মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশের ম্যাচ আজ
মিথুন আশরাফ ॥ সংবাদ সম্মেলন শেষ। যখন আর কোন প্রশ্ন থাকল না, তখন জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা মুখে এক গাল হাসি নিয়ে বাংলায় বললেন, ‘শেষ!’ সবাই আশ্চর্য, এ কী; জিম্বাবুইয়ানের মুখে বাংলা কথা! সেই বাংলা কথাটাও আবার স্পষ্টভাবে ‘শেষ’। সেই শেষই দেখবে জিম্বাবুইয়ে। ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ আজ। হয়ত শেষটাও হার দিয়েই হবে জিম্বাবুইয়ের। তাহলেই জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে দেবে বাংলাদেশ। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ।
পারবে বাংলাদেশ তা করে দেখাতে? বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আত্মবিশ্বাসী সুরেই বললেন, ‘এখন আর এক এক করে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা যাবে না। আর একটি ম্যাচই আছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচেও জিততে চাই। এ জন্য যা যা করা দরকার আমরা করব।’
এই কাজটি করতে পারলে ২০০৬ সালের পর আবার জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এ নিয়ে ৫৭ সিরিজ খেলে দুই ম্যাচ বা তার বেশি ম্যাচের সিরিজে ৮টিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার অর্জনও নিজেদের ভাণ্ডারে যুক্ত করবে। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়েকেই দুইবার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়বে। সর্বশেষ গতবছর নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১০ সালেও নিউজিল্যান্ডকেই ৪-০ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়) হারায়। তারও আগে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে, ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে, ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে, একই বছর কেনিয়াকে ৩-০ ও ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়ার সম্ভাবনার আগেই অবশ্য বাংলাদেশ সিরিজের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় করে নিয়েছে। ২০০৫ সালে জিম্বাবুইয়েকে ৩-২ ব্যবধানে হারানো দিয়েই বাংলাদেশের সিরিজ জয় শুরু হয়। সেই থেকে ১৬ সিরিজ জয় হয়ে গেছে বাংলাদেশের। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৪ রানে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়েই সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ওয়ানডেতে জিতে এখন জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। আজই সেই দিন।
বছরজুড়ে হারতে থাকা দলটি যদি এমন জয় পায়, তাহলে দলের ক্রিকেটারদের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই শান্তি, স্বস্তি, আনন্দ জুড়িয়ে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বেলাতেও তাই ঘটছে। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হারছে তো হারছেই। টানা ১২ ওয়ানডেতে হেরেছে বাংলাদেশ। অবশেষে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে গিয়ে জয়ের সন্ধান পেয়েছে। মাশরাফি যেন এই জয়কে অতিমাত্রায় উৎসবে পরিণত করতে রাজি নন। তাইত বলেছেন, ‘আসলে বছরজুড়ে যেভাবে হেরেছি আমরা, কিছু ক্লোজ ম্যাচও হেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই তখন আমাদের মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না। এমন সময় গিয়ে জয় পাওয়া যে কোন দলের জন্যই স্বস্তির। তবে শেষ ম্যাচটি জিতলে যে অনেক বেশি আনন্দ লাগবে তা না। আনন্দ লাগবে। তবে সেই আনন্দ বছরজুড়ে হারতে থাকার পর জয়ের ধারা বজায় রাখায়।’
জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে বাংলাদেশ দুইবারই এমন স্বাদ পাবে। ৫ ম্যাচের সিরিজে সব ম্যাচ হয়েছে, এমন সিরিজে একবারই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেটি ২০০৬ সালে জিম্বাবুইয়েকেই। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রথমবার এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর নিউজিল্যান্ডকে ২০১০ সালে ৫-০’তে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেতে পারত। কিন্তু একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ সিরিজটিতে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিও এমন কৃতিত্ব গড়তে পারতেন। কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে প্রথম ওয়ানডেতেই মাশরাফিকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। হাবিবুলের পর তাই আর কেউ সেই কৃতিত্ব গড়তে পারেননি। এবার জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলে মাশরাফি সেই অর্জন নিজের অধিনায়ক ক্যারিয়ারে যুক্ত করবেন। সেই চেষ্টাই মাশরাফি ও তার দল করবে। তবে এমন অর্জনে গা ভাসিয়ে দিতে রাজি নন মাশরাফি, ‘আনন্দত লাগবেই। অধিনায়ক হিসেবে এমন কৃতিত্ব সত্যিই আনন্দের। তবে সবার আগে পঞ্চম ম্যাচটিও জিততে হবে। জিতলে আনন্দ অবশ্যই লাগবে। তাই বলে সেই আনন্দে ভেসে যাওয়া যাবে না। নেতৃত্ব নিয়ে আমার কোন ভাবনাই নাই। সবার আগে আমাকে দলের একজন সদস্য হিসেবে পারফর্ম করতে হবে। এরপর বাকি সব। কে অধিনায়ক তা আমার দেখার বিষয় না। অধিনায়ক নিয়ে কোন চ্যালেঞ্জও আমার নেই। তবে হ্যাঁ শেষ ম্যাচটি জেতার চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে এবং আশা করছি আমার নেতৃত্বেই দল খেলবে।’
মাশরাফি সবসময়ই দলকে উজ্জীবিত করেন। তার উজ্জীবনী শক্তি দলকেও ভাল খেলতে সহায়তা করে। এবারও সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। টানা ৪ ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন। পঞ্চম ওয়ানডেও খেলবেন। পুরোদমে ফিট থেকেই খেলবেন। বার বার তার নেতৃত্বে দল সিরিজ শুরু করে। কিন্তু শেষটা আর করতে পারেন না মাশরাফি। এবার পারছেন। আর সেই পারায় আজ জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার ম্যাচ বাংলাদেশের।
কোচ মরিনহোর অস্বীকার ॥ মেসির জন্য চেলসির চার শ’ কোটি!
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ লিওনেল মেসির বার্সিলোনা ছাড়ার গুঞ্জনে খবর দিয়েছে ‘এক্সপ্রেস নিউজ’। সংবাদ মাধ্যমটি লিখেছে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরকে পেতে ২০ কোটি পাউন্ড খরচ করবে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৪১৯ কোটি প্রায়! ‘বার্সায় ভাল নেই গোল মেশিন মেসি’, এমন খবর প্রচারের পর থেকেই তাকে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে সব ক্লাব। কিন্তু চেলসি এত টাকা পাবে কোথায়? স্পোর্টস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ্যাডিডাস নাকি অর্থের যোগান দেবে। তবে শুক্রবারের এ খবর শনিবারই নাকচ করে দিয়েছেন জোসে মরিনহো। চেলসি বস জানিয়েছেন মেসিকে কিনে নেয়ার তথ্য সত্য নয়। ওদিকে বার্সিলোনার ১১৫তম জন্মদিনে (২৯ নবেম্বর) শুভেচ্ছা জানিয়ে মেসি যে বক্তব্য রেখেছেন তাতেও ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত মেলেনি। সুতরাং ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
মরিনহো মুখে যাই বলুন, ধুরন্ধর চেলসি বস খুদে জাদুকর মেসিকে পেতে ভেতরে ভেতরে নাকি ঠিকই সচেষ্ট! এক্সপ্রেস নিউজের খবর খায়েস পূরণে সব ক্লাবকেই হয়ত পেছনে ফেলে দিতে পারেন ‘দ্য স্পেশ্যাল ওয়ান’। এ জন্য মোক্ষম দুটি চালই চেলেছেন তিনি। নামী স্পোর্টস ব্র্যান্ড এ্যাডিডাসের হাত ধরে আসরে নেমে পড়েছে চেলসি। যারা চেলসিকে ২০ কোটি পাউন্ড খরচের শক্তি যোগাতে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে। কারণ, এ্যাডিডাস চেলসির জার্সি বানানো ছাড়া মেসিরও অন্যতম স্পন্সর। মেসির বুট থেকে রিস্টব্যান্ড, সব কিছুই বানায় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বার্সেলোনার জার্সি তৈরি করে আবার এ্যাডিডাসের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাইকি! শোনা যাচ্ছে, এ্যাডিডাসের কর্মকর্তারা ঠিক করেছেন মেসিকে তারা চেলসিতে নিয়ে আসবেনই! সূত্রটি আরও জানায়, ইউরোপজুড়ে এখন ফেয়ার-প্লের নিয়ম চালু হলেও, চেলসি মালিক ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন মারিনহোকে, স্বপ্নের ফুটবলারকে যেভাবেই হোক নিজের দলে সই করাতে। গোপনে কাজ চালালেও, জনসমক্ষে প্রসঙ্গ উঠতেই মারিনহো বলেন, ‘ঘটনা সত্যি নয়। আমি এই প্রসঙ্গে কোন কথা বলব না।’ আর বার্সিলোনার ১১৫তম জন্মদিনে ক্লাবকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসি তার ফেসবুক পেইজে লেখেন, ‘আমি বার্সেলোনার ফুটবলার। বার্সার জন্মদিনে ক্লাবকে অভিনন্দন জানাতে চাই। লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জয় দিয়ে ক্লাবের জন্মদিন উদযাপন করব আমরা।’ ক্লাবের পক্ষ থেকে অভিনব পদ্ধতিতে ১১৫তম বর্ষ উদযাপন করা শুরু করেছে বার্সার ফুটবলাররা। ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ নতুন ট্যাগলাইন নির্বাচন করেছে ‘সোক কুলার’। যার অর্থ ‘আমি একজন বার্সার সমর্থক’। ইংরেজীতে কাতালানদের আদ্যাক্ষর ‘সি’। আর তাই হাতের পাঁচটি আঙ্গুল এক করে ইংরেজী ‘সি’ অক্ষরের মতো করে সকলকে ছবি আর ভিডিও পোস্ট করতে বলছে বার্সা। মেসিও তাই-ই করেছেন।
নাখোশ শারাপোভা...
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুক্রবার থেকে ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় বসেছে ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার টেনিস লীগের (আইপিটিএল) জম জমাট আসর। পিট সাম্প্রাস থেকে এ্যান্ডি মারে, মারিয়া শারাপোভা থেকে সানিয়া মির্জাসহ কে নেই এই আয়োজনে। ম্যানিলায় যেন তারার হাট। তবে আসর শুরু হতেই অনাহুত বিতর্কে উঠে এসেছে শট-ক্লক! যা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন ডাকাবুকো অনেক তারকা। রুশ গ্ল্যামার কুইন শারাপোভা তো মহাবিরক্ত। এটিকে ডিজগাস্টিং, স্নোজ বলে উল্লেখ করেন ২৭ বছরের টেনিস ললনা।
অভিনব এই শট-ক্লক আসলে কী? দুটি পয়েন্টের মাঝে, দুই ওভারের মাঝে, এমনকি দুই সেটের মাঝে খেলার বিভিন্ন সময়ে চলছে এই শট-ক্লক। ঘড়ির নিয়ম না মানলে পয়েন্ট কাটা যাচ্ছে অভিযুক্ত দলের। আলোচিত-সমালোচিত সব নতুন নিয়মের এবারের ম্যানিলা আইপিটিএলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে শট-ক্লকও, যেন দর্শকদের উদ্দেশে বলতে চাইছে, ‘ব্রেক দ্য কোড’। তবে শারাপোভার অভিযোগে শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে অভিনব-ঘড়ি। ‘এক কথায় শট-ক্লকের ঝিঝি মারা শব্দ আমাকে তন্দ্রাচ্ছন্নœ করে তুলছে। উদ্যেমের খেলা টেনিসে এমন জঘন্য জিনিস কিভাবে স্থান পেল, সেটিই বুঝতে পারছি না!’ চরম বিতৃষ্ণার সুরে বলেন শারাপোভা। শুক্রবার মিশ্রদৈতে নাম্বার সিক্স এ্যান্ডি মারেকে নিয়ে হেরে যাওয়ার পর শট-ক্লক নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। এক পর্যায়ে খেলার মাঝেই হতাশা প্রকাশ করে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ তোলেন মহা বিরক্ত শারাপোভা। ‘বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিত, সমাদৃত রুশ তারকার প্রশ্নÑ ‘কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হুট করে এমন একটি টুর্নামেন্টে এ ঘড়ি ব্যবহার নির্বোধের কাজ। শট-ক্লাকের শব্দ হয় খেলার মনোযোগ নষ্ট করছে, নয়ত তন্দ্র্রার সৃষ্টি করছে!’ আরও যোগ করেন শারাপোভা। শারাপোভার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন কার্লোস ময়া, সানিয়া মির্জাসহ আরও অনেকেই। কেবল শট-ক্লকের ব্যবহারই নয়, এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি বিভাগেই পয়েন্ট বণ্টনেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। ক্লক নিয়ে আপক্তি অসন্তোষ থাকলেও ইন্ডিয়ান সেনসেশন সানিয়ার শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। মিক্সড ডাবলসে সিঙ্গাপুর সø্যামার্সকে ২৬-১৬ তে উড়িয়ে দিয়েছে সানিয়া-রোহন বোপান্নার ইন্ডিয়ান এসেস। ব্রুনো সোরেস ও ড্যানিয়েলা হাঞ্চুকোভাদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত ৬-৪এ পার্থক্য গড়েন তারা। আর সাবেক চ্যাম্পিয়ন্স বিভাগে প্যাটট্টিক র‌্যাফটারকে ৬-৫এ হারান সানিয়ার এসেসের ফ্যাব্রিস সন্তোরো।
মিক্সড ডাবলসে জিতলেও পুরুষদের ডাবলসে ভারতকে হতাশ করেন রোহন বোপান্না। সিঙ্গাপুরী জুটির কাছে ২-৬এ হেরে যান বোপান্না-মনফিলস। ২৮ নবেম্বর পর্দা ওঠা পাঁচ দলের জমজমাট টেনিস আয়োজন আইপিটিএল চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারত, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন দলের হয়ে টেনিস দ্যুতি ছড়াচ্ছেন বিশ্বখ্যাত সব তারকা।
জয়ের জন্যই খেলতে চাই ॥ মাসাকাদজা
জিম্বাবুইয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মনে করেন হোয়াইটওয়াশ এড়ানো সম্ভব
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আর একটি ম্যাচ হারলেই হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। ইতোমধ্যেই সিরিজ হারিয়েছে সফরকারী জিম্বাবুইয়ে। তাই আর সেটা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। আগের চারটি ওয়ানডে নিয়ে তাই কোন দুশ্চিন্তা করছে না দলের কেউ। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে দৃষ্টি সবার। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে তাই জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশকে হারানোর সামর্থ্য আছে কিন্তু ব্যাটিং-বোলিং একই সঙ্গে জ্বলে না ওঠার কারণে হারতে হয়েছে। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে রবিবার সকালে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বললেন জিম্বাবুইয়ের টপঅর্ডার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তিনি মনে করেন সর্বশেষ ম্যাচে যেভাবে দল খেলেছে সেটাই বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে দলকে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারবে দল এমনটাই প্রত্যয় মাসাকাদজার কণ্ঠে।
প্রশ্ন ॥ আপনার কি মনে হয় ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারবেন?
মাসাকাদজা ॥ আমি তাই মনে করি। আমরা সম্ভবত বেশ কয়েকটি ম্যাচে ভালভাবেই ছিলাম। কিন্তু কয়েকটি ম্যাচে খুবই বাজেভাবে হেরেছি। কিন্তু অন্য দুটিতে আমরা অন্যভাবেই এসেছি। আমরা সেটাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয় সবার মধ্যে সেটা এখনও কাজ করছে।
প্রশ্ন ॥ অনেক সমন্বয় গড়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন আপনারা। শেষ ম্যাচে নতুন করে কি দেয়ার আছে?
মাসাকাদজা ॥ অধিকাংশ ম্যাচেই আমাদের যদি একটা অংশ কাজ করেছে তবে অন্যটা করেনি। আমরা যখন ভাল বোলিং করেছি, ব্যাটিং ভাল করতে পারিনি আবার ব্যাটিং ভাল করলে বোলিং খারাপ করেছি। তাই আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত আমরা যখন ভাল করতে পারব তখনই আমরা জিততে পারব।
প্রশ্ন ॥ শেষ ম্যাচে তাহলে কি জিম্বাবুইয়ের কাছ থেকে আগের চেয়ে উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে?
মাসাকাদজা ॥ হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি তাই মনে করি। সব ম্যাচেই বলতে গেলে আমরা নাজেহাল হয়েছি। সুতরাং আমি মনে করি যে কয়টি ম্যাচে আমরা ভাল করেছি সেটাই আমাদের জন্য আত্মবিশ্বাস হবে। সর্বশেষ ম্যাচে আমরা ৩০ রানে চার উইকেট ফেলে দিয়েছিলাম। আমরা যদিও শেষ পর্যন্ত নিজেদের সাফল্যটা ধরে রাখতে পারিনি কিন্তু আমার মনে হয় ম্যাচ জেতার সব সুযোগই আমাদের ছিল।
প্রশ্ন ॥ বাংলাদেশের পেসারদের কেমন মনে হয়েছে?
মাসাকাদজা ॥ আমি মনে করি সিমাররা খুব ভাল বোলিং করেছেন। নিশ্চিতভাবেই স্পিনাররা আমাদের অনেক বেশি সমস্যায় ফেলেছেন সিমারদের তুলনায়। কিন্তু যতটা আমরা ভেবেছিলাম তারচেয়ে বেশিই সমস্যা তৈরি করেছেন তাঁরা (পেসাররা)। আমার মনে হয় বাংলাদেশের অনেক সিমার আছেন ভাল করার।
প্রশ্ন ॥ কামুনগোজি ও সলোমন মিরে বেশ ভাল করেছেন। তাঁদের বিষয়ে আপনার মনোভাব কী? বিশ্বকাপে ভাল কিছু প্রত্যাশা করছেন?
মাসাকাদজা ॥ কামুনগোজি এমন একজন যার অভিষেক বেশ আগেই হয়েছে। তবে তিনি দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। এখন তিনি খুব ভালভাবে ফিরেছেন। সেটা আমারদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক বিষয়। আমরা তাঁর দিকে (সলোমন) তাকিয়ে আছি। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অনেকদিন খেলেছেন এবং এখন আমাদের হয়ে খেলতে ফিরে এসেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালভাবেই যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।
প্রশ্ন ॥ জিম্বাবুইয়ের পেসাররা পুরো সিরিজেই দারুণ বোলিং করেছেন। কাইল জারভিস কিংবা ব্রায়ান ভিটোরিরা থাকলে কি আরেকটু ভাল হতো?
মাসাকাদজা ॥ না, আমি মনে করি আমাদের এখন যেসব সিমার এ সফরে আছেন তাঁরা অনেক ভাল বোলিং করেছেন। সে কারণে আমার মনে হয় না খুব বেশি পার্থক্য হতো। এখানে যারা আছেন সবাই বেশ ভাল খেলেছেন।
প্রশ্ন ॥ আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিরিজ খেলছেন বলে মনে হচ্ছে?
মাসাকাদজা ॥ আমরা এরচেয়েও খারাপ সময় কাটিয়েছি। এখন সবকিছুই অনেক কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যিই আমরা খারাপ সময়ের মধ্যে আছি। কিন্তু আমরা শেষ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যেই নামব।
প্রশ্ন ॥ পানিয়াঙ্গারা সর্বশেষ ম্যাচ খেলেননি। তিনি কি এ ম্যাচে ফিরবেন?
মাসাকাদজা ॥ এখন পর্যন্ত একাদশ ঘোষণা করা হয়নি। তাঁকে শুধু বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল গত ম্যাচে।
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ ॥ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বিসিবি সভাপতির কাছে চিঠি রূপগঞ্জের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চলতি প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট ক্রিকেট লীগে টানা পাঁচ ম্যাচ জেতে শীর্ষে ছিল লিজেনন্ডস অব রূপগঞ্জ। নামে নতুন একটি দল হলেও গত আসরে তারা গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স নামে খেলে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে। এবারও শুরুটা সেভাবেই করেছিল দলটি। কিন্তু টানা দুই ম্যাচ হেরে গেছে দলটি। বিভিন্ন কৌশলে রূপগঞ্জকে শিরোপা বঞ্চিত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। সে কারণেই মাঠে ও খেলার ওপর খারাপ প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কিছু ক্ষমতাশালী কর্মকর্তার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের স্বরূপ জানাতে দলটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল ইতোমধ্যেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে চিঠিও দিয়েছেন। সমস্যা তুলে ধরে সে সব সমাধানের জন্য পাপনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
দুর্দান্তভাবেই এবার ২০১৪-১৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগ শুরু করেছিল রূপগঞ্জ। চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখার অভিযানে দারুণ খেলেছে দলটি। তবে হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে। টানা দুই ম্যাচ হেরেছে দলটি। এর পেছনে ষড়যন্ত্র বড় প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে রূপগঞ্জ কর্তৃপক্ষ। সবিস্তারে সে সব ষড়যন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে বিসিবি সভাপতি পাপনকে চিঠিও প্রদান করেছে দলটি। চিঠিতে দলের নাম পরিবর্তনে পাপনের পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি লীগে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে দলটি তাঁর প্রথমেই আছে ভেন্যু সংক্রান্ত। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে মূল ক্রিকেট ভেন্যুতে বেশি ম্যাচ পাওয়ার কথা থাকলেও সেটা পায়নি রূপগঞ্জ। সাত রাউন্ডের খেলা শেষ হয়ে গেছে মাত্র দুটি ম্যাচ মূল ভেন্যু মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেয়েছে রূপগঞ্জ। এমনকি অষ্টম, নবম ও দশম রাউন্ডেরও কোন ম্যাচ মিরপুরে দেয়া হয়নি তাদের। এ জন্য পাপনকে অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচ মিরপুরে দেয়ার আবেদন জানিয়েছে ক্লাবটি। আম্পায়ারিং নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে চিঠিতে। আগেও নির্দিষ্ট কিছু আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাঁদের আর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব না দেয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু পাপনের কাছে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে সেসব আম্পায়ারদেরই রূপগঞ্জের ম্যাচগুলোয় রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এবং দক্ষ আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ দিতে পাপনের কাছে দাবি করেছে দলটি। বিভিন্ন দলের সমর্থকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে রূপগঞ্জ। নিজেদের ম্যাচ ভিডিও করা আবেদন করার পরও ক্যামেরাম্যান আনার পর ক্যামেরা কেড়ে নেয়া হয়েছে যার প্রতিকার দাবি করেছে রূপগঞ্জ। তাছাড়া ম্যাচের দিন ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বসার জন্য হসপিটালিটি বক্সে কোন আসন দেয়া হয়নি এবং ভেন্যু ম্যানেজারকে তা জানিয়েও কোন প্রতিকার হয়নি বলে দাবি করেছেন বাদল।
মাশরাফির ভাবনায় ৫-০
সিরিজের শেষ ম্যাচ আজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হাতে যখন সুযোগ ধরা দিয়েছে ৫-০ করার, তখন কী আর এর বিকল্প ভাবা যায়। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও তা ভাবছেন না। আজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডের আগে তাই মাশরাফি ৫-০ ব্যবধান ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেন না। নিজেই বলেছেন, ‘৪-১ চিন্তাই করছি না।’ ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির বলা কথাগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।
* ৪-১ বেশি খারাপ-
মাশরাফি বিন মর্তুজা ॥ অবশ্যই এটা চিন্তা করছি না। চারটা ম্যাচ জেতার পরে অবশ্যই সব খেলোয়াড়রাই আত্মবিশ্বাসী। ক্রিকেটে এটা হতেই পারে। কিন্তু আমাদের জেতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। এবং আজকের ম্যাচটা জেতার জন্য যত দূর ভাল খেলা সম্ভব সেটা খেলতে হবে।
* এত পরিবর্তন-
মাশরাফি ॥ পরিবর্তন তো কেবল এখন না সৌম্য সরকারকে নেয়া হয়েছে আগের ম্যাচেও তাইজুল, রাজুকে নেয়া হয়েছে। পারফর্মেন্সের ওপর প্রভাব তখনই পড়বে, যখন দল এভাবে চিন্তা করবে। যাকে আনা হচ্ছে সে সক্ষম। তার ওপর নিশ্চয়ই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। তার ওপর যে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে সেটা করা এবং যারা ভাল করছে তাদের শেষ পর্যন্ত ভাল করা। এগুলো হলে মনে হয় না সমস্যা হবে।
* তামিমের খেলার সম্ভাবনা-
মাশরাফি ॥ মিটিংয়ের আগেই চলে আসছি এখানে সংবাদ সম্মেলনে। দল নিয়ে এখনও কথা হয়নি। ব্যাটিং অর্ডার যেভাবে আছে সেভাবে করবে। যদি বিকল্প খেলোয়াড় আসে, তাহলে সে ওই খেলোয়াড়ের জায়গায় খেলবে। আলাদা পরিবর্তনের কিছু নেই।
* পেসারদের পারফর্মেন্স-
মাশরাফি ॥ প্রথম একটা দুইটা ম্যাচে আসলে পেসারদের একটু সমস্যা হয়েছে। তারপর এখন ভাল করছে। এটা আসলে ব্যাকআপ করার ব্যাপার। আমাদের কন্ডিশনে বা বাংলাদেশে আমরা কখনই পেসারদের ব্যাকআপ করি না। সমর্থক থেকে শুরু করে কেউই না, কখনই না। একজন পেসার তৈরি হওয়া এই ধরনের কন্ডিশনে বা এই ধরনের দেশে তার ওপর কম্বিনেশন করা কঠিন হয়ে যায়। তিন পেসার নিয়ে খেলতে কেউই চায় না। বিশ্বকাপে যে কন্ডিশনে খেলবেন প্রায় ম্যাচেই তিন পেসার দরকার হতে পারে। শেষ দুইটা ম্যাচে পেসাররা খুব ভাল বল করেছে। রুবেল তো খুবই ভাল বল করেছে। আবুলও প্রথম ম্যাচ খেলল সেও খারাপ করেনি। আশা করি সামনে ওরা আরও ভাল করবে।
* ফিটনেস এবং আত্মবিশ্বাস-
মাশরাফি ॥ সত্যি কথা বলতে কি টেস্ট যখন খেলছি না সেহেতু আমার দায়িত্ব ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচে ভালভাবে অংশগ্রহণ করা। যদি পারফর্মেন্স ঠিক থাকে। যেহেতু আমি টেস্ট সার্ভিস দিতে পারছি না, এই চিন্তা করে ওয়ানডে, টি২০ খেলব। সেক্ষেত্রে এসে আমি ভাল অবস্থায় থেকেও বিশ্রাম যদি নেই সেটা অবিচার করা হবে। এটা সততায় থেকে ঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। অবশ্যই আমি আত্মবিশ্বাসী। আগের ম্যাচটা খেলা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। কারণ তার আগের দিন একদিনের গ্যাপ ছিল ওটা যখন পেড়েছি তখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছি।
* ৫-০ স্বস্তিধায়ক-
মাশরাফি ॥ এই মুহূর্তে এসে আর বলতে হচ্ছে না এক একটা করে এগিয়ে যাব। কারণ আমাদের সামনে একটাই ম্যাচ আছে। ফিনিশ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব সময় শেষটা ভাল হলে পরের ম্যাচ খেলার সময় ওটা মাথায় থাকে শেষ ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এটা ধারাবাহিকভাবে করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি অবশ্যই আশা করি খেলোয়াড়রা এটা সিরিয়াসলি নেবে এবং নিচ্ছে। আরও ভাল পারফর্ম করবে যেটা কি না শেষ চার ম্যাচের সমস্যাগুলো ছিল।
* অধিনায়ক হিসেবে হোয়াইওয়াশের স্বাদ-
মাশরাফি ॥ ৫-০ এটা এখন আমার ভেতর ফিল হচ্ছে। এখন আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে জিততে পারলে ৫-০ হবে। এটা খুব ভাল হবে। এর আগে যেটা করতে পারিনি, এখন এটা করে আলাদা শান্তি পাব বিষয়টা আসলে সেটা না। ভাল লাগবে, যে বছরটা গিয়েছে এই বছরটা অনেক জেতা ম্যাচ আমরা হেরে গিয়েছি। এগুলো হলে হয়ত এত সমস্যা আমাদের তৈরি হতো না। যে চাপগুলো আমাদের মাঝখান দিয়ে গিয়েছে এগুলো যেত না। জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে খেলার আগে কেউ চিন্তা করেনি আমরা ৫-০ জিতব এবং টেস্ট ৩-০ ব্যবধানে জিতব। এই চিন্তা কারও মাথায় আসেনি। এখন যদি কারও আসে আমি বলব সে সৎ না। ৫-০ যদি ইনশাল্লাহ এখন করতে পারি ছেলেদের কিছুটা ক্রেডিট পাওয়া উচিত।
* বিশ্বকাপেও অধিনায়ক-
মাশরাফি ॥ অধিনায়কত্ব করার জন্য আমি কোন চ্যালেঞ্জই নিচ্ছি না। আমি খেলার জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ নিতে পারি। অধিনায়কত্বের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ আমি নিতেও চাই না। এই মুহূর্তে একটাই চ্যালেঞ্জ আজকের ম্যাচটা জিততে পারা। কেননা আজকের ম্যাচে আমিই অবধারিতভাবে অধিনায়কত্ব করব। পরবর্তী কোন চ্যালেঞ্জ আমার নাই। যদি বিসিবি কোন সিদ্ধান্ত নেয় ওটাতেই আমি অনেক খুশি থাকব। আমি শুধু খেলোয়াড় হিসেবে খেলব।
রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড টানা ১৬ জয়
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিজেদের টানা জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার স্প্যানিশ লা লিগায় স্বাগতিক মালাগাকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা ১৬তম জয় পেয়েছে গ্যালাক্টিকোরা। এ্যাওয়ে ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোল দুটি করেন ফরাসী স্ট্রাইকার করিম বেনজমা ও ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেল। চলতি মৌসুমে লীগে নিজেদের মাঠে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে মালাগা। ম্যাচের শেষ দিকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইস্কো দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাকি সময় দশজন নিয়ে খেলতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের রেকর্ড টপকে গেছে রিয়াল। ১৯৬০-৬১ ও ২০১১-১২ মৌসুমে টানা ১৫ ম্যাচ জিতেছিল লা লিগার সর্বাধিক চ্যাম্পিয়নরা। লা লিগায় চলমান মৌসুমে প্রথমবারের মতো গোল পাননি ?সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে বেনজেমা ও বেলের দুটি গোলেই অবদান রেখে এই অতৃপ্তি ঘুচিয়েছেন বর্তমান ফিফা সেরা ফুটবলার।
প্রত্যাশিত জয়ে যথারীতি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান অক্ষুণœ রেখেছে রিয়াল। ১৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৩ পয়েন্ট ভা-ারে তাদের। রবিবার রাতের ম্যাচের আগে ১২ খেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ পয়েন্ট বার্সিলোনার। একই অবস্থায় থেকে তৃতীয় স্থানে ছিল বর্তমান শিরোপাধারী এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে গোলোৎসব করা রিয়াল পরশুও ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দলটি শুরু থেকেই খেলেছে দাপটের সঙ্গে। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলক্ষকের দৃঢ়তায় দুই গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ম্যাচের ১৮ রোনাল্ডো-বেনজেমার দারুণ সমঝোতায় প্রথম গোল পায় রিয়াল। বামপ্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ধোঁকা দিয়ে নিচু ক্রস দেন পর্তুগীজ তারকা। তা থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন বেনজেমা। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযেগ পেয়েছিল রিয়াল। কিন্তু ৩০ গজ দূর থেকে রোনাল্ডোর নেয়া ফ্রিকিক কোন রকমে প্রতিহত করেন স্বাগতিক মালাগা গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় রিয়াল। আর লজ্জা থেকে রক্ষা পান অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। পর্তুগীজ মিডফিল্ডার সার্জিও দারদারের ফ্রিকিক রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন তিনি। তার পায়ের ফাঁক গলে যাওয়া বলটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
বিরতির পরও আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে অতিথিরা। ৭৬ মিনিটে ম্যাচের সহজতম সুযোগটি পেয়েছিলেন সি আর সেভেন। কিন্তু ১২ গজ দূর থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রোনাল্ডো। ৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ হারায় রিয়াল। গ্যারেথ বেলের হেড ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৩ মিনিটে আর বিফল হননি ওয়েলস তারকা। নিজেদের সীমানা থেকে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোর বাড়ানো লম্বা ক্রসে বল রোনাল্ডোর মাথা হয়ে আসে বেলের কাছে। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার বেল। ৮৬ মিনিটে ইস্কো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের শেষ মিনিটে প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার সান্টাক্রুজ মালাগার হয়ে হেডে গোল করে ব্যবধান করেন ২-১। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।
দলের অপ্রতিরোধ্য ছন্দে বেজায় খুশি রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ম্যাচ শেষে সব কৃতিত্বই তিনি দেন খেলেয়াড়দের। ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, এটি অসাধারণ এক জয়। টানা এত ম্যাচ জেতা সহজ নয়।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দাপুটে জয়
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে শনিবার দাপুটে জয়ে সে স্বাক্ষরই রেখেছে লীগের ইতিহাসের সর্বাধিক ২০ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠ ওল্ডট্রাফোর্ডে ম্যানইউ ৩-০ গোলে পরাজিত করে অতিথি হালসিটিকে। রেড ডেভিলসদের হয়ে গোলগুলো করেন ক্রিস স্মালিং, অধিনায়ক ওয়েন রুনি ও ডাচ্ তারকা রবিন ভ্যান পার্সি। ইপিএলের এবারের আসরে এই প্রথম টানা তিনটি ম্যাচ জিতল ইউনাইটেড।
লীগে এখনও নিজেদের অপরাজেয় যাত্রা অব্যাহত রেখেছে চেলসি। তবে পরশু এ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের রুখে দিয়েছে স্বাগতিক সান্ডারল্যান্ড। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ধুঁকতে থাকা লিভারপুল কোন রকমে জয় পেয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকের গোলে দ্য রেডসরা ১-০ ব্যবধানে হারায় স্টোকসিটিকে। পরশুর অন্য ম্যাচে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স ৩-২ গোলে লিচেস্টার সিটিকে, ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড ১-০ গোলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে পরাজিত করে। বার্নলি-এ্যাস্টন ভিলা ও সোয়ানসি সিটি-ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যকার ম্যাচ দুটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পয়েন্ট খোয়ালেও লীগের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চেলসি। ১৩ ম্যাচে এখন পর্যন্ত অপরাজিত দলটির পয়েন্ট ৩৩। এক ম্যাচ কম খেলে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সাউদাম্পটন। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি তৃতীয় ও ২২ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থান তালিকার চার নম্বরে।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ম্যানইউ। ডান পায়ের আলতো শটে গোল করেন ক্রিস স্মালিং। জটলার মধ্যে স্মালিংয়ের হেড সিটির গোলরক্ষক রুখে দিলেও দলকে বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি। ফিরতি বলে গোল করেন ইংলিশ ডিফেন্ডার। ফিরতি শটটিও গোলরক্ষক দুইবারের প্রচেষ্টায় ফিরিয়ে দেন। কিন্তু গোললাইন প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে, বল দাগ পার হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দলপতি রুনি। ভ্যান পার্সির বাড়ানো বলে গোল করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বিরতির পর ৬৬ মিনিটে ইউনাইটেডের হয়ে তৃতীয় গোল করেন ভ্যান পার্সি।
ম্যাচ শেষে ম্যানইউ কোচ লুইস ভ্যান গাল রুনির প্রশংসা করলেও ভ্যান পার্সির সমালোচনা করেন। ভ্যান গাল বলেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর রুনির খেলার মান আগের থেকে অনেক ভাল হয়েছে। সে এখন ধারাবাহিকভাবে পারফর্মেন্স করছে। তিনি আরও বলেন, আমি এখানে আসার আগে রুনির অনেক প্রশংশা শুনেছিলাম। কিন্তু শুরুর দিকে তার পারফর্মেন্স খুব একটা ভাল দেখিনি। কিন্তু এখন সে অনেক উন্নতি করেছে। ডাচ্ কোচ আরও বলেন, রুনি এখন ম্যানইউর অধিনায়ক। আমি তার ব্যাপারে খুবই খুশি। সে অন্য ফুটবলারদের জন্য একটি ভাল উদাহরণ। আমি মনে করি রুনিই বর্তমানে এই ক্লাবের যোগ্য অধিনায়ক।
শারজায় ইনিংস হার পাকিদের, সিরিজ ড্র
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শারজা টেস্টে শক্তিধর পাকিস্তানকে ইনিংস ও ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১এ ড্র করল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ৩৫১ রানে গুড়িয়ে দেয়ার পর ৬৯০ রানের পাহাড় গড়ে কিউইরা। ৩৩৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৯ রানে অলআউট হয় পাকিরা! খেলার একদিন বাকি থাকতেই হার মানে মিসবাহ-উল হকের দল। আবুধাবির প্রথম টেস্টে ২৪৮ রানে জিতেছিল তারা। দুবাইয়ের দ্বিতীয়টি ড্র হয়। এ জয়ে তাই পিছিয়ে পড়েও সিরিজ ড্র করল ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের নিউজিল্যান্ড। ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বিজয়ী দলের নবীন স্পিনার মার্ক ক্রেইগ। আর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভাল বোলিং করে সিরিজসেরা পাক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। একই ভেন্যুতে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি২০ বৃহস্পতিবার।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৬৯০ রানের পাহাড় গড়ার পরই কার্যত শারজা টেস্ট বাঁচানোটা কঠিন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘরে মতো ভেঙ্গে পড়া মিসবাহরা শেষ পর্যন্ত আর লজ্জা থেকে বাঁচত পারেনি। ভাগ্যিস দ্বিতীয় ইনিংসে ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন আসাদ সফিক। নইলে লজ্জাটা আরও বড়ই হতো। পাকিস্তানের ২৫৯ রানের মধ্যে ১৩৭ করেছেন সফিক। বাকি ব্যাটসম্যানের নেই ন্যূনতম হাফ সেঞ্চুরি। চলতি মৌসুমে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক সফিক দৃঢ়তা দেখালেন বিপদের মধ্যে। যদিও সঙ্গীর অভাবে দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারলেন না তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার ট্রেন্ট বোল্টের বোলিংই ফেবারিটদের বেকায়দায় ফেলে। মাত্র ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। দির্ঘদিন পর দলে ফেরা ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ৫ ওভারে ২ মেডেনর সাহায্যে ৮ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এখনও ফুরিয়ে যাননি। ম্যাচে তার শিকার সংখ্যা ২টি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান সরফরাজ আহমেদের। এছাড়া হাফিজ ২৪, ইউনুস খান ০, অধিনায়ক মিসবাহ ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এর আগে নিউজিল্যান্ড রানের পাহাড় গড়ে অধিনায়ক ম্যাককুলাম ও তরুণ কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে ভর করে। বছরের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আগেরদিনই ব্র্যাডম্যানের পাশে নাম লেখান ২০২ রানে আউট হওয়া ম্যাককুলাম। মাত্র ৮ রানের জন্য উইলিয়ামসন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত (১৯২) হলেও শারজায় শনিবারের গল্পটা কেবল দুই কিউই ব্যাটসম্যানের। সঙ্গে রস টেইলর, কোরি এ্যান্ডারসন, টিম সাউদি ও মার্ক ক্রেইগের চার হাফ সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডকে রানের পহাড়ে চড়তে সাহায্য করে। এ নিয়ে ২০১৪ সালে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন ম্যাককুলাম। বসলেন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান ও সাবেক অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের পাশে।
১৯৩০ সালে একই বছরে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন প্রয়াত স্যার ডন, সর্বোচ্চ ৩৩৪। আর পন্টিং এ কীর্তি গড়েছিলেন ২০০৩ সালে, সর্বোচ্চ ২৫৭। তবে বছরে চার ডাবল সেঞ্চুরিতে সবার ওপরে মাইকেল ক্লার্ক। রেকর্ডের চেয়েও বড় ক্রেইগ-ম্যাককুলামের নৈপুণ্যে ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র করল কিউইরা।
হকিতে বাংলাদেশ মাঠে নামছে আজ চাইনিজ তাইপের জয়
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জুনিয়র (অনুর্ধ-২১) এএইচএফ কাপ হকি টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে এটিএন বাংলা। রবিবার আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেয়েছে চাইনিজ তাইপে। তারা ৪-৩ গোলে পরাজিত করে শ্রীলঙ্কাকে। তাইপের হয়ে উ পু দু’ট এবং লু ইউ ও হুসু চিং একটি করে গোল করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনটি গোল করেন কাসুন, তানভীর ও শহীদ। ম্যাচ শুরুর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার।


প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে আবার হার রূপগঞ্জের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা পাঁচটি জয়ের পর হুট করেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরেছে তারা। রবিবার বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রূপগঞ্জকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চমক উপহার দিয়েছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি (সিএ)। টানা দুই ম্যাচ হারল গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। আর এই সুযোগে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। ফতুল্লায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩২ রানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৫ রানের জুটিতে ভাল ভিত পেয়েছিল প্রাইম দোলেশ্বর। মেহেদি মারুফ ৬৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৬ ও রনি তালুকদার ৩৪ রান করেন। পরে ডেভিড মালান ৭০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪৫ রান করলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৬ রানেই গুটিয়ে যায় দোলেশ্বর। আফগান লেগস্পিনার রহমত শাহ ৩৮ রানে নেন তিন উইকেট। জবাব দিতে নেমে মাত্র ৪৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া মোহামেডান ৪৮.১ ওভারে ১৮৪ রানেই গুটিয়ে যায়। মোহাম্মদ মিঠুন ৭০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৮ ও আরিফুল হক ৩৭ রান করেন। মালান ২২ রানে ৩টি এবং দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় কোন জুটির দেখা পায়নি শেখ জামাল। ওপেনার মাইশুকুর রহমান একাই এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েই ব্যাট চালিয়েছেন এ ওপেনার। তবে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর দল চরম বিপর্যয়ে পড়ে।


এবার বলের আঘাতে আম্পায়ারের মৃত্যু

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ফিলিপ হিউজেসে মৃত্যুর দুই দিন পর এবার বলের আঘাতে প্রাণ হারালেন ইসরায়েলের এক আম্পায়ার। এ্যাশডড শহরে ক্রিকেট লীগের ম্যাচ চলার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। হতভাগ্য আম্পায়ার হিলেল আওয়াস্কের ইসরায়েলের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। ৫৫ বছর বয়সী ওই আম্পায়ারের ঘাড়ে বলের আঘাত লাগে। ¯'ানীয় এক খেলোয়াড় ইসরায়েলের একটি ওয়েব পোর্টালকে জানান, ব্যাটসম্যানের শটে বলটি সরাসরি বোলারের প্রান্তে থাকা স্টাম্পে লেগে আম্পায়ারের গায়ে লাগে। গুরুতর আহত অব¯'ায় দ্রুত তাকে পাশের শহর এ্যাশকেলনের একটি হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এমনিতে ইসরাইলে ক্রিকেট জনপ্রিয় খেলা নয় তবে এ্যাশডডে ভারত থেকে আসা অভিবাসীরা এটি খেলে থাকেন। আম্পায়ার হিলেল একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসরাইলী।

ফুটবল ম্যাচটি পাতানো ছিল না দাবি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঢাকা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগে ২৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডস সোশ্যাল ওয়েলফোর অর্গানাইজেশন ও স্বাধীনতা ক্রীড়া চক্রের মধ্যেকার ম্যাচটি পাতানো ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। ফ্রেন্ডস সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেনের পক্ষ থেকে গতকাল প্রতিবাদ লিপিতে এ কথা জানানো হয়। উক্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের মতে তারা পাতানো খেলায় অংশ নেয় না এবং পছন্দ করে না। তবে স্বাধীনতা ক্রীড়া চক্রের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোন আপত্তি করা হয়নি।



হিউজেসের জন্মদিনে বিমর্ষ ক্রিকেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ৩০ নবেম্বর ছিল প্রয়াত ফিলিপ হিউজেসের ২৬তম জন্মদিন। বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। মাইকেল ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে দলে ফেরাটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল। ভাবুন তো বেঁচে থাকলে কি আনন্দ পেতেন। একটি বল সব তছনছ করে দিল। সবাইকে কাঁদিয়ে আনন্দ-বেদনার উর্ধে চলে গেলন তরুণ হিউজেস। অস্ট্রেলিয়া তো বটেই রবিবার জন্মদিনে তাই আরেক দফা কাঁদল ক্রিকেটবিশ্ব।
১৯৮৮ সালের ৩০ নবেম্বর কলাচাষী বাবার ঘর আলো করে পৃথিবীতে এসেছিলেন ফিলিপ হিউজেস। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে ক্রিকেটার হবেন। বাবা-মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করে হয়েছেন আন্তর্জাতিক তারকা। প্রতিবছর ঘটা করে তার জন্মদিন পালন করে আসছে পরিবার। আগের জন্মদিনের চেয়ে এবারের জন্মদিনটা একটু বেশি উচ্ছ্বাস নিয়ে করতে চেয়েছিল হিউজের পরিবার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে ফের প্রত্যাবর্তনের অক্ষেপ। মায়ের হাতে কেক কেটে ২৬তম জন্মদিন পালন করবেন। এখন সেই বাবা-মাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সন্তানকে চিরবিদায় জানানোর! ২৬টি মোমবাতির আলো নয়, বুধবার জন্মশহর ম্যাকসভিলে জ্বলবে হিউজেসের শেষকৃত্যের মশাল! বিধাতার কি বিচার। ক্রিকেট প্রেমীদের প্রার্থনা যেখানেই থাক, ভাল থেকো হিউজেস। ২৫ নবেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে পেসার শন এ্যাবোটের বাউন্সারটা হুক করতে গিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন বাঁ-হাতি হিউজেস। মাথা ঘুরে গিয়েছিল পেছন দিকে। লাফিয়ে ওঠা বল এসে লাগে ঠিক হেলমেটের নিচে, কানের পেছন দিকে। কয়েক সেকেন্ড হাঁটুতে দু’হাত রেখে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকার পর মুখ থুবড়ে পড়ে যান সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচের ওপর। মিনিট পনেরোর মধ্যে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। মাথায় অস্ত্রপচার শেষে সেন্ট ভিন্টসেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (কোমা) লাইফ সাপোর্টে ২৫ বছর বয়সী হিউজেস। অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীর প্রার্থনা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার হিউজেসকে পরোলোকে তুলে নেন বিধাতা। হিউজেসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত করা হয়েছে প্রথম টেস্ট। বুধবার শেষকৃত্য, ক্লার্করা বৃহস্পতিবারই মাঠে নামেন কী করে? নিউসাউথ ওয়েলসের উত্তরাঞ্চলে ফিলিপ হিউজেসের জন্মশহর ম্যাকসভিলে সিএ’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে চিরবিদায় জানানো হবে। ফলে আপাতত স্থগিত বুধবার থেকে চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আরও জানিয়েছে, বুধবার দুপুর আড়াইটায় ম্যাকভিলের হাইস্কুল স্পোর্টস হলে হিউজেসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান দেশটির রেডিও-টেলিভিশনে এক যোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। স্থগিত প্রথম টেস্ট কবে শুরু হবে, সেটি শীঘ্রই জানিয়ে দেবে সিএ।
সাকিব-তামিমের শেষ সুযোগ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত দুই ম্যাচেই দারুণ সুযোগটা হারিয়েছেন দুই জনই। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে চার হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ ছিল সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও চতুর্থ ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সেটা করতে পারেননি সাকিব কিংবা তামিম কেউই। তৃতীয় ওয়ানডেতে দু’জনই আউট হয়েছেন ৪০ রান করে। আর চতুর্থ ওয়ানডেতে ছিলেন দু’জনই পুরোপুরি ব্যর্থ। ব্যাট হাতে তেমন কিছুই করতে পারেননি। তামিম ১৬ আর সাকিব মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফিরে গেছেন। ফলে কাক্সিক্ষত ৪ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি কারও। এখনও চার হাজার রান থেকে সাকিব ২৩ ও তামিম ৩৯ রান দূরে। আজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে শেষ সুযোগ দু’জনের সামনে নতুন এক মাইলফলক ছোঁয়ার। ব্যর্থ হলে অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কারণ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে কোন ওয়ানডে নেই বাংলাদেশ দলের।
জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে শুক্রবার চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নামার আগে সাকিবের ১৩৯ ওয়ানডে খেলে রান ছিল ৩৯৭৬ আর তামিমের ১৩৩ ওয়ানডে থেকে ৩৯৪৫। এ দু’জনই বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রানের মালিক। ৩৩ রান এগিয়ে ছিলেন সাকিব। এ ম্যাচেই সুযোগটা নিতে পারতেন তামিম আগে। কিন্তু মাত্র ১৬ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। ফলে এখনও ৪ হাজার রান থেকে তামিম পিছিয়ে আছেন ৩৯ রান। পরে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন সাকিবও। চার হাজার রান ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৪ রানের। দর্শকরাও অপেক্ষা করেছিলেন তাঁদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেয়া সাকিবের গৌরবময় অর্জন দেখতে। কিন্তু হতাশ করেছেন তিনিও। আউট হয়ে গেছেন মাত্র ১ রান করে। ফলে এখনও ২৩ রান পিছিয়ে আছেন সাকিব। পার্থক্যটা কমে গেছে তামিমের তুলনায়। এখন তাঁর চেয়ে মাত্র ১৬ রান পিছিয়ে তামিম। আজ পঞ্চম ম্যাচে তামিম ৩৯ রান করলেই বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পা রাখবেন চার হাজারি রানের ক্লাবে। স্বল্প সময়ের জন্য নামার সুযোগ পেলেও তা করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে সাকিবেরও। তিনি এখন সাধারণত ব্যাটিং অর্ডারে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করছেন। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে নিশ্চিতভাবেই প্রথম এ গৌরবের মালিক হতে যাচ্ছেন তামিম। আর সাকিবও মাত্র ২৩ রান করলে তিনিও ছুঁয়ে ফেলবেন তামিমকে। শেষ পর্যন্ত দু’জন ব্যাটসম্যানকেই চার হাজারি ক্লাবে একই দিনে দেখতে পারে দেশের মানুষ। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবেন দু’জন? এ দুই জনপ্রিয় ক্রিকেটারের ভক্ত-সমর্থকরা অধীর হয়ে অপেক্ষায় থাকবেন আজ। ১৩৪ ওয়ানডে থেকে তামিমের ক্যারিয়ার রান ৩০.০০ গড়ে ৩৯৬১ আর সাকিবের ১৪০ ওয়ানডে খেলে ৩৪.৮৮ গড়ে রান ৩৯৭৭।



ডিসি ফুটবলে আশাশুনি চ্যাম্পিয়ন


স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ ওয়ালটন-জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে কালীগঞ্জ উপজেলা দলকে ২০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আশাশুনি উপজেলা। রবিবার সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় দর্শকে পরিপূর্ণ। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে কর্নার কিক থেকে হেডের মাধ্যমে দুর্দান্ত গোল করেন আশাশুনি উপজেলার কিংস। দ্বিতীয়ার্ধের ৩২ মিনিটে আরও একটি গোল করেন আশাশুনির পক্ষে চুকা। ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল। ম্যাচের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোদাচ্ছের হোসেন ও ওয়ালটন গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক এফ এম ইকবাল-বিন-আনোয়ার (ডন)।
আজ পাকিস্তান যাচ্ছে পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল দল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায়, পাকিস্তান হ্যান্ডবল এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ৩ থেকে ৭ ডিসেম্বর, পর্যন্ত আইএইচএফ টুর্নামেন্ট ফায়সালাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন কর্তৃক বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল দল গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘ দেড় মাস আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনা মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল দলের পোশাক (ট্রাকস্যুট, কেডস, শার্ট-প্যান্ট, ব্লেজার, জুতো ইত্যাদি) এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড প্রদান করেছে। আজ বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল দল পাকিস্তানের ফায়সালাবাদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। এ উপলক্ষে শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ (পুরুষ ও মহিলা) হ্যান্ডবল দলের বিদায় সংবর্ধনা ও ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়। ফটোসেশনে এক্সিম ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. হায়দার আলী, ফেডারেশনের সভাপতি এ কে এম নূরুল ফজল বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের ম্যানেজারদ্বয় যথাক্রমে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও লাজুল নাহার করিম কস্তুরী, জাতীয় হ্যান্ডবল প্রশিক্ষক মোঃ কামরুল ইসরাম কিরণ এবং বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা দলের ক্যাপ্টেন সোহাগ হোসেন আরিফ ও তৃপ্তিসহ সব খেলোয়াড়গণ অংশগ্রহণ করে।


ফুটবলার রাকিবের অপারেশন এ মাসেই


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত ২১ নবেম্বর জনকণ্ঠের খেলার পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু প্রায় রাকিব’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটি অনেকেরই নজরে এসেছে। বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৬ জাতীয় ইনজুরিগ্রস্ত ফুটবলার রাকিব হাসানের চিকিৎসার খরচ দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন সমাজের একাধিক ক্রীড়াপ্রেমী মহৎ অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তি। সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আরও অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিশিষ্ট ক্রীড়াসংগঠক রাকিবের চিকিৎসার ব্যাপারে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। রাকিবের চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টাস ফোরামের সভাপতি শাহাদাত হোসেন জুবায়ের। গত রবিবার তিনি ও রাকিব ওই বিশিষ্ট ক্রীড়াসংগঠকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে যান। ওই ক্রীড়াসংগঠকের খরচে তারা সেখানে রাকিবকে ডাক্তার প্রশান্ত আগরওয়ালকে দেখান ও রাকিবকে এমআরআই টেস্ট করান, মঙ্গলবার রিপোর্ট নিয়ে আবারও ডাক্তারকে দেখান। দুজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রিপোর্টটি দেখে বলেন যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করাতে হবে। সে মোতাবেক আগামী ৯ ডিসেম্বর রাকিবের অপারেশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছে রাকিব। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কোরবানির ঈদের পর বিকেএসপির মাঠে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাঁ পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় লেফটব্যাক পজিশনে খেলা বগুড়ার এক দরিদ্র সবজি বিক্রেতার ছেলে রাকিবের। অপারেশন না করার ফলে তার চোটের অবস্থা এখন প্রকট আকার ধারণ করায় ক্যারিয়ার হয়ে পড়েছে সঙ্কটাপন্ন। এখন অপারেশনের জন্য কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু গরিব বাবা-মায়ের সামর্থ্য নেই এই টাকা যোগারের। উপয়ান্তর না দেখে রাকিব শরণাপন্ন হয় বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টাস ফোরামের। তাদের কাছ থেকেই বিষয়টি জেনে রাকিবকে নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট করে জনকণ্ঠ। ২০১১ সালে রাকিব ভর্তি হয় সাভারে বিকেএসপিতে। এরপর ২০১৩ সালে বগুড়া ফুটবল লীগের ১টি ম্যাচে (ফাইনাল) খেলা। অনুর্ধ-১৬ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ওই বছরই। সেবারই বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যায় নেপালে। বাংলাদেশ সেমি পর্যন্ত খেলে। সে আসরে দলের ৪ ম্যাচের ৩টিতেই খেলে রাকিব।