মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
দিনবদলের কঠিন সংগ্রামে ॥ দু'বছর পেরিয়ে
০ কৃষি শিক্ষা কূটনীতি অর্থনীতিতে এসেছে সাফল্য
০ বিদ্যুত পায়নি কাঙ্কিত গতি
০ সরকারের ওপর দেশের মানুষের আস্থা এখনও অটুট
উত্তম চক্রবর্তী ॥ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দু'বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। পাঁচ বছর মেয়াদের তৃতীয় বর্ষে পা রাখছে এ সরকার। ২০০৯-এর ৬ জানুয়ারি যে সরকার দিন বদলের অঙ্গীকারের পানসিতে চড়ে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবনিকাশের খেরো খাতা খুলে বসেছেন রাজনৈতিক বিশেস্নষক, সুশীল সমাজসহ দেশের মানুষ। আর সেই খেরো খাতায় উঠে এসেছে মহাজোট সরকারের দু'বছরে মানুষের আশাভঙ্গ ঘটেনি, তবে আত্মতুষ্টিরও সুযোগ নেই।
বিশেস্নষকদের মতে, সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবনিকাশ করলে ২৪ মাসের এ সরকারের পালস্না সফলতায় ভারি, তবে ব্যর্থতার পাল্লা কম হলেও গুরুত্বহীন নয়। মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। তবে তা দুসত্মর নয়। সামগ্রিকভাবে সরকারের ওপর দেশের মানুষের আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। সর্বোপরি দুই বছরের মাথায় মানুষ হিসাব মেলাতে চাইবে, সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পেরেছে বা করেনি। তাদের আশাবাদ, আগামী এক বছরেই পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।
মহাজোট সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র তিন বছর। এর মধ্যে শেষ বছরটি নির্বাচনী ডামাডোলে চলে যাবে। সে ৰেত্রে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে সরকারকে সর্বাগ্রে জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। যার প্রস্তুতি শুরু করার সময় এখনই। তবে দু'বছর পূর্তিকালে রাজনৈতিক বিশেস্নষক, সমাজচিন্তক বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনেকটা এক বাক্যেই স্বীকার করেছেন, ১৯৯৬ বা ২০০১-এর শেখ হাসিনা এবং ২০০৮-এর শেখ হাসিনার মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এখনকার শেখ হাসিনা অনেক বেশি সাহসী, দ্রম্নত সিদ্ধানত্ম নিতে পারেন এবং নেতা হিসাবে ঝুঁকি নিতে অভ্যসত্ম হয়েছেন।
তাঁদের মতে, এ দেশে সাধ ও সাধ্যে, চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা সহজ নয়। দিন বদলের কঠিন অঙ্গীকার দিয়ে মহাজোট সরকার ৰমতায় এসে গত দুই বছরে এ সত্য মর্মে মর্মে অনুধাবন করতে পেরেছে যে, পথ কুসুমাসত্মীর্ণ নয়, কণ্টকাকীর্ণ। অগি্নপরীৰার মধ্য দিয়ে যে সরকারের যাত্রা শুরম্ন, দু'বছর পূর্তিতে সে সরকারকেও যথানিয়মে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। দু'বছর পূর্তিতে দেশের মানুষ এখন সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব শুরম্ন করেছে। তাই দু'বছর পূর্তিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "মধুচন্দ্রিমার দিন শেষ হয়েছে। এখন জনগণ কাজের ফল দেখতে চাইবে।"
বিশেস্নষকরা বলছেন, দু'বছরের সরকার জোর গলায় বেশকিছু সাফল্যের কথা বলতেই পারে। যেমন- কৃষি, শিৰা, কূটনীতি ও অর্থনীতি। মাত্র দু'বছরেই কৃষি ও শিৰাৰেত্রে রীতিমতো বিপস্নব ঘটিয়েছে মহাজোট সরকার। স্বাধীনতার ৩৯ বছরের মাথায় সর্বজনীন শিৰানীতি প্রণয়ন, প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যনত্ম শিৰাথর্ীদের মাঝে বছরের শুরম্নতেই বিনামূল্যে বই বিতরণ, প্রাথমিক ও জুনিয়র সমাপনী পরীৰার প্রবর্তন, দীর্ঘদিন পর শিল্পনীতি প্রণয়ন, সন্ত্রাস-ধমর্ীয় জঙ্গীবাদ দমন, আনত্মর্জাতিক পরিম-লে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং কৃষিতে রীতিমতো বিপস্নবের সূচনা সরকারের বড় দাগের সাফল্যের হিসাবেই দেখছেন তাঁরা।
মাত্র ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি ভতর্ুকি প্রদান, বিনাসুদে সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকের কৃষিঋণ প্রদান, তিন দফা সারের দাম কমানো, সেচপাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যত প্রদান, সার-বীজ-ডিজেলসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের বাধা উপেৰা করে শুধু নন-ইউরিয়া সারের জন্য ৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকার ভতর্ুকি, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ২৫ শতাংশ ভতর্ুকিসহ কৃষক কল্যাণে সরকারের নানা পদৰেপ কৃষি উৎপাদনে বিপস্নবের সূচনা নিঃশর্ত প্রশংসা অর্জন করেছে। এসব সাফল্যে জাতিকে আশান্বিত করেছে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ৰমতায় গেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার রায় কার্যকর এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা। মহাজোট সরকার দু'বছরের সূচনাপর্বেই সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। কিছুটা দেরিতে হলেও ৰমতার দু'বছরের মাঝামাঝি অবস্থায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপর্ব শুরম্ন করেছে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা, অনত্মত মূল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বর্তমান সরকারের আমলেই শেষ হবে।
সমাজচিনত্মকদের মতে, শেখ হাসিনার সরকার গত দু'বছরে দেশের মানুষকে খুব একটা হতাশ করেননি। জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে সফলতা এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আরও উন্নতি হওয়ার দাবি রাখে। কৃষি উৎপাদনে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। গত দু'বছরে বর্তমান সরকারের বড় সফলতা ছিল বিডিআর বিদ্রোহ এবং আইলার মতো দুর্যোগের চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করা। বিদু্যত উৎপাদনে বিগত জোট সরকারের আমলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী গ্রীষ্মকালেই তা সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আশপাশের দেশগুলো কাবু হয়ে গেলেও বাংলাদেশ তা থেকে অনেকটা রৰা পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপরে ধরে রাখতে সৰম হয়েছে। অভ্যনত্মরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, পুঁজিবাজারে গতির আবেগ ছিল বিগত দু'বছরেই।
এছাড়া মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট লৰ্য অর্জনে বাংলাদেশের সফলতা ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে সফলতা দেখাতে পেরেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকার এখন আগের চাইতে আরও বেশি সচেতন হয়েছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পুরো পাঁচ বছরেই যেখানে ছিল দুনর্ীতিই নিয়মক, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি; সেখানে বর্তমান মহাজোট সরকারের দু'বছরে মন্ত্রীদের বিরম্নদ্ধে বড়মাপের কোন দুনর্ীতির অভিযোগ এখনও শোনা যায়নি। মহাজোট সরকার মাত্র দু'বছরেই আনত্মর্জাতিক পরিম-লে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী বা দুনর্ীতিগ্রসত্ম দেশের কালো তালিকা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। এলডিসির অবিসংবাদী নেতা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে এবং বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বিশেস্নষকদের মতে, মহাজোট সরকারের দু'বছর কার্যপরিচালনায় সফলতার পালস্না ভারি হলেও ব্যর্থতার পালস্নাও খুব একটা কম নয়। তাঁরা বর্তমান মহাজোট সরকারের দু'বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার ৰেত্রে সর্বাগ্রে চিহ্নিত করেছে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম শক্ত হাতে টেনে ধরতে না পারা। সরকারের দু'বছর মেয়াদ শেষে এ দ্রব্যমূল্য নিয়েই দুশ্চিনত্মায় সরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে গত দু'বছরে নেয়া হয়েছে অনেক উদ্যোগ; হয়েছে বাজার ও দাম নিয়ন্ত্রণের পরীৰা-নিরীৰা। কখনও বেঁধে দেয়া হয়েছে নির্ধারিত পণ্যের দাম। আবার কখনও নেয়া হয়েছে বাজার পর্যবেৰণের সিদ্ধানত্ম। কিন্তু দু'বছর পর বাজার পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে এসবের কিছুই কাজে আসেনি। নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বাজারের অসাধু সিন্ডিকেটকে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিই সরকারের সাফল্যগুলোকে মস্নান করে দিচ্ছে। দ্রম্নত এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকারের বিশাল জনসমর্থন ধরে রাখাই কঠিন হবে বলে মনত্মব্য বিশেস্নষকদের।
তাঁদের মতে, মহাজোট সরকারের আরেকটি বড় ব্যর্থতা হচ্ছে দেশব্যাপী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী কিছু দুবর্ৃত্তের বেপরোয়া দুবর্ৃত্তপনা। দুটি বছর ধরেই এদের কারণে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। সরকারের অনেক সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেস্নষকদের মতে, আগামী দিনে আওয়ামী লীগ বা মহাজোটকে যদি কোন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তা হবে এদের কারণেই। এছাড়া মন্ত্রিসভা, সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমৰে প্রকাশের অঙ্গীকার থাকলেও গত দু'বছরে সে প্রতিশ্রম্নতি পালিত হয়নি।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ৰমতায় গেলে বিচারবহিভর্ূত হত্যাকা- বন্ধ করা। কিন্তু তা হয়নি। বরং বিচারবহিভর্ূত হত্যাকা- বা ক্রসফায়ার নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার কঠোর সমালোচনা সরকারকে হজম করতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিদিন হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা ডাকাতির ঘটনার কমতি নেই। রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনের ব্যর্থতার অভিযোগও সরকারের দিকে। যানজট নিরসনে উড়াল সেতু, এলিভেটেড এঙ্প্রেস ওয়ে ও পাতাল রেল ইত্যাদি নির্মাণের নানা প্রতিশ্রম্নতি দেয়া হলেও একমাত্র সায়েদাবাদ-গুলিসত্মান ফ্লাইওভার নির্মাণ ছাড়া বাকি কাজগুলোর কোনকিছুই হয়নি।
এছাড়া ঢিলেতালে চলছে জ্বালানি খাত। নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রাধান্য পেলেও সরকারের দুই বছরে এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় গতি পায়নি। সরকার কিছু মৌলিক সিদ্ধানত্ম ও পদৰেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি খাতের কার্যক্রম চলছে আগের মতোই ঢিমেতালে। ফলে জ্বালানির সঙ্কটে বিদু্যত-সার-শিল্প উৎপাদন দারম্নণভাবে ব্যাহত হচ্ছে; উন্নয়নের গতিধারাকে স্থবির করে দিচ্ছে। মানবসম্পদ রফতানির হারও তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে, মহাজোট সরকারের দুই বছর পার হলেও গতি আসেনি জনপ্রশাসনে। রূপকল্প-২০২১ বাসত্মবায়নে প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত ও দৰ করে তোলার যে প্রতিশ্রম্নতি সরকার দিয়েছিল, তা পুরোপুরি বাসত্মবায়িত হয়নি। তাঁদের মতে, শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীই দেশ পরিচালনা করেন না। সমষ্টির প্রয়াসে সৃষ্ট ঐক্যতানই সরকারের সাফল্যের চাবিকাঠি। সরকার পরিচালনায় দিন বদলের বিশাল অঙ্গীকার প্রতিপালনে যে গতিশীল প্রশাসন প্রয়োজন, গত দু'বছরে সে প্রশাসন প্রত্যৰ করা যায়নি। মাঠ থেকে শুরম্ন করে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ৰেত্রেই সরকারের অনেক সিদ্ধানত্ম থমকে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অদৰতা ও গতিহীনতা প্রসঙ্গে অসনত্মোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া সরকারের দু'বছর পূর্তিতে অনেক মন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। অনেকের মতে, মন্ত্রিসভায় নবীনের প্রাচুর্য, বেশকিছু প্রবীণও রয়েছেন। তাঁদের সততা নিয়ে এখনও তেমন গুরম্নতর প্রশ্ন না উঠলেও সরকার পরিচালনায় সততাই প্রথম ও শেষ কথা নয়। কিছু মন্ত্রীর অতিকথন, কাজের চেয়ে 'অন্য কাজে' মনযোগী হওয়া এবং দৰভাবে নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন পরিচালনা না করার অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদু্যত ও জ্বালানি সমস্যার অগ্রগতি, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাসত্মবায়ন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে কার্যকর অগ্রগতি, রাজধানীর যানজট নিরসন, সংসদ কার্যকর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুনর্ীতি দমনে সদিচ্ছার প্রমাণ_ বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেৰকরা। বাকি তিন বছরে বর্তমান সরকারকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই জনসমর্থন ধরে রাখতে হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
হতাশার প্রতীক সংসদ ॥ মহাজোট সরকারের মতো চলতি নবম জাতীয় সংসদেরও দুই বছর পূর্তি হচ্ছে। বিশেস্নষকদের মতে, সরকারের দুই বছরে হতাশার মূর্ত প্রতীক জাতীয় সংসদ। অতীতের মতোই নির্বাচনী ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন বিরোধী দল। বিএনপির নির্বাচনী ওয়াদা ছিল ইসু্যভিত্তিক ওয়াকআউট ছাড়া কোন দল বা জোট অধিবেশন বর্জন করতে পারবে না। ৩০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্যপদ থাকবে না। কিন্তু নির্বাচন শেষ, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারও অাঁসত্মাকুড়ে। বিএনপি সংসদে যাচ্ছেন, কমিটির কাজে অংশ নিচ্ছেন, বিদেশে যাচ্ছেন, বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগসুবিধা নিচ্ছেন, শুধু অংশ নিচ্ছেন না অধিবেশনে। প্রধানমন্ত্রী, স্পীকারের বার বার আহ্বানেও নিস্পৃহ বিএনপি। গত টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংসদে যাচ্ছে না বিএনপি। সরকারপৰেও বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আনার ৰেত্রে জোরালো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে দু'বছরে নিয়ম বেঁধে সংসদ বসলেও বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কারণে পুরোপুরি তা কার্যকর হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তাঁরা।
রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন শূন্যের
কোঠায় মহাজোট সরকারের দু'বছরের হিসাবনিকাশের পাশাপাশি এ দু'বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর সফলতা-ব্যর্থতারও হিসাবনিকাশ শুরম্ন করেছে দেশের মানুষ। রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এক-এগারো থেকে কোন শিৰাই নেয়নি। রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন আশা করেছিল দেশের মানুষ, তার কিছুই হয়নি।
বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশেস্নষক থেকে শুরম্ন করে দেশের সাধারণ মানুষ পর্যনত্ম মনে করছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে জরম্নরী। এজন্য সরকারী দলকে সহনশীল ও বিরোধী দলকে সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে। সংসদকে কার্যকর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের দুই শীর্ষ নেত্রীকে মুখ দেখাদেখি বন্ধের অবস্থান থেকে সরে এসে দেশের যে কোন বড় ইসু্যতে এক টেবিলে বসতে হবে। তবেই গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা নিরঙ্কুশ হবে। নইলে আবারও জনগণের ভাগ্যবিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী।
বিশেস্নষকদের মতে, ৰমতাসীন সরকার গত দু'বছরেও আওয়ামী লীগকে আলাদা সত্তায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং সরকারের মধ্যেই যেন ঢুকে পড়েছে ৰমতাসীন দলটি। প্রানত্ম থেকে কেন্দ্র পর্যনত্ম দলের নেতাকমর্ীদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণই যেন হারিয়ে ফেলেছে দলটি। দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতার সাইডলাইনে বসিয়ে রেখে অপেৰাকৃত নবীনদের হাতে সাংগঠনিক ভার তুলে দিয়ে চমক দেখানো হলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি। গত দু'বছরে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে পারেনি সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। আর সে কারণে দুটি বছর ধরেই দলের একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী দুবৃর্ত্তদের দুবর্ৃত্তপনা সরকারকে মাঝেমধ্যেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়নি দলটির তৃণমূল নেতাদের মধ্যেও। অনেক সংসদ সদস্যের গত দু'বছরের নানা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকা- সরকারের ভাবমূর্তি ৰুণ্ন্ন করেছে। মহাজোটকে নিষ্ক্রিয় রেখে আওয়ামী লীগের একলা চলো নীতির কারণে সরকারের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকা- জনগণের মাঝে প্রচার পায়নি বলেও মনে করেন তাঁরা।
অন্যদিকে দুনর্ীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের কারণে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিএনপির কোনই পরিবর্তন হয়নি গত দু'বছরে। যে বল্গাহীন দুনর্ীতি, সন্ত্রাস, দুঃশাসন এবং যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গীবাদের মদদদানের কারণে নির্বাচনে জনগণ এ দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে_ সেই পুরনো নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বিন্দুমাত্র বের হতে পারেনি বিএনপি। বরং পাঁচটি বছর যেসব ব্যক্তি 'দুনর্ীতির বরপুত্র' হিসাবে আখ্যায়িত হয়েছে, খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধানে তারেক রহমানসহ সেসব দুনর্ীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদের মদদদানের অভিযোগ থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপি-নেতারাই আবারও চালকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ও যুদ্ধাপরাধীদের লীলাভূমি বলে খ্যাত জামায়াতসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দহরম ছাড়তে পারেননি বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী।
বার বার সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে দুই বছরে বিএনপি রাজপথে থাকলেও আন্দোলন জমাতে পারেনি। জাতীয় ইসু্যতে আন্দোলনের কথা বললেও দলটির সব কর্মকা- ছিল মূলত খালেদা জিয়ার বাড়ি রৰা আর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের মামলাকে ঘিরে। 'হরতাল' না করার নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি দিলেও এখন বিএনপি এ 'হরতাল'কেই যে কোন ইসু্যতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। তাই গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের দুই বছর পূর্তিতে এ দিকগুলোও গভীরভাবে পর্যবেৰণ করছেন দেশের সচেতন মানুষ।
পাদটীকায় রাজনৈতিক বিশেস্নষকরা মহাজোট সরকারের দু'বছরের সার্বিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে মনত্মব্য করেন, কোন সরকারই এ দেশে দুই বছর পরও একই মাত্রায় জনপ্রিয় থাকে না। সরকারকে বুঝতে হবে, এ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। জনসাধারণের ধৈর্য-সহিষ্ণুতা সীমাহীন নয়। দুই বছর ইতোমধ্যে চলে গেছে, জনজীবনের সমস্যাগুলোর উলেস্নখযোগ্য সমাধান হয়নি। তাই তাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করার আগেই সরকারকে সর্বৰেত্রে ফলপ্রসূ কাজ করতে হবে। সব ৰেত্রে স্বচ্ছতা রাখতে হবে, যেন জনগণের স্পষ্ট ধারণা থাকে সরকার কী করছে এবং আরও কী করতে যাচ্ছে।
আধা ঘণ্টায় পতন ৯২ শতাংশ, বিক্ষোভ ভাংচুর
শেয়ার মার্কেট
দিনশেষে সূচক উর্ধমুখী হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ধারাবাহিক দরপতনে পুঁজি হারানোর আতঙ্কে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা আবারও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। বুধবার দিনের লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিৰোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা কাগজপত্র পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেন এবং ডিএসইর মূল ফটকে ইটপাটকেল নিৰেপ করেন। এ সময় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা দুইটার দিকে পুলিশ-র্যাব এসে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিৰেপ এবং জলকামান ব্যবহার করে রঙিন পানি ছিটিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে দেয়। লেনদেনের শেষ দিকে শেয়ারবাজারে সূচক উর্ধমুখী হয়ে উঠলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। আধা ঘণ্টায় ৯২ শতাংশ শেয়ারের দরপতন ॥ আগের দু'দিন ডিএসই সাধারণ সূচক ৩২৩ পয়েন্ট কমার পর বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই সেই ধারা অব্যাহত ছিল। দর হ্রাসের এই ধারা কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাপক রূপ ধারণ করে। আগের দিন (মঙ্গলবার) লেনদেন হওয়া ২৪৬টি ইসু্যর মধ্যে ২১১টির দরপতনের পর বাজারের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন তারা। কিন্তু বিক্রির চাপ বাড়লেও ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ শেয়ারের দর উলেস্নখযোগ্য হারে কমে যেতে থাকে। লেনদেন শুরম্নর পর প্রথম আধা ঘণ্টায় লেনদেন হওয়া ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায়। ওই সময় মোট ২১৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি। এর বিপরীতে দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৯৬টি। এর ফলে সাধারণ সূচক ১২০ পয়েন্ট কমে যায়। আরেকটি বড় ধসের আশঙ্কায় মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীরা বিৰুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের চাপ দেন। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠানই লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। পরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী রাসত্মায় নেমে বিৰোভ শুরম্ন করেন। তারা গাড়ি ভাংচুর, ডিএসই ভবনে ইটপাটকেল নিৰেপ, রাসত্মা অবরোধ এবং কাগজ, টায়ার জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে শেয়ারবাজারসংশিস্নষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানান। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর এবং ডিএসই নেতাদের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সেস্নস্নাগান দিতে থাকেন। এ সময় ইত্তেফাক মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যনত্ম রাসত্মায় যান চলাচল এবং দু'পাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা ডিএসই ভবনে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দুপুর দেড়টার দিকে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন শেয়ার মার্কেট ইনভেস্টরস ফোরামের কয়েক প্রতিনিধি দরপতন নিয়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। তবে তারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আলোচনার দাবি জানালে ডিএসই কর্তৃপক্ষ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিনিয়োগকারীরা বাইরে চলে আসেন।
মৃদু লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিৰেপ
বিৰোভের শুরম্ন থেকেই ডিএসই কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা বিনিয়োগকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় বিৰোভকারীরা বেশ কয়েকবার যানবাহনে ইটপাটকেল নিৰেপ করে এবং ভাংচুরের চেষ্টা চালান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পর বেলা পৌনে দুইটার দিকে জলকামানসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরে যেতে বললে তারা আরও বিৰুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেলও নিৰেপ করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বিৰোভকারী ও পথচারীদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করেন। এতে তিন-চার জন সামান্য আহত হন। এ সময় মধুমিতা ভবনের ওপরে অবস্থানকারী কিছু বিনিয়োগকারী পুলিশের ওপর ইট ও কাঠের টুকরা, টিউবলাইট, পানির বোতল ছুড়তে থাকলে পুলিশ ওই ভবন লৰ্য করে দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিৰেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাসত্মা ফাঁকা করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে বিৰোভকারীরা তাতে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ আরেক দফা লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিৰেপ করে বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সৰম হয়।
এদিকে রাজশাহী থেকে জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার জানান, পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিৰোভ ও ভাংচুর করেছেন ৰুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন বন্ধ রেখে রাসত্মায় নেমে এসে বিৰোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে কুমারপাড়াস্থ আইসিবি কার্যালয়ের সামনে এসে বিৰোভ সমাবেশ করে। এ সময় তারা আইসিবি কার্যালয়ে ভাংচুর চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এর পর বেসরকারী শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে গোপনে লেনদেন চালু রাখার খবর পেয়ে বিনিয়োগকারীরা সেখানে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন।
কোর্ট চ্যালেঞ্জ করে ওরাও সেদিন গণহত্যা অস্বীকার করেছিল
ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল_৩
মামুন-অর-রশিদ ॥ পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধাপরাধী কিংবা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা তাদের বিচার হবে ভাবতে পারেনি। আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্বস্বীকৃত গণহত্যার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করে। জার্মানির 'প্যালেস অব জাস্টিস'-এ দাঁড়িয়ে হিটলারের নাৎসী বাহিনী মিত্রশক্তি গঠিত 'নু্যরেমবার্গ ট্রায়াল'-এর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের চ্যালেঞ্জ আদালতে টেকেনি। নাৎসী বাহিনী একই সঙ্গে অস্বীকার করেছিল গণহত্যার বিষয়টিও। স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, তখন তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কিন্তু ধোপে টেকেনি। একই সঙ্গে ঘাতকচক্র একাত্তরে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট এবং গণহত্যার বিষয়টিও অস্বীকার করছে। বিশেষ করে '৭৫-এর ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলার মাটিতে রাজাকারদের দম্ভ বেড়ে গিয়েছিল। জেনারেল জিয়ার হাত ধরে দেশে কথিত 'বহুদলীয় গণতন্ত্রের শরাব'-এর নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা ধর্মীয় রাজনীতির আবার অনুমতি পেয়ে গাড়িতে মন্ত্রিত্বের পতাকা উড়িয়েছে। দম্ভ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং তাদের যুদ্ধাপরাধও অস্বীকার করেছে।
'মিথ্যাকে শতবার বলে সত্যে পরিণত করা' তত্ত্বের প্রবক্তা হিটলারের আরেক দোসর গোয়েবলস ততৰণে আত্মহত্যা করে ইহলোক ত্যাগ করলেও জার্মান নাৎসিরা গোয়েবলসের পথ ধরে আত্মরৰার জন্য আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণহত্যার বিষয়টিও অস্বীকার করেছিল। বাংলাদেশেও তাই ঘটছে। বাঙালীর মহান মুক্তি সংগ্রামে '৭১ সালে পাক বাহিনীর এদেশীয় দোসর গোলাম আযম আর নিজামী-মুজাহিদের হাতে গড়া রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ঘাতকচক্র কোনদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি এদেশে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই ঘাতকচক্র গাড়িতে মন্ত্রিত্বের পতাকা লাগানোর পর তাদের ঔদ্ধত্য এবং স্পর্ধা আরও বেড়ে যায়। তারা মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধকেই অস্বীকার করতে থাকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন এবং যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়। ঠিক জার্মান নাৎসিদের মতোই বাংলাদেশে '৭১-এর যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সহযোগীরা বিশেষ আদালতের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। এমনকি একাত্তরের ঘাতকচক্র অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট এবং গণহত্যার বিষয়টিও অস্বীকার করছে। জার্মানির নাৎসি বাহিনীর ঘাতকদের মতো বাংলাদেশে একাত্তরের ঘাতক পাক বাহিনীর এদেশীয় দোসরদের বিচার এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে নু্যরেমবার্গ ট্রায়ালে প্যালেস অব জাস্টিসে পাঁচ শতাধিক কৰ ছিল। বিচারক, প্রসিকিউটর, অভিযুক্তদের কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। ২৪ জনের মধ্যে ২২ জনের দ-াদেশ প্রদানে বিশ্বের দুই পরাশক্তিসহ শক্তিধর চার রাষ্ট্রের ৫৬ আইনজীবী আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। আট মাস ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তথ্যচিত্র সংগ্রহ, শুনানি এবং প্রায় দেড় মাস ধরে রায় লেখা হয়। ২৫ ঘণ্টায় এই রায় পাঠ করে শোনানো হয়। নাৎসি বর্বরদের বিচারকাজ পরিচালনায় নু্যরেমবার্গ ট্রায়ালে একাধিক আদালত বসিয়ে বিচারকাজ চালিয়েছে। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশে তদনত্ম কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর নিয়োগ ও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সবাই হতাশাই ব্যক্ত করেছেন। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত বিশেষ ট্রাইবু্যনালের নিরাপত্তা ও তথ্যচিত্র সংগ্রহের চিনত্মা করে আদালত অঙ্গনের পরিধি ও পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আর্থিক সমর্থনের বিষয়টি যথাসময়ে নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন তাদের মতে বিষয়টি মোটেই খেলনা নয়, তাই যথার্থ গুরুত্ব দিয়েই এটি বিবেচনা করতে হবে।
নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশে একাত্তরের ঘাতকদের যখন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে, তখন সাৰ্য-প্রমাণের অভাব হবে ভেবে গণহত্যার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করে, যা ঘটেছিল জার্মানিতে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বক্তব্যেও। একাত্তরের ঘাতকচক্র মুক্তিযুদ্ধকালীন গোটাদেশে অগি্নসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণ ও গণহত্যার বিষয়টি এখন বেমালুম অস্বীকার করছে। কিন্তু জাতীয়-আনত্মর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, আলোকচিত্র, ডকুমেন্টারি, চলচ্চিত্র এবং পৃথিবীর বিভিন্ন আর্কাইভে সংরৰিত দলিলপত্র মুছে দেয়া ঘাতকদের পৰে সম্ভব হয়নি। আর এগুলোই তখন সাৰ্য হিসেবে কাজ করে। যেমনটি করেছে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে গঠিত প্রথম আনত্মর্জাতিক আদালত নু্যরেমবার্গ ট্রায়ালে। আগামীতে যা কার্যকর হবে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায়ও।
নু্যরেমবার্গ ট্রায়ালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, পরস্পরের যোগসাজশ এবং গণহত্যার বিষয়টিই ছিল মুখ্য বিবেচ্য ॥ যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরম্নদ্ধে অপরাধের ৰেত্রে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, পরস্পরের যোগসাজশ এবং গণহত্যার বিষয়টিই বিচারে প্রাধান্য দেয়া হয়। নু্যরেমবার্গ ট্রায়ালেও তাই হয়েছে। তাহলে একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে এত ভাবতে হবে কেন? কে বা কারা, কেন এই গণহত্যা চালিয়েছে_ এসব প্রশ্নের উত্তর জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক পর্যায়ে কারোরই অজানা নয়। এই গণহত্যার লৰ্য কী ছিল? এমন বর্বরোচিত গণহত্যার মাধ্যমে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতেই পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। একসঙ্গে তাই এত নির্দোষ, নিরপরাধ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। অপরাধের ধরন ভিন্ন_ তবে ব্যাপকতা এবং উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর। এসব অপরাধের ধরন, প্রকৃতি, উদ্দেশ্য তুলে ধরে 'ওয়ারক্রাইম সেভেনটি ওয়ান' প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
বিশ্বে গণহত্যা চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের নাম নিশানাও নেই ॥ সম্প্রতি নির্মিত জেনোসাইড : দ্য হরর কন্টিনিউস' প্রামাণ্যচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ রম্নয়ান্ডা, বুরুন্ডি, সিয়েরালিওন, বসনিয়া, সার্ভিয়া, ফিলিসত্মিন, ইসরাইল, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের ভয়াবহ গণহত্যার নৃশংস দৃশ্য তুলে ধরা হলেও '৭১-এ বাংলাদেশের ভয়াবহ গণহত্যা সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। ইতোমধ্যে কম্বোডিয়ায় গণহত্যার জন্য রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিচার হয়েছে। এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রয়েছে। জার্মানিতে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান এবং সেই বছরই বিচারকাজ শেষ হলেও ৫৫ বছর পর সম্প্রতি জার্মানির বিশেষ আদালতে ৫৬ বছর বয়সী এক নাৎসিকে শাসত্মি দেয়া হয়।
হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে পাকি বাহিনীর সমালোচনা ॥ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো সে দেশের প্রধান বিচারপতি হামুদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের রিপোর্টে তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মান এবং আজকের বাংলাদেশে পাক সামরিক বাহিনীর '৭১ সালে নির্বিচারে গণহত্যার কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়_ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী কেন এত বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে। ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১ ফেব্রম্নয়ারি ১৯৭২ সাল থেকে কাজ শুরম্ন করে। কমিশন উর্ধতন ও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ২১৩ সেনা কর্মকর্তার সাৰ্য গ্রহণ করে। এতে ১৬ ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। ১৯৭২ সালের ১২ জুলাই প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোকে কমিশন রিপোর্ট প্রদান করে। এই রিপোর্টে পাকিসত্মানের সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর এত বেসামরিক লোকের নিধনযজ্ঞের ভর্ৎসনা করা হয়।
দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকরা পাকিস্তানেও ভাল নেই ॥ মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিসত্মান গেছে এদেশীয় মুসলিম লীগার এবং পাক বাহিনীর দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রায় ৩৯ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সামনে নিয়ে না আসার জন্য পাকিসত্মান সরকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি অনুরোধ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে আইন সংস্কারের মাধ্যমে পাকিসত্মানে বসবাসরত বাঙালীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিবাসী আইনের বিধান কঠোর করা হচ্ছে। গত অক্টোবর মাসে পাক সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছে। এ ব্যাপারে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরম্ন করেছে পাকিসত্মানের প্রবাসী রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰ (এনএআরএ_ ন্যাশনাল এলিয়েনস্ রেজিস্ট্রেশন অথরিটি) এবং জাতীয় পরিসংখ্যান রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰ (এনএডিআরএ_ ন্যাশনাল ডাটাবেজ এ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি)। প্রসঙ্গত, পাকিসত্মান সরকার ১৯৭৪ সালের পূর্বে যে সব বাঙালী পাকিসত্মান ফিরে গেছে, তাদের আবাসিক ঠিকানা থাকলে নাগরিকত্ব দেয়ার আইন করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম তাদের নাগরিকত্ব না দিয়ে কয়েক হাজার বাঙালীকে শুধু রেজিস্ট্রেশন এবং কাজের অনুমতি দেয়া হয়।
পাকিসত্মানে বসবাসরত বাঙালীদের নিয়ন্ত্রণে সে দেশের সরকার আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। আনত্মঃমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের মতামত সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পাক সরকারের সংশিস্নষ্টরা এ বিষয়ে এক সভায় মিলিত হন। আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিসত্মানের প্রবাসী রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰের এবং জাতীয় পরিসংখ্যান রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰকে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
পাকিসত্মানের প্রবাসী রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰের দেয়া সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী পাকিসত্মানে ২০ লাখ প্রবাসী বাঙালী থাকলেও তাদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে মাত্র ৫৩ হাজারের। বাকি প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার বাঙালীকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয়। পাকিসত্মানে জন্মগ্রহণকারী থার্ড জেনারেশনের বাঙালীরাও রেজিস্ট্র্রেশন না পেলে পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই পান না। পাকিসত্মান সরকারের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকা- এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিসত্মান সরকার অবৈধ অভিবাসী বাঙালীদের ব্যাপারে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এবারের আইনী সংস্কারে অবৈধ বাঙালীদের পাকিসত্মানে অবস্থান করা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের (ইউএনএইচআরসি) একটি প্রতিনিধি দল ১৯৮০ সালে পাকিসত্মানে বিদেশী অভিবাসী সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে পাকিসত্মান পরিদর্শনে যায়। প্রতিনিধি দল প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তখন পাকিসত্মানে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন মিলিয়ন (৩৫ লাখ)। এদের মধ্যে ২২ লাখ অভিবাসী করাচীতে বাস করত, যাদের শতকরা ৯০ ভাগ বা প্রায় ২০ লাখ বাঙালী। ঘনবসতিপূর্ণ মকর কলোনি অথবা মোহাম্মদী কলোনি নামে পরিচিত এলাকায় অধিকাংশ বাঙালীর বসবাস।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ২৫ বছর বয়সী নুর-উল-হাসান বলেন, 'করাচীতে জন্ম নেয়ার পরেও কেন আমাকে ভিনদেশী (এলিয়েন) বলা হবে? শামসুদ্দীন নামের আরেক যুবক কমিশনের প্রতিনিধি দলকে বলেন, বাংলায় কথা বলার জন্যই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেছিল। পুরনো একটি পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে দু'মাস কারাবন্দী থাকতে হয় বলে তিনি জানান। আব্দুর রহমান পবিত্র কোরানের কসম কেটে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'আমি পাকিসত্মানে জন্মেছি। আমার বাবা পাকিসত্মানী। আমার সনত্মানও জন্মেছে পাকিসত্মানে। তিনি আত্মপরিচয়ের সন্ধানে নিজের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমরা মুসলিম লীগার হিসেবে পরিচিত ছিলাম। তখন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের টার্গেট করেছে। পাক সেনারা ৰেত্রবিশেষে আমাদের আপন ভেবেছে, আবার শত্রম্ন ভেবে নির্যাতনও করেছে। এখন পাকিসত্মানে এসেও একই ধরনের আচরণের শিকার হচ্ছি। তাহলে আমরা যাবটা কোথায়? আব্দুল নামের এক যুবক দাবি করেন, আমাদের এখানে 'দ্বিতীয় শ্রেণী'র নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিসত্মান এসেও আত্মপরিচয় নিশ্চিত করতে পারছি না।' পাকিসত্মানে বসবাসকারী অধিকাংশ বাঙালী গরিব। ওসমান টাউন বাঙালীপাড়া বাঙালী অধু্যষিত একটি এলাকা, যেখানে অধিকাংশ বাঙালীর বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। এখানে বাঙালীদের ক্রমাগত অসহনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়। রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপৰ এবং পাক পুলিশ তাদের হয়রানি করে বলে কমিশনের রিপোর্টে উলেস্নখ করা হয়। এমনকি সরকারী হাসপাতালে অসুস্থ বাঙালীদের ভর্তি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
'৭১-এ গণহত্যার বিচারে বাংলাদেশে স্বজনহারাদের আর্তি একাত্তর আমার 'বেদনার্ত অতীতের স্মৃতিময় দ্যোতনা। স্বজনহারানোর বেদনায় অনুৰণ রক্তৰরণের ধারায় জীবনসায়াহ্নে গণহত্যাকারীদের বিচার আমার আর্তি। রক্তপিপাসু হায়েনার দোসর এদেশীয় খুনীদের বিচার করে দেশকে ন্যায়ের ধারায় ফিরিয়ে আনা আমার তৃষ্ণা।' এভাবেই বলেছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলীম চৌধুরীর কন্যা নুজহাত চৌধুরী শম্পা। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে গঠিত বিশেষ ট্রাইবু্যনাল অভিযুক্তদের মধ্যে দ-িতদের পুনর্বিচার কিংবা দ-াদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনের সুযোগ বিচার প্রক্রিয়াকে আনত্মর্জাতিক মহলের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তবে সবার শঙ্কা_ দ-াদেশের পর বিচারিক রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন যেন বিচার প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে না দেয়!
পিলখানায় হত্যা, লুটের ৮০১ আসামি আদালতে
বকশীবাজারের অস্থায়ী কোর্টে বিচার শুরু ॥ ৩ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠন
কোর্ট রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলা দু'টি বিচারের জন্য আমলে নিয়েছে আদালত। মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার বকশীবাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগার ও আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন নবকুমার ইনস্টিটিউট মাঠের অস্থায়ী আদালতে এ বিচারকাজ শুরু হয়। মামলা দু'টি বিচারের জন্য আমলে নেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক। এজলাসে উঠেই তিনি বলেন, এ ধরনের ও এত বড় মামলা বিশ্বে এই প্রথম। আমি আপনাদের শতভাগ ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
মামলাটি আমলে নেয়ার পর ৭২ জনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করা হয়। জামিনের আবেদন করেন বিএনপির সাংসদ নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও। আদালত শুনানি শেষে বিকেলে তা নাকচ করে দেয়। অভিযুক্তরা মামলার সার্টিফায়েড কপি পাচ্ছেন না আইনজীবীদের এমন দাবির মুখে বিচারক বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৫৯ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ২ হাজার ৫৩টি। অভিযোগপত্র, সাৰীদের জবানবন্দী, জব্দতালিকা সব মিলিয়ে সকল আসামিকে মামলার নথি সরবরাহ করতে হলে ১ কোটি ৬০ লাখ পৃষ্ঠা ফটোকপি করতে হবে। তা কোন দায়রা আদালতের পৰে সম্ভব নয়। সরকার পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট আনিসুল হক, মোশাররফ হোসেন কাজল, আবদুলস্নাহ আবু, শাহআলম তালুকদার, সাইদুর রহমান প্রমুখ। আসামিদের পৰে জামিন শুনানি করেন। শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট সানালস্নাহ মিয়া, আমিনুল ইসলামসহ ২৫/৩০ জন আইনজীবী। তবে দুই শ'রও অধিক আ্ইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে ৮০১ জন আসামিকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ্যাডভোকেট কাজল জানান, বাকি ২৩ আসামির ২১ জন পলাতক। ও দুই জন মারা গেছে। পিলখানা হত্যাকা-ের ১ বছর সাড়ে ৪ মাস পর গত ১২ জুলাই হত্যা, লুটপাট, অগি্ন সংযোগের ঘটনায় দ-বিধি আইনে দায়ের করা মামলায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ৮২৪ জনকে ও ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ৮০৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। ১৫০৪ আসামির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। মামলাটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ১৫০৪ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষী করা হয়েছে ১ হাজার ২১৫ জনকে। এদের মধ্যে ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের, বিডিআর সদস্য, সাংবাদিক, ম্যাজিস্ট্রেট, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তিনবাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।
অপরাধবিরোধী অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করবেন না
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানকালে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার তাঁর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ-২০১১ উপলৰে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে আরও বলেন, অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়। খবর বাসসর।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ বাহিনীকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সেবায় পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে আপনাদেরকে পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন যে, জনগণের ট্যাক্সে টাকায় আপনারা বেতন পাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বেসামরিক প্রশাসন ও দেশের মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা পুনসর্্থাপন করা হচ্ছে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের জাতির স্বার্থে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কঠোর পদৰেপ নেয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে জনগণকে সেবাদান ও তাদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে বর্তমান সরকারের প্রধানতম লৰ্য।
তিনি বলেন, আমরা জনসেবার জন্য ৰমতায় এসেছি, ব্যবসায় বা অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত, নিরাপদ ও শানত্মিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে জনগণের আশা-আকাঙ্ৰা বাসত্মবায়নে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। জনগণের শানত্মিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এসব কর্মসূচী বাসত্মবায়নে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সনত্মোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর পদৰেপের কারণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনত্মরিক প্রয়াসের জন্য পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশের বিভিন্ন দাবির কথা উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেবে। তিনি পুলিশ বাহিনীর সকলের জন্য ঝুঁকিভাতাসহ প্রয়োজনীয় সকল দাবি বাসত্মবায়নের আশ্বাস দেন। এই বাহিনীর আবাসন ও যানবাহন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ৰেত্রে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহিদুল হক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিএলসিএস সদস্য ড. হেরাল্ড ব্রিককির সৌজন্য সাক্ষাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর অফিসে বুধবার ইউএন কমিশন অব দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল শেলফ (সিএলসিএস) সদস্য হেরাল্ড ব্রিককি সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামুদ্রিক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে জাতিসংঘে উপস্থাপিত একটি পরিকল্পনা তৈরিতে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়ার জন্য ড. ব্রিককিকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার স্বার্থ সুরৰায় তার পরামর্শ অচিরেই বাংলাদেশের জন্য বিশাল সহায়ক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব এমএ করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোলস্না ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
২৪ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য, তবুও অর্থসঙ্কট কেন?
খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক
শফিকুল ইসলাম জীবন ॥ ব্যাংকে ২৪ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য থাকার পরও কতিপয় ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট কেন কাটছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে তারল্যের কোন ঘাটতি নেই। উদ্বৃত্ত তারল্য থাকার পরও কিছু ডিলার ব্যাংককে পুনঃক্রয় চুক্তির (রেপো) আওতায় ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা সরবরাহ দেয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে ব্যাংকগুলোর আন্তলেনদেন সংশিস্নষ্ট কলমানির সুদের হার ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তার পরও কয়েকটি ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট কাটছে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান ওই ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য আবারও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তহবিল ব্যবস্থাপনায় সতর্ক হলে তারল্য সঙ্কট থাকবে না।
এদিকে মুদ্রাবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের কিছু ছোট ব্যাংক বরাবরই বড় ব্যাংকগুলোর সম্পদের ওপর ভর করে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এখন তারা ওই সব ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনের মুহূর্তে সমর্থন পাচ্ছে না। আর এর দায় গিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর। ছোট ব্যাংকগুলোর মধ্যে কিছু ব্যাংকের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, তারা এককভাবে বাজারে টিকে থাকার মতো অবস্থানে নেই। বর্তমান মুদ্রা বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে একাধিক ব্যাংক যে কোন সময় বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে মার্জ কিংবা একীভূত হয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই পরামর্শে তারা কর্ণপাত করেনি। এখন এদের এই দায় কে গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মুক্তবাজার এবং উদার বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অসত্মিত্ব রক্ষায় সরাসরি হসত্মক্ষেপ করতে পারে না। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে যার যার অবস্থানকে মজবুত করে তৈরি করতে হবে। আর এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত এক দশক ধরেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরোপসহ ১৭টি নিয়ম নীতি মেনে চলার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। খুব কম সংখ্যক ব্যাংকই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে থাকে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান প্রায়ই বলতেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক ফ্রি স্টাইলে ব্যবসা করছে। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ওরা পাঁচ লাখ টাকার মুনাফা করতে চায়। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এমএস কিবরিয়াও কখনও কখনও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনৈতিক কর্মকা-েরও কঠোর সমালোচনা করে গেছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরম্নদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর থাকাকালে কতিপয় ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের অদক্ষতা, কিছু ব্যাংক পরিচালকের নিয়মবহিভর্ূত ঋণ গ্রহণ, শেয়ার ধারণ ও পরিচালক পদে আজীবন বহাল থাকার মনমানসিকতার বিরম্নদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ফখরম্নদ্দীন আহমদের আমলেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। যদিও সেই পরিবর্তনের সুফল ব্যাংকিং খাতে এখনও প্রতিফলিত হয়নি বলে মুদ্রা বাজার বিশেষজ্ঞরা এখনও মনে করেন। তথাকথিত সংস্কারের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নামের শেষে লিমিটেড যুক্ত হওয়া ছাড়া তাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মান সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। তেমনি মুক্তবাজার এবং উদার বাণিজ্যনীতির আওতায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার চালু, সুদের হার নির্ধারণসহ বিভিন্ন নীতি গ্রহণে বেসরকারী ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা তাদের মুনাফা এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুযোগই সৃষ্টি করেছে সবচেয়ে বেশি। যা মূলত ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদ থেকে অর্জিত মুনাফারই অংশ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি ব্যাংকের মুনাফা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
বাসত্মবতা হচ্ছে, এখন ব্যাংকগুলো মুনাফা ছাড়া বিনিয়োগ কিংবা ঋণের প্রবাহ সৃষ্টিতে মাথা ঘামায় না। এর প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, ট্রেজারি বিল ও সরকারী বন্ড খাতে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে বাড়তি ঝোঁক, কলমানি বাজার সৃষ্টি, ডলারের সঙ্কট তৈরি, গ্রাহকদের সাধারণ লেনদেনের সার্ভিস চার্জ বাড়ানো নিয়ে কখনও কখনও ব্যাংকগুলোকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের শীতাংসু সুর চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায়, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ২৪ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য আছে। এর ওপর বুধবার কিছু ডিলার ব্যাংককে দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার রেপো। রেপো হচ্ছে পুনঃক্রয় চুক্তি, যা ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদী তারল্য সরবরাহ দেয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলোর তারল্য আরও বেড়ে যায়। ধাই ধাই করে কলমানির সুদ বেড়ে সর্বকালের রেকর্ড গড়ে। কলমানি নিয়ে হাহাকার দেখা দেয়া। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পর কলমানির সুদ এখন ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তার পরও রেপো ইসু্য করা হচ্ছে। এত কিছুর পরও ব্যাংকের নগদ অর্থ সঙ্কট যে কেন কাটছে না, তা বোধগম্য নয়।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোন ব্যাংকের পক্ষেই আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি আবারও সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, ব্যাংকিং খাতের এখন যে সব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে-তার মূলে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। এর অবসান হওয়া খুবই জরুরী।
আকস্মিক আমদানি কমে গেছে ভোজ্যতেলের, উদ্দেশ্য কী!
সরকারকে আগাম সতর্ক করেছে শীর্ষ একটি গোয়েন্দা সংস্থা
মিজান চৌধুরী ॥ ভোজ্যতেলের আকস্মিকভাবে আমদানি কমেছে। গত দুই মাসে এক লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের এলসি কম খোলা হয়েছে। টাকার অঙ্কে ৩১০ কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি কমেছে। মিল মালিকদের আকস্মিক এই আমদানি কমিয়ে দেয়ার পিছনে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য কিনা তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
মোটা দাগের আমদানি কমিয়ে দেয়ার ফলে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ে সরকারকে আগাম সতর্ক করেছে শীর্ষ পর্যায়ের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি ক্লোজ মনিটরিং করছে।
গোয়েন্দা সংস্থার আগাম সতর্ক করে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল উর্ধতন এক কর্মকর্তা। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরাও আশঙ্কায় আছি। তবে পাইপলাইনে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেৰণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আমদানির পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের তুলনায় গত নবেম্বর ও ডিসেম্বর এই দুই মাসে ভোজ্যতেলের কাঁচামাল অপরিশোধিত আমদানি মোটা দাগে কম হয়েছে।
গত নবেম্বর ক্রুড আমদানির এলসি খোলা হয় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। বিগত ২০০৯ সালের নবেম্বরে এলসি খোলা হয় এক লাখ ৬ হাজার টন। শুধু নবেম্বরেই ৩৬ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির এলসি কম খোলা হয়েছে। ডিসেম্বরে এসে এলসি খোলার হার আরও নিচে নামে। ওই মাসে এলসি খোলা হয় ১১ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৯ সালে একই সময়ে এলসি খোলা হয় ৮১ হাজার মেট্রিক টন। ডিসেম্বরে ৭১ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির এলসি কম খোলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র মতে, টাকার অঙ্কে গত নবেম্বর ও ডিসেম্বরে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের অপরিশোধিত আমদানি এলসি খোলা হয়েছে সাড়ে ১০ কোটি ডলারের। ২০০৯ সালের একই সময়ে ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়। ফলে ২০০৯ এর তুলনায় গেল দুই মাসে ৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ৩১০ কোটি টাকার অপরিশোধিত ভোজ্যতেল কম আমদানি হয়।
সূত্র মতে, রিফাইনারিদের এই আমদানি কমিয়ে দেয়ার বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ের একটি গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ পর্যায়ের ওই গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, এলসি খোলার হার সম্প্রতি সময়ে কমে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের পৰ থেকে সরকারকে অবহিত করা হয়। তেল আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহে সঙ্কট সৃষ্টি হবে কিনা তা নজরে রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে ১২ থেকে ১৪ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে দেশে। ওই হিসাবে প্রতিমাসের চাহিদা হচ্ছে এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গত দুই মাসে এক লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেল কম আমদানির কারণে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংশিস্নষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তা ভোজ্যতেলের এলসি খোলার হার কমে যাওয়া ও গোয়েন্দা সংস্থার সতর্ক করে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আনত্মর্জাতিক বাজারে বর্তমান এক মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্যতেল দাম ১২শ' ৮০ ডলার চলছে। এছাড়া সরকার ভোজ্যতেল ও চিনি বাজারজাতের ৰেত্রে নতুন বিতরণ পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। রিফাইনারি মালিকরা এতে লোকসানের আশঙ্কা থেকে এলসি খোলা কমিয়ে দিতে পারে। তবে বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারম্নক খানের কাছে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে ফিরেই এ ব্যাপারে রিফাইনারি মালিকদের নিয়ে বসবেন।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে পাইপলাইনে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল আসার অপেৰায় রয়েছে। তবে বাজার পর্যবেৰণ করা হচ্ছে কোনভাবেই যেন অস্থিতিশীল না হয়। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রিফাইনারিদের কারসাজি রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোজ্যতেল আমদানির এলসি কম খোলার কারণ জানতে রিফাইনারি মিল মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রউফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
অন্য একটি সূত্র জানায়, ডিও প্রথা বাতিল হবে এমন আশঙ্কা থেকে ভোজ্যতেল রিফাইনারি মালিকরা আমদানি কমিয়েছে। কারণ ডিও প্রথার সময় ইচ্ছে মতো দাম নির্ধারণ করা হয়। আগামী তিন মাস পর নতুন পদ্ধতিতে ভোজ্যতেল বাজারজাত করা হবে। যেখানে মূল্য নির্ধারণের কমিটি থাকবে। ফলে অতিমুনাফা কিছুটা বন্ধ হবে। এছাড়া আনত্মর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য বেশি। এসব হিসাব করেই আমদানি কম করা হচ্ছে।
নির্বাচনে ৫১ পৌরসভায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌর নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৫ জেলার ৫১ পৌরসভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। ওইসব পৌরসভায় নির্বাচনের দু'দিন আগে এক পস্নাটুন করে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদেরও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতয়েন করা হবে। পুলিশের এক উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে ঝুঁকিপূর্ণ কোন্ কোন্ পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দু'দিন আগে থেকে মোট পাঁচদিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ২০ পৌরসভা, খুলনা ও বরিশালের ৫ পৌরসভা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ২৬ পৌরসভায় এ বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
পৌরসভাগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, পাটগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রাণীশঙ্কৈল, পীরগঞ্জ, নীলফামারী, জলঢাকা, সৈয়দপুর, হারাগাছ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ, হাকিমপুর, ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর, গোদাগাড়ী ও কাঁকনহাট, তানোর ও মুন্ডুমালা, কেশরহাট, চারঘাট, জয়পুরহাট, মনিরামপুর, কলারোয়া, পাইকগাছা, বাগেরহাট, মংলা পোর্ট, করিমগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ছাতক, দিরাই, জগন্নাথপুর, সেনবাগ, চৌমুহনী, চান্দিনা (প্রয়োজনে দাউদকান্দি), চৌদ্দগ্রাম, ছেঙ্গারচর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, সোনাগাজী, বারইয়ারহাট, মিরসরাই, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, বান্দরবান, লামা ও রাঙ্গামাটি।
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের দু'দিন আগে থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত মোট চারদিন সীমানত্মবর্তী এলাকায় বিডিআর ও উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। এছাড়া কোন্ কোন্ পৌরসভায় সেনাবাহিনী কয়দিনের জন্য মোতায়েন করা হবে এবং তাদের কার্যপরিধি কী হবে সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কমিশন। সেৰেত্রে পৌরসভার সংখ্যা ২৫/৩০টির বেশি হবে না।
নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে সংশিস্নষ্ট নির্বাচনী এলাকায় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের ভ্রাম্যমাণ দল দায়িত্ব পালন করছে। আচরণবিধি ভঙ্গের কোন আলামত নজরে এলে বা নির্বাচনী অপরাধ সংঘটিত হলে এ দলটি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে। প্রয়োজনে বিচারের জন্য নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
গুরম্নত্ব বিবেচনায় প্রতিটি পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদেরও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হবে। পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই)/ সার্জেন্ট/এএসআই/ হাবিলদার) নেতৃত্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রধারী পাঁচ পুলিশসহ ১৯ এবং গুরম্নত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রধারী ছয় পুলিশসহ ২০ জন নিয়োজিত থাকবে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ১১-১৩ জানুয়ারি, খুলনা ও বরিশালে ১২-১৪ জানুয়ারি, ঢাকায় ১৬-১৮ জানুয়ারি, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পৌরসভাগুলোয় ১৭-১৯ জানুয়ারি তাদের নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পৌরসভায়ও একইভাবে তারা কাজ করবে। উলেস্নখ্য, আগামী ১২, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২৭ জানুয়ারি দেশের ২৫৭ পৌরসভায় নির্বাচন হবে।
সেনা মোতায়েনে বিএনপির দাবি ইসির ফের নাকচ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌর নির্বাচনে প্রতি পৌরসভায় বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি আবারও নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদ ল সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে মন্তব্য করে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। জবাবে কমিশন বলেছে, প্রশাসনের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির সংসদীয় প্রতিনিধি দল আসন্ন পৌর নির্বাচনে সব ক'টি পৌরসভায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। তারও আগে বিএনপির অপর একটি প্রতিনিধি দল সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল। প্রতিবারই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ অথবা প্রয়োজন আছে সেরকম পৌরসভাগুলোতেই শুধু সেনা মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে জানানো হবে কোন্ কোন্ পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের নেতৃত্বে বিএনপির নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। একই দিন সকালে চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে বিএনপি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করে। তারা অভিযোগ করে, প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে।
তবে বিরোধী দলের সেনা মোতায়েনের দাবি নাকচ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, অনেকদিন থেকে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেৰণ করছি। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে সীমিত আকারে সেনা মোতায়েন করা হবে। সব পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা যাবে না। প্রশাসনের প্রতি নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উলেস্নখ্য, ১২, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২৭ জানুয়ারি ২৫৭ পৌরসভায় নির্বাচন হবে।
সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ, দু'বছরে কোন অগ্রগতি নেই
বিএনপি নেতাদের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গত দুই বছরে দেশ ও জাতির বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। দেশ পরিচালনায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ বলেও কঠোর সমালোচনা করেন দলটির নেতারা। জাতীয় সংসদ সার্বভৌম নয়_ মনত্মব্য করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত দুই বছরে সরকারের কাছ থেকে দেশ ও জাতির কোন প্রাপ্তি নেই। সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ হতাশ। আগামী ৩ বছরেও আওয়ামী লীগ সরকার জাতির কোন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না, ব্যর্থতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, মহাজোট সরকারের হানিমুন পিরিয়ড শেষ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই, ব্যর্থতার পাল্লা ভারি। দুই বছরে দুর্নীতিতে সরকার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার সকালে ও বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহাজোট সরকারের দুই বছর : প্রতিশ্রুতি, জনগণের প্রত্যাশা ও বাসত্মবতা শীর্ষক পৃথক দু'টি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই দুই নেতা।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত দুই বছরে সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস ও রাজনীতিকে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বর্তমানে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে সরকার বাকশালী শাসন কায়েম করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারেরই অংশ। কিন্তু বর্তমান সরকার সংসদকে ব্যবহার করে শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এমন কোন কটূক্তি নেই যা করেনি। গত দুই বছরে জিয়ার নাম মুছে ফেলা এবং তাঁর পরিবারকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে দুই নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দুই বছরে দেশ পরিচালনায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যে অঙ্গীকারের কথা বলেছিল, তাতেও আওয়ামী লীগ সফল হতে পারেনি। মূলত বর্তমান সরকার বিদেশীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ রৰা ও মানুষ বাঁচানোর আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সংসদ সার্বভৌম নয়_ সুপ্রীমকোর্টের এ বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ বক্তব্যের পেছনে অনত্মর্নিহিত কারণ আছে। এটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে দাবি করেছেন, সে দাবি প্রমাণে তাঁর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংসদ কীভাবে সার্বভৌম তা প্রমাণ করে দেখান। সংসদের অংশ দেখলে বোঝা যায়, বাজেট ও আইন_ সবকিছুই একদলীয়ভাবে পাস হচ্ছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখন যদি সুপ্রীমকোর্ট বলে, সংসদ সার্বভৌম নয়, তাহলে সরকার প্রমাণ করে দেখাক।
সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পালস্না অনেক ভারি উলেস্নখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই বছরপূর্তি উপলৰে তাঁর ভাষণে সফলতার ফিরিসত্মি দেবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ গ্রামাঞ্চলে এ সরকারের দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে। সেদিকে সরকারের কোন নজর নেই বলেও মনত্মব্য করেন তিনি।
যুদ্ধাপরাধের তথ্য প্রমাণের জন্য সচিবালয় থেকে সংবাদপত্রের ডিভিডি সংগ্রহ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং তদন্ত সংস্থা সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের সমসত্ম তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। তারই অংশ হিসেবে বুধবার সচিবালয় থেকে ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যস্দ প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলাদেশী সংবাদপত্র, তথ্য বিবরণী ও গেজেটের ডিভিডি সংগ্রহ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যালের প্রসিকিউটররা তথ্য অধিদফতর থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্যপ্রমাণ খুঁজে বের করতে এসব সংবাদপত্র, তথ্য বিবরণী ও গেজেট ব্যবহার করবে ট্রাইবু্যনাল। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইবু্যনালের চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নেতৃত্বে একটি দল প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হারুন-উর-রশিদের কাছ থেকে ডিভিডি সংগ্রহ করেন। এ প্রসঙ্গে গোলাম আরিফ টিপু বলেছেন, এগুলো সংগ্রহ করছি। কি কি বিষয়ের ওপর আমরা তথ্য নিয়েছি তা তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না।
এর মধ্যে ১৯৭২, ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালের তথ্য বিবরণী এবং ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের গেজেট রয়েছে। সংবাদপত্রের মধ্যে রয়েছে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত দৈনিক বাংলা, দৈনিক ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য গত বছরের ২৫ মার্চ গঠিত হয় ট্রাইবু্যনাল, তদনত্ম সংস্থা ও প্রসিকিউশন।
ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কয়েক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং মোহাম্মদ আব্দুর কাদের মোলস্না । বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা)।
তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, আরও সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীর বিরম্নদ্ধে তদনত্ম চলছে। শীঘ্রই আরও বেশ কিছু যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানানো হবে।
নিজেকে সুস্থ দাবি করে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি সাকা'র
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজেকে সুস্থ দাবি করে হাসপাতালে ভর্তি হতে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মজিদ ভূইয়া। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানিয়েছে_বিএনপি নেতার পরিবারের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলেও দাবি করেছেন হাসপাতালের পরিচালক।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক আফরোজা ও হাসপাতালের উপপরিচালক মোখলেসুর জামান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। জরুরী ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকে চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে ৩ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা হলেন আবাসিক চিকিৎসক আফরোজা, ডা. নাহিদুজ্জামান ও ডা. মোখলেসুর জামান। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীৰার জন্য উদ্যোগী হলে পরীৰা করাতে অস্বীকৃতি জানান বিএনপি নেতা। হাসপাতাল কর্তৃপৰ এবার তাঁকে ল্যাবরেটরি পরীৰা করানোর কথা বললে তিনি তাও ফিরিয়ে দেন। তৃতীয়বারের মাথায় হাসপাতাল কর্তৃপৰ বিনয়ের সঙ্গে বিএনপি নেতাকে প্রয়োজনে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানান। এতে নিজেকে সুস্থ দাবি করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই বলে হাসপাতাল কর্তৃপৰকে জানিয়ে দেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
হাসপাতালের পরিচালক আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের নামকরা অনেক রাজনীতিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে আসছেন। চিকিৎসা দেয়ার ৰেত্রে রাজনীতি থেকে শুরম্ন করে কোন ধরনের সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় আনা হয় না। রোগী হিসেবেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকেন চিকিৎসকরা। অনেক নামকরা রাজনীতিকের আগমন ঘটলেও তাদের কেউ এখন এখন পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ আনতে পারেননি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরাই প্রথমবারের মতো এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুন করার অপচেষ্টা চালালেন। তাঁদের এ ধরনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।
প্রধানমন্ত্রীর আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকারের দু'বছর পূর্তি উপলৰে আজ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে সম্প্রচার করবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বুধবার জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানান।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের দু'বছরের সাফল্য তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তৃতীয় বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের নানা পদৰেপের কথাও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যাতে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরা যায়, সেই লৰ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে তাদের গুরম্নত্বপূর্ণ অর্জন সংৰিপ্ত আকারে সংগ্রহ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর সংশিস্নষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা ক্লানত্মিহীন পরিশ্রম করে সরকারের দু'বছরের সাফল্য সংবলিত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের একটি খসড়া চূড়ানত্ম করে শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রেকর্ড করা হতে পারে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চলতি মাসেই বিদ্যুতের দাম বাড়ছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলতি মাসেই বিদ্যুতের বাল্ক মূল্যহার (পাইকারি দাম) বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদু্যত উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বাল্ক মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তামাবটি আমলে নিয়েছে। বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত সভায় জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির ওপর স্টেকহোল্ডার মতামত নেয়া হবে। মতামতগুলো যাচাই-বাছাই করে ২৭ জানুয়ারি গণশুনানি করার পর দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিইআরসি সদস্য সেলিম মাহমুদ, ইমদাদুল হক, পিডিবি চেয়ারম্যান এসএম আলমগীর কবীরসহ পিডিবি, বিভিন্ন বিদু্যত বিতরণ কোম্পানি, বিদ্যুত মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পিডিবির পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা সবার সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যুত উৎপাদন চিত্রের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় তুলে ধরা হয়। গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি হিসেবে তেলকে প্রাধান্য দেয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়। দাম বৃদ্ধি না করলে আগামী ২০১৩ সাল পর্যনত্ম সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে ভতর্ুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ ভতর্ুকি দিয়ে সরকারের পৰে বিদু্যত খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। প্রসত্মাবটিতে বলা হয়েছে, এখনকার দামে বিদু্যত বিক্রি করলে চলতি বছর ভতর্ুকি দিতে হবে তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আগামী বছর যা হবে ছয় হাজার কোটি টাকা। ২০১৩ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি টাকা। সরবরাহ ব্যয়ের তুলনায় বিদু্যতের মূল্যহার বৃদ্ধি না পাওয়ায় ২০০৬-০৭ থেকে পরবর্তী তিন বছর ৬০০ কোটি টাকা এবং গত অর্থবছরে রেন্টাল বিদু্যত কেনার জন্য পিডিবি'কে ৩৯৪ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। সরকারী ঋণের কিসত্মির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পিডিবির প্রসত্মাবে বলা হয়েছে, সরবরাহ ব্যয় ও পিডিবির লোকসানের পরিমাণ হ্রাসের জন্য ২০১১-১২ সালের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তিতে মূল্যহার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পিডিবি প্রতি ৬ মাস অনত্মর বিদু্যতের পাইকারি দাম ১২ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রসত্মাব করেছে। প্রসত্মাবে বলা হয়েছে, প্রতিবছর পাইকারি পর্যায়ে বিদু্যতের দাম বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। সে অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদু্যতের দাম যেখানে দুই টাকা ৩৭ পয়সা, সেখানে ১ জানুয়ারি ২০১১ থেকে তা হবে ২ টাকা ৯৭ পয়সা, ১ জুলাই ২০১১ থেকে তা হবে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা, ১ জানুয়ারি ২০১২ থেকে হবে ৩ টাকা ৭২ পয়সা, ১ জুলাই ২০১২ থেকে হবে ৪ টাকা ১৭ পয়সা এবং ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ৪ টাকা ৬৮ পয়সা।
প্রসত্মাবিত দাম বৃদ্ধির পরেও ট্যারিফ মূল্য ও সরবরাহ ব্যয়ের পার্থক্যের কারণে ২০১০-১১ অর্থবছরে পিডিবি'কে দুই হাজার ৩৩৪ কোটি, ২০১১-১২তে দুই হাজার ৯৫৯ কোটি, ২০১২-১৩তে দুই হাজার ৫৭ কোটি টাকা ভতর্ুকি দিতে হবে।
বৈঠকে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, শীঘ্রই রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসছে। রেন্টাল বিদু্যত কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদু্যত কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ জন্য যত দ্রম্নত সম্ভব বিদু্যতের বাল্ক মূল্যহার বৃদ্ধির প্রসত্মাব করেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি মূল্য ১০ ভাগের বেশি বৃদ্ধি পেলে তা মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করার পৃথক একটি প্রসত্মাব দেয়া হবে বলে জানান।
বৈঠকে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের পৰ থেকে বিদু্যতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দেয়ার আগে বিদু্যতের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্পে বিনিয়োগ কম হবে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন বিঘি্নত হবে বলে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন।
বিইআরসি চেয়ারম্যান এর জবাবে বলেন, দাম না বৃদ্ধি করলে ভর্তুকি দিতে দিতে বিদু্যত খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়া দাম না বাড়লে বিনিয়োগ বেশি হবে_ এমনটা ভাবা ঠিক নয়। পৃথিবীর উন্নত দেশে কোথাও সাবসিডি দিয়ে শিল্প টিকিয়ে রাখার নজির নেই। চেয়ারম্যান বলেন, দাম বাড়লে সেবার মান অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে। দাম বৃদ্ধি না করা হলে সেবার মান বৃদ্ধির জন্য অর্থের যোগান কোত্থেকে আসবে বলেও তিনি ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেন।
একই প্রসঙ্গে পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদু্যতের খরচ মোট ব্যয়ের ১০ ভাগের বেশি নয়। কিন্তু যখনই বিদু্যতের দাম বৃদ্ধি করা হয়, তখন একই হারে শিল্প পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যা দুঃখজনক। সেবার মান বৃদ্ধি এবং জনগণকে বেশি সময় ধরে বিদু্যত দেয়ার জন্য সরকার বিদু্যত উৎপাদন করছে বলে উলেস্নখ করেন চেয়ারম্যান। সেদিক দিয়ে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিতরণ কোম্পানিগুলোর 'সিস্টেম লস' (কারিগরি এবং বিতরণ ৰতি) আনত্মর্জাতিক মানে এক সংখ্যায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য বিতরণ উপকরণও আনত্মর্জাতিক মানে উন্নীত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিদু্যত বিতরণ কোম্পানিগুলো বাল্ক মূল্যহার বৃদ্ধির সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে (খুচরা) দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করে। বাল্কের সঙ্গে খুচরা দর বৃদ্ধি না করলে বিতরণ কোম্পানিগুলো আর্থিক ৰতির সম্মুখীন হবে বলে জানায় তারা। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে পাইকারি পর্যায়ে বিদু্যতের বাল্ক মূল্যহার ১৬ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়।
শিল্প ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সীমিত আকারে গ্যাস সংযোগ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উৎপাদনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এবং নিত্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান কমিটির প্রথম বৈঠকে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বর্তমান চাহিদা, গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন গ্যাসকূপ খনন, গ্যাস উত্তোলনের নিকট ভবিষ্যত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আরও এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।
সূত্রমতে, ডিমান্ড নোটের বিপরীতে জামানতের অর্থ পরিশোধকারী এবং সংশিস্নষ্ট কোম্পানির ভাণ্ডার থেকে সার্ভিস লাইনের মালামাল উত্তোলন করেছে, ডিমান্ড নোটের বিপরীতে ব্যাংকের টাকা পরিশোধকারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে নতুন করে আবাসিক গ্রাহকদের কোন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ করা হয়। এর কিছুদিন পর গ্যাসের উৎপাদন ২২০ কোটি ঘনফুট না হওয়া পর্যনত্ম আবাসিক গ্রাহকদের সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। তবে বুধবার দেশীয় এবং আইওসি মিলিয়ে গ্যাসের উৎপাদন ছিল ১৮৯ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বৈঠকের পর জানান, নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, সদস্য সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অপর এক বৈঠকে শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদনের জন্য শতভাগ প্রন্তুুত শিল্প কারখানায় গ্যাসের সংযোগ দেয়ার দাবি জানান। উদ্যোক্তারা ওই সভায় জানান, শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা উৎপাদনের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়ার পরও নতুন সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। এখন বেশি দরে বিদু্যতের সংস্থান করা গেলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে আসতে পারছে না। এতে উদ্যোক্তাদের বিনা উৎপাদন ও মুনাফা ছাড়াই প্রতিমাসে কোটি টাকার ঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন সচল না থাকায় যন্ত্রপাতিও অকেজা হতে শুরম্ন করেছে। ওই বৈঠকে উৎপাদনমুখী এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে পেট্রোবাংলা।
যোগ্যতাসম্পন্ন অধিনায়ক হবেন কি সামি?
রুমেল খান ॥ সবাই সবকিছু হতে পারে না (তবে ব্যতিক্রমও আছে)। ভাল ছাত্র হলেই যেমন ভাল শিক্ষক হওয়া যায় না, তেমনি ভাল খেলোয়াড় হলেই ভাল কোচ হওয়া যায় না। তেন্ডুলকর-লারা গ্রেট ক্রিকেটার, কিন্তু গ্রেট ক্যাপ্টেন নন। আবার অনেক সাধারণ বা গড়পড়তা মানের ক্রিকেটার অধিনায়ক হিসেবে দারম্নণ সফল। যেমন ইংল্যান্ডের মাইক ব্রিয়ারলি। সর্বকালের সেরা টেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে যাঁকে ধরা হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই গারফিল্ড সেন্ট আব্রান সোবার্স, যাঁকে ক্রিকেটবিশ্ব স্যার গ্যারি সোবার্স নামেই বেশি চেনে; তিনি তাঁর লেখা 'ক্রিকেট এ্যাডভান্স' বইয়ে ক্যাপ্টেন হবার যোগ্যতা নিয়ে লিখেছেন, "ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ককে একসঙ্গে আধ ডজন মানুষ হতে হবে। জুয়াড়ির মতো হতে হবে তাঁর স্নায়ুর জোর, ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিল্পে যিনি অর্থ লগি্ন করেন, তাঁর মতো ঠাণ্ডা মাথার মানুষ হতে হবে তাঁকে, মনোবিদের মতো তিনি বুঝবেন মানুষের মন, ক্রিকেট-বুদ্ধিতে তিনি এগিয়ে থাকবেন দশ বছর। এবং তাঁর ধৈর্য হতে হবে সাধুসন্তের মতো। আর তাঁকে তো বড় ক্রিকেটার হতেই হবে।" ক্রিকেটার হিসেবে সোবার্সের নৈপুণ্য ছিল অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি (টেস্ট-৯৩, রান-৮০৩২, শত-২৬, ৫০-৩০, উইকেট-২৩৫, ক্যাচ-১০৯)। তবুও তিনি সফল অধিনায়ক হতে পারেননি। ক্যারিবীয় দলের হয়ে ১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ৩৯ টেস্টে ক্যাপ্টেন্সি করেছেন। জিতেছেন ৯ ম্যাচে, হেরেছেন ১০ ম্যাচে, ড্র করেছেন বাকি ২০টিতে। পরিসংখ্যানেই বোঝা যায়, সোবার্সের ক্যাপ্টেন্সি যেভাবে বিকশিত হবার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। ক্রিকেটে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানোর পথিকৃৎ সোবার্স তাঁর ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র একটি! সেটা ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর লিডসে; ইংল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে। টসে জিতলেও সে ম্যাচে ৩ বল আগে থাকতে ক্যারিবীয়রা হেরেছিল ১ উইকেটে। ব্যাটিংয়ে ছয় নম্বরে নেমে ছয় বল খেলে 'শূন্য' রান করে ক্রিস ওল্ডের বলে কট বিহাইন্ড হয়েছিলেন উইকেটকীপার বব টেলরের হাতে। তবে বল হাতে ১০.৩ ওভারে (ম্যাচটি ছিল ৫৫ ওভারের) ৩ মেডেন ও ৩১ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ১ উইকেট। মজার ব্যাপার, উইকেটটি ছিল ক্রিস ওল্ডের!
কখনও বিশ্বকাপ না খেললেও গ্যারি সোবার্সের সেই 'যোগ্যতাসম্পন্ন ক্যারিবীয় ক্যাপ্টেন' কি এবারের আসন্ন দশম বিশ্বকাপে দেখতে পাবে ক্রিকেটবিশ্ব? ক্রিস গেইল এখন আর ক্যাপ্টেন নন। নতুন অধিনায়ক ড্যারেন সামি। এ পর্যনত্ম ৩ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ড্র করেছেন প্রতিটিতেই। আর ওয়ানডেতে ক্যাপ্টেন হয়েছেন ২ ম্যাচে। জিতেছেন সবটাতেই। যদি এবারের বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে তিনিই থাকেন, তাহলে তাঁর অধিনায়কত্বের চরম পরীৰাটা হয়ে যাবে এবারই। তিনি কি পারবেন পূর্বসূরি ক্লাইভ লয়েডের ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দিতে? কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন। কেননা, ক্যারিবীয়দের সেই স্বর্ণ সময় আগের মতো আর নেই। তবে দলটিতে আছেন এমন কিছু ক্রিকেটার, যাঁদের সম্মিলিত প্রয়াসে ৰয়িষ্ণু ক্যারিবীয় দলের আবার সুদিন ফিরে আসতেও পারে। সেটা আসন্ন বিশ্বকাপেই। সামি কি পারবেন সোবার্সের মতো যোগ্যতাসম্পন্ন অধিনায়ক হিসেবে উদ্ভাসিত নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিতে?
নাড়ির টানে
হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিমা আর রূপগুণের মাধুর্য দিয়ে বলিউডকে মাতিয়ে রাখা নায়িকার নাম দীপিকা পাডুকোন। বুধবার ২৫ বছরে পা রাখলেন তিনি। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন নগরীর একটি হাসপাতালে তাঁর জন্ম হয়েছিল। দিনটি পালন উপলক্ষে তিনি ফিরে গেছেন সেই জন্মস্থানেই। তবে একা নয়, সঙ্গে নিয়ে গেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিদ্ধার্থ মালিয়াকে। সিদ্ধার্থের সঙ্গে ইদানীং তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জন্মের মাত্র ১১ মাস পর বাবা মায়ের সঙ্গে দীপিকা ভারতের ব্যাঙ্গালোরে ফিরে আসেন। জন্মস্থান কোপেনহেগেন নিয়ে তাঁর কৌতূহল ও আকর্ষণ ছিল সব সময়ই। ঐতিহাসিক ওই শহরে স্মৃতির রোমন্থন তাঁর জন্য যেন বয়ে এনেছে অনাবিল আনন্দের ছোঁয়া। দীপিকার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সংবাদ মাধ্যমকে জানান, যে হাসপাতালে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি সেই হাসপাতালটি পরিদর্শন করবেন। যে বাড়িটিতে বাবা-মা অবস্থান করেছেন সেই বাড়িটি ছাড়াও দীপিকা ডেনিশ শহরে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা করবেন। দীপিকা এবারের বড়দিন পালন করেছেন লন্ডনে। সেখানেও বন্ধু সিদ্ধার্থ মালিয়া সঙ্গে ছিলেন। উলেস্নখ্য, লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস বিষয়ে ডিগ্রী অর্জনের পর ভারতীয় যুবক সিদ্ধার্থ এক বছর ধরে সেখানেই অবস্থান করছেন। দীপিকা আগামীকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ে ফিরে আসবেন। সপ্তাহানত্মে ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিকের বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া