মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
জনশক্তি রফতানির নতুন বাজার সৃষ্টি হয়নি
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঁচ টিম ৩০টি দেশ ঘুরেছে
ফিরোজ মান্না ॥ জনশক্তি রফতানির জন্য নতুন বাজার খুঁজলেও কোন বাজারই সৃষ্টি করতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বাজার সৃষ্টি করার জন্য মন্ত্রণালয় গঠিত ৫টি টিম বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ ঘুরেছেন। কিন্তু কোন দেশেই গত ৫ বছরে বাজার সৃষ্টি হয়নি। পুরনো বন্ধ বাজারগুলো (সৌদি আরব, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ) ঘুরে সেগুলো খোলার চেষ্টা করেছে। নতুন বাজার হিসেবে থাইল্যান্ড, ম্যাকাও, হংকং, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, কানাডা, সুইডেন, এ্যাঙ্গোলা, গ্রীস, জর্ডান, ইতালি, সাইপ্রাস, অস্ট্রেলিয়া, সুদান, লাইবেরিয়া, তানজানিয়া, এসতোনিয়া, আজারবাইজান, নাইজিরিয়া, বোতসোয়ানা, সিয়েরালিয়ন, তাইওয়ান, স্পেন, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক রিপাবলিক, বেলজিয়াম, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে শ্রমবাজার খোঁজা হয়েছে। এসব দেশে মন্ত্রণালযের গঠিত টিম একাধিকবার করে ঘুরে এসেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এসব দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি করার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই সব দেশ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জনশক্তি রফতানির নতুন বাজার সৃষ্টি করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। এখন লোক নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর। তারা যদি যথা সময়ে কর্মী নিয়োগ না করে তাহলে মন্ত্রণালয়ের কী করার আছে। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোন ত্রুটি করা হয়নি। তবে সরকারী প্রচেষ্টার কোন সুফল এখন পর্যন্ত দেশের কর্মীরা পাননি।
সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর মহাজোট সরকার কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছে। নতুন কোন শ্রম বাজারে একজন কর্মীও গত ৫ বছরে যেতে পারেননি। শুধু সরকারী অর্থের অপচয় করে দেশঘুরে ঘুরে দেখা ছাড়া আর কোন ফল দেশের জন্য বয়ে আনতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় অংশই আসে জনশক্তি রফতানি থেকে। কিন্তু এই সেক্টর নিয়ে গত ৫ বছরের অগ্রগতি হিসাব থেকে দেখা গেছে। পুরনো বাজারগুলোই যদি ভাল করে ‘মনিটর’ করা হতো তাহলে দেশের বহুকর্মী বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু মন্ত্রণালয় নতুন নতুন শ্রম বাজার খুঁজতে গিয়ে সময় ও অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া আর বড় কিছু হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড়া শ্রম বাজার হলেও দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মী নিয়োগ বন্ধ ছিল। মন্ত্রণালয় সরকারের শেষ দিকে এসে এসব দেশে জনশক্তি রফতানি চেষ্টা করেছে। মন্ত্রণালয় এসব দেশ থেকে অনেকটা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। সরকারের শুরুতে এমন উদ্যোগ নিলে বেশি সারা মিলতে পারত। নতুন বাজারের দিকে এত বেশি না ঝুঁকে পুরনো বাজারগুলোই ধরে রাখা উচিত ছিল। বন্ধ থাকা বাজার সচল করতে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করেন। তিনি মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি জনশক্তি রফতানি বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখারও কথা বলা হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকার জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা রেখে ১০ হাজার কর্মী নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেনি। মাত্র কয়েক হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যাওয়ার পর বর্তমানে সেখানেও কর্মী নিয়োগ বন্ধ রযেছে। সৌদি আরবে আগে থেকেই কিছু কিছু কর্মী নিয়োগ হতো। দেশটির সরকার বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পুরোদমে সেখানে কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারী ব্যবস্থাপনায় দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে। অবশ্য এতে কর্মীদের খরচ অনেক কমে গেছে। দালাল ফড়িয়া বা জনশক্তি রফতানিকারকদের খপ্পরে পড়ে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জনশক্তি রফতানি কমে আসার পর সরকার বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকায় জনশক্তি রফতানির নতুন বাজার খোঁজার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের পাঁচটি টিম গঠন করে। টিমগুলো এরই মধ্যে ৩০টির বেশি দেশে সফরও করেছে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি টিম বিভিন্ন দেশ সফর করেছে। এর মধ্যে মরিশাস, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, ইরাকসহ কয়েকটি দেশ সফর করেছে। নতুন শ্রমবাজার হিসেবে নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, কানাডা, সুইডেন, এ্যাঙ্গোলা, গ্রীস, এসতোনিয়া, পোল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। নতুন শ্রমবাজার সন্ধানের অংশ হিসাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বেশির ভাগ দেশ সফর করা হয়েছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনশক্তি রফতানি পরিস্থিতি এখন খুবই খারাপ। দেশটিতে অতিরিক্ত শ্রমিক পাঠানো, অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা বেশি ও অনিয়মের কারণে ইউএইর শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের অবৈধ বহুকর্মী বর্তমানে ইউএইর কারাগারে রয়েছে। প্রতিমাসেই দূতাবাস অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে দেশে ফেরত ও কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশটিতে নতুন করে কোন কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই এমন অবস্থা। নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য এত চেষ্টার পরও কোন কর্মী ওই সব দেশে নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি।