মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
পাইপলাইনে ২৫০ কোটি ডলার রেখে এডিবির পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার পাইপলাইনে রেখে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির (সিপিএস) বাস্তবায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলমান ৪০টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি ছিল ৫শ' কোটি ডলার। ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ২৫০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের লৰ্য নিয়ে চলতি বছর থেকে নতুন করে কাজ শুরু করেছে এডিবি। এসব প্রকল্প বিষয়ে আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিপৰীয় বৈঠক। এতে এডিবি, ইআরডি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির (সিপিএস) আওতায় ইতোমধ্যে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিজনেস অপারেশনাল প্ল্যাযান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৮টি প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি প্রকল্প রয়েছে চলতি প্ল্যানের বাইরে গত ২০১০ সালের। চলমান সিপিএসের আওতায় ৫টি প্রকল্প হচ্ছে প্রাইমারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৩। এটির বিপরীতে এডিবি প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দিচ্ছে ৩২ কোটি মার্কিন ডলার। কর্মসূচীটি বর্তমানে বাসত্মবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। রেলওয়ে ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্ট, এটির বিপরীতে এডিপির অর্থায়ন হচ্ছে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি ১৪ ডিসেম্বর এডিবির বোর্ডসভায় অনুমোদিত হওয়ার কথা। তারপরই ঋণ চুক্তি স্বাৰরের প্রক্রিয়া শুরম্ন হবে। পাওয়ার সিস্টেম ইফিসিয়েন্সি ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে এডিপি প্রকল্প সাহায্য দিচ্ছে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এটির বিষয়ে নেগোসিয়েশন শেষ হয়েছে। এডিবির বোর্ডসভায় অনুমোদনও হয়েছে। এখন শুধু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলেই ঋণচুক্তি স্বাৰর হবে।
খুলনা ওয়াটার সাপস্নাই প্রজেক্টের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য দিচ্ছে ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি বর্তমানে বাসত্মবায়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং সেকেন্ড চিটাগং হিলট্যাঙ্ রম্নরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে এডিবির অর্থায়ন ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে চুক্তি স্বাৰর হয়েছে। বর্তমানে লোন ইফেকটিভ পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া চলতি বছরে আরও একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। ঢাকা-চিটাগং এঙ্প্রেস ওয়ে শীর্ষক এ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে বাসত্মবায়ন হবে। তাই প্রকল্প শুরম্নর আগে বিভিন্ন কাজ সমাপ্ত করার জন্য টেকনিক্যাল এ্যাসিসট্যান্ট লোন হিসেবে এডিবি দিচ্ছে এক কোটি মার্কিন ডলার।
সূত্র মতে, খসড়া কান্ট্রি অপারেশনাল বিজনেস পস্ন্যানে ২০১২ সালের জন্য ১০টি প্রকল্প ধরা হয়েছে। সব প্রকল্পের বিপরীতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এডিবি অর্থায়ন করবে ৯০ কোটি মার্কিন ডলার। আগামী বছরে উলেস্নখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এনার্জি সেক্টর ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্ট, এর বিপরীতে এডিবি অর্থায়ন করবে ১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সাউথ-ওয়েস্ট রোড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের বিপরীতে অর্থায়ন করবে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবার ট্রান্সপোর্ট করিডর প্রজেক্টে এডিবি অর্থায়ন করবে ১৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সেকেন্ড পিপিপি ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটি প্রজেক্টের বিপরীতে সংস্থাটির অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটির বাসত্মবায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে এডিবির কন্সালটেন্সি মিশন শেষ হয়েছে, বাকিগুলোর নিয়ে শীঘ্রই কন্সালটেন্সি মিশনের কাজ শুরম্ন হবে। এর পরই আসবে ফ্যাক্টফাইন্ডিং মিশন।
আগামী ২০১৩ সালে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা হয়েছে ৬টি প্রকল্প। এগুলোর বিপরীতে এডিবি বিনিয়োগ করবে ৯২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
এছাড়া ২০১৪ সালের জন্য মাত্র ২টি প্রকল্প প্রাথমিকভাবে রাখা রয়েছে। এগুলোর বিপরীতে বিনিয়োগ করা হবে ৮ কোটি মার্কিন ডলার। এ বছরে আরও প্রকল্প যুক্ত হবে।
পাইপলাইনে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে ছাড় হবে সে বিষয়ে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ সত্ত্বেও কোন কাজে আসছে না। এ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন সম্প্রতি গঠন করেছে টাস্কফোর্স।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরম্ন হলেও গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজির (সিপিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ মিশনের প্রধান থেবা কুমার কান্দিয়াহ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি গুরম্নত্বারোপ করতে হবে। কাঙ্ৰিত উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারী খাতে ব্যাপক হারে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির প্রতি তিনি তাগিদ দেন। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন। থেবা কুমার আরও বলেন, জিডিপির সাড়ে ৩২ শতাংশ পর্যনত্ম বিনিয়োগ বাড়াতে এডিবি সহায়তা করবে। এর মধ্যে ৩ গুণ বাড়িয়ে অবকাঠামো খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে। দক্ষ জনশক্তির অভাব, দ্রম্নত নগরায়ন, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অবকাঠামো দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান অনত্মরায় হিসাবে চিহ্নিত করেছে এডিবি।
অনুষ্ঠানে এডিবির কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন এ কর্মপরিকল্পনার আওতায় এডিবি ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করবে। এর মধ্যে ২৪০ কোটি ডলার সহজ শর্তে আর ২১০ কোটি ডলার দেয়া হবে তুলনামূলক কঠিন শর্তে। এর বাইরে কারিগরি সহায়তার আওতায় প্রতিবছর আরও ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার দেয়া হবে। বিদ্যুত, পরিবহন, নগরায়ন, শিক্ষা, আর্থিক খাত এবং কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে এ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।