মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৩ কার্তিক ১৪২০
রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্কায়ন জটিলতা দূর হচ্ছে না
অর্থমন্ত্রীকে বারভিডার চিঠি
এম শাহজাহান ॥ রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্কায়ন জটিলতা দূর হচ্ছে না। চলতি বাজেটে দাম কমানো হলেও বেড়ে যাচ্ছে জাপানী গাড়ির দাম। তবে গাড়ির দাম বাড়লেও শুল্কায়ন জটিলতায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়ছে না। শীঘ্রই শুল্কায়ন জটিলতা দূর না হলে রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসায়ে বিপর্যয় নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আনতে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস করেছে সরকার। কিন্তু বাজেট ঘোষণার আগে আমদানিকৃত যেসব গাড়ি বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর অধিক পুরনো গাড়ির জন্য অধিক শুল্কায়ন মূল্য ধরে বেশি শুল্ক ধার্য করায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের বাড়তি শুল্ক দেয়ার কারণে ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও জাপানী রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি বিক্রি কমে গেছে। ফলে জাপানী টয়োটার পরিবর্তে দেশে ঢুকে পড়েছে নতুন মডেলের টাটা ইন্ডিগো সিএস, মারুতি সুজুকি, ফোর্ড ও এ্যাম্বেসেডর ব্র্যান্ডের গাড়ি। ডিজেল চালিত এসব গাড়ি পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় নিজ দেশেই বিতর্কিত হয়েছে। গাড়ির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন ও পুরনো গাড়ির শুল্কায়ন জটিলতা দূর হওয়া প্রয়োজন।
জানা গেছে, একবছর আগে রি-কন্ডিশন্ড যে গাড়ির দাম ছিল ১১ লাখ টাকা, সেই একই গাড়ি ক্রয় করতে বর্তমান ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৮-২০ লাখ টাকা। আমদানিকৃত গাড়ির প্রকৃত মূল্য মানছে না এনবিআর। বরং ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি মূল্য ধার্য করায় রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ে চরম বিপর্যয় নামার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমদানিকৃত কয়েক হাজার গাড়ি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে যাচ্ছে। তবে জমে উঠেছে আমদানিকৃত নতুন গাড়ির ব্যবসা। এসব গাড়ি আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। ফলে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
বাংলাদেশ রি-কন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এ্যান্ড ডিলার্স এ্যাসোসিয়েশনের বারভিডারে সাবেক সভাপতি আবদুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, শুল্কায়ন জটিলতায় জাপানী রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ে ধস নামতে পারে। বারভিডার পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে সমস্যা সমাধানে চিঠি দেয়া হয়েছে। রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত শুল্কায়ন সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বাজেটে পুরনো গাড়ি আমদানিতে যে শুল্ক সুবিধা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এতে পুরনো আমদানিকৃত গাড়ির মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। শুল্কায়নে বৈষম্যের ফলে আমদানিকারকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, পুরনো গাড়ি আমদানি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিষয়টির সমাধানে এনবিআর থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে ব্যবসায়ীরা ঢালাওভাবে যে সুবিধা চাচ্ছেন সেটা দেয়াও খুব কঠিন হবে। তারপরও তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হোন সে বিষয়টি এনবিআর নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
জানা গেছে, স্বল্প পুরনো গাড়ি কম হারে শুল্ক ধার্য করায় মংলাবন্দরে বর্তমান নোটিং এ্যাসেসমেন্ট অবস্থায় আটকে থাকা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আমদানিকৃত একটি টয়োটা প্রোবক্স গাড়ির মূল্য (সিএফআর) ২ হাজার ৫শ’ ডলার। যদিও কাস্টমস পলিসি অনুযায়ী বর্তমান এর মূল্য দাঁড়ায় ৯ হাজার ২শ’ ডলার এবং বিপরীতে ধার্যকৃত শুল্কের পরিমাণ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে ২০০৮ সালে আমদানিকৃত একই গাড়ির ক্ষেত্রে সিএফআরর পরিমাণ ৪ হাজার ৫শ’ হলেও বর্তমান পলিসি অনুযায়ী মূল্য ৭ হাজার ২৯২ ডলার এবং এ গাড়ির ক্ষেত্রে ধার্যকৃত শুল্কের পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সূত্র মতে, নোটিং এ্যাসেসমেন্ট অবস্থায় মংলাবন্দরে আটকে থাকা ২০০৫-০৬ সালের গাড়িগুলোতে ৪৫ ভাগ অবচয়ন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলেও এগুলোকে ৩৫ শতাংশ অবচয়ন এবং ২০০৮ সালে আমদানিকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ অবচয়ন ধার্য করায় আমদানিকারকরা জটিলতা ও আর্থিত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শুল্কায়নের এই জটিলতা দূর না হলে গাড়ির দাম বাড়বে, সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।
এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সবিরোধী অবস্থানের কারণে বিপাকে পড়েছেন গাড়ি আমদানিকারকরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের প্রজ্ঞাপনও মানছে না। ফলে রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি আদমদানিকারকরা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে একই সঙ্গে গাড়ির দাম বেড়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, আমদানিকৃত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রি-কন্ডিশন গাড়ি চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দরে আটকে আছে। এসব গাড়িতে নতুন শুল্ক হার কার্যকর করা না হলে পরবর্তীতে আমদানি করা গাড়ির তুলনায় এগুলোর মূল্য অনেকগুণ বাড়বে এবং আমদানিকারকদের এসব গাড়িতে বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকরা এফবিসিসিআইর মাধ্যমে এনবিআরে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও গাড়ির মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল বাজেটে রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করেছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি বরং গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। বিষয়টি বাজেট সংশ্লিষ্ট ছিল না। অথচ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করায় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৫-০৬ সালের গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য অনেক বেশি দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে শুল্কায়ন জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে জাপান সরকারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রীর জন্য তৈরি করা সার সংক্ষেপে গাড়ি আমদানিকারকদের আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরে হয়েছে। তাতে বলা হয়, গাড়ি শুল্কায়নে চলতি অর্থবছরের জন্য তৈরি করা এসআরও মাধ্যমে বন্দরে অপেক্ষমাণ গাড়ির শুল্কায়ন করা না হলে পূর্বে যারা গাড়ি আমদানি করেছেন তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে আরও বলা হয়, আগের শুল্কনীতির জটিলতায় রি-কন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।