মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
কেন খুন হচ্ছে!
ডিসিসি নির্বাচন ও ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী
০ ওয়ার্ড কমিশনার হলেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়
০ সব ঠিকাদার বাড়িতে ভিড় জমায়
০ এলাকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকেও আসে অর্থ
শংকর কুমার দে ॥ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় বর্তমান কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য কাউন্সিলপ্রার্থী মিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন শতাধিক প্রার্থী। এর মধ্যে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পালিয়ে বেড়িয়েছেন অর্ধশতাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতায় আসার পর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ৪১ থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি অনুসন্ধানে এ ধরনের তথ্য বের হয়ে এসেছে।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯০টি ওয়ার্ডে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এমন বর্তমান কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সংখ্যা চার শতাধিক হতে পারে। ঢাকা মহানগরীর ৪১ থানার পুলিশ আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৯০ ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর জীবনবৃত্তানত্ম সংগ্রহ করা তালিকায় তাদের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে শতাধিক প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমিজমার বিরোধ, পূর্বশত্রম্নতা, এলাকায় আধিপত্য বিসত্মারের অভিযোগ আছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বা আতঙ্কে আছেন এমন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা থানায় জিডি করছেন নয় তো গানম্যান চেয়ে আবেদন করছেন। এসব প্রার্থীই খুন হচ্ছেন নয় তো খুন হওয়ার হুমকি পাচ্ছেন।
বিএনপি-জামায়াত ৰমতায় থাকাকালে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা খুন হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ৰমতায় আসার পর এখন আবার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা খুন হচ্ছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে_ এমন খবরের ভিত্তিতে নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এ পর্যনত্ম ৩ জন খুন হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ৪ ওয়ার্ড কমিশনার খুন হয়েছেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা খুন হওয়ার কারণ কি? বর্তমান কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নাম, ঠিকানা, পরিচয়, জীবনবৃত্তানত্ম সংগ্রহ করে তার কারণ অনুসন্ধান করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৪১ থানা ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী যখন যে রাজনৈতিক দলের সরকার ৰমতায় আসে তখন সেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হচ্ছেন। প্রতিপৰ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ভয়ভীতিতে প্রার্থী হচ্ছেন না কিংবা প্রার্থী হলেও মামলা মোকদ্দমার হয়রানিতে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ছেন। ৰমতাসীন দলের প্রার্থীরা কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হয়ে আসছেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার জন্য জীবনবাজি রাখার এই প্রতিযোগিতা কেন? পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৰমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় কোন রকমে একবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হতে পারলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যিনি হবেন, তাঁর অধীনে ওয়ার্ডের সকল ধরনের কাজকর্মের তদারকির ভার তাঁর। ঠিকাদাররা তো তাঁর বাড়িতে রীতিমতো ভিড় জমান। ওয়ার্ড এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ সকল ধরনের অর্থ আগমনের পথ প্রশসত্ম হয়ে যায়। এসব কারণে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদটিতে বিজয়ী হওয়ার জন্য জীবনবাজি রাখার এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে খুনোখুনির তালিকা বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। এমনও ওয়ার্ড কমিশনার আছেন যিনি ফুটপাথের হকার থেকে কোটিপতি হয়েছেন তার নজিরও আছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৰমতায় আসার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র পদসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণই করতে পারেননি। বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা নির্বাচিত তো হয়েছেনই, এমনকি সন্ত্রাসী প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের এক বছর না যেতেই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক নির্বাচিত ৪ ওয়ার্ড কাউন্সিলর খুন হন। তখন খুন হন ৮নং ওয়ার্ড কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটন, ৭২নং ওয়ার্ড কমিশনার বিনয়কৃষ্ণ সরকার, ৯০নং ওয়ার্ড কমিশনার শাহাদাত হোসেন, ৪৪নং ওয়ার্ড কমিশনার কেএম রাজু আহমেদ। সন্ত্রাসীদের গুলিতে গত বছর খুন হন ৭০নং ওয়ার্ড কমিশনার হাজী আলী আহাম্মদ হোসেন।
আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতায় আসার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের এখনও দিনৰণ নির্ধারণ করা হয়নি। খুব শীঘ্রই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ ধরনের খবরের ভিত্তিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রার্থিতা ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা ঘোষণা দেয়ার পর প্রতিপৰের হাতে খুন হচ্ছেন নয় তো বা খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ দল ৰমতায় থাকায় বর্তমানে আওয়ামী লীগদলীয় সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী খুন হয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে আগারগাঁও এলাকার ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। ফজলুল হক ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদনত্মে তথ্য মিলেছে। ফজলুল হক খুন হওয়ার আগে একই ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোহাম্মদ গুলিবিদ্ধ হন। সর্বশেষ খুন হয়েছেন শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উলস্নাহ। বুধবার দিনেদুপুরে তাঁকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে খুন করার সময় তাঁর গাড়ির চালক হারম্নন অর রশীদকেও খুন করা হয়। ওয়ার্ড কমিশনার পদে আওয়ামী লীগদলীয় হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিল মোহাম্মদ উলস্নাহকে। তিনিও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে প্রার্থীর ঘোষণা দিয়ে এলাকায় নির্বাচনী কাজকর্ম শুরম্ন করছিলেন।
মিরপুর এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় নির্বাচনী কাজ শুরম্ন করেছেন এমন এক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর ঘোষণা দেয়ার পর পরই তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে জিডি করেছেন সংশিস্নষ্ট থানায়। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। সূত্রাপুর এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বলেছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ক্রমাগত হুমকি আসছে। রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিগত নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে পরাজিত হয়েছেন এমন মোহাম্মদপুর এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জানিয়েছেন, তিনি এবারের সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সন্ত্রাস দমন ও মাদক প্রতিরোধের জন্য ঘোষণা দিয়ে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানিয়েছেন, এবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন না। নির্বাচনে অংশ নিলেই হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পৰ থেকে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করার আশঙ্কাও আছে। আশঙ্কা আছে এলাকাছাড়া করারও। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ডেমরা এলাকার এক সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বলেছেন, অনেকেই দল বদল করে ও নির্দলীয় সেজে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে যাঁরা নির্বাচিত হবেন তাঁরা জনসেবা করবেন। জনসেবা করার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদটি এখন আর্থিক ও সামাজিকভাবে খুবই লোভনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাঁরাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর হচ্ছেন তাঁদের বেশিরভাগই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় মদদদান করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। জমিজমা সংক্রানত্ম বিরোধ, এলাকার আধিপত্য বিসত্মারের ফলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদটি একদিকে যেমন লোভনীয়, তেমনি আরেকদিকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলররা প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় যেতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শতাধিক সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন যাঁদের বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমিজমা সংক্রানত্ম বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিসত্মার ও বিভিন্ন অপরাধী কার্যক্রমে মদদদানের অভিযোগ আছে। এসব প্রার্থীর পৰে অনেক অপরাধী-সন্ত্রাসীরাও মাঠে প্রকাশ্যে আসছে। এতে পৰ-প্রতিপৰ তৈরি হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা দেখা দেয়ার পাশাপাশি তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
টাইগারদের জিততেই হবে আজ
আইরিশরাও মরিয়া
মনিজা রহমান ॥ কি হলো বাংলাদেশের দর্শকদের? মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের লাল লাল, নীল নীল বাতি জ্বলছে। আলোয় আলোয় আলোকিত চারদিক। শেরাটন হোটেল থেকে মিরপুর যাবার পথে পথে নানা স্থাপত্য নক্সা। অথচ সেদিকে তাকিয়ে দেখবার সময় নেই কারও। পার্থক্যটা এমন আকাশ পাতাল যে, নজরে না পড়ে উপায় নেই। গতকাল সৌভাগ্যক্রমে মিরপুর মাঠ থেকে বাংলাদেশ দলের বাসের ঠিক পিছনে থেকে গাড়িতে আসার সুযোগ হয়। আসতে আসতে দেখলাম, রাসত্মার মোড়ে ভিড় করে দাঁড়ানো আমজনতা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। উৎসাহ আছে, কিন্তু তাতে আগের সেই উন্মাদনা নেই। ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের রাতে যেটা দেখেছিলাম। মিরপুর মাঠ থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বরে যেতে হয়েছিল রীতিমতো জানবাজি রেখে। অবস্থা পাল্টে গেছে। আয়ারল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে আজ জিততে না পারলে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে পুরো দলকে। সেটা বুঝে গেছেন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানও। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ৰণে ৰণে ক্যামেরার ফ্লাশ ঝিলিক দিয়ে ওঠা সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক জানালেন, যে কোন উপায়ে জিততে চান তিনি এ ম্যাচে।
নিজের দেশে বিশ্বকাপ, সেই বিশ্বকাপে আবার বাংলাদেশ... বাঙালীর স্বপ্ন তাই বিশাল বিরাট আকাশছোঁয়া। তারা তা পারলে বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নেয়। স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই। স্বপ্নের সারথিদের কাছে মানুষের চাওয়া অনেক। কিন্তু বাসত্মবতা বলেও একটা শব্দ আছে। তারই নিরিখে অধিনায়ক শাকিব বিশ্বকাপ শুরম্নর আগে আইসিসি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে যাবার। তখনও ভারতের বিরম্নদ্ধে খেলেনি বাংলাদেশ। বুকে ছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিং ধোনি বাহিনীকে হারানোর সুমধুর স্মৃতি। কিন্তু ধোনি বাহিনীর বদলায় সেই স্মৃতি এখন বেদনা। বিশ্বকাপের অপেৰাকৃত কঠিন গ্রম্নপ বি'তে আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আছে আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে ডাচদের বীরোচিত খেলা মনপ্রাণ জুড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। আয়ারল্যান্ড আজই প্রথম মাঠে নামছে। ওদের অনুপ্রেরণা ২০০৭ বিশ্বকাপ। সেবার গ্রম্নপপর্বে পাকিসত্মানকে হারিয়ে সুপার এইটে খেলে আইরিশরা। দ্বিতীয় পর্বে এসে বাংলাদেশকে ৭৪ রানে হারিয়ে চমকে দেয়। সেই জয় নিয়ে পড়ে নেই কিন্তু আইরিশরা। গত দুই বছরে সব বিভাগে দারম্নণ উন্নতি হয়েছে ওদের। দলের মোট ১৫ ক্রিকেটারের মধ্যে ১৪ জনই পেশাদার। সাতজন পড়শী দেশ ইংল্যান্ডের মাটিতে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেন। গত দুই মাস ধরে উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবার অভিপ্রায়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ক্যাম্প করেছে ওরা। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩২ রানে হারলেও পরাজিত করেছেন জিম্বাবুইয়েকে। আইরিশদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে ভালই জ্ঞান আছে শাকিবের। তাঁর উত্তর, 'আয়ারল্যান্ড কঠিন প্রতিপৰ। ওদের দলে ক্রিকেটাররা কঠিন পরিস্থিতির চাপ নিতে সৰম।'
কেবল ২০০৭ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ নয়, ২০০৯ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও আয়ারল্যান্ডের বাধা টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে গিয়েছিল ৬ উইকেটে। তাই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড মানেই বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের অন্য নাম। আজ আবারও সেই আইরিশদের মুখোমুখি শাকিব বাহিনী। তবে আর আগের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশাবাদী অধিনায়ক। তাঁর আশাবাদকে সমর্থন দিচ্ছে দারম্নণ একটি পরিসংখ্যান। ২০০৮ সালে এ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল আয়ারল্যান্ড তিন ম্যাচের সিরিজে। এ অর্জনকে বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা শাকিব বেশ ঔদ্ধত্য নিয়ে বলেছেন, 'আমার মনে হয় না আয়ারল্যান্ড এ কন্ডিশনে খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারবে?' পরমুহূর্ত সচেতন হয়ে বলে ওঠেন, 'আমরা অবশ্যই তাদের হাল্কাভাবে নিচ্ছি না। তারা খুবই ভাল ক্রিকেট খেলে। কিন্তু উপমহাদেশের স্পিনবান্ধব কন্ডিশনে আমরাই এগিয়ে থাকব। আমাদেও বোলিং আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। তারা স্পিন বোলিংয়ের সামনে কিছুটা দুর্বল। আর আমরা এ স্পিন দিয়েই তাদের ঘায়েল করার চেষ্টা করব।'
ভারতের কাছে ৮৭ রানে হারের পরে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে হলে আজ আয়ারল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে জেতার কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশের। এটা খুবই ভালমতোই মাথায় আছে শাকিবের। 'আগামীকালের ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। যদি আমরা জিততে না পারি, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পাওয়া খুব মুশকিল হয়ে যাবে।' ওপেনিং পেস বোলার শফিউলের ইনজুরিতে বাংলাদেশের প্রথম একাদশ কেমন হবে, এ নিয়ে চারদিকে জল্পনা-কল্পনা শুরম্ন হয়ে গেছে। গত বুধবার অনুশীলনের সময় ব্যথা পান তিনি। আগেই ব্যাটিং লাইনআপের সাত নম্বরে আশরাফুলকে খেলানোর কথা বলেছিলেন অধিনায়ক শাকিব ও কোচ জেমি সিডন্স। এখন কার্যত দেখা গেছে আইরিশদের বিরম্নদ্ধে ম্যাচের আগে দলে একাধিক পরিবর্তন আসছে।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়াম চত্বরে একাদশ নিয়ে নানা আলোচনা শোনা যায়। তবে স্পষ্ট করে বলা হয়নি কিছুই। অধিনায়ক শাকিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এখনও কিছু ঠিক হয়নি। আয়ারল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে একজন পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে। সেৰেত্রে এক প্রানত্মে রম্নবেল হোসেন ও অন্য প্রানত্মে আব্দুর রাজ্জাক বোলিং ওপেন করতে পারেন। অতীতেও বাংলাদেশ এক পেসার নিয়ে খেলেছে। ২০০৯ সালের ৩ নবেম্বর চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে একজন পেসার খেলেছে। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে নাজমুল হোসেনের সঙ্গে বোলিং ওপেন করেন রাজ্জাক। ৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুইয়ে। আয়ারল্যান্ডের জন্য একই ফাঁদ তৈরি করতে চায়। পেস বোলিং দিয়ে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে কিছু করা যাবে না। তাই স্পিন দিয়েই তাদের বধ করতে হবে। বাংলাদেশ বরাবর স্পিননির্ভর দল। একদল বাঁ হাতি স্পিনারের বিপরীতে খেলতে হবে ভেবে মাঠে নামে প্রতিপৰ। আয়ারল্যান্ডও জেনে গেছে সেটা। কিন্তু বোলিংয়ের ৯০ ভাগ স্পিনার হবে, এটা নিশ্চয়ই আশা করেনি। স্পিনারদের বহর বাড়ানোর জন্য সোহরাওয়ার্দী শুভকে দলে নেবার গুজব ছিল গতকাল দিনভর। কিন্তু বিকেলে আবার পাল্টাতে থাকে ঘটনা। ইনজুরি আক্রানত্ম শফিউল ইসলামের জায়গায় আরেকজন পেসার খেলানোর বিষয়ে আলোচনা শোনা যায়।
শফিউল আহত হওয়ায় সম্ভবত কপাল খুলছে আরেক পেসার নাজমুল হোসেনের। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়ক বিষয়টি চেপে রাখার চেষ্টা করছেন। 'শফিউলকে শুক্রবার সকাল পর্যনত্ম দেখা হবে। তারপর চূড়ানত্ম করা হবে একাদশ।' বাসত্মবতা হলো শফিউল খেলার মতো অবস্থায় নেই। বিশেষ করে কাঁধে চোট পাওয়ার পরে বোলিং করা খুবই কঠিন তাঁর জন্য। বৃহস্পতিবার তাঁকে অনুশীলনেও দেখা যায়নি। ফিজিও মাইকেল হেনরি পরিচর্যা করেছেন। যদিও শফিউলের এঙ্রে করার প্রয়োজন মনে করছেন না ফিজিও। বরং ব্যথানাশক ওষুধ দিয়েছেন। শেষ পর্যনত্ম খেলার মতো শারীরিক অবস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব কিনা খোদ হেনরিও বলতে পারছেন না। শফিউলকে চোটমুক্ত করতে নিবিড় পরিচর্যা করা হচ্ছে। বুধবার ফিল্ডিংয়ের সময় ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে ডান কাঁধে আঘাত পান শফিউল। তখন বলেছিলেন, 'ব্যথা নেই। খেলতে পারব।' কিন্তু গতকাল সকালে হতাশ কণ্ঠে সেই শফিউল বলে ওঠেন, 'খুব ব্যথা করছে। বুঝতে পারছি না কি হবে।' তিনি যে খেলতে পারছেন না ম্যানেজার তানজিব আহমেদ সাদের কথায় তা স্পষ্ট। 'শফিউলের ভাগ্য খারাপ। ও খেলতে পারছে না। ওর জায়গায় নাজমুল মাঠে নামবে।'
শফিউল ছাড়া এদিন একাদশে আরেকটি পরিবর্তন আসছে। মোহাম্মদ আশরাফুলের নিজের দেশে বিশ্বকাপে অভিষেক হবে আজ। খেলবেন মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের জায়গায়, সাত নম্বরে। দুটি কারণে এ্যাশকে আয়ারল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে খেলানোর সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। প্রথমত ব্যাটিং পাওয়ার পেস্নতে রান তোলা এবং অফস্পিন দিয়ে প্রতিপৰকে ব্যাটসম্যানের ফাঁদে ফেলা। অফ ও লেগ দুইভাবে বল করতে পারেন আশরাফুল। আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারাও তাঁর বোলিং সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। এ্যাশকে নিলে এ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।
এক পেসার নিয়ে খেলার চিনত্মা থেকে সরে এসে টিম ম্যানেজমেন্ট দুই পেসারেই বিশ্বাস রাখছেন। দুই পেসার রম্নবেল ও নাজমুলের সঙ্গে থাকবেন রাজ্জাক, শাকিব, নাঈম ইসলাম ও আশরাফুলের মতো স্পিনাররা। ওপেনিং ব্যাটসম্যান ইমরম্নল কায়েসও গত বুধবার অনুশীলনে চোট পেয়েছিলেন। বাঁ হাতের কনুইয়ে নিচে বল আঘাত করে। এখনও ফুলে আছে অনেকখানি জায়গা। বরফ দেয়ায় ব্যথা কমে গেছে। গতকাল নেটে ব্যাটিংও করেছেন। সেৰেত্রে শাহরিয়ার নাফিসকে অপেৰা থাকতেই হচ্ছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ ॥ তামিম ইকবাল (সহঅধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরৰক), শাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), রকিবুল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাঈম ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, নাজমুল হোসেন ও রুবেল হোসেন।
বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো জমাটি হবে ॥ বাশার
অনেক প্রতীৰার শেষে কোটি প্রাণে শিহরণ জাগানো বিশ্বকাপ ক্রিকেট এখন স্টেডিয়ামের সবুজ জমিনে। আনন্দে-উদ্বেলিত উপমহাদেশসহ গোটা পৃথিবীর ক্রীড়াপাগল মানুষ। ব্যাট-বলের লড়াই দর্শনে রোমাঞ্চ-শিহরণ-আবেগ হৃদয়ঘটিত সকল উপকরণই আজ উন্মুক্ত। প্রাণের সে ছোঁয়ায় রং চড়াতে নব সাজে সেজেছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ভারত-শ্রীলঙ্কার অনেক নগরী। না, এ সাজ বসনত্ম আগমনে নয়; ২০১১ বিশ্বকাপকে বরণ করে রঙিন শাড়িতে 'নববধূ'র ঘোমটা পরে রূপের পসরা সাজিয়েছে বঙ্গবন্ধু, শেরেবাংলা আর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম।
একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উত্তেজনায় কাঁপছে গোটা দেশ। সাবেক ক্রিকেটারদেরও ছুঁয়ে যাচ্ছে সে উত্তেজনা। নস্টালজিয়ায় ভর করে হাবিবুল বাশার সুমন যেন একটু বেশিই অধীর হয়ে আছেন। কারণ, গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে স্মরণীয় সাফল্য তুলে নেয়া এগারো টাইগারের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী পরিবারের এ কৃতী সনত্মান। বিশ্বকাপে তাঁর একানত্ম ভাবনা নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে কথা বলেন জনকণ্ঠের স্পোর্টস রিপোর্টার শাকিল আহমেদ মিরাজ।
শুরম্নতেই ২০০৭-এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ হতে ২০১১-এর বাংলাদেশ কল্পনার ভেলায় চড়ে হাবিবুল বাশার বলেন, 'হঁ্যা, ২০০৭-এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ আমার জীবনের স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি। এবার ঘরের মাঠে সে স্মৃতি ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর আমি। এবারের বিশ্বকাপের জোরালো দাবিদার ভারত-ইংল্যান্ডসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে বি-গ্রম্নপে, গ্রম্নপের তিন দলই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও শাকিব-তামিমরা ভাল ক্রিকেট খেলেছে; আমাদের মনে রাখতে হবে ভারত-ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতেই মিশন শুরম্ন করেছে। বাংলাদেশও ওয়ানডেতে ইদানীং চমৎকার ক্রিকেট খেলছে। আমাদের পরবতর্ী ম্যাচগুলো জমজমাট ম্যাচ হবে, এতে সন্দেহ নেই। তাই ঘরের দরজায় বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাকেও।' মাশরাফিকে নিয়ে অনেক তো নাটক হলো... এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'হঁ্যা, আমি একমত, মাশরাফিকে নিয়ে যা হলো, তাকে নাটকই বলতে হবে। আমি সিলেকশন কমিটিতে থাকলে মাশরাফিকে দলে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছুই করতাম; যদি একবিন্দু সুযোগও থাকত তবে সেটি কাজে লাগাতাম। ঝুঁকি নিয়েই পনেরো জনের চূড়ানত্ম দলে রাখতাম। কারণ বাংলাদেশে মাশরাফি একজনই, অন্য কাউকে দিয়ে ওর অভাব পূরণ করা আদৌ সম্ভব নয়। বিশ্বকাপ শুরম্নর আগে কিছুদিন মাশরাফিকে নিয়ে এত কথা বলেছি যে এখন আর ভাল লাগছে না।' তার মানে পেস বোলিংয়ে খানিকটা ঘাটতি নিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আসরে খেলতে নেমেছে, এমন প্রসঙ্গে বাংলাদেশে '০৭ বিশ্বকাপের সফল অধিনায়কের মনত্মব্য, 'অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে চিনত্মা করলে রবিউল-শফিউলরা খুবই তরম্নণ। তবে গত এক বছওে বেশিরভাগ ম্যাচেই মাশরাফি অনুপস্থিত থাকায় ওরা মাঠে পারফর্ম করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়ে তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের মেলে ধরেছে। তাই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও রিক্রুট হিসেবে শফিউল-নাজমুল খারাপ নয়। বাংলাদেশের পেস এ্যাটাক নিয়ে বলতে গেলে ঘুরেফিরে ওই মাশরাফি প্রসঙ্গই চলে আসে।' 'রকিবুল ধীরগতির ব্যাটিং করে'_ এমন অভিযোগ থাকার পরও চূড়ানত্ম দলে টিকে যাওয়া ও ওয়ানডেতে অভিজ্ঞ হয়েও অলককে বিবেচনায় না আনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পজেটিভ মনোভাব প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'রকিবুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। এটা ঠিক যে, ওয়ানডেতে স্পীডি ব্যাটিংয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে ওর কিছুটা সমস্যা হয়। তবুও বলব দলের বিশেষ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে এমন টেকসই ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন রয়েছে। রকিবুলের কথা বলতে গিয়ে কাপালিকে টেনে আনা সমীচীন মনে করছি না। কারণ দু'জনের পজিশন এক নয়; অলকের ৰেত্রে ম্যাচের মধ্যে না থাকাটাই নেগেটিভ হিসেবে কাজ করেছে। হয়ত সে নির্বাচকদের পরিকল্পনাতেই ছিল না!' অলকের বাদ পড়ার পেছনে আনত্মর্জাতিক ম্যাচের অনুপস্থিতিকে বড় করে দেখছেন। কিনত্ম সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ ম্যাচে খারাপ করার পরও আশরাফুল কিভাবে টিকে গেলেন, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশের লিটল মাস্টার সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন ছিল এ রকম_ 'আশরাফুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অনেক জয়ই এসেছে ওর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে। তাঁর মতো একজন ব্যাটসম্যানকে কেবলমাত্র ফর্ম দিয়ে বিচার করা যায় না। গত বিশ্বকাপে আমরা যে তিনটি ম্যাচ জিতেছিলাম তার দুটিই ছিল আশরাফুলের ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্ট, বড় প্রতিপক্ষের বিরম্নদ্ধেই আমরা আসল আশরাফুলকে দেখতে পাই। তাই ওঁর দলে থাকাটা খুব স্বাভাবিক। বরং বলব মাশরাফির ব্যাপারাটা আশরাফুলের মতো করে দেখলে অত ঝামেলা হতো না।' আইসিএল ট্র্যাজেডির পর বিশ্বকাপের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আসরে টিকে গেছেন শাহরিয়ার নাফীস; এটা তাঁর ও বাংলাদেশের জন্য কতটা পজেটিভ? 'নাফীসের ফিরে আসায় অবশ্যই দলের ব্যাটিং গভীরতা অনেক বাড়বে। এ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে নাফীস একজন ভাল ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ও দলে থাকায় বাংলাদেশের জন্য ডিফারেন্ট একটা সুবিধা বয়ে আসতে পারে, সেটা হচ্ছে এক থেকে তিন নম্বর পজিশনে যারা খেলবেন_ টিকে থাকার জন্য তাদের মধ্যে ভাল করার বাড়তি একটা তাগিদ থাকবে; সবার ভেতর থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসবে।' দলে স্পিনারদের আধিক্য সম্পর্কে তার মূল্যায়নও বেশ ইতিবাচক_ 'সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের দলে কিন্তু ওভাবে বিশ্বমানের কোন ফাস্ট বোলার নেই। সুতরাং সোহরাওয়াদর্ী শুভকে দিয়ে হয়ত মাশরাফির অভাব পূরণে বিকল্প একটা চেষ্টা করা হয়েছে। এ কথা সত্যি যে, ভারতের মতো বাংলাদেশও বিশ্বকাপে ভাল কিছু করতে স্পিন এ্যাটাককে সামনে রেখেই এগুবে। ইতোমধ্যে যে প্র্যাকটিস ম্যাচগুলো হয়েছে সেদিকে তাকালেও 'স্পিন তত্ত্ব'র সত্যতা মেলে। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে প্রায় সব দেশের স্পিনাররাই ভাল করছে। এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে কে তারকা হয়ে উঠতে পারেন, এ বিষয়ে সুমন বলেন, 'সবাই যা ভাবছে আমিও যুক্তিসঙ্গত কারণে তা-ই ভাবছি; আমাদের সুপার হিরো শাকিব-তামিম জ্বলে উঠবে। প্রস্তুতি ও প্রথম ম্যাচেই আপনারা সেটি দেখতে পেয়েছেন। আরেকটু যোগ করতে চাই, আশরাফুল যদি সময়মতো জ্বলে ওঠে, তাহলে সেও বিশ্বকাপের সেরা তারকা হয়ে উঠতে পারে। সুযোগ রয়েছে নাফীস-রাজ্জাকেরও। বিশ্বকাপকে বাড়তি চাপ হিসেবে না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক নৈপুণ্য মেলে ধরতে পারলে বাংলাদেশের পৰে একাধিক ক্রিকেটারের তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।' তিনি অনেকবারই বলেছেন, বিশ্বকাপে তাঁর প্রিয় দল বাংলাদেশ; কোন্ দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাশার বলেন, 'শক্তির বিচারে ওয়ানডেতে এখন বড় দলগুলোর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে তাই 'অল টিম ওয়ার্ল্ডকাপ' বলা যায়। এককভাবে কোন দলকেই এগিয়ে রাখতে পারছি না। তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে 'হ্যাপি' হব।
লিবিয়ায় হামলায় ৩৭ বাংলাদেশী হত, এক শ' আহত
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ লিবিয়ার মিসরাতা এলাকায় এক হামলায় ৩৭ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে বলে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলের এক খবরে জানানো হয়েছে। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে নয় শ' কিলোমিটার দূরে মিসরাতা এলাকায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের একটি ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে এই মর্মানত্মিক ঘটনা ঘটে। ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, সেখানে আটকেপড়া দুই বাংলাদেশী নাগরিক বুধবার টেলিফোনে সংবাদ মাধ্যমকে এই খবর জানিয়েছে। এদিকে ত্রিপোলি থেকে ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে আলমামুরা এলাকার একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে চার হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন এক হামলায় আহত হয়েছেন। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিক মোঃ ইব্রাহীম খলিল এবং ইমরান হোসেন ডয়চে ভেলেকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের উদ্ধারে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের কোন সূত্র হতাহতের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবিএম নূরম্নজ্জামান জানিয়েছেন, দেশটিতে কোন বাংলাদেশী নিহত হওয়ার খবর দূতাবাসের কাছে নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন, 'প্রতিদিন আমার কাছে তিন থেকে চার শ' ফোন আসে। কিন্তু লিবিয়ার কোথাও বাংলাদেশীদের হত্যার কথা কেউ আমাকে বলেনি। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশীদের কাছ থেকে ওইসব কোম্পানির ক্যাম্পে খাবার ও পানির সঙ্কট বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।'
অপরদিকে সংঘাতপূর্ণ বেনগাজির কাছে দারনা সিটিতে আটকেপড়া ১৭ বাংলাদেশীসহ প্রায় দেড় শ' জনকে উদ্ধারের পর মিসর সীমানত্মে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটকেপড়াদের একজন শফিউদ্দিন বিশ্বাস বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বিদেশীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী। তিনি জানান, অস্থির লিবিয়ায় গত শুক্রবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা শতাধিক বাংলাদেশীসহ প্রায় তিন শ' বিদেশীকে জিম্মি করে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানান, কোরীয় কোম্পানি ওউনে কমর্রত প্রায় ৪৫০ বাংলাদেশী ইতোমধ্যে মিসর সীমানত্মে পৌঁছেছে। ওই শ্রমিকরা লিবিয়ার বেনগাজি এলাকায় কাজ করতেন। তিনি বলেন, 'তারা যেন ভিসা ছাড়াই মিসরে প্রবেশ করতে পারে সে জন্য আমরা মিসর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। এ ছাড়া চীনা কোম্পানি চায়না স্টেট আমাদের আশ্বসত্ম করেছে, সেখান থেকে চীনা শ্রমিকদের সরিয়ে নেয়ার সময় বাংলাদেশী শ্রমিকদেরও সরিয়ে নেয়া হবে। এ জন্য তারা জাহাজ পাঠাবে।' লিবিয়ায় আটকেপড়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে সরকার। এছাড়া লিবিয়ার বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে একটি কন্ট্রোল রম্নম খুলেছে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। উলেস্নখ্য, চার দশক ধরে ৰমতায় থাকা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পদত্যাগের দাবিতে গত ১৬ ফেব্রম্নয়ারি থেকে উত্তাল উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া। খবর ডয়চে ভেলে, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর-ডটকম ও বাংলানিউজ-টোয়েন্টিফোরডটকম।
মিসরাতায় বাংলাদেশীদের নিহত হওয়ার খবর দিয়ে সাইফুল ইসলাম এবং আব্দুল মজিদ নামের দুই বাংলাদেশী টেলিফোনে জানান, মিসরাতার মোকায়েমপুর এলাকার একটি কারখানায় প্রায় ৮০০ বাংলাদেশী শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শ্রমিক একটি ক্যাম্পে রয়েছেন। সেখানে রাতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ পর্যনত্ম হামলায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাঁরা জানান, আহত হয়েছেন অনেকে। কিন্তু চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। আর তারা কোন খাবার দাবারও পাচ্ছেন না। তারা জানান, ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের কোন খোঁজখবর এখনও নেয়নি। আর তাঁরাও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সাইফুল ইসলামের বাড়ি ফরিদপুর আর আব্দুল মজিদের বাড়ি নোয়াখালী।
এদিকে আলমামুরায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিক মোঃ ইমরান হোসেন জানান, তিনি সেখানে আটকাপড়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সেখানে খাবার নেই, চিকিৎসা নেই। ইমরান হোসেনের বাড়ি কুমিলস্নায়। তিনি ২ বছর ধরে সেখানে একটি কোরীয় কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করছেন। একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বগুড়ার ইব্রাহীম খলিল। তিনি জানান, তাঁরা ৪ হাজার বাংলাদেশী আটকা পড়েছেন। হামলায় এ পর্যনত্ম এক শ' জনের মতো আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। আর কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাঁদের ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। তাঁরা জানান, লিবিয়ায় বাংলাদেশী দূতাবাসের সঙ্গে তারা কোন যোগাযোগ করতে পারছেন না। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশীদের তৃতীয় কোন দেশে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য আনত্মর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে লিবিয়া থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের মিসর দূতাবাসকে ওই দেশে বাংলাদেশীদের প্রবেশে অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি, যাতে তারা কায়রো থেকে বিমানে উঠতে পারে। আমরা তিউনিসিয়ার কাছেও একই অনুরোধ জানাব, কারণ বাংলাদেশীরা ওই দেশের সীমানত্ম দিয়ে লিবিয়া ছাড়তে পারে।'
বাংলাদেশীদের ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া ॥ লিবিয়ায় আটকেপড়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে সরকার। সড়ক বা জলপথে লিবিয়া থেকে তিউনিসিয়া ও মিসরের কোন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিমানযোগে ঢাকা নিয়ে আসা হবে। প্রক্রিয়া শেষ হলে এবং মাঝপথে নতুন সিদ্ধানত্ম নেয়া না হলে রবিবার থেকেই বাংলাদেশী নাগরিকদের ঢাকায় আসা শুরম্ন হতে পারে। পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের বিশ্বসত্ম সূত্র এ তথ্য জানায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্রমতে, লিবিয়ায় আটকে পড়ে জীবন সংশয়ের মুখে পড়েছে এমন বাংলাদেশীদের দেশে আনার পর পরিবেশ স্বাভাবিক হলে আবারও লিবিয়ায় কাজে ফিরিয়ে নেয়া হবে এমন শর্তেই এসব বাংলাদেশীকে ঢাকায় আনছে সরকার।
লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে কন্ট্রোল রুম ॥ লিবিয়ার বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে একটি কন্ট্রোল রম্নম খুলেছে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এক সরকারী তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৪১৮ নম্বর কক্ষে এই কন্ট্রোল রম্নম খোলা হয়েছে।
কন্ট্রোল রম্নমে যোগাযোগের ফোন নম্বর ৭১৬৮৬০৬, মোবাইল ফোন ০১৯১৪-৮৭১১১৮, ০১৫৫২-৩৬৮৫৫১ ও ০১৮১৯-২৬২১৭৫, এবং ফ্যাঙ্ নম্বর ৭১৬০৬৮৮। এছাড়া ই-মেইলে যোগাযোগের ঠিকানা লং@ঢ়ৎড়নধংযর.মড়া.নফ, লং.বসঢ়@ঢ়ৎড়নধংযর.মড়া.নফ ও ধযসশধসধষ২০২০@ুধযড়ড়.পড়স
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টায় কন্ট্রোল রম্নমের ফোন নম্বরে ফোন করে ওই লাইনটি দীর্ঘক্ষণ ব্যসত্ম পাওয়া যায়। পরের তিনটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ তা ধরেনি।
লিবিয়ার রাজধানী এখন কার্যত এখন বিচ্ছিন্ন। বিরোধীদের দখলে প্রধান শহর। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দেশটির তৃতীয় বৃহৎ শহর মিসরাতা দখলে নেয়ার পর নিজেদের বিজয় ঘোষণা করেছেন। সেনাবাহিনীকে হটিয়ে বিরোধীরা মিসরাতা শহরটি নিজেদের দখলে নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়। এভাবে তারা একের পর এক প্রধান শহরগুলো দখল করে নিলেও বৃহস্পতিবার সকালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তবে রাজধানী ত্রিপোলির চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন। বিরোধীরা শহরটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অস্বসত্মিকর নীরবতা নেমে আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, 'রাসত্মায় কোন মানুষ নেই, কেউই ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন না, এমনকি জানালা দিয়ে তাকাতেও তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। এটা এক প্রকার ভয়াবহ একটি ঘটনা।'
এদিকে দশম দিনের মতো দেশটিতে অব্যাহত বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সরিয়ে আনছে। একই সঙ্গে গাদ্দাফিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনা হামলা বন্ধেরও আহ্বান জানান বিশ্ব নেতারা। লিবিয়ায় চলমান বিক্ষোভে আন্দোনলকারীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বুধবার বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। লিবিয়ায় বিক্ষোভবারীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসে ওবামা বলেন, 'এটি অত্যনত্ম জঘন্য ঘটনা। কিছুতেই তা মেনে নেয়া যায় না।'
দেশটির শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সমর্থক ও সেনাবাহিনীর হামলায় এ পর্যনত্ম এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বুধবার লিবিয়ার সাবেক মন্ত্রী উলেস্নখ করেছেন। এদিকে, গাদ্দাফির ছেলে সাদি গাদ্দাফি বৃহস্পতিবার ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, 'সেনাবাহিনী এখনও খুব শক্তিশালী। আমরা যদি শুনতে পাই, তবে সেনা পাঠাব, আর তাদের দেখলে জনগণ ভয় পেয়ে যাবে।'
অব্যাহত সহিংসতার ফলে বুধবার দিনের শেষে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশও লিবিয়া থেকে নিজ দেশের জনগণকে বিমান ও জাহাজ পাঠিয়ে ফিরিয়ে আনতে শুরম্ন করেছে। লিবিয়ার স্বৈরশাসক গাদ্দাফির চার দশকের শাসনের অবসানের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।
ছুটিতে যাওয়া সাত বিচারপতির কাজে যোগদান
সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মানজনক সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের প্রেৰিতে কাজে যোগদান করছেন ছুটিতে যাওয়া হাইকোর্টের ৭ বিচারপতি। রবিবার থেকে হাইকোটের ৬ বিচারপতি এজলাশে বসবেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন। তিনিও ছুটি শেষে ট্রাইব্যুনালে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মোঃ ইমান আলীকে আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবার পর হাইকোটের সাত বিচারপতি ৰুব্ধ হন। সেই দিনই তাঁরা ছুটি নিয়ে নেন। বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, বিচারপতি মোঃ সামশুল হুদা, বিচারপতি এএইচএম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি ফারম্নক আহম্মেদ, বিচারপতি এম এ হাই, বিচারপতি মার্জিউল হক ও আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক। ছুটিতে যাবার পর পরই সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীগণ বিষয়টি সুরাহা করার উদ্যোগ নেন। এরই মধ্যে সমাধানের উর্ধতন পর্য়ায়ে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমাযুন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারের উর্ধতন মহল থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম, সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমাযুন, সুপ্রীমকোর্ট বার সমিতির সাবেক সম্পাদক শ.ম রেজাউল করিমসহ সংৰুব্ধ বিচারপতিবৃন্দ বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুধুমাত্র প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নন বৃহত্তর জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তাদেরকে কাজে যোগদানের অনুরোধ করেন। আলোচনায় সিনিয়র আইনজীবীরাও তাদের কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেন। আলোচনা ফলপ্রসূ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্মানজনক সমাধানে সরকারের পৰ থেকে প্রতিশ্রম্নতি পাওয়ার প্রেৰিতে ছুটিতে যাওয়া সাত বিচারপতি কাজে যোগদানের সিদ্ধানত্ম নেন। রবিবার আবার তাঁরা আদালতে ফিরে আসছেন বলে তাঁরা আশ্বাস দেন। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জনকন্ঠকে জানিয়েছেন, আমি প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তাদের বৃহত্তর জনস্বার্থে কাজে যোগদানের অনুরোধ করি। তাঁরা আমার কথা রেখেছেন। রবিবার থেকে এ বিচারপতিগণ যথারীতি এজলাশে বসবেন।
প্রত্যাশা যেন বিষাদে পরিণত না হয়!
মিথুন আশরাফ ॥ আজ ম্যাচকে ঘিরে সবার একটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ যেন জেতে। তা না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপই যে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। সেই সঙ্গে আইরিশদের কাছে আবারও হারের জ্বালা ভোগ করতে হবে। তাই সবার প্রত্যাশা যেন বিষাদে পরিণত না হয়, বাংলাদেশ দলের কাছে এটিই চাওয়া।
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে আজ শুক্রবার। প্রথমটি ২০০৭ সালের নির্ধারিত ওভারের বিশ্বকাপে লড়াই করে দুই দল। হারে বাংলাদেশ। এরপর ২০০৯ সালেও একই অবস্থা হয়। স্বল্প ওভারের টি২০ বিশ্বকাপেও হারে টাইগাররা। এবার কী হবে? সেই শঙ্কায় ভুগছে সবাই। সেই শঙ্কার শেষ হবে আজ রাতেই।
সবার একটি আশা বিশাদ যেন না উপহার দেয় বাংলাদেশ। ময়মনসিংহ থেকে আবুল কালাম আজাদ ফোন করে বললেন, 'যেভাবেই হোক পারলে এই বার্তা পেঁৗছে দেবেন বাংলাদেশ দলের কাছে। আর কোন্ ম্যাচে কী হবে সেটা পরের বিষয়। আপাতত যেন এই ম্যাচটি জেতেই।'
ঠিক একই জেলার রিয়াদ নামে এক তরম্নণ ফোন করে বাংলাদেশের কাছে তার প্রত্যাশার কথাই জানালেন, 'ভাই দোয়া করেন যেন কোনভাবেই বাংলাদেশ না হারে। নয়ত আবারও মান-ইজ্জত সব যাবে। জিততেই হবে দলকে।'
এমন একটি পরিস্থিতি যে আসলেই বাংলাদেশকে জিততেই হবে। নয়ত আবারও বিশ্বকাপে দলের গায়ে কালিমা মেখে যাবে। যেমনটি '০৭ ও '০৯ সালে দলের গায়ে লেগেছিল।
ভারতের কাছে লড়াকু হারই উপহার পাওয়া গেছে। প্রতিপৰ দলটি ভারত বলেই সবাই হারের মাঝেও সানত্ম্বনা খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের কাছে কোনভাবেই হার গ্রহণযোগ্য হবে না। নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুইয়েকে হারানোর পর আইরিশদের কাছে হার কোনভাবেই মেনে নেবে না কেউই। তখন শুধু ক্রিকেটারদের দুয়োধ্বনিই শুনতে হবে।
যেমন শুনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বেসরকারী মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি কোনভাবেই বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ বুধবার রবি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলকে রাখার চেষ্টা চলেছে। আইসিসির নিয়মাবলিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন কাজ করার পাঁয়তারা হয়েছে। শেষ পর্যনত্ম কোন দলই সেখানে উপস্থিত হয়নি। কিন্তু বিসিবি থেকে ঠিকই জানানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের সব তথ্য। কেন এমন অনুষ্ঠানে গুরম্নত্বপূর্ণ খেলার দুইদিন আগে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড দল উপস্থিত থাকবে? তার কোন সদুত্তর নেই। তাই দুয়োধ্বনি শুনতেও বাদ যায়নি বিসিবি।
ম্যাচ কোন অনুষ্ঠান নয়। এখানে দেশের মান সম্মান জড়িত। আইরিশদের কাছে হারলে কোন প্রতিষ্ঠানকে নয়, সবাই দুয়োধ্বনি দেবে ক্রিকেটারদের। তাই সাবধান! এখনই সব পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিত। যেন কোনভাবেই হার কপালে না জোটে।
বাংলাদেশ দল অবশ্য সেই পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ফেলেছে। স্পিনারদের দিয়েই আইরিশদের কাবু করার পথও তৈরি করে রেখেছে। এখন মাঠে তার প্রয়োগ ঘটানোর অপেৰা মাত্র।
আগের ইতিহাস সামনে রেখেই বাংলাদেশ দল নামবে। ক্রিকেটারদের মাথাতেও আইরিশদের কাছে হারলে কী অবস্থা হবে তা আছে। তাই কোন নিরাশার সংবাদ আসবে না এমনই প্রত্যাশা সবার।
বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল হাসানও সেই আশ্বাস দিচ্ছেন, 'সবাই জানে কিভাবে খেলতে হবে। নিজেদের খেলা খেলতে পারলেই হয়। জয় আনা সম্ভব।'
আগের চেয়ে বোলিংটা খারাপ হয়েছে। ভারত বলেই এমন হয়েছে। পরিচিত কন্ডিশনে খেলায় অভ্যসত্ম দলের সঙ্গে খেললে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাও আবার সেবাগ, টেন্ডুলকর, ধোনিদের নিয়ে গড়া দলের বিরম্নদ্ধে খেলতে হয়েছে। তাই পারা যায়নি।
সেই বিষয়টি ভক্ত-সমর্থকদের মাথাতেও আছে। তাই ভারতের কাছে হারের পরও কোন কটূক্তি শুনতে হয়নি ক্রিকেটারদের। কিন্তু আইরিশদের কাছে হারলে আর উপায় নেই। বিষাদে পরিণত হয়ে যাবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ।
সেই আশা কেউ করে না। সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ যেন জেতে। অনত্মত ছোট দলগুলোর বিরম্নদ্ধে অবশ্যই জিততে হবে। তার মধ্যে আয়ারল্যান্ড অন্যতম। এখন সেই আশা পূরণ হলেই হয়। সেই সঙ্গে সবারই আশা, প্রত্যাশা যেন কোনভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়।
হৃদয় কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে!
কাওসার ও টুম্পা হত্যার আসামি
রাজন ভট্টাচার্য ॥ কাউসার থেকে শুরু করে টুম্পা। দুটি হত্যা মামলার প্রধান আসামী তিনি। এর মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের ছয়দিন পরেই এক সংসদ সদস্যের মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এত অপকর্মের পরও এখনও বহাল তবিয়তে হৃদয়! পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। একের পর খুনের দায় মাথায় নিয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন কিভাবে! এ প্রশ্নই এখন সবার সামনে। তার খুঁটির জোর কোথায়? এ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি কে এই হৃদয় এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় হৃদয় যেমন আতঙ্কের নাম তেমনি তার সম্পর্কে জানতে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কোন শেষ নেই।
এদিকে টুম্পার বাবার অভিযোগ হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মামলা ডিবিতে হস্তান্তরের ব্যাপারেও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আসামীদের ধরার ব্যাপারেও পুলিশের খুব একটা তৎপরতা নেই। আটক করা হয়নি হৃদয়ের পরিবারের কোন সদস্যদের। শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম জনকণ্ঠ'কে বলেছেন, টুম্পার পরিবারের পৰ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটি এমনিতেই হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচনা হবে। মঙ্গলবার মামলাটি ডিবিতে পাঠানোর কথাও জানান তিনি। বলেন, আসামীদের ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত। দ্রম্নতই তাদের ধরা সম্ভব হবে।
কে এই হৃদয় ॥ রাজধানীর সেগুন বাগিচা এলাকার ২৬/এ/১ নম্বর বাসাটিই হৃদয়দের। পুরো নাম আসাদুজ্জামান হৃদয়। তার বাবার নাম জাকির হোসেন। তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে হৃদয় প্রথম। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হৃদয়ের বাবা এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরম্নদ্ধে আছে জমি দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য বাবার সকল অপকর্মের উত্তরাধীকারী হৃদয়। বাবার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছোটবেলা থেকেই বখাটে হয়ে উঠেছে সে। সকল অপকর্মে পেয়েছে বাবার শেল্টারে। ছাত্র হিসেবেও মেধাবী ছিল না হৃদয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেগুনবাগিচা স্কুলের ছাত্র ছিল হৃদয়। সব বিষয়ে পাস করে ক্লাস ডিঙ্গানো তার ইতিহাসে নেই। ক্লাস নাইনে ফেলের রেকর্ড হিসেবে ডাবল হ্যাটট্রিক তার। ছয় বিষয়ে ফেল করেছিল টুম্পা হত্যার প্রধান অভিযুক্ত হৃদয়। তবে সর্বশেষ পড়াশোনা কতোদূর এ সম্পর্কে বিসত্মারিত জানা যায়নি। কারণ তাদের পাঁচতলা বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, হৃদয়রা যে ফ্ল্যাটে থাকে সেটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। ভাড়াটিয়ারা জানান, মালিক পৰের কেউ নেই। টুম্পা হত্যার পর থেকেই সবাই পলাতক। হৃদয়ের ব্যবহার করা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার সবই গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। এ নিয়ে ভাড়াটিয়ারা কেউ মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হৃদয়ের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন অনেকেই। সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
সেগুনবাগিচা সোসাইটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোই ছিল বখাটে হৃদয়ের কাজ। আর এর নেপথ্য উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা। একজন সফল প্রেমিক হিসেবেও এলাকায় হৃদয় অনেকের কাছে পরিচিত! এলাকার মেয়েদের প্রেম নিবেদন করা ছিল তার নিয়মিত কাজের অংশ। মেয়েদের প্রাইভেট কোচিং, স্কুলের সামনে তার জমজমাট আড্ডা দেখা যেত। বাবার অর্থ বিত্তের কারণে রাজসিক জীবনযাপন করত হৃদয়। মেয়েদের সহজেই কাবু করার কৌশলও জানত সে। মোটরসাইকেল কখনও বা প্রাইভেটকারে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছিল নিয়মিত রুটিনের অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাবা একজন ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ২৬/এ/১ নম্বর বাড়িটিও সরকারী জায়গায় দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। সনত্মান হিসেবে হৃদয়ও অনেক সময় মাদক বিক্রি করত। বিশেষ করে রাতে হৃদয় এলাকার বখাটে ছেলেদের কাছে ফেনসিডিল, গাঁজাসহ ইয়াবা বিক্রি করত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কোন স্কুল কিংবা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে হৃদয় গ্রম্নপকে দিতে হতো ৪০-৫০ প্যাকেট খাবার। নইলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিশ্চিত।
কান্না থামেনি গ্রীন কটেজে ॥ সেগুন বাগিচা ৬/৪ গ্রীন কটেজের তৃতীয় তলার এফ-২ ফ্ল্যাটে এখনও কান্নার রোল। কাঁদছেন মা খায়রম্নন নাহার শিখা। চাচা আনোয়ার হোসেন চাচীসহ পরিবারের সদস্যদের কেউ টুম্পার স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। বুধবার মা শিখা ছুটে গিয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ এলাকায়। যেখানে মেয়ে টুম্পার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে সারাদিন কাটিয়েছেন তিনি। শুধু পরিবারের সদস্যরা নয় প্রতিবেশী থেকে শুরম্ন করে সেগুনবাগিচা এলাকার সাধারণ মানুষ আসছেন টুম্পার পরিবারকে সানত্ম্বনা জানাতে। আসছেন মানবাধিকার সংস্থার লোকজনও। যাঁদের অবহেলায় টুম্পাকে মরতে হয়েছে তাঁরাও আসছেন তাঁর বাবার সঙ্গে সাৰাত করতে। সোমবার টুম্পার বাবার সঙ্গে বাসায় এসে সাৰাত করেছেন অভিযুক্ত দুই থানার ওসি। তবে বাবার কথা একটাই তিনি বিচার চান। ছেলেমেয়ে হত্যার বিচারের আশায় এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
কাঁদছে বেগম রহিমা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ॥ টুম্পা নেই। শোকার্ত তাঁর সহপাঠী থেকে শুরম্ন করে স্কুলের শিৰকরাও। কাঁদছেন তাঁরা। ১৫ ফেব্রম্নয়ারি থেকে স্কুলটিতে বলতে গেলে কান্নার রোল। এখনও থামেনি। স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল আয়েশা চৌধুরী টুম্পা। তাঁর অকাল মৃতু্য কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্কুলের কেউ। ক্লাসে পরে আছে তার বসার স্থান। কিন্তু টুম্পা নেই। অসংখ্য সহপাঠীদের ভিড়ে সদা হাস্যোজ্জ্বল মেয়েটির অভাব বোধ করছে বন্ধুদের সবাই। মনমরা হয়ে ক্লাস করছে তারা। টুম্পাকে হারিয়ে তাদের হাসিও যেন থেমে গেছে। অকালে টুম্পাকে কেন হারাতে হলো এ প্রশ্ন বন্ধুদের সবার। তারা এই বর্বরোচিত হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্কুলের পৰ থেকে আট সদস্যের একটি শিৰক প্রতিনিধিদল সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন গ্রীন কটেজে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিৰিকাদের সবাই 'টুম্পা ভাল মেয়ে' এতে সায় দিলেন। এখানেই শেষ নয় বললেন, মেধাবী ছাত্রী ছিল সে। যার মুখে হাসি সব সময় লেগেই থাকত। নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী ছাত্রী হিসেবে টুম্পা সকল শিৰকদের প্রিয় ছিল। শিৰকদের পায়ে ধরে সালাম করা ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। টুম্পার কথা বলতে গিয়ে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি শিৰকসহ অনেকেই। হত্যাকারীদের বিচারের ব্যাপারে তাঁরাও এক সুরে কথা বলেছেন। অবিলম্বে হত্যার সঙ্গে যুক্ত সকল আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির দাবি জানিয়েছেন।
আদালতের স্বপ্রণোদিত রায় ॥ টুম্পা হত্যার বিষয়ে ২১ মার্চ রায়পুরা ও শাহবাগ থানার ওসিকে আদালতে তলব করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ভাই কাওসার হত্যার ঘটনা তদনত্ম করে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি হত্যা মামলায় কেন যথাযথ পদৰেপ নেয়া হবে না তা জানতে সরকারের প্রতি রম্নল জারি করেছে আদালত। এ ছাড়া দুটি মামলা সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেয় আদালত। জনকণ্ঠসহ আরও একটি দৈনিকে সোমবার এ সংক্রানত্ম সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মঙ্গলবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।
হত্যা মামলা দায়ের করতে চান টুম্পার বাবা ॥ টুম্পা হত্যাকারীদের বিরম্নদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে চান টুম্পার বাবা মোঃ আমান উল্লাহ চৌধুরী। এজন্য ১৩ আসামীর নামও ঠিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রধান আসামী আসাদুজ্জামান হৃদয়। এরপর সাইদুর, নুরুল হক, রাজিব, জসিম, নাঈম, সুমন, বাবু, বাবলু, কুদ্দুছ, ইউসুফ, সালাম ও সাওন। তিনি জনকণ্ঠ'কে জানান, টুম্পা নিখোঁজ হওয়ার পর ১৪ ফেব্রম্নয়ারি শাহবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরদিন টুম্পার লাশ পাওয়া যায়। হত্যাকা-ের পর শাহবাগ থানায় টুম্পার পরিবারের পৰ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা নিতে চায়নি। পুলিশের বক্তব্য আগের মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আমান উলস্নাহ চৌধুরী জানান, আসামীদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা নেই। যে দু'জন আসামী এখন পুলিশের কব্জায় তাদের ধরতে তিনি নিজেই পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। হৃদয়ের কোন হদিস বের করতে পারছে না পুলিশ। শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেছেন, আসামীদের ধরতে বুধবার চাঁদপুরে অভিযান চালানো হয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানোর কথা জানান তিনি। বলেন, আসামীরা আগাম খবর পেয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছে।
আয়েশা চৌধুরী টুম্পাকে ১৪ ফেব্রম্নয়ারি অপহরণ করা হয়। পরদিন তার লাশ পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইলের রসুলবাগ ডিএনডি বাঁধের ব্রিজের নিচে। ২০১০ সালের ৩১ মে বড় ভাই আল কাওসার মাসুদ বাবলার লাশ নরসিংদীর রায়পুরের মেঘনার তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ২৬ মে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে। দুটি হত্যা মামলার প্রধান আসামী হৃদয়। এদিকে, টুম্পা হত্যার পর পরই হৃদয় গ্রীন কটেজের বাসিন্দা কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের মেয়েকে অপহরণ করে হৃদয়। তার বিরম্নদ্ধে মেয়ে তুষা অপহরণের অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন সংসদ সদস্য আফজাল। এদিকে, তুষা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না ॥ পোর্টারফিল্ড
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আয়ারল্যান্ডের লৰ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে আজ থেকে এগিয়ে যাবে আইরিশরা। বাংলাদেশের বিপৰে ম্যাচে জয় দিয়েই সেই লৰ্যে সাফল্য আনার পথে হাঁটতে চায় আয়ারল্যান্ড। এইজন্য প্রস্তুতও আইরিশরা। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডই এমন জানালেন, 'আমরা প্রস্তুত। লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। ভাল একটি শুরম্নর অপেক্ষায় আছি। জয় পেতে প্রস্তুত আমরা।'
২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ড চমক দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপারএইটে উঠেছে। সুপারএইটে বাংলাদেশকেও হারায় আইসিসির সহযোগী দলটি। সেইবারের চেয়ে এবার আরও শক্তিশালী দল বলেই দাবি পোর্টারফিল্ডের, 'আমরা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি। অনেক অভিজ্ঞ দল এখন আমাদের। চার বছর আগের চেয়েও এখন দল অনেক শক্তিশালী। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।'
দলের ক্রিকেটাররাও যে আপসেট ঘটাতে প্রস্তুত সেই কথাও জানালেন আইরিশ অধিনায়ক, 'দলের সবাই ভাল ক্রিকেট খেলার দিকেই ফোকাস করছে। বড় দলগুলোর বিরম্নদ্ধে গত কয়েক বছর ধরেই খেলছে ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটবিশ্বে নিজেদের অবস্থানও পাকাপোক্ত করে চলেছে। এই বিষয়টিই দলের জন্য সবচেয়ে উপকারে আসবে আশা করি। সবাই নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে খেলবে।'
বাংলাদেশের বিপৰে ম্যাচটির আগে আয়ারল্যান্ড দল চাপে আছে কি না? এ বিষয়ে পোর্টারফিল্ড জানান, 'কোন চাপ নেই। সবাই হার্ডওয়ার্ক করছে। আমরা উপভোগ করছি প্রতিটি বিষয়কেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত আমরা। পাকিসত্মান ও বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে হারিয়েছি। আবারও এইরকম কিছু করে দেখাতে চাই। দলের ক্রিকেটাররা আগের চেয়ে অনেক পরিণত। আশা করছি এগিয়ে যেতে পারব।'
উল্টো বাংলাদেশেরই যে চাপ থাকবে সেই বিষয়টিও সবার সামনে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরলেন আইরিশ অধিনায়ক, 'বাংলাদেশেরই মূলত চাপ থাকবে। দেশের মাটিতে খেলা। দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে হবে। সব মিলিয়ে চাপ থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ওপরই।'
১৫ সদস্যের দলের সবাই প্রস্তুত। এখন যে ১১ ক্রিকেটার ম্যাচে নামবে সবারই সে লৰ্য থাকবে যত বেশি রান করা যায় তা বের হলো পোর্টারফিল্ডের কণ্ঠে, '১৫ সদস্য থেকে সেরা ১১ জনকেই চূড়ানত্ম একাদশে রাখা হবে। আশা করছি যারা নামবে তাদের সবার লৰ্য থাকবে যত বেশি রান করা যায়।'
শিশির ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সেই আলামত নেই। ভারতের বিপৰে ম্যাচে তাই ধোঁকাও খেতে হয়েছে। পোর্টারফিল্ড মনে করছেন, বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিজেদের খেলা খেলতে পারলে শিশিরকেও হার মানানো সম্ভব, 'শিশির একটি বড় প্রভাবক বটে। তবে আমরা প্রস্তুত। যে কোন পরিস্থিতিতে প্রস্তুত। গত কয়েকটি দিন এ নিয়ে কাজও করেছি। বুধবার রাতেও অনুশীলন করেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ৰমতা বোধহয় সবারই আছে।'
অবশ্য শিশির নিয়ে ভয় না পেলেও বাংলাদেশ স্পিনারদের নিয়ে যে চিনত্মিত পোর্টারফিল্ড, তার কথাতেই বোঝা গেছে, 'বাংলাদেশ দলে অনেক ভাল স্পিনার রয়েছে। বিশেষ করে শাকিব আল হাসান ও রাজ্জাক (আবদুর) অনেক বিপজ্জনক। কিন্তু আমরাও এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে স্পিন সামলাতে হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।'
বিশ্বকাপ শুরম্নর আগেই একটি দুঃসংবাদ আছে আয়ারল্যান্ডের জন্য। পরের বিশ্বকাপ থেকে কোন সহযোগী দল বিশ্বকাপ খেলতে পারবে। ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দল খেলবে বিশ্বকাপ। আইরিশরা অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে টেস্ট খেলার ছাড়পত্র পেতে। কিন্তু এখন পর্যনত্ম কোন কাজ হচ্ছে না। বিশ্বকাপে ভাল করলে হয়ত হতে পারে। পোর্টারফিল্ড তাই অন্য কোন বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যসত্ম, 'আইসিসি সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। ঠিক আছে। আমরা নিজেদের কাজ ঠিকমতো করে যাব। নিজেদের চেষ্টার পথ থেকে বের হব না। আমরা যদি আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আইসিসি বিবেচনায় আনবে। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।'
পোর্টারফিল্ডরা এখন নিজেদের নিয়ে ব্যসত্ম। কিভাবে দলকে আরও উপরে তোলা যায় সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। বিশ্বকাপই হতে পারে দলটির জন্য অনেক উপরে ওঠার 'টার্নিংপয়েন্ট।' এজন্য বিশ্বকাপে আবারও চমক দেখাতে হবে। আইরিশদের এই লৰ্যই বাংলাদেশের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনই ধারণা সবার। নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া দলটি যেভাবেই হোক জয় তুলে নেয়ার চেষ্টা করে যাবে। তাছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপৰে জেতার অনুপ্রেরণা সঙ্গে থাকছেই। নিজেরা যে কতটা প্রস্তুত তাও তাদের কথাতে বারবার প্রমাণ মিলছে। বৃহস্পতিবারও পোর্টারফিল্ড যেন হুঙ্কার আবারও দিয়ে বসলেন, 'আমরা যে কোন প্রকারে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে চাই। এইজন্য প্রস্তুত।'
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
উপকূলীয় অঞ্চলের ৫৯৬টি ইউপিতে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী ২৯ মার্চ থেকে। প্রথম পর্যায়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এ তফসিল ঘোষণা করে।
ইসি সচিবালয় জানায়, ২০০৩ সালে ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছর আগেই মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও ইউনিয়ন পরিষদের সংশোধিত আইন পাস ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে থমকে ছিল এ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের সম্মেলন কৰে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা। সে সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, কমিশন সচিবসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকতর্ারা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে তিনটি বিভাগের ১২টি জেলার ৭২টি উপজেলার ৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন শুরম্ন হবে। ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন হবে। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকতর্ার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৫ মার্চ। রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ সময় ৬ ও ৭ মার্চ। ১৩ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যনত্ম প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যনত্ম।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সংরৰিত নারী আসন ও সাধারণ আসনের মোট পদ রয়েছে ৭ হাজার ৭৪৮টি। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদের সংখ্যা ৫৯৬টি, সংরৰিত আসনের সদস্য পদ ১ হাজার ৭৮৮টি এবং সাধারণ আসনের পদ সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৪টি।
৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫১৬। এর মধ্যে পুরম্নষ ভোটার ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৬৯ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৪২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫ হাজার ৬০৬টি এবং ভোট কৰ রয়েছে ২৬ হাজার ২৬৮টি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কৰে তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়। তাই নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর হসত্মৰেপ করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল দুটো ৰেত্রেই আপীল করা যাবে। সংশোধিত আইনে এ সুযোগ রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনের পর তিনদিনের মধ্যে সংশিস্নষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকতর্ার কাছে আপীল করতে হবে।
তিনি জানান, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী ব্যয় সবের্াচ্চ ৫ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যয় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। আর মেম্বার পদে নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিগত ব্যয় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা যাবে।
সিইসি জানান, জাতীয় সংসদের স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদাসম্পন্ন সরকারী সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ভোট দেয়া ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবে না। কোন সরকারী কর্মকতর্া কোন প্রটোকল নিতে পারবেন না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, এ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগে কোন প্রাথর্ী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। দেয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ইত্যাদি ১ মার্চের আগেই নিজ দায়িত্বে মুছে ফেলতে হবে। ১ মার্চের পর তা পাওয়া গেলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। কোন পোস্টার বা লিফলেট কোন স্থানেই লাগানো যাবে না। ঝুলিয়ে দিতে হবে দড়ি দিয়ে। পোস্টারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা এবং মুদ্রণের তারিখ উলেস্নখ থাকতে হবে। পোস্টারে নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। পথসভা ও ঘরোয়া সভা ছাড়া কোন সভা করা যাবে না। মাইকিং ব্যবহার করা যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। একসঙ্গে একটি পথসভার জন্য বা নির্বাচনী প্রচারের জন্য একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।
যে ৭২ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন ॥ প্রথম পযর্ায়ে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৭২ উপজেলার ৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার বরিশাল সদর উপজেলা, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝড়া, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দীগঞ্জ। পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী সদর, দুমকী, বাউফল, মিজর্াগঞ্জ, কলাপাড়া, গলাচিপা ও দশমিনা। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, নেছারাবাদ, কাউখালী, সদর, জিয়ানগর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়ীয়া। বরগুনা জেলার সদর উপজেলা, আমতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী। ভোলা জেলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা। ঝালকাঠির সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা।
খুলনা বিভাগের খুলনা জেলার রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও ডুমুরিয়া উপজেলা। সাতৰীরা জেলার কলারোয়া, দেবহাটা, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, আশাশুনি, সদর ও তালা উপজেলা। বাগেরহাট জেলার সদর, ফকিরহাট, মোলস্নারহাট, কচুয়া, চিতলমারী, মোড়লগঞ্জ, রামপাল, মংলা ও শরণখোলা উপজেলা।
চট্টগ্রাম বিভাগের কঙ্বাজার জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালী এ তিনটি উপজেলা। লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলার রামগতি ও কমলনগর এ দুটিতে নির্বাচন হবে এবং নোয়াখালী জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে হাতিয়া ও সুর্বণচরে নির্বাচন হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০৫টি। এর মধ্যে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৩শ'টি। মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়া, মামলা ও নানা কারণে নির্বাচনের অনুপযোগী ২০৫টি ইউনিয়ন পরিষদ।
এবার ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা ওয়াসা পানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে সংস্থার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে 'ভূ-উপরিস্থ পানি : ঢাকা ওয়াসার ভবিষ্যত' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে পানির দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ওয়াসার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী ড. তাকসিম এ খান এবং চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোসত্মফা।
গোলটেবিলের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়াটার এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. খায়রম্নল ইসলাম, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যান্সমুলার, ড. দিবালোক সিংহ, প্রকৌশলী এমডি নুরম্নজ্জামান, বদরম্নল হক খন্দকার, প্রকৌশলী হাবিব ও ড. ফিরোজ আহমেদ।
তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার ৰমতা গ্রহণের পর সকল সেবা খাতের সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর সুফল এখনই মানুষ পেতে শুরম্ন করেছে। ওয়াসার ৫টি পানি শোধনাগার পুরোদমে উৎপাদনে গেলে ঢাকার পানি ব্যবস্থা উন্নতি হবে। এ জন্য সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও সরকার তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দের উদ্যোগ নেবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বিপর্যয় এড়ানোর জন্য ভূ-গর্ভের পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন। বাংলাদেশের মতো দেশে সেবা খাতের বিনিয়োগ কখনই দাম বাড়িয়ে লাভজনক করা যাবে না। তাই এ খাতে সব সময়ই সরকারের ভর্তুকি দিতে হবে। গরিব দেশগুলো কখনই মেগাসিটি ধরে রাখতে পারে না। তাই ঢাকার ধ্বংস অবধারিত বলে এক সময় জাতিসংঘের এক বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। ২০১৩ সালে ঢাকা ওয়াসার ৫০ বছরপূর্তি হবে। এ উপলৰে ঢাকা ওয়াসার বিশেষ সেবা কর্মসূচী হাতে নেয়া উচিত। ঢাকা শহর কোন দিনই ধ্বংসের নগরী হবে না। কারণ আমাদের চারপাশে যে প্রাকৃতিক উৎস আছে আমাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে রৰা করতে হবে। ওয়াসাকে গরিব মানুষকে বিনামূল্যে পানি সরবরাহের সি ওয়াসার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী ড. তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা একটি অপরিকল্পিত নগরী। এ নগরের সিদ্ধানত্ম নিতে হবে।
বৈঠকে ১২০ না ১৫০ মিলিয়ন মানুষকে ওয়াসা সেবা দিচ্ছে। ২০২১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ২০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ মোকাবেলায় আমাদের সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই পরিমাণ বিনিয়োগ না হলে নগরীতে পানি সরবরাহ দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কেবল বিনিয়োগ বাড়ালেই চলবে না, পানির দাম বাড়াতে হবে। ওয়াসা ১০ হাজার লিটার পানি ৬ দশমিক ৪ টাকায় বিক্রি করে এটা এখন আর সম্ভব না।
পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রূপপুর পারমাণবক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে সরকার একটি চুক্তি অনুস্বাৰর করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন মিলনায়তনে বিজ্ঞান তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রব হাওলাদার এবং রাশিয়ান স্টেট এ্যাটোমিক এনার্জি কর্পোরেশন (রোসাট্রাম)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল নিকোলী এসপাসকি নিজ নিজ সরকারের পৰে চুক্তিতে অনুস্বাৰর করেন। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় চূড়ানত্ম চুক্তি স্বাৰরিত হবে। চুক্তির আওতায় রাশিয়া সরকারের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প এলাকায় দু'টি পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে। প্রতিটি কেন্দ্রের উৎপাদন ৰমতা হবে এক হাজার মেগাওয়াট। উভয় দেশের সরকারী পর্যায়ে চুক্তি অনুস্বাৰরের ফলে প্রকল্প বাসত্মবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলো। চুক্তিতে বিদু্যত কেন্দ্র দু'টির আজীবন প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্র পরিচালনা এবং রৰণাবেৰণের জন্য রাশিয়ান ফেডারেশন প্রয়োজনীয় দৰ জনবল সৃষ্টি করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্রের উপযুক্ত কতর্ৃপৰ (কমপিটেন্ট অথোরিটি) হিসেবে কাজ করবে বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রোসাট্রাম। ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে জয়েন্ট 'স্টক কোম্পানি অব এটমস্ট্রয়এঙ্পার্ট।' বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গ্রাহক হিসেবে কাজ করবে।
চুক্তি স্বাৰর অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্র দূত ড. গ্যান্নাডি পি. ট্রসনিকে পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদউদ্দিন আহমেদসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরমাণু শক্তি কমিশন, রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার চুক্তি অনুস্বাৰরের বিষয়ে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। আজ শুক্রবার প্রতিনিধি দল রূপপুর পরিদর্শন করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ২০১২ সালে বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরম্ন হবে। এখান থেকে ২০১৭-২০১৮ সালে এক হাজার মেগাওয়াট বিদু্যত পাওয়া যাবে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির পরে কেন্দ্রের অর্থায়ন সংগ্রহ করা হবে। রাশিয়া এ প্রকল্পে অর্থসংস্থানের প্রাথমিক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্য যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, এতদিন রাশিয়া বাংলাদেশে একটি পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু এবারের চুক্তিতে রূপপুরেই কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি অনত্মভর্ুক্ত হলো। তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে আমরা বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে একধাপ এগিয়ে যাব। এরপর আর্থিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রকল্পের ব্যয় দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না। পরমাণু থেকে উৎপাদিত বিদু্যতের দাম নির্ধারণের জন্য পিডিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিদু্যত কেন্দ্রে ৪০০ প্রকৌশলী কাজ করবেন। এদের আলাদাভাবে প্রশিৰণেরও প্রয়োজন হবে। রাশিয়াই এদের প্রশিৰণ দেবে। চূড়ানত্ম চুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আগামী ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ পর্যবেৰণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাধীনতার আগে ১৯৬৬ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সুদীর্ঘ সময় শুধু আলাপ-আলোচনা আর সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পারমাণ বিক বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরম্ন করে। রাশিয়ার সঙ্গে বিদু্যত কেন্দ্র স্থাপনের আইনগত ও কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।
সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালের ১৩ মে রোসাট্রামের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাৰর করে।
পরবর্তীতে গত বছরের ২১ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও তথ্য যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের সময় বাংলাদেশে এবং রাশিয়ার মধ্যে আরও একটি প্রটোকল স্বাৰরিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুলিস্ন স্থাপনের জন্য একটি চুক্তির খসড়া রাশিয়ায় পাঠানো হয়। নিরীক্ষিত খসড়ায় রাশিয়া পারমাণবিক চুলিস্নর বর্জ্য সে দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রসত্মাবে রাজি হয়। প্রকল্পের জীবনকাল ৮০ বছর পর্যনত্ম এ বর্জ্য রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। জানা যায়, প্রথমে এক হাজার মেগাওয়াট বিদু্যত উৎপাদনের রি-এক্টর স্থাপন করা হবে। পরবর্তী ধাপে রূপপুরেই আরও এক হাজার মেগাওয়াটের একটি রি-এক্টর বসানো হবে। প্রতিটিতে খরচ পড়বে দেড় মিলিয়ন ডলারের বেশি।
অন্যদিকে, চুলিস্ন স্থাপনে স্থান পরিদর্শনে আনত্মর্জাতিক এটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালকসহ আইএই ও রাশিয়ার কয়েকটি প্রতিনিধি দল গত বছরের বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। পরমাণু শক্তি কমিশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, পারমাণবিক চুলিস্ন থেকে উৎপাদিত বিদু্যতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি পড়বে ৬৩ পয়সা। ১৫ বছরের মধ্যে পস্ন্যান্টের ব্যয় উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বল্পব্যয়ে বিদু্যত পাওয়া সম্ভব এজন্য উন্নয়নশীল প্রায় ৬০টি দেশ পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে জ্বালানি বর্জ্য, যা মাটির অনেক গভীরে রাখতে হয়। রাশিয়া রূপপুর বিদু্যত কেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পারমাণবিক বিদু্যত কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করেছে।
অতীত উদ্যোগ ॥ ১৯৬১ সালে প্রকল্পটি শুরম্নর উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের প্রায় এক হাজার মিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে এ প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধানত্ম হয়। এজন্য তৎকালীন সরকার ২৫৯ দশমিক ৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ওই সময় প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৩৫ লাখ টাকায় কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। সুদীর্ঘ সময়ে প্রায় ৪৯ বছরে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে, রাশিয়া, ফ্র্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। ১৯৬৩ সালে ৭০ মেগাওয়াট পারমাণবিক চুলিস্ন স্থাপনের সিদ্ধানত্ম হয়। ১৯৬৪ সালে কানাডা সরকারের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা হয়। ১৯৬৬ সালে কানাডা, সুইডেন ও নরওয়ের সঙ্গে আলোচনা হয় ১৪০ মেগাওয়াট পারমাণবিক চুলিস্ন স্থাপনের। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার ২০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক চুলিস্ন স্থাপনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে। তবে '৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর প্রকল্পটি আর এগোয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের সময় এ নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর কিছু হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২৩ রানের টার্গেট দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ঝলসে উঠলেন দৰিণ আফ্রিকার গোপন অস্ত্র ইমরান তাহির। দৰিণ আফ্রিকান এই স্পিনারের বোলিং কারিশমায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংটা ভাল হল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পুরো ৫০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। প্রোটিয়াস বোলারদের দাপটে ৪৭.২৩ ওভারে মাত্র ২২২ রানে অলআউট হয় ড্যারেন সামির দল। দলের পৰে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ড্যারেন ব্রাভো। দৰিণ আফ্রিকার পৰে ১০ ওভার বল করে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন তাহির। বিশ্বকাপ শুরম্নর আগে যাঁকে সাফল্যের গোপন অস্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল প্রোটিয়াসরা। ৭.৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন পেসার ডেল স্টেইন। গতকাল দিলস্নীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট দক্ষিণ আফ্রিকা ও 'আন্ডার ডগ' ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের জন্যই এটি ছিল এবারের আসরের প্রথম ম্যাচ। দিবা-রাত্রির এ ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নেন দৰিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। এর কারণ ছিল দু'টি। প্রথমত ফিরোজ শাহ কোটলার পিচ নিয়ে বিতর্ক অনেক আগে থেকেই। স্পোর্টিং উইকেট নয়, ব্যাটসম্যানদের জন্য বিপজ্জনক পিচ_এই অভিযোগে দীর্ঘ এক বছর আনত্মর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল মাঠটি। অবশেষে গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দৰিণ আফ্রিকা ম্যাচের মধ্য দিয়ে আবার আনত্মর্জাতিক ক্রিকেটের ছাড়পত্র পেল কোটলা। পিচের চরিত্র নিয়ে তাই অনেকটাই সংশয়ে ছিলেন স্মিথ। দ্বিতীয়ত ডিউ ফ্যাক্টর নিয়েও আতঙ্কে ছিলেন প্রোটিয়াস অধিনায়ক। টসে জিতে তাই আগে ফিল্ডিং নেয়াই যুক্তিসঙ্গত মনে করেন স্মিথ। শুধু তাই নয়, ইনিংসের শুরম্নতেই বল তুলে দেন অফ স্পিনার জন বোথার হাতে। প্রথম ওভারেই সাফল্যের মুখ দেখে দৰিণ আফ্রিকা। বোথার চতুর্থ বলে জ্যাক ক্যালিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে মারকুটে ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক ক্রিস গেইল। দলীয় ২ রানে তাই প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শুরম্নর এ বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখায় ডেভন স্মিথ ও ড্যারেন ব্রাভোর ১১১ রানের জুটি। ৮২ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৩ রান করার পর এলবিডবিস্নউ আউট হয়ে বোথার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ওয়ান ডাউনে নামা ব্রাভো। তিনি আউট হবার পরই যেন ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে শুরম্ন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও মাঝে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫৮ রান করে খানিকটা ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন শিব নারায়ন চন্দরপল ও ডোয়াইন ব্রাভো। চন্দরপলের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। ৩৭ বলে ৪০ রান করে রান আউটের শিকার হন ডোয়াইন ব্রাভো। এ ম্যাচে এলবিডবিস্নউ আউটের শিকার হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ ব্যাটসম্যান। ২২৩ রানের জবাবে দৰিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের শুরম্নটাও ভাল হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজও স্পিনারদের দিয়েই বোলিং আক্রমণ শুরম্ন করে। অপর প্রানত্মে আক্রমণ শানান মিডিয়াম পেসার কেমার রোচ। স্পিন-পেসের এই মিলিত আক্রমণে মাত্র ২০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে দৰিণ আফ্রিকা। খুব সকালেই সাজঘরে ফিরতে হয় প্রোটিয়াসদের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ওপেনার হাশিম আমলা ও অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম ২১ ওভার শেষে দৰিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৬ রান। ৩০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। ৪৭ রানে ব্যাট করছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচী অনুমোদন
বিভাষ বাড়ৈ ॥ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনাল এবং সরকারী ছুটির কারণে পাঁচ দিন পিছিয়েছে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীৰা। ১ এপ্রিলের পরিবর্তে ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে দেশের ১০ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি ব্যাবসায় ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা। শিক্ষা বোর্ডের তৈরি সময়সূচীকেই বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সকল পরীক্ষার আগেই এবার ছুটি পাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। সময়সূচী আজ থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও (www.dhakaeducationboard.gov.bd) পাওয়া যাবে।
গত বছরই এবারের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তারিখ অনুসারেই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ১০ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা। বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার কারণে পরীক্ষা পিছানোর দাবি উঠলেও নির্দিষ্ট তারিখেই শুরম্ন হয়। তবে শিক্ষার্থীদের খেলা দেখাসহ সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে একটি সহনশীল সময়সূচী তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের খেলার দিন, এমনকি বাংলাদেশের খেলার পরের দিনেও রাখা হয়নি কোন পরীক্ষা। জানা গেছে, বিশ্বকাপ খেলার কথা মাথায় রেখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবার ১ এপ্রিল শুক্রবার হওয়ায় এমনিতেই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরদিন শনিবার হলেও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পরদিন পরীক্ষা নিলে প্রশ্ন উঠতে পারে ভেবে তারিখ পিছানোর বিষয়ে একমত হন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা মেনে পুরো পরীক্ষার সময়সূচী তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার বিকেলে সময়সূচীর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সময়সূচীতে পরীৰার মাঝে প্রয়োজনীয় বিরতি দেয়া হয়নি বলে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে যে অসন্তোষ ছিল এবার তা কেটে যাবে বলে মনে করছেন শিৰা বোর্ডের কর্মকর্তারা। এবার বিজ্ঞান, বাণিজ্য, মানবিক প্রতিটি বিভাগের পরীৰার্থীরাই গুরম্নত্বপূর্ণ সকল পরীৰার মাঝে ছুটি পাচ্ছে। এজন্য প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় পরীৰা চলবে। ৫ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীৰা শুরম্ন হবে আটটি সাধারণ একটি মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম ও একটি কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার। সাধারণ ৮ বোর্ডের এইচএসসির লিখিত পরীৰা শেষ হবে ৩১ মে। মাদ্রাসা বোর্ডের আলিমের লিখিত পরীৰা শেষ হবে ৮ মে এবং কারিগরি শিৰা বোর্ডের এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা পরীৰা শেষ হবে ৪ মে। এরপর শুরম্ন হবে সকল বোর্ডের ব্যবহারিক পরীৰা। এবারের সময়সূচী শিৰার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহনশীল হবে বলে মনে করেন ঢাকা শিৰা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-পরীৰা নিয়ন্ত্রক রসময় কীর্তনীয়া। তাঁরা একই সঙ্গে আনত্মঃশিৰা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। এবার ৫৭ দিন ধরে পরীক্ষা গ্রহণের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তাঁরা জনকণ্ঠকে বলেন, এবার পরীৰার কর্ম দিবস (যে দিনগুলোতে পরীৰা চলবে) ২৪ দিন। কিন্তু পরীক্ষাগুলোর মাঝে বিরতি দেয়ায় প্রায় দুই মাস পরীৰা চলবে। এর ফলে পরীৰার মাঝে প্রয়োজনীয় বিরতি দেয়া হয়নি বলে গত কয়েক বছর ধরে শিৰার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে যে অসনত্মোষ ছিল এবার তা কেটে যাবে। বিজ্ঞান, বাণিজ্য, মানবিক প্রতিটি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সকল পরীক্ষার মাঝে প্রয়োজনীয় ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
নিষ্প্রাণ সংসদেও স্বতন্ত্র সদস্যের ওয়াকআউট, কথা বলতে না দেয়ার প্রতিবাদ
সংসদ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দলবিহীন নিষপ্রাণ সংসদে বৃহস্পতিবার কিছু সময়ের জন্য হলেও উত্তাপ ছড়ান একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে নবম জাতীয় সংসদে এই প্রথম তিনি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। ওয়াকআউটের সময় ফজলুল আজিমের উদ্দেশ্য ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, 'ফ্লোর পেয়ে আপনি অনন্তকাল কথা বলবেন এটা হতে পারে না।'
এদিকে লিবিয়া ও সোমালিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বশেষ অবস্থা কী তা নিয়ে সরকার থেকে কোন সংসদে বক্তব্য না আসায় ৰোভ প্রকাশ করে বলেন, "আল্লাহ'র ওয়াস্তে লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের ব্যাপারে পরিপূর্ণ বিবৃতি দিন। সংসদকে জানান সেখানে কী হচ্ছে?"
মাগরিবের নামাজের বিরতীর পর ৭১ বিধিতে দুই মিনিটের আলোচনা শেষে জাসদের কার্যকরী সভাপতি সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে লিবিয়াতে বাংলাদেশীদের অবস্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিপূর্ণ বিবৃতি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। এরপর একই ইসু্যতে কথা বলতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে চান।
স্পীকার তাঁকে ফ্লোর দিলে তিনি বৃহস্পতিবার সংসদের বেসরকারী দিবস উলেস্নখ করে বলেন, "এইদিন আমরা সময় নিয়ে কথা বলব। সরকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসি। কিন্তু চলতি নবম জাতীয় সংসদে দেখছি বৃহস্পতিবারের প্রায়ই ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা সংসদে অনুপস্থিত থাকেন। আজ (গতকাল) ট্রেজারি বেঞ্চে একজন মাত্র সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।
ফজলুল আজিম তাঁর পয়েন্ট অব অর্ডারের মূল বক্তব্য শুরম্ন করার আগেই চীফ হুইপ ফ্লোরের জন্য দাঁড়ালে ডেপুটি স্পীকার ফজলুল আজিমকে বসতে বলেন। তখন ফজলুল আজিম বলেন, "মাননীয় স্পীকার, পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে যদি কথা বলতে আপত্তি জানান, তাহলে কথা বলব না।" এ সময় স্পীকার মাইক বন্ধ করে দেন এবং চীফ হুইপকে ফ্লোর দেন।
চীফ হুইপ ফ্লোর পেয়ে ফজলুল আজিমের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বেসরকারী দিবসে সরকারী দলের কোন কার্যসূচী থাকে না। এখানে সরকারী দলের আসনগুলো খালি এটা বলার কোন সুযোগ নেই। বেসরকারী দিবস বলেই সরকারকে নিয়ে কথা বলবেন এটার কোন কারণ দেখি না। যেসব মন্ত্রীর কার্যক্রম রয়েছে তারা তো সংসদে উপস্থিত রয়েছেন। পরে চীফ হুইপ নির্ধারিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে স্পীকারকে অনুরোধ করে বসে পড়েন।
চীফ হুইপের বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ ফজলুল আজিম আবারও ফ্লোর চান। তখন স্পীকার ফ্লোর না দিয়ে বলেন, "আপনাকে ফ্লোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আপনি ফ্লোর নিয়ে অননত্মকাল কথা বলবেন তা হতে পারে না।" এ সময় ফজলুল আজিম স্পীকারকে উদ্দেশ্য করে মাইক ছাড়াই বলেন, "চীফ হুইপ যেভাবে বলছেন আপনি সেভাবে সংসদ চালাচ্ছেন। চীফ হুইপের কথা মত সংসদ চালাতে চাইলে চালান। আমি প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।" ফজলুল আজিম ওয়াকআউট করে আর অধিবেশনে ফেরেননি। পরে স্পীকার দিনের অন্য কার্যক্রমে চলে যান।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, লিবিয়ার মিসরাকায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে তারা লিবিয়ার উপর নজর রেখেছে। যে দেশ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় দেয় সে দেশের উপর নজর রেখে কি লাভ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পত্রিকায় মন্ত্রীরা কথা বললেও এখন পর্যনত্ম সংসদে কোনো কথা বলেননি। লিবিয়ায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে কি না এবং সেখানে বাংলাদেশীরা কি অবস্থায় আছে সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপূর্ণ তথ্য জানালে সংসদ এবং দেশবাসী উপকৃত হবে।
তিনি ৰোভ প্রকাশ করে বলেন, "এর আগে আমি সোমালিয়া জলদসু্যদের হাতে ছিনতাইকৃত জাহাজ মনির ব্যাপারে বিবৃতি দাবি করেছিলাম। কিন্তু তা পাইনি। পত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে কথা বললে সোমালিয়ান জলদসু্যরা মুক্তিপনের টাকা বাড়িয়ে দিতে পারে। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে জনগণকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়া হয়।"
লিবিয়ায় বাংলাদেশী হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি
সংসদে দীপু মনি
সংসদ রিপোর্টার ॥ লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বৰণিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে লিবিয়ায় বাংলাদেশী কোন নাগরিকের হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার পাশাপাশি সোমালিয়ায় আটককৃত জাহাজ এবং ২৬ বাংলাদেশী ক্রুকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে অতি দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিক এবং সোমালিয়ায় জিম্মি হওয়া নাগরিকের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সরকারের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দাবি করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কত দ্রুত লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া যায় সরকার সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
লিবিয়ার মিসরাতায় ৩৭ বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে মইনউদ্দীন খান বাদলের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ত্রিপোলি দূতাবাস এবং লিবিয়ায় বিদেশী নাগরিকের নিরাপত্তার ব্যাপারে কর্মরত বিভিন্ন আনত্মর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর সেখানে বাংলাদেশী কোন নাগরিকের হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সরকার সর্বৰণিক যোগাযোগ রাখছে।
ডা. দীপু মনি জানান, সরকার এ বিষয়টি সর্বাত্মক গুরম্নত্ব দিচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপদ কোন স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। ত্রিপোলিতে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাস ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে সর্বৰণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, লিবিয়ার সীমানত্ম সংলগ্ন মিসর ও তিউনিসিয়ায় অস্থায়ী ক্যাম্প করে সেখানে থাকা বিদেশীদের সরিয়ে নিতে বিভিন্ন আনত্মর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। আমরা ইতোমধ্যে ওইসব সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই দুই দেশের অস্থায়ী ক্যাম্পে বাংলাদেশী প্রবাসীদেরও যেন নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয় সেজন্য আলোচনা করেছি। এছাড়া লিবিয়ায় থাকা চীন, কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিতে যেসব বাংলাদেশী নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, ওইসব দেশের দূতাবাসকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তাঁদের নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের নাগরিকদেরও নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।
সোমালিয়ায় দসু্যদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশী জাহাজ ও আটককৃত ২৬ ক্রুর সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সোমালিয়ায় জাহাজ ও বাংলাদেশী নাগরিকদের মুক্ত করার ব্যাপারে সরকার ও জাহাজের মালিক সর্বৰণিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী খুব দ্রম্নতই শানত্মিপূর্ণ সমাধান হবে, জিম্মি হওয়া জাহাজ ও এক মহিলাসহ ২৬ বাংলাদেশী ক্রুকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দৰিণ কোরিয়া তাঁদের জিম্মি হওয়া জাহাজ ও নাগরিকদের বলপ্রয়োগ করে উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশ করল না কেন_ ডেপুটি স্পীকার ও মইনউদ্দীন খান বাদলের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সোমালিয়ায় যখন জাহাজটি জিম্মি করা হয় তখন আমরা বলপ্রয়োগ করার চেষ্টা করলে আমাদের নাগরিকদের হতাহতের সম্ভাবনা থাকত। আমরা তা চাইনি। আমরা চেষ্টা করছি শানত্মিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে নিরাপদে আমাদের জিম্মি হওয়া ক্রু ও জাহাজটিকে ফিরিয়ে আনতে। আশা করি, দ্রম্নতই আমরা এ ব্যাপারে সৰম হব।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, লিবিয়ার মিসরাতায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে এমন খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে তারা লিবিয়ার ওপর নজর রেখেছে। যে দেশ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় দেয় সে দেশের ওপর নজর রেখে কি লাভ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পত্রিকায় মন্ত্রীরা কথা বললেও এখন পর্যনত্ম সংসদে কোন কথা বলেননি। লিবিয়ায় ৩৭ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে কিনা এবং সেখানে বাংলাদেশীরা কি অবস্থায় আছে সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপূর্ণ তথ্য জানালে সংসদ এবং দেশবাসী উপকৃত হবে।
তিনি ৰোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে আমি সোমালী জলদসু্যদের হাতে ছিনতাইকৃত জাহাজের ব্যাপারে বিবৃতি দাবি করেছিলাম। কিন্তু তা পাইনি। পত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী বলেছেন এ বিষয়ে কথা বললে সোমালিয়ান জলদসু্যরা মুক্তিপণের টাকা বাড়িয়ে দিতে পারে। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে জনগণকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়।
মইনউদ্দীন খান বাদল আরও বলেন, দেশে অনেক টাকা খরচ করে র্যাব ও এ ধরনের অন্যান্য বাহিনী গঠন করা হয়। দৰিণ কোরিয়া তাদের ছিনতাইকৃত জাহাজ ও নাবিকদের পাল্টা আক্রমণ করে উদ্ধার করেছে। সঙ্গে সঙ্গে জলদসু্যদের ধরে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পৰে সেটি সম্ভব না হলেও জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নাবিক ও লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের দেশে পরিবারের অবস্থা কি তা শুধু পরিবারটিই বলতে পারবে। এ ব্যাপারে সংসদে আপনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ বিবৃতি দাবি করছি। তিনি বলেন, আলস্নাহর ওয়াসত্মে লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের ব্যাপারে পরিপূর্ণ বিবৃতি দিন। সংসদকে জানান সেখানে কী হচ্ছে?
ভোজ্যতেলের ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ভোজ্যতেল আমদানির ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে দাঁড়াল।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লৰ্যে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভোজ্যতেল রিফাইনারি মালিকরা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পরের দিন ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর, বাণিজ্য ও অর্থ সচিবের সঙ্গে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করেন।
ওই নির্দেশের প্রেৰিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠান। প্রসত্মাবে বলা হয়, ইতোমধ্যে ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে প্রায় ৬শ' কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ওই প্রসত্মাব অনুমোদন করলে বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এ ব্যাপারে একটি এসআর জারি করে।
বর্তমান বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। যে কারণে অভ্যনত্মরীণ বাজারেও দাম বৃদ্ধি পায়। বর্তমান খুচরা বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন ১০৬ থেকে ১০৯ টাকা এবং পামতেল ৯৭ টাকা থেকে ৯৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম ৬.৪৪ শতাংশ এবং পামতেলের দাম বেড়েছে ৯.৫৫ শতাংশ।
আজ সেই বিডিআর হত্যা দিবস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ সেই ভয়াল ও বীভৎস বিডিআর হত্যা দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কিত ভয়ঙ্কর দিন। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের ইতোমধ্যে দুই বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এই দুই বছরেও কথিত বিদ্রোহের নামে রক্তাক্ত পিলখানা বীভৎস পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের দুঃসহ স্মৃতি মন থেকে মুছতে পারেনি কেউ।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে নজিরবিহীন নৃশংস ঘটনা ঘটে। বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ানরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যা করে ৫৬ সেনা কর্মকর্তাকে। পিলখানার এই নারকীয় ঘটনার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিডিআর দফতরে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিডিআররা হামলার ভয়ে প্রসত্মত থাকে। পরদিন ২৬ ফেব্রম্নয়ারি দুপুর পর্যনত্ম এ অবস্থা অব্যাহত থাকে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই দিনের বিভীষিকা থামিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহীরা। এরপর থেকে জাতির বাকরম্নদ্ধ হওয়ার পালা। পাষ- বিদ্রোহীরা প্রায় দুই দিন ধরে বিডিআরে প্রেষণে কর্মরত মহাপরিচালকসহ ৫৬ সেনা কর্মকর্তা, র্যাবে কর্মরত একজন সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাকর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী, বিডিআরের মহাপরিচালকের স্ত্রী, বিডিআরের আট সদস্য এবং পিলখানার ভেতরে দু'জন এবং বাইরে চারজন বেসামরিক লোকসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। তাঁদের কারও কারও লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়, অন্যদের গণকবর, এমনকি মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলারও চেষ্টা করে তারা। সেনা কর্মকর্তাদের বাসায় ভাংচুর, লুটপাট, অগি্নসংযোগ, নির্যাতনের মতো নৃশংস সকল ঘটনা একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকে।
এদিকে ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ঘটনার শুরম্ন থেকে অত্যনত্ম বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মাত্র দুই দিনের মধ্যে আরও বড় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সৰম হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার। বিরামহীনভাবে টানা দুই দিন তিন বাহিনী প্রধানসহ সংশিস্নষ্ট সকলের পরামর্শ নিয়ে এবং প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড় পর্যবেৰণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। আটকেপড়া সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারবর্গকে উদ্ধার করতে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সরকারবিরোধীদের ক্রমাগত চাপের মুখেও অপেৰাকৃত শানত্মিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অটল ছিলেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের উদ্দেশে টেলিভিশনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ 'জাদুমন্ত্রের' মতো কাজ করে। এ ভাষণের পর মনোবল ভেঙ্গে যায় বিদ্রোহীদের। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের দফায় দফায় বৈঠকও দ্রুতগতিতে বয়ে আনে ইতিবাচক ফল। কোন সেনা অভিযান ছাড়াই বিডিআর জওয়ানদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে রক্তৰয়ী বিডিআর বিদ্রোহের। একই সঙ্গে পরিসমাপ্তি ঘটে আরও জানমালের ৰয়ৰতির আশঙ্কা।
এ ঘটনার পর দেখা দেয় সেনানিবাসে উত্তেজনা। নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্যের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের নানা ৰোভ ও দাবিদাওয়ার কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বসেই পলাতক বিডিআর সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান 'অপারেশন রেবেল হান্ট' এ সেনা সদস্য অনত্মর্ভুক্ত করা, সেনা আইনে দোষীদের বিচার, বিডিআর পুনর্গঠনসহ নানা বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। গঠন করা হয় আলাদা দু'টি তদনত্ম কমিটি।
এদিকে ২৫ ফেব্রম্নয়ারি বিডিআর পিলখানায় সংগঠিত বর্বরোচিত হত্যাকা-ে নিহত সেনাসদস্যদের শাহাদাত বার্ষিকী পালন উপলৰে বেশকিছু কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রী, তিনবাহিনীর প্রধানগণ ও বিডিআরের মহাপরিচালক কর্তৃক শহীদদের কবরে পুষ্পসত্মবক অর্পণ, সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জুমা মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।