মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
সাফাই সাক্ষাতকার প্রমাণ করে বুদ্ধিজীবী হত্যার তিনিই মূল গায়েন ॥ গো.আযমই হুকুমদাতা
০ টিক্কা খানের নির্দেশে গোলাম আযম সব সময় রাও ফরমান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন
০ তাঁর বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রমাণ হয় বুদ্ধিজীবীদের নাম সরবরাহকারী তিনি ও তাঁর দল

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস সামনে রেখে দেশের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল গোলাম আযমের একটি সাৰাতকার প্রচার করেছে। যেভাবে এ সাৰাতকারটি প্রচার করা হয়েছে, সাংবাদিকতার বিচারে সেটাকে সাৰাতকার বলার কোন সুযোগ নেই। বলা যেতে পারে গোলাম আযমকে তার নিজের পৰে সাফাই গাওয়ার একতরফা সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। শুধু শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস সামনে রেখে গোলাম আযমকে এ সুযোগ দেয়া হয়নি, আনত্মর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবু্যনালে যে সময়ে গোলাম আযমের বিরম্নদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে তখনই এ সুযোগ গোলাম আযমকে দেয়া হয়েছে।
গোলাম আযম ওই সব টেলিভিশনকে দেয়া বক্তব্যের ভেতর দিয়ে নিজেকে সাচ্চা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। গোলাম আযম সাফাই গেয়েছেন_ রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠনে তার কোন ভূমিকা নেই। ইতোমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশ করেছে, আনত্মর্জাতিক আদালতের তদনত্ম কমিশনের কাছে গোলাম আযমের স্বাৰর করা ত্রিশ হাজার রাজাকারের একটি তালিকা আছে। অন্যদিকে যাঁরা এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেন তাঁরা সকলেই জানেন, জামায়াতে ইসলামী নেতা মওলানা ইউসুফের নেতৃত্বে প্রথমে আলবদর বাহিনী গঠিত হয় খুলনায়। এরপরে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে আলবদর বাহিনী গড়ে তোলে। বর্তমানে আনত্মর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইবু্যনালে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা নিজামী ওই আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন 'ইসলামী ছাত্রসংঘ', যা বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে পরিচালিত হচ্ছে_ ওই ছাত্রসংঘের নেতা ও কর্মীরা ছিল বদর বাহিনীর মূল সদস্য। বুদ্ধিজীবী দিবসকে সামনে রেখে যে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একতরফাভাবে গোলাম আযমকে নিজের পৰে সাফাই গাওয়ার সুযোগ করে দিলো, তাদের প্রশ্ন করা উচিত ছিল_ রাও ফরমান আলীর সঙ্গে কে সেদিন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নীলনঙ্া করেছিল? আর এ নীলনঙ্ার অন্যতম রূপকার যে জামায়াতের নেতা হিসেবে গোলাম আযম, তার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। বিজয়ের পূর্বমুহূর্তে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কিন্তু পাকিসত্মানী সেনাবাহিনী হত্যা করেনি। বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যেককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। শহীদুলস্নাহ কায়সারকে হত্যা করেছিল বদর বাহিনীর সদস্য খালেক মজুমদার ও তার সহযোগীরা। মুনীর চৌধুরী, ড. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক নিজামউদ্দিনসহ সকলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বদর বাহিনীর সদস্যরা। বিজয়ের পূর্বমুহূর্তে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা যে দেশের শ্রেষ্ঠসনত্মান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল এটা ঐতিহাসিক সত্য। এ সত্য অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। তবে গোলাম আযম নিজের পৰে সাফাই গাইতে গিয়ে আরেকটি সত্য কিন্তু প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ মার্চের পরে নুরম্নল আমীনের নেতৃত্বে টিক্কা খানের সঙ্গে যে বৈঠক করেন ওই বৈঠকের সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী টিক্কা খান নির্দেশ দেন রাও ফরমান আলী সব সময় গোলাম আযমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। বেশ কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে গোলাম আযম বলেছেন, রাও ফরমান আলী তার কথা রাখতেন। অন্যদিকে এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে তাদের তালিকা রাও ফরমান আলীর টেবিলে স্বাধীনতার পরে পাওয়া যায়। সে তালিকা পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী এ হত্যাকা- বাসত্মবায়ন করে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। আলবদর বাহিনী মানেই সকলে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ও তাদের যুব সংগঠনের সদস্য। বাংলাদেশের মানুষের জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটির চরিত্র সম্পর্কে কমবেশি ধারণা আছে। ক্যাডারভিত্তিক এ মৌলবাদী সংগঠনটির সকল কাজ পরিচালিত হয় সংগঠনের নির্দেশে। এ সংগঠনের প্রধানই তার দলের অন্যান্য নেতাদের নিয়ে এ সিদ্ধানত্ম নেন। তাদের সংগঠনের সিদ্ধানত্ম ছাড়া কোন কর্মী কোন কাজ করে না। তাই বুদ্ধিজীবী হত্যার ৰেত্রেও সেটাই ঘটেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতার নির্দেশে তাদের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা আলবদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে এই হত্যাকা- ঘটায়। আর যেহেতু আলবদর বাহিনী এ হত্যাকা- ঘটায় সেহেতু এটা প্রমাণিত হয় যে, সেদিন জামায়াতের নেতা হিসেবে বদর বাহিনীকে গোলাম আযমই এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাই যে হত্যাকা-গুলো করে সেগুলোর নির্দেশদাতা গোলাম আযম। তাছাড়া এর থেকে আরও একটি বিষয় প্রমাণিত হয়, ওই তালিকার মূল প্রস্তুতকারক গোলাম আযম ও তার দলের অন্য নেতৃবৃন্দ। কারণ, রাও ফরমান আলীর পৰে বাংলাদেশের প্রগতিশীল সকল বুদ্ধিজীবীর নাম জানা সম্ভব নয়। তাই রাও ফরমান আলীর টেবিলে যে তালিকা পাওয়া যায় এ তালিকার নাম সরবরাহকারী গোলাম আযম। কারণ যে হত্যাকা- তার দলের সদস্যরা সংঘটিত করেছে, অবশ্যই ওই নিহতদের তালিকা তার দলেরই প্রস্তুত করা এবং সেদিন গোলাম আযমই এ নামগুলো সরবরাহ করে। এ সংগঠনের নেতা হিসেবে তিনিই রাও ফরমান আলীর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখতেন_ টেলিভিশনের সাফাই বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সেটা স্বীকারও করেছেন। তাই যদিও এ দেশের সকল মানুষ জানে, তারপরেও আবারও প্রমাণিত হলো_ রাও ফরমান আলীর কাছে বুদ্ধিজীবীদের নাম সরবরাহকারী হলেন গোলাম আযম। আবার জামায়াতের নেতা হিসেবে রাও ফরমান আলীর তালিকার সকল বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য আলবদর বাহিনীকে নির্দেশদাতাও তিনি। অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনঙ্াও তার করা, হত্যা বাসত্মবায়নও তার।
বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনঙ্া প্রণয়নকারী, তালিকা প্রস্তুতকারী ও হত্যা বাসত্মবায়নকারী গোলাম আযমকে কেন এই সাফাই গাওয়ার সুযোগ দেয়া হলো বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস সামনে রেখে? যারা এ সুযোগ দিয়েছে, তাদের প্রতি কোন সন্দেহ না রেখেও বলা যায়, এ ঘটনার পরে বাংলাদেশের মিডিয়ার মনে হয় সচেতন হবার সময় এসেছে। কারণ মনে রাখা দরকার, এ দেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত যত প্রচার মাধ্যম আছে সবাইকে এ দেশের সংবিধানের প্রতি অনুগত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। আর সংবিধানের প্রতি অনুগত প্রতিষ্ঠান হতে হলে তার অবশ্যই দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা, তার চেতনা ও সার্বভৌমত্বের পৰে কাজ করা। এর বাইরে গেলে, স্বাধীনতাবিরোধীদের কাজে সহায়তা করলে সেটা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। অন্যদিকে আরও একটি বিষয় আছে, সেটা স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা। কোন দেশের মিডিয়া এর বাইরে যায় না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সেই অর্থও তাদের আছে। '৭১-এর লুটের অর্থও তাদের কাছে। এ অর্থ দিয়ে তারা বিদেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করছে। এখন সকলেরই সজাগ হওয়া দরকার, এ অর্থ যেন বাংলাদেশে জামায়াতকে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, নারী ধর্ষণের অপরাধের বিচার থেকে বাঁচার সুযোগ করে না দেয়। এ অর্থ যেন কোনমতেই গোলাম আযমের মতো চিহ্নিত ঘাতকদের নিজের পৰে সাফাই গাওয়ার সুযোগ না করে দেয়।
শহীদের রক্ত ও সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সঙ্গে বেইমানী করবেন না
অন্যথায় যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার দায়ে মানুষ আপনারও বিচার চাইবে ॥ খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ ত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'একাত্তরের লাখো শহীদের রক্ত এবং সম্ভ্রম হারানো লাখো মা-বোনের সঙ্গে বেইমানী করে যুদ্ধাপরাধীদের রৰার চেষ্টা করবেন না। নইলে যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার দায়ে দেশের জনগণ একদিন আপনারও (খালেদা) বিচার চাইবে। বহু চেষ্টা করেছেন বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রৰা করতে, কিন্তু পারেননি। যুদ্ধাপরাধীদেরও রৰা করতে পারবেন না। কেননা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আজ যুবসমাজ, নতুন প্রজন্মসহ সারাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে।'
'আওয়ামী লীগের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি'_ খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যুদ্ধ করেনি তো কে যুদ্ধ করেছে? একাত্তরে কে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তা ইতিহাসই সাৰী। যিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছেন, সেই খালেদা জিয়ার কাছ থেকে দেশের মানুষকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিতে হবে না। তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রীকে বলেন, উনি নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন! তিনি (খালেদা) কোথায় যুদ্ধ করেছেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে পাক হানাদারদের মেহমানদারিতে থেকে তিনি (খালেদা) কি জানজুয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন? দেশবাসী তা জানতে চায়।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলৰে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রসত্ম করতে ষড়যন্ত্র-চক্রানত্মকারীদের বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের পুত্র সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির অঙ্গীকার' শীর্ষক এ আলোচনাসভা পরিচালনা করেন নূহ-উল-আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিল।
জিয়া অরফানেজের নামে বিরোধীদলীয় নেত্রীর এতিমদের টাকা আত্মসাতের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রকৃত চেহারা আজ জাতির সামনে ধরা পড়েছে। এরপরও তিনি (খালেদা) বড় গলায় কথা বলছেন। লজ্জা-শরম থাকলে বড় গলায় কথা বলতে পারতেন না। 'চোরের মায়ের বড় গলা'_ উনাকে (খালেদা) দেখলে তাই মনে হয়। তিনি বলেন, এতিমদের টাকা চুরি করে বিরোধীদলীয় নেত্রী মামলা খেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুনর্ীতি করে অর্জিত কালো টাকা জরিমানা দিয়ে সাদা করেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর (খালেদা) দুই ছেলে দুনর্ীতির অর্থ পাচার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে দুই ছেলের অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই কর্মকর্তা এসে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর পুত্রদের অর্থ পাচারের ঘটনায় সাৰী দিয়ে গেছেন। এতেও উনার (খালেদা) লজ্জা নেই। বিরোধীদলীয় নেত্রীর দুই পুত্র মানি লন্ডারিংয়ে (অর্থ পাচার) অনার্স করেছে, উনি নিজে দুনর্ীতিতে মাস্টার্স করেছেন। এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। ৰমতায় থাকতে জনগণের অর্থসম্পদ দু'হাতে লুণ্ঠন করে নিজেরা বিলাসিতা করেছেন, জনগণকে কিছুই দিতে পারেননি। এখন যুদ্ধাপরাধী, দুনর্ীতিবাজ ও খুনীদের রৰায় মাঠে নেমেছেন। কিন্তু দেশের মানুষ তা হতে দেবে না।
'বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি'_ বিরোধী দলের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম আর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমার পরিবারের প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শেখ কামাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে, শেখ জামাল বন্দীদশা থেকে পালিয়ে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছে। শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। নিবিড়ভাবে তিনি গেরিলা যুদ্ধের তত্ত্বাবধান করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা রাজপথে থেকেছি।
প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চে জিয়াউর রহমান কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন? বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর যখন সারাদেশে বাঙালীরা পাক হানাদারদের বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যারিকেড সৃষ্টি করছিল, তখন চট্টগ্রামে পাকবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে বাঙালীদের হত্যা করেছিল। ওই হত্যাযজ্ঞে পাকবাহিনীর একজন ছিলেন জিয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবহারের জন্য সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র-গোলাবারম্নদ খালাস করতে গিয়েছিলেন ওই জিয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু ভুল সিদ্ধানত্মের কারণে তাঁকে (জিয়া) কয়েকবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন রণৰেত্রে কখনই জিয়ার যুদ্ধ করার কোন প্রমাণও নেই। অনেকেই তখন জিয়াকে 'মেজর রিট্রিড' বলত। কারণ যুদ্ধৰেত্রের তিন কিলোমিটার দূরে দূরে নাকি তিনি থাকতেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়েছে, জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই। আর খালেদা জিয়াও স্বাধীনতার পর জিয়ার স্ত্রী ছিলেন, তাও বঙ্গবন্ধুর দয়ায়। আজ বড় বড় কথা তাঁর (খালেদা) মানায় না।
যুদ্ধাপরাধীদের পৰ নেয়ায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উনার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বড়ই মনোকষ্ট। উনার স্বামী জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইয়াহিয়ার দূত শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, দেড় শ' মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাকারী আবদুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জিয়া অবৈধভাবে ৰমতা দখল করেছিল, পরবতর্ীতে প্রায় ১৮টি কু্যর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিকদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল জেনারেল জিয়া। নাগরিকত্ব না থাকা গোলাম আযমদের দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক অধিকারও দিয়েছিল। জিয়ার স্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা বাংলাদেশ আজ জেগে উঠেছে উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজ আজ নতুন করে জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মও আজ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। তারা শিকড়ের সন্ধান চায়। আজ লাখো শহীদ পরিবারের আকুতি, সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের প্রাণের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন বাংলার মাটিতেই হয়। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব এবং দেশের মাটিতেই বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের রৰা করতে পারবেন না।
একাত্তরের মতোই ২০০১ সালে ৰমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট ৰমতায় এসে একই কায়দায় নির্বিচারে হত্যাকা-, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে নির্যাতন চালিয়েছে। ৰমতায় এসে মানুষ হত্যার ইয়াহিয়া খানের ফেলে যাওয়া খাতা যেন খুলে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। সারাদেশকেই তারা নরকে পরিণত করেছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের পৰালম্বন ত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী করবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের সাহায্য না করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে থাকুন। নইলে দেশের মানুষ আপনাকে ৰমা করবে না। সকল ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম মোকাবেলা করে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলবই।
ভোগবিলাস ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হোন : আশরাফ দেশের বর্তমান সময়ে অলসতা, আরাম-আয়েস ও ভোগবিলাস ত্যাগ করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দলের নেতাকমর্ী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৰমতায় থাকতে নিজেদের অলসতা ও ভোগবিলাসের কারণে আমরা বঙ্গবন্ধুকে রৰা করতে পারিনি। আর যেন সেই ভুল না হয়, সেজন্য নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এটাই হয়ত শেষ সুযোগ। আগামীতে হয়ত সেই সুযোগ আমরা পাব না। কেননা মুক্তিযোদ্ধা, প্রত্যৰ সাৰী, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদেরও বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। একে একে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আগামীতে হয়ত অনেকেই থাকবে না। তাই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম ধাপ যাতে আমরা বর্তমান সরকারের আমলেই শেষ করে যেতে পারি, সেজন্য স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক শক্তি, অর্থনৈতিক ও ষড়যন্ত্রের শক্তির বিরম্নদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা লড়াই করে যাচ্ছেন। ৰমতায় গেলে আমরা অলসতায় ভুগি, ধরাকে সরা জ্ঞান করি। অনেকেই নিজেদের আখের গোছাতে বেশি সময় ব্যয় করি। এ আরাম-আয়েস ও ভোগবিলাস সবাইকে ত্যাগ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া আজ বেসামাল হয়ে পড়েছেন। ৰমতায় থাকতে এতিমের টাকা পর্যনত্ম তিনি মেরে খান! পুত্রদের দুনর্ীতির ভয়াল চিত্র আজ দেশ-বিদেশে প্রমাণিত। দুনর্ীতিবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কোন শক্তিই ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না।
মতিয়া চৌধুরী অভিযোগ করেন, গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদসহ কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের জামিনদার হয়ে খালেদা জিয়া আজ মাঠে নেমেছেন, কিন্তু কোন লাভ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের চরম শাসত্মি পেতেই হবে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া খালেদা জিয়া লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। '৭১ ও '৭৫-এর ঘাতকচক্র ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় জনগণের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। জনগণই তার জবাব দেবে।
সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রম্নত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে বলেন, দেশী-বিদেশী শত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দ্রম্নত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে সমস্যা হতে পারে। খালেদা জিয়া ও তার তল্পিবাহকরা যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। জাতি আজ খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট জানতে চায়, তাঁর প্রধান সেনাপতি কে? গোলাম আযম, নিজামী ও সাঈদীরা? যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিলে দেশের মানুষ তা কখনই সহ্য করবে না।
একাত্তরের মতোই জেগেছে মানুষ, স্মৃতিসৌধে ঢল
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আরও ছবি ৩-এর পাতায়
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ যেন একাত্তরের মতোই জেগে উঠেছিল দেশের মানুষ। শোকের দিনে পথে পথে প্রবল গণজাগরণ, গণবিস্ফোরণ! দেশ মাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হন্তারক রাজাকার-আলবদরদের প্রতি লাখো মানুষের এমন তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কারের বহিপর্্রকাশ আর 'নরঘাতক যুদ্ধাপরাধী'দের বিচারের এমন বজ্রকঠিন দাবি গত চল্লিশ বছরেও দেখেনি দেশের মানুষ। স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে স্মৃতিসৌধে নতুন প্রজন্মের এমন বাঁধভাঙ্গা স্রোতও অতীতে দেখা যায়নি। নতুন প্রজন্মসহ দেশমাতৃকার সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অমর স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আসা লাখো শোকার্ত মানুষের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন আওয়াজ_ 'অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই।'
'রাষ্ট্রদ্রোহী হায়েনা রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী, বাঙালী তোদের ৰমা করবে না, তোদের বিচার হবেই এ বাংলায়'_ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রবেশপথেই একটি সাদাকালো ব্যানারে লেখা ছিল এই দীপ্ত শপথ বাণী। শুধু ব্যানার নয়, বুধবার দিনভর হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা, ভালবাসার সঙ্গে স্মরণ করতে আসা লাখো শোকার্ত মানুষের কণ্ঠেও ছিল সেই একই দাবি। পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও তাদের মদদদাতাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা-ধিক্কার জানিয়েছেন নানাভাবেই। মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল মিরপুর ও রায়েরবাজার শহীদ বৃদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।
বাংলার যে সূর্য সন্তানদের বুকের তাজা রক্তের মূল্যে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, দেশমাতৃকার সেই শ্রেষ্ঠ সনত্মানদের অমর স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞ জাতি অপরিসীম বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালবাসার মধ্য দিয়ে বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালন করল 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস'। শোকার্ত মানুষ মিরপুর এবং রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুলে ফুলে নিবেদন করেছেন তাদের প্রাণের অর্ঘ্য। এ দুটি স্থানে একটি বা দুটি ব্যানার নয়, পাক হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসর হায়েনাদের দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সনত্মানদের নৃশংসভাবে হত্যার পর বধ্যভূমিতে ফেলে রাখার অসংখ্য নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ আলোকচিত্র শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারও বাঙালীকে শিহরিত করে তুলেছিল।
বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে নতুন প্রজন্মের এমন গণজাগরণের দৃশ্য ভাল করেই অবলোকন করেছেন। মাত্র ক'দিন আগেই যুদ্ধাপরাধীদের পৰ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ও দলের অবস্থানে দেশের মানুষ কতটা যে বিৰুব্ধ হয়েছে তা ভালভাবেই অাঁচ করতে পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। স্মৃতিসৌধে দলীয় নেতাকমর্ীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় চতুর্দিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা নতুন প্রজন্মের হাজার হাজার মানুষের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গগনবিদারী সেস্নাগান, ঘৃণা-ধিক্কার পুরো এলাকার পরিবেশই পাল্টে দিয়েছিল। বিচারের দাবিতে সেস্নাগানে সেস্নাগানে প্রকম্পিত ছিল স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।
শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা লাখো শোকার্ত বাঙালীর এ প্রাণের দাবির প্রতি একত্মতা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্নের মাধ্যমে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
বাঙালী জাতি এবার এক অন্যকরম পরিবেশে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাল। যখন কারাগারে অনত্মরীণ হয়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অপেৰায় রয়েছে একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদী গং। মুক্ত পরিবেশে মুক্তিযুদ্ধের শাণিত বাণী উচ্চারিত হয়েছে সর্বত্র। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বীকৃত রাষ্ট্রদ্রোহী ও যুদ্ধাপরাধীরা রক্তস্নাত পতাকা উড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের নামে এ দুটি পবিত্র স্থানকে কলুষিত করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে মিরপুর বা রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকায় যাওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। বরং এবারের বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তরম্নণ প্রজন্মের জোরাল 'যুদ্ধাপরাধীদের দ্রম্নতবিচার চাই' এই সেস্নাগানে।
বুদ্ধিজীবী স্মরণে বুধবার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সকাল থেকেই জনতার ঢল নামে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ বেদি। বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়াও শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এসব সংগঠনের পৰ থেকে আলোচনা সভা, সেমিনার, মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলেও আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারী টেলিভিশন ও রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শ্রদ্ধা ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৬টা ৩৭ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসে ফুল দিয়ে বাঙালীর শ্রেষ্ঠ সনত্মান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পসত্মবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী দেশের এই কীর্তিমান সনত্মানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময়ের জন্যে সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রম্নতি দেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রম্নত শেষ করার দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ সেই (বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের) সব হত্যাকারীর বিচার চায়। স্বাধীনতার প্রাপ্তির ঠিক আগে এ জাতির শ্রেষ্ঠ সনত্মানদের হত্যা করেছে যারা এ দেশ তাদের বিচার চায়।
পরে প্রধানমন্ত্রী ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পসত্মবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, এলজিআরডি মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হিরা, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরম্নল ইসলাম, নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আবদুস শহীদ।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ঢাকা উত্তর ও দৰিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পৰ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ৭টা থেকে স্মৃতিসৌধ সবার জন্য খুলে দেয়া হয়। একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পৰ থেকে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি শিৰাপ্রতিষ্ঠান, সাহায্য সংস্থা, এনজিও, পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসহ সর্বসত্মরের মানুষ স্মৃতিসৌধে এসে শ্রদ্ধা জানায়।
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষ ভিড় করতে থাকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনে। সবার হাতে ফুলের তোড়া, কালো ব্যানারে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা 'বুদ্ধিজীবীর স্মরণে ভয় করি না মরণে' বুদ্ধিজীবীদের রক্ত বৃথা যেত দেব না। জামায়াত, শিবির, রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।' সবার মাঝে ছিল একই দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রম্নত শেষ করতে হবে। জাতি আর এ কলঙ্ক বহন করতে চায় না।
রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে পাকিসত্মানী হানাদার, রাজাকার, আলবদরদের সহায়তায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- হয়েছিল। যারা এ হত্যাকা-ে জড়িত, তাদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি দেয়া হবে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরম্ন হয়েছে। তবে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের রৰার জন্য আন্দোলন শুরম্ন করেছে।
তিনি বিএনপির এ আন্দোলনের বিরম্নদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো জাতির সঙ্গে আজ আমরা বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করছি। তিনি বলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পৰ নিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরম্ন করা হয়েছে। এ বিচার শীঘ্রই সম্পন্ন হবে ইনশাআলস্নাহ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সকাল পৌনে ৮টায় বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম জিয়া শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বাইরে এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা অজস্র সংগঠন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গগনবিদারী সেস্নাগানে চারদিক প্রকম্পিত করে তোলে। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সব সময়ই বলছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সেটা অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেৰ হতে হবে। এ বিচার যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য প্রক্রিয়া চালাতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সরকারী দলের ভূমিকা মুখ্য। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার সে ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এইচএম এরশাদ বলেন, 'আজকের এ দিনের শোককে আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে কোন ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। এ সময় তিনি বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যে প্রক্রিয়ায় চলছে তাতে সনত্মোষ প্রকাশ করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বুধবার সকাল থেকেই মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে ফুলে ফুলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও নানা বয়সী মানুষ শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। মুক্ত আবহে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমির গণকবরে কৃতজ্ঞ বাঙালীর ঢল নেমেছিল শীতের মধ্যেও সেই কাকডাকা ভোর থেকে। সকাল সোয়া ৭টায় মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ফুল দেয়ার মধ্য দিয়ে এ স্মৃতিসৌধে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরম্ন হয়। মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারাও বুদ্ধিজীবীদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৰ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা থানা আওয়ামী লীগের পৰ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ দুটি স্থানেই নামে লাখো শোকার্ত মানুষের ঢল। দেশবাসী গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে জাতির বিবেক শহীদ ওই বুদ্ধিজীবীদের। যাদের পবিত্র রক্ত লেগে আছে আমাদের এ রক্তস্নাত লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায়। রাজধানীর বাইরেও সারাদেশের বধ্যভূমি, সমাধি ও স্মৃতিসত্মম্ভগুলো বুধবার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা এনজিও কর্মকর্তা শফিকুল আজিজ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের সত্যিকারের ইতিহাস যেন পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে সেজন্যই সনত্মানদের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, যে করেই হোক দেশকে রাজাকারমুক্ত করতে হবে। এ সরকারের আমলেই একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানান।
মিরপুর ও রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে। শ্রদ্ধা নিবেদন করে মইনুদ্দীন খান বাদলের নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু), মনজুরম্নল আহসান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারম্নন হাবিব ও সুব্রত ঘোষের নেতৃত্বে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ন্যাপ (মোজাফফর), গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, বিপস্নবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাকের পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতি লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলা একাডেমী, উদীচী, ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বিএফইউজে, ডিউজে, ঢাকা মহানগর সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, ন্যাপ (ভাসানী), ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় যুবজোট, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাসানী স্মৃতি সংসদ, আওয়ামী তরম্নণ লীগ, যুব মৈত্রী, উদীচী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মহিলা পরিষদ, তরিকত ফেডারেশন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, অপরাজেয় বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল_ জেএসডি, ওয়েস্ট ধানমন্ডি হাইস্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, শহীদ বুদ্ধিজীবী আইডিয়াল একাডেমী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, স্বাধীনতা শিৰক পরিষদ, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রজন্ম একাত্তরসহ অজস্র সংগঠন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
তিন দিন ধরে জেরা করে মূল পয়েন্টে আসতে পারেনি সাঈদী পক্ষ
যুদ্ধাপরাধীর বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাৰী মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম হাওলাদেরকে আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। চতুর্থ দিনে আসামি পৰের আইনজীবী সাৰীকে সরকারের নিকট সাহায্যের আবেদন ও তার মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও প্রশ্ন করেন। সাক্ষী এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামির আইনজীবী যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। তিনি যে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন, তৎকালীন এমপি সাঈদী অনুমোদন করেছেন। তবে ব্যক্তি সাঈদী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য সাঈদী হিসেবে। এটা নিয়ন্ত্রণ করত জেলা কমান্ডার।
ট্রাইবু্যনাল এক পর্যায়ে সাঈদীর আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তিন দিন ধরে একজন সাক্ষীকেই জেরা করছেন, বৃহস্পতিবারও তা চলবে। এখনও আপনারা বলছেন, আমরা আমাদের পয়েন্টে আসছি। এতে সাক্ষীর ওপরও চাপ পড়ে, এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। এ পর্যায়ে আসামি পৰের আইনজীবী বলেন, আমরা একটি প্রশ্নও খামাখা করছি না। সব প্রশ্নেরই পয়েন্ট আছে। ট্রাইবু্যনাল তা দেখতে পাবে।
সাৰী মাহবুবুল আলম হাওলাদার আরও বলেন, আসামি পৰের আইনজীবী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সুন্দরবন এলাকার দায়িত্বে থাকা সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ তাকে কোন দায়িত্বও দেননি, এটা সত্য নয়। পিরোজপুর মুক্ত হবার পর ৮, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পিরোজপুর এলাকার শানত্মি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের ধরা হয় এবং স্টিমারে করে সুন্দরবন নিয়ে সেখানে অবস্থিত কিলিং স্কোয়াড গঠন করে তাদের হত্যা করা হয় এটাও সঠিক নয়। চতুর্থ দিনের মাথায় সাৰীকে জেরা করতে সাৰী এ সমসত্ম কথা বলেন। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল জেরা বৃহস্পতিবার পর্যনত্ম মুলতবি করেন।
বুধবার সকাল ১০টায় আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের কার্যক্রম শুরম্নর পর সাঈদীর আইনজীবী কফিল উদ্দীন চৌধুরী পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবকে জেরা শুরম্ন করেন। এর আগেই সাঈদীকে ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হয়। হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর বিরম্নদ্ধে মাহবুব আলম হালদারই এ ট্রাইবু্যনালে প্রথম সাক্ষী। এর আগে তিনি ট্রাইবু্যনালকে জানিয়েছিলেন, একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর হয়ে পিরোজপুর এলাকায় পাকিসত্মানী হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। নিম্নে মাহবুবুল আলমের জেরা দেয়া হলোর:-
প্রশ্ন : সুন্দরবন এলাকা পিরোজপুর জেলায় নয়।
উত্তর : জি, সুন্দরবন পিরোজপুর জেলায় নয়।
প্রশ্ন : এটা সাতৰীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং ভারতের একটা অংশজুড়ে অবস্থিত।
উত্তর : সঠিক জানি না।
প্রশ্ন : আপনি মেজর জিয়াউদ্দিন এর ক্যাম্পের কথা বলেছেন। এই ক্যাম্পটি সুন্দরবন কতটুকু ভিতরে।
উত্তর : জানা নেই। আমি বেশির ভাগই শরণখোলা ক্যাম্পে যোগাযোগ করতাম।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন, সুন্দরবন মেজর জিয়াউদ্দিনের ক্যাম্পে গেছেন। উনাকে না পেলে কালাম সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ওই ক্যাম্প অফিস কেমন ছিল। বা ক্যাম্পের আকৃতি কেমন ছিল।
উত্তর : পূর্বের তৈরি ঘর ছিল। এটা ফরেস্ট অফিস।
প্রশ্ন : আপনি ওই ঘরে যখন যেতেন, ওখানে মেজর জিয়াউদ্দিনের অফিসটাতে অন্যান্য কমান্ডারের নামের বোর্ড ছিল কিনা।
উত্তর : ক্যাম্প এলাকাভিক্তিক দাযিত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাম সম্বলিত বোর্ড ছিল না।
প্রশ্ন : ওখানে চোখে পড়ার মতো উলেস্নখযোগ্য ব্যক্তির কোন ছবি ছিল।
উত্তর : ছিল না। সৌন্দর্য রৰার জন্য কোন ছবি ছিল না।
প্রশ্ন : উনার টাইপিস্ট বা পিএস ছিল না।
উত্তর : টাইপিস্ট বা পিএ দেখি নাই।
প্রশ্ন : একাত্তরের পরে স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্দর বনের এলাকায় যে ক্যাম্প ছিল, সেখানে যাওয়া আসা কত সময় লাগত।
উত্তর : স্বাভাবিকভাবে এক দিনের ভিতর লাগত। কোন কোন দিন জোয়ার ভাটার কারণে বেশি সময় লাগত।
প্রশ্ন : স্বাভাবিক কোন সার্ভিস ছিল না।
উত্তর : না। বিশেষ ব্যবস্থায় যেতে হতো।
প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে যে নৌকা ছিল মাঝি-মালস্না কারা ছিল। সংখ্যা কত।
উত্তর : রইস উদ্দিন, শহীদ উদ্দিন আমরা গোয়েন্দা হিসেবে ছিলাম।
প্রশ্ন : আপনি ওখানে গিয়ে রাত্রি যাপন করতেন।
উত্তর : শারীরিক কারণে থেকেছি।
প্রশ্ন : ওখানে থেকেছেন, অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
উত্তর : ক্যাম্পে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।
প্রশ্ন : ৬টি ক্যাম্প ছিল।
উত্তর : প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি ক্যাম্প ছিল। পরিস্থিতি ক্রমে জঙ্গলের ভিতর ক্যাম্প বাড়ানো হয়। তবে সঠিক বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : সুন্দর বন ক্যাম্পে জিয়াউদ্দিন এর অধীনে কতজন কমান্ডার ছিল।
উত্তর : সম্পূর্ণ জানি না।
প্রশ্ন : আনুমানিক বলতে পারেন।
উত্তর : পারব না।
প্রশ্ন : মেজার জিয়াউদ্দিন উনি আপনাদের এলাকার লোক। আপনার বাড়ি থেকে উনার বাড়ি কত দূর।
উত্তর : জি। সাড়ে ৫ মাইল। তবে কম বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন : উনার সঙ্গে পরিচয় কবে থেকে।
উত্তর : ছাত্রজীবন থেকে উনার সঙ্গে পরিচয়। এখন অনেক দিন থেকে পরিচয় নেই।
প্রশ্ন : আপনি ক্যাম্পে গিয়ে কিভাবে ডাকতেন।
উত্তর : ওসত্মাদ বলে ডাকতাম। এখনও তাই বলি।
প্রশ্ন : সুন্দর বনের মধ্যে অনেক নাম আছে। যে ক্যাম্পে ছিল খোনের নাম জানেন কি। জানলে কি নাম।
উত্তর : সঠিক বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ক্যাম্পে আসা যাওয়ার সময় আক্রানত্ম হয়ে আহত হয়েছিলেন।
উত্তর : এমন হয়নি। যাওয়া আসার সময় সতর্ক ছিলাম। নৌকায় একবার বিপদ হয়।
প্রশ্ন : ওই সময় ক্যাম্পের নিরাপত্তা বলয় ছিল কিনা। জিয়াউদ্দিনের পাহারায় কমান্ডো ছিল।
উত্তর : নিরাপত্তা বলয় বা কমানোড বাহিনী ছিল না।
প্রশ্ন : আপনি তার অফিসে গেলে তার পাশে কে থাকত। তার নাম জানলে বলেন।
উত্তর : মহিউদ্দিন তালুকদার, আবদুল গনি পসারী, চুন্নু খান, গৌতম হালদার, মুনীর মাস্টার, শংকর সেন মাঝে মধ্যে যেতেন।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধপরিচালনার জন্য বিভাগ উপবিভাগের নাম ভাগ করেছিলেন। এদের নাম বলতে পারবেন।
উত্তর : সামছুল হক এ্যাডভোকেট, ভা-ারিয়ার আজিজ। অন্যান্য বলতে পারব না।
প্রশ্ন : উনি কি গোয়েন্দা বিভাগকে আলাদা করেছিলেন। তার একজন প্রধান করেছিলেন।
উত্তর : জানা মতে আলাদ কমান্ডার ছিলেন। তার নাম মহিউদ্দিন কালাম।
প্রশ্ন : ওই কমান্ডার সুন্দরবনের কোন এলাকায় ছিল।
উত্তর : আমার জানা মতে গোয়েন্দা শাখার আলাদা কোন ক্যাম্প ছিল না।
প্রশ্ন : ওই সময় পরিতোষ কুমার পাল নামে কারও সঙ্গে পরিচয় ছিল।
উত্তর : এখন মনে নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালীন বাবুল গাজী নামে কারও চিনতেন।
উত্তর : পারেরহাটে এলাকায় বাবুল গাজী নেই।
প্রশ্ন : তাম্বুলবুনিয়া, পাংগাসিয়া নাম শুনেছেন।
উত্তর : পাংগাশিয়ার নাম শুনেছি।
প্রশ্ন : পাংগাসিয়া কি বাড়ি, না পাহাড়।
উত্তর : বলতে পারব না। তবে গ্রাম হতে পারে।
প্রশ্ন : তাম্বুল বুনিয়া চেনেন।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে থানাভিত্তিক কমান্ড করেছিল। আপনার থানায় মেজর জিয়াউদ্দিন কতর্ৃক কমান্ডার কে ছিলেন।
উত্তর : আমাদের থানা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন শামসুল হক বর্তমানে এ্যাডভোকেট।
প্রশ্ন : পাশের থানার উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কে ছিলেন।
উত্তর : আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : স্বরূপকাঠি, কাউখালী, মঠবাড়িয়া থানায় কে নিয়োগ ছিল।
উত্তর : ভান্ডারিয়ারটা শ্মরণ আছে। তার নাম সুবেদার আজিজ। বাকিগুলোর কমান্ডার কে ছিলেন এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই।
প্রশ্ন : আপনি নিজে যুদ্ধ করেননি। গোয়েন্দা ট্রেনিং নিয়েছিলেন কি করে।
উত্তর : ক্যাম্পে গোয়েন্দার উপর স্বাভাবিক ট্রেনিং নিয়েছি।
প্রশ্ন : কোন ক্যাম্প থেকে কোন সময় ট্রেনিং নিয়েছেন।
উত্তর : জুনের শেষে সুন্দরবন ক্যাম্পে। সুবেদার মধুর অধীনে ট্রেনিং নিয়েছি।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পটি সুন্দরবনের কোন জায়গায় অবস্থিত।
উত্তর : আমাকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য কোন এলাকায় হয়েছে, তা বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, মজিদ খান, হারম্ননুর রহমান, জাহাঙ্গীর মাহবুবকে তাদের চিনেন।
উত্তর : সরাসরি চিনি না। বিসত্মারিত বলতে পারব না।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় এ রকম নামের সঙ্গে লোকজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।
উত্তর : পরিচয় হয়েছিল কিনা, নাম ঠিকানা না বললে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনি এই ট্রাইবু্যনালে যে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ দায়েরের সময় (২০/৭/১০) সেখানে বলেননি, আউয়াল সাহেব গোয়েন্দার দায়িত্বে ছিলেন।
উত্তর : আমি ২০/৭/২০১০-এর বিষয়টি ছিল মূল বিষয়। কে দায়িত্বে ছিল, সেটা চিনত্মা করিনি।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রম্ন মুক্ত হয়। সেটা মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে কয়টায় মুক্ত হয়।
উত্তর : মনে নেই। জানতাম সঠিক খেয়াল নেই।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বর পারেরহাট ছিলেন। মেজর জিয়াউদ্দিন পারেরহাটে এসেছিলেন।
উত্তর : পিরোজপুরে শত্রম্ন মুক্ত হবার পরে পারেরহাটে আসছিলেন। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তবে এই মুহূর্তে সময় বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ৮ তারিখের কয়দিন পরে এসেছিলেন।
উত্তর : সঠিক বলতে পারব না। তবে ৮ তারিখ নয়।
প্রশ্ন : জিয়াউদ্দিন যেহেতু কমান্ডার ছিলেন। সেই কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ পূর্বক বই 'মুক্তিযুদ্ধের সেই উম্মাতাল দিনগুলো' লিখেছিলেন। সেটা দেখেছেন।
উত্তর : পড়িনি, শুনেছি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর জেলা পরিষদ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পিরোজপুর ইতিহাস গ্রন্থ বের করে।
উত্তর : বের করেছে কি না জানি না।
প্রশ্ন : পিরোজপুরের ইতিহাস, মেজর জিয়াউদ্দিন লিখিত বই আপনি জেনে শুনে গোপন করেছেন। যেহেতু ওই বইয়ে আপনার কথা নেই।
উত্তর : সত্য নয়। জেলা পরিষদ কতর্ৃক পিরোজপুরের ইতিহাস গ্রন্থ নামক বই সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু আমার কথিত কোন বক্তব্যের সত্যতা উলেস্নখিত বই দুটিতে না থাকায় এবং উক্ত বইয়ে আমার কোন পরিচয় না থাকায় সত্য গোপন করার জন্য আমি ওই বই দুটি সম্পর্কে জানি না ভাবে বক্তব্য দিয়েছি। এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ সরকার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র নামে গ্রন্থ বের করে। সেই গ্রন্থ ৭, ৮, ১০ খ-ে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আছে। সেটা পড়েছেন কিনা।
উত্তর : আমি পড়িনি। ইহা সত্য নয় যে, ওই গ্রন্থসমূহে পিরোজপুরের যুদ্ধকালীন সময়ের প্রকৃত ঘটনা বলা হয়েছে এবং সেখানে আমার কথিত কোন বক্তব্য না থাকায় আমি সত্য গোপন করার উদ্দেশে ওই দলিলপত্র নামে কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বই পড়িনি মর্মে বলেছি।
প্রশ্ন : পিরোজপুর শত্রম্ন মুক্ত হলে ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর রাজাকার, শানত্মি কমিটির সদস্যদের স্টিমারে করে নিয়ে সুন্দরবনে হত্যা করা হয়।
উত্তর : ইহা সত্য নয় যে ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ডিসেম্বর মেজর জিয়াউদ্দিন-এর নেতৃত্বে পিরোজপুর এলাকার শানত্মি কমিটি সদস্য, রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতা বিরোধীদের ধৃত করেন। এবং স্টিমার করে সুন্দরবনে নিয়ে সেখানে অবস্থিত কিলিং স্কোয়াড গঠন করে, তাদের হত্য করা হয় এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই সময় (৮ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর) মধ্যে মামলার উলেস্নখিত রাজাকার মূলত সেকান্দার সিকদার, দানেশ মোলস্না, মোসলেম ম-ল, দেলাওয়ার হোসাইন, মলিস্নক সৈয়দ মোঃ আফজালসহ এখানে কুখ্যাত রাজাকারদের গ্রেফতার করা হয়।
উত্তর : সত্য নয়। একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেকেন্দার সিকদার। অন্যান্যরা পালিয়ে যান।
প্রশ্ন : স্বাধীনতা উত্তর-এর পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধী ছিল এবং সহযোগিতা করেছে তাদের বিরম্নদ্দে মামলা হয়েছে।
উত্তর : এটা জানা নেই।
প্রশ্ন : বড় রাজাকার ছিল। পলাতক ছিল, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।
উত্তর : শুনেছি। গোলাম আযমসহ বিশেষ ব্যক্তিদের।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন তখন মেজর ছিলেন না। তার সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেই ভুল বলছেন।
উত্তর : সত্য নয়। জিয়াউদ্দিন সে সময় মেজর ছিলেন না। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কোন পরিচয় ছিল না।
উত্তর : আদৌ সত্য নয়। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আমাকে গোয়েন্দার দায়িত্ব নিয়োগ করেন এবং আমি কখনও সুন্দরবনে যাইনি এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সে জন্য জনগণ দরখাসত্ম দিয়েছিল।
উত্তর : সঠিক নয়। আমার বেলায় এমন করেনি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ করতে পারে অন্যদের বিষয়ে। আমার বেলায় নয়।
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিবার্তায় কোন সংখ্যায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হন।
উত্তর : আমি খালেদা জিয়ার সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত হয়েছি।
প্রশ্ন : ২০০৪, ২০০৫ সালে যে সাহায্যের আবেদন করেন, সেখানে সুপারিশ নিয়েছিলেন আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কাছ থেকে।
উত্তর : ২০০৪, ২০০৫ সালে যে সাহায়্যের আবেদন করি তাতে সুপারিশ করেছেন তৎকালীন এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তবে ব্যক্তিগত সাঈদী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য সাঈদী হিসেবে। জেলা কমান্ডার নিয়ন্ত্রণে এটা করা হয়েছে।
প্রশ্ন : আপনি যেহেতু বিএনপি আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাঈদীর সুপারিশে। আউয়াল সাহেব মৌখিক নির্দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা বন্ধ করেছে।
উত্তর : সত্য নয় যে, খালেদা জিয়ার সময়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়ায় এবং বিভিন্ন সময়ে সাঈদীর সুপারিশে নেয়ায় বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি এম এ আউয়াল জনগণের দরখাসত্মের ভিত্তিতে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মৌখিক নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। ইহা সত্য না নয়।
প্রশ্ন : যেহেতু কর্মহীন বেকার সে জন্য এমপির কাছে যান। যেয়ে বলেন আমাকে বাঁচান। ভাতা চালু করেন।
উত্তর : সত্য নয়। আমি সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল সাহেবের কাছে গিয়ে, অসহায় বেকার আপনি যাহা বলবেন তাই করব। আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করে দিন। এ কথা সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই দুর্বলতার সুযোগে আউয়াল সাহেব উর্ধতন কতর্ৃপৰের সঙ্গে আলোচনা করে, আপনাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা সৃষ্টি করেছে।
উত্তর: সত্য নয়। আমার উলিস্নখিত দুর্বলতার কারণে এমপি এম এ আউয়াল সাহেব সরকারের উর্ধতন কতর্ৃপৰের সঙ্গে যোগসাজশে আমাকে দিয়ে এই ভুয়া মামলা দায়ের করেছে এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন: দেশে ৬২ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে।
উত্তর: জানা নেই।
প্রশ্ন: আপনি আপনার পিরোজপুরের ৩১/৮/৯ তারিখের মামলায় এবং ট্রাইবু্যনালের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন বর্তমান সাঈদী লেখেননি।
উত্তর: কাগজ না দেখে বলতে পারব না।
প্রশ্ন: সাঈদীর নামের ব্যাপারে সাৰ্য প্রমাণকালে যেভাবে বলেছে এই কথা অন্যভাবে বলা হয়নি।
উত্তর: জি সঠিক।
প্রশ্ন : দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আপনার এলাকা থেকে তিনবার এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
উত্তর: জি।
প্রশ্ন: প্রত্যেকবার আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হিসেবে পোস্টারিং করেন।
উ্ত্তর: ওই নামেই করেছে। প্রত্যেক বার আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নামে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করেছেন এবং সভা করেছেন।
প্রশ্ন: তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাবু সুধাংশু শেখর হালদার সাঈদীর বিরম্নদ্ধে দুই বার নির্বাচনী মামলা করেছেন। সে মামলায় অনেক অভিযোগ থাকলেও নাম ও স্বাধীনতা বিরোধী অভিযোগ করেননি।
উত্তর: বাবু সুধাংশু শেখর হালদার তার মামলায় সাঈদীর বিরম্নদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। তার নামের ব্যাপারে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযোগ আনেননি। কোন সভাতেও বাবু সুধাংশু শেখর হালদার সাঈদীর বিরম্নদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযোগ এনেছেন কিনা আমি জানি না।
প্রশ্ন: ওনার নির্বাচনকালে সময়ে ৰতিগ্রসত্ম পরিবারের লোকজন তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন কিনা।
উত্তর: জানি না।
প্রশ্ন: ওমেদপুর বিশাবালী হত্যার কথা বলেছেন, সেই ক্যাম্পে সাঈদী বিপুল ভোটে বিজয় হয়েছিল।
উত্তর: হঁ্যা।
প্রশ্ন: টেংরাখালী কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট পান।
উত্তর: টেংরাখালী এবং পারেরহাট নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট নয়।
প্রশ্ন: আপনার এলাকার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট শহীদুল আলম নিরম্ন এবং মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বাদশা, আব্দুস সালাম বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান ও খুসরম্ন আলমকে চিনেন।
উত্তর: এ্যাডভোকেট শহীদুল আলম নিরম্ন, মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বাদশা, এদের চিনি। বাহাদুর এবং খসরম্নকে চিনি না। আব্দুস সালাম বাতেন নামে আমাদের এলাকায় কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিল না।
প্রশ্ন: খসরম্ন আলম ছিলেন পারেরহাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
উত্তর: তাকে কমান্ডার হিসেবে দেখিনি।
প্রশ্ন: এই সব মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে বিরাট একটি বাহিনী ছিল। যারা নির্বাচনে সাঈদীকে সহায়তা করেছে।
উত্তর: সত্য নয় যে, আমাদের এলাকায় যেসব বিশিষ্ট মুক্তিবাহিনী ছিল যাদের নাম উলেস্নথ করতাম, তারাসহ একটি বিরটি বাহিনী সাঈদী সাহেবের প্রত্যেক নির্বাচনে তার পৰে কাজ করেছেন এবং আমি অভিযোগ করার পূর্বে তার বিরম্নদ্ধে এলাকার কোন দিন যুদ্ধাপরাধী বা অন্য কোন অভিযোগ আনেননি । এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন: যুদ্ধাকালীন সময়ে আপনাদের এলাকায় এসডিপি ও ফয়েজুর রহমান শহীদ হন।
উত্তর: শুনেছি।
প্রশ্ন: তার স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ স্বাধীনতার পরে একটি মামলা করেছে।
উত্তর: জানি না। আয়েশা ফয়েজ স্বাধীনতার পরে ফয়েজ সাহেব হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের নাম উল্লেখ করে পিরোজপুর থানায় মামলা করেছিল কিনা জানি না।
প্রশ্ন: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামীহারা স্মৃতি 'জীবন যে রকম ' ২০০৮ লেখেন।
উত্তর: আমার জানা নেই যে আয়েশা ফয়েজ ২০০৮ সালে জীবন যে রকম লিখেছে সেটা জানি না।
পরাজিতদের আবার কিসের বিজয় দিবস?
মুনতাসীর মামুন
বর্তমান আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় বেগম জিয়ার দুঃসহ আমলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় থেকে, রাস্তায়। এখনও তিনি দেখা হলে মন্ত্রী হিসেবে নন, পুরনো সংগ্রামী হিসেবে সম্মান করেন। আমিও তাঁকে পুরনো সহযোদ্ধা হিসেবে সম্মান করি। অবশ্য তাঁর অনেক রাজনৈতিক কথাবার্তার সঙ্গে আমি একমত নই, তিনিও হয়ত আমার অনেক বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। কয়েক দিন আগে টেলিভিশনে এক আলোচনায় আমরা দু'জন ছিলাম। আমার বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান নিজ স্বার্থ অটুট রাখতে রাজাকারদের বুকের গভীরে গ্রহণ করেছিলেন। কামরুল এ মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বললেন, তিনি তা মনে করেন না। দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, জিয়া পাকিস্তানী এজেন্ট ছিলেন। [বিস্তারিত চতুরঙ্গ পাতায়, পৃষ্ঠা_৭]
বুদ্ধিজীবী হত্যা ॥ পাক সেনাদের চেয়েও বেশি সক্রিয় ছিল রাজাকার আলবদর ॥ মন্তব্য মওদুদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বুদ্ধিজীবী হত্যায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর চেয়ে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার- আলবদররা বেশি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বুধবার বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে জন্য রাজাকার- আলবদরদের দায়ী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও একবারের জন্যও তিনি বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী রাজাকার- আলবদরদের বিচার দাবি করেননি। তবে তিনি আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী এবং বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষাকারী উল্লেখ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উলেস্নখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ৩ তারিখে বিএনপির পৰে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল' বাতিলের দাবি করেছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অবস্থান করা এই মওদুদ আহমেদ। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা করে। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে পাকিস্তানী বাহিনীর চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা। রাজাকার-আলবদররাই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে চিহ্নিত করে। সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে না গিয়ে আত্মসমর্পণ করে পালিয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে জাতীয় ঐক্য ছিল আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে সেই ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. ওসমান ফারম্নক, শওকত মাহমুদ, বিএনপির শিৰাবিষয়ক সম্পাদক খায়রম্নল কবির খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু এবং ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰার দল বলে দাবি করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, বেকারত্ব দূর করে বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করেছে, ধূলিসাত করেছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে খ- খ- করে গণতন্ত্রকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অধিকারী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰাকারী হিসেবে দাবি করার কোন অধিকার আওয়ামী লীগের নেই। এ অধিকার আওয়ামী লীগ সেদিনই হারায় যেদিন তারা গণতন্ত্রকে নস্যাত করেছে। মওদুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রৰাকারী দল হলো বিএনপি। এটা ভবিষ্যতেও আমাদের রৰা করতে হবে। এটা হচ্ছে আমানত। বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের পৰের শক্তি_ দাবি করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মওদুদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সামনের সারিতে যত নেতা আছেন আর আমাদের দলের সামনের সারিতে যত নেতা আছেন তার মধ্যে আমাদের দলে সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক বেশি।
মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ কখনই জনগণের কল্যাণে কাজ করেনি। আগেও তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবারও তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। ফখরম্নল বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়া জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। পঁচাত্তরেও শহীদ জিয়া জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছিলেন। তাই তাঁরই উত্তরসূরি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান 'ফ্যাসিস্ট' সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আলোচনাসভা শেষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র ও বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর।
ভোলায় পুলিশ-জলদসু্য বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১১ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ১৪ ডিসেম্বর ॥ ভোলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরসহ মেঘনা নদীর বিচ্ছিন্ন চরগুলো এখন জেলেদের স্বর্গরাজ্য। দুর্গম দ্বীপ চরে বসে তারা সাগর আর মেঘনার মোহনার ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করছে। পুলিশ তাদের নৌ ঘাঁটিতে হানা দিলেও থামছে না ডাকাতির ঘটনা। পুলিশের সঙ্গে প্রায়ই ঘটছে তাদের বন্দুকযুদ্ব। সর্বশেষ বুধবার বিকেলে আবার মনপুরা উপজেলার সাগর মোহনায় পুলিশ ও জলদসু্যদের মধ্যে বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইলিশার জাকির বাহিনীর প্রধান জাকিরসহ ১০ জলদসু্য ও বেল্লাল (৩০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছে। ডাকাতের গুলিতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ অবস্থায় ভোলার উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক জেলে চরম আতঙ্কে রয়েছে।
মনপুরা থানার এসআই নুরম্নল আলম তালুকদার জানান, মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরনিজামের দক্ষিণে সাগর মোহনার ভাসান চরে বুধবার সকাল থেকে জলদসু্যরা ডাকাতি করছে খবর পেয়ে তারা অভিযানে যায়। ভাসান চরের কালকিনি এলাকায় জলদসু্যরা মনির মাঝির ট্রলারে ডাকাতি করে। পুলিশ কিছু দূর অগ্রসর হলে জলদসু্যরা দুটি ট্রলার থেকে পুলিশের ওপর লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জলদসু্যরা পুলিশের ওপর গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে চলে বন্দুকযুদ্ধ। এক পর্যায়ে ডাকাতরা অবস্থা বেগতি দেখে তাদের একটি ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যায়। ডাকাতদের অপর ট্রলারটি চরে আটকা পড়লে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। ওই ট্রলারে থাকা জেলে বেলস্নালকে জলদসু্যরা আগেই মেরে ফেলে বলে জানান। এ ছাড়াও পুলিশের গুলিতে ও এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে ১০ ডাকাত ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। এদের মধ্যে শুধু মাত্র ভোলার ইলিশার জলদসু্য বাহিনীর প্রধান জাকিরের নাম এসআই নুরম্নল আলম নিশ্চিত করেন। তবে বাকিদের নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি। এদিকে জলদসু্যদের হামলায় গুলিতে এসআই নুরম্নল আলম তালুকদারসহ ৩ পুলিশ আহত হয়। তারা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, জলদসু্যদের কাছ থেকে ২টি দুনালা পাইপগান,বন্দুক, ১ রাউন্ড গুলিসহ ৮টি বগি দা উদ্ধার করে। সন্ধ্যার আগে পুলিশ মনপুরার ভাসান চরে নিহত ১১ জনের লাশ নিয়ে ফিরেছে। এদিকে খবর পেয়ে এসপি বশির আহমেদ এ রিপের্াট লেখার সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘটনা স্থলের উদ্দ্যেশে পথে রয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে ১২০ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি
নিখোঁজ ৬৫ ॥ টেকনাফে রোহিঙ্গা বস্তিতে কান্নার রোল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সজার, ১৪ ডিসেম্বর ॥ টেকনাফে অবৈধভাবে ট্রলার যোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১২০ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। টেকনাফ উপকূলজুড়ে এবং রোহিঙ্গা শিবির বস্তিতে বুকফাঁটা কান্নার রোল পড়েছে। বুধবার ভোর রাত ৪টায় সেন্টমার্টিনের অদূরে মৌলভীরকুম নামক স্থানে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা।
জানা যায়, বুধবার ভোর রাত ৪টার দিকে সেন্টমর্টিন থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগর মৌলভীরকুম (স্থানীয় জেলেদের ভাষায়) দিয়ে ১২০ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার দিকে রওনা করে ট্রলারটি। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে সাগরে ট্রলার ডুবে গেলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় কয়েকজন। ভোর রাতে হঠাৎ সমুদ্রবক্ষে অসংখ্য লোকজনের চিৎকার শুনে সাগরে মাছধরারত একাধিক ফিশিংবোট এগিয়ে আসে। সাগর থেকে ভাসমান লোকজনকে উদ্ধার কার্যক্রম চালায় জেলেরা। টেকনাফ বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হোসাইন ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জনকণ্ঠকে জানান, এ ধরনের সংবাদ পেয়েছেন তাঁরা। তবে এ ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত নন। অপরদিকে এই ঘটনার ব্যাপারে দায়িত্বশীল কোন মহল মুখ না খুললেও স্থানীয় জেলেরা জানান, সকালে এই খবর পেয়ে শাহপরীরদ্বীপ উপকূল থেকে কয়েকটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়া বঙ্গোপসাগর থেকে অন্তত ৫৫ যাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে উপকূলে। তাদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এখনও নিখোঁজ রয়েছে অর্ধ শতাধিক যাত্রী।
তাঁরা আরও জানান, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের খুরেরমুখ জেলেঘাট থেকে মঙ্গলবার মাঝ রাতে ১২০ যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সেন্টমার্টিনের অদূরে পেঁৗছলে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও সঠিক কোন তথ্য জানে না বলে জানিয়েছেন। ট্রলার ডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ও উপকূলে ফিরে এসে শাহপরীরদ্বীপের কোনারপাড়ার এলাকার নুর আহমদের পুত্র মুহাম্মদ আমিন, আব্দুস শুক্কুরের পুত্র কালা মিয়া, আবদুল খালেকের পুত্র মোঃ কালু, মুহাম্মদের পুত্র তৈয়ব, জালিয়াপাড়ার আবদুর রহিম, চট্টগ্রাম বোয়ালখালী এলাকার শহীদ উলস্নাহ জনকণ্ঠকে জানান, একটি পুরোনো কাঠের নড়বড়ে ট্রলারে করে ধারণ ক্ষমতার চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আদম বেপারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের আর্থিক অনিয়মের মামলাটি বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে আরেকটি বেঞ্চ বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের আর্থিক অনিয়মের মামলাটি বাতিলের আবেদন খারিজ হওয়াতে নিম্ন আদালতে এ মামলা চলতে আর বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এ মামলা বাতিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ ও এসএইচ মোঃ নূরম্নল হুদা জায়গীরদারের বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরম্নদ্ধে এ মামলা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় করা এ মামলায় খালেদার পাশাপাশি আসামি করা হয় তার ছেলে তারেক রহমানসহ মোট সাতজনকে। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নিম্ন আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলতে আর কোন বাধা রইল না।
এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, 'হাইকোর্ট বলেছে, মামলার এফআইআরে তার (খালেদা) নাম এসেছে। চার্জশিটেও তার কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা এসেছে। তাই তিনি দোষী কি নির্দোষ_ এই পর্যায়ে সে সিদ্ধানত্ম হাইকোর্ট দিতে পারে না।'
শুনানিতে মামলাটি বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে এ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও এ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং সরকার পৰে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মামলা বাতিল না করার পক্ষে যুক্তি দেন।
জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রবাসী বাঙালীদের শোক
জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃতু্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী বাঙালীরা। এক শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, উদার মানসিকতা ও মুক্তচিন্তার ধারক অধ্যাপক কবীর চৌধুরী জাতির দুঃসময়ে সুচিনত্মিত ও মূল্যবান পথনির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন তিনি। প্রবাসীরা বলেন, তিনি দেশ ও জাতির অভিভাবকদের ভূমিকা পালন করেছেন। মানবকল্যাণে অবদানের জন্য বাঙালী জাতি চিরকাল তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তাঁরা অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এক শোকবার্তায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আবদুল মতিন, সুলতান মাহমুদ শরিফ, জার্মান প্রবাসী অনিল দাশগুপ্ত, অস্ট্রিয়া প্রবাসী এম নজরুল ইসলাম, হল্যান্ড প্রবাসী মাঈদ ফারুক, মোস্তফা জামান, ইতালি প্রবাসী মাহাতাব হোসেন, বেলজিয়াম প্রবাসী বজলুর রশীদ বুলু, ফ্রান্স প্রবাসী বেনজীর আহমেদ সেলিম, ডেনমার্ক প্রবাসী এম. মোসত্মফা মজুমদার বাচ্চু, মোহাম্মদ আলী মোলস্না লিংকন, সুইজারল্যান্ড প্রবাসী তাজুল ইসলাম, সুইডেন প্রবাসী জাহাঙ্গীর কবির, ফিনল্যান্ড প্রবাসী রমজান আলী, নরওয়ে প্রবাসী সিমন আলী, পতর্ুগাল প্রবাসী রফিকউলস্নাহ, স্পেন প্রবাসী জহিরম্নল ইসলাম, আয়ারল্যান্ড প্রবাসী মোনায়েম খন্দকার, গ্রীনল্যান্ড প্রবাসী ড. আফতাব হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নূরম্নন্নবী, বেলাল বেগ, ড. জ্যোতি প্রকাশ দত্ত, হাসান ফেরদৌস, সৈয়দ মোহাম্মদউলস্নাহ, ড. ব্রাহ্মণ দাশ বসু, সিব্বীর আহমেদ, ড. সিদ্দিকুর রহমান, কানাডা প্রবাসী, ড. মোজাম্মেল হোসেন খান, শিল্পী নাহিদ কবির কাকলী, সাইফুলস্নাহ মাহমুদ দুলাল, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ড. আবদুর রাজ্জক, অজয় দাশগুপ্ত, ড. লাভলি রহমান, পিএস চুনু, নিউজিল্যান্ড প্রবাসী প্রকৌশলী শরিফ ভূঁইয়া, রাশিয়া প্রবাসী ড. এম পাটোয়ারী বাহার, জাপান প্রবাসী প্রবীর বিকাশ সরকার, সজল বড়ুয়া, দৰিণ কোরিয়া প্রবাসী আমিরম্নল আলম খান, মালয়েশিয়া প্রবাসী ড. মাহমুদ হাসান, সিঙ্গাপুর প্রবাসী মমিনুল বাসার ভুইয়া, সৌদি আরব প্রবাসী প্রকৌশলী আবদুল গনি, আরব আমিরাত প্রবাসী মহিন উদ্দিন মহিন, ইফতেখার হোসেন বাবুল, কাতার প্রবাসী এম এ মুসা, কুয়েত প্রবাসী সাদেক হোসেন, ওমান প্রবাসী এমএম আমিন, বাহরাইন প্রবাসী বজলুর রহমান প্রমুখ শোকসনত্মপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিভিন্ন সংগঠনের শোক ॥ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর মৃতু্যতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রসত্মাব, শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠন এই শোক জ্ঞাপন করেছে।
বিশ্ব কবিতা পরিষদ, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, প্রশিকা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতির বিবেক, বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত কবীর চৌধুরীর মৃতু্যতে আমরা গভীর শোকাহত। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ছিলেন আমাদের জাতির অভিভাবক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বসত্মরে বাসত্মবায়নে এবং মুক্ত চিনত্মাচেতনার সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আজীবন কাজ করেছেন। তার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
প্রশিকার শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কবীর চৌধুরী নিজের দীর্ঘ জীবনে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, বৈষম্য ও শোষণ-নিপীড়নের বিরম্নদ্ধে আপোসহীনভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পৰে তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। তার সাহিত্যকর্ম গুণে ও পরিমাণে অত্যনত্ম উজ্জ্বল ও বিশিষ্ট। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বিদায়ে বাংলাদেশের শিৰা-সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার ক্ষেত্রে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণীয় নয়। প্রশিকার সর্বসত্মরের কর্মীদের পৰ থেকে অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার শোকসনত্মপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
বিজয়ের মাস
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১। পাক হানাদারদের শেষ আশাও শেষ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজী বুঝে গেল, মার্কিন সপ্তম নৌবহর তাকে সাহায্য করতে আসবে না। ফলে ১৫ ডিসেম্বর সকালে সব আশা ছেড়ে দিল, শর্তসাপেৰে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব নিয়ে বিদেশী দূতাবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করল নিয়াজী। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করলে আরও ভেঙ্গে পড়ে পাক হানাদাররা। মিত্রবাহিনী ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিল।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা সেই প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলস্নীর মার্কিন দূতাবাসে। সেখান থেকে পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে। এরপর ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের কাছে জানতে চাইল নিয়াজীর এই প্রস্তাবে পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সমর্থন আছে কিনা। প্রস্তাবের মূল কথা_ 'আমরা যুদ্ধ বন্ধ করেছি। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত গোটা পাক বাহিনীকে চলে যেতে দিতে হবে, কাউকে গ্রেফতার করা চলবে না।'
জেনারেল নিয়াজী মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে এই আশ্বাস পায় যে, সপ্তম নৌবহর তার লোকজনকে পশ্চিমে নিয়ে যাবে। ঢাকার অন্যান্য বিদেশী দূতাবাস কিন্তু এ সময় আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়েছিল। বিদেশীরাও বুঝেছিল নিয়াজী লড়াই চালিয়ে সুবিধা পাবে না। শুধুই লোক মারা যাবে। ১৫ তারিখ দিলস্নীর মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভারত সরকার খবর পেল নিয়াজী শর্তসাপেৰে আত্মসমর্পণ করতে চায়। কিন্তু ভারত সরকার এ প্রসত্মাব নাকচ করে দিল। ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের পাক বাহিনীকে এই আশ্বাস দিতে রাজি যে, যুদ্ধবন্দীরা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবহার পাবেন।
পাকি জেনারেল নিয়াজীর শর্তসাপেৰে আত্মসমর্পণের প্রসত্মাব পেয়ে ভারতীয় বাহিনী মনে করে এটি তার কৌশল। নিয়াজীর প্রসত্মাবকে তাদের কাছে মনে হলো এটি যুদ্ধবিরতি, আত্মসমর্পণ নয়। কিন্তু মিত্র বাহিনী বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছুতেই রাজি নয়। এ জন্য ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যনত্ম সময় দেয়া হলো। আর এ পর্যনত্ম ভারতীয় বিমান বাহিনী কোন আক্রমণ করবে না। এর মধ্যে আত্মসমর্পণের খবর না পেলে আবার আক্রমণ শুরম্ন করা হবে।
জেনারেল মানেকশ তাঁর শেষ বার্তায় পিন্ডিকে বলেছিল, সকাল ৯টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। শোনা যায়, নিয়াজী সেদিন সারারাত ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, দূতাবাসের সাহায্য নেন। কিন্তু পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন মিত্রবাহিনীর গোলার আওয়াজ বাড়তে থাকে। ঢাকার অসামরিক পাকিসত্মানীরা ও কয়েকটি বিদেশী দূতাবাসও আত্মসমর্পণের চাপ বাড়িয়ে দিল পাক হানাদার বাহিনীর ওপর। ৪০ বছর আগে একাত্তরের এদিন মধ্যরাতে পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফের কাছ থেকে শেষ নির্দেশ পান নিয়াজী। নিয়াজীকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণের শর্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। এ নির্দেশ পেয়ে সেনানিবাসে নিজের কৰে বসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন কথিত পরাক্রমশালী পাকি জেনারেল নিয়াজী। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে রাত দুইটার মধ্যে বাংলাদেশের সব জায়গায় অবস্থানরত হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে তারবার্তা পাঠান।
আনত্মর্জাতিক পাকিসত্মান মার্কিন ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যে কোন মুহূর্তে পাকিসত্মান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করবে। চারদিক থেকে ঢাকা অবরম্নদ্ধ। পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ না করে কোন উপায় নেই। এদিন দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় লেখা হয়- 'ইয়াহিয়ার সৈন্যবাহিনীকে তাড়িয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণাথর্ীরা মুক্ত বাংলাদেশে আসতে শুরম্ন করে। দেশের ভেতর বাড়ি-ঘর থেকে বিতাড়িত লোকজনও বাড়িতে ফিরে আসতে শুরম্ন করেছে।' এদিকে জামায়াতে ইসলামী, পিডিপি, নেজামী ইসলামীর নেতাকমর্ীর অনেকেই মুক্তিবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে আবার অনেকেই আত্মগোপন করেছে।
আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মঈনুদ্দিনের বিচার হবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
শংকর কুমার দে ॥ বুদ্ধিজীবী হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীর অপরাধে অভিযুক্ত ইংল্যান্ডে অবস্থানকারী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আমেরিকায় অবস্থানকারী আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে বিচার হবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল ও পুলিশের উচ্চ পর্যায় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুদ্ধিজীবী নিধনের উপর ডেভিড বার্গম্যান ওয়ার ক্রাইম ফাইল ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে তা লন্ডনের টুয়েনটি টুয়েনটি টেলিভিশন চ্যানেল ফোরে প্রচার করেছে। এই মামলায় আসামি করা হয় আলবদর বাহিনীর লন্ডন প্রবাসী চৌধুরী মাইনউদ্দিন ও নিউইয়র্ক প্রবাসী আশরাফুজ্জামানকে। লন্ডনের টুয়েনটি টুয়েনটি টেলিভিশন চ্যানেল ফোরে প্রচার করা ডকুমেন্টে ঘাতকদের স্বরূপ উম্মোচিত করেছে। আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের তদনত্ম কর্মকর্তারা বুদ্ধিজীবী ও যুদ্ধাপরাধী দুইটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
এই দুইজন ছিলেন জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা, একাত্তরের ঘাতক ও আলবদর নেতা। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ জন শিৰক ও বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগের তদনত্ম করা হচ্ছে। অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক সনত্মোষ ভট্টচার্য, ড. ফজলুল মহিউদ্দিন, ড. আবুল খায়ের, সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল হক, ড. মুতুর্জা, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, শহীদুলস্না কায়সার, ড. মনিরম্নজ্জামানসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকা-ের অভিযোগে তাদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম হচ্ছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাদেরই শিৰককের ধরে নিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দুইজন আলবদর হিসেবে যোগদান করে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে যখন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তখন তাদের অনেকেই চিনে ফেলেছিল বলে জানা গেছে।
তদনত্মকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডে অবস্থানরত চৌধুরী মঈনুদ্দিন জামায়াত সম্পৃক্ত লন্ডনের বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত। চৌধুরী মঈনুদ্দিন লন্ডনে অবস্থিত মুসলিম এইডের চেয়ারম্যান এবং সেখানকার মসজিদভিত্তিক কমিটিগুলোর তদারকির ভূমিকায় আছেন। আলবদরের নেতা হিসেবে তার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে আমেরিকা প্রবাসী আশরাফুজ্জামান খানের বাসা থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা ডায়েরিতে বুদ্ধিজীবী হত্যা করার জন্য লিস্ট পাওয়া যায়। জলস্নাদের ডায়েরিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এই আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্ব চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্বের পাশাপাশি যারা যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-- এই দুইটি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম করা হচ্ছে। চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান তাদের অন্যতম। এই দুইজন ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় বসবাস করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি একটু জটিল ও কঠিন। তারপরও এ দুই জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইংল্যান্ড ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জা-মানকে দেশে ফিরিয়ে আনা না গেলে তাদের অনুপস্থিতিতেই আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে বিচার করার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হচ্ছে।
বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানে অপারগতা জানিয়ে ইসির চিঠি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন আয়োজনে অপারগতা প্রকাশ করে বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে নির্বাচন করতে না পারার তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে 'সময় স্বল্পতা'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সময় স্বল্পতাসহ তিনটি কারণের উলেস্নখ করে ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, '৯০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দৰিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্তমান কমিশন না করার তিনটি কারণ উলেস্নখ করে চিঠিতে বলা হয়- আগামী ৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কশিমনার ড. এটিএম শামসুল হুদা ও অপর নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অপর কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে বর্তমান কমিশনের বিভক্ত ডিসিসির পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন করার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা গেলেও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বিধায় এ নির্বাচন বর্তমান কমিশনের করা যথার্থ হবে না।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে কমিশন সকল স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার নীতি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ইভিএম সম্পর্কে কমিশন জনসচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুমিলস্না সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কুমিলস্নায় সকল কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করায় এই মুহূর্তে বিভক্ত ঢাকা সিটিতে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত ইভিএম কমিশনের হাতে নেই। অন্যদিকে কুমিলস্না নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিন এসব ইভিএম সিলগালা করে রেখে দিতে হবে বিধায় সে সব ইভিএম ডিসিসিতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিভক্ত ঢাকা সিটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২০৭৪ ও ভোট কৰ ১০ হাজার। বিশাল এ নির্বাচনে অল্প সময়ের মধ্যে ইভিএম সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে ইভিএম ছাড়া নির্বাচন করতে হবে। যা কমিশনের সংস্কার কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।
তৃতীয়ত, বর্তমান ইসি গঠনের পর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, সমূদয় সিটি নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিরপেৰভাবে সম্পন্ন করতে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে কমিশন সভায় নীতিগত সিদ্ধানত্ম হয়। বর্তমানে চলমান কুমিলস্না সিটি নির্বাচনে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকায় ডিসিসি নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে গেলে ইসির সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়বে যা কখনও কাম্য নয়।
চিঠিতে উলেস্নখিত কারণ তিনটির পর বলা হয়- পরবর্তী নতুন কমিশন দায়িত্বভার গ্রহণের পর যাতে দ্রম্নততর সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে পারে সেই জন্য সকল প্রস্তুতি রেখে যাওয়া হচ্ছে। গত ২৯ নবেম্বর স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণে আলাদা দুটি সিটি কর্পোরেশন হয়। গত ১ ডিসেম্বর এ আইনের গেজেট প্রকাশের পর দুই কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের তালিকা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ইতোমধ্যে দুইজনকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৪ ডিসেম্বর কমিশনকে চিঠি দেয়।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা সোমবারই সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, মেয়াদের শেষ সময় চলে আসায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে না। সে সময়ই সিইসি জানান, সময় স্বল্পতাসহ অনত্মত তিনটি কারণে বর্তমান ইসির মেয়াদে বিভক্ত ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনাগ্রহের কথা চিঠির মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের হাতে যে সময় আছে তাতে দু'ভাগে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারছি না। আমরা তফসিল দিয়ে বিদায় নেব, নতুনরা এসে অসুবিধায় পড়তে পারে।
তবে এর পরদিন মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন বিষয়ে হঁ্যা-না করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। সংশোধিত আইনে গেজেটের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনে নতুন ইসি ভোট করবে।
প্রথম পর্যায়ে ১২৭ বিদেশীকে সম্মাননা
সাড়ে চার শ' জনের তালিকা তৈরি
তপন বিশ্বাস ॥ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য পর্যায়ক্রমে সংশিস্নষ্ট সকল বিদেশী নাগরিককে সম্মাননা দেবে সরকার। এই লৰ্যে প্রথম পর্যায়ে ১শ' ২৭ জনকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। আগামী স্বাধীনতা দিবসের আগে নির্ধারিত একটি দিনে এটি প্রদান করা হবে। এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের বরেণ্য রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক, দার্শনিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিক রয়েছেন। এসব বিদেশী নাগরিকের মধ্যে যারা জীবিত তাদের সবাইকেই বাংলাদেশে এনে সন্মাননা দেয়া হবে। বাকিদের মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হবে। প্রকৃতপৰে কী কী অবদান রাখার জন্য তাঁদের সম্মাননা দেয়া হবে তার বিস্তারিত তথ্য সরকারী সূত্রে জনকণ্ঠের হাতে এসে পেঁৗছেছে।
সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে গত ২৫ জুলাই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সন্মাননা' দেয়া হয়। এটি বিদেশীদের দেয়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক। শুধু তাঁকেই সর্বোচ্চ এ পদক দেয়া হয়। আর কোন বিদেশী নাগরিককে এ পদক দেয়া হবে না।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের স্ব্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের সন্মাননা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাদের তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে সন্মাননা দিতে প্রথম পর্যায়ে ২৬ জনের একটি তালিকা তৈরি করে গত মার্চে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এ লৰ্যে একটি কমিটিও গঠন করে দেয়া হয়। এ কমিটি সম্মাননা দেয়ার জন্য ৪৫০ জনের মতো বিদেশী নাগরিকের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ তালিকা থেকেই প্রথম পর্যায়ে ১২৭ জনকে সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। সম্মাননার জন্য মনোনীতদের অবদানের কিছু বিবরণ তুলে ধরা হলো। ইন্দিরা গান্ধী ছাড়া ভারতীয় অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত জ্যোতিবসু, শচীন্দ্র লাল সিংহ, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, ডিপি ধর, আই কে গুজরাল, সমর সেন, ফিল্ড মার্শাল এসএএম মানেকশ, লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, শহীদ ল্যান্স নায়েক আলবার্ট এক্কা, বাংলাদেশের মুক্তিযদ্ধে শহীদ ভারতীয় বীর সেনানী, পণ্ডিত রবিশংকর, মাদার তেরেসা, গোবিন্দ হালদার, ব্যারিস্টার সুব্রত রায় চৌধুরী, বিচারপতি সায়াদাত আবুল মাসুদ, পিএ সাংমা এবং আকাশবাণী ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সহায়ক সমিতি।
ভারতের পাশাপাশি রাশিয়া মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরল ভূমিকা রাখে। রাশিয়া থেকে প্রাথমিক পর্বে মনোনীতদের তালিকায় রয়েছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিকোলাই পদগোর্নি, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আলেঙ্ েনিকোলাইভিচ কোসিগিন, এয়াকোব আলেঙ্জেন্ড্রভিচ মালিক, রিয়ার এডমিরাল সার্গে প্যাভলোভিচ জুয়েনকো এবং তাঁর দল।
মার্কিনীদের তালিকায় রয়েছেন, সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, সিনেটর ফ্রান্ক চার্চ, সিনেটর উইলিয়াম স্যাঙ্বী, আর্চার কেন্ট বস্নাড, গায়িকা জন বেজ, এ্যালন গিনসবার্গ, লেয়ার লেভিন, ফাদার টিম/ ফাদার ইভান্স। ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন, এডওয়ার্ড হিথ, ব্রম্নস ডগলাস ম্যান, হ্যারল্ড উইলসন, জুলিয়ান ফ্রান্সিস, পিটার শোর, সায়মন ড্রিং, গায়ক জর্জ হ্যারিসন, টম উইলিয়ামস এবং বিবিসি। এছাড়া নেপালী প্রয়াত বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরাল (বিপি কৈরালা), ভুটানী এইচ ই লিয়নপো উগুয়েন টেসারিং, আয়ারল্যান্ডের শ্যান ম্যাকব্রাইড, ফরাসী অাঁদ্রে ম্যালরঙ্, অস্ট্রেলিয়ান প্রয়াত উইলিয়াম এএস ওডারল্যান্ড বিপি, জাপানীদের মধ্যে প্রয়াত তাকাশি হায়াকাওয়া, তাকামাসা সুজুকি ও নাওয়াকি উসুই, নেদারল্যান্ডসের কিনটেন ওয়াট বাগে, সুইডিশ লারস লিজনবোর্গ এমপি, বার্লিনের সুনীল দাশগুপ্ত ও বারবারা দাশগুপ্ত, সুইজারল্যান্ডের জেনেভার প্রিন্স সদরম্নদ্দীন আগা খান এবং ইউএনএইচসিআর।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জামায়াতের মিথ্যাচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য মায়া কান্নার শেষ নেই একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের! কেবল তাই নয়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কর্মসূচী পালন করে বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য সরাসরি ভারতকে দায়ী করেছে আলবদর-আলশামস-রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী এই দলটি। বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র এই জামায়াত একই সঙ্গে বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জামায়াত ও পাক হানাদার বাহিনী যুক্ত নয় বলে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। পুরো অপরাধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবার বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে জামায়াত নেতাদের আবিষ্কার, স্বাধীনতার পর ভারতের তাঁবেদারী মেনে নিবে না মনে করেই বৃহৎ এই শক্তি তাদের হত্যা করেছে।
বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন জামায়াত নেতারা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি নূরম্নল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদওয়ান উলস্নাহ শাহিদী, প্রচার সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মতিঝিল থানার আমির মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, পল্টন থানার আমির মোকাররম হোসেন প্রমুখ। সভায় দেখা গেল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য জামায়াত নেতাদের মায়াকান্না। নূরম্নল ইসলাম বুলবুল বলেন, বুদ্ধিজীবীরা হচ্ছেন জাতির বিবেক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সনত্মান। বুদ্ধিজীবীরা জাতির সম্পদ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ যাতে দক্ষ অভিজ্ঞ সরকার গঠন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্যই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার রাজনীতি শুরম্ন হয়েছে। আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। শোকসনত্মপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। এই জামায়াত নেতা বুুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে দেশে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের পতাকা উড়ছিল। ১২ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণের সিদ্ধানত্ম হয়। ১৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৪ ডিসেম্বর তাহলে কারা বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে জাতি তা জানতে চায় মনত্মব্য করে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ১৪ ডিসেম্বর পর্যনত্ম দেশেই অবস্থান করে নিরাপদ মনে করেছিলেন। তাঁরা ভারতে যাওয়া নিরাপদ মনে করেননি। স্বাধীনতার পর ভারতের তাঁবেদারী মেনে নিবে না মনে করেই ওই বৃহৎ শক্তি তাদের হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে হারিয়ে যান। তখন ক্ষমতায় কারা ছিলেন? জহির রায়হান নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তারাই ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। তাই আওয়ামী লীগ ঘটনার দিকে নজর না দিয়ে ব্যক্তি বা দলবিশেষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চলেছে। আবদুল হালিম বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এজন্যই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও এর বিচার না করা রহস্যজনক।
১০০ বছর আগে
ঠিক একশ' বছর আগে নরওয়ের অভিযাত্রী রোয়ান্ড এ্যামুন্ডসেন দক্ষিণ মেরু জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই বীর প্রথমবারের মত দক্ষিণ মেরুতে নরওয়ের পতাকা উড়িয়ে মহা বিজয়ের স্বাদ পান এবং ঘটনাটি প্রথমবারের মতো ঘটায় নরওয়েজুড়ে তখন ব্যাপক আনন্দ নেমে আসে। এ্যামুন্ডসেনের সঙ্গে ব্রিটেনের এক বীরও ঐ সময় দৰিণ মেরম্নতে পেঁৗছেছিলেন। তবে তিনি দৰিণ মেরু জয় করলেও জীবিত ফিরতে পারেননি। সেই ব্রিটিশ অভিযাত্রীর নাম রবার্ট স্কট। তবে দৰিণ মেরম্নতে কে আগে পেঁৗছবে-এ নিয়ে ব্রিটিশ নৌ অফিসার রবার্ট স্কটের সঙ্গে তাঁর একটা প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছিল ভেতরে ভেতরে। রবার্ট স্কট ভাবতেন একজন ব্রিটিশেরই উচিত দক্ষিণ মেরম্নতে আগে পেঁৗছানো। সেই আশা শেষ পর্যনত্ম নিরাশায় পরিণত হয়। দৰিণ মেরম্নতে আগে এ্যামুন্ডসেন পেঁৗছলেও জানুয়ারিতেই দুজন দৰিণ মেরম্ন জয় করতে সৰম হন। এ্যান্টার্কটিকার শীতকাল সবসময়ই অন্ধকারাচ্ছন্ন। শীত কেটে গেলে এ্যামুন্ডসেন ২০ অক্টোবর রওনা হন মেরম্নর দিকে। দক্ষিণ মেরম্নতে যাওয়ার পথে তিনি এস্কিমোদের দেখা পান। তাঁদের কাছ থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি একটি প্রশিৰিত কুকুর সঙ্গে নেন দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। মানব দেহকে উষ্ণ রাখতে সক্ষম এমন কিছু সরঞ্জামও সঙ্গে করে নেন।
অন্যদিকে স্কটের দল মটরযানের ব্যবস্থা করেছিল যা কিছুদূর যাওয়ার পর বিকল হয়ে যায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে নবেম্বর মাসে স্কটের অভিযাত্রী দল দক্ষিণ মেরম্নর দিকে রওনা হয়। ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে স্কটের দল দক্ষিণ মেরম্ন পেঁৗঁছে দেখেন, আগেই এ্যামুন্ডসেন সেখানে পেঁৗঁছেছেন।
দক্ষিণ মেরম্ন প্রসঙ্গে রবার্ট স্কট তাঁর ডায়েরি লিখেছিলেন, হে ঈশ্বর, এ এক ভয়ঙ্কর জায়গা। দৰিণ মেরম্ন সফরকালে স্কটের দলকে নানা ভয়ঙ্কর সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৪২ ডিগ্রীর নিচে। প্রচ- ঠা-ায় অভিযাত্রীদের মধ্যে তিন জন তাঁবুতেই মারা যান। তাঁরা তাঁবু থেকে বেরই হতে পারেননি। এক পর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা সব খাবার ফুরিয়ে যায়। আরেকজনের পায়ে গ্যাঙরিন হয় এবং তাতে পচন ধরে। রবার্ট স্কটের ডায়েরিতে শেষ লেখার তারিখ ছিল ২৯ মার্চ। সে বছরের নবেম্বর মাসে রবার্ট স্কট এবং তাঁর দুই অভিযাত্রীর শবদেহ উদ্ধার করা হয় ঐ তাঁর থেকে। এ্যামুন্ডসেন দেশে ফিরে আসেন এবং পান জাতীয় বীরের সম্মান। পরে তিনি ১৯২৬ সালে উত্তর মেরম্নতে পেঁৗছান। এর ঠিক দুই বছর পর ইটালির অভিযাত্রী উম্বেরতো নোবিলকে উদ্ধার করতে গিয়ে মারা যান রোয়াল্ড এ্যামুন্ডসেন। ইতি ঘটে দক্ষিণ মেরম্নর প্রথম অভিযাত্রীর। খবর ওয়েবসাইটের।