মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ॥ সর্বদলীয় সরকার
০ জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও আওয়ামী লীগ থেকে ছয় মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথ
০ আজ গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু
০ নতুন মন্ত্রীরা বলেছেন তাঁদের কাজ হলো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করা
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু। রবিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার ভেতর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ প্রক্রিয়া শুরু করেন। সোমবার তারই অগ্রগতি হিসেবে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আওয়ামী লীগ থেকে ছয়জন নতুন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে এ সব দলের সিনিয়র নেতারা জানান, তাঁরা এখনও মনে করেন বিএনপি এ সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেবে। এখনও সে সুযোগ আছে। আজ সর্বদলীয় মন্ত্রীদের গেজেট প্রকাশ ও দফতর বণ্টন হবে এবং তার ভেতর কাজ শুরু হবে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সর্বদলীয় সরকারে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ছয়জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুইজন। সোমবার বিকাল সোয়া ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তাঁদের শপথ পড়ান। নতুন মন্ত্রীরা হলেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির মজিবুল হক ও সালমা ইসলাম। পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদসহ বিভিন্ন দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। শপথ শেষে বেরিয়ে নতুন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর কোটা না থাকায় জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলুকে উপদেষ্টা করা হবে।
সোমবার শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার অবসান হলো। তবে শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার শপথ নেয়।
বিগত পাঁচ বছর মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহাজোট সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও এবার মন্ত্রী হয়েছেন, যিনি গত বছর এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। মহাজোটে আর না থাকার ঘোষণা দেয়া এরশাদের স্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও সালমা ইসলাম শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদও কুশলবিনিময় করেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে দরবার হলে আসেন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং এরশাদের ভাই ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কয়েক সংসদ সদস্যও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এক সময়ের ফার্স্ট লেডি রওশন এরশাদ ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ, ২০০১ সালে গাইবান্ধা ও ২০০৯ সালে উপনির্বাচন করে রংপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাঁর দলের চেয়ারম্যান এরশাদের সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আর রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশালের সংসদ সদস্য।
এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মুজিবুল হক চুন্নু ১৯৮৭-৮৮ সালে এরশাদ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও প্রকাশক।
এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূলত মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার অবসান হলো এবং সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী শুরু হলো নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকারের পথচলা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। আগামী জানুয়ারিতে দেশে যখন দশম সংসদ নির্বাচন হবে, নির্বাচনকালীন এ সরকারই তখন ক্ষমতায় থাকবে।
সরকার এ মন্ত্রিসভাকে সর্বদলীয় বললেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির ভাষায়- সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার এই শপথগ্রহণ জাতির সঙ্গে ‘তামাশা’।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনটি নির্বাচন ওই ব্যবস্থায় হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করায় এবারই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সর্বদলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
গত ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন এই ‘সর্বদলীয়’ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দেন এবং বিরোধী দলকে তাতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাল্টা প্রস্তাব তোলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এর পর ব্যবসায়ী, বাম দল এবং কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলকে সমঝোতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে ফল আসেনি। প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে বিরোধীদলীয় নেতাকে গণভবনে বসার আমন্ত্রণ জানালেও দুই নেত্রীর মধ্যে সেই সাক্ষাতও হয়নি।
বিএনপি অংশ না নিলেও আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নবগঠিত সর্বদলীয় অন্তর্র্বর্তী সরকারের মন্ত্রীরা। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও। সোমবার বিকেল ৩টায় বঙ্গভবনে সর্বদলীয় অন্তর্র্বর্তী সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ছয়জন নতুন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে আগামী নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। বিএনপিকে বলব তারাও যেন দাবি-দাওয়া নিয়ে আসেন এবং এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।’
বিরোধী দলের প্রধান হওয়ার জন্য নির্বাচন করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, সরকার গঠনের জন্য নির্বাচন করছি; প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য নয়। আমরা চাই সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপি নির্বাচনে না এলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকবে বা নির্বাচন হবে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে এরশাদ বলেন, নির্বাচন ঠেকাতে কোন দলকেই ভেটো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তাই কেউ না চাইলে নির্বাচন হবে না, এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিকদেরই দায়ী করে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। সর্বদলীয় সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এক বছর আগে মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ ঠেলে দেয়া তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে এবার সরকারে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের এই দুই পুরোধা, যে সরকার আগামী নির্বাচনের সময় দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
২০১২ সালে আমন্ত্রণ পেলেও তা গ্রহণ করেননি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল। জরুরী অবস্থার সময় ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতাকে শুরুতে সরকারে রাখেননি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে মন্ত্রিসভায় তখন যোগ দেননি। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন বয়কটের হুমকির মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব নিলেন তোফায়েল ও মেনন।
এক বছর আগে প্রত্যাখ্যানের পর এবার দায়িত্ব নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে দুজনই বলেন, তখন প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তোফায়েল বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তখনকার পরিস্থিতি ও এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। তখন আমাকে শুধু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই থাকতে হতো।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সর্বদলীয়’ সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা ও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘সেই কাজের জন্যই এবার মন্ত্রিসভায় এসেছি।’ বিএনপি প্রত্যাখ্যান করলেও ‘সর্বদলীয়’ সরকারে তাদের যোগ দেয়ার সময় এখনও রয়েছে বলে জানান তোফায়েল। তিনি বলেন, ‘এখনও সময় আছে। প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে রেখেছেন। বিরোধী দল যদি আসে তাহলে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দুটো পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। এবার নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’ বিরোধী দল বিএনপিকে আহ্বান জানানো হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার সফল হবে বলেও মনে করেন মেনন। তিনি বলেন, ‘এ সরকার সফল না হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা সফল হব না কেন?’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে ছয় মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। সোমবার শেষবেলায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে এ উপদেষ্টা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়ার সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জিয়াউদ্দিন বাবলু মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর ঘণ্টা দুই আগে বঙ্গভবনে ‘সর্বদলীয় সরকারের’ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও সালমা ইসলাম শপথ নেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আজ খালেদা জিয়ার সাক্ষাত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে কি বলবেন খালেদা জিয়া? এ প্রশ্নটি এখন সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে। কেউ বলছেন, নির্বাচন কিছুদিন পিছিয়ে হলেও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে যেন বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহনেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে তা জানাতে যাবেন। আবার কেউ বলছেন, সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সে নির্বাচন বর্জনের কথা তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানাতে যাবেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি কি নিয়ে কথা বলবেন তা ঠিক করতে সোমবার রাতে বিএনপির অন্য সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, দেশের চলামান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে খালেদা জিয়া বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে যাবে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
সোমবার বঙ্গভবনে সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সময় চেয়ে বঙ্গভবনে চিঠি দেয় বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে এ চিঠি দেন বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব সালেহ আহমেদ। চিঠিতে মঙ্গলবার সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়। সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। পরে বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়, আজ মঙ্গলবার সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়াকে সাক্ষাতের সময় দেয়া হয়েছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতকালে খালেদা জিয়া সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেফতার-নির্যাতনের কথাও রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করবেন। সূত্র মতে, ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে খালেদা জিয়া ছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বেশ ক’দিন ধরেই সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল বিএনপি না এলে অন্য দলগুলোকে নিয়েই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হবে। আর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সর্বদলীয় সরকার মানবেন না। নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনেও যাবে না। এ পরিস্থিতিতে রবিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় সোমবার সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অবশ্য সর্বদলীয় সরকারের ঘোষণা আসার পর রবিবার রাতেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বদলীয় সরকার প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, সর্বদলীয় সরকার গঠন জনগণের সঙ্গে প্রহসন ও তামাশা। রাষ্ট্রপতির সোমবার নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত চেয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে চিঠি দেয়া হয়। আর বঙ্গভবনও চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সময় দেয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতকালে খালেদা জিয়া কি বলেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি কোন্্ দিকে যায়।
শীর্ষ দু’দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব নিশা দেশাইর
‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার জন্য জোর আহ্বান জানালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপ ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান। সোমবার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়া কোন ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংলাপের আহ্বান জানান নিশা দেশাই। ঢাকায় তিন দিনের সফরের শেষ দিন এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সঙ্কট নিরসনে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে না হলেও অন্তত মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ছাড়া বিকল্প নেই।
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী দলের হরতালে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণ। তিনি বলেন, কোন ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রধান বিরোধী দল অংশ না নিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা জানতে চাইলে নিশা দেশাই বিসওয়াল পাল্টা প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের মানুষ কী তা মেনে নেবে? পরক্ষণেই তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র। কোন ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসী নয়। তবে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচী হতে হবে শান্তিপূর্ণ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশে এখন সংলাপই একমাত্র সমধান। আমি খুব আশাবাদী যে সংলাপের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, সহস্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মসূচী ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন করেছে। এই সাফল্য ধরে রাখলে বাংলাদেশ হবে এশিয়ান টাইগার।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে নিশা দেশাই বলেন, পোশাক শিল্প নিয়ে পোশাক মলিক নেতৃবৃন্দ, আইএলও ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। এর ফলে বাংলাদেশের জিএসপি ফিরে পেতে সহায়ক হবে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ব্যাপারে ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস-দুর্নীতি প্রতিরোধ ইত্যাদির বিষয়ে এক যোগে কাজ করছে। দুই দেশ ভবিষ্যতেও এক সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান নিশা দেশাই।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভৌগোলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি পেলে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
নিশা দেশাই মালদ্বীপের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে মালদ্বীপের গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ড্যান মজেনা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা থেকে তিনি দিল্লী যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নিশা দেশাই জানান, ঢাকা থেকে তিনি ওয়াশিংটন ফিরে যাবেন। মন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি এখনও শপথ নেননি বলেও তিনি জানান। নিশা আরও জানান, বাংলাদেশে এটা তাঁর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১০ সালে ইউএসএইডয়ের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ঢাকা এসেছিলেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেন নিশা দেশাই। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনার বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল নয়টা থেকে দশটা এক ঘণ্টা গওহর রিজভী ওই বৈঠকের জন্য ড্যান মজেনার বাসায় অবস্থান করেন।
এ সময় গওহর রিজভী সর্বদলীয় সরকার গঠনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তাদের আলোচনায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে তা স্থান পায় বলে সূত্র জানায়।
গওহর রিজভী এ সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহকারী মন্ত্রীকে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই মন্ত্রিসভা কেমন হবে, কিভাবে কাজ করবে সে ব্যাপারেও সরকারের পরিকল্পনা নিশা দেশাইকে জানান ড. গওহর রিজভী।
শনিবার ঢাকা আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন নিশা দেশাই বিসওয়াল।
নিশা দেশাই সোমবার রাতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। গত ২১ অক্টোবর নিশা দেশাইয়ের মন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম ঢাকা সফর। এই সফরে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নীতিনির্ধারক। দেশাই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর নেতৃত্বে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর নেতৃত্বে তিনিই প্রথম ভারতীয়।
তারেক খালাসের ‘ভৌতিক রায়’ দিয়ে বিচারক ছুটিতে
এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ॥ দুদক আইনজীবী
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মামলায় ‘ভৌতিক রায়’ দিয়ে সোমবার থেকে চার দিনের ছুটি নিয়েছেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ মোতাহার হোসেন। এর মাধ্যমে বিতর্কিত রায়ের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির মামলাসংশ্লিষ্টরা বলেছেন অপর ১২ সাক্ষীসহ এফবিআই এজেন্ট ডেবরার সাক্ষ্য ছিল তারেক রহমানের শাস্তির জন্য যথেষ্ট প্রমাণ। অথচ বিচারক তারেককে খালাস দিয়ে যে রায় দিয়েছেন তা বিস্ময়কর ঘটনা। বিচারক উদ্দেশ্যমূলক রায় দিয়েছেন উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতিকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান মামলার আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রবিবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ মোতাহার হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা অর্থ পাচার মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলে তারেক রহমানকে খালাস দিয়ে একই মামলায় তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে ৭ বছর কারাদ- ও ৪০ কোটি টাকা অর্থদ- দেয় ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালত।
মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণ অনুযায়ী রায়ে অসন্তুষ্ট হয় বাদী প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন। ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের জুনে ২০ কোটি টাকার অধিক অর্থ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আনা হয়। এর পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের পরিদর্শক মীর আলিমুজ্জামান তারেক রহমান ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ঘুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকার অভিযোগ পেশ করেন। এর ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ অনুসন্ধানে সে সময়ের সহকারী পরিচালক বর্তমান উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তিনি ২০০৯ সালের ২২ জুন অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেন। কমিশনের অনুমতি ক্রমে একই বছরের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি অর্থ পাচার মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৮। মামলাটি তদন্তও করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন আদালতে। বিচারাধীন অবস্থায় ১৩ সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর মধ্যে এফবিআইর তত্ত্বাবধায়নকারী বিশেষ এজেন্ট ডেবরার সাক্ষ্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ পান ফখরুদ্দীন আহমদ, জেনারেল মঈন উ আহমেদ এবং লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীর প্রচেষ্টাই ২০০৮ সালে মার্কিন সরকারের সঙ্গে অর্থ পাচারের তদন্তে যে চুক্তি করেছিলেন সে চুক্তির আলোকে।
২০১১ সালের ১৬ নবেম্বর ঢাকার আদালতে ডেবরা তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেছিলেন। টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপিত হবে। অভিযোগ হলো, এই কাজ পাইয়ে দিতে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধু মামুনকে টাকা দেয়ার। হার্বিন পাওয়ার ইকুইপমেন্ট লিমিটেড চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান। এর স্থানীয় এজেন্ট নির্মাণ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর চেয়ারপার্সন খাদিজা ইসলাম। আদালতে দেয়া তাঁর বিবৃতির সঙ্গে এফবিআইর এজেন্টের তথ্যগত অমিল নেই। ডেবরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, ২০০৩ সালের ১৮ আগস্ট খাদিজা মামুনকে টাকা দেন। এই হিসাবের অনুকূলে সিটি ব্যাংক এনএ দুটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে। প্রথম ভিসা ক্রেডিট কার্ড (৪৫৬৮৮১৭০০০০৬৪১২৪) মামুনের। দ্বিতীয় ক্রেডিট কার্ড (৪৫৬৮৮১৭০১০০৬৪১২২) তারেকের। ডেবরা বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে তারেকের পাসপোর্টের (ওয়াই০০৮৫৪৮৩) ফটোকপি উদ্ধার করি।’
ডেবরা আদালতে জবানবন্দী দেয়ার সময় উচ্চস্বরে সিঙ্গাপুরের কাগজপত্রে তারেকের বয়ানে তাঁর পিতার নাম ‘মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ এবং তাঁর মায়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া’ উল্লেখ করেন। ডেবরা বলেন, ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তারেক ওই ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ৫০,৬১৩.৯৭ ডলার খরচ করেন। এর সিংহভাগ যে খাদিজারই পাঠানো টাকার অংশ, ডেবরা তাও নির্দিষ্ট করেন। ডেবরা আদালতে ৭৫ মিনিট কথা বলেছিলেন। সাক্ষ্য হিসেবে ৪৩ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য নথি হিসেবে আরও ২২৯ পৃষ্ঠা জমা দিয়েছেন।
এফবিআইর তত্ত্বাবধায়নকারী বিশেষ এজেন্ট ডেবরা। ১৬ বছর ধরে এফবিআইর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। ফরেনসিক সায়েন্সে স্নাতকোত্তর। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমার নিজের দেশে জবানবন্দী দেয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মানিলন্ডারিংয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমাকে বিবেচনা করা হয়।’ ২০০৯ সালের মে মাসে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট ষড়যন্ত্রমূলক কর জালিয়াতির দায়ে স্যামুয়েল আর্ল পোপকে ৫১ মাস দ- এবং এলেথিয়া অলিভিয়াকে ৩৭ মাস জেল দিয়েছিলেন। এই মামলার তদন্তকারীদের মধ্যে ডেবরা ছিলেন এবং সে জন্য তিনি প্রশংসিত হন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের কারাদ- হয়। একই সাক্ষ্য অনুযায়ী তারেকের সাজার পরিমাণও একই হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন দুদক আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা বলেন, রায়ে ২০০৭ সালে দাখিল করা তারেকের একটি সম্পদ বিবরণীর তথ্য টানা হয়। ওই তথ্যের বরাতে তাঁকে খালাস দেয়া হয়েছে বলে দুদকের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন। আইনবীজীরা বলেন, যে তথ্যের বরাতে তাঁকে (তারেক রহমানকে) খালাস দেয়া হয় সেই বরাতের কারণেই তাঁর সাজা হওয়াটা ছিল আইনের সঠিক দিক। কারণ তাঁর সম্পদ বিবরণীর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি ওই টাকা খরচ করেছেন। কারণ হিসেবে আইনজীবীরা বলেন, সিঙ্গাপুরের ব্যাংকের যে একাউন্ট থেকে তারেক অর্থ ব্যয় করেছেন সেই একাউন্ট ছিল অবৈধ। বিদেশে কোন ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা রাখতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। গিয়াস উদ্দিন আল মামুন সে কাজটি করেননি। যার কারণে মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
দুদকের নিয়মানুযায়ী সম্পদ বিবরণীতে অনেকে কালো টাকার উপার্জনও বৈধ আয় হিসেবে দাবি করতে পারেন। এ সুযোগটির অপব্যবহার করা হয়েছে বলে দুদক আইনজীবীরা জানান। তাদের বক্তব্য হচ্ছে একই অপরাধে মামুন দ-িত হলে মামুনের ব্যাংক-বন্ধু কি করে বেকসুর খালাস পেতে পারেন? তারেক মামুনের পাচার করা টাকার অনুকূলে দেয়া ক্রেডিট কার্ডই তো ব্যবহার করেছেন। ওই টাকা তারেক গ্রিসের এথেন্স, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং দুবাইয়ে কেনাকাটা ও চিকিৎসায় খরচ করেছেন।
এ বিষয়ে দুদক আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল জনকণ্ঠকে বলেন, তারেক ও মামুনের মামলায় রবিবার আদালত যে রায় দিয়েছে তা তাদের কাছে ভৌতিক রায় মনে হয়েছে। রায়ে বাদী পক্ষ বিস্মিত ও হতবাক মন্তব্য করে তিনি অভিযোগ করেন, বিচারক ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রায় দিয়েছেন। কারণ ডেবরাসহ যে ১৩ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে কোনভাবে তারেক খালাস পাওয়ার আইনী সুযোগ নেই। মামুন যার শক্তিতে মানিলন্ডারিং করেছেন তারেক হচ্ছে সেই শক্তির উৎস, সে অনুযায়ীও তাকে শাস্তি পেতে হয়। বিচারক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন মন্তব্য করে দুদক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারী আইন অনুযায়ী তারা প্রধান বিচারপতিকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাবেন। তাছাড়া মামলা রায়ের পরের দিন থেকে তিনি আদালতে না এসে আরেকটি রহস্যের সৃষ্টি করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতিবার চার দিনের ছুটি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
একইভাবে রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশানর (তদন্ত) মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, তাদের কাছে রায় গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি বলেন, দুদক তদন্ত কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা আদালতের কাছে অভিযোগের পক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন। যা প্রমাণ করে মামলার অপর আসামি গিয়ায় উদ্দিন আল মামুনের সাজার মাধ্যমে। তারেক খালাস পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনও হতবাক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই সংস্থাটি রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন বলে প্রতিবেদককে জানান তিনি।
নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘৃণা করবে মানুষ
মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে এরশাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহাজোট ছেড়ে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও আলোচনায় বসা, সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এ ছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়ে এরশাদ বলেন, ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে সকলে মিলে নির্বাচন বর্জন করব।
সোমবার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ বলেন, চলমান সঙ্কট মোকাবিলায় সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প ছিল না। তাঁর দাবি, দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে তিনি ও তাঁর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরশাদের ভাষ্য, অত্যাচারী দুর্নীতিবাজ সরকারকে হটানোর একমাত্র পথ হলো নির্বাচনে অংশ নেয়া। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, সর্বদলীয় সরকারে আমরা যোগ দিচ্ছি। এই সরকারে থেকে দেখতে চাই কিভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলগুলোকে মানুষ ঘৃণা করবে। তবে ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি এরশাদ। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি তিনবার বলেছেন, ‘কারচুপি হলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে না, করবে না, করবে না’।
এর আগে কয়েক মাস ধরে এরশাদ বলে আসছিলেন, তিনি সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। তাই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এরশাদকে তাঁর আগে দেয়া বক্তব্য মনে করিয়ে দেন। উত্তরে তিনি বলেন, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই।
সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম এরশাদ বলেন, সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পা এগিয়ে এসেছেন। তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি বিএনপিকে বলব আপনারাও এগিয়ে আসুন। সর্বদলীয় সরকারে অংশ নিন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তাব দিন। আসুন সবাই একসঙ্গে মিলে আলোচনা করি। আমি বিশ্বাস করি আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তিনি ও তাঁর দল কখনও সমর্থন করেন না। তাঁদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখনও সুখকর হয়নি। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের জন্য আনা বিলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিরও উচিত এক পা এগিয়ে আসা।
বিরোধী দলের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘আপনারাও আসুন। আলোচনার প্রস্তাব দিন। সর্বদলীয় সরকারে অংশ না নিলে কোথায় প্রস্তাব দেবেন? রাস্তায় বাস জ্বালিয়ে?’ এরশাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশাবাদি জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে বিএনপিও এগিয়ে আসবে। আলোচনায় বসবে। সরকার আপোসে আন্তরিক না হলে কিংবা সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যে কোন সময় নির্বাচন বর্জন করতে পারব। এরশাদ দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বিদেশীদের দূতিয়ালির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজেদের সমাধান নিজেদের করতে হবে। রাজনীতিকরা এভাবে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারেন না।
দেশ দুর্যোগময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ অসহায়। রাস্তায় আগুন জ্বলছে। হরতাল দেয়া হচ্ছে। শিশুরা পরীক্ষা দিতে পারছে না। মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশ চলতে পারে না। মানুষ শান্তি চায়। এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের কর্তব্য রয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে। অচল হবে। বিশ্বের কাছে প্রমাণ হবে আমরা সভ্য জাতি নই।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আজ দেশের এই অবস্থা একথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, আমি বার বার বলছি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হলো নির্বাচন। দুই দলের কাছে দেশ জিম্মি। সকল দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। মিলিটারি ক্যু কিংবা কোন অসাংবিধানিক সরকার আমরা চাই না। তাই আমি বলব-সঙ্কট সমাধানের একমাত্র উপায় আলোচনা। সবকিছুর পরে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
এরশাদ বলেন, মহাজোটে ছিলাম। আজও এই মুহূর্ত থেকে মহাজোটে নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনস্বার্থে, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচন বর্জন করলে পরিবর্তন হবে কিভাবে? বর্তমান সরকারকে মানুষ চায় না। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে বসে বসে নানা কথা বলবেন। আলোচনা করবেন না। বাইরে আসবেন না। এটা কি রাজনীতির নীতি?।
অনেক আগে থেকেই আলোচনা ছিল মহাজোট ছাড়ছেন এরশাদ। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে অবশেষে একথা সত্য হলো। মহাজোট ছাড়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে দলের বনানী কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আসেন। সংবাদ সম্মেলন ঘিরে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সর্বশেষ এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণার পর দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় সেøাগান দিতে থাকেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান।
গাজীপুরে মায়ের নামে হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই ॥ শেখ হাসিনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১৮ নবেম্বর ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অঞ্চলের প্রধান শত্রু দারিদ্র্য। আমরা এ দারিদ্র্য দূর করে এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যাতে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে। এ জন্য আমি আঞ্চলিক সহযোগিতা কামনা করি।
তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গরিব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। তাই গরিব জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করি। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধানম-ি ৩২ নম্বরের বাড়িসহ সব অর্থ সম্পদ ট্রাস্টের হাতে তুলে দেই। তিনি বলেন, এই ট্রাস্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও দুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয় মেটানো হচ্ছে। দেশব্যাপী আই ক্যাম্প স্থাপনসহ গরিব রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এই ট্রাস্টের সর্ববৃহৎ জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে- এই শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর সারাবো তেঁতুইবাড়ি এলাকায় নবনির্মিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার কেপিজে হেলথকেয়ারের প্রেসিডেন্ট বাহার্ড তুয়ান হাজী আমিরউদ্দিন আব্দুল সাত্তার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান ও ট্রাস্টের সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এমপি। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী দাতো শ্রী রুশমা মুনসুর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, আকম মোজাম্মেল হক এমপি। এ ছাড়াও দুই দেশের প্রতিনিধি, হাইকমিশনার এবং উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও কেপিজের হেলথকেয়ার বাহার্ডের প্রেসিডেন্টকে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে এসে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং মোনাজাত করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু প্রত্যাশিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের যাত্রা শুরু হলো। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। এ জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ হাসপাতালে ৩০ ভাগ দরিদ্র রোগী চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রত্যাশা এবং আমার ও আমার বোনের বহু দিনের লালিত স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের এই শুভলগ্নে আমরা দুইজনই গভীর আবেগে আপ্লুত। আমরা আজ বিশেষভাবে আনন্দিত এ জন্য যে, আমাদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক। আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, আমরা উভয়েই দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বাবা তুন আব্দুল রাজাক হোসেইন যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তখন বঙ্গবন্ধুও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। আজ এর উদ্বোধন করা হলো। ৬ দশমিক ১৩ একর জমির উপর ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার পাবে। পাশে হাইওয়ে, শিল্প-কলকারখানা, ইপিজেড এবং আশপাশে অনেক গার্মেন্টকর্মী বসবাস করে। তারা উন্নত সেবা পাবে। সব ধরনের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধী বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। উচ্চশিক্ষিত নার্স তৈরি হবে। এ আধুনিক হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কামপুলান পেরুতান জহুর (কেপিজে)। এই উদ্যোগ পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এর ফলে এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দক্ষ চিকিৎসক গড়ে উঠবে। চিকিৎসার মান বাড়বে। সাধারণ মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা কমবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি গত ৫ বছরে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, যোগাযোগ, ক্রীড়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। অর্থনীতিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছি। দেশ দ্রুত আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের এ অগ্রগতির প্রশংসা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। এ লক্ষ্য পূরণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিটি নাগরিককে অবদান রাখার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পরম বন্ধু। বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের তৃতীয় শীর্ষ আমদানি উৎস। আমাদের পণ্য রফতানি অনেক কম হলেও উত্তরোত্তর তা বাড়ছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করি। মালয়েশিয়ার সরকারের সহযোগিতার ফলে সমস্যা কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার জনশক্তি রফতানি শুরু করতে পেরেছে। জি-টু-জি ভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি আরও বেগবান হবে বলে আশা করি। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগ করেছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে আরও বিনিয়োগ করার জন্য আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এ হাসপাতালটিতে যত রকমের সহযোগিতা দরকার, তাঁর সরকার তা করবে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নের তেঁতুইবাড়ি গ্রামের সারাব মৌজায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার হাসপাতাল ‘চেইনর’ সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে রয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও ৫০ আসনের নার্সিং কলেজ। এ অঞ্চলের অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বেসরকারী সংস্থা কেপিজে হেলথকেয়ার বাহার্ড এই হাসপাতাল পরিচালনা করবে। কেপিজে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৩টি হাসপাতাল পরিচালনা করছে।
২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৩ সালের জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ৬ দশমিক ১৩ একর জায়গার উপর এ প্রকল্পের আওতায় হাসপাতাল ভবন, নার্সিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেল ভবন, চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন, চিকিৎসক ও অতিথি ডরমেটরি ভবন, মসজিদ ভবনসহ ৯টি ভবন ছাড়াও দোকান, গাড়ি পার্কিং, সামাজিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্ট ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে (পিপিপি) এ হাসপাতাল নির্মাণ করে। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১৫৩৩ দশমিক ৪৬ লাখ টাকা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শতকরা ২১ দশমিক ৩৪ ভাগ এবং সরকার ৭৮ দশমিক ৬৬ ভাগ ব্যয় বহন করেছে। দেশে সরকারী পর্যায়ে প্রথমবারের মতো এ হাসপাতালে আধুনিক ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্ল্যান্টে কেমিক্যাল ব্যবহারের পরিবর্তে বায়োলোজিক্যাল পদ্ধতিতে হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনগুলোতে ব্যবহৃত পানিশোধন করে পার্শ্ববর্তী খালে নির্গত করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে এবং সড়ক দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের জরুরী চিকিৎসা, দরিদ্র রোগীদের এক তৃতীয়াংশ খরচে সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করা, অত্যাচারের শিকার নারী চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেয়া হবে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল ছাত্রী, নার্স এবং প্যারা মেডিক্যাল ছাত্রদের ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
হাসপাতালে যেসব সেবা দেয়া হবে তা হলো- ডায়াগনস্টিক সুবিধা, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, গৃহস্থালি, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, রেফারেল, পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- যে সব ??বাংলাদেশী রোগী সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো দেশের আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়, সে সব বিদেশগামী রোগীর প্রবাহ বন্ধ করা। বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে, মেমোরিয়াল ট্রাস্ট স্থানীয় ডাক্তারসহ হাসপাতালের বিশেষ প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স এবং প্রযুক্তিবিদরা চিকিৎসা প্রদান করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্ট ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে (পিপিপি) ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ একর জমির উপর এই হাসপাতাল নির্মাণ করে।
এখানে ১০ তলা ভিতের উপর নির্মিত ৮ তলা ভবনের অত্যাধুনিক হাসপাতালে ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আধুনিক এ হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় ইমারজেন্সি, এমআরআই, এক্সরে, সিটিস্ক্যান বিভাগ, দ্বিতীয় তলায় ওপিডি, ল্যাবরেটরি, প্রশাসনিক বিভাগ, তৃতীয় তলায় ওপিডি, মাল্টিপারপাস হল, কনসালটেন্ট ডাক্তার রুম, চতুর্থ তলায় আইসিইউ, সিসিইউ, এনজিওগ্রাম, গাইনি ওটি, ৪টি সাধারণ ওটি, পঞ্চম তলায় ৮টি ওটি পোস্ট অপারেটিভ, ষষ্ঠ তলায় ৪৬টি কেবিন, সপ্তম তলায় ১৬টি ওয়ার্ড ও অষ্টম তলায় ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ ছাড়াও ৫টি বেড লিফট, ২টি প্যাসেঞ্জার ও ১টি ক্যাপসুল লিফট রয়েছে। হাসপাতালে শতকরা ৩০ ভাগ গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে এ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৫০ আসনের নার্সিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে ২৬৮ আসনের মাল্টিপারপাস হলরুম বা অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৬ তলাবিশিষ্ট হোস্টেল ভবনে দুটি আলাদা উইং ও লিফট রয়েছে। প্রতিটি উইংয়ে ১২৫ জন করে ছাত্রছাত্রী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিএনপির জন্য আসন সংরক্ষিত আছে, সরকারে যোগ দিন
সংসদে সিনিয়র সংসদ সদস্যদের বক্তব্য
সংসদ রিপোর্টার ॥ রাজপথে প্রতিহিংসা, ধ্বংসাত্মক ও নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘৃণ্য রাজনীতির পথ পরিহার করে দেশকে ভালবেসে ‘সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী’ সরকারে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মহাজোটের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। তাঁরা বলেন, ‘সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী’ সরকারে বিএনপির জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। কতটা মন্ত্রী চান, কোন কোন মন্ত্রণালয় চান-বলুন দেয়া হবে। নির্বাচনে না আসলে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।
খালেদা জিয়া নির্বাচনে না এসে ধ্বংসাত্মক পথেই থাকেন তবে ১৮ দলীয় জোটের নেতারাও তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচনে আসবে এমন দাবি করে তাঁরা বলেন, গণতন্ত্রের পথে না আসলে ১৮ দলীয় জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও খালেদা জিয়ার সঙ্গ ছেড়ে নির্বাচনে আসবে। তখন দু’কূলই হারাবেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। নির্বাচনে না এসে বিরোধীদলীয় নেত্রী যদি মনে করেন নির্বাচন হবে না, ক্ষমতায় থাকতে পারবে না- তা ভুল হবে। জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পূর্ণ মেয়াদ পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে, একচুলও নড়াতে পারবেন না।
প্রায় এক সপ্তাহ পর সোমবার শুরু হওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এক অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মহাজোটের সিনিয়র নেতারা এসব কথা বলেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারী দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে ‘সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার’ নতুন অবদান। এ দেশে একটি শান্তিপ্রিয় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিরোধী দলেরও উচিত সর্বদলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করা। কতজন মন্ত্রী চান, কোন কোন মন্ত্রণালয় চান বিরোধীদলীয় নেত্রী বলুক। বিরোধী দলের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে রাজপথে ককটেল-বোমা মেরে মানুষের প্রাণ সংহার না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের সামনে দুটি পথ- একটি হলো বোমা-ককটেল ফাটিয়ে নিজেদের জনবিচ্ছিন্ন করা। অপরটি হলো জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা। এটি করতে হলে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।
আর কারও জন্য কোন অপেক্ষা নয়, নিজের দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনে না আসলে জনসম্পৃক্ততা হারাবেন। জনবিচ্ছিন্ন কোন দল টিকে থাকতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো একদলীয় নির্বাচন নয়, বহুদলীয় নির্বাচন হবে। ১৮ দলীয় জোটেরও অনেক রাজনৈতিক দল খালেদা জিয়ার সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচনে আসবে। সবাইকে হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হবেন না। আপনারা নির্বাচনে না আসলে নির্বাচন হবে না, ক্ষমতায় থাকতে পারবে না- এটি মনে করলে ভুল করবেন। জনগণের ভোটে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবে। আমরা অপেক্ষা করে থাকব- প্রতিহিংসার রাজনীতির বর্জন করে দেশকে ভালবেসে নির্বাচনে ফিরে আসুন। সবার জন্য সমান অধিকার দিয়েই নির্বাচন হবে।
চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ নতুন মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই সংবিধান পবিত্র দলিল। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধী দল নির্বাচন প্রতিহতের নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চান। সংসদে না এসে তাঁরা সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তাঁরা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি। তাঁরা অসাংবিধানিক স্বৈরাচারী সরকার চান। কিন্তু জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কোনদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দিন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, আজ একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিন। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী আজ বলিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছেন, গঠিত হয়েছে সর্বদলীয় সরকার। জাতীয় পার্টির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেকে আছে সকালে এক কথা বিকেলে আরেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারাও আজ উপলব্ধি করতে পেরেছেন নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। তারাও নির্বাচনে এসেছেন, সবাইকে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কয়টা পটকা ফুটালেন, বোমা ও পেট্টোল ঢেলে কয়টা মানুষ মারলেন- তার হিসাব করে সংসদের কোন আইন পরিবর্তন হবে না। চাইলে সংসদেই করতে হবে। বিদেশীরাও অনুধাবন করছেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার তো কোন সুযোগ নেই। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে তারা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে।
সরকারী দলের এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, দেশ চলে সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে। ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণতন্ত্র উত্তরণের একমাত্র পথ সংবিধান। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় সরকার শপথ নিয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাতে সংবিধান অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নতুন মন্ত্রীরা সফল হবেন। গণতন্ত্রকে হত্যা ও নির্বাচনকে বানচাল করতে চায় বিরোধীদলীয় নেত্রী। মানুষের রক্তে তিনি কেন গোসল করতে চান? রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোন কিছু আদায় হবে না। কিছু চাইলে তাদের সংসদেই আসতে হবে। হরতাল করে মানুষ খুন করছেন, এতে কী জনগণের কল্যাণ হচ্ছে? এখনও সময় আছে, আলোচনায় আসুন, কথা বলুন। সর্বদলীয় সরকারে বিরোধী দলের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। নাম দিন, শপথ নিন। বাইরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোনকিছুই করতে পারবেন না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিজ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সর্বদলীয় মন্ত্রিপরিষদ এটি হয়নি। আশা করি আগামীতে হবে। এই মন্ত্রীদের কাছে জাতির প্রত্যাশা, দলীয় বিবেচনার উর্ধে উঠে দায়িত্ব পালন করবেন। সমগ্র জাতি চায় উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার আগুন জ্বলছে। প্রতিহিংসার দাবানলে দেশ আজ কুয়াশাচ্ছন্ন। দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে কালক্ষেপণ না করে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। দুই নেত্রী আলোচনায় বসে সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একটি পথ বের করুন।
হরতাল আতঙ্কের মধ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু কাল
মোট শিক্ষার্থী ২৯ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে এবতেদায়ী পরীক্ষার্থী তিন লাখ ১৪ হাজার ॥ শেষ হবে ২৮ নবেম্বর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অষ্টম শ্রেণীর ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মতো হরতালের আতঙ্ক নিয়েই এবার প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে ২৯ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থী। আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ এ পাবলিক পরীক্ষা। মোট ছয় হাজার ৫৭৪টি এবং বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে পঞ্চম বারের মতো এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষ হবে ২৮ নবেম্বর। এবার প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন। পরীক্ষার প্রথম দিন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সচিব কাজী আখতার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ প্রমুখ। ডা. আফছারুল আমিন বলেন, অন্য বছরগুলোতে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা হয়েছে। এবার ২৫ শতাংশ যোগ্যতাভিত্তিক (সৃজনশীল) প্রশ্ন থাকায় ৩০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে। এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী হলো তিন হাজার ৭৯২ জন। বিদেশের কেন্দ্রের মধ্যে রিয়াদ, জেদ্দা, আবুধাবী, বাহরাইন, দুবাই, কাতার, ত্রিপোলী এবং ওমান থেকে মোট ৭৭৪ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে আরও স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য গত বছরের ন্যায় এক উপজেলা বা থানার উত্তরপত্র অন্য উপজেলা বা থানায় নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে নির্দেশনা দেয়া আছে যে, উত্তরপত্র ভাইস ভার্সা করা যাবে না। কোন্্ উপজেলার উত্তরপত্র কোন্্ উপজেলায় নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে সে বিষয়ে জেলা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৬ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের এবতেদায়ীর পরীক্ষার্থী তিন লাখ ১৪ হাজার ৭৮৭ জন। প্রাথমিকের মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৭ জন এবং ছাত্র ১২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৯ জন। এবতেদায়ীর মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখ ৫৭ হাজার ২২৭ জন ছাত্র এবং এক লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ জন ছাত্রী। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টাকা। ১১৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে দুর্গম চিহ্নিত করে ওইসব কেন্দ্রে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে। জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে আগামী ২৬ ডিসেম্বর সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা নম্বরপত্র পাবে এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ২০ জানুয়ারি সনদপত্র দেয়া হবে। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে এই সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর এবতেদায়ীতে এ পরীক্ষা শুরু হয় ২০১০ সালে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে আগামীকাল ২০ নবেম্বর গণিত, ২১ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর ইংরেজী, ২৫ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৭ নবেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ২৮ নবেম্বর ধর্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে আগামীকাল ২০ নবেম্বর গণিত, ২১ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর ইংরেজী, ২৫ নবেম্বর পরিবেশ পরিচিতি সমাজ/পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান, ২৭ নবেম্বর আরবী এবং ২৮ নবেম্বর কোরান ও তাজবিদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ্।
ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে ‘বাংলা’ বাধ্যতামূলক ॥ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় দুটি বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সভাকক্ষে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাতৃভাষা আন্দোলন বিশ্বজয় করেছে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ সারা বিশ্বের ভাষা সংগ্রামের প্রতীক, বিজয়ের প্রতীক। ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর ইউনেস্কো মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও দূরদৃষ্টির কারণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে দু’দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আন্দোলনের পুরোধা কানাডাপ্রবাসী বাঙালী রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামসহ ‘মাতৃভাষা প্রেমিক’ গোষ্ঠীর সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ১৫ মার্চ জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কোফি আনানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ইনস্টিটিউটের কোন কাজই করেনি। আমরাই আবার এর নির্মাণ কাজ করেছি। বর্তমান সরকার এ ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কো’র ক্যাটাগরি-২ এর প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার নৃ-ভাষা জরিপের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। শীঘ্রই এ কাজ শুরু করা হবে।
বিএনপি গণতন্ত্রের শত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর, ১৮ নবেম্বর ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, সরকার বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলকে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছিল। কোন কারণে কোন ব্যক্তি বা দল এতে যোগ না দিলেও সর্বদলীয় সরকারের যে বৈশিষ্ট্য তার কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। সোমবার জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার দ্বিতল ভবনের সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী করতে চাই। বিএনপি এখন সামান্য সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে সংসদে আছে। সংখ্যালঘিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের ওপর তাদের মতামত চাপিয়ে দেবে- এ সূত্র পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে নেই। যে সূত্র অনুযায়ী বিএনপি এর বিরোধিতা করছে সে সূত্র গ্রহণযোগ্য নয়, সে সূত্র গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এ কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, যারা সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিপক্ষে তারা গণতন্ত্রের শত্রু। বিএনপি এখন এই শত্রুর ভূমিকায় অবর্তীর্ন হয়েছে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর দি ফার্মার্স ব্যাংকের বকশীগঞ্জ শাখার উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি, ফার্মার্স ব্যাংকের পরিচালক বাবুল চিশতী, জামালপুরের জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হায়দার, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম প্রমুখ। মন্ত্রী এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত পথসভা এবং ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।
জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র ২০ নবেম্বর থেকে
সংসদ নির্বাচন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে আগামীকাল ২০ নবেম্বর থেকে। এ মনোনয়নপত্র ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৬ নবেম্বর। আগামী ১ ডিসেম্বর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জাতীয় পার্টি। পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
সোমবার দলের চেয়ার‌্যান এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুরু রায় স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক আগ্রহী প্রার্থীরা পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ২৭ নবেম্বর থেকে ৩০ নবেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নেয়া হবে।
সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোণিত করতে ৮ সদস্যের পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন-পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এম.এ সাত্তার এবং মুজিবুর রহমান চুন্নু।
বিএনপির সঙ্গে নেপথ্যে যোগাযোগ হচ্ছে ॥ ও. কাদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণ বিষয়ে নেপথ্যে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার সকালে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়েও আশার কথা শোনান আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এই সদস্য। ওই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তিনি বলেন, সর্বদলীয় যে সরকার গঠন হচ্ছে সে সরকারে বিএনপির আসার সুযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে নেপথ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। এখন না হলেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যে কোন সময় এ সরকারে বিএনপির আসার সুযোগ থাকছে বলে জানান তিনি।
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা কাদের মনে করেন, বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারে না এলেও আন্দোলনের অংশহিসেবে নির্বাচনে আসবে। নির্বাচনের একটি মিউজিক্যাল চেয়ার আছে। সে মিউজিক্যাল চেয়ার পরিস্থিতি কখন কোথায় নিয়ে ঠেকায় তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না।
নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে তাদের। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অচিরেই এ রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, আমাদের জীবনে সঙ্কট আসে দুর্যোগ আসে আবার চলে যায়। আকাশের মেঘ যত কালো হোক তা সাময়িক। ঘের আড়ালে সূর্য চির দিবসের। কাজেই রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে হতাশার কারণ নেই। আশা করি সঙ্কট থাকবে না, এখনও সময় ফুরিয়ে যায়নি।
মনোনয়ন ফরমে সই করেননি শেখ হাসিনা
রিফাত-বিন-ত্বহা, নড়াইল থেকে ॥ নড়াইল-১ আসনের মনোনয়নপত্রে সই করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুমতি না নিয়ে সভানেত্রীর নামে মনোনয়নপত্র কেনায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে মনোনয়নপত্র স্বাক্ষর করাতে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরম ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের ফিরিয়ে দেন। নড়াইল-কালিয়ার অত্যুৎসাহী ও জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের নামে মনোনয়নপত্র কেনার পর দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মনোনয়ন কেনার ঘটনায় নড়াইল-কালিয়ার রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৩৪ সম্ভাব্য প্রাথী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমনই চমক দেখাচ্ছেন এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। এ খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নড়াইল-১ আসনে ৩৫ মনোনয়নপত্র কেনার ঘটনায় নড়াইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জনবিচ্ছিন্ন কয়েক নেতা দলীয় সভনেত্রী শেখ হাসিনার নামে মনোনয়নপত্র কেনায় মাঠ নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মনোনয়নপত্র কেনার হিড়িক পড়ে যায়। অতীত রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার এক আসনেই ৩৫টি মনোনয়নপত্র কিনেছেন নড়াইলের নেতারা। গণহারে মনোনয়নপত্র কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা বলছেন, নড়াইল-কালিয়ার রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে চিহ্নিত নেতাদের মুখোশ উন্মোচন এবং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তির পক্ষে সমর্থন জানাতে নির্বাচনী এলাকার সকল চেয়ারম্যান একযোগে মনোনয়নপত্র কিনেছেন।
মনোনয়নপত্র বিক্রির ২য় দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুভাষ বোস ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হকসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়েক নেতা। ওই নেতারা নিজেদের নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ্যাডভোকেট সুভাষ বোস নড়াইল-২ আসনের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। মোল্লা এমদাদুল হকসহ ঢাকায় অবস্থানরত অন্য নেতারা নড়াইল-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। শেষ দিন রবিবার পর্যন্ত নড়াইলের এই আসনে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এই আসনে প্রথম দফায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী নেতারা হলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান এমপি এ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হক, যুবলীগ নেতা কাজী সরওয়ার, প্রিন্সিপাল আবু সাইদ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এসএম শাহীন। সভানেত্রীর নামে মনোনয়ন কেনার ১ দিন পর মনোনয়ন সংগ্রহ করেন যুবলীগ নেতা এনায়েত করিম চঞ্চল। এদিকে মনোনয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিনে সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা নড়াইল-১ আসনের বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি।
নিজেদের নামে মনোনয়ন ফরম কেনার পর দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মনোনয়নপত্র কেনার ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নড়াইল-১ আসনে ১৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রত্যেকেই একযোগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন শনিবার বিতরণের ষষ্ঠ দিনে। এঁরা হলেন কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামিমুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোস্তফা, নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা গোপাল চন্দ্র পোদ্দার, কালিয়া হরিবাসর পূজা উদ্্যাপন কমিটির সভাপতি আশাক কুমার ঘোষ, নড়াইল জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির চেয়ারম্যান ও কলোড়া ইউপি চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বিশ্বাস, চাচুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান, পুরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হারুন অর রশিদ, পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুল হক বাবু, হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ মুন্সী, ইলিয়াছাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, সালামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স, খাসিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ শিকদার, মাউলী ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ খান, জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান আইউব কাজী, কলাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস, বা-ঐসোনা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ ফুরকান, পহরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান লাবু শিকদার, বিছালী ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল গাজী, ভদ্রবিলা ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন প্রমুখ।
মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা নড়াইল-১ আসনের বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি।
প্রধানমন্ত্রী পায়রা সমুদ্রবন্দর উদ্বোধন করবেন আজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১৮ নবেম্বর ॥ বর্ণিল সাজে সেজেছে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বন্দরের প্রকল্প কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বহু কাক্সিক্ষত পায়রা সমুদ্রবন্দর কার্যক্রমের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শহর কলাপাড়ার গোটা উপকূলের লাখো মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কলাপাড়া পৌর শহরসহ পায়রা বন্দর এলাকা। সুসজ্জিত প্রধান ফটকে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা প্রহরা।
বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বহু কাক্সিক্ষত পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াও একই অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, শিশু একাডেমী কমপ্লেক্স ও বাউফল উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে এখানকার মানুষের আরেক প্রত্যাশিত কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের বালিয়াতলী পয়েন্টে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, লালুয়ায় শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, পটুয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, বাউফল থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সমাবেশ শেষে নৌবাহিনীর জাহাজে আরোহন করে সমুদ্রবন্দর এলাকা পরিদর্শন করবেন। এর পর বরগুনার তালতলীতে জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সুধী সমাবেশকে মহাসমাবেশে পরিণত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যাপক জনসংযোগ চলছে। দিনরাত চলছে মাইকিং। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কলাপড়া পৌর শহরসহ গ্রামের হাঁট-বাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ ও শুভেচ্ছা মিছিল চলছে। পাশাপাশি শ’ শ’ কর্মী প্রতিদিন সন্ধ্যায় শুধু শেখ হাসিনা ও নৌকা সেøাগানে মুখরিত করছে সাগর পাড়ের জনপদ।
সংবাদদাতা আমতলী থেকে জানান, মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরগুনার নবগঠিত উপজেলা তালতলীতে আসছেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে তালতলী। রং বে-রংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একবার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে তালতলীর লক্ষাধিক মানুষ। পুরো তালতলী ছেয়ে গেছে বিভিন্ন রংয়ের পোস্টার ও ব্যানারে। রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মেরামত করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। তালতলীর ছাতনপাড়া ও তুলাতলিতে দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাকে বরণ করে নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে তালতলী উপকূলবাসী। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন স্থানে পথসভা, কর্মিসভা, মোটরশোভাযাত্রা ও গণসংযোগ করেছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, আলহাজ গোলাম সরোয়ার ফোরকান উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে পথসভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবগঠিত তালতলী উপজেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বরগুনা জেলা সার্ভার স্টেশন, তালতলী উপজেলার দক্ষিণ ঝাড়াখালী ৩ তলা এসইএসডিপি নতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরগুনা সরকারী মহিলা কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ ও ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধিকরণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
তাঁতীবাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে দিনে দুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাস্তার এপাশ দিয়ে ঢুকতেও পুলিশ, ওপাশ দিয়ে বের হতেও পুলিশ। দু’প্রান্তেই পুলিশের সর্বক্ষণিক প্রহরা। রয়েছে পুলিশের ফাঁড়ি। তাঁতীবাজার গলির সবটা জুড়েই সারিবদ্ধ সোনার দোকান। পথচারী ও ক্রেতাসাধারণের ভিড় তো নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র। অপরাধ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে- এমন পরিবেশ নিরাপদ। কিন্তু এত লোক সমাগমের মধ্যে হঠাৎ ৪/৫ যুবক কমান্ডো স্টাইলে হানা দেয় একটি দোকানে। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ হাতে নিয়ে মাত্র ৫টি বোমা ফাটিয়েই নির্বিঘেœ কেটে পড়ে। চোখের পলকেই ঘটে গেল দুর্ধর্ষ ডাকাতি। পুলিশ জনতা কেউই তাদের রুখতে পারেনি। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষায়, এটা দিনে-দুপুুরে ডাকাতি।
রাজধানীর তাঁতীবাজারে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে এভাবেই ঘটেছে দুর্ধর্ষ ডাকাতি। পুলিশ বলছে, এটা অবিশ্বাস্য কায়দায় ডাকাতি। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাঁতীবাজারে মন্দিরা বুলিয়ন এ্যান্ড জুয়েলার্সেই ঘটেছে ডাকাতির ঘটনা। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বোমা ফাটিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পুলিশও এ ঘটনার জন্য জনগণকে কিছুটা অভিয্ক্তু করে বলেছে, পুলিশকে যদি জনগণ সহায়তা করত তাহলে দুর্ব্ত্তৃদের আটক করা যেত।
এ ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ জানাতে পারেনি পুলিশ ও দোকান মালিক।
কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ জামাল পাশা জনকন্ঠকে বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে মন্দিরা বুলিয়ন এ্যান্ড জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকানে ক্রেতা সেজে ৪ থেকে ৫ যুবক প্রবেশ করে। তারা দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পর পর ৪ থেকে ৫টি বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।
কী পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বর্ণের পরিমাণ দোকান মালিক পুলিশকে জানাতে পারেনি। তবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে ডাকাতদল। পুলিশ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ডাকাতির ঘটনা পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। দোকানের কর্মচারী কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
স্বর্ণের দোকানের এক কর্মচারী জানান, দোকানের মালিক শ্যাম ঘোষ ডাকাতির পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখনও তারা হিসাব করতে পারেনি কী পরিমাণ স্বর্ণ ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
এদিকে তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগেও ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে চুরি ও ডাকাতি হয়েছে। পুলিশ সে সব ঘটনায় জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করেনি।
আগামী গ্রীষ্মে কোন লোডশেডিং হবে না ॥ অর্থমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী গ্রীষ্মে দেশে কোন লোডশেডিং হবে না। বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সোমবার বিদ্যুত ভবনে ‘বিদ্যুত খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহিত বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ শুরু হবে। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশে বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট ছিল। তখন সরকার বলেছিল সঙ্কট সমাধানে তিন বছর সময় লাগবে। আমরা তা পেরেছি। বিদ্যুত চাহিদা মোকাবেলায় রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র প্রয়োজন। এ সকল প্রকল্প আরও কিছুদিন থাকবে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও আগে ২০ হাজার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল।
কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। এজন্য অনেক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য অনেক কয়লা আমদানি করতে হবে। তবে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে নানা মতবিরোধ থাকায় পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়ে আরও গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।
মহাজোট সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়েও বেশি বিদ্যুত উৎপাদন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। এতে দেশের বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সকল উন্নয়ন কর্মকা- অব্যাহত থাকবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বলেন, বিদ্যুত উৎপাদনে সার্বিক সহায়তা দেবে পেট্রোবাংলা। তবে দেশের গ্যাস উৎপাদনের বিষয়টিও সরকারের মাথায় রাখতে হবে। এজন্য এলএনজি আমদানি করাটা জরুরী। কেউ কেউ ব্যয়বহুল উল্লেখ করলেও তা ঠিক নয় জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের চাইতে এলএনজির অনেক কম দাম পড়বে।
বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ, জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান, নৌপরিবহন সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও রেলপথ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) পরিচালক (সিস্টেম প্ল্যানিং) মিজানুর রহমান বলেন, ২০২১ সালে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদা দাড়াবে ১৮ হাজার ৮৩৮ মেগাওয়াট। এ সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাত শতাংশ। এ হিসেবে পিডিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরে ৭৬৭ মেগাওয়াট, ২০১৪ সালে এক হাজার ৯৭০ মেগাওয়াট, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, ২০১৬ সালে দুই হাজার ১৪৮ মেগাওয়াট, ২০১৭ সালে এক হাজার ২৭১ মেগাওয়াট, ২০১৮ সালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, ২০১৯ সালে দুই হাজার ৮৭ মেগাওয়াট, ২০২০ সালে দুই হাজার মেগাওয়াট এবং ২০২১ সালে তিন হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ সময় মোট ১৭ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এর মধ্যে সরকারী খাতে দশ হাজার ২৪৬ মেগাওয়াট এবং বেসরকারী খাতে সাত হাজার ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আগামী আট বছরে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে পাঁচ হাজার ১৮৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও দেড় কোটি টন জ্বালানি তেল প্রয়োজন পড়বে।
মহাজোট সরকারের নতুন সংস্করণ সর্বদলীয় সরকার ॥ বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবগঠিত নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারকে মহাজোট সরকারের নতুন সংস্করণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা নতুন মন্ত্রিসভার শপথকে দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা উল্লেখ করেছেন। সোমবার সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর তাৎক্ষণিক অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, এটা সর্বদলীয় সরকার নয়, মহাজোট সরকারের নতুন সংস্করণ। আগে যে সরকার ছিল তাই আছে। সে কারণে আমাদের আর কোন অপশন থাকল না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনেই যেতে হবে। আমাদের কাছে আন্দোলনের আর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচী কি হবে তা দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে খালেদা জিয়া ঠিক করবেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে বাকশালের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে। আর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাই আগের মতো এই সরকারকে উচ্চমূল্যে বিদায় নিতে হবে।
অবশ্য রবিবার রাতেই সর্বদলীয় সরকারের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বদলীয় সরকার গঠন জনগণের সঙ্গে প্রহসন ও তামাশা বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে তিনি দলের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেন।
কালো পতাকা মিছিল ॥ এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুসারে বিচ্ছিন্নভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল করেছে বিএনপি। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুখে কালো পতাকা বেঁধে মিছিল করার সময় বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের রমনা জোনের ইন্সপেক্টর (পেট্রোল) শহিদ সাংবাদিকদের জানান কালো পতাকা নিয়ে একদল বিএনপি কর্মী রাস্তায় মিছিল বের করার চেষ্টা করে। আমরা সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেই। এ সময় জাতীয়তাবাদী চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনির ও মোকলেস নামে দুজনকে আটক করা হয়। এ এলাকায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জামায়াতের কর্মীরাও মগবাজার ও বিজয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে। পুলিশী বাধায় মুহূর্তের মধ্যেই মিছিল ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
এরশাদের দেশপ্রেম নেই ॥ এরশাদের দেশপ্রেম নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভারতের কুচবিহার থেকে আসা লোক। এরশাদ কখন কী বলছেন না বলছেন এর ঠিক নেই। তিনি সামঞ্জস্যহীন ও অনৈতিক লোক। তার এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি বলেন, আমরা সর্বদলীয় সরকার না, নির্দলীয় সরকার চাই। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকার জন্যই আওয়ামী লীগ সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়।
রিজভী বলেন, এরশাদ সকালে একটা বলেন, বিকেলে আবার সেটা পাল্টে দেন তার মতো এমন দ্বিচারিতা নেতার কথায় কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, সর্বদলীয় সরকারের বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। কারণ আমাদের দাবি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার। বিএনপি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংলাপের অপেক্ষায় থাকবে। সরকারবিরোধী দলের প্রতি দমননীতি গ্রহণ করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবকে পুলিশ আটক করে কোথায় নিয়ে গেছে তার হদিস জানতে চাই। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু পুলিশের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন।
জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল ॥ শেখ তারিকুল ইসলামকে সভাপতি ও আবু বকর সিদ্দিককে সাধারণ সম্পাদক ডা. আওরঙ্গজেব কামালকে সিনিয়র সহসভাপতি ও হারুনার রশিদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের খুলনা জেলা শাখা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন ইসলামী জোট ‘ন্যাশনাল ইসলামিক এ্যালায়েন্স’
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৮ দলীয় জোট ও মহাজোটের সমর্থনের বাইরে গিয়ে যাত্রা শুরু করল নতুন ইসলামী জোট ‘ন্যাশনাল ইসলামিক এ্যালায়েন্স।’ বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও সমমনা কয়েকটি ইসলামী দলের সমন্বয়ে নতুন এ রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জোটভুক্ত দলগুলো হলো খেলাফত মজলিস, গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট ও পিপলস জাস্টিস পার্টি। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ নতুন জোটের ঘোষণা দেন খেলাফতে মজলিসের আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারও ইসলামের বিরুদ্ধে অনেক কাজ করেছে, আবার ১৮ দলও ইসলামের পক্ষের নয়। এরা কেউই ইসলামের পক্ষের শক্তি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর, খেলাফতে মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা নিজাম উদ্দীন, গণতান্ত্রিক ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সচিব এ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, দেশ ও জাতির এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ইসলামী দলগুলো নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হোক, এটাই ধর্মপ্রাণ দেশবাসীর প্রত্যাশা। এ অবস্থায় ধর্মপ্রাণ জনতাকে আন্দোলনে উজ্জীবিত করে ইসলামী দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে কয়েকটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘ন্যাশনাল ইসলামিক এলায়েন্স’ জোটের ঘোষণা করছি। সমমনা আরও কয়েকটি দল এ জোটে অংশ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নেতারাবলেন, রাজনীতির নামে বোমাবাজি, নিরীহ জনগণের সম্পদ ধ্বংস, রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের তা-ব ইসলাম সমর্থন করে না। এ সময় তারা দেশের জনগণের নানা ভোগান্তির মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, জাতীয় নারী নীতিতে ইসলাম বিরোধী ধারাগুলো বাতিল ও দুর্নীতি নির্মূলের লক্ষ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা ইত্যাদি। জামায়াতের সঙ্গে জোট করবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নেতারা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। বরং তাদের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সুতরাং তাদের সঙ্গে জোট করার প্রশ্নই ওঠে না। হেফাজত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, যেহেতু হেফাজত স্বীকার করেছে তারা অরাজনৈতিক দল সুতরাং তাদের সঙ্গেও আমাদের জোট করার কোন সম্ভাবনা নেই। জামায়াত-হেফাজত এই দুটি দল ছাড়া যাদের সঙ্গে নীতি আদর্শে মিলবে তাদের ইসলামিক এলায়েন্সে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান নেতারা।
রাখাল রোবট!
‘রোবট গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে, শিশুরা দেয় মন নিজ নিজ পাঠে’- অদূর ভবিষ্যতে শিশুদের মুখে মুখে হয়ত এমন ছড়াও শোনা যেতে পারে। কারণ, গরু দেখাশুনা করতে এবার রোবট ব্যবহারের কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়ার ডেইরি ফার্মগুলো। এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে ডেইরি ফার্মের গরুগুলো চার চাকার রোবটকে সহজেই মেনে নিচ্ছে। রোবটটির নাম রোভার।
অস্ট্রেলিয়ায় অনেক দিন ধরেই ডেইরি ফার্মে গরুর দুধ দোয়াতে ব্যবহৃত হয় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। এবার ফার্মের অন্যান্য কাজের উপযোগী রোবট বানিয়েছেন সিডনি ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। শুধু দিনে নয় রাতেও রোবটটি ফার্মের গাছপালা ও অন্যান্য জিনিস দেখাশুনা করতে পারবে। এসব করতে গিয়ে প্রায়ই মানুষকে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে রোবট ব্যবহারের সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ডেইরি ফার্মে দুর্ঘটনা কমে আসবে।
এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ভবিষ্যতে ডেইরি ফার্মে গরু দেখাশুনা করতে গিয়ে কৃষকদের হতাহতের ঘটনা কমে আসবে বলে মত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খামারের মালিকরা। রোবটটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এখনই কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। নির্মাতারা জানিয়েছেন, রোবটটিতে আরও উন্নয়ন করে তবেই বাজারে ছাড়া হবে।