মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০১২, ২১ আশ্বিন ১৪১৯
অর্থ সঙ্কটে রাজশাহী চিনিকল
সরকারের কাছে ১০ কোটি টাকার প্রস্তাব
মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ বিপুল পরিমাণ অর্থ সঙ্কটের মুখে পড়েছে রাজশাহী চিনি কল। এ অবস্থায় আগামী মৌসুমে আখ কেনার টাকা না থাকায় আখ পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারের কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। শনিবার শিল্প প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ প্রস্তাবনা দেয় রাজশাহী চিনিকল কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে আগামী ২ নবেম্বর থেকে আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা।
রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. রফিক জানান, গত বছর চাষীদের আখের দাম সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে না পারায় নির্ধারিত সময়ের আগে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। আগামী মৌসুমেও আখের মূল্য সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে না পারলে আখ পাওয়া যাবে না। ফলে তারা সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন।
রাজশাহী চিনিকল সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে চিনিকলটি স্থাপিত হওয়ার পর ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে উৎপাদনে নামে। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত মিলটি লাভের মুখ দেখে।
১৯৯১ সালের পর থেকে প্রতিবছর লোকসান দিয়ে আসছে। ১৯৯১ সালের পর চিনিকলটিতে নিয়োগ দেয়া হয় চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বেতন-ভাতা মেটাতে মিলটি লোকসানি খাতে চলে যায়। সর্বশেষ গত মৌসুমে মিলটিকে লোকসান দিতে হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। এভাবে গত ২০ বছরে মিলটিকে লোকসান দিতে হয়েছে ১৪২ কোটি টাকা। স্থানীয় আখচাষীরা জানান, চিনিকলে আখ সরবরাহ করে তারা যে টাকা পান তার চেয়ে গুড় উৎপাদন করলে বেশি লাভ হয়। ফলে চিনিকলে আখ সরবরাহ না করে চাষীরা গুড় উৎপাদন করে থাকেন। এছাড়া আখের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে চাষীরা আখচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. রফিক জানান, রাজশাহী চিনিকলের আওতায় ১৯ হাজার ৫৩ একর জমিতে আখচাষ হয়েছে। আগামী ২ নবেম্বর থেকে তারা ২০১২-২০১৩ মাড়াই মৌসুম শুরু করতে চান। কিন্তু অর্থ সঙ্কটের কারণে আখ পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন। মৌসুম শুরুর আগেই সরকার অর্থ বরাদ্দ না করলে আখ পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।
রাজশাহী চিনিকলের সিবিএ সভাপতি আবদুল কাদের মোল্লা জানান, গত বছর চাষীদের আখের মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা আখ সরবরাহ পাননি। ফলে ৩১ ডিসেম্বর চিনিকল বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
মাঠে আখ থাকার পরেও টাকা ঠিকমতো না পাওয়ায় চাষীরা চিনিকলে আখ সরবরাহ করেননি। আগামী মৌসুম শুরু হতে এক মাস বাকি।
এর আগে সরকার যদি টাকা বরাদ্দ না দেয়, তাহলে মিলটি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, রাজশাহী চিনিকল অর্থ সঙ্কটে ভুগছে। নিজস্ব টাকায় আখ কেনা সম্ভব নয়। ফলে মিলটি চালু রাখতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব তারা দিয়েছেন। শনিবার শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠকে অর্থ বরাদ্দের এ প্রস্তাবনা দেয়া হয়।