মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১১ অগ্রহায়ন ১৪১৮
এসএমইর বিকাশে এ্যারিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লাস্টার উন্নয়ন পদ্ধতি চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
জীবনযাত্রার মানন্নোয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রান্তিক পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উদ্যোগকে সংগঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশে একেক অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এরিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লাস্টার উন্নয়নের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।
এ লৰ্যে বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর গ্রামে এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী। ব্যাংক এশিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত এ অঞ্চলের ক্লাস্টার উন্নয়ন ও এসএমই ঋণ বিতরণ কর্মসূচীতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন।
ব্যাংক এশিয়ার মালখানগর ব্র্যাঞ্চের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আরফান আলী। বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক এসএম মহসিন হোসেন, উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
অনষ্ঠানে সঞ্চালন করেন ব্যাংক এশিয়ার প্রথম সহকারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাঈমুল হাসান খান। উপস্থিত ছিলেন- ব্যাংক এশিয়ার সিরাজদিখানের এসএমই শাখার পরিচালক শংকর কুমার রায়।
সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ শিল্পে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা নির্ধারণ করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ৰুদ্র ঋণের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা নিরসনে ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রৰা করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের এসএমই খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে।
সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, পুরম্নষ উদ্যোক্তার পাশাপাশি নারীদের এ খাতে উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। নারীরা মাত্র ১০ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ সচেতনতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ৰেত্র তৈরি হবে।
তিনি বলেন, শিল্পকে উন্নত করতে হলে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সংগঠিত হতে হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রম্নপ অর্থায়নে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংক এশিয়া বাংলাদেশের যত জায়গায় রয়েছে, সেখানে এসএমই পণ্য বাজারজাতকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক এসএম মহসিন হোসেন বলেন, এসএমইর বিকাশে এরিয়া এ্যাপ্রোচ ক্লস্টার উন্নয়ন একটি ব্যতিক্রমী ধারা। এর ফলে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রানত্মিক এলাকার ৰুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া সহজতর হয়েছে। ধীরে ধীরে এর সুফল দেশের সর্বসত্মরে ছড়িয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে পাঁচ নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ১১ লাখ টাকার ঋণপত্র বিতরণ করা হয়। সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, একেকটা এলাকার উন্নয়নে একেকটা ব্যাংককে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মাঝে সম্পর্ক হবে একই পরিবারের সদস্যের মতো। এ সম্পর্ক শুধু ঋণের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাংকগুলো কাজ করছে এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরফান আলী বলেন, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক এশিয়া একটা ধারা সৃষ্টি করেছে। এসএমই ঋণ অনেক ৰুদ্র হতে পারে কিন্তু এর গুরম্নত্ব অনেক বেশি। শিল্পের উন্নয়নে মূলধন বড় সমস্যা, এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংক এশিয়া কাজ করে যাচ্ছে।
আরফান আলী বলেন, ধনী-দরিদ্রের মাঝে বড় ব্যবধান রয়েছে, তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে ৰুদ্র ঋণের প্রসার ঘটাতে হবে। তবে ৰুদ্র ঋণের বাজারজাত অনেক সমস্যা রয়েছে। এ খাতে বাজারজাতে মধ্যস্থতাকারী সিংগভাগ সুফল ভোগ করে। সে সমস্যা দূর করে ব্যাংক এশিয়া পণ্যের প্রসারে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ৰুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- যতিন দাস, সাগর দাস ও মৌসুমী দাস। মধুপুর গ্রামের কমপৰে ১০০টি পরিবার বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করে থাকে। আগে এক সময় এ পণ্যগুলো ইউরোপিয়ান দেশে রফতানি হতো। কিন্তু যুগের চাহিদার সঙ্গে পণ্য মান উন্নয়ন না হওয়ায় সে বাজার নষ্ট হয়ে গেছে।