্তানের সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা আসত। বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে দূরে থাকুক সেটি একেবারে অসম্ভব ভারসাম্যহীন অবস্থায় পৌঁছেছে। বলা যেতে পারে, চীন বা আরও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘাটতি হয়ত ভারতের অনুরূপ কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই। এর কারণ, চীন অনেক দূরে, ভারত বেষ্টিত বাংলাদেশ ৰুদ্র দেশ, ঐতিহ্যগতভাবে যেখানে ভারত বিরোধিতা রাজনীতির হাতিয়ার, সেখানে ভারতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো স্বাভাবিক। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন বাংলাদেশ যাত্রা শুরম্ন করে তখন তার অর্থনীতি বলে কিছু ছিল না। ভারত বাংলাদেশকে যেহেতু যুদ্ধে সহায়তা করেছিল সে কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দায়িত্ব তার ওপরেই বর্তায়। আজ পিছন ফিরে দেখলে বলতে হয়, ভারত যথাযথভাবেই তার দায়িত্বপালন করেছে। মনে রাখা দরকার তখন বাংলাদেশের এক কোটি শরণার্থী ও আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং মুজিব আমলে সর্বতোভাবে সর্বৰেত্রে ভারত যেভাবে সহায়তা করেছে, দৰিণ এশিয়ার দ্বিপাৰিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বিরল।
১৯৭২ সালে ভারত-বাংলাদেশ যে মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল তার ৫ নং অনুচ্ছেদে উলেস্নখ করা হয়েছিল, দুটি দেশ বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহায়তা করবে। সে পরিপ্রেৰিতে ঐ বছরই সিদ্ধানত্ম হয় দু'দেশের পরিকল্পনা কমিশন সময় সময় বৈঠক করে দু'টি দেশের মধ্যে দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদী সহযোগিতার ৰেত্রগুলো নির্ধারণ করবে। এ ধরনের ঘটনাও কিন্তু বিরল। মুজিব আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দু'টি চুক্তি হয় ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে। দু'টি চুক্তিরই মূল কথা ছিল সমপরিমাণ অর্থের পণ্য আমদানি রফতানি হবে। এখানে উলেস্নখ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিকে নীতি তখন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্যের মধ্যে ছিল কাঁচাপাট, নিউজপ্রিন্ট, নাপথা, ফার্নেস অয়েল ও মাছ। আর ভারত থেকে আমদানি দ্রব্যের মধ্যে প্রধান ছিল সিমেন্ট, কয়লা, মেশিনারিজ প্রভৃতি। ১৯৭২ সালের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল তাতে সীমানত্মবাণিজ্য এবং খরসরঃবফ চধুসবহঃ ঞৎধফরহম-র ব্যবস্থা ছিল। শেষোক্ত শর্ত অনুযায়ী দেখা যায় বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ আর রফতানি করেছে ১৪ কোটি রূপি।
সেই থেকে ঘাটতি শুরম্ন। এবং দু'টি পণ্য নিয়ে দু'পৰের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য প্রধান পণ্য ছিল কাঁচাপাট। ভারত বাংলাদেশ থেকে যে দামে পাট কিনত, নিজের দেশে তার চেয়ে বেশি দামে কিনত। আনত্মর্জাতিক বাজারে ভারতের পাটের বাজার সম্প্রসারিত হয়। আওয়ামী বিরোধীরা এই সমালোচনা শুরম্ন করেন যে, ভারতের 'হুকুম' ছাড়া অন্য কোন জায়গায় বাংলাদেশ পাট রফতানি করতে পারছে না এবং বাংলাদেশ আনত্মর্জাতিক ৰেত্রে পাটের বাজার হারাচ্ছে। অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী ভারতের যে পরিমাণ কয়লা রফতানি করার কথা ছিল তা করতে পারেনি। সেটি নিয়েও সমালোচনা শুরম্ন হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় চোরাচালানী সমস্যা। দু'দেশেই এর বিরূপ সমালোচনা শুরম্ন হয়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এর সমালোচন শুরম্ন করে। বিরোধী দল বলতে থাকে, আওয়ামী লীগ কমর্ীরা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। গণ্যমাধ্যমে বলা হতে থাকে চোরাচালানীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ভারত। চোরাচালানী রোধে 'যুক্ত উপদেষ্টা কমিটিও' গঠিত হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য হয় চোরাচালান দমনে সেনাবাহিনী নামাতে। মুজিব আমলে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ১৫০-৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উলেস্নখ্য, তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশ সে ঘাটতির পরিমাণ প্রচুর হ্রাস করে। ১৯৭৫-৭৬ সালে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১.২০ মিলিয়ন ডলারে। এ তথ্যটি অবশ্য সবসময় উহ্য থাকে। এ ছাড়া মুজিব আমলে (১৯৭১-৭২; ১৯৭৫-৭৬) ভারত বাংলাদেশকে খাদ্য, পণ্য ও প্রকল্প সাহায্যে অনুদান ও ঋণের প্রতিশ্রম্নতি দেয় ৩১০.৯৯৫ (মিলিয়ন) ডলার ও ছাড় হয় ২৭৫.১৪৬ (মিলিয়ন) ডলার। বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের পর এক দশকে পাকিসত্মান, চীন বা সৌদি আরব এত সাহায্য দেয়নি। মোরারজী দেশাই ৰমতায় আসার পূর্ব পর্যনত্ম, দু'দেশের মধ্যে প্রতিশ্রম্নত যে পরিমাণ পণ্য আমদানি-রফতানি করার কথা ছিল, ভারত সে পরিমাণ পণ্য রফতানি করলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য আমদানি করেনি। এখানে উলেস্নখ্য, বিএনপি-জামায়াত আজ যে ট্রানজিটের বিরোধিতা করছে, জিয়াউর রহমানের সময়ই যে সেই ট্রানজিট দেয়ার কথা হয়েছিল আজ সবাই তা বিস্মৃত। ১৯৭৮ সালে দু'দেশের মধ্যে সমঝোতা হয় যে, নেপাল থেকে পণ্য আসবে ভারতের মধ্য দিয়ে। আর বাংলাদেশ থেকে পণ্য যাবে দিনাজপুরের বিরল থেকে ভারতের রাধিকাপুর পর্যনত্ম রেলের মাধ্যমে। তখন প্রচ- আওয়ামীবিরোধী [এবং পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার উপদেষ্টা] বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক এনায়েতউলস্নাহ খান তাঁর পত্রিকায় এই ট্রানজিটকে অভিনন্দন জানিয়ে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন। এমনকি যেই গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক শীতল হয়েছিল সেই গ্যাস সরবরাহ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে রাজি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন খনিজমন্ত্রী আকবর হোসেন ১৯৮০ সালে ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ কলকাতায় গ্যাস সরবরাহ করবে। পাইপ লাইন তৈরি করে দেবে ভারত। এই গ্যাস বিক্রি করলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। ১০০ কোটি টাকা বাঁচবে। এ ঘোষণার পর ডানপন্থী দলসমূহ তীব্র বিরোধিতা শুরম্ন করে। জেনারেল জিয়ার দলের একাংশও সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। সরকার পিছু হটে যায়। জিয়া যখন নিহত হন তখন বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৩.৮ মিলিয়ন ডলার। জিয়ার আমলে বাংলাদেশে ভারতের ঋণ/অনুদানের পরিমাণও কমে যায়। জিয়া ভারত থেকে ঋণ/অনুদান গ্রহণে আগ্রহী ছিলেন না। কারণ, তিনি চীন, সৌদি আরব, বিশ্বব্যাংকের প্রতি আগ্রহী ছিলেন বেশি। জিয়াউর রহমানের পর জেনারেল এরশাদ ৰমতায় আসেন এবং তারপর বেগম জিয়া। বস্তুত আশির দশক থেকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বাঁধ ভেঙ্গে পুরোপুুরি পুঁজিবাদ বিকাশের পথে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। বেগম জিয়ার সময় (১৯৯১-১৯৯৬) মুক্ত বাজার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগও তা সমর্থন করে। ১৯৯০ সালে এরশাদ যখন বিতাড়িত হন তখন ঘাটতি দাঁড়ায় ১ বিলিয়ন ৬৭ মিলিয়ন রূপি। সেই থেকে ঘাটতির পরিমাণ বাড়ছে। কখনও কখনও তা কমলেও, ঘাটতি ব্যাপক। পুরনো সংখ্যাতত্ত্ব বাদ দিয়ে সাম্প্রতিক সংখ্যাতত্ত্ব বিচার করা যেতে পারে । গত ৬ বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে দ্বিগুণ_

বছর ঘাটতি
২০০৮-০৯ ২৫৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার
২০০৭-০৮ ৩০১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার
২০০৬-০৭ ১৯৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার
২০০৫ -০৬ ১৬০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার
২০০৪- ০৫ ১৮৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার
২০০৩-০৪ ১৫১ কোটি ১০ লাখ ডলার

যেই ঘাটতির কথা উল্লেখ করলাম তা formal sector-G| Informal sector-এ যে বাণিজ্য হচ্ছে তাও বাংলাদেশের প্রতিকূলে। গত দু' দশকে সরকারী পর্যায়ে এবং বেসরকারী পর্যায়ে এই বাণিজ্য এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


ভারতে বাংলাদেশের রফতানি
২০০৪-৫ ২০০৫-৬ ২০০৭-৮ ২০০৮-৯
১৪৪.২০ ২৪১.৯৬ ৩৫৮.০৮ ২৭৬-৫৮

ভারত থেকে বাংলাদেশের রফতানি
২০৩০.০০ ১৮৬৪.৭০ ২২৬৮.০০০ ৩৩৬৪.০০০ ২৮৪১.০৬
বাণিজ্য ঘাটতি ১৮৮৫.৮০ ১৬২২.৮০ ১৯৭৮.৫৮ ৩০০৫. ৯২ ২৫৪৪.৪৮
[মিলিয়ন ডলারে]

যেমন মার্চ ২০০৯ সালে তিন বছরের জন্য একটি চুক্তি হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছে, জলপথ, রেলপথ, রেলওয়ে সড়ক ব্যবহার করে এক দেশের পণ্য অন্য দেশে আমদানি-রফতানি করা যাবে, এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হবে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ হবে কিন্তু কার্যত কিছুই হয়নি। বাণিজ্যের বিষয়টি এখন আর সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না, বেসরকারী ৰেত্রই প্রাধান্য বিসত্মার করছে। সরকার শুধু সহায়তা করতে পারে। এই সহায়তা করার বিষয়টাও এখন প্রথমে সাফটা পরে সাপটা চুক্তির মুখাপেৰী হয়ে গেছে। বাংলাদেশের "ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে বিপুল ঘাটতির মূল কারণ বাংলাদেশী পণ্য কাঙ্ৰিত মাত্রায় ভারতে রফতানি না হওয়া, কয়েক বছর ধরে ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি আয় বাড়লেও ভারত থেকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এর চেয়ে বেশি, ফলে দিন দিন বাণিজ্য ঘাটতি পাহাড় সমান উচ্চতা নিয়েছে।"
২০০৭ সালে নতুন দিলস্নীতে অনুষ্ঠিত ১৪তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সিদ্ধানত্ম হয় যে, পজিটিভ লিস্টে বাংলাদেশী যে সব পণ্য আছে তা ভারতে শুল্ক মুক্ত অবস্থায় প্রবেশ করতে হবে। নেগেটিভ লিস্টে যে সব পণ্য আছে তার শুল্ক ৪৫% থেকে কমিয়ে ১০% করা হবে। সার্কের এলডিসি'র তালিকায় যে সব দেশ [বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ এবং নেপাল] আছে সে সমসত্ম দেশের ৰেত্রে তা প্রযোজ্য হবে। ১২তম সার্ক (২০০৪) সম্মেলনে সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছিল সাফটা চুক্তি অনুযায়ী, নেগেটিভ লিস্ট ছাড়া সব পণ্যের ক্রমে শুল্ক হ্রাস পাবে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এ সিদ্ধানত্ম নিয়েছে কম উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের। Geographical proximity and cultural affinity between the people of Bangladesh and west Bengal who speak a common language would also greatly enhance bilateral trade. A huge amount of illegal border trade, amounting to more than 1 billion, already takes place between the two countries. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পজিটিভ লিস্টে যা আছে তার অনেক কিছুই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। জয়শ্রী সেনগুপ্ত উলেস্নখ করেছেন ১৯৮০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সরকারী তথ্য অনুযায়ী ২০০৪ সালে ভারত রফতানি করেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আমদানি করেছে ৭৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে ভারতের রফতানি বেড়েছে ৯.১ হারে। আর একই সময়ে আমদানি হার গড়ে মাত্র ৩%। ঐ সময় থেকে ঘাটতির হার প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে ৯.৫ ভাগ হারে। ১৯৮০ সালে ভারতের আমদানি হার বেড়েছিল ৩.৬ ভাগ। ২০০৪ সালে ১৮.৫ ভাগ। কিন্তু গত শতকের সম্পূর্ণ নব্বই দশক বাংলাদেশের রফতানি হার ছিল ভারতের সমগ্র আমদানির ১ ভাগেরও কম। ভারতের পৰে বাণিজ্য অনুকূলে যাওয়ার কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সংস্কার ও টাকার অবমূল্যায়ন। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক সংরৰণের কারণে বাংলাদেশের রফতানি বিঘি্নত হচ্ছে না। কারণ সাফটা অনুযায়ী বাংলাদেশ অনেক সুবিধা পাচ্ছে। তবে, এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিভিন্ন রকম পণ্যশুল্ক, দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই বাধার কারণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এ শতকের শুরম্নতে বাংলাদেশে উৎপাদিত ব্যাটারি খানিকটা বাজার পাচ্ছিল ভারতে। তখন সেই পণ্যের বিরুদ্ধে ধহঃর-ফঁসঢ়রহম মামলা করা হয়। পণ্যের গুণগত মান পরীৰার নামে প্রচুর সময় ৰেপণ করা হয়। অনেক পণ্য গুণগত মানসম্পন্ন নয় বলে বিবেচনা করা হয়। এ সব কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা থাকার কারণেও রফতানি করা যাচ্ছে না। আরেকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে ভারতীয় বাংলা বইয়ের অবাধ রফতানি করা যায়। করা হচ্ছেও এবং বাংলাদেশের প্রকাশনাকে তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিক্রেতারা বাংলা বই আমদানি করতে মোটেই ইচ্ছুক নয়, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও। তবে এ যুক্তি অগ্রাহ্য করা যায় না যে, ভারত যা আমদানি করবে তার চাহিদা থাকতে হবে। সে জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য থাকতে হবে। বাংলাদেশের ইন্দো-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আবদুল মতলুব আহমদ তা স্বীকার করেছেন পরোৰভাবে। তাঁর মতে, “In order to assess raising prosperity on the South Asian countries we need to know about their ecomnomic position. Diversity in their economies gives rise to trade, commerce and investment opportunities.” we‡kl‡Ái fvlvq, “India has a revealed comparative advantage in many goods which is why India imports to Bangladesh have been growing over the years. Bangladesh, on the other hand, has relatively limited scope for enhancing its exports because it lacks a similar revealed comarative advantage. আসলে সামগ্রিকভাবে দু'দেশের রাজনীতিবিদদের বিষয়গুলো ভাবতে হবে। খণ্ড খণ্ড কোন ব্যবস্থা সমস্যার সমাধান করবে না। বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় সম্পদ সীমিত। জনসাধারণের মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে এবং সেটি সম্ভব উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধির দ্বারা। সমগ্র ভারত নয়, বাংলাদেশের রফতানির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৬টি রাজ্য। কারণ এ সব অঞ্চলে পণ্য রফতানি মূল্য কম হবে এবং সে কারণে তা প্রতিযোগিতামূলক হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে যা উৎপাদিত হয় এসব রাজ্যে তার চাহিদা ব্যাপক। এমনকি এই বাণিজ্য নেপাল ও ভুটান পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায়। কিন্তু সে সঙ্গে আসে ট্রানজিট ও অন্যান্য প্রশ্ন। দেশের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে অযথা ভারত বিরোধিতা ছাড়তে হবে এবং বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পূর্বোলিস্নখিত দ্বিপাৰিক সমস্যাগুলোরও সমাধানে আসতে হবে। অন্য দিকে ভারত বাংলাদেশের পণ্যের জন্য শূন্য শুল্ক ব্যবস্থা চালু করলে অন্যান্য সমাধানের পথ খুলে যাবে। কারণ কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকেও ভারতের প্রয়োজন।
* বাহুল্য ভেবে তথ্যপঞ্জি দেয়া হলো না
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী : বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা
শাহরিয়ার কবির
মনমোহন সিংয়ের সফর এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
ড. হারুন রশীদ
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে গত কয়েক মাসই ব্যাপক আলোচনা-প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ ৬ সেপ্টেম্বর ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশে আসছেন। তিনি শুধু একাই আসছেন না, চারটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আসছেন তাঁর সঙ্গে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সে যাই হোক। বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বিভিন্ন মহল থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফরকে 'ঐতিহাসিক' বলে উলেস্নখ করেছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বের রবিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ধারণা দেন। এই সময় তিনি উলেস্নখ করেন, মনমোহনের দু'দিনের সফরে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। এই সফরে দু'দেশের মধ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সই হবে। এর বাইরে পানি বণ্টন, সীমান্ত, রেল সংযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়, সুন্দরবন সংক্রান্ত দশ-বারটি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল এবং ট্রানজিট বিষয়ে সম্মতিসূচক পত্র বিনিময় হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লী সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের যে নব দিগন্তের সূচনা হয়েছিল ড. মনমোহন সিংয়ের আগমনের মাধ্যমে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। দেড় বছর ধরে দু'দেশের সরকার একযোগে কাজ করে নয়াদিল্লী ইশতেহারের বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল দু'দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে। এ কথা বলার অপেৰা রাখে না যে, মনমোহন সিংয়ের এই সফরকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁর এই সফরের মধ্যদিয়ে উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলে যাবে_রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনটিও মনে করছেন। তাঁর এই সফর নানা দিক থেকে অত্যন্ত গুরম্নত্বপূর্ণ। এই প্রথম ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাৰিক চুক্তি করতে বাংলাদেশে আসছেন। এর আগে ভারতের অনেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলেও তারা দ্বিপাৰিক কোন চুক্তি সই করার জন্য আসেননি। এসেছেন কোন সম্মেলন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাহায্য সহানুভূতি জানাতে। সেদিক থেকে মনমোহন সিংয়ের এই সফরকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনির ভাষায় 'ঐতিহাসিক' বললেও অতু্যক্তি হবে না। এছাড়া এই সফরের মধ্যদিয়ে গত ৪০ বছরের দু'টি দেশে বিদ্যমান নানা সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। যা শুধু দু'টি দেশই নয়, এই অঞ্চলের মানুষের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্যও মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ। এটা ঠিক, ভৌগোলিক কারণেই দু'টি দেশের মধ্যে আনত্মঃসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যনত্ম জরম্নরী। এছাড়া বিদ্যমান বিশ্ববাসত্মবতায় প্রতিবেশী দেশ তো বটেই স্বার্থসংশিস্নষ্ট প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ব্যতিরেকে কোন দেশের পৰেই এককভাবে চলা সম্ভব নয়। দেশে দেশে পারস্পরিক সহযোগিতা, লেন-দেন এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে একটি দেশ আরেকটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তৎপর। এ পরিপ্রেৰিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যনত্ম নিবিড় এবং আস্থাশীল হওয়া অত্যনত্ম জরম্নরী।
সম্পর্ক জোরদার হয় লেন-দেনের মাধ্যমে। আর এই লেন-দেন কেবল অর্থনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়টিও যুক্ত। এছাড়া দু'টি দেশের জনসাধারণের নিবিড় সম্পর্ক, আত্মীয়তার বন্ধনের বিষয়টিও এখানে বিবেচ্য। এসব কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে অত্যনত্ম সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে দেখতে হবে। কেউ কারও কাছ থেকে কিছু পেতে হলে দু'টি দেশকেই সন্দেহ-অবিশ্বাসের উর্ধে উঠে এগিয়ে যেতে হবে। দু'টি দেশের মধ্যে সীমানত্ম সমস্যা, অভিন্ন নদীসহ অন্য যে সব সমস্যা রয়েছে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে সবার আগে। এবারের বৈঠকে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা কিংবা সম্মতিপত্র সই হবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ট্রানজিট। নব্বইয়ের দশক থেকেই বাংলাদেশের কাছে ভারত ট্রানজিট সুবিধা চাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যনত্ম বিষয়টি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। ট্রানজিট দিলে উভয় দেশই সুবিধা পাবে বলা হলেও বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ট্রানজিটের বিনিময়ে কি পাবে, সেটি পরিষ্কার নয়। যদিও এর আগে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন, 'ট্রানজিট ফি প্রদানের বিষয়ে ভারত প্রস্তুত আছে'। এ ব্যাপারে কি হারে ফি নির্ধারণ করা হবে এবং কোথায় দিয়ে কি ধরনের ট্রানজিট সুবিধা ভারত পেতে চায়; সেসব বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া দরকার। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাপ্তিই বা কি, এ বিষয়েও ভাবতে হবে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়টিও দেখতে হবে।
ভারতকে ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট কিংবা করিডর যাই দেয়া হোক না কেন, সেটির ভিত্তি অবশ্যই হতে হবে সহযোগিতাসুলভ মনোভাব। ট্রানজিট সুবিধা দিলে বাংলাদেশও যাতে এরূপ সুবিধা কিংবা সমমানের কিছু পায়, সেদিকটাও ভারতকে দেখতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি তা কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে হবে। নেপাল, ভুটান, পাকিসত্মানে বাংলাদেশী পণ্য পরিবহনের সুবিধার ব্যাপারেও ভারতসহ সংশিস্নষ্ট দেশগুলোকে সহযোগিতাসুলভ মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোও মিটিয়ে ফেলতে হবে। সমুদ্রসীমা নির্দিষ্টকরণ, স্থল সীমানা চিহ্নিতকরণ, সীমানত্মে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যা, আনত্মঃদেশীয় নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া, ফারাক্কা এবং টিপাইমুখ বাঁধের প্রতিক্রিয়া_এসব বিষয় জিইয়ে রেখে কি কোন অবস্থাতেই আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব? অস্বীকার করার উপায় নেই, ট্রানজিট চালু হলে ভারত-বাংলাদেশ দু'টি দেশই লাভবান হবে। এ জন্য বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তা ভোলার নয়। বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ করে। এ কারণেই এ দেশের মানুষের ভারতের প্রতি একটি আত্মিক দুর্বলতা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে ভারতবিরোধী রাজনীতির একটি ধারা প্রবলভাবে ক্রিয়াশীল। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে 'সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।' এ অবস্থায় উভয় দেশের জনসাধারণের মধ্যে যে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে তা যদি দু'টি দেশের সরকারের মধ্যে সংক্রমিত হয় তাহলেই সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে_দেবে আর নেবে, মিলবে আর মেলাবে; এই মন্ত্রে দীৰিত হলেই কেবল দু'টি দেশই পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে এগিয়ে যেতে পারে। এর বাইরে একক চিনত্মায় কোন ফল নেই, এ কথা বলা যায় নিশ্চিত করেই। মনমোহন সিংয়ের সফরের মধ্যদিয়ে দু'টি দেশের সম্পর্ক অত্যনত্ম জোরদার এবং মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সীমানত্ম সমস্যাসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইসু্যতে ভারত ইতোমধ্যেই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দু'টি দেশের মধ্যে সীমানত্মহাট চালু হয়েছে। এটা সম্পর্কোন্নয়নের ৰেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। দ্বিপাৰিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এই অঞ্চলের মানুষ কয়েক যুগ ধরে অপেৰায় আছে। মনমোহন সিংয়ের সফর সেই প্রতীক্ষার সফল সমাপ্তি ঘটাবে এবং এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।