মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
মানুষ জেগেছে- সাবধান গণহত্যাকারী ও দুর্নীতিবাজরা ॥ এদেশে জায়গা হবে না
রাজশাহীতে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় শেখ হাসিনা
উত্তম চক্রবর্তী/মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে ॥ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, খালেদা জিয়া হুমকি-ধমকি দিয়ে জনগণের সেবা করা থেকে আমাদের বিরত রাখতে পারবেন না। জাতির সামনে খালেদা জিয়ার মুখোশ আজ খুলে গেছে। তিনি (খালেদা) কিসের আশায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান? তিনি কী দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না? দেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে। দেশের মাটিতেই যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যাকারীদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবেই হবে। দুর্নীতিবাজদের জায়গাও এদেশে হবে না।
ভারতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ কোন দেশ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ যতদিন ৰমতায় থাকবে, দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কর্মকা- কেউ করতে পারবে না। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে সব ভুলে যান, বিরোধী দলে গেলে তাঁর আওয়াজ বড় হয়ে যায়। তিনি (খালেদা জিয়া) আবার পত্রও লেখেন! তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সমস্যা আপনার সময় হয়েছে। তখন কেন কিছু বলেননি, কোন ব্যবস্থা নেননি? আমরাই তো তখন প্রথম এ নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম। আপনাদের এই দ্বিমুখী চরিত্র দেশের মানুষ জানে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ নাকি ৩০টি আসনও পাবে না। কিন্তু আল্লাহর কী বিচার। তিনিই (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে ৩০ আসন পাননি, পেয়েছেন ২৯ আসন। এখন তিনি বলছেন আওয়ামী লীগ নাকি আর জীবনেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না! খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখুন। ক্ষমতা দেয়ার ও নেয়ার মালিক তিনি। আপনি যা বলেন তা আপনার বেলায় প্রযোজ্য হবে, আওয়ামী লীগের কোনই ক্ষতি হবে না। ৰমতায় থাকতে আপনি জনগণের পকেট খালি করে নিজের পকেট ভারি করেছেন। যারা ৰমতায় থাকতে এতিমের টাকা মেরে খায়, তাদের দিয়ে কখনই দেশের মঙ্গল হবে না। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে ৰমতায় এসেছি। দেশের মানুষকে আমরা সুন্দর ভবিষ্যত উপহার দেবই।
পদ্মা বিধৌত রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক এই মাদ্রাসা মাঠের প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে যেন পুরো এলাকার মানুষই জেগে উঠেছিল। সরকারে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর এটাই ছিল রাজশাহীতে প্রথম সফর। তাই প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে, তাঁদের দাবি পূরণের আশ্বাসের কথা জানতে তাঁর জনসভাস্থলে পেঁৗছুনের আগেই জনসভাটি লাখো লাখো মানুষের উপস্থিতিতে রীতিমতো জনসমুদ্রের রূপ নেয়।
বিশাল এ জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীও ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহীর সকল আসনেই আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করা এ এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাননি। তিনি ৰমতার মেয়াদেই গ্যাস, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পদ্মার ভাঙ্গন রোধসহ সকল দাবি পূরণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বৃহত্তম এই জনসভায় দাঁড়িয়ে।
রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটি যৌথভাবে এই জনসভার আয়োজন করে। মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ জাতীয় তিন নেতার পুত্র সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, রাজশাহীর সিটি মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন, স্থানীয় এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটবু্যরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, জিনাতুননেসা তালুকদার এমপি, মেরাজ উদ্দিন মোলস্না এমপি, শাহরিয়ার আলম এমপি, কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা এমপি, মজিবুর রহমান মজনু, কেন্দ্রীয় নেতা আক্তার জাহান, স্থানীয় নেতা মকবুল হোসেন, মীর ইকবাল, রফিক উদ্দিন আহম্মেদ, শফিকুর রহমান বাদশা, জাসদ নেতা আব্দুলস্নাহ আল মাসুদ শিবলী প্রমুখ। মোহাম্মদ নাসিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই রাজশাহীতে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সকল কর্মসূচী সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি দেখভাল করেন। বিমানযোগে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে এসে পেঁৗছান। এরপর তিনি দিনভর রাজশাহী সেনানিবাসে বীর-এর বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০১১, পুনর্মিলনী, জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠান এবং ১ম বীর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। রাজশাহী সেনানিবাস থেকে প্রধানমন্ত্রী যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহার মাজারে পুষ্পসত্মবক অর্পণ শেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রী হলের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন এবং বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী কাটাখালীতে নির্মিত নর্দান ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড কতর্ৃক নির্মিত কাটাখালী ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রের মেশিন উদ্বোধন এবং কাটাখালী ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্নান্টের ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন শেষে সরাসরি মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন। রাতেই তিনি ফিরে যান ঢাকায়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলৰে নবরূপে সাজানো হয়েছিল রাজশাহী মহানগরীকে। কাটাখালী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পর্যনত্ম প্রায় ছয় কিলোমিটার রাসত্মায় শত শত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ব্যানার, রঙ-বেরঙের পতাকা টানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে। এই দীর্ঘ পথের দু'ধারে হাজার হাজার মানুষ সেস্নাগান ও হাত নেড়ে বরণ করে নেন বঙ্গবন্ধুর এই কন্যাকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলৰে পুরো রাজশাহীজুড়েই গড়ে তোলা হয় তিন সত্মরের নিরাপত্তা বেষ্টনী। তবুও লাখো মানুষের স্রোত সামলাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের। মানুষের ঢলের কারণে দুপুরের পর বানেশ্বর থেকে রাজশাহী শহর পর্যনত্ম প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষকে বেশ ভোগানত্মিই পোহাতেই হয়।
অন্যদিকে সকাল থেকেই মানুষের স্রোত নামে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে। রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া থেকেও হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে যোগ দেন জনসভাতে। ব্যান্ড পার্টির তালে তালে নেচে গেয়ে, অজস্র মিছিল নিয়ে মানুষ আসতে থাকে সেখানে। বেলা দুইটায় জনসভা শুরম্নর আগেই বিশাল মাদ্রাসা মাঠ ভরে যায়। বেলা তিনটার দিকে মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জনসভার মঞ্চ থেকে আর মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঠে প্রবেশ না করতে দেখা যায়। মাদ্রাসা মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের রাসত্মা, শাহ মখদুম ঈদগাহ মাঠ, শহর রৰা বাঁধ, জিরো পয়েন্ট থেকে কোর্ট চত্বর পর্যনত্ম প্রায় তিন বর্গকিলোমিটারজুড়েই লোকে লোকারণ্য ছিল। জনসভার মাঠে প্রবেশ করতে না পারা হাজার হাজার মানুষকে শহরের বিশাল এলাকাজুড়ে টানানো মাইকের সামনে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।
লাখো মানুষের উপস্থিতি সামাল দিতে প্রচ- বেগ পেতে হয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের। প্রধানমন্ত্রী জনসভার মঞ্চে উপস্থিত হওয়া মাত্রই গগণবিদারী সেস্নাগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে নারী-পুরম্নষ নির্বিশেষ হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন পর রাজশাহীতে এসে লাখো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত ব্যাপক পদৰেপের কথা তুলে ধরেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যা বলেন বৃহত্তম জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে রাজশাহী ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। আওয়ামী লীগ ৰমতায় আসার পর তা আজ শানত্মির নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সৃষ্ট বাংলা ভাই ও জঙ্গীদের তা-ব, তাঁদের শাসনামলে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, লুণ্ঠন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কথা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।
বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর পর খালেদা জিয়া দেখিয়েছিলেন ভাঙ্গা সু্যটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া নাকি তিনি আর কিছুই রেখে যাননি! কিন্তু ৰমতায় পাঁচ বছর থেকে অগাধ ধন-সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। তিনি বলেন, লজ্জায় দেশের মানুষের মাথা হেঁট হয়ে যায়, বিদেশ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার লোক এসে আদালতে সাৰী দিচ্ছেন যে খালেদা জিয়ার পুত্ররা কীভাবে বিদেশে দুর্নীতির অর্থ পাচার করেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রীও ৰমতায় থাকতে অর্জিত দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করেছেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দুর্নীতিবাজদের জায়গা দেশের মাটিতে হবে না।
লংমার্চের নামে দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা অপচয়ের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরম্নদ্ধে নাকি লংমার্চ করবেন। লংমার্চ মানে পায়ে হেঁটে চলা। কিন্তু হাজার হাজার গাড়ি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি (খালেদা) লংমার্চ করলেন। এতো টাকা কোথায় পেলেন প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করছি। এতো দামী গাড়ির উৎস কোথায়, কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে এসেছে_ সেই উৎস খুঁজে বের করা হবে। লুটপাট করে টাকা কামিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী লংমার্চ তো নয়, গাড়িমার্চ করছেন! তিনি বলেন, জনগণ কষ্ট করবে, আপনারা (খালেদা) লুটেপুটে খাবেন, লম্বা লম্বা কথা বলবেন_ এটা হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা খরচ ছাড়া এসব লংমার্চের রেজাল্ট (ফলাফল) কী?
টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা গতবার ৰমতায় এসে ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। আর খালেদা জিয়া ৰমতায় থাকতে ভারতে গিয়ে গঙ্গার সমস্যার কথা ভুলেই গেছেন। আওয়ামী লীগ ৰমতায় থাকতে কোনভাবেই দেশের স্বার্থ ৰুণ্ন হতে দেবে না। স্বাধীনতার পরে এত বছর গেছে, আমাদের কোন সীমানা নির্ধারণ ছিল না। আমরা এবার স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে সীমানত্মের সীমানা চূড়ানত্ম করেছি। সীমানা নির্ধারণে ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার বিঘা জমি উদ্ধার করেছি। তিনি এ সময় কৌতুকের সুরে বলেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকা ফেনীতেও জায়গা উদ্ধার করেছি।
তিনি দেশবাসীকে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আপনারা বিরোধীদলীয় নেত্রীকে প্রশ্ন করম্নন, ৰমতায় থাকতে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি, হত্যা- সন্ত্রাস ছাড়া দেশের মানুষকে তাঁরা আর কী দিতে পেরেছেন? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ৰমতায় আসলেই দেশের মানুষ কিছু পায়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আবার জেগে উঠেছে। সংবিধান সংশোধন করে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করেছি। বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও অধিকার রৰা করতে গিয়ে বুকের রক্ত দিয়ে গেছেন। জনগণের অধিকার, ভাগ্যের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে প্রয়োজনে বাবার মতো আমিও বুকের রক্ত ঢেলে দেব। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আমরা করবই।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আগামী দুই বছরে সারাদেশ, উত্তরবঙ্গ ও রাজশাহীর জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন করে আবারও ক্ষমতায় আসবে। খালেদা জিয়াকে হুমকি-ধমকি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের ভয় আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগ জানে আন্দোলন কত প্রকার ও কী কী। আপনাকে (খালেদা) আন্দোলন করে ক্ষমতাচু্যত করেছি আমরা। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে খালেদার অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কারণ তিনি তাঁর প্রথম প্রেম পাকিসত্মানকে ভুলতে পারেননি। আন্দোলনের মাঠে শত নির্যাতনেও আমরা মাঠ ছাড়িনি। বিএনপি নেতারা একটা লাঠি দেখেই জামা-কাপড় খুলে পালিয়েছেন। আগামীতে খালেদা জিয়ার মাঠে তাঁর কোন নেতাকেই পাবেন না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও উপ নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন অবাধ হবে না? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সব নির্বাচন নিরপেক্ষ করে সরকার প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, ভোট ডাকাতিতে বিশ্বাস করে না।
সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যারা সরকারের সমালোচনা করেন তাদের বলব_ আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর ও খালেদা জিয়ার তিন বছরের শাসনের তুলনা করম্নন। বিএনপি-জামায়াতের তিন বছরের শাসন ছিল লুটপাট, বাংলা ভাই ও জঙ্গীবাদ সৃষ্টি, বিদেশে টাকা পাচার ও হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে রাজত্ব করার শাসন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছরে লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার, হাওয়া ভবন ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি হয়নি। শানত্মি ও উন্নয়নের শাসন উপহার দিয়েছেন। সমালোচনাকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এ বিষয়ে তর্কে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করছেন।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সতিশ চন্দ্র রায়, প্রধানমন্ত্রীর বিদু্যত ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামসুল হক টুকু, শেখ হেলাল এমপি, এ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া এমপি, ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক এমপি, শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপি, সাবেক ভিসি আবদুল খালেক, মমতাজ উদ্দিন, সাজেদুর রহমান খান এমপি, অধ্যাপিকা অপু উকিল প্রমুখ।
রাবিতে মহিলা হলের ভিত্তিপ্রসত্মর ও বিদু্যত কেন্দ্র উদ্বোধন ॥ রাজশাহী সেনানিবাসের কর্মসূচী শেষে প্রধানমন্ত্রী আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে এসে প্রথমেই তিনি ১৯৬৯ সালে শহীদ ড. সামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্পসত্মবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিতব্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন অনুষ্ঠানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে এই নতুন হলের ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যা-কু্য-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বার বার গণতন্ত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এর বিরম্নদ্ধে সবসময় আমাদের লড়াই করতে হয়েছে। অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকার দেশের কল্যাণ ও মঙ্গল করতে পারে না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, ইনশাআলস্নাহ দেশের জনগণও শিৰিত। কেউ তাদের আর বিভ্রানত্ম করতে পারবে না। এবার নিরৰরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। জাতিকে আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী তাঁকে গগণবিদারী সেস্নাগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। দু'ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ও ফুল ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আবদুস সোবহান স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় শিৰা সচিব ড. চৌধুরী কামাল আবদুল নাসের, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম নুরউলস্নাহসহ শিৰকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী কাটাখালী নর্দান ইঞ্জিনিয়ারিং কতর্ৃক নির্মিত কাটাখালী ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রের মেশিন উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি কাটাখালী নবনির্মিত ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার পস্নান্টের ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন করেন। এ সময় বিদু্যত সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উলেস্নখ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এনামুল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, এ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া এমপি, শাহরিয়ার আলম এমপি, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি, জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপিসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
'ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস' পেয়ে ইতিহাস গড়ল সালমা বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র ৯ উইকেটে পরাজিত
মিথুন আশরাফ ॥ ম্যাচ শেষ হতেই শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেনারেল ম্যানেজার নিজামউদ্দিন সুজনের ফোন বাজা। কে ফোন দিয়েছেন? বিসিবির প্রেসিডেন্ট আহম মোস্তফা কামাল। কার উদ্দেশে? বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুনের উদ্দেশে। কেন? 'ডু অর ডাই' ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে! প্রথমবারের মতো 'ওয়ানডে স্ট্যাটাস' অর্জন করেছে। সঙ্গে 'টি২০ স্ট্যাটাস'ও পেয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে তাই মাঠ থেকে বের হওয়ারও সুযোগ পাননি সালমা। সুজনের মাধ্যমে মাঠের ভেতরই ফোনে বিসিবি প্রেসিডেন্ট সালমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলেন। পুরস্কারের মঞ্চে আসার জন্য হাঁটছেন আর সালমা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন!
কি বলেছেন প্রেসিডেন্ট? জানাচ্ছেন সালমা খাতুন, 'ম্যাচ শেষ হতেই তিনি (প্রেসিডেন্ট) জেনে গেছেন আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়ে গেছি। তাই শুভেচ্ছা জানালেন।' এ অর্জনের বিনিময়ে কী কিছু পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন? সালমা জানালেন, 'এখনও পাইনি। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুক্রবার দেখা করার কথা আছে।' বোঝা গেল সালমারা তাদের প্রাপ্য কিছু পাবেন। সবচেয়ে মজার বিষয়_ সালমা যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন তখন দলের ক্রিকেটাররা একজন আরেকজনের সঙ্গে মজা করে বলছেন, 'এই আমরা কী পেয়েছি?' উত্তরে বার বার আসছে, 'ওয়ানডে স্ট্যাটাস, ওয়ানডে স্ট্যাটাস!' ক্রিকেটাররা বার বার কারও না কারও মুখ থেকে তাদের অর্জনের কথা শুনতে চেয়েছেন। 'নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল!' তাও আবার দু'দুটো কানা মামা (ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস)। বিশাল না হলেও উলেস্নখযোগ্য প্রাপ্তি তো অবশ্যই।
এত বড় প্রাপ্তি দেশকে এনে দিয়েছেন সালমারা। ওয়ানডে স্ট্যাটাসের সঙ্গে টি২০ স্ট্যাটাসও পেয়ে গেছেন। এখন বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলবেন তারা। সে অর্জন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েই। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিকেএসপি-২ মাঠে টস জিতেই ব্যাট করে যুক্তরাষ্ট্র। খাদিজাতুল কুবরার (৪/২০) স্পিন মায়ার জালে ৪৭.৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে অনায়াসেই ৭৯ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
এ জয় শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ মমতা মাবেন আনন্দ প্রকাশ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন, 'দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে হবে বোর্ডকে।'
যুক্তরাষ্ট্র কোচ রবিন সিংকে হতাশ দেখাল। তবে বাস্তবতাও যেন মেনে নিয়েছেন তিনি, 'একটা ভাল সুযোগ ছিল। তবে বাংলাদেশই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে। তাই স্বাগতিক হিসেবে তাদেরই জয় প্রাপ্য ছিল।'
ম্যাচ জয়ের পর এসব কথার আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আনন্দ করাই ক্রিকেটারদের মূল লক্ষ্য ছিল। এত বড় প্রাপ্তির পর সেটা হওয়াও স্বাভাবিক। তবে সবার দৃষ্টিতে বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুলস্নাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। তাই তাকে থাকতেই হবে। থেকেছেনও। এছাড়া কোন বোর্ড কর্তার টিকিটিও দেখা যায়নি মাঠে! মহিলা ক্রিকেটের এমন পথ চলার দিনে বোর্ড কর্তারা অনুপস্থিত থেকেছেন। এমন মুহূর্তে তাদের এ আচরণ অবাক করেছে সবাইকে।
এরপরও এসব বিষয় খুব বেশি নাড়া দেয়নি যখন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটাররা জেতার আনন্দে মেতেছেন। সবাই সালমা, কুবরা, শুকতারাদের উলস্নাসে যেন একত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। বিকেএসপির সবুজ ঘাসে ভরা মাঠ এবং সবুজ প্রানত্মরগুলোও যেন হাস্যোজ্জ্বল। তেমনি সবার মুখে হাসি। শুধু হতাশায় নু্যব্জ হয়ে থেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা। তাদের এ হতাশা ম্যাচ হারায়। আর বাংলাদেশ জেতায় সালমারা হেসেছেন। ইতিহাস গড়েছেন তারা। সঙ্গে ওয়ানডে ও টি২০ স্ট্যাটাস পেয়েছেন। তবে 'মুকুট পরার চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন।' এখন সেই স্ট্যাটাস ধরে রাখার সংগ্রামে নামতে হবে সালমাদের।
সালমা বললেন, 'আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছি্। এখানেই শেষ নয়। এ স্ট্যাটাস এখন ধরে রাখতে হবে। আশা করছি আমরা পারব।' শুভ কামনা বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে। বাংলাদেশ পুরুষ দল ১৯৮৬ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলেছে। শনিবার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল খেলবে প্রথম ওয়ানডে। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক ওয়ানডে ম্যাচটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারে কি না সালমা, রুমানা, শুকতরা, কুবরারা?
সাকার মামলা স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি ২৯ নবেম্বর
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল এবং দুই বিচারপতির বৈধতা নিয়ে মামলা স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি ২৯ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন তাঁকে ট্রাইবু্যনালে হাজির হতে হবে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাশিমপুর কারাগার থেকে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে করে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হয়। ১০টা ৪০ মিনিটে ট্রাইবু্যনাল শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সাকা প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য দেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষে তাকে আবার জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে প্রচুর আইনজীবী, সাকার এলাকার লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি ছিল। ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম শুরু হলে সাকার পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জয়নাল আবেদিন ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শুনানিতে অংশ নেবেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁদের আনার কথা বললে, ফখরুল ইসলাম এজলাস কক্ষের বাইরে যান। এ সময় ট্রাইবু্যনাল পাঁচ মিনিটের জন্য বিরতি দেন। বিরতির পর কার্যক্রম আবার শুরু হলে সাকা চৌধুরীর পক্ষের ওই তিন আইনজীবী না আসায় ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাকার পক্ষে ১০ আইনজীবী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাঁরা শুনানিতে থাকবেন, তাঁদের তালিকাও জমা দিতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর প্রসিকিউশন জেয়াদ-আল-মালুম ও সাকার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সাকার মামলার দিন ধার্য ছিল। প্রসিকিউশনের পৰ থেকে আমরা ৩(২) ধারামতে তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ আবেদন আকারে দাখিল করি। আনুষঙ্গিক দলিলপত্রসহ দেড় হাজার পৃষ্ঠার কাগজপত্র জমা দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল সাকার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। সাকার ইতোপূর্বে কোন আইনজীবী ছিলো না। বৃহস্পতিবার আইনজীবী নিয়োগের ভুল ওকালতনামা দাখিল করেন। সঙ্গে আরও একটি আবেদন জমা দেন।
এ সময় সিনিয়র কিছু আইনজীবী ওকালতনামা দেখিয়ে বলেন, এতে মারাত্মক ভুল আছে। সাকার পৰে সিনিয়র আইনজীবী না আসায় ট্রাইবু্যনালের কার্যক্রম ৫ মিনিট মুলতবি রাখা হয়। এরপরও সিনিয়র আইনজীবীরা না আসায় ট্রাইবু্যনাল আদেশ দেন। প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, এর আগে অন্যদের জন্য ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যে আবেদন জানান, একই আবেদন সাকা চৌধুরী আগেও করেছিলেন। উলেস্নখ্য, ওই আবেদনগুলো হাইকোর্ট থেকে খারিজ হয়ে আপীল বিভাগেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। এরপরেও সাকা আবেদন করেছে। শুধু সময়ৰেপণ করার জন্যই। সাকা বুঝতে পেরেছেন তাঁর বিরম্নদ্ধে শক্তিশালী তদনত্ম হয়েছে। সাৰীরা অকাট্য সাৰ্য প্রদান করেছেন। এখন চট্টগ্রামে সাৰীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের রাউজান, বোয়ালখালী, হাটহাজারী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সাৰীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাৰীদের সাৰ্যে সাকার অপকর্মের নানা চকমপ্রদ কাহিনী উঠে এসেছে। আদালতের কাজে বাধাগ্রসত্ম করার জন্যই ট্রাইবু্যনালে সাকা স্বভাবসুলভ উচ্চস্বরে কথা বলছেন। তাঁর আচরণগুলো স্ববিরোধী।
সাকার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বৃহস্পতিবার সাকার মামলার দিন ধার্য ছিল। অথচ সাকার আইনজীবীদের ট্রাইবু্যনালে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমরা ট্রাইবু্যনালকে বলেছি এটা কি ক্যামেরা ট্রায়াল না পাবলিক ট্রায়াল? পাবলিক ট্রায়াল হলে আমাদের আইনজীবী ও সাকার আত্মীয়স্বজনদের ট্রাইবু্যনালে ঢুকতে দিতে হবে। এ সময় ট্রাইবু্যনাল আমাদের বলেছেন, জায়গা কম। তখন আমি বলেছি পাবলিক ট্রায়াল হলে জায়গা দিতে হবে। বিচার হবে, সারা পৃথিবীর মানুষ দেখবে। বিচারের ফল যাই হোক না কেন বিচারের ভাবমূর্তি রৰার জন্যই এটা করতে হবে।
এর আগে ট্রাইবু্যনাল কার্যক্রম শুরম্ন হলে কিছু কথা বলার জন্য সাকা ট্রাইবু্যনালের অনুমতি চান। ট্রাইবু্যনাল কথা বলার অনুমতি দেন। এ সময় তিনি দীর্ঘ সময় তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। সাকা ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাকে দেখছি ৭ মাস পরে, একটু কুশল বিনিময়েরও তো দরকার আছে। আমাকে ৭ মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফিজিক্যাল টর্চারও করা হয়েছে। সাকা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, বড় স্ক্রিন কেন, আপনারা লাইভ দেখাচ্ছেন না কেন? এ বিচার সম্পর্কে মানুষকে জানতে হবে। আমি শতভাগ ভোট পাইনি, কিন্তু ৫১ ভাগ ভোট তো পেয়েছি। তাতেই তো একজন সংসদ সদস্য হয়েছি। সবাই না জানতে চাইলেও তাদের তো জানার আছে।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জয়নাল আবদীনকে ট্রাইবু্যনালে আসতে দেয়া হয়নি। তাঁদের আসতে দেয়া হোক। তখন ট্রাইবু্যনাল বলেন, আদালত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। ট্রাইবু্যনাল তখন ওকালতনামার কথা বললে সাকা বলেন, আমার আবেদনে এক শ'রও বেশি স্বাক্ষর রয়েছে। আমি তো এখানে আছি, মিস্টার চেয়ারম্যান আপনি যদি চান তাহলে আমি এখনও স্বাক্ষর করে দিতে পারি।
তখন চেয়ারম্যান ফখরম্নল ইসলামকে বলেন, আপনি গিয়ে ওই তিন জনকে নিয়ে আসুন। এ সময় এজলাস কক্ষ থেকে ফখরম্নল বের হয়ে গেলে ট্রাইবু্যনাল চেয়ারম্যান বলেন, আদালত আইনজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তখন বলেন, তাঁরা নিচে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছেন, আর আমি ৭ মাস ধরে অপেক্ষা করছি। সাকা হাসতে হাসতে বলেন, মিস্টার চেয়ারম্যান আসলে আপনাদের কাছে অনেক কিছু শিখি। ৩২ বছর ধরে আইন প্র্যাকটিস করছি, এখনও অনেক কিছু জানি না। আপনাদের সঙ্গে কথা বললে অনেক কিছু জানতে পারি, শিখতে পারি।
সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা সুপ্রীমকোর্ট আইন এবং বিধিবিধান আপনারা অনুসরণ করবেন। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন সংবিধান রৰা করার জন্য। ৭৩ আনত্মর্জাতিক আইন গ্রম্নপ এবং ইনডিভিজুয়াল গ্রম্নপ আছে। আগে ছিল না। এটা সংশোধন করা হয়েছে ব্যক্তিবিশেষকে বিচার করার জন্য। মূল এ্যাক্টের ১১ ধারা অনুযায়ী রম্নল প্রণয়ন করার ৰমতা আপনাদের নেই। সেটাও করেছেন। এ্যাক্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে নির্দিষ্ট লোককে বিচার করার জন্য। আপনাদের পাবলিকলি বিচার করতে অসুবিধা কোথায়? তিনি ট্রাইবু্যনালে বলেন, আমি গণতন্ত্রের পূজারী। গণতন্ত্রের ফসল হচ্ছি আমি। আফ্রিকার জঙ্গলেও যে ধরনের বিচার হয় না। সেটাই করছেন।
এরপর ৫ মিনিটের বিরতি নেন ট্রাইবু্যনাল। মুলতবির পরও ফখরম্নল ইসলাম ট্রাইবু্যনাল চলাকালে আর ফেরেননি। ৫ মিনিট পর ট্রাইবু্যনাল শুরম্ন হলে চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক সাকার মামলা স্থগিতের আবেদনের শুনানি ২৯ নবেম্বর হবে বলে জানান। সেই সঙ্গে তাঁকে ১০ জন আইনজীবীর তালিকা দেয়ার কথা বলেন ট্রাইবু্যনাল। এ সময় সাকা বলতে থাকেন, জেলখানা থেকে আমার বাবার লাশ বের করেছি, আমার লাশও বের করতে হবে। এ জন্য আমি বা আমার পরিবার কেউ ভীত নই। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিক হওয়ার বিড়ম্বনার কারণেই আজ আমি ট্রাইবু্যনালে দাঁড়িয়ে আছি। ট্রাইবু্যনালের আদেশের প্রায় ১০ মিনিট পর ব্যারিস্টার ফখরম্নল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে ট্রাইবু্যনালে আসেন।
এর আগে বুধবার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরম্নল ইসলামের নাম ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব, এ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীনসহ শতাধিক আইনজীবীর স্বাক্ষরসহ সাকার আবেদনটি আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে দাখিল করা হয়। এ মামলায় আগে সাকা চৌধুরী তার পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ দেননি। আদেশের সময় ট্রাইবু্যনাল সাকাকে বলেন, নিয়মানুযায়ী ১০ আইনজীবীর নাম দেয়া যাবে। আপনি এত জনের নাম না দিয়ে ১০ জনের নাম উলেস্নখ করম্নন। সালাউদ্দিন কাদের বলেন, মিস্টার চেয়ারম্যান যদি অনুমতি দেন দুটা কথা বলতে চাই। তখন চেয়ারম্যান বলেন, একটু পরে। সাকা বলেন, একটু পরে হবে না।
এর আগে সাকার বিরম্নদ্ধে ১৪ নবেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা ফরমাল চার্জ শুনানির জন্য গ্রহণ করেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইবু্যনাল। ৪ অক্টোবর এক আদেশে ১৪ নবেম্বর সাকা চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিলের নির্দেশ দেয়ায় নির্ধারিত দিনেই ফরমাল চার্জ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ৫৫ পৃষ্ঠার ফরমাল চার্জের সঙ্গে এক হাজার ২৭৫ পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক নথিপত্র এবং ১৮ সিডি জমা দেয়া হয়।
৪ অক্টোবর তদনত্ম সংস্থা সাকা চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে ১১৯ পৃষ্ঠার তদনত্ম প্রতিবেদন চীফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়। এ প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগপত্রে তাঁর বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট ২৫ অভিযোগ আনা হয়েছে। সাকা চৌধুরী আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল এ্যাক্ট-১৯৭৩ এর ৩(২) ধারার (এ, সি ও জি) উপধারার অপরাধ করেছেন বলে তদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাকা চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে এ মামলায় ১৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে গ্রেফতারের জন্য ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইবু্যনালে আবেদন করে তদনত্ম সংস্থা। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ১৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে গাড়িতে অগি্নসংযোগের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো তাকে ট্রাইবু্যনালে হাজির করা হয়। তাঁকে ধানম-ির সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদনত্ম সংস্থা।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) নেতৃত্বে হানাদার বাহিনী চট্টগ্রামে গহিরা, কু-েশ্বরী, জগৎমলস্নপাড়া, ৬৯ পাড়া_ এসব এলাকায় হিন্দু অধু্যষিত এলাকার লোকজন এবং মুক্তিকামী মানুষদের ধরে এনে নির্যাতন করেছে। তাঁর বিরম্নদ্ধে করা তদনত্মে এর পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে অগণিত বধ্যভূমির সৃষ্টি করেছেন তিনি। জগৎমলস্ন গ্রামে তাঁর নির্দেশে ৩৫ হিন্দুকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাকার নেতৃত্বে রাউজানের গহিরা গ্রামে হত্যাকা- ঘটে। গহিরা গ্রামের হিন্দু নেতা অধ্যৰ নূতন চন্দ্র সিংহ মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় সাকা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে পাকিসত্মানী সেনাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় সাৰ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরম্নদ্ধে ব্যাপক কার্যক্রম চালান। পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীকে সর্বতোভাবে সহযেগিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এই তৎপরতার ৰেত্র ছিল চট্টগ্রাম জেলা। চট্টগ্রাম শহরের গুডস হিলের নিজ বাস ভবনে সাকা তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ও ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরীর সহযোগিতায় আরও অনেক স্বাধীনতাবিরোধী লোককে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গুডস হিল টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত ছিল।
লেনদেনে ভারসাম্য রক্ষায় আইএমএফ ৩০ কোটি ডলার দেবে
প্রতিনিধি দল আসছে কাল
মিজান চৌধুরী ॥ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২২শ' ৫০ কোটি টাকা (৩০ কোটি মার্কিন ডলার) সহায়তা পাওয়া যাবে। এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়েই আগামীকাল শনিবার আসছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। সহায়তার অর্থ লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লেনদেনের ভারসাম্য রৰায় আইএমএফ থেকে ১শ' কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আগামী তিন বছরের জন্য এই অর্থ দেয়া হবে। প্রতিবছর প্রতিশ্রুতির অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার করে ছাড় দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ প্রতিনিধি দল শর্ত সাপেৰে এই অর্থ দেবে। এর মধ্যে বিদ্যুত, জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা ও ভ্যাট আইন সংস্কারের শর্ত রয়েছে।
ওই শর্ত মতে, বৃহস্পতিবার সরকার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ৩৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর আগে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। ভোক্তার সহনীয় পর্যায়ে রেখে ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। ভ্যাট আইনও সংস্কার করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আইন সংঙ্কার করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তার মতে, আইএমএফের দেয়ার শর্ত অনেকটা পূরণ করা হয়েছে। যদিও আইএমএফ বলতে পারে এটি যথেষ্ট নয়। তবে শর্ত পুরো পূর্ণ না করা হলেও আমরা বলতে পারব সরকার শর্ত পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশী সহায়তা এ মুহূর্তে অর্থনীতির জন্য খুব প্রয়োজন। আইএমএফের এই সহায়তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু খাতে বড় ধরনের বিদেশী সহায়তা বন্ধের কারণে চাপের মুখে পড়ে অর্থনীতি। এর সঙ্গে অন্যান্য প্রকল্পে সহায়তাদাতা সংস্থাগুলো বন্ধ রেখেছে। বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তায় এই এক শ' কোটি ডলার দেয়ার কথা। কিন্তু ওই অর্থ এখনও পর্যন্ত দেয়া হয়নি। অন্যান্য বড় প্রকল্পে বিদেশী সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এই চাপ মোকাবেলায় বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ বাড়াতে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইএমএফের এই সহায়তায় কিছুটা চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।
গত অক্টোবরের প্রথম দিকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিকসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আইএমএফসহ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান ও অর্থ সচিব মোহাম্মদ তারেক অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে লেনদেন ভারসাম্য রৰায় এক শ' কোটি ডলারের একটি ইসিএফ (বর্ধিত ঋণ সুবিধা) নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
অবশ্য বৈঠক শেষে দেশে ফিরে ড. আতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই এ ঋণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এ ঋণ দেশের লেনদেনে ভারসাম্য ঠিক করতে সহায়তা করবে। আইএমএফের ইসিএফ ঋণ একটি 'ভাল ঋণ'। কোন দেশের লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ইসিএফ পাওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৃহস্পতিবারের হিসাব মতে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ হচ্ছে ৯৭০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমানে প্রতিমাসে গড়ে তিন শ' কোটি ডলারের ওপরে আমদানি ব্যয় হচ্ছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৮০১ কোটি ডলার।
এ সময় রফতানি আয় হয়েছে ৬১৯ কোটি ডলার। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ।
এর মধ্যে জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে ১০৭.২৯ শতাংশ। বর্তমান সরকার রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্র স্থাপনের কারণে প্রচুর জ্বালানি তেল আমদানি করছে। যে কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লেনদেন ভারসাম্যে অনেকটা আঘাত হেনেছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে নেগেটিভ ৩শ' কোটি ডলারে রয়েছে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার কোটি ডলারের নিচে চলে আসছে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো দুষ্কর হয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এটা লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করছে।
তবে আইএমএফ এই অর্থ দেবে লেনদেনের ভারসাম্য রৰা করতে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ শতাংশে বেশি রাজস্ব আদায়কে ইতিবাচক বলে মনে করছে আইএমএফ। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট চললেও বাংলাদেশ বেশ ভাল করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সব সংস্কার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সেগুলো বাসত্মবায়িত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং এ খাতের আরও সংস্কারের পদক্ষেপও আইএমএফের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধি দল দেশের রফতানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের অবস্থা পর্যবেৰণ করবেন। এ সব তথ্যের আলোকে আইএমএফ ফিরে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রদান করবে। এরপর অর্থ ছাড় করা হবে।
টিপাইমুখ বাঁধে ক্ষতিকর কিছু থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান
প্রেস ব্রিফিংয়ে দীপু মনি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার আগে আমাদের জানতে হবে এটিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু আছে কি না? তাই এ নিয়ে যৌথ সমীক্ষার প্রসত্মাব ভারতকে দেয়া হয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু থাকলে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করব। প্রয়োজন হলে এবং প্রভিশন থাকলে এটা নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও যাব।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, স্বাধীতার পরবর্তী সময়ে বিএনপি ১৫ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। তারা যদি যথাসময়ে এ ব্যাপারে পদৰেপ নিত তাহলে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আজকের এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। এটা লজ্জ্যাজনক। স্বপদে থাকতে পদৰেপ নেননি, তবে দেরিতে হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তার এ সহযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, 'গত ২২ অক্টোবর স্বাৰর করা সে দেশের অভ্যন্তরীণ চুক্তিটি কার্যকর হতে গেলে ভারত সরকারের অনুমোদন পেতে হবে। আর টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে করা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তা সম্পন্ন হতে ৮৭ মাস সময় লাগবে।'
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ২১ মে ভারত জানিয়েছে, টিপাইমুখে শুধু জলবিদ্যুত প্রকল্প হবে ও বন্যানিয়ন্ত্রণ করা হবে। পানি আটকে রাখার জন্য কোন বাঁধ দেয়া হবে না বা সেচ কাজের জন্য পানি সরিয়ে নেয়া হবে না। পানি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া না হলেও আমরা এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান চাই। ভারতের কাছে এ ব্যাপারে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছি। সেটা পেলে আমাদের অবস্থান আমরা পরিষ্কার করতে পারব। আর যৌথ স্টাডি হলে এ ব্যাপারে বিভ্রানত্মি নিরসন হবে।
তিনি বলেন, ক্ষতিকর না হলে টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে তা যৌথ সমীক্ষার পরে বোঝা যাবে।
ডা. দীপু মনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যনত্ম দুই দেশের মধ্যকার যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছে ৩৭টি। এরমধ্যে ১৩টি বৈঠক হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর সময়ে। বিএনপির দশ বছরে হয়েছে মাত্র দুটি বৈঠক। ওই দুই বৈঠকের কোনটিতেই বিএনপি এ ব্যাপারে কোন আপত্তি করেনি। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আট বছরে হয়েছে চারটি বৈঠক। এর বাইরেও মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক হয়েছে। এ সব বৈঠকে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা, তিসত্মার পানি বণ্টন, টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সকল বৈঠকের কারণেই ভারত অববাহিকা ভিত্তিক যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার চুক্তি করেছে। আমরা আশা করছি, এই যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ তো নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে মিলেও বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে তো আমাদের কোন আপত্তি নেই, তবে ভারতের বাঁধে আপত্তি কেন। টিপাইমুখে ১৬২ দশমিক ৮ মিটার উঁচু বাঁধ হচ্ছে, আর নেপালের যে বাঁধটিতে বাংলাদেশও অংশীদার সেখানে তো সাড়ে তিন শ' মিটার উঁচু বাঁধ হচ্ছে। কই, নেপালের বাঁধ নিয়ে তো কারও আপত্তির কথা শুনি না?'
টিপাইমুখ নিয়ে সমালোচনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনত্মব্য করে দীপু মনি বলেন, 'প্রায় গায়ের জোরেই সমালোচনা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, টিপাইমুখ প্রকল্পে যাই হোক না কেন, এ নিয়ে যৌথ সমীক্ষা করার প্রসত্মাব দেয়া হয়েছে।
তিসত্মার পানি বণ্টন নিয়ে মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের মতো টিপাই নিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চিনত্মা-ভাবনা এখনও তাঁর নেই বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জাতীয় স্বার্থের চেয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে টিপাইমুখ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জনস্বার্থে এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিন্দুমাত্র কোন সুযোগ নেই।'
দেশের স্বার্থ রক্ষা করে মাথা নিচু না করলেই দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় বলে মনত্মব্য করে তিনি বলেন, 'ভারতের সঙ্গে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সমস্যার সমাধান আওয়ামী লীগই করেছে। আওয়ামী লীগ গঙ্গার পানি চুক্তি করেছে, সীমানত্ম সমস্যার সমাধান করেছে।
তিনি বলেন, 'অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনার চুক্তি ও বাংলাদেশী পণ্যের ভারতে প্রবেশসহ যত দাবি ভারতের কাছে আমাদের ছিল, তার প্রায় সবই পূরণ হয়েছে। ভারতেরও কিছু চাওয়া-পাওয়ার আমাদের কাছে আছে। তবে আমাদের দাবিদাওয়ার স্বার্থ রক্ষা করেই আমরা ভারতের দাবিদাওয়া পূরণ করছি।'
ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বার বার আশ্বসত্ম করার পর আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করেছি কেন_ এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ সালের মে মাসেই ভারত একটি চিঠি দিয়ে আমাদের বলেছে, টিপাইমুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদু্যত ছাড়া আর কিছু হবে না। এতে বাংলাদেশের ক্ষতিকর কিছু থাকবে না। আমরা এতে আশ্বসত্ম হতে চাই। আনত্মর্জাতিক সম্পর্কে একটি দেশের দ্বারা অপর দেশকে আশ্বসত্ম করা একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাপার।'
প্রধানমন্ত্রীর প্রসত্মাবিত উচ্চ পর্যাযের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সফরের দিন তারিখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। সময় হলেই আপনাদের জানানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আনক্লসের বিধান মেনেই সমুদ্রসীমা বিরোধ মেটাতে আনত্মর্জাতিক আদালতে গেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনার ভিত্তিতেই নদীর পানি বণ্টনে চুক্তি করা হবে।'
বিদ্যুতের পাইকারি দাম দুই ধাপে বাড়ল সাড়ে ৩৩ ভাগ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ১৩ দিনের মাথায় বিদ্যুতের পাইকারি দাম (বাল্ক রেট) বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুই ধাপে ৩৩ দশমিক ৫৭ ভাগ বিদু্যতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় জানানো হয়েছে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) দাম বৃদ্ধি করা হবে।
কমিশন আদেশে বলে, এখন বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) দুই টাকা ৮০ পয়সা থেকে প্রথম দফায় ১৬ দশমিক ৭৯ ভাগ বেড়ে তিন টাকা ২৭ পয়সা হবে। পরবর্তীতে ওই দামের ওপর ১৪ দশমিক ৩৭ ভাগ বৃদ্ধি করে তিন টাকা ৭৪ পয়সা হবে। প্রথম ধাপ বৃদ্ধি আগামী পহেলা ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপ আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি কার্যকর হবে। অর্থাৎ দুই দফায় প্রতি ধাপে ৪৭ পয়সা করে প্রতি ইউনিটে মোট ৯৪ পয়সা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হলো।
শুধুমাত্র রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল তেলভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রভাবে চলতি বছর ফেব্রুয়ারির পর নবেম্বরে এসে আবারও বিদু্যতের দাম বৃদ্ধি করা হলো। বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এই দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। সূত্র জানায়, বুধবার রাতে বিদু্যতের দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ে ওই দিন সন্ধ্যায় কমিশনের ১০ থেকে ১২ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়। কিন্তু রাত থেকে সংশিস্নষ্ট পৰের কয়েক দফা দেন দরবারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিশন ৩৩ দশমিক ৫৭ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানায়। কমিশন তার আদেশে জানিয়েছে, এরপরও পিডিবিকে সরকারের সরাসরি পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
কমিশন চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাইকারি দাম বাড়ার অনেক দিন পর খুচরা দাম বাড়লে বিতরণ কোম্পানির ওপর চাপ বাড়ে এ জন্য খুব শীঘ্র খুচরা দাম বৃদ্ধি করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে খুচরা দাম বৃদ্ধি করা হবে। ইতোমধ্যে সকল বিতরণ কোম্পানির বিদু্যতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি করা হয়েছে।
কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, পাইকারি দাম বাড়ায় এখনই গ্রাহককে বিদু্যত বিল বাবদ বেশি দাম দিতে হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত পাইকারি দামে বৃদ্ধির ৬০ ভাগ বিতরণ কোম্পানি পর্যায়ে বাড়ে। তবে এখনও কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধানত্ম নেয়নি বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের অপর সদস্য এমদাদুল হকসহ কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের আদেশ অনুযায়ী সকল বিতরণ কোম্পানিকে ১৩২ কেভি লাইনে পিডিবির কাছ থেকে বিদু্যত কিনতে পহেলা ডিসেম্বরে দাম দিতে হবে তিন দশমিক ৫৬৫০ টাকা এবং ফেব্রম্নয়ারিতে সে দাম বেড়ে হবে চার দশমিক ২০৫০ টাকা। ৩৩ কেভি লাইনের জন্য ঢাকার দুটি বিদু্যত বিতরণ কোম্পানি ডেসকো এবং ডিপিডিসির ৰেত্রে একই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ৰেত্রে ডিসেম্বরে তিন দশমিক ৬০৫০ ফেব্রম্নয়ারিতে ৪ দশমিক ২৪৫০ টাকা দরে বিদু্যত কিনতে হবে। আরইবির ৩৩ কোভি লাইনের জন্য ডিসেম্বরে দুই দশমিক ৯১৫০ টাকা ফেব্রম্নয়ারিতে তিন দশমিক ১৭৫০ টাকা, ওজোপাডিকোর জন্য ডিসেম্বরে তিন দশমিক ১৫৫০ টাকা এবং ফেব্রম্নয়ারিতে তিন দশমিক ৪৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদু্যত উন্নয়ন বোর্ড, নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং ভবিষ্যত সৃষ্ট বিতরণ কোম্পানির জন্য ৩৩ কেভিতে একই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে ডিসেম্বরে তিন দশমিক ৪২৫০ এবং ফেব্রম্নয়ারিতে তিন দশমিক ৯৮৫০ টাকা ইউনিট প্রতি পরিশোধ করতে হবে।
কমিশন আদেশে বলে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে রেয়াতি মূল্যহার স্থির করা হয়েছে। কমিশন চেয়ারম্যন বলেন, আরইবির অধিকাংশ সমিতি লোকশান করছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিশেষ এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
দফায় দফায় বিদু্যতের দাম বৃদ্ধি সরকারের অদূরদর্শী কুইক রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রের জন্য কি না জানতে চাইলে কমিশন চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সরকার যেন এখন থেকে আর রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদু্যত না কেনে কমিশন সে সুপারিশ করবে।
কমিশন দাম বৃদ্ধির আদেশের ৭ পৃষ্ঠার ৫ দশমিক ৪ অনুচ্ছেদে বলে, পর্যালোচনায় দেখা গেছে পিডিবির নিজস্ব বিদু্যত উৎপাদন কমেছে দুই ভাগ। একই সময়ে সরকারী মালিকানাধীন বিদু্যত কেন্দ্রের উৎপাদন কমেছে ২০ ভাগ। অন্যদিকে ভাড়াভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়েছে ১৫০ ভাগ। পিডিবি এবং সরকারী বিদু্যত কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ অনেক কম। প্রৰানত্মরে ভাড়াভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় বহুমাত্রিক বেশি। বিশেষ প্রয়োজনে এ ধরনের বিদু্যত কেনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও কমিশন মনে করে ব্যবস্থাপনার উন্নতি, সাশ্রয়ী পদৰেপ গ্রহণ এবং গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক বিদু্যত উৎপাদন বৃদ্ধি করলে ব্যয়বহুল বিদু্যত কেনার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে।
কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গ্যাসের ৰেত্রে আনত্মর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) কাছ থেকে পাওয়া গ্যাসের ওপর সরাসরি কোন শুল্ক ধরা হয় না। একই ভাবে জ্বালানি শুল্কমুক্ত হলে বিদু্যতের উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসবে।
কমিশনের স্টাফ ফাইন্ডিসের সুপারিশে দেখা যায় ভতর্ুকি ব্যতীত ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৫৬ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন টাকা। এ অবস্থায় পিডিবিকে ১৫ হাজার মিলিয়ন টাকা ভতর্ুকি দিলে মূল্যহার সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। এতে বর্তমান মূল্যহারের ২৩ দশমিক ৫৭ ভাগ বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু ১০ নবেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পিডিবি মূল্য সমন্বয়ের প্রসত্মাব দিলে তা পরিবর্তন করা হয়।
পিডিবি তাদের দাম বৃদ্ধির আবেদনে সঞ্চালন ৰতি তিন দশমিক ৪৫ ভাগ ধরা হয়েছে। কিন্তু এ ৰেত্রে পাওয়ার সেলের অনুমোদিত সঞ্চালন ৰতি দুই দশমিক ৬৫ ভাগের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কমিশন তাদের আদেশে বলে, গত ফেব্রম্নয়ারিতে দাম বৃদ্ধির সময় কমিশন পিডিবিকে যেসব নির্দেশনা দিয়েছিল সে বিষয়ে পিডিবি কোন তথ্য কমিশনে সরবরাহ করেনি। এমনকি বিদু্যত উন্নয়ন ফান্ড গঠনের কথা বলা হয়েছিল তাও করেনি। আদেশে আরও বলে, দেশে সরকারী বিদু্যত কেন্দ্রের পস্নান্ট ফ্যাক্টর ৪০ থেকে ৫০ ভাগ। অন্যদিকে বেসরকারী বিদু্যত কেন্দ্রের ব্যয় বেশি হলেও তাদের পস্নান্ট ফ্যাক্টর ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। এ ৰেত্রে সরকারী বিদু্যত কেন্দ্রের পস্নান্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নবেম্বর বিইআরসিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে পিডিবি চার দফায় ২০১৩ সালের শুরম্ন থেকে বিদু্যতের বাল্ক রেট ৭৬ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে প্রসত্মাব করে। পিডিবির প্রসত্মাবে বলা হয়, তরল জ্বালানি ব্যবহার বাড়ায় বিদু্যতের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদু্যতের সরবরাহ ব্যয় ৪ টাকা ৮৬ পয়সা। কিন্তু গড়ে প্রতি ইউনিট বিদু্যত পিডিবিকে দুই টাকা ৮১ পয়সায় বিক্রি করতে হয়।
পিডিবি'র প্রসত্মাবে প্রতি ইউনিট বিদু্যতের বাল্ক রেট ২০১১ সালের নবেম্বর থেকে প্রতি ইউনিট বিদু্যতের দাম ৩ টাকা ২৪ পয়সা, ২০১২ সালের মার্চ থেকে ৩ টাকা ৭২ পয়সা, একই বছরের জুলাইতে ৪ টাকা ২৮ পয়সা আর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ৪ টাকা ৮৬ পয়সা করার জন্য প্রসত্মাব করা হয়। প্রসত্মাবনায় বলা হয়, প্রসত্মাবিত দাম বাড়ানোর পরও চলতি বছরে পিডিবি'র ঘাটতির পরিমাণ হবে পাঁচ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।
চলতি বছর আরও দুই ধাপে বিদু্যতের দাম বৃদ্ধি করা হয়। গত পহেলা ফেব্রম্নয়ারিতে দুই টাকা ৩৭ পয়সা থেকে প্রতি ইউনিট বিদু্যতের দাম ১১ ভাগ বাড়িয়ে দুই টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়, যা গত পহেলা আগস্ট থেকে ৬ দশমিক ৬৬ ভাগ বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা ৮০ পয়সায়।
বিদু্যতের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ ॥ বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প এখন একটি সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পর বিদু্যতের দাম বৃদ্ধি পোশাক শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে চার পদক্ষেপ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাকর্লার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় চারটি পদৰেপের বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসন এবং বাজারে ব্যাংকগুলোর নতুন বিনিয়োগের সৰমতা বাড়াতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাকর্ুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে জারি করা ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে দেয়া মূলধনকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হবে না। পাশাপাশি কোন কোম্পানির শেয়ারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী ইকু্যয়িটি বিনিয়োগকেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বলে গণ্য করা হবে না।
এর আগে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ হিসাবের ৰেত্রে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে কেনা শেয়ার ছাড়াও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে দেয়া মূলধন বিনিয়োগ ও প্রদেয় ঋণ এবং অন্যান্য কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদী ইকু্যয়িটি বিনিয়োগকে হিসেবে ধরা হতো। এ দুটি সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে শেয়ার ব্যবসায় নিয়োজিত কোন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে দেয়া ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার এঙ্পোজার লিমিট) অতিক্রম করে থাকলে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের সময়সীমা ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যনত্ম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই ঋণ সমন্বয় করতে বলা হয়েছিল।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাংক লোকসানে পড়লে এর বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত (প্রভিশন) সংরৰণের ৰেত্রেও ছাড় দেয়া হয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো যে সব শেয়ার লোকসানে রয়েছে_ শুধু তার ওপর জামানত রাখতে হতো। এর পরিবর্তে এখন থেকে লাভে থাকা শেয়ারের সঙ্গে লোকসানী শেয়ারের সমন্বয়ের (নেট অফ) ভিত্তিতে প্রভিশনের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
এ ছাড়া বিদেশী পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন থেকে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ৰেত্রে বিদেশী ব্রোকারেজ হাউসের প্রাপ্য কমিশন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হলে দ্রম্নত প্রেরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সব পদৰেপের ফলে শেয়ারবাজারে বিদেশী তহবিল প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে এসইসি চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রম্নল হোসেন ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যেও এ বিষয়গুলো অনত্মর্ভুক্ত ছিল। প্যাকেজ ঘোষণাকালে এসইসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আরও অধিক হারে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ঘোষণার সংশিস্নষ্ট অংশ বাস্তবায়ন করেছে।
জনরোষে অলি_ চট্টগ্রাম আদালত রণক্ষেত্র, জুতো ও ঝাঁটা প্রদর্শন
মহিলা এমপি সম্পর্কে অশস্নীল মন্তব্যের জের ॥ গাড়ি ভাংচুর আহত ২০
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে চট্টগ্রামে মানহানি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে জনরোষের মুখে পড়লেন জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণ পরিণত হয় রীতিমতো রণক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা অলিকে লক্ষ্য করে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মহিলারা প্রদর্শন করেন ঝাঁটা। ব্যাপক হাঙ্গামার মধ্যে অলি আহমদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। তবে এর আগে এবং পরে আওয়ামী লীগ ও এলডিপি সমর্থকদের মধ্যে চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ভাংচুর হয় অলিকে বহনকারী গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহন।
চন্দনাইশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব এবং এলাকার যুবকদের জড়িয়ে অশালীন বক্তব্য রাখার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার আদালতে আসেন সংসদ সদস্য অলি আহমদ। বেলা ১১টার দিকে তিনি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে উপস্থিত হন। কিন্তু এর আগে থেকেই আদালতপাড়ায় চলে পাল্টাপাল্টি শোডাউন। কর্নেল অলির পক্ষে শোডাউনের জন্য তাঁর নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশ থেকে আনা হয় কর্মী সমর্থকদের। অপরদিকে অলি আসছেন এ খবরে আদালত এলাকায় প্রস্তুত ছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অনেক মহিলার উপস্থিতিও ছিল। চলে পাল্টাপাল্টি সেস্নাগান। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় অলি আহমদ আসেন চট্টগ্রাম আদালতে। তবে প্রবেশ পথেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলে পড়তে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সমর্থকদের। তারা অলিকে লক্ষ্য করে জুতা ও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এজলাসে যখন শুনানি চলছিল তখনও বাইরে ছিল পাল্টাপাল্টি অবস্থান। পুলিশ দু'পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থান করে পরিস্থিতি সামলে রাখার চেষ্টা করে।
বিচারক ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় আইনজীবী এ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী এবং এলাকার এক বিশিষ্ট ব্যক্তির জিম্মায় অলি আহমদ বীর বিক্রমের জামিন মঞ্জুর করেন। একই আদেশে বিচারক আগামী ২৭ নবেম্বর পরবতর্ী শুনানির দিন ধার্য করেন।
জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য রাখতে চাইলে সেখানেও প্রতিরোধের মুখে পড়েন অলি আহমদ। বিক্ষুব্ধরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। এ সময় ঢিলের পাশাপাশি এসে পড়তে থাকে জুতা স্যান্ডেল। তাঁকে উদ্দেশ করে ঝাঁটা উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। বিক্ষুব্ধরা অলি আহমদকে বহনকারী গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙ্গে দেয় এবং জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনের কাঁচ ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ইটের আঘাতে আহত একজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২ জন সাংবাদিকও রয়েছেন। তাঁরা হলেন এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান ফরিদ ও সময় টিভির ক্যামেরাম্যান বিপস্নব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। বেলা ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে অলি আহমদ অনেকটা দৌড়ে গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। পরে তিনি নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে এর আগে প্রায় একঘণ্টার জন্য এদিন চট্টগ্রাম আদালতের অন্যান্য এজলাসেও বিচারকার্য বিঘি্নত হয়।
উলেস্নখ্য, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়বকে চন্দনাইশের দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন অলি আহমদ বীর বিক্রম। গত ১৮ নবেম্বর চন্দনাইশে এলডিপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সম্মেলনে কর্নেল অলি বলেন, এক মহিলা এমপি দিয়ে চন্দনাইশের হাজার যুবকের সমস্যার সমাধান হবে না। গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া থেকে সুন্দরী মহিলাদের এনে চন্দনাইশে দিলে এলাকার যুব সমাজের কল্যাণ হবে। তাঁর এ বক্তব্য পরদিন স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এলাকার সংক্ষুব্ধ যুবক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব আহমদ শিমুল এ জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতদিনের মধ্যে কর্নেল অলিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অলি আদালত থেকে বেরিয়ে নগরীর লালদীঘির পাড়স্থ নিজ বাসভবনে কর্নেল (অব) অলি আহমদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় যুবলীগের নেতাকমর্ীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বৈঠকে বুধবার রাতে এ পরিকল্পনা হয়। আদালতে এ হামলাকে ন্যক্কারজনক অভিহিত করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদনত্মের দাবি জানান। যুবলীগের হামলায় এলডিপির কমর্ী ও আইনজীবীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। হামলার কারণ উলেস্নখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গ ছাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ আমাকে বিভিন্নভাবে দলে টানতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। কারণ এ সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৯ নবেম্বর বিএনপির সঙ্গে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাবার ঘোষণা দেয়ায় পরদিনই মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কখনও কোন ভদ্র মহিলার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেইনি। স্থানীয় পত্রিকায় আমার বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ সংবাদের প্রতিবাদ জানানোর আগেই আমার বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেছে বিষোদগার। একজন বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জামায়াতের সঙ্গে গেলেন কেন এ প্রশ্নের জবাবে অলি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলনে যেতে পারে আমার যেতে দোষ কোথায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এলডিপি নেতা এয়াকুব আলী, এ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।
দ্রুত বিচার আইনে মামলা ॥ আদালত এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, দায়িত্ব পালনে বাধা ও ভাংচুরের অভিযোগে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রাতে প্রক্রিয়াধীন ছিল বলে জানা গেছে।
কর্নেল অলির ওপর হামলার নিন্দা বিএনপির
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রামে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে কর্নেল অলি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। এ কারণে হত্যার উদ্দেশ্যই চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ে অলি আহমদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একই সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচী সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে রোডমার্চ বানচাল করতে সরকারের তরফ থেকে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচীতে অলি এখন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাই সেই আন্দোলনের প্রাণশক্তিকে স্তব্ধ করতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অলি আহমদ মামলায় জামিন নেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কোর্টে প্রবেশ করার সময় এক দফা, কোর্টের ভেতরে আরেক দফা ও কোর্ট থেকে বাইরে এসে সংবাদ সম্মেলন করার সময় তাঁর ওপর আরও এক দফা হামলা করা হয়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এতে বোঝা যায় পুলিশের ছত্রছায়ায় এই হামলা করা হয়েছে।
কাল শুরুহচ্ছে খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ ॥ আগামীকাল ২৬ নবেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চারদলীয় জোটের খুলনা অভিমুখে দু'দিনব্যাপী রোডমার্চ কর্মসূচী। এ রোডমার্চ বহরে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ওই দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে রোডমার্চ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এর আগেই খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের ভাড়া বাসা 'ফিরোজা' থেকে রওনা হবেন। বিএনপির পৰ থেকে জানানো হয়েছে, রোডমার্চ সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে রোডমার্চ বানচাল করতে সরকারের তরফ থেকে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, রাজধানী থেকে রোডমার্চ শুরু হয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ হয়ে প্রথম দিন যশোরে বিরতি হবে। ২৭ নবেম্বর খুলনা গিয়ে রোডমার্চ শেষ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, রোডমার্চের প্রচারে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়া হচ্ছে। মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা লিফলেটসহ বিভিন্ন প্রচারপত্র বিলির সময় পুলিশ তাতে বাধা সৃষ্টি করেছে। তাদের হুমকি দিয়ে বলেছে, মেহেরপুর থেকে কেউ রোডমার্চে যেতে পারবে না।
রিজভী বলেন, আগামী ২৬ ও ২৭ নবেম্বর খুলনা অভিমুখে রোডমার্চকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোপূর্বে সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের রোডমার্চে যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছিল খুলনা অভিমুখে রোডমার্চেও একইভাবে জনগণ অংশ নেবে।
গত ১০ ও ১১ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে রোডমার্চের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচী শুরু হয়। দ্বিতীয় রোডমার্চটি হয় ১৭ ও ১৮ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে। খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচীর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। ঢাকা থেকে রোডমার্চ এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথম পথসভাটি হবে দুপুরে পাবনার দাশুরিয়ায় হাইওয়ের পাশে। এ দিনই বেলা ৩টায় কুষ্টিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে হবে প্রথম জনসভা। পরে সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দ্বিতীয় পথসভা হবে। ওই দিন রাতে খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র নেতারা যশোর সার্কিট হাউসে রাতযাপন করবেন। পরদিন ২৭ নবেম্বর বেলা ১১টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে রোডমার্চের তৃতীয় ও শেষ পথসভা হবে। এদিন দুপুরে বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (র) মাজারও জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া। বিকালে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে রোডমার্চের সর্বশেষ জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। জনসভা শেষে গাড়িবহর নিয়ে ওই রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন খালেদা জিয়া।
সংসদে অলিবিরোধী বক্তব্যের নিন্দা ॥ জাতীয় সংসদে অলিবিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানালেন চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বগুড়া থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জেড.আই.এম মোসত্মফা আলী স্বাৰরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের পৰ থেকে এলডিপি সভাপতি অলি আহমদের বিরুদ্ধে সংসদে সরকারী দলের সদস্যদের বক্তব্যকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ উলেস্নখ করে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে অলির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া নির্বাচিত এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে।
চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের চাহিদা পূরণে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের অন্যায় ও দুর্নীতিবিরোধী সাধারণ সমালোচনাও তারা সহ্য করতে পারছে না। যার বহির্প্রকাশ ঘটেছে সংসদে সরকারী দলের এমপিদের দেয়া অশালীন, অসহিষ্ণু ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।
সীমার জীবনে রবি'র আলো
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সীমার জন্মই হয় 'ক্লাব ফুট' বা মুগুর পা নিয়ে। এই পা নিয়েই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে শুরু করে সীমা। কিন্তু পরিবার আর সমাজ তাকে এ কারণে তুচ্ছ তাচ্ছিল্লের চোখে দেখতে থাকে। পরিবারের লোকজনও তাকে অন্য কোন মানুষের সামনে নিয়ে যেত না। এক প্রকার বন্দী জীবনই ছিল সীমার। মেয়ে নিয়ে বাবা-মাকেও নানা ভর্ৎসনা শুনতে হতো। এরপরও সীমাকে তারা স্কুলে পাঠান। কিন্তু স্কুলের সহপাঠী বা অন্যরাও তাকে মুগুর পা বা খোঁড়া বলে নানা কথা বলত। এসব শুনে সীমার ভীষণ মন খারাপ হতো। কিন্তু কি আর করা, বাবা-মার আর্থিক সঙ্গতি তেমন নেই যে তার পায়ের চিকিৎসা করাবে।
১২ বছর বয়সে এসে সীমার পায়ের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসে রবি। মুগুর পা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সীমার পায়ের সফল অস্ত্রোপচার করে পা দু'টি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এখন সে ভালভাবে হাঁটতে পারে-দৌড়াতে পারে। এখন তাকে স্কুলের বন্ধুরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করে না। বাবা-মার মুখেও ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। বৃহস্পতিবার গুলশানে এক হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুগুর পায়ের চিকিৎসার ব্যাপারে এ তথ্য জানানো হয়। সারা দেশে তারা এ পর্যন্ত ৩শ' প্রতিবন্ধী বা মুগুর পায়ের শিশুর চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। রবির অর্থ সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রবি'র এক্সিকিকউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (সিআরএল) মাহমুদুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট (সিএসআর এ্যান্ড স্পন্সরশিপ) সেগুফতা ইয়াসমিন সামাদ, চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সহযোগী সংস্থা ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ড. হাসিব মাহমুদসহ রবি ও ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং মুগুর পায়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন শিশুর বাবা-মা।
সীমার মতো এ রকম অনেক শিশু তাদের নিরাময়যোগ্য প্রতিবন্ধিতা থেকে মুক্তি পেতে শুরম্ন করেছে। মুগুর পা নামের এ প্রতিবন্ধিতা এক ধরনের জন্মগত রোগ। অনেক শিশু আছে যাদের পায়ের পাতা উল্টো বা গোড়ালি থেকে পা বাঁকানো। এটাকে মুগুর পা বলে। ইংরেজীতে বলে ক্লাব ফুট।
বছরে ৫ হাজার শিশু মুগুর পা নিয়ে জন্ম নেয়। সচেতনতার অভাবে নিরাময়যোগ্য এ প্রতিবিন্ধতা জীবনভর বয়ে বেড়ান অনেকে। মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড এ ধরনের প্রতিবন্ধিতা জয়ের জন্য শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে চারজনকে আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। তারা এ সময় তাদের অনুভূতির কথা জানায়। চার বছরের লিখন, তার বাবা লৰণ প্রামাণিক ও মা অষ্টমী রানী তাঁদের ছেলেকে নিয়ে যে বেদনা বিধুর দিন কাটিয়েছেন তার বর্ণনা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ছেলে জুতো পরতে পারত না, আমাদের খুর কষ্ট হতো। এখন সুস্থ লিখন নিজেই মোজা-জুতো পরতে পারে।
দু'বছরের নিতাই ও ৫ বছরের শাহাদাতও হাজির হয়েছিল এই সংবাদ সম্মেলনে। নিতাইর বাবা দীলিপ চন্দ্র রবিদাশ ও মা পুতুল রানী সনত্মানের সুস্থতায় খুবই খুশি। শাহাদাতের বাবা টিটু কাজী ও মা শাকিলা বেগম খুশি, তাঁদের সনত্মান এখন স্কুলে যাচ্ছে।
এদের দু'দিনের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছিল মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোগে। এ দু'দিনে তাঁরা বসুন্ধরা শপিং মলে শপিং করেছেন। বেড়িয়েছে গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ডে। রবি'র কপের্ারেট অফিসে এসেছেন, পরিচিত হয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
মুগুর পা বা ক্লাব ফুট রোগে আক্রানত্ম এ সব শিশুর জন্য রবি আজিয়াটা লিমিটেড ইম্প্যাক্ট জীবন তরী ভাসমান হাসপাতালের সহায়তায় অস্ত্রোপচার শুরু করে চলতি বছরের গোড়ার দিকে। বিদেশী চিকিৎসকদের সহায়তায় এ পর্যনত্ম ২০০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৬ থেকে ৮ মাস বয়সের শিশুদের মুগুর পা ঠিক করার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা যথেষ্ট। অন্যদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের দরকার পড়ে।
রবির সেগুফতা ইয়াসমিন সামাদ বলেন, মুগুর পায়ের কারণে যে সব শিশু তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য রবি এ উদ্যোগ নিয়েছে। রবি চায় জয় করা যায় এমন প্রতিবন্ধিতার অভিশাপ থেকে দেশের গরিব মানুষের সনত্মানরা যেন মুক্তি পায়। রবি তার কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটির অধীনে এ সব কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে।
রাজশাহী মহানগর জুড়েই জনসভা
মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১২টা অতিক্রমের পর থেকে মানুষ আসতে থাকে রাজশাহী নগরীতে। গন্তব্য তাদের ঐতিহাসিক মাদ্রাস ময়দানে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জনসভা। দুপুর একটার পর থেকে মানুষের ঢল নামে রাজশাহী শহরে। দল বেঁধে বাদ্য বাজিয়ে মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ আসতে থাকে। ক্রমেই সস্নোগানে সস্নোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পদ্মা বিধৌত হযরত শাহমখদুম রূপোস (রহ.) পুণ্যভূমি রাজশাহী। লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ির বহর আসতে থাকে রাজশাহী শহরে তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে। কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষ, কামার কুমার জেলে তাঁতি থেকে শুরম্ন করে সব বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে রাজশাহীতে। বেলা দেড়টার পরই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ।
'জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু' 'প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই দিতে হবে ইত্যাদি সস্নোগান নিয়ে পিপীলিকার মতো মানুষের সারি দেখা যায় রাজশাহীতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল বিশাল ছবি সংবলিত লিফলেট, পোস্টার আর ব্যানার নিয়ে রাজশাহীতে গণমানুষের ঢল-যেন অতীতের সব গণজমায়েতকে হার মানায় রাজশাহীতে স্মরণকালের বিশাল জনসভা। সাধারণ মানুষ বলছে অতীতেও রাজশাহীতে জনসভা হয়েছে তবে এবারের মতো জনসমুদ্র কখনো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে জনমানুষের জোয়ারে পরিণত হয়েছে রাজশাহী নগরী। এ জোয়ার বাঁধভাঙ্গা ঢেউয়ের মতো। মানুষের জোয়ারে দিনভর উৎসবের নগরীতে রূপ নেয় রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের গণ্ডি পেরিয়ে নগরীজুড়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট থেকে আসা বৃদ্ধ সোলাইমান (৭০) বলেন, রাজশাহীর মাদ্রসা ময়দানের জনসভায় আওয়ামী লীগের সকল জনসভায় তিনি এসেছেন। তবে এবার এসে একসঙ্গে যত মানুষ দেখলেন তা কখনও তিনি দেখেননি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতো মানুষ কোথায় থেকে আসলো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ভাষণ শোনার জন্য আর অনেকদিন পর সরাসরি তাঁকে দেখতে তিনি কষ্ট করে বাসের ছাদে চড়ে এসেছেন। কিন্তু মানুষের ভিড়ে নেত্রীকে দেখতে পাবেন কিনা সন্দেহ তার।
শুধু কানসাটের বৃদ্ধ সোলাইমান নয়, রাজশাহী বিভাগের প্রায় প্রতিটি জেলার উপজেলা আর ইউনিয়নপর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় দলবেধে যোগ দেন হাজার হাজার নারী পুরম্নষ শিশু থেকে সব বয়সি সব পেশার মানুষ। অনেকে মাদ্রাসা মাঠের পেঁৗছার আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভা শুরম্নর আগেই ভরে যায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান। পরে মানুষ অবস্থান নেই মাঠের চারপাশে।
মাদ্রাসা মাঠের অনত্মত এক কিলোমিটার আশপাশেও পা ফেলায় জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়া রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি, বিন্দুর মোড়, লক্ষ্মীপুর বর্ণালী কাশিয়াডাঙ্গা আর সাহেববাজার এলাকাও পরিপূর্ণ হয়ে যায় মানুষের সমাগমে। মূল জনসভাস্থলেও বাইরেও মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো নগরীই পরিণত হয় জনসভায়।
আয়োজক কমিটি জনসভায় বাইরে অনত্মত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাইক আর বিভিন্ন স্পটে ১২টি বড় পর্দা স্থাপন করায় সরাসরি জনসভা দেখানো হয়েছে। মাদ্রাসা ময়দানে জনসভা হলেও পুরো নগরীই পরিণত হয় জনসভায়।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতারা পরিকল্পনা করে মানুষের গাড়ি বহর শহরের বাইরে রাখায় শহরে যানজটের সৃষ্টি না হলেও পুরো নগরীতে হয় জনজট। মানুষ আর মানুষে একাকার হয়ে যায় রাজশাহী।
রাজশাহীর প্রবেশ পথের তিনটি স্থান দিয়ে মানুষ হেঁটে হেঁটে শহরে প্রবেশ করে মানুষ। পদ্মা নদী পেরিয়ে নৌকাযোগেও আসে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। শহরে যানজট এড়াতে শহরের বাইরে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বহরের গাড়ি স্টপেজ করলেও মানুষ হেঁটে জনসভায় যোগ দেয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দে উৎসবে।
জনসভা প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন বলেন, মানুষের ঢল দেখে তিনি অভিভূত। জনসভা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য তিনি রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস থাকার কারণেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দল বেধে নেচে গেয়ে আনন্দ উলস্নাস করেছে জনসভাকে সফল করেছে।
সংসদে সংরক্ষিত পাঁচ আসনের বিপরীতে ১৭৪ নারী নেত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের সংরৰিত পাঁচ মহিলা আসনের বিপরীতে এমপি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন ১৭৪ নারী নেত্রী। বৃহস্পতিবার মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার শেষ দিন পর্যন্ত মোট ১৭৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রীরা প্রায় সবাই জমা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে জমা পড়া ফরমগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে আলোচিতরা হলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখিকা বেবী মওদুদ, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, সাবেক এমপি ও বিশিষ্ট শিশু সংগঠক অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আখতার জাহান প্রমুখ। উলেস্নখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সংরৰিত ৫ আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর।
এদিকে দলের বাইরের অন্তত অর্ধশত প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করায় বৃহস্পতিবার মহিলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেত্রী মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ঢাকার রাজপথে খুঁজলে এখনও আমাদের রক্ত পাওয়া যাবে। দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে করতে জীবন শেষ করে দিয়েছি। আর যারা দলের কেউ না কিংবা দলের প্রাথমিক সদস্য ফরমও কখনও পূরণ করেনি তারা মনোনয়ন নিতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। এটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। তবে সবকিছু তাঁরা নেত্রীর ওপর ছেড়ে দেন।
বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে বিকেল পর্যনত্ম দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ধানম-ি কার্যালয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁদের যাচাই-বাছাই শেষে মৌখিক পরীৰায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর পর দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে।
দশ হাজার টাকা মূল্যমানের ১৭৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হওয়ায় আওয়ামী লীগের দলীয় ফান্ডে ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা পড়েছে। মনোনয়নপত্রের টাকা অফেরতযোগ্য ঘোষণা দেয়ার পরও গত তিন দিনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উৎসাহে এতটুকুও ঘাটতি দেখা যায়নি। সবাই যাঁর যাঁর অবদান তুলে ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। আবার অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতেই মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে জানা গেছে।
লোকমান হত্যার সময় উপস্থিত লোকজনের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে
ওসি ও এএসপি বদলি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মেয়র লোকমান হোসেনকে গুলি করার সময় আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। উপস্থিত অনেককেই এ মামলায় সাক্ষী করা হতে পারে। নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নরসিংদী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিহাবুল ইসলামের আদালতে হাজী সেলিমের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জবানবন্দীতে দেয়া তথ্যের সূত্র ছাড়াও অন্যান্য সূত্র ধরেও এগুচ্ছে তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম। হাজী সেলিমের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অপর আসামি মাসুদুর রহমান টিপ্পন ওরফে পঙ্কাকে।
এ ছাড়া ঘটনার সময় লোকমানের সঙ্গে এবং আওয়ামী লীগের ওই অস্থায়ী কার্যালয়ে অবস্থানকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ও নরসিংদী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনাম আহমেদ (তদন্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে (অপরাধ) বদলি করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করার বিষয়টি লোকমান হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা নাকি এটি পুলিশের রুটিন কাজ তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। তবে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এটি পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। বদলির সঙ্গে লোকমান হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়টি জড়িত নয়।
তবে মামলার বাদী নিহত মেয়রের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার না করে এজাহারবহিভর্ূত আসামিদের গ্রেফতার ও তাদের স্বীকারোক্তি মূল হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে কতটা সহায়তা করবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমনকি হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে কিনা তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। লোকমানের অপর ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও নরসিংদী সরকারী কলেজের ভিপি শামীম নেওয়াজ বলেন, এজাহারবহিভর্ূত আসামিরা যদি কৌশলগত জবানবন্দী প্রদান করে, অথবা কাউকে রক্ষা করার জন্য নিজে ঘটনায় জড়িত বলে জবানবন্দী প্রদান করে তাহলে হত্যার আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবেনা। তাঁর দাবি, লোকমান হোসেন রাজনৈতিক হত্যাকা-ের শিকার। মামলার তদনত্ম ভিন্ন খাতে নিতে একটি মহল চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে মেয়র লোকমান হত্যার পর নরসিংদী বাজারসহ আশপাশের বাজারগুলোতে ব্যবসাবাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সন্ধ্যা হলেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট একে ফজলুল হক বলেন, মেয়র লোকমান হোসেন ছিলেন নরসিংদী পৌর উন্নয়নের রূপকার। মেয়র হত্যায় নরসিংদীবাসী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নরসিংদী পৌরসভা উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে অন্তত ২০ বছর।
এক ঘণ্টায় ড্রাইভিং লাইসেন্স বস্নুবুক!
শংকর কুমার দে ॥ এ যেন শর্ষেতেই ভূত! মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বস্নু বুক। এ জন্য আছে বিআরটিএতে একটি চক্র। এই চক্রই তৈরি করে দেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বস্নু বুক। তবে অরিজিনালটা পাবেন না, পাবেন ডুপিস্নকেট। আসল কাগজপত্রের মতোই নকল কাগজপত্র তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশ সদস্যরাও সহজে চিনতে পারেন না কোন্টা আসল কোন্টা নকল। এমন নিখুঁতভাবে তৈরি করা হচ্ছে গাড়ির বস্নু বুক ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ জন্য শুধু টাকার প্রয়োজন। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়া বিআরটিএর দালালদের দেয়া জবানবন্দীতে এই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি চোর চক্রের সাত সদস্য ও বিআরটিএর তিন দালালকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে রুমান, হাবিব ও সান্টু নামের তিন বিআরটিএ দালালকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে তারা জানায়, বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছে যাদের একটি দালাল চক্রের সঙ্গে সখ্য আছে। বিআরটিএ অফিসের কাছেই এই দালাল চক্র ঘুর ঘুর করে। কাগজপত্র তৈরি করতে গেলে তারাই আপনাকে সাহায্য করবে। দালালদের সহায়তা ছাড়া কাগজপত্র তৈরি করতে যাবেন তো ফেঁসে গেছেন। আইনের ফাঁক ফোকর দেখিয়ে কাগজপত্র তৈরি করতে এমন সব পরামর্শ দেয়া হবে আপনার চৌদ্দ গোষ্টি উদ্ধার হয়ে যাওয়ার মতো পেরেসানির মধ্যে পড়তে হবে। বাধ্য হয়েই দালাল চক্রের সহযোগিতা নিতে হবে। দালালদের কাছে গেলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই কাগজপত্র তৈরি করে দেবে। তবে ডুপিস্নকেট কাগজপত্র পাওয়া যাবে। এটা আসল কিনা নকল তা কাগজপত্র গ্রহীতা তো দূরের কথা পুলিশও সহজে শনাক্ত করতে পারে না। দালাল চক্র আসল কাগজপত্রও তৈরি করে দেয়। এতে কিছুটা সময় বেশি প্রয়োজন এবং টাকার প্রয়োজন হবে কয়েকগুণ বেশি। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত দালালচক্রের সদস্যরা জবানবন্দীতে এ ধরনের তথ্য দিয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে শতাধিক দালাল চক্রের সদস্য গাড়ি ও গাড়ি চালকের ডুপিস্নকেট কাগজপত্র তৈরিতে জড়িত। প্রতি মাসে তারা সহস্রাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বস্নু বুক তৈরি করে দিচ্ছে। এই দালাল চক্র চোরাই গাড়ির কাগজপত্রও তৈরি করে দিচ্ছে। দালাল চক্রের সদস্যদের সহায়তা দিচ্ছে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। টাকার বিনিময়ে দালাল চক্রের সদস্যরা বিআরটিএ অফিস থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে। তারপর নিজেরাই সংগ্রহ করা বিআরটিএর কাগজপত্রে নাম-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিখে দেন। কাগজপত্র দেখলে বোঝা যাবে এটা বিআরটিএর দেয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির বস্নু বুক। কিন্তু বিআরটিএ অফিসে খোঁজ করলে এর অসত্মিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
গাড়ির একজন ভুক্তভোগী মালিক বলেছেন, অনেক বৈধ গাড়ির মালিক বৈধ কাগজপত্রের জন্য বিআরটিএর অফিসে ঘুরতে ঘুরতে জুতোর সুকতলা ৰয় করেছেন। তার পরও বৈধ গাড়ির মালিক বৈধ কাগজপত্র না পেয়ে অবৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাসত্মায় পুলিশ এসব কাগজপত্র বৈধ না অবৈধ তা চিনতে পারেন না কিংবা চিনার চেষ্টাও করেন না। কারণ রাসত্মায় মানুষজনের সামনেই গাড়ির মালিক বা চালকের সঙ্গে কর্তব্যরত দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।
গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত দালাল চক্রের সদস্যরা জবানবন্দীতে বলেছে, বিআরটিএ অফিসে দৈনিক বেতনে অনেক লোক কাজ করছে। এরাই মূলত টাকার বিনিময়ে বিআরটিএ অফিস থেকে কাগজপত্র বের করে দিতে সহায়তা করে। গাড়ির বস্নু বুক ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র বের করে আনার পর তাতে টাইপ করে বা প্রিন্ট করে দেয় নাম-ঠিকানা। বিআরটিএ অফিসে যেভাবে মোটা হরফে বা চিকন হরফে লেখেন ঠিক সেভাবেই দালাল চক্রের সদস্যরাও লিখে দেন। রাসত্মায় কর্তব্যরত পুলিশও তাদের দেয়া কাগজপত্র বেশিরভাগ সময়ই চিনতে পারেন না।
নারায়ণগঞ্জের ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির ড্রাইভিং শেখানোর প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে আলাপ হলে তিনি জানান, মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে গাড়ির ড্রাইভিং শিখিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেন। নেন ছয় হাজার টাকা। ডুপিস্নকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য দুই হাজার টাকা। অরিজিনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নেন আট হাজার টাকা। এভাবে আনত্মর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সও করে দেন। একমাত্র আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই নাকি ডুপিস্নকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স অরিজিনাল লাইসেন্স হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায়।
স্তন ক্যান্সার রোধে
স্তন ক্যান্সার নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছেই। সম্প্রতি এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এ রোগ নিরাময়ে এখন পর্যন্ত সে অর্থে কোন ওষুধ বের হয়নি। ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ নিয়েও পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায়নি এখন অবধি। এ প্রসঙ্গে জার্মানিতে বসবাসকারী নারী বিশেষজ্ঞ ড. শুভ্রা কুন্ডু জানান, নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনও জানা না গেলেও, একাধিক কারণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে। একাধারে অনেক দিন ধরে জন্ম নিরোধ বড়ি খেলে, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর পরই নানা রকম হরমোন নেয়া শুরু করলে অথবা মা বা মাসির মধ্যে কারো স্তন ক্যান্সার থাকলে এ রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। এছাড়া যাঁরা কখনও সনত্মানকে স্তন্য পান করান নি, তাঁদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি হয়। ড. কুন্ডুর মতে এ রোগ থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তিনি এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে ২০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ব্রেস্ট পরীক্ষা করা, ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়া, সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো, ছোট থেকেই টাটকা শাক-সবজি ও ফল খাওয়া, ধূমপান এবং মদ্যপান পরিহার করা এবং সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গেই কোন ক্যান্সার সার্জন বা 'অঙ্কোলজিস্ট'-এর শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ড. শুভ্রা কুন্ডু বলেছেন, মেমোগ্রাফি, সত্মনের আলট্রাসনোগ্রাম এবং টিউমার থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করলে বর্তমানে খুব সহজেই ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব। তাছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং সামপ্রতিক 'ন্যানো' প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সার, বিশেষত সত্মন ক্যান্সারের চিকিৎসা সত্যিই একটি কার্যকর রূপ নিয়েছে। খবর ওয়েবসাইটের।