মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
প্রতিবছর ২শ' কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র আমদানি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ দেশে প্রতিবছর ২০০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের অপ্রয়োজনীয় ওপেল গ্লাসওয়্যার (তৈজসপত্র) আমদানি করা হয়। নিম্নমানের এসব পণ্য আমদানি করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে। এছাড়া নিম্নমানের এসব পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কৰে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আমদানিকৃত ওপেল গ্লাসওয়্যার/পাইরেক্স এর তৈরি তৈজসপত্রের মান নির্ণয় এবং প্রকৃত মূল্য যাচাই করে শুল্কায়ন করতে কর্মপন্থা নিরূপণের জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২য় সচিব অরম্নন কুমার বিশ্বাস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত দুই বছর যাবত কতিপয় অসৎ আমদানিকারক কর্তৃক দেশে অতি নিম্নমানের ওপেল গস্নাসওয়্যার/পাইরেঙ্ এর তৈরি তৈজসপত্র প্রকৃত ক্রয় মূল্যের চাইতে কম মূল্য ঘোষণা দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন নিম্নমানের পণ্যে লেড ও ক্যাডমিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ছে। অপরদিকে আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে সরকারকে ন্যায্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দশে বছরে দু'শ' কোটি টাকার অধিক মূল্যের এই অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রারও অপচয় হচ্ছে।
সভায় সিরামিক এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এনবিআর প্রতিনিধি অরম্নন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ শিল্প মালিকরাই সিন্ডিকেট করে মূল্য বৃদ্ধি করতে আমদানি বন্ধের পাঁয়তারা করে থাকেন।
এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে ওপেল গস্নাসওয়্যারের তৈরি তৈজসপত্র আমদানিতে কাস্টমস্ কর্তৃক পণ্য খালাসের পূর্বে মূল্য ঘোষণা যাচাই করে শুল্ক নির্ধারণ এবং বিএসটিআই থেকে গুণগতমান পরীৰার সনদপত্র গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্র ও জনসাধারণ উভয়ই উপকৃত হবে। কারণ দেশে উৎপাদিত সিরামিক তৈজসপত্রের মান বিএসটিআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত মূল্যে স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত ভ্যাট পরিশোধের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়ে থাকে।
নেতৃবৃন্দ উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের পাশর্্ববর্তী দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও জনস্বাস্থ্য রৰায় আমদানিকৃত পণ্যের মান পরীৰা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং দেশীয় শিল্পকে রৰায় এই জাতীয় পণ্যের আমদানিকে নিরম্নৎসাহিত করতে সরকার ৪০ শতাংশ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যনত্ম এন্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করেছে।