মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুই নেত্রী_ দুই নীতি
গোলাম কুদ্দুছ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরুণ অংশ সজীব ওয়াজেদ জয়কে সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং দলে বড় কোন দায়িত্ব নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেখ হাসিনা থেকেছেন একেবারে নিস্পৃহ। তিনি বলেছেন_ জয়ের ইচ্ছাই প্রধান, সে চাইলে রাজনীতিতে আসবে; না চাইলে আসবে না। কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের কোন সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর নয়। বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা বার বার শোনা গেলেও এখনও পর্যন্ত তিনি দল বা সরকারের কোন দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়দের মধ্যে যারা দলের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই ছাত্রজীবন থেকে সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ যোগ্যতাবলেই তারা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে তারা নির্যাতিত হয়েছেন, বহুবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু অপোসের চোরাবালিতে হারিয়ে যাননি।
অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দল এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুনত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। রাজনীতিতে সামান্যতম ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও তারাই হয়ে ওঠেন দল এবং সরকারে মহাশক্তিধর। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর বড় বোন মরহুম খুরশিদ জাহান হককে (চকলেট আপা) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী এবং দেশের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। বেগম জিয়ার ভাই মেজর (অব) সাইদ ইস্কান্দারকে এমপি এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিযুক্ত করেন। তাঁর ভাগিনা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন দিনাজপুর জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং আরেক ভাগিনা ডিউক তাঁর একান্তম সচিব নিযুক্ত হন। জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব নির্বাচিত হলেও তিনিই যে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন, তাও এখন স্পষ্ট। হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করে বিগত দিনে দল এবং সরকার পরিচালনায় তারেক রহমান মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো সরাসরি দলের কোন দায়িত্ব গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার মা মরহুমা তৈয়েবুন্নেসা মজুমদার দিনাজপুর জেলা রেড ক্রিসেন্টের সভাপতি মনোনীত হয়েছিলেন।
উপরের আলোচনা থেকে দল এবং সরকারে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আধিপত্য সৃষ্টির প্রাণানত্ম চেষ্টার পাশাপাশি বিপরীত চিত্রও ফুটে উঠেছে। এখানেই দুই নেত্রীর নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রভাবনার মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট।
৪. উনিশ শ' পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট জাতির জনকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর সকল সম্পত্তির মালিকানা অর্পিত হয় জীবিত দু'কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ওপর। কিন্তু তাঁরা এ সম্পত্তি ভোগদখল না করে জাতির জনকের স্মৃতি রৰা এবং জনকল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গঠন করেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ধানমণ্ডির বত্রিশ নম্বরের প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাড়িটি বিনামূল্যে ট্রাস্টকে উইল করে দেন। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়ার বিরাট সম্পত্তি জাতির জনকের সমাধি কমপেস্নঙ্ নির্মাণের জন্য হসত্মানত্মর করেন। স্বামীর বাড়িটি ছাড়া শেখ হাসিনার নামে দেশে বা বিদেশে কোন বাড়ি নেই। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মন্ত্রিপরিষদ জাতির জনকের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনাকে বসবাসের জন্য গণভবন বরাদ্দ দিলেও তিনি তা গ্রহণ না করে রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেন। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ধনসম্পদের প্রতি শেখ হাসিনার নির্লোভ দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে লৰণীয়। বিলাসবহুল-জাঁকজমকপূর্ণ জীবনধারার পরিবর্তে শাশ্বত বাঙালী রমণীর সহজাত সৌন্দর্যবোধ তাঁর জীবনাচরণে বিশেষভাবে প্রতিফলিত। বাঙালী মুসলিম সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও শেখ হাসিনা সংস্কারমুক্ত একজন আধুনিক প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, ভোগ-বিলাস ও বিলাসবহুল আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন দু'নেত্রীকে বিপরীত মেরম্নতে দাঁড় করিয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান মর্মানত্মিকভাবে নিহত হবার পর এ কথা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে, মৃতু্যকালে তিনি তেমন কোন সম্পত্তি রেখে যাননি। সে সময়ে দায়িত্ব পাওয়া রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৬নং মইনুল হোসেন রোডের সেনাপ্রধানের ১৬৮ কাঠার সরকারী বাড়িটি মাত্র এক টাকা মূল্যে খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ প্রদান করে। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার নামে গুলশানে ৩০ কাঠার আরেকটি বাড়িও বরাদ্দ করে সরকার। বাড়ি দু'টি ছাড়াও নগদ দশ লাখ টাকা, দুই পুত্রের লেখাপড়া, দারোয়ান, ড্রাইভার, মালি, বাবুর্চি, পিয়নসহ প্রায় এক ডজন কর্মচারী রাষ্ট্রীয় খরচে বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় নিয়োগ দেয়া হয়। টেলিফোন বিল, বিদু্যত বিল, গ্যাস বিল এবং গাড়ির তেল সবই সরকার বহন করে। যে বিবেচনায় তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি বরাদ্দ করেছিল। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা এখন আর সে পর্যায়ে নেই। গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জনশ্রম্নতি এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী জিয়া পরিবার শত শত কোটি টাকার মালিক। দেশে-বিদেশে, নামে-বেনামে তাদের কারখানা, জাহাজ, শপিংমলসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ধনসম্পদ রয়েছে।
এমতাবস্থায় ২০ এপ্রিল ২০০৯ সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদফতর ক্যান্টনমেন্টের এ/১ ক্যাটাগরির বাড়ি বরাদ্দের আইনগত বৈধতা ও শর্তভঙ্গের অভিযোগ এনে বরাদ্দপ্রাপক খালেদা জিয়াকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য নোটিস প্রদান করে। নোটিস প্রদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া ৩ মে ২০০৯ হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন। মহামান্য হাইকোর্ট দীর্ঘ বাইশ দিন শুনানি শেষে ১৩ অক্টোবর ২০১০ প্রদত্ত এক রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য রায় প্রদান করে। এ রায়ের বিরম্নদ্ধে খালেদা জিয়ার পৰ থেকে পুনরায় আপীল করা হলে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের আফিলেট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আপীল বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এরপরের ঘটনা সবার কাছেই দৃশ্যমান। সুপ্রীমকোর্টে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা বেআইনী উশৃঙ্খল আচরণ করে আদালতের স্বাধীন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছে। খালেদা জিয়ার বাড়ি রৰার উদ্দেশ্যে গত কোরবানি ঈদের আগে ও পরে মোট দুই দিন দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করে বিএনপি চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। রাজনৈতিক বিষয় বাদ দিয়ে, জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় না এনে সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ১৪ কোটি মানুষকে কষ্ট দেয়া কখনই রাজনীতি হতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া প্রায়ই বলতেন, 'ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়।' কিন্তু বিএনপি বাসত্মবে প্রমাণ করল 'দেশের চাইতে দল বড়, দলের চাইতে ব্যক্তি বড়।' অবৈধভাবে বরাদ্দ পাওয়া একটি বাড়ি রৰার জন্য খালেদা জিয়া যেভাবে পুরো দলকে ব্যবহার করেছেন তা কখনই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে যে সমসত্ম মাল অন্যত্র স্থানানত্মর করা হয়েছে সে তালিকা দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ। কোন বাঙালী পরিবারের বাড়িতে এত বিলাসবহুল সামগ্রী থাকতে পারে, এ তালিকা না দেখলে তা কখনও কল্পনাই করা যেত না। ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা সামগ্রিক জীবনাচার এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দু'নেত্রীর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শেরই প্রতিফলন মাত্র।
৫. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মাঝে রয়েছে যোজন যোজন দূরত্ব। আওয়ামী লীগ সকল সময়েই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে। স্বাধীনতার পর বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন হলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক সপরিবারে নিহত হবার পর সে বছরের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করে স্বাধীনতাবিরোধী এই অপশক্তিকে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন এবং তার শাসনামলেই ১৯৭৮ সালে অসুস্থ মাকে দেখবার উছিলায় বিদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশী নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে এসে অবৈধভাবে বসবাস করতে থাকেন গোলাম আযম। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে গোলাম আযম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ১৯৯১ সালে ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির নিযুক্ত হন। বিস্মিত হতবাক ক্ষুব্ধ দেশবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। অবশেষে, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ছাত্র-যুব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাসত্মবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমর্ূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি'। এ কমিটি ২৬ মার্চ ১৯৯২ গোলাম আযমসহ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত গঠনের ঘোষণা দেয়। এর প্রস্তুতি এবং জনমত গঠনের লৰ্যে ৩ মার্চ ১৯৯২ বায়তুল মোকাররমের দৰিণ গেটে জাহানারা ইমামের সভাপতিত্বে জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এই সমাবেশে প্রদত্ত বক্তৃতায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দেশের সর্বসত্মরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কবি সুফিয়া কামাল, ৫ দল নেতা হাসানুল হক ইনু, দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নুরম্নল ইসলাম নাহিদ, সেকটর কমান্ডার কর্নেল (অব) কাজী নুরম্নজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপস্নবী জোটের শাহ্ আতিকউল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ (বীরপ্রতীক), সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও অত্র নিবন্ধের লেখক গোলাম কুদ্দুছ ও প্রজন্ম '৭১-এর শমি কায়সার।
অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ২৩ মার্চ ১৯৯২ জারি করা এক ফরমানে গণআদালতের উদ্যোক্তাদের বিরম্নদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে না_ তার কারণ জানতে চেয়েছে। সরকারের হুমকিধমকি এবং রক্তচক্ষুকে উপেৰা করে ২৬ মার্চ গণআদালত অনুষ্ঠিত হয় এবং বিচারে গোলাম আযম গংয়ের অপরাধ মৃতু্যদণ্ডযোগ্য বলে রায় প্রদান করা হয়। সে দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লৰ লৰ লোকের সমাবেশ আয়োজনে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং এ ব্যাপারে জাহানারা ইমামকে আশ্বসত্ম করেছিলেন। সে সময়ে ১৬ এপ্রিল ১৯৯২ জাতীয় সংসদে গোলাম আযম ইসু্য নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, 'একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরম্নদ্ধাচরণ, যুদ্ধ ও গণহত্যাসহ মানবতার বিরম্নদ্ধে অপরাধ সাধন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পরও পূর্বপাকিসত্মান পুনরম্নদ্ধারের নামে বাংলাদেশের বিরোধিতা, নিবন্ধীকৃত বিদেশী নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রৰমতা দখলের উদ্দেশ্যে বে-আইনী তৎপরতায় লিপ্ত পাকিসত্মানী নাগরিক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ১৯৯২ এর ২৬ মার্চের গণআদালতে জনগণের যে মতামত প্রতিফলিত হয়েছে, তাকে প্রতিফলন ও বাসত্মবায়নের লৰ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আনত্মর্জাতিক ক্রাইম (ট্রাইবুন্যাল) এ্যাক্ট ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইবুন্যাল গঠন করে গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ বিচারের আইনগত পদৰেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই লৰ্যে সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় গোলাম আযম ও তার সহযোগীদের বিরম্নদ্ধে অবিলম্বে প্রসিকিউশন ও বিচার ব্যবস্থা করবে।' ১৯৯২ সালে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছিলেন কোন ভয়ভীতিই তাঁকে সে অবস্থান থেকে টলাতে পারেনি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গণরায় চেয়েছেন_ মানুষ রায় দিয়েছে এবং বহুপ্রতীৰিত বিচার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরম্ন হয়েছে।
অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে ছিলেন না। ১৯৯২ সালে যখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী সে সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত গণআদালতের উদ্যোক্তা শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ ২৪ জন দেশবরেণ্য ব্যক্তির নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছিল তার সরকার। বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে তো ছিলেনই না বরং এই অপশক্তিকে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আবদুল আলিম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের দলীয় নেতা ও মন্ত্রী বানিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলে মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদকে তার সরকারের পূর্ণমন্ত্রী বানিয়েছেন। বর্তমানেও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য অটুট রয়েছে। বর্তমান সরকার কর্তৃক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার এবং বিচারের সম্মুখীন করাকে খালেদা জিয়া বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন আখ্যায়িত করে মানুষকে বিভ্রানত্ম করতে চাইছেন। এর আগেও তিনি এই বিচারের ফলে দেশে গণ্ডগোল সৃষ্টি হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। দুই নেত্রীর মত এবং নীতির এই বিশাল ফারাকের মধ্যেই জনগণকে তাদের করণীয় নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যাচাই করে নিতে হবে_ কারা সত্যের পৰে মানবিক আদর্শকে সমুন্নত রাখতে চায়, আর কারা যুদ্ধাপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করতে চায়। (চলবে)
সূর্য উদয়ের দেশ জাপানে শেখ হাসিনার পাঁচ দিনের সফর
মামুন-অর-রশিদ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে কুয়াকাটায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের গ্রামীণ জনপদে দরিদ্র বিমোচন এবং সাধারণ মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে প্রান্তিক জনপদে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের নানারকম ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে তাঁর সরকার দেশের নিজস্ব অর্থায়নে ১শ' ৩৫ টি এ্যাকশন প্লন গ্রহণের কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে

সংক্ষিপ্ত বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানে তাঁর সফরসঙ্গী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন_ দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের জায়গা হবে না। দুর্নীতি রোধ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে। সরকার তাদের সহযোগিতা করবে। অতীতে সামরিক শাসক ৰমতায় এসে দল গ্ঠন করে কিছু লোককে রাষ্ট্রীয় সুবিধা অনৈতিকভাবে দিতে গিয়েই দুর্নীতির আগ্রাসন সৃষ্টি করেছে। বিগত জোট আমলে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছিল। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে জনগণের জন্য সকল তথ্য সরবরাহ করে সরকারী কর্মকা-ে স্বচ্ছতা আনতে চাই। এতে দুর্নীতি কমছে। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সংৰিপ্ত বৈঠকে তাঁর সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ২০২১ সাল নাগাদ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'
গড়ে তোলার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। তিনি বলেন, বিদু্যত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারেও আমরা বেশ কিছু জরম্নরী পদৰেপ নিয়েছি। আশা করি, এসব কার্যক্রম বাসত্মবায়ন হলে বিদু্যত সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। হিরোশিমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর নয় কোন হিরোশিমা কিংবা ২১ আগস্ট। বাংলাদেশকে আমরা শানত্মির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাপান সরকারের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ হয়ে বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান আমাকে 'বোন' সম্বোধন করে বাংলাদেশে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে নিজে থেকেই তার (জাপানী প্রধানমন্ত্রী) অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
জনকণ্ঠের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে দুর্নীতি সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের উত্থান ও ত্বরিত বিকাশ ছাড়া অন্য সবৰেত্রে তারা (বিএনপি-জামায়াত জোট সরবকার) দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টায় দেশ দুর্নীতি সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের বদনামমুক্ত হয়েছে।
শেখ হাসিনা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার দেশ চালাবে আর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে_ সেটিই স্বাভাবিক। সরকারের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছি। এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে টেন্ডার ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ফলে টেন্ডার দখলের কোন সুযোগ দেশে নেই। তিনি বলেন, দেশে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে তথ্য কেন্দ্র এবং ৫ হাজার পোস্ট অফিসে ই-পোস্ট সেন্টার চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে যে কেউ দেশে-বিদেশে এক মুহূর্তে বাংলাদেশের সম্পর্কে বিসত্মারিত তথ্যচিত্র পেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ল্যাপটপ এ্যাসেম্বল করার কাজ করছি, যাতে দেশের ছেলেমেয়েদের হাতে মাত্র ১৫/২০ হাজার টাকায় ল্যাপটপ তুলে দিতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরির কাজে হাত দিয়েছি। তার সরকারের গত দু'বছরে উন্নয়ন বাজেটের ৯২ ভাগ কাজ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সর্বকালের রেকর্ড।

হিরোশিমার পথে শেখ হাসিনা
হিরোশিমার পিস মেমোরিয়ালে ধ্বংস্তপের মধ্যে বেঁচে থাকা দুই নারীর করুণ কাহিনী হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি করে। ৬৫ বছর আগে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে ১৪ বছর বয়সের প্রত্যৰদর্শী আজকের ৭৯ বছর বয়সী ইউসিকো কাজিমতে এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪-এর ২১ আগস্ট_এই দিন আগস্টে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা কেউই নিজেদের সম্বরণ করতে পারেননি। নরহত্যার বিভৎস উলস্নাসে মেতে ওঠার সেই করম্নণ কাহিনী আগস্টের এই ট্র্যাজেডি যেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হিরোশিমার নাগরিক ইউসিকো কাজিমাতোর বর্ণনায়, শব্দে-বাক্যে বিশ্বমানবতার শানত্মি-সম্প্রীতি রৰার আকুতিই ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছে বার বার।
শেখ হাসিনা পিস মেমোরিয়াল ঘুরে দেখার সময় যেন হৃদয়াবেগ দিয়ে বলেছেন, আর নয় বর্বরতা, আর নয় হানাহানি, হত্যাযজ্ঞ। ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি বলেছেন, 'একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে এমনভাবেই অনেক মানুষের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ পড়েছিল। সেই বিভীষিকা যেন হিরোশিমার মতোই আরেক নারকীয় বিভৎস দৃশ্য যেখান থেকে অলৌকিকভাবে আমার বেঁচে থাকা।' বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের পাহাড়ে ভিয়েতনামের রক্তগঙ্গা প্রবাহ বন্ধ করতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শানত্মি চুক্তি করেন।
দু'নারীর একজন ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগানত্মক ট্র্যাজেডিতে জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকা- থেকে বেঁচে যাওয়া এবং ২১ আগস্টের উপযর্ুপরি গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আজীবন সংগ্রামী নেতৃত্ব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরেকজন আণবিক বোমার অমানবিক আঘাতে ঝলসে যাওয়া হিরোশিমা নগরীর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া গুটিকয়েক ভাগ্যবান মানুষের একজন ইউসিকো কাজিমাতো। ইউসিকো কাজিমাতোর কথা শুনে শেখ হাসিনা বার বার ফিরে গেছেন ৭৫-এর ১৫ আগস্ট ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের স্মৃতির রোমন্থনে। স্মৃতির ঝাঁপিতে জমে থাকা জমকালো মেঘের ভেলা তাঁকে যেন মৃতু্য মোহনায় ভাসিয়েছে বার বার। তবুও লাখো-কোটি জনতার শক্তি তাকে মুহূর্তেই সম্বিত ফিরিয়ে দিয়েছে_ বাংলার দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
হিরোশিমায় পিস মেমোরিয়াল পরিদর্শনকালে বোমার আঘাতে মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহ, পরিধেয় বস্ত্র, দালান কোঠার পাথরগুলো গুঁড়ো হয়ে ঝরে পড়া, মানুষের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি, লোহার মেশিনারিজ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া, পারমাণবিক বোমার জীবাণুতে মানুষের দেহে-জিহ্বায় ক্যান্সার এবং অনবরত মুখ দিয়ে রক্ত বেরোনোর দৃশ্য, ঘাস-ফড়িং আর প্রজাপতির বংশ হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারাক্রানত্ম হয়েছেন। স্বজন হারানোর বেদনা আর প্রতিমুহূর্তে ষড়যন্ত্রকারীদের ঘৃণ্য পরিকল্পনায় তাঁর জীবনহরণ শঙ্কায় নিজের ভিতরে অনুৰণ বেদনা আর রক্তৰরণের যন্ত্রণা থেকেই তিনি বাংলাদেশকে শানত্মির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে আগামীর পৃথিবীকে শানত্মির স্বর্গ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় হিরোশিমার পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রত্যৰদর্শী ইউসিকো কাজিমাতো বাংলাদেশের আগস্ট ট্র্যাজেডির কথা শুনেও আবেগাপস্নুত হয়েছেন। হয়েছেন অশ্রম্নসিক্ত। পিস মেমোরিয়াল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ জাপান ফ্রেন্ডশিপ সোসাই্িট এক আনন্দঘন পরিবেশে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়। এই সংবর্ধনার আয়োজক অধ্যাপক নারা জাতির জনককে ১৯৭৩ সালে জাপান ভ্রমণকালে সানফ্লাওয়ার নামক তরীতে ঘুরিয়ে ছিলেন। এবার সানফ্লাওয়ার নামক অডিটরিয়ামে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান। এটি হিরোশিমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর।

জাপান সরকারের কাছে বাংলাদেশের মৌলিক প্রত্যাশা
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, পদ্মা সেতু, পাতাল রেল, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বিদু্যত উৎপাদন, মহাসড়ক, পাতাল রেল ও রেলপথের সমপ্রসারণ এবং শহর-বন্দরে গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ আরও অধিক হারে জাপানী অর্থনৈতিক অনুদান প্রত্যাশা করছে। প্রসঙ্গক্রমে শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো আর্থ-সামাজিক খাতে জাপানী সহযোগিতা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরম্ন করেছে। ঢাকা শহরে 'দ্রুত গণপরিবহন' চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ পরিচালনার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যদি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফল ইতিবাচক হয়, তাহলে ২০১৩ সালের মধ্যেই আমরা প্রকল্পটি শেষ করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থার্টিফার্স্ট ইয়েন লোন প্যাকেজ (৩১ংঃ ণবহ খড়ধহ চধপশধমব) ছাড়ের জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি থার্টি টু ইয়েন লোন প্যাকেজ (৩২হফ ণবহ খড়ধহ চধপশধমব) দ্রম্নত ছাড়ের অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে দ্রম্নত গণপরিবহন এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ শিল্প করিডর স্থাপন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন জাপানী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। জাপান সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, জাপান আমাদের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। দারিদ্র্যবিমোচন, মানবসম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদু্যত এবং জ্বালানি, নদী খনন, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা, খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানা স্থাপনে বর্তমানে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সমপ্র্রসারিত হয়েছে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে জাপান এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রম্নত সমপ্রসারিত হয়েছে।

দু' দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক-সেমিনার
২৯ নবেম্বর রবিবার বেলা বারোটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোটেল কাইকানে বাংলাদেশ-জাপান কমিটি ফর কমার্শিয়াল এ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (জেবিসিসিইসি) ফোরামে দু' দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সভায় ভাষণ দেন। এখানে বাংলাদেশের এফবিসিসিআই'র সভাপতি একে আজাদের নেতৃত্বে সাবেক এমপি আখতারুনজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম, জাপানের ব্যবসায়ী নেতা টোসিহিতোসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেলিগেট সদস্যদের অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে তিনি জাপানী ব্যবসায়ীদের আহবান জানান। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের মাত্রা পেরিয়ে যখন বহুজাতিক কোম্পানি এবং রাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি পর্যায়ে সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে-ট্রাক থ্রি ডিপেস্নামেসির এই সময়ে তিনি দু' দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ পরিস্থিতি
জাপানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ১৭৮টি প্রকল্পে সরাসরি জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১.২২৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ঊপড়হড়সরপ চধৎঃহবৎংযরঢ় অমৎববসবহঃ) উপর একটি বিশেষজ্ঞ স্টাডি গ্রম্নপ গঠন করা প্রয়োজন। আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তির বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের পূর্বেই আমরা তা সম্পাদন করতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রসারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য বিশাল পণ্যের তালিকা থেকে সিরামিকস, সমুদ্রগামী জাহাজ এবং আইসিটি সফটওয়্যার (ওঈঞ ঝড়ভঃধিৎব)-এর মতো পণ্য আমদানির ব্যাপারে জাপানী উদ্যোক্তাগণ বিবেচনা করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সম্ভাব্য বিনিয়োগ খাত
বাংলাদেশের যেসব খাতে জাপান বিনিয়োগ করতে পারে তার তথ্যচিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দ্রুত বর্ধনশীল খাত যেমন বিদ্যুত উৎপাদন, তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান, অবকাঠামো উন্নয়ন, কম্পোজিট টেঙ্টাইল, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করার জন্য আমি জাপানী উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (চৎরাধঃব চঁনষরপ চধৎঃহবৎংযরঢ়-চচচ) এবং বিল্ড ওফন-অপারেট-ট্রান্সফার (ইঁরষফ-ঙহি-ঙঢ়বৎধঃব-ঞৎধহংভবৎ (ইঙঙঞ)-এর আওতায় আমাদের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের জন্য আমি জাপানী উদ্যোক্তাদের উদাত্ত আহ্বান জানান। জাপানী সহায়তায় আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে দ্রম্নত গণপরিবহন এবং জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ শিল্প করিডর স্থাপন করতে আগ্রহী। জাপান প্রবাসী বাঙালী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্থান বরাদ্ধ 'জাপান ইনভেস্টমেন্ট পার্ক' গঠনের দাবি জানান।

শেখ হাসিনার ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি
বাংলাদেশের ক্লাইমেট ডিপেস্নামেসীর তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঈড়ড়ষ ঊধৎঃয চধৎঃহবৎংযরঢ় কর্মসূচীর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসে জাপান সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসাবে প্রশংসা করছে। বাংলাদেশে লবণাক্ততা দূরীকরণ, নদীভাঙ্গন ও বন নিধন রোধ এবং বিপন্ন প্রাণী ও গাছপালা রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও ঝুঁকি প্রশমন প্রক্রিয়ায় অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হসত্মানত্মরে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি জাপান এ প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এ ব্যাপারে জাপান সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেয়। খুব শীঘ্রই কোরিয়ায় জি-টুয়েন্টি সম্মেলনে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পৰে জাপান কথা বলার প্রতিশ্রম্নতি দেয় ১৯ দফা ঘোষণায়।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যাত্রা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আমাদের দুই দেশের জনগণ প্রায় একই রকম মূল্যবোধ এবং আদর্শে বিশ্বাসী। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপানের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ এবং আপামর জনসাধারণের অকুণ্ঠ সমর্থন আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর পরই এই স্বীকৃতি দানকে আমরা অত্যনত্ম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে জাপান সফর করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হয়। ১৯৭৫ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসে জাপানের তৎকালীন যুবরাজ এবং যুবরানীর বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের নতুন মাত্রা যোগ হয়। জাপানের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৬ সালে জাপান আমাদের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই প্রথম শুরম্ন করে। পরবতর্ীতে ১৯৯০ সালে চূড়ানত্ম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজটিও জাপান করে দেয়। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে দায়িত্ব পালনকালে জাপান রূপসা সেতু নির্মাণ করে দেয়। এজন্য আমি জাপানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এবার আপনারা পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছেন। এজন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি অত্যনত্ম আনন্দিত যে ইঙচ (ইড়ঃঃড়স ড়ভ ঃযব চুৎধসরফ) প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঔওঈঅ তার সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। এ প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্পে সুশীল সমাজকে যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে উলেস্নখ্য যে, ঋণ উন্নয়ন তহবিল সংক্রানত্ম চুক্তিটি সর্বশেষ ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সময় এসেছে যত দ্রম্নত সম্ভব নতুন আরেকটি চুক্তি সম্পাদনের।
জাপানের টোকিও কিংবা ধ্বংসত্মূপের ভিতর থেকে উঠে দাঁড়ানো হিরোশিমা সাজানো গোছানো শহর। টোকিও শহরের ভিতরে ক্যানেল, সেখানে বোট চলা, উড়নত্ম সড়ক সবই শহরটিকে নান্দনিক দৃশ্যে ফুটিয়ে তুলেছে। টোকিও গিয়ে মনে হয়েছে, সত্যিই জীবনে এক স্বপ্নকে ছুঁয়ে গেলাম। এমন যদি হতো আমাদের ঢাকা !
(সমাপ্ত)
ইনস্টিটিউশনকে বাঁচাতে হবে
মাঈনউদ্দীন আহমেদ মাহী
মহুয়া-মলুয়া, দেওয়ানা-মদিনা, বীরাঙ্গনা সখিনা তথা ময়মনসিংহ গীতিকার দেশ ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ শহর। এই ময়মনসিংহ শহরেই সেহড়া মুন্সীবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ এড্ওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়।
বিভিন্ন পরীৰার বিরাট সাফল্যসহ ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিতর্ক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরোজ্জ্বল ইতিহাস। বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠানটি ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও উপমহাদেশের কীর্তিমান মহাপুরম্নষ জমিদার অবনী কান্ত লাহিড়ী চৌধুরী জজ এ্যাডওয়ার্ডের নামে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত করেন। পাবনা জেলার এডওয়ার্ড কলেজটিও তাঁর অবদান। প্রতিষ্ঠার ৫ম বর্ষ থেকেই ট্রাস্টের মাধ্যমে এ বিদ্যালয়টি পরিচালিত হতো। তারপর এমপিওভুক্ত করা হয় ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় আট হাজার ছাত্রছাত্রী আছে।
প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয় এ বিদ্যালয়ে। রয়েছে অর্ধলাখ পুস্তকসমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এই এডওয়াড ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়। অথচ শতবর্ষ পার করা এই বিদ্যালয়টি আজ অনেকটা অবহেলিত। কিন্তু কেন? অবহেলিত হয়ে পড়ছে এ বিদ্যালয়টি। ঐহিত্যবাহী এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রদের তালিকায় রয়েছে অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তির নাম। ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এখানে গণিতের শিৰক ছিলেন শ্রী গগেন্দ্রনাথ বাবু। তিনি এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক নিযুক্ত ছিলেন।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আলী ছিলেন এই বিদ্যালয়টির প্রধান শিৰক। দেশের সশিক্ষিত ভাস্কর রশীদ ছিলেন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করে আফসোস করেন। এখানে আরও পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার সাইফুল ইসলাম, চিত্রশিল্প শামীম, লেখক-সাংবাদিক রাহাত খান, শিল্পী হিমাদ মেহা প্রমুখ।
২০১০ সালে সমাপনী পরীক্ষায় ৪০ জন পরীৰার্থীর মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছে। এর মধ্যে ১ম বিভাগ পেয়েছে ৬ জন, ২য় বিভাগ ২২ জন, ৩য় বিভাগে ৮ জন। এছাড়াও দেশের প্রথম জেএসসি পরীৰায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটির ভাল ফল থাকলেও কিছু সমস্যা বিদ্যমান। স্থানীয় জনগণের উদাসীনতার কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি আজ অবহেলিত। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন যে সব বরেণ্য ব্যক্তি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কী স্থানীয় জনগণের উদাসীনতায় বন্ধ হয়ে যাবে?