মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
তাজরীনে অগ্নিকাণ্ড ॥ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পাঁচটি কিছুই দেয়নি দিয়েছে মাত্র দুটি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও এখনও কারখানাটিতে সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো তেমন সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেনি। কারখানায় সম্পৃক্ত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মাত্র দুটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কিছুই দেয়নি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রকাশিত অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এখনও দুর্দশায় দিনাতিপাত করছে। উপার্জন সক্ষম হয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। এসব ব্র্যান্ডের উচিত কারখানার শ্রমিক ও মৃতদের পরিবারবর্গকে অবিলম্বে পূর্ণ ও সুষ্ঠু ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেয়া।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামসের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়। এ্যাডামস বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির শিকারদের মতো তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের ভিকটিমদেরও বড় অঙ্কের সহায়তা প্রয়োজন। অনেকে হয়ত আগুন থেকে পালিয়ে বেঁচেছেন। কিন্তু তাদের জীবনে বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এসব মানুষকে সাহায্য করার দায়িত্ব বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আর এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন ভিকটিমরা। কিন্তু দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যেই চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ হয়ে গেছে ওই অর্থ। জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকা-, পণ্য, সেবা বা তাদের ব্যবসায়িত সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিকূল মানবাধিকার প্রভাব প্রতিহত বা লাঘব করা ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ওই প্রভাবে তারা সরাসরি অবদান না রাখলেও এটা তাদের দায়িত্ব। জাতিসংঘ নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা বিরূপ প্রভাব ঘটিয়েছে বা তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তাদের উচিত বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা প্রতিকার নিশ্চিত বা সহায়তা করা। তাজরীন কারখানায় সম্পৃক্ত ৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে (ইউএসএর ডিকিস, সিয়ার্স, ডিজনি, ওয়ালমার্ট ও ফ্রান্সের টেডি) ২০১৩ সালের নবেম্বরে যোগাযোগ করে এইচআরডব্লিউ। তাদের কাছ থেকে এখনও কোন জবাব মেলেনি। তবে ডিকিস এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, তারা অনেক আগেই ওই কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় ইতি টেনেছিল। বাকিরা বিভিন্ন সময়ে বলেছে, তাদের অনুমোদন বা অবগতির বাইরে সেখানে তাদের পণ্য ছিল বা উৎপাদন হচ্ছিল। ব্র্যাড এ্যাডামস বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য তাজরীনে থাকার বিষয়টা তারা অবগত ছিল না শুধু এ কারণে ভিকটিমদের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ব নেইÑ এমনটা তাদের দাবি করা উচিত নয়। জাতিসংঘ নীতিমালায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, সাপ্লাই চেইনের সর্বত্র যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যে কাউকে প্রতিকার দেয়ার দায় সব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। তাজরীনে অগ্নিকা-ের পর সেখানে যাওয়া বাংলাদেশী মানবাধিকার কর্মীরা সিএ্যান্ডএ (বেলজিয়াম), এডিনবরা উলেন মিল (ইউকে), এল কোর্টে ইঙ্গলস (স্পেন), শন কম্বস/এনিস (ইউএস), কার্ল রিকার ও কেআইকে (জার্মানি), লি এ্যান্ড ফাং (হংকং) এবং পিয়াজা ইতালিয়ার (ইতালি) লেবেল, পোশাক বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এইচআরডব্লিউ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখেছে। কিন্তু এক বছর পরও কেউ কোন জবাব দেয়নি।