মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
কৃষকদের টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ১৪ ডিসেম্বর ॥ বুধবার সকালে জেলার গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে বিৰোভ মিছিল, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসে কৃষকরা ভর্তুকির টাকা জমা দিয়েও সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত পাওয়ার টিলার না পাওয়ার প্রতিবাদে কৃষকরা এ বিৰোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকৰে কৃষকরা এক সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক ঢালী উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের অধীনে গোসাইরহাট উপজেলার কৃষকদের জন্য ৫০টি যান্ত্রিক পাওয়ার টিলার ভতর্ুকি মূল্যে বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব পাওয়ার টিলার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ২৫% ভাগ ভতর্ুকি মূল্যে বিতরণের জন্য যাচাইবাছাই শেষে তালিকা করে গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি বিভাগ কমিটির সদস্যদের নিয়ে যাচাইবাছাই শেষে ৫০ কৃষকের নামের তালিকা তৈরি করে অনুমোদন দেয়। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫শ' টাকা করে নিয়ে তাদের সঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিস স্ট্যাম্পে পাওয়ার টিলার দেয়ার চুক্তি করে। গত বছরের জুন মাসে সময়মতো উপজেলা কৃষি অফিস ছাড়পত্র না দেয়ায় ঐসব কৃষক পাওয়ার টিলার সরবরাহ করতে পারেনি। চলতি বছর ঐসব কৃষককে বাদ দিয়ে কিছুসংখ্যক প্রভাবশালীর সঙ্গে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা যোগসাজশে নতুন কৃষকদের কাছ থেকে পুনরায় ভতর্ুকির টাকা গ্রহণ করে এবং তাদের নামের তালিকা তৈরি করে পাওয়ার টিলার সরবরাহ করার ছাড়পত্র বিতরণ শুরম্ন করে। এতে উপজেলার প্রকৃত কৃষকরা বাদ পড়ে যায়। উপজেলার কুচাইপট্টি গ্রামের কৃষক জহিরম্নল ইসলাম জানান, সরকারী নিয়মনীতি উপেৰা করে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশে ভ্যানচালক, রিঙ্াচালক ও কাঠমিস্ত্রিদের পাওয়ার টিলার দেয়ার নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
১০ গ্রামের ভরসা বাঁশের সাঁকো ॥ জনদুর্ভোগ চরমে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার, ১৪ ডিসেম্বর ॥ বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা জেলার পেকুয়া বারবাকিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের ১০ গ্রামবাসীর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ওসব এলাকার অধিবাসীদের নদী পারাপার নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের সংযোগ ভোলা খালের উপর বুধা মাঝির ঘোনা-মগনামা বাজার পাড়ায় একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো রয়েছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে গেছেন শুধু। ভোটের আগে অনেকে বাঁশের সাঁকোটি পাল্টিয়ে পিলারের সেতু স্থাপনেরও প্রতিজ্ঞা করে গেছেন। একাধিক জনপ্রতিনিধির জয়-পরাজয় ঘটলেও এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক বছর আগে ওই বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে এক স্কুল ছাত্রের মর্মানত্মিক মৃতু্য হয়েছিল। এরপরও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গেনি মোটেও। তারা আরও জানায়, বুধা মাঝির ঘোনা, মৌলভী পাড়া, জলিয়াবার পাড়া ও জালিয়াখালী এলাকায় কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় নদীর ওপারে পূর্ব মগনামা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় ওইসব এলাকার কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের। পূর্ব মগনামা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. আব্দুল মজিদ জনকণ্ঠকে জানান, প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী ওপার থেকে তারা স্কুলে শিক্ষা নিতে আসে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ওসব শিশুদের চরম ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোটি পাড়ি দিতে হয়। পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হুমাইয়া আলমগীর জানায়, ওই সাঁকোটি আমাদের স্কুলের একমাত্র মাধ্যম। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকোটির অবস্থা একেবারে নড়বড়ে হয়ে যায়। অনেক সময় সাঁকোটি ভেঙ্গে গেলে আমাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ দিতে হয়।
সংরক্ষণের অভাবে পাবনায় বধ্যভূমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১৪ ডিসেম্বর ॥ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে যারা পিছু পা হয়নি- সেই সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার ৪০ বছরেও যথাযথ মর্যাদা পায়নি। পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেইসব বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের গণকবর আর বধ্যভূমি। সারাবছর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে সকলেরই দৃষ্টি সীমার মধ্যে। এসব গণকবরগুলোর বেশ কয়টি বর্তমানে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সরকার শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায়নি। সেই সব স্থানে কোন স্মৃতিসৌধ, স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণ করা হয়নি।
সদর উপজেলার বাবুর বাগান গণকবর ॥ পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের নাজিরপুর বাবুর বাগান (স্থানীয়ভাবে লিচু বাগান হিসেবে পরিচিত)। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাবনার শানত্মি কমিটির প্রধান রাজাকার আলবদর মাওলানা আব্দুস সুবহানের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতে পাকিসত্মান হানাদার বাহিনী ওই বাগানে গর্ত করে পাবনার মহররমসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাসীকে গুলি করে ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ওই বাগানের কয়েকটি স্থানে তাদের গণকবর দিয়ে মাটি চাপা দেয়।
টেবুনিয়া কৃষি খামারে গণকবর ॥ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবনার টেবুনিয়া কৃষি খামার। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাবনা শহরের নূরপুর ডাকবাংলো থেকে রাজাকার ও পিস কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস সুবহানের খবরের ভিত্তিতে আকবর হোসেন আকু, হাসান খাঁ, দুলাল, হায়দার আলী, পুলিশ সিহাহী আলস্না রাখা, মন্টু মিয়া ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষকসহ ২০ জনকে পাকিসত্মানী হানাদারবাহিনী কালো কাপড়ে চোখ ও মুুখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় টেবুনিয়া ডাল ও তৈল বীজ খামারের শেষ প্রানত্মের একটি জঙ্গলের মধ্যে। পাকবাহিনী নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে ওই ২০ জনকে গুলি করে ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় পাবনা শহরের আরিফপুর মহলস্নার পানের দোকানদার বাদশা মিয়া। সেখানে বর্তমানে কোন শহীদদের গণকবরের স্মৃতি চিহ্ন নেই।
আটঘরিয়া উপজেলার বংশীপাড়া গণকবর ॥ পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া বংশীপাড়া ঘাট (শহীদ কালামনগর)। ৬ নবেম্বর মুক্তিযোদ্ধা, গ্রামবাসীর সঙ্গে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মোট ৪৩ জন সাধারণ গ্রামবাসী শহীদ হন। দীর্ঘদিন অযত্ন, অবহেলায় গোচারণ ভূমিতে পরিণত ছিল ওই স্থান। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ৰমতায় থাকাকালে সেখানে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। যথাযথ পরিচর্যা আর অবহেলায় পড়ে আছে স্মৃতি সৌধস্থান।
সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি গণহত্যা ও গণকবর ॥ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি গণহত্যা চালায় ১৯৭১ সালের ২৭ নবেম্বর। জেলার অন্য এলাকার একদল মুক্তিযোদ্ধা ধুলাউড়ি গ্রামে আশ্রয় নেয় এবং একই দিন ওই গ্রামে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় তৎকালীন আলবদর, আলশামস প্রধান মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এবং তাদের সহযোগিতায় পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী ওই গ্রামের চারিদিক ঘিরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধাদের এ্যাম্বুস করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে হত্যা করে। পাকিসত্মানী বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় রাজাকার কমান্ডার সাঁথিয়ার আব্দুস সাত্তার । এখানে পাকিসত্মানী বাহিনীর হাতে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশত গ্রামবাসী শহীদ হন। গণকবরটিতে স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণ করার দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও তা আজও হয়নি। সীমানা প্রাচীর দিয়ে গণকবরটি ঘিরে দেয়া হলেও তা চুনকাম না করায় নস্ট হয়ে যাচ্ছে।
ডেমড়া-বাউশগাড়ি গণকবর ॥ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার শেষ সীমানা এবং বনওয়ারীনগর ফরিদপুর উপজেলার সীমানত্মবতর্ী এলাকা ডেমড়া। এলাকাটি নিরাপদ ভেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হিন্দু মুসলমান ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ীরা এ গ্রামে আশ্রয় নেয়। ৩০ বৈশাখ শুক্রবার তৎকালীন আলবদর, আলশামস প্রধান মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এবং নির্দেশে তার স্থানীয় দোসর আসাদ রাজাকারের নেতৃত্বে এ গ্রামে ২শ' ৫০ জন হিন্দু ধর্নাঢ্য ব্যবসায়ীসহ প্রায় সাড়ে ৮শ' মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীকে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে পাকিসত্মান হানাদার বাহিনী। সেই সঙ্গে তারা এই এলাকায় ব্যাপক লুটতরাজ ও নারী ধর্ষণ করে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহৎ গণহত্যা চালায় পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী এই ডেমড়া গ্রামে। বর্তমানে ঝোঁপ আর জঙ্গলে পরিপূর্ণ এ গণকবরটি। ডেমড়া গ্রামে আরও যে গণকবর রয়েছে এখন তার স্মৃতি চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। যা দেখে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এ স্থানের নৃংশস হত্যাকা-ের কাহিনী। দেশের ক্ষমতা বদল হয়েছে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর বাউশগাড়ী গণকবরটি চিহৃিত হয়েছে এবং সেখানে একটি স্মৃতিফলক তৈরি করা হয়েছে। ডেমড়ার গণকবর তিনটি চিহ্নিত পর্যনত্ম করা হয়নি।
শহীদনগর ডাব বাগান গণকবর ॥ রাজধানীর ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার শহীদনগর ডাববাগান। এ স্থানে ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ১৯ জন ইপিআরসহ প্রায় ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, হিন্দু ব্যবসায়ী ও নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে এ দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনীর। ডাববাগানের এ যুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে এ গ্রামকে শহীদনগর নামকরণ করা হয়েছে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্থে তৎকালীন আওয়ামী লীগের তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও স্থানীয় বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের আর্থিক সহযোগিতায় 'বীরবাঙ্গালী' নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর কাজ এখনও করা সম্ভব হয়নি। অবহেলা আর অযত্নে স্মৃতিসৌধটি গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি অসমাপ্ত 'বীরবাঙ্গালীর' কাজ সমাপ্ত করে শহীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে বর্তমান সরকার। পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ও শহীদদের গণকবরগুলো অবহেলা আর অযত্নে বর্তমানে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। জেলার বিভিন্ন স্থানের গণকবরগুলো ওই সময়ের বয়োজ্যেষ্ঠদের সহযোগিতা ছাড়া সহজে চেনার উপায় নেই। বিভিন্ন এলাকার এসব গণকবরগুলো চিহ্নিত করা হোক এমন দাবি রয়েছে পাবনাবাসী।

কিশোরগঞ্জে ১২ বধ্যভূমি অরক্ষিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ১৪ ডিসেম্বর ॥ একাত্তরে বহু মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষকে নৃশংস হত্যার স্থান হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ১২টি বধ্যভূমির সুষ্ঠু সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে না উঠার কারণে এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিজয় লাভের ৪০ বছরেও চিহ্নিত করা হয়নি অর্ধশতাধিক বধ্যভূমিগুলো। এখনও অরক্ষিত সংরক্ষণযোগ্য ১২টি বধ্যভূমি। এসব বধ্যভূমিতে মিশে আছে দেড় হাজারেরও বেশি মুক্তিকামী বাঙালীর রক্ত। সরেজমিনে সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের শোলমারা ব্রিজসংলগ্ন বধ্যভূমিতে দেখা গেছে, নামফলক একটি স্মৃতিসত্মম্ভ থাকলেও বধ্যভূমিটি অত্যনত্ম অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা অবস্থায় রয়েছে। এখানে প্রতিদিন অবাধে চষে বেড়াচ্ছে গরম্ন-ছাগল। সংরক্ষণের অভাবে এ ভূমিটি যেন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এদিকে শহীদদের স্মরণে গত বছর জেলা সদরের বিন্নাটী মোড়ে একটি স্মৃতিসৌধের কাজ শুরম্ন হলেও এখন তা শেষ হয়নি। সংশিস্নষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনা ও এদেশীয় দালাল রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও মুজাহিদ বাহিনী সারাদেশের মতো কিশোরগঞ্জেও ব্যাপক অগি্নকাণ্ড, হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ-নির্যাতনের চিহ্ন রেখে গেছে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে দখলদার বর্বর পাকহানাদার বাহিনী জেলার ১২টি স্থানে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। সদর উপজেলার বড়ইতলা বধ্যভূমিতে ১৮৭ জন, শোলমারা ব্রিজসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ৩০ জন, সিদ্বেশ্বরী বাড়িঘাট বধ্যভূমিতে ১০০ জন, যশোদল টেঙ্টাইল মিলসংলগ্ন নদীরপাড় বধ্যভূমিতে ১৫০ জন, মণিপুরঘাট ব্রিজসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ১০০ জন, লতিবাবাদ ইউনিয়নের বড়পুলের নিচের বধ্যভূমিতে ৫০ জন, কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টারের সরকারী বাসভবনসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ১৫০, দানাপাটুলি ইউয়িনের ধুলদিয়া ব্রিজসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ২০০ জন, হোসেনপুর উপজেলার কুড়িঘাট বধ্যভূমিতে ৫০ জন, ভৈরব উপজেলার পানউলস্নারচর শিবপুর (আলগারচর) বধ্যভূমিতে ৭০০ জন, কটিয়াদী উপজেলার সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন বধ্যভূমিতে ৪০ জন ও মানিকখালী রেলস্টেশনসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা-জনতাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ১২টি বধ্যভূমির মধ্যে শুধু সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বড়ইতলা ও ভৈরব উপজেলার পানউলস্নারচর শিবপুর (আলগারচর) বধ্যভূমিতে দুটি স্মৃতিসত্মম্ভ স্থাপন করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানি ॥ দুই বখাটের কারাদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ দুই কলেজছাত্রীকে প্রকাশ্যে টানাহেঁচড়া, যৌন হয়রানি ও মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ার অভিযোগে রাজশাহীর বাঘায় দুই বখাটের এক মাস করে কারাদ- ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সকালে বাঘা থানা পুলিশ দুই বখাটেকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের এ রায় প্রদান করেন। দ-প্রাপ্তরা হলো উপজেলা সদরের শাহদৌলা ডিগ্রী কলেজের ছাত্র শাকিব আহমেদ ও পারভেজ খান। জানা গেছে, এই দুই ছাত্র একই কলেজের দুই ছাত্রীকে প্রায়ই যৌন হয়রানি করে আসছিল। সর্বশেষ বুধবার সকালে ওই দুই ছাত্রী কলেজে এলে বখাটে শাকিব আহামেদ ও তার বন্ধু পারভেজ খান তাদের পথরোধ করে প্রকাশ্যে টানাহেঁচড়া শুরম্ন করে। এর আগে তারা মোবাইল ফোনে তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।
এদিকে সকালের ঘটনায় বিরক্ত হয়ে ওই দুই ছাত্রী সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেৰিতে পুলিশ কলেজে হানা দিয়ে দুই বখাটেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। দুপুরে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম তাদের দোষ স্বীকার করায় এক মাসের কারাদ-, পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সাজা দেন। বিকেলে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, লম্পট শিৰকের বিরম্নদ্ধে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি, ১৪ ডিসেম্বর ॥ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউপির বালুটিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক কতর্ৃক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, বালুটিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু বক্করের বালুটিলা বাজার এলাকায় একটি ফার্মেসি রয়েছে। উক্ত দোকানের পেছনের কক্ষে তিনি বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের রীতিমতো প্রাইভেট পড়িয়ে আসছেন। নিত্য দিনের মতো প্রাইভেট পড়ানোর এক পর্যায়ে তিনি একা পেয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণ করে।

বিষ দিয়ে দু'লাখ টাকার মাছ নিধন
সংবাদদাতা, রাউজান, ১৪ ডিসেম্বর ॥ রাউজানের নোয়াপাড়ার পটিয়াপাড়ায় হাজীর দীঘিতে বিষ ঢেলে দুই লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। দীঘির অংশীদার মাহমুদুল হক বলেন 'মঙ্গলবার রাতে বিষ ঢেলে দেয় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারী। এরপর সকালে ভেসে ওঠে ছোট-বড় হাজার হাজার রম্নই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশসহ নানা প্রজাতির মাছ।'
দীঘির অংশীদার মাহমুদুল হক ও আবুল কালাম আরও বলেন 'দীঘির অংশনামা আছে ২৭ জনের। কারও সঙ্গে কোন বিরোধও নেই।
কক্সবাজারে ৬৩ হাজার ইয়াবার চালান উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার, ১৪ ডিসেম্বর ॥ কক্সবাজারের টেকনাফ নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬৩ হাজার পিছ ইয়াবার একটি চালান জব্দ করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এ পর্যনত্ম উদ্ধারকৃত ইয়াবার এটিই সর্বোচ্চ চালান।
কোস্টগার্ড কতর্ৃপক্ষ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাত থেকে কোস্টগাড সদস্যের একটি টহলদল নাফ নদীর নয়াপাড়া পয়েন্টে স্পীড বোট নিয়ে অবস্থান নেয়। বুধবার ভোর ৫টায় পাচারকারীদের ৩টি ট্রলার একযোগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল। তন্মধ্যে একটি ট্রলারে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে বর্মীরা। ও সময় কোস্টগার্ডের ধাওয়া খেয়ে পাচারকারীরা নাফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ৬৩ হাজার পিচ ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করে।

কালিয়াকৈরে ২৪ প্রহরব্যাপী নামযজ্ঞ
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের সেওড়াতলীর আশ্রম প্রাঙ্গণে বুধবার হতে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ২৪ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ শুরম্ন হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর রাধাকৃষ্ণের লীলাকীর্তন পরিবেশন করবেন দুলাল চক্রবতর্ী-টাঙ্গাইল, বাবুল মোহনত্ম-বগুড়া, পুষ্পরানী দেবনাথ-বগুড়া। আর নামের সুধা পরিবেশন করবেন অনাথ বন্দু সম্প্রদায়- ফরিদপুর, রাই রাখাল সম্প্রদায়- গোপালগঞ্জ, শ্রী বৃন্দাবন সম্প্রদায়- গোপালগঞ্জ, অদৈত্ব সম্প্রদায়- খুলনা, ভাই ভাই সম্প্রদায়- গোপালগঞ্জ, সত্য নারায়ণ সম্প্রদায়- খুলনা ও বাসুদেব সম্প্রদায়-টাঙ্গাইল। ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মহাপ্রভুর ভোগরাগ এবং ১৯ ডিসেম্বর দধিমঙ্গল, জলকেলি ও মোহনত্ম বিদায়। _বিজ্ঞপ্তি।
নিম্নমানের উপকরণে বাঘায় সড়ক নির্মাণ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর বাঘায় এককোটি ২৮ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশিস্নষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশের নির্দেশনা উপেৰা করে উপজেলার বাউশা ইউনিয়নে ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছেন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপৰ (বিএমডিএ)'র আওতায় কাজটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন অভিযোগ করে বলেন, আর কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো কাজটির প্রথম অংশের কাজ শেষ হবে। কিন্তু এখন পর্যনত্ম যে অংশ সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর ইট খোয়া উঠে যাচ্ছে। রাসত্মা দেখে চেনার উপায় নেই যে, এটি নতুন রাসত্মা। ইটগুলোও নিম্নমানের। তিনি অভিযোগ করেন, ভালভাবে সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার টাকা খরচ করছে। অথচ বরাদ্দ টাকার তিন ভাগের একভাগও খরচ হচ্ছে না। লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের সদস্য আকরাম আলী অভিযোগ করেন, 'কাজটির শুরম্ন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক অনিয়ম করে আসছে। রাসত্মায় ওয়ার্ক পারমিট অনুযায়ী বালু এবং কার্পেটিংয়ে খোয়া দেয়া হচ্ছে না। এসব অনিয়মের অভিযোগ বিএমডিএ প্রকৌশলীদের অবগত করার পরও তারা এ বিষয়ে কোন পদৰেপ নিচ্ছে না।'
জানা যায়, চলতি বছরের ৮ জুন বিএমডিএ 'সুমন ট্রেডার্স' নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গেদুর মোড় থেকে অমরপুর সাধুর আখড়া পর্যনত্ম ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার রাসত্মার কাজ শুরম্ন করে। বর্তমানে এই রাসত্মার কাজ শেষ পর্যায়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাজ তদারকিতে সেখানে সরকারী কোন প্রতিনিধি নেই। কার্যাদেশ অনুযায়ী ডাবস্নুবিএম ৫ ইঞ্চি দেয়ার কথা থাকলেও ৩ ইঞ্চির বেশি দেয়া হচ্ছে না। বালু মাটি আর সামান্য খোয়া দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সড়ক। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এভাবে সড়ক করলে তিনমাসের মধ্যে সব উঠে যাবে। কিন্তুু ঠিকাদারের অনুমতির বাইরে তাদের কিছুই করার নেই।
অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপৰের সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হক বলেন, এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমরা এখনও রাসত্মাটি বুঝে নেই নি। তিনি বলেন, রাসত্মা ভাল না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় রাসত্মা নির্মাণ করে দিতে হবে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স সুমন ট্রেডার্সে'র পরিচালক সিরাজুর ইসলাম খোকন দাবি করেন, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি বলেন, কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ চলছে।
সিলেটে সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে বুধবার দুপুরে এক মহিলা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। উপজেলার রাজনগর খায়েরগাঁওয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোদেজা বেগম (৩৮) উপজেলার খায়েরগাঁওয়ের হানিফ মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, খায়েরগাঁওয়ের রমজান আলী ও লালচান্দ'র মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে রমজান আলীর লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে গেলে লালচান্দের লোকজন বাঁধা দেয়। এতে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে রমজান আলীর পক্ষের লোকজনের আঘাতে লালচান্দ পক্ষের খোদেজা খুন হন। আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। আহতদের মধ্যে গুরম্নতর অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নড়াইলে বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল, ১৪ ডিসেম্বর ॥ নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের খামার গ্রামে দুর্বৃত্তরা এক বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা করেছে। তার নাম ওহাব শেখ (৭৫)। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজ বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে তার জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, ওহাবের ভাই আলী আহম্মেদ শেখের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীর শিরোমনিস্থ মাত্তমডাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে । তার নাম নিয়ামুল ইসলাম পুটে (৩৮)। সে যশোর জেলার অভয়নগর থানার সিদ্দিপাশা গ্রামের নজরম্নল ইসলামের ছেলে। শিরোমনির মাত্তমডাঙ্গায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে নিয়ামুল ইসলাম পুটে একটি ফ্রিজ কিনে বাসায় রেখে আবারও বাইরে যায়। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফেরেনি। বুধবার সকালে এলাকাবাসী মাত্তমডাঙ্গায রাসত্মার পাশে পুটের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে খানজাহান আলী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

সাংবাদিক রঞ্জু হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৪ ডিসেম্বর ॥ দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা রিপোর্টার্স ফোরামের কোষাধ্যক্ষ ফরিদুর রহমান রঞ্জুকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাব সভাপতি রবিউল হোসেন পাতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নুরম্নজ্জামান সরকার, সাইদুর রহমান প্রধান, ফজলুল হক দুদু ও শাহ আলম সরকার। উলেস্নখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে রঞ্জু সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন।
রাজবাড়ীতে বাসচাপায় স্কুলছাত্রী নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজবাড়ী, ১৪ ডিসেম্বর ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে বুধবার দুপুরে সুমাইয়া আক্তার সুমি (৮) নামের প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। সে বহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পিতার নাম আব্দুল হালিম বিশ্বাস।
জানা গেছে, দুপুর দুটার দিকে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা মধুখালীগামী সোনার হরিণ নামের একটি লোকাল বাস বহরপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় সুমাইয়া আক্তার সুমিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহে শিবিরের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ, ১৪ ডিসেম্বর ॥ ছাত্র লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে ঝিনাইদহে ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতিসহ ১৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ব্যাপারীপাড়ার বসুন্ধরা ছাত্রাবাস থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে, শিবিরের জেলা সভাপতি শেখ শাহ জালাল, নেতা মাছুদ রানা, শফিউর রহমান, সামছুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, শফিকুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম, টিটো মিজান, আতিকুর রহমান, মারুফ হোসেন, শাহজাহান, সামিউল ও জিলস্নুর রহমান।
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের শাহাদাত বার্ষিকী পালন
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৪ ডিসেম্বর ॥ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪০তম মৃতু্য দিবস চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করেছে।
এ উপলক্ষে শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে মহিউদ্দীনের মাজারে পুষ্পসত্মবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, আলোচনাসভা ও গরিবদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদু্যৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মোহাম্মদ এনামুল হক। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান ও শহীদ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীনের ছোট ভাই মঞ্জুর হোসেন।
এরপর বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রেহাইচরে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর যুদ্ধরত অবস্থায় যে স্থানে শহীদ হয়েছিলেন দীর্ঘ ৪০ বছর পর সেখানে নির্মিত স্মৃতিসৌধের ফলক উন্মোচন করেন বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মোহাম্মদ এনামুল হক।
চাঁপাইনাবগঞ্জ শহরের রেহাইচর মহলস্নার সড়ক ভবনের সামনে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত সাড়ে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ এই নির্মাণ কাজ করে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
খুলনায় পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু মহম্মদ ফেরদাউসের ৫ম মৃত্যুবাষিকী উপলৰে বুধবার খুলনার জিয়া হলে স্মরণসভা ও স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি ও আবু মহম্মদ ফেরদাউস স্মৃতি পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ এম নুরম্নল ইসলাম (দাদু ভাই), মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরম্নজ্জামান টুকু, ভাষাসৈনিক সমীর আহমেদ, নরী উদ্যোক্তা ডেইলি ট্রিবিউন সম্পাদক ফেরদৌসী আলী এবং শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে এটিএম মুসত্মফাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি এসএম দাউদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নজরম্নল ইসলাম মঞ্জু ও সাবেক হুইপ এসএম মোসত্মফা রশিদী সুজা। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আবু মহম্মদ ফেরদাউস স্মৃতি পরিষদের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ জাফর ইমাম।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ ব্যবসায়ীর জরিমানা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ১৪ ডিসেম্বর ॥ উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন ও ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের পাশাপাশি কীটনাশক সংরক্ষণ করায় বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ও ঢোলারহাট এলাকায় ৯টি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনিরা পারভিন ওই ৯ দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার আদেশ দেয়। দ-িত দোকানগুলো হলো- সদর উপজেলার রম্নহিয়া মৌচাক হোটেলে ফ্রিজের ভিতর খাবারের পাশাপাশি ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিক শরীফ সরকারকে ৫ হাজার টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ সেভেনআপ বিক্রির অভিযোগে আওয়ালীন হোটেল মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবি
দেশজুড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি নিয়ে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলৰে শহীদ মিনার, শহীদদের স্মৃতিসত্মম্ভে ও বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করাসহ মানববন্ধন এবং আলোচনাসভা হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো_

রাজশাহী
যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবির মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পসত্মবক অর্পণ করা হয়।
বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।
সকালে রাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয় দিনটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে দিনভর ছিল আলোচনাসভাসহ নানা অনুষ্ঠান। এদিন শ্রদ্ধাবনত চিত্তে জনগণ স্মরণ করে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকবাহিনী ও দোসরদের হাতে নিহত খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, প্রকৌশলী, দার্শনিক, সাংবাদিকসহ দেশের সেরা সনত্মানদের। বিভিন্ন কর্মসূচীতে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম মঞ্জুর আলম, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। এদিন মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সকালে দোসত্ম বোল্ডিং চত্বরে আলোচনাসভা ও পুষ্পসত্মবক অর্পণ। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকায় ছিল বিসত্মারিত কর্মসূচী।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে এবং ডিসি হিলে মুক্তিযুদ্ধের বই মেলার মঞ্চে আলোচনা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। ডিসি হিলের আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। সকল অনুষ্ঠানেই যুদ্ধাপরাধী ও ঘাতকদের বিচারে দীপ্ত শপথ উচ্চারিত হয়।

সিলেট
সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সকালে নগরীর চৌহাট্টাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসত্মম্ভে পুষ্পসত্মবক অর্পণ। আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত। সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত শহীদ বৃদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ছুটে আসেন সর্বসত্মরের অগণিত মানুষ।

যশোর
যশোরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে শোকাবহ পরিবেশে যশোরের সর্বসত্মরের মানুষ পালন করছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সকালে চাঁচড়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসত্মম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সময় তারা রাজাকারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণ করেন। পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার শানত্মি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

বাগেরহাট
বাগেরহাটে যুদ্ধাপরাধীদের দ্রম্নত বিচারের দাবির মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ডাকবাংলো ঘাটে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বদ্ধভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসত্মম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্টপার্টি, বিএমএ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলের নেতাকর্মী ও ব্যক্তি পুষ্পমাল্য দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। পরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসত্মম্ভ পাদদেশে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, মীর শওকাত আলী বাদশা এসপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরম্নজ্জামান টুকু, জেলা প্রশাসক আকরাম হোসেন, পুলিশ সুপার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, মীর ফজলে সাইদ ডাবলু বক্তৃতা করেন।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট পৌর শাখার উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গাইবান্ধা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী ও ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণের দাবিতে বুধবার জেলা শহরের ডিবি রোডে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি হসত্মানত্মর করা হয়। গাইবান্ধা জেলা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটি এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। মানববন্ধনে সাংবাদিক, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির দাবির পাশাপাশি ৭১-এর বধ্যভূমিগুলো দখলমুক্ত করে তা সংরক্ষণ করা এবং সেখানে স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণের দাবি জানান। সেই সঙ্গে সদর উপজেলার কামারজানী বাজারসংলগ্ন বধ্যভূমিটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

দিনাজপুর
দিনাজপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচী নেয়া হয়। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চেহেলগাজী মাজারের শহীদ স্মৃতিসত্মম্ভে পুষ্পসত্মবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দিবসটি পালনে জেলা প্রশাসন, শিশু একাডেমী, দিনাজপুর সরকারী কলেজ, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী আলোচনাসভা, দোয়া-খায়ের ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচী পালন করে।