মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
ঝরে পড়া কমছে
০ পাল্টে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার বেহাল চিত্র
০ আড়াই বছরে ৪৩ থেকে ২১ শতাংশে নেমেছে
বিভাষ বাড়ৈ ॥ পঞ্চম শ্রেণী পার হতেই ঝরে পড়ে ৪৮ থেকে ৫০ শতাংশ। বছরের পর বছর ধরে প্রাথমিক শিৰা থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার এই বেহাল চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। সমাপনী পরীক্ষায় প্রতি বছর শিৰার্থী যেমন বাড়ছে তেমনি দ্রুত কমে যাচ্ছে অকৃতকার্য শিৰার্থীর সংখ্যা। অকৃতকার্য শিৰার্থীর সংখ্যার সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে কমছে বিদ্যালয়ে নিবন্ধন করেও পরীৰায় অনুপস্থিতির সংখ্যা। সমাপনীর প্রথম তিন বছরের ফলই বলে দেয় ঝরে পড়ার এই ইতিবাচক চিত্রটি। ২০০৯ সালের প্রথম সমাপনী পরীক্ষায় যেখানে ঝরে পড়েছিল সোয়া ৫ লাখ শিক্ষার্থী। দুই বছরের ব্যবধানে এবারের পরীৰায় সেই সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৫২। প্রথম পরীৰায় বিদ্যালয়ে নিবন্ধন করেও যেখানে পরীক্সার হলে আসেনি ৩ লাখ ৭ হাজার শিশু, এবার সেখানে অনুপস্থিত ছিল মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু। প্রথম পরীৰায় ফেল করেছিল ২ লাখ তিন হাজার, এবার ফেল করেছে মাত্র ৫৯ হাজার শিশু।
ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ার বিষয়টিকে শিৰার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। সরকারের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বললেন, প্রায় শতভাগ শিৰার্থীর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা গেলেও তাদের সকলকে শিৰায় ধরে রাখা যাচ্ছে না একথা সত্য। তবে বিনামূল্যের পাঠ্যবই, সমাপনী পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া, শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা ও প্রশিৰণসহ নানা উদ্যোগের ফলে কমছে ঝরে পড়ার হার। শিৰার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত যতটুকু গবেষণা হয়েছে তাও বেসরকারী পর্যায় পর্যনত্মই সীমাবদ্ধ। আবার যে গবেষণা হয়েছে তাও মূলত প্রাথমিক সত্মরকে ঘিরেই। বিভিন্ন শিৰাবোর্ড প্রতি শিৰা বর্ষে ঝরে পড়ার একটা সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করলেও ঝরে পড়ার কারণ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তেমন কোন কাজ হয়নি আজ পর্যন্ত। তবে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ঝরে পড়াসহ শিৰা বঞ্চিতদের নিয়ে সরকারী ও বেসরকারীভাবে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা সকলেই মনে করছেন, যত কারণই আসুক না কেন পরিবারের আর্থিক সঙ্কটই ঝরে পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ। পরিবারের অর্থনৈতিক যোগান দিতে শিশুশ্রমে যোগ দেয়া, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সামাজিক সঙ্কটে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শিৰা থেকে অব্যাহতভাবে ঝরে পড়ছে লাখ লাখ শিৰার্থী। পরিস্থিতি এতদিন আশাব্যঞ্জক ছিল না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হলেও পঞ্চম শ্রেণী অতিক্রম করার আগেই শিৰা থেকে ৪৮/৫০ শতাংশ শিশু ঝরে পড়ার চিত্র ছিল বহুদিন। ফলে প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে নূ্যনতম প্রাথমিক শিৰার সুযোগ পায় মাত্র ৫২ শিশু। ২০০৯ সালের শুরম্নতে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল ২০ লাখ ৬৯ হাজার ২৪২ শিশু। কিন্তু ঐ বছরই প্রথম সমাপনী পরীৰায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করে ১৯ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৫ জন। পরীৰার হলে উপস্থিত ছিল ১৮ লাখ ২ হাজার ৪৬৫। আর পরীৰায় পাস করেছিল ১৬ লাখ ২ হাজার ৫৪ শিশু। শিৰা থেকে ছিটকে পড়ে ৫ লাখ শিশু। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ) পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল প্রায় ২৫ লাখ শিশু। পরীৰার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ২৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৪৮ জন। কিন্তু পরীৰার হলেই আসেনি দুই লাখ ৮১ হাজার ১২১ জন। ফেল করে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯১। ফলে কেবল পঞ্চম শ্রেণী অতিক্রম করার আগেই শিৰা থেকে প্রায় ৫ লাখ শিশুর ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। শিৰা অধিদফতর ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার একাধিক জরিপে দেখা গেছে, প্রাথমিক সত্মরের পরীৰায় ফেল করা কিংবা আগেই যেসব শিশু স্কুল ছেড়ে দেয় পরবর্তী বছর তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ আবার স্কুলে ফিরে আসে। বাকি ৯৫ শতাংশ শিশুই শিৰা থেকে ঝরে পড়ে। গেল বছর জানুয়ারি থেকেই ঝরে পড়ার বিষযটিতে অত্যনত্ম গুরম্নত্বের সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যেই কিছু উদ্যোগ হাতে নেয় সরকার। সবার জন্য মানসম্মত শিৰা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাসত্মবায়নের জন্য শিৰাথর্ীদের ঝরে পড়া রোধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করে জাতীয় শিৰানীতি প্রণয়ন কমিটি। রবিবার দেশব্যাপী প্রকাশিত সমাপনী পরীৰায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল অনুপস্থিত ও ফেল বা ঝরে পড়ার সংখ্যা লৰণীয়ভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি। অনুপস্থিত এবার মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার ৭৭৪ যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্থেক। অন্যদিকে এবার ফেল করেছে মাত্র ৫৯ হাজার ৮৭৮ শিশু। প্রাথমিক শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কানত্মি ঘোষ জানালেন, সমাপনী পরীৰার গুরম্নত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া, শিৰকদের বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা ও তাদের প্রশিৰণ_ এই বিষয়গুলো আমাদের শিশুদের ভাল ফলের পেছনে কাজ করেছে। প্রাথমিক শিৰায় ঝরে পড়া নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করছেন গণসাৰরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনিও মনে করেন, ঝরে পড়ার চিত্র অনেক পাল্টে গেছে। এটা অত্যনত্ম আশার কথা। শিৰকরা এখন অনেক বেশি বিদ্যালয়ে সময় দিচ্ছেন। শিৰক শিৰার্থীর অনুপাত অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব ইতিবাচক। মন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন ঝরে পড়ার ইতিবাচক পরিবর্তন সম্পর্কে বলেন, প্রথম শ্রেণীতে শতভাগ শিৰার্থীর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা গেলেও তাদের সকলকে শিৰায় ধরে রাখা যাচ্ছে না একথা সত্য। কিন্তু সরকারের গত আড়াই বছরের নানা উদ্যোগের ফলে ঝরে পড়ার হার ৪৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে।
প্রাথমিকে পাসের হার ৯৭.২৬%
স্টাফ রির্পোর্টার ॥ দেশব্যাপী উৎসবের আমেজে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীৰা বা প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় পাস করেছে রেকর্ডসংখ্যক শিশু। সোমবার প্রথমবারের মতো গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ ভাগ। ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬৭৩ ৰুদে শিক্ষার্থী। ফেল করেছে ৫৯ হাজার ৮৭৮ জন। গত বছর এ পরীৰায় পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর ২০০৯ সালে প্রথম সমাপনীতে পাস করেছিল ৮৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এবার সবচেয়ে ভাল ফল করেছে বরিশাল বিভাগ। আর জেলওয়ারী ভাল ফল করে মুন্সীগঞ্জ, খারাপ হবিগঞ্জ।
এদিকে সোমবার একই সঙ্গে প্রকাশিত মাদ্রাসা সত্মরের ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীৰায় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৮ ভাগ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৫০ শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীৰায় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
৭টি বিভাগের মধ্যে প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় এবার সবচেয়ে ভাল ফল করেছে বরিশাল বিভাগ। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৮৯ ভাগ এবং পঞ্চগড় ও চাঁদপুর জেলায় দ্বিতীয় সবের্াচ্চ ৯৯ দশমিক ৬৪ ভাগ। পাসের হারে হবিগঞ্জ জেলা সর্বনিম্ন ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং একই জেলার বানিয়াচং উপজেলার পাসের হার সর্বনিম্ন ৭১ দশমিক ৬৮ ভাগ। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীৰার ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। এদিকে ফল প্রকাশের দিনও সারাদেশের লাখ লাখ শিশু ও তার অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিৰা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী উৎসবমুখর পরিবেশের।
ফলের জন্য সকাল থেকেই অপেৰা করেন অভিভাবকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণশিৰা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সচিব একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, প্রাথমিক শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কানত্মি ঘোষ প্রমুখ। এর আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরীৰার ফলের কপি তুলে দেন গণশিৰা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এরপরই দেশের সব জেলা, উপজেলা ও থানায় একযোগে ফল প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট (িি.িফঢ়ব.মড়া.নফ) এবং যঃঃঢ়://ফঢ়ব.ঃবষবঃধষশ.নফ থেকে অথবা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাচ্ছে। আর প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে উচঊ লিখে স্পেস দিয়ে থানা বা উপজেলার কোড নম্বর একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল জানার জন্য মেসেজ অবশনে গিয়ে ঊইঞ লিখে স্পেস দিয়ে থানা বা উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। পাসের হার বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিৰামন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন বলেছেন, শিৰকদের প্রশিৰণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতা, জোরালো মনিটরিং এবং অভিভাবকদের অধিকতর সচেতনতার ফলেই পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বৃত্তির সংখ্যা নিধর্ারণ করে শিৰা মন্ত্রণালয়। আমরা বৃত্তি বাড়ানোর প্রসত্মাব করেছি। প্রাথমিক শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কানত্মি ঘোষ জানান, ১৫ ফেব্রম্নয়ারির মধ্যে বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হবে। আর জানুয়ারির শেষের দিকে উত্তীর্ণ শিৰাথর্ীদের সনদ বিতরণ করা হবে।
তারা ভাল ফলের জন্য শিশু ও তাদের অভিভাবক, শিৰকসহ সংশিস্নষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। ফলে সনত্মোষ প্রকাশ করে তাঁরা বলেছেন, এই পরীৰার মাধ্যমে প্রাথমিক শিৰায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
প্রথম বছর কোমলমতি শিশুদের উৎসাহ বৃদ্ধির লৰ্যে ২০ নম্বর গ্রেস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার কোন গ্রেস নম্বর দেয়া হয়নি। তবে শিশুদের ঈর্ষণীয় এই সাফল্যের জন্য গত বছর খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছিল। শিৰক প্রশিৰণসহ বিভিন্ন সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ডিআর বা নিবন্ধিত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, অনুপস্থিতির হার, জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের ভিত্তিতে ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভিকারম্নন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থানে আছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ।
বিভাগভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, এবার নিবন্ধনকৃত শিৰাথর্ীদের মধ্যে প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় ৭টি বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছিল ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জন। তাদের মধ্যে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯ জন সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অথর্াৎ গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ ভাগ। ঢাকা বিভাগ থেকে এবার এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল সাত লাখ ৩০ হাজার ৭১১ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক আট ভাগ। জিপিএ-পাঁচ পেয়েছে সবের্াচ্চ ৪১ হাজার ৭৩১ জন ছাত্রছাত্রী। রাজশাহী বিভাগ থেকে সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৩ ভাগ। আর এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৩৫২ জন শিৰাথর্ী। খুলনা বিভাগ থেকে এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৩ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৩ ভাগ।
এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৪১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এবার প্রাথমিক শিৰা সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল চার লাখ ৭৫ হাজার ১৩ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে পাসের ৯৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ১৫ জন। বরিশাল বিভাগ থেকে এবার এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৩৬২ জন ছাত্রছাত্রী।
এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৫ ভাগ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হজার ৫৯২ জন শিৰাথর্ী। সিলেট বিভাগ থেকে এ পরীৰায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৩২২ জন শিৰাথর্ী। এ বিভাগে গড় পাসের হার সর্বনিম্ন ৯০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ২৯১ জন ছাত্রছাত্রী। রংপুর বিভাগ থেকে সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৮৫ হাজার ৪৯২ জন ছাত্রছাত্রী। এ বিভাগে গড় পাসের হার ৯৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৪৫১ জন শিৰাথর্ী।
এবার পিটিআই সংলগ্ন পরীৰণ বিদ্যালয়ের পাসের গড় হার সবের্াচ্চ ৯৯ দশমিক ৮৮ ভাগ। অন্যান্য বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৭৩ ভাগ, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৮ দশমিক ৬৩ ভাগ, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৮ দশমিক ১৭ ভাগ, কিন্ডারগার্টেন ৯৮ ভাগ, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৭ দশমিক ৮৯ ভাগ, রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৫ দশমিক ৯৫ ভাগ, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৪ দশমিক ৭৮ ভাগ, নন রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৩ দশমিক ৭৪ ভাগ, শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯২ দশমিক ৬৯ ভাগ, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয় ৯১ দশমিক ৪৫ ভাগ এবং আনন্দ স্কুলের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৭ ভাগ। প্রাথমিক ও গণশিৰামন্ত্রী ডা. আফছারম্নল আমীন জানান, ২০০৯ সালে ১১৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কোন শিৰাথর্ী পাস করেনি। ২০১০ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৩টি। এবার এ সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।
এবার মোট ৬৮ হাজার ৬২৯ স্কুলের শতভাগ শিৰাথর্ী উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৯ হাজার ২৮৩টি। নিবন্ধনকৃত বা ডিআরভুক্ত শিৰাথর্ীদের মধ্যে ইবতেদায়ী শিৰা সমাপনী পরীৰায় এবার অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ১৭১ জন শিৰাথর্ী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্রছাত্রী। গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৮ ভাগ। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ১৫০ জন।
এদিকে মাদ্রাসার মধ্যে ডিআরভুক্ত ছাত্রছাত্রী, অনুপস্থিতির হার, জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের ভিত্তিতে রাজধানীর ডেমরা থানার দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা জেলার ক্যান্টনমেন্ট থানার তানযীমুল উম্মাহ ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসা। প্রসঙ্গত, গত ২৩ থেকে ৩০ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিৰা সমাপনী পরীৰা।
ইসি নিয়োগে আইন তৈরি ও সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও তিন সত্মরবিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ইসির দেয়া সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নেরও পরামর্শ দিয়েছে। আর জাতীয় পার্টি-জেপি সময়ানুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কমিশনকে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করার প্রসত্মাব দিয়েছে। দুটি দলই দু'একদিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে দিতে সম্মত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান সোমবার বঙ্গভবনে এ দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও দুপুর ১২টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি। সংলাপে রাষ্ট্রপতিকে সহযোগিতা করেন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কাজী ফখরুদ্দীন আহমেদ, প্রেসসচিব একেএম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব ফজলুল হক।
সংলাপের সূচনা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমান বলেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে অতি গুরুত্ব দিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বিজ্ঞ মতামত নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংলাপের সময় রাষ্ট্রপতি দুই দলের নেতাদের কাছে কমিশনে নিয়োগের জন্য নাম চাইলে তারা দু'একদিনের মধ্যে তালিকা পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, রাষ্ট্রপতি জিলস্নুর রহমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সরকারকে প্রসত্মাব দেয়ার কথা জানিয়েছেন। আইন পাস করতে সংসদে উত্থাপনসহ বিভিন্ন সত্মরের কর্মকা-ের কথা রাষ্ট্রপতি উলেস্নখ করলে ওয়ার্কার্স পার্টির পৰ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে অর্ডিন্যান্স জারি করে এ বিষয়ে সিদ্ধানত্ম নেয়া যায়।
ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটির গুরম্নত্ব তুলে ধরে বলেন, সাংবিধানিক পদে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কমিটিতে প্রধান বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীৰক, সরকারী কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান, এ্যাটর্নি জেনারেল, দুনর্ীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকতে পারেন। এই সার্চ কমিটি কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে ৩ জনের নাম প্রসত্মাব করবে। প্রসত্মাবিত নাম জাতীয় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটিতে উত্থাপনের পরে কমিটি প্রেরিত তালিকার শুনানি করে রাষ্ট্রপতির কাছে মনোনীত নাম পাঠাবে। এরপর নিয়োগ দেয়া যেতে পারে নির্বাচন কমিশনকে।
বৈঠক শেষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের জন্য দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রমনা, সৎ ও কর্মদৰতার ওপর গুরম্নত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর দলের কাছে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের জন্য নাম চেয়েছেন। বলেছেন, তাঁরা নাম দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, এই দ্বিধা তাদের মনে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন বিষয়ে যে আইনের কথা উলেস্নখ আছে তার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে বলে রাষ্ট্রপতি তাদেরক জানিয়েছেন। তবে সেটা সময়সাপেৰ হওয়ার কারণে সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সংলাপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যনত্ম বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বে তাঁর দলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং ১২ থেকে ১টা পর্যনত্ম জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে তাঁর দলের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মলিস্নক, পলিটবু্যরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস, নূরম্নল হাসান, শফিউদ্দিন আহমেদ, নূর আহমেদ বকুল, হাজেরা সুলতানা ও কামরম্নল আহসান। জাতীয় পার্টি-জেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, কর্নেল (অব) আব্দুল লতিফ মলিস্নক, মফিজুল হক বেবু, মিসেস আমেনা বারী, আবু সাঈদ খান, এ্যাডভোকেট বদরম্নদ্দোজা আহমেদ সুজা, এজাজ আহমেদ মুক্তা, অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী ও দফতর সম্পাদক এম সালাউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে বঙ্গভবনের সামনের সড়কে অপেৰমাণ সাংবাদিকদের কাছে প্রেস ব্রিফিংয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, তাঁরা সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন ও তিন সত্মরবিশিষ্ট সার্চ কমিটির দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এর আগে ২০০৮ সালে তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের আমলে এবং ২০০৯ সালে কমিশন গঠন ও সংস্কারে নির্বাচন কমিশন যে প্রসত্মাবনা দিয়েছিল সেটি বাসত্মবায়নে সিদ্ধানত্ম নেয়ার জন্য তারা রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন। তবে তার দল বর্তমান কমিশনকে রাখার পৰে কোন মত দেয়নি বলে জানান তিনি।
চলমান সংলাপে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধান বিরোধী দল সবসময় বলেছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে তাদেরসহ সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য। এখন যখন আলোচনা শুরম্ন হয়েছে তখন তাদের না আসাটা ঠিক হবে না। 'রাষ্ট্রপতি এ ধরনের সংলাপ ডাকতে পারেন না'- বিএনপির এমন দাবি সম্পর্কে তিনি বিএনপির নেতাদের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ ভাল করে পড়ে দেখার আহ্বান জানান। মেনন বলেন, সংলাপ ছাড়া কোন সমস্যার সমাধান হয় না। নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু'টো আলাদা বিষয়। দু'টি নিয়ে আলাদা আন্দোলন হতে পারে। তবে একটির সঙ্গে অন্যটিকে যুক্ত করা ঠিক নয়।
জাতীয় পার্টি-জেপির ব্রিফিং সংলাপ থেকে বেরিয়ে একই স্থানে জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অপেৰমাণ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ প্রায় উত্তীর্ণ। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সকল দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধানত্মে পেঁৗছতে চান। তাই সংলাপে যোগ দিয়ে এই এজেন্ডার বাইরে অন্য কোন এজেন্ডা নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।
প্রধান বিরোধী দলের সংলাপে অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, কোন ভিন্নমত থাকলে সংলাপে যোগ দিয়ে বিএনপি তা তুলে ধরতে পারে। প্রতিবাদ করতে পারে। ওয়াকআউট করতে পারে। একেবারে না আসাটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক হবে না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকলকেই এই সংলাপে আসা উচিত।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে রাষ্ট্রপতিকে কোন প্রসত্মাব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ৪০ বছরেও যেটা করা হয়নি, সেটা কি এই দেড় মাসে করা সম্ভব? সব দায়-দায়িত্বই কি বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রপতির ওপর পড়বে? তিনি বলেন, আইন ও বিধিমালার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি একমত। তবে সেটা সময়সাপেৰ বলে মনত্মব্য করেছেন।
বর্তমান কমিশনকে বহাল রাখার বিষয়ে একটি দলের প্রসত্মাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে এরশাদ উপকৃত হয়েছেন। তবে আমার দল বর্তমান কমিশনকে বহাল রাখার কোন প্রসত্মাব দেয়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঠিক রাখতে ও উন্নত করতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে বলে মনত্মব্য করেন তিনি।
বিএনপি ও আ'লীগের কাছে রাষ্ট্রপতির চিঠি ॥ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে ৰমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কাছে পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি বিএনপিকে এবং ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সোমবার প্রধান দুই দলের কাছে বঙ্গভবন থেকে চিঠিটি পাঠানো হয়। ফ্যাঙ্ ও বিশেষ ডাকে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দুই দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কানত্মি দাস চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জনকণ্ঠকে জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবরে আসা রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ পত্রে আগামী ১২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বঙ্গভবনে সংলাপে বসার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেলা ৩টায় ফ্যাঙ্ েএবং বিকেল ৪টায় বিশেষ ডাকে রাষ্ট্রপতির সংলাপের চিঠি আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব বরাবরে পাঠানো চিঠিটি সোমবারই দলের চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
লাখো মানুষের চোখের জলে চিরশয়ানে রাজ্জাক
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ চোখের জলে, সব মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন গণমানুষের নেতা আবদুর রাজ্জাক। সোমবার বিকেলে বনানী কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আওয়ামী লীগের এই জাতীয় নেতাকে। সকলের প্রিয় এই মানুষটির দাফন সম্পন্ন করার মুহূর্তে উপস্থিত সর্বসত্মরের মানুষের বুকফাটা কান্না, আর্তনাদ আর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশও ভারি হয়ে ওঠে। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালবাসা নিয়ে দেশের মাটিতেই শেষ ঠাঁই নিলেন, যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিকেল চারটায় আবদুর রাজ্জাকের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের পর তাঁর দুই ছেলে ফাহিম রাজ্জাক ও নাহিন রাজ্জাক নিজ হাতে পিতার লাশ কবরে নামান। সকলের প্রিয় এই মানুষটির দাফন সম্পন্ন করার মুহূর্তে উপস্থিত সর্বম্দরের চোখে নেমে আসে অশ্রু। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল জলিল, আমির হোসেন আমুসহ সকলে একে একে আব্দুর রাজ্জাকের কবরে মাটি দেন। এর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে আব্দুর রাজ্জাককে শেষ সালাম প্রদান এবং তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে আবদুর রাজ্জাকের মরদেহ নেয়া হয় তার নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায়। সেখানে লাখো মানুষের চোখের জল, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত হন জননন্দিত এই নেতা। এই এলাকার মানুষ কোনদিন তাঁদের এই প্রিয় নেতাকে নির্বাচনে হারতে দেয়নি। যতবার তিনি দাঁড়িয়েছেন উজাড় করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। চোখের জল আর ফুলেল শুভেচ্ছায় আবদুর রাজ্জাককে চিরবিদায় দেন শরীয়তপুরবাসী।
বাদ জোহর ডামুড্যায় জানাজা ও শ্রদ্ধা জানানোর পর আবদুর রাজ্জাকের মরদেহ পুনরায় ঢাকায় আনা হয়। বিকেল ৪টায় মরদেহ নেয়া হয় বনানী কবরস্থানে। সেখানে শেষ জানাজার পর মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বনানী কবরস্থানেও আবদুর রাজ্জাককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নেমেছিল মানুষের ঢল। এ সময় তাঁকে এক নজর দেখতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার লোক উপস্থিত হয়। রাষ্ট্রীয় সালাম জানানোর পর তাঁকে শুইয়ে দেয়া হয় কবরে। তখন সেখানে উপস্থিত আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুল জলিলসহ তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও স্বজনদের চোখে ছিল জল।
চিরবিদায়ের মুহূর্তে আবদুর রাজ্জাককে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার শওকত আলী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরম্ন, ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, মৃণাল কানত্মি দাস, মীর্জা আজম এমপি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বসত্মরের হাজার হাজার মানুষ।
চিরবিদায়ের পর অশ্রম্নসিক্ত কণ্ঠে আবদুর রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা বলেন, ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী-এসব ছাপিয়ে আবদুর রাজ্জাকের চরিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য ছিল সব সময় গণমানুষের সঙ্গে থাকা। আবদুর রাজ্জাকের মতো দৰ রাজনৈতিক সংগঠক আর সৃষ্টি হবে না।
উলেস্নখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবদুর রাজ্জাক গত শুক্রবার রাতে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি দুই ছেলে নাহিন রাজ্জাক ও ফাহিম রাজ্জাক এবং স্ত্রী ফরিদা রাজ্জাকসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র মেয়ে তানিমা রাজ্জাক রুম্পা মাত্র আট বছর বয়সে বস্নাড ক্যান্সারে মারা গেছে। শেষ ইচ্ছানুযায়ী বনানী কবরস্থানে মেয়ে রুম্পার কবরের কাছে আবদুর রাজ্জাককে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
গো. আযমের বিরুদ্ধে চার্জ সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারি দাখিলের নির্দেশ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ৫ জানুয়ারির মধ্যে পুনরায় দাখিলের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল এ আদেশ দেন। এ দিকে আজ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে পঞ্চম সাৰী তার জবানবন্দী প্রদান করবেন।
ট্রাইবু্যনাল তার আদেশে বলেছে, ট্রাইবু্যনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, তদনত্ম প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং আনুষঙ্গিক নথি পর্যবেক্ষণ করেছেন। দাখিলকৃত অভিযোগে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিকভাবে শ্রেণীভুক্ত না করে এলোমেলো ও অসঙ্গতিপূর্ণ উলেস্নখ করা হয়েছে। সুবিন্যস্তভাবে দেয়া হয়নি। এ জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সরকারপৰের চীফ প্রসিকিউটরের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অগোছাল অভিযোগটি সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারির মধ্যে তা পুনরায় দাখিলের আদেশ দেয়া হয়েছে।
আদেশের পর চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলাম। সোমবার ফরমাল চার্জ আমলে নেবার দিন ছিল। ট্রাইবু্যনালের বিচারপতি এলেন, একটি আদেশ দিলেন। আদেশটি হলো, অধ্যাপক গোলাম আযমের যে তদন্ত প্রতিবেদন (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছিলাম। সেগুলো সুবিন্যসত্ম ছিল না। যথাযথভাবে দেয়া হয়নি। কাগজপত্র ফেরত দিয়েছেন। ফরমাল চার্জ সুবিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারি আবার দিতে হবে।
অন্যদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আগেও তারা (প্রসিকিউশন) কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করেছে। তাহলে গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে দুই বছর সময় পাওয়ার পরেও তারা কেন সঠিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারলেন না। এটি যে বাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সোমবারের আদেশে তা প্রমাণিত হয়েছে।
আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের রেজিস্ট্র্রার (জেলা জজ) মোঃ শাহিনুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম শেষে প্রতিবেদন দখিলের পরে প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ ও এর সঙ্গে সংশিস্নষ্ট দলিলাদি, ম্যাটেরিয়ালস ইত্যাদি দাখিল করেন। এ সব পর্যালোচনায় মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান ও অভিযুক্ত গোলাম আযমের গ্রেফতার বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সোমবার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সার্বিক পর্যালোচনায় দাখিলকৃত ম্যাটেরিয়ালস, দলিলাদি অধিকতর সুবিন্যসত্মভাবে দাখিলের নির্দেশসহ ট্রাইবু্যনাল তা প্রসিকিউশনকে ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের প্রার্থনায় করা আবেদন বিষয়েও সোমবার শুনানি করা যায়নি।
রেজিস্ট্রার আরও বলেন, অভিযুক্ত অধ্যাপক গোলাম আযমকে গ্রেফতারের আবেদনটি এ কারণে সোমবার শুনানি করা যায়নি, এর অন্যতম কারণ হলো, এই মামলার ৰেত্রে এটি কেবলমাত্র মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণের প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের পরই ট্রাইবু্যনাল বিবেচনা করে যথাযথ আদেশ দিতে পারবেন। বিধিমালার ২২ বিধিতে সেটিই আছে। যেহেতু তদনত্মকালে অভিযুক্ত গোলাম আযমকে কার্যকর তদনত্মের স্বার্থে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়নি। সেহেতু এ পর্যায়ে বিধিমালা ২২ বিধি অনুসারেই গ্রেফতারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। এর আগে মামলার অপরাধ আমলে গ্রহণ বিষয়ে যথাযথ আদেশ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ফরমাল চার্জ ও এর সঙ্গে দাখিলকৃত দলিলাদি ও ম্যাটেরিয়ালস আরও অধিক বিন্যসত্ম করে দাখিলের লৰ্যে তা প্রসিকিউশনকে ফেরত দেয়ার যে আদেশ ট্রাইবু্যনাল দিয়েছেন তা বিধিমালার ৪৬-এ বিধিতে বর্ণিত "অনত্মর্নিহিত ৰমতা" বলে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তা প্রয়োজন বিবেচনাতেই ট্রাইবু্যনাল প্রদান করেছেন। আইনের ৬(২এ) ধারার বিধান অনুসারে ট্রাইবু্যনাল "ফেয়ার ট্রায়াল" নিশ্চিত করবেন। আর এটি করার জন্য ট্রাইবু্যনাল অনুরূপ "অনত্মর্নিহিত ৰমতা" প্রয়োগের মাধ্যমে যে আদেশ প্রদান কার্যকর ও উপযুক্ত বলে বিবেচনা করেছেন সেই আদেশই প্রদান করেছেন। ৫ জানুয়ারি মামলার অপরাধ গ্রহণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের প্রার্থনায় করা আবেদনটিও নিষ্পত্তি হবে।
১২ ডিসেম্বর জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়। যুদ্ধাপরাধের ৫২ দফা অভিযোগ উপস্থাপন করে তাঁকে গ্রেফতারের জন্য আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে আবেদনও করা হয়। সারাদেশে নরহত্যা, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মানত্মরিত, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। গ্রেফতারের বাইরে একমাত্র জামায়াতের সাবেক আমির মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান হোতা অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয় ১২ ডিসেম্বর। এরপর ট্রাইবু্যনাল সোমবার ফরমাল চার্জ আমলে নেয়ার ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। সবার আগ্রহ ছিল, ট্রাইবু্যনাল আদেশ দেবার পরপরই গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু ট্রাইবু্যনাল ফরমাল চার্জ ফিরিয়ে দিয়ে তা সুবিন্যসত্ম আকারে ৫ জানুয়ারিতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।
জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে শতাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঈদের দিন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ৩৮ জনকে এনে পৈরতলা এলাকায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে গোলাম আযম সম্পৃক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা ঘটে অধ্যাপক গোলাম আযমের মূল নেতৃত্বে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যে সমসত্ম মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা অধ্যাপক গোলাম আযমের নির্দেশেই হয়েছে। অপারেশন সার্চলাইট শুরম্নর তিন দিনের মাথায় খাজা খয়েরম্নদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যের শানত্মি কমিটি হয়। এর দৈনন্দিন কাজ তদারক করতে ৬ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটিতে ২ নম্বরে ছিল গোলাম আযমের নাম। "অপারেশন সার্চ লাইট" শুরম্নর চারদিন পরই তারা এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। তারা বলেন, এই অভিযান সঠিক ছিল। এই অভিযান না হলে পাকিসত্মান খ- বিখ- হয়ে যেত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫২টি অভিযোগসহ গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
তদনত্মকারী সংস্থা অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম সংস্থা ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে তদনত্ম শুরম্ন করে। ৩৬০ পৃষ্ঠার তদনত্ম রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ৪ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট রয়েছে। গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ৪০ সাৰী সাৰ্য প্রদান করেছেন। তদনত্ম কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান দীর্ঘ পরিশ্রম করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। রিপোর্টে উলেস্নখ করা হয়েছে, অধ্যাপক গোলাম আযম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মানত্মরিত করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন তিনি। তিনি নিজেও যেমন করেছেন, তেমনি পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকেও তার নির্দেশে তা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ বাঙালীকে হত্যায় গোলাম আযম পিস কমিটি, রাজাকার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী গঠন করেছিলেন। গোলম আযম ছিলেন সেই সময়ের পিস কমিটির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পূর্ব পাকিসত্মান জামায়াতে ইসলামীর আমির।
৩০ লাখ বাঙালীকে হত্যা, ২ লাখ নারী ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, লুণ্ঠনসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। অধ্যাপক গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাৰণবাড়িয়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, ঢাকা, গাইবান্ধায় রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাসহ বাঙালীদের হত্যা করেছে। গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় নুরম্নল আমিন, ফরিদ আহমদ, খাজা খয়েরম্নদ্দিন, হামিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। শুধু তাই নয় তিনি ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের সঙ্গেও দেখা করে গণহত্যার নীলনকশা তৈরি করেন। আনত্মর্জাতিক অপরাধ আইনের ৩(২) ধারার যত অপরাধ আছে সবগুলোই তিনি করেছেন।
ট্রাইবু্যনালের চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে জানতে চাওয়া হয়, পযর্াপ্ত সময় পাওয়ার পরও কেন সঠিক নিয়মে প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। এতে তিনি বলেন, এটা ব্যর্থতাও নয়, সীমাবদ্ধতাও নয়। ট্রাইবু্যনালের আনত্মর্জাতিক মান রক্ষা এবং সতর্কতার জন্যই আদালত এ ধরনের আদেশ দিয়েছে। আদালত চায় অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট এবং গ্রম্নপ অনুসারে ভাগ করে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়া হোক। আমরা আবারও গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের প্রতিবেদনটি জমা দেব।
তদনত্ম সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ৩১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ৪০ বছর আগের ঘটনা হওয়ায় প্রতিবেদনে ব্যক্তি সাক্ষীর পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন নথিপত্রকেও গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ৩৬০ পৃষ্ঠার তদনত্ম প্রতিবেদনে সাক্ষী আছে ৪০ জন। আর নথিপত্র আছে ৪০০টিরও বেশি। গোলাম আযম দু'ভাবে দেশের ক্ষতি করেছেন মনত্মব্য করে প্রধান সমন্বয়ক বলেন, "প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজে শানত্মি কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, পাকিসত্মানী বাহিনীকে সহায়তা করেছেন।"
অন্যদিকে ট্রাইবু্যনালের তদনত্মকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, তাঁর বিরম্নদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। "তিনি শানত্মি কমিটির নেতা ও তৎকালীন জামায়াতের আমির ছিলেন। তিনি নির্দেশদাতা। তাঁর নির্দেশেই তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।" বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শানত্মি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন, যাদের সহযোগিতা নিয়ে পাকিসত্মানী সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মান জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রকাশ্যে তদ্বির চালান। ১৯৭১ থেকে ৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করার পর ১৯৭৮ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আবার বাংলাদেশে আসেন এই জামায়াত নেতা। ২০০০ সাল পর্যনত্ম বাংলাদেশে দলকে নেতৃত্ব দেন।
প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে থেকেই পাকিসত্মানের সামরিক জানত্মার সঙ্গে গোলাম আযমের যোগাযোগ ছিল। নির্বাচনের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ওই অবস্থায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরম্ন হয়। পাকিসত্মানী সামরিক জানত্মা এ অভিযানের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর হামলা চালাতে থাকে।
তাঁর নেতৃত্বে পাকিসত্মানী শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশে এবং চক্রানত্মে নানা জায়গায় শানত্মি কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামস, পাইওনিয়ার ফোর্স, মুজাহিদ বাহিনী গঠন করা হয়। তিনি শুধু গঠন করেন নাই, প্রশিক্ষণ শিবির ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে সালাম নিয়েছেন। এ সব সংগঠনকে অস্ত্র সরবরাহ করা এবং এ বিষয়ে পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর কাছে সুপারিশ করার দায়িত্ব গোলাম আযমই পালন করতেন।
প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অন্যদের বিষয়টি ছিল আঞ্চলিক। আর গোলাম আযমের বিষয়টি হলো সারাদেশব্যাপী। গোলাম আযম '৭২ থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতের একজন ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন। বেসরকারী প্রধান হিসেবে যে কাজ করেছে তাঁর বিষয়টি অনন্য সাধারণ বিষয়। সুপিরিয়র কমান্ড যার থাকে তার মাঠে গিয়ে কাজ করতে হয় না। কাজেই তাঁর বিষয়টি ভালভাবে পর্যবেৰণ করেই অগ্রসর হতে হবে।
জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সন্দেহজনক যে কোন আর্থিক লেনদেন তদন্ত ও ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখা এবং সর্বোচ্চ শাসত্মি মৃতু্যদ-ের বিধান রেখে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া মন্ত্রিসভা ভূমি হসত্মানত্মরে অনিয়ম ও জালিয়াতিরোধে প্রস্তাবিত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন-২০১১'র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। প্রসত্মাবিত 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (আম-মোক্তারনামা) প্রবর্তনের পর তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই আইনের অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১১'র খসড়াও।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ এবং এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধেই 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০১১-এ সংশোধন আনা হচ্ছে। এই আইনে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থের যোগান দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদল্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী যাবজ্জীবনসহ অনুর্ধ ২০ বছর এবং নূ্যনতম তিন বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদ- বা অতিরিক্ত অর্থদণ্ডের (নূ্যনতম ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত) প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা 'সন্ত্রাসবিরোধী আইনে'র খসড়াটি এর আগে ১১ জুলাই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন হলে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। তবে ওই বৈঠকে আইনটির কিছু ধারা সংযোজন-বিয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনটির কিছু ধারা সংযোজন-বিয়োজন করে যাচাই-বাছাই শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে চূড়ানত্ম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে সংশোধিত আইনটি পাসের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত আইন অনুযায়ী সরকার ব্যাংক ছাড়াও এনজিওসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক যে কোন আর্থিক লেনদেন তদনত্ম করতে পারবে। ওই সব প্রতিষ্ঠানও সরকারকে এ সংক্রানত্ম যাবতীয় তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে। বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শুধু ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন তদনত্ম করার ক্ষমতা ছিল সরকারের। ২০০৯ সালে সরকার এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণয়ন করে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিদেশের কোন ব্যাংকে অর্থ পাচার হলে একই ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেখান থেকে তথ্য আনতে পারবে। সংশিস্নষ্ট দেশের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা (ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স) ইউনিটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানও করতে পারবে। নতুন আইনে সন্দেহজনক যে কোন লেনদেনের হিসাব (এ্যাকাউন্ট) ৩০ দিন করে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যনত্ম স্থগিত রাখার ক্ষমতা সরকারকে দেয়া হয়েছে।
দেশের অখ-তা, সংহতি, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরম্নতর আঘাত, আটক বা অপহরণের উদ্দেশ্যে বা কোন ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোন বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য পদার্থ, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার কিংবা নিজ দখলে রাখার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি, সন্ত্রাসী কাজে অর্থের লেনদেন ও প্ররোচনার মতো অপরাধ এই আইনের আওতায় পড়ে। আইনের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া এ আইনে অভিযুক্ত কোন বাংলাদেশী নাগরিককে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হসত্মানত্মর করা হবে না। তবে কোন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে এসে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে সহায়তা দিয়ে অপরাধ করলে অথবা বাংলাদেশে বসে অন্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘি্নত করার মতো অপরাধে জড়িত থাকলে এই আইনের আওতায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকের সিদ্ধানত্ম সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। বৈঠকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অধীনে শেষ হওয়া 'রাকাব স্মল এন্টারপ্রাইজ ক্রেডিট প্রোগ্রাম (রাকাব এসইসিপি)' প্রকল্পকে প্রতিষ্ঠানটির এক সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানি গঠন, পাটনীতি-২০১১ এবং বেলারম্নশের সঙ্গে সামরিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন ॥ অনিয়ম ও জালিয়াতিরোধে প্রসত্মাবিত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন-২০১১'র চূড়ানত্ম অনুমোদন পাওয়া আইনের খসড়ায় 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি (আম-মোক্তারনামা) প্রবর্তনের পর তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে তিন মাস পর পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অকার্যকর হয়ে যাবে। তবে নিবন্ধিত হলে, তা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যনত্ম কার্যকর থাকবে। তবে 'বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'র জন্যও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ উলেস্নখ থাকবে। ১৮৮২ সালে প্রবর্তিত পুরনো আইনটিকে সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে। বর্তমান আইনে 'কোন ব্যক্তির পক্ষে কাজ করার জন্য আইনানুগ কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দলিলের মাধ্যমে ক্ষমতা দেয়াই হলো 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'। অভিযোগ রয়েছে, আইনের দুর্বলতার সুযোগে কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি' দেখিয়ে তার সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অজানত্মেই। এই ধরনের অপরাধের পথ বন্ধ করতেই সরকারের আইন সংশোধনের উদ্যোগ।
প্রসত্মাবিত আইনে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি'র সংজ্ঞা ও আইনের অর্থবহ বাসত্মবায়নের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উলেস্নখ রয়েছে। এতে 'পাওয়ার অব এ্যাটর্নি' নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) ক্ষেত্রে 'স্ট্যাম্প আইন' ও 'রেজিস্ট্রেশন আইনে'র অনুসরণীয় বিধিগুলো সুস্পষ্ট রয়েছে।
পাওয়ার অব এ্যাটর্নির ক্ষমতা ॥ প্রসত্মাবিত আইনে বলা হয়েছে, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কোন বিষয়ে বিশেষ বা সাধারণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে তার পক্ষে কাজ করার ক্ষমতা দেয়া যাবে। বিশেষ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হবে এবং এর মাধ্যমে সম্পত্তি হসত্মানত্মর, বিক্রয়, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন, ঋণ গ্রহণের বিপরীতে বন্ধকী দলিল সম্পাদন ও পণ্যমূল্যের বিনিময়ে ক্ষমতা অর্পণ করা যাবে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মামলা পরিচালনা, জমির রেকর্ডপত্র সংশোধন, জমির সীমানা নির্ধারণ, খাজনা প্রদান, নামজারি ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিসেবা গ্রহণ বা প্রদান এবং নৈমিত্তিক আর্থিক লেনদেনসহ এমন কোন কাজ যা পাওয়ার অব এ্যাটর্নি-দাতা দৈনন্দিন কাজ হিসেবে সম্পাদন করেন, সে ক্ষেত্রে সাধারণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা দেয়া যাবে।
সংশোধিত আইনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির উদ্দেশ্য বা শর্ত ব্যাহত হয় বা কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়, এমন পরিস্থিতিতে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি-দাতা বা গ্রহীতাকে ৩০ দিনের মধ্যে নোটিস দিয়ে ক্ষমতা (পাওয়ার) প্রত্যাহার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরে চিরবিদায়
আবুল বাশার, শরীয়তপুর থেকে ॥ লাখো মানুষের কান্না আর ফুলেল শুভেচ্ছায় আব্দুর রাজ্জাককে চিরবিদায় দিলেন শরীয়তপুরবাসী। সোমবার বাদ জোহর জেলার ডামুড্যা উপজেলা ঈদগাহ মাঠে মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন ডামুড্যা উপজেলা জামে মসজিদের পেশইমাম মাওলানা আব্দুল হাই। এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডেপুটি স্পীকার কনেল (অবঃ) শওকত আলী, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি সাহা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি মাস্টার মজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রব মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সহ-সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম ও বাহাদুর বেপারী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি হেমায়েত উলস্নাহ আওরঙ্গ, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি সরদার নাসির উদ্দীন কালু, বিএনপি নেতা জামাল শরীফ হিরম্ন, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা কানাই লাল তালুকদারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক মোঃ সানোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার একেএম শহীদুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। তিনি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ছিলেন সোচ্চার। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁর এ স্বপ্ন বাসত্মবায়ন হলে তাঁর আত্মা শানত্মি পাবে।
সকাল ১১টা থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে শোকার্ত মানুষ মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য স্থানীয় উপজেলা পরিষদ মাঠে ভিড় জমাতে থাকে। দুপুর ১টার মধ্যে বিশাল মাঠ লৰাধিক মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় তারা উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারের সামনে নির্মিত মঞ্চে রাখা প্রয়াত রাজ্জাকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনেকেই আব্দুর রাজ্জাকের জ্যেষ্ঠপুত্র নাহিন রাজ্জাককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। এর আগে সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে আব্দুর রাজ্জাকের মরদেহ প্রথমে ডামুড্যা পূর্ব মাদারীপুর কলেজ মাঠে পেঁৗছায়। সেখান থেকে প্রথমে তাঁর পৈত্রিক নিবাস দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা রাখা হয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী থেকে জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ আব্দুর রাজ্জাক এমপি স্মরণে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যৰ খায়রম্নল আনম সেলিম। বক্তব্য রাখেন অধ্যৰ বেলাল উদ্দিন কিরন, আবু তাহের, অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা, আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, ইকবাল করিম তারেক ও ইমন ভট্ট।
আইফেলে বনায়ন!
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও বিখ্যাত নিদর্শন আইফেল টাওয়ার। ১৮৮৯ সালে নির্মিত এটি প্যারিসের সবচেয়ে ও বিশ্বের অন্যতম উঁচু টাওয়ার। সম্প্রতি একটি ফরাসী ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এ টাওয়ারে বনায়ন করার পরিকল্পনা করেছে। লোহার তৈরি সুউচ্চ এই টাওয়ারে গাছ লাগানো হলে এটি হবে 'বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছ।'
জিঞ্জার নামের ওই ফার্ম কতর্ৃপৰ বলেছে, আইফেল টাওয়ারে প্রায় ৬ লাখ গাছ লাগানো সম্ভব। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছের আদল নেবে। পাশাপাশি বছরে ৮০ টন কার্বন ডাইঅক্সাইডও শোষণ করবে আইফেল টাওয়ার। এ টাওয়ারে গাছ লাগাতে মোট খরচও হিসেব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মোট ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করলেই সবুজ হয়ে যাবে এ নিদর্শনটি।
জিঞ্জার কর্তৃপক্ষ এ টাওয়ারে বনায়ন করার পরিকল্পনা করলেও প্যারিস সিটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠানটির এ অভিনব পরিকল্পনায় সাড়া দেয়নি। জিঞ্জার অবশ্য স্থায়ী বনায়ন করার পরিকল্পনা করেনি। মাত্র ২ বছরের অস্থায়ী এ পরিকল্পনায় গাছ লাগাতে আলাদা পাইপ ব্যবহারের জন্য বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে ২০১৪ সালের মধ্যেই আইফেল টাওয়ার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছের রেকর্ড করবে।
সূত্র: ওয়েবসাইট।