মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৩ কার্তিক ১৪২০
অস্থির খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দৃশ্যমান কোন কারণ ছাড়াই প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। যার প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারেও। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কোন ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের চিত্র থেকে দেখা যায়, একমাসের ব্যবধানে সেখানে প্রতিমণ পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা, মুগডাল, মশুর ডাল ও আটা-ময়দার দাম। চিনির দর বেড়েছে প্রতিমণে প্রায় তিন শ’ টাকা। একমাস আগের ১৪৩০ টাকা মনের চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭২০ টাকা। রোজায় ছোলার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চলতি মাসের গোড়া থেকে কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে তা বাড়তে শুরু করে। বাড়তে বাড়তে খাতুনগঞ্জে এখনও প্রতিমণ ছোলা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকায়।
অন্যদিকে, মাঝারি মানের মুগ ও মশুর ডালে প্রতিকেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে। খাতুনগঞ্জের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার তীব্র প্রভাব পড়েছে দেশের খুচরা বাজারেও। এখানে বাড়ার হার পাইকারি বাজারের চেয়ে তুলনামূলক আরও বেশি। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি গড়ে পাঁচ টাকা বাড়লে, এখানে বেড়েছে সাত থেকে আট টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানালেন, খাতুনগঞ্জ থেকে তিন চার হাত ঘুরে পণ্য এসে পৌঁছায় খুচরা বাজারে। প্রতি লেভেলেই মধ্যস্বত্বভোগীরা কেজিপ্রতি এক থেকে দেড় টাকা করে বাড়িয়ে নেয়। যার কারণে পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম বেশি বাড়ে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা না থাকলেও, মুনাফা লোভী বড় বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজি তাদের জানা।
কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা বললেন, যারা আমদানি করে তাদের ওপরই সব কিছু নির্ভর করে। তারা ইচ্ছে করলেই দাম বাড়িয়ে দেন। এর জন্য কোন কারণ এসব ব্যবসায়ীরা কখনই ব্যাখ্যা করেন না। আমদানি নির্ভর এসব পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাড়া-কমার কথা থাকলেও, দেশের বাজার তার কোন তোয়াক্কা করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র থেকে দেখা যায় গত এক মাসে কোথাও দামের কোন পরিবর্তন হয়নি।