মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৯ জুন ২০১১, ১৫ আষাঢ় ১৪১৮
সংবিধান সংশোধন বিল ॥ পাস হচ্ছে দ্রুততম সময়ে
আজই উত্থাপন হচ্ছে
সংসদ রিপোর্টার ॥ বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল পাসের সমস্ত আয়োজন চূড়ান্ত। ইতোমধ্যে বিল পর্যালোচনা শেষে স্থায়ী কমিটি তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করে ছাপার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। রিপোর্ট চূড়ান্ত করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কমিটির কো- চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাসের জন্য ইতোমধ্যে রিহার্সেলও অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদে। আজ বুধবার রিপোর্টটি সংসদে উত্থাপিত হবে এবং খুব দ্রুততার সঙ্গেই বিলটি সংসদে পাস হবে বলে জানা গেছে।
অনেকটা দ্রম্নততার সঙ্গেই চূড়ান্ত করা হলো বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিলের ওপর সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট। রিপোর্ট চূড়ান্ত করার জন্য সংসদ থেকে ১৫ দিনের সময় দেয়া হলেও মাত্র তিন দিনের মাথায় মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটি বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। জাতীয় নির্বাচনকালীন জটিলতা এড়াতে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে একটি নতুন উপ-দফা এবং সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন পূর্বে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রহিত করতে নতুন দুটি দফা সংযুক্ত করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত নতুন এ উপ-দফায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য না শুনে নির্বাচনী মেয়াদে অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলের গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যনত্ম আদালত নির্বাচন সংক্রানত্ম একতরফা কোন রায় দিতে পারবে না।
তড়িঘড়ি করে কেন স্পর্শকাতর বিলটি পাস করা হচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশেস্নষণ। সরকার রাজনৈতিক কৌশল থেকেই দ্রম্নততম সময়ে বিলটি পাসের মাধ্যমে বিরোধী দলকে চাপের মুখে ফেলতে চাইছে, নানা পৰ থেকেই এসব বলাবলি হচ্ছে। তবে সরকারী দলের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের শুরম্ন থেকে এ পর্যনত্ম অসংখ্যবার বিরোধী দলকে সংসদে বা কমিটিতে এসে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। 'সমঝোতার পথ' উন্মুক্ত রেখেই বিশেষ কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এ অবস্থায় শাসক দল আশা করেছিল, বিল আকারে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদে উপস্থাপনের পর বিরোধী দল থেকে কোন না কোন ফর্মে আলোচনা বা সমঝোতার জন্য প্রসত্মাব দেয়া হবে। কিন্তু বিরোধী পৰ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ার কারণেই সরকার আর বিলম্ব না করে বিলটি পাস করার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বলেই সূত্রগুলোর দাবি।
তবে এ বিলটি পাসের ফলে বিরোধী দলের সঙ্গে সকল ধরনের সংলাপ বা সমঝোতার সম্ভাবনা রম্নদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এমনটা মনে করছেন না সরকারী দলের নীতিনির্ধারকরা। শুধু সরকার কিংবা বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকরাই নন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশেস্নষকরাও নিশ্চিত, উভয়পৰ সমঝোতায় রাজি হলে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে কোন সিদ্ধানত্ম পুনর্বার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অনত্মভর্ুক্ত করার পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সদ্যবিলুপ্ত সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আগামী নির্বাচনের এখনও আড়াই বছর সময় রয়েছে। সংবিধান সংশোধন বিল পাস হয়ে গেলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না। বিরোধী দল সংসদে প্রসত্মাব দিলে তা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রয়োজনে যতবার ইচ্ছা ততবার সংবিধান সংশোধন করা হবে। আইন করা হবে, বিধি করা হবে। এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই। তবে সংসদে না এসে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে কোন সমস্যার সমাধান হবে না।
সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট চূড়ানত্ম সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ রিপোর্ট চূড়ানত্ম করতে তিনটি উপ-দফা অনত্মভর্ুক্ত করার বিষয়ে বৈঠকের পর আইন, বিচার, সংসদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সাৰাত করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সচিব আশফাক হামিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের পর চূড়ানত্ম রিপোর্টটি প্রতিবেদন আকারে ছাপানোর জন্য প্রেসে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার বাজেট পাসের দিন সংসদে বিলটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপন এবং আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার প্রতিবেদন চূড়ানত্ম করার আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে আহ্বান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে। বিলের প্রতিটি অনুচ্ছেদ চুলচেরা বিশেস্নষণ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বহুল আলোচিত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিলের রিপোর্ট চূড়ানত্ম করে।
চূড়ানত্ম রিপোর্টে 'অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকার' ব্যবস্থার কোন বিষয় উলেস্নখ থাকছে না। তবে সরকারের মেয়াদকালে শেষ ৯০ দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে সরকারের শেষ তিন মাসে জাতীয় নির্বাচনের সময় সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা এড়াতে নতুন একটি উপদফা যুক্ত করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সবের্াচ্চ ৬০ দিনের বিরতিতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুন উপ-দফা সংযুক্ত করে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠনের পরিবর্তে ইসি তিন সদস্যের কমিশন গঠনের পূর্বের বিধান বহাল রাখার প্রসত্মাব দিলেও তা গৃহীত হয়নি। অর্থাৎ উত্থাপিত সংবিধান সংশোধন বিল অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রসত্মাবই বহাল থাকছে চূড়ানত্ম রিপোর্টে।
বিলের রিপোর্ট চূড়ানত্ম করতে কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা ও কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে ইসির তিনটি প্রসত্মাবের মধ্যে দুটি প্রসত্মাব গ্রহণে একমত পোষণ করেন সংসদীয় কমিটি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিইসি শামসুল হুদা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ইসির প্রসত্মাবে একজন নারীসহ মোট ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নিয়োগের ব্যাপারে ইসির পৰ থেকে বলা হয়েছে। এছাড়া 'নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল ঘোষণা পর্যনত্ম আদালত এ সংক্রানত্ম কোন শুনানি গ্রহণ করতে পারবে না'_ ইসির এমন প্রসত্মাবেও সহমত পোষণ করেছেন কমিটির সদস্যরা। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে একাধিক আসনে একই ব্যক্তির নির্বাচন ঠেকাতে যে প্রসত্মাব দেয়া হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর বিরম্নদ্ধাচরণের কারণে তা প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছেন সিইসি।
এদিকে বিশেষ কমিটির উপেৰা ও স্থায়ী কমিটির প্রসত্মাব গ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি শামসুল হুদা বলেন, বিশেষ কমিটির সঙ্গে ইসির চিঠি চালাচালি হলেও কোন আলোচনা হয়নি। এ কারণে ওই কমিটি হয়ত আমাদের প্রসত্মাবগুলোর যৌক্তিকতা বুঝতে পারেনি। এবার স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হওয়ায় বিষয়গুলো তারা বুঝতে পেরেছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিটির কো- চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ইসির দুটি প্রসত্মাব গ্রহণের ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট চূড়ানত্ম করা হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সরকারের শেষ ৯০ দিন সময়কে 'অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকার' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসবে না। এ সংক্রানত্ম একটি উপ-দফা প্রসত্মাবিত বিলে যুক্ত হবে। এছাড়া সংসদের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যনত্ম নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধানত্মের বিষয়ে কোন ব্যক্তি উচ্চ আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবে না_ এ বিষয়ক অন্য দফা যোগ হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিলের প্রতিবেদন পেশের পরও কেউ যদি সংশোধনী দিতে চায় তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে সংসদে। সংসদ তা গ্রহণ করতে পারে, নাও করতে পারে।
অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের ব্যাখ্যা ও দায়িত্ব মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার বিধান বাংলাদেশে এবারই প্রথম নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান বাহাত্তরে প্রণীত হলেও মেয়াদ শেষের আগের তিন মাসে কোন সংসদ নির্বাচনই হতে পারেনি। তাই এবার বিলের প্রসত্মাব অনুসারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তা হবে এ পদ্ধতিতে দেশের প্রথম নির্বাচন।
এ প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, অনত্মর্বতীকালীন এ সরকার ব্যবস্থা বাহাত্তরের সংবিধানেই আমাদের ফাউন্ডার ফাদাররা রেখে গেছেন। এটি বলবত আছেই। সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ পর্যনত্ম অনত্মর্বতর্ী সরকারের উলেস্নখ রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচন করার অধিকার নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে। সেই ইসিকে সকলকেই সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে ইসি যা চাইবেন রাষ্ট্রপতি সে সাহায্যই করবেন।
অনত্মর্বতর্ীকালীন সরকারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকারই থাকে, সে সরকারই অনত্মর্বর্তী হয়ে যায়। ওই সরকারের সংশিস্নষ্ট মন্ত্রীরা নির্বাচন করতে পারবে। সুরঞ্জিত বলেন, ইসি নির্বাচন পরিচালনা করবে। সে সময় যে সরকার থাকে তারা রম্নটিন মাফিক কাজ করবে। দৈনন্দিন কাজের বাইরে সে সরকার কোন নীতিনির্ধারণ করতে পারবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় এ বিধানই রয়েছে। এরপরও এ কাজ করার জন্য যদি অন্য কোন আইনের প্রয়োজন হয়, কোন কোড অব কন্ডাক্ট করার প্রয়োজন হলে সেটি করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরম্ন জনকণ্ঠকে বলেন, শেষ তিন মাসে সংসদ বহাল থাকলেও সরকার রম্নটিন কাজের বাইরে আইন প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ বা কোন নথিতে স্বাৰর করতে পারবে না। সমসত্ম কিছু পরিচালনা হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। সে হিসাবে প্রশাসনের ওপর সরকারের কোন প্রভাব থাকবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সব ৰমতা নির্বাচন কমিশনের থাকবে বলে নিরপেৰ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন পৰপাতিত্ব্বের অভিযোগ আসবে না।
চূড়ানত্ম রিপোর্টে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববতী নব্বই দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এই সময়ে সরকার এবং সংসদের ৰমতা সীমিত করে দেয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে বিলে। এখানে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর মেয়াদী সরকার শেষ তিন মাসে এসে শুধুমাত্র রম্নটিন কাজ করবে। নির্বাচন সংশিস্নষ্ট সব কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। মেয়াদ শেষ হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হলেও বিদ্যমান সরকারই পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যনত্ম ৰমতায় থাকবে। এরপর নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যে কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নূ্যনতম একবারের জন্য হলেও সংসদ অধিবেশন আহ্বানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটা থাকলে জাতীয় নির্বাচন বিঘি্নত বা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এসব ভাবনা থেকেই সংবিধান সংশোধনী বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজনী আনার প্রসত্মাব করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সুপারিশে সরকারের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে অর্থাৎ নির্বাচনী সময়ে অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করার কথা বলা হয়েছে।
অপ্রদর্শিত আয় আসছে শেয়ারবাজারে
বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী ভাষণ
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কারোর কথায় না ভুলে কিছু বলার থাকলে সংসদে এসে উপস্থাপনের জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পরও আপনারা যদি কোন ন্যায্য কথা বলেন, আমরা তা বিবেচনা করব। তাই কারোর কথায় ভুলে গণতন্ত্রকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবেন না। ফাঁক গলিয়ে কেউ এসে নাক গলাবে, কোন অনির্বাচিতরা এসে আবারও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে, সেই সুযোগ আর কাউকে দেব না। যা করার জনগণের প্রতিনিধিরাই করবে, জাতীয় সংসদই করবে। অন্য কেউ নয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে সোয়া ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিসের আশায় বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন তা জানি না। তিনি কি ভুলে গেছেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে জেল খাটিয়েছেন, দুই ছেলেকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে কিভাবে দেশছাড়া করেছে? কিসের আশায় আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন? আমরা কী আবারও গণতন্ত্রের ধ্বংসের সুযোগ করে দেব? আমরা কী ওই শ্রেণীকে আবারও সুযোগ দেব? তারা ঘোঁট পাকাবে, অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র করবে? তা আমরা আর হতে দেব না। যা কিছু করার তা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই করবে। যা কিছু হবে তা সব সংসদেই হবে।
তিনি বলেন, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। সেটাই বলবত থাকবে। জনগণের প্রতিনিধিরাই থাকবে। কারণ জনগণের প্রতিনিধি মানেই জনগণের ৰমতায়ন। যা করবে, সংসদ করবে। জনগণের প্রতিনিধিরাই এখানে থাকবে। কেউ এস নাক গলাবে তা হতে দেব না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম হয়নি, হয়েছে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। তাই বিরোধীদলীয় নেত্রী গণতন্ত্রের ভাষা একটু কম বোঝেন। তবে বাসত্মবতা বুঝে তিনি (খালেদা জিয়া) যত তাড়াতাড়ি জনগণের ভাষা শুনবেন ততই দেশের মঙ্গল। আদালতের রায় মেনে যে কোন বিষয়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। আর এটা করতে হলে তো বিরোধী দলকে সংসদে আসতে হবে।
পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক করতে এখানে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রসত্মাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শেয়াবাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার অনেক পদৰেপ নিয়েছে। তবে শেয়ার কারসাজির ঘটনায় বিএনপি জড়িত উলেস্নখ করে তিনি বলেন, অনেক ব্রোকারেজ হাউসের মালিক বিএনপির সমর্থক। এরা বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বিরোধী দল হরতাল ডাকলেই শেয়ারবাজারে ধস নামানো হয়। এতে মনে হয়, একটি অপরটির সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হুজুগে নয়, যাচাই-বাছাই ও জেনেশুনেই আগামীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন।
স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সকাল ১১টা থেকে প্রসত্মাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরম্ন হয়। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুবিধাসহ বেশকিছু স্পর্শকাতর স্থানে কর কমানোর প্রসত্মাব করেন।
শেখ হাসিনা বিদেশের আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র ও তাঁর মন্ত্রীর ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা উলেস্নখ করে বলেন, যা কিছুই ঘটে তার জন্য সরকার দায়ী, এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে কেউ যুক্ত হলে অবশ্যই তাকে শাসত্মি পেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সিমেন্স কোম্পানির কাছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বিরোধী দলের নেতার পরিবার জড়িত বলে প্রমাণ হয়। এফবিআইয়ের তদনত্মে তাদের নামও বের হয়, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে সেই ঘুষের টাকা গচ্ছিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, চায়না হার্বালের কাছ থেকেও ঘুষ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জোট সরকারের আমলের এক মন্ত্রী নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন, এটি কানাডার একটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতিতে যারা জড়িত এসব ধরা পড়ছে দেশে নয়, আনত্মর্জাতিক আদালতে। আনত্মর্জাতিক আদালতে নাম এলে দেশের আদালতে তার বিচার হবে, এটাই স্বাভাবিক। আনত্মর্জাতিক আদালতে কেউ দোষী সাব্যসত্ম হলে আমরা কিভাবে দায়ী হই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখানে আমাদের অপরাধ কী? বিএনপির নেতারাও জানেন বিরোধীদলীয় নেত্রীর পুত্র ও মন্ত্রীরা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই রায় ঘোষণার আগেই ব্যানার বানিয়ে আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। চুরি করবে তারা, আর আমরা চোর ধরতে পারব না, এটা কেমন কথা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই চোর ধরে দিলে আমাদের দোষ কোথায়?
বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেদের চোর বানিয়েছেন কেন? ছেলেদের চুরি করার শিৰা দিলেন কেন? রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় পড়াশোনা করে তারা কী শিৰা নিল? সরকারে থেকে সরকারী টাকা চুরি করা ও ঘুষ নেয়া? তিনি বলেন, শুধু ঘুষ-দুর্নীতিই নয়, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, ঘুষ-দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী-নেতারা। আজ প্রমাণ হচ্ছে, আগামীতে আরও প্রমাণ হবে। এ নিয়ে আমাদের ওপর অযথা গোস্বা করে কী লাভ?
গত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন টার্ম তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রেখে তিন জোটের রূপরেখার সঙ্গে বিএনপিই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। '৯৬-এ হয়েছিল সামরিক কু্য, আর ২০০১ সালে হলো বেসামরিক কু্য। এরপর দলীয় এক লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করতে বিএনপির বিচারপতিদের বয়স বাড়াল, এক কোটি ভুয়া ভোটার তালিকা ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিকে সিইসি করে প্রহসনের নির্বাচন করার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেয়নি। আসল ওয়ান ইলেভেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আকাঙ্ৰা নিয়ে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিলাম, তা কখনও বাসত্মবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নিয়ে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ১৫ ফেব্রম্নয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা করেছিল, তাতে অনেক যে ত্রম্নটি ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর থাকল। তারা দশ বছর ৰমতায় থাকতে চেয়েছিল। যারা সংবিধান প্রণয়নের দাবিদার, তারাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দু'বছর ৰমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর অনেক রকম খেলা শুরম্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্টাটাস দেয়া হবে, বাড়ি-গাড়ি আরাপ-আয়েশে থাকবেন- এমন অনেক অফার আমাকে দেয়া হয়েছিল। আমি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছি, আমি কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি চাই নির্বাচন। আর আমাদের সেই কঠোর অবস্থানের কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপির কালো টাকা সাদা করার বিরোধিতা হাস্যকর উলেস্নখ করে সংসদ নেতা বলেন, কালো টাকার ব্যাপারে বিরোধী দল দেখছি এখন অনেক সিরিয়াস! যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া), অর্থমন্ত্রী ও ছেলেরা জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করছেন, এখন কেন তাদের চেতনার উদয় হলো জানি না। তিনি বলেন, জনগণের কাছে বিএনপির চেহারা স্পষ্ট। তাদের কোন নীতি-আদর্শ নেই, ঘুষ-দুর্নীতি-লুণ্ঠন আর মানুষ হত্যা করাই তাদের নীতি। দেশের কল্যাণ নয়, তারা সবসময়ই দেশের অকল্যাণ চায়।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। বিএনপি আমলে ছয়বার, জাতীয় পার্টির আমলে চার বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। আমরা যেভাবে সংবিধান সংশোধন করছি, অতীতে কেউ এমন ধৈর্য ধরে সংশোধন করেনি, তড়িঘড়ি করেই করেছে। দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, সুশীল সমাজ, সংবিধান প্রণেতা, সাবেক প্রধান বিচারপতি, সম্পাদকসহ অনেকের সঙ্গে মতামত গ্রহণ করার পর সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোন প্রসত্মাব বা আপত্তি থাকলে সংসদে দিলে আমরা শুনতে রাজি। কিন্তু বিরোধী দল আইন মানে না, আদালতের রায় মানে না, সংসদ-সংবিধান কিছুই মানে না। গতবার নির্বাচনে হারার পর খালেদা জিয়া অভিযোগ করলেন নির্বাচন নাকি অবাধ ও নিরপেৰ হয়নি! যদি নির্বাচন নিরপেৰ না-ই হয় তবে কেন আবার কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন? ২০০৮ সালের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন, আবার সেই তত্ত্বাবধায়ক চান। এটি চাওয়ার আগে আপনাকে (খালেদা জিয়া) বলা উচিত ছিল, গত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচকরা বলেন, এটা নাকি ঘাটতির বাজেট। বাজেট ঘাটতি নতুন কিছু নয়, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই ঘাটতি বাজেট দেয়া হয়। ঘাটতি বাজেট দিলেই তা বাসত্মবায়ন হবে না, এ ধারণা ঠিক নয়। তিনি বলেন, গত বাজেটে দেয়ার সময়ও অনেকেই বলেছিল, এ মন্ত্রী ততটা স্মার্ট ও গতিশীল নয়, তাই বাজেট বাসত্মবায়ন করতে পারবে না। কিন্তু আমরা তা ভুল প্রমাণ করেছি। আমার মন্ত্রীরা দুর্নীতিতে স্মার্ট না হলেও কাজে যথেষ্টই স্মার্ট। গত বাজেটের এডিপি ৯৩ ভাগ বাসত্মবায়ন করেছি, আগামীতেও করব ইনশালস্নাহ্।
বিশ্ব মহামন্দার কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামন্দা ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির মধ্যে আমরা ৰমতা গ্রহণ করি। এর পরও চেষ্টা করে যাচ্ছি দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা মানুষের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি, জনগণের ক্রয়ৰমতা বেড়েছে। ব্যাপক কর্মসংস্থানও বেড়েছে। শহর-গ্রামে প্রায় ১০ ভাগ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। খাদ্যেমূল্যের উর্ধগতির মোকাবেলা করতে প্রয়োজনে উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে মানুষকে খাওয়াব। নানা কর্মসূচী ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কাছে খাদ্য পেঁৗছে দিচ্ছি। বিদেশ থেকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে খাদ্যদ্রব্য কিনে অর্ধেক দামে মানুষের মাঝে খাদ্য দিচ্ছি।
খাদ্যশস্যর জন্য আর যাতে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে না হয় সেজন্য কৃষি উৎপাদনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। মহামন্দার কারণে অনেক উন্নত বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে না পারলেও আমরা ৬ দশমিক ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। আগামীতে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সৰম হব ইনশালস্নাহ্।
দুই বছরে ৩১টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ করেছি, যার থেকে মাত্র আড়াই বছরে ১ হাজার ২২ মেগাওয়াট নতুন বিদু্যত সংযোগ দিয়েছি। আরও ২৬টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। তা থেকে আরও তিন হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট বিদু্যত জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। এছাড়া আরও ২৪টি বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আনত্মর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের কোন সরকার মাত্র আড়াই বছরে এতো বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি। আমরা পেরেছি তার একটাই কারণ হচ্ছে আমরা কমিশন বা দুর্নীতি করতে ৰমতায় আসিনি। আমরা নিজের দিকে দেখি না, জনগণের দিকে দেখি। তাই দ্রম্নততার সঙ্গে সবকিছু বাসত্মবায়ন করতে পারছি।
চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ এক বছরের পরিবর্তে দু'বছর করার প্রসত্মাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে এক বছর নয় দু'বছর ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এক বছর নিজ কলেজে, অন্য বছর নিজ গ্রামে থেকে চিকিৎসকদের চিকিৎসা না দিলে সার্টিফিকেট পাবে না। এটা করতে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও অনত্মত এক বছর গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সারাবিশ্বে এতদিন বাংলাদেশ মানে ছিল দুর্নীতিবাজ, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসীদের দেশ। কিন্তু মহাজোট সরকারের আড়াই বছরে সেই দুর্নাম ঘোচাতে আমরা সৰম হয়েছি। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, মাতৃ ও শিশু মৃতু্যহার হ্রাস এবং উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলের দেশ হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনার দেশ। সারাবিশ্বেই আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে ইনশালস্নাহ্।
ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে উৎসে আয়কর কমল, সুদের হার বাড়ল সঞ্চয়পত্রে
অর্থবিল পাস
সংসদ রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, রফতানি খাতে উৎসে করহার কমিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১১ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রেৰিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রসত্মাবিত বাজেটের বেশকিছু খাতে করহার প্রত্যাহার, হ্রাস ও বৃদ্ধি করেছেন।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার্য ফ্ল্যাটের উৎসে আয়কর হ্রাস, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধি, তামাক রফতানির ওপর শুল্কহার বৃদ্ধি, পোল্ট্রি খাতে কর অবকাশ সুবিধা বৃদ্ধি প্রভৃতি। এর পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডারের সরঞ্জামাদির মূল্য কমিয়ে আনার জন্য সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, পোল্ট্রি শিল্প বিকাশের জন্যও মৎস্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসত্মাবিত বাজেটের ওপর সংসদে প্রায় এক মাস ৪৯ ঘণ্টা আলোচনার পর অর্থ বিল পাস করা হয়। আজ জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হবে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে তাদের অর্থ বিলের ওপর দেয়া সংশোধনীগুলো উত্থাপিত হয়নি। একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কিছুৰেত্রে সংশোধনী দিলেও অর্থমন্ত্রীর আপত্তির কারণে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে সরকারী দলের এ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া, মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অর্থ বিলের কয়েকটি ৰেত্রে সংশোধনী দিলে তা গ্রহণ করা হয়।
পরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সরকারের আর্থিক প্রসত্মাবাবলী কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে আনীত 'অর্থ বিল-২০১১' উত্থাপন করলে সংশোধিত আকারে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। অর্থ বিল পাসের পর স্পীকার সংসদের অধিবেশন আজ বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।
অর্থ বিল পাসের আগে বিভিন্ন খাতে কর হ্রাস, বৃদ্ধি ও প্রত্যাহারের প্রসত্মাব করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজস্ব আদায়ের লৰ্য তিন বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা এখন আদায় করছি ১২ শতাংশের কিছু উর্ধে। এটাকে আমরা ২০ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের নীতি হলো আমাদের রাজস্ব আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকেই আহরণ করতে হবে। বিশ্বে উন্নত বাজার ব্যবস্থায় আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। আবার জাতীয় উৎপাদনকেও সুরৰা দিতে হবে। সেদিকটিও বাজেটে বিবেচনা করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, পোল্ট্রি এবং মৎস্য শিল্প নিয়ে বাজেট পেশের পরবর্তীকালে বিশেষ আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়াও কিছু বিষয়ে কর্মসূচী নেব। যেমন রেশম, সবজি ও মৌমাছি। এ ছাড়া বাজেট সংশোধন করে পোল্ট্রি শিল্পকে ২০১৩ সালের জুন পর্যনত্ম কর অবকাশ সুবিধা দিচ্ছি। পোল্ট্রি খাতে ৫ ভাগ করারোপের প্রসত্মাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পোল্ট্রি ফিডের ৭০ ভাগ ভুট্টা ও সয়াবিন। অন্য যেগুলো পোল্ট্রি ফিড রয়েছে সেগুলোর ওপরও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা ৫০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের দিকে এগুচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আমার বাজেট বক্তৃতায়ও বলেছি। প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ও স্পেয়ার পার্টসের ওপর সুবিধা দিয়েছি। সিলিন্ডার সংশিস্নষ্টদের সঙ্গেও কথা বলব। আরও কিছু সুবিধা দেয়া যাবে। তিনি বলেন, আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কিন্তু রফতানি প্রবৃদ্ধির পেছনেই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। রফতানির ওপরে উৎসে কর প্রসত্মাবিত ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ এবং পোশাক শিল্পের জন্য তা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ করা হলো।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে আমরা এই বাজারকে সংহতকরণের পদৰেপ নিয়েছি। অনেক সংস্কার করেছি। আরও করব। সরকারী খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাজারে আসার প্রসত্মাব দিয়েছে। আগে যাদের চেষ্টা করেও পারিনি। গত দু'মাসে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল। ৫ থেকে ৬ হাজারের মধ্যে সূচক রয়েছে। এটা যদি স্থিতিশীল না হয়ে থাকে, তাহলে আমি মনে করি শেয়ারবাজার বোঝার ৰেত্রে গ-গোল রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় যে শিৰা তা হলো যেসব কোম্পানি ঝুঁকিতে পড়বে না। ওসব কোম্পানিতে বিনিয়োগে যাবেন না। সরকারী কর্তব্য বিধিবিধান, আইনকানুন ও তা প্রয়োগ করা। সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রেজারি বন্ডে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে প্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ ভাগ কর রেয়াতের সুবিধা পাবে। একই ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ৰেত্রেও। অর্থাৎ প্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে রেয়াত পাওয়া যাবে। আর অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অপ্রদর্শিত আয়কে বাজারে আনার অনেক চেষ্টা করেছি। ২০১০ সালে মাত্র ৯২২ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি যাতে কর ফাঁকি বন্ধ হয়। মানুষকে কর প্রদান হয়রানিমুক্ত করতে চাই।
অর্থমন্ত্রী জানান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট-বিল্ডিং-স্পেস রেজিস্ট্রেশনের ৰেত্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাযীদের ওপর উৎসে আয়কর সংগ্রহের হার পরিবর্তন করা হয়েছে। বাজেটে প্রসত্মাবিত ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল এবং দিলকুশায় বাণিজ্যিক ভবনের ৰেত্রে প্রতি বর্গমিটার উৎসে আয়কর ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে আট হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ধানম-ি, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাওরানবাজার ও চট্টগ্রামের খুলশি, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ ও পাঁচলাইশে প্রতি বর্গমিটারে উৎসে কর ১৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৬ হাজার এবং অন্যান্য এলাকার ৰেত্রে এই কর ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিম্নমানের সিগারেটসেবীদের নানাভাবে নিরম্নৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই সিগারেটের ওপর আয়কর ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছি। তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিগারেট কোম্পানির ৰেত্রে তা হবে ৩৫ শতাংশ। এতে তামাক সেবন কমানোর লৰ্যের দিকে আমরা অগ্রসর হব। তামাক রফতানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক অব্যাহত রাখছি। তিনি বলেন, ফার্নিচার, মোটরসাইকেল, জাহাজভাঙা শিল্পের ওপর পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রসত্মাবিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, পিকআপের বহুমাত্রিক ব্যবহারের কারণে শুল্কহার কমানো হয়েছে। পিকআপের ক্যাপাসিটির ওপর নির্ভর করে এক হাজার সিসির ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল না। সেটি প্রসত্মাবিত বাজেটে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে তা প্রত্যাহার করে শূন্য করা হয়েছে। একইভাবে সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি অনুয়ায়ী ৫টি সত্মরে সম্পূরক শুল্ক হার কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। একটি সামাজিক ভ্যালু প্রিমিয়াম দিচ্ছি। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা থাকায় যে বৈষম্য ছিল তা কমবে। তবে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কিছু বাড়ানো হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্র ক্রেতা মাসিক ৯২০ টাকা পেতেন। এখন পাবেন মাসে প্রতি লাখে ৯৬০ টাকা। পেনশনার তিনমাসে প্রতি লাখে পাবেন ২ হাজার ৮১৫ টাকা। ওয়েজ আর্নাস মেয়াদানত্মে পাবে ৫৬ হাজার ২শ' ৫০ টাকা। বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৪৭ হাজার ২৫০ টাকা পেত, এখন পাবে ৫৫ হাজার। তিন বছরের মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিনমাসে পেত ২ হাজার ২৫০ টাকা। এখন পাবে ২ হাজার ৫৭৫ টাকা। পোস্টালে মেয়াদানত্মে পেত ২৭ হাজার টাকা। এখন পাবে ৩০ হাজার ৭৮০ টাকা।
অর্থমন্ত্রী যা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রসত্মাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন রকম আলোচনা হয়েছে। বাসত্মবায়ন সমস্যা নিয়েও প্রতিবছর আমি আলোচনা করি। এবারেও করছি। বাজেট বাসত্মবায়নের জন্য বিভিন্ন পদৰেপ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে কি ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন তা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য একটি 'রিসোর্স এনভেলাপ'ও দিয়েছি। টাকারও অভাব হবে না। মন্ত্রণালয়গুলোকে যথাযথভাবে দিকনির্দেশনা দিলে বাসত্মবায়নেরও সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় এক মাসের মধ্যে তার বার্ষিক কর্মসূচী প্রণয়ন করে তার সংস্থাগুলোকে বলে দিতে হবে। তাহলে শেষ তিন মাসের আগেই এই বাজেটের দুই তৃতীয়াংশ খরচ করা যাবে। বিভাগ থেকে দফতর পরিদফতরে টাকা যায় না। তা যাতে যায় সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। ক্রয় কার্যক্রমে দেরি হয়। বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহার করতে পারি না। ক্রয় কাজে আরও মনোযোগী হলে ভাল হবে। তাই আমরা অনলাইনে টেন্ডারিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বৈদেশিক সাহায্য আমাদের প্রচুর জমা হয়ে আছে। ১২ বিলিয়ন ডলার আমরা খরচ করতে পারিনি। এর তিনটি কারণ, প্রথমত আমাদের কার্যক্রম যথাযথ নয়। দ্বিতীয়ত, ওদের যেসব আইন-কানুন আছে সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সীমিত। ওরাও অনেক সময় বিলম্বে কিছু করে। যে কারণে ত্রৈমাসিকভাবে আমরা উন্নয়ন সহযোগীসহ বসে ঠিক করব কতদূর খরচ হতে পারে। আমাদের দৰতাও বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। বাজেট বক্তৃতার ৪র্থ অধ্যায়ে বাজেট অর্থায়নের বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে। অভ্যনত্মরীণ অর্থ আদায় করব ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি। বৈদেশিক সাহায্য পাবো ৭ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি রেখেছি ৫ শতাংশ। ২০১০ সালেও রেখেছি ৫ শতাংশ। এ বছরেও রেখেছি। আগামী বছরেও ৫ শতাংশ রেখেছি। তবে বাসত্মবে ৫ শতাংশের কম হবে। আরও লৰণীয় যে, রাজস্ব আদায় বাড়ছে। এ বছরে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কাজেই আগামী বছরে রাজস্ব আদায়ের লৰ্য অর্জিত হবেই।
তিনি বলেন, উৎপাদন, রফতানি, রেমিটেন্স, বিনিয়োগ কমেছে বলে আলোচনা আছে। যা একেবারেই মিথ্যা কথা। কোনটাই কমেনি। বরং রফতানি-আমদানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যা আগে কখনও বাড়েনি। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যদি উচ্চাভিলাষী না দেই, তবে আপনাদের উচিত হতো আমাকে ঝেটিয়ে বিদায় করে দিতে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পিপিপিকে যে উদ্দেশে বাজেটে স্থান দেই, তা সফল হয়েছে। আমাকে সকলে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিচালনায় অনেক ঝুঁকি রয়েছে। আমি সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। তাদের ধন্যবাদ। মূল্যস্ফীতি আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এটি অনেকটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দুটি ৰেত্রে-খাদ্য ও জ্বালানির কারণে এটি হয়েছে। আমরা যখন ৰমতায় আসি তখন জ্বালানি ছিল ৫৯ ডলার, এখন যা ১শ'র বেশি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা গরিব জনগণকে দেখা। তাদের ক্রয়ৰমতার মধ্যে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য ধরে রাখা। রেমিটেন্স কমেনি। এ বছরে প্রায় ৫ লাখ জনশক্তি রফতানি করতে সৰম হবো। আগামী বছরে রফতানি-আমদানি চলতি বছরের মতো ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ত হবে না, তবে সেটি আমাদের লৰণীয় রয়েছে। টাকা ও ডলারের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনত্মর্জাতিকভাবে ডলারের দাম বেড়েছে। সেটি আমাদের জন্য ভাল। আমদানি-রফতানির হিসাব করলে ডলারের দাম ব্যালেন্স হয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়লানীতি ডিসেম্বরের মধ্যে করার কথা বলছি। কয়লানীতির জন্য কয়লাভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্রের কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। ইতোমধ্যে কয়লার ওপর ভিত্তি করে বিদু্যত উৎপাদনে সমীৰা চালিয়েছি। ২০১৫ সালের মধ্যে হয়ত আমরা কয়লাভিত্তিক বিদু্যত পাবো। বাজেটে এ বিষয়ে আমি পথ নকশা দিয়েছি এবং সে অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিদু্যতের জন্য এবারে আমাদের খরচ বেড়েছে। তবে ৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে দেড় হাজার মেগাওয়াট ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। বিদু্যতে ক্রমান্বয়ে দাম বাড়ানোর যে প্রসত্মাব দিয়েছি তাতে অনেকেই বলেছে যে ফতুর হয়ে যাবে। যা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, কৃষি বরাদ্দ কমেছে, তাতে আমি শঙ্কিত নই। তবে কৃষির জন্য যখনি কোন কিছু চাওয়া হয় তা আমরা গুরম্নত্ব দেই। মানবসম্পদ খাতের কিছু অংশ শিৰা খাতে ব্যয়ের প্রসত্মাব করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গ্রামে ডাক্তারদের নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা তিনি চান। তাই নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। সে উদ্যোগও ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এবারে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশে বিশেষ গুরম্নত্ব দিয়েছি। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। তবে আমি কথা বলেছি, আশা করি ভাল পদৰেপ নিতে পারব। ভূমি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের শিল্পায়নের জমি নেই। কৃষি জমি চলে যাচ্ছে আবাসনের জন্য। তাই আমরা এ বছরে এসব সমাধানে কিছু ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।
অটোরিক্সা চালকের হাতে জিম্মি যাত্রী ॥ সর্বনিম্ন ভাড়া এক শ' টাকা
৩ জুলাইয়ের ধর্মঘট প্রত্যাহার
রাজন ভট্টাচার্য ॥ অটোরিক্সা যেন সোনার হরিণ। ভাড়ার ৰেত্রেও চালকদের হাতে জিম্মি যাত্রীরা। সর্বনিম্ন ভাড়া এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এর ফলে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে এই পরিবহনটি। সরকার নির্ধারিত ভাড়া মেনে চলতে অটোরিক্সা মালিক শ্রমিকদের প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আহ্বান জানালেও তা পাত্তা দিচ্ছেন না কেউ। এ ব্যাপারে অটোরিকক্সা মালিক ও চালকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এদিকে সরকার নির্ধারিত জমার অতিরিক্তি অর্থ আদায় করায় ৯০ গ্যারেজ মালিকের বিরম্নদ্ধে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হলেও এ ব্যাপারে কোন পদৰেপ নেয়া হচ্ছে না। মালিকরা বলছেন, চালকরা বাড়তি ভাড়া নিলে মালিকপৰ থেকে করণীয় কিছু নেই। চালকদের বক্তব্য একদিকে সরকার নির্ধারিত জমার চেয়ে বেশি আদায় করছেন মালিকরা, পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। এই প্রেৰাপটে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিকল্প নেই। মালিকপৰ বলছে মিটারে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে জমা বাড়াতে হবে। এদিকে এই সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত চার মাসে দুই হাজার চালককে কারাদ-সহ সাড়ে আট হাজার চালককে অর্থদ- করা হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি। এই প্রেৰাপটে অটোরিঙ্া সেক্টরে অরাজকতা বন্ধে দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে?
সিএনজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর অটোরিঙ্ার ৰেত্রে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার। মালিক, চালকসহ শ্রমিকদের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারী এই সিদ্ধানত্মের বিরোধিতা করা হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি সংগঠন সরকারী সিদ্ধানত্ম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রেৰিতে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের পৰ থেকে লোক দেখানো কয়েকদিন অভিযান করা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। সূত্রে জানা গেছে, অটোরিঙ্ার নৈরাজ্য রোধে গত ৩ মার্চ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানত্মের আলোকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চালকদের অর্থদ-সহ জেল দেয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অতিরিক্ত জমা নেয়ার অভিযোগে চারটি গ্যারেজ সিলিগালা করে বিআরটিএ। মজার বিষয় হলো সিলগালা করার পাঁচ দিন পরই এসব গ্যারেজ ফের খুলে দেয়া হয়। পরবতর্ীতে জমার পরিমাণ আরেক দফা বাড়িয়ে সাড়ে ৭০০ টাকা করা হয়। এদিকে নানা অনিয়মের বেড়াজালের মুখেও আগামী তিন জুলাই থেকে যৌথভাবে লাগাতার অটোরিঙ্া ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল দুটি শ্রমিক ইউনিয়ন। মঙ্গলবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর তারা অবশ্য ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। দাবি জানানো হলেও সিএনজি চালিত অটোরিঙ্ার ভাড়া আর না বাড়ানোর সিদ্ধানত্ম নিয়েছে সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর সড়ক বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত সিএনজি অটোরিঙ্ার ভাড়া ও দৈনিক জমা বাড়ানোসহ নানা দাবি নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩ জুলাই থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল মালিক-শ্রমিকরা। সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় ওই ধর্মঘট দুই পক্ষই প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে।
সম্প্রতি সরকার প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৯ টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করে। এরপর গত ১৯ মে অটোরিঙ্ার ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়। তবে সিএনজি মালিক-শ্রমিকরা এ হার আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকার দৈনিক জমা ৬০০ টাকা করলেও তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল মালিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকরা নির্ধারিত হারের বেশি টাকা নেন। সচিব বলেন, চালকদের কাছ থেকে দৈনিক জমা ৬০০ টাকার বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মালিকপক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিএনজি চালিত অটোরিঙ্ার 'ইকোনমিক লাইফ' ২ বছর বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ বাসত্মবায়ন করা হবে। সিএনজি চালিত অটোরিঙ্ার ইকোনমিক লাইফ বা চালু রাখার মেয়াদ নয় বছর পর্যনত্ম ছিল। এ সিদ্ধানত্মের ফলে তা ১১ বছর পর্যনত্ম হবে। দৈনিক জমা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, ইকোনমিক লাইফের বিষয়ে সুপারিশ বাসত্মবায়ন, পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ, বিআরটিএ'র হয়রানি বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবিতে ৩ জুলাই থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দেয় মালিকরা। ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিঙ্া মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উলস্নাহ ভুলু বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, দৈনিক জমা না বাড়লেও অন্য দাবিগুলো মেনে নেয়ায় তারা সন্তুষ্ট। শ্রমিকরা ১০ দফা দাবিতে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাদের দাবির মধ্যে ছিল- বাস/মিনিবাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভাড়ার হার পুর্নির্নর্ধারণ, মিটার টেম্পারিংরোধে বিএসটিআইয়ের মাধ্যমে সিলগালার ব্যবস্থা করা, অতিরিক্ত জমা আদায়কারী মালিকদের বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া, সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, পুলিশের হয়রানি বন্ধ ইত্যাদি। ভাড়া না বাড়লেও অন্য দাবিতে সাড়া মেলায় সনত্মোষ প্রকাশ করেন ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন।
অটোরিঙ্ার সংখ্যা আসলে কত ॥ বিআরটিএ'র তথ্য অনুযায়ী রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত অটোরিঙ্ার সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। তবে অটোরিঙ্া মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, রাজধানীতে ভাড়ায় চলাচলের জন্য রেজিস্ট্রেশন আছে ১২ হাজার ৭১৫টি গাড়ির। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার গাড়ি নষ্ট হওয়ার কারণে ধারাবাহিকভাবে বন্ধ থাকে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় গত বছর ৬৪টি অটোরিঙ্া বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের পর বন্ধ হবে আরও ৪ হাজার অটোরিঙ্া। এই প্রেৰাপটে অটোরিঙ্ার সঙ্কট আরও বাড়বে। পরিবহন মালিকদের অভিযোগ প্রাইভেটের নামে মিটার ছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় দুই হাজার অটোরিঙ্া রাজধানীতে চলছে সার্জেন্টদের টোকেন নিয়ে। এছাড়াও পাশর্্ববতর্ী জেলা নারায়নগজ্ঞের অটোরিঙ্ার রং ঢাকার অটোরিঙ্ার সঙ্গে মিল থাকায় প্রতিদিন অনেক অটোরিঙ্া অবৈধভাবে রাজধানীতে প্রবেশ করছে। মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কর্মকর্তারা অবৈধভাবে দুই জেলার অটোরিঙ্ার রং এক করেছে। কিন্তু আইনে যা পুরোপুরি অবৈধ।
৯০ গ্যারেজ মালিকের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে ॥ নগরীতে অটোরিক্সা চালুর পর থেকেই চালকদের বিরম্নদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ অভিযোগের শেষ নেই। চালকদের অভিযোগ মালিকরা সরকার নির্ধারিত জমার চেয়ে অতিরিক্ত জমা নেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে। এ নিয়ে বিআরটিএ'র পৰ থেকে চালক ও মালিকদের বিরম্নদ্ধে কয়েকদফা অভিযান চালালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি থেকে রাজধানীতে চলা সিএনজি চালিত অটোরিঙ্ার নতুন ভাড়া কার্যকর করেছে সরকার। পাশাপাশি অটোরিঙ্ার জমা ৬০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। চালকদের অভিযোগ, মালিকরা দুই শিফটে ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা প্রতিদিন জমা আদায় করছেন। কিন্তু অধিকাংশ মালিক এ বিষয়টি অস্বীকার করায় অটোরিঙ্া শ্রমিক সংগঠনের পৰ থেকে অতিরিক্ত জমা আদায়কারী ৯০ গ্যারেজের তালিকা প্রস্তুত করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। এর প্রেৰিতে সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৫টি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরাধের প্রেৰিতে যাত্রাবাড়ী এলাকার জামায়াতের রোকন হাজী আবদুস সালামসহ ৫ গ্যারেজ মালিককে এক বছরের কারাদ-সহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হয়। ২ দিন পর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপোস রফা করে দ-প্রাপ্তরা বেরিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে।
বেপরোয়া বাস-_সড়ক ভবনের সামনে দুই পথচারী নিহত
সিএনজি চাপায় বাবার সামনেই শিশুকন্যার নিথর দেহ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ধানমণ্ডির লেক থেকে এক ব্যক্তির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার হয়েছে। রমনায় বেপরোয়া দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পথচারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১০ যাত্রী। এ ঘটনায় ৰুব্ধ জনতা বাস দুটি ভাংচুর চালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যাত্রাবাড়ীতে পিতার হাত ধরে রাস্তা পার হওয়ার সময় সিএনজির ধাক্কায় ৬ বছরের এক শিশুর মর্মানত্মিক মৃতু্য হয়েছে। উত্তরায় বিদু্যতস্পৃষ্ট হয়ে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পুলিশ ধানম-ি থানাধীন কলাবাগান ক্লাব মাঠসংলগ্ন লেক থেকে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে ধানম-ি থানার এসআই জানান, সকালে কলাবাগান ক্লাব মাঠসংলগ্ন ধানম-ি লেক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির নগ্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃতু্যর ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সে কি লেকে গোসল করতে গিয়ে মারা গেছে। নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট হাতে পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে। তদনত্ম চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যনত্ম কোন মামলা হয়নি।
এদিকে এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় রমনা থানাধীন সড়ক ভবনের সামনের মোড়ে চয়েস ট্রান্সপোর্ট নামে একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২৬০৩) বেপরোয়া গতিতে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট নামে আরেকটি বাসকে (ঢাকা মেট্রো-জ ১৪-০১৫১) ওভারটেক করছিল। এই দুইটি বাস পালস্না দেয়ার সময় চয়েস ট্রান্সপোর্ট নামে বাসটি অপর বাসটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিল দুই যুবক। পরে ইউনাইটেড পরিবহন বাসটি ওই দুই পথচারীকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃতু্য ঘটে। এতে ওই বাসে থাকা প্রায় ১০ যাত্রী আহত হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাস ২টি ভাংচুর চালায়। এ সময় বিৰুব্ধ জনতা সড়কটি কিছুৰণের জন্য অবরোধ করে রাখে। এতে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, নিহতেদের বয়স ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে তাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদনত্মের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীগামী চয়েস পরিবহনের একটি বাস ও একই রম্নটের ইউনাইটেড সার্ভিসের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার সময় দুইটি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্কের রেলিংয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এ সময় ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় ওই দুই যুবককে বাসটি চাপা দেয়। পরে দুই যুবকের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাস ২টি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। অপর দিকে একইদিন বিকেল ৩টায় আলী উলস্নাহর ৬ বছরের কন্যাসনত্মান জান্নাতুল ফেরদৌস উপমা বাবার হাত ধরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগ বিশ্বরোডসংলগ্ন মাঠের কাছে রাসত্মা পার হচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে সিএনজিচালিত অটোরিঙ্া শিশু উপমাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিতার হাত থেকে শিশু উপমা ছিটকে পড়ে রাসত্মায়। পিতার সামনে উপমার নিথর রক্তাক্ত দেহ রাসত্মার ওপর পড়ে থাকে। পুলিশ জানায়, নিহত পিতা আলী উলস্নাহর গোলাপবাগে একটি মুদি দোকান রয়েছে। তিনি গোলাপবাগ এলাকার ২৩/এ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকেন। দুই বোনের মধ্যে নিহত উপমা বড়। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল কাশেম জানান, পরিবারের আবেদনে ময়নাতদনত্ম ছাড়াই শিশু উপমার লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃতু্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সিএনজিটি দ্রম্নত পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সোমবার রাতে উত্তরা মডেল থানাধীন ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর বাড়িতে মিজানুর রহমান (২৭) ইলেক্ট্রিকের কাজ করছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমান হঠাৎ বিদু্যতস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃতু্য ঘটে। এ খবর পেয়ে উত্তরা থানার এসআই আতাউর রহমান তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের বাড়ি জামালপুর জেলায়।
অর্থ সংস্থান নেই অথচ একের পর এক প্রকল্প পাস
রাজনৈতিক চাপের মুখে দিশেহারা পরিকল্পনা কমিশন
হামিদ-উজ-জামান মামুন ভয়াবহ অর্থ সঙ্কটে পড়ছে উন্নয়ন প্রকল্প। ইতোমধ্যেই অনুমোদন দেয়া কিছু প্রকল্পে অর্থের সংস্থান ছাড়াই পাস করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)। তার ওপর এখনও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একের পর এক অনুমোদন দেয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্প। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যবর্তী সময় হওয়ায় ব্যাপকহারে প্রকল্প প্রবাহ বেড়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এগুলো অনুমোদন দেয়ার ৰেত্রে রাজনৈতিক চাপের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কমিশন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রম্নত বিশেষ প্রকল্পও রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই নিয়মের বাইরে এসে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের এ সময়ে এসে এ রকম অর্থ সঙ্কট আগে কখনও হয়েছে বলে মনে হয় না। এদিকে বিভিন্ন প্রকল্পভুক্ত ঠিকাদারদের পাওনা কাজের বিলের কাগজ জমা হচ্ছে। সেগুলো পরিশোধেরও কোন পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল নির্ণয় ও পর্যালোচনা না করেই আগামী অর্থবছরের (২০১১-১২) নতুন বাজেটে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে সবগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে। এর আগে চলতি অর্থবছরে (২০১০-১১) ৩৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এর আওতায় আনা হয়। এমটিবিএফের মূল কথা হচ্ছে আগে বাজেটে ১ বছরের জন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হতো। এখন ১ বছরের অর্থ বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি আগামী ৫ বছরের জন্য একটি আর্থিক প্রৰেপণ দেয়া আছে, আগে বাজেটে সরকারের নীতি আদর্শের মিল রেখে বাজেট করা কষ্টকর ছিল এখন সরকারের নীতি আদর্শের সঙ্গে সম্পদের এবং সম্পদের সঙ্গে পরিকল্পনার সংযোগ ঘটানো হচ্ছে, মন্ত্রণালয়গুলো স্বাধীন হবে এবং নিজেরাই নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে, আগে কেন্দ্রীয়ভাবে বাজেট তৈরি করা হতো আর অফিসাররা স্বাৰর করতেন। এখন বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া ওপর থেকে নিচে এবং নিচে থেকে আবার ওপরে আসবে ফলে সবার অংশগ্রহণ থাকবে। কিন্তু এমটিবিএফের নির্ধারিত সীমা মানছে না কোন মন্ত্রণালয়ই। এমটিবিএফকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছে মতো প্রকল্প তৈরি করে তা একনেকে অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রসত্মাব পাঠানো হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনে। শুধু প্রসত্মাব পাঠিয়েই ৰানত্ম থাকছে না। এ প্রকল্পগুলো বাধ্যতামূলক পাস করাতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে চাপ অব্যাহত থাকছে। যার কারণেই উন্নয়ন প্রকল্প বাসত্মবায়নে ভয়াবহ অর্থ সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বহুল আলেচিত এই এমটিবিএফের ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাহত হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র জানায়, এমটিবিএফের আওতায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৰেত্রে যে অর্থের সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে তার চেয়ে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ইতোমধ্যেই একনেকে অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়েছে। গত ৩ মের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেলেও এরপর আরও কিছু প্রকল্প অনুমোদন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রসত্মাব করা হয়েছে। শুধু পানিসম্পদ মন্ত্রণালই নয় এ রকমভাবে অর্থের নির্ধারিত সীমা কমবেশি প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় অতিক্রম করেছে। ফলে অনুমোদন হওয়া কোন কোন প্রকল্পের বাসত্মবায়নকাল শুরম্ন হয়ে গেলেও কাজ শুরম্ন করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিলম্বে বাসত্মবায়নের কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অথচ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প অনুমোদন সংক্রানত্ম পরিপত্রে বলা হয়েছে, যে প্রকল্পের বিপরীতে অর্থের সংস্থান থাকবে শুধু সেই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে। কিন্তু প্রবল রাজনৈতিক চাপের কারণে পরিকল্পনা কমিশনের পৰে এ নিয়ম মানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কমিশনের প্রকল্প অনুমোদন সংক্রানত্ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে।
এভাবে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে না পারায় বহুল আলোচিত সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্প বাসত্মবায়নে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে পূর্বের ব্যয় বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯শ' কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে এবং বাসত্মবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সাল পর্যনত্ম করে সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রসত্মাব পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ এমটিবিএফের আওতায় এ প্রকল্পের জন্য কোন অর্থই বরাদ্দ নেই। অর্থের সংস্থান ছাড়াই এটি একনেকের যে কোন সভায় সংশোধনী আকারে অনুমোদন দেয়া হবে।
অপরদিকে হাইমচর ও চাঁদপুরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের ৰেত্রে দেখা গেছে_ ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছে এবং ব্যয়িত অর্থের বিলের কাগজ পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের জুন পর্যনত্ম এ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৭০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ সম্পূর্ণ ঠিকাদারের বিল পরিশোধে ব্যয় করা হলেও বাকি ৯০ কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে এ বিষয়ে কেউই জানেন না। এ রকম বহু প্রকল্পে টাকার অভাবে ঠিকাদাররা কাজ করতে পারছেন না। অনেক প্রকল্পের কাজও মাঝপথে বন্ধ রয়েছে।
অর্থ সংস্থান নেই অথচ একের পর এক প্রকল্প পাস
রাজনৈতিক চাপের মুখে দিশেহারা পরিকল্পনা কমিশন
হামিদ-উজ-জামান মামুন ভয়াবহ অর্থ সঙ্কটে পড়ছে উন্নয়ন প্রকল্প। ইতোমধ্যেই অনুমোদন দেয়া কিছু প্রকল্পে অর্থের সংস্থান ছাড়াই পাস করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)। তার ওপর এখনও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একের পর এক অনুমোদন দেয়া হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্প। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যবর্তী সময় হওয়ায় ব্যাপকহারে প্রকল্প প্রবাহ বেড়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এগুলো অনুমোদন দেয়ার ৰেত্রে রাজনৈতিক চাপের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কমিশন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রম্নত বিশেষ প্রকল্পও রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই নিয়মের বাইরে এসে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের এ সময়ে এসে এ রকম অর্থ সঙ্কট আগে কখনও হয়েছে বলে মনে হয় না। এদিকে বিভিন্ন প্রকল্পভুক্ত ঠিকাদারদের পাওনা কাজের বিলের কাগজ জমা হচ্ছে। সেগুলো পরিশোধেরও কোন পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
টিআইবির সংসদ পর্যালোচনা ॥ '৯১-এ সংসদ বর্জন ছিল ৩৪ শতাংশ বর্তমানে ৭৫ শতাংশ
০ বিরোধীদলীয় নেত্রী মাত্র ৫ দিন উপস্থিত ছিলেন
০ দু'বছরে সবদিন উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের মারুফ সাকলান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় প্রধান বিরোধী দল ও জোটের সংসদ বর্জনের হার উদ্বেগ জনকহারে বাড়ছে। বর্তমান নবম সংসদের সপ্তম অধিবেশন পর্যন্ত বিরোধীদলীয় জোট ইতোমধ্যে মোট কার্যদিবসের ৭৪ শতাংশ বর্জন করেছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে মোট কার্যদিবসের শতকরা ৩৪ ভাগ বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল। '৯৬ সালে ৭ম এবং ২০০১ সালে ৮ম সংসদে তা যথাক্রমে দাঁড়ায় ৪৩ ও ৬০ শতাংশে। নবম সংসদের প্রধান বিরোধী দল ১৩৫টি কার্য দিবসের মধ্যে ১২২ কার্যদিবসই সংসদে অনুপস্থিত ছিল, যা সংসদের মোট ব্যয়িত সময়ের ৮৩ ভাগ। অন্যদিকে সংসদ বর্জন রীতির সঙ্গে কোরাম সঙ্কটও অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংসদে অনুপস্থিতির জন্য সদস্যপদ বাতিলের সময় ৯০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ৩০ কার্যদিবস করার সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে সংসদ সদস্য আচরণ বিল ২০১০ পাস এবং সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ করে দিতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনসহ ১৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি।
সোমবার টিআইবি পরিচালিত জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের ওপর এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবে পার্লামেন্ট ওয়াচ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে নবম সংসদের দ্বিতীয় থেকে সপ্তম অধিবেশন পর্যনত্ম টিআইবির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনের ওপর পর্যবেৰণমূলক প্রতিবেদন ২০০৯ সালের ৪ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সংস্থা ২০০১ সাল থেকে অষ্টম সংসদের সর্বমোট ২৩টি অধিবেশনের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে ৬টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারের প্রতিবেদনে দেখানো হয় ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদের তুলনায় ২০০৯ সালের নবম সংসদের ৭ম অধিবেশন পর্যনত্ম প্রধান বিরোধী দল বা জোটের সংসদ বর্জনের হার উর্ধমুখী। সংসদ বর্জনে প্রতিষ্ঠানটির পৰ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় সংসদ বর্জনের প্রবণতা জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। জাতীয় সংসদের কার্যকারিতার স্বার্থে অনতিবিলম্বে প্রধান বিরোধী দলকে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানানো হয় টিআইবর পৰ থেকে।
টিআইবির সাবেক চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে যান না। কিন্তু সদস্যদের জানতে হবে তাদের দায়িত্ব কি। সংসদের গিয়েই তাদের জনগণের কথা তুলে ধরা উচিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে এসে বাজেট পেশসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরছে। বিরোধী দল বা সরকারী দল জনগণের সামনে তাদের কথা তুলে ধরতে পারে। এতে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এটা কখন সংসদে যাওয়ার বিকল্প হতে পারে না। তিনি বলেন, সংবিধানে বাধ্যবাধকতা থাকলেও আনত্মর্জাতিক চুক্তি সংসদে উত্থাপন করা হয় না। কোন সদস্যও চুক্তি উত্থাপনের কথা বলেন না। ফলে জনগণ অন্ধকারে থাকে এসব চুক্তির ব্যাপারে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারম্নজ্জামান বলেন, সংসদের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের আগ্রহ অনেক কম। সংসদের বাইরেই তারা বেশি সময় দেন। সংসদ বর্জনের রাজনীতি বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পূরকতা বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য হলেও গত দু'দশক ধরে অব্যাহতভাবে প্রধান বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের উর্ধমুখী প্রবণতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোন জবাবদিহিতা বোধ নেই। দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থের তাড়নায় তারা এসব করছে। সরকারী দল বা বিরোধী দলের সবাই জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ বা অঙ্গীকার থেকেই তাদের সংসদে যেতে হবে। এখানে কারও সংসদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানোর কিছু নেই। তিনি বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর দেখতে চাই। সংসদে উপস্থিত হয়ে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক সম্প্রচারিত সংসদ কার্যক্রম, মনিটরপূর্বক তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও সংসদীয় বুলেটিন, সরকারী গেজেটসহ সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের গ্রন্থনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে নবম সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে ৭ম অধিবেশন পর্যনত্ম পর্যবেৰণমূলক তথ্য সনি্নবেশিত করা হয়েছে। মোট ১০টি বিষয়ের ওপর পর্যবেৰণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সদস্যদের উপস্থিতি, সংসদ বর্জন ও কোরাম সঙ্কট, আইন প্রণয়ন সংক্রানত্ম কার্যাবলী, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জনগুরম্নত্বপূর্ণ নোটিসের ওপর আলোচনা, বাজেট আলোচনা, রাষ্ট্রপ্রতির ভাষণের ওপর আলোচনা, সংসদে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ, স্পীকারের ভূমিক, অনির্ধারিত আলোচনা ও অপ্রাষঙ্গিক বিষয়।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে কোরাম সঙ্কটের কারণেও সংসদে অধিবেশন বিলম্বিত হচ্ছে। কোরাম সঙ্কটের কারণে অধিবেশন চলাকালে দৈনিক গড়ে ৩৩ মিনিট ৰতি হয়। নবম সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে সপ্তম অধিবেশন পর্যনত্ম মোট ৭৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট কোরাম সঙ্কটের কারণে ব্যয় হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৯ কোটি টাকার মতো। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকায়ও তেমন সফলতা নেই। প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে, ৩৭টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে কেবল ১১টি কার্যপ্রনালী বিধি অনুযায়ি বৈঠক করতে সমর্থ হয়েছে। তিনটি স্থায়ী কমিটির কোন বৈঠকই হয়নি। কয়েকটি কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্বার্থসংশিস্নষ্টতার অভিযোগ এসেছে। সংসদে অপ্রাষঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা অব্যাহত রয়েছে। দলীয় প্রশংসা ও প্রতিপৰের সমালোচনায় বেশি সময় ব্যয় করেছে। ফলে স্পীকারকে ৪৬ বার মাইক বন্ধ করতে হয়েছে। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে ৭৬৬ বার।
দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে সপ্তম অধিবেশন পর্যনত্ম চারটি অধিবেশন বিরোধী দল পুরোপুরি বর্জন করে। প্রথম অধিবেশনের পর ৬৪ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকার পর চতুর্থ অধিবেশনে বিরোধী দল যোগ দেয়। এ সংসদে সরকারী দলের সদস্যদের উপস্থিতির হার ১৯ ভাগ থেকে শতভাগ পর্যনত্ম রয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যদের হার ৩ থেকে ২৬ ভাগ পর্যনত্ম। সংসদ নেতার উপস্থিতি ৭২.৪ ভাগ (১২৬ দিন)। অপরদিকে এই সংসদে বিরোধী নেতার উপস্থিতির হার মাত্র ২.৯ ভাগ (৫ কার্যদিবস)। অষ্টম সংসদে এ হার ছিল ১২ ভাগ। প্রথম দু বছরে সব কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন। নীলফামারী-৪ আসনের এমপির এএ মারম্নফ সাকলান। এরপরেই একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে (৬৮ ভাগ)। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর দিবসে সদস্যদের উপস্থিতির হার বেশি। আর বেসরকারী দিবসে সদস্যদের উপস্থিতির হার সবচেয়ে কম লৰ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে একদিনও উপস্থিত ছিলেন না। আইন প্রণয়নে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ১৭.২০ শতাংশ। আইন প্রণয়নে ব্যয়িত সময়ের প্রায় ৭ শতাংশ সময় পেয়েছে নারী সদস্যরা। নারী সদস্যদের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছে টিআইবির পৰ থেকে।
বিরোধীদলের ২শ' ৪৫টি মুলতবি প্রসত্মাবের একটিও গৃহীত হয়নি। এর মধ্যে ৩৫টি নোটিস বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পীকার বাতিল করেছেন। বাকিগুলো নোটিসদাতার অনুপস্থিতির কারণে বাতিল করা হয়। ৬টি কারণে বিরোধী দলের সংসদ থেকে ওয়াকআউট দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সরকারী দলের অসৌজন্যমূলক বক্তব্যের কারণে ৫০ শতাংশ ওয়াকআউট করেছে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। সপ্তম অধিবেশন পর্যনত্ম মোট বিল পাস হয়েছে ৯৮টি। প্রায় ৩৭ ঘণ্টা আলোচনার পর ১শ' ৩৫টি কার্যদিবসে এ বিল পাস হয়। আইন প্রণয়নে মোট ব্যয়িত সময়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সময় ব্যয়িত হয় বিলের ওপর আপত্তি এবং সংশোধনী বিষয়ক বক্তব্যে। আইন প্রণয়নে বিরোধী দল ১২ কার্যদিবসে প্রায় ৫ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নিলেও অনুপস্থিতির কারণে তাদের দেয়া সংশোধনী প্রসত্মাব উত্থাপিত হয়নি।
জুলাইয়ের মধ্যে মাসুল নির্ধারণ
ট্রানজিট
মিজান চৌধুরী ॥ জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট মাসুল নির্ধারণ করা হবে। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সংক্রান্ত যে কোর কমিটি করা হয়েছে তারা ট্রানজিটের সম্ভাব্য রম্নট, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ খাতে ব্যয়সহ বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি করলেও এর অর্থনৈতিক সমীৰাটি এখনও বাকি রয়ে গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগেই কাজটি শেষ করতে চাইছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রম্নহুল আমিন সরকার জানান, অর্থনৈতিক সমীৰা করার জন্য যে উপকমিটি করা হয়েছিল তার প্রধান দেশের বাইরে থাকায় সমীৰাটি এখনও করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরের আগেই যাতে এটি সম্পন্ন হয় তার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। জুলাইয়ের মধ্যেই অর্থনৈতিক সমীৰা সম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন।
উলেস্নখ্য, ভারতের সঙ্গে ট্রানজিটের ৰেত্রে ফি নেয়া হবে কি না এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক এখনও চলছে। সর্বশেষ সোমবার ইআরএফের এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী নিশ্চিত করেন যে, ভারতকে ট্রানজিটের বিনিময়ে অবশ্যই ফি দিতে হবে।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ট্রানশিপমেন্ট সংক্রানত্ম ৫ ধারা অনুসারে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সম্পর্কের ৰেত্রে যে কোন ধরনের শুল্ক আরোপের বিধান নেই। সেখানে ট্রানশিপমেন্টকে রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার বিবেচনা না করে বাণিজ্য উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে এটিকে দেখার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে সরকারের নীতিনির্ধারকরা শুরম্ন থেকেই বলে আসছেন যে ট্রানজিটের বিনিময়ে কোন ধরণের শুল্ক আরোপ করা যাবে না।
তবে বিশেস্নষকদের দাবি শুল্ক আরোপ না করা গেলেও ট্রানজিটের বিনিময়ে এমন অনেক ধরনের ফি বা মাসুল আছে যেটি আদায় করার ৰেত্রে কোন ধরনের বাধা নেই। ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমানকে প্রধান করে যে কোর কমিটি করা হয়েছে এবং ওই কোর কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারের কাছে সেখানেও এসব ফি ও লেভি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে জলপথে ট্রানজিটের বিপরীতে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের চার্জ যেমন : কনসার্ভেন্সি চার্জ, ল্যান্ডিং এ্যান্ড শিপিং চার্জ, পাইলটেজ চার্জ, ক্যানেল চার্জ, টার্মিনাল হ্যান্ডলিং চার্জ, বার্থিং চার্জ এবং সরকারী ট্যাঙ্, ভ্যাট ও অন্যান লেভি আরোপ করতে পারে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে।
কিন্তু এ ফি বা মাসুলের পরিমাণ কত হবে সেটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ড. গওহর রিজভী বলেন, ট্রানজিটের ৰেত্রে ফির পরিমাণ কত হবে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য কোথাও নেই। এটি নির্ধারণ করা অত্যনত্ম জটিল একটি বিষয়। এৰেত্রে ধারণার ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
শীতলক্ষ্যায় ফেলে অপহৃত শিশুকে হত্যা, মুক্তিপণও আদায়
গ্রেফতার ৬
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জে অপহরণ করে এক শিশুকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যা করেছে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা। হত্যার পর তারা ওই শিশুর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের এক লাখ টাকা আদায় করেছে। এ ঘটনায় র্যাব সদস্যরা দুই দফা অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ অপহরণকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুলস্নার শিবু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, ওয়াসিম, আব্দুস সালাম, সাদেক, স্বপন মিয়া, শাকিল আহম্মেদ ও লাকি আক্তার।
শহরের পুরনো কোর্ট এলাকায় অবস্থিত র্যাব-১১, ক্রাইম প্রিভেনশনাল স্পেশাল কোম্পানির দায়িত্বশীল এক কর্মকতর্া জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুলস্নার ধর্মগঞ্জ এলাকার আক্তার হোসেনের চার বছর বয়সী শিশু মোঃ জিহাদ অপহৃত হয়। পরে অপহরণকারীচক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনে শিশু জিহাদের মা মাসুদা আক্তারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে পরদিন সোমবার বিকেল ৫টায় শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে আসতে বলে, তাকে। অপহৃত শিশুর মা মাসুদা সোমবার দুপুরে বিষয়টি র্যাবকে জানান।
র্যাব-১১ এর একটি দল অপহৃত শিশুকে উদ্ধারে শহরের চাষাঢ়ায় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকে। কিন্তু অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা নিতে আসেনি। রাতে অপহরণকারীরা আবার মাসুদার মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের চাষাঢ়ায় এলে শিশুকে ফেরত দেয়া হবে বলে জানায়। বিষয়টি র্যাবকে জানানো হয়। অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা মুক্তিপণের ১ লাখ টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় র্যাব সদস্যরা তাদের পিছু নেয় এবং ফতুলস্নার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে অপহরণকারী চক্রের সদস্য মোঃ ওয়াসিম, সালাম ও সাদেককে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গেফতারকৃতরা র্যাবকে জানিয়েছে, মুক্তিপণের টাকার জন্য শিশু জিহাদকে অপহরণ করা হয়েছিল। চিনে ফেলার ভয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় তারা কাঁচপুর ব্রিজের ওপর থেকে তোয়ালে দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ঘুমনত্ম শিশু জিহাদকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন মঙ্গলবার তারা ওই শিশুর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের এক লাখ টাকাও আদায় করে।
মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর চাকরির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ছে
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইকমিশনার লে. জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর চাকরির মেয়াদ বাড়ছে। ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক প্রস্তুতির জন্য তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। অক্টোবরের শেষের দিকে পার্থে কমনওয়েলথ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মাসুদউদ্দিন চৌধুরীকে আরও অনত্মত ছয় মাস অস্ট্রেলিয়ায় রাখার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বুধবার সামরিক বাহিনীর চাকরি থেকে তার এলপিআরে যাবার কথা।
সেনাবাহিনীতে চাকরির মেয়াদ শেষ এবং অস্ট্রেলিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে তিন বছর মেয়াদ পূর্তি হয়ে যাবার কারণে দুই সপ্তাহ আগে মাসুদউদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকায় ফিরে আসার জন্য চিঠি দেয়া হয়। এই সংবাদ প্রকাশ হবার পরই শুরম্ন হয় জল্পনাকল্পনা। তিনি আর ফেরত আসবেন না বলেও কোন কোন প্রচারমাধ্যমে প্রচার করা হয়। জেনারেল মাসুদ প্রথম থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলে আসছেন, নির্ধারিত সময়েই তিনি দেশে ফিরবেন। তবে চিঠি পাবার পরই তিনি পরারষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন সময় চান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর আবেদন পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তাঁর আবেদনের প্রেৰিতে দু'এক দিনের মধ্যে এ সম্পর্কিত নির্দেশ জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সম্পূরক চার্জশীট আজ বিচারিক আদালতে উঠছে
দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশীট আজ বুধবার বিচারিক আদালতে উঠছে। অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদনটি মঙ্গলবারই সিএমএম কোর্ট থেকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ আলোচিত এ মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।
দশ ট্রাক অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলার অধিকতর তদনত্মের বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন গত রবিবার চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে দাখিল করে সিআইডি। এতে জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ জনকে নতুন আসামি করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব নুরম্নল আমিন, এনএসআই'র সাবেক দুই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবদুর রহিম, মেজর জেনারেল (অব) রেজ্জাকুল হায়দার, এনএসআই পরিচালক উইং কমান্ডার (অব) শাহাবুদ্দিন আহমেদ, উপপরিচালক মেজর (অব) লিয়াকত হোসেন, মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের সাবেক এমডি মহসিন উদ্দিন তালুকদার, জিএম (প্রশাসন) এনামুল হক ও উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া। এর মধ্যে নুরম্নল আমিন ও পরেশ বড়ুয়া ছাড়া সকলেই কারাগারে রয়েছেন। পলাতক এ দুই আসামির ওপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছে সিআইডি।
আদালতের এসি (প্রসিকিউশন) মোঃ মইনুদ্দিন জানান, মঙ্গলবারই দশ ট্রাক অস্ত্র আটক ও চোরাচালান মামলার সম্পূরক চার্জশীট চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আদালত নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ বুধবার এর শুনানি বিচারিক আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।
সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রত্যাখ্যান প্রকৃচির
'প্রশাসনে জটিলতা বাড়বে'
স্টাফ রিপোর্টার ॥ খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন-২০১০ প্রত্যাখান করেছে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক সমন্বয় কমিটি (প্রকৃচি) নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা থেকে এই তিন পেশার বিশিষ্টজনরা খসড়া আইনটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে কৌশলে বাধাগ্রসত্ম করতে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আইনটি পাস করার অপচেষ্টা করছে। সব শ্রেণীর পেশাজীবীদের পরামর্শ নিয়ে সিভিল সার্ভিস আইন, ২০১০ পাস করার পরামর্শ দেন তাঁরা। প্রকৃচির পৰ থেকে আলাদা একটি সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয় মতবিনিময় সভায়।
রাজউকের চেয়ারম্যান নূরম্নল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মমিন শাহজাহান এমপি, প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এমপি, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি, কেআইবি সভাপতি অধ্যাপক ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ, মহাসচিব কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, আইইবি সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর, একই সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল কাশেম প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএমএ'র সাধারণ সম্পাদক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।
কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মমিন শাহজাহান এমপি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাধীনতার পর গুটিকয়েক মানুষের স্বাধীনতার স্বাদ পূরণ হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন-২০১০ দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের কথা চিনত্মা করে প্রকৃচিকে সিভিল সার্ভিস আইন নিয়ে আলাদা খসড়া প্রসত্মাব পেশ করতে হবে।
প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এমপি খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন ২০১০-কে একশ্রেণীর আমালাদের ষড়যন্ত্র উলেস্নখ করে বলেন, খসড়া এই আইনটি পাস হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আইনটি খসড়া তৈরি করার আগে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ না করায় ৰোভ প্রকাশ করেন ফজলুল আজিম। তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিস আইনের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আইন পাস করার আগে সরকারের উচিত হবে সংশিস্নষ্ট পেশার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে নেয়া। অন্যথায় আইনটি পরবতর্ীতে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মূল কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কোন পরিকল্পনা সরকার সঠিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারে না। খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন পাস হলে এই জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনত্মব্য করেন তিনি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নিজ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন দিয়ে কোনভাবে প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে না বলে মনত্মব্য করেন ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি। প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক এই তিন পেশার বিশিষ্টজনদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলাদা আইনের খসড়া সরকারের কাছে উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন সরকারী দলের এই সাংসদ। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। দেশটা এখনও আমলারা পরিচালিত করেন উলেস্নখ করে কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, যতদিন রাজনীতিকদের দ্বারা দেশ পরিচালিত না হবে ততদিন কাঙ্ৰিত লৰ্যে পেঁৗছানো যাবে না। জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ও ৰমতা কমিয়ে জনকল্যাণমুখী সিভিল সার্ভিস আইন পাস করার পরামর্শ দেন এই কৃষিবিদ। আইইবির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেছেন, প্রকৃচি খসড়া সিভিল সার্ভিস আইন, ২০১০-কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এই আইন দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। কেআইবি মহাসচিব কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তড়িঘড়ি করে সিভিল সার্ভিস আইন ২০১০ পাস করা হলে প্রশাসনে কঠিন জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই সরকারের উচিত হবে আরও যাচাইবাছাই করে আইনটি পাস করা।
সরকারী স্কুল ও কলেজে দু'হাজার কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ
বিভাষ বাড়ৈ ॥ দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সরকারী শিৰা প্রতিষ্ঠানের জনবল সঙ্কট উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরম্ন হচ্ছে। সরকারী স্কুল, কলেজ এবং সংশিস্নষ্ট শিৰা প্রতিষ্ঠান বা অধিদফতরের বিভিন্ন সত্মরের কর্মচারী ও অফিস সহকারী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার নিয়োগ দেয়া হবে প্রায় ২ হাজার কর্মচারী, অফিস সহকারী ও পিয়ন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে ইতোমধ্যে শিৰা মন্ত্রণালয়কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাকর্ুলার জারি করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদফতরকে (মাউশি) চিঠি দিয়েছে শিৰা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ বিষয়টিকে শিৰার স্বার্থে অত্যনত্ম জরম্নরী উলেস্নখ করে বলেছেন, শীঘ্রই এ বিষয়ে সাকর্ুলার জারি করবে অধিদফতর। কর্মচারী সঙ্কটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিৰা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল তাই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শিৰাঙ্গনে। এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক আরও বলেন, এই নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে হবে নাকি জেলা পর্যায়ে নিয়োগ কমিটি নিয়োগ দেবে তা ভেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয়ভাবে হলে নানা তদ্বিরসহ নানা বিষয় সামনে চলে আসে। জেলা পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া হলে কেমন হবে তা ভেবে দেখা হচ্ছে। তবে যাই হোক সরকারী শিৰা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী সঙ্কটের কারণে নানাভাবে শিৰায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সমস্যার দ্রম্নত সমাধান চায় সরকার। মাউশি সূত্রে জানা গেছে সারাদেশের ৩১৭টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫৩টি সরকারী কলেজ, ১৮টি সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ১৬টি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট জেলা শিৰা অফিস, শিৰা অধিদফতরের ও এর ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ১ হাজার ৯৬৫ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে। যেসব পদে নিয়োগ দেয়া হবে সেগুলোর মধ্যে সহকারী গ্রন্থাগারিক (ক্যাটালগ) ছয় রকম প্রদর্শক, ক্রীড়া শিৰক, ষাট মুদ্রাৰরিত, উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর হিসাব রৰক, স্টোর কিপার এবং এমএলএসএস (নিম্নমান সহকারী) অন্যতম। শিৰা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে সংশিস্নষ্ট শিৰা প্রতিষ্ঠানে সর্বশেষ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন শূন্যপদে অফিস সহকারী ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার জন্য ২০০৭ সাল থেকে সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু নানা অজুহাতে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। পরবতর্ীতে গত ২৪ নবেম্বর সংস্থাপন মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। এতে বিভিন্ন শর্তানুযায়ী সকল মন্ত্রণালয়/ বিভাগ এবং অধীনস্থ দফতর/অধিদফতর/পরিদফতর/সংস্থা/কার্যালয়ের রাজস্ব খাতে শূন্য পদ পূরণের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হতে ছাড়পত্র গ্রহণ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ফলে এখন থেকে সংশিস্নষ্ট কর্মচারী নিয়োগ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি অফিস সহকারী ও কর্মচারীর পদ শূন্য আছে। শিৰা মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালের চাহিদাপত্র বা তথ্যানুযায়ী এক হাজার ৯৬৫ কর্মচারী নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে।
এদিকে কেবল কর্মচারী সঙ্কট নয়। আইনের বাসত্মবাযন না থাকায় চরম শিৰক সঙ্কটের মুখে পড়ে আছে দেশের সরকারী কলেজের শিৰা কার্যক্রম। ২৫১টি সরকারী কলেজে পড়ে আছে ৪ হাজার শূন্য পদ। নিয়মের অর্ধেক শিৰকও নেই কোন কলেজে। বিধান অনুসারে ৪৫ শিৰাথর্ীর জন্য একজন তো দূরের কথা অনেক কলেজে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিৰকের বিপরীতে শিৰাথর্ী আছে ১৫ থেকে ৪৫ হাজার। অথচ, বিধান অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারী কলেজে প্রতি ৪৫ জন শিৰাথর্ীর জন্য একজন শিৰক থাকার কথা। কোন বিষয়ে ডিগ্রী (পাস) ও অনার্স থাকলে ১০ জন এবং স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স কোর্স হলে থাকার কথা ১২ জন শিৰক। বিশেষ বিসিএস পরীৰার উদ্যোগ ভেসত্মে যাওয়ার পর এবার শিৰক সঙ্কটে পাঠদান দুঃসাধ্য মনত্মব্য করে সঙ্কট সমাধানের সুপারিশ করেছে শিৰা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
সম্পূরক চার্জশীটের বিরুদ্ধে আসমা কিবরিয়ার নারাজি
নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ, ২৮ জুন ॥ সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশীটের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের আদালতে মঙ্গলবার নারাজি পিটিশন দিলেন নিহতের স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। স্বামী হত্যার ন্যায়বিচার পেতে তিনি কোনরূপ ছাড় দিতে নারাজ। তাই তিনি আবারও বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের সহযোগিতায় হরকত-উল জিহাদ জড়িত থাকার অভিযোগ এনে কিবরিয়াসহ ৫ ব্যক্তি হত্যা মামলায় দাখিলকৃত সর্বশেষ সম্পূরক চার্জশীটে মঙ্গলবার আদালতে নারাজি পিটিশন দিলেন। ওই দিন দুপুরে সংশিস্নষ্ট মামলার আইনজীবী এডভোকেট আলমগীর ভূইয়া বাবুল বাদী আসমা কিবরিয়ার পক্ষে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব বিশ্বাসের আদালতে নারাজি পিটিশনটি দাখিল করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আছমা কিবরিয়ার অপর আইনজীবী এ্যাডভোকেট ত্রিলোক কানত্মি চৌধুরী বিজন। বিচারক ১ ঘণ্টা আবেদনকারীর আইনজীবী এবং সরকারপক্ষের কেঁৗসুলির যুক্তিতর্ক শেষে পিটিশন গ্রহণ করেন এবং সংশিস্নষ্ট মামলার নথি আমল আদালতে না থাকায় আবেদনটি সিলেট দ্রম্নত বিচার ট্রাইবু্যনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় আদালতপাড়া ছিল উৎসুক সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ীদের পদচারণায় মুখর। বাদীর আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানকে অভিযুক্ত করে গত ২০ জুন হবিগঞ্জের আদালতে মামলার তদনত্মকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি রফিকুল ইসলামের দাখিলকৃত কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশীটে মূল হোতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মেজর জেনারেল সাদেক হাসান রম্নমিসহ উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তাদের সাক্ষী ও আসামি বাবর এবং গ্রেফতারকৃত অন্যদের জবানবন্দীতে ওই হত্যাকা-ে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী ও কয়েকজন নেতার নাম এলেও সম্পূরক চার্জশীটে তাদের নাম নেই।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে ঘাতকের ছোড়া গ্রেনেডে অর্থমন্ত্রী শামস কিবরিয়াসহ ৫ নেতাকমর্ী নিহত এবং শতাধিক লোক আহত হন। এঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুলস্নাহ সর্দারসহ অনেকেই এখন পঙ্গুত্ববরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কৃষ্ণার সফরকালে দশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে
ফিরোজ মান্না ॥ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণার বাংলাদেশ সফরে দশটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। ইসু্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি বণ্টন, ১৬২ ছিটমহল বিনিময়, অপদখলীয় জমি হসত্মানত্মর, ট্রানজিট, বাণিজ্য ঘাটতি, বিদু্যত শেয়ারিং, রেলওয়ের উন্নয়ন, সীমানত্মে হত্যাকা- বন্ধ, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ভুটান-নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিটে ভারতীয় ভূখ- ব্যবহার। এর বাইরে অভিন্ন নদী মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি বণ্টন বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া ইছামতি নদী খননের বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অনেক ইসু্য সমাধানের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ানত্ম হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং দিলস্নীতে যে ৫০ ইসু্য সমাধানের যৌথ ঘোষণা দিয়েছিলেন-ওই ইসু্যগুলোর অনেক কিছুর সমাধানে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। তবে এর মধ্যে অনেক কিছু রয়েছে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। সীমানত্ম হত্যা বন্ধের ব্যাপারে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এর পর থেকে সীমানত্মে হত্যা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে। দুই দেশের সীমানত্মরৰীদের নিয়ে একটা মাস্টার পস্ন্যান তৈরি করা হচ্ছে। এই পস্ন্যান তৈরি হওয়ার পর সীমানত্মে হত্যাকা- বন্ধ হবে। সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানত্ম সমস্যা দ্রম্নত নিষ্পত্তি করা হবে। তিসত্মা-ফেনী নদীর বণ্টন চুক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় সম্পন্ন হবে। এছাড়া মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি বণ্টন বিষয়টিরও সমাধান হতে পারে। ইছামতি নদী খননের ব্যাপারেও ভারত আশ্বাস দিয়েছে। অমীমাংসিত ১৬২ ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে অপদখলীয় ভূমি হসত্মানত্মর সমস্যা দূর করার বিষয়টিও গুরম্নত্ব পেয়েছে। বিদু্যত শেয়ার করার একটি চুক্তি ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে হয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব মিজারম্নল কায়েস সম্প্রতি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর পর ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অনেক সমস্যা সমাধারণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। বাকিগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধানত্মের ব্যাপার। মন্ত্রিপর্যায়ে এসব আলোচনা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসার আগে ভারতের আরও কয়েকজন গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রী ঢাকায় আসবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর শেষে ভারতের পানি সম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করবেন। মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকেই অনেক ইসু্য সমাধান হতে পারে। তবে গুরম্নত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি স্বাৰর হবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সফরের সময়।
তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সীমানত্ম এলাকার মানুষের প্রত্যাশাকে গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে ছিটমহলগুলোতে গণনার কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারতের সীমানত্মের জমি জরিপ কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমানত্মের অপদখলীয় জমি জরিপসহ সীমানত্ম সমস্যা দেখার জন্য রয়েছে জয়েন্ট বর্ডার ওয়ার্কিং গ্রম্নপ (জেবিডবিস্নউজি)। গ্রম্নপের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে থাকা ১৬২ ছিটমহল বিনিময়সহ অপদখলীয় জমিগুলো চিহ্নিত করার সীদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। ফলে একে অপরের কাছে থাকা অপদখলীয় জমি ও ছিটমহলের জরিপ কাজ চলছে। এখনই জমি বিনিময় করা হচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, ছিটমহলগুলোতে মাথা গণনার কাজ হচ্ছে দু'দেশের মানুষের স্বার্থ রৰার্থে। যখনই ছিটমহলগুলো বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরম্ন হবে তখনই বর্তমান জরিপ এবং 'হেড কাউন্টিং' গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য আটটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্পের অর্থায়ন করবে জাইকা। বাকি ৭ প্রকল্প বাসত্মবায়নের টাকা দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পগুলো হচ্ছে টঙ্গী-ভৈরববাজার পর্যনত্ম ডবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, লাকসাম ও চিনকী আসত্মানার মধ্যে ডবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ (জাইকা), ১৮০টি ব্রডগেজ বগি অয়েল ট্যাঙ্ক ওয়াগন এবং ৬ টি ব্রডগেজ ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ (ভারত), ১২৫টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ (ভারত), ১০টি ব্রডগেজ ডিজেলইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ (ভারত), ৫০টি ফ্ল্যাট ওয়াগন এবং ৫টি ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ (ভারত), ৩০ টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ ও ১০ সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট সংগ্রহ। এই ৮ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৩৩ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। এখানে সরকারী বরাদ্দ রয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। এছাড়া ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদু্যত আমদানি এবং বাগেরহাটের রামপালে ১৩ শ' মেঘাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণার সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১১০ নেতাকর্মীর নামে বিএনপির মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ॥ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি অফিসের প্রধান ফটকে আগুন দেয়ার ঘটনার ৭ দিন পর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১১০ নেতাকর্মীর নামে আদালতে মামলা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিএনপি অফিসের কেয়ারটেকার নজরম্নল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ মামলাটি তদনত্মপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর সেলিম আহমেদসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১০ জন নেতাকর্মীর নাম উলেস্নখ করা হয়েছে।
১৫ জুন সিরাজগঞ্জ পৌরসভার একটি কাজের টেন্ডার দাখিল করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে একই দিন বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা প্রফেসর ডা. হাবিবে মিলস্নাত মুন্নার বাসভবন, ক্লিনিক ও শহরের কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর করে। এ সকল ঘটনায় আওয়ামী লীগ ২টি ও পুলিশ বাদী হয়ে ১টি মোট ৩টি মামলা দায়ের হলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীসহ বিএনপির ২২ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
পরবর্তীতে ২১ জুন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ একটি মিছিল বের করে। মিছিল থেকে বিএনপি অফিসের প্রধান ফটকে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিকিনিতে আপত্তি
প্রায় এগারো বছর আগে একটি ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক ক্যাটরিনা কাইফের। সেই ছবিতে বিকিনি পরেছিলেন এই সুন্দরী। ব্যবসা সফলও হয় ছবিটি। সেই থেকে তিনি অনেকের কাছে বিকিনিকন্যা হিসেবে পরিচিত। সেই ক্যাটরিনা এখন বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত নায়িকা। একের পর এক হিট ছবি, পর্দায় তাঁর সৌন্দর্যের নানা দিক ফুটিয়ে তুলতে ব্যসত্ম পরিচালক-প্রযোজকরা। বড় বাজেটের 'ধুম-থ্রি' ছবিতেও ক্যাটরিনাকে চাইছে এক প্রযোজনা সংস্থা। ক্যাটরিনাও মোটামুটি রাজি, আপত্তি শুধু এক জায়গায়। এই ছবির দুটি দৃশ্যে বিকিনি পরতে হবে এই বলিউড তারকাকে। দৃশ্য দুটিও ছবির জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ।
কিন্তু ক্যাটরিনা আর বিকিনি পরতে রাজি নন। তাই ছবির প্রযোজকের সঙ্গে এই নিয়ে দফায় দফায় চলছে আলোচনা। বিভিন্নভাবে বিকিনি এড়াতে চাইছেন তিনি। প্রযোজক অবশ্য নাছোড়বান্দা। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে ক্যাটরিনাকে বাদ দেয়া হবে, নেয়া হবে নতুন কোন নায়িকাকে। তবুও বিকিনি দৃশ্য তাঁর চাই-ই চাই। ক্যাটরিনার পাশাপাশি এ নিয়ে কথা হচ্ছে অন্যদের সঙ্গেও। কারিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারা ইতোমধ্যেই বিকিনি পরে অভিনয় করেছেন। তাদের ঐসব ছবিও হিট হয়েছে। বলিউডের অনেকেই এখন আর বিকিনিতে সেভাবে আপত্তি করছেন না । আপত্তি শুধু ক্যাটরিনার। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এই তারকার বিকিনিতে অবশেষে আপত্তি কেন তা এখনও জানা যায়নি। _খবর ওয়েবসাইটের।