মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮
আজীবন নিষিদ্ধ হাম্মাম, ফুটবল বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
১০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম নজির, ক্ষুব্ধ কাতার
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) প্রধান মোহাম্মদ বিন হাম্মামকে সকল প্রকার ফুটবল কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার এ দু'দিন ধরে চলা শুনানি শেষে তার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ফিফার নীতিনির্ধারক কমিটি। আর এর ফলে ফিফা প্রতিষ্ঠার ১০৭ বছরের ইতিহাসে দুর্নীতির অভিযোগে উচ্চ পদের কর্মকর্তা হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগে শাসত্মি পাবার প্রথম নজির সৃষ্টি হলো। উলেস্নখ্য, গত ১ জুন ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেপ বস্নাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন নেন হাম্মাম। তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষের বিনিময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফুটবল ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন। এ বছর মে মাসে তিনি ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার প্রাক্কালে এ অর্থ আদান প্রদান করেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান পেত্রাস দামাসেব। এর পরই ৬২ বছর বয়েসী হাম্মামকে গত ২৯ মে সকল প্রকার ফুটবল কর্মকা- থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ এবং ফিফার নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত দু'দিন ধরে চলা শুনানি শেষে তাকে দোষী সাব্যসত্ম করে এ নিষেধাজ্ঞা প্রদান করল ফিফার নীতিনির্ধারক কমিটি। হাম্মামের ঘুষ আদান-প্রদানের বিষয়ে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের দু'কর্মকর্তা ডেবি মিনগুয়েল ও জ্যাসন সিলভেস্টারকে ১ বছর করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তবে দামাসেব বলেছেন, 'এ শাসত্মির প্রেৰিতে দোষী ব্যক্তিদের পরবর্তী আপীলের সকল পথ খোলা রয়েছে এবং আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা নিয়েও তদনত্ম চলবে।' অপরদিকে এ রায়ের ব্যাপারে তাৎৰণিকভাবে হাম্মামের কোন মনত্মব্য না পাওয়া গেলেও তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন হাম্মাম এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অবশ্যই এ রায়ের বিরম্নদ্ধে আপীল করবেন। আইনজীবীদের একজন ইউজিন গাল্যান্ড বলেন, 'ফিফা এথিকস কমিটি আইনগত ধারা অনুযায়ী এ রায়ের বিরম্নদ্ধে লড়াইয়ের যে পথ খোলা রেখেছে হাম্মাম সে পথেই এগোবেন। তিনি ফিফার সকল পদৰেপকেই নির্দ্ধিধায় মেনে নিয়েছেন।'
তবে শুনানি যেভাবে হয়েছে আর তাতে যে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে চরম অসনত্মোষ প্রকাশ করেছেন গুল্যান্ড। তিনি অভিযোগ করেন, 'ফিফা এথিকস কমিটি মনগড়া কিছু প্রমাণাদির প্রেৰিতে এ রায় দিয়েছে যা এ মামলাটিকে অমূলক ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছে। এ ছাড়া আমরা খেয়াল করেছি ফিফার কিছু কর্মকর্তা রীতিমতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।' এখন হাম্মাম এ রায়ের বিরম্নদ্ধে ফিফার নিজস্ব আপীল কমিটির কাছেই নতুন করে আপীল করতে পারেন। তবে সেখানেও মামলায় হেরে গেলে খেলাধুলা বিষয়ক সালিশ-নিষ্পত্তি আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন হাম্মাম। তবে রায়ের পরিপূর্ণ প্রতিবেদন এথিকস কমিটি প্রদান করবে আরও প্রায় ৭ দিন পর। এর পরই তিনি প্রয়োজনীয় পদৰেপ নিতে পারবেন।
কাতারের অধিবাসী বিন হাম্মাম ১৯৯৬ সাল থেকে ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ২০০২ থেকে এএফসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে অভিযুক্ত হওয়ার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি। এ রায়ের পর কাতারের গণমাধ্যমগুলো হাম্মামের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া কাতারের অধিবাসীরাও হয়েছে চরম ৰুব্ধ। তাদের দাবি এ রায়ের পরও এএফসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাম্মামের মর্যাদা ও সম্মান অৰুণ্ন থাকবে। দোহায় আল-জাজিরা স্পোর্টস চ্যানেলের লজিস্টিকস প্রধান মোহাম্মদ জোহার বলেছেন, 'এটা শুধুমাত্র হাম্মামের জন্যই নয় বরং কাতারের সকল অধিবাসীর জন্য দুঃখজনক একটা ঘটনা। আমি তার সঙ্গেই বড় হয়েছি এবং আমি শুরম্ন থেকেই জানি তার বিরম্নদ্ধে আনীত অভিযোগ বানোয়াট। সে ফুটবলের জন্য যা করেছে তা শুধু কাতারে নয় বরং সমগ্র এশিয়ার গ-ি পেরিয়ে আফ্রিকাতেও তার সুফল ছড়িয়ে গেছে। তাই তাকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয়া মানে তাকে হত্যা করা।' কাতারের অধিবাসীরাও ফিফার এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কাতারজুড়ে অসনত্মোষ ছড়িয়ে পড়লেও এএফসির সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি পিটার ভেলাপ্পন ফিফার এ রায়কে স্বগত জানিয়েছেন। তিনি হাম্মামকে আখ্যা দিয়েছেন 'দুর্নীতি ও ঘুষের স্থপতি' হিসেবে। তিনি এ রায়কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ এবং এটি ফুটবল ও ফিফার ভবিষ্যতের জন্য অত্যনত্ম ভাল বলে মনে করছেন। এ ছাড়াও ভেলাপ্পন কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপান ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট জুনজি অগুরা ও চীন ফুটবল প্রধান ঝ্যাং জিলং এ রায়ে দুঃখ প্রকাশ করে তা এশিয়ার ফুটবলের জন্য দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। আর কোরিয়া ও ওসেনিয়া ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি আরও ভাল করে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে।
লর্ডসে দ্রাবিড়ের সেঞ্চুরিতে রক্ষা ভারতের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেন 'দ্য ওয়াল'খ্যাত ভারতীয় ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়। কিংস্টনে গত ২০ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হাঁকিয়ে ছিলেন আগের শতকটি। তার চেয়েও বড় কথা লর্ডসের ঐতিহাসিক ২০০০তম ম্যাচে তার অপরাজিত ১০৩ রানের ওপর ভর করেই ফলোঅন এড়িয়েছে সফরকারীরা। চরম বিপদের মুখে দ্রাবিড়ই যে নম্বর ওয়ানদের বড় ত্রাতা_ সেটি প্রমাণ হলো আবারও। প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ৪৭৪ রানের জবাবে তার দায়িত্বশীল সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই ২৮৬তে পেঁৗছাতে পেরেছে ভারত। ওপেনার গাম্ভীর মাত্র ১৫ রানে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর নেমে এক প্রানত্ম আগলে রেখে নিজেদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং তকমার সম্মান বাঁচিয়েছেন এ বর্ষীয়ান হিরো। দ্রাবিড় ছাড়া সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, নূ্যনতম একটি হাফ সেঞ্চুরিও আসেনি আর কারও ব্যাট থেকে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ০ রানে ইশান্ত শর্মা যখন ফিরে যান দ্রাবিড় তখনও অনড় অবিচল নিজের প্রানত্মে। এটি ছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যক্তিগত ৩৩তম সেঞ্চুরি। ক্রিকেট মক্কা লর্ডসে সেঞ্চুরি মানেই বিশেষ কিছু; অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হবার সুযোগ। দীর্ঘ প্রায় ষোলো বছরের ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি হাঁকালেও মাস্টার বস্নাস্টার শচীনর মতো 'দ্য ওয়াল' দ্রাবিড়েরও এতদিন ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে ছিল না কোন সেঞ্চুরি। অথচ মহান এ কৃতিত্ব গড়ার সুযোগ এসেছিল ক্যারিয়ারের শুরম্নর ম্যাচেই। ১৯৯৬ সালের ২০ জুন ইংল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে সে টেস্টে সতীর্থ সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল দ্রাবিড়ের। মাত্র পাঁচ রানের জন্য গাঙ্গুলীর মতো লর্ডস অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি তিনি। যদিও এরপর লর্ডসে আরও চারটি ইনিংস খেলেছেন। একটি মাত্র অর্ধশতক ছাড়া উলেস্নখ করার মতো কিছুই করতে পারেননি। কিন্তু গতকাল ঠিকই পারলেন। ১৫ বছর আগের অপূর্ণতা ঠিকই ঘুচিয়ে নাম লেখালেন অনার্স বোর্ডে। ২২০ বলে ১৫টি চারের সাহায্যে করলেন ১০৩ রান।
অতি গুরম্নত্বপূর্ণ এ সেঞ্চুরি করে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত কয়েকটি মাইল ফলকে পেঁৗছে গেছেন দ্রাবিড়। সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে টপকে রান সংগ্রহের কাতারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে পেঁৗছে গেছেন তিনি। ১৫৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে (লর্ডসের প্রথম ইনিংস পর্যনত্ম) ৫২.৪০ গড়ে তার সংগৃহীত মোট রান ১২৪১৭। ১৪৭২৬ রান করে সবার ওপরে আছেন তারই সতীর্থ ব্যাটিং জিনিয়াস শচীন টেন্ডুলকর। আর ১২৩৬৩ রান নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে পন্টিং। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকাতেও এক ধাপ ওপরে উঠে এসেছেন রাহুল। ৩৩ সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার ৬ নম্বরে তিনি। ৫১টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এখানেও সবার ওপরে রয়েছেন শচীন। ৩৪টি করে সেঞ্চুরি নিয়ে তার আগের দুটি অবস্থানে আছেন যথাক্রমে সাবেক হয়ে যাওয়া সুনীল গাভাস্কার ও ব্রায়ান লারা। সেই হিসেবে বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়াদের মাঝে ৪ নম্বরে থাকছে দ্রাবিড়ের নাম। মাঝের দুটি যথাক্রমে দৰিণ আফ্রিকান তারকা জ্যাক ক্যালিস (৪০) ও রিকি পন্টিংয়ের (৩৯)।
টেস্টে রাহুল দ্রাবিড়ের তুলনা যে কেবল তিনি নিজেই, ভারতের গত কয়েকটি টেস্টের দিকে তাকালেও সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে সদ্যসমাপ্ত ক্যারিবীয় সফরে একাই টেনে তুলেছেন দলকে। তিন টেস্টের সিরিজে ব্যাট হাতে বলতে গেলে একাই জিতিয়েছেন ভারতকে। কিংস্টনের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে করেছিলেন যথাক্রমে ৪০ ও ১১২। এরপর ব্রিজটাউনের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানো ৫৫। তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আবার অপরাজিত ৩৪। যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইংল্যান্ড, ডমিনিকা থেকে লন্ডন! দলের ভরাডুবি ঠেকানোর পরও আনন্দের আতিশয্য এতটুকুও স্পর্শ করেনি বরাবরই প্রচারবিমুখ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম সত্মম্ভ দ্রাবিড়কে। ক্রিকইনফোকে যেমনটি বলেন, 'নিজেকে প্রমাণ করার নীতিতে বিশ্বাসী নই। যখন খেলি দল এবং দেশের জন্য খেলি। কঠিন পরিস্থিতিতে প্রথম ইনিংসে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট আমি।' সন্তুষ্ট হলেও এখানেই থেমে থাকতে হয়। ম্যাচ জিততে এখনও নিজেদের প্রবল সম্ভাবনার কথা উলেস্নখ করে বলেন, 'প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পরিনি আমরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেই এ সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সেটি সম্ভব বলেও বিশ্বাস করি।' এক মাসের ব্যবধানে দুটি গুরম্নত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি কিংস্টন এবং লর্ডস; কোন্টিকে এগিয়ে রাখবেন_ এমন এক প্রশ্নের উত্তরে অত্যনত্ম বিনয়ী ও দার্শনিক স্বভাবেন দ্রাবিড় বলেন, 'কিংস্টনে একঝাঁক তরম্নণদের নিয়ে ম্যাচ বের করাটা ছিল সত্যিই কঠিন, উইকেটও সহজ ছিল না। অবস্থার প্রেৰাপটে ওই সেঞ্চুরিটি ছিল খুবই খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। আর লর্ডস টেস্ট চলমান, এখানে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে...।'
নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতলেন রত্না
জাতীয় শূটিং, ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করেও রৌপ্য তৃপ্তির
মনিজা রহমান ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে দেখা দিল কাল গুলশান শূটিং কমপ্লেক্স। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে যেভাবে হয়, সেভাবে মনিটরে সরাসরি দেখানোর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বারের মতো আয়োজিত হলো মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্রতিযোগিতা। আবার পুরুষদের ৫০ মিটার প্রন রাইফেলে এই প্রথম শূট অফের আয়োজন করা হলো এদিন। মামলা আর আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত শূটিং ফেডারেশনের জন্য গতকালের দিনটা ছিল অন্যরকম। আগের দিন পুরুষদের এয়ার রাইফেলে ভাল স্কোর করতে পারেননি আবদুলস্নাহ হেল বাকী ও আসিফ হোসেন খান। তাদের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিল মেয়েরা। এয়ার রাইফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এমন পর্যায়ে কাকে দেখে কাকে রাখি এই অবস্থা। শারমিন আক্তার রত্না ২৫তম জাতীয় শূটিং প্রতিযোগিতাতে এসে গড়লেন নতুন রেকর্ড। বিকেএসপি শূটিং ক্লাবের তৃপ্তি দত্ত মূল প্রতিযোগিতাতে ৩৯৫ স্কোর করে রত্নার সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হলেও শূট অফে পিছিয়ে পড়ে হলেন দ্বিতীয়। তৃপ্তির জন্য তৃপ্তি এটাই যে, নিজের ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করে পেছনে ফেলেছেন শারমিন আক্তার ও সৈয়দা সাদিয়া সুলতানার মতো দেশসেরা শূটারদের।
এয়ার রাইফেল এতদিন মূল ইভেন্ট ছিল না সুদর্শনা তৃপ্তির। মূলত তাঁকে প্রন ও থ্রি পজিশনের খেলোয়াড় হিসেবে জানত সবাই। কিন্তু থ্রি পজিশনে ভাল মানের কোচ না পাওয়ায় এবং প্রনে উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে এয়ার রাইফেলের দিকে ঝুঁকে পড়ে ময়মনসিংহের মেয়েটি। গতকাল মূল প্রতিযোগিতাতে রত্না ও তৃপ্তি উভয়ই ৩৯৫ স্কোর করে নতুন রেকর্ড গড়েন। মেয়েদের এয়ার রাইফেলে ২৫ প্রতিযোগীর মধ্যে শূট অফে ভাগ্যের লড়াইয়ে আরও সুযোগ পান_ রাজারবাগ রাইফেল ক্লাবের শারমিন, চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের সাদিয়া, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সুরাইয়া, আর্মি শূটিং এ্যাসোসিয়েশনের আফসানা তৃণা, চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের ফারহানা বৃষ্টি ও নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের আলো সরকার। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরম্ন হওয়া শূট অফের প্রথম শটে ১০.২ স্কোর করেন রত্না ও তৃপ্তি দুজনই। দ্বিতীয় শটে তৃপ্তি একই স্কোর করেন। কিন্তু রত্না করে বসেন ১০.৮। পরের শটে ১০.৯ অর্থাৎ সর্বোচ্চ স্কোর। এভাবে ক্রমে তিনি ছাড়িয়ে যান তৃপ্তিকে। ১০.২, ১০.৮. ১০.৯, ১০.২, ১০.৩, ১০.৯, ১০.০, ১০.৮, ১০.৭, ১০.৫ অর্থাৎ মোট ১০৫.৩ পয়েন্ট স্কোর করেন রত্না ফাইনাল শটে। সর্বমোট ৫০০.৩ স্কোর করে এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ শূটিংয়ের স্বর্ণকন্যা প্রথম হবার পাশাপাশি ছাড়িয়ে যান নিজেকেও। এদেশের ইতিহাসে কখনও কোন মেয়ে ৫০০র ওপর স্কোর করতে পারেননি এয়ার রাইফেলে। নতুন জাতীয় রেকর্ডও গড়েন তিনি। ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জের সুরাইয়া ৩৯৪ স্কোর করে সর্বশেষ জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০০৯ সালে রত্না ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণালি সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি ছুঁয়ে দিয়েছিলেন সুরাইয়াকে। গতকাল তিনি ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেও। কিছুদিন আগে জার্মানিতে বিশ্বকাপ শূটিংয়ে ভরাডুবি হয়েছিল তাঁর। হঠাৎ এক মাসের কম ব্যবধানে এভাবে ঝলসে ওঠার কারণ কি? রত্নার উত্তর, 'আমার রাইফেলে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে ওটা ঠিক করে আনার পরে এখন বেশ ভাল অবস্থা। তাছাড়া একই মানের কয়েকজন শূটার থাকাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।'
বিষণ্ন মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তৃপ্তি। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে ও রৌপ্য নিয়ে তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে তাঁকে। শূট অফে তিনি ১০.২, ১০.২, ১০.৩, ১০.৩, ৯.৫, ১০.৩, ১০.৬, ১০.৫, ১০.২, ১০.৫ স্কোর করে ভাগ্যের কাছে হেরে যান। ৪৯৭.৬ স্কোর করে বিকেএসপির ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তৃপ্তি রৌপ্য পান। ইসলামাবাদ সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী শারমিন ৪৯৪.২ স্কোর করে ব্রোঞ্জ জেতেন। এসএসসি পরীৰার কারণে ভাল স্কোর গড়তে পারেননি সাদিয়া। ৪৯২.৪ স্কোর করে চতুর্থ হন তিনি। ওদিকে দুঃখভরা চোখে নিজের রেকর্ড ভাঙ্গা দেখতে হয় সুরাইয়াকে। কম বয়সে বিয়ে ও দুই মেয়ের জন্ম সব মিলে অকালে হারিয়ে যাওয়া এই শূটার ৫ বছর পর ফিরে এসে পঞ্চম হয়েছেন। এয়ার রাইফেলের কোচ শোয়েবুজ্জামান খুশি মেয়েদের পারফরমেন্সে। কিন্তু ছেলেদের এ রকম হতাশাজনক স্কোরের কারণ কী? আগের দিন ৫৮৬ স্কোর করে বাকী প্রথম ও ৫৮৫ করে আসিফ দ্বিতীয় হয়েছেন। শোয়েবের ভাষ্য, 'এই দুই খেলোয়াড়ই খেলার মতো ফিট ছিলেন না। বাকী তো অসুস্থতা থেকে ফিরে অনুশীলন ছাড়াই খেলল। আসিফও কিছুদিন আগে জন্ডিস থেকে সেরে উঠেছে।'
২০১২ লন্ডন অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় ক্যাম্প শুরম্ন হয়েছে শূটারদের। বাংলাদেশের কতখানি সুযোগ আছে কোটা পেস্নসে লন্ডন গেমসে অংশ নেবার? রত্না কি পারবেন অসম্ভব কিছু করে ফেলতে। ২০১০ সালে কমনওয়েলথ শূটিংয়ে স্বর্ণজয়ী শূটার বলেছেন, 'মানসিকভাবে ভাল অবস্থাতে থাকতে হবে এজন্য। গত মাসে জার্মানিতে ভাল খেলতে পারিনি। এখন একটাই সুযোগ কাতারে এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপ। ওখানে যদি প্রথম থেকে তৃতীয় হতে পারি, তবে সুযোগ থাকবে লন্ডনে সরাসরি খেলার। কিন্তু সেটা সহজ হবে না।' জাতীয় শূটিংয়ে গতকাল পুরম্নষদের প্রন রাইফেলে তৌফিক শাহরিয়ার চন্দন ৫৮৯ স্কোর করে প্রথম হয়েছেন। এটা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা স্কোর। ১৯৯৭ সালে নাসিরম্নদ্দিন জনির গড়া ৫৯০ স্কোর অল্পের জন্য স্পর্শ করতে পারলেন না কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের শূটার চন্দন। ৫৮৬ স্কোর করে শূট অফে ভাল করলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আর্মি শূটিংয়ের রমজান আলীকে। ৫৭৮ স্কোর করে গুলশান শূটিং ক্লাবের গোলাম সফিউদ্দিন শিপলু ব্রোঞ্জ পান। চতুর্থ থেকে অষ্টম সব পজিশন ছিল আর্মি শূটিং এ্যাসোসিয়েশনের দখলে। আনোয়ার, জুবায়ের, মালিক, আসাদুজ্জামান ও নুরম্নজ্জামান যথাক্রমে এই পজিশনগুলো দখল করেন।
জহিরের পর শচীনকে নিয়েও শঙ্কায় ভারত
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ লর্ডসের ঐতিহাসিক টেস্ট শেষ অবধি ভারতের জন্য দুঃসংবাদেরই অন্য নাম না হয়ে দাঁড়ায়! দ্বিতীয় ইনিংসের শুরম্নতেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনে বড় রকমের ধাক্কা দিয়েছেন ক্যারিবীয় সফরে চমৎকার নৈপূণ্য মেলে ধরা পেসার ইশান্ত শর্মা। প্রথম সেশনে ঝড়োগতির এক স্পেলে জোনাথন ট্রট, প্রথম ইনিংসের ডবল সেঞ্চুরিয়ান কেভিন পিটারসেন ও টপ অর্ডারের অন্যতম ভরসা বেলকে তুলে নিয়ে ৬৪/৫ এ পরিণত করেছেন ইংলিশদের। কিন্তু তবুও ভারতের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ, জহির খানের পর অসুস্থতার জন্য চতুর্থ দিনে ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি মাস্টার ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকর। গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে শারীরিক সমস্যার জন্য মাঠে দেখা যায়নি তাকে। ঠিক কি সমস্যা তার উলেস্নখ না করলেও টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় মিডিয়া জানায়, 'ভাইরাল ইনফেকশনে'র কারণে আপাতত মাঠে থাকার মতো অবস্থায় নেই শচীন। শীঘ্রই_ গতকাল অথবা আজই মাঠে দেখা যাবে কি-না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্রটি। তবে গতকালই মেডিক্যাল নির্দেশনা পাওয়ার জন্য শচীনকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে যোগাযোগ করে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের পরিচর্যায় থাকা দায়িত্বশীলরা। শততম টেস্ট সেঞ্চুরির সন্ধিৰণে দাঁড়িয়ে প্রথম ইনিংসে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি ভারতের শীর্ষ ব্যাটিং তারকা। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে গ্রায়েম সোয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৪ রান করেছিলেন শচীন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম অসুস্থতার জন্য মহাগুরম্নত্বপূর্ণ লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে না পারলে সফরকারীদের জন্য সেটি হবে সত্যি বড় দুঃসংবাদ। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরির কারণে প্রথম দিনেই মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়া জহির খানকে নিয়েও খানিকটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২১ তারিখ সন্ধ্যায় এমআরএফের পরই বলা হয়েছিল কেবল এই টেস্টই নয়, গোটা সিরিজে অনিশ্চিত দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলার জহির খান। তার পরও গতকালই উড়ো খবর রটে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে মাঠে দেখা যাবে তাকে_ অবশ্য এ রিপোর্ট লেখার সময় ভারত যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের পাঁচ উইকেট তুলে নেয়, তখনও মাঠে জহিরের টিকিটি পড়েনি। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে জহিরকে সহসাই পাচ্ছে না সফরকারীরা; সঙ্গে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হলো টেন্ডুলকরকে নিয়ে। সব মিলিয়ে বহুল আলোচিত ২০০০তম টেস্টে চ্যাম্পিয়নদের সার্বিক অবস্থাটা দেখার জন্য আজকের পঞ্চম ও শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ক্রিকেটভক্তদের।

বিশ্ব সাঁতারে চীনের আধিপত্য, ফেলপসের যুক্তরাষ্ট্রের হার
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সাংহাইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ সাঁতারে চীনের প্রাধান্যে শেষ হয়েছে প্রথমদিন। তবে ১০০ মিটার রিলে সাঁতারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাইকেল ফেলপসের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র খুব ধীর সূচনা করে। আর সে সুযোগে অনেকটাই এগিয়ে যায় আমেরিকান সাঁতারম্নরা। আর এর ফলে অসিরা ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে শীর্ষে থাকা ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে যায় আর তৃতীয় স্থানে ঠেলে দেয় মার্কিনীদের। প্রথমদিনে পুলে ঝড় তোলা চীনা সাঁতারম্নরা ডাইভিংয়ে প্রথম ১০টিতে নিজেদের প্রাধান্য ধরে রাখার পর এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যতিক্রম। এর আগে দৰিণ কোরিয়ার পার্ক তায়ে-হোয়ান ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে চীনের সুন ইয়াংকে পরাজিত করে চীনের একক আধিপত্য খর্ব করতে শুরম্ন করেন। আর এটি ছিল চীনা সাঁতারম্নদের দুটি ব্যক্তিগত ইভেন্টে একমাত্র ইভেন্ট যেটিতে তারা সোনা ও রূপা দুটিই জিততে ব্যর্থ হয়। এ ইভেন্টে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির পল বাইডারম্যান ব্রোঞ্জ জেতেন।
অধিনায়ক ধোনি এক ম্যাচে নিষিদ্ধ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ খ্তগটা আগেই ঝুলেছিল। সেস্না ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি ভোগ করতেই হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। নিয়মানুযায়ী ঘণ্টায় ১৫ ওভার করে বল করার কথা। কিন্তু দুটি করে কম অর্থাৎ লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে ঘণ্টায় তার বোলারদের দিয়ে ১৩ ওভার করে বোলিং করিয়েছেন ধোনি। এতে বছরের প্রথম সাত মাসের মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো সেস্না ওভার রেটিং করল ভারত। আইসিসির আইন অনুসারে ১২ মাসে তিন ম্যাচে সেস্না ওভার রেট হলেই শাসত্মি পেতে হয় অভিযুক্ত দলের অধিনায়ক ও বোলারদের। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত গত মাসের সভায় অবশ্য তিন থেকে কমিয়ে দুই ম্যাচে সেস্না বল করলেই নতুন করে শাসত্মির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে_ যেটি কার্যকর হবে ২০১২ সাল থেকে। এর আগে জানুয়ারিতে দৰিণ আফ্রিকার বিরম্নদ্ধে এবং সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেস্না ওভার রেটে বোলিং করে ভারত। অতঃপর লর্ডসে আবার একই ভুল করায় এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তেই হচ্ছে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে।

জেমস এ্যান্ডারসন বাজিকরদের খপ্পরে!
স্পোর্ট রিপোর্টার ॥ ক্রিকেটে বাজির কথা শুনলেই সবার আগে ভেসে ওঠে পাকিসত্মান, দুবাই ও উপমহাদেশের ছবি। গত বছর লর্ডস কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সে ধারায় বড় রকমের একটা ছেদ এনে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটার। কুলীন আর ভদ্র সমাজ ইংলিশ ললাটে এঁকে দিল কালিমা। কাউন্টি ক্রিকেট ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য মাচে বাজির কথা শোনা গেলেও ইংল্যান্ডের কোন জাতীয় ক্রিকেটারের মুখে এমনটি খুব উচ্চারিত হয়নি, যেমনটি বললেন জেমস এ্যান্ডারসন। না চলতি লর্ডস টেস্টে নয়, গত বছর ফেসবুকে বাজির প্রসত্মাব পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের নম্বর ওয়ান বোলার। 'নামে ও পরিচয়ে ভারতীয় পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয় আমাকে। এর পর ক্রমশ চ্যাটিংয়ে অনলাইনে আমাদের সম্পর্ক কিছুটা বিশ্বসত্ম হতেই সে বাজির প্রসত্মাব দিয়ে বসে আমাকে! কোটি কোটি ডলারের লোভও দেখানো হয়'_ জানান তিনি। অবশ্য কোন্ ম্যাচ বা সিরিজকে সামনে রেখে বাজিকররা তাকে প্রসত্মাব দিয়েছিল সেটি নিশ্চিত করে বলেননি এ্যান্ডারসন।

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল মঙ্গলবার শুরু
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবাহনী মাঠসংলগ্ন ধানমণ্ডি উডেন ফ্লোর বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়ামে 'শেখ কামাল আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপ' শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। প্রতিযোগিতা শেষ হবে আগামী শনিবার।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় এই চ্যাম্পিয়নশিপে সার্কভুক্ত মোট ৬টি দেশ অংশ নেবে। ভারত (পশ্চিম বাংলা) নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া ও স্বাগতিক বাংলাদেশ অংশ নেবে। চ্যানেল আই এই প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সব খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
রবিবার এ প্রতিযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, সাধারণ সম্পাদক লে. কমান্ডার একে সরকার (অব), প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক সিটি সেলের চিফ অপারেটিং অফিসার ডেভিড লী, হেড অব মার্কেটিং কমিউনিকেশন তাসলিম আহমেদ এবং সিটিসেল ও ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এবারই প্রথম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুজ ভ্রাতা শেখ কামালের স্মরণে বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশন শেখ কামাল আনত্মর্জাতিক বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ডেভিড লী ও তাসলিম আহমেদ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, 'সিটিসেল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সর্বদাই সচেষ্ট। তারই ধারাবাহিকতায় বাস্কেটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সিটিসেল ২৪তম জাতীয় বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশীপ ও বাস্কেটবল লীগ পরিচালনায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।' মঙ্গলবার প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমানের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তিনিই।
খেলতে পারবেন তামিম তবে...
বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে সিরিজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সুসংবাদই মিলেছে। তবে সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। জিম্বাবুইয়ে সিরিজে টেস্ট খেলতে পারবেন কিনা বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল, এই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তা দূর হয়ে গেছে। শঙ্কামুক্ত এখন তামিম। জিম্বাবুইয়ে সিরিজের শুরু থেকেই অংশ নিতে পারবেন বাংলাদেশ ওপেনার। তবে আগামী কয়েকদিন তামিমকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ঝুঁকি এড়ানোর জন্য তার রানিং বন্ধ থাকবে। জিম্বাবুইয়ে যাওয়ার আগে কিংবা পরে সামান্য কোন অসুবিধা ধরা দিলেই তামিমের টেস্ট খেলা আর হবে না। অর্থাৎ এখনও ঝুঁকিমুক্ত নন বাংলাদেশ ওপেনার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানান, 'ওর (তামিম) স্ক্যান করানো হয়েছে। যে স্থানে ইনজুরি আছে সেই কুচকিতে আলট্রাসনোগ্রাফ করানো হয়। যেটা ধরা পড়ে তা হচ্ছে ডান পায়ের কুচকির মাংসপেশীতে টান পড়েছে। যে মাত্রায় টান পড়েছে তাতে দুই থেকে আড়াই সপ্তাহ লাগে ঠিক হতে। সোমবার অথবা মঙ্গলবার তাকে নেটে ব্যাটিং করানোর চেষ্টা করা হবে। কিন্তু আগামী ৫ দিন একেবারেই রানিং ও ফিল্ডিং করতে পারবে না তামিম।'
যেহেতু দুই আড়াই সপ্তাহ লাগবে সেরে উঠতে, তাহলে কী টেস্ট খেলতে পারবেন না তামিম? প্রশ্নটি করতেই দেবাশীষের জবাব, 'তার ইনজুরি হওয়ার পর থেকে ধরা হচ্ছে এই সময়সীমা। সেই হিসেবে আশা করছি সিরিজের মূল ম্যাচগুলো খেলতে পারবে তামিম। এখন টেস্ট ম্যাচ আদৌ খেলতে পারবে কিনা এ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। হাতে কয়েকদিন সময় আছে। বিদেশী ফিজিও (ভিভব সিং) আছেন। তিনি সোমবার তামিমের ইনজুরি স্থান দেখবেন। এরপর বলা যাবে। সময়সীমা যেহেতু শেষ এবং এখন সুস্থ তামিম তাই আশা করা যায় টেস্টও খেলতে পারবে ও। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারবে কিনা এ নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। আগামী কয়েকটা দিন তার জন্য অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ। কোন ঝুঁকি নেয়া চলবে না। তা হলে টেস্ট খেলতে পারবে। আর ঝুঁকিতে পড়ে গেলেই সমস্যা।' দেবাশীষের শেষ কথাটিতেই বোঝা যাচ্ছে তামিমকে নিয়ে শঙ্কা না থাকলেও এখনও ঝুঁকিমুক্ত নন। সামনের দিকগুলোই এখন বলে দেবে ইনজুরি পুরোপুরি মুক্ত হয়ে টেস্ট খেলতে পারবেন কিনা তামিম।
ল্যাবএইডে গতকাল রবিবার দুপুরে তামিমের ইনজুরিজনিত অংশে স্ক্যান করানো হয়। ডান পায়ের কুচকিতে ব্যথা পেয়েছিলেন তামিম। ১ জুলাই ডার্বিশায়ারের বিরম্নদ্ধে ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েন। কিন্তু এর পরও খেলা চালিয়ে যান। কাউন্টি ক্রিকেট খেলে আসার পর থেকে ইনজুরির কারণে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি। ইনজুরির দিন থেকে সময়সীমা হিসাব করলে তামিমের সুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। দুই সপ্তাহের বেশি সময় অতিক্রমও করেছে। কিন্তু ইনজুরির পরও কাউন্টিতে খেলে যাওয়ায় শঙ্কা করা হচ্ছিল তামিমকে না আবার টেস্ট ম্যাচ খেলা থেকেই বিরত থাকতে হয়। কিন্তু আপাতত তা আর হচ্ছে না। সুস্থ তামিম। তবে আগামী কয়েক দিন ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে হবে বাংলাদেশ ওপেনারকে।
জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে সিরিজে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল বুধবার সকালে দেশ ছাড়বে। জিম্বাবুইয়ে যাওয়ার আগ পর্যনত্ম তামিম রানিং, ফিল্ডিং করতে পারবেন না। সেখানে গিয়েই ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অন্য কাজও করতে পারবেন। তবে যেহেতু আরও ৫ দিন রানিং, ফিল্ডিং করা থেকে বিরত থাকতে হবে তাই ৩০ জুলাই তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে তামিম অনিশ্চিতই বলা চলে। এই সময়টায় নিজেকে ফিট বানিয়ে ৪ আগস্ট শুরম্ন হওয়া একমাত্র টেস্টে নামবেন তামিম। এমনই আশা সবার। আর ১২, ১৪, ১৬, ১৯ ও ২১ আগস্ট পর পর পাঁচ ওয়ানডেতে তামিম খেলতে পারবেন অনায়াসেই। যদি শেষ পর্যনত্ম শঙ্কামুক্তের সঙ্গে ঝুঁকিমুক্তও থাকেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম।
তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট পেরু
পেরু ৪-১ ভেনিজুয়েলা, পাওলোর হ্যাটট্রিক
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ উরুগুয়ের কাছে হেরে সেমিতে কপাল পুড়েছিল পেরুর। স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ফাইনালে যাওয়ার। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সেই আৰেপ অনেকটাই ঘুচিয়েছে পেরম্ন। লা পস্নাতা স্টেডিয়ামে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে পরশু রাতে তারা জয় পেয়েছে ৪-১ গোলে। দারুণ এই জয়ে কোপা ফুটবলের সমাপ্তিও মধুর হলো লা রোজিবস্নাঙ্কাদের। দলের হয়ে এই দিনে রীতিমতো জ্বলে উঠেছেন স্ট্রাইকার পাওলো গুয়েরেরো। প্রথমার্ধ বেশ হাড্ডাহাড্ডি হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভেনিজুয়েলার রৰণভাগ বেশ আলগা হয়ে যায় মুহুমুর্হু আক্রমণে। আর এই সুযোগেই পেরম্নর হয়ে হ্যাটট্রিক করে ফেলেন হামবুর্গের তারকা স্ট্রাইকার পাওলো। তিন গোল করার সুবাদে কোপা আমেরিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি। সুয়ারেজ ও এ্যাগুয়েরোর তিন গোলকে পাশ কাটিয়ে পাওলোর মোট গোল ৫টি। গোল্ডেন বুট পাওয়ার ৰেত্রে তাই তিনিই এগিয়ে থাকলেন। তবে গত রাতের ফাইনালে উরম্নগুয়ের লুইস সুয়ারেজ যদি একাধিক গোল করে থাকেন, তাহলে হিসাব পাল্টে যাবে। পাওলোর এমন জ্বলে ওঠার দিনে দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোপা ফুটবলে তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করল পেরম্ন। দু'বারের চ্যাম্পিয়ন পেরম্ন (১৯৩৯, ১৯৭৫) শেষবারের মতো তৃতীয় হয়েছিল ১৯৮৩ সালে।
অনেকটাই চমক দেখিয়ে এবারের কোপা আমেরিকা ফুটবলের সেমিতে উঠে এসেছিল ভেনিজুয়েলা। ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়ে তুলেছিল তারা। ১২০ মিনিটের ধুন্ধুমার লড়াই শেষে টাইব্রেকারে হেরেছিল হুগো শ্যাভেজের দেশ। নির্ধারিত সময় প্রতিপৰের চেয়ে ভাল খেলেও টাইব্রেকারে পরাজয় , হৃদয়ে রক্তৰরণ হয়েছিল ভেনিজুয়েলানদের। তবে তাদের লৰ্য ছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়। তবে পেরম্নর বিরম্নদ্ধে হয়ত ভাগ্যই তাদের সহায়তা করেনি। প্রথমার্ধে পেরম্ন এগিয়ে ছিল মাত্র ১-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরম্নতে টমাস রিনকন দ্বিতীয়বারের মতো হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ভেনিজুয়েলা। আর এই সুযোগ বেশ ভালমতোই কাজে লাগায় পেরম্ন। পাওলো একে একে করেন তিনটি গোল।
ব্রোঞ্জপদক লড়াইয়ে পেরম্ন-ভেনিজুয়েলার এই ম্যাচটি ছিল অনেকটা ফাইনালের মতো। আর তাই শুরম্ন থেকেই ছিল দুই দলের আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণ। তবে এৰেত্রে এগিয়ে ছিল পেরম্নই। ৪১ মিনিটে পেরম্নকে ১-০ ব্যবধানে লিড এনে দেন চিরকুই। তবে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ছিল ভেনিজুয়েলা। তারা কয়েকটি আক্রমণ করলেও তা পূর্ণতা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধের জন্য উঠে পড়ে লাগে ভেনিজুয়েলা। কিন্তু এই অর্ধে কপাল পোড়ে তাদের। পেরম্নর কার্লোস লোবাটনকে অবৈধ ট্যাকলের দায়ে লাল কার্ড পান ভেনিজুয়েলার মিডফিল্ডার টমাস রিনকন। টুর্নামেন্টে রিনকনের এটি দ্বিতীয়বারের মতো লাল কার্ড প্রাপ্তি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্যারিয়াস বাহিনী। আর এই সুযোগ বেশ ভালমতোই কাজে লাগাতে শুরম্ন করে পেরম্নর স্ট্রাইকাররা। ৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পাওলো গুয়েরেরো। দুই গোল হজম করার পরও ১০ জনকে নিয়ে বেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ভেনিজুয়েলা। শুধু তাই নয়, দুরনত্ম ছন্দে ৭৭ মিনিটে একটি গোলও পরিশোধ করে তারা। দলের হয়ে এই গোলটি করেন এ্যারাঙ্গো। এরপর ম্যাচে সমতা আনতে বেশ ক'বার পেরম্নর রৰণভাগে হানাও দেয় তারা। কিন্তু কাজের কাজ হযনি। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একুট বেশিই যেন জ্বলে ওঠেন পেরম্নর স্ট্রাইকার পাওলো। ৮৯ মিনিটে তার করা গোলে পেরম্ন লিড নেয় ৩-১ এ। অতিরিক্ত সময়ে দৰতার সঙ্গে নিজের ও টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকও পূরণ করেন পাওলো। আর নির্ধারিত সময় শেষে দারম্নণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেরম্ন। দারম্নণ জয় দিয়ে কোপা মিশন শেষ করতে পারায় ভীষণ খুশি পেরম্নর হ্যাটট্রিকম্যান পাওলো গুয়েরেরো। 'আমরা খুব খুশি যে, দারম্নণভাবে টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান দখল করেছি। এই স্থানের জন্য আমাদের ঘামও ঝরাতে হয়েছে অনেক। 'পাওলোর কণ্ঠে ঝরেছে কোচ সার্জিও মারাকারিয়ানের প্রশংসাও। তার মতে এই কোচের অধীনেম পেরম্ন উত্তরোত্তর সফলতা পেয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আরও উন্নতি হবে দলের। হ্যাটট্রিক করা প্রসঙ্গে পাওলো নিজের কৃতিত্বের চেয়ে দলীয় পারফরমেন্সকেই ওপরে তুলে ধরেছেন। 'আমি দলের জন্য কাজ করি, সেটাই বেশি গুরম্নত্বপূর্ণ আমার কাছে। উরম্নগুয়ের সঙ্গে সেমিতে হেরে বেশ হতাশায় ভুগছিলাম আমরা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভাল করতে পেরে সেই হতাশা কিছুটা তাড়াতে পেরেছি। সঙ্গে হ্যাটট্রিক তো আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।' পেরম্নর উরম্নগুয়েন কোচ মারাকারিয়ানের দৃষ্টিতে এই জয়ের অর্থ ভিন্ন। গত বিশ্বকাপ ফুটবলে বাছাই পর্ব উতরাতে পারেনি পেরম্ন। যা ভীষণ দাগ কেটেছিল পেরম্নর সমর্থকদের। তবে কোচের মতে, এই জয় কিছুটা হলেও সেই হতাশা ভুলতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া হয়ে গেলেও ম্যাচের পারফরমেন্সকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন ভেনিজুয়েলার কোচ সিজার ফ্যারিয়াস। 'প্রত্যাশা ছিল শেষ ম্যাচে ভাল একটা রেজাল্ট বের করা। তবে পেরম্ন ছিল অনেক গোছানো একটি দল। যাদের প্রস্তুতিও ছিল আমাদের চেয়ে ভাল। তা ছাড়া ম্যাচে আমরা অনেক ভুল করেছিলাম, যা গোটা টুর্নামেন্টে আমরা করিনি। আর এই সব ভুলই আমাদের পেছনে ঠেলে দিয়েছে। তবে ম্যাচের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেছে রিনকনের লাল কার্ড পাওয়ার পর। ফলে আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি। তাই বলে ছেলেদের সমালোচনা করা ঠিক হবে না। এমন পরিস্থিতিতে খেলায় ফেরাটাও কষ্টকর। এতদূর পর্যনত্ম আসাটাও তো কম গর্বের না। আমি ধন্যবাদ জানাই ওদের। যাদের পরিশ্রম ও নিষ্ঠায় কোপা ফুটবলে প্রথমবারের মতো সেমিতে আসতে পেরেছি।'
লেবানন থেকে লজ্জার মালা নিয়ে ফিরছেন আজ বিপ্লবরা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক হালি গোলের লজ্জা নিয়ে আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দেশে ফিরবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আগামীকাল ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকায় পা রাখবে প্রতিপক্ষ লেবানন ফুটবল দল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে হোম ম্যাচে বাংলাদেশ আগামী বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই মোকাবেলা করবে লেবাননকে। এশিয়ার সেরা ২০ দেশের একটি হবার স্বপ্নযাত্রায় যাত্রী হতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াবে। তবে এসব আলোচনা নিছক তামাসা মাত্র। যে দল ৪ গোল হজম করে আসে বিনা প্রতিরোধে, তাদের পৰে এত বড় ব্যবধানে জেতা আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। গত শনিবার লেবাননের বিরম্নদ্ধে প্রথম ম্যাচ নিয়ে পুরো জাতির আশা-আকাঙ্ৰার অনত্ম ছিল না। সবাই প্রত্যাশা করেছিল, বাংলাদেশ এ খেলাতে জিততে না পারম্নক অনত্মত ড্র করে ফিরবে। হারলেও তাতে একটা সম্মানজনক ফল থাকবে। কিন্তু এভাবে এক হালি গোলের লজ্জা তাদের সইতে হবে কে ভেবেছিল? বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কোন ফুটবলার কিংবা কোচ, ম্যানেজার, মিডিয়া ম্যানেজার এবং জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান-সদস্য কারও সঙ্গে ঢাকা থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তাই এভাবে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হয়নি। এমন হতে পারে লেবাননকে যত সহজ প্রতিপৰ ভাবা হয়েছিল, তারা সে রকম নয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা লেবানন গত দুই বছর ধরে কোন আনত্মর্জাতিক ম্যাচ খেলে না। তাছাড়া পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিকে খেলতে হয় কঠিন প্রতিপৰের বিরম্নদ্ধে। যে কারণে সেভাবে তাদের শক্তিমত্তা যাচাই করা কঠিন। লেবানন দলে একজন জার্মানিতে ও একজন চীনের লীগে অংশ নেয়া ফুটবলার ছিলেন। নিজেদের মাঠ, দর্শক সমর্থন সব মিলে তারা এগিয়ে ছিল সব দিক থেকে। ওদিকে বাংলাদেশ খেলেছে তাদের এক নম্বর গোলরৰককে ছাড়াই। কি কারণে অধিনায়ক কাম গোলরৰক বিপস্নব ভট্টাচার্যকে প্রথম একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে তার কারণ জানা যায়নি। পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে প্রাক বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের দুই ম্যাচে তিনি দারম্নণ খেলেন। জাতীয় দলের মেসিডোনিয়ান কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি যদি সুপার কাপের পারফরমেন্স বিশেস্নষণ করেন, সেখানেও বিপস্নব এগিয়ে। কারণ প্রধানত তাঁর দুর্দানত্ম নৈপুণ্যের কারণে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র হারিয়ে দেয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। অথচ পরাজিত ক্লাবের গোলরৰক মামুন খানকে লেবাননের বিরম্নদ্ধে খেলান কোচ। মামুনের চেয়েও সিনিয়র একজন গোলরৰক ছিলেন দলে। তিনি ঢাকা আবাহনী জিয়াউর রহমান। বিপস্নবকে বাদ দিলে তাঁকে কেন বিবেচনা করা হলো না, বোঝা গেল না। মেসিডোনিয়ান কোচ এই ম্যাচে বাংলাদেশকে নতুন এক ফর্মেশনে খেলান। ৫-৩-২ পদ্ধতিতে হঠাৎ খেলার পরে ফুটবলাররা তাতে মানিয়ে নিতে পারেননি। প্রচুর ফাঁকা ছিল মাঠে। প্রতিপৰের ফুটবলাররা এই সুযোগে গোল দেয় বাংলাদেশের জালে। খেলা শেষে স্থানীয় মিডিয়াকে ইলিয়েভস্কি নাকি বলেছিলেন, বাংলাদেশের ফুটবলাররা ক্লানত্ম ছিল। কিন্তু দেশের ফুটবলে এত বড় এক সন্ধিৰণে ক্লানত্মি কোন অজুহাত হতে পারে না। লেবানীজদের বিরম্নদ্ধে শনিবার কামিলি কামোন স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। জাহিদের ক্রসে মোনায়েম খান রাজুর শট অল্পের জন্য সাইড বার ঘেঁষে চলে যায়। পরের ১৫ মিনিট বল সারাৰণ মাঝমাঠেই ছিল। ১৬ মিনিটে আহমেদ মাতুক হাসান এগিয়ে দেন লেবাননকে। ৫ মিটার দূরত্ব থেকে এই মিডফিল্ডারের শক্তিশালী শটে পরাসত্ম হন মামুন খান ১-০। এই গোলরৰক ২৩ ও ২৪ মিনিটে পর পর দুটি শট ঠেকিয়ে দেন আকরাম মোগরাবি ও জাকারিয়া ইয়াহিয়ার। কিন্তু ৩ মিনিট পরেই মাতুক হাসান কাউন্টার এ্যাটাক থেকে বল ধরে এগিয়ে যান। ওয়ালি ফয়সালকে ডজ দিয়ে ক্রস দিলে তাতে মাহমুদ আল আলী দলকে আবার এগিয়ে দেন ২-০।
লর্ডসে পাল্রা ভারি ইংল্যান্ডেরই
আজ শেষ দিনে কঠিন পরীক্ষা ভারতের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় বোলারদের বোলিং তোপ সত্ত্ব্বেও ব্যবধানটাকে চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে নিয়ে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনের চা বিরতির পর ৬ উইকেটে ১৭৪ রান করে ৩৬২ রানে এগিয়ে রয়েছে স্ট্রস বাহিনী। উইকেটকিপার ম্যাট প্রিয়র ব্যাট করছেন ৫৫ ও স্টুয়ার্ট ব্রড ৩৬ রানে। এর আগে রাহুল দ্রাবিড়ের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ইংল্যান্ডের ৪৭৪ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী ভারত। দ্রাবিড় ১০৩ রান করে অপরাজিত থাকলেও ব্যক্তিগত ২০ রান করে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি আউট হবার পর টেল এন্ডে আর কোন ব্যাটসম্যানই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তিন ইংলিশ পেসার জেমস এন্ডারসন, ক্রিস ট্রেমলেট ও স্টুয়ার্ট ব্রড দুরনত্ম বোলিং করে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনকে তিন শ'র মধ্যে আটকে রাখেন। আগের দিন তিন উইকেট দখল করা ব্রড এদিন তুলে নেন প্রবীণ কুমারকে। শেষদিকে জহির খান ও ইশানত্ম শর্মা দু'জনকেই খালি হাতে ফেরান এন্ডারসন। ভারতীয় ইনিংসের শুরম্নতে তোপ দাগেন ব্রড, মধ্যভাগে ট্রেমলেট আর শেষদিকে এন্ডারসন। তিনজনে মিলেই ভারতের বড় সংগ্রহের আশা শেষ করে দেন। ২২ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দিয়ে সর্বেচ্চ ৪ উইকেট তুলে নেন ব্রড। এছাড়া ট্রেমলেট ৩ ও এন্ডারসন নেন ২ উইকেট।
১৮৮ রানে এগিয়ে থেকে গতকাল চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই ভারতীয় বোলার বিশেষ করে পেসার ইশানত্ম শর্মার তোপের মুখে পড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৬২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ব্যক্তিগত ১ রানে ওপেনার এ্যালিস্টার কুককে ফিরিয়ে দিয়ে শুরম্নটা করেন প্রবীণ কুমার। এরপরই ইংলিশ ব্যাটিং লাইনের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ইশানত্ম ঝড়। ৫৪/২ থেকে মাত্র ৪ ওভারের ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে ৬২/৫-এ পরিণত করেন তিনি! দুই ওভারের অসাধারণ এক স্পেলে ফিরিয়ে দেন জোনথন ট্রট, ইয়ান বেল, ইয়ন মর্গ্যান ও প্রথম ইনিংসের ডবল সেঞ্চুরিয়ান কেভিন পিটারসেনকে। এছাড়া স্ট্রসের উইকেটটি শিকার করেন স্পিনার হরভজন সিং। ইশানত্ম-প্রবীণরা যেভাবে উইকেট তুলে নিচ্ছেন, তাতে অল্প সময়ে টেলএন্ডের বাকি চার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিতে পারলে আজ পঞ্চম ও শেষ দিনে দারুণভাবে জমে উঠতে পারে বহুল আলোচিত লর্ড টেস্ট।
শাকিব-তামিম অনুশীলন করবেন আজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল হাসান ও সহঅধিনায়ক তামিম ইকবাল আজ সোমবার সকালে ব্যাটিং অনুশীলন করবেন বলে জানা গেছে। এই দু'জনের সঙ্গে উইকেটরৰক মুশফিকুর রহীমেরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঢাকায় থাকা ক্রিকেটাররাও অনুশীলনে নিজ উদ্যোগে যোগ দিতে পারেন। শনিবার দুপুরে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ হতেই ক্রিকেটাররা নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। অনেকে সেই দিনই গ্রামের বাড়ি চলে যান। তিনদিনের ছুটি পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। আর সেই ছুটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটাতে চান। যারা ঢাকায় আছেন তারা অনুশীলন করবেন। জাতীয় দলের অনুশীলন শুরম্ন হয়েছিল গত ৪ জুন। সেই থেকে বাংলাদেশ অধিনায়ক অনুশীলনে ছিলেন না। কাউন্টি ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে পারেননি। তবে তামিম অনুশীলনের শুরম্নতে ঠিকই ছিলেন। এরপর তিনিও কাউন্টি খেলতে চলে যান ইংল্যান্ড।
কাউন্টি খেলা শেষ হলে দেশে চলে আসেন। কিন্তু এর পরও অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি এই দুই ক্রিকেটার। শাকিব ছুটি নেন। আর তামিমের ইনজুরি। তবে এখন তামিম শঙ্কামুক্ত। ব্যাটিং করতে পারবেন। তবে রানিং করতে পারবেন না। তাই জিম্বাবুইয়ে যাওয়ার আগে শুধু ব্যাটিং অনুশীলনই সেরে নেবেন তামিম। ক্রিকেটারদের ছুটি থাকলেও নিজ উদ্যোগেই অনুশীলন করবেন। শাকিবও তাই। এই দু'জনের সঙ্গে ঢাকায় থাকা বাকিরাও নিজেদের আরও বেশি করে ঝালাই করে নিতে চান। বুধবার বাংলাদেশ দল যাবে জিম্বাবুইয়ে। এর আগ পর্যনত্ম শাকিব, তামিম, মুশফিকরা অনুশীলন করবেন। আর যারা ঢাকার বাইরে আছেন তারা সরাসরি এয়ারপোর্টে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। ছুটি রয়েছে ২৬ জুলাই রাত পর্যনত্ম। আর বাংলাদেশ দল সকালে রওনা হবে জিম্বাবুইয়ে।

বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জ জেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দুটোতেই সদর উপজেলার মাঠপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রবিবার বিকালে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে সদর উপজেলার মাঠপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দল ৭-০ গোলে সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুরচর প্রাথমিক বিদ্যায়লের বালিকা দলকে হারিয়ে এই গৌরব অর্জন করে। পরে একই মাঠে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মাঠপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বালক দল ৩-২ গোলে সিরাজদিখান উপজেলার কোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বালক দলকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা অর্জন করে। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এমপি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম।
স্বাগতিক দল ছাড়াই নিরপেক্ষ ভেনু্য জেলা শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের শ্রীনগর স্টেডিয়ামে এবার ফাইনালে ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয়।

৫ আগস্ট সুপার কাপের ফাইনাল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সুপার কাপ ফুটবলের উত্তেজনা শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। ৩১ জুলাই সুপার কাপের প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব ও ঢাকা মোহামেডান লিমিটেডের মধ্যে। পরদিন ১ আগস্ট দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র বনাম ঢাকা আবাহনী লিমিটেড।
গার্ডিওলার দৃষ্টিতে ফার্গুসনই সেরা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বয়সের তুলনায় ব্যবধান অনেক। ফার্গুসনের ৬৯, গার্ডিওলার ৪০। তবে এই মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বে আলোচিত দুই কোচ কিন্তু এরাই। জাতীয় দল না হলেও ক্লাব পর্যায়ে এদের খ্যাতি শীর্ষ পর্যায়ে। স্পেনের বার্সিলোনার হয়ে আলোকিত পেপ গার্ডিওলা, আর ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে স্যার আলেঙ্ ফার্গুসন। দলের হয়ে একাধিক শিরোপা জিতে গার্ডিওলা-ফার্গুসন ভিন্নমাত্রায় অবস্থান করছেন। তবে কোচিং ক্যারিয়ারের পরিধি বিচার করলে ফার্গুসনের চেয়ে এগিয়ে গার্ডিওলাই। ২০০৭ সাল থেকে কোচিং ক্যারিয়ার শুরম্ন করা গার্ডিওলা বার্সার হয়ে এ পর্যনত্ম জিতেছেন দুটি ইউরোপ সেরার মুকুটসহ একাধিক শিরোপা।
সেখানে ফার্গুসনের কোচিং ক্যারিয়ার শুরম্ন সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। ম্যানইউর হয়ে যাত্রা শুরম্ন ১৯৮৬ থেকে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তার শিরোপাও নেহায়েত কম নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার শিরোপা সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা রয়েছে দুটি। লীগ শিরোপা ১২টি। গত মৌসুমে লিভারপুলকে পেছনে ফেলে সর্বাধিক (১৯) শিরোপা জেতার নতুন রেকর্ড গড়েছে ম্যানইউ এই ফার্গির হাত ধরেই। আর তাই এই মুহূর্তে এক নম্বর কোচ হিসেবে ফার্গুসনকেই রায় দিয়েছেন স্পেনের পেপ গার্ডিওলা। শুধু তাই নয়, ফার্গির সঙ্গে নিজের তুলনাও করেননি তিনি।
পরশু ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব হাজডুক স্পিলিটর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে গার্ডিওলা বলেছেন, 'আমি নিজেকে ফার্গুসনের সঙ্গে তুলনা করি না। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছি, তার মানে এই নয় যে, আমি তাঁর চেয়ে ভালো কোচ। ফার্গুসনের সমপর্যায়ে যেতে হলে আমাকে এখনো অনেক কাজ করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিততে না পারলেও তাঁর মর্যাদা এতটুকুও কমবে না। তিনি গত ২৫ বছর ধরে ম্যানইউয়ের কোচ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর হাত ধরেই অনেক শিরোপা জিতেছে এই ইংলিশ ক্লাবটি। আমার মনে হয়, কোচ হিসেবে যদি কাউকে এক নম্বর বলতে হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই এ্যালেঙ্ ফার্গুসন।'
গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বার্সিলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ডট্রাফোর্ডে সেই ধুন্ধুমার লড়াইয়ে জিতেছিল গার্ডিওলা বাহিনীই। আর হারের জ্বালা সইতে হয়েছিল ফার্গুসন বাহিনীকে। নতুন মৌসুম শুরম্ন হতে মাসখানেক বাকি। আবারও শুরম্ন হয়ে যাবে জমজমাট ইউরোপিয়ান ফুটবল। প্রত্যেক দেশে ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি শুরম্ন হবে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগও।
নতুন মৌসুমের আগে ফার্গুসনের প্রশংসা দিয়েই যাত্রা শুরম্ন করলেন বার্সা কোচ গার্ডিওলা। এ যেন শিরোপা জেতার আগাম কৌশলও।

বাকু ওপেনে অল রাশিয়ান ফাইনাল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য বাকু কাপ ফাইনালে উঠেছেন রাশিয়ার ভেরা ভোনারেভা। বিশ্বের ৩নং টেনিস তারকা সেমি ফাইনালে দাঁড়াতেই দেননি ইউক্রেনের মারিয়া কোরিতসেভাকে। শনিবার তাকে সরাসরি ৬-১, ৬-২ সেটে হারিয়ে ১২তম ডবিস্নউটিএ খেতাব জয়ের পথে এগিয়ে যান ভোনারেভা। আর এ জন্য মাত্র ৬৬ মিনিট সময় ব্যয় করতে হয় তাকে। এর ফলে বাকু কাপ শিরোপা উঠতে যাচ্ছে কোন রাশিয়ানের হাতেই। প্রথম সেমিতে আরেক রাশিয়ান আসরের ৭ম বাছাই কেসেনিয়া পারভাক কাজাখসত্মানের গালিনা ভস্কোবোয়েভাকে ১-৬, ৬-০ ও ৬-২ সেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোন ডবিস্নউটিএ ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। আগামী রবিবার রাতে ফাইনালে মুখোমুখি হবেন এ দু'জন রাশিয়ান।
শনিবার রাতে সেমিতে টুর্নামেন্টের সেরা বাছাই ভোনারেভার কাছে কোন পাত্তাই পাননি কোরিতসেভা। প্রথম ৫ গেমের মধ্যে মাত্র একবার পয়েন্টের মুখ দেখেন তিনি। তবে ভোনারেভার ফোরহ্যান্ড ইরোরের সুবাদে একটি ব্রেক পয়েন্টও জিতে নেন কোরিতসেভা। প্রথম সেটে তার প্রাপ্তি ওইটুকুই।