মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
মোবারক যাচ্ছে
০ ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে
০ জনতার দাবিতে প্রতি সেনা সমর্থন
০ তাহরির চত্বরে প্রতীক্ষায় লাক্ষো মানুষ
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রবল গণআন্দোলনের মুখে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে মিসরের একনায়ক হোসনি মোবারকের। মোবারক রাতেই পদত্যাগ করতে পারেন_ বিশ্বজুড়ে চলছে এমন জল্পনাকল্পনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মোবারকের বিদায়ঘণ্টা বেছে গেছে। মোবারকবিরোধী টানা আন্দোলনের ১৭তম দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই দেশজুড়ে মোবারকের পদত্যাগের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুজব ডালপালা মেলতে থাকে। শাসক দল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এনডিপি) মহাসচিব হোসেন বাদরাবি প্রথম প্রেসিডেন্ট মোবারকের পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়ে পত্রিকায় বক্তব্য দেন। তিনি বিবিসি ও চ্যানেল-ফোর-কে বলেন, মোবারক তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমানের কাছে ৰমতা হস্তান্তর করতে পারেন। তার এ বক্তব্য আরও জোরদার হয় প্রধানমন্ত্রী আহমেদ সাইফের বক্তব্যে। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন। সার্বিক পরিস্থিতি শীঘ্রই ব্যাখ্যা করা হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, মোবারক রাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং সেখানে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র পরিচালক লিওন পানেত্তার বরাত দিয়ে অপর এক খবরেও মোবারকের পদত্যাগের বিষয়টি আরও পরিষ্কায় হয়ে যায়। তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ক্ষমতা থেকে মোবারকের সরে দাঁড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অবিলম্বে মোবারকের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গণআন্দোলনের ১৭তম দিনে অনেকটা নিরুপায় হয়ে নড়েচড়ে বসে মোবারকের নিজ হাতে গড়া সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা। দেশের প্রতিরৰামন্ত্রী মোহাম্মদ তানতাবিরের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিসরের সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রীম কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক হয় এবং গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রেসিডেন্টকে বাদ দিয়ে এ ধরনের বৈঠক হয়। আর এ খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়ার পরই দেশজুড়ে রব ওঠে গণবিস্ফোরণের কাছে মাথা নত করে শেষ পর্যনত্ম ৰমতা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন মোবারক। গত কয়েকদিন ধরে নানা টালবাহানার মাধ্যমে ৰমতা অাঁকড়ে থাকতে বেশ কিছু লোক দেখানো পদৰেপ নিলেও তাতে বিৰুব্ধ জনতাকে সামলানো যাচ্ছিল না। বুধবার থেকেই তারা নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেয়। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। গণআন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ছেড়ে রাজপথে নেমে আসে শত শত চিকিৎসক, আইনজীবী, মেডিক্যালের ছাত্র থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরাও। আর এর পরই মিসরের পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে থাকে। চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কায়রোর একটি বিরাট অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আন্দোলনকারীদের দখলে। গত কয়েকদিন ধরে বিৰোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের নানা অভিযোগ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লৰ্য করা যায়। সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জনগণের বৈধ দাবিদাওয়ার প্রতি সাড়া দিতে তারা প্রস্তুত। মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এ বিবৃতিতে বলা হয় জনগণের নিরাপত্তা বিধানই সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গত কয়েকদিন মিসরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নানা ইস্যুতে ব্যাপক মতপার্থক্য ফুটে উঠতে থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানী কায়রোর রাজপথে লাখ লাখ লোক মোবারকের ভাষণ শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল। তবে মোবারকের তথ্যমন্ত্রী রাতেও বলেছেন, না মোবারক পদত্যাগ করছেন না। কায়রোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বৈঠকের দৃশ্য রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হলেও কখন এ বৈঠক হয় তার দিনৰণ বলা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর দৃশ্যত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। মিসরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমানের পর সর্বশেষ মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত জরম্নরী আইন তুলে নেয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম একটি বড় দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তার ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছে তা উচিত নয়। বিশেস্নষকরা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে মিসরের এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কার আরও গতিশীল করার মার্কিন দাবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকচ করে দেন। ওমর সুলেইমান ওবামা প্রশাসনকে সামরিক অভু্যত্থানের হুমকি দেয়ার পর মোবারক সরকারের আরেক গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এ মনত্মব্যে দেশে ব্যাপক বিতর্কের ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মিসরের শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট অব্যাহত থাকে। বৃহত্তম কারখানার শ্রমিকরা তিন সপ্তাহব্যাপী চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে এবং বেতন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। আন্দোলনের ১৭তম দিনে বৃহস্পতিবার শত শত ডাক্তার হাসপাতাল ছেড়ে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় বেরিয়ে আসেন। তিন সহস্রাধিক আইনজীবীও একই দিন কায়রোর রাসত্মায় নেমে মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে। বাসচালক, হেলপার থেকে শুরম্ন করে পরিবহন শ্রমিকরাও মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় মিছিল করে। এসব আন্দোলন মোবারকের ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সেনাবাহিনীর বিরম্নদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যেই সাংবাদিকসহ বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত বৃহস্পতিবার বলেন, তড়িঘড়ি করে কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আসা অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এক সাক্ষাতকারে গেইত বলেন, "মিসরের মতো এত বড় একটি বন্ধু দেশ যে কিনা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তাকে যখন আপনারা বলেন_ এখনই, এ মুহূর্তে, অবিলম্বে এটা বা সেটা করতে হবে তখন তা কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার মতোই মনে হয়_ আপনারা তার ওপর আপনাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছেন।" যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মিসরে অবিলম্বে জরম্নরী অবস্থা তুলে নেয়ার আহ্বানেরও তীব্র সমালোচনা করে গেইত বলেন, এতে তিনি 'বিস্মিত' হয়েছেন। আন্দোলনের দু'সপ্তাহে কায়রোর দৃশ্যপট কতখানি বদলে গেছে আর দেশটির ভবিষ্যতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কতটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সে কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে মিসরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত। মিসরে আন্দোলন জোরদার হতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বারবারই কায়রোয় সরকারকে আরও বেশি কিছু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' নেয়ার জন্য মিসর সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, সরকার এমন কোন 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' গ্রহণ করেনি যাতে করে জনগণ আশ্বসত্ম হতে পারে। আর এ দুঃখবোধ থেকেই বাইরে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গিবস আরও বলেন, মিসরে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থাগুলোর কর্মকা- পর্যালোচনা করবে মার্কিন সরকার।
দরপতন আর বিক্ষোভ
পুঁজিবাজার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন এবং এর প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিৰোভ অব্যাহত রয়েছে। দিনভর ওঠানামার পর বৃহস্পতিবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক আরও ১৪৬ পয়েন্ট কমে গেছে। এ নিয়ে গত দু'দিনে সূচক ২৯৫ পয়েন্ট হ্রাস পেল।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, টানা দরপতনের পর অধিকাংশ শেয়ারই বিনিয়োগের ৰেত্রে ঝুঁকিমুক্ত অবস্থানে চলে এসেছে। কোম্পানিগুলোর বার্ষিক লভ্যাংশ ঘোষণা শুরম্ন হয়েছে। বাজারের ৭০ শতাংশ কোম্পানি ভাল মৌলভিত্তির হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এবার ভাল লভ্যাংশ পাবেন। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যশীল হতে হবে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই এ বাজার থেকে লাভবান হবেন।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরম্নতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর হ্রাসের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্ন হলেও ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তা বাড়তে শুরম্ন করে। লেনদেনের প্রথম ৫ মিনিটে সাধারণ সূচক কমে ১১৫ পয়েন্ট। কিন্তু ১৫ মিনিট পরে সূচক বাড়ে ২৫ পয়েন্ট। দিন শেষে সাধারণ সূচক বুধবারের চেয়ে কমে ১৪৬ পয়েন্ট। দিন শেষে কমেছে ২৩৩টি এবং বেড়েছে ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের দর। ডিএসইতে সারা দিনে ৫৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জেও (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার সিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ২১৬.৪২ পয়েন্ট কমে ১২১১০.৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি টাকা।
সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাজারে এ অস্থিরতা চলছে বলে মনে করেন বিশেস্নষকরা। চলতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসই সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে। প্রথম দু'দিন পতনের পর মঙ্গলবার অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও শেষ দু'দিন আবারও বড় দরপতন ঘটেছে। বাজারের এই ধারাবাহিক নিম্নগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। ক্রমাগত দরপতনের বিৰুব্ধ হয়ে প্রায় প্রতিদিনই মতিঝিল এলাকায় বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।
শেয়ারের অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় বিক্ষোভ করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের শেষদিনে ডিএসইতে লেনদেন শেষে দরপতনে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাসত্মায় নেমে আসে। তারা খ- খ- মিছিল নিয়ে ডিএসইর সামনে জড়ো হয়। বিক্ষোভকারীরা ডিএসইর সামনের রাসত্মা অবরোধ করে অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর, এসইসি চেয়ারম্যান এবং ডিএসই সভাপতির পদত্যাগের দাবি জানায়। এর আগে বিৰোভের আশঙ্কায় বেলা ২টা থেকে পুলিশ শাপলা চত্বর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যনত্ম রাসত্মায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে দিলে পুনরায় যান চলাচল শুরম্ন হয়।
আফ্রিদি-শোয়েবের পাকিস্তান দল আসছে আজ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু বঙ্গবন্ধুতে গোপনে বিশ্বকাপ মহড়া
মনিজা রহমান ॥ পাকিসত্মানের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দল আসছে আজ। বুম বুব শহীদ আফ্রিদি, রাওয়ালপিন্ডি এঙ্প্রেস শোয়েব আখতারের মতো গস্ন্যামারস ক্রিকেটারদের রোশনাইয়ে ঝলমলে হবে চারদিক। আশিষ বাগাইয়ের নেতৃত্বে কানাডা বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে ঢাকায় আসে বুধবার। কিন্তু বাঙালী কয়জন কানাডার ক্রিকেটারের নাম জানে? সাধারণ দর্শকের দোষ দিয়ে লাভ নেই। গতকাল উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনে কানাডার ক্রিকেটাররা কথা শুরম্নর আগে নিজেদের পরিচয় দিল মিডিয়ার কাছে। ওদিকে পাকিসত্মানের বর্তমান দল কেন, গত ৯ বিশ্বকাপের দলও গড় গড় করে বলে দেবার মতো মানুষ এদেশে আছে ! চার-ছক্কা হাঁকানো ড্যাশিং অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি, গতির রাজা শোয়েব আখতার, ইউনুস খান, মিসবাহ উল হক... কাকে রেখে কাকে রাখি! কানাডার বহুজাতিক বাহিনীর সদস্যরা এখানে সূর্যের পাশে চাঁদের আলোর মতোই। জ্বলনত্ম সূর্যের নিচে প্রতিদিনই চলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহড়া। এতদিনের ভেনু্য বনানী আর্মি স্টেডিয়াম থেকে এই আয়োজন এখন বঙ্গবন্ধুতে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আসল ভেনু্যতে ফাইনাল ড্রেস রিহার্সেল শুরম্ন হয়েছে গতকাল থেকে।
মাঘের শেষ সপ্তাহে বাতাসে এখন বসনত্মের আগমনবার্তা। চলার পথে কোকিলের গান শুনে চমকে উঠতে হয়! তবু মন উদাস হয় না। কারণ এরচেয়ে বড় আগমনবার্তা এখন আকাশে বাতাসে। বিশ্বকাপ আসছে... বিশ্বকাপ। এদেশে বসছে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। চারদিকে সাজ সাজ রব। আইসিসির তত্ত্বাবধানে এ বেলা-ও বেলা সংবাদ সম্মেলন। গতকাল ছিল ঢাকায় আগত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম দল কানাডার ক্রিকেটারদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন। সঙ্করায়ন ছাড়া কানাডার ক্রিকেটের বিকাশ সম্ভব ছিল না। বহুজাতির মিলনে উত্তর আমেরিকার এই দেশটিকে জাতিসংঘ একাদশও বলা যায়। খেলোয়াড়দের চেহারা ও গায়ের রঙ দেখে অনেকে ভুল করে কানাডাকে উপমহাদেশের একটি দলও ভেবে নিতে পারেন। ভারত, পাকিসত্মান, শ্রীলঙ্কার বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে বেছে সেরা ১৫ জনকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বকাপের দল। এই দলে ভারত ও পাকিসত্মান 'এ' দলে খেলা ক্রিকেটার যেমন_ বালাজি রায় ও খুররম চৌহান আছেন। জীবিকার তাগিদে অভিবাসী হয়েছেন তারা। শচীন-দ্রাবিড়দের সঙ্গে ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতেন বালাজি। কিন্তু মায়ের ক্যান্সারের কারণে কানাডায় চলে যেতে বাধ্য হন। মা মারা গেছেন। কিন্তু তার আশীর্বাদ আছে মাথার ওপরে। তাই নিয়ে বিশ্বকাপে ভাল খেলে দেখাতে চান বালাজি। পেশা তার খেলাধুলা নয়। ইন্সু্যরেন্সে চাকরি করেন। কানাডা দলের সবার অবস্থাই এরকম। ধনী দেশের অবহেলিত ক্রিকেট বোর্ড গত ৬ মাস আগে শেষ পর্যনত্ম ৭ ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করে। যাদের মধ্যে একজন অধিনায়ক আশিষ বাগাই। লন্ডনে ব্যাংকারের চাকরি ছেড়ে এখন তিনি পুরোদস্তুর ক্রিকেটার। কানাডার হয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৩ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়া কানাডা অধিপতিকে বিশ্বের অন্যতম সুখী মানুষ বলা যায়। কারণটা শোনা যাক আশিষের মুখে, 'আনত্মর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম একদিনের ম্যাচ জয়, আবার বিশ্বকাপেরও প্রথম। ওই ম্যাচের প্রত্যেকটি মুহূর্ত মনে আছে।' বাংলাদেশের বিপরীতে এবারও মাঠে নামছে কানাডা। যদিও আসল ম্যাচ নয়, প্রস্তুতিমূলক। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগামীকাল এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
শহীদ আফ্রিদি, মিসবাহ-উল-হক, আব্দুল রাজ্জাক, আব্দুর রেহমান, আহমেদ শেহজাদ, আসাদ শফিক, কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, সাঈদ আজমল, শোয়েব আখতার, উমর আকমল, উমর গুল, জুনায়েদ খান, ওয়াহাব রিয়াজ ও ইউনুস খানের দল পাকিসত্মান আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ল্যান্ড করবে শাহজালাল আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দরে। বাংলাদেশ সফরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিসত্মান ১৫ ফেব্রম্নয়ারি মুখোমুখি হবে স্বাগতিকদের। উদ্বোধনী ম্যাচের ভেনু্য মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচ গড়াপেটা ইসু্যতে কিছুদিন আগে ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল পাকিসত্মান। ওখান থেকে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা নিউজিল্যান্ড সফরে। ছয় ম্যাচের একদিনের সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে। বরাবরের মতো এবারও তারা বিশ্বকাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার দল। দেখা যাক এবার তারা কি করে!
জার্সি টুপির দোকানে ছুটছে মানুষ, নব সাজে ঢাকা
দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানিরা তবু ফুরসত নেই
মামুন-অর-রশিদ ॥ খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই সব বয়সের দর্শকরাই ছুটছে নগরীর জার্সি-টুপির দোকানে। ক্রিকেট পোশাকে খেলা দেখার মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেই তারা ধুমছে বিভিন্ন দেশের জার্সি-টুপি কিনছে। সবচেয়ে পুরনো স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান 'ইন্টার স্পোর্টসের' বিভিন্ন শাখায় দোকানিদের ফুসরত নেই। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাত্র ৬ দিন (১৭ ফেব্রম্নয়ারি) আর খেলা শুরম্নর ৮ দিন (১৯ ফেব্রম্নয়ারি) আগেই ঢাকা সাজছে নবসাজে। দৈনিক বাংলা মোড়ে বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের (আগের দৈনিক বাংলা কার্যালয়) দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাথে বানানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেস্নাব। আর এই গেস্নাবের অর্ধেক পরিধিজুড়ে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দেশের পতাকাঅঙ্কিত ব্যাট। গেস্নাবে লেখা রয়েছে_ 'ওয়েলকাম টু আওয়ার ল্যান্ড।' বাহারি রঙের বর্ণাঢ্য ব্যবহার, শিল্পীর তুলির আচর আর প্রকৌশলীদের সৌন্দর্যবর্ধন কৌশল কার্যকরণে ঢাকা এখন ক্রমাগত নান্দনিক সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হচ্ছে। তিন দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের দশম আসরের অন্যতম স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ। স্বদেশের মাটিতেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রথম খেলা অনুষ্ঠিত হওয়া, মূল পর্বের আটটি খেলা এবং প্রস্তুতি পর্বের চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তাই খেলোয়াড়ি পোশাকে খেলার মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে খেলাগুলো উপভোগ করার প্রবল ইচ্ছাই ক্রিকেটানুরাগী দর্শকদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের নাম করা দোকানগুলোতে। সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে তারা রম্নচি ও মান অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জার্সি-টুপি সংগ্রহ করছে। দোকানিরা ভিড় সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। দোকানগুলোতে মানভেদে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদার ভিন্নতা এবং দামের তারতম্য রয়েছে। ঢাকার আকাশ এখনও ফাঁকা থাকলেও আর দু'-চার দিন বাদেই বিভিন্ন দেশের পতাকায় বর্ণিল হয়ে উঠবে আকাশ। ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় আগত পর্যটকদের কাছে দেশকে তুলে ধরতে ঢাকার সাজসজ্জায় সরকারী পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশের বাড়ির মালিকদের বাড়ির বাইরের দেয়ালে রং করাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরকারী পর্যায় থেকে। সরকারী পর্যায়ে ক্রীড়ামোদীদের জন্য নগরীর ১৫টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করতে রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ক্লেমন বিগব্যাট বিগ উইশ ক্যাম্পেন।'
রাজধানী ঢাকা শহরের শতাধিক আনত্মর্জাতিক মানসম্পন্ন দোকান থেকে দর্শকরা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি-টুপি সংগ্রহ করছে। স্বাগতিক বাংলাদেশে জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এরপরে চাহিদার ব্যাপকতা বিবেচনায় ক্রমানুসারে রয়েছে ভারত, পাকিসত্মান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ খেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক এলাকায় কয়েকটি দোকান, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ঝিগাতলা, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী ও বারিধারার কোথাও কোথাও স্পোর্টস মার্কেট কিংবা দোকানে চলছে বিভিন্ন বয়সী ক্রেতার ভিড়। দোকানিরা ভিড় সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক-দেড় শ' টাকার জার্সি এখন বিক্রি হচ্ছে সাত-আট শ' টাকা, চার-পাঁচ শ' টাকার জার্সি বিক্রি হচ্ছে ১৪/১৫ শ' টাকা আর এক-দেড় হাজার টাকা দামের জার্সি বিক্রি হচ্ছে দু'-আড়াই হাজার টাকায়। আর দেড়-দু'হাজার টাকা দামের জার্সি বিক্রি হচ্ছে তিন-চার হাজার টাকা। দোকানগুলোতে মানভেদে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদার ভিন্নতা এবং দামের তারতম্য রয়েছে। আবার বড় বড় স্পোর্টস মার্কেট কিংবা দোকান থেকে ক্রিকেটের পোশাক সামগ্রী পাড়া-মহলস্নার মুদি ও ডিপার্টমেন্টাল স্টলগুলো সংগ্রহ করে ঝুলিয়ে রেখেছে বিক্রির জন্য। সামান্য লাভে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছেই এসব বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ক্রিকেট নিয়ে আমাদের আবেগ সমুদ্র সমান' সেস্নস্নাগান ধারণ করে ৭১ ফুট লম্বা, ৪ ফুট প্রস্থ ও ৮ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন ব্যাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিৰার্থী স্বাৰর দিয়ে শুরম্ন করেছে 'ক্লেমন বিগব্যাট বিগ উইশ ক্যাম্পেন।' বিশ্বকাপ ক্রিকেট এক সময়ের রাজরাজাদের খেলা ছিল বলে একে বলা হতো 'কিংস গেম।' সে কারণে সাদা জার্সি দিয়েই তখন খেলা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে, সময়ের চাহিদা, মানসিক ভিন্নতা, রম্নচিবোধের পরিবর্তন, রঙের ব্যাপারে আকাঙ্ৰা-অনাকাঙ্ৰা, বিরোধিতা কিংবা দেশভেদে খেলোয়াড়ের ভিন্নতা নির্বিশেষে জাসির রং, ধরন পাল্টেছে। ঠিক দেড় দশক আগেও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়াও আজকের স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্নের অতিরিক্ত প্রাপ্তি হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজক আসরে শরিক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মাটিতে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরসহ মূল পর্বে আটটি খেলা এবং চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ ফেব্রম্নয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্ব হলেও খেলা শুরম্ন হবে ১৯ ফেব্রম্নয়ারি। ১৯ ফেব্রম্নয়ারি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আসর আয়োজনে দুই স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। স্বদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসরে নিজেকে জার্সি-টুপি পরে উপস্থিত রাখার মানসিকতাই বাংলাদেশের দর্শকদের করেছে স্পোর্টস সামগ্রীর দোকানমুখী। দিনব্যাপী ম্যাচ হওয়ার কারণে অনেকে ক্রিকেটমোদী না হলেও স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে ক'দিন বাদে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেট উৎসবে নিজেকে শামিল করতেই তাদের দোকানে ছোটা। ইতোমধ্যে কানাডার ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসে পেঁৗছেছে। আজ শুক্রবার ঢাকায় আসছে পাকিসত্মানের ক্রিকেট দল।
এমনিতেই বাঙালী উৎসবের জাতি। বার মাসে তাদের তেরো পার্বণ। তাছাড়া ফেব্রম্নয়ারি বাঙালীর বীরত্বগাথা ভাষা আন্দোলনের মাস, যা আজ আনত্মর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তৈরি করেছে। এই মাসে রক্তের সঙ্গে হেমোগেস্নাবিনের সম্পর্কের মতো মায়ের মুখের ভাষার অসত্মিত্ব রৰায় বাঙালীর বীর সনত্মানরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বের করা মিছিলের অগ্রভাগে থেকে অকুতোভয় সৈনিকের মতো। বাংলা একাডেমীর মাসব্যাপী বইমেলা, বিশ্বকাপ ক্রিকেট উৎসব, বসনত্ম সমীরণের সোহাগ তৈরি করেছে এক ভিন্ন আবহ। সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। সাজ-সাজ রব। আনুষ্ঠানিকতার উত্তাপে স্বানন্দ উত্তরণ। সোৎসাহে মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রানত্মরে, অফিস আদালত, বাড়ির বৈঠকখানা সর্বত্র এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট আলোচনা। প্রায় সব বাড়ির ছাদে শোভা পাবে দেশ-বিদেশের বর্ণাঢ্য পতাকা।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে লাগানো হচ্ছে ১৫ লাখ মরিচবাতি। আর এ জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার গাছ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার ফুটপাথ, রাসত্মাসহ এর আশপাশের সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে এসব জায়গার সৌন্দর্যবর্ধন করছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরের উদ্বোধন আগামী ১৯ ফেব্রম্নয়ারি ঢাকায় হবে। টুর্নামেন্টের আটটি খেলা হবে বাংলাদেশে। বিশ্বকাপের সময়ে আসা পর্যটকদের কাছে দেশকে তুলে ধরতে সরকারীভাবে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে নিয়োজিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও নগরীর বিউটিফিকেশন সেলের প্রধান বিপীন কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'আমরা মূলত এয়ারপোর্ট থেকে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল ও হোটেল শেরাটন এবং হোটেল থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম পর্যনত্ম মোট ২২ কিলোমিটার রাসত্মা ও এর আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করছি। এ ছাড়া মিন্টো রোড, বেইলি রোড, কচুক্ষেত থেকে মিরপুর-১০ এলাকারও সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। এসব এলাকার সড়কদ্বীপগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে, ফুট ওভারব্রিজগুলোতে পড়ছে রং। নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশের ফুটপাথে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছও। বাংলাদেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আটটি মূল খেলার যেখানে ছয়টি অনুষ্ঠিত হবে সেই মূল ভেনু্য মিরপুর এলাকায় ফুলের গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে বেশি গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে বলে ডিসিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে বিপীন কুমার বলেন, 'নির্দিষ্ট এলাকার রাসত্মার পাশের দেয়াল লিখন ও পোস্টার তুলে দেয়ালগুলো নতুন করে রং করা হচ্ছে। ল্যাম্পপোস্টগুলোও পোস্টারমুক্ত করা হচ্ছে। ল্যাম্পপোস্টগুলো সিলভার কালার করা হচ্ছে। সবগুলো লাইটপোস্টে সরবরাহ করা হচ্ছে বাতি। ১৫ ফেব্রম্নয়ারির মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।' সড়কের আশপাশের বাড়িগুলো রং করাতে বাড়ির মালিকদের বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ মাধ্যম বিপীন কুমারের কাছে নগরবাসী অনেকের অভিযোগ_তাড়াহুড়ো করে দায়সারাভাবে সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ হচ্ছে_এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তাড়াহুড়ো হচ্ছে, তা ঠিক। কিন্তু দায়সারাভাবে হচ্ছে এমন অভিযোগ ঠিক নয়।' আইসিসি বাংলাদেশে বিশ্বকাপের ভেনু্য দেয়ার বিষয়টি অনেক পরে নিশ্চিত করেছে। ভেনু্যর তালিকায় পাকিসত্মান বাতিল হওয়ার পর এ সিদ্ধানত্ম হয়েছে। এ কারণেই কিছুটা 'তাড়াহুড়ো' হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় রয়েছে এমন কয়েকটি সড়কে গত কয়েক দিনে গিয়ে ভাঙ্গা আইল্যান্ড, ভাঙ্গা ফুট ওভারব্রিজের ওপর রঙের প্রলেপ দিতে দেখা যায়। এই প্রসঙ্গে বিপীন বলেন, 'এমনটি হওয়ার কথা নয়। যদি হয়ে থাকে, তবে ১৫ তারিখের মধ্যেই আমরা চেক করে ঠিক করব।' বিশ্বকাপের মতো এত বড় আয়োজনে নগরবাসীরও সহায়তা চেয়েছেন তিনি। সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা বলেন, 'যে সব গাছ লাগানো হচ্ছে, এগুলো কেউ নষ্ট করবেন না। নিজেদের বাসস্থানের আশপাশের দেয়ালে পোস্টার লাগাবেন না। বজর্্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন এবং নগরী পরিচ্ছন্ন রাখবেন।' ক্রীড়ামোদীদের জন্য নগরীর ১৫টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও বিপীন কুমার জানান।
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের 'মেডিক্যাল পার্টনার' হিসেবে বিশেষজ্ঞ প্যানেল নিয়ে মাঠে নামছে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল (জেবিএফএইচ)। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সরদার এ নাইম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ম্যাচের দিনসহ বাংলাদেশে খেলতে আসা দলগুলোর জরম্নরী চিকিৎসার প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্সসহ এই বিশেষজ্ঞ প্যানেল সর্বক্ষণ প্রসত্মুত থাকবে। টেলিভিডিও ব্যবস্থার মাধ্যমেও জরম্নরী স্বাস্থ্যসেবা দেবে তারা। ধানম-িতে জেবিএফ হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ডা. জুনায়েদ শফিক, পরিচালক মাহবুবুল আলম বাবু ও ইউএনএইডসের উপদেস্টা ডা. মুনির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ ॥ ফতোয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ
দুই ময়নাতদন্ত রিপোর্টে অমিল খতিয়ে
দেখার আদেশ ॥ ফতোয়াবাজ
গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ফতোয়ার পর নির্যাতনের শিকার হেনা আক্তারের লাশের দুই ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনের অমিল (অসঙ্গতি) তদনত্মের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিবকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অসদাচরণ রয়েছে কি না, তাও ওই কমিটিকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়ছে। আদালত গঠিত কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নড়িয়া থানার ইন্সপেক্টর একে আজাদ ও সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম উদ্দিন দায়িত্বে অবহেলা করেছে কি-না, করলে ব্যবস্থা নিতে ১৫ দিনের মধ্যে আইজিপিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সালিশের বৈঠকে নেতৃত্বদানকারী ফতোয়াবাজ ইদ্রিস শেখকে (মেম্বার) আদালত তাৎৰণিক গ্রেফতারের আদেশ দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ফতোয়া একটি শাসত্মিযোগ্য অপরাধ এ বিষয়টি প্রচার চালাতে তথ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে এ নির্দেশ দেয়।
আদালত একই সঙ্গে ফতোয়ার ঘটনা আর যেন না ঘটে, তার ওপর নজর রাখতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে। হেনার বাবা ও পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা দেবার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত রায়ে আরও বলেছে, ফতোয়া দেয়াতে নিশ্চয় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। জীবন নষ্ট হচ্ছে। কোন অবস্থাতেই গ্রাম্য ফতোয়াকে গ্রহণ করা হবে না। যাতে বিচার বিভাগের গুরম্নত্ব নষ্ট হয়ে যায়। যে কোন ঘটনার বিচার করবে আদালত। ঢাকায় নতুন ময়নাতদনত্মে নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। দুই ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনের অমিল থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে উচ্চপর্যায়ের একটি তদনত্ম কমিটি করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের প্রতিনিধি এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে। হেনার প্রথম ময়নাতদনত্মকারী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র দাসসহ অন্য তিন চিকিৎসকের কোন গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদনত্ম কমিটি খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে ময়নাতদনত্মের ক্ষেত্রে যে কোন ভুল এড়াতে সুপারিশমালা তৈরি করতেও তদনত্ম কমিটিকে বলা হয়েছে।
পুলিশ বিভাগের প্রতিও বেশ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হেনার সুরতহাল প্রতিবেদন যিনি তৈরি করেছেন, সেই সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম এবং এজাহার নথিভুক্তকারী ইন্সপেক্টর মির্জা একে আজাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বলা হয়েছে। তাদের বিরম্নদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। দেশে ফতোয়ার কোন ঘটনা যেন আর না ঘটে, তার ওপর ব্যক্তিগত পর্যায়েও নজরদারি রাখতে আইজিপিকে বলা হয়েছে। হেনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা ফতোয়া দিয়েছে এবং দোররা মেরেছে, তাদের বিরম্নদ্ধে নতুন মামলা করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলার অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। হেনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা ফতোয়া দিয়েছে এবং দোররা মেরেছে, তাদের বিরম্নদ্ধে নতুন মামলা করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলার অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার হেনার বাবা দরবেশ খা, বোন মিনু বেগম, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন, ডা. নির্মল চন্দ্র দাশ, ডা. হোসনে আরা, ডা. রাজেশ মজুমদার, নড়িয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম উদ্দিন মোলস্না, ইন্সপেক্টর একে আজাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার, চামটা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইদ্রিস শেখ আদালতে বক্তব্য প্রদান করেন। জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে শুনানি শুরম্ন হয়। আদালত প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তার ও সিভিল সার্জনের বক্তব্য গ্রহণ করে। এরপর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইদ্রিস শেখ ও হেনার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় আদালত হেনার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, ডাক্তার ও ইদ্রিস শেখকে ভর্ৎসনা করে বলে, আপনারা সত্য কথা বলবেন। মিথ্যা কথা বললে কেউ পার পাবেন না। আদালত পুলিশ কর্মকতর্া ও ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কার চাপে, কার প্রভাবে মিথ্যা কথা বলছেন। সত্য কথা বলুন, তা না হলে আপনাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
আদালতে প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডা. নির্মল চন্দ্র বলেন, আমরা হেনার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাইনি। এ সময় আদালত তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন তা হলে ঢাকার রিপোর্ট কি মিথ্যা? তখন ডাক্তার নিশ্চুপ থাকেন। আদালত বলেন মিথ্যা কথা বলবেন না। সত্য কথা বলেন তা না হলে জেলখানায় যাবেন। ডাক্তার বলেন, হেনা সুস্থ হয়ে বাড়িতে যায়। বাড়িতে গিয়ে সে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার হিস্টিরিয়া ছিল। আদালত তখন তাকে প্রশ্ন করেন, ইনজুরি রিপোর্ট ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট দিয়েছেন। রোগীকে যখন পরীৰা করেন তখন কি তার কোন ইনজুরি ছিল? ডাক্তার জানান, তার কোন ইনজুরি ছিল না? আদালত পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসা করেন হেনাকে কে নিতে এসেছিল। আর ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে কিভাবে সে মারা গেল। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা কে কে ছিলেন। ঠিক করে বলেন নতুবা সবার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এমন সময় অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান বলেন শরীয়তপুর ডিসি অফিসে আইনশৃঙ্খলা সভায় বলা হয়েছে সাংবাদিকরা বাড়িয়ে রিপোর্ট করেছে। তখন আদালত সিভিল সার্জনকে ঘটনা সম্পর্কে বলতে বলেন। তিনি বলেন, না আমি এ ধরনের কিছু বলিনি। আদালত বলেন, তা হলে সাংবাদিক কি করে লিখলেন। কোন পত্রিকার সাংবাদিক লিখেছে, তার সঙ্গে কি আপনার (সিভিল সার্জন) শত্রম্নতা আছে। আপনারা যা বলছেন সব মিথ্যা। সাংবাদিকরাই সত্য কথা লিখেছে। তাঁদের (সাংবাদিক) কারণেই মূল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। আদালত আবার প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তারকে বলেন, ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে হেনা কিভাবে মারা গেল। আদালত পুনরায় বলেন, তা হলে কোন ময়নাতদনত্ম ঠিক। প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তার জানায় তাদের তদনত্ম ঠিক। আদালত পাল্টা প্রশ্ন করেন তা হলে ঢাকার তদনত্ম রিপোর্ট ভুল? তখন ডা. নির্মল চন্দ্র চুপ থাকেন। তিনি জানান, ঢাকায় উন্নত পদ্ধতি আছে। আদালত জানান, তা হলে এতদিন আপনারা যে রিপোর্ট করে আসছেন তা ভুল। ডাক্তার জানান_ না, এটা সঠিক নয়।
এরপর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকারী দারোগা আসলাম আদালতে রিপোর্ট পড়তে থাকেন। তিনি বলেন, হেনাকে উল্টোপাল্টে দেখা গেছে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। শুধু বাম চোখের পাশে একটু আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন আদালত তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন, আপনি সেখানে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে গেছেন। তা না করে তদনত্ম করেছেন। হেনার সঙ্গে মাহবুবের প্রেম আছে কি নাই তা লিখেছেন। আপনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা পড়েছেন। সেখানে কি উলেস্নখ আছে। এরপর আদালতে হেনার বাবা দরবেশ খাঁ জবানবন্দী দেন। তিনি বলেন, হেনাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, মেম্বার ইদ্রিস শেখের নির্দেশে হেনাকে দোররা মারা হয়। আবার হাসপাতাল থেকে আনার জন্য ইদ্রিস শেখ তার ওপর হামলা করে। হেনা মারা যাবার পর সাড়ে তিন লাখ টাকায় আপোস করার প্রসত্মাব দেয়। আদালতে ইদ্রিস শেখ এ অভিযোগগুলো বেমালুম অস্বীকার করেন।
উলেস্নখ্য, ৩১ জানুয়ারি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামে ধর্ষণের শিকার কিশোরী হেনা আক্তারকে (১৪) সামাজিক বিচারে ১শ' দোররা মারা হয়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই দিন রাতেই হাসপাতালে মারা যায়। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকল জাতীয় দৈনিকেই সংবাদটি প্রকাশ হয়। এ প্রক্ষিতে সুপ্রীমকোর্টের দুই আইনজীবী পৃথকভাবে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ ঘটনায় রম্নল জারি করে। এর মধ্যে হেনার ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট দেয়া হয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়, হেনার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পত্রিকায় রিপোর্ট আসার পর আদালত দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদনত্মের নির্দেশ দেয়। দোররার শিকার হয়ে মারা যাওয়া হেনা আক্তারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে পুনর্ময়নাতদনত্মে। তবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণে হেনার মৃতু্য ঘটেছে। এটি অপরাধজনক নরহত্যা। হেনার শরীরের আটটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ আঘাতের জায়গাগুলোতে জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অণুজৈবনিক পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেনার বুকের বাম পাশে নিচে-ওপরে, বুকের ডান পাশে ওপরে, তলপেটের পেছনে বামপাশে, তলপেটের পেছনে মেরম্নদ-ে ডানে ও মাঝখানে, বাম উরম্নর মধ্যে আর বুকের পাশে ডানদিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো এক ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি জায়গাজুড়ে রয়েছে। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, আগের প্রতিবেদনে কোন আঘাতের চিহ্নের কথা উলেস্নখ না থাকলেও নতুন প্রতিবেদনে হেনার শরীরে আটটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। নতুন ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদন দেখে আদালত বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত বলেছে, ইয়াসমিন হত্যার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছিল।
হেনার মৃতু্যর পর তার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে ১৮ জনকে আসামি করা হয়। সেখানে হেনার বাবা ধর্ষণের কথা বললেও এজাহারে তা উলেস্নখ নেই। এমনকি এজাহার পড়ে শোনানো হয়নি হেনার বাবাকে। হেনার সঙ্গে চাচাত ভাই মাহবুব হোসেনের সম্পর্কের ঘটনায় ঐ সালিশ বসে। মামলার প্রধান আসামি মাহবুবসহ পাঁচ জনকে এর আগে গ্রেফতার করা হয়। প্রথম ময়নাতদনত্মে হেনার দেহে কোন নির্যাতনের চিহ্ন না পাওয়ার কথা বলা হলে সোমবার আদালত নতুন করে ময়নাতদনত্মের নির্দেশ দেয়। দোররার শিকার হয়ে মারা যাওয়া কিশোরী হেনা আক্তারকে উত্ত্যক্ত করতেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহবুব। হেনার বাবা ও বোন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে এজাহারের বর্ণনা দেন। এজাহারে দেয়া অভিযোগ হেনার মৃতু্যর পর নড়িয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা দরবেশ খাঁ। প্রধান আসামি মাহবুবসহ ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক মাস আগে মাহবুব হেনাকে ফুসলিয়ে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২৩ জানুয়ারি রাতে মাহবুব ঢাকা থেকে এসে হেনাদের ঘরের বাথরম্নমের সামনে দাঁড়িয়ে হেনার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় মাহবুবের স্ত্রী শিল্পীসহ আরও কয়েকজন তাদের দেখতে পায়। তখন তারা হেনাকে মুখে কাপড় চেপে ধরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যায়। ২৩ জানুয়ারি হেনাকে বেধড়ক মারধর করে মাহবুবের স্ত্রী শিল্পী, হেনার চাচি মোরশেদাসহ আরও কয়েকজন। সেদিনই হেনা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় রবীন্দ্র ডাক্তার নামে একজনকে ডেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ২৪ জানুয়ারি সালিশে তাকে দোররা মারা হয়। ২৫ জানুয়ারি তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, হিস্টিরিয়ার সমস্যা নিয়ে হেনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে মূলত হিস্টিরিয়ার চিকিৎসাই দেয়া হয়েছে। তবে মারধরের ইতিহাস থাকার কারণে তাকে সেজন্যও চিকিৎসা দেয়া হয়।
হেনার বাবা দরবেশ খাঁ সাংবাদিকদের বলেন, একটি লম্বা গামছা পেঁচিয়ে গোল করে পাকিয়ে (ভেজা) তা দিয়ে মাহবুবকে ১৫/১৬টা দোররা মারে তার বাবা রবিউল খাঁ। আমার মেয়েকে মারে ১২/১৫টা। এরপর মুখে ফেনা তুলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে হেনা। দরবেশ খাঁ বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে হেনাকে উত্ত্যক্ত করার কারণে একবার সালিশে মাহবুবকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে মাহবুবেব বাবা রবিউল খাঁ তার কাছে ক্ষমা চাইলে সেই জরিমানা তিনি মাফ করে দেন। এর আগে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ায় মাহবুবকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানান রহিমা খাতুন নামে হেনাদের এক প্রতিবেশী। দরবেশ খাঁর চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে হেনা সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। কৃষক দরবেশ খাঁর নিজের জমি আছে মাত্র ২০ শতক। সারাবছর অন্যের জমিতেই কাজ করে টেনেটুনে সংসার চলে তার। শুনানিতে সরকার পৰে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেন।
চার পিএসআই কোম্পানি লুটে খাচ্ছে ১১ কোটির কাজ ৩৫০ কোটিতে!
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাও অকার্যকর ॥ রাজস্ব আয়ে ব্যাপক ক্ষতি
মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মাত্র ১১ কোটি টাকারও কাজ প্রতিবছর করানো হচ্ছে ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে। তাও আবার মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রায়। দেশের আমদানি বাণিজ্যে শুল্ক আহরণে সঠিকীকরণ ও পণ্যের খালাস কাজ দ্রম্নত ও নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ায় ৪টি পিএসআই (প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন) কোম্পানি লুটেপুটে খাচ্ছে মূল্যবান এ বৈদেশিক মুদ্রা। শুধু তাই নয়, নানা জালিয়াতির মাধ্যমে এসব পিএসআই কোম্পানি আরও শত শত কোটি টাকার নিশ্চিত রাজস্ব আয় সংহার করছে। বিষয়টি নিশ্চিতভাবে অনুধাবনের পর বর্তমান সরকার পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিএসআই ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগ নিয়ে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে ঝুলে রয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানানো হয়, সমগ্র বিশ্বের পণ্য মূল্যায়ন ও পরীক্ষণ কাজে শুল্ক কর্মকর্তাদের বিকল্প হিসেবে দেশে মোট ৪টি পিএসআই কোম্পানি কাজ করছে। তারা তাদের ফি বাবদ সরকারের কোষাগার থেকে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি গ্রহণ করছে। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণা, আন্ডার ভ্যালুয়েশন, ভুল এইচএস কোড এবং এক পণ্যকে আরেক পণ্যের শ্রেণী বিন্যাসকরণের মাধ্যমে আরও শত শত কোটি টাকার রাজস্ব আয়কে ব্যাহত করছে। দেশে বর্তমানে ৪টি পিএসআই কোম্পানি সিআরএফ (ক্লিন রিপোর্ট অন ফাইন্ডিংস) রিপোর্ট প্রদানে নিয়োজিত। মূলত এদের মাধ্যমে চারটি কাজ সম্পাদিত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ, মূল্য ও এইচএস কোড নির্ধারণ। স্বল্পোন্নত হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে পিএসআই ব্যবস্থা যেখানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেখানে বাংলাদেশে বছরের পর বছর বিভিন্ন পিএসআই কোম্পানি তাদের এক শতাংশ ফি হিসেবে বছরে গড়ে ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রায় পেয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, ৩৫০ কোটি টাকার এ কাজ মাত্র ১১ কোটি টাকার সম্পন্ন করা যায় নিশ্চিতভাবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী গত দুই অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে এ সংক্রানত্ম দিকনির্দেশনা প্রদান করলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কবলে পড়ে ঝুলে গেছে।
সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বর মাসের পর বাংলাদেশ থেকে পিএসআই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর বেশকিছু পণ্যকে পিএসআই থেকে বাদ দেয়াও হয়েছে। বর্তমানে এর আওতা আরও হ্রাস করার চিনত্মাভাবনা চলছে। গেল দুই অর্থবছরে অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণায় এ সংক্রানত্ম দিকনির্দেশনা আসার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এ নিয়ে প্রসত্মাবনা প্রেরণ করা হয়, যাতে বলা হয়েছে সমগ্র বিশ্বকে সুবিধাজনক দশটি আঞ্চলিক এলাকায় ভাগ করতে হবে। এসব এলাকা হচ্ছে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, নিউইয়র্ক, জাপান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব এলাকার বাংলাদেশী মিশন ও দূতাবাসগুলোতে ১০টি উইং সৃষ্টি করে তাতে শুল্ক কর্মকর্তাদের পদ সৃষ্টি করতে হবে। এতে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার ৪ এবং যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার ১০ জনকে পদায়ন করতে হবে। যারা পিএসআইর বিকল্প হিসেবে এ সংক্রানত্ম কার্যক্রম সম্পাদন করবে। এর বিপরীতে সরকারের ব্যয় হবে মাত্র ১১ কোটি টাকা। পিএসআই ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিদেশে বাংলাদেশী মিশন ও দূতাবাসগুলোতে শুল্ক বিভাগীয় জনবল নিয়োগের গুরম্নত্বও অর্থমন্ত্রী বিগত দু'বছরের বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন। ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী একটি সারসংক্ষেপে স্থলপথে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কলকাতায় শুল্ক কর্মকর্তাদের পদ সৃষ্টির বিষয়ে দ্রম্নত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া পিএসআই পরবতর্ী সময়ে বিদেশে কর্মকর্তাদের ইউনিট গঠন এবং প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির রূপরেখার অগ্রগতি জানানোর নির্দেশনা দেন, যা গত দুই অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের সারসংক্ষেপেও এসব পদ সৃষ্টির বিষয়ে তিনি অনুমোদন প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, সরকার যেখানে পিএসআই ফি বাবদ সরকারী অর্থ ব্যয় হ্রাস এবং বিকল্প হিসেবে শুল্ক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে সেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা ঝুলে থাকে কিভাবে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে ১০টি মিশন ও দূতাবাসে শুল্ক কর্মকর্তাদের পদ সৃষ্টির বিষয়টি জরম্নরী। কেননা, চলতি বছরের ডিসেম্বরের পর সরকারী সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী পিএসআই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে রাজস্ব আয় ও পণ্যের খালাস কাজ দ্রম্নত ও সহজকরণে শুল্ক কর্মকর্তাদের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে হবে। নচেত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে জটিলতা এবং পণ্যের খালাস কাজ বিলম্বিত হতে পারে। সূত্র জানায়, পিএসআই পদ্ধতি প্রত্যাহারের পর থেকে দশটি আঞ্চলিক এলাকায় এ জাতীয় পদ প্রতিষ্ঠিত হলে তা থেকে আমদানি পণ্যের মূল্যায়নে সংশিস্নষ্ট শুল্ক আদায় কেন্দ্রগুলোতে তথ্য সরবরাহ ছাড়াও চোরাচালান সম্পর্কিত তথ্যসহ বাংলাদেশে রফতানির পণ্যের প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন কাজ সম্পাদন করতে পারবে। পাশাপাশি সংশিস্নষ্ট রফতানির দেশগুলোর বিশ্ব বাণিজ্যের সর্বশেষ অবস্থান, নীতি ও ধারার তথ্য দেশে সরবরাহ করে দেশীয় পণ্যে ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে। এ ছাড়াও এসব কর্মকর্তা সংশিস্নষ্ট দেশ থেকে আধুনিকায়নের নো-হাউ ট্রান্সফার করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ দিতে সক্ষম হবে।
এদিকে, প্রতিবছর মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ ফি বাবদ গ্রহণ করার পাশাপাশি পিএসআই কোম্পানিগুলোর নানা অনিয়মের কারণে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব প্রতিনিয়ত হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এর পরিমাণ সুনির্দিষ্ট অঙ্কে বলা না গেলেও তা শত শত কোটি টাকা। পিএসআই কোম্পানিগুলোর মিথ্যা ঘোষণা, আন্ডারভ্যালু, এইচএস কোড ভুল দেয়া, এক পণ্যকে অন্য পণ্যে শ্রেণীবিন্যাস করার কারণে সরকার মোটা অঙ্কের নিশ্চিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাবাদী ও অতি মুনাফালোভী আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগসাজশে পিএসআই কোম্পানিগুলো এ জাতীয় কাজে লিপ্ত রয়েছে বহু আগে থেকে। আবার যেসব আমদানিকারক তাদের সঙ্গে দফারফা করে না তাদের নানাভাবে হয়রানিতে ফেলছে। এসব প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কাস্টমস হাউস বিভিন্ন পিএসআই কোম্পানিকে নানা অঙ্কের জরিমানাও করছে। আবার আমদানিকারকরা পিএসআই কোম্পানিগুলোর চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধানত্মের বিরম্নদ্ধে আদালতে যাচ্ছে। এ নিয়ে বর্তমানে পিএসআই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলার সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি বলে শুল্ক বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে। উলেস্নখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে যে চারটি পিএসআই কোম্পানি কাজ করছে সেগুলো হচ্ছে বু্যরো ভেরিটাস, এসজিএস, অমিক ও আইটিএস (ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিস)।
মিসর-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি, আন্দোলনে এবার ডাক্তার-আইনজীবী
ধর্মঘট চলছে ॥ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ কায়রোয় গুম বাড়ছে
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মোবারকবিরোধী আন্দোলনে নতুন করে গতিলাভ করায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর এখন দৃশ্যত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে। মিসরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমানের পর সর্বশেষ মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত জরম্নরী আইন তুলে নেয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম একটি বড় দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাঁর ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছে তা উচিত নয়। বিশেস্নষকরা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে মিসরের এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কার আরও গতিশীল করার মার্কিন দাবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকচ করে দেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
ওমর সুলেইমান ওবামা প্রশাসনকে সামরিক অভু্যত্থানের হুমকি দেয়ার পর মোবারক সরকারের আরেক গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এ মনত্মব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর এখন মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। দুদেশের মধ্যে এ ফাটল কয়েকদিন আগে শুরম্ন হলেও তা দিন দিন বাড়ছে। তবে এ ফাটল আর কতটা গভীর হবে তা নির্ভর করছে মোবারকের পদত্যাগের ঘোষণা কতটা বিলম্বিত হবে তার ওপর। এদিকে অবিলম্বে মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মোবারকবিরোধী আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মিসরের শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট অব্যাহত ছিল। বৃহত্তম কারখানার শ্রমিকরা তিন সপ্তাহব্যাপী চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে এবং বেতন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট করছে। আন্দোলনের ্#২৫৩৫;্#২৫৪১;তম দিনে বৃহস্পতিবার শত শত ডাক্তার হাসপাতাল ছেড়ে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় বেরিয়ে আসেন। তিন সহস্রাধিক আইনজীবীও একই দিন কায়রোর রাসত্মায় মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে। বাস চালক, হেলপার থেকে শুরম্ন করে পরিবহন শ্রমিকরাও মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় মিছিল করে। এসব আন্দোলন মোবারকের ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সেনাবাহিনীর বিরম্নদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে । ইতোমধ্যেই সাংবাদিকসহ বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত বলেন, তড়িঘড়ি করে কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আসা অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এক সাক্ষাতকারে গেইত বলেন, "মিসরের মতো এত বড় একটি বন্ধু দেশ যে কিনা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তাকে যখন আপনারা বলেন_ এখনই, এ মুহূর্তে, অবিলম্বে এটা বা সেটা করতে হবে তখন তা কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার মতোই মনে হয়। আপনারা তার ওপর আপনাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছেন।" যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মিসরে অবিলম্বে জরম্নরী অবস্থা তুলে নেয়ার আহ্বানেরও তীব্র সমালোচনা করে গেইত বলেন, এতে তিনি ্তুবিস্মিত্থ হয়েছেন। আন্দোলনের দু'সপ্তাহে কায়রোর দৃশ্যপট কতখানি বদলে গেছে আর দেশটির ভবিষ্যতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কতটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেকথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে মিসরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত। মিসরের আন্দোলন জোরদার হতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বার বারই কায়রোয় সরকারকে আরও বেশি কিছু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' নেয়ার জন্য মিসর সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, সরকার এমন কোন 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' গ্রহণ করেনি_ যাতে করে জনগণ আশ্বসত্ম হতে পারে। আর এ দুঃখবোধ থেকেই বাইরে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গিবস আরও বলেন, মিসরে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থাগুলোর কর্মকান্ড পর্যালোচনা করবে মার্কিন সরকার।
২১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সরকারের ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই আসছে দু'টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ার ছাড়ার সময় ঠিক করে দেয়া হয়। সম্পত্তি পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। লোকসান থাকায় ও ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকায় নতুন দু'টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসছে না।
বৃস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বৈঠকে এসব সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চলতি মাসেই মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির আরও শেয়ার বাজারে আসবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, ডেসকো ও শিপিং কর্পোরেশনের লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার আনার সময় বেঁধে দেয়া হয়। এছাড়া হোটেল শেরাটনের ২৫ শতাংশ শেয়ার ওই সময় আসবে।
টেশিস ও সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে এপ্রিলের মধ্যে আসার নির্দেশ দেয়া হয় এবং ৩০ মে'র মধ্যে রূপানত্মরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (সিএনজি), ৩০ জুনের মধ্যে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ও চিটাগং ড্রাইডক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (১০ শতাংশ), বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (সোনারগাঁও হোটেল ৩০ শতাংশ) ও প্রগতিকে আসতে হবে।
বাখরাবাদ গ্যাস ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এবং টেলিটক, বিটিসিএল সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং কর্ণফুলী পেপার মিলকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে শেয়ার ছাড়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেয়ারের পরিবর্তে বন্ড ছাড়বে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতু যৌথভাবে আগামী জুন বা জুলাই মাসে বাজারে শেয়ার ছাড়বে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস টিএ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেডের সম্পদ মূল্যায়নে জটিলতা রয়েছে। এজন্য এসব কোম্পানিকে তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। সম্পত্তি সঠিক মূল্যায়নের জন্য এক মাস সময়ে দেয়া হয়েছে ওই তিনটি কোম্পানিকে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বেস্নড কোম্পানি ও জিইএম কোম্পানি লিমিটেড বাজারে আসছে না। তিনি আরও বলেন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়নের জন্য এসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। সম্পদ মূল্যায়নের পর কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান নেয়া হবে।
সরকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত দুই বছরে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা পাওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় তা উপেক্ষা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর ২৬ প্রতিষ্ঠানকে ডিসেম্বর পর্যনত্ম সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যেও শেয়ার বাজরে আসতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানগুলো।
এবার সময় বেঁধে দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো না আসতে পারলে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগ করতে হবে। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হওয়ার ব্যাপারে ফের অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বাজার স্থিতিশীল হবে। শেয়ারবাজারের বিষয়ে যারা রাসত্মায় নেমে ভাংচুর করছে তারা রাভিস। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক চক্র এসব ভাংচুর করছে।
কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে করছে তাদের চিহ্নিত করা গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইডেন্টি ফাই করা যায়নি। তা করতে গেলে গোয়েন্দা সহায়তা নিতে হবে।
শেয়ারবাজার নিয়ে আপনি এক কথা বলছেন, ভিন্ন কথা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান। এতে বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এটি কেন হচ্ছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় কমিটির কাজ সুপারিশ করা, সিন্ধানত্ম নেবে সরকার।
বাজার বাজারের গতিতে চলবে। অনেক পদৰেপ নেয়ায় বাজার পরিবর্তন হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন এ সময় সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসার সঠিক সময় এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাইট টাইম এখন আসার।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই০-ইলাহী চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদের, বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানসহ সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ভারত পাকিস্তান টিম ও অতিথিদের প্রতি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
পরামর্শ গোয়েন্দা সংস্থার
শংকর কুমার দে ॥ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা উপলৰে ভারত ও পাকিসত্মানের ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড়রা স্বাগতিক বাংলাদেশে অবস্থান ও খেলার সময়ে নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ভারত ও পাকিসত্মানের টিমের খেলোয়াড়রা যাতে কোন ধরনের জঙ্গী বা সন্ত্রাসী হামলার হুমকির সম্মুখীন না হয় সে জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গ্রম্নপ দ্বারা নিজেদের দেশ দু'টি মাঝে মধ্যেই আক্রানত্ম হচ্ছে। দুনিয়াব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই দু'টি টিমকে ঘিরে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার উদ্ভব ঘটতে না পারে সেজন্যই আগাম সতর্ক করে দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলৰে স্বাগতিক বাংলাদেশ নিরাপত্তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্বাগতিক বাংলাদেশে আগামী ১৫ ফেব্রম্নয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিসত্মানের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ ফেব্রম্নয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ। এই দু'টি খেলার সময়ে খেলোয়াড়দের মাঠে আনা-নেয়ার সময় এবং খেলার সময় স্টেডিয়ামজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ভারত ও পাকিসত্মানের ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড়রা যে হোটেলে অবস্থান করবেন সেই হোটেলেও নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
ভারত ও পাকিসত্মানের ক্রিকেট খেলার সময় সেই দেশ দু'টির অতিথিদের অবস্থান, খেলা দেখা ও ঘোরাফেরা করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ক'টি ইউনিটের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। হযরত শাহ্জালাল বিমানবন্দর, খেলার মাঠ ও হোটেলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা শেষ না হওয়া পর্যনত্ম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা উপলৰে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প, বিদেশী খেলোয়াড় ও অতিথিরা যেসব হোটেলে অবস্থান করবেন সেখানে কন্ট্রোলরম্নম স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা নিরাপত্তা ও হোটেলসহ ক্রিকেট খেলার সঙ্গে জড়িত আছেন তাঁদের কারোর সঙ্গে জঙ্গী বা সন্ত্রাসী গ্রম্নপের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা পরীৰা করে দেখার জন্য সবার জীবনবৃত্তানত্ম যাচাই করে দেখা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, স্বাগতিক বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসরে ভারত ও পাকিসত্মানের খেলোয়াড় ও অতিথিদের ব্যাপারে বাড়তি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ দেশ দু'টি নিজেদের দেশেই জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গ্রম্নপ দ্বারা মাঝেমধ্যেই আক্রানত্ম হচ্ছে। স্বাগতিক বাংলাদেশে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটতে পারে সেই জন্য আগাম সতর্কতা অবলম্বন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
স্পীকার কার্যালয়ের সামনে বিএনপি এমপিদের অবস্থান কর্মসূচী পালন
সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। জোর করে স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করার সময় সংসদে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। এদিকে বেতন-ভাতা, গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণসহ সব কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়েও সংসদে না এসে অবস্থান কর্মসূচীর নামে সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে সরকারী দলের প্রধান হুইপ উপাধ্যৰ আবদুশ শহীদ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের এ আচরণ সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
কর্মসূচী পালন শেষে ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের পৰ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী দলের সংসদে ফেরার ইচ্ছে থাকলেও সরকার নানাভাবে তা বাধাগ্রসত্ম করছে। এবারও যখন বিএনপি সংসদে ফেরার চিনত্মা করেছে, তখনই সরকার আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর বিরম্নদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিরোধী দলকে সংসদে ফিরতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। তার পরও জনগণের স্বার্থে বিরোধী দল সংসদে যাবে। সংসদ ভবনের বাইরে প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে বিএনপি-জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্যরা মিছিল করে সরকারবিরোধী নানা সেস্নস্নাগানও দেয়।
অন্যদিকে অধিবেশন শুরম্নর পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির এই অবস্থান কর্মসূচী সম্পর্কে সরকারদলীয় চীফ হুইপ উপাধ্যৰ আবদুশ শহীদ অভিযোগ করেছেন, সংসদে না এসে স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে জোর করে অবস্থান কর্মসূচী পালনের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সচিবালয়ের সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে অশোভন আচরণ করেছে তা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট প্রমাণ করেছে তারা গণতান্ত্রিক শাসন, পরিবেশ ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চায় না। তাদের এ আচরণ গণতন্ত্রের বিপৰে, অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করবে।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিএনপির নেতৃতা্বধীন চারদলীয় জোটের সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যনত্ম জাতীয় সংসদের স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করেন। বিরোধী দল আহূত গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি হরতালের সময় ও এর আগের দিন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাকমর্ীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে, দলীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার সুযোগ প্রদানসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে এই কর্মসূচী পালন করা হয়। এ নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নকের নেতৃত্ব বিএনপি-জামায়াতের সংসদ সদস্যরা স্পীকারের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে সার্জেট এ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। তারা এ সময় এ কর্মসূচী পালনে স্পীকারের অনুমতি আছে কিনা তা দেখতে চান। তিনি সবাইকে 'স্যার' সম্বোধন করে চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা ৰিপ্ত হয়ে নানা মনত্মব্য ছুড়লে এ সময় দু'পৰের মধ্যে মৃদু কথা কাটাকাটি হয়। ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সেখানে বক্তৃতা করেন। পরে তাদের পৰ থেকে স্পীকার বরাবর লেখা একটি স্মারকলিপি স্পীকারের পিএস আব্দুল হাইয়ের কাছে হসত্মানত্মর করা হয়। কর্মসূচী পালন শেষে সংসদ সদস্যরা সেস্নস্নাগান দিতে দিতে মিডিয়া সেন্টারে গিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। তারা বলেন, গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি হরতালের সময় ও এর আগের দিন বিরোধীদলীয় সাংসদ, নেতাকমর্ীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরম্ন হলে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চীফ হুইপ উপাধ্যৰ আব্দুশ শহীদ ওই কর্মসূচীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্পীকারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের নামে বিরোধী দলের ২০/২২ সংসদ সদস্য যা করেছে তা কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসসহ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের এই আচরণের কথা কোনভাবেই বলা সম্ভব না। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ অধিবেশনে আসছেন না। তবে কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সরকারী বেতন-ভাতা, বিদেশ ভ্রমণসহ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। ট্যাঙ্ ফ্রি গাড়িও আমদানি করেছেন। অথচ সংসদে যোগদানের পরিবেশ নেই বলে বাইরের দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলনের নামে হরতাল ডাকছেন, পুলিশ হত্যা করছেন।
বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান হুইপ আরও বলেন, কোন বিষয়ে বক্তব্য থাকলে সংসদে এসে বলুন, জনগণের ভোটের মূল্যায়ন করম্নন। নিজেরাই এমন ফাঁদ তৈরি করবেন যাতে সংসদ সদস্য পদ রৰায় আপনারা সংসদে আসতে বাধ্য হন।
বিএনপির ব্রিফিং অবস্থান কর্মসূচী শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নক অভিযোগ করেন, যখনই বিএপি সংসদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, চিনত্মা করে; তখনই সরকার তাদের বাইরে রাখতে চায়। সরকার আনত্মরিক হলে ও সংসদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা সংসদে ফিরব।
বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী সরকার আনত্মরিক পরিবেশ না করলে দলটির সদস্যরা পদত্যাগ করবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়টি দলীয় সিদ্ধানত্ম নিতে হবে।' তবে দলীয় সংসদ সদস্যের সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে 'আইনগত বিষয়টি' তাদের মাথায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিরোধী দলের চীফ হুইপ বলেন, আমরা অনেক মুলতবি প্রসত্মাব দিয়েছি একটিও গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের মুলতবি প্রসত্মাব গ্রহণ করা হলে সংসদে যাওয়ার কথা ভাবব। হরতালের সময় রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমপিদের ওপর হামলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচী চলাকালে বিরোধী দলের ৮ জন সদস্য সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন বিরোধী দলের চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নক, বরকত উলস্নাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, সৈয়দ আফিয়া আশরাফি পাপিয়া, জেডআইএম মোসত্মাফা আলী মুকুল ও জামায়াতের এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। হরতালের সময় পুলিশের হামলা-নির্যাতন, খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে মামলা, শেয়ারবাজার লুট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তারা।
গ্রীষ্মে বিদ্যুতের ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট
সংসদে প্রতিমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার ॥ আগামী বছরের শেষদিকে বিদু্যতের উৎপাদন চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশে বিদু্যতের ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট। আর ২০১৩ সালের মধ্যে দেশ বিদু্যত ঘাটতি ও লোডশেডিংমুক্ত হবে। এছাড়া দেশে দিনে গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে ৫শ' মিলিয়ন ঘনফুট।
বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় বেসরকারী সদস্য দিবসের প্রশ্নোত্তরপর্বে বিদু্যত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক সংসদে এ তথ্য জানান। সরকারী দলের শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষ পর্যনত্ম সরকারী খাতে ৮৫১, বেসরকারী খাতে রেন্টাল ১০৫ এবং কুইক রেন্টালে এক হাজার ২৩৮ মেগাওয়াটসহ দুই হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট ৰমতার বিদু্যত উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি ফেব্রম্নয়ারি মাসে সর্বোচ্চ বিদু্যত চাহিদা পাঁচ হাজার ৬শ' মেগাওয়াটের বিপরীতে গ্যাস সঙ্কটের কারণে গড় বিদু্যত উৎপাদন তিন হাজার ৮শ' থেকে চার হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে ঘাটতি কিছুটা কম। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির প্রেৰিতে ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট।
মেহের আফরোজ চুমকির প্রশ্নের জবাবে বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের বিদু্যত সঙ্কট নিরসন ও ঘরে ঘরে বিদু্যত সুবিধা পেঁৗছে দেয়ার লৰ্যকে সামনে রেখে এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। আগামী ২০২০-২০২১ সালের মধ্যে সরকার প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট ৰমতার বিদু্যত উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কাজী কেরামত আলীর প্রশ্নে তিনি বলেন, আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলোতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যনত্ম অধিক বিদু্যত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যে কোন সেচপাম্পে যখন বিদু্যত দেয়া হবে তা যেন কমপৰে একটানা দুই ঘণ্টা চালু থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া একটি সেচ এলাকা সপ্তাহে একদিন লোডশেডিংমুক্ত রাখা হবে।
মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যনত্ম দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসৰেত্র হচ্ছে ২৩টি। এসব গ্যাসৰেত্রের সম্ভাব্য ও প্রমাণিত উত্তোলনযোগ্য মোট মজুদ ২২ দশমিক ৩৪ টিসিএফ। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যনত্ম ক্রমপুঞ্জিত মোট ৯ দশমিক ৯৭ টিএসএফ গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। অবশিষ্ট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হচ্ছে ১২ দশমিক ৪৭ টিসিএফ।
তিনি আরও জানান, দিনে ৫শ' মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানির লৰ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাতারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাৰর করেছে। এছাড়া বর্তমানে দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা হচ্ছে আড়াই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। আর উৎপাদনের পরিমাণ হচ্ছে দিনে দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।
মোছাম্মৎ ফরিদা আখতারের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩ হাজার ৮৮৬ মেগাওয়াট ৰমতার তাপভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্র আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে স্থাপনের লৰ্যে কার্যক্রম চলছে। এর জন্য ব্যয় হবে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
সোহেল রহমান ॥ কানাডায় পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনী পলাতক নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্বিপাৰিক সমঝোতার মাধ্যমে খুনী নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। পাশাপাশি কানাডার সঙ্গে সঙ্গে একটি বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাৰরেরও চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য কানাডা সফরের আগেই নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব আইনগত জটিলতার অবসান চায় সরকার। এ লৰ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি শনিবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই কানাডায় পালিয়ে রয়েছেন। অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তার পাসপোর্ট বাতিল করে অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দেয় সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী। এর আগে নূর চৌধুরী কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যান করে দেশটির সরকার।
বর্তমানে তার পাসপোর্ট বাংলাদেশ মিশনের জিম্মায় রয়েছে। নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে সে সময় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও কানাডা সফর করেন। তবে তার আগেই ধূর্ত নূর চৌধুরী তার স্থায়ী বসবাসের আবেদন খারিজের বিরম্নদ্ধে শেষবারের মতো আপীল করেন। তার আপীলটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এই আপীলটি খারিজ হলেই নূর চৌধুরীকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বুকে সরাসরি গুলি বর্ষণকারী এই ঘাতকদের যে কোন মূল্যে দেশে ফেরত এনে মৃতু্যদ- কার্যকর করতে চায় সরকার। তাকে ফেরত আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদৰেপ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে এর আগে কানাডা সরকার তাকে ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিলেও আইনী বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে কথা বললেও দেশটি জানিয়েছে, আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যনত্ম কিছুই করণীয় নেই। তবে মৃতু্যদ-প্রাপ্ত এক খুনীকে কানাডা কোনভাবেই আশ্রয় দেবে না। মৃতু্যদ-ের বিরোধী দেশ থাকায় নূর চৌধুরীর ফাঁসির দ- কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া যায় কিনা সে বিষয় বিবেচনার জন্য কানাডা সরকারের পৰ থেকে বিকল্প একটি প্রসত্মাবও দেয়া হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু বিষয়টি কোনভাবেই বিবেচনায় আনা সম্ভব নয় বলে কানাডার প্রসত্মাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ।
ধূর্ত ঘাতক নূর চৌধুরী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাৰ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে ধানম-ির ৩২ নম্বরের বাড়িতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মেজর নূর চৌধুরী এবং মেজর ডালিম সরাসরি স্টেনগান দিয়ে গুলি করে। এই দুই ঘাতকের গুলিতেই বঙ্গবন্ধু শহীদ হন। তাই দুই ঘাতককে যে কোন মূল্যে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃতু্যদ- কার্যকরে বদ্ধপরিকর সরকার। জানা গেছে, '৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যনত্ম অন্য ঘাতকদের মতো দেশে অবস্থান করেন নূর চৌধুরী। তবে ১৯৭৫-এর ৩ নবেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর দিন অন্য ঘাতকদের মতো খুনী নূর চৌধুরীও বিশেষ বিমানে ঢাকা থেকে রেঙ্গুন হয়ে ব্যাঙ্কক চলে যান। সেখান থেকে পাকিসত্মান সরকারের দেয়া বিশেষ বিমানে তারা লিবিয়ায় চলে যান। ১৯৭৬ সালের ৮ জুন নূর চৌধুরীসহ ১২ খুনীকে বিদেশে বাংলাদেশী বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়। ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ পান নূর চৌধুরী। এরপর তিনি ব্রাজিলে চার্জ্য দ্য এ্যাফেয়ার্স হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকের গোড়ার দিকে এরশাদ সরকারের শাসনামলে নূর চৌধুরী আলজিরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর হিসাবে নিয়োগ পান। এরপর বেশ কয়েক বছর তিনি জার্মানিতে অবস্থান করেন। পরে স্থায়ী বসবাসের আশায় শরণাথর্ী হিসাবে স্বীকৃতি পেতে কানাডা সরকারের কাছে আবেদন করে। জানা গেছে, ভিজিটর ভিসা নিয়ে ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি কানাডায় যায় নূর চৌধুরী। তবে কানাডায় নূর চৌধুরীর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনত্মত পাঁচটি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৯৯৯ সালে প্রথম তার আবেদনের ওপর শুনানি হয় এবং প্রাথমিক শুনানিতেই তার আবেদন বাতিল হয়। এরপর ২০০২ সালে আরেক দফা শুনানিতেও তার আবেদন গ্রহণ হয়নি। পরে ২০০৪, ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে তার তিনটি আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের এপ্রিলে ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি আপীল বোর্ড বাংলাদেশের হত্যা মামলার মৃতু্যদ-ে দ-িত হওয়ার কারণে তার আপীল নাকচ করে দেয়।
পলাতক অন্য খুনীদের অবস্থান পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আনত্মর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমেও চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, পলাতক খুনীদের মধ্যে আবদুর রশিদ লিবিয়ায়, শরিফুল হক ডালিম পাকিসত্মানে অবস্থান করছেন। অন্যরা দ্রম্নত অবস্থান পাল্টাচ্ছেন। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র, আব্দুল মাজেদ ও মোসেলেমউদ্দিন ভারতে অবস্থান করছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শরিফুল হক ডালিম পাকিসত্মান ছাড়াও হংকংয়ে বসবাস করেন। এই খুনী বর্তমানে পাকিসত্মানের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সে পাকিসত্মানে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলছে। ভারতের পলাতক খুনী আব্দুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। গত মাসে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক চলাকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিলস্নাই দুই খুনীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। খুনী রশিদ লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও পাকিসত্মান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রশিদ পাকিসত্মানে অবস্থান করে বলে খবর রয়েছে। এমনকি ঘৃণীত এই খুনী সে সময় গোপনে বাংলাদেশে আসে বলেও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন লিবিয়ায় অবস্থান করায় রশিদ সেখানকার মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ব্যবসায় জড়িত হয়। সিসিলি দ্বীপের মাফিয়া ডনদের আসত্মানায়ও তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতা গ্রহণের পর দেশ থেকে পালিয়ে যায় এই খুনী। একই বছরের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি কলঙ্কিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিলস্নার একটি আসন থেকে তাকে বিজয়ী করে সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত করে বিএনপি। খুনীদের একজন আজিজ পাশা ২০০১ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুইয়েতে মারা যায়।
নিপাহ ভাইরাস আপাতত নিয়ন্ত্রণে ॥ স্বাস্থ্য ডিজি
এ পর্যন্ত মৃত ১৮
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানালেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উলস্নাহ। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারী হিসাবে, হাতীবান্ধায় ৩১ জানুয়ারি নিপাহ ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রানত্ম হয়ে মৃতু্যর প্রথম ঘটনার পর শনিবার পর্যনত্ম মোট ২৪ জন এ রোগে আক্রানত্ম হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭ জন। তবে স্থানীয়দের হিসাবে, এই সময়ে মৃতু্যর সংখ্যা আরও বেশি। নিপাহ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। এ ভাইরাসে আক্রানত্ম হলে প্রথমে প্রচ- জ্বর, মাথাব্যথা, খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এক পর্যায়ে রোগী প্রলাপ বকতে শুরম্ন করে এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ রোগে আক্রানত্মদের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বৃহস্পতিবার মাহফুজা আক্তার মামনি নামে ১০ বছরের এক শিশুর মৃতু্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উলস্নাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সঙ্কট চলছিল তা এই মুহূর্তে কেটে গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নতুন করে আর কোন আক্রানত্মের খবর পাওয়া যায়নি। রংপুর জেলায় বুধবার নতুন করে একজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রানত্ম হয়েছে জানিয়ে তিনি এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আইইডিসিআর সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শুরম্নতেই হাতীবান্ধায় এ জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এতে কয়েকজনের মৃতু্যর পর জ্বর তদনত্ম্তে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক দল গবেষক আক্রানত্ম এলাকায় কাজ শুরম্ন করে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় 'জ্বরে' এগারোজনের মৃতু্যর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এ রোগের জন্য নিপাহ ভাইরাস দায়ী কি না তা খতিয়ে দেখতে শুরম্ন করেন। অবশেষে তাঁরা নিশ্চিত হন যে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জ্বরের কারণ নিপাহ ভাইরাস। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, নিপাহ ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা শুধু গণমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। স্থানীয় পর্যায়ে এর সচেতনতা বাড়াতে হবে। আইইডিসিআরের হিসাবে, হাতীবান্ধায় ৩১ জানুয়ারি নিপাহ ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রানত্ম হয়ে মৃতু্যর প্রথম ঘটনার পর শনিবার পর্যনত্ম মোট ২৪ জন এ রোগে আক্রানত্ম হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৭ জন।
এদিকে প্রতিবছরই কিছু লোক নিপাহ ভাইরাসে আক্রানত্ম হলেও চিকিৎসকরা খেজুরের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দেয়া ছাড়া এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর কিছু করতে পারেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। শীতের সময় খেজুর গাছে বাঁধা রসের হাঁড়িতে বাদুড় মুখ দেয় বলে বাংলাদেশে এভাবেই রোগটি মানুষে ছড়ায় বলে চিকিৎসকদের ধারণা। এ রোগে আক্রানত্মদের মসত্মিষ্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রানত্ম হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই সময়টাতেই খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যায়। আর সেই বাদুড় নিপাহ ভাইরাসে আক্রানত্ম হয়ে থাকলে এবং সেই রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রানত্ম মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ। জ্বরে আক্রানত্ম হওয়ার পর রোগীরা এক পর্যায়ে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মৃতু্য হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুলস্নাহ বলেন, বলতে গেলে রোগটি পুরোপুরি ছোঁয়াচে। এ জ্বরে আক্রানত্মকে জরম্নরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিভাইরাস ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। প্রয়োজনে রোগীকে আইসিইউতে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীর লালা, কফ-কাশি এমনকি কাপড়-চোপড়ের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কাঁচা খেজুরের রস এবং বাদুড় খাওয়া ফলমূলের অংশবিশেষ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নিজস্ব সংবাদদাতা দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে জানান, উপজেলার বেলাইচ-ী ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের আরিফউদ্দিনের শিশুকন্যা মাহফুজা আক্তার মামনি (১০) নিপাহ ভাইরাসে আক্রানত্ম হয়ে বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। বিকেলে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মনসুর আলী সরকার, উপজেলা হেলথ কমপেস্নঙ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইফনুস আলী, ডা. আমির ডা. জিয়াসহ একদল স্বাস্থ্য মাঠকর্মী হাজীপাড়া গ্রামে বিকেলে যান। সেখানে তারা সাংবাদিকদের জানান, যেহেতু এখানে নিপাহ ভাইরাস পরীক্ষার কোন যন্ত্রপাতি ও সুযোগ নেই, তাই কেস হিস্ট্রি ও রোগের লক্ষণ পর্যালোচনা করে এই শিশুর নিপাহ ভাইরাসে মৃতু্য হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ।
সূত্রমতে, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে জয়পুরহাট খালার বাড়ি যায় ১৫ দিন আগে। বাড়ি ফিরে আসে ২৯ জানুয়ারি। খালার বাড়িতে খেজুরের রসের পায়েশ ও খেজুরের রস খায়। বাড়িতে এসেও সেখান থেকে নিয়ে আসা পায়েস খায়। এ কয়েক দিন সুস্থ থাকার পর ৫ ফেব্রম্নয়ারি সঙ্গে বমি ও মাথাব্যথাসহ জ্বরে আক্রানত্ম হয়। এ অবস্থায় ৫,৬,৭ ফেব্রম্নয়ারি স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে। ৮ ফেব্রম্নয়ারি শ্বাসকষ্ট অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন তাকে বিকেলে সৈয়দপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পর্যনত্ম থাকার পর তাকে ৯ ফেব্রম্নয়ারি বুধবার সকালে পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর লক্ষণ খারাপ দেখে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত্রিযাপন করে বৃহস্পতিবার ১১টা ৪৫ মিনিটে রোগীর মৃতু্য হয়।
বিদেশী ক্রিকেটার ও দর্শকদের চিকিৎসার প্রস্তুতি সম্পন্ন
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বিদেশী ক্রিকেট খেলোয়াড় ও দর্শকদের চিকিৎসাসেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকারী হাসপাতালগুলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নানা দিকনির্দেশনামূলক চিঠির প্রেৰিতে দেশের প্রতিটি সরকারী হাসপাতাল কর্তৃপৰ এ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। খেলার ভেনু্যস্থল ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ পর্যটন অঞ্চলসমূহের হাসপাতালগুলোকে বেশি মাত্রায় সজাগ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে এ উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে বিশেষ চিকিৎসক দল। সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা বিশেষ করে প্রতিটি হাসপাতালে বিদেশীদের জন্য কমপৰে ৫টি কেবিন সব সময় খালি রাখার কথা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে গুরম্নত্ব পেয়েছে।
আগামী ১৭ ফেব্রম্নয়ারি উদ্বোধন হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। তিনটি আয়োজক দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। দেশের সর্বত্র এখন বিশ্বকাপের আমেজ। মোট ৮টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। বিদেশী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি শত শত বিদেশী ক্রিকেট দর্শকের আগমন ঘটবে। আবাসন- খাবার, নিরাপত্তা সুবিধা ও সাজসজ্জার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার বিষয়টিও গুরম্নত্ব সহকারে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকল্পে ইতোমধ্যে সরকারী হাসপাতালগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আর সেই অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশিস্নষ্ট হাসপাতালগুলো। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উলস্নাহ বুধবার জনকণ্ঠকে জানান, বিদেশী ক্রিকেট খেলোয়াড় ও দর্শকদের তাৎৰণিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে অনেক আগেই দেশের প্রতিটি সরকারী হাসপাতালকে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসক টিম সর্বৰণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর প্রতিটি হাসপাতালে কমপৰে ৫টি কেবিন খালি রাখার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা পাওয়ার প্রেৰিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকারী হাসপাতালগুলো। দেশের সব হাসপাতালের জন্য চিঠি দেয়া হলেও খেলার ভেনু্যস্থল ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ পর্যটন অঞ্চলসমূহের হাসপাতালগুলোকে বেশি মাত্রায় সজাগ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেক ক্রিকেট দর্শক আসবেন যারা খেলা দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখে যেতে পারেন। বিদেশীদের জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। নানা প্রস্তুতির কথা জানালেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বুধবার জনকণ্ঠকে জানান, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে বিদেশী খেলোয়াড়দের চিকিৎসাসেবা দেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সব বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই মেডিক্যাল টিমটি ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। সব সময়ের জন্য দু'টি কেবিন খালি রাখা হবে বিদেশীদের চিকিৎসাসেবায় আনত্মর্জাতিক মান অৰুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ আবুল হাশেম খান। তিনি বুধবার জনকণ্ঠকে জানান, বিদেশী ক্রিকেট খেলোয়াড় ও দর্শকদের তাৎৰণিক চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত আছি আমরা। কেবিন, ওষুধপত্র, এ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরম্ন করে সব ধরনের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে সজাগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপৰ। বড় ধরনের প্রস্তুতির কথা জানালেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল হক মলিস্নক। তিনি বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠকে জানান, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গঠন করা হয়েছে পৃথক একটি শক্তিশালী মেডিক্যাল বোর্ড। এ বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন সার্জারি, মেডিসিন, নিউরো সার্জারি, অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি ও ফিজিক্যাল বিভাগের প্রধানরা। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন আরএস জেনারেল, আরএসআরপি এবং আরএস গাইনি। সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে আরএস ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ। আপাতত ৪৭ ও ৪৮ নং কেবিন বরাদ্দ করা রাখা হয়েছে। অবস্থা দেখে আরও কেবিন খালি রাখা হবে। নার্স প্রধানকে সব সময় ১০ জন নার্স প্রস্তুত রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আরএস ক্যাজুয়ালিটির কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ হসত্মানত্মর করা হয়েছে। সকল কর্মচারীর উপস্থিতি ও ড্রেস পরিধান নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ড মাস্টারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বস্নাড সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি বেশ সনত্মোষজনক বলে মনে করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল হক মলিস্নক।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজও বাঙালী জাতির জীবনে প্রবহমান। এই চেতনাকে বছরের পর বছর ধরে মানুষের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কবি-সাহিত্যিকগণ। আর এই কাজে কবি-সাহিত্যিকদের উৎসাহ প্রদান করেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের বইয়ের প্রতি আগ্রহ এমনটিই প্রমাণ করে। বিষয়টি চোখে পড়ে একুশে বইমেলার মাঠে গেলে। সব বয়সের মানুষ প্রতিদিন ছুটে যান মেলা আঙ্গিনায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে দেখেন ইতিহাস-ঐতিহ্য সংবলিত বইগুলো। আন্দোলন সংগ্রামের ফেব্রম্নয়ারি এখন শুধু বেদনার মাস আর বাংলা একাডেমী ও আমতলায় সীমাবদ্ধ নেই। এটা ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশানত্মরে, গ্রাম থেকে গ্রামে। পাড়ামহলস্নায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মাসটি পালন করে বাঙালীরা। এই মহান মাসের ঘটনাবলী বাঙালীদের নিয়ে যায় মা ও মাটির ভালবাসার গভীর থেকে আরও গভীরে। আজকে মেলার ১১তম দিন। মেলার প্রথম দিন থেকে মূল মঞ্চে আলোচনা হচ্ছে কবিগুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদান নিয়ে। বিশ্বকবির অবদান নির্দিষ্ট সময়ে আলোচনা করে শেষ করা দুঃসাধ্য বিষয়। তাই একুশে বইমেলার মূল মঞ্চে আজও আলোচনর মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির নানা কর্মকা- তুলে ধরবেন বিশিষ্টজনরা। তাদের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অনেক অজানা ঘটনা ও তাঁর অবদান গুণীজনরা তুলে ধরবেন রবীন্দ্রভক্তদের সামনে। আজকে আলোচনার বিষয় হচ্ছে 'দেখা দিক আবার প্রজন্মের প্রথম শুভৰণ।' আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ তুলে ধরবেন বেগম আকতার কামাল। আলোচনা করবেন নাসির আহমেদ, অনু হোসেন এবং তারেক রাজা।
চরিত্রের প্রয়োজনে
চরিত্রের প্রয়োজনে কত কিছুই না করতে হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। বলিউড তারকা বিদ্যাবালানের ৰেত্রে তা একটু বেশিই সত্যি। অনেকে ছবির চরিত্রকে হাল্কাভাবে নিলেও বিদ্যাবালানের ৰেত্রে তা একেবারেই ভিন্ন। তিনি চরিত্রের ভেতর এমনভাবে ঢুকে যান তা অনেক তারকার বেলায় ভাবাই যায় না। খুব সহসাই বাজারে আসবে বিদ্যাবালান অভিনীত 'কহনাই' ছবি। সঞ্জয় ঘোষের এ ছবিতে বিদ্যাবালানকে দেখা যাবে ছ'মাসের অনত্মঃসত্ত্বা এক নারীর ভূমিাকায়। আর এতেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আসল ধূমপায়ীদের। ডাক্তারীমতে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ এবং অনত্মঃসত্ত্বা মহিলার বেলায় তা আরও খারাপ। আর এ বাসত্মবতাকে মনেপ্রাণে মেনে নিয়ে বিদ্যার দাবি, আমার সামনে ধূমপান করা যাবে না। সহ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনেকে বিদ্যার এ দাবিতে ৰুব্ধ হলেও পরিচালক কিনত্মু বিষয়টিকে সেভাবে নেয়নি। পরিচালকের বক্তব্য হচ্ছে, বিদ্যা আসলে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেছেন। শুধু ক্যামেরার সামনেই নন বিদ্যাকে সব সময়ই একজন গর্ভবতী মহিলার মতোই আচরণ করতে দেখা গেছে। বিদ্যাবালান সর্বদাই কঠোর পরিশ্রমী এবং সব সময় তিনি চরিত্রের ভেতর ডুবে যেতে পছন্দ করেন। _ওয়েবসাইট।
সংসদে ফিরে যাবার পথ খুঁজছে বিএনপি
নইলে সদস্যপদ থাকবে না ॥ মান রক্ষায় ডাকের অপেক্ষা-
শরিফুল ইসলাম ॥ সংসদে যাওয়ার পথ খুঁজছে বিএনপি। সদস্যপদ রৰা করতে আর বাইরে থাকা সম্ভব নয় বিধায় নবম জাতীয় সংসদের চলতি ৮ম অধিবেশনে বিএনপিকে যেতেই হবে। কিভাবে নিজেদের মানমর্যাদা রৰা করে সংসদে যাওয়া যায় সে পথই খুঁজজে তারা। আর এ লৰ্যেই প্রথমে তারা ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে তা পূরণ করা হলে সংসদে যোগদানের কথা বলে। অবশ্য পরে তা ভুলে গিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে সংসদে যাওয়ার কথা বলে এবং সর্বশেষ স্পীকার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও স্মারকলিপি পেশ করে সরকারী দলের সঙ্গে সমঝোতার কৌশল গ্রহণ করে। এতেও কাজ না হলে জনরোষ থেকে রৰা পেতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে বিএনপি সংসদে ফিরে যাবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, সদস্যপদ রৰা করার ব্যাপারে বিএনপি দলীয় অধিকাংশ সদস্যই এখন উদগ্রীব। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংসদে যোগ দিয়ে তাঁরা নিরাপদ থাকতে চান। লাল পাসপোর্টের ব্যবহার, সরকারী অর্থে বিদেশ ভ্রমণ ও জাতীয় সংসদ থেকে মোটা অঙ্কের বেতন-ভাতাসহ বিরাজমান সুযোগ-সুবিধা হাতছাড়া করতে চান না তাঁরা। তাই নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ এখনও ৩ বছর বাকি থাকাতে কোন অবস্থাতেই তাঁরা সদস্য পদ হারাতে চান না।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগদানের ব্যাপারে বিএনপি প্রস্তুত থাকলেও তার আগে সরকারী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় তারা। এ কারণেই তারা সরকারী দল বা স্পীকারের ডাকের অপেৰায় রয়েছে। সংসদে যোগদানের ব্যাপারে এর আগেই বিএনপি যে ১২ দফা পেশ করেছে তার অনত্মত দু'একটিও যদি বিবেচনায় আনা হয় তাহলে তারা খুশি মনেই সংসদে যোগ দেবে। আর তা না হলেও তারা এ অধিবেশনেই সংসদে যোগ দিয়ে সদস্যপদ নিশ্চিত করে আবার হৈচৈ বাধিয়ে বাইরে চলে আসবে।
উলেস্নখ্য, সংসদে যোগদানের ব্যাপারে বিএনপির দেয়া ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাঁর বাড়িতে সংসদের কর্মসূচী পেঁৗছানো, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ইসু্যতে দেয়া মুলতবি প্রসত্মাব গ্রহণ করে আলোচনার ব্যবস্থা করা, বিএনপির নেতাকর্মীদের রিমান্ডের নামে পুলিশী নির্যাতন বন্ধ করা, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার, বিএনপিকে সামনের সারিতে দেয়া আসন সমস্যার সমাধান, বিডিআর বিদ্রোহের বিচার করা, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার ব্যবন্থা করা, কারাগারে বন্দী দলীয় নেতাদের মুক্তি, সীমানত্ম বিরোধ নিরসন, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর প্যারোল বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করা।
সূত্র মতে, স্পীকার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও স্মারকলিপি পেশের নামে প্রকৃতপৰে সংসদে যোগদানের ৰেত্র তৈরি করছে বিএনপি। এর পর সরকারী দল কিংবা স্পীকারের পৰ থেকে দলীয় সংসদ সদস্যদের ডাকা হলে তাঁরা সে ডাকে সাড়া দিয়ে একটি সমঝোতায় পেঁৗছার চেষ্টা করবেন। অবশ্য এর আগে বিএনপি কারাবন্দী দলীয় নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে সংসদে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দী থাকায় বিএনপির এ আগ্রহে সাড়া দেয়নি সরকারী দল কিংবা জাতীয় সংসদের স্পীকার।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ এ যাবত ১৮২ কার্যদিবস চলেছে। এর মধ্যে বিএনপি সংসদে উপস্থিত ছিল মাত্র ৪৬ কার্যদিবস। গত বছর ২ জুন সর্বশেষ সংসদে যোগ দিয়েছিল বিএনপি ও চারদলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত ও বিজেপি। এর পর থেকে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের একটানা গড় অনুপস্থিতি ৫৬ কার্যদিবস। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটানা অনুপস্থিতি ৬০ কার্যদিবস। সংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় একটানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে জাতীয় সংসদে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। তাই আর মাত্র ৩০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ৩৪ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে দলীয় অন্য ৩৪ জনের সদস্য পদ বাতিল হবে। আর গত ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার সদস্য পদ বাতিল হবে আরও ৮৩ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে। কারণ তিনি শপথই নিয়েছেন চলতি ৮ম অধিবেশন চলাকালে গত ১ ফেব্রম্নয়ারি। তাঁর শপথ গ্রহণের পর মাত্র ৭ কার্যদিবস সংসদ চলেছে।
নবম জাতীয় সংসদের চলতি ৮ম অধিবেশন চলবে ৪৪ কার্যদিবস। তবে ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরম্ন হয়ে এ যাবত এ অধিবেশন চলেছে ৮ কার্যদিবস। বাকি আছে ৩৬ কার্যদিবস। কাজেই সদস্যপদ রৰা করতে হলে এই অধিবেশনে বিএনপিকে যোগ দিতেই হবে। তাই বিএনপি সংসদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও যোগ দিয়ে যাতে সরকারী দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়তে না হয় সেজন্যই তারা এর আগে একটি সমঝোতায় আসতে চাচ্ছে। আর এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চীফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারম্নক সরকারী দলের চীফ হুইপ উপাধ্যৰ আবদুস শহীদ ও স্পীকার আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রৰা করে চলছেন বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উলেস্নখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরম্নর দিনেই চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াত ও বিজেপিকে নিয়ে সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় কার্যদিবস থেকে সামনের সারিতে আসন বাড়ানোর দাবিতে সংসদ বর্জন শুরম্ন করে। ১৭ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকার পর ২৩ ফেব্রম্নয়ারি আবার তারা সংসদে ফিরে আসে। ৩৯ কার্যদিবস চলার পর নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয় ৭ এপ্রিল। ৪ জুন থেকে শুরম্ন হয় নবম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। ২৫ কার্যদিবস চলার পর ৯ জুলাই এই অধিবেশন শেষ হয়। কিন্তু বিএনপি তাতে যোগ দেয়নি। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তৃতীয় অধিবেশন শুরম্ন হয়ে ৫ নবেম্বর শেষ হয় ২২ কার্যদিবস চলার পর। তাতেও যোগ দেয়নি বিএনপি।
২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে শুরম্ন হয় নবম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। ৫ এপ্রিল পর্যনত্ম ৩৯ কার্যদিবস চলে এই অধিবেশন। দীর্ঘ ১০ মাস পর এই অধিবেশনের মধ্যভাগে যোগ দেয় বিএনপি। আর ৫ম অধিবেশন শুরম্ন হয় গত বছর ২ জুন থেকে। তবে ২ জুন সংসদে যোগ দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিট পর আবার সংসদ বর্জন শুরম্ন করে বিএনপি। ৩৩ কার্যদিবস চলার পর ২২ জুলাই এ অধিবেশন শেষ হয়। কিন্তু এ অধিবেশনে আর সংসদে ফিরে যায়নি তারা। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরম্ন হয় ৬ষ্ঠ অধিবেশন যা চলে ৬ অক্টোবর পর্যনত্ম ১১ কার্যদিবস। এ অধিবেশনেও যোগ দেয়নি বিএনপি। গত বছর ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরম্ন হয়ে ৯ ডিসেম্বর পর্যনত্ম ৫ কার্যদিবস চলে ৭ম অধিবেশন তাতেও যোগ দেয়নি বিএনপি। আর গত ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরম্ন হয়ে নবম জাতীয় সংসদের চলতি ৮ম অধিবেশন গতকাল পর্যনত্ম ৮ কার্যদিবস চলেছে। কিন্তু বিএনপি তাতে এখনও যোগ দেয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, সংসদে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছে না সরকার। তাই আমরা সংসদে যাচ্ছি না। তবে পরিবেশ নিশ্চিত করলে আমরা অবশ্যই সংসদে যাব। তাই সরকার পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে আমরা অপেৰায় রইলাম।
বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপিকে সংসদে ফিরিয়ে নিতে হলে সরকারকেও পদৰেপ নিতে হবে। সরকার ইচ্ছে করলে আলাপআলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে বিএনপিকে সংসদে ফিরিয়ে নিতে পারে। আর তা করলে গণতস্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। দেশের জন্যও মঙ্গলজনক হবে।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারম্নক বলেন, আমরা সবসময়ই সংসদে যাওয়ার পৰে। কিন্তু আমরা যেতে চেয়েও সংসদে যেতে পারছি না। আমরা যে দাবিগুলো দিয়েছি সেগুলোর ব্যাপারে কোন কর্নপাতই করছে না সরকারী দল। তাই সরকারী দল বা স্পীকার আমাদের সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কি করে আমরা তা দেখতে চাচ্ছি।